<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?> <rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/" xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/" ><channel><title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ &#187; ত্রিমিতা (৯৬-০০)</title> <atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/author/Trimita/feed" rel="self" type="application/rss+xml" /><link>http://www.cadetcollegeblog.com</link> <description></description> <lastBuildDate>Thu, 09 Sep 2010 18:11:44 +0000</lastBuildDate> <language>en</language> <sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod> <sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency> <item><title>বাংলাদেশ ও আমার হতাশা</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/trimita/9131</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/trimita/9131#comments</comments> <pubDate>Tue, 05 May 2009 11:23:08 +0000</pubDate> <dc:creator>ত্রিমিতা (৯৬-০০)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[ময়মনসিংহ]]></category> <category><![CDATA[রাজনীতি]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=9131</guid> <description><![CDATA[নিজের দেশকে ভালবাসি – একথা আমি কখনও সরাসরিভাবে স্বীকার করিনি। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমাদের দেশের লোকদের মাঝে বিদেশে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করে। বিদেশে পড়তে যাওয়া, বিদেশে চাকরি পাওয়া, প্রবাসী বাংলাদেশী বিয়ে করা ইত্যাদি অনেকের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে পড়ে এবং এইসব কার্যক্রম সাধারণত সফলতার দাড়িপাল্লায় পড়ে। আমার মা-বাবাও ব্যতিক্রমধর্মী নন, আমি ক্যাডেট কলেজে থাকাকালীন [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>নিজের দেশকে ভালবাসি – একথা আমি কখনও সরাসরিভাবে স্বীকার করিনি। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমাদের দেশের লোকদের মাঝে বিদেশে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করে। বিদেশে পড়তে যাওয়া, বিদেশে চাকরি পাওয়া, প্রবাসী বাংলাদেশী বিয়ে করা ইত্যাদি অনেকের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে পড়ে এবং এইসব কার্যক্রম সাধারণত সফলতার দাড়িপাল্লায় পড়ে।</p><p>আমার মা-বাবাও ব্যতিক্রমধর্মী নন, আমি ক্যাডেট কলেজে থাকাকালীন সময় থেকেই তাদের বড় সখ তাদের মেয়েরা স্কলারশীপ পেয়ে বিদেশে পড়বে। আমি খুব &#8216;ভাল&#8217; মেয়ে, মা-বাবার প্রতিটা সখ আমি ৫ম শ্রেণী থেকে পুরণ করে আসছি &#8211; ট্যালেণ্টপুলে বৃত্তি পাওয়া, ক্যাডেট কলেজে যাওয়া, স্কলারশীপে বিদেশে একাধিক উচ্চশিক্ষা অর্জন করা, নিজের সমাজের মাঝে বিয়ে করা, স্বাবলম্বী হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি তিনটি দেশে (ব্রিটেন, জার্মানী এবং অস্ট্রেলিয়া) পড়াশোনার জন্য বসবাস করেছি এবং অনেকগুলো দেশে (প্রায় ১২-১৪ টি) ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছি। কোন দেশের সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে চলতে আমার তেমন কোন অসুবিধা হয়নি। বাইরে সেটেল করার অনেক সু্যোগও পেয়েছি এবং আমার পরিবার এ ব্যাপারে আমাকে উৎসাহিত করলেও আমি বারবার দেশে ফিরে এসেছি। আমার কথা ছিল আমি ভৌগলিকভাবে কোথায় আছি এইটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আমার চারপাশের মানুষগুলো আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ, আমার এত বিলাসিতার দরকার নেই, সীমিত জীবনে আমার আন্তরিক ভালবাসার সংস্পর্শ বেশি প্রয়োজন, কাজেই আমি দেশেই থাকতে চেয়েছি। আমি জানিনা দেশের মানুষকে ভালবাসা মানে দেশকে ভালবাসা কিনা। কিন্তু ইদানীং আমি চরম হতাশায় ভুগছি। অনেকের কাছে হয়ত কথাটি শুনে আহ্লাদ মনে হচ্ছে – কিন্তু আমার হতাশাটা আমার কাছে প্রবল। দেশের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাবলী আমার দেশে থাকার ইচ্ছাটাকে দুর্বল করে দিয়েছে, বিশেষভাবে পিলখানার বি. ডি. আর.-এর ঘটনাটি।</p><p>আমার বাবা একজন আর্মি অফিসার। গত ২৯ বছর ধরে নিজের ঘাম দিয়ে ও জীবনের ঝুকি নিয়ে দেশকে সার্ভ করার পর সর্বসাকুল্যে তার বেতন ২৪ কি ২৫ হাজার টাকা আর সাম্প্রতিক সে মিরপুরে একটুকরা জমি পেয়েছে। সে কর্নেল হওয়ার পর থেকে সরকারী ইন্ডিপেন্ডেন্ট বড় বাসা ও একটা গাড়ি/ড্রাইভার পাচ্ছে পার্সোনাল ব্যবহারের জন্য। এছাড়াও আরও অনেক মেইন্টেন্যান্সের ও সার্ভিসের সুযোগ সুবিধা আছে যার মূল কারন আর্মির বাজেটের সদ্ব্যবহার।  বাংলাদেশে আমার বাবার কোন বাড়ি নেই, নিজের গাড়ি কিনার সামর্থও নেই। আমার মা সবসময় দুঃখ করে বলে যে, তার বাচ্চারা সব বাইরে, এত বড় বাসা দিয়ে কি করবে? বরং ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের আর্মির মত  সুযোগ সুবিধা কমিয়ে বেতন একটু বেশি দিলে মেয়েদেরকে হাতখরচ দেয়ার জন্য বাংকে ও. ডি. করতে হতনা। আর জাতিসংঘের মিশনকে যারা এখনও খুব সহজভাবে ডলার কামানোর উপায় মনে করছেন দয়া করে সাব্বির আহসানেরর লেখা The Peacekeeper  বইটা পড়বেন। আমি শুধু এইটুকুই বলব যে আমরা অনেক ভাগ্যবতী যে আমাদের বাবা সোমালিয়ার মিশনে অস্ত্রহীন অবস্থায় এক ইঞ্চি গুলির ব্যবধানের জন্য লাশ হয়ে দেশে ফিরে আসেনি।</p><p>২৫শে ফেব্রুয়ারী আমার বাবার মত অফিসাররা যখন কুকুরের মত গুলি খেয়ে ড্রেন দিয়ে লাশ হয়ে ভেসে আসে আর আমার মায়ের বয়সী আন্টিরা ধর্ষিত ও লাশ হয়ে গাছে ঝুলে থাকে নিজের অজান্তেই সে জায়গায় আমার নিজের মা-বাবার ছবি কল্পনায় ভেসে উঠে, – আর অসহ্য এক কষ্ট হতে থাকে। বারবার মনে হয়, আমার বাবারওতো কর্নেল গুলজারের মত দু’সপ্তাহ আগে পিলখানায় পোস্টিং হতে পারত। দেশের উচ্চশিক্ষিত সুশীল সমাজের লোকেরা এই সুযোগে কফির কাপে চুমুক দিয়ে অফিসারদের সরকারী সুযোগ সুবিধা নিয়ে পরশ্রীকাতরতা প্রকাশ করে নেয়। Meanwhile, সরকার পিলখানার ক্রাইসিস মোকাবেলার জন্য একজন most অনভিজ্ঞ  প্রতিনিধি পাঠায় যে গিয়ে খুনীদের মা হয়ে যায় আর আমাদের সবাইকে মিথ্যা আশ্বাস দেয় যে &#8216;সব&#8217; অস্ত্র তিনি জমা নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু অফিসার ও তাদের পরিবারের জন্য কোন মা যায় না এবং সেটা নিয়ে কার কোন মাথাব্যথাও দেখা দেয় না। মন্ত্রী নানক মাইক নিয়ে কিছু ভিত্তিহীন কথা প্রচার করে পরে চিকিৎসার উছিলায় সিঙ্গাপুরে চলে যান, বানিজ্য মন্ত্রী মিডিয়ার সামনে এসে আরো কিছু বেফাঁস কথা অপপ্রচার করতে থাকেন। অন্যদিকে জনগন ব্লগে ও মিডিয়ার কার পক্ষপাতিত্ব করবে সেই আলোচনায় মেতে উঠে। তারপর দেশ ও বিদেশ এই ক্রাইসিস &#8216;গণতান্ত্রিক&#8217; উপায়ে মোকাবিলা করার জন্য সরকারকে  বাহাবা দিতে থাকে। পত্র-পত্রিকায় বি. ডি.আর. -এর কলাম ক্রমশ ছোট হতে থাকে &#8211; ঘটনার দুই’মাসেরও বেশি হয়ে গেছে, এখনো তদন্তের কোন সুরাহা হয়নি। মধ্যে দিয়ে এই বিরাট &#8216;mess&#8217;-এর মাঝে &#8216;loser&#8217; হলো আর্মি অফিসারের শহীদ পরিবারগুলা, যাদের স্থানের সাথে আমি নিজের স্থানের পার্থক্য দেখি শুধু বাবার একটা পোস্টিং-এর।</p><p>আমি আর্মি-শাসন সাপোর্ট করিনা। মিলিটারী নেতৃত্ব কত ভয়াবহ হতে পারে তা আমরা ভুক্তভগী পাহাড়ীরা জানি। বাংলাদেশ আর্মির সাপোর্টেই আমার নিজের প্রকৃত গ্রাম আজকে হিল ট্র্যাক্টসের ৮০ দশকের বহিরাগতদের দখলে, আর আমার গ্রামবাসী আর চৌদ্দগুষ্টি আজও গণকবরের নিচে। কিন্ত তারপরেও সানাউল্লাহ ভাইয়ের মত আমিও ওয়ান-ইলাভেনের চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প না পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সমর্থন করেছি। কারন at least আর্মি যখন উত্তরবঙ্গে শীতের কাপড় দেয়, বন্যার্তদের রিলিফ দেয়, ভবন ধ্বসে পড়লে, আগুন লাগলে উদ্ধারকাজ চালায়, রাস্তা নির্মাণ করে &#8211; তখন কাজগুল সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়। ভোটারদের লিস্ট নিয়ে যতই সমালোচনা হোক, ভোটার হিসেবে ভোটের কার্যক্রম কমপক্ষে আমার আকাংখা পুরন করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদকের aggressive কর্মকান্ডে আমার মনে আশা জেগেছিল যে, হয়ত দিন বদলে যাচ্ছে, এরপর নিশ্চ্য় কিছু শিক্ষিত ও নৈতিক মানুষ রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করার সুযোগ পাবে। কিন্তু গনতন্ত্র আসতে না আসতেইতো ছাত্রনেতাদের সন্ত্রাস শুরু হয়ে গেল, গনপ্রতিনিধিরা গরীবের ভি. জি. এফ. কার্ড চুরি করতে ব্যস্ত হয়ে গেল, হাসিনা ম্যাডাম খালেদা ম্যাডামের বাসা ছিনিয়ে নেয়ায় ব্যস্ত হল আর সাংসদরা ব্যস্ত হল দু.দ.ক.-কে পঙ্গু করতে। বলা বাহুল্য বি. ডি. আর. হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ বিচারের আশা আমি অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। আর কতদিন রাজনীতিবিদেরা গরীবের রক্ত চুষে নিজের বিলাসিতা নিশ্চিত করার আর দেশটাকে পঙ্গু করার পায়তারা করবে? কবে দেশে ভালমানুষের জায়গা হবে? বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধরন দেখে গনতন্ত্র ও নৈতিকতার প্রতি আমার আস্থা দিনদিন ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। A Wednesday ছবির নাসিরুদ্দিন শাহ-এর মত আমারও মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে গুলি করে সব ক্ষমতালোভী স্বার্থপর অশিক্ষিত নেতার দলগুলোকে মেরে ফেলি, আমারতো এর চাইতে বেশি কিছু করার ক্ষমতা নেই।</p><p>আমিওতো উচ্চডিগ্রীধারী একজন &#8216;সফল&#8217; মানুষ ও এই সুশীল সমাজেরই অংশ, কই কিছুই তো করতে পারলাম না, পারছিনা এবং পারার স্বপ্ন ক্রমশ  হারিয়ে ফেলছি। কি লাভ হলো এত শিক্ষা নিয়ে? নিজের নিরাপত্তার কথা দূরে থাক, এদেশে আমার মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী ও ভবিষ্যত সন্তানাদিকে কিভাবে হয়রানি, ধর্ষন ও খুন না হওয়ার নিশ্চয়তা দিব, দয়া করে বলবেন কি? আমার বিপদে আমি এবং আমার পরিবারের পাশে তো কেউ থাকেনা, রাস্তায় একা বের হতেও বুকে ইভটিজিং, ছিনতাই, মানহানির ভয় নিয়ে বের হতে হয়। কিসের জন্য আমি এদেশে থাকব? কারও আশার বানীর প্রতি আমার আজকাল আর আস্থা হয়্না, কাউকে বিশ্বাস করতে পারিনা, বড়ই হতাশ লাগে।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/trimita/9131/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>87</slash:comments> </item> <item><title>ম.গ.ক.ক. অধ্যায়ঃ বয়েজ ক্যাডেটদের মাঝে আমার কুখ্যাতি</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/trimita/8673</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/trimita/8673#comments</comments> <pubDate>Wed, 29 Apr 2009 03:39:56 +0000</pubDate> <dc:creator>ত্রিমিতা (৯৬-০০)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=8673</guid> <description><![CDATA[আমার ডায়েরীর একটা মূল  বিষয় ছিল ‘&#8217;বয়েজ ক্যাডেটস’&#8217;। আমাদের সেইসময়কার মতে, বয়েজ ক্যাডেটরা অনভিজ্ঞতার কারনে মেয়েদের সাথে কথা বলার কৌশলে একদম  কাঁচা ছিল। বেশির ভাগ ক্যাডেটরা ছিল নাক-উঁচা, লাজুক অথবা চরম নার্ড টাইপের (মেয়েরাসহ)। বিপরীত লিংগের সাথে পূর্বে অতি সীমিত মিলামিশার অভিজ্ঞতার কারনে ক্লাস নাইন-টেনে আমাদের ব্যাচের বয়েজ এবং গার্লস ক্যাডেটদের মাঝে অনেক [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>আমার ডায়েরীর একটা মূল  বিষয় ছিল ‘&#8217;বয়েজ ক্যাডেটস’&#8217;। আমাদের সেইসময়কার মতে, বয়েজ ক্যাডেটরা অনভিজ্ঞতার কারনে মেয়েদের সাথে কথা বলার কৌশলে একদম  কাঁচা ছিল। বেশির ভাগ ক্যাডেটরা ছিল নাক-উঁচা, লাজুক অথবা চরম নার্ড টাইপের (মেয়েরাসহ)। বিপরীত লিংগের সাথে পূর্বে অতি সীমিত মিলামিশার অভিজ্ঞতার কারনে ক্লাস নাইন-টেনে আমাদের ব্যাচের বয়েজ এবং গার্লস ক্যাডেটদের মাঝে অনেক ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল।</p><p>আমাদের ব্যাচের বয়েজ ক্যাডেটদের সঙ্গে আমাদের (ম.গ.ক.ক.  ১৮তম  ইনটেক) প্রথম পরিচয় হয় MABS কোচিং সেন্টারে। অবশ্যই MGCC মেয়েদের একমাত্র ক্যাডেট কলেজ হওয়াতে আমাদের বেইল বয়েজ ক্যাডেটদের কাছে যত না হওয়া উচিত তার চাইতে একটু বেশি ছিল। বয়েজ ক্যাডেটরাও আমরা ক্যাডেট হওয়াতে আমাদের সাথে অনেক কলেজের গল্প share করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করত। (আসলে অন্য মেয়েরা ওদের জোকসগুলো কম বুঝত। :D) মেয়েরা কি পানিশমেন্ট খায়, গেমস পিরিওডে কি পরে ইত্যাদি নিয়ে তাদের কৌতুহলের সীমা ছিলনা। আমাদেরও অনেক কৌতুহল ছিল কিন্তু ওদের ১০টা ক্যাডেট কলেজ হওয়াতে ওদের সবাইকে চিনা মুশকিল হয়ে যেত।</p><p>ডায়েরীর কিছু excerpt তুলে দিচ্ছি।</p><p><strong>২৬শে অক্টোবর ১৯৯৮</strong></p><p><em>&#8221; MABS এ কোচিং করলাম। অতি ভাল একটা কোচিং সেন্টার, তুলনা হয়না। অনেক বয়েজ ক্যাডেটদের সাথে পরিচিত হলাম।<br /> M.C.C. – আলম/রুশো, মোস্তফা/সুমিত, মাশরুর, আল-রাজী<br /> J.C.C. – ফারাবী, আন্দালীব, হাসনাইন, তাজ<br /> F.C.C.- তাশফিক<br /> বাকি নামগুলো মনে আসছেনা।” &#8220;</em></p><p><strong> ১লা ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯</strong></p><p><i>“&#8221;এবারের ছুটিতেও MABS এ কোচিং করলাম। কোচিং এ অনেক গোলমাল হত কারন মডেল টেস্টের জন্য টিচারের ঘাটতি ছিল। তাই আমরা ২৯জন একসাথে ক্লাস করেছি। এবার অনেক নতুন ছেলে ছিল। ওরা এসে গতবারের সুন্দর friendship-টার ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় idiot ছিল শিশির। একবার আমারা দেখি আমাদের পিছনদিকের ডেস্কে লিখা – Pushon I love you. এইসব ফালতুমি দেখে খুব খারাপ লাগল।<br /> ওদের মধ্যে আমার সবচেয়ে ভাল এবং matured মনে হয়েছে মোস্তফাকে (MCC)।ওর attitudeও খুব friendly, তাই আমরা ঠিক করলাম যে ওকে অ্যাপ্রোচ করব। আমি ওকে আমাদের পক্ষ থেকে ফোন করে বুঝালাম যে ওরা এইসব করলে আমাদের মাঝের friendly relation টা নষ্ট হয়ে যাবে। তার পরের দিন ওরা সবাই মিলে পুষনকে একসাথে সরি বলেছে। আমরা যে কি খুশি হয়েছিলাম!<br /> কোচিং এর লাস্ট দিনে ইফতার পার্টিতে অনেক হৈ চৈ হল। আমি ছেলেদের থেকে ৭ টা কমলা আর ৩ টা আপেল পেয়েছিলাম!&#8221;” </i></p><p>(শিশির যেখানেই থাক এই লিখা পড়ে আমারে গালি দিওনা। মাফ করে দিও। আশা করি ভাল আছ।)</p><p>এই ঘটনার পর আমি মোটামোটি বয়েজ ক্যাডেটদের মাঝে কুখ্যাতি লাভ করি। হিরো হয়ে ফোন করতে গিয়ে সব দোষ পড়ল আমার ঘাড়ে। আমার ক্লাসমেটরাও পরে ওদের প্রেমে পড়ে ওদের দলে ভিড়ল, আর মধ্যে দিয়ে আমি সবার villain হয়ে গেলাম।<br /> আমরা যে কত বোকা ছিলাম চিন্তা করলেই হাসি পায়। সামান্য I love you লিখা নিয়ে আমরাও কত ড্রামা করলাম আর ওরাও কত পলিটিক্স করে ‘একসাথে’ সরি বলল! (আমরা তো জানতামই শিশির পুষনকে পছন্দ করত আর ওইটা ও ছাড়া আর কেউই লিখে নাই। শিশিরকে একটা চুম্মা দিলেই ত চুকে যেত। <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/4.gif' alt=':D' class='wp-smiley' /> )</p><p>আরেকটা ঘটনাও আমার কুখ্যাতির পিছনে অবদান রেখেছে। চাকমা সমাজে পরিবার পরিজনেরা সাধারনত চাকমা মেয়েদের সাথে বাঙ্গালি ছেলেদের মেলামিশা পছন্দ করেনা। আমরা ঈদও তেমনভাবে উদযাপন করিনা। একবার ঈদে শিশির, আল-রাজী, রুশো আর ইমরান হঠাত আমাদের বাসায় উপস্থিত। চারজন আবার চারটা গোলাপ ফুলও আনসে। ওরা নাস্তা-পানি খেয়ে আমার বাস্কেট বলের বেস্ট প্লেয়াশিপের ক্রেস্টা ড্রইং রুমে আবিষ্কার করে খুব মজা পাইসিল। আমি মাত্র (!!) ৯টা score করে ওটা পাইসি শুনে ওরা হাসতে হাসতে লুটপুটি দিল। ওরা আসাতে বেশ মজাই হইসিল। কিন্তু ওরা চলে যাওয়ার পর আব্বু-আম্মু আমাকে অনেক জেরা করসিলো আর ওয়ার্নিং দিসিল! আর তার পরের দিনই আবার হাসনাইন একটা friendship কার্ড নিয়ে হাজির! (হাসু তোকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আর ওইজন্যই তুই এখনও আমার জিগরি দোস্ত।)</p><p>বয়েজদের জন্য মা-বাবার কাছে প্যাদানি খাওয়ার কথা আমি আমার ক্লাসমেটদের বলি। কোচিং এর সুত্র ধরে অনেকে তখন প্রেম-প্রেম খেলতেসিল, আমার মতে ব্যাপারটা অনেক silly অবস্থায় পরিণত হইসিলো। (আমি আবার তখন &#8216;প্রকৃত&#8217; ভালবাসায় বিশ্বাসী ছিলাম এবং ওদের প্রেমের ধরনটা সাপোর্ট করতে পারতাম না। Maybe I was wrong.) যাইহোক, আমার ক্লাস-মেটগুলোই সুন্দরমত আমার কথাগুলো তাদের ক্যাডেট প্রেমিকদের কাছে পাস করে দেয়। (একে বলে মেয়েদের পলিটিক্স।) তিল তাল হয়। বয়েজ ক্যাডেটদের তাদের ধারনা হয় আমি তাদের অপছন্দ করি এবং আমার কুখ্যাতির আরো বিস্তার ঘটে। তখন আমার নাক-উঁচা আর নার্ড স্বভাবের কারনে আমিও ব্যাপারটাকে বেশি গুরুত্ব দেইনি, পরে বয়েজ ক্যাডেটদের কাছ থেকেই এইসব জানতে পারি।</p><p>আমরাও ধিরে ধিরে বড় হয়ে উঠি আর আমাদের সবার মাঝে আরও  matured সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমরা অনেকেই কলেজ থেকে বেরিয়ে ক্যাডেট বন্ধুদের প্রেমেই পড়ি। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সেই দলে ironically আমিও ছিলাম!</p><p>ডায়েরীর একটা হাস্যকর অংশ share না করে পারছিনা:</p><p><strong> ১লা ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯</strong></p><p><i>“&#8221;…ছেলেরা আসলে বন্ধুত্বই করতে জানেনা। এইযে এতগুলা ছেলেদের সাথে কোচিং করলাম সবচেয়ে পছন্দ আমার আন্দালিবকে। কারন সে মেয়েদের পিছনে ঘুরেনা, অনেক ভদ্র আর ঠিকমত পড়াশুনা করে। আর অনেকের সাথে তো ভালমত কথাই হয়নি, নামও জানিনা। ও আচ্ছা লিখতে ভুলে গিয়েছিলাম, আলম না দেখতে একদম আর্নল্ড সোয়ার্জেনেগারের মত!”&#8221;</i><br /> (আন্দালিব sorry মিয়া, এইটা পড়ে আমি এখনও জোরে জোরে হাসতেসি!)</p><p><strong> ১৩ ই ডিসেম্বর ১৯৯৯</strong></p><p><i>&#8220;“এই টার্মে একটা মজার ব্যাপার ঘটেছে। আমারদের MABS এর কোচিং-মেট রুশো হঠাত করে শাখরুনাকে চিঠি লিখে ফেলল ‘রুশি আপু’ হিসেবে।আর কি মজা ক্লাসরুমে! আমরাও ওদের চিঠি লিখে ফেললাম। কল্পনাও করিনি এত তাড়াতাড়ি উত্তর পাব। মোস্তফার ডাকনাম সুমিত, তাই সে নাম দিয়েছে সুমি আপু আর আলম ওরফে রুশো দিয়েছে রুশি!”&#8221;</i></p><p>MCC-র আলম aka রুশোর কথা মনে পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। রুশো আমারদের প্রাণের কাছের বন্ধুতে, আর আমাদের সবচেয়ে আদুরে ক্লাস-মেটটার soulmate-এ পরিণত হয়েছিল। কতগুলা লোভী গুন্ডা-সন্ত্রাসী একদিন কিছু টাকার জন্য ওর মাথায় গুলি করল আর আমাদের প্রানপ্রিয় রুশো এ পৃথিবীর বুক থেকে হঠাত চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল &#8211; আমাদের সবচেয়ে আলহাদি ক্লাসমেট-টার আত্মাটাকে বিধবা করে দিয়ে। আমাদের আদরের শাকু আর স্বাভাবিক হতে পারেনি, আজও সে রুশোর জন্য রোজ দোয়া করে আর ঈদের দিন কবরে ফুল দিতে যায়।</p><p>Once a cadet, always a cadet. ক্যাডেট কলেজ যতই অপছন্দ করিনা কেন, আর ক্যাডেটদের যতই পঁচাইনা কেন, আসল ঘটনা হচ্ছে – ক্যাডেট জীবনের কিছু ব্যাপার আমাদের রক্তের সাথে মিশে গেছে আর সেই ব্যাপারগুলো শুধু ক্যাডেটরাই বুঝে। সেইজন্যই মনে হয় বয়েজ ক্যাডেটদের সাথে এত কাহিনী করেও শেষমেষ আমি একটা বয়েজ ক্যাডেটকেই জীবনসাথী হিসেবে বেছে নিলাম, তাও আবার নাক উঁচা একটা ফৌজিয়ানকে!</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/trimita/8673/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>114</slash:comments> </item> <item><title>আমি লিখতে পারিনা।</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/trimita/8561</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/trimita/8561#comments</comments> <pubDate>Tue, 28 Apr 2009 10:40:32 +0000</pubDate> <dc:creator>ত্রিমিতা (৯৬-০০)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[ময়মনসিংহ]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=8561</guid> <description><![CDATA[মোট কথা আমি লিখতে পারিনা। বাংলা লিখার চর্চা সেই ক্লাস টেন এর পর আর হয় নাই। মজা করে লিখার প্রশ্নই আসেনা, কারন ফাইজলামো ছোটবেলা থেকেই একটু কম করি। সাহিত্যিক ব্লগার ভাই বোনেরা আমার লিখা ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন, আপনাদের ফাটাফাটি সুন্দর লিখাগুলো পড়ে আমি এতদিন কিছু লিখার সাহস করি নাই। আমাদের বাসায় জগাখিচুড়ি অবস্থা। বাসা বদলি হচ্ছে। [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p><em>মোট কথা আমি লিখতে পারিনা। বাংলা লিখার চর্চা সেই ক্লাস টেন এর পর আর হয় নাই। মজা করে লিখার প্রশ্নই আসেনা, কারন ফাইজলামো ছোটবেলা থেকেই একটু কম করি। সাহিত্যিক ব্লগার ভাই বোনেরা আমার লিখা ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন, আপনাদের ফাটাফাটি সুন্দর লিখাগুলো পড়ে আমি এতদিন কিছু লিখার সাহস করি নাই।</em></p><p>আমাদের বাসায় জগাখিচুড়ি অবস্থা। বাসা বদলি হচ্ছে। আমার আম্মু খুব গোছালো টাইপের মানুষ, সে গত প্রায় তিন যুগ ধরে তাঁর তিন মেয়ের জমানো আবর্জনা স্বযত্নে গুছায়ে রাখসে। গতকালকে সেই বাক্সগুলো আমার রুমে জড় করা হইসে যেন আমি কিছু অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা clear করি। সেই বাক্স ঘেটে অনেক বছর পর খুঁজে পেলাম আমার ক্যাডেট কলেজের পুরানো ডায়রি ।</p><p>ক্লাস সেভেন থেকেই আমি ক্যাডেট কলেজ দেখতে পারিনা। আমাকে বাসা থেকে অনেক ট্রিক্স করে পাঠানো হইসিলো। আমাকে বলা হইসিলো যে ক্যাডেটে চান্স পেয়ে দেখায়ে দিতে যে আমি মেধাবী, আর সেই ফাঁদে আমি বোকামি করে পা দিসিলাম। পুরা ক্লাস সেভেন-এইটে আমি আমার মা-বাবাকে রাজি করার চেষ্টা করসি আমাকে বাইরে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু সফল হই নাই। পরে ক্লাস নাইনের দিকে তারা নিজেরাই রাজি হইলেও আত্মসম্মান রক্ষার্থে শেষ পর্যন্ত আমি থেকে যাই এবং বেশ ভালভাবে মানিয়ে নিই। (ক্লাস ইলেভেনের 1st টার্মের পরে (২০০০ সাল) অবশ্য চলে যাই, কিন্তু সেটা অন্য কাহিনী।)</p><p>রাত জেগে ডায়রি পড়ে আমি আবিষ্কার করলাম সেই কিশোরী নিজেকে। ক্লাস এইট থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত time travel  করার মত ব্যাপার। নিজে কত অন্যরকম ছিলাম, আর কতযে বদলে গেছি, আর কত সুখ-দুঃখের ঘটনা যে স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে, তা এই ডায়রি না পড়লে মনে হয় খেয়ালেই আসতনা। তাই ঠিক করলাম ডায়রির কিছু কিছু ঘটনা ব্লগে লিখে রাখব। কারন ডায়রি যত সহজে হারিয়ে যাবে,  সিসিবি মনে হয় তত সহজে হারাবে না।</p><p>(চলবে)</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/trimita/8561/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>74</slash:comments> </item> </channel> </rss>
<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Minified using disk
Page Caching using disk (enhanced)
Object Caching 423/440 objects using disk
Content Delivery Network via static.cadetcollegeblog.com

Served from: www.cadetcollegeblog.com @ 2010-09-09 20:23:18 -->