<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?> <rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/" xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/" ><channel><title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ &#187; আশিক (১৯৯৬-২০০২)</title> <atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/author/asheq/feed" rel="self" type="application/rss+xml" /><link>http://www.cadetcollegeblog.com</link> <description></description> <lastBuildDate>Thu, 09 Sep 2010 18:11:44 +0000</lastBuildDate> <language>en</language> <sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod> <sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency> <item><title>ছবি ব্লগঃ প্রবাসে, পথে-২</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/9029</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/9029#comments</comments> <pubDate>Mon, 04 May 2009 01:09:04 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <category><![CDATA[ছবি ব্লগ]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=9029</guid> <description><![CDATA[এর আগেঃ ছবি ব্লগঃ প্রবাসে, পথে-১ এই ছবিটা তোলা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে না। বাথ শহরে নামার পর পরই নতুন ক্যামেরায় এক্সপোজার, এপারচার সেটিং এইসব হাবিজাবি নিয়ে খেলাধুলা করতে গিয়ে রাস্তার দিকে তাক করে খামাখাই ছবি তুলছিলাম আর এলসিডি স্ক্রিনে দেখছিলাম কতটুকু অন্ধকার আসে ছবি&#8230;বা, আলো ঠিকমতন আসছে কিনা&#8230;। পরে ফিরে আসার পরে রুমে ল্যাপটপে ছবি নেয়ার [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>এর আগেঃ <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Bath_england">ছবি ব্লগঃ প্রবাসে, পথে-১</a></p><p><div id="attachment_9041" class="wp-caption aligncenter" style="width: 267px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0648_picnik1.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0648_picnik1-257x300.jpg" alt="লাল পথচারী" title="লাল পথচারী" width="257" height="300" class="size-medium wp-image-9041" /></a><p class="wp-caption-text">লাল পথচারী</p></div><br /> এই ছবিটা তোলা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে না। বাথ শহরে নামার পর পরই নতুন ক্যামেরায় এক্সপোজার, এপারচার সেটিং এইসব হাবিজাবি নিয়ে খেলাধুলা করতে গিয়ে রাস্তার দিকে তাক করে খামাখাই ছবি তুলছিলাম আর এলসিডি স্ক্রিনে দেখছিলাম কতটুকু অন্ধকার আসে ছবি&#8230;বা, আলো ঠিকমতন আসছে কিনা&#8230;। পরে ফিরে আসার পরে রুমে ল্যাপটপে ছবি নেয়ার সময় এই ছবিটা বের হয়ে গেল। এটার এডিটিং শিহাবের করা, এটা দিয়েই আমাকে দেখায় কিভাবে কি করা যায় ছবি নিয়ে। আমি শুধু পরে ফ্রেমটা পোলারয়েডে দিয়ে দেই। ছবির ইনি রাস্তা পার হচ্ছিলেন। হাতে সিগারেট, কাঁধে ব্যাগ, গায়ে উজ্জ্বল লাল কোট। রাস্তা পার হওয়ার মুহূর্তে একটু থেমে দেখে নিলেন সামনে দিয়ে গাড়ি আসছে নাকি কোন। তারপর আবার হাঁটা শুরু করার মুহূর্তে অফচান্সে উঠে গেল ছবিটা।</p><p><div id="attachment_9044" class="wp-caption aligncenter" style="width: 216px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0662_picnik1.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0662_picnik1-206x300.jpg" alt="জীবিকার জন্য গান" title="জীবিকার জন্য গান" width="206" height="300" class="size-medium wp-image-9044" /></a><p class="wp-caption-text">জীবিকার জন্য গান</p></div><br /> বাথ Abbey এর ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে গান গাচ্ছিলেন ইনি। আসা যাওয়ার পথে কারো ইচ্ছে হলে সামনে রাখা বেহালায় দুচার পয়সা করে দিয়ে যাচ্ছিল। Abbey এর লম্বা বিল্ডিং এর সামনে প্রাণপনে গান গেয়ে অর্থ উপার্জনের মুহূর্তের চমৎকার একটা ছবি হয়ে গেল।</p><p><div id="attachment_9046" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0733_picnik21.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0733_picnik21-300x203.jpg" alt="সেন্ট্রাল ফোকাস" title="সেন্ট্রাল ফোকাস" width="300" height="203" class="size-medium wp-image-9046" /></a><p class="wp-caption-text">সেন্ট্রাল ফোকাস</p></div><br /> ব্যস্ত শহরে হেঁটে চলছে সবাই। শুধু এনামুল ভাই দাঁড়িয়ে, ক্যামেরা হাতে, একটা মনমত ছবি নেয়ার অপেক্ষায়। ছবিতে দেয়া ইফেক্টের নাম সেন্ট্রাল ফোকাস না হলেও ছবিটা দেখলেই কেন যেন সেন্ট্রাল ফোকাস কথাটা মাথায় চলে আসে!</p><p><div id="attachment_9047" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0806_picnik31.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0806_picnik31-300x223.jpg" alt="স্মাইল অভ ইনোসেন্স" title="স্মাইল অভ ইনোসেন্স" width="300" height="223" class="size-medium wp-image-9047" /></a><p class="wp-caption-text">স্মাইল অভ ইনোসেন্স</p></div><br /> আগেও দেখেছিলাম, সেদিনও দেখলাম&#8230;এই খেলা গুলো দেখানোর সময় সবসময় ভীড় থেকে একটা পিচ্চিকে বেছে নেয় পার্টিসিপেট করার জন্যে। এই পিচ্চিটা সাহস করে এগিয়ে গিয়েছিল। তাকে কাঁধে চাপিয়েই অনায়াসে একচাকার সাইকেলে উঠে গেল খেলোয়াড়! সাথে সাথে শুরু হয়ে গেল পিচ্চির তাড়স্বরে চিৎকার। একপাক ঘুরে এসে তাকে নামিয়ে দেয়ার পরে অবশেষে স্বস্তি। এইছবিটা তোলা কাঁধে তুলে নেবার ঠিক পরমুহূর্তে। অসম্ভব মিষ্টি করে হাসি দেয়া মেয়েটা তখনো জানে না এক মিনিট পরেই ওকে কাঁধে নিয়েই একচাকার সাইকেলে উঠে যাবে হতভাগা&#8230;&#8230;</p><p>ছবিগুলো ফেসবুকে ছিল। প্রায় কাছাকাছি সময়েই ব্লগটাও লেখা শুরু করি। কিন্তু অর্ধেক লেখার পরে অসমাপ্ত হয়ে পড়ে ছিল বহুদিন। আজকে বসে শেষ করে ফেললাম। এই কয়টাই আপাতত। আবার হয়তো পরে কোন এক সময় নতুন কোন ছবি নিয়ে উদয় হয়ে যাব। শুধু আপসোস, দেশে থাকার সময় গ্রামীনে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হয়ে থাকার সময় চাকরির প্রথম বছরে নেটওয়ার্ক বেঞ্চমার্কিং এর টুল নিয়ে যখন চট্টগ্রাম আর সিলেট বিভাগের প্রতিটা জেলায় ঘুরে বেড়িয়েছি, তখন আমার এই ক্যামেরাটা ছিল না।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/9029/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>32</slash:comments> </item> <item><title>ছবি ব্লগঃ প্রবাসে, পথে-১</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/5328</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/5328#comments</comments> <pubDate>Mon, 04 May 2009 01:01:38 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <category><![CDATA[ছবি ব্লগ]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=5328</guid> <description><![CDATA[গেছিলাম ইংল্যান্ডের ভেতরেই বাথ শহরে। তাও বেশ আগে। তিন মাস হতে চলেছে প্রায়। ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে। ইউনিভার্সিটি থেকে মাঝে মাঝেই এদিক সেদিক ট্রিপে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে, যদিও শুধু নিয়ে যাওয়া আর ফেরত নিয়ে আসা পর্যন্তই তাদের মাথা ব্যাথা, তবু নিজের গাটের পয়সা খরচ করে যাওয়ার চাইতে ভার্সিটি বাসে গেলে যাওয়া আসার খরচটা ধাই করে অর্ধেকে [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>গেছিলাম ইংল্যান্ডের ভেতরেই <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Bath_england">বাথ</a> শহরে। তাও বেশ আগে। তিন মাস হতে চলেছে প্রায়। ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে। ইউনিভার্সিটি থেকে মাঝে মাঝেই এদিক সেদিক ট্রিপে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে, যদিও শুধু নিয়ে যাওয়া আর ফেরত নিয়ে আসা পর্যন্তই তাদের মাথা ব্যাথা, তবু নিজের গাটের পয়সা খরচ করে যাওয়ার চাইতে ভার্সিটি বাসে গেলে যাওয়া আসার খরচটা ধাই করে অর্ধেকে নেমে আসে। তাই এমন মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করাটা নেহায়েতই বোকামি। দিনটা যদিও ভ্যালেনটাইন্স ডে ছিল, তবু ভ্যালেন্টাইন না থাকার কারণে আমাদের মতন গুটি কতক পোলাপানের অচেনা অজানা নতুন এক শহরের এমাথা থেকে ওমাথা টো টো করে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া তেমন কিছু করার ছিল না।</p><p>আগে সনি সাইবার শট ডিএসসি এইচ সেভেন ইউজ করতাম। ১৫এক্স এর অলমোস্ট মন্সটার জুমের কারণে ক্যামেরাটার উপর খুব মায়া জন্মে গেছিল। কিন্তু ছবির ডিটেইল অতটা ভাল আসতো না বলে মাস চারেক আগে শখ করে একটা ডিএসএলআর কিনে ফেলি দ্যুম করে। কিন্তু কেনার পরে দেখলাম হা করে বসে থাকা ছাড়া উপায় নাই, কারণ এত অপশন, আর সেগুলির কোনটা ব্যবহার করলে কিরকম ছবি উঠবে কিছুই জানি না। ফটোশপের মতন হাই-প্রোফাইল ইমেজ এডিটরে ক্যাম্নে নরমাল ছবিকেও পাঙ্খা ছবি বানান যায় জানি না, গুতানোর মতন সময়ও পাই না। অগত্যা আমাদের উল্ভারহ্যাম্পটনেই বাংলাদেশি, সমবয়সী, শখের ফটোগ্রাফার শিহাবের শরণাপন্ন হলাম একদিন। অল্প সময় নিয়ে picnik.com এ কিভাবে টুকটাক পোস্টএডিট করতে হয় দেখায়ে দিল।</p><p>এই ব্লগটা বাথ নিয়ে না। বাথ নিয়ে সময় পেলে পরে একটা ব্লগ লিখব (সম্ভাবনা যদিও খুবই ক্ষীণ)। বরঞ্চ এই ব্লগটা একটা ছবি ব্লগ। বিদেশের রাস্তায় রাস্তায় ঘোরার সময় তোলা টুকটাক ছবি&#8230;&#8230;মানুষের, এক্সপ্রেশনের।</p><p><div id="attachment_9049" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0659_picnik.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0659_picnik-300x204.jpg" alt="ফ্লেম জাগলার" title="ফ্লেম জাগলার" width="300" height="204" class="size-medium wp-image-9049" /></a><p class="wp-caption-text">ফ্লেম জাগলার</p></div><br /> ইনি রোমান বাথের এন্ট্র্যান্সের ঠিক সামনে একচাকার সাইকেলের উপর দাঁড়িয়ে আগুন ছুড়ে ছুড়ে খেলা দেখাচ্ছিলেন। সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এক এক গ্রুপ আসে, চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে খেলা দেখে, শেষ হলে কেউ কেউ সামনে পেতে দেয়া টুপিটার মধ্যে টুকটাক কয়েন ফেলে। হয়ত মিনিট পাঁচেকের ছোট্ট বিরতি, তারপর আবার একদম প্রথম থেকে শুরু। এই ব্যাপারটা মনেহয় যেইসব শহরে টুরিস্ট যায় সেরকম প্রায় সব শহরেই খুব কমন। শেক্সপিয়ারের জন্ম যেই শহরে স্র্যাটফোর্ড আপন আভন, সেখানে যখন গেছিলাম তখনো এরকম একজনকে এরকম খেলা দেখাতে দেখছিলাম, একই রকম লাল রঙের জামা পরা। এদের প্রেজেন্টেশনটা খুব মজার হয়&#8230;&#8230;প্রচুর হিউমার মেশানো থাকে। দর্শকদের হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ফিজিক্যাল স্পোর্ট বলে এদের কষ্টও হয় অনেক&#8230;&#8230;শীতের মধ্যে ঘেমে টেমে জামাটামা ভিজে একাকার! তবু, দর্শকদের মধ্যে অনেকেই ঘন্টা খানেকের এন্টারটেইনমেন্টের পরে টাকা দেবার পালা আসলে সুন্দর মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে হাঁটা দেয়!</p><p><div id="attachment_9050" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0666_picnik.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0666_picnik-300x204.jpg" alt="যুদ্ধ যদি উত্তর হয়ে থাকে, প্রশ্নটা নিশ্চয়ই খুব ফালতু ছিল" title="যুদ্ধ যদি উত্তর হয়ে থাকে, প্রশ্নটা নিশ্চয়ই খুব ফালতু ছিল" width="300" height="204" class="size-medium wp-image-9050" /></a><p class="wp-caption-text">যুদ্ধ যদি উত্তর হয়ে থাকে, প্রশ্নটা নিশ্চয়ই খুব ফালতু ছিল</p></div><br /> রোমান বাথ থেকে বের হয়েই দেখি বাথ Abbey এর সামনে দাঁড়িয়ে ওনারা গাজায় ইজরায়েলি হামলার বিপক্ষে  নীরব প্রতিবাদ জানাচ্ছে কতগুলো কাগজে লিখে আনা পোস্টার হাতে নিয়ে। একজনের পোস্টারে লেখা ছিল &#8211; If war is the answer, it must be a very stupid question.</p><p><div id="attachment_9052" class="wp-caption aligncenter" style="width: 268px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0672_picnik2.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0672_picnik2-258x300.jpg" alt="সাডেন প্লে-মেট" title="সাডেন প্লে-মেট" width="258" height="300" class="size-medium wp-image-9052" /></a><p class="wp-caption-text">সাডেন প্লে-মেট</p></div><br /> এই ছবিটা আমার খুব ফেভারিট ছবিগুলির একটা। কেউ কাউকে চেনে না, হঠাৎ করে কোথা থেকে দুই পিচ্চি এক জায়গায় হয়ে গেল আর লাফালাফি শুরু করে দিল!</p><p><div id="attachment_9053" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0724_picnik.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0724_picnik-300x179.jpg" alt="গল্পকথক" title="গল্পকথক" width="300" height="179" class="size-medium wp-image-9053" /></a><p class="wp-caption-text">গল্পকথক</p></div><br /> ইনি আসলে একজন টুরিস্ট গাইড। প্রতিঘন্টায় একটা একটা গ্রুপ নিয়ে রোমান বাথের ভিতর প্রতেকটা জায়গায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখায়। ভয়ংকর বোরিং একটা কাজ হওয়ার কথা। অডিয়েন্স ধরে রাখা খুব কঠিন, প্লাস সারাক্ষণ চাপার উপর চলতে হয়। এই বোরিং কাজটাই ইনারা অনেক অনেক ইতিহাসের গল্পের সাথে মিশায়ে মিশায়ে বলে। কোন কোন গল্প খুব মজার হয়, কোন কোনটা বলতে বলতে আবার চোখে মুখে এক্সাইটমেন্ট ফুটে উঠে খুব স্পষ্ট ভাবে! সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে শোনে ।</p><p><div id="attachment_9054" class="wp-caption aligncenter" style="width: 268px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0812_picnik2.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0812_picnik2-258x300.jpg" alt="সামথিং ফানি" title="সামথিং ফানি" width="258" height="300" class="size-medium wp-image-9054" /></a><p class="wp-caption-text">সামথিং ফানি</p></div><br /> আগুন নিয়ে সাইকেলে চড়ে খেলা দেখাচ্ছিল যেখানে, সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের ভিতর থেকে একটা মুহূর্তে কেটে নেয়া এই ছবিটা। খুব মজার কোন কিছু একটা শুনে সবাই হেসে দিল, এই ভদ্রলোকের হাসিটা হলো একদম প্রাণখোলা&#8230;&#8230;উঠে গেল ক্যামেরায়&#8230;</p><p><div id="attachment_9055" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0756_picnik1.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2009/05/_mg_0756_picnik1-300x187.jpg" alt="টুরিস্ট" title="টুরিস্ট" width="300" height="187" class="size-medium wp-image-9055" /></a><p class="wp-caption-text">টুরিস্ট</p></div><br /> এই টুরিস্ট অবশ্য অচেনা কোন টুরিস্ট না। উনি এনামুল ভাই। আমার পুরানো সনি সাইবার শট ডিএসসিএইচ সেভেন ক্যামেরাটা সেদিন দিয়ে দিয়েছিলাম উনার হাতে। হাতে নিয়ে কিসের ছবি তোলা যায় ভাবছিলেন বোধহয়। ঠিক সেইসময় পাশ দিয়ে গেল একটা শহর ঘুরে দেখানোর লাল রঙের সিটি সাইট সিয়িং বাস। আর এই সুযোগে ছবি উঠে গেল আমার ক্যামেরায়&#8230;&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/5328/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>14</slash:comments> </item> <item><title>মেঃ জেঃ শাকিল আহমেদের সাক্ষাৎকার নাকি দেখিয়েছে চ্যানেল আই তে ২০ তারিখ?</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/4859</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/4859#comments</comments> <pubDate>Sun, 01 Mar 2009 16:35:20 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=4859</guid> <description><![CDATA[আমার বোনের সাথে কথা হলো অনেকক্ষণ। আমাকে বললো গত ২০ তারিখ নাকি চ্যানেল আই এ মেঃজেঃ শাকিল আহমেদের (বিডিআর এর ডিরেক্টর জেনারেল) সাথে সাক্ষাৎকার দেখিয়েছিল যেটা এখন আবার পুনঃপ্রচার করেছে আজকে, যেখানে নাকি উনি বলেছেন বিডিআরের উন্নতি চাইলে সৈনিকদের ভাল করতে হবে&#8230;&#8230;রেশন বাড়িয়ে দিতে হবে&#8230;&#8230;। এবং মজার ব্যাপার হলো, জওয়ানদের মেনে নিতে হবে এরকম অনেকগুলো [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>আমার বোনের সাথে কথা হলো অনেকক্ষণ। আমাকে বললো গত ২০ তারিখ নাকি চ্যানেল আই এ মেঃজেঃ শাকিল আহমেদের (বিডিআর এর ডিরেক্টর জেনারেল) সাথে সাক্ষাৎকার দেখিয়েছিল যেটা এখন আবার পুনঃপ্রচার করেছে আজকে, যেখানে নাকি উনি বলেছেন বিডিআরের উন্নতি চাইলে সৈনিকদের ভাল করতে হবে&#8230;&#8230;রেশন বাড়িয়ে দিতে হবে&#8230;&#8230;। এবং মজার ব্যাপার হলো, জওয়ানদের মেনে নিতে হবে এরকম অনেকগুলো দাবীর স্বপক্ষেই নাকি উনি মিডিয়াতে ঐ সাক্ষাৎকারে বলেছেন&#8230;&#8230;</p><p>আজকাল গুজবের সময়&#8230;&#8230;কোন কথা সহজে মেনে নেয়া যায় না&#8230;&#8230;কিন্তু আমার বোন বলেছে সে নিজে দেখেছে আজকে চ্যানেল আইতে&#8230;&#8230;আর আমার বোন আর্মির ক্যাপ্টেন&#8230;&#8230;</p><p>আর কেউ কি দেখেছে এটা? বা এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারেন? বা কোথাও থাকলে লিংক দিতে পারেন?</p><p>যারা দেশে আছেন, একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন? দেখিয়ে থাকলে কেউ না কেউ নিশ্চয়ই দেখেছে&#8230;&#8230;বা এমনকি চ্যানেল আইতে ফোন করে সত্যতা যাচাই করা যায়?</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/4859/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>19</slash:comments> </item> <item><title>মেজর শাহনেওয়াজ স্মরণে……</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/4732</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/4732#comments</comments> <pubDate>Sat, 28 Feb 2009 12:00:54 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category> <category><![CDATA[রংপুর]]></category> <category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=4732</guid> <description><![CDATA[মেজর শাহনেওয়াজ স্মরণে…… উনি রংপুর ক্যাডেট কলেজের ফার্স্ট ব্যাচের ক্যাডেট। আমার ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার অনেক প্রেরণার মাঝে একজন। উনার ডাক নাম ছিল পিকো। ছোটবেলা থেকে সবসময় উনাকে পিকো ভাইয়া বলে ডাকতাম। অনেক বড় হওয়ার পরেও পিকো ভাইয়া বলেই নাম জানতাম, শাহনেওয়াজ নামটা মনে আসত না কখনো। পিকো ভাইয়া আর্মির সিনিয়র মেজরদের ভেতর একজন। রিটায়ারমেন্টের খুব বেশি [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>মেজর শাহনেওয়াজ স্মরণে……</p><p>উনি রংপুর ক্যাডেট কলেজের ফার্স্ট ব্যাচের ক্যাডেট। আমার ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার অনেক প্রেরণার মাঝে একজন। উনার ডাক নাম ছিল পিকো। ছোটবেলা থেকে সবসময় উনাকে পিকো ভাইয়া বলে ডাকতাম। অনেক বড় হওয়ার পরেও পিকো ভাইয়া বলেই নাম জানতাম, শাহনেওয়াজ নামটা মনে আসত না কখনো।</p><p>পিকো ভাইয়া আর্মির সিনিয়র মেজরদের ভেতর একজন। রিটায়ারমেন্টের খুব বেশি বাকি ছিল না, বড়জোড় ১ বা ২ বছর ছিল হয়ত। শেষ রক্ষাটুকু আর হল না।</p><p>যখন অনেক ছোট ছিলাম, উনাদের বাসায় যেতাম যখন, দেয়ালে ঝুলানো ছবিগুলো খুব দেখতাম। ক্যাডেট কলেজের ইউনিফর্ম পরা ছবি, আর্মির ইউনিফর্ম পরা ছবি……নিজের অজান্তেই কেমন যেন বুকটা গর্বে ভরে যেত। অনেক অনেকদিন আগে উনার তখন একটা মোটর সাইকেল ছিল। যখন বাসায় আসতেন, আমাদের ভাই বোন গুলিকে পেছনে নিয়ে মাঝে মাঝে কিছুদূর ঘুরিয়ে নিয়ে আসতেন, আমরা শৈশবের উত্তেজনায় লাফাতাম।</p><p>কোন ঘটনা ঘটলেই সেখানে ভারতের সংযুক্তি টেনে আনতেন। মতের সাথে মত মিলত না। পছন্দ না হলেও, মনে মনে চেপে যেতাম। নিজের মত ধারণা গুলোকে নিজের ভেতরেই রেখে মনে মনে হাসতাম; ভুলেও কখনো তর্ক তুলিনি, মনে হত তর্ক তুললে অসম্মান করা হবে।</p><p>খুব শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের ছোঁয়া ছিল উনার ভেতর, যারা কথা বলেছে তারা জানে। প্রচন্ড ভরাট গলা, যখনই কথা বলতেন অসম্ভব কর্তৃত্ব নিয়ে কথা বলতেন। ন্যাচারাল লীডার কথাটা বোধকরি উনাদের মত মানুষদের জন্যই জন্ম নেয়া। আমার বাবা মা কোন অনুষ্ঠান এরেঞ্জ করার দরকার পরলে অনেক সময়ই উনার কাছে গিয়েছে। উনাকে কোন দায়িত্ব দিলে আমরা সবাই চোখ বুজে নির্ভর করতে পারতাম। আর কিছু ভাবা লাগত না।</p><p>আমি ইংল্যান্ডে আসার আগের রাতেও ভাইয়া বাসায় এসেছিলেন আমাদের। আমাকে বসিয়ে একগাদা মানুষের ফোন নাম্বার লিখিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের, ফ্রান্সের……বিদেশ বিভুইয়ে যদি কোন বিপদে পড়ি………</p><p>ভাইয়ার ফ্যামিলি ক্যান্টনমেন্টে থাকে। একদম ছোট ছেলেটা ওহী, এবার ক্লাস ফাইভে উঠল। ভয়ংকর দস্যি আর ছটফটে। ক্লাস থ্রিতেই সে ইয়াহুতে একাউন্ট খুলে আমাকে মেসেঞ্জারে এড ট্যাড করে বসে আছে! মাথার চুল গুলো একদম খাড়া খাড়া। আমার বোনের বিয়েতে গেল সেই খাড়া চুলগুলো সব স্পাইক করে, আরো খাড়া করে। সে কি আমাদের হাসাহাসি! সেটা দেখে ও আবার লজ্জা পায়। সবাই বলে ভাইয়া নাকি ছোট বেলায় ঠিক এরকমই দুষ্টু ছিল। সেই ওহীর ২৫ তারিখ বিডিআরে থাকার কথা ছিল। ২৪ তারিখ ওর কি মনে হল, বাসা থেকে ক্লাসে যাবে পরদিন। রাতের বেলা ভাইয়া ওকে বিডিআর থেকে বাসায় পাঠিয়ে দেন।</p><p>মেয়ে ঐষী এইচএসসি দিয়েছে কিছু দিন আগে। ভাই রাব্বি ভাইয়া পাবনা ক্যাডেট কলেজের ’৯৮ এইচএসসি ব্যাচের, এনথ্রোপোলজিতে মাস্টার্স করার জন্যে কানাডায়। আমার সাথে প্রায় একই সময়ে দেশের বাইরে আসে। গতকয়টা দিন ফোন, মেসেঞ্জার, ইন্টারেনেটের সামনে বিহ্বল হয়ে বসে ছিল একটু খবরের আশায়……যদি লাশ পাওয়া যায়, যদি লুকিয়ে থাকা কোন গ্রুপের সাথে বেড়িয়ে আসেন ভাইয়া……আজ সকালের ফ্লাইটে রওনা হয়ে গেল ঢাকার দিকে। আরেক ভাই, রাজ ভাইয়া বিডিআরের গেটে গেটে ঘুরেছেন……যদি কিছু শোনা যায়……প্রতিটা লাশের খবরে গিয়ে গিয়ে দেখে এসেছেন উনার ভাইয়েরটা কিনা……কেউ কিছু জানে কিনা……। ভাবীর সাথে কোন কথা হয়নি……ফোন দেবার সাহসই হয় নি……। দেশ থেকে আমার বড় বোনের সাথে কথা হয়। বলে, ‘ভাই, ১৬৫ জন অফিসারের ভিতর ১০০ জনের উপরেই যদি মেরে ফেলে, পিকো ভাইয়া কি আর বেঁচে আছে!!’ বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে, আমি চুপ করে থাকি।</p><p>সেই ছোট্ট ওহী শুনলাম আজ সবচেয়ে শক্ত আছে। ঘটনার শুরু থেকেই নাকি ও মেনে নিয়েছে ওর আব্বু আর ফিরে নাও আসতে পারে। আর সবার সাথে বিডিআর গেটে গিয়ে অপেক্ষাও করেছে আশায় আশায়। এতটুকু একটা বাচ্চার ভেতরে খোদা কিভাবে এত শক্তি দিয়েছেন ভাবলে অবাক লাগে! আমার ভেতরেও একটু শক্তি দাও খোদা……আমার যে চোখ ভিজে যায় বারবার!! আমি যে আর লিখতে পারি না……</p><p>বোনের এসএমএস আসে ঢাকা থেকে। লাশ পাওয়া গেছে। আক্রোশ, ক্ষোভ, বিচার, দাবী দাওয়া, শাস্তি, ঘৃণা- কিছুই আর মাথায় থাকে না। শুধু একবুক অসহায় হাহাকার, গলায় আটকে থাকা একদলা কষ্ট, ভিজে যাওয়া চোখ আর ভেতরটাকে কুকড়ে কুকড়ে খাওয়া এক নিঃশব্দ চিৎকার ভেতরটাকে হু হু করে কাঁদায়……</p><p>সেই ভারী গলায় আর কখনো শোনা হবে না, ‘কি রে, খালু বাসায়?’</p><p>একুশের মত পঁচিশে ফেব্রুয়ারিটাও আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো থাকল………</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/4732/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>24</slash:comments> </item> <item><title>একটা ইয়াতো বড় কাহিনী&#8230;&#8230;</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/1659</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/1659#comments</comments> <pubDate>Mon, 29 Dec 2008 04:26:17 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=1659</guid> <description><![CDATA[আমি তখন ক্যাডেট কলেজে মাত্র আসছি ক্লাস সেভেনে, একদম প্রথম সপ্তাহর কথা। লাঞ্চের একটু পরে পরে কমন রুমের দিকে যাচ্ছিলাম। কে জানি ধোপার কাপড় নিয়ে আসতে বলছিল&#8230;&#8230;। হাউজলীডারের রুমটা ক্রস করে কমনরুমে ঢোকার আগেই তৎকালীন ২৮তম ব্যাচের ডাইনিং হল প্রিফেক্ট আমাদের হাউজের জুলফিকার ভাইয়ের একদম মুখোমুখি পরে গেলাম! উনার সাথে আগে কখনো কথা হয় নাই, [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>আমি তখন ক্যাডেট কলেজে মাত্র আসছি ক্লাস সেভেনে, একদম প্রথম সপ্তাহর কথা। লাঞ্চের একটু পরে পরে কমন রুমের দিকে যাচ্ছিলাম। কে জানি ধোপার কাপড় নিয়ে আসতে বলছিল&#8230;&#8230;। হাউজলীডারের রুমটা ক্রস করে কমনরুমে ঢোকার আগেই তৎকালীন ২৮তম ব্যাচের ডাইনিং হল প্রিফেক্ট আমাদের হাউজের জুলফিকার ভাইয়ের একদম মুখোমুখি পরে গেলাম! উনার সাথে আগে কখনো কথা হয় নাই, সাথে সাথে পাকড়াও করলেন আমাকে&#8230;&#8230;</p><p>নাম কী?<br /> &#8211; কাইন্ডলি আশিকুল।<br /> তোমার নাম &#8216;কাইন্ডলি আশিকুল&#8217;? (উনি এবং উনার দুই পাশের আরো দুই ক্লাসটুয়েল্ভের হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ&#8230;&#8230;)<br /> &#8211; কাইন্ডলি জ্বী না, শুধু আশিকুল&#8230;&#8230; (আমার ক্যাডেট নাম তখন আশিকুল&#8230;&#8230;)<br /> আমাকে চিন?<br /> &#8211;কাইন্ডলি জ্বী।<br /> আমি কে?<br /> &#8211;কাইন্ডলি ডাইনিং হল প্রিফেক্ট জুলফিকার ভাই কাইন্ডলি&#8230;&#8230;<br /> আমাকে দেখলে ভয় লাগে?</p><p>তাকাইলাম জুলফিকার ভাইয়ের দিকে। প্রায় ৬ফুট লম্বা দানবের মতন বিশাল! আর আমি তখন চারফুট আট দশ কিছু একটা হব&#8230;&#8230;ঘাড় আকাশমুখী করে কথা বলতে হয়&#8230;&#8230;ভয় না পাওয়ার কোন কারণ নাই&#8230;&#8230;তার উপরে আবার ক্লাস টুয়েল্ভ বলে কথা&#8230;&#8230;</p><p>&#8211;জ্বী লাগে।<br /> (জুলফিকার ভাইকে কিছুটা সন্তুষ্ট মনে হল)<br /> চাচা চৌধুরীর সাবুকে চিন?<br /> &#8211;জ্বী চিনি&#8230;<br /> আমাকে দেখলে সাবুর মতন মনে হয়?<br /> &#8211;জ্বী মনে হয়।<br /> (এই বেলা উনি আরো সন্তুষ্ট&#8230;&#8230;)</p><p>আশিকুল, তোমার ইয়া কত বড়?<br /> (বলা মাত্রই তিনি এবং তার পাশের বাকি দুই টুয়েলভ আবারো হাসতে হাসতে গড়াগড়ি&#8230;&#8230;)</p><p>বেদম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। প্রশ্নটাই বুঝি নাই! আমাকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায়ে থাকতে দেখে জুলফিকার ভাই বললেন, &#8216;দুই হাত মাথার উপরে তুল&#8230;&#8230;&#8217;। তুললাম। &#8216;দুই হাতের মধ্যে ফাঁকা কর&#8217;। করলাম&#8230;। &#8216;এইবার বল, আমার ইয়া এত বড়&#8217;।</p><p>কিছুই বুঝতেছিলাম না&#8230;&#8230;। দুই হাত মাথার উপরে তুলে ধরে আছি, বাম হাতের পাঁচ আংগুল ডান হাতের পাঁচ আঙ্গুলের দিকে মুখ করা&#8230;&#8230;কিছু একটা যে বড় সেইটা খালি বুঝা যাইতেছে&#8230;&#8230;</p><p>দুইহাত তুলে রেখেই বললাম, &#8216; কাইন্ডলি ইয়াতো বড়&#8217;<br /> আবার তারা হেসে উল্টায় পালটায় পড়ে টাইপ অবস্থা&#8230;&#8230;বলে, &#8216;হয় নাই, টেনে টেনে বল, ইয়ায়্যায়্যয়্যাতো বড়&#8217;। বললাম। এইবার তাদেরকে সন্তুষ্ট মনে হল। আমাকে জানাইলেন যে এর পরে আবার জিজ্ঞেস করলে যেন এইভাবে উত্তর দেই।</p><p>ঘটনাটা ঘটল এক বা দুই দিন পর। আমি তখন ডাইনিং হলে জুনিয়র হাই টেবিলের পাশের ক্লাস টুয়েল্ভের টেবিলে বসি। লাঞ্চ টাইমের মাঝা মাঝি টাইমে আমার টেবিলের টেবিল লীডার আমাকে বললেন, &#8216;আশিকুল, হাই টেবিল থেকে ডালের বাটি নিয়ে আস।&#8217; আমিও সুবোধ বালকের মতন জুলফিকার ভাইয়ের কাছে গিয়ে বললাম, &#8216;কাইন্ডলি ডালের বাটিটা নিতে পারি?&#8217; আমাকে দেখেই জুলফিকার ভাইয়ের চোখ ঝিলিক দিয়ে উঠল। উনি উনার পাশের প্রিফেক্টের দিকে তাকায়ে বললেন, &#8216;একটা মজা দেখ, একটা মজা দেখ&#8217;। আমার দিকে তাকায়ে জিজ্ঞেস করলেন, &#8216;আশিকুল, তোমার ইয়া কত বড়?&#8217; আমি পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী মাথার উপর দুইহাত তুলে জানাইলাম, &#8216;ইয়ায়্যায়্যয়্যাতো বড়&#8217;। পুরা জুনিয়র হাই টেবিলের এই মাথা থেকে ঐ মাথা পর্যন্ত হাসির রোল উঠে গেল।</p><p>ভাগ্যের চক্রে, সেইদিনই কলেজের তখনকার ক্যাডেটদের হার্টথ্রব সুন্দরী গোলগাল ম্যাডাম ডিউটি মাস্টার। উনি ঐপাশের অনেক দূরে সিনিয়র হাইটেবিলে খাচ্ছেন। জুলফিকার ভাই আমাকে নির্দেশ দিলেন সিনিয়র হাইটেবিলের দিকে ফিরে ডিউটি মাস্টারের দিকে তাকায়ে ইয়া কত বড় ঘোষণা দিতে। দিলাম। এইবার শুধু জুনিয়র হাইটেবিল না, তিন হাউজের তিনটা ক্লাস টুয়েল্ভের টেবিল থেকে হাসির শব্দ পাওয়া গেল। এইবেলা জুলফিকার ভাই আমাকে বললেন, যাও, ম্যাডামকে গিয়ে বলে আস&#8230;&#8230;&#8230;</p><p>আমি তখন নিতান্তই ক্লাস সেভেনের বাচ্চা। মাত্র মায়ের কোল থেকে নেমে ক্যাডেট কলেজে চলে আসছি টাইপ অবস্থা। &#8216;ইয়া&#8217;র অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আমার কাছে পুরাটাই ধোয়াশা। কোন একটা মজা করা হচ্ছিল সেইটা পরিষ্কার, কিন্তু ক্লাস সেভেন মানেই তো টুয়েল্ভের কাছে হাসি তামাশা করার খেলনা টাইপ ব্যাপার। কাজেই স্থান কাল পাত্র উদ্দেশ্য কিছুই ভালমতন না বুঝে আমি সরল মনে সিনিয়র হাই টেবিলের দিকে হাঁটা দিলাম&#8230;&#8230;</p><p>চারদিক থেকে চেচামেচি করে আমাকে থামানো হল&#8230;&#8230;</p><p>-আরে আরে কই যায়!!!<br /> -ঐ! এদিকে আস!<br /> -কাম ব্যাক! কাম ব্যাক!<br /> এর সাথে সাথে কারো হাসি এতটুকু থামে নাই&#8230;&#8230;</p><p>উদ্ধার পাইলাম আমার টেবিলের ক্লাসটুয়েল্ভের ভাইয়া হাসতে হাসতেই &#8216;অই তোরা বাচ্চা পোলাটারে খাইতে টাইতে দে! &#8216; বলে ডাক দিয়ে আমাকে আমার জায়গায় বসায় দিলেন&#8230;&#8230;</p><p>সহজ সরল প্যাচগোচ বিহীন সেই আমার ওই &#8216;ইয়া&#8217;র মর্মার্থ বুঝতে বহুদিন সময় লেগে যায়।</p><p>অনেক অনেক পরে আমরা যখন ক্লাস টুয়েল্ভে, তখন MECA এর কোন এক পিকনিকে এক্সক্যাডেটরা কলেজে আসে। কলেজ থেকে বের হবার পরে সেই প্রথম জুলফিকার ভাইয়ের সাথে আবার দেখা দেখা হয়। উনি আমাকে চিনেন নাই। এমনিতে চেনার মতন তেমন কোন কারণও নাই। আমি তখন ক্লাস টুয়েল্ভে। প্রেস্টিজ বোধ অনেকটাই চাঙ্গা। প্রায় ৬ বছর আগের সেই ইয়াতো বড় কাহিনীটা জুলফিকার ভাইকে মনে করায় দেবার চেষ্টা করার ধারে কাছ দিয়েও যাই নাই।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/1659/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>52</slash:comments> </item> <item><title>আমি যেভাবে ক্যাডেট হইলাম&#8230;এবং অতঃপর &#8211; ৩</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/572</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/572#comments</comments> <pubDate>Tue, 09 Sep 2008 15:24:48 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/572</guid> <description><![CDATA[(শুরুতে নাম ছিল &#8216;প্রথম দিন&#8230;প্রথম মাস&#8230;প্রথম টার্ম&#8217;। পরে দেখলাম যেভাবে লিখতেছি তাতে টাইটেলটা ঠিক যাচ্ছে না। তাই নাম পালটে দিলাম। এই লেখাটা আগেই লেখা। পোস্ট করতে গিয়ে দেখি সিসিবি ডাউন&#8230;যেদিন আপ হলো অফিসে দেখলাম কিন্তু লেখা সাথে ছিলো না, বাসায় এসে পোস্ট করতে গিয়ে দেখি সিসিবি আবার ডাউন! লাভের লাভ হলো এখন আপ হবার পর এডজুট্যান্ট [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>(শুরুতে নাম ছিল &#8216;প্রথম দিন&#8230;প্রথম মাস&#8230;প্রথম টার্ম&#8217;। পরে দেখলাম যেভাবে লিখতেছি তাতে টাইটেলটা ঠিক যাচ্ছে না। তাই নাম পালটে দিলাম।</p><p>এই লেখাটা আগেই লেখা। পোস্ট করতে গিয়ে দেখি সিসিবি ডাউন&#8230;যেদিন আপ হলো অফিসে দেখলাম কিন্তু লেখা সাথে ছিলো না, বাসায় এসে পোস্ট করতে গিয়ে দেখি সিসিবি আবার ডাউন! লাভের লাভ হলো এখন আপ হবার পর এডজুট্যান্ট বাদে প্রথম লেখাটা আমিই দিলাম&#8230;&#8230;হেহ হেহ&#8230;)</p><p>আগের লেখাঃ<br /> <a href="http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/549">আমি যেভাবে ক্যাডেট হইলাম&#8230;এবং অতঃপর &#8211; ১</a><br /> <a href="http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/551">আমি যেভাবে ক্যাডেট হইলাম&#8230;এবং অতঃপর &#8211; ২</a></p><p>৩. ইজ্জতহানির আগে ও পরে<br /> (প্রথমেই বলে রাখি ভাইবা আগে হইসে না মেডিক্যাল আগে হইসে সেইটা আমার মনে নাই। মেডিক্যাল পরে হইসে এইটা ধরে নিয়ে লিখতেসি&#8230;&#8230;)</p><p>বাসায় সবার থেকে বিভিন্ন ধরণের উপদেশমূলক বাণী যেমন ‘ঢুকেই সালাম দিবা’, বা ‘বসতে বলার আগে পর্যন্ত খবরদার খবরদার বসবা না’ ইত্যাদি ইত্যাদি ভালোমতন গলধকরণ করে আমি গুটিগুটি পায়ে টাইম মতন আমার ভাইবা দেবার জন্য সেন্টারে পৌছাইলাম। দেখি আরো ১০/১২ জন আগে থেকেই পাংশু মুখে বসে আসে। কাঠের বেঞ্চি ছিলো মনে হয়। কেউ কারো সাথে কথা বলতেসে না&#8230;&#8230;সবাই চিন্তিত চেহারায় কি কি জিজ্ঞেস করতে পারে সেসব চিন্তা করতে মহা ব্যস্ত। আমার সমস্যা হলো&#8230;&#8230;আমি আবার সাধারণ জ্ঞানে সেইরকম অসাধারণ ছিলাম। রিটেনের আগে দিয়ে অনেক কষ্টে সৃষ্টে কিছু ঠেলে গুতিয়ে শর্ট টার্ম মেমরিতে ঢুকাতে পারলেও ওগুলো দরকার মতন কিছুতেই মনে করতে পারতাম না। জিজ্ঞেস করলে ‘হা’ করে তাকায়ে থাকি। বেইজ্জতির মধ্যে পড়লে কিভাবে বাঁচবো&#8230;&#8230;এই সব নিয়ে আকাশ পাতাল ভাবা শুরু করলাম।</p><p>আমার পাশে যে ছেলেটা বেঞ্চিতে বসেছিলো, হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘আচ্ছা, এই ওয়ার্ল্ড কাপে প্রথম সেঞ্চুরি করলো তার নাম কি জান?’ আনন্দে আমার দাঁতগুলি সব বের হয়ে গেলো। কোয়েশ্চেন কমন পরসে। ইনফ্যাক্ট, ’৯৬এ নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং ম্যাচটা আমি পুরাটা দেখসিলাম। মনে মনে বললাম, ‘গাধাহালা, খ্যালা দেখস নাই ক্যান!’ আর পায় কে! সামান্য ‘আমি কি হনু রে’ টাইপ ভাব নিয়ে মুখে বললাম, ‘নিউজিল্যান্ডের নাথান এস্টেল’ (ওরে যে এসলে বলে, সেইটা তখনো টের পাইনাই&#8230;)। সেই ছেলে তখন বার কয়েক ‘নাথান এস্টেল&#8230;&#8230; নাথান এস্টেল&#8230;নাথান এস্টেল&#8230; নাথান এস্টেল&#8230;&#8230;’ বিড়বিড় করে আবার আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘নাথান&#8230; কি?’</p><p>একসময় কল আসলো ভাইভা রুমে ঢোকার। ঢুকেই দেখি তিনজন একটা টেবিলের তিনদিকে বসে, যতদূর মনে পড়ে&#8230;&#8230;তিনজনই ইউনিফর্ম পড়া। বসতে বললো, বসলাম। চোখের কোনে তাকায়ে দেখি এক কোনায় একটা বিশাল ম্যাপ টাঙানো। দেখে আত্মাটা একদম শুকায়ে গেল! আমার তখন এমনি অবস্থা যে&#8230;&#8230;বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ছাড়া কিছুই বের করতে পারিনা! তাতেও আবার সামান্য টাইম লাগে। আর ভাগ্যটাও এমন! প্রথমেই আমাকে কম্বো না কম্বোডিয়া কিজানি একটা ম্যাপে বের করতে দিলো! আমি গিয়ে ম্যাপের সামনে হাবার মতন দাঁড়ায়ে থাকলাম। দুনিয়ার সব দেশ চোখে পড়তেসে&#8230;কিন্তু যেইটা বাইর করতে দিসে সেইটা আর কিচ্ছুতেই খুঁজে পাইতেসি না! কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর হতাশ হয়ে একজন বললো,’আচ্ছা, বলো ওইটা কোন মহাদেশে?’ আমি সন্দেহের সুরে ওনাকে বললাম, ‘আফ্রিকা?’ বললেন, ‘ঠিকাছে। তাইলে আফ্রিকাটা কোথায়?’ আমি তখন প্রানপণে আফ্রিকা খুঁজতে লাগলাম। ১/২ মিনিট পরে&#8230;&#8230;(আমি তখনো আফ্রিকা খুঁজে যাচ্ছি)&#8230;&#8230; আমাকে বললো, ‘ঠিকাসে, বুঝছি! চলে আসো এইদিকে।’ গিয়ে আবার চেয়ারে বসলাম। ততক্ষণে আমার ক্লাস ওনারা ভালোই বুইঝে গেসেন। সেই জন্যেই মনে হয় ‘কোনটা বেমানান – গরু, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, মাখন?’ এই টাইপ একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন। বললাম। উনারাও খুশি, আমিও খুশি।</p><p>এইবার শুরু হলো আসল ভাইভা (?)! আমার অপজিটে বসা, উনি মনেহয় আর্মির প্রিন্সিপাল কোনো কলেজের&#8230;&#8230;আমার এপ্লিকেশন ফর্মটা খুলে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার যেই ছবিটা দিসো, এখানেতো দেখি একদম ভুরু টুরু কুচকানো মহা বিরক্ত একটা ছবি দিসো! কেন?’ আমি তখন উকি ঝুকি মেরে আমার চাদবদনের ফটুখানা দেখার চেষ্টা করতে লাগলাম। সেইটা দেখে উনি নিজেই ফাইল বাঁকা করে আমাকে দেখালেন। আমি দেখে আমার চোখমুখ কুচকানোর ব্যাপারটা বেমালুম চেপে গিয়ে বললাম, ‘কি বলেন স্যার! আমার কাছে তো মোটেও বিরক্ত চেহারা মনে হচ্ছে না!’ উনি তখন চোখ সরু সরু করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মনে হচ্ছে না?’ আমি কাচুমাচু গলায় বললাম, ‘স্যার, আমার মনে হয় ছবি তোলার সময় ফ্ল্যাশ লাইটটা ডাইরেক্ট চোখে পড়সিলো&#8230;এই জন্য সামান্য বিরক্ত মনে হলেও হতে পারে&#8230;&#8230;এটা স্যার আপনার চোখে পড়লে আপনারও এরকম হতে পারতো। তবে আমার কাছে স্যার মোটামুটি নরমালই মনে হইতেসে’। উনি এদিক ওদিক মাথা নাড়লেন। ওনার কাছে নরমাল মনে হয় নাই। বললেন, ‘দেখো ইয়াং ম্যান, একজন ক্যাডেট কে অনেক কষ্ট করতে হয়। পিটি,প্যারেড,পড়াশোনা&#8230;&#8230;আমরা চাই যে একজন ক্যাডেট হাসি মুখে এইসব করবে&#8230;&#8230;তোমাকে দেখে তো মনে হচ্ছে তুমি অল্পতেই বিরক্ত হয়ে যাও&#8230;&#8230;। তুমি কি হাসি মুখে এইসব করতে পারবা?’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই স্যার! আমি তো এম্নিতে সবসময়ই হাসি খুশি থাকি।’ বলে ওনাদের দিকে তাকায়ে মিষ্টি করে একটা হাসি দিলাম। ওনাদের চেহারা দেখে হাসিটা উনারা খাইসে – এরকম কোন আলামত পাইলাম না। আমাকে বললো, ‘ঠিকাছে, তুমি যেতে পারো।’ এইটুকুই ছিলো আমার ভাইভা!</p><p>গিয়ে বসলাম মেডিক্যালের বেঞ্চিতে। এখানেও আমার আগে ৩/৪ জন ওয়েইট করতেসিলো। দেখি নার্ভাস একেকজন সাদামুখ নিয়ে ঢুকে আর লাল মুখ নিয়ে বের হয়। কাহিনী কিছুই বুঝতেসিলাম না। ইজ্জতহানির আশু ওয়ার্নিং আমারে আগে থেকে কেউ দিয়া রাখে নাই। সিরিয়ালে যখন আমার ডাক আসলো, তখন দরজা দিয়ে ঢোকার আগে দেখি দরজার চিপা দিয়ে রুমের ভিতর সামান্য দেখা যাইতেসে। দেখি আমার আগে যেই পোলাটা ঢুকলো সে একটা আন্ডারওয়্যার পরা, প্যান্ট পরতেসে! আমি ভাবলাম এইসব কি! প্যান্ট খোলায় ক্যান! আমারে তো এইসব কেউ আগে বলে নাই! তবে বাচোয়া যে আন্ডারওয়্যারটা রাখতে দিসে! নাইলে তো ইজ্জত একদম গেসিলো! ভিতরে ঢুকলাম, আমারে বললো&#8230;&#8230; ‘খুলো।’ আমি বললাম, ‘কি খুলবো?’ বলে, ‘প্যান্ট খুলো।’ কি আর করা! প্যান্ট খুলে দাঁড়ায়ে গেলাম। বলে, ‘ওইটাও খুলো।’ আমি ভাবলাম, ‘হায়! হায়! এইসব কি বলে!’ লজ্জার মাথা খায়া আন্ডারওয়্যারও খুলে ফেললাম। দেখি বেশ বাতাস টাতাস লাগে&#8230;&#8230;লজ্জায় গা ও কেমন জানি উষ্ণ উষ্ণ লাগা শুরু করলো! এইবার আঙ্গুল দিয়ে জায়গামতন চিপি দিয়ে বলে, ‘কাশি দেও’। দিলাম। বলে, ‘হয়নাই, জোরে দেও।’ জোরে দিলাম। চিপাচিপি করে তাদেরকে বেশ সন্তুষ্ট মনে হলো। সেই অবস্থাতেই আমার হাইট মেপে চোখের টেস্টগুলি করাইতে লাগলো। ততক্ষণে আমি মোটামুটি এডজাস্ট করে ফেলসি। খালি অদম্য লজ্জাবোধ থেকে মনে হয় শরীর সামান্য গরম গরম লাগতেসিলো। একসময় মেডিক্যাল টেস্ট শেষ হলো। বাকি সবার মতন আমিও লালমুখ নিয়ে বাইর হইলাম। চোখের কোনা দিয়ে দেখলাম ফ্যাকাশে সাদা মুখ নিয়ে পরের বেচারা ঢুকতেসে&#8230;&#8230;</p><p>মেডিক্যাল টেস্টের পরে ঠিক করে রাখসিলাম&#8230;&#8230;যা হইসে হইসে&#8230;&#8230;এই ঘটনা কাউরে বলা যাবে না। মাথা খারাপ নাকি! ফ্রেন্ডদের বললে টীজ খায়া উইড়া যাবো! আব্বা আম্মা জিগায়, ‘কেমন হইলো?’ আমি বলি, ‘ভালোই হইলো।’ ভাইবাতে উনারা এইটা এইটা বলসে, আমি এইটা এইটা বলসি। ‘মেডিক্যালে?’ ‘এইতো, হাইট ওয়েট এইসব দেখলো&#8230;&#8230; অনেক রঙের মধ্যে রঙ্গিন অক্ষর চিন্তে পারি নাকি দেখলো&#8230;&#8230;এই সব আরকি!’ ধরাটা খাইলাম, আমার বিশিষ্ট ক্যাডেট এক্সপার্ট বড়খালা বেড়াইতে আসলেন একসপ্তাহ পরে। উনার দুইছেলে ক্যাডেট। আম্মা বললেন, ‘আশিক তো ভাইবা আর মেডিক্যাল দিয়ে আসলো’। শুনে উনার প্রথম রেসপন্স হলো, ‘ও, মেডিক্যাল দিয়ে আসছে? প্যান্ট খুলে দেখসে?’ আম্মা বলে, ‘সে কি! প্যান্ট খুলে আবার কি দেখবে! ও তো এইসব কিচ্ছু বলে নাই!’ আমারে ডাকা হইলো। বুঝলাম, বড়খালা এক্সপার্ট, উনার সামনে খামাখা চাপা মাইরা লাভ নাই। কোনরকমে মুখ কালো করে বললাম, ‘হ্যা, খুলতে হইসে’। বলেই দৌড়। পিছনে আবছা শুনলাম বড়খালা বলতেসে, ‘আমি তো জানিই&#8230;ওরা প্যান্ট খুলে দ্যাখে&#8230;’</p><p>এর মধ্যে একদিন রেজাল্ট দিয়ে দিলো। দেখি ওইরকম ভাণ্ডারী ভাইভা দিয়েও চান্স পেয়ে বসে আসি! নিজের পারফরম্যান্সে নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেলাম। সমস্যা হলো, আমার আরেক মামাতো ভাই আসলো। উনি আবার নতুন এয়ার ফোর্সে ঢুকসেন। আম্মাকে বলেন, ‘ফুপু, ওকে যে ক্যাডেট কলেজে দিবেন, ওখানে তো অনেক কষ্ট।’ আম্মা বলে, ‘কেমন কষ্ট?’। মামাতো ভাই বলে, ‘আমাদেরকে তো হাড়কাপানো শীতের মধ্যে শাওয়ারের নিচে দাড় করায়ে রাখে। আবার কমোডের মধ্যে মাথা ঢুকায়ে ফ্ল্যাশ টেনে দেয়&#8230;ইত্যাদি ইত্যাদি।’ শুনে আম্মার অবস্থা টাইট। আমাকে ডাক দিয়ে বলে, ‘চান্স পাইসিস ভালো কথা, যাওয়ার দরকার নাই।’ কিন্তু আমিতো ইজ্জত হারায়ে ক্ষেপচুরুনিয়াস। নেংটাও হইলাম আবার গেলামও না! তাইলে কেম্নে কি! বললাম, ‘কষ্ট করে পড়ালেখা করে চান্স পাইসি&#8230;এখন যাবো না মানে! একশবার যাবো।’ এদিকে আব্বা তখন লেফট রাইটের স্বপ্ন দেখা শুরু করসে। পারলে নিজেই ক্যাডেট হয়ে ঢুকে পড়ে! তাল দিলো&#8230;&#8230;বলে, ‘কষ্ট আবার কি! লেফট রাইট করবে, পিটি করবে&#8230;&#8230; ’ বলতে বলতে উনি স্বপ্নে বিভোর! এদিকে ক্যাডেট কলেজে থেকে আবার জিনিষপত্রের লিস্ট পাঠাইসে। সেই লিস্টি দেখে দেখে অদ্ভুত অদ্ভুত সব জিনিষ কেনা শুরু হলো যেগুলা আমি আগে জীবনেও দেখি নাই! ধবধবে সাদা বেড শীট, কিস্তি টুপি, বদখত পাঞ্জাবী, নীল রঙ্গের স্লিপিং ড্রেস&#8230;&#8230;ইত্যাদি ইত্যাদি। বিশাল একটা সবুজ রঙের ব্যাগ বোঝাই করে এইসব হাবিজাবি জিনিষ নিয়ে ১৯৯৬ সালের জুন মাসের ৪ তারিখ আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ঢুকলাম&#8230;&#8230;</p><p>চলবে&#8230;&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/572/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>9</slash:comments> </item> <item><title>আমি যেভাবে ক্যাডেট হইলাম&#8230;এবং অতঃপর &#8211; ২</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/551</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/551#comments</comments> <pubDate>Thu, 21 Aug 2008 18:56:55 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category><guid isPermaLink="false">http://cadetcollegeblog.com/?p=551</guid> <description><![CDATA[(ঠিক করেছিলাম শুধু প্রথম দিন, প্রথম মাস আর প্রথম টার্মের কথা লিখবো। পরে ভাবলাম&#8230;ক্যাডেট কলেজ ব্লগে আজকাল অনেক কম লেখা পড়ছে সবার&#8230;আরেকটু সূচনা দিয়ে এটাই আরেকটু টেনে নিয়ে গেলে কেমন হয়&#8230; তাই এই লেখা) আগের লেখাঃ আমি যেভাবে ক্যাডেট হইলাম&#8230;এবং অতঃপর &#8211; ১ ২. ভর্তির আগের গল্প আমাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করার শখটা আমার আব্বার। দুই খালাতো ভাইয়ের [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>(ঠিক করেছিলাম শুধু প্রথম দিন, প্রথম মাস আর প্রথম টার্মের কথা লিখবো। পরে ভাবলাম&#8230;ক্যাডেট কলেজ ব্লগে আজকাল অনেক কম লেখা পড়ছে সবার&#8230;আরেকটু সূচনা দিয়ে এটাই আরেকটু টেনে নিয়ে গেলে কেমন হয়&#8230; তাই এই লেখা)</p><p>আগের লেখাঃ<br /> <a href="http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/549">আমি যেভাবে ক্যাডেট হইলাম&#8230;এবং অতঃপর &#8211; ১</a></p><p>২. ভর্তির আগের গল্প<br /> আমাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করার শখটা আমার আব্বার। দুই খালাতো ভাইয়ের একজন ছিল রংপুর ক্যাডেট কলেজের ফার্স্ট ব্যাচের কলেজ প্রিফেক্ট&#8230;যে কিনা পরে আর্মির মেজর, আর আরেকজন পাবনা ক্যাডেট কলেজে। আরো দুই মামাতো ভাই মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করে ডাবল স্ট্যান্ড করে হাতি ঘোড়া মেরে বেড়িয়ে দেশের বাইরে চলে গেছে। কাজেই ক্যাডেট কলেজের ডিসিপ্লিন্ড লাইফের এহেন সাফল্যে মুগ্ধ আব্বা অনেক আগে থেকেই আমার কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করতো, &#8216;তোকে ক্যাডেট কলেজে দিয়ে দিব।&#8217; কিন্তু যাকে দেয়া হবে, তার ইচ্ছে কতটুকু? ঢাকার গভমেন্ট ল্যাবের তখন অনেক নামডাক। প্রতি এসএসসির পরে পেপার আলো করা একগাদা ছেলেদের হাসি মুখে ছবি আর অমুক বড় হয়ে তমুক হতে চায় দেখে আমার মনে হলো&#8230;আহা! ওখানেই তো আমার যাওয়া দরকার। কি হবে ক্যাডেট কলেজে গিয়ে খামাখা পিটি প্যারেড করে! ক্লাস সিক্সে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম গভমেন্ট ল্যাবে। তখনকার স্কুলের সবগুলো ছেলের সিট পড়লো এক লাইনে&#8230;শুধু রজতের পড়লো পাশের রুমে। আমরা অনেক দাঁত কেলাইলাম ওর কষ্টে। বেচারা! আমরা সবাই দেখাদেখি করে পরীক্ষা দিব আরে ও একা একা কি পারবে না পারবে&#8230;। তারপর রজতই চান্স পাইলো আর আমরা কেউ পাইলাম না। বুঝে গেলাম, আসলে আঙ্গুর ফল ভালোই টক।</p><p>এই সময় বাসা পাল্টানোর কারণে স্কুলও পালটে বিসিএস আই আর হাই স্কুল থেকে ক্লাস সিক্সে চলে আসলাম মগবাজারে ন্যাশনাল ব্যাংক পাব্লিক স্কুলে। সেখানকার প্রিন্সিপাল আবার মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল এফ এম আব্দুর রব স্যার&#8230;(বিখ্যাত সেলফ টিচিং ইংলিশ গ্রামার বইয়ের রাইটার)যিনি কিনা আমার মির্জাপুরে পড়া মামাতো ভাই দুটোকে খুব ভালো করে চেনেন। ঢোকার পরে দেখি একি কান্ড! ক্যাডেট কলেজের প্রিন্সিপাল সিভিল স্কুলের প্রিন্সিপাল হলেও এখানে এসে ক্যাডেট কলেজের নিয়ম কানুন চালু করে বসে আছেন। অন্য সব স্কুল যেখানে পিটি করে, লাইনে দাঁড়ায়ে জাতীয় সংগীত গায়&#8230;আমরা সকালে অক্সফোর্ড শু পরে ড্রিল করার চেষ্টা করি, ডানে বামে ঘুরি&#8230;লেফট রাইট করি। মর্নিং এসেম্বলি করি, সেখানে কোরান তেলাওয়াত আর জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। প্রিন্সিপাল ভাষন দেয়। আবার দেখি ডিউটি ক্যাডেট স্টাইলে হাতের বাহুতে কাপড় পেচিয়ে ক্লাস নাইনের একজন ঘুরে বেড়ায়। সেটায় আবার ডিউটি প্রিফেক্ট লেখা! এখানে আসার পর আমার রেজাল্টের ব্যাপক চেঞ্জ আসলো। বিসিএস আই আরে যেখানে ফিফথের উপরে কখনো উঠতে পারিনি, ন্যাশনাল ব্যাংকে এসে সেকেন্ড ফার্স্ট হওয়া শুরু করলাম। গায়ে হাওয়া লাগলো ফুরফুরে। ভাবলাম, নাহ! এবার ক্যাডেট কলেজের এডমিশন টেস্টটা দিয়ে না ফেললে আর চলছেই না। আমিতো তারকা ছাত্র। গভমেন্ট ল্যাবে চান্স পাইনাই তো কি হয়েছে, ক্যাডেট কলেজ এডমিশন টেস্টে দেখলুঙ্গা!</p><p>আমার বোন হলো আমার টিচার। একটু এদিক সেদিক করলেই চড়ায়ে দাঁত ফেলে দিবে এরকম হুমকি খেতে লাগলাম অহরহ। ধুমধাম কোটি কোটি দেশের কোটি কোটি মুদ্রার নাম মুখস্ত হয়ে যেতে থাকলো। এক খালাতো বোন ইংলিশ শেখাতে লাগলো। দু পাতা ট্রান্সলেশন করে খালাতো ভাইয়ের সাথে আধা ঘন্টা ধরে রুমের মধ্যেই টেনিসবল আর কাঠের ব্যাট দিয়ে ক্রিকেট খেলতাম। আমার বলে ও ধুমধারাক্কা দেয়াল পেটাতো আর আমাকে বাউন্সার দিয়ে দিয়ে ক্যাচ আউট করতো। তখন আবার পড়তে বসতাম। এই করে করে কোন বাইরের কোচিঙে ক্যাডেট ভর্তি কোচিং না করেই রিটেন টেস্ট দিয়ে দিলাম ভর্তি পরীক্ষার। আর সবাইকে অবাক না করে, শুধু নিজেকে একদম তাজ্জবের মধ্যে ফেলে দিয়ে হঠাৎ একদিন পেপার খুলে দেখি ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্টে অনেকের মধ্যে আমার রোল নাম্বার খানাও জ্বলজ্বল করছে।</p><p>নাহ। এবারে তো আর ফেলে দেয়া যায় না। ভাইভার আগে হাতে সময় ও বেশি নাই। আম্মা নিয়ে গেল আইডিয়াল কোচিঙে। এখান থেকে কোচিঙ করলে নাকি ক্যাডেট কলেজে চান্স পাওয়া একদম ছেলের হাতের লজেঞ্চুশ। গিয়ে দেখি ওদিন নাকি শেষ ক্লাস। কি ব্যাপার! শুনলাম রিটেন পরীক্ষা দিয়েই নাকি সবাই পরের দিন থেকে ভাইভার ক্লাস করা শুরু করে দিয়েছে রেজাল্টের আগেই। এরা চান্স পাবে নাতো কি আমি চান্স পাবো নাকি! নিজেকে বড়ই বেকুব মনে হলো। আমাকে পরের দিন একটা মক ভাইভা হবে&#8230;সেটার জন্য ভরতি করে নেয়া হলো। তারপর বললো, &#8216;আসো, এখন স্টুডেন্টদের ফটো সেশন করা হবে।&#8217; অনেকের সাথে এককোনায় আমিও দাঁত বের করে ছবি তুললাম। দুইদিন পরে পেপারে বিজ্ঞাপনের ছবি আসলো&#8230;&#8217;আইডিয়াল কোচিঙের ক্যাডেট ভর্তির লিখিত পরীক্ষার অবিস্মরনীয় সাফল্য!&#8217; ছবির এককোনায় অনেকের সাথে একদিনের জন্য ভর্তি হওয়া আমি। বিজ্ঞাপনে লেখা &#8211; সুষ্ঠু নিয়মে কোচিঙে পড়াশোনা করার জন্যেই নাকি আমি আর বাকি সবাই সেই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার গৌরবে গর্বিত। মক ভাইভা দিতে গেলাম। আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা বলতো, তোমার মাথার উপরে যে ফ্যানটা ঘুরছে,ওটার কয়টা পাখা? উপরে তাকায়ে দেখি ওটা ফুল স্পীডে ঘুরে রুম উড়িয়ে বাতাস দিচ্ছে। কোন রকমে মাথা চুল্কে বললাম, &#8216;চারটা?&#8217; ওনারা খুব হতাশ। সঠিক উত্তর নাকি হবে, &#8216;স্যার, সুইচ অফ করে ফ্যান থামলে তখন বলতে পারবো।&#8217; এগুলো নাকি কোচিং ক্লাসে ভালো মতন শেখানো হয়েছে। বুঝলাম&#8230;আমার মতন আহাম্মকের দ্বারা হবে না। আম্মাকে ডেকে ওনারা বললেন, ওকে তো আগেই কোচিঙে দেয়া দরকার ছিল&#8230;সমস্যা নাই। সাহস রাখতে হবে। আম্মা বললেন&#8230;দিয়ে দে&#8230; রিটেনে যখন চান্স পাইলি&#8230;</p><p>তাই, ফিটফাট জামা কাপড় পড়ে দুরুদুরু বুকে গেলাম আমি ঢাকার সেন্টারে আমার ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার ভাইভা দিতে।</p><p>চলবে&#8230;&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/551/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>6</slash:comments> </item> <item><title>আমি যেভাবে ক্যাডেট হইলাম&#8230;&#8230;এবং অতঃপর -১</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/549</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/549#comments</comments> <pubDate>Thu, 21 Aug 2008 13:39:53 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category><guid isPermaLink="false">http://cadetcollegeblog.com/?p=549</guid> <description><![CDATA[১. কথাবার্তা সব ক্যাডেটের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতাগুলো অনেকটা একই রকম। কিছুটা ভয় ভয়, অনেকটা অনিশ্চয়তা আর তার সাথে সাথে বাবা মাকে ছেড়ে আসার কষ্টকে মেশানো অদ্ভুত একটা অনুভুতি। আজকে হঠাৎ ভাবতে বসলাম&#8230;আমার নিজেরটা কেমন ছিল? অন্যদের চেয়ে কি আলাদা ছিল? ভাবতে গিয়ে দেখি অনেক কিছুই মনে পড়ে না। অনেক কিছুই মনে পড়ে পড়ে ভাব হয়।  [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>১. কথাবার্তা<br /> সব ক্যাডেটের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতাগুলো অনেকটা একই রকম। কিছুটা ভয় ভয়, অনেকটা অনিশ্চয়তা আর তার সাথে সাথে বাবা মাকে ছেড়ে আসার কষ্টকে মেশানো অদ্ভুত একটা অনুভুতি। আজকে হঠাৎ ভাবতে বসলাম&#8230;আমার নিজেরটা কেমন ছিল? অন্যদের চেয়ে কি আলাদা ছিল? ভাবতে গিয়ে দেখি অনেক কিছুই মনে পড়ে না। অনেক কিছুই মনে পড়ে পড়ে ভাব হয়।  খারাপ লাগলো খুব। কলেজ থেকে বেড়িয়ে এসেছি আজ ৬বছর হলো প্রায়। প্রথমদিনটা আজ থেকে প্রায় বার বছর আগের! অথচ নিজের বয়সতো এমন কিছু বেশি হয়ে যায়নি এখনো! তবু প্রথম সেই দিনটা আজ কত কত কত আগের কথা!</p><p>সেদিন পাবনা ক্যাডেট কলেজের মহসিন (কলেজে থাকতে চিনতাম না ওকে, পরে আইইউটিতে পরিচয়, আর এখন আমার মতই জিপি তে মরছে&#8230;) হঠাৎ পিএবিএক্সে ফোন দিয়ে বললো, &#8216;গুরু, একটা মজার স্ট্যাটিস্টিক্স শুনবা?&#8217; আমি বললাম, &#8216;কুইক বলে ফেলো, হাতে বেশি টাইম নাই।&#8217; মহসিন বলে, আমরা কত সালে কলেজে ঢুকলাম বলোতো? আমি মনে মনে কিছুটা বিরক্ত হই। এইটা আবার জিজ্ঞেস করার কি হলো! ওতো ভালোমতই জানে। বললাম, &#8216;৯৬এ। কেন?&#8217; তখন জিজ্ঞেস করলো, &#8216;আমাদের বয়স তখন কত ছিলো?&#8217; আমি বললাম, &#8216;এপ্রক্সিমেটলি ১২ এর মতন হবে&#8230;&#8230;।&#8217; মহসিন বললো, &#8216;এখন কত সাল চলে?&#8217; উত্তর দিলাম, &#8216;২০০৮&#8217;। ও আবার জিজ্ঞেস করে, &#8216;তাহলে এই বছর যারা ইনটেক, তারা কত সালে জন্মেছে?&#8217; হিসাব করতে লাগলাম, ২০০৮ থেকে ১২ বিয়োগ দিলে হয় ১৯৯৬। চুপ করে গেলাম। মহসিনকে আর কিছু বলতে হলো না।</p><p>কি অদ্ভুত! ১৯৯৬ সালে যারা জন্মেছে, যারা প্রথম বারের মত মায়ের পেট থেকে বের হয়ে পৃথিবীর আলো দেখেছিল, হয়তবা ভ্যা করে কেঁদে দিয়েছিল, বাবা মা আত্মীয় স্বজনের মুখ আলো করে হাসিয়েছিল সবাইকে&#8230;&#8230; তারা এবছর ক্যাডেট কলেজে ঢুকছে। হয়তো কাচুমাচু মুখ করে অল্পভেজা চোখে বাবা মাকে, ভাই বোনদেরকে বিদায় জানিয়েছে ক্যাডেট কলেজের প্রথমদিনটায়, ভেবেছে বাসা থেকে এত দূরে এতগুলো দিন কিভাবে পার করবে! আজ থেকে বারো বছর আগে ওরা যখন জন্মেছে, ঠিক তখন হয়ত আমরা গুটি গুটি পায়ে ভয় মেশানো কৌতুহল নিয়ে ঢুকছি ক্যাডেট কলেজে!</p><p>বারো বছর পর যদি আমার নিজের প্রথম দিন, প্রথম মাস, প্রথম টার্মের কথা মনে করতে গিয়ে মনে করতে না পারি, তাহলে আজ থেকে আরো বারো বছর পরে কি হবে? তখন কতটুকু মনে করতে পারব? কিছুটা কি শিউরে উঠলো গা টা? হয়ত। আমার জীবনের সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট সময়টার শুরুটা এভাবে ভুলে যাব একসময় আস্তে আস্তে? ভেতরটা নিজের অজান্তেই কেমন বিষন্ন হয়ে ওঠে&#8230;&#8230;</p><p>আমার ক্যাডেট লাইফের প্রথম দিন, প্রথম মাস, প্রথম টার্ম &#8211; এই তিনটা নিয়ে আলাদা আলাদা তিনটা পোস্ট দেব। এই ছোট্ট লেখাটা তার প্রতিশ্রুতি হয়ে থাক&#8230;&#8230;&#8230;..</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/549/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>15</slash:comments> </item> <item><title>প্রকৃতি যখন ডাকে&#8230;&#8230;</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/538</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/538#comments</comments> <pubDate>Mon, 18 Aug 2008 13:34:27 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <guid isPermaLink="false">http://cadetcollegeblog.com/?p=538</guid> <description><![CDATA[প্রকৃতির অনেক কাজের মধ্যে একটা বোধহয় মানব সন্তানদের সময়ে অসময়ে ডাকাডাকি করা। আর তার সেই গগণ বিদারী ডাকে সাড়া না দিয়ে বেশীক্ষণ থাকবে&#8230;&#8230;এমন বুকের পাটা বোধহয় কারোরই নেই। কাজেই সেই ডাকাডাকির আগমুহূর্ত পর্যন্ত লক্ষ্মী ছেলের মতন বসে না থেকে স্থান কাল পাত্র বুঝে কাজ সেরে ফেলাটাই বুদ্ধিমানের লক্ষণ। সমস্যা হলো&#8230;২/৩ বা ৩/৪ ঘন্টার বাস জার্নির [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>প্রকৃতির অনেক কাজের মধ্যে একটা বোধহয় মানব সন্তানদের সময়ে অসময়ে ডাকাডাকি করা। আর তার সেই গগণ বিদারী ডাকে সাড়া না দিয়ে বেশীক্ষণ থাকবে&#8230;&#8230;এমন বুকের পাটা বোধহয় কারোরই নেই। কাজেই সেই ডাকাডাকির আগমুহূর্ত পর্যন্ত লক্ষ্মী ছেলের মতন বসে না থেকে স্থান কাল পাত্র বুঝে কাজ সেরে ফেলাটাই বুদ্ধিমানের লক্ষণ। সমস্যা হলো&#8230;২/৩ বা ৩/৪ ঘন্টার বাস জার্নির ক্ষেত্রে ওই স্থান কাল পাত্র বোঝার কাজটা মোটেই ঠিকমতন করা যায় না।</p><p>১.<br /> মির্জাপুরের ছেলেপিলেদের খুব লম্বা বাস জার্নি করা লাগেনা। বেশিরভাগ ক্যাডেট থাকে হয় ঢাকা, নাইলে টাংগাইল বা ময়মনসিংহ। কলেজ যেতেও লাগে বেশি হলে দেড়/দুই ঘন্টা। তাও আবার সর্বোচ্চ। কাজেই ক্লাস ইলেভেনের এক্সকারশনে বাস জার্নিটা অনেকের জন্যেই একটু বেশীই লম্বা। এক্সকারশন শুরু হবার পর তখন আমাদের সবার মন মেজাজই বেশ ফুরফুরে। ঘুমানোর &#8216;ঘ&#8217;টাও তখনো কেউ মুখে আনছেনা। কিন্তু প্রকৃতিকে থামিয়ে রাখবে কে? সে ভদ্দরলোক যথা সময়ে ডাকাডাকি শুরু করে দিলেন। অনেকক্ষণ ধরে চেপে চুপে রাখার পর আর যখন পারা যাচ্ছেনা&#8230;&#8230;বাসখানা থামানো হলো এক জায়গায়। সেইটা আবার সেই এলাকার কোন এক গণ্যমান্য লোকের বাড়ি।বাড়ির সামনে উঠানের মতন জায়গা। ওইখানেই সবেধন নীলমনি একটাই টয়লেট। তখনো আমরা মোটামুটি ছোটই। রাস্তাঘাটেই ছোট ইয়েটা সেরে ফেলতে পারার সুঅভ্যেসটা তখনো রপ্ত করে উঠতে পারিনি । বাস থেকে নামা মাত্রই দেখি সাথে আসা প্রিন্সিপাল স্যার কোথা থেকে একখানা বদনা জোগাড় করে সুন্দর হাঁটা দিয়েছেন টয়লেটটার দিকে। এদিকে আমরা প্রায় ৩৮জন নাদান অসহায়ের মতন এ ওর দিকে চাওয়া চাওয়ি করছি। এমন সময় এডজুটেন্ট স্যার এসে&#8230;&#8230;&#8217;কারো লাইট হওয়া দরকার থাকলে সেরে নাও। ৫ মিনিট টাইম।&#8217; আমরা আবারো শূন্য দৃষ্টিতে একে অন্যের দিকে তাকাতাকি করছি। উনি তখন &#8216;হোয়্যাট আর ইউ ওয়েটিং ফর?&#8217; বলে কাছের এক মাঝারী সাইজের ঝোপের দিকে অংগুলি নির্দেশ করে বললেন, &#8216;দিস ইজ দ্যা প্লেস হোয়্যার অল অভ ইওর সিনিয়র ব্রাদারস হ্যাভ ডান ইট।&#8217; কি আর করা! অতঃপর লজ্জার মাথা খেয়ে আমরা ২০/২৫ জন মাঝারী সাইজ ঝোপের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম&#8230;&#8230;কথা চালাচালি গুলো ছিল অনেকটা এইরকম&#8230;&#8230;</p><p>-অই&#8230;তুই লম্বা। অন্যদিকে তাকা&#8230;<br /> -হ! তোর ওইটা দেখার জন্যেতো আমি মুখায়ে আসি আরকি!!!!</p><p>অথবা&#8230;<br /> -ওই হারামি, ওই দিকে চাইপা কাজ সার&#8230;জুতায় ছিটা পরতেছে&#8230;</p><p>নাইলে&#8230;<br /> চল কাটাকাটি খেলি&#8230;&#8230;</p><p>২.<br /> কক্সবাজার যাবার পথে ৪ ঘন্টার জার্নি। তখন বোধহয় রাস্তাও একটু রাফ। মাঝপথে কোথায় জানি বাস থামালো এই হিসি পর্ব সারার জন্য। এবার দেখি রাস্তার ধারে পাবলিক টয়লেট। খুবই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। দেখেই মন ভালো হয়ে যায়। খালি একটাই সমস্যা। পাশাপাশি দুইটা ইউরিনালের মাঝে যে পার্টিশন, সেইটা হাটুর চেয়েও নিচে। একমাত্র ভরসা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত সরু সরু আঙ্গুল সর্বস্ব ছোট্ট হাত দুখানা দিয়েই কোন মতে ঢেকে ঢুকে আড়াল করে কাজ সেরে করে নিতে হলো!!!</p><p>৩.<br /> আরেকবার টিভি ডিবেট দেখতে নিয়ে যাওয়া হলো। ফেরার পথে আশুলিয়ার রাস্তায় এক ব্রিজ়ের সামনে কলেজ বাস থামানো হলো। মুহূর্তে বাস খালি করে পোলাপান যে যার ব্যবস্থা করতে ছুট। একটু দেরী করে নিচে নেমে দেখি একি যন্ত্রনা! যে চিপাতেই যাচ্ছি সেখানেই কেউ না কেউ আগে থেকে দখল নিয়ে কাজ সেরে নিচ্চে। ব্রিজের নিচে যাই&#8230; দেখি ৪জন&#8230;পাশে দেখি ৩জন, এদিক তাকাই দেখি ২জন&#8230;ওদিক তাকাই দেখি ৩জন। অগত্যা&#8230;সোজা দৌড়ে কিছুটা সামনে গিয়ে নিচু ক্ষেত মতন জায়গায় খোলা ময়দানে কোন আড়াল ছাড়াই ছাড়া শুরু করে দিলেম। যতক্ষণ সামনে কেউ না এসে পড়ছে&#8230;&#8230;কি যায় আসে! বেশ ফুরুত ফুরুত একটা ভাব জাগছিলো বেশ&#8230;&#8230;</p><p>৪.<br /> ইলেভেনের এক্সকারশন থেকে ফেরার সময় মনে হয়&#8230;&#8230;ফৌজদারহাটের গেস্টহাউজে পৌছেছি&#8230;লম্বা বাস জার্নি করতে হয়েছে, কাজেই মুহূর্তে বাস খালি করে সব টয়লেটের দিকে দৌড়। ভাবলাম&#8230;থাক বাবা&#8230;এখন আর হুড়াহুড়ি করে লাভ নেই&#8230;আমারটা এমন কিছু জরুরি নয়। দু&#8217; চার ঘন্টা দিব্বি কাটিয়ে দিতে পারবো। সবাই ক্লান্ত, কাজেই ডিনার সেরে নিচে কম্বল উপড়ে কম্বল মেরে ঘুমিয়ে গেছি। প্রচন্ড চাপ সহকারে ঘুম ভাঙলো রাত দুটোর দিকে। ভাবলাম যাই&#8230;এবারে আরাম করে কাজখানা সেরে আসি। ও মা!!!! নিচে নেমে দেখি রাত দুটোর সময় টয়লেটের সামনে অলমোস্ট ফলইন করে সব দাঁড়ানো। একেবারে নেক্সট নিয়ে টিয়ে ঘন্টা খানেক পরে যখন একটার  সিরিয়াল পেলাম&#8230;ঢুকে দেখি ওভারফ্লো করে অলরেডি জিনিষপত্র ভাসাভাসি করা শুরু হয়ে গেছে।</p><p>বুঝলাম&#8230;&#8230;ভেজা বার্মিজ আচারগুলো তাহলে সেরকমই ছিল!!!!!</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/538/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>9</slash:comments> </item> <item><title>ও ফাসানি&#8230;বলে যাও&#8230;</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/537</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/537#comments</comments> <pubDate>Sun, 17 Aug 2008 09:15:40 +0000</pubDate> <dc:creator>আশিক (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator> <guid isPermaLink="false">http://cadetcollegeblog.com/?p=537</guid> <description><![CDATA[কখনো যদি একগাদা মানুষকে প্রশ্ন করা হয়&#8230;&#8230; “আচ্ছা, ফাসানো কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কে করতে পারবে?” – আমি সিওর&#8230;&#8230;ওই একগাদা মানুষের ভিতরে ক্যাডেটগুলি সবার আগে ৩২ পাটি দাঁত বের করে দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে যাবে। ক্লাস সেভেনের বাচ্চা বাচ্চা ছেলেপিলেরা মায়ের কোল থেকে সরাসরি ক্যাডেট কলেজে এসে লংআপ হয়ে উলটো [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>কখনো যদি একগাদা মানুষকে প্রশ্ন করা হয়&#8230;&#8230; “আচ্ছা, ফাসানো কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কে করতে পারবে?” – আমি সিওর&#8230;&#8230;ওই একগাদা মানুষের ভিতরে ক্যাডেটগুলি সবার আগে ৩২ পাটি দাঁত বের করে দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে যাবে। ক্লাস সেভেনের বাচ্চা বাচ্চা ছেলেপিলেরা মায়ের কোল থেকে সরাসরি ক্যাডেট কলেজে এসে লংআপ হয়ে উলটো করে ১০০০ থেকে কেঁপে কেঁপে ১ পর্যন্ত গোনার সময় দুবার ধুম করে মেঝেতে পড়বে&#8230;&#8230;আর তৃতীয়বার সিনিয়রদের কাছে ক্লাসমেটদের নাম বলে দেবে ফল্টের জন্য&#8230;&#8230; এটার জন্য তাদের দোষ দেয়া যায় না। তবে সেও দু একবারই বড়জোর। কারণ অল্প কিছুদিনের ভেতরই ক্লাসমেট ফিলিংস নামের বস্তুটা বুকের ভেতর হাওয়া থেকে পয়দা হয়ে গেলে&#8230;&#8230;..তারই বদৌলতে সারা ব্যাচ ঘণ্টাধরে নোংরা মেঝেতে গড়াগড়ি খাবে&#8230;&#8230;কিন্তু অপকর্মটা কোন রত্ন করেছে সেটা সিনিয়রদের আর জানা হয়ে উঠবে না।</p><p>নাহ সেই ফাসানোর কথা বলছিনা। এ ফাসানো অন্য ফাসানো। এই ফাসানোতে বিবেকের কাছে দশবিশ বার করে কৈফিয়ত দেয়া লাগে না। হাসি মুখে একদিনে যতবার খুশি ফাসানো যায়। পরিণামে শুধু কোনএক ক্লাসমেটের বিষদৃষ্টি নিক্ষেপটুকু সহ্য করতে পারলেই চলে। এটাও কোন এক সিনিওর ভাইয়ের কাছেই ফাসানো&#8230;&#8230;তবে কোন ফল্টে না, কাজে।</p><p>আহা সেই বিখ্যাত দিনগুলো! যেদিন ধোপা থেকে কাপড় আসবে&#8230;&#8230;যেদিনের পরের দিন প্যারেড থাকবে&#8230;&#8230;যেদিন হাউজ ইন্সপেকশন থাকবে&#8230;&#8230;সিনিয়রদের প্র্যাক্টিকাল খাতা জমা দেবার দিনগুলো এগিয়ে আসবে&#8230;&#8230;যেদিন যেদিন বিকালে সিনিয়রদের বংগজ না হলে মিল্ক বিস্কিট খাবার শখ জাগবে&#8230;&#8230;সেদিন গুলোতে কাউকে না কাউকে যে ফাসতেই হবে!</p><p>এক এক জনের বাঁচার উপায় গুলোও একেক রকম বাহারী! প্রেয়াররুম কোন দিকে ঠিকমতন বলতে পারে কিনা সন্দেহ এরকম ছেলেপুলেদের দেখা যায় ধোপা থেকে কাপড় আসার দিন সেইযে প্রেয়ার রুমে ঢোকে আর বের হওয়া টওয়ার বালাই নেই। প্রিন্সিপাল প্যারেডের আগে দিয়ে দেখা যায় ক্লাস টুয়েল্ভের সহানুভূতিশীল কোন সিনিয়রের দুজোড়া জুতা নিয়ে এসেছে সেধে সেধে। তারপর যখনি&#8230;&#8230;</p><p>‘অই মাশরুর, নিচে আবুল ভাইয়ের কাছে যাও।’<br /> -‘পারবো না। আমাকে ক্লাস টুয়েল্ভের তৌহিদ ভাই কাজ দিসে।’<br /> ‘তৌহিদ ভাইয়েরটা শেষ হইলেই যাও।’<br /> -‘তৌহিদ ভাই আর কারো থেকে কাজ নিতে না করসে।’</p><p>কঠিন অবস্থা&#8230;&#8230;অগত্যা অন্য কোন গোবেচারা কে না ফাসিয়ে উপায় নাই।</p><p>যাদের হাতের লেখা মোটামুটি সুন্দর, যারা পুর্বজন্মের কোন এক পাপে এক আধটু ছবি আঁকার দুঃসাহস দেখিয়েছিল ভুল করে&#8230;&#8230;তাদের লাইফটা হেল। ডেস্কের উপর খাতার পর খাতা &#8211; বায়োলজি, ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রি। পারলে দুইহাতে দুইটা লিখতে হয়! সেই খাতা দেখিয়ে আবার সিনিয়ররা হাসিমুখে ল্যাবে ‘জী স্যার আমি নিজে লেখসি স্যার&#8230;&#8230;এইটাই আমার হাতের লেখা স্যার’ বলে ২৫শে ২৫ নিয়ে বেড়িয়ে আসতেন। আর হতভাগা জুনিয়রগুলোর পুরস্কার হতো পরের পরীক্ষার খাতা খানিও ওদের ঘাড়েই পড়তো।</p><p>প্রিন্সিপাল ইন্সপেকশনের দিন&#8230;&#8230;নিজের জায়গার খবর নাই&#8230;&#8230;জুতার ব্রাশের আঁশগুলো ক্ষয় করে দিয়ে আসতাম সিনিয়রদের নেটের জানালায় ঘষে ঘষে। কোনরকমে এক রুমের কাজ করে নিজের রুমে আসতে না আসতেই আবারো&#8230;&#8230; ‘জুনিয়র, অমুক ভাইয়ের রুমে গিয়ে বলবা তমুক ভাই পাঠাইসে।’ অনেকে আবার কিভাবে কিভাবে পিছলা মাছের মতন এগুলো থেকে বের হয়ে যেত। আর আমরা আমাদের কপাল চাপড়াতাম দুঃখে!</p><p>আমাদের ফররুখ ইসলাম মোঃ ফিরোজের নাম হয়ে গেল ফররুখ ফাসানি ফিরোজ&#8230;এ.কে.এ&#8230;এফ কিউব। ও বেচারা এম্নিতে একটু চুপচাপ থাকে। অন্য রুমে অত যায় টায় না। ফলাফল &#8230;&#8230;পাশের রুম থেকে রিপোর্ট আসলো ও নাকি পাশের রুমের যায়ই খালি ফাসানোর জন্য। ও কে রুমের সামনে দেখলেই তাই আমাদের টেন সীটার পাশেররুমের ৮টা ক্লাসমেট যার যার জান হাতে নিয়ে কেউ প্রানপণে খাটের তলায় ডাইভ দিত, কেউ হাতের কাছের জুতাটা পালিশের ভাব ধরে ছাল চামড়া উঠিয়ে দিত, কারো কারো বেডকাভারটা মুড়ি দেয়া দেখে মনে হতো এ বোধ হয় জন্মথেকেই ঘুমাচ্ছিলো&#8230;&#8230;। এ সবের মধ্যেই আমাদের ফিরোজ টপাটপ ফাসিয়ে বের হয়ে আসতো। ওর ও তো কিছু করারও নেই। কারণ আমাদের তখনকার একব্যাচ সিনিয়র রুমলীডার আশরাফ ভাইয়ের গোপন ইন্সট্রাকশন দেয়া আছে&#8230;‘ওই মিয়া&#8230;আগে পাশের রুম থেকে ফাসাবা, না পাইলে পরে নিজের রুমে আসবা’।</p><p>একই রকম ফাসাতেন আমাদের একব্যাচ সিনিয়র ফাসানি জাহিদ ভাই। উনিও ঘাঘু ফাসানি&#8230;&#8230;এমনিতে খুব একটা আমাদের, জুনিয়রদের রুমে আসতেন না। কাজেই রটে গেল&#8230;&#8230;উনার আসা মানেই ফাসাতে আসা। একদিন রুমে আমি, ইফতেখার, মাশরুর আর প্রিন্স। গ্যাজানোর ফাঁকে টের পাইনাই হঠাৎ দেখি জাহিদ ভাই রুমে ঢুকে গিয়েছেন। পালানোর কোন উপায় নাই। এ ওর মুখের দিকে কাচুমাচু হয়ে তাকিয়ে কি অজুহাত দেব ঠিক করার চেষ্টা করছি আর মনে মনে ভাবছি&#8230;&#8230;মোট চার জন আছি রুমে, আমার চাঁদবদন খানা ওনার চোখে ভালোমতন না পড়লেই তো বেঁচে যাই&#8230;&#8230;কিন্তু জাহিদ ভাই কাউকে কোন চান্স না দিয়ে&#8230;&#8230; ‘আশিক, নিচে আসিফ কামাল ভাইয়ের কাছে যাও। মাশরুর, ৮ নাম্বার রুমে সাজিদ ভাইয়ের কাছে। ইফতেখার, পাশের রুমে সামির ভাই। প্রিন্স, তুমি আমার সাথে আসো।’ মানে যাকে বলে মেশিনগানের ব্রাশ ফায়ারের মত ঠাঁ ঠাঁ চারজন কে ধরাশায়ী করে উনি উনার রাস্তায়। পেছনে বেকুবের মতন তাকিয়ে থাকি ভ্যাবাচেকা খাওয়া আমরা।</p><p>সেদিন আমরা অসহায়ের মতন মাথা নেড়ে স্বীকার করে নিয়েছিলাম। আসলে ফাসানো একটা আর্ট, আর জাহিদ ভাই&#8230;আমাদের ফিরোজ – এরা সেই আর্টের কঠিন ধরণের আর্টিস্ট&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/asheq/537/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>5</slash:comments> </item> </channel> </rss>
<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Minified using disk
Page Caching using disk (enhanced)
Object Caching 709/745 objects using disk
Content Delivery Network via static.cadetcollegeblog.com

Served from: www.cadetcollegeblog.com @ 2010-09-09 21:12:46 -->