~ নাম জানা নেই এমন অসুখ ~

প্রিয় ফুল, প্রিয় রং, প্রিয় পাখী, প্রিয় নদী
ওসব কিছুই আমার নেই।

কখনো কোনো এক সময়ে
শীতের সকাল ভালো লাগতো,
বৃষ্টির দাপুটে ঝম ঝম ভালো লাগতো,
খরতপ্ত দুপুরের আলস্যও,
আর ছিলো মধ্যরাতের নির্জনতা।

শীতের পিঠা খেতে গেলে এখন শুধু ভূখা মানুষের কথা মনে হয়,
বৃষ্টি এলে খোলা আকাশের নীচে থাকা উদ্বাস্তুর কথা মনে হয়,
রোদের তেজে নিস্তেজ হয়ে নুয়ে আসা শ্রমিকের কথা মনে হয়,

বিস্তারিত»

অন্য কোন এক জীবনের গল্প

আমরা পরিচিত ছিলাম,
আমাদের মধ্যে শ্রোদ্ধার সম্পর্ক ছিল,
আমরা পরষ্পরের গুনমুগ্ধ ছিলাম,
আমাদের নিজেদের পৃথক জীবন ছিল।

সেই জীবন-যাপনের ফাঁকে একদিন –
হয়ত আরেকটু পরিচিত হতে,
অথবা খানিকটা অজানাকে জানতে,
খানিকটা বিনোদন পেতে,
একটুখানি ভিন্নতার আস্বাদ নিতে,
আমরা আলাপচারিতায় জড়ালাম।

এই আলাপচারিতা
আমাদের পারষ্পরিক শ্রোদ্ধাবোধ
আমাদের গুনমুগ্ধতা বাড়িয়ে দিল।
আমরা একে অন্যের বন্ধু হয়ে উঠলাম।

বিস্তারিত»

তস্করের হাতে চিঠিখানি

আকাশ থেকে অমনি
ঝরে পড়ে নীলখাম;

দ্যাখে তার ডাকনাম
এট ইমেইল ডট কম
লেখা আছে
সবগুলো গাছে —
সবুজ পাতার পরে
চারু চারু অক্ষরে

“হতচ্ছাড়া,
চুরি করেছিস,মনে নেই!
এখন কি
তোর কাছে গিয়ে
দিনের কথা পুরনো সেই
শুনে
মনের আমার
মন কেমন করে,
এখনো কি মেঘের মতন
অভিমান ঝরে,

বিস্তারিত»

মাছ বিভ্রাট

বিশাল হিউষ্টন, বিশালতর টেক্সাস। এখানে এলোপাতাড়ি ঘোরাঘুরি সোজা নয়। হুটহাট বেরিয়ে যাওয়া চলে না, রীতিমত প্ল্যান প্রোগ্রাম করতে হয়। লাগে প্রচুর সময়, এবং বেশ শক্ত পোক্ত একখানা গাড়ি। সঙ্গীসাথী জোটানো আরো কঠিন- এর চাকুরি তো ওর সর্দি, বাচ্চাকাচ্চাদের ব্যাপার তো লেগেই আছে সারা বছর। অগত্যা কবির বাণী ভরসা- একলা চলো রে। একে সময় কম, তায় পুরনো গাড়ী। তাই বিকেল-সন্ধ্যে-উইকএন্ডের ঘোরাঘুরি সীমিত রাখি ক্লিয়ারলেক, কেমা, গ্যালভাষ্টন,

বিস্তারিত»

ভালবাসার হলুদ ফুল

ঘনসবুজ পাতা আর উজ্জ্বল হলুদ ফুলের
পাতায় আর পাঁপড়িতে দেখি এক ভেনাসের মুখ।
ফাঁক ফোকর দিয়ে দেখা যায় ধুসর আকাশ,
তা দেখে মনের আকাশে নেমে আসে হাল্কা অসুখ।

ফুলের সৌরভ ভেসে আসে বাতাসে বাতাসে,
মৌ মৌ করে মন আরো কিছু অচেনা সুবাসে।
ফুলের ঔজ্জ্বল্য মনটাকে করে দেয় বেজায় ভালো,
পরশে মেখে যায় ভালবাসার কিছু নরম আলো।

 

বিস্তারিত»

~ প্রেম প্রণয় যদাপি দীপ্য বহমান | জীবন ঋতি নিয়ত ঋদ্ধিমান – চার ~

ধরা যাক একটা রুমে অগুন্তি সিডি রাখা আছে। গানের। গায়ে ঠিক লেবেল সাঁটা নেই কোনটায় কার গান কি গান।

যে পছন্দ করে রবীন্দ্র সংগীত সে বাড়ী ফিরে দেখলো বাজছে ম্যাডোনা। যে মাইকেল জ্যাকসন সে পেলো রাগ ভৈরবী। আর চরম সেতার ভক্ত পেলো শাকিরার লেটেস্ট ভলিউম।

বলা হলো এটাই জীবন। শোনো আমরন। কি করবেন আপনি ! এই মহাজাগতিক আলোকবর্ষের হিসেবে নগন্য একটা জীবন সমান সময় মাত্র।

বিস্তারিত»

মোম ও তুমি

মোম গলে যায় অগ্নিশিখায়,
তুমি গলে যাও নরম কথায়।
ফোঁটায় ফোঁটায় মোমের ক্ষয়,
জানি, কিসে তোমার কষ্ট হয়।

তুমি মোমের মত গলে গলে
আমার বুকে আটকে গেলে!
ফোসকা পড়ার ভয় ছিলনা,
গরম তাপের জ্বালা ছিলনা।

আমার বুকে জ্বলছে মোম,
জ্বলতে থাকে সর্বক্ষণ,
সেই আলোতে চলছি পথ,
স্মরণে রেখে সব শপথ।

 

বিস্তারিত»

ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (ঘ)

শুক্রবারে ধানমন্ডিতে কাকার বাসায় যাবার সময় দুই এক ফোঁটা বৃষ্টি মাথায় পড়েছিল। সেটা সহ্য হয়নি। দেশে আসার পর প্রথম রোগ বালাই কিংবা বলা চলে রোগ বালাইয়ের উপসর্গঃ হাল্কা জ্বর, গায়ে ব্যথা, মুখে অরুচি এইসব ধানাইপানাই। কিন্তু নিয়ম করে সন্ধ্যায় ও ভোররাতে জ্বরের আনাগোনা দেখে গতকাল গিয়েছিলাম ডাক্তারখানায়। টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েড আমার খুব কাছের বন্ধু। ভাবলাম আবারো বাড়ি এলো কিনা?

এলাকার হাসপাতালের কাউন্টারের সামনে হেসে,

বিস্তারিত»

নন্দিত নিবাস

ramit-1432048748-672716a_xlarge

নন্দিত নিবাস
———– ড. রমিত আজাদ

‘নন্দিত’ শব্দটির সাথে প্রথম পরিচয় একটি উপন্যাস-এর নামের মধ্যে দিয়ে। উপন্যাসটির নাম ছিলো ‘নন্দিত নরকে’। পারিবারিক লাইব্রেরিতে বইটি রক্ষিত ছিলো। আমার বয়স তখন বছর তেরো হবে। শেলফ থেকে বের করে অপড়া বই দেখে পড়তে শুরু করলাম, যেই শুরু করলাম শেষ না করে আর বইটা হাত থেকে নামাতে পারলাম না। শেষ করার পর অদ্ভুত এক অনুভূতি হলো।

বিস্তারিত»

আর্ট এগজিবিশন : লেসনস এন্ড টিপস্‌

এই লিখাটা আদৌ লিখবো কি লিখবো না, তা নিয়ে নিজের সাথে ভালোই যুদ্ধ করে কাটালাম বেশ কয়েকটা সপ্তাহ।
কিসের যুদ্ধ? কেন যুদ্ধ??

না লিখার পক্ষে প্রধান নিয়ামক ছিল, মটিভেশনের অভাব।
– ডাইরেক্ট ইন-ডাইরেক্ট মিলিয়ে অলরেডি ৩টা ব্লগ লিখেছি এই এক ইভেন্ট নিয়ে। সেগুলোর ট্রাফিক ও কমেন্ট দিনে দিনে কমে এসেছে। বোঝা যাচ্ছে, পাঠকরা এই এক বিষয়ে বেশী কচলানো পছন্দ করছেন না।

বিস্তারিত»

খাঁচার পাখি কেন গায়?

[ আই নো হোয়াই দা কেজ্‌ড বার্ড সিঙ্গস- মায়া অ্যাঙ্গলুর কবিতা র অনুবাদ]

বনের পাখি ঝাঁপ দেয়
চড়ে বসে বাতাসের পিঠে
ভেসে চলে প্রবাহের
শেষ সীমায়
ডানা ঝাপ্টে ঝেড়ে ফেলে
গোধুলির আলো
যেন আকাশটা তারই।

কিন্তু যে পাখি বন্দী
খাঁচার নিষ্ঠুর শিকের
ফাঁক দিয়ে সে তো
বলতে গেলে বাইরের
কিছুই দেখতে পায় না
তার পাখা ছাঁটা
পা শিকল দিয়ে বাঁধা
গলাটাই শুধু মুক্ত
তাই গলা বের করে
সে গান গায়।

বিস্তারিত»

ছবির কবিতার গল্প

শুরুর আগে

সিকি শতাব্দী আগের কথা। এফসিসি থেকে বেরিয়ে আমরা মেডিকেল কলেজে ঢুকেছি। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রির বুট ক্যাম্প চলছে প্রতিদিন। ডিসেকশন হলের  ঝাঁঝাল-মিষ্টি,  “একবার শুকলে ভোলা যায়না” গন্ধ গায়ে মেখে বাসায় ফিরি। রাতে অন্য মানুষের হাড় গোড় বিছানায় নিয়ে ঘু্মিয়ে পড়ি।  পরদিন ভোরে আবার লাল চোখে ঝিমাতে  ঝিমাতে  আইটেম পরীক্ষা দিতে হাজির হই।  প্রাণান্তকর অবস্থা!

 

শুরু

দীর্ঘ সময় চাপের ভেতর  থাকলে প্রাকৃতিক নিয়মেই আত্মরক্ষার জন্য মানুষ  ডাইভারশন খুঁজে নেয়।

বিস্তারিত»

আবার কলকাতা ২

আমার উত্তর শুনে ড্রাইভার রঘু দাসকে একটু চিন্তিত মনে হল। ঝাড়খন্ডে বৌ বাচ্চা রেখে কিছুদিন হল সে কলকাতায় এসেছে। কলকাত্তা এখনও পুরোপুরি চেনা হয়ে ওঠেনি। লালবাতিতে গাড়ি থামার সাথে সাথে মোবাইলে কার সাথে মাতৃভাষায় কথাবার্তা শুরু করলো সে। সামাঝ গিয়া বলে ফোণ বন্ধ করে আমার দিকে ফিরলো, হাসিতে মাখামাখি তার মুখ, ‘কলকাত্তার রাস্তার লাফড়া হলো বাবু একই রাস্তার ওনেক নাম বুঝলেন এই যেমন পার্ক স্ট্রিটের একদিকের বোর্ডে দেখবেন মাদার তেরেসা রোড লেখা আছে,

বিস্তারিত»

দিনলিপিঃ আবোলতাবোল

ব্রাউন থ্রেশার ডাকা মাদারস ডে’র সকাল। আগের রাতে সুপ্তি কল করে বলেছে ও কি আসতে পারে আমাদের একটুখানি দেখতে? আমি বললাম, এই না রাতে ফিরলে ডালাস থেকে, এখনই আবার এতো দূর থেকে ড্রাইভ করে আসবে ‘একটুখানি’ দেখতে? আমার কন্ঠের সংশয় টের পেয়ে ও বলল, তোমাদের ওদিকে প্যাটেল ব্রাদার্সে যাবো বাজার করতে, তাই ভাবলাম একটু দেখা করে যাই মা-মেয়ের সাথে!

অতিথি নারায়ণ বলে কথা তাই বারণ করতে পারিনা মুখের ওপর।

বিস্তারিত»

অস্তিত্বহীন

মিথ্যার হাত ধরে আসে অস্তিত্বহীন
সাথে নিয়ে রক্তপায়ী একদল
অন্ধকার মনুষ্যত্বহীন

তখনও
কিছু কি খুজেছিলে গলিত স্থবির সেই সত্যে,
ভালবাসা আর বেচে থাকার বিপরীতে
রক্ত ঘৃণা কিংবা অভিশাপের গান

অস্তিত্বহীনের ক্রমাগত অস্তিত্ব আগ্রাসন
রুদ্ধপ্রায় আমার অস্তিত্ব এখন

পূর্বে প্রকাশিত

ফেসবুক মন্তব্য

বিস্তারিত»