<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?> <rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/" xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/" ><channel><title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ &#187; মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</title> <atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/author/Muhammad/feed" rel="self" type="application/rss+xml" /><link>http://www.cadetcollegeblog.com</link> <description></description> <lastBuildDate>Thu, 02 Sep 2010 21:44:32 +0000</lastBuildDate> <language>en</language> <sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod> <sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency> <item><title>iTunes এ প্রথম বাংলা সিনেমা: &#8216;দ্বন্দ&#8217; ইতিহাস তৈরী করল</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/23448</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/23448#comments</comments> <pubDate>Wed, 14 Apr 2010 16:32:49 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[চলচ্চিত্র]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/23448</guid> <description><![CDATA[লিখেছেন &#8211; বিপ্লব পাল, ভিন্নমত নিউজ নেটওয়ার্ক লেখকের অনুমতিক্রমে ভিএনএন এর ওয়েবসাইট থেকে এখানে প্রকাশিত অনেকেই ভাবছেন আই টিউনে বাংলা সিনেমা &#8220;দ্বন্দ&#8221; রেন্টে বা ডাউনলোড হিসাবে পাওয়া যাচ্ছে- এই ঘটনাকে কেন আমি ঐতিহাসিক বলছি? টরেন্ট সহ নানান ডাউনলোড সাইটে অমন শত শত বাংলা সিনেমা বেআইনি ভাবে ডাউনলোড করা যায়!এতে নতুনত্বটা কি? এটা বুঝতে আমাকে ভিডীও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>লিখেছেন &#8211; বিপ্লব পাল, ভিন্নমত নিউজ নেটওয়ার্ক<br /> লেখকের অনুমতিক্রমে <a href="http://www.vnnbangla.com/newsreader.aspx?id=3022">ভিএনএন এর ওয়েবসাইট থেকে</a> এখানে প্রকাশিত</p><p><a href="http://itunes.apple.com/WebObjects/MZStore.woa/wa/viewMovie?id=362284082&#038;s=143441">অনেকেই ভাবছেন আই টিউনে বাংলা সিনেমা &#8220;দ্বন্দ&#8221; রেন্টে বা ডাউনলোড হিসাবে পাওয়া যাচ্ছে</a>- এই ঘটনাকে কেন আমি ঐতিহাসিক বলছি? টরেন্ট সহ নানান ডাউনলোড সাইটে অমন শত শত বাংলা সিনেমা বেআইনি ভাবে ডাউনলোড করা যায়!</p><p><img width="450" src="http://4.bp.blogspot.com/_T6oW8u7DB5A/S6g0tiS7I9I/AAAAAAAABFM/Xl9if4qQmjY/s1600-h/soumitra.jpg" alt="1" /></p><p>এতে নতুনত্বটা কি?</p><p>এটা বুঝতে আমাকে ভিডীও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে আই টিউন সাইটের মালিক আপলকে নিয়ে কিছু লিখতে হয়। আই ফোন বা আই পডের দৌলতে আপনার সবাই আপল কোম্পানীর নাম অবশ্যই শুনেছেন। আপল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উদ্ভাবক কোম্পানী হিসাবে গত তিন বছর ধরে প্রথম স্থানে। এরাই প্রথম হাই ডেফিনিশন ভিডিওর জনক-যা তাদের H-264 কোডেকের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে জন্ম নিয়েছিল আজ থেকে ছয় বছর আগে। কোডেক হচ্ছে কিছু গণিতিক এলগোরিদম যা দিয়ে ভিডীও ফাইলকে কম্প্রেস করে ছোট করা হয়। যেমন ধরুন একটা ১ঘন্টার সিনেমা হাই ডেফিনিশনে শুটিং করলে, তার ফাইল সাইজ দাঁড়াবে ১২ টেরাবাইটের ওপরে ( এক টেরাবাইট মানে ১০০০ গিগাবাইট)। ৩৫ মিলিমিটারের ফিল্ম থেকে ডিজিটাল মাস্টার ( ডিজি বিটা) বানালে, সেটার সাইজ হয় ১০০ গিগাবাইট। এবার সেটা দিয়ে না ডিভিডি হবে, না কেও ডাউনলোড করতে পারবে। কারন ডিভিডি তে ২-৮ গিগাবাইট আঁটে। ফলে অনেক গণিত কষে সেই ফাইলকে ছোট করে দেওয়া হয়, যাতে ভিডিওর রং, বা মোশন বা রিজল্যুশনের ক্ষতি না হয়। সেই গণিতকে বলে ভিডিও কোডেক-যার কোডেক যত উন্নত তার ভিডিও কোয়ালিটি তত উন্নত।</p><p>আই টিউন সাইট থেকে ভিডিও দেখার সাথে অন্য ডাউনলোড বা ডিভিডির পার্থক্য কোথায়?</p><p>প্রথমে ডিভিডির কথাতে আসি।ভিসিডি কোডেক কোয়ালিটি হচ্ছে MPEG1 । ডিভিডিতে যে কোডেক চলে তা MPEG2। আর আই টিউন তৈরী হয় H-264 নামে এপেলের কোডেক দিয়ে যা MPEG4 or MP4-অর্থাৎ তা ডিভিডি থেকে অনেকগুন উন্নত। ডিভিডির একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, এগুলো 8-bit encrypted. সেখানে আই টিউনে ৩২ bit বা 64 bit encrypted কোডেক চলে-ফলে ভিডিওর রঙ এবং মোশন অনেক উন্নত। তবে বাংলা সিনেমার ডিজিটাল মাস্টার অত ভাল হয় না-তবুও এই দ্বন্দ সিনেমারই ডিভিডি এবং আই টিউন ফাইলের কোয়ালিটির মধ্যে অনেক পার্থক্য। আই টিউনের ভিডিও দেখে আপনার অনেক বেশী ভাল লাগবে। সেই অর্থে <a href="http://cdn.cloudfiles.mosso.com/newsreader.aspx?id=2720">দ্বন্দই হল প্রথম বাংলা সিনেমা</a> যা আপনারা MPEG4 এ দেখতে পাবেন।</p><p>আর বে আইনি ডাইনলোড কোয়ালিটি? আমার কিছু বলার নেই। এগুলো ডিভিডি রিপ করে সস্তার WMV-9 কোডেকে করা ভিডিও। এমনিতে ডিভিডি কোয়ালিটিই আহামরি কিছু না-আবার সেটাকে ভেঙে WMV-9 এর মতন মাইক্রোসফটের পুরানো কোডেকের ভিডিও খুবই নিম্নমানের। খারাপ কোয়ালিটির ভিডিও আমাকে বিনা পয়সাতে কেও দেখালেও আমি দেখব না। কারন সেটা আমার কাছে অত্যাচার। তাছারা আই টিউন সাইটে পয়সা দিয়ে বাংলা সিনেমা দেখলে, সেই টাকার ৭০% বাংলা সিনেমা শিল্পে যাবে। যা বাংলার সংস্কৃতিকে উন্নত করবে।</p><p>আমি যেটা লিখলাম-সেটা শুধু পড়ে বুঝতে পারবেন না। <a href="http://itunes.apple.com/WebObjects/MZStore.woa/wa/viewMovie?id=362284082&#038;s=143441">আপল সাইট থেকে দ্বন্দ রেন্ট করে দেখুন ( এখানে ক্লিক করুন)</a>। তাহলেই পার্থক্যটা খুব ভাল করে বুঝতে পারবেন।</p><p><a href="http://www.databazaar.com/">ডেটাবাজারের</a> কর্নাধারন অনি শীল যখন আমাকে ইমেল করে জানালেন, দ্বন্দ আইটিউনে পাওয়া যাচ্ছে-আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার আই টিউন একাউন্ট থেকে দ্বন্দ রেন্ট করে নিলাম। বাংলা সিনেমার জন্যে উনি যা করে দিয়ে গেলেন, ইতিহাসই তার উত্তর দেবে। কারন সমগ্র বিশ্বের সিনেমা এখন আই টিউনে পাওয়া যায়। বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক হতে গেলে আই টিউনে আসতেই হত। <a href="http://www.databazaarmedia.com/">ডেটাবাজার মিডিয়া ভেঞ্চারের</a> মাধ্যমে উনি যুগান্তকারী সেই পথটা খুলে দিয়ে গেলেন। তবে বাংলা সিনেমাকে আরো উন্নত করতে হবে। বাংলা সিনেমার ক্যামেরা, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, পোষ্টপ্রোডাকশন এখনো বেশ নিম্নমানের।</p><p>হয়ত আই টিউনে বাংলা সিনেমাটা যাবে, সেই চাপেই বাংলা সিনেমা এবার উন্নত প্রযুক্তির আঁচল ধরবে।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/23448/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>15</slash:comments> </item> <item><title>দর্শনপাঠ: এপিকুরোসের বাগান</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/22047</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/22047#comments</comments> <pubDate>Wed, 10 Mar 2010 11:16:38 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[দর্শন]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category> <category><![CDATA[এপিকিউরাস]]></category> <category><![CDATA[এপিকুরোস]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22047</guid> <description><![CDATA[গৌতম বুদ্ধ জন্মকেই দুঃখ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। এর কারণ বুঝি- মৃত্যু যদি দুঃখময় হয় তাহলে জন্মকেও দুঃখময় হতে হবে। নিজের জন্মকে দুঃখময় মনে করি কিনা সেটা জানি না, কিন্তু জীবন যে দুঃখময় এতে কোন সন্দেহ নেই। সকল ধরণের সামাজিকতা আমার কাছে দুঃখময় মনে হয়, কারণ সমাজে মিথ্যার জয়জয়কার। সমাজে কেবলই মিথ্যার বাহার যার সবচেয়ে বড় [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>গৌতম বুদ্ধ জন্মকেই দুঃখ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। এর কারণ বুঝি- মৃত্যু যদি দুঃখময় হয় তাহলে জন্মকেও দুঃখময় হতে হবে। নিজের জন্মকে দুঃখময় মনে করি কিনা সেটা জানি না, কিন্তু জীবন যে দুঃখময় এতে কোন সন্দেহ নেই। সকল ধরণের সামাজিকতা আমার কাছে দুঃখময় মনে হয়, কারণ সমাজে মিথ্যার জয়জয়কার। সমাজে কেবলই মিথ্যার বাহার যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত ধর্মগুলো- ইসলাম, খ্রিস্ট, ইহুদি, হিন্দু ব্লা ব্লা ব্লা&#8230;</p><p>প্রথম যখন দর্শনপাঠ শুরু করি তখন কিছুতেই মাথায় ঢুকতো না এতো সৌন্দর্য্য ও নির্মলতা থাকতে মানুষ কেন ধর্মে বুঁদ হয়ে থাকে, দর্শন ছেড়ে চোখে লাল কাপড় বেঁধে কেন ধর্মগুরুদের পিছে দৌঁড়ায়। মাহমুদ ভাইয়ের কয়েকটা ব্লগ পড়ে বুঝেছি। জ্ঞান এবং ক্ষমতার মধ্যে সম্পর্কটা প্রথম মাহমুদ ভাইয়ের লেখার বদৌলতেই বুঝেছিলাম, এজন্য উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা। এখন জানি, সমাজে জনপ্রিয় যে জ্ঞান বা উপলব্ধি সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে প্রভাব খাটানোর উপর। শুধু ধর্ম নয়, যে কোনকিছুর মাধ্যমেই এমন প্রভাব খাটানো সম্ভব। আসলে মানুষের মূল উদ্দেশ্যই অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার, জ্ঞান নামক জিনিসটা আবিষ্কার করতে পারার পর মানুষ এটাকেও কাজে লাগিয়েছে প্রভাব বিস্তারের জন্য। এটা কখনও শুভ হতে পারে না, কারণ কারও উপর প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে তাকে কোনকিছু বিশ্বাস করানো মূলগতভাবেই একটা বাজে কাজ, যুক্তিবিদ্যার ভাষায় যেটাকে ফ্যালাসি বা কুযুক্তি বলা হয়। যুক্তি দিয়ে যখন হচ্ছে না তখন মানুষ প্রভাব খাটায়।</p><p>খুব ভাল একটা উদাহরণ পেয়েছি এডওয়ার্ড সাইদ এর লেখা &#8220;কাভারিং ইসলাম&#8221; বইটাতে। ইরানে ইসলামী বিপ্লবের সময় যুবকেরা যখন তেহরানস্থ মার্কিন দূতাবাস দখল করে তখনই পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম বিদ্বেষ সবচেয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠে, দুঃখের বিষয় ছিল সেই বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে পুরোপুরি প্রভাব নামক শক্তিটি খাটিয়ে। নিউ ইয়র্ক টাইমস এর মত পত্রিকা প্রথমে মুক্ত আলোচনার ব্যবস্থা করলেও পরে যখন বুঝতে পারে জনতাকে বুঝ দেয়ার জন্য এর চেয়ে ভাল উপায় আছে তখন মুক্তালোচনা ছেড়ে দেয়। প্রভাব ব্যবহার শুরু করে। তখন যুক্তি নয় বরং কে যুক্তিটি দিচ্ছে সেটাই মুখ্য হয়ে উঠে, আর কোন যুক্তিটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি আবেগী ও বিপ্লবী করে তুলতে পারছে সেটাই হয়ে উঠে যুক্তিবিচারের চাবিকাঠি। যার ফলে পশ্চিম-ইসলাম সংঘাতের মাধ্যমে ধর্মের প্রভাব তো কমেইনি উল্টো দুই জায়গাতেই ধর্মীয় গোঁড়ামি বেড়ে গেছে বলে আমার মনে হয়।</p><p>ধর্মের যুগ শেষ হয়ে আসছে, পুরনোটা আঁকড়ে নয় বরং পুরান থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই যখন প্রতিপাদ্য তখন দর্শনচর্চার কাছে ফিরে আসার বিকল্প নেই। পাঠ্যপুস্তক থেকে ধর্ম সরিয়ে আমি দর্শন অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাই। আমার দাবীর হয়ত আপাত কোন মূল্য নেই, তারপরও জানিয়ে যাব। তাছাড়া পাঠ্যপুস্তকে ধর্মের বদলে দর্শন আসলে সেটাও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমেই হবে, দর্শনের বিকাশ নয় হয়তোবা কর্তৃত্বশালীদেরকে দর্শনের দিকে ঝোঁকাতে পারলেই কেবল এটা সম্ভব; এসব বাজে লাগে, কিন্তু মেনে নিতে হয়।</p><p>যাহোক, অভিসন্ধি বুঝি না, বুঝি- দর্শন শব্দের ইংরেজি হচ্ছে Philosophy যার অর্থ প্রজ্ঞার প্রতি ভালবাসা। এই ভালবাসা থেকেই দর্শনপাঠ নামে সিরিজটা শুরু করলাম। প্রথম পর্বে অনেক আগে উইকিপিডিয়াতে লেখা এপিকুরোস এর জীবনী তুলে দিলাম। <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%8F%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%B8">বাংলা উইকিতে অনেক আগে</a> লিখেছিলাম এটা।</p><p><strong>এপিকুরোস (Έπίκουρος)</strong></p><div class="wp-caption alignright" style="width: 310px"><img alt="গ্রিক দার্শনিক এপিকুরোস" src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/1/14/Epicurus_bust2.jpg" width="300" /><p class="wp-caption-text">গ্রিক দার্শনিক এপিকুরোস</p></div><p>এপিকুরোস (গ্রিক ভাষায়: Έπίκουρος; পাশ্চাত্যে <strong>এপিকিউরাস</strong> নামে পরিচিত) (খ্রিস্টপূর্ব ৩৪১ &#8211; খ্রিস্টপূর্ব ২৭০) প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত দার্শনিক ও এপিকুরোসবাদ নামে পরিচিত দার্শনিক ধারার জনক। তার প্রায় ৩০০টি রচনার মধ্যে বর্তমানে মাত্র গুটিকতক অবশিষ্ট আছে। তাই, এপিকুরোস সম্বন্ধে আমরা যা জানি তার অধিকাংশই পরবর্তী দার্শনিকদের লেখা ও ভাষ্যকারদের ভাষ্য থেকে।</p><p>এপিকুরোসের মতে, সুখ-শান্তিই মানব জীবনের পরম লক্ষ্য এবং এটাই পরম শুভ। তার দর্শনে সুখ অর্জনের উপর সবচেয়ে বেশী গুরুত্বারোপ করা হয়। আপোনিয়া তথা ব্যথা ও ভয় থেকে মুক্তির মাধ্যমেই এই সুখ অর্জন করা সম্ভব। তিনি শিক্ষা দিতেন, ভালোর পরিমাপক হচ্ছে আনন্দ আর মন্দের পরিমাপক হচ্ছে ব্যথা। তার মানে, উনি সব কিছুকে সুখের কষ্টিপাথরে যাচাই করে নিতে বলতেন। তিনি বলতেন, মানুষের বন্ধু-বান্ধবের সাথে মিলেমিশে স্বয়ম্ভর জীবন যাপন করা উচিত। তার মতে, মৃত্যুর মাধ্যমে দেহ এবং আত্মা উভয়ই শেষ হয়ে যায়, সুতরাং একে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। তিনি আরও মনে করতেন, মহাবিশ্ব অসীম ও চিরন্তন, এবং এই সুবিশাল মহাবিশ্বের মধ্যে সকল ঘটনাই শূন্যদেশের মধ্যে পরমাণুর চলাচল ও মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে।</p><p>এপিকুরোসের বাবা Neocles এবং মা Chaerestrate দুজনেই এথেন্সের নাগরিক ছিলেন। তার জন্মের ১০ বছর আগে (৩৪১ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ফেব্রুয়ারিতে) তার বাবা-মা এথেন্স থেকে আইগায়ো সাগরের এথেনীয় উপনিবেশ সামোস দ্বীপে চলে আসেন। এখানেই ৩৪২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এপিকুরোসের জন্ম হয়। তার শৈশব ও বাল্যশিক্ষা সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায়নি। দিওগেনেস লায়ের্তিওস তার সম্পর্কে যা লিখে গেছেন তা-ই তার জীবনী সম্পর্কে আমাদের প্রধান অবলম্বন। জানা যায়, বালক এপিকুরোস প্লেটোবাদী শিক্ষক পাম্ফিলোস এর কাছে চার বছর দর্শন পড়েছিলেন।</p><p>সামরিক বাহিনীতে দুই বছর সেবা দেয়ার জন্য ১৮ বছর বয়সে এথেন্সে যান। তখন আকাদেমির প্রধান ছিলেন ক্সেনোক্রাতেস। এরিস্টটল-ও বেঁচে ছিলেন। ৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি যখন মারা যান তখন এপিকুরোসের বয়স ২০ বছর। সে সময় নাট্যকার মেনান্দ্রোস-ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছিলেন। এপিকুরোস ও মেনান্দ্রোস সমবয়সী ছিলেন। এই সময়টাতেই তার দার্শনিক মতাবলীর গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এথেন্সের দর্শন তখন অস্তগামী। কয়েকজন শিক্ষক কেবল লাইসিয়ামে বসে মানুষকে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, বাকি অঞ্চলের অবস্থা বেশ খারাপ। এ কারণে দার্শনিকদের সম্বন্ধে এপিকুরোস অনেক বিরূপ ভাব পোষণ করতে শুরু করেন। এরিস্টটল ও প্লেটো দুজনেকেই বিদ্রুপ করেন, আর ইরাক্লেইতোস কে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।</p><p>৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তার অন্যতম প্রধান সেনানায়ক পের্দিকাস এথেনীয়দেরকে সামোস থেকে কোলোফন-এ তাড়িয়ে দেন। সামরিক সেবা শেষে এপিকুরোস কোলোফনেই তার পরিবারের সাথে মিলিত হন। এখানেই দেমোক্রিতোসের অনুসারী নাওসিফানেস-এর কাছে পড়াশোনা করেন। ৩১১/৩১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে মিতিলিনি শহরে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু কিছু বিষয়ে বিবাদের কারণে তাকে এই শহর থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। এরপর লাম্প্‌সাকোস শহরে স্কুল খোলেন। ৩০৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এথেন্সে ফিরে আসেন।</p><p>এথেন্সে একটি বাগান ক্রয় করেন যার অবস্থান ছিল Stoa of Attalos এবং আকাদেমির মাঝামাঝি স্থানে। শোনা যায়, প্লেটোর আকাদেমি আর এরিস্টটলের লাইসিয়ামের মত এই বাগানেও প্রচুর শিক্ষার্থী আসতো। তাদের সবার কাছেই এপিকুরোস ছিলেন পরম শ্রদ্ধার পাত্র। বাগনটি &#8220;এপিকুরোসের বাগান&#8221; নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। দিওগেনেস লিখেন, বিরুদ্ধবাদীরা কিছু অপবাদ রটালেও প্রকৃতপক্ষে এপিকুরোস ছিলেন খুব নরম মনের মানুষ, উদার ও বন্ধুবৎসল। মৃত্যুকালীন উইলে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে তার বন্ধুদের সন্তানদের জন্য অর্থ-সম্পত্তি বরাদ্দ করেন এবং একজন উত্তরসূরী মনোনীত করেন। তার মৃত্যুর পর এপিকুরোসবাদীদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এরমার্খোস।</p><p>এপিকুরোস কোনদিন বিয়ে করেননি, জানা মতে তার কোন সন্তানও ছিল না। কিডনিতে পাথর হয়েছিল। রোগে ভুগে ২৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ৭২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে খুব অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ইদোমেনেউস-কে লিখেন,</p><blockquote><div>এমন এক দিনে তোমাকে চিঠিটা লিখছি যে দিনটি আমার জন্য খুব আনন্দের, একইসাথে এটা আমার জীবনের শেষ দিন। কারণ এমন এক বেদনাদায়ক রোগের আক্রমণে আমি মূত্রত্যাগে অক্ষম হয়ে পড়েছি, সেই সাথে আছে আমাশয়। এগুলো এতই কষ্টের যে আর কোনকিছুর পক্ষেই এই কষ্টের পরিমাণ বিন্দুমাত্র বাড়ানো সম্ভব না। কিন্তু আমার সারা জীবনের দার্শনিক ধ্যানের স্মৃতি যে আনন্দবোধের জন্ম দিয়েছে তা এই কষ্টকে ধুয়ে মুছে দিয়েছে। আমি তোমাকে একান্তভাবে অনুরোধ করছি ততটা আন্তরিকতার সাথে Metrodorus এর সন্তানদের যত্ন নিতে যতটা আন্তরিকতা সে আমার ও সামগ্রিক দর্শনের প্রতি দেখিয়েছে।</div></blockquote><p>এপিকুরোসের দর্শনের উপর পূর্ববর্তী অনেক দর্শন ও দার্শনিকের প্রভাব আছে। কিন্তু তার কাজের মৌলিকত্বও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেমোক্রিতোসের দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু দেমোক্রিতোসের সাথে নিয়তিবাদ বিষয়ে তার বিশাল পার্থক্য ছিল। এপিকুরোস নিজে অবশ্য তার উপর দেমোক্রিতোসের প্রভাব স্বীকার করেননি। তিনি অন্য দার্শনিকদের দ্বিধান্বিত বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং নিজেকে স্ব-শিক্ষিত দাবী করেছেন।</p><p>[এখানে কেবল এপিকুরোসের জীবনী ও দর্শনের সারকথা বলা হয়েছে। তার দর্শন নিয়ে বিস্তারিত থাকবে পরের পর্বে- এরপর শুরু হবে দেমোক্রিতোস ও লুক্রেতিওস, এবং সক্রেটিস- যেসব গ্রিককে আমি ভাল পাই]</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/22047/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>74</slash:comments> </item> <item><title>ভুল অ্যালগরিদমে আত্মগ্রাসী যৌনতা</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/21898</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/21898#comments</comments> <pubDate>Sun, 07 Mar 2010 16:21:40 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[চলচ্চিত্র]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category> <category><![CDATA[ক্র্যাশ]]></category> <category><![CDATA[ডেভিড ক্রোনেনবার্গ]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=21898</guid> <description><![CDATA[ডেভিড ক্রোনেনবার্গ এর ক্র্যাশ (১৯৯৬) [পল হ্যাগিস এর ক্র্যাশ (২০০৪) নয়] আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে অস্বস্তিকর সিনেমাগুলোর একটি। অস্বস্তিকর শব্দটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করিনি। আসলে পুরো সিনেমায় যদি বিপরীত ও সমকামী সংগম, গাড়ি দুর্ঘটনা, শুষ্ক ক্ষত, ভগ্ন হাড় আর নাইহিলিস্ট প্রতিবেশ ছাড়া আর কিছু না থাকে তবে স্বস্তি পাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু অস্বস্তি [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>ডেভিড ক্রোনেনবার্গ এর ক্র্যাশ (১৯৯৬) [পল হ্যাগিস এর ক্র্যাশ (২০০৪) নয়] আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে অস্বস্তিকর সিনেমাগুলোর একটি। অস্বস্তিকর শব্দটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করিনি। আসলে পুরো সিনেমায় যদি বিপরীত ও সমকামী সংগম, গাড়ি দুর্ঘটনা, শুষ্ক ক্ষত, ভগ্ন হাড় আর নাইহিলিস্ট প্রতিবেশ ছাড়া আর কিছু না থাকে তবে স্বস্তি পাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু অস্বস্তি জাগানিয়া সিনেমাটি নিঃসন্দেহে নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে সাহসী, মানবিক, উদ্ভাবনী সিনেমাগুলোর একটি। এটা এতোই আউট অফ ট্র্যাক এবং শান্তিতে শায়িত এই বাঙালির পক্ষে ব্যাখ্যা করা এতোই কষ্টকর যে মৌলিক রিভিউ লেখার দুঃসাহস আমি করছি না। সমঝদারির নিদর্শনস্বরূপ একালের পণ্ডিত চলচ্চিত্র সমঝদার রজার ইবার্ট এর রিভিউটার ভাবানুবাদ করছি। ইবার্টের সব না হলেও অধিকাংশ রিভিউ পড়েই আমি মুগ্ধ হই। তার কোন কোন রিভিউ ভাল না লাগার একটা বড় কারণ হতে পারে দর্শকদের প্রতি বড্ড বেশি দায়বদ্ধতা, এতো দায়বদ্ধতা ভাল লাগে না, নিজের যা ইচ্ছা তাই লেখার মধ্যে যে মজাটা আছে দায়বদ্ধতা সেটার ক্ষতি করে; অবশ্য এটাও সত্য যে দায়বদ্ধতা সকল ধরণের শিল্প সমালোচনা বা সমঝদারিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।</p><p>ইবার্টের করা ক্র্যাশ এর রিভিউ আমার মতে ইতিহাসের সবচেয়ে যথার্থ চলচ্চিত্র সমালোচনাগুলোর একটি। এর একটি বঙ্গানুবাদ থাকা উচিত বলে মনে হল। কথা না বাড়িয়ে বরং শুরু করি:</p><p><img width="460" src="http://www.slantmagazine.com/images/film/crash1996.jpg" alt="3" /></p><p><strong>ক্র্যাশ (১৯৯৬)</strong><br /> <em>রজার ইবার্ট, ২১ মার্চ ১৯৯৭</em></p><p>বুঝতে পারছি যে কাজটা করা উচিত না, কিন্তু কমন সেন্স এবং প্রতিরোধের সব বাঁধ ভেঙে গেছে; যতোটা বুঝতে পারছি করা উচিত না ঠিক ততোটাই বুঝতে পারছি যে কাজটি আমি করবোই- এমন অনুভূতির সাথে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। এই পরিচিতিটাই <a href="http://filmreferencelibrary.ca/index.asp?layid=46&#038;csid1=15&#038;navid=87">ডেভিড ক্রোনেনবার্গ</a> এর <a href="http://www.imdb.com/title/tt0115964/">ক্র্যাশ</a> বোঝায় কাজে দেবে, এই সিনেমা বুঝতে হলে কল্পনার ডানায় ভর করে হলেও একবার সেই ক্রান্তিকালীন অনুভূতিটা ছুঁয়ে দেখতে হবে।</p><p>এমন আত্মগ্রাসী অনুভূতির সাথে সবচেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠতা যৌনাকাঙ্ক্ষার। অবশ্য লুটেরা, জুয়ারী, মাদকাসক্ত বা পেশাদার কসরতবাজ- যারা ঝুঁকির মাঝে আনন্দ পায়- তাদের জন্যও এ ধরণের অভিজ্ঞতা লাভের দুয়ার প্রশস্ত। ক্র্যাশ এর সবগুলো চরিত্রই এমন এক আত্মগ্রাসী ক্রান্তিকালীন অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করে, তারা যৌনক্ষুধা এবং গাড়ি দুর্ঘটনার মাঝে এক ধরণের সংযোগ খুঁজে পেয়েছে। এই সংযোগ-বিমূঢ়তা তাদেরকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে নিরন্তর, তারা একান্তই অসহায়।</p><p>অবশ্যই গাড়ি দুর্ঘটনার সাথে যৌনক্ষুধার এমন কোন মেলবন্ধন নেই। নিছক যৌন তাড়নায় সামনের লেন লক্ষ করে ঘণ্টায় ৬০ মাইল বেগে গাড়ি চালিয়ে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলার তাগিদ কারও মধ্যে আছে বলে জানা নেই। এমন কোন ব্যক্তির সন্ধান কেউ দিতে পারবেন বলেও মনে হয় না। চরম স্যাডোম্যাসোকিস্ট দের মধ্যেও কিছু নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আছে। প্রচণ্ড বেগে গাড়ি চালিয়ে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়াটা কারও কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে এবং এই অন্তিম পরিণতির মধ্যে আত্মহত্যার বদলে মহান আত্মতৃপ্তির অনুভূতি লাভ করতে পারে, এমনটা ভাবাই যায় না।</p><p>ক্র্যাশ এর চরিত্রগুলো অন্ধ যৌন ফেটিশিজম (অজৈব বস্তুর প্রতি যৌন আকর্ষণ) এ আক্রান্ত, যদি এটাকে একটা রোগ ধরা হয়। তবে এটা এমন এক প্রকার ফেটিশিজম যা বাস্তবে কারও মধ্যে নেই। ক্রোনেনবার্গ এমন এক সিনেমা বানিয়েছেন যেটা গড়ন এবং কাঠামোর দিক দিয়ে পর্নোগ্রাফিক হলেও ফলাফলের দিক দিয়ে একেবারেই নয়। ক্র্যাশ থেকে গাড়ি, দগদগে শুষ্ক ক্ষত, ক্রাচ, আঘাতের চিহ্ন এবং চর্মরোগগুলো উঠিয়ে সেখানে গতানুগতিক যৌন ভিডিওচিত্রের উপাদান যোগ করে দিলেই একটা পর্নো মুভি দাঁড়িয়ে যাবে। কিন্তু এই অস্বস্তিকর উপাদানগুলো যোগ করার মাধ্যমে ক্র্যাশ তার সকল পর্নোগ্রাফিক বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে, হয়ে উঠেছে মানব মনের এক সার্থক চিত্রায়ন। আমরা কত সহজেই উত্তেজক জিনিস বা বিষয়গুলোর দাসে পরিণত হই, সেগুলো অধিকারের জন্য নিজের সাত খুন মাফ করে দেই, অন্যের ক্ষতি করে হলেও তা অধিগ্রহণ করি, আর দিন শেষে নিজেকে প্রবোধ দেই।</p><p>কলেজের প্রেসিডেন্ট নিজের যৌনক্ষুধা চরিতার্থ করার জন্য শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে, সিনেমার নায়ক বা টিভি পরিবেশক অমুক দিন অমুক রাস্তায় এক বেশ্যার কণ্ঠলগ্ন হয়েছে- এমন খবর প্রায়শঃই শোনা যায়। শুনে আমরা ভাবি- কি দরকার ছিল ভাই, নিজের খ্যাতিটাকে ক্ষণিকের উত্তেজনায় এভাবে ধ্বংস করার কি প্রয়োজন ছিল, কি ভাবছিলে তোমরা কাজটা করার সময়? উত্তর হচ্ছে, তারা ভাবছিলো:<br /> ক) আমি এটা করতে চাই<br /> খ) এটা করে আমার পার পাওয়ার সুযোগ আছে<br /> ক্র্যাশ মানুষের এই গহীন অনুভূতিটা বুঝতে পেরেছে। সিনেমার একটি চরিত্রকে এমন অনুভূতি সম্পর্কে বলতে শোনা যায়, &#8220;a benevolent psychopathology that beckons toward us&#8221;। এটা মানুষের যৌন তাড়না বিষয়ক এক অদ্ভুত এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সিনেমা। তুলনা করার জন্য এ ধরণের সিনেমার মধ্যে এখন কেবল &#8220;Belle de Jour,&#8221; &#8220;Peeping Tom&#8221; এবং &#8220;Damage&#8221; এর নামই মনে আসছে। কাঠামোর দিক দিয়ে পর্নোগ্রাফিক হলেও এই পুরো সিনেমার মধ্যে এমন কোন মুহূর্ত নেই যা দর্শকদের যৌনক্ষুধা উস্কে দিতে পারে। এসব উপাদান সযত্নে কর্তনের মাধ্যমে ক্রোনেনবার্গ তার বিষয়বস্তুর মধ্যে এক ধরণের বরফ শীতল বিমূর্ত পবিত্রতা নিয়ে এসেছে।</p><p>সিনেমার প্রথম দৃশ্যে দেখা যায় একটি মেয়ে তার উন্মুক্ত বক্ষ চেপে ধরছে একটি এরোপ্লেনের চকচকে ধাতব পৃষ্ঠে। এরপর সে রঙিন ধাতব পৃষ্ঠটি চাটতে থাকে, একই সময় তার যৌনসঙ্গীর জিভও ঘুরে ফিরতে থাকে তার চর্মজুড়ে। মেয়েটির নাম ক্যাথেরিন ব্যালার্ড (ডেবোরাহ কারা আংগার)। কিছুক্ষণ পর তাকে বাসায় দেখা যায়, তার স্বামী জেমস (জেমস স্পেডার)  ফিরে আসে। দুজনে দুজনার ঐদিনের কৃতকর্ম মিলিয়ে দেখে, বুঝতে পারে কিভাবে দুজনেই পাবলিক প্লেসে সেক্স করে এসেছে, দুজনেই ধরা পরার ঝুঁকি থেকে তৃপ্তি লাভ করেছে। তাদের কথা বলার ভঙ্গিটা খুব লক্ষ করার মত: শীতল এবং একেবারেই আন্তরিক নয়। এর মানে কিন্তু এই না যে তারা একে অপরকে ভালোবাসে না, বরং উল্টোটাই সত্যি। তাদের মন এবং স্বাদে কতো মিল এটা ভেবেই তারা বিস্মিত হয়, এই বিমূঢ়তাই তাদের মাঝে অদ্ভুত শীতলতা এনে দেয় যাকে নির্লিপ্ততা ভেবে ভ্রম হয়।</p><p>এর পরপরই জেমস দুর্ঘটনায় পরে, আরেকটি প্রাইভেট কারের সাথে মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ। উল্টো দিক থেকে আসা গাড়ির সামনের সিটে একটি লোক একটি নারী ছিল, সংঘর্ষের পর লোকটি ছিটকে জেমসের গাড়িতে এসে পড়ে, তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয়। বেঁচে থাকে অপর গাড়ির মেয়েটি, নাম হেলেন (হলি হান্টার)। ভয়ানক আহত জেমস এক দৃষ্টিতে হেলেনের দিকে চেয়ে থাকে। একই হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাদেরকে, কেইন, ব্রেইস এবং টেনে টেনে আনা আইভি ব্যাগ হাতে দুজনের আবারও দেখা হয় হাসপাতালের ওয়ার্ডে। ছাড়া পাওয়ার পর দুজনেই একই দিনে একই সময়ে নিজেদের বিধ্বস্ত গাড়ি দুটো দেখতে কার পাউন্ডে যায়। দেখা হওয়ার পর জেমস বলে, &#8220;Can I give you a lift?&#8221;, &#8220;I somehow find myself driving again&#8221;। এবার হেলেনকে নিয়ে আবারও প্রায় মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে বেঁচে যায় জেমস, এরপর তারা এয়ারপোর্টের গ্যারেজে গাড়ি থামিয়ে অন্তরঙ্গ সংগমে মিলিত হয়।</p><p>কি ঘটলো এতোক্ষণ? এখান থেকে সংঘর্ষ এবং হতাহত উঠিয়ে নিয়ে তার বদলে সাধারণ প্রেমের সিনেমার উপাদান জুড়ে দিলেই কাহিনীর অগ্রগতি বুঝতে আর কোন বাঁধা থাকে না। প্রথম সংঘর্ষ উঠিয়ে সেখানে এক পার্টিতে হঠাৎ দুজনের চোখাচোখি বসানো যাক, স্বামীটিকে মৃত্যুর বদলে বোকা এবং গোঁয়াড়ের মত কোন কাজ করতে দেয়া হোক, ভাগ্যের জোড়ে পরে তাদের আবারও দেখা হোক, দুজনে একসাথে কিছু করতে গিয়ে ভয়ংকর কোন পরিস্থিতি থেকে বেঁচে যাক, তাদের মধ্যে হঠাৎ যৌন আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠুক- এমন সরলরৈখিক প্রেমকাহিনী বুঝতে কারোই অসুবিধা হওয়ার কথা না, বরং এতোকিছুর শেষে দর্শকদের মুখিয়ে থাকার কথা একটি অন্তরঙ্গ যৌনদৃশ্যের জন্য। ক্র্যাশ এ কিন্তু দর্শকদের এমন প্রতিক্রিয়া হয় না, ঘটনাগুলো যে আমাদের অস্বস্তিতে ফেলছে তাও না, বরং বলা যায় সিনেমার পাত্র-পাত্রীর যৌন আবেগে জ্বলে ওঠাই আমাদের যৌনাবেগের লাল বাতি জ্বালিয়ে দেয়।</p><p>এরপর আরও চরিত্র আসে। ভন মূলত আলোকচিত্রশিল্পী যে কিনা ইতিহাসের বিখ্যাত সব সেলিব্রিটি গাড়ি দুর্ঘটনা পুনরায় মঞ্চায়িত করে, মঞ্চায়ন বললে ভুল হবে, অতীত দুর্ঘটনাগুলোর অনুকরণে নতুন দুর্ঘটনা ঘটায়। এই লাইভ ক্র্যাশ দেখতেও অনেকে জড়ো হয়। যেমন জেমস ডিন দুর্ঘটনা আবার ঘটায় ভন। তার ছোট্ট কিন্তু একাগ্র দর্শকদের উদ্দেশ্যে মঞ্চায়নের আগে সে বলে, &#8220;Notice that we use no seat belts, padded suits or roll bars,&#8221; &#8220;We rely only on the skill of our drivers.&#8221; ভন থাকে গ্যাব্রিয়েলার (রোজানা আর্কুয়েট) সাথে যে কিনা ব্রেইস ছাড়া হাটতে পারে না, পুরো পা-ই ভাঙাভাঙা। জেমস ডিনের দুর্ঘটনা মঞ্চায়ন করার সময় যে গাড়ি চালায় (পিটার ম্যাকনিল) তার সাথে ভন নিয়মিত কাজ করে, ভনের নিজের গাড়িটি হচ্ছে লিংকন কন্টিনেন্টাল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় ঠিক এমন একটি গাড়িতেই যাচ্ছিলেন জন এফ কেনেডি।</p><p>অল্পদিনের মাঝেই ভন এর রাজ্যে আগমন ঘটে জেমস, ক্যাথেরিন ও হেলেন এর। তারা কিন্তু নিছক দৈবের বশে একত্রিত হয় নি। একই ধরণের স্বাদ এবং ফেটিশ লালন করার কারণেই তাদের সাক্ষাৎ ঘটেছে। এই তিন জন এবং ভন সহ মোট চার জনের মধ্যে সম্ভাব্য প্রায় সকল উপায়ে এবং বিন্যাসে সেক্স হয়, বিষমকামী, সমকামী কোনকিছুই বাদ যায় না। তবে কার সাথে কার সংগম ঘটছে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে কোন পরিবেশে ঘটছে সেটা। সংগমাহত চরিত্রগুলোকে সেড়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট সময়ও দেয় না ক্রোনেনবার্গ, বুঝিয়ে দেয় তারা সবাই আসলে যৌনক্ষুধা ও বিহ্বলতায় অচেতন। এই আত্মগ্রাসী পথে তারা চলতেই থাকে, কারণ থেমে পড়ার কোন ইচ্ছা নেই, কোথায় যাচ্ছে জানে না, কিন্তু যেতে হবে সেটা জানে। তাদেরকে বুঝতে হলে আমাদের তাদের টার্ন অন গুলো কেটে ফেলে সেখানে নিজেদের টার্ন অনগুলো স্থাপন করতে হবে, কারণ স্বতঃই টার্নড অন হওয়ার কোন উপায় নেই এখানে।</p><p>১৯৯৬ সালের মে মাসে যখন কান চলচ্চিত্র উৎসবে ক্র্যাশ প্রদর্শিত হয় তখন অনেকেই থিয়েটার ছেড়ে পালিয়েছিল। কেনাডা এবং ইউরোপে বিপুল বিতর্কের সাথেই চলেছে সিনেমাটি, এগুলোর ইতি ও নেতিবাচক উভয় দিকই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ফাইন লাইন স্টুডিও এটা বণ্টন করছে যদিও স্টুডিওর মালিক টেড টার্নার নিজেই সিনেমাটা ঘৃণা করে। সুতরাং সন্দেহ নেই যে অনেক দর্শককেই এটি অস্বস্তি ও বিরক্তির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে দেবে।</p><p>একে বলা যায় কম্পিউটার এর হাতে নির্মিত একটি পর্নো মুভি। ব্যাপারটা যেন এমন- কম্পিউটার যৌনতা বিষয়ে গিগাবাইট গিগাবইট তথ্য ডাউনলোড করেছে, গাড়ির সাথে আমাদের ভালোবাসার বিষয়টা আবিষ্কার করেছে, এবং এই দুই তাড়নাকে ভুল অ্যালগরিদমে জুড়ে দিয়েছে। এর ফলে বেরিয়ে এসেছে প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জিং, সাহসী এবং মৌলিক একটি শিল্পকর্ম- হয়ে উঠেছে পর্নোগ্রাফি কৌশলের একটি সুচতুর ব্যবচ্ছেদ। আমি ছবিটির প্রশংসা করেছি যদিও বলতে পারবো না যে এটা আমার ভাল লেগেছে। সিনেমার দৈর্ঘ্যটা বড্ড বেশি। সিনেমা শেষে আমার মনে হচ্ছিল- বিখ্যাত কোন পরিচালক যদি আমার ফেটিশগুলো নিয়ে করা কোন সিনেমায় এমন ভালোবাসা ও মনোযোগ বিস্তার করতো!</p><div id="attachment_21899" class="wp-caption aligncenter" style="width: 470px"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/1.jpg" alt="ক্যাথেরিন ব্যালার্ড ও জেমস, অদূরে টরন্টো শহরের অস্থির ট্রাফিক" title="1" width="460"/><p class="wp-caption-text">ক্যাথেরিন ব্যালার্ড ও জেমস, অদূরে টরন্টো শহরের অস্থির ট্রাফিক</p></div><p><strong>সূত্র:</strong> <a href="http://rogerebert.suntimes.com/apps/pbcs.dll/article?AID=/19970321/REVIEWS/703210301/1023">Crash &#8211; Roger Ebert</a></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/21898/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>28</slash:comments> </item> <item><title>একাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব &#8211; ২</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/19964</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/19964#comments</comments> <pubDate>Sun, 17 Jan 2010 20:32:12 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[চলচ্চিত্র]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category> <category><![CDATA[ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=19964</guid> <description><![CDATA[আজ আর সকালে যাওয়া হল না। ১ টার আগে তো যেতেই হতো, জাক দেমি-র সিনেমা দেখার জন্য। যে সময়ে রওনা দিয়েছিলাম তাতে জাম আরেকটু জেঁকে বসলেই মুভির অর্ধেকটা মিস হয়ে যেতো। তেমন কিছু হয় নি, ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম শাহবাগ, মুভির প্রথম ৩ মিনিট মিস করলাম। আজ অবশ্য একা ছিলাম না, গিয়ে দেখি আন্দালিব [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>আজ আর সকালে যাওয়া হল না। ১ টার আগে তো যেতেই হতো, জাক দেমি-র সিনেমা দেখার জন্য। যে সময়ে রওনা দিয়েছিলাম তাতে জাম আরেকটু জেঁকে বসলেই মুভির অর্ধেকটা মিস হয়ে যেতো। তেমন কিছু হয় নি, ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম শাহবাগ, মুভির প্রথম ৩ মিনিট মিস করলাম। আজ অবশ্য একা ছিলাম না, গিয়ে দেখি আন্দালিব ভাই ও লিংকন অলরেডি এসে পড়েছে, আমি আর তাওসিফ মিলে হল ৪ জন। এক দৌড়ে টিকেট কেটে বসে পড়লাম।</p><p>যা বুঝলাম উৎসবের সকাল পর্বটায় মানুষ খুব কম থাকে। দুপুড় থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করে। যেমন আজকের জাক দেমি দেখতে ২০-৩০ জন বসেছিল। তাও দুপুড় বলে কিছুটা কম হওয়া স্বাভাবিক। ৫:৩০ এবং ৭:৩০ এর শোতে মানুষ হয় সবচেয়ে বেশি, সামাজিক গণিতের সাথে অবশ্য এটা মিলেও যায়। অডিটোরিয়ামগুলোর মধ্যে জাতীয় জাদুঘরের শহীদ জিয়া অডিটোরিয়ামটাই সবচেয়ে ভাল, এরপরে আসবে পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তন, আর জাদুঘরের সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামের অবস্থা খুব একটা ভাল না। আগের দিনের চেয়ে আজকে উৎসব যে বেশি জমে উঠেছে এটা না বোঝার কোন কারণ ছিল না। বুথের সামনে এতো ভিড় আগের দিন চোখে পড়ে নি। টিকেট কাটতে আগের দিন কোন ভিড়ের মুখোমুখি হতে হয় নি। সেন্সর বোর্ডের বদৌলতে অপ্রীতিকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে আজকেও, একবার না, বেশ কয়েকবার, সে কথায় পরে আসছি।</p><p><strong>লে পারাপ্লুই দ্য শের্বুর (Les Parapluies de Cherbourg &#8211; The Umbrellas of Cherbourg) [জাক দেমি, ১৯৬৪]</strong></p><p><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/01/opt_003029.jpg" alt="opt_003029" title="opt_003029" width="460"/></p><p>জাক দেমি দ্বিতীয় দিনও মুগ্ধ করলো। এবার অবশ্য খালি হাতে যাই নি। প্রথম দিনের লক্ষ্য ছিল আগে থেকে তেমন কিছু না জেনেই একজন বিখ্যাত ফরাসি পরিচালকের সাথে পরিচিত হওয়া। এবার অন্তত এটুকু জানতাম যে, সিনেমাটা মিউজিক্যাল, সকল কথোপকথনই সুর এবং ছন্দের তালে তালে। এতে একটা সমস্যাও হয়েছে, ফরাসি না বোঝার কারণে সুর এবং ছন্দের সৌন্দর্য্যটা পুরোপুরি অনুভব করতে পারি নি। সাবটাইটেল দেখে ভাবটা বোঝা গেছে, তার সাথে ছবি এবং সুর মিলিয়ে নিতে হয়েছে।</p><p>জাক দেমি ফরাসি নবতরঙ্গ আন্দোলনের চলচ্চিত্রকার হলেও সে যুগের অন্যান্য পরিচালকদের থেকে একটু ভিন্ন। অন্যান্যরা যেখানে হলিউডের পতনে মর্মাহত হয়ে নিজেরা সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে সিনেমাকে জাগিয়ে তোলার কাজ শুরু করেছে, সেখানে জাক দেমি হলিউডের স্বর্ণযুগের স্টাইলকেই পুঁজি করেছে। এই মিউজিক্যালটার সাথে হলিউডের মিউজিক্যালগুলোর মিল দেখার পরই কেবল দেমির হলিউডী প্রভাবের তাৎপর্য বুঝলাম। তবে অনেক দিক দিয়েই জাক দেমি স্বতন্ত্র। তার সিনেমা যাকে বলে নৈসর্গ্যিক সুন্দর, মিউজিক্যাল বলে সৌন্দর্য্যটা আরও পরিস্ফূটিত হয়েছে। সুরের পাশাপাশি মিজঁসেন তথা ব্যাকগ্রাউন্ড, ফোরগ্রাইন্ড ইত্যাদিও মুগ্ধ করেছে।</p><p>শের্বুর শহরে একটি ছাতার দোকানের মালিক এমেরি, তার মেয়ে জেনেভিয়েভ সিনেমার প্রধান চরিত্র। শের্বুরেরই একটি ছেলের প্রেমে পড়ে জেনেভিয়েভ, কিন্তু ছেলেটিকে চলে যেতে হয় আলজেরিয়ার যুদ্ধে। যুদ্ধের কারণেই সময়ের স্রোত অন্যদিকে বইতে শুরু করে, একেক জনকে একেক দিকে নিয়ে যায়। এই সরল সামাজিক স্রোতের কাহিনীই সুরে সুরে বলেছেন জাক দেমি। কাহিনীর চমক বা ভেল্কি দিয়ে দর্শকদের ওভারলোড করে দেয়ার কোন চেষ্টা নেই, অর্থাৎ যথারীতি আবার সেই ফরাসি পরিমিতিবোধ। সিনেমাটার সবচেয়ে ভাল সংজ্ঞা হতে পারে, আগাগোড়া ফরাসি, ফরাসি শৈল্পিক সংস্কৃতির পরিচায়ক।</p><p>যুদ্ধের আগে আগে শেষ বারের মত জেনেভিয়েভ তার প্রেমিকের সাথে মিলিত হয়, যে মিলন ভবিষ্যতে তাদের ভিন্ন সময়স্রোতকে একসাথে বেঁধে রাখার কাজ করে বা করার চেষ্টা করে। সেই মিলনের আগে রাস্তা ধরে হেটে যাচ্ছিল দুজন, কথা হচ্ছিল সুরে সুরে, ছেলেটির সাথে সাইকেল ছিল- দৃশ্যটা অসাধারণ। বাসায় ঢোকার ঠিক আগে তারা যখন কিস করে তখন অর্ধেক বাসা এবং অর্ধেক রাস্তা, বাসার নানা স্তর আর রাস্তার নানা রঙ মিলিয়ে একটা অভূতপর্ব দৃশ্য তৈরি হয়েছিল। এছাড়া ট্রেনে স্টেশনে প্রেমিককে বিদায় জানানোর সময়টা খুব নান্দনিক ছিল। সমাপ্তি টানার ক্ষেত্রে যে জাক দেমি অনবদ্য এটা বুঝতে আর বাকি নেই। সূচনা বলতে পারবো না, কারণ দুটো সিনেমারই প্রথম ৩-৫ মিনিট মিস করেছি। তবে শেষে ক্যামেরা ধরে দেমি যে টানটা দেয় সেটা ভুলে যাওয়া আক্ষরিক অর্থেই অসম্ভব।</p><p><strong>তন্দুরী লাভ (Tandoori Love) [সুইৎজারল্যান্ড]</strong></p><p><img width="460" src="http://dearcinema.com/wp-content/uploads/2008/11/tandoori-love-1.jpg" alt="2" /></p><p>এই সিনেমাটা দেখা নিয়ে সন্দেহে ছিলাম। অপশন ছিল দুটো: মালয়েশিয়ার বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ইয়াসমিন আহমেদ এর Tale N Time নাকি সুইৎজারল্যান্ডের তন্দুরী লাভ? তার ওপর তন্দুরী থাকার অর্থই ধরে নিয়েছিলাম যে ভারতের সাথে কোন সংশ্লিষ্টতা আছে। ইয়াসমিন আহমেদ এই ২০০৯ সালেই মারা গেছেন। তার সাথে পরিচিত হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অডিটোরিয়ামটা ভাল না বিধায় কি মনে করে যেন তন্দুরী লাভ দেখতেই ঢুকে গেলাম এবং যথারীতি পস্তাতে হল। সিনেমাটা দেখে মন ভরে নাই, যদিও দর্শকদের কাছে এটার গ্রহণযোগ্যতাই ছিল সবচেয়ে বেশি। পস্তানোর মাত্রাটা আরও বেড়েছে যখন তন্দুরী প্রীতি শেষ হওয়ার পর দৌড়ে জাদুঘরের সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে গিয়ে ইয়াসমিন আহমেদ এর Tale N Time এর শেষ ৫ মিনিট দেখলাম। শেষ ৫ মিনিট দেখেই আমি মুগ্ধ- মনে হচ্ছিল উৎসবের একটা দিন পুরাই বৃথা গেল।</p><p>বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উৎসবের সংস্কৃতি এখনও জমে উঠেনি। দর্শক খুব একটা থাকে না, আর থাকলেও সবার মনোযোগ থাকে না। সিনেমা শেষে হাতাতালি দেয়াটা যেখানে আন্তর্জাতিক সব চলচ্চিত্র উৎসবে একটা টার্নিং পয়েন্ট বাংলাদেশে সেখানে এটা কেবলই ফরমালিটি। কান এর মত স্ট্যান্ডিং ওভেশন বা সাধারণ হাতাতালি দিয়ে সিনেমা বিচার করলে ঢাকা উৎসবের অবমাননা হবে। তন্দুরী লাভ দেখেই তা বুঝলাম। এই সিনেমায় দর্শক বোধহয় ৫০-র মত ছিল। সিনেমা শেষে টানা হাতাতালি না হলেও দর্শকদের মুখের এক্সপ্রেশন দেখেই বুঝে গেলাম অধিকাংশের ভাল লেগেছে, সবাই সন্তুষ্ট, যদিও আমাকে বের হতে হয়েছে মলিন বদনে।</p><p>আরেকটা বড় সমস্যা ছিল সেই অপ্রীতিকর অবস্থা। সিনেমার মধ্যে কম করে হলেও ৫ টি সেক্স সিন ছিল এবং প্রত্যেকটাকেই সেই ফ্যাসিস্ট উপায়ে কর্তন করা হয়েছে। ব্যাপারটা দেখতে খুব বাজে লাগে। যেই না দুজনের ঠোটে ঠোট লাগল, চারটি হাতের নড়াচড়া এবং প্লেসমেন্ট বদলাতে শুরু করল, পা গুলো নিজেদের জায়গা করে নেয়ার চিন্তা শুরু করল সেই কিনা পর্দা হয়ে গেল কালো, তাও আবার সবাক অবস্থায়, শোনা যাচ্ছে সব, দেখা যাচ্ছে না কিছুই। কখন দৃশ্যগুলো শেষ হচ্ছে সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের জ্ঞান নেই। চেক করার জন্য পর্দা খুলে দেয়ামাত্রই দ্বিগুণ বিব্রতকর একটা পরিস্থিতি: পা গুলো ততোক্ষণে নিজেদের জায়গা খুঁজে পেয়েছিল মাত্র, তৎক্ষণাৎ আবার সব কালো। এই বিষয়টা নিয়ে উৎসব কর্তৃপক্ষ তথা রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আগেই ভাবা উচিত ছিল। সেন্সর যেহেতু করতেই হবে তখন সেটা সঠিক উপায়েই কি করা উচিত ছিল না? অর্থাৎ ভিডিও এডিটিং এর মাধ্যমে। বাছাইকৃত অংশগুলো আগে কেটে রাখলেই হতো। সেক্ষেত্রে ঝামেলা একটু বাড়তো, আরো প্রফেশনাল হওয়া লাগতো। তাছাড়া ডিরেক্টর্স কাটে পরিবর্তন করার জন্য অনুমতি নেয়ার বিষয়ও ছিল। শুনেছি, দেশীয় সেন্সর বোর্ডের ভয়েই বিদেশী অনেক চলচ্চিত্রকার সিনেমা দিতে চান না। আশাকরি ভবিষ্যতে সেন্সর বোর্ড আরও চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সত্যজিৎ রায় একবার বলেছিলেন, বিদেশী চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে গেলে মনে হয় মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কই সিনেমা করার একমাত্র বিষয়বস্তু, নেতিবাচক নয় ইতিবাচক অর্থেই বলেছিলেন। আশাকরি একদিন এদেশের রঙ্গালয় গুলোও দেয়াল ভেঙে রাস্তায় নেমে আসবে।</p><p>সিনেমা নিয়েই কিছু বলা হলো না। তন্দুরী লাভ এর কাহিনী হচ্ছে: বলিউডের সিনেমার শ্যুটিং করার জন্য ভারত থেকে একটা দল সুইৎজারল্যান্ডে গিয়েছে। নায়িকার ব্যক্তিগত বাবুর্চি সেদেশে গিয়ে হারিয়ে গেছে, তাই নায়িকা রেগেমেগে অস্থির। হিন্দি সিনেমার মতো এখানেও ৫ টা গান আছে, তবে কমার্শিয়াল উপায়ে না গিয়ে এখানে ডে-ড্রিম সিকোয়েন্স বা গানের শুটিং হচ্ছে এমন ভাব নিয়ে গানগুলো নিয়ে আসা হয়েছে। প্রধান চরিত্রে সুইস এক ওয়েট্রেস, বাবুর্চি যার প্রেমে পড়ে। সুইস ওয়েট্রেস আর ভারতীয় বাবুর্চির প্রেম নিয়েই সিনেমা। ম্যাজিক রিয়েলিটি এবং art of food সিনেমায় ফুটিয়ে তোলার খুব চেষ্টা করা হয়েছে যদিও আমি বলব, দ্বিতীয়টায় বেশ সফল হলেও প্রথমটাতে পরিচালক একেবারেই সফল হন নি। ক্লাসিক মেক্সিকান সিনেমা &#8220;লাইক ওয়াটার ফর চকলেট&#8221; এর সাথে থিমেটিক অনেক মিল আছে, কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোর সফল প্রয়োগও ঘটেছে, তবে সার্বিকভাবে সন্তোষজনক না। অনেক কিছুই আধিক্য মনে হয়েছে। অবশ্য এই বাহুল্যের কারণেই সিনেমা শেষে সবার মুখে তৃপ্তির ছাপ হিসেবে হাসি ফুটে উঠেছিল।</p><p><strong>মোহন জোশি হাজির হো! (সাঈদ আখতার মির্জা &#8211; ভারত, ১৯৮৪)</strong></p><p><img width="460" src="http://www.upperstall.com/files/film/mohan-joshi-hazir-ho-03.jpg" alt="3" /></p><p>এই প্রথম আমি একটা হিন্দি সিনেমা দেখে এক্কেবারে মুগ্ধ হলাম, বিমোহিত হলাম। এতো চমৎকার সমাজ-রাজনৈতিক স্যাটায়ার জীবনে খুব বেশি দেখি নি। পরিচালক সাঈদ আখতার মির্জা এই চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন, বক্তৃতাও করেছেন। ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এসব নিবেদিত প্রাণ পরিচালকদের সিনেমা যেন জনপ্রিয়তা অর্জন না করতে পারে সেজন্য এগুলোকে কষা বা জনবিমুখ ধারার সিনেমা হিসেবে মূল ধারা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। প্যারালাল সিনেমা নাম নিয়ে এরা কোনমতে বেঁচে বর্তে আছে। যদিও সময়ের বিচারে এরাই সফল হয়, হারিয়ে যায় সকল বানিজ্যিক সিনেমা। এই উৎসবে ১৪ তারিখ থেকেই প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭:৩০ এ জাতীয় জাদুঘরের শহীদ জিয়া অডিটোরিয়ামে সাঈদ আখতার মির্জার একটি করে সিনেমা দেখানো হচ্ছিল, আজকেই ছিল এই সিরিজের শেষ সিনেমা। গতকালের সিনেমা &#8220;নাসিম&#8221; এর বিষয়বস্তু ছিল ১৯৯২ সালের বাবরী মসজিদ ভাঙার ঘটনা।</p><p>আর আজকের সিনেমার বিষয়বস্তু ছিল মুম্বাই শহরের ঘিঞ্জি (পুরান ঢাকা টাইপের) এলাকায় মোহন জোশি নামের একজন মানুষের সংগ্রাম। সিনেমা শুরু হয় মুম্বাই শহরের চালচিত্র দিয়ে, অসংখ্য খণ্ড খণ্ড চলচ্চিত্র জোড়া লাগিয়ে মন্টাজ তৈরি করেন আখতার মির্জা, ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে বোম্বে নিয়ে একটা গান। দেশাত্মবোধক থেকে হঠাৎই গানটা হয়ে ওঠে বিপ্লবী। বলে চলে, এই শহরে বহুতল ভবন আছে, দাবী করা হয় এখানে স্বর্গ এখানেই শান্তি, কিন্তু আসলে সবই ফক্কিকার। শহরে নাকি আবাসনের অভাব নেই, অথচ রাস্তায় পরে রয়েছে ছোট্ট শিশু, শহরে নাকি মানবেতর জীবনের ছাপ নেই, অথচ পঙ্গু হেটে হেটে ভিক্ষা করছে, বহুতল ভবনের পাশেই রাতভর খেটেও জীবিকা জোটাতে পারছে না মানুষ, কারখানা থেকে অবিরাম দূষিত বাতাস বেরোচ্ছে, বিষাক্ত হয়ে গেছে মানুষের অন্তর। তারপরও নাকি এই শহরে কমপ্লেইন করার মতো কিছু নেই, খাও দাও ফূর্তি কর আর শহরের ঈশ্বরের পূজা কর। কিন্তু মোহন জোশি এমন এক ব্যক্তি যে কেবলই কমপ্লেইন করে। গান শেষ হয়, ক্রেডিট দেখানো শেষ হয়, গানের শেষ লাইনগুলো মোহন জোশির সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়, তারপর জোশিই সিনেমা এগিয়ে নিয়ে যায়।</p><p>শুরু হয় তীক্ষ্ণ সামাজিক স্যাটায়ার। মোহন জোশি স্ত্রী, দুই ছেলে, বড় ছেলের স্ত্রী ও নাতি নিয়ে যে বাড়িতে থাকে সে বাড়ির অবস্থা বড়ই সঙীন, আশপাশের সবগুলো বাড়িই ভেঙে পড়ার উপক্রম করছে। কিন্তু কেউ মালিককে কিছু বলবে না, কোর্টেও যাবে না, শুধু শুধু ঝামেলা করার কি দরকার। মোহন জোশি স্ত্রীকে সাথে নিয়ে পথে নামে, মালিকের কাছে যায়। মালিকের দুই পাশে দুই কোট-টাই পরা টারান্টিনো স্টাইলের গ্যাংস্টার দেখা যায়। গ্যাংস্টার দ্বয় যেন মালিকের টলারেন্স লিমিট নিয়ন্ত্রণ করে। প্রত্যাখ্যাত হয়ে কোর্টে যায় তারা। পরিচয় হয় সবচেয়ে স্যাটায়ার ধর্মী চরিত্র তথা আইনজীবীটির সাথে। এই প্রথম নাসিরুদ্দীন শাহ-র অভিনয় দেখলাম। আইনজীবীর চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন। চতুর আইনজীবীর খপ্পরে পড়ে জোশি পরিবারের অর্থ-সম্পত্তি সব ফুরিয়ে যেতে থাকে, বছরের পর বছর পেরিয়ে যেতে থাকে, কিন্তু মামলার কোন নিষ্পত্তি হয় না। সিনেমাটা অনেকটা কোর্টরুম ড্রামা টাইপের। আদর্শ কোর্টরুম ড্রামার মতোই এখানে কোর্টরুম মানে কেবল আদালত না, পুরো বিশ্ব। এই বিশ্বে কেবল অর্থহীন আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক আর হাসি-কান্না চলে, কাজের কাজ কিছুই হয় না। বিপ্লবে যে নেতৃত্ব দিয়েছিল সে এক সময় হারিয়ে যায়, অধিকাংশ সময় বিপ্লব নিভে যায়, কখনো বা আবার জেগে ওঠে।</p><p><img width="460" src="http://www.upperstall.com/files/film/mohan-joshi-hazir-ho-02.jpg" alt="4" /></p><p>মোহন জোশি হাজির হো কথোপকথনভিত্তিক সিনেমা, অনেক চমৎকার চমৎকার ডায়লগ আছে। এটা দেখে যে বেদনাদায়ক মজা পাওয়া যায় সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না&#8230;</p><p>[চলবে...]</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/19964/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>11</slash:comments> </item> <item><title>একাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব &#8211; ১</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/19929</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/19929#comments</comments> <pubDate>Sat, 16 Jan 2010 16:23:52 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[চলচ্চিত্র]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category> <category><![CDATA[ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=19929</guid> <description><![CDATA[বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি সম্ভবত দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। অবশ্য এখন ভাগ হয়েছে বলাটা ঠিক হবে না। স্বাধীন দেশে ১৯৮০-র দশকের শুরুতেই এটা হয়েছে। এক সময় দেশের সবাই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখতো। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত কেউ বাদ ছিল না। কিন্তু, অন্য অনেক দেশের মতো এদেশেও যখন মধ্যবিত্ত সমাজের প্রভাব বাড়তে শুরু করে তখন এটার [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি সম্ভবত দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। অবশ্য এখন ভাগ হয়েছে বলাটা ঠিক হবে না। স্বাধীন দেশে ১৯৮০-র দশকের শুরুতেই এটা হয়েছে। এক সময় দেশের সবাই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখতো। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত কেউ বাদ ছিল না। কিন্তু, অন্য অনেক দেশের মতো এদেশেও যখন মধ্যবিত্ত সমাজের প্রভাব বাড়তে শুরু করে তখন এটার সাথে তাল মিলিয়ে একটি চলচ্চিত্র সংস্কৃতি বেড়ে উঠতে পারে নি। প্রেক্ষাগৃহে মধ্যবিত্তের চাহিদা কমতে কমতে এক সময় শূন্যে পোঁছেছে। এফডিসি ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে। তারা সিনেমা স্পষ্ট দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। আমার যা মনে হয় নিম্নবিত্তরা সিনেমার কাছে খুব বেশি কিছু দাবী করে না, বা তাদেরকে দাবী করতে দেয়া হয় না। নিম্নবিত্তরা এখনও আগের মতোই সিনেমা দেখতে যায়, কিন্তু তারা পরিচালক বা প্রযোজকের কাছ থেকে নতুন কিছু দাবী করে না, কোন পরিবর্তন চায় না। আমার মনে হয়, নিম্নবিত্তের জন্য রুটি-রুজির ব্যবস্থা করাই এতো কঠিন হয়ে পড়েছে যে, সারাদিনের খাটুনি শেষে সিনেমা দেখে তা নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবার ধৈর্য্যটা তাদের আর থাকে না, তারা কোন অভিনবত্বের মাধ্যমে আঘাত পেতে চায় না।</p><p>এফডিসি মধ্যবিত্তহীন চলচ্চিত্র জগৎকে একটি মাছের বাজারে পরিণত করে ঠিক এই সুযোগটারই সদ্ব্যবহার করেছে। যার ফলে প্রেক্ষাগৃহ হয়ে গেছে নিম্নবিত্তের, মধ্যবিত্তরা টেলিভিশনের অশুভ থাবায় বন্দী হয়েছে বা বন্দী হওয়ার ভান করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন চলচ্চিত্র পুরো দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে, অন্যদিকে তেমনি সমাজে উঁচু-নিচু ইত্যাদি ভেদাভেদকে স্পষ্ট করে তোলা হয়েছে। সামাজিক রুচি বলে যদি আদৌ কিছু থেকে থাকে তবে বলতে হয়, এফডিসি এই রুচিটাকেও দুই ভাগে ভেঙে ফেলেছে। মধ্যবিত্তরা নিম্নবিত্তের প্রেক্ষাগৃহ ভ্রমণকে কুরুচি ভেবে সিনেমার পর্দায় সিনেমা দেখার বাসনা একেবারে বিসর্জনই দিয়ে ফেলেছে। সকল বাঙালির মধ্যে সাধারণ ইন্দ্রিয়ানুভূতি বা চেতনাকে জাগ্রত করার কোন চেষ্টা করা হয় নি। এটা খুব স্বাভাবিক, কারণ বাজারে লাভ করাটাই আসল কথা, কিভাবে করলাম সেটা মুখ্য না।</p><p>২০০০-এর দশকে নতুন প্রজন্ম আবার সিনেমা দেখতে চাইছে। বিদেশী সিনেমার প্রভাব এর একটা বড় কারণ। কিন্তু এই দেখার মধ্যে কোন অভিনব চেতনা বা নতুনত্ব নেই। যারা নিয়মিত হিন্দি সিনেমা দেখে অভ্যস্ত তারা চাচ্ছে এদেশে হিন্দি সিনেমার মতো এন্টারটেইনিং মিউজিকসমৃদ্ধ (নাচানাচিটা বাদ দিয়ে) সিনেমা হোক, এক্সপ্লয়টেশন ঘরানার কথোপকথনের মাধ্যমে ইন্দ্রিয়কে জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করা হোক, ক্ষেত্রবিশেষে সোজা সাপ্টা সামাজিক বাস্তবতার কথাও থাকুক। যারা হলিউডের সিনেমা দেখে অভ্যস্ত তারা চাচ্ছে, তথাকথিত মডার্ন সিনেমা বাজারে আসুক, হলিউড স্টাইলের এডিটিং, অ্যাকশন ও অস্থিরতা না থাকলে এই দলকে প্রেক্ষাগৃহে আনা অসম্ভব। ইউরোপীয় সিনেমার দর্শকরা চাচ্ছে সামান্য শৈল্পিক সৌন্দর্য্য, বেশি হলে আবার বদহজম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।</p><p>নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই যে বিভিন্ন ধারার দর্শক সমাজ, এদের চাহিদা মেটানোর জন্য পরিচালকেরও জন্ম হয়েছে। তারা যেসব সিনেমা করছেন এগুলোকে এক সেন্সে এক্সপ্লয়টেশন সিনেমাও বলা যায়। কারণ তারা নির্দিষ্ট একটি দর্শক শ্রেণীর দুর্বলতা (!) পুঁজি করে অর্থ কামানোর ধান্ধা করছেন। সার্বিকভাবে বলা যায়, সম্পূর্ণ নিজেদের একটি দর্শক বা নির্মাতা সমাজ হওয়ার মত অবস্থা বাংলাদেশে এখনও আসে নি। একটা বড় কারণ, দেশে উপযুক্ত চলচ্চিত্র সমালোচক এবং চলচ্চিত্র চর্চার অভাব। আর চর্চাটাকে একটু পরিচিত করে তোলা তো প্রায় অসম্ভব।</p><p>এতো সব না-র মাঝেও কাজ করে যাচ্ছে অনেকে। সবার কাজকেই অ্যাপ্রিশিয়েট করি আমি। কিন্তু অ্যাপ্রিসিয়েশন টা অবশ্যই সমালোচনামূলক হওয়া উচিত, কখনও লাগাম ছেড়ে দিতে নেই।</p><p>আজকের লেখাটা এই অ্যাপ্রিসিয়েশন বা সমঝদারি ঘরানারই। বিষয়:</p><p><strong>একাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, ১৪ &#8211; ২২ জানুয়ারি, ২০১০</strong></p><p><a href="http://www.dhakafilmfest.org/">রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি</a> যে সেই ১৯৯২ সাল থেকে নিয়মিত বা অনিয়মিত ভাবে হলেও একটা চলচ্চিত্র উৎসব করে আসছে সেটা আগেই জানতাম। কিন্তু কোন ফাঁকে একাদশ উৎসব শুরু হয়ে গেছে টের পাই নি। গতকালের পত্রিকা থেকেই জানলাম, ১৪ জানুয়ারি একাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করেছে শেখ হাসিনা। সেখানে আবার হাসিনা দেশী সিনেমাকে নতুন পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে, পৃথক ফিল্ম সোসাইটির মাধ্যমে চলচ্চিত্রের আর্টকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। এর অধিকাংশই যে বাস্তবায়ন হবে না সেটা আমরা সবাই জানি। তাই সেদিকে না গিয়ে বরং সিনেমার পানে তাকাই:</p><p>আজকে প্রায় সারাদিনই উৎসব চত্বরে কাটালাম। ইচ্ছা ছিল সন্ধ্যার শোগুলোও দেখব, কিন্তু দুর্বলতা এসে ভর করল বিকেলের পরই। ভাবলাম রাত ১০ টা না বাজিয়ে বরং বাসায় গিয়ে একটা ব্লগ লিখে ফেলি, আগামী কাল আবার আসা যাবে। এটাই আজকের লেখার প্রেক্ষাপট। তবে লেখা শুরুর আগে উৎসবের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে নিচ্ছি যাতে কেউ লেখাটা না পড়েও উৎসব সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা পেতে পারেন এবং অংশ নেবেন কি নেবেন না সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।</p><p><strong>একাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব</strong></p><p><strong>তারিখ</strong>: ১৪ &#8211; ২২ জানুয়ারি<br /> <strong>ভেন্যু</strong>: জাতীয় জাদুঘর এবং পাবলিক লাইব্রেরি, শাহবাগ, ঢাকা<br /> <strong>সময়</strong>: প্রতিদিন ১০:৩০, ১:০০, ৩:০০, ৫:৩০ এবং ৭:৩০ ঘটিকায়, অর্থাৎ দৈনিক ৫ টি শো। তবে সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ১৫ টি শো হয়ে যায়। কারণ একই সাথে তিনটি অডিটোরিয়ামে শো চলে-<br /> - শহীদ জিয়া অডিটোরিয়াম, জাতীয় জাদুঘর<br /> - সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়াম, জাতীয় জাদুঘর<br /> - শওকত ওসমান অডিটোরিয়াম, পাবলিক লাইব্রেরি</p><p>এটুকু তথ্য দিয়েই আমি মূল লেখায় চলে যাচ্ছি:</p><p>বেকার জীবনের প্রধান সম্বল ঘুম, সেই ঘুম কামাই দিয়ে গিয়েছিলাম সিনেমা দেখতে। ঘুম থেকে উঠেছি সেই সকাল ৯:০০ টায়। স্বয়ং ঈশ্বরকেও অবাক করে দিয়ে কোন যানজট ছাড়াই পৌঁছে গেলাম শাহবাগ, সোজা জাতীয় জাদুঘরে। জানলাম, টিকেট দেয়া হয় পাবলিক লাইব্রেরি থেকে। পাবলিক লাইব্রেরিতে ঢুকে দেখি আয়োজন খুব ভাল। এক পাশে তিনটা বুথ করা হয়েছে, কোথায় কি সিনেমা হচ্ছে সেটা জানতে হলে এক বুথে যেতে হবে, টিকেট কাটা এবং ম্যাগাজিন কেনার জন্য অন্য বুথগুলোতে। রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির ওয়েবসাইট থেকেই কয়েকটা সিনেমা বাছাই করে গিয়েছিলাম। সকাল সাড়ে দশটায় সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ও প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হবে, এটাই ছিল প্রথম টার্গেট। জাতীয় জাদুঘরের অডিটোরিয়ামের জন্য টিকেট কেটে গিয়ে দেখি, শর্ট ফিল্ম বা প্রামাণ্য চিত্রের জন্য টিকেট লাগে না। টিকেট শুধু ফিচার ফিল্মের জন্য। এই বোকামিটা ছাড়া সারাদিন বেশ ভাল কেটেছে।</p><p>আশা করি নাই যে শো ঠিক সাড়ে দশটা থেকে শুরু হবে। কর্তৃপক্ষ আমাকে আশাহত করেননি। শো শুরু করেছেন সাড়ে এগারোটায়। প্রামাণ্য চিত্র ও শর্ট ফিল্ম দেখানোর জন্য তারা যে বিশেষ আয়োজন করেননি এটা পরে বুঝতে পেরেছিলাম। গিয়ে দেখি ম্যাক চালিত একটা পিসি এবং প্রজেক্টর সম্বল করে কাজ শুরুর চেষ্টা করছেন একজন। দর্শক আমি সহ ৩ জন। তবে আশাহত হবার কোন কারণ নেই ১২ টা নাগাদ নিরস প্রামাণ্য চিত্র ও শর্ট ফিল্ম দেখতেও জনা দশেক মানব-মানবী জড়ো হয়েছিলেন। গন্তব্যহীন প্যাচাল না বাড়িয়ে সরাসরি রিভিউয়ে চলে যাই:</p><p><strong>লিভিং বিয়ান্ড ডিজাস্টার (Living Beyond Disaster) [চীন]</strong></p><p>আমার উৎসবের শুরুটা চমৎকার হয়েছে। খুব ভাল লেগেছে ৩০ মিনিটের এই প্রামাণ্য চিত্রটা, যদিও অন্যসব প্রামাণ্য চিত্রের মতোই মূল কারণ ছিল বিষয়বস্তুর আবেদন। একজন সাদা মনের মানুষকে নিয়ে প্রামাণ্য চিত্রটি। লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত এই মানুষটি জীবনের অবশিষ্ট প্রতিটি দিন ব্যয় করতে চান মানবসেবায় এবং মানবচর্চায়। এমনকি এই সামাজিকতা বোধই তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, তিনি স্বচ্ছন্দ্য বলছেন তিনি নিঃসন্দেহে আরও ২০ বছর বাঁচবেন। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের একটি গ্রামে অনেকদিন ছিলেন এই জার্মান। <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/2008_Sichuan_earthquake">সিচুয়ানের ভয়াবহ ভূমিকম্পের</a> সময় ছিলেন জার্মানিতে। ফিরে এসে তার সেই গ্রামকে আর অক্ষত পান নি, ধ্বংসস্তূপ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া জিন্স হাতে নিয়ে কেঁদেছেন। তারপর সেই বিশ্বাস থেকে আবার গ্রামটিকে জাগিয়ে তোলার কাজে যোগ দিয়েছেন, যেই বিশ্বাস তাকে লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শিখিয়েছিল। প্রাচ্যের সংস্কৃতির মত মহান এই বিশ্বাসের পরিচয় পাই এভাবে: দুর্গম পাহাড়ের চূড়া থেকে একটি ছোট্ট ছেলে ও তার বাবা তাকে এমন একটি পাতা এনে দিয়েছিল যা খেলে নাকি মৃত্যু থেকে বাঁচা যায়। আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেই পাতা খেয়েছেন, বাপ-ছেলেকে বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি এই পাতা খেলে আমার অবস্থা আরও ভাল হবে, কারণ আমি তোমাদেরকে বিশ্বাস করি। এজন্যই আমি ভাবি, সর্বোৎকৃষ্ট বিশ্বাস হচ্ছে মানুষে বিশ্বাস। এই প্রামাণ্যচিত্রটা দেখে <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/2010_Haiti_earthquake">হাইতি ভূমিকম্পের ভয়াবহতা</a> ভেবে আবারও শিউরে উঠেছি।</p><p><strong>শাউট ফ্রম দ্য প্লেইন (Shout From The Plain) [ফিনল্যান্ড]</strong></p><p><img width="450" src="http://www.cinewest.org.au/site/footage/images/Nurmoo-4.jpg" alt="2" /></p><p>সবগুলো নিয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব না। এই স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটা নিয়ে প্রথমেই একটি অপ্রীতিকর ঘটনা মনে আসছে, এটা দিয়েই তাই শুরু করবো। সিনেমাটা প্রেম নিয়ে, যদিও অদ্ভুত সে প্রেম। যেখানে প্রেম আছে সেখানে কাম না থাকা অর্থহীন। কিন্তু কামে এসেই ঘাপলাটা লাগল। আগেই বলেছি এই ছোট্ট মিলনায়তনে সিনেমা দেখানো হচ্ছিল প্রজেক্টর দিয়ে। দেখছি দেখছি, সামনে যে নর-নারীর সবচেয়ে পবিত্র কর্ম তথা রতিকর্ম আসছে সেটা না বোঝার কোন কারণই ছিল না, এবং সেই মহান কর্মটা যে চলচ্চিত্রকার খুব সুন্দরভাবে দেখাতে পারবেন তা নিয়েও কোন সংশয় ছিল না। আশাহত করেননি পরিচালক, যথারীতি প্রেমের ক্লাইমেক্সে নিয়ে আসলেন, অরগ্যাজম পর্যন্ত দেখানোর একটা সম্ভাবনাও তৈরি হল, কিন্তু কোত্থেকে এক কালো ছায়ায় ঢেকে গেল পর্দাটা। এই অপবিত্র কাজটা করাও হয়েছে বেশ ফ্যাসিস্ট প্রক্রিয়ায়, একটা কাগজ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে প্রজেক্টরের জ্বালামুখ। খুব খারাপ কাজ হয়েছে এটা। অডিটোরিয়ামে সর্বসাকুল্যে দর্শক ছিল ৬-৭ জন, কিসের তাগিদে আর্টের এহেন অবমাননা করা হল তা এখনও বোধগম্য নয় (সেন্সর বোর্ডের কারণে, পরে বুঝেছি)। তবে সবচেয়ে কুৎসিত ব্যাপারটা ছিল, চিত্র কালো করে দিলেও শব্দ কালো করে দেয়ার চিন্তাটা মাথায় আসে নি কারও। তাই সাউন্ড আসছিল। ভাগ্যিস সাথে মিউজিক ছিল, খুব সুন্দর সুর। আর বলে রাখি, সিনেমাটা ছিল ফিনল্যান্ডের একটি গ্রামের কয়েকজন যুবকের রেসলিং এবং প্রেম সাধনা নিয়ে।</p><p><strong>লেনিন &#8211; আ শর্ট বায়োগ্রাফি (Lenin – A Short Biography) [ভারত]</strong></p><p>কণ্ঠটা ছিল বলিষ্ঠ, সমাজতন্ত্রের স্বর্ণযুগের স্বর্ণসাফল্য প্রচারে এর বিকল্প নেই। কিন্তু প্রামাণ্য চিত্রটায় প্রোপাগান্ডার গন্ধ আছে। এটাকে খুব সহজেই প্রোপাগান্ডা ফিল্ম বলে চালিয়ে দেয়া যায়। সমাজতন্ত্র সমর্থকদের রক্ত মুহূর্তের মধ্যে গরম করে দেয়ার মত ক্ষমতা এই সিনেমার আছে। আমার যা লাভ হয়েছে সেটা হল, লেনিন সম্পর্কে বেশ কিছু জিনিস জানতে পেরেছি। সমাজতন্ত্র নিয়ে আরও জানার একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেদিক থেকে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে বোধহয় এই ছবিটাই। এটা কলকাতা থেকে হয়েছে, বাংলায়, পরিচালক অরুণাভ গাঙ্গুলী।</p><p>তবে আজকে উৎসবে যাওয়ার প্রধান কারণ ছিল কিংবদন্তীর ফরাসি চলচ্চিত্রকার <a href="http://www.archive.sensesofcinema.com/contents/directors/03/demy.html">জাক দেমি</a>-র সিনেমা। ওয়েবসাইটে দেখলাম রেট্রোস্পেক্টিভ বিভাগে প্রতিদিন জাক দেমি-র একটি করে সিনেমা দেখানো হচ্ছে। নেটে এই সিনেমাগুলো পাওয়া যায় না, দেশে ডিভিডিও নেই। অথচ নুভেল ভাগ তথা ফরাসি নবতরঙ্গ আন্দোলনের সেরা কয়েকজন নির্মাতার একজন হলেন জাক দেমি। তাই বুঝতে দেরি হয় নি যে, এই উৎসব থেকে আমার সবচেয়ে ব্ড় পাওয়া হবে জাক দেমির সিনেমাগুলো। প্রতিদিন দুপুড় ১:০০ টা থেকে পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান অডিটোরিয়ামে দেখানো হচ্ছে জাক দেমি। সব মিলিয়ে তার ৬ টা সিনেমা থাকছে। প্রথমটা মিস করেছি, আজকে দেখলাম, দেখব পরেরগুলোও।</p><p><strong>লা বাই দে অঁজ (La Baie des Anges &#8211; Bay of Angels) [জাক দেমি - ফ্রান্স]</strong></p><p><img width="450" src="http://image.toutlecine.com/photos/l/a/0/la-baie-des-anges-03-1963-1-g.jpg" alt="1" /></p><p>অনেকদিন পর আবার ফরাসি সিনেমার স্বাদ পেলাম। ফরাসি সিনেমার সংযমী ও সিলেক্টিভ ভাবটা প্রত্যেকবারই চোখে পড়ে। ফ্রঁসোয়া ত্রুফো, জঁ লুক গদার ও জঁ রনোয়ার এর পর এবার আরেক জন ফরাসি চলচ্চিত্রকারের সাথে পরিচয় হল। সিনেমাটা পুরো দুই ঘণ্টা ধরে রেখেছিল, সাধারণ মেলোড্রামার মধ্যে গভীর জীবন দর্শনের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে ক্ষণে ক্ষণে। এই সিনেমা নিয়ে আলাদা একটা ব্লগ লেখার ইচ্ছা আছে। তাই এখানে বেশি কিছু বলব না। কেবল চুম্বক চিন্তাগুলো:</p><p>লা বাই দে অঁজ (১৯৬৩) মূলত জুয়া খেলা নিয়ে। জঁ ফুর্নিয়ে (Jean Fournier) নামক এক ব্যাংক কর্মকর্তা তার কলিগের প্ররোচনায় জুয়ার মজা পেয়ে গেছে, কারণ তার ভাগ্য বেশি ভাল। প্রথম দিনেই অনেক টাকা কামিয়ে বাসায় ফেরার পর, বাবা-মা তাকে বের হয়ে যেতে বলেছে। তল্পিতল্পা গুটিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ফ্রান্সের পথে, উদ্দেশ্য বড় কোন শহর, আর তার বড় কোন ক্যাসিনো। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, তার অর্থবিত্তের প্রতি বেশি আগ্রহ নেই, ভ্রমণের প্রতি সামান্য আগ্রহ থাকলেও মনের মত কারো সাথে ঘর বাঁধিয়ে বসে পড়ার আকাঙ্ক্ষাটা প্রকটতর। সিনেমার অধিকাংশ কাহিনী নিস (Nice) শহরে। এই শহরে জুয়া খেলতে গিয়ে দৈবের বশেই তার এমন এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয় যে মনে করে ঈশ্বর আসলে একজন জুয়ারী। জঁ ইশ্বরে বিশ্বাস না করলেও জাকি (Jackie) নামের এই মেয়েটি ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তার ঈশ্বর হচ্ছে জুয়ারী, আর জুয়া খেলাই তার ধর্ম। সিনেমার অর্ধেক দৃশ্যই ক্যাসিনোতে, মনে হয় ক্যাসিনো দিয়ে পুরো পৃথিবীকেই বোঝাচ্ছেন জাক দেমি, যিনি বলেছেন, &#8220;I&#8217;m trying to create a world in my films.&#8221; জাকির গ্যাম্বলিং এতো ভাল লাগার কারণ এটি হচ্ছে, &#8220;stupid mixture of poverty and luxury.&#8221; এই জগতে ৩০ লক্ষ ফ্রাংক এর মালিক হয়ে হাই লাইফ যাপন করা আর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো বা স্টেশনে রাত কাটানোর মধ্যে পার্থক্য খুব কম, কখনো মাত্র এক দিনের।</p><p>আর লিখব না বে অফ এঞ্জেলস নিয়ে। তার চেয়ে বরং উৎসবের রিভিউয়ে চলে যাই। ও আরেকটা কথা, এই সিনেমায় দর্শক অতো কম ছিল না, ২০ জনের মত হয়েছিল যদিও সবাই পুরো সময় থাকে নি। উঠবস করেছে অনেকেই।</p><p>ভারতের প্যারালাল সিনেমা জগৎ থেকে অনেক কিছুই এই উৎসবে এসেছে, এসেছে পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা। এছাড়া এসেছে অস্ট্রেলিয়া, কাজাখস্তান, জর্জিয়া, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, তুরস্ক, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, জার্মানি, গ্রিস, আইসল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, সুইৎজারল্যান্ড, তাজিকিস্তান, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইতালি, জাপান, স্পেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কম্বোডিয়া, নিউজিল্যান্ড, চীন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, জর্ডান, ইসরায়েল, উত্তর আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, রাশিয়া, আলজেরিয়া, বুরকিনা ফাসো, ক্যামেরুন, কংগো, আইভরি কোস্ট, মালি, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সাউথ আফ্রিকা, নরওয়ে, পোল্যান্ড, তিউনিসিয়া থেকে। ৯ দিনে ৬৬ টি দেশের মোট ১৯০ টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে।</p><p>চমৎকার এই আয়োজন। আগের ১০ টাতে থাকতে পারি নি বলে দুঃখ হচ্ছে। আশাকরি ভবিষ্যতে এটা আরও সমৃদ্ধ হবে, কম্পিটিশন সেকশনটা আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে, আরও ভাল সিনেমা উঠে আসবে। আর আমি তো প্রায় প্রতিদিনই যাচ্ছি, উৎসব তাই হারিয়ে যাচ্ছে না।</p><p><strong>যে বিভাগগুলোতে সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে</strong></p><p>- Australasian Competition<br /> -  Cinema Of The World<br /> - Women Section<br /> - Shorts and Independent<br /> - Retrospective<br /> - Tribute<br /> - Focus<br /> - Spiritual<br /> - Bangladesh Panorama<br /> - Special Section<br /> - Children</p><p>কোন দিন কোন সিনেমা কোথায় কতটায় হচ্ছে জানতে হলে নিচের শিডিউলটি দেখুন:</p><p><a href="http://www.dhakafilmfest.org/index.php?option=com_content&#038;view=article&#038;id=65&#038;Itemid=74">11th Dhaka International Fim Festival &#8211; Schedule</a><br /> <a href="http://www.dhakafilmfest.org/">ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ওয়েবসাইট</a></p><p>[চলবে...]</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/19929/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>21</slash:comments> </item> <item><title>বিধ্বস্ত হাইতি &#8211; আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/19825</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/19825#comments</comments> <pubDate>Thu, 14 Jan 2010 15:37:25 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[খবর]]></category> <category><![CDATA[হাইতি ভূমিকম্প]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=19825</guid> <description><![CDATA[ আরেকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে এসেছে আমাদের ওপর। ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতির রাজধানী পোর্ট আউ প্রিন্স ও আশপাশের এলাকা। ধারণা করা হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৫ লক্ষ পর্যন্তও হতে পারে, নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ৩০ লক্ষাধিক মানুষ এখনও ডেঞ্জার জোনে দিনাতিপাত করছে। এ জীবনে হাইতিকে কখনও হাসতে দেখি নি। অন্য সব [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p><img src="http://newsimg.bbc.co.uk/media/images/47110000/jpg/_47110803_childap466.jpg" alt="1" /></p><p>আরেকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে এসেছে আমাদের ওপর। ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতির রাজধানী পোর্ট আউ প্রিন্স ও আশপাশের এলাকা। ধারণা করা হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৫ লক্ষ পর্যন্তও হতে পারে, নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ৩০ লক্ষাধিক মানুষ এখনও ডেঞ্জার জোনে দিনাতিপাত করছে।</p><p>এ জীবনে হাইতিকে কখনও হাসতে দেখি নি। অন্য সব অনুন্নত দেশগুলোর মতোই ঈশ্বরের (উন্নত দেশ) কৃপায় বেঁচে ছিল তারা। তাদের সেরা অর্জন ছিল একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন যা যুক্তরাষ্ট্রের কোপানলে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্র হাইতিকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য (তথাকথিত) দানকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। সেই স্থান তার এখনও আছে। মার্কিন প্রশাসনকে ঘৃণা করি। কিন্তু এখন ঘৃণার সময় নয়&#8230;</p><p>কিছু সময়ের জন্য বিভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে একসাথে হাইতির পাশে দাঁড়াতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নয়, এখন কেবল তাদের বাঁচার অধিকারটুকু প্রতিষ্ঠা করার সময়। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা মানুষগুলো যেন নিজেদেরকে একা মনে না করে&#8230;</p><p>বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই <a href="http://bdnews24.com/bangla/details.php?id=118282&#038;cid=2">হাইতিতে বস্ত্র এবং ওষুধ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে</a>। আমরা আশাকরি সরকার তার সাধ্যমত অবদান রাখবে।</p><p>আমরা প্রত্যেকে সামান্য হলেও অবদান রাখতে পারি। UNICEF এবং CARE এর হয়ে অর্থ সংগ্রহের জন্য গুগল একটা আলাদা ওয়েব পৃষ্ঠা খুলেছে:</p><p><a href="http://www.google.com/relief/haitiearthquake/"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/01/14.JPG" alt="14" title="14" width="287" height="51" class="aligncenter size-full wp-image-19826" /></a><center>(<a href="http://www.google.com/relief/haitiearthquake/">http://www.google.com/relief/haitiearthquake/</a>)</center></p><p>যাদের ক্রেডিট কার্ড আছে তারা অনলাইনে ডোনেট করতে পারেন। এছাড়া এই সাইটে ডোনেশনের জন্য অনেকগুলো উপায় বলে দেয়া আছে, সেগুলো অনুসরণ করুন। তবে হাইতির এই ঘটনার পর বেশ কিছু ফেক ডোনেশন রিকোয়েস্ট ও ছড়িয়েছে, <a href="http://www.itworld.com/security/92656/fbi-warns-bogus-haiti-online-donation-scams">সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন</a>।</p><p>এছাড়া সরাসরি ডোনেশনের কোন উপায় আছে কি না আমি এখনও জানি না। কেউ যদি বাংলাদেশে সরাসরি অর্থ দানের কোন উপায় জানেন তাহলে মন্তব্যে শেয়ার করুন। উপরের লিংক কেবল অনলাইনে লেনদেনে সক্ষমদের ক্ষেত্রেই কাজে দেবে। কিংবা কেউ চাইলে পরোক্ষভাবেও অন্য কারও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যার যার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এটা ঠিক, যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বড় ধরণের অর্থ সাহায্য না পেলে হাইতির বিপর্যয় কাটবে না। আমরা আশা রাখি সেটার অভাব হবে না। পাশাপাশি আমরাও অংশ নেই&#8230;</p><p><strong>হাইতির ভূমিকম্প সম্পর্কে জানতে হলে:</strong></p><p>- <a href="http://news.bbc.co.uk/2/hi/americas/8458554.stm">বিবিসি</a><br /> - <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/2010_Haiti_earthquake">ইংরেজি উইকিপিডিয়া</a></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/19825/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>15</slash:comments> </item> <item><title>একনিষ্ঠ শিশ্ন-চর্চায় রত ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/18251</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/18251#comments</comments> <pubDate>Thu, 10 Dec 2009 17:28:39 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[চলচ্চিত্র]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category> <category><![CDATA[ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=18251</guid> <description><![CDATA[সিনেমা বিষয়ে স্ট্যানলি কুবরিক এর কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। হাই স্কুল শিক্ষা যখন শেষ করেন তখন আমেরিকায় মন্দা চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সেই দেশে নিয়ম করা হয়েছিল, ৬৭% এর উপর নম্বর না থাকলে কেউ কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। তাই হাই স্কুলের পর আর কুবরিকের পড়াশোনা করা হয় নি। পরবর্তীতে মন্তব্য করেছিলেন যে, স্কুল তাকে [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>সিনেমা বিষয়ে স্ট্যানলি কুবরিক এর কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। হাই স্কুল শিক্ষা যখন শেষ করেন তখন আমেরিকায় মন্দা চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সেই দেশে নিয়ম করা হয়েছিল, ৬৭% এর উপর নম্বর না থাকলে কেউ কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। তাই হাই স্কুলের পর আর কুবরিকের পড়াশোনা করা হয় নি। পরবর্তীতে মন্তব্য করেছিলেন যে, স্কুল তাকে কিছুই শেখাতে পারে নি, এমনকি স্কুলের কোনকিছুতে তিনি কোনদিন উৎসাহও পান নি। ছোটবেলা থেকে শখ ছিল ছবি তোলা, ক্যামেরা হাতে ঘুরে বেড়ানোটা তার জন্য একটা নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। পড়াশোনা থেকে মুক্তি পেয়ে তাই বেরিয়ে পড়েন ক্যামেরা হাতে। শুরু হয় কুবরিকের ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফি জীবন। সমাজ-বাস্তবতার শৈল্পিক রূপায়ন তার এই জীবনকে বেশ সার্থক করে তোলে, অচিরেই সেকালের বিখ্যাত &#8216;লুক&#8217; ম্যাগাজিনের নজরে পড়ে যান। লুক এর জন্য তিনি পরবর্তীতে প্রায় ৫-৬ হাজার ছবি তুলেছিলেন। এই ফটোগ্রাফি জীবনই তাকে সিনেমা বানাতে উদ্বুদ্ধ করেছে। লুক এর পর তার পৃষ্ঠপোষক হয়েছে হলিউডের স্টুডিওগুলো। কিন্তু কুবরিক পুরো সময় জুড়ে একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন, অনেকে তাকে পৃথিবীর প্রথম স্বাধীন চলচ্চিত্রকার হিসেবে আখ্যায়িত করে। তার সিনেমায় স্টুডিওর বলার কিছু ছিল না, অর্থ যোগান দেয়া ছাড়া তাদের আর কোন কাজ ছিল না।</p><p>এ কারণেই কুবরিকের সিনেমায় সমাজ-সচেতনতা এবং সভ্যতার অবক্ষয় মূর্ত হয়ে উঠেছে। আধুনিক জনপ্রিয় শিল্প এবং সংস্কৃতিকে তিনি মেনে নিতে পারেন নি, এগুলোকে অবক্ষয়ের চিহ্ন হিসেবে দেখেছেন। সিনেমার মাধ্যমে এর মর্মমূলে আঘাত করতে চেয়েছেন। বলা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালকরা সাধারণত মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেন, কিন্তু একমাত্র ব্যতিক্রম কুবরিক, যিনি মনোবিজ্ঞানের বদলে বেছে নিয়েছিলেন সমাজবিজ্ঞান। কোন সিনেমার থিম মাথায় আসার পর কুবরিক গবেষণায় লেগে যেতেন। সিনেমা বানাতে প্রায় ৪-৫ বছর লাগতো, গবেষণার জন্যই বরাদ্দ থাকতো একটা বড় সময়। তার সিনেমার প্রায় প্রতিটি চরিত্রই সমাজের একটা বৃহৎ অংশের প্রতিনিধিত্ব করতো। কিন্তু চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি এক্সপ্রেশনিস্ট ধারা মেনে চলতেন। অর্থাৎ, সমাজে চরিত্রগুলো যেভাবে আছে সেভাবে ফুটিয়ে না তুলে, সেগুলোর একটি কাল্পনিক সংস্করণ সৃষ্টি করতেন, নিজের মনের মত করে। আর এই সৃষ্টির উদ্দেশ্য থাকতো চরিত্রগুলোকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করা। যাতে তাদেরকে দেখে করূণা হয়, উপহাস করতে ইচ্ছে হয়, ভলতেয়ার এর মত ব্যঙ্গাত্মক হাসি হাসতে মন চায়।</p><p>কুবরিকের তেমনি একটি চরিত্র বিশ্লেষণের জন্য এই লেখা শুরু করেছি। চরিত্রটির নাম &#8220;ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ&#8221;। সিনেমার নামও এই চরিত্রের নামে। তবে সিনেমাটির একটা বড় নাম আছে: &#8220;Dr. Strangelove: or How I Learned to Stop Worrying and Love the Bomb&#8221;।</p><p><img width="460" src="http://users.drew.edu/jcarter1/images/dr_strangelove_1ed07.jpg" alt="1" /> (ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ)</p><p>যার নামে সিনেমার নাম তাকে কিন্তু মাত্র বিশ মিনিটের জন্য দেখা যায়, শেষের ২০ মিনিট। সিনেমাটা দেখার পর তাই অনেককেই প্রশ্ন করতে দেখা যায়, এই চরিত্রের এতো তাৎপর্য কেন? তার নামেই কেন সিনেমার নাম রাখা হল? তার চরিত্রকে এভাবে সাজানোর অর্থই বা কি?</p><p>দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর একটু রহস্য করে দেয়া যায়। সিনেমার পুরো নামের মধ্যেই উত্তরটি দেয়া আছে। or how I learned to stop worrying and love the bomb. এখানে &#8220;I&#8221; মানেই ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ। তিনিই এক মহান উপায় বের করেছেন, যার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী বোমার তোড়ে ধ্বংস হয়ে গেলেও অসুবিধা নেই, নো টেনশন। কাহিনীটা এমন: আমেরিকা-রাশিয়া স্নায়ুযুদ্ধের ডামাডোলে পুরো পৃথিবী ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। পতিত হয় বললে ভুল হবে, বলা যায় একটু পরেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু মার্কিন ও রুশ নেতারা এখনও দুই দেশের আধিপত্যের প্রতিযোগিতা নিয়ে ব্যস্ত। মারা যাওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তেও কি কোনভাবে প্রমাণ করে যাওয়া যায় না যে, আমরাই বস আর তোমরা গান্ধা। উপায় বাতলে দেন ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ, তার কথার মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি, এই মহাবিলয়ের যুগেও তিনি কিভাবে এতো শান্তিতে আছেন, যদিও তার কালো গ্লাভস পরা হাত দুটো তাকে পুরো শান্তি দিচ্ছে না। বোমা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে তিনি উল্টো তাকে ভালোবেসেই ফেলেছেন। কেন? তার পরিকল্পনা হল, কোবাল্ট-থোরিয়াম জি এর অর্ধায়ু ৯৩ বছর। তার মানে ৯৩ বছরের মত পুরো পৃথিবী ঘন ধূলি ও আবর্জনার কুয়াশায় ঢেকে যাবে, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন মানুষ বাস করতে পারবে না, সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু আমেরিকার গভীর গভীর খনিগুলো কাজে লাগালেই আর চিন্তা নেই। গভীর খনিগুলোর তলদেশে হাজার খানেক মানুষের বাসস্থান করা যাবে অনায়াসে। তবে তার মতে, এই মাইন শ্যাফ্টগুলোতে ছেলে:মেয়ে অনুপাত হতে হবে ১:১০। ছেলেদের নির্বাচন করা হবে যোগ্যতা ও আমেরিকাকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে, আর মেয়েদের নির্বাচন করা হবে যৌন উর্বরতার উপর ভিত্তি করে। এসব নির্বাচনের ভার নির্দ্বিধায় ছেড়ে দেয়া হবে কম্পিউটারের হাতে। বাস আর কে পায়! ১০০ বছর পর পৃথিবীর বুকে উঠে এসে এক ঝাপ্টায়ই পুরো পৃথিবীতে আবার রাজত্ব বিস্তার করে ফেলতে আমেরিকা। মাস্টার প্ল্যান, হা হা হা&#8230; আর এই ১:১০ অনুপাতই কিন্তু বোমাকে ভালোবাসার মূল কারণ। বোমার তোড়ে পুরো পৃথিবী ভেসে না গেলে কি আর স্ট্রেঞ্জলাভের যৌনলিপ্সা-র কোন হিস্যা হতো? ও বেচারা বোমাকে ভালোবাসবে না কেন বলুন?</p><p>এটা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা না যে, এই ব্ল্যাক কমেডির প্রতিটি চরিত্রই পাগল কিছিমের। কুবরিক দেখিয়েছেন, আমরা কিভাবে আমাদের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ এসব পাগলের হাতে সঁপে দিয়ে বসে আছি। ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ হল পাগলা বিজ্ঞানী। এমন পাগলের উদাহরণ কিন্তু পৃথিবীতে বিরল নয়? অসংখ্য বিজ্ঞানীর একাগ্রতা এবং অক্লান্ত পরীশ্রম না থাকলে পারমাণবিক বোমা বানানো কি সম্ভব হতো? হয়তো বা বলতে পারেন, ম্যানহাটন প্রজেক্ট এ যে ৫৫,০০০ মানুষ কাজ করতো তাদের কেউই এতো ডিটেল জানতো না। কিন্তু মূল পরিকল্পনা ও ইনস্টলেশনের দায়িত্বে যে বিজ্ঞানীরা ছিলেন তাদের দায় কে নেবে? পাগলা সেনানায়ক, পাগলা রাষ্ট্রপ্রধান আর পাগলা বিজ্ঞানীর সুমহান সম্মিলন না ঘটলে কি দেশকে এগিয়ে নেয়া যায় বলুন? আমেরিকা তো এইসব পাগলের সফল সম্মিলনের বিস্ময়কর রূপায়ন। কুবরিক কিন্তু তার ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ কে তৎকালীন আমেরিকার এমন পাগলা বিজ্ঞানীদের আদলেই তৈরি করেছেন। চরিত্রের একটু খুটিনাটি বিশ্লেষণ করলেই সেটা বেরিয়ে আসবে। আসুন শুরু করি:</p><p>নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির আদলে কি ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ চরিত্র সাজানো হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সমালোচকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়েছেন। উঠে এসেছে সন্দেহভাজন চার জনের নাম যাদের মধ্যে এই পাগলা বিজ্ঞান, অমানবিকতা ও জাতীয় অহংবোধের প্রাবল্য ছিল:</p><p>- হেনরি কিসিঞ্জার (প্রাক্তন হার্ভার্ড অধ্যাপক, নিক্সন ও ফোর্ড সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)<br /> - ভের্নার ফন ব্রাউন (প্রাক্তন নাৎসি রকেট বিজ্ঞানী যে যুদ্ধের পর মার্কিন সরকারের হয়ে কাজ শুরু করে)<br /> - এডওয়ার্ড টেলার (হাঙ্গেরীয় পদার্থবিজ্ঞানী যে আমেরিকার প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজ করেছিল)<br /> - হারমান কান (র‌্যান্ড কর্পোরেশনের নিউক্লীয় যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ ও মিলিটারি স্ট্র্যাটেজিস্ট)</p><p>হেনরি কিসিঞ্জারের পক্ষে যুক্তিগুলো হল: সে জন্মসূত্রে জার্মান, তার অ্যাকসেন্ট স্ট্রেঞ্জলাভ এর খুব কাছাকাছি। তাছাড়া প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ক্রিস্টোফার হিচেন্স কিসিঞ্জারের ক্যারিয়ারকে pathology of a serial killer এর সাথে তুলনা করেছেন যা স্ট্রেঞ্জলাভের পাগলা সহিংসতার সাথে মিলে যায়। কুবরিক এ নিয়ে যেহেতু অনেক গবেষণা করেছেন সুতরাং তিনি নিশ্চয়ই বিখ্যাত কাউকেই স্ট্রেঞ্জলাভ বানাতে চাইবেন, সেদিক দিয়ে কিসিঞ্জার কে সন্দেহ করা যায়। কিন্তু কথা হলো, কিসিঞ্জার তখনও (১৯৬৪) এতোটা বিখ্যাত হয়ে উঠেনি যে তাকে নিয়ে প্যারডি বানানো যায়। তাই কিসিঞ্জার-স্ট্রেঞ্জলাভ মেলবন্ধনের নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।</p><p>ভের্নার ফন ব্রাউনের পক্ষে যুক্তি হচ্ছে: সে জার্মান, শুধু প্রাক্তন নাৎসি নয়, যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত সে নাৎসিদের প্রতি বিশ্বস্ত ছিল এবং সে অনেক বিখ্যাতও ছিল। ফন ব্রাউন সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় মানবতা ধ্বংসের প্রচণ্ড রকমের ইনোভেটিভ সব বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দিতো। তার বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার কাছে নৈতিকতার কোন মূল্যই ছিল না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ফন ব্রাউন নিউক্লীয় বিজ্ঞানী ছিল না, তার তত্ত্বগুলোর সাথে নিউক্লীয় যুদ্ধের কোন সম্পর্কও ছিল না। তাই শক্তিমান আমেরিকার এই সুমহান চামচাকেও খুব একটা প্রশ্রয় দেয়া যায় না।</p><p>এডওয়ার্ড টেলার এর পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হচ্ছে ম্যানহাটন প্রজেক্ট এবং ওপেনহাইমার অ্যাফেয়ার এর সাথে সক্রিয় সংযুক্তি। সে আজীবন হাইড্রোজেন বোমা তৈরি এবং এর মাধ্যমে মানুষ মারার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে গেছে। সে অনেকদিন লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি-র এর প্রধান ছিল। ম্যানহাটন এর প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমার পারমাণবিক আঘাতের ফলাফল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ায় এই টেলারই রাজনীতিবিদদের বুঝিয়েছিলেন যে, ওপেনহাইমার পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য এক বিরাট ঝুঁকি। সে-ই রোনাল্ড রেগান কে বলেছিল যে, স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ ভাল ফল দেবে। বিখ্যাত মার্কিন ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ম্যানচেস্টার বলেছিলেন, টেলারকেই ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভের সবচেয়ে নিখুঁত জান্তব মডেল ধরে নেয়া যায়। টেলার এর অ্যাকসেন্ট ইংরেজ না, সেদিক দিয়েও তাকে স্ট্রেঞ্জলাভের সাথে তুলনা করা যায়।</p><p>কিন্তু চলচ্চিত্র সমালোচক ব্রায়ান সায়ানো-র মতে, ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে হারমান কান। কান ছিল বহুল আলোচিত র‌্যান্ড করপোরেশন এর প্রথম দিককার কর্মকর্তা। এই করপোরেশন প্রতিষ্ঠাই করা হয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কৌশলগত পরামর্শ দেয়ার জন্য। সিনেমাতেও দেখা যায়, ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ ব্ল্যান্ড করপোরেশন নামের এক প্রতিষ্ঠানের সাথে পুরো পৃথিবী ধ্বংসের কলা-কৌশল উদ্ভাবনের কাজ করে। হেরমান কান সামরিক কুশলবীদদের সবচেয়ে নিখুঁত আইকন এর স্রষ্টা: সিনিয়র আর্মি অফিসারদের মত নির্বিকার, যেখানে যেই মারা যাক কোন বিকার নেই, সবার যে প্রশ্ন করতে আত্মা কাঁপে নির্দ্বিধায় সেই প্রশ্ন উত্থাপনের মানসিকতা, সাধারণ মানুষ যা কল্পনাও করতে পারে না সেটা বাস্তবায়নের চিন্তা করা। যুদ্ধে মানুষের মারা যাওয়াটা যেন খুব সিরিয়াস কিছু মনে না হয় এজন্য কান মৃতের সংখ্যার আগে &#8220;only&#8221; শব্দ যোগ করার প্রচলন করেছিল। ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভে এই শব্দের ছড়াছড়ি দেখা যায়: only 10 million deaths, tops, no more&#8230; কত কম দেখেন? ২০ মিলিয়নও তো মারা যেতে পারতো, আমরা তো নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি যাতে ২০ এর বদলে মাত্র ১০ মিলিয়ন মারা যায়&#8230;</p><p>তাছাড়া ইদানিং এত গণহারে মানুষ মারা যাচ্ছে যে মিলিয়ন টিলিয়ন বলে দাঁত ব্যথা হয়ে যায়। এজন্যই হারমান কান &#8220;মেগাডেথ&#8221; (Megadeath) নামে একটি এককের প্রচলন করেছিল যার অর্থ যথারীতি ১ মিলিয়ন মৃত্যু। মার্কিন উত্তরাধুনিক রাজনীতি-বিদ্রোহী মেটাল ব্যান্ড &#8220;মেগাডেথ&#8221; (Megadeth) এই একক থেকেই তাদের নাম নিয়েছিল। তবে নামটা নিতে গিয়ে তারা ইচ্ছা করে বানান ভুল করেছে, death কে লিখেছে deth, বিদ্রোহের চিহ্ন হিসেবে।</p><p>হেরমান কান এর একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম &#8220;On Thermonuclear War&#8221; (১৯৬০), সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান এই বইয়ের রিভিউ করতে গিয়ে বলেছে, &#8220;a moral tract on mass murder; how to plan it, how to commit it, how to get away with it, how to justify it.&#8221; আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে সিনেমায় স্ট্রেঞ্জলাভ যে মাইন শ্যাফ্ট এবং ১:১০ অনুপাতের কথা বলে কান এর ও এই ধরণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল। কুবরিক এসব আকাশ থেকে আনেন নি। এসব প্ল্যান দিয়েই কান মহান ফিউচারিস্ট খ্যাতি পেয়েছিল। তবে কান কে নিয়ে ঘাপলা আছে। কান এর কোন জার্মান সংশ্রব নেই, সে একেবারে বিশুদ্ধ আমেরিকান। তাকে একবার ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ নিয়ে প্রশ্নও করা হয়েছিল। তার উত্তর ছিল: &#8220;Dr. Strangelove would not have lasted three weeks at the Pentagon&#8230; he was too creative.&#8221;</p><p>এটুকু ব্যাখ্যার পর ক্রিটিক ব্রায়ান সায়ানো যা বলেছেন তার সাথেও আমি একমত। কুবরিক হয়ত হেরমান কান এর চরিত্র থেকেই সবচেয়ে বেশী উপাদান নিয়েছিলেন। কিন্তু ডিটেল এর দিকে যার এত নজর তিনি নিশ্চয়ই অন্যান্য চরিত্রের কিছু উপাদান মেশানোর সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। কুবরিক ঠিক এ কাজটাই করেছেন। উপর্যুক্ত চারটি চরিত্র থেকেই কিছু উপাদান নিয়েছেন। এই পাঁচমিশালীর মাধ্যমে সম্ভাব্য সবচেয়ে ভয়ানক চরিত্রটি উপস্থাপন করেছেন। তার সাথে যোগ করেছেন কিছু অতিপ্রাকৃত ও স্পিরিচুয়াল বৈশিষ্ট্য। পাগলা বিজ্ঞানীদের এ ধরণের সুযোগসন্ধানী পাগলা গবেষণা যে ঈশ্বরের স্থান দখল করতে পারে সেটা ফুটিয়ে তোলার জন্য স্ট্রেঞ্জলাভ চরিত্রে আরও হাজার টা গুণাগুণ মেশানো হয়েছে। সে নাৎসিদের হয়ে কাজ করতো। তার মূল নাম Merkwürdigliebe যার ইংরেজি অর্থ strange-love, হিটলার এর পর মার্কিন সরকারের পোষা বিজ্ঞানীতে পরিণত হওয়ার পর সে নাম পরিবর্তন করে রেখেছে স্ট্রেঞ্জ লাভ। সত্যিই বড় অদ্ভুত এই ভালোবাসা, বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রতি কি ভালোবাসা দেখেন, নারীর প্রতি ভালোবাসার চেয়ে কোন অংশেই কম না।</p><p>প্রথম সফল কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্র বোধহয় ফ্রিৎস লাং এর মেট্রোপলিস (১৯২৭)। এই সিনেমাতেও এক পাগলা বিজ্ঞানীর চরিত্র ছিল। C. A. Rotwang নামক এই চরিত্রের এক হাত ছিল কাটা, কাটা অংশে মেকানিক্যাল হাত লাগানো হয়েছিল। ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ এর এক হাতে একটি কালো গ্লোভস আছে যা তার কথা শুনে না। এই অবাধ্য হাত যেন আরেকটি পৃথক সত্ত্বা যে তার পাগলা চিন্তায় বারবার বাঁধার সৃষ্টি করছে। এর মাধ্যমে যেন কুবরিক বোঝাতে চাইছেন, নিজের সাথে যুদ্ধ করে হলেও সে মানবতা ধ্বংসের কাজ করে যাবে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে অবাধ্য অংশের রং ও কালো। বোঝাই যায়, এর মাঝে মেট্রোপলিস এর অনুপ্রেরণা কাজ করেছে। বাংলা চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায়ও কিন্তু এমন একটা পাগলা বিজ্ঞানীর চরিত্র তৈরি করেছিলেন, &#8220;হীরক রাজার দেশে&#8221; সিনেমায়, তবে আরও দুই দশক পরে। এই সিনেমাতেও পাগলা বিজ্ঞানীর যন্তর-মন্তর ঘর দেখেছি, বুঝেছি এমন বিজ্ঞানীরা অন্ধ গবেষণার তোড়ে উন্মাদ হয়ে গেছে, যে তাকে উদ্ভাবনের সুযোগ করে দেবে সে তার হয়েই কাজ করবে। যথারীতি শক্তিমান সমাজ এমন বিজ্ঞানীকে পুষবে, যত টাকাই লাগুক&#8230;</p><p>সিনেমার শেষ কথাটাও গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতে ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ পঙ্গু, হুইল চেয়ারে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু সিনেমার শেষে হঠাৎ আবিষ্কার করে যে সে হাঁটতে পারছে। হুইলচেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে সে চিৎকার করে বলে, &#8220;Mein Führer! I can walk!&#8221; তার এই চিৎকারের পরই পৃথিবী ধ্বংসের খেলা শুরু হয়। পুরো পৃথিবী জুড়ে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হচ্ছে। এই অনবদ্য ধ্বংস দৃশ্যের সাথে অনেকে গ্রুপ সেক্স এর মিল খুঁজে পেয়েছেন। স্ট্রেঞ্জলাভ পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দিয়েছে, কারণ এছাড়া তার পক্ষে শত শত রমণীর সাথে চিরন্তন রমণে রত হওয়া সম্ভব না। পৃথিবী ধ্বংসের এই মন্টাজ যেন ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভের অর্জি-রই রূপায়ন। ১:১০ পৃথিবীতে শিশ্ন-চর্চায় রত এক সুমহান বিজ্ঞানী যে নিজের স্বাভাবিক জীবন উৎসর্গ করেছিল পুরো পৃথিবী ধ্বংসের তাগিদে।</p><p><strong>তথ্যসূত্র</strong></p><p>- <a href="http://www.visual-memory.co.uk/amk/doc/0017.html">A Commentary on Dr. Strangelove by Brian Siano</a></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/18251/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>23</slash:comments> </item> <item><title>ঈশ্বরের লীলাখেলা বোঝা বড় দায়</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/16958</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/16958#comments</comments> <pubDate>Sat, 24 Oct 2009 12:53:14 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[চলচ্চিত্র]]></category> <category><![CDATA[ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ]]></category> <category><![CDATA[স্ট্যানলি কুবরিক]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=16958</guid> <description><![CDATA[&#8220;ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ&#8221; (Dr. Strangelove or: How I Learned to Stop Worrying and Love the Bomb) আমার জীবনে দেখা সেরা কমেডি সিনেমা। মাঝে মাঝে মনে হয়, এটাই বোধহয় জীবনে দেখা সেরা সিনেমা। কোন সিনেমা দেখে এতোটা মুগ্ধ হইনি, কোন সিনেমাই এতো বার দেখিনি। অবসর পেলেই স্ট্রেঞ্জলাভ দেখতে বসে যাই। বেশ কিছুদিন আগে ইউটিউবে স্ট্রেঞ্জলাভ নিয়ে ঘাটাঘাটি [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>&#8220;<a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Dr._Strangelove">ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ</a>&#8221; (Dr. Strangelove or: How I Learned to Stop Worrying and Love the Bomb) আমার জীবনে দেখা সেরা কমেডি সিনেমা। মাঝে মাঝে মনে হয়, এটাই বোধহয় জীবনে দেখা সেরা সিনেমা। কোন সিনেমা দেখে এতোটা মুগ্ধ হইনি, কোন সিনেমাই এতো বার দেখিনি। অবসর পেলেই স্ট্রেঞ্জলাভ দেখতে বসে যাই। বেশ কিছুদিন আগে ইউটিউবে স্ট্রেঞ্জলাভ নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে একটা ট্রেলার পেয়েছিলাম। ট্রেলারটাও খুব মজার। কোন ধরণের মজার কথা বলতে চাচ্ছি সেটা তো ভেঙে বলার প্রয়োজন নেই, শুধু বলছি এটা রঙ্গ-রসিকতা না, এটা ব্ল্যাক কমেডি। ট্রেলারের ইউটিউব লিংকটা দিচ্ছি:</p><p><object width="384" height="313"><param name="movie" value="http://www.youtube.com/v/1gXY3kuDvSU&#038;hl=en&#038;fs=1"></param><param name="allowFullScreen" value="true"></param><param name="allowscriptaccess" value="always"></param><embed src="http://www.youtube.com/v/1gXY3kuDvSU&#038;hl=en&#038;fs=1" type="application/x-shockwave-flash" width="384" height="313" allowscriptaccess="always" allowfullscreen="true"></embed></object></p><p>ট্রেলারে দেখলাম ৭টি প্রশ্ন করা হয়েছে। আসলে এই সাতটা প্রশ্নই যেন ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভের বডি ওয়ার্ককে আমাদের সাথে তুলে ধরে। প্রশ্নগুলো মনে রেখে মুভি দেখতে বসার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তবে প্রশ্নগুলো নিঃসন্দেহে মুভি দেখায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে আমি আবার মুভিটা দেখলাম। তারপর প্রশ্নগুলো সম্পর্কে এরকম অনুভূতি হল:</p><p><span style="font-weight:bold;">Why did U.S. bombers attack Russia?</span></p><p>মানসিকভাবে বিকৃত এক জেনারেল went a little funny in the head, a little funny. এই একটু ফানি হয়ে সে &#8220;প্ল্যান আর&#8221; ইস্যু করেছে। এজন্যই মার্কিন বম্বার অ্যাটাক করছে রাশিয়া। ৩৪টি প্লেন রাশিয়ায় তাদের ৬৮টি অ্যাটাক টার্গেটের উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলেছে। হাতে সময় মাত্র এক ঘণ্টা, এই এক ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধানের জন্য মিটিং চলছে অ্যামেরিকার ওয়ার রুমে। তার মানে বিংশ শতকের জ্যাক দ্য রিপার মানবতা ধ্বংসের বদলে এবার পৃথিবী ধ্বংসের খেলায় মেতেছে। প্রতিটি যুদ্ধ ও সহিংসতাই যেন এরকম খানিকটা ফানি হয়ে যাওয়ার ফল। একটু ফানি&#8230; ট্রেলারে আবার Why did U.S. bombers লেখাটুকু দেখানোর পর, পরের শব্দ দুটো দুজনকে দিয়ে বলিয়ে নেয়া হয়েছে, মুভিরই কাটা অংশের মাধ্যমে। attack বলেছে জেনারেল বাক টার্জিডসনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ও গার্লফ্রেন্ড, আর Russia বলেছে স্বয়ং জেনারেল টার্জিডসন।</p><p><span style="font-weight:bold;">What was the first word said on the hot line?</span></p><p>মার্কিন প্রেসিডেন্ট মার্কিন মাফলি। মাফলি চায় না যুদ্ধ বেধে যাক। কারণ খুব স্বাভাবিক, আমেরিকার নীতি ছিল: পারমাণবিক যুদ্ধ কখনই সে শুরু করবে না। অন্য কেউ শুরু করলে একটু রেসপন্স করবে, এই যা। তাছাড়া ইতিহাসের বইয়ে নিজের ভাবমূর্তি নিয়েও খুব চিন্তিত মাফলি। যদিও টার্জিডসনের মতে ইতিহাসের বইয়ে নিজের ভাবমূর্তির উপর মার্কিন জনগণকে স্থান দেয়া উচিত। জনগণ বলতে যে টার্জিডসন কি বুঝিয়েছেন সেটা সিনেমা দেখলেই বোঝা যায়। সব ভেবে রুশ রাষ্ট্রদূতকে ওয়ার রুমে নিয়ে আসা হয়েছে। আর মাফলি হট লাইনে রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রির সাথে কথা বলে চলেছেন। ট্রেলারে যা দেখানো হয়েছে হট লাইনে বলা প্রথম শব্দ কিন্তু সেটা ছিল না, বরং এটা শেষের দিকের শব্দ। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে- এটা উপলব্ধি করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখভঙ্গি ও বাচনভঙ্গিই এখানে লক্ষ্যনীয়।</p><p><span style="font-weight:bold;">Why did U.S. paratroopers invade their own base?</span></p><p>&#8220;প্ল্যান আর&#8221; ইস্যু হয়েছে। তাই বার্পেলসন এয়ার ফোর্স বেজ সিল করে দেয়া হয়েছে। ২০০ মিটারের মধ্যে কোন কাক-পক্ষীকেও ঢুকতে দেয়া হবে না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট চিত্তবিকারগ্রস্ত জেনারেল রিপারের সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন, প্লেনগুলোর রিকল কোড জানার জন্য। তাই কাছাকাছি অবস্থিত আর্মি বেজ থেকে ফোর্স এসেছে বার্পেলসনে অনুপ্রবেশ করে জেনারেল রিপারকে ফোনে প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলিয়ে দেয়ার জন্য। এতেই শুরু হয়েছে সম্মুখ যুদ্ধ। Peace is our profession লেখা সাইনবোর্ডের সামনে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতেছে সৈনিকেরা। তবে এই যুদ্ধের ফলাফলই নিণর্য় করবে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।</p><p><span style="font-weight:bold;">Why does Dr. Strange Love want ten females to each male?</span></p><p>আমেরিকা-রাশিয়া স্নায়ু যুদ্ধের সময় দুই দেশই চাইতো কোন কিছুতে যাতে দুজনার মধ্যে কোন গ্যাপ না হয়ে যায়। এক দেশ যখন একটা করবে সাথে সাথে আরেক দেশকেও সেটা করে দেখাতে হবে। একটু পরেই আমরা সিনেমাতে মাইন শ্যাফ্ট গ্যাপের কথা শুনতে পারব। তার আগে স্ট্রেঞ্জলাভ মাইন শ্যাফ্ট পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করছেন। যদি পৃথিবী আসলেই ধ্বংস হয়ে যায় এবং কোবাল্ট থোরিয়াম জি-র অর্ধায়ু তথা ৯৩ বছর পৃথিবী-পৃষ্ঠে মানুষ থাকতে না পারে তাহলে একমাত্র উপায় হাজার হাজার ফুট নিচের মাইন শ্যাফটগুলোতে আলাদা আবাসস্থল নির্মাণ করা। এই আবাসস্থলে প্রতি ১০ জন নারীর জন্য একজন করে পুরুষ থাকতে হবে। কারণ স্ট্রেঞ্জলাভের মতে fertile নারী আর নারীদের যথেষ্ট প্রশান্তি দানে সক্ষম পুরুষেরাই কেবল সেখানে থাকতে পারবে। এতে মানুষের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। মানুষের ভবিষ্যৎ যেন নির্ভর করে sexual fertility-র উপর। এই থিমই ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভের সবচেয়ে জলজ্যান্ত কমেডি। রাষ্ট্রযন্ত্রগুলো পৃথিবীতে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে মানুষের ভবিষ্যৎ আবার সেই সেক্সুয়াল ফার্টিলিটির উপর গিয়ে পড়েছে। আজ থেকে দেড় লাখ বছর আগেও সেই ফার্টিলিটিই ছিল মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চাবিকাঠি। তার মানে আমরা দেড় লাখ বছর পিছিয়ে পড়তে চলেছি&#8230;</p><p><span style="font-weight:bold;">How does the fate of the world hang on a Coca-Cola machine?</span></p><p>আরেককটা গ্রেট চরিত্র জেনারেল রিপারের একজিকিউটিভ অফিসার রয়েল এয়ার ফোর্সের কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন লায়োনেল ম্যানড্রেক। আমি বোধহয় ম্যানড্রেক আর রিপারের কথোপকথনেই সবচেয়ে বেশী মজা পেয়েছি। বার্পেলসনে দুই মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধের উপর বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছিল। সেই যুদ্ধ শেষ হয়েছে, জেনারেল রিপারের ছেলেরা আত্মসমর্পণ করেছে। রিকল কোড ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জ্যাক রিপার করেছে আত্মহত্যা। কিন্তু তার দেয়া ক্লুর ভিত্তিতে রিকল কোড POE পেয়ে গেছে ম্যানড্রেক। কিন্তু হায়রে কমেডিক বিশ্ব, হাঁটুতে বুদ্ধিওয়ালা আর্মি অফিসার কর্নেল ব্যাট গুয়ানোর কারণে সেই রিকল কোড প্রেসিডেন্টকে জানাতে বিলম্ব হচ্ছে। এই বিলম্বটুকু কোন দর্শক সহ্য করতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। দেরী হতে হতে অবশেষে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ এসে বর্তায় এক কোকা কোলা মেশিনের উপর। এই মেশিনে গুলি করে পয়সা বের করে সেটা দিয়ে প্রেসিডেন্টের সাথে টেলিফোনে কথা বলতে হবে। তার আগে আবার ব্যাট গুয়ানো সতর্ক করে দিয়েছে: প্রেসিডেন্টকে ফোনে না পেলে ম্যানড্রেককে কোকা কোলা কোম্পানির কাছে জবাবদিহি করতে হবে।</p><p><span style="font-weight:bold;">Why was General Jack D. Ripper obsessed by fluids?</span></p><p>আম্রিকায় নির্মীত রুশ পৌরাণিক কাহিনী: রুশ কমিরা নাকি সমগ্র পৃথিবীর মানুষের দেহ দূষিত ও কমিপন্থী করে দেয়ার ষড়যন্ত্র এঁটেছে। মানব দেহের ৭০% তরল- রিপারের কাছে এটা শোনার পর ম্যানড্রেক বলেছে: Good Lord. আর রিপার বাকিটা ব্যাখ্যা করেছে: fluoridation এর মাধ্যমে কমিরা এই তরল নষ্ট করার ফন্দী করেছে। এটা বাকি মানুষের purity of essence নষ্ট করে দিচ্ছে। ভালবাসার ফিজিক্যাল অ্যাক্ট তথা রতিক্রিয়ার সময় হঠাৎ fatigue নেমে আসে রিপারের মধ্যে- ঠিক তখনই সে এই কালজয়ী আবিষ্কারটি করে। তাই কমি ধ্বংসের মিশনে নেমেছে সে। এজন্যই সে distilled water, raiwater এবং pure grain alcohol ছাড়া কিছু পান করে না।</p><p><span style="font-weight:bold;">What is the Doomsday machine?</span></p><p>সিনেমার সমাপ্তি নির্মাণ করেছে এই ডুমসডে মেশিন। রুশ রাষ্ট্রদূত আমাদেরকে এই যন্ত্র সম্পর্কে জানায়। এটা কোবাল্ট থোরিয়াম জি দিয়ে তৈরী। বোম ফাটার পর ৯৩ বছর পৃথিবীতে সূর্যালোক ঢুকতে পারবে না এবং পুরোটা তেজস্ক্রিয় হয়ে যাবে। পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মার্কিন প্লেনগুলো রাশিয়ার যে স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করেছে তার যেকোন একটা আক্রান্ত হলেই এই ডুমসডে মেশিন অটোমেটিক ট্রিগার্ড হয়ে যাবে। আবার এই মেশিনকে আন-ট্রিগার করা যাবে না, আন-ট্রিগার করতে গেলেও অটোমেটিক ট্রিগার্ড হয়ে যাবে। কোকা কোলা মেশিন বোধহয় পুরো কাজে দেয়নি, তাই এবার পৃথিবী নিয়ে খেলছে ডুমসডে মেশিন। মেজর টি জে কং penis সদৃশ এটম বোমায় চড়ে রুশ টার্গেটে অবতরণ করেছে। তারপর&#8230; মেজর কং এর কাউবয় ক্যাপ এর কি হল???</p><p><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/10/BE0260291.jpg" alt="BE026029" title="BE026029" width="460" class="aligncenter" /></p><p>প্রশ্ন শেষ। এর পর সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্ট্রেঞ্জলাভের স্রষ্টা স্ট্যানলি কুবরিকের ছবি। ট্রেলারে একটা ছবি আছে: কুবরিক শ্যুটিং এর সময় স্টার্লিং হেইডেনকে দেখিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে সিগার মুখে ধরতে হবে। সিগারটাও penis এর মত করে কাটা হয়েছে। তারপর এক স্পেশাল ভঙ্গিতে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে রিপারের মুখে। এক পাগলের মুখে। উপরের ছবিতে, বামে জেনারেল জ্যাক রিপার চরিত্রে স্টার্লিং হেইডেন আর ডানে স্বয়ং কুবরিক দ্য গ্রেট।</p><p><img src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/en/4/4d/3SellersRoles.jpg" alt="2" /></p><p>সিনেমার এই তিনটি চরিত্রে পিটার সেলার্স একাই অভিনয় করেছে। আমি পুরো সিনেমা দুই বার দেখার পরও এটা টের পাইনি। তারপর নেট ঘাটতে গিয়ে এই অবিশ্বাস্য তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ম্যানড্রেক, মাফলি আর স্ট্রেঞ্জলাভ- এই তিন চরিত্রেই পিটার সেলার্স অভিনয় করেছে। এই অসাধারণ অভিনয় দেখার পর সেলার্সের উপর আমার সব ক্ষোভ দূর হয়ে গেছে। এর আগে তার উপর রেগে ছিলাম। কারণ &#8220;দি এলিয়েন&#8221; সিনেমা নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পর সে সত্যজিৎ রায়কে ব্য্যঙ্গ করেছিল। তার এক সিনেমায় বানরের নাম রেখেছিল অপু। যাইহোক এখন আমি সেলার্সের ভক্ত:</p><p>এরপরই বলতে হয় জেনারেল বাক টার্জিডসন চরিত্রে জর্জ সি স্কট এবং জেনারেল জ্যাক ডি রিপার চরিত্রে স্টার্লিং হেইডেন এর কথা। সিনেমার প্রতিটা চরিত্র ছিল অনন্যসাধারণ। অভিনয় নিয়েও নতুন করে কিছু বলার নেই। কুবরিকের মত পারফেকশনস্ট আর এদের মত দক্ষ অভিনেতা একসাথে হলে কি অ্যাকমপ্লিশ করা সম্ভব সেটা মানুষ মাত্রই বুঝতে পারে। ট্রেলারের শেষটা সবচয়ে আকর্ষণীয়। জেনারেল রিপার ম্যানড্রেকের কাছে ব্যাখ্যা করছে কিভাবে সে প্রথম fluoridation তথা communist infiltration সম্পর্কে সচেতন হয়েছিল:</p><blockquote><div>I firstly came aware of that Mandrake, during the physical act of love.</div></blockquote><p>তার আগে ছিল ট্রেসি রিডের কণ্ঠে প্রচণ্ড সেক্সি-ভাবে বলা love the bomb বাক্যটি। বিকিনি পরা ট্রেসি রিড সিনেমার যৌন লক্ষ্যবস্তুটাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্লেনে এয়ার ফোর্স এর সৈন্যরা যে প্লেবয় ম্যাগাজিন পড়ছিল তাতেও ট্রেসি রিড এর ছবি দেখা যায়।</p><p>এই আমাদের ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ, ডুমসডে মেশিনের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও যে সিনেমা পৃথিবীর বুকে টিকে থাকবে। আমার মতে সর্বকালের সেরা তিনটি সিনেমার একটি হচ্ছে &#8220;ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ&#8221;। এটি একে তো সর্বোচ্চ শৈল্পিক মানের পরিচয় দিয়েছে তার ওপর সৃষ্টি করেছে সর্বকালের সেরা পলিটিক্যাল স্যাটায়ার এর। আমার মনে হয় না ভলতেয়ার মারা যাওয়ার পর ধরার বুকে স্ট্রেঞ্জলাভ এর চেয়ে শক্তিশালী কোন স্যাটায়ার নির্মীত হয়েছে। স্ট্যানলি কুবরিকের জীবনে করা সেরা দুটি সিনেমার একটি হচ্ছে ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ, &#8220;২০০১: আ স্পেস অডিসি&#8221;-র পরই। মূলত স্ট্রেঞ্জলাভ দেখার পরই আমি কুবরিকের পগলা ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সেই ভক্তি দিনকে দিন আরও বেড়েছে। বিংশ শতকে জন্ম নিয়ে কুবরিক আমাদের গ্রিক আর্ট এর স্বাদ দিয়েছেন, সভ্যতার অবক্ষয় কে এতো তীক্ষ্ণভাবে অন্য কোন শিল্পী ব্যঙ্গ করতে পেরেছেন বলে আমার মনে হয় না।</p><p>স্ট্রেঞ্জলাভ এ বারবার সেক্স এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বলা হয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ইরটিক দৃশ্য হচ্ছে ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ এর স্টার্টিং দৃশ্য-</p><p>দুটো প্লেন আকাশে উড়ছে। প্রত্যেকটিতে দুটো করে নিউক্লিয়ার বোমা আছে। অতি শর্ট নোটিশে রাশিয়া উড়িয়ে দেয়ার জন্য সদা প্রস্তুত তারা। এক প্লেন থেকে আরেক প্লেন এ জ্বালানী ভরা হচ্ছে। উপরের প্লেন থেকে পেনিস এর মত দেখতে একটি ডাণ্ডা নেমে এসেছে। ঢুকেছে গিয়ে নিচের প্লেনের একটি ছিদ্রে, যে ছিদ্রটিকে ভ্যাজাইনা মনে না করার কোনই কারণ নেই। অনেক সময় ধরে এই রিফিলিং চলে। রিফিল করছে একটি প্লেন আরেকটি প্লেন কে, পুনরায় চাঙ্গা হয়ে রাশিয়া ধ্বংসের দিকে মনোনিবেশ করতে। ক্রেডিট দেখানোর পুরোটা সময়ই এই দৃশ্য চলে। এক দৃশ্যেই আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়, দেখতে চলেছি অনন্যসাধারণ এবং অতিমাত্রায় ডিস্টার্বিং কিছু।</p><p>স্ট্রেঞ্জলাভ আমাদের আঘাত করে। আঘাত করে সমাজের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে। একে অপরকে খুন করতে ইতস্তত করলেও আমরা কত সহজে আরেকটি জাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারি এটা শেখানো হয়েছে স্ট্রেঞ্জলাভে। ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ মানবতার জন্য বানানো হয়েছে। কোনদিন যদি আমরা নিজেদের ধ্বংস করার খেলায় মেতে উঠি তবে কুবরিক ই আমাদের পুনরায় স্বপ্ন দেখাতে শেখাবেন, কুবরিক ই বলে দেবেন কে কাকে ধ্বংস করছে। ইতিমধ্যেই ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ নিয়ে স্কলারলি গবেষণা শুরু হয়ে গেছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে &#8220;আন্তর্জাতিক সম্পর্ক&#8221; ও &#8220;যুদ্ধের নৈতিকতা&#8221; পড়ানোর সময় অনেক অধ্যাপকই এই সিনেমাটি ব্যবহার করেন। অনেকে এই সিনেমা দেখানোর মাধ্যমে তাদের কোর্স শুরু করেন। বিজ্ঞান গবেষণায় যেমন আমাদের অনেক সময় সিম্যুলেশন করতে হয়, সমাজবিজ্ঞান গবেষণায় তেমনি একটি সিম্যুলেশন হচ্ছে ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ। সিম্যুলেশন থেকে কতোটা সাহায্য নিতে হবে এবং কিভাবে সাহায্য নিতে হবে সেটা জানা না থাকলে অবশ্য কোনই লাভ হবে না। মনে রাখতে হবে, এখানে স্ট্যানলি কুবরিক নিজে ঈশ্বর, এবং এই সিনেমাটি তাঁর তৈরি একটি মহাবিশ্ব।</p><p>ভিক্টর হুগো বলেছিলেন,</p><blockquote><div>মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ দুজন সেবক ধরার বুকে এসেছেন ১৮০০ বছরের ব্যবধানে। প্রথম জন হলেন যীশু খ্রিস্ট, আর দ্বিতীয় জন হলেন ভলতেয়ার। তবে দুজনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে- যীশু কেঁদেছিলেন, আর ভলতেয়ার হেসেছেন।</div></blockquote><p>মানবতার দিকে তাকিয়ে ভলতেয়ার এর সেই অট্টহাসি আমি দেখতে পাই নি, শুনতে পাই নি, উপলব্ধি করতে পারি নি, কল্পনা করতে পারি নি। কিন্তু সেই হাসির সিম্যুলেশন করেছেন স্ট্যানলি কুবরিক। কুবরিক এর মাধ্যমেই আমি হেসেছি ভলতেয়ার এর মত করে, কুবরিক হয়তো ঠিক এটাই চাইছিলেন। আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, তুমি কিসে সবচেয়ে বেশী বিশ্বাস কর? আমি উত্তরে বলব, স্ট্যানলি কুবরিক কে, স্ট্যানলি কুবরিক কে আমি ঈশ্বরের চেয়েও বেশী বিশ্বাস করি।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/16958/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>17</slash:comments> </item> <item><title>আমাদেউস (১৯৮৪)</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/16675</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/16675#comments</comments> <pubDate>Sat, 17 Oct 2009 10:41:37 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[চলচ্চিত্র]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category> <category><![CDATA[মোৎজার্ট]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=16675</guid> <description><![CDATA[যেভাবে একটি অপেরা শুরু হয়। পর্দা উঠুক আর না উঠুক, শুরু হয় ওভার্চার। মিলশ ফরমান এর &#8220;আমাদেউস&#8221; (১৯৮৪) এর শুরুটা ঠিক তেমনই। পর্দা ওঠার আগেই শুরু হয় ওভার্চার ধর্মী গাঢ় সুর। সুরের তালেই পর্দা ওঠে, আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে উনবিংশ শতকের ভিয়েনা-র একটি শীতল রাত, যেমন রাতে ঘোড়ারা নিঃশ্বাস ফেললে ধোঁয়াশার খেলা শুরু হয়। [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>যেভাবে একটি অপেরা শুরু হয়। পর্দা উঠুক আর না উঠুক, শুরু হয় ওভার্চার। মিলশ ফরমান এর &#8220;আমাদেউস&#8221; (১৯৮৪) এর শুরুটা ঠিক তেমনই। পর্দা ওঠার আগেই শুরু হয় ওভার্চার ধর্মী গাঢ় সুর। সুরের তালেই পর্দা ওঠে, আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে উনবিংশ শতকের ভিয়েনা-র একটি শীতল রাত, যেমন রাতে ঘোড়ারা নিঃশ্বাস ফেললে ধোঁয়াশার খেলা শুরু হয়। এই শীর্ণ রাতের নীরবতা ভেঙে কোত্থেকে চিৎকার ছুটে আসে-<br /> মোৎজার্ট&#8230;<br /> আমি ভাবি, আহত ঈশ্বর বুঝি ডাকছেন মোৎজার্টকে। পরের মৃয়মান চিৎকারেই প্রথমবারের মত টের পাই, ইনি ঈশ্বর নন, পৃথিবীরই কেউ, কে তা জানি না। মোৎজার্ট নাম ধরে দু&#8217;বার ডাকার পর সে কাতর স্বরে বলে,</p><blockquote><p>Forgive your assassin! I confess, I killed you! Yes, I killed you, Mozart. Mozart, mercy!Forgive your assassin! Forgive me, Mozart!</p></blockquote><p>যিনি এই কথাগুলো বলেছেন তার ঘরের দরজা বন্ধ। এমন দুজন খাবার হাতে দরজার সামনে দাঁড়ায় যাদের নিয়ে ফরমান ব্যঙ্গ করতে চান। এদের মুখেই আমরা প্রথমবারের মত সদ্য কনফেশন করা ব্যক্তিটির নাম জানতে পারি: সালিয়েরি। ওরা তাকে সিনোরি সালিয়েরি বলে ডাকে।</p><p><img src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/en/2/2f/Amadeusmov.jpg" alt="1" /></p><p>কেবল দুই ধরণের মানুষকে আদর করা যায়- শিশু অথবা মানসিক ভারসাম্যহীন, এছাড়া কেউ আদর পাওয়ার যোগ্য না। সালিয়েরি যে দ্বিতীয় শ্রেণীর হবেন এতে কোনই সন্দেহ থাকে না। দুই অভ্যাগতের অদ্ভুত আপ্যায়ন অগ্রাহ্য করে সালিয়েরি তার কাজ চালিয়ে যান। জলজ্যান্ত একজন মানুষ পড়ে যাওয়ার শব্দ, ধাতুতে-মেঝেতে মিলে ভয়ংকর শব্দ যখন শুরু হয়, তখনই এক ধাক্কায় দরজা খুলে ফেলে দুই অভ্যাগত ক্লাউন। যতোটা জোরের সাথে তারা ঘরে ঢুকে ঠিক ততোটা জোরের সাথে ক্যামেরা এগিয়ে যায় সামনের দিকে, ধীরে-সুস্থে জুম ইন হতে থাকে এক বৃদ্ধের গলা বরাবর, যে গলা বেয়ে রক্ত ঝরছে। জুম ইন এর সাথে তাল মিলিয়ে বজ্রের হুংকার এর মত ধেয়ে আসে মোৎজার্ট এর ২৫তম সিম্ফনি।</p><p>মোৎজার্ট এর ২৫তম সিম্ফনি যে ভাব জাগায় তাকে জার্মান সাহিত্যের ভাষায় বলা যায় &#8220;স্টুর্ম উন্ড ড্রাং&#8221;, অর্থাৎ ঝড় এবং পীড়ন। রেনেসাঁ-র শিল্পীরা আলোকময় যুগের যুক্তিবাদীতার চাপে অতিষ্ট হয়ে শিল্পের এই নতুন ধারার প্রবর্তন করেছিলেন। যুক্তির ধারালো ছুরিতে ক্ষত-বিক্ষত শিল্পীদের অবচেতনটা প্রকাশিত হয় এমন শিল্পকর্মে। ২৫তম সিম্ফনির এই ভাবের সাথে আমাদেউস এর সূচন-দৃশ্যের অদ্ভুত যোগসূত্র দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয় নি- এটা আমার জীবনে দেখা সেরা স্টার্টিং সিন। উপলব্ধি করতেও দেরি হয় নি- এটা হতে যাচ্ছে আমার জীবনে দেখা সেরা কয়েকটি সিনেমার একটি। ক্রেডিট দেখানোর পুরোটা সময় ২৫তম সিম্ফনি বাজতে থাকে। তাই আমার সে সময়কার অনুভূতি সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত না বলে থাকতে পারছি না।</p><p>ক্রেডিট দেখানোর সময়টাতে ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখানো হচ্ছিল সালিয়েরি-কেই। তাকে এক অদ্ভুত দোলনায় চড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জন্মের পর যেমন দোলনায় মানুষ থাকতে ভালোবাসে। হয়তোবা এটা তার মৃত্যুশয্যা। হয়তোবা সে সময় সে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত স্মরণের চেষ্টা করছিল, কিংবা সে মারা যাওয়ার পর পৃথিবীটা কিভাবে চলবে তা অনুভবের চেষ্টা করছিল। ২৫তম সিম্ফনির আবহটাও ছিল এমন। আমার মৃত্যুর সময় হয়তো এই সুরটাই শুনতে চাইব। কারণ, এটা মৃত্যুর মত একটি ভয়াবহ ঝড়ের তীব্রতা যেমন ফুটিয়ে তোলে ঠিক তেমনি আমার মৃত্যুর পরও যে পৃথিবী আগের মত নাচতে থাকবে সেটা শোনাতে থাকে। আমি মারা যাওয়ার পরও পৃথিবী টিকে থাকবে, এটা ভেবেই কেবল শান্তিতে মৃত্যুবরণ সম্ভব। আর এই ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ শান্তির জন্য ২৫তম সিম্ফনির কোন বিকল্প নেই। এজন্যই হয়ত ২৫তম সিম্ফনির আবহে একবার মুমূর্ষু সালিয়েরি আরেকবার পার্টিতে নৃত্যরত জুটিদের দেখানো হয়, যেসব জুটি থেকে পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়।</p><p>কিন্তু সালিয়েরি-র মারা যাওয়া আর হয় না। সে মারা গেলে আমাদের সিনেমা দেখাটা আর হতো না। সিটিজেন কেইন এর চার্লস ফস্টার কেইন &#8220;রোজবাড&#8221; বলে মারা গিয়েছিল। সেই রোজবাড এর রহস্য উদ্ধার করতে আমাদের পায়ের ঘাম মাথায় ঠেলতে হয়েছে। কিন্তু আমাদেউস এ স্বয়ং সালিয়েরি-ই তার সম্ভাব্য মৃত্যুর আগে বলা শেষ কথাগুলো ব্যাখ্যার জন্য বেঁচে রয়েছে। পরের দৃশ্য মানসিক হাসপাতালে। সে সময় মানসিক ভারসাম্যহীন বা সমাজচ্যুতদের সাথে কী ধরণের ব্যবহার করা হতো সেটা যেমন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তেমনি এর মনস্তাত্ত্বিক বা দার্শনিক দিকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ এটা পরিচালনা করেছেন মিলশ ফরমান যিনি &#8220;ওয়ান ফ্লু ওভার দ্য কাকুস নেস্ট&#8221; (১৯৭৫) বানিয়ে আমাদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।</p><p>দিনের কোন এক ক্ষণে সালিয়েরির সাথে দেখা করতে হাসপাতালে আসে এক তরুণ পাদ্রী। একে তো সালিয়েরি আত্মহত্যার চেষ্টা করে মহাপাপ করেছে, তার উপর মোৎজার্ট-কে খুন করার দাবী করেছে। তাই তার কনফেশন ভিন্ন কোন পথ খোলা নেই। পাদ্রীর কাছে কনফেশন করার কোন ইচ্ছাই সালিয়েরির ছিল না। সে শুরু করে নিজের কিছু কম্পোজিশন বাজিয়ে। একটি সুরও পাদ্রী চিনতে পারে না, যদিও সে এই ভিয়েনাতেই সঙ্গীতের উপর সামান্য পড়াশোনা করেছিল। কিন্তু মোৎজার্ট এর &#8220;আইনে ক্লাইনে নাখটমুজিক&#8221; বাজানো মাত্র চিনে ফেলে পাদ্রী, মনে করে এটা সালিয়েরি-রই রচনা। সালিয়েরি যখন বলে এটা তার না, মোৎজার্ট এর রচনা, তার একটু পর থেকেই সিনেমার ফ্রেম সিকোয়েন্সগুলো শুরু হয়। সালিয়েরি-র মনের ভেতর উঁকি দিয়ে আমরা মোৎজার্ট এর জীবন দেখতে পাই।</p><p>এক ভারসাম্যহীন, অনুতপ্ত এবং রাগান্বিত বৃদ্ধের মাথায় মোৎজার্ট এর জীবনটা কিভাবে আসন গেড়েছে সেটাই আমরা দেখেছি। তাই এখানে সিনেমা ঐতিহাসিক সত্যকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে, হয়ে উঠেছে একটা পরিপূর্ণ শিল্পকর্ম। আর সালিয়েরি-র মনের অবস্থা অনুযায়ী সবকিছু ফুটিয়ে তোলার জন্যই বারবার জাম্প কাট ব্যবহার করা হয়েছে। শুরু হয়েছে মোৎজার্ট এর গল্প- যে মাত্র ৪ বছর বয়সে প্রথম কনসার্তো রচনা করেছিল, আর ৭ বছর বয়সে রচনা করেছিল প্রথম সিম্ফনি, অবহেলায় মারা গিয়েছিল মাত্র ৩৬ বছর বয়সে।</p><p>মোৎজার্ট এর বাবা লিওপোল্ড মোৎজার্ট ছিলেন সমকালীন ইউরোপের বিখ্যাত সঙ্গীত শিক্ষক। বাবার কাছ থেকে উপায় শিখেছিলেন মোৎজার্ট, সুর তো ছিল তার অন্তরে। তাই মাত্র ৭ বছর বয়সে ইউরোপ জুড়ে তার নাম ছড়িয়ে পরে। সালৎসবুর্গ এ রাজার সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ার পরই মোৎজার্ট আসেন অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা-য়, সিটি অফ মিউজিশিয়ানস নামে যে ছিল সর্বজনবিদিত। ভিয়েনাতেই মোৎজার্ট বিয়ে করেন, জীবনের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এখানেই, কিন্তু সামগ্রিকভাবে তিনি শিকার হয়েছিলেন প্রতিকূল পরিবেশের। রাজা ছাড়া রাজন্যবর্গের আর কেউই তাকে বিশেষ পছন্দ করতো না। আর পদে পদে তার সাথে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতো আন্তোনিও সালিয়েরি, ইতালি থেকে এসে যিনি অনেক আগেই ভিয়েনার কোর্ট কম্পোজার হিসেবে নিজের আসন করে নিয়েছিলেন। সালিয়েরি কিভাবে ঈশ্বরের গোলাম থেকে ঈশ্বরের শত্রুতে পরিণত হয় এটি সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি থিম:</p><p>ছোটবেলায় সালিয়েরি চাইতো মোৎজার্ট এর মত হতে। ঈশ্বরের সাথে সে চুক্তি করেছিল, &#8220;তুমি আমাকে গান করার ক্ষমতা দাও, আমি সেই গান দিয়ে কেবল তোমারই গুণগান করবো।&#8221; ঈশ্বর তার প্রার্থনা গ্রহণ করেছিলেন, প্রার্থনার পরদিনই মারা গিয়েছিল তার বাবা, সালিয়েরি চলে এসেছিল ভিয়েনা-য়। এখানে অক্লান্ত পরীশ্রম ও একাগ্র সাধনার পর সে অবশেষে কোর্ট কম্পোজার হয়েছে, সারাটা জীবন বিশ্বস্ত থেকেছে ঈশ্বরের প্রতি। কিন্তু যখন মোৎজার্ট এর সুর তারটাকে হাজার গুণে ছাড়িয়ে যায় তখনই সে ঈশ্বরের শত্রু হতে শুরু করে। সে মনে করতো, মোৎজার্ট সুর সৃষ্টি করে না, বরং মোৎজার্ট নামক একটি উপকরণের মাধ্যমে ঈশ্বর মানুষের সাথে কথা বলেন। কারণ মোৎজার্ট যে সুর সৃষ্টি করে সেটা কোন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না। অথচ মোৎজার্ট চরিত্রে সে কোন সদগুণ দেখতে পায় না। এই &#8220;giggling, dirty minded creature&#8221; কে ঈশ্বর কেন তাঁর মুখপাত্র নির্বাচন করলেন সেটা ভেবে পায় না সালিয়েরি। মোৎজার্ট এর কাছে পরাজিত হয়ে সে ঈশ্বরের শত্রুতে পরিণত হয়। ক্রুশবিদ্ধ যীশূকে চুল্লির আগুনে পোড়ানোর দৃশ্যটি বেশ বিবাদের জন্ম দিয়েছিল, কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই এটা সিনেমার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দৃশ্যগুলোর একটি। সালিয়েরি প্রতিজ্ঞা করে, মোৎজার্ট এর রূপ ধরে ঈশ্বর এখন যেমন তার দিকে তাকিয়ে হাসছে, মৃত্যুর আগে সেও তেমনি ঈশ্বরের দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গাত্মক হাসি হাসবে। সে কেবল সেই দিনটিরই অপেক্ষায় আছে।</p><p>মোৎজার্ট এর চরিত্র রূপায়নে মিলশ ফরমান ইতিহাস থেকে খুব একটা বিস্মৃত হন নি, কিন্তু সালিয়েরি-র চরিত্র মূল মঞ্চ নাটকের অনুকরণেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যার সাথে ঐতিহাসিক সত্যের অনেকটা পার্থক্য আছে। উল্লেখ্য আমাদেউস মঞ্চ নাটকের লেখক পিটার শ্যাফার এর কৃতিত্বই এখানে সবচেয়ে বেশি। তার নাটকের ওপর সিনেমাটিক আবেদন তৈরির কৃতিত্বটাই কেবল ফরমান এর। তবে দুটোর শিল্পমূল্যই অনেক বেশি। পিটার শ্যাফার বা মিলশ ফরমান- দুজনেরই মূল লক্ষ্য ছিল মোৎজার্ট-সালিয়েরি বিবাদের মধ্যে দিয়ে একটি মহান অধিবিদ্যক তথা মেটাফিজিক্যাল থিম ফুটিয়ে তোলা। সিনেমার মেটাফিজিক্যাল থিমগুলোর রূপায়ন যে সার্থক হয়েছে এতে কোনই সন্দেহ নেই:</p><p><strong>মেধার জন্ম ও বিকাশ</strong></p><p>আমাদেউস এ বলার চেষ্টা করা হয়েছে, মোৎজার্ট লেভেলের মেধা সামাজিক পরিবেশে নির্মীত হয় না। মানুষের জন্মের সময়ই তার মেধার জন্ম হয়। এটা নতুন করে তৈরি করার কোন উপায় নেই। এটা বাই বর্ন, ঈশ্বরপ্রদত্ত- যে কোন নামেই ডাকা যেতে পারে। এই ঈশ্বর এর মাধ্যমে কি বোঝাতে চাচ্ছেন এটাও পরিষ্কার করা হয় নি সিনেমাতে। সালিয়েরি-র দৃষ্টিতে দেখানোর কারণে অধিবিদ্যক থিমটা আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। ঈশ্বরের সংজ্ঞা নির্ধারণের দায়িত্ব বর্তেছে দর্শকদের উপরই।</p><p>মেধার বিকাশের জন্য পরিশ্রম আবশ্যক। মোৎজার্ট সারা দিন-রাত খেটেই একেকটি সুর তৈরি করতেন। কিন্তু পরীশ্রম করলেই অনন্যসাধারণ কিছুর জন্ম হবে এটা বলা যায় না। মোৎজার্ট পরীশ্রম করে যেমন অসংখ্য অনবদ্য সুর তৈরি করেছেন ঠিক তেমনি অনেক সুর সেকেন্ডের মধ্যে তার মাথায় এসে পড়েছে। বলা যায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে অপেরাগুলো করতে। কিন্তু সিম্ফনি বা কনসার্তো করতে কিন্তু তার একদমই সময় লাগতো না। আমরা জানি তার ২৪তম সিম্ফনি মুক্তি পাওয়ার মাত্র একদিন পরই ২৫তম সিম্ফনি শেষ হয়ে গিয়েছিল। যেখানে বেটোফেন একটি সিম্ফনি করতে কখনও কখনও ৫ বছর সময়ও পার করেছেন। মোৎজার্ট এর অর্জনের পেছনে পরীশ্রম একটি বড় কারণ অবশ্যই, কিন্তু প্রধান নয়। প্রধান কারণ সেই মেধা যেটা তিনি বায়োলজিক্যালি বা ঐশ্বরিক উপায়ে অর্জন করেছিলেন।</p><p>প্রথম বা শেষ নাম না নিয়ে ভোলগাং আমাদেউস মোৎজার্ট এর মধ্য নাম কে সিনেমার নাম হিসেবে বেছে নেয়ার কারণও থিম। আমাদেউস শব্দের অর্থ &#8220;beloved of God&#8221;।</p><p><strong>মিডিয়ক্রিটি</strong></p><p>অর্থাভাবে ক্লীষ্ট মোৎজার্ট খুব করে একটি রাষ্ট্রীয় পদ চাচ্ছিলেন। কিন্তু অত্যধিক অহংবোধের কারণে তিনি হেরে যান। তার সুরগুলো বিবেচনা না করেই জামার-কে পদটি দিয়ে দেয়া হয়। মোৎজার্ট বলেন,<br /> &#8220;But that man&#8217;s a fool. He&#8217;s a total mediocrity.&#8221;<br /> উত্তরে সালিয়েরি বলে,<br /> &#8220;No, no. He has yet to achive mediocrity.&#8221;<br /> এই মিডিয়ক্রিটি শব্দটি সিনেমায় অনেক বার ব্যবহৃত হয়েছে। মিডিয়ক্রিটি বলতে কিন্তু আমাদের মত মানুষদের বোঝানো হয় নি, আমরা বোধহয় আল্টিমেট মিডিয়ক্রিটি যাদের উত্তরণের কোন সম্ভাবনা নেই। জামার নিজেও এখনও মিডিয়ক্রিটি অর্জন করে নি, অথচ সে সিটি অফ মিউজিশিয়ানস এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী পদ অলংকরনের ক্ষমতা রাখে। একটু পরে আমরা বুঝতে পারি ভিয়েনার কোর্ট কম্পোজার স্বয়ং সালিয়েরি হল মিডিয়ক্রিটি, অর্থাৎ মধ্যম গুণসম্পন্ন লোক। এদের থেকে সমাজ এবং বিশ্ব অনেক কিছু পায় কিন্তু গুণেমানে তারা কখনোই মেধাবীদের সমকক্ষ হতে পারে না। মোৎজার্ট বা আইনস্টাইন দের জন্য সেই মেধার পদগুলো সংরক্ষিত।</p><p>সালিয়েরি এই সত্য পুরোপুরিই বুঝতে পেরেছিল। এজন্য সে দোষ দিয়েছিল একমাত্র ঈশ্বরকে, সে ঈশ্বরে খুব বিশ্বাস করতো যে! সালিয়েরির শেষ কথাগুলো আমার অন্তরে গেঁথে গেছে। পাদ্রীকে সে বলে,</p><blockquote><p>I speak for all mediocrities in the world. I am their champion. I am their patron saint.</p></blockquote><p>এরপর মানসিক হাসপাতালের করিডোর ধরে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আশপাশে মানসিকভাবে ভয়ংকর অসুস্থ বা সুস্থ সমাজের চোখে ভয়ংকর ব্যতিক্রম বলে সাব্যস্ত লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে ধর্ম প্রচারের ভঙ্গিতে সে বলছে,</p><blockquote><p>Mediocrities everywhere I absolve you. I absolve you. I absolve you. I absolve you. I absolve you all.</p></blockquote><p>এই কণ্ঠ আমাদের আঘাত করে। কথাগুলোর শেষে দূর থেকে ভেসে আসে মোৎজার্টের তীক্ষ্ণ হাসির শব্দ। মোৎজার্ট যেন ব্যঙ্গ করে আমাদের এই কথাই বলতে চাচ্ছেন, তোমরা মধ্যম। কিন্তু তোমাদেরকে সালিয়েরি পরিত্রাণ দিল। সবশেষে তোমরাই তো এই বিশ্ব। অসংখ্য সমাজচ্যুত থাকার পরও তোমরাই তো সমাজের অধিকর্তা। তোমরাই তো সুখে আছো। মোৎজার্ট এর মত তীক্ষ্ণ মেধাবী-রা কালিক সমাজে স্থান পায় নি। যদিও সময়ের বিচারে জয় হয়েছে মোৎজার্ট এরই। মোৎজার্ট মারা যাওয়ার পরও ৩৪ বছর জীবিত ছিল সালিয়েরি। এই ৩৪ বছরে সে নিজের চোখে দেখেছে, কিভাবে তার করা সুরগুলো বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছে, আর মোৎজার্ট এর সুর জনপ্রিয়তা ও খ্যাতির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করছে। ঈশ্বরই যেন মোৎজার্টকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলেছেন, আর তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন জীবনের প্রতিটি কষ্ট অন্তর দিয়ে অনুভব করার জন্য। প্রমাণিত হয়েছে মিডিয়ক্রিটরা কেবলই সময়ের, আর মেধাবীরা অসীমের।</p><p>আমাদেউস প্রতিটি দিক দিয়ে সর্বোচ্চ শৈল্পিক মান রক্ষা করেছে। এক্ষেত্রে আলোকসজ্জার কথা না বললেই নয়। অষ্টাদশ শতকের ভিয়েনা ফুটিয়ে তোলার জন্য পুরো সিনেমায় কোন কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয় নি। পুরো শ্যুটিং করা হয়েছে মোমবাতির আলোয়। এই টেকনিক অবশ্য মিলশ ফরমানের সৃষ্টি না। ১৯৭৫ সালে &#8220;ব্যারি লিন্ডন&#8221; সিনেমায় স্ট্যানলি কুবরিক প্রথম বারের মত মোমবাতির আলোয় চিত্র গ্রহণের পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। শুধু মোমবাতির আলোয় রাতের দৃশ্যগুলো দেখানোর জন্য কুবরিক নতুন ধরণের একটি লেন্স তৈরি করিয়েছিলেন। সেই লেন্স বা তারই কোন জ্ঞাতির মাধ্যমে সম্ভবত আমাদেউস এর সিনেমাটোগ্রাফি করা হয়েছে। প্রথম দৃশ্যেই মোমবাতি-র আভা শুরু হয়, প্রাকৃতিক আলোয় নেয়া সবগুলো দৃশ্য চোখ ভরে উপভোগের মত।</p><p>অপেরা-র মঞ্চায়ন এবং পোশাক সজ্জার কথা তো না বললেও চলে। এমনকি অপেরাগুলোর যে থিয়েটারে প্রিমিয়ার হয়েছিল সেই থিয়েটারেই তাদের চিত্রগ্রহণ করা হয়েছে। অপেরা সহ সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে আবহ সঙ্গীত এত চমৎকারভাবে মিশে গেছে যে পুরো সিনেমাটাই মোৎজার্ট এর সৃষ্টি বলে ভ্রম হয়। বুঝতে বাকি থাকে না, এই সিনেমায় যারা কাজ করেছেন তাদের প্রত্যেকের হৃদয় মোৎজার্ট এর সুরে কতোটা আপ্লুত হয়েছিল। মনে হয় মোৎজার্ট এর ভূত যেন পরিচালক, অভিনয় শিল্পী, লেখক ও কলা-কুশলী নির্বিশেষে সবার ওপর ভর করেছিল।</p><p>তব সবকিছু ছাপিয়ে উঠেছে মোৎজার্ট এবং সালিয়েরি-র অভিনয়। বলা যায় সালিয়েরি-ই টেনে নিয়ে গেছে পুরো সিনেমাটা। আর তার সাথে তাল মিলিয়েছে মোৎজার্ট। সালিয়েরি চরিত্রের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার পেয়েছিলেন এফ. মুরে আব্রাহাম। মোৎজার্ট চরিত্রে টম হালঞ্চ ও ছিলেন অনবদ্য। এমন অভিনয় দেখার সৌভাগ্য সচরাচর হয় না।</p><p>মোৎজার্ট এর করা শেষ অপেরার নাম &#8220;সাউবারফ্লটে&#8221; বা &#8220;দ্য ম্যাজিক ফ্ল্যুট&#8221;। সিনেমাতেই আমরা ম্যাজিক ফ্ল্যুট দেখেছি এবং প্রিমিয়ার এর সময় যে ধরণের পোশাক সজ্জা ছিল সেটাই অনুকরণ করা হয়েছে। পাপ্পাগেনো-র কাহিনীর চিত্রায়ণ দেখে বারবারই মনে হচ্ছিল ঈঙ্গমার বারিমান এর কথা। বারিমান মোৎজার্ট এর এই শেষ অপেরা থেকেই একটি সিনেমা বানিয়েছিলেন, সুয়েডীয় ভাষায়, নাম &#8220;ত্রলফোইতেন&#8221; (১৯৭৫)। ম্যাজিক ফ্ল্যুট শব্দটিরই জার্মান হচ্ছে সাউবারফ্লটে আর সুয়েডীয় হল ত্রলফোইতেন। অপেরা এবং মঞ্চ নাটকের চেয়ে সিনেমার যে অতিরিক্ত সুবিধা তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছিলেন বারিমান। আমাদেউস এ মোৎজার্ট অপেরা-র একটি বিশাল সুবিধার বর্ণনা যেভাবে দিয়েছেন তা খুব ভাল লেগেছে: মঞ্চ নাটকে একসাথে এক জনের বেশি কথা বললেই শ্রুতিকটু লাগে। কিন্তু অপেরায় একসাথে দুই জন কেন ২০ জন মানুষও যদি কথা বলে এবং প্রত্যেকের কথা যদি ভিন্ন ভিন্নও হয় তাও শ্রুতিকটু লাগে না। বরং পুরোটা মিলে একটি সাংঘাতিক হারমনি-র জন্ম হয়। আমাদেউস এর প্রত্যেকটি অপেরা-তে এর ছাপ টের পেলাম।</p><p>ওয়েস্টার্ন ধ্রুপদী শোনা শুরু করেছিলাম বেটোফেন এর মাধ্যমেই, কুবরিকের &#8220;আ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ&#8221; দেখার পর। ধীরে ধীরে কিছু মোৎজার্ট ও শোনা হয়েছিল। কিন্তু আমাদেউস দেখার পর রীতিমত নেশা হয়ে গেল। সারাদিন শুধুই মোৎজার্ট শুনছি। সবার জন্য আমাদেউস এ ব্যবহৃত কিছু মোৎজার্ট এর সন্ধান দিলাম:</p><p><strong>২৫তম সিম্ফনি</strong></p><table bgcolor="#000000" cellpadding="0" cellspacing="0"><tr><td><embed quality="high" pluginspage="http://www.macromedia.com/go/getflashplayer" type="application/x-shockwave-flash" bgcolor="#000" width="328" height="94" src="http://www.esnips.com//escentral/images/widgets/flash/esnips_player.swf" flashvars="theTheme=silver&amp;autoPlay=no&amp;theFile=http://www.esnips.com//nsdoc/3116b9ae-252e-4100-ac0e-958933747b62&amp;theName=Mozart - Symphony No. 25 in G Minor - Amadeus Soundtrack - Classical&amp;thePlayerURL=http://www.esnips.com//escentral/images/widgets/flash/mp3WidgetPlayer.swf"></embed></td></tr><tr><td><table cellpadding="2" style="font-family:Verdana, Arial, Helvetica, sans-serif; padding-left:2px; color:#FFFFFF; text-decoration:none ; ; font-size:10px; font-weight:bold"><tr><td><a style="color:#FFFFFF; text-decoration:none " href="http://www.esnips.com/CreateWidgetAction.ns?type=0&#038;objectid=3116b9ae-252e-4100-ac0e-958933747b62"> Get this widget </a></td><td style="font-size:7px; font-weight:normal;">|</td><td align="center"><a align="center" style="color:#FFFFFF; text-decoration:none " href="http://www.esnips.com/doc/3116b9ae-252e-4100-ac0e-958933747b62/Mozart---Symphony-No.-25-in-G-Minor---Amadeus-Soundtrack---Classical/?widget=flash_player_esnips_silver"> Track details </a></td><td style="font-size:7px; font-weight:normal;">|</td><td><a align="center" style="color:#FF6600; text-decoration:none" href="http://www.esnips.com//adserver/?action=visit&#038;cid=player_dna&#038;url=/socialdna"> eSnips Social DNA </a></td></tr></table></td></tr></table><p><strong>আইনে ক্লাইনে নাখটমুজিক</strong></p><table bgcolor="#000000" cellpadding="0" cellspacing="0"><tr><td><embed quality="high" pluginspage="http://www.macromedia.com/go/getflashplayer" type="application/x-shockwave-flash" bgcolor="#000" width="328" height="94" src="http://www.esnips.com//escentral/images/widgets/flash/esnips_player.swf" flashvars="theTheme=silver&amp;autoPlay=no&amp;theFile=http://www.esnips.com//nsdoc/596a672f-0fd5-4e0d-a5b9-e6c0c1a7629a&amp;theName=Mozart - Eine Kleine Nachtmusik&amp;thePlayerURL=http://www.esnips.com//escentral/images/widgets/flash/mp3WidgetPlayer.swf"></embed></td></tr><tr><td><table cellpadding="2" style="font-family:Verdana, Arial, Helvetica, sans-serif; padding-left:2px; color:#FFFFFF; text-decoration:none ; ; font-size:10px; font-weight:bold"><tr><td><a style="color:#FFFFFF; text-decoration:none " href="http://www.esnips.com/CreateWidgetAction.ns?type=0&#038;objectid=596a672f-0fd5-4e0d-a5b9-e6c0c1a7629a"> Get this widget </a></td><td style="font-size:7px; font-weight:normal;">|</td><td align="center"><a align="center" style="color:#FFFFFF; text-decoration:none " href="http://www.esnips.com/doc/596a672f-0fd5-4e0d-a5b9-e6c0c1a7629a/Mozart---Eine-Kleine-Nachtmusik/?widget=flash_player_esnips_silver"> Track details </a></td><td style="font-size:7px; font-weight:normal;">|</td><td><a align="center" style="color:#FF6600; text-decoration:none" href="http://www.esnips.com//adserver/?action=visit&#038;cid=player_dna&#038;url=/socialdna"> eSnips Social DNA </a></td></tr></table></td></tr></table><p><strong>রিকুইম কনফুতাতিস, ডি মাইনর (আমার জীবনে শোনা সবচেয়ে কষ্টের ও ভয়ের সুর)</strong></p><table bgcolor="#000000" cellpadding="0" cellspacing="0"><tr><td><embed quality="high" pluginspage="http://www.macromedia.com/go/getflashplayer" type="application/x-shockwave-flash" bgcolor="#000" width="328" height="94" src="http://www.esnips.com//escentral/images/widgets/flash/esnips_player.swf" flashvars="theTheme=silver&amp;autoPlay=no&amp;theFile=http://www.esnips.com//nsdoc/ce85b120-d53a-4108-a9d0-9769d4024289&amp;theName=07. Requiem in D minor - KV 626 - VII Confutatis&amp;thePlayerURL=http://www.esnips.com//escentral/images/widgets/flash/mp3WidgetPlayer.swf"></embed></td></tr><tr><td><table cellpadding="2" style="font-family:Verdana, Arial, Helvetica, sans-serif; padding-left:2px; color:#FFFFFF; text-decoration:none ; ; font-size:10px; font-weight:bold"><tr><td><a style="color:#FFFFFF; text-decoration:none " href="http://www.esnips.com/CreateWidgetAction.ns?type=0&#038;objectid=ce85b120-d53a-4108-a9d0-9769d4024289"> Get this widget </a></td><td style="font-size:7px; font-weight:normal;">|</td><td align="center"><a align="center" style="color:#FFFFFF; text-decoration:none " href="http://www.esnips.com/doc/ce85b120-d53a-4108-a9d0-9769d4024289/07.-Requiem-in-D-minor---KV-626---VII-Confutatis/?widget=flash_player_esnips_silver"> Track details </a></td><td style="font-size:7px; font-weight:normal;">|</td><td><a align="center" style="color:#FF6600; text-decoration:none" href="http://www.esnips.com//adserver/?action=visit&#038;cid=player_dna&#038;url=/socialdna"> eSnips Social DNA </a></td></tr></table></td></tr></table><p><strong>সালিয়েরি মোৎজার্ট এর মিউজিক ব্যাখ্যা করছে</strong></p><p><object width="425" height="344"><param name="movie" value="http://www.youtube.com/v/pxgZcMGmkkI&#038;hl=en&#038;fs=1&#038;"></param><param name="allowFullScreen" value="true"></param><param name="allowscriptaccess" value="always"></param><embed src="http://www.youtube.com/v/pxgZcMGmkkI&#038;hl=en&#038;fs=1&#038;" type="application/x-shockwave-flash" allowscriptaccess="always" allowfullscreen="true" width="425" height="344"></embed></object></p><p><strong>ৎসাউবারফ্লটে ওভার্চার (ইঙ্গমার বারিমান এর ত্রলফোইতেন থেকে)</strong></p><p><object width="425" height="344"><param name="movie" value="http://www.youtube.com/v/fiezry3pSow&#038;hl=en&#038;fs=1&#038;"></param><param name="allowFullScreen" value="true"></param><param name="allowscriptaccess" value="always"></param><embed src="http://www.youtube.com/v/fiezry3pSow&#038;hl=en&#038;fs=1&#038;" type="application/x-shockwave-flash" allowscriptaccess="always" allowfullscreen="true" width="425" height="344"></embed></object></p><p><strong>পিয়ানো কনসার্তো নং ২২, ই ফ্ল্যাট (কে. ৪৮২)</strong></p><p><object width="425" height="344"><param name="movie" value="http://www.youtube.com/v/FUL13KEeS4s&#038;hl=en&#038;fs=1&#038;"></param><param name="allowFullScreen" value="true"></param><param name="allowscriptaccess" value="always"></param><embed src="http://www.youtube.com/v/FUL13KEeS4s&#038;hl=en&#038;fs=1&#038;" type="application/x-shockwave-flash" allowscriptaccess="always" allowfullscreen="true" width="425" height="344"></embed></object></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/16675/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>34</slash:comments> </item> <item><title>নোবেল পুরস্কার ২০০৯</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/16460</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/16460#comments</comments> <pubDate>Sat, 10 Oct 2009 10:09:13 +0000</pubDate> <dc:creator>মুহাম্মদ (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category> <category><![CDATA[নোবেল পুরস্কার]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=16460</guid> <description><![CDATA[পরীক্ষা চলছে। বিএসসি জীবনের শেষ পরীক্ষা। কিন্তু পড়তে একদমই ইচ্ছা করছে না। দুইটা পরীক্ষা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। শুধু আগের দিন কোনভাবে পড়াশোনা শেষ করে পরীক্ষা দিয়ে আসার সিস্টেমটা তো আগে থেকেই আয়ত্তে ছিল। এই দুই পরীক্ষায় সেটা দুইবার ঝালিয়েও নিয়েছি। তাই চিন্তা নাই, ভাবলাম এই সুযোগে একটা ব্লগ নামিয়ে ফেলি। আদতে পরীক্ষার মত ফ্যাসিস্ট একটা [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>পরীক্ষা চলছে। বিএসসি জীবনের শেষ পরীক্ষা। কিন্তু পড়তে একদমই ইচ্ছা করছে না। দুইটা পরীক্ষা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। শুধু আগের দিন কোনভাবে পড়াশোনা শেষ করে পরীক্ষা দিয়ে আসার সিস্টেমটা তো আগে থেকেই আয়ত্তে ছিল। এই দুই পরীক্ষায় সেটা দুইবার ঝালিয়েও নিয়েছি। তাই চিন্তা নাই, ভাবলাম এই সুযোগে একটা ব্লগ নামিয়ে ফেলি। আদতে পরীক্ষার মত ফ্যাসিস্ট একটা জিনিসের চেয়ে ব্লগিং তো অনেক অনেক উত্তম।</p><p>বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ব্রেকিং নিউজ এবং হট টপিক হচ্ছে বারাক ওবামা-র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া। নিঃসন্দেহে কোনকিছু না করেই নোবেল পেয়ে গেছেন ওবামা। আমাদের মত ওবামা-ও যে সমান হারে বিস্মিত হয়েছেন এতে আমার কোনই সন্দেহ নেই। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়ার জন্য নরওয়ে-র আইনসভা-র ৫ জন সদস্যকে নিয়োগ দেয়া হয়। এই সদস্যরা আবার সিদ্ধান্তের জন্য আইনসভার কাছে দায়ী থাকে না। তাই এই বিচারক নির্বাচনের উপর যে নোবেল পুরস্কারটা অনেক নির্ভর করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনও হতে পারে এই ৫ জন খুব বেশি কষ্ট করতে চান নি। হাতে যা ডেটা আছে তা থেকে খুব দ্রুত একটা সুবিধাজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন, দ্বিতীয়বার চিন্তা না করেই, যদিও এর সম্ভাবনা খুব কম। হাজার হোক নোবেল পুরস্কার বলে কথা।</p><p>যাহোক ঐসব নিয়ে তেমন কিছু জানি না। তাই হাইপোথেটিক্যাল কথাও বলছি না। ভাবলাম আমি বরং অন্যান্য বিষয়ে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তদের সাথে সিসিবি-র পাঠক মহলকে পরিচয় করিয়ে দেই, যদিও জানি বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে তাদের সাথেও পরিচিত হয়ে গেছেন। তারপরও নোবেল পুরস্কার নিয়ে লেখার একটা পাট আছে না। তাছাড়া নোবেল পুরস্কার জিনিসটা আমার খুব পছন্দের। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান এ নোবেল পুরস্কারগুলো আমি সবসময় অনুসরণ করি। বিংশ শতকের সেরা পদার্থবিজ্ঞানীদের নাম এবং তাদের জীবনী নিয়ে জানার জন্য এই নোবেল সাহেবের মহাকীর্তিকেই অনুসরণ করেছিলাম। একসময় টার্গেট নিয়েছিলাম বাংলা উইকিপিডিয়া-তে নোবেল পুরস্কার পাওয়া সকল বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিকের জীবনী লিখবো। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং সাহিত্যে যারা নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাদের তালিকাও তৈরি করেছিলাম (অবশ্যই অন্যান্য উইকিপিডিয়ানদের সাহায্য নিয়ে)। সাহিত্য ও পদার্থবিজ্ঞানে বেশ কিছুটা এগিয়েও গিয়েছিলাম। আমাদের করা তালিকাগুলো নিচে দিচ্ছি। প্রত্যেকের নামে ক্লিক করলে তাদের জীবনী চলে আসবে, যদি থাকে আর কি!-</p><p>- <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">পদার্থবিজ্ঞান</a><br /> - <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">রসায়ন</a><br /> - <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%BE_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">চিকিৎসাবিজ্ঞান</a><br /> - <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">সাহিত্য</a></p><p><strong>পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০০৯</strong></p><p>মোট তিনজন কে দেয়া হয়েছে। একটি অবদানের জন্য এক জনকে, এবং আরেকটি অবদানের জন্য দুজন কে। তার মানে পুরস্কার ভাগ করা হয়েছে দুই ভাগে। অর্ধেক দেয়া হয়েছে প্রথম জনকে। বাকি অর্ধেক-কে আরও দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তাই বাকি দুজন পেয়েছে এক চতুর্থাংশ করে। নিচের ছবিতে তিন জনের নাম, কর্মস্থল, জন্ম তারিখ এবং জন্ম স্থান উল্লেখ করা আছে:</p><p><em>&#8220;for groundbreaking achievements concerning the transmission of light in fibers for optical communication&#8221;</em></p><table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0"><tr><td align="left"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/2009/kao.jpg" /></td><td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Charles_K._Kao">চার্লস কে কাও</a> (Charles K. Kao)<br /> স্ট্যান্ডার্ড টেলিকমিউনিকেশন ল্যাবরেটরিস, হার্লো, যুক্তরাজ্য<br /> চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অফ হংকং, হংকং, চীন<br /> জন্ম: ১৯৩৩, সাংহাই, চীন</td></tr></table><p>চীনা বিজ্ঞানী চার্লস কে কাও-কে বলা হয় &#8220;অপটিক্যাল ফাইবার&#8221; যোগাযোগ ব্যবস্থার জনক। ফাইবার অপটিক্স এ অসামান্য অবদানের জন্য তাকে পুরস্কারের অর্ধেক দেয়া হয়েছে। বাকি দুজন পেয়েছেন এক চতুর্থাংশ করে। তাদের ছবি পাওয়ার কারণ এবং সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে:</p><p>&#8220;for the invention of an imaging semiconductor circuit – the CCD sensor&#8221;</p><table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0"><tr><td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/2009/boyle.jpg" /></td><td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Willard_S._Boyle">উইলার্ড এস বয়েল</a> (Willard S. Boyle)<br /> বেল ল্যাবরেটরিস, মুরে হিল, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র<br /> জন্ম: ১৯২৪, অ্যামহার্স্ট, কানাডা</td></tr></table><table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0"><tr><td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/2009/smith.jpg" /></td><td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/George_E._Smith">জর্জ ই. স্মিথ</a> (George E. Smith)<br /> বেল ল্যাবরেটরিস, মুরে হিল, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র<br /> জন্ম: ১৯২৪</td></tr></table><p>সিসিডি (Charge-coupled device) সেন্সর নিয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। তবে আধুনিক ডিজিটাল ইমেজিং এর ক্ষেত্রে এর যে কোন বিকল্প নেই তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এর প্রাথমিক কাজটা অনেকটা শিফ্ট রেজিস্টার এর মত।</p><p><strong>রসায়নে নোবেল পুরস্কার ২০০৯</strong></p><p>এখানে একই অবদানের জন্য তিন জন পেয়েছেন। তার মানে প্রত্যেকে পেয়েছেন এক তৃতীয়াংশ করে।</p><p><em>&#8220;for studies of the structure and function of the ribosome&#8221;</em></p><table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0"><tr><td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/2009/ramakrishnan.jpg" /></td><td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Venkatraman_Ramakrishnan">রামকৃষ্ণ ভেংকট রমন</a> (Venkatraman Ramakrishnan)<br /> এমআরসি ল্যাবরেটরি অফ মলিকুলার বায়োলজি, কেমব্রিজ, যুক্তরাজ্য<br /> জন্ম: ১৯৫২, চিদাম্বরম, তামিল নাড়ু, ভারত</td></tr></table><table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0"><tr><td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/2009/steitz.jpg" /></td><td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Thomas_A._Steitz">টমাস এ. স্টিট্‌জ</a> (Thomas A. Steitz)<br /> ইয়েল ইউনিভার্সিটি, নিউ হেভেন, যুক্তরাষ্ট্র<br /> হাওয়ার্ড হিউস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট<br /> জন্ম: ১৯৪০</td></tr></table><table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0"><tr><td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/2009/yonath.jpg" /></td><td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Ada_E._Yonath">আডা ই ইয়োনাথ</a> (Ada E. Yonath)<br /> ভাইজম্যান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, রেহোভোত, ইসরায়েল<br /> জন্ম: ১৯৩৯, ইসরায়েল</td></tr></table><p>আরও একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেলেন। এর আগে পদার্থবিজ্ঞানে দুজন ভারতীয় নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন: চন্দ্রশেখর ভেংকট রমন এবং উনার ভাতিজা সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর। এবার যিনি পেলেন তার নাম &#8220;রামকৃষ্ণ ভেংকট রমন&#8221;। মহাবিজ্ঞানী রমন এর সাথে তার কোন সম্পর্ক আছে মনে করেছিলাম। কিন্তু নেট ঘেটে এখন পর্যন্ত তেমন কোন সম্পর্ক পাই নি। কেউ পেলে জানিয়েন।</p><p><strong>চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০০৯</strong></p><p>এখানেও একই অবদানের জন্য তিন জন পেয়েছেন।</p><p><em>&#8220;for the discovery of how chromosomes are protected by telomeres and the enzyme telomerase&#8221;</em></p><table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0"><tr><td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2009/blackburn.jpg" /></td><td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Elizabeth_H._Blackburn">এলিজাবেথ এইচ ব্ল্যাকবার্ন</a> (Elizabeth H. Blackburn)<br /> ব্ল্যাকবার্ন ও গ্রিডার মিলেই টেলোমেয়ারেজ আবিষ্কার করেছিলেন। এই এনজাইম টিই টেলোমেয়ার পুনরায় ভরে তোলার কাজ করে।<br /> ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান ফ্রানসিস্কো, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র<br /> জন্ম: ১৯৪৮, হোবার্ট, তাসমানিয়া, অস্ট্রেলিয়া</td></tr></table><table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0"><tr><td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2009/greider.jpg" /></td><td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Carol_W._Greider">ক্যারল ডব্লিউ গ্রিডার</a> (Carol W. Greider)<br /> জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি, বাল্টিমোর, যুক্তরাষ্ট্র<br /> জন্ম: ১৯৬১</td></tr></table><table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0"><tr><td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2009/szostak.jpg" /></td><td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Jack_W._Szostak">জ্যাক ডব্লিউ জোস্টাক</a> (Jack W. Szostak)<br /> হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, বস্টন<br /> হাওয়ার্ড হিউস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট<br /> জন্ম: ১৯৫২, লন্ডন, ইংল্যান্ড</td></tr></table><p>বাংলাদেশেও মেডিক্যাল কলেজগুলোতে মেয়েদের আধিক্য লক্ষণীয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারেও দেখি তাদের আধিক্য। এর আগেও বারবারা ম্যাকক্লিন্টক এর মত বিজ্ঞানীরা চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।</p><p>নোবেল পুরস্কারগুলোর বণ্টন দেখে একটা বিষয় মনে হলো। রসায়ন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়া সব বিজ্ঞানীর বয়সই পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল প্রাপ্তদের তুলনায় কম। আর লক্ষ্য করলে দেখা যায় পদার্থবিজ্ঞানে যারা নোবেল পান তারা জীবনের সেরা আবিষ্কারটি করেছিলেন অন্তত ৩০-৪০ বছর আগে। যেমন জর্জ স্মুট ১৯৬৫ সালের আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান ২০০০-এর দশকে।</p><p><strong>সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ২০০৯</strong></p><p>সাহিত্যে বরাবরের মত এবারও নোবেল পুরস্কার কেবল একজনই পেয়েছেন। সাহিত্যের ক্ষেত্রে এটাই খুব স্বাভাবিক।</p><p><img class="alignright" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/literature/laureates/2009/muller.jpg" alt="10" /><br /> <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Herta_M%C3%BCller">হার্টা ম্যুলার</a> (Herta Müller)<br /> নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জার্মান হিসেবে<br /> জন্ম: ১৯৫৩, Nitzkydorf, Banat, রোমানিয়া</p><p>সাহিত্যে ইদানিং যারা নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন তাদের নাম আমরা পুরস্কার প্রাপ্তির পরই জানি। এটাকে অবশ্য আমি সাহিত্যিকের অযোগ্যতা নয় বরং আমাদের সাহিত্যবিমুখতার পরিচায়ক হিসেবেই দেখি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এক ভাষার সাহিত্যিকের অন্য ভাষায় পরিচিতি পেতে বেশ খানিকটা সময় লাগে। এজন্যই হয়তো এই রুমানীয় সাহিত্যিকের নাম আগে কখনও শুনি নি। তবে নোবেল পুরস্কার অনেক মানবতাবাদী ও মহান সাহিত্যিকের সাথে বিশ্ববাসীর পরিচয় করিয়ে দেয়। ওরহান পামুক নোবেল পাওয়ার পরই কিন্তু তার বই বাংলায় অনূদিত হতে শুরু করেছিল। এতে আক্ষেপের কিছু নেই। অবশ্য জীবনে কোনদিন ডোরিস লেসিং এর নাম শুনি নি ভেবে আমার এক সময় খুব আক্ষেপ হয়েছিল। এই ইংরেজ সাহিত্যিক জীবনের ৯০ টা বছর কাটিয়ে দিলেন বাংলায় অপরিচিত থেকেই। এখন কিন্তু তার কিছু কবিতা ঠিকই বাংলাদেশেও সমাদৃত হচ্ছে।</p><p>এই রুমানীয় সাহিত্যিকের চরিত্রটা বোধহয় খানিকটা বিপ্লবী। রোমানিয়ায় একসমসয় গোঁড়া কম্যুনিস্ট শাসন ছিল যেটা আদতে ফ্যাসিস্ট রূপ ধারণ করেছিল। এই যুগ নিয়ে করা একটা অনবদ্য রুমানীয় সিনেমাও দেখেছিলাম- &#8220;৪ মাস, ৩ সপ্তাহ ও ২ দিন&#8221; (4 Months, 3 Weeks and 2 Days)। এই সিনেমাগুলো হয়ত হার্টা ম্যুলার-এর সাহিত্যকর্ম দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। যথারীতি নোবেল এর মাধ্যমে সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত হওয়ার পরই তার লেখা বাংলায় অনূদিত হতে শুরু করেছে। তার লেখা একটি গল্পের বঙ্গানুবাদ পড়তে চাইলে এখানে যান:<br /> - <a href="http://arts.bdnews24.com/?p=2501">অন্ত্যেষ্টির বয়ান (অনুবাদ করেছেন &#8216;শুভাশীষ দাশ&#8217;)</a></p><p>হার্টা ম্যুলার এর সাক্ষাৎকার:<br /> - <a href="http://arts.bdnews24.com/?p=2495">নিজের একটি বই নিয়ে হার্টা ম্যুলার (অনুবাদক &#8216;শুভাশীষ দাশ&#8217;)</a></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/16460/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>47</slash:comments> </item> </channel> </rss>
<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Minified using disk
Page Caching using disk (enhanced)
Object Caching 739/777 objects using disk
Content Delivery Network via static.cadetcollegeblog.com

Served from: www.cadetcollegeblog.com @ 2010-09-03 17:54:58 -->