দিনাজপুর – দিনাজপুর রাজবাড়ি

হীরাবাগ

ঠাকুরবাড়ির কালীয়াকান্তের মন্দিরের উত্তরে, মন্দির ও রানীমহল সংলগ্ন রাজ পরিবারের একটি রাজকীয় বাগান আছে। রাজার আমল থেকেই চারিদিকে সু-উঁচ্চ প্রাচীর ঘেরা বাগানটি হীরাবাগ নামে পরিচিত। দেশী-বিদেশী হরেক রকম বাহারি গাছ-গাছালিতে ভরপুর ছিল রাজাদের এ বাগান। কালের পরিক্রমায় আজ সে সব কেবলই ইতিহাস। চিত্ত বিনোদনের জন্য রাজ পরিবারের সদস্যরা এখানে অবসরে ঘুরে-বেড়াতেন। হীরাবাগে প্রবেশের জন্য রাণী মহল থেকে একটি প্রবেশপথ থাকার কথা জানতে পারলাম।

বিস্তারিত»

সিডনীর ইফতারের গল্প

এক

গেল বছরের মত এবারও আমেরিকাতে খুব কড়া রোজা চলছে। সতের ঘণ্টার দীর্ঘ দিনে বিকাল চারটার পর মানুষের মুখে আর কথা সরেনা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাড়িতে বসে, খেজুর খুরমা রুহ আফজার রোশনাইতে নিমগ্ন মানুষেরা কী করে দরিদ্র মানুষের দুঃখ কষ্ট বুঝবে সেটি অবশ্য আমার মাথায় ঢোকেনা। সিডনীতে এখন শীতকাল; দিনগুলিও ছোট। বাংলাদেশের আষাঢ় মাসের মত দেখি ঝুম বৃষ্টি হলো এই শীতে। আমেরিকার রোজাটা যদি হয় লাল আটার লোফের সাথে শুকনো মোৎসারেলা তবে সিডনীর রোজাটা হবে নিতান্তই ডাল ভাত!

বিস্তারিত»

নিখোঁজ সংবাদ

নিখোঁজ সংবাদ

বশির ভাইদের কুড়ে ঘর আমাদের পিছনের বাড়িতেই। তারা এক ভাই, এক বোন! বাবা-মা দুজনেই কবে মরে গেছে আমি জানিনা। বোনের নাম জোহরা। আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড়। আমার সাথে সকালে মসজিদে কুরআন শরীফ পড়ে। সেই সুত্রে সে আমার সহপাঠিনী! আমাদের বাড়ি আর বশির ভাইদের বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে একটা বিশাল জঙ্গলাকীর্ণ জায়গা। এত গভীর সে জঙ্গল যে আমি দুপুর বেলাতেও তার ভেতরে ঢুকতে আমি ভয় পাই।

বিস্তারিত»

তান্ত্রিকের ছোবল

১.
বাড়িটা দোতলা, একটু পুরান ধাঁচের। শ্যাওলা জমে সাদা রঙের দেয়ালে সবুজ সবুজ ছোপ পড়েছে। উঁচু দেয়াল পুরো বাড়িটাকে ঘিরে রেখেছে। জায়গাটা একটু নির্জন, শহরের বাহিরে। এজন্য সবুজের ঘাটতি এখনও দেখা দেয়নি এখানে।
‘আমার নাম আদনান।’ গেটের দারোয়ানকে নিজের পরিচয় দিল ও। ‘আমাকে আজকে আসতে বলা হয়েছিল।’
‘বড় সাহেব আপনার কথা বলেছে আমাকে। ভেতরে যান।’
দারোয়ানকে কিছুটা ভয়ার্ত মনে হল আদনানের।

বিস্তারিত»

আমাদের হারুন স্যার

আমাদের হারুন স্যার

(কোন ফর্মাল মা দিবস , বাবা দিবস, ভালবাসা দিবস, এমনকি নিজের জন্মদিনও আমার ভেতরে খুব বেশি উদ্দীপনার সৃষ্টি করেনা! কারন সম্ভবত এর প্রায় সবগুলোই আমার বর্তমান আধুনিক জীবনে নব সংযোজন! এমনকি নিজের জন্মদিনও ছোটবেলায় কিভাবে, কখন চলে যেত টের পেতাম না! মনে করিয়ে দেবারও কেউ ছিলনা! একারনেই আমি স্ত্রীর জন্মদিনও ভুলে যাই! মোট কথা বিশেষ দিবস সম্পর্কিত কোন কালচারই আমার ভেতরে ডেভেলপ করেনি!

বিস্তারিত»

ম্যারিয়ানের জন্য উপহার (মূল: পলা হকিন্স)

দাঁড়িয়ে আছি রান্নাঘরে। ধোয়ামোছার কাজটা শেষ করে এনেছি, এমন সময় দেখি তুষার পড়া শুরু হয়েছে। তুলার ন্যায় ভাসতে ভাসতে নেমে আসছে শুভ্র তুষারকণা। আলোয় ঝলমল করছে রাস্তাটা। ক্রিসমাস ট্রিটা জানালার পাশে রেখেছে তারা, সোনালী আর লালে সুন্দর করে সাজানো। ম্যারিয়ানকে দেখতে পাচ্ছি। ক্রিসমাসের আলোয় এক মূহুর্তের জন্য যেন ঝলসে উঠল তার চেহারা। আমাকে দেখতে পেয়ে হাত নাড়াল।
উপহারটার কথা এখনও জানে না সে।
এ বছর গাছ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাইনি।

বিস্তারিত»

কথা বলে যায়……

আমার কানে কানে ক্ষণে ক্ষণে আজকাল
কিছু কিছু শব্দেরা কথা বলে যায়।
জানা অজানা, পড়া না পড়া শব্দেরা
কবিতার ছন্দ হয়ে কথা বলে যায়।

ভুলে যাওয়া কিছু গানের কথা,
পরিচিত বিস্মৃত কিছু কন্ঠের কথা,
ফিনিক্স পাখির মত পুনর্জীবিত হয়ে
একত্রে সম্মিলিত সুরে কথা বলে যায়।

দেখা অদেখা কিছু ফুল কথা বলে যায়,
নিশ্চল কিছু ছবি পদ্যের মত কথা বলে,

বিস্তারিত»

একটি অসম্পূর্ণ গল্পের গল্প

(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ দৈর্ঘে একটু বড়। পড়ার মাঝে ধৈর্যচ্যূতি ঘটতে পারে, পড়া শেষে সময়ের অপচয় হয়েছে বলে আফসোস হতে পারে)

সেদিন সন্ধ্যায় মাগরিবের আযানের ঠিক আগে আগে হক সাহেবের দাফন প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হলো। তার ছোট ছেলে ক্ববরের উপর শেষ কয়েকটা মাটির ঢেলা ছিটিয়ে দিয়ে মাওলানা সাহেবের সাথে কন্ঠ মেলালো… “মিনহা খালাক নাকুম, ওয়া ফিহা নুয়িদুকুম, ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম, তা’রাতান উখরা” – “মাটি দিয়ে আমি সৃষ্টি করেছি,

বিস্তারিত»

অবরুদ্ধ

বহুকাল ধরে দিগন্তের দৃশ্য একপলক দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ এই দুটি চোখ আজ যেন কাতর। দু চোখ মেলে যখনই চেয়েছি দৃষ্টিকে অসীমতার মাঝে হারিয়ে ফেলতে, নগরায়নের আশীর্বাদপুষ্ট দালানগুলো দাঙ্গার পুলিশ এর মত আটকে দিয়েছে তাকে।আনুভুমিক ভাবে যখন এই প্রয়াস বিফল, তখন সাহস করে আকাশের দিকে বিলম্ব না করেই উলম্ব ভাবে তাকিয়েছি।কিন্তু গগনচুম্বী অট্টালিকাগুলোর বদৌলতে আমি যেন নিজেকে মনে করছিলাম গুহাবাসী,গুহার ফোঁকরে যতখানি দেখা যায় আর কি।আমার মত কেও এরকম দৃষ্টিশক্তিকে উলম্ব অথবা আনুভূমিক দিকে ব্যয় করছে কিনা কৌতূহলী হয়ে চারপাশে যখন তাকাই তখন অদ্ভুতভাবে দেখি সবাই চতুষ্কোণা ANDROID সেট এর দিকে নিন্মমুখী হয়ে গভীর মনোযোগে নিবিষ্ট ।ভার্চুয়াল স্বর্গের কোন এক অপ্সরীর সাথে চ্যাটপচটন এ ব্যস্ত কেও,

বিস্তারিত»

পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভয়াবহ অন্তর্কলহের অজানা অধ্যায় (একটি পুরোনো-দেরাজ প্রকাশনা)

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মত একটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে বাংলাওয়াশ করবার কারণে সারা বিশ্বে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রতিবেদকের নিদ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ব্যপক গবেষণার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরের সুগভীর অন্তর্দন্দ্বের গোপন সংবাদ। অসংখ্য সময় ব্যয় করে শত শত বই-পুস্তক ও দেশ বিদেশের অগণিত ডকুমেন্টারির ভিডিও ঘাঁটা-ঘাঁটি করে দলের মাঝে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় লিপ্ত তিন-চারটি গ্রুপ ও উপদলের উপস্থিতির সন্ধান জানা গেছে।

নিখিল বঙ্গ লোয়ার অর্ডার গ্যাং থেকে সদ্য পলায়ন করা মাহমুদুল্লা রিয়াদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

বিস্তারিত»

উর্ধতন কর্মকর্তার পাইপজীবন: উপন্যাস

এক.
মধ্য আষাঢ় । ঝুম বৃষ্টি। বাইরে আঁধার। যদিও শিহাব যেখানে এখন শুয়ে আছে, সেটার দুই প্রান্ত ছালার চট দিয়ে ঘেরা, তাই ভেতরে সবসময়েই অন্ধকার থাকে। তারপরও ভেতরের অন্ধকার ছাপিয়েও কিছুটা আলো থেকেই যায়। আজ বাইরে আকাশের মন খারাপ। তাই আঁধারের মাঝে আরো কিছুটা আঁধারে ঢেকে আছে এক অন্ধকারের মানুষ, যার ভেতরটা আলোয় ভরা।

এখন দিন-রাত্রির কোনো প্রভেদ নাই। সবকিছু-ই একইরকম। কালো।

বিস্তারিত»

দিনাজপুর – দিনাজপুর রাজবাড়ি

ঠাকুরবাড়ি

আয়না ও রাণী মহলের পশ্চিমে মহলদ্বয় সংলগ্ন রাজবাড়ির ঠাকুরবাড়ি অবস্থিত। ঠাকুরবাড়িতে মোট তিনটি মন্দির। উত্তরে কৃষ্ণ মন্দির (কালিয়াকান্ত মন্দির নামে অধিক পরিচিত) ও দক্ষিণে দূর্গা মন্দির। দূর্গা মন্দিরের প্রধান ফটক সংলগ্ন পূর্বপাশে সন্ন্যাসী মন্দির অবস্থিত, যা মূলতঃ কাশী ঠাকুরের (মতান্তরে শ্রীমন্তের) সমাধি মন্দির। সুউচ্চ পাঁচিল দ্বারা পরিবেষ্টিত মন্দিরগুলোতে প্রবেশের জন্য সিংহ দেউড়ী ব্যবহার করতে হয়।

কালিয়াকান্তের মন্দির

কালিয়াকান্তের মন্দিরটি ১৭৬৩ খ্রীঃ বাংলার সনাতনি চৌচালা নকশায় হিন্দু ও মুঘল স্থাপত্যরীতিতে ছোট আকারে মহারাজ বৈদ্যনাথ কর্তৃক নির্মাণ করা হয়।

বিস্তারিত»

~ স্মৃতিশকট : প্রজন্মের দৃশ্যপট ~

[ গল্প অথবা গল্পের ছায়া ]

বাসাটার সামনে টানা তিনশ ফুটের রাস্তা। সেই পত্তনি থেকে দিনে দিনে বেড়ে এতোদূর এসেছে। এটাই শেষ সীমান্ত আজ অব্দি। আদপে ঠিক শহরের প্রান্ত বলে না মানলেও জনবসতির এখানেই শেষ। তিনশ ফুট রাস্তার পরে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ। মাঠ ঠিক নয় পরিত্যাক্ত বিরান ভূমি। প্রস্থে প্রায় এক কিলোমিটারের কাছাকাছি, দৈর্ঘ্যে সাতের বেশী। খুব বেশীদিন অবশ্য এর আয়ু বোধ করি আর নেই।

বিস্তারিত»

বিশ্বের সর্বকালের সেরা অল রাউন্ডারের কথা বলছি…

ক। প্রতিটি সুপার হিরোরই কমপক্ষে দু’টো করে আইডেন্টিটি থাকে। লোক চক্ষুর অন্তরালে সুপার হিরো হলেও সমাজের চোখে তিনিই হয়ত খামখেয়ালি বিলিয়নিয়ার, পিৎজা বিক্রেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক, বিজ্ঞানী বা ফটোগ্রাফার। প্রায়শই দেখা যায় দুই জীবনের মধ্যে সমন্বয় করতে তারা হিমশিম খেয়ে ওঠেন। ফলে, কোন এক জীবনকে তাদের অনেককেই বিসর্জন দিতে হয় (অন্যদের দূরে সরিয়ে দিয়ে)।

মাত্র দু’টো দায়িত্বে থাকা সুপার হিরোদের যদি এতটা সমস্যা হয়,

বিস্তারিত»

তাহমিনা এবং হিপোক্রেসি

আমার কলিগ একদিন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,

ঃভাই আপনি কি সকল কর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী?

ঃ আলবৎ!

ঃ কর্ম কর্মই। সকল কর্মের মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী এই ধারনা পোষন করেন?

ঃ আলবৎ

ঃ ধরেন আপনি উন্নত বিশ্বে জীবিকার জন্য গেলেন। সেখানে আপনাকে অড জব করতে হলো আপনি কি করবেন?

ঃ করব।

ঃ ট্যাক্সি চালাতে হলো।

বিস্তারিত»