বাঙ্গালনামা

অনেক অনেক দিন আগের কথা। রাম-রাবণের যুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। স্বর্ণলঙ্কা পুড়ে ছাই। বিজয়ীরা কেউ রং ছিটাচ্ছে, কেউ পটকা ফোটাচ্ছে, কেউবা আবার রংমহলে আনন্দ উল্লাসে মাতোয়ারা। চারিদিকে বিজয়ী পক্ষের বীরদেরকে নানান মাপের পুরষ্কার প্রদান ও গ্রহনের ছড়াছড়ি চলছে। আনন্দ আর উত্তেজনার আতিশয্যে দেবতাগনও একফাঁকে কয়েকজনকে অমর বর দিয়ে দিলেন। একবার এই বর পেলে তাঁকে আর কোনোদিন মরতে হবে না। হনুমান থেকে শুরু করে বিভীষণ পর্যন্ত অনেকেই পেয়ে গেলেন সেই অমূল্য বর। কি আনন্দ কি আনন্দ!

বিস্তারিত»

তারুন্য

বার্থডে আসে বার্থডে যায় বয়স বাড়ে দেহের।

মনের বয়স কি বাড়ে?

মনের বয়স বাড়তে যেমন বার্থডে লাগে না। তেমনি আবার শত বার্থডেতেও কারো কারো মনের বয়স বাড়ে না।

বার্থডে যতই আসুক না কেন, মনের বয়স থেমে থাক একজায়গাতেই।

কলেজে থাকতে আমাদের অনেকেরই লিখালিখির গুরু ছিলেন এন্ডু অলক কুমার দেওয়ারী ভাই। তার উৎসাহে, প্ররোচনায়, আদেশে, প্রশ্রয়ে কবিতা লিখায় হাতে খড়ি তখন।

কলেজ ছাড়ার পর কেন যেন আর লিখতে ইচ্ছা করে নাই দীর্ঘ্যদিন।

আজকাল সিসিবিতে কবিতা দেখে দেখে হঠাৎ হঠৎ পদ্যাক্রান্ত হই। সংক্রামিত হই।

তারুন্য সেলিব্রেট করতে তাই লিখে ফেললাম কয়েক ছত্র।

বহুদিন পর কাঁচা হাতে লিখা,

বিস্তারিত»

প্রবাসে প্রাকৃতজন: পরিবেশ পরিচিতি (১ম ভাগ)

পূর্বের পর্ব: প্রবাসে প্রাকৃতজন: যাত্রা পর্ব – The Exodus

ডাক্তারের রুম থেকে বেরিয়ে আমাদের লাগেজ সংগ্রহ করে বেরিয়ে এলাম । এখন যাবো মাসুমের বাসায়, সে থাকে ইষ্ট লন্ডনের বেথনাল গ্রীন এলাকায়। ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে সার বেঁধে দাঁড়ানো অনেক ট্যাক্সি। নিয়মানুযায়ী সবার সামনে দাঁড়ানো ট্যাক্সির ড্রাইভার আমাদেরকে নিতে বাধ্য। কিন্তু গন্তব্য শুনেই বলল যে, সে যাবেনা। তবে আমরা কিছু বলার আগে সেই তাড়াতাড়ি বলল,

বিস্তারিত»

চুম্বনের স্বাদ

চুম্বনের স্বাদ
———— ড রমিত আজাদ

আনত নয়নের তলে মিশে থাকা উদগ্র বাসনা,
তুলে ধরে পানপাত্র নেশাগ্রস্ত অধর মদিরার,
সর্বাঙ্গে গাহিয়া ওঠে গান প্রাচীন ঝর্ণার,
ধরা দিয়ে বাহুডোরে তৃষিত হৃদয় রাখে অধরে অধর।
কঠিন দেহের আলিঙ্গনে দুটি কোমল কুসুম,
হৃদয়ের ব্যকুলতা বাসনা হয়ে মিশেছে অধর মিলনে,
ঘণিভূত কুয়াশা ঝরেছে শিশির হয়ে ওষ্ঠদ্বয়ের স্পর্শরেখায়,
প্রণয়ে লাজ ভেঙে সজল আবেগে হয়েছে বিলীন ঐ চুম্বনের স্বাদে।
দু’টি রাঙা শতদল,

বিস্তারিত»

মেডিক্যাল! মেডিক্যাল!!

বছর কয়েক আগের ঘটনা। এক ব্যাংকে গেছি কি এক কাজে। ম্যানেজারের রুমে বসে আছি। দেখি এক বাবা-মা মেয়েসহ এলেন। নিজেদের সব সঞ্চয় তুললেন।

কিছুক্ষণ পর মেয়েটার নানা এলেন। সাধারন বেশভুষার মানুষ। প্যাকেটে করে আনা অনেক গুলো ৫০০ টাকার নোট তুলে দিলেন নাত্নির হাতে।

আরও কিছুক্ষণ পর মেয়েটার দাদা এলেন। আরও কিছু টাকা তুলে দিলেন।

মোট দরকার সাড়ে সাত লাখ। আজ জমা দেয়ার শেষ দিন। আর মাত্র দুঘন্টা বাকি। প্রাইভেট মেডিক্যালের এডমিশনে এই এক চুড়ান্ত ফাজলামি। পাঁচ বছরের পুরো টাকাটাই একবারে দিতে হয় শুরুতেই। সব গুনে দেখা গেল আরও হাজার পঞ্চাশেক লাগবে। কিন্তু কোথায় পাওয়া যাবে এই সবচেয়ে দরকারি শেষ পঞ্চাশ হাজার টাকা?

বিস্তারিত»

খান্দান

রূপার নানীজান সালেহা খাতুন উনিশ থেকে বিশ বলতে পারতেন না, বলতেন উনিশ থেকে বিনিশ! এই নিয়ে বাড়ীর বছুইরা কামলারা পর্যন্ত হাসাহাসি করে আড়ালে আবডালে। কিন্তু ঐ পর্যন্তই! তার সামনে চোপা খুলবে এমন সাহস ছনকান্দা গ্রামে কারোরই নাই। নানীজান পান থেকে চূণ খসা বুঝাতে গেলেই বলছেন উনিশ থেকে বিনিশ!

শারীরিক উচ্চতায় খানিক ঘাটতি থাকলেও রূপার নানা জমির মুনশীকে রীতিমত সুপুরুষ বলা চলে। দুধ মাখন খাওয়া চকচকা শরীর তার। চেহারার বনেদিয়ানা আর মিতভাষীতার কারণে গ্রামে তার সুনাম আছে। কথিত আছে অতি রূপবতী প্রথমা স্ত্রীর মৃত্যুর পর জীবনের প্রতি নানাজানের খানিক বৈরাগ্য দেখা দেয়। সংসার উচ্ছন্নে যাবার আগেই তাই মায়ের পছন্দে শিকারীকান্দা গ্রামের শিক্ষক আতাউল গণীর বড় মেয়ে সালেহা খাতুনকে বিবাহ করেন নানা। নানীজান উচ্চতায় নানার থেকে এক বিঘৎ লম্বা। তার গায়ের রঙ এতো ময়লা না হলেও পৃথিবীর কোন ক্ষতি বৃদ্ধি হতো না। ঈষৎ সমতল নাসা আর জোড়া ভুরুর সালেহা খাতুন কথা কম বলেন,

বিস্তারিত»

মর্মান্তিক প্যাথেটিক

সামনেই রিইউনিওন। পুরোনো অনেক কথা মনে পড়তেছে বিভিন্ন সিচ্যুয়েসনে,গল্পে গল্পে। কিছু গল্প শোনা, বেশীর ভাগই প্রত্যক্ষ করা।

১) ক্লাস সেভেনের ১ম প্যারেন্টস ডে। সবার প্যারেন্টস আসল। শুধু আমি আর মুসফিক রুমে চুপচাপ বসে আছি। আমার খুবই মন খারাপ। প্যারেন্টস আসে নাই তাতে নাকি সবার প্যারেন্টস আসল শুধু আমার আসে নাই তাতে, কোনটা তে যে বেশী খারাপ লাগতেছে ঠিক বুঝতেছি না। আর মুসফিকের প্যারেন্টস আসবে না সেটা আগেই জানানো ছিল। হঠাৎ রুমে আসল ক্লাস টুয়েল্ভের সারোয়ার ভাই। এসে দেখে আমাদের প্যারেন্টস আসে নাই। বলল চল। আমরা দুইজন বের হলাম রুম থেকে। বলল দুইজন দুইজনের কান ধর,

বিস্তারিত»

অ-দাস

দাসত্ব আমাদের সমাজে একটা ঋণাত্বক শব্দ। চিন্তায়, কাজে, এমনকি শরীরেও আকণ্ঠ দাসত্বে ডুবে থাকা একটা মানুষও চিন্তা করার সময় “দাসত্ব” ব্যাপারটাকে খারাপ হিসেবে জানে। যদিও তাদের কাছে “দাসত্ব” আসলে যে কি বস্তু, খায় না মাথায় দেয় সেটা পরিষ্কার না। আবার মজার ব্যাপার হল এই লোকগুলাই আবার “অ-দাসদের” সন্দেহের চোখে দেখে, একটা ঘিনঘিনে অবজ্ঞার ভাব নিয়ে অ-দাসদের দিকে তাকায়, দাসের মগজ দিয়ে ওদেরকে ঠিক বুঝা যায়না কিনা। আর যেটাই তারা বুঝতে পারেনা সেটাকেই তারা “অস্তিত্বের জন্য হুমকি”

বিস্তারিত»

ভালবাসার সুরভী

তুমি আমার সবুজ চায়ে সোনালী মধু
শীতের ভোরে পথের মোড়ে ভাঁপা পিঠা, তিলের নাড়ু 
তুমি আমার হারিয়ে যাওয়া চুলের ফিতা
নাকছাবি আর আলতা চুড়ি, নখের পালিশ 
তুমি আমার মেঘের দুপুর, সবুজ পিরান, কাজলদানি 
পথ হারিয়ে আবার পাওয়া অচিনপুরে
তুমি আমার দুরন্ত চিল, এক লহমায় কোন সুদূর
তুমি আমার শুন্য ঘরে একলা থাকা ঝিম দুপুর
তুমি আমার ঘুঘুর ডাকে মন উদাসী,

বিস্তারিত»

বকর-ব্লগর

কিছু মানুষ অতীত নিয়ে পড়ে থাকে, অনেক চিন্তা করে দেখলাম আমিও মনে হয় সেই দলে। শীত আসছে, আর সেই সময়ে আমিও শীত আগে কেমন ছিল সেই চিন্তায় পড়ে আছি। সকাল বেলায় বের হতেই হালকা যেই বাতাসটা গায়ে লাগে সেই বাতাসটা কত বছর আগের ঠিক কোন সময়কার কথা মনে করিয়ে দেয় সেই হিসাব খুলে বসি। বলা চলে, নিজের অজান্তেই এসব শুরু হয়। শীতের শুরুর দিকে কলেজের স্টোর থেকে দুটো কম্বল দিত। জুনিয়র থাকতে রঙিন কম্বল ভাগ্যে জুটত। সিনিয়র হতে থাকলে কালোর সংখ্যা বাড়তে থাকত। ফাইনালি তিনটা করে কম্বল নিয়ে শীত পাড়ি দিতাম। বেড শীটটা সিল্কি ছিল,

বিস্তারিত»

হৃৎপ্রাচীর

মাঝে মাঝে এমন ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ দিন আসে। ভোরের আলোর মোলায়েম পরশ থাকে না। স্লেটের মতো ছাইমাখা আকাশ ভয়ঙ্কর থমথমে চোখে চেয়ে থাকে। তার নিচেই ধাতব শীতল বাতাস এলোমেলো ঘুরতে থাকে। এমন দিনে রাস্তায় বেরুলে কোন মানুষ দেখবে না, দেখবে সারি সারি মৃত মুখ, নিস্প্রভ আলোহীন অবয়বে হেঁটে যাচ্ছে। সূর্যহীন আকাশের কারণে অবয়বগুলোর কোন ছায়া পড়ে না মাটিতে। তারা যেন মসৃণ কালো রাস্তার পাশ দিয়ে কিছুটা পিছলে পিছলে চলে যেতে থাকে। তোমাকে ছাড়িয়ে উঁচু উঁচু দালানগুলোও সেদিন ভেঙে চুরে আসে। তোমার মাথার ‘পরে দুমড়ে মুচড়ে পড়তে থাকে। তুমি দালানের সীমানা পেরিয়ে গেলে তারা আবার ঐ উঁচুতেই ফিরে যায়। তুমি পেছন ফিরে তাকালে দেখো স্লেটরঙা আকাশের জমিনে কালো খড়ের মতো সারি সারি দালান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তোমাকে দেখতে পেয়ে তারা অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে থাকে। তাদের ধাতব শীতল শরীরে হরেক রঙের জানালা-চোখ তোমাকে দেখে ক্রূর ঠাট্টার স্বরে কথা বলে ওঠে। এমন দিনে রাস্তায় কোন সুন্দরীকে দেখে তোমার থমকে দাঁড়াতে ইচ্ছা হবে। তুমি ভাববে এক মুহূর্তের অবসর পেলে তার চোখের দিকে তাকাবো। ভাববে এলোবাতাসে তার পিঙ্গল চুল উড়ে বেড়ালে তুমি সেই সুবাস নিবে। হয়তো অনুমান করার চেষ্টা করবে মেয়েটি কোন শ্যাম্পু ব্যবহার করেছে। গারনিয়ের ফ্রুকটিস?

বিস্তারিত»

অণু ব্লগঃ এক

আমার পড়শী শ্রীমতী ঊর্মিলা আর তার স্বামী শ্রীমান বলরাম সিং কে ছুটির দুপুরে দুটি ডাল ভাতের নিমন্ত্রন করেছিলাম। বিচিত্র কারণে এই দম্পতি আমাদের মা মেয়েকে খানিক স্নেহ করেন। উইকেন্ডে, জন্মদিনে অথবা পড়শীদের পটলাক পার্টিতে আমাদের কদাচিৎ দেখা সাক্ষাৎ ঘটে।

ওদের একমাত্র পুত্র অজয় আসে নাই সাথে, ও জর্জিয়া টেকে পড়ে। ছুটির দুপুরে ক্যাম্পাসে গেছে গ্রুপ স্টাডি করতে।

মোরগ পোলাউ, ভেড়ার রেজালা আর রায়তায় আমাদের সাদামাটা আয়োজন। ঊর্মিলার থেকে সদ্য শেখা কালাকান্দ বানিয়েছি ডেসার্টে। সবশেষে সুগন্ধি দার্জিলিং চা। গল্প জমে উঠেছে সবে। অপরাপর অনেক প্রবাসী মানুষের মত তাদেরও জমিদারী ছিল একদা। পাজেরোর শোফার,

বিস্তারিত»

টাইটেল

টাইটেল আমি বলিনা
বললে কেমন তৃপ্ত লাগে
না বললে
অপরে আড়চোখে তাকায়।

টাইটেল ছাড়া মানুষ
মানুষ ছাড়া টাইটেল
আভজাত্য কি বেমানান।
টাইটেলে কি লেখা থাকে
আভিজাত্যের অপর নাম?
মন-মনুষ্য দিয়ে কি
করা যায় না মানুষের বিচার?

টাকা দিয়ে টাইটেল হয়
টাইটেল দিয়ে বিচার নয়
তাই টাইটেল দেখে বিচার
ভ্রান্ত বলেই গণ্য হয়  B-)

বিস্তারিত»

ফিরিঙ্গি হাইকু

Fate

Millions of rebirths
But the result is same.
Always looser in preset game!

Crocodile Tears

Two footed reptiles,
Shedding crocodile tears.
How treacherous!!

Hot Autumn

Hot autumn evening
My flesh is boiling
In open oven!

বিস্তারিত»

তিনটে লিমেরিক

নিধিরাম

লড়াইয়ের ময়দানে নিধিরাম সরদার
লড়ে যায় খালি হাতে নাই ঢাল তলোয়ার
জনম নিযুত কোটি
না বদলায় নিয়তি
পরাজয়ে নত হয় বারবার।

গুমট আশ্বিন

মেঘ যেন কাশফুল একেবারে শুকনা
প্রাণবায়ু যায় বুঝি তবু পাতা নড়ে না
শারদীয় গরমে
মাথা ভরা ঘামে
আশ্বিনে ঝকাসটা এলো না।

কুম্ভিলক

মায়াকান্নায় নক্র মশাই সাজেন বড় স্তাবক
মহান কাজে ভিখ মাগেন গিরিগিটি তঞ্চক
কল্কে বোতল
শুকনো গরল
গড্ডালিকার কুম্ভিলক।

বিস্তারিত»