<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ &#187; রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</title>
	<atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/author/raihanabir/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.cadetcollegeblog.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Wed, 16 May 2012 20:25:17 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	
		<item>
		<title>পঁচিশে ফেব্রুয়ারি, ২০১২</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/35176</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/35176#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 24 Feb 2012 18:04:39 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=35176</guid>
		<description><![CDATA[ক্ষমা করে দিয়েছি শিক্ষকদের, ভেবেছিলাম যাদের কোনদিন ক্ষমা করবোনা, ক্ষমা করেছি বাবা-মাকে, ছোটবেলায় ভিডিও গেমস খেলার জন্য দেওয়া সীমাহীন শাস্তির জন্য, ভেবেছিলাম কোনোদিন ক্ষমা করবোনা তাদেরও। বড় হয়ে গেছি হয়তো, শৈশবের করা শাসনের কথা ভেবে এখন মাঝে রাতে আবেগ অনুভব করি কেবল, রাগ নয়, ঘৃণা নয়। কিন্তু এতোকিছুর পরেও ক্ষমা করতে পারিনা, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে পাওয়া [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ক্ষমা করে দিয়েছি শিক্ষকদের, ভেবেছিলাম যাদের কোনদিন ক্ষমা করবোনা, ক্ষমা করেছি বাবা-মাকে, ছোটবেলায় ভিডিও গেমস খেলার জন্য দেওয়া সীমাহীন শাস্তির জন্য, ভেবেছিলাম কোনোদিন ক্ষমা করবোনা তাদেরও। বড় হয়ে গেছি হয়তো, শৈশবের করা শাসনের কথা ভেবে এখন মাঝে রাতে আবেগ অনুভব করি কেবল, রাগ নয়, ঘৃণা নয়। কিন্তু এতোকিছুর পরেও ক্ষমা করতে পারিনা, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে পাওয়া এডজুটেন্টকে। যিনি আদৌ সুস্থ মানুষ ছিলেন কিনা এখনও আমি নিশ্চিত নই, কিংবা মনে পড়ে বহুকাল আগে অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় যখন আমি যাচ্ছিলাম ইউনিক বাসে করে আমার গ্রামের বাড়িতে- ঢাকা ছাড়ার আগে দুইজন সৈনিকের বাসের হেলপারের বুট দিয়ে লাথি মেরে নিমেশেই দুইটি পা ভেঙ্গে দেওয়ার দৃশ্য।</p>
<p>সেনাবাহিনী আমি সইতে পারিনা। একধরণের অযৌক্তিক ক্রোধ আমার কাজ করে সেনাবাহিনীর কথা মনে পড়লে। অথচ আমি আমাদের আশরাফ কিংবা মাসুদকে হাতের কাছে পেলে এখনও বুকে জড়িয়ে ধরি, মেয়ে নিয়ে গল্প করি, কলেজে দীপালী পত্রিকা পড়ার স্মৃতিচারণ করি। পৃথিবীব্যপি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো এরপর আমাদের আবার আলাদা করে দেয়। আমরা রক্ত মাংসের মানুষ থেকে কেউ হয়ে যাই সার্টিফাইড দেশপ্রেমিক, কেউ শিক্ষক, কেউ সেনাকর্মকর্তা, কেউ কর্পোরেট। আমাদের প্রতিষ্ঠানরা আমাদের জীবনের মানে শেখায়। আমরা আমাদেরই সেইসব জীবনের সোপান বেয়ে উঠে যেতে থাকি নিজেদের মতো করে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সম্মান সমুন্নত রাখতে আমরা আমাদের রক্ত মাংসের জীবনটাকে উৎসর্গ করে দিতে থাকি, আমরা লাথি খেতে থাকি, কখনও লাথি ফেরত দিতে থাকি।</p>
<p>প্রতিষ্ঠানরা আমাদের নিয়ে রাজনীতি করে, তারা আমাদের গণায় ধরে কিংবা গণায় ধরেনা, বৃহত্তর স্বার্থে কখনও আমাদের কোরবানী দেয়, কখনও দেয় না। আমরা মরে যাই, বেঁচে যাই, প্রতিষ্ঠানের গর্বে উজ্জীবিত হই, আমরা রক্তমাংসের মানুষ থাকিনা, আমরা থাকতে চাইলেও প্রতিষ্ঠান আমাদের থাকতে দেয়না।</p>
<p>এভাবেই আমাদের দিন কেটে যায়। পঁচিশে ফেব্রুয়ারি এলে আমাদের তানভীর ভাই, হায়দার ভাইয়ের কথা মনে হয়, তাদের লাশের কথা মনে হয়, তাদের জমে যাওয়া রক্তের কথা মনে হয়, তাদের জীবিত চোখের মাঝে উঁকি দেওয়া স্বপ্নের কথা মনে হয়। আমাদের ভেতরের মানুষটা ডুকরে কেঁদে উঠে- আমাদের মানুষটা বলে পৃথিবী কী অন্য কোনোভাবে এগিয়ে যেতে পারেনা? আমরা সবাই কি মিলেমিশে এই চরমতম প্রাপ্তি একটা মাত্র জীবনকে একটু আনন্দ-ভালোবাসাবাসিতে কাটিয়ে দিয়ে পারতামনা?</p>
<p>আমরা পারিনা। ভাইয়ের কিংবা বাবার রক্তকে পাশ কাটিয়ে আমরা এগিয়ে যাই, পঁচিশে ফেব্রুয়ারি এলে আমরা অস্থির হয়ে উঠি কিন্তু আমরা এগিয়ে যাই, পৃথিবী এগিয়ে যায়। </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/35176/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>13</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বিশ্বাসের ভাইরাসঃ বিজ্ঞান ও ধর্ম (১/২)</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/27707</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/27707#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 27 Nov 2010 06:29:10 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=27707</guid>
		<description><![CDATA[১. ধরা যাক, আমার থাকার রুমটি একটি চারতলা বাড়ির তিন তলায়। একরুমে বন্দি হয়ে জীবনের পুরো সময় আমরা কাটিয়ে দিতে পারিনা, ইহলৌকিক কাজের জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রত্যেকেরই নেমে আসতে হয় মাটিতে। মাটিতে নেমে আসার কাজটি আমরা কিভাবে করি? জানালা দিয়ে সরাসরি লাফিয়ে পড়ে? নাকি, সিড়ি বেয়ে? অবশ্যই সিড়ি বেয়ে। কিন্তু সিড়ি বেয়ে কেন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>১.</p>
<p>ধরা যাক, আমার থাকার রুমটি একটি চারতলা বাড়ির তিন তলায়। একরুমে বন্দি হয়ে জীবনের পুরো সময় আমরা কাটিয়ে দিতে পারিনা, ইহলৌকিক কাজের জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রত্যেকেরই নেমে আসতে হয় মাটিতে। মাটিতে নেমে আসার কাজটি আমরা কিভাবে করি?</p>
<p>জানালা দিয়ে সরাসরি লাফিয়ে পড়ে?</p>
<p>নাকি, সিড়ি বেয়ে?</p>
<p>অবশ্যই সিড়ি বেয়ে। কিন্তু সিড়ি বেয়ে কেন নামি? নিউটনের মাথাতে আপেল পড়ারও বহুকাল আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা উপর থেকে মাটিতে সরাসরি লাফিয়ে পড়ে পা ভেঙ্গে সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, আর যাই হোক, এমন ভাবে নেমে পড়া যাবেনা। ধীরে- সুস্থে, ধাপে, ধাপে নামতে হবে। এটি পর্যবেক্ষণলব্দ একটি বিশেষ জ্ঞান যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের মাঝে সঞ্চারিত হয়েছে। এই বিশেষ জ্ঞান &#8216;ইয়ো&#8217; যুগে বিজ্ঞান নামে প্রচলিত। সবচেয়ে বড় কথা, বিজ্ঞান কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য সত্যি না। মুসা নবী তার জাদুর লাঠি ছুয়ে নদীর বুকে পথ তৈরী করে নিজের লোকজনকে পার করার ব্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু সে ব্যবস্থা কাজ করেনি তার প্রতিপক্ষের জন্য। বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট কারও জন্য কাজ করেনা। বিজ্ঞান নদী পার হবার জন্য সেতু তৈরী করেছে। সেই সেতু দিয়ে ধনী বিল গেটস যেমন পার হতে পারেন, তেমনি পার হতে পারেন, আমাদের বাস্তুহারা নেত্রী!</p>
<p>ঈশ্বরের নাম দিয়ে তিন তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়া কিংবা সেতু ব্যবহার না করে পথের আশায় নদীর উপর দিয়ে হাঁটার মানুষ একজনও নেই, কিন্তু বিজ্ঞানের এই অবদান অস্বীকারকারীদের সংখ্যা অসীম। বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল সুতরাং এটি সত্য নয়, বিজ্ঞানের এই তত্ত্ব আজ আছে তো কাল নেই, সুতরাং বিজ্ঞান পাশের বাড়ির চোখট্যারা মফিজের মতোই যার কথার কোনো পাত্তা আমরা দেই না। </p>
<p>আমাদের সকল জীবনযাত্রা আজ বিজ্ঞানের আর্শীবাদ পুষ্ট। আমরা বিজ্ঞান নিয়ে পড়ি, সে পড়া দিয়ে চাকরি করি, চাকরি করার পর এসি গাড়িতে চড়ে বিয়ে করতে যাই, জন্মনিরোধ করার জন্য কনডম ব্যবহার করি। বিজ্ঞান দিয়ে আমরা সকল সমস্যার উত্তর বের করি, শুধু ধর্মীয় গালগল্প নিয়ে কিছু বলতে গেলেই আমরা বিজ্ঞানের হাতে একটা স্কেল ধরিয়ে দিয়ে বলি, রাস্তা মাপ!</p>
<p>ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা বিজ্ঞান ত্যাগ করার পরামর্শ দেই সবাইকে, আমরা বলি যুক্তি- তর্ক- দর্শনের কোনো স্থান মানব সভ্যতায় নেই। এটা একদলের কথা। আরেকদল আছেন, যারা মডারেট ধার্মিক। এরা এসে একবাক্যে বলে দেন, ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের কোনো সংঘাত নেই। মডারেট হলেও বিশ্বাসের ভাইরাস আক্রান্ত ধার্মিকদের মতোই তারা যা মনে আসে তাই বলে দেন অনায়াসে, কেন সংঘাত নেই, উদাহরণ, রেফারেন্স কোনোকিছুর ধার ধারার প্রয়োজন তারা মনে করেন না। দুই নৌকায় পা দিয়ে রাখা এই মডারেটররা বিজ্ঞানের সকল সুবিধা গ্রহণ করতে সিদ্ধহস্ত হলেও চেতনা গ্রহণে একেবারেই নারাজ।</p>
<p>বিজ্ঞান এবং ধর্মের সংঘাত নিয়ে এ লেখা। কাদের জন্য? যেকোনো মানুষ, যে ইতিমধ্যে একটি বই পড়ে যাবতীয় সকল জ্ঞান লাভ করে বসে নেই, আরও জানতে আগ্রহী, বিপরীত মত গ্রহণে আগ্রহী, তাদের জন্য। যারা ভিন্নমতের লেখা না পড়েই, &#8216;চোখওয়ালা অন্ধ&#8217;, &#8216;জেগে জেগে ঘুমানো&#8217; টাইপ সপ্তম শ্রেনীর স্ট্যাণ্ডার্ডের বিতর্কের ডায়লগ ছুড়ে দিয়ে বেহেশতে একটি হুর বরাদ্দ পাবার আশায় ব্লগে আসেন তাদের বহুদূরে চলে যাবার অনুরোধ রইলো!</p>
<p>এ লেখায় মুক্তমনা সম্পাদক এবং জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক <a href="http://mukto-mona.com/banga_blog/?author=5">অভিজিৎ রায়ের</a> অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট আছে। তাঁর প্রতি অপরীসীম কৃতজ্ঞতা।</p>
<p><strong>বি-জ্ঞান এর গান</strong></p>
<p>মহাবিশ্বের উৎপত্তি আর বিকাশ নিয়ে বিজ্ঞানমনস্ক আলোচনার সূত্রপাত ঘটানোর প্রয়াসে ২০০৫ সালে অভিজিৎ রায় লিখেছিলেন, &#8216;আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী&#8217; শিরোনামের বই [১]। বইটির &#8216;লেখকের কথা&#8217; অংশে বিজ্ঞান সম্পর্কে দু চার কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন,</p>
<blockquote><p>‘বিজ্ঞানের অবদান কি কেবল বড় বড় যন্ত্রপাতি বানিয়ে মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে আনা? আমাদের স্কুল কলেজে যেভাবে বিজ্ঞান পড়ানো হয় তাতে এমনটিই মনে হওয়া স্বাভাবিক। ব্যপারটা কিন্তু আসলে ঠিক তেমনটি নয়। বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে মানুষ বড় বড় যন্ত্রপাতি বানায় বটে; তবে সেগুলো স্রেফ প্রযুক্তিবিদ্যা আর প্রকৌশলবিদ্যার আওতাধীন; বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞানের অভিযোজন মাত্র। আসলে বিজ্ঞানের একটি মহান কাজ হচ্ছে প্রকৃতিকে বোঝা, প্রকৃতিতে ঘটনলীর ব্যাখ্যা খুঁজে বের করা। বিজ্ঞানের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য্য এখানেই। হ্যাঁ, জ্যোৎস্না রাত কিংবা পাখীর কুজনের মত বিজ্ঞানেরও একটি নান্দনিক সৌন্দর্য্য আছে, সৌকর্য্য আছে- যার রসাস্বাদন কেবল বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। বিজ্ঞানসনস্ক বা বিজ্ঞানের অন্তর্নির্হিত মর্মকথা বুঝতে হলে বিজ্ঞানীই হতে হবে এমন কোন কথা নেই, তবে বিজ্ঞান-প্রেমিক হতে হবে বলাই বাহুল্য। বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ কার্ল স্যাগান তাঁর বিখ্যাত ‘The Demon-Haunted World’ বইয়ের ভূমিকায় এ কারণেই হয়তো বলেছিলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলি সঠিকভাবে ব্যাখ্যা না করাকে এক ধরণের বিকৃত মনোভাব বলেই আমার মনে হয়। যখন মানুষ প্রেমে পড়ে, তখন সারা পৃথিবীর কাছে সে তার প্রেমের কথা প্রচার করতে চায়। এ বইটি আমার প্রেমের একটি ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি, বিজ্ঞানের সাথে আমার সারা জীবনের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ইতিকথা’।
</p></blockquote>
<p>&#8216;আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী&#8217; বইটি বেরুনোর পরে অনেকেই একে বাংলাদেশে বিজ্ঞানমনস্কতার প্রসারের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখেছিলেন। এক বছরেই বইটির প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে পরিবর্তিত এবং পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিলো।  ড. শাব্বির আহমেদ, ড. বিপ্লব পাল,  ড. হিরন্ময় সেনগুপ্ত, ড. শহিদুল ইসলাম, ড.বিনয় মজুমদারের মত বরেন্য লেখক এবং শিক্ষাবিদেরা বইটির রিভিউ করেছিলেন । সে সব রিভিউ প্রকাশিত হয়েছে এনএফবি, অবজারভার, হলিডে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট,  ডেইলি স্টার, মৃদুভাষণ, ভোরের কাগজ সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।  প্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল কালি ও কলমের একটি সংখ্যায় গ্যালিলিওকে নিয়ে লিখতে গিয়ে বই থেকে রেফারেন্স দিয়েছিলেন।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেশ বড়সড় করে আয়োজিত প্রকাশনা উৎসবে  বইটির ঢালাও প্রশংসা করেছিলেন  জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান,  সাহিত্যিক বশীর আল হেলাল, অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম,  সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত, লেখক ও সংকলক মীজানুর রহমান (মীজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা খ্যাত) সহ অনেকেই।  </p>
<p>কিন্তু যে ব্যাপারটি বলার জন্য এখানে এতো আয়োজন তা হল, আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী বইটিতে পদার্থবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক ধ্যান-ধারনাগুলোর পাশাপাশি, শেষ অধ্যায়টিতে আধুনিক বিজ্ঞানের সর্বশেষ তত্ত্ব ও তথ্যের আলোকে &#8216;ঈশ্বর অনুকল্প&#8217;টি নিয়েও নিরপেক্ষ আলোচনা ছিলো । আর এখানেই দেখা দিয়েছিলো একটি মজার সমস্যা। &#8216;আলো হাতে চলিয়ায়ছে আঁধারের যাত্রী&#8217; বইটির ভুমিকা লিখেছিলেন বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত পদার্থবিদ অধ্যাপক এ এম হারুন অর রশীদ। তিনি বইটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসাবাক্য প্রক্ষেপণের পরেও ভুমিকার শেষ দিকে একটি বাক্য জুড়ে দেন -</p>
<blockquote><p>ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব বিজ্ঞানের বিষয় নয় এটা বুঝতে তরুণ মনের সময় লাগে অনেক, তবে সে পথে আলো হাতে চলা আঁধারের যাত্রীকে নিরুৎসাহিত করা মোটেও উচিৎ নয় বলেই আমার মনে হয়।
</p></blockquote>
<p>উপরে এ এম হারুন অর রশীদ &#8216; ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব বিজ্ঞানের বিষয় নয়&#8217; বলে যে উক্তিটি বইয়ের ভূমিকায় করেছিলেন তা খুব পরিচিত এবং জনপ্রিয় ধারণার প্রতিফলন। এ এম হারুন অর রশীদ থেকে শুরু করে অধ্যাপক জাফর ইকবালের মত জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখকেরা প্রায়ই আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, বিজ্ঞানের কাজ হচ্ছে পার্থিব জ্ঞানের চর্চা করা,  ঈশ্বর কিংবা এ ধরণের অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে কখনোই কোন অভিমত দিতে পারে না বিজ্ঞান। তাই ও নিয়ে টু-শব্দ করা বিজ্ঞান লেখকদের অনুচিত। কিন্তু সত্যই কি তাই?     </p>
<p><strong>বিজ্ঞান সত্যই কি অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে অভিমত দিতে  অক্ষম?</strong></p>
<p>আগের দিনে মানুষেরা বাড়ি থেকে একটু দূরে থাকা পুকুরের অপর পাড়ে রাতের অন্ধকারে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখে ভাবতো সেটা বুঝি কোনো ভুত-জ্বিন-পরীর কাজ। এরপর মঞ্চে হাজির হলো বিজ্ঞান। বিজ্ঞান এসে আমাদের জানালো মিথেন গ্যাসের কথা। আমাদের মনে থাকা জ্বিন পরীর গল্পকে শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে সেখানে বসিয়ে দিলো আসল সত্য। এখন আর কেউ পুকুর পাড়ে আগুন জ্বলতে দেখলে ভয় পায়না, তারা জানে এটা সম্পূর্ন প্রাকৃতিক ব্যাপার।</p>
<p>ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় &#8211; এভাবেই মানুষের মনে জমে থাকে থাকা অসংখ্য কুসংস্কারের কালো নিকষ আঁধার দূর করে আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে বিজ্ঞান।। বিজ্ঞানের এই গুনের কারণে এই ধারণাটিকে আমরা আশীর্বাদ মনে করি। কিন্তু যেই বিজ্ঞান আমাদের মনের সবচেয়ে বড় কুসংস্কার সম্পর্কে কিছু বলতে যায়, ওমনি শুরু হয়ে যায় তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য। আমাদের মনের কুসংস্কারটিকে সমূলে উৎপাটিত করে দিবে বিজ্ঞান, আমাদের মৃত্যু পরবর্তী সুখের জীবনকে তছনছ করে বিজ্ঞান, অবচেতন মনের এই ভাবনায় আমরা কখনই বিজ্ঞানের সেই কুসংস্কার নিয়ে কথা বলা মেনে নিতে পারিনা।</p>
<p>ইণ্টারনেটে ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে লিখতে গিয়ে আমরা প্রায়শই এমন মানুষের মুখোমুখি হই। তাদের মাঝে অনেকেই বলেন, বিজ্ঞান হলো যুক্তি এবং কারিগরী জ্ঞানের প্রয়োগ আর ধর্ম হলো বিশ্বাস। এ দুয়ের অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা বলয়ে। বিজ্ঞান দিয়ে কোনভাবেই ঈশ্বর নামক বিষয়ে কথা বলা যাবেনা। তারা বিজ্ঞান ভালোবাসেন কিন্তু একই সাথে মনে করেন যে, ঈশ্বরের অনস্তিত্ব প্রমানে বিজ্ঞানকে টেনে আনাটা খুবই হাস্যকর। যদিও তারা ভুতে &#8220;বিশ্বাসের&#8221; মতো বিষয়ে বিজ্ঞানকে টেনে নিয়ে এসে এই বিশ্বাসকে কচুকাটা করাটাকে হাস্যকর মনে করেন না, কোনভাবেই।  হাস্যকর মনে করেন না অসুখ বিসুখ হলে সাপের মন্ত্র না জপে  ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াকে ,  তারা শুধু হা রে রে রে রে করে ওঠেন যখন ধর্ম, ঈশ্বর আর অতিপ্রাকৃত বিষয়ে কথা চেষ্টা করা হয়। </p>
<p>কিন্তু সৌভাগ্যের ব্যাপার হল, পশ্চিমা বিশ্বের প্রথিতযশা বিজ্ঞানীরা আজ &#8216; ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব বিজ্ঞানের বিষয় নয়&#8217; ধরণের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে না দিয়ে সঠিক অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। যেমন, বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার অতি সাম্প্রতিক বই ‘গ্রান্ড ডিজাইন’ -এ সরাসরি বলেছেন [২] – মহাবিশ্ব  ‘সৃষ্টি’র পেছনে ঈশ্বরের কোন ভূমিকা নেই। মহাবিশ্ব পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম নীতি অনুসরণ করে স্বতস্ফুর্তভাবে তৈরি হয়েছে। মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং অস্তিত্বের ব্যাখ্যায় ঈশ্বরের আমদানি একেবারেই অযথা। তার নতুন বই ‘গ্রাণ্ড ডিজাইন’ –এ খুব চাঁচাছোলা ভাবেই বলেন  (গ্র্যান্ড ডিজাইন, পৃষ্ঠা ১৮০)–</p>
<blockquote><p>‘মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সূত্রের মতো পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্র কার্যকর রয়েছে, তাই একদম শূন্যতা থেকেও মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্ভব এবং সেটি অবশ্যম্ভাবী। ‘স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৃষ্টি’ হওয়ার কারণেই ‘দেয়ার ইজ সামথিং, র‌্যাদার দ্যান নাথিং’, সে কারণেই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব রয়েছে, অস্তিত্ব রয়েছে আমাদের।   মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় বাতি জ্বালানোর জন্য ঈশ্বরের কোন প্রয়োজন নেই ।’
</p></blockquote>
<p>আসলে ঈশ্বর সহ বেশ কিছু তথাকথিত অতিপ্রাকৃতিক ব্যাপারে আধুনিক বিজ্ঞান যে সুস্পষ্ট অভিমত দিতে পারে তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব ভালো করে বোঝা যাচ্ছিলো। বিশেষতঃ ২০০৪ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বে পাঁচজন বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের দ্বারা ছয়টি &#8216;বেস্ট সেলিং&#8217; পুস্তক প্রকাশিত হয়। সেই স্বনামক্যাত লেখকেরা হচ্ছেন &#8211; স্যাম হ্যারিস, ডেনিয়েল ডেনেট, রিচার্ড ডকিন্স, ভিক্টর স্টেঙ্গর এবং ক্রিস্টোফার হিচেন্স। তারা খুব সুস্পষ্টভাবে অভিমত দিয়েছেন যে, আধুনিক বিজ্ঞান আজ  যে অবস্থায় এসে পৌঁছেছে,সে অবস্থান থেকে সে ঈশ্বর সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুকল্পগুলো পরীক্ষা করে উপসংহারে পৌঁছুতে সক্ষম। তাদের এই নতুন আন্দোলনকে বিশ্বব্যাপী &#8216;নব্য নাস্তিকতা&#8217;র আন্দোলন (New Atheism Movement) হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে [৩]।</p>
<p>বিগত কয়েক দশকে বিজ্ঞান এবং দর্শনশাস্ত্রের নানা দিকে  বিবর্তন ঘটেছে। ঈশ্বর সংজ্ঞায়িত নন, ঈশ্বর বিজ্ঞানের বিষয় নন, কিংবা ঈশ্বরকে প্রমাণ বা অপ্রমাণ কোনটাই করা যায় না &#8211; এমন বক্তব্যগুলোকে এখন আর ঢালাওভাবে পতাকার মত বহন করা হয় না। যেমন জুডিও-খ্রিস্টান-ইসলামিক ইশ্বরের অনেক বৈশিষ্ট্য যে সুসংজ্ঞায়িত তা ধর্মগ্রন্থ থেকে পাওয়া যায়। যেমন, সেই ঈশ্বর একজন ব্যক্তি ঈশ্বর &#8211; তিনি রাগ ক্ষোভ ঘৃণা প্রকাশ করেন, অবিশ্বাসীদের শাস্তি দেন, তার জন্য আরশ বা সিংহাসন রয়েছে, ইত্যাদি। এখন এধরণের ঈশ্বর যদি মহাবিশ্ব তৈরি করে থাকেন, জীবন তৈরির পরিকল্পনা এবং নকশা প্রণয়ন করে থাকেন, প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে থাকেন তবে কিন্তু সেসব দাবীগুলো আমাদের পরীক্ষা করে যাচাই করতে পারার কথা। আমরা আজ  জানি, যাচাইয়ের পর বেশ অনেক দাবীই  ইতিমধ্যে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরাই তা করেছেন। বিবর্তন তত্ত্বই প্রমাণ করেছে জেমস আশারের ৪০০৪ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ঈশ্বরের বিশ্বসৃষ্টির কেচ্ছা কাহিনী কিংবা ২৩৪৮ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে নূহের প্লাবনের কেচ্ছা মিথ্যা। এধরণের অনেক কিছুই ভবিষ্যতেও যে বিজ্ঞান ভুল প্রমাণ করবে না তা কে বলতে পারে? যেমন, নব্যনাস্তিকতাবাদী বিজ্ঞানীরা মনেই করেন, যীশুর ভার্জিন বার্থ, যীশুর পুনরুত্থান, আত্মার অস্তিত্ব এবং মৃত্যুর পরে তার বেঁচে থাকা -ধার্মিকদের কাছ থেকে আসা এই দাবীগুলো আসলে প্রকারন্তরে বৈজ্ঞানিক দাবীই, বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করা যাবে। রিচার্ড ডকিন্স তার শীর্ষ বিক্রিত বই গড ডিলুশনে পরিস্কার করেই বলেন,&#8217;বিনা পিতায় যীশু জন্মাতে পারেন কিনা তা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের অংশ, কোন নৈতিকতা বা মূল্যবোধের প্রশ্ন নয় [৪]।   </p>
<p>বিজ্ঞানীরা এখন বলেন, ঈশ্বরের প্রার্থনায় সাড়া দেওয়া কিংবা সত্যিকার ঈশ্বর কে &#8211; এই হাইপোথিসিসগুলো কিন্তু সহজেই পরীক্ষা করে নির্ণয় করা যায়। যেমন, ধরা যাক একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হল যেখানে মৃত্যুপথযাত্রী হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান রোগীর জন্য আলাদা করে প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হবে। দেখা গেল ইসলামী প্রার্থনাতেই রোগী কেবল ভাল হচ্ছে &#8211; কিংবা মুসলিম রোগী পটাপট সেরে উঠছে, আর বাকিরা পটল তুলছে, তাহলে সাথে সাথে আমরা বুঝে নিতাম ইসলামী আল্লাহই সত্যিকার ঈশ্বর, কারণ তিনিই প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন। কিন্তু এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। বরং মায়ো ক্লিনিক, ডিউক ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো প্রার্থনার সাথে রোগির ভাল হওয়ার কোন সম্পর্কই খুঁজে পায়নি [৫]।</p>
<p>আব্রাহামিক ধর্মগুতে বর্ণিত ঈশ্বর পরষ্পররবিরোধী একটি সত্ত্বা। যেমন বাইবেলের ধারনা অনুযায়ী ঈশ্বর অদৃশ্য (Col. 1:15, ITi 1:17, 6:16), এমন একটি সত্ত্বা যকে কখনও দেখা যয় নি (John 1:18, IJo 4:12)। অথচ বাইবেলেরই বেশ কিছু চরিত্র যেমন মুসা (Ex 33:11, 23), আব্রাহাম, জেকব (Ge. 12:7,26:2, Ex 6:3) ঈশ্বরকে দেখতে পেয়েছিলেন বলে বর্ণিত হয়েছে। ঈশ্বর পরিস্কার করেই বাইবেলে বলেছেন &#8211;  &#8216;তোমরা আমার মুখ দেখতে পাবে না, আমাকে দেখার পর কেউ বাঁচতে পারবে না&#8217; (Ex 33:20)।  অথচ, জেকব ঈশ্বরকে জীবন্ত দেখেছেন (Ge 32:30)। এগুলো তো পরিস্কার স্ব-বিরোধীতা। ঠিক একই কথা বলা যায় হজরত মুহম্মদের ‘মিরাজে’র ক্ষেত্রেও। আরজ আলী মাতুব্বর তার ‘সত্যের সন্ধান’ গ্রন্থে লিখেছেন, </p>
<blockquote><p>
‘এ কথায় প্রায় সকল ধর্মই একমত যে, ‘সৃষ্টিকর্তা সর্বত্র বিরাজিত’। তাহাই যদি হয়, তবে তাঁহার সান্নিধ্যলাভের জন্য দূরে যাইতে হইবে কেন? আল্লাহতা’লা কি ঐ সময় হযরত (দ.) &#8211; এর অন্তরে বা তাঁহার গৃহে, মক্কা শহরে অথবা পৃথিবীতেই ছিলেন না? পবিত্র কোরানে আল্লাহ বলিয়াছেন &#8211; ‘তোমরা যেখানে থাক, তিনি তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছেন’ (সুরা হাদিদ &#8211; ৪)। মেরাজ সত্য হইলে এই আয়াতের সহিত তাহার কোন সঙ্গতি থাকে কি?’
 </p></blockquote>
<p>আসলে আব্রাহামিক গড হিসবে চিত্রিত অনেক এট্রিবিউটকেই  যুক্তির নিরিখে পরীক্ষা করে ভুল প্রমাণ করা যায় তা পদার্থবিজ্ঞানী ভিক্টর স্টেংগর দেখিয়েছেন তার গড &#8211; দ্য ফেইল্ড হাইপোথিসিস বইয়ে। তিনি বলেন,</p>
<blockquote><p>আমি আমার বইয়ে ধার্মিকদের দেওয়া ঈশ্বরের অনুকল্প নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবেই আলোচনা করেছি, এবং আমার উপসংহার হচ্ছে আব্রাহামিক ঈশ্বর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
</p></blockquote>
<p>আবার, ঈশ্বরকে সংজ্ঞায়িত করতে যে ধরণের গুনাবলী আরোপ করা হয় পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে সেগুলো পরষ্পর বিরোধী কিনা। যেমন, কেউ যদি চারকোনা বৃত্তের অস্তিত্ব দাবী করে, সেটা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করা যাবে এই ধারনাটি পরষ্পর বিরোধী। ধর্ম-দর্শন নির্বিশেষে যে বেশিষ্ট্যগুলো দিয়ে ঈশ্বরকে সচরাচর মহিমান্নিত করা হয় সেগুলো সবই দেখা গেছে যুক্তির কষ্ঠিপাথরে খুবই ভঙ্গুর। যেমন, ঈশ্বরকে বলা হয় ‘পরম দয়াময়’ (all-loving) এবং সর্ব শক্তিমান (all-powerful or omnipotent), নিখুঁত (perfect), সর্বজ্ঞ (omniscient) ইত্যাদি। কিন্তু সর্বশক্তিমত্তা (omnipotence) এবং সর্বজ্ঞতা (omniscience) যে একসাথে প্রযোজ্য হতে পারে না তা যুক্তিবাদীদের দৃষ্টি এড়ায়নি। যেমন,  ক্যারেন ওয়েন্স তা সুন্দরভাবে নিম্নোক্ত পংক্তিতে তুলে ধরেন [৬]–</p>
<p>Can Omniscient God, who<br />
Knows the future, find<br />
The omnipotence to<br />
Change His future mind?</p>
<p>কথা হচ্ছে, ঈশ্বর যদি সর্বজ্ঞ বা ‘অমনিসায়েণ্ট’ হন, তবে তিনি আগে থেকেই জানেন যে তিনি ভবিষ্যতের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে সেটি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন।   ভবিষ্যৎ ঘটনা তিনি  শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করতেই পারেন – কারণ তিনি সর্বশক্তিমান, আফটার অল! কিন্তু মুশকিল হল, তিনি কি করবেন তা অনেক আগে থেকেই জানার মানে হল শেষ সময়ে আকস্মিকভাবে মত পরিবর্তন করা তার পক্ষে অসম্ভব।  আর  তার পক্ষে কোন কিছু অসম্ভব  মানেই হচ্ছে তিনি সর্বশক্তিমান নন । </p>
<p>ঈশ্বর যে সর্বশক্তিমান নন, তা নিচের প্রশ্নটির সাহায্যে সহজেই দেখানো যেতে পারে –</p>
<p>যদি প্রশ্ন করা হয় &#8211; </p>
<p>‘ঈশ্বর কি এমন কোন ভারী পাথরখন্ড তৈরি করতে পারবেন, যা তিনি নিজেই উত্তোলন করতে পারবেন না?’ </p>
<p>এ প্রশ্নটির উত্তর যদি হ্যা হয় – তার মানে হচ্ছে ঈশ্বরের নিজের তৈরি পাথর নিজেই তুলতে পারবেন না, এর মানে তিনি সর্বশক্তিমান নন।  আবার প্রশ্নটির উত্তর যদি না হয়, তার মানে হল, সেরকম কোন পাথর তিনি বানাতে পারবেন না, এটাও প্রকারান্তরে তার অক্ষমতাই প্রকাশ করছে। এ থেকে বোঝা যায়, অসীম ক্ষমতাবান বা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বলতে কিছু নেই। দেখা গেছে, মানুষের কাছে যা যৌক্তিকভাবে অসম্ভব, তা ঈশ্বরও তৈরি করতে পারছেন না। ঈশ্বর পারবেন না চারকোনা বৃত্ত আঁকতে, ঈশ্বর পারবেন না কোন ‘বিবাহিত ব্যাচেলর’ দেখাতে কারণ এগুলো যৌক্তিকভাবে অসম্ভব। </p>
<p>ঈশ্বর যে পরম করুণাময় বা ‘অল লাভিং’ নন, তা বুঝতে রকেট সায়ন্টিস্ট হতে হয় না। আরজ আলী মাতুব্বর তার ‘সত্যের সন্ধানে’ গ্রন্থে বলেছেন, </p>
<blockquote><p>‘কোন ব্যক্তি যদি একজন ক্ষুধার্তকে অন্নদান ও একজন পথিকের মাল লুণ্ঠণ করে, একজন জলমগ্নকে উদ্ধার করে ও অন্য কাউকে হত্যা করে অথবা একজন গৃহহীনকে গৃহদান করে এবং অপরের গৃহ করে অগ্নিদাহ, তবে তাহাকে ‘দয়াময়’ বলা যায় কি? হয়ত তাহার উত্তর হইবে &#8211; ‘না’। কিন্তু উপরোক্ত কার্যকলাপ সত্ত্বেও ঈশ্বর আখ্যায়িত আছেন ‘দয়াময়’ নামে। &#8230; জীব জগতে খাদ্য-খাদক সম্পর্ক বিদ্যমান। যখন কোন সবল প্রাণী দুর্বল প্রাণীকে ধরিয়া ভক্ষণ করে, তখন ঈশ্বর খাদকের কাছে দয়াময় বটে, কিন্তু তখন কি তিনি খাদ্য-প্রাণীটির কাছেও দয়াময়? যখন একটি স্বর্প একটি ব্যাঙকে ধরিয়া আস্তে আস্তে গিলিতে থাকে, তখন তিনি স্বর্পটির কাছে দয়াময় বটে। কিন্তু ব্যাঙটির কাছে তিনি নির্দয় নহেন কি? পক্ষান্তরে তিনি যদি ব্যাঙটির প্রতি সদয় হন, তবে সর্পটি অনাহারে মারা যায় না কি? &#8230; কাহারো জীবন রক্ষা করা যদি দয়ার কাজ হয় এবং হত্যা করা হয় নির্দয়তার কাজ, তাহা হইলে খাদ্য-খাদকের ব্যাপারে ঈশ্বর সদয়ের চেয়ে নির্দয়ই বেশী। তবে কতগুন বেশী তাহা তিনি ভিন্ন অন্য কেউ জানে না, কেননা তিনি এক একটি জীবের জীবন রক্ষা করার উদ্দেশে অসংখ্য জীবকে হত্যা করিয়া থাকেন। কে জানে একটি মানুষের জীবন রক্ষর জন তিন কয়টি মাছ, মোরগ, ছাগল ইত্যাদি হত্যা করেন?&#8230; কেহ কেহ মনে করেন ঈশ্বর সদয়ও নহেন এবং নির্দয়ও নহেন। তিনি নিরাকার নির্বিকার ও অনির্বচনীয় এক সত্তা। যদি তাহা নাই হয়, তবে পৃথিবীতে শিশুমৃত্যু, অপমৃত্যু, এবং ঝড়, বন্যা, মহামারী, ভুমিকম্প ইত্যাদি প্রাণহানিকর ঘটনাগুলির জন্য তিনিই কি দায়ী নহেন?’
</p></blockquote>
<p>আরজ আলীর প্রশ্নমালা মানব মনের অন্তহীন সংশয়বাদী চিন্তাকেই তুলে ধরেছে সার্থকভাবে। গ্রীক দার্শনিক এপিকিউরাস (৩৪১-২৭০ বিসি) সর্বপ্রথম ‘আর্গুমেন্ট অব এভিল’ (Argument of Evil)-এর সাহায্যে ‘ঈশ্বরের অস্তিত্বের’ অসারতা তুলে ধরেন  এভাবে :</p>
<blockquote><p>ঈশ্বর কি অন্যায়-অবিচার-অরাজগতা নিরোধে ইচ্ছুক, কিন্তু অক্ষম?<br />
তাহলে তিনি সর্বশক্তিমান নন।</p>
<p>তিনি কি সক্ষম, কিন্তু অনিচ্ছুক?<br />
তাহলে তিনি পরম দয়াময় নন, বরং অপকারী সত্ত্বা।</p>
<p>তিনি কি সক্ষম এবং ইচ্ছুক -দুটোই?<br />
তাহলে অন্যায়-অবিচার-অরাজগতা পৃথিবীতে বিরাজ করে কিভাবে?</p>
<p>তিনি কি সক্ষমও নন, ইচ্ছুকও নন?<br />
তাহলে কেন তাঁকে অযথা ‘ঈশ্বর’ নামে ডাকা?</p>
</blockquote>
<p>অকাট্য এই যুক্তি।‘The Oxford Companion to Philosophy’ স্বীকার করেছে যে, সনাতন আস্তিকতার বিরুদ্ধে আর্গুমেন্ট অব এভিল বা ‘মন্দের যুক্তি’ সবচেয়ে শক্তিশালী মরণাস্ত্র, যা কেউই এখন পর্যন্ত ঠিকমত খন্ডন করতে পারেনি [৭]। এ তো নিঃসন্দেহে বোঝা যায় যে, প্লেগ, মহামারী, খড়া, বন্যা, সুনামীর মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে লক্ষ কোটি নিরপরাধ নর-নারী এবং শিশুর মৃত্যুর ব্যাপারে মানুষকে কোনভাবেই দায়ী করা চলে না।  এ সমস্ত অরাজগতার অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে ঈশ্বর একটি অপকারী সত্ত্বা।  কারণ ‘সর্বজ্ঞ’ ঈশ্বর আগে থেকেই জানতেন যে, সুনামীর ঢেঊ আছড়ে পরে তার নিজের সন্তানদের  হত্যা করবে, তাদের স্বজন হারা করবে, গৃহচ্যুত করবে, ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, ঘর বাড়ি ধ্বংস করে এক অশুভ তান্ডব সৃষ্টি করবে। অথচ আগে থেকে জানা থাকা সত্ত্বেও সেসব প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থাই তিনি নিতে পারেন নি। এ থেকে প্রমাণিত হয় ঈশ্বর  এক অক্ষম, নপুংশক সত্ত্বা বই কিছু নয়।  দার্শনিক পল কার্জ তার ‘ধর্মীয় দাবী সম্বন্ধে যে কারণে আমি সংশয়বাদী’ প্রবন্ধের একটি অংশে ‘আর্গুমেন্ট অব এভিল’ নিয়ে প্রাঞ্জল ভাষায় আলোচনা করেছেন [৮]।  এ ছাড়া, মুক্তমনা ব্লগে বহু  লেখক বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা এবং ঈশ্বরের  সর্বজ্ঞতা আসলে পরষ্পরবিরোধী [৯]।</p>
<p>ভিক্টর স্টেঙ্গর পেশায় হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের &#8216;পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান&#8217; বিভাগের ইমিরিটাস অধ্যাপক এবং কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের সংযুক্ত অধ্যাপক (Adjunct Professor)। তিনি একবিংশ হতাব্দীর এই নব্যনাস্তিকতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত। ভিক্টর স্টেঙ্গর তার &#8216;গড &#8211; দ্য ফেইল্ড হাইপোথিসিস&#8217;বইয়ে সর্বজ্ঞ (Omniscient),  পরম করুণাময় (Omnibenevolent) এবং সর্বশক্তিমান (Omnipotent) ঈশ্বর  (3O God) থাকাটা যে যৌক্তিকভাবে অসম্ভব তা দেখিয়েছেন [১০]। একই ধরণের উপসংহারে পৌঁছিয়েছেন মাইকেল মার্টিন এবং রিকি মনিয়ার তাদের The impossibility of God বইয়ে [১১]। কাজেই ঈশ্বরের কোন বৈশিষ্ট যৌক্তিকভাবে পরীক্ষা করে বাতিল করে দেয়া যাবে না, কিংবা বিজ্ঞান এ ব্যাপারে কোন অভিমত দিতে পারে না &#8211; তা কিন্তু এখন আর ঠিক নয়। বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞানের দার্শনিক রিচার্ড ডকিন্সও মনে করেন ধার্মিকদের দেয়া ঈশ্বরের অনেক সংজ্ঞাই টেস্টেবল হাইপোথিসিস, এবং তিনি তার সাম্প্রতিক &#8216;গড ডিলুশন&#8217; বইয়ে এর অনেকগুলোই খন্ডন করেছেন। এরকম অনেক অনুকল্পের বেশ কিছু পরীক্ষা এখনই করা যায়, বাকিগুলো হয়তো প্রযুক্তি উন্নত হলে করা যাবে। অন্তত আব্রাহামিক ধর্মগুলোর ঈশ্বরের যে সংজ্ঞায়ন ধর্মগ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায়, তা যে অবৈজ্ঞানিক এবং ভ্রান্ত, তাতে কোন সন্দেহ নেই। সেজন্যই ভিক্টর স্টেঙ্গর তার নিউ এথিজম বইয়ে বলেন -</p>
<blockquote><p>The new atheists firmly assert that the personal, abrahamic God is a scientific hypothesis that can be tested by the standard method of science. And we have seen that it has failed the test.
</p></blockquote>
<p>এবারে নব্য নাস্তিকতাবিরোধী কিছু উদাহরণের সাথে পাঠকদের পরিচিত করিয়ে দেয়া যাক। নব্য নাস্তিকদের বিজ্ঞানের তথ্য-উপাত্ত, জ্ঞান দিয়ে ঈশ্বর আলোচনার একজন কড়া সমালোচক খ্রিষ্টান ধর্মবেত্তা ডেভিড মার্শাল। The Truth behind the New Atheism বইয়ে তিনি বলেন [১২],</p>
<blockquote><p>এই নব্য নাস্তিকরা বাস্তবতার বিভিন্ন দিক একেবারেই বুঝতে পারেনা। প্রথমত, বোকা নাস্তিকদের বিজ্ঞানের সীমারেখা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। দ্বিতীয়ত, তাদের তত্ত্বগুলো অসংখ্য বাস্তবতাকে সরাসরি উপেক্ষা করে। তৃতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা থেকে তারা সবসময় নিজেদের বিরত রাখে। চতুর্থত, তাদের তত্ত্বকে ভরাডুবির হাত থেকে বাঁচাতে তারা চমৎকার এক ছলনার আশ্রয় নেয়, সেই ছলনা হলো- “মনে করি”” ।
</p></blockquote>
<p>বিজ্ঞানের সীমারেখা বুঝতে অপারগ একজন বোকা কিংবা চালাক নাস্তিকের নাম উল্লেখ করেননি, মার্শাল। নব্য নাস্তিকদের বই, তাদের বিভিন্ন প্রবন্ধ, ইয়ুটিউবে থাকা শতশত ভিডিও লেকচারে আমরা কখনওই তাদের বলতে শুনিনি, যে বিজ্ঞানের সীমারেখা অসীম। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এদের লেখা বইগুলোতেই বরঞ্চ সংগীত, ছবি, কবিতা, নারীপুরুষের ভালোবাসার সম্পর্ক সহ আরও অসংখ্য প্রকৃতিপ্রদত্ত অ-বৈজ্ঞানিক বিষয় নিয়ে চমৎকার মনমুগ্ধকর আলোচনা পড়ার সৌভাগ্য হয়েছেআমাদের [১৩]। আমরাও গান ভালোবাসি, ভালোবাসি ব্লগালোচনা, কবিতা, ফুল,  ভালোবাসি ভালোবাসতে, কিংবা ভালবাসা পেতে। কিন্তু একই সাথে অন্যান্য অনেকের মতো মনে করিনা যে, এই অবৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো বিজ্ঞানের সাহায্য ছাড়া চমৎকারভাবে উপভোগ করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে, মহাকবি কীট্স্ একবার নিউটনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছিলেন যে আলোকের সূত্রের দ্বারা রংধনুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি রংধনুর সৌন্দর্যকেই ক্ষুন্ন করে দিয়েছেন। অথচ কীট্স্ই আবার অন্য এক প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে, সত্যই সুন্দর! আরেকবার, পদার্থবিদ ফাইনম্যানকে তাঁর এক শিল্পী বন্ধু হাতে একটা ফুল হাতে নিয়ে বলেছিলেন, “একজন শিল্পী হিসেবে আমি এই ফুলের সৌন্দর্য হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম, আর তোমরা বিজ্ঞানীরা এটাকে ভেঙ্গে চুরে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এর সৌন্দর্যকেই নষ্ট করে দাও”। এর উত্তরে ফাইনম্যান বলেছিলেন যে একজন শিল্পী ফুলে যে সৌন্দর্য দেখতে পান, তিনিও সেই একই সৌন্দর্য দেখতে পান, কিন্তু উপরন্তু তিনি ফুলের ভেতরকার সৌন্দর্যকেও দেখতে পান, যেমন কি ভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষ দ্বারা ফুলের পাপড়ি গঠিত হয়, কিভাবে বৈবর্তনিক উপযোজনের কারণে কীটপতঙ্গকে আকর্ষণ করার জন্য ফুলের সুন্দর রঙের সৃষ্টি হয়েছে, এই সব, যা থেকে তাঁর শিল্পী বন্ধু বঞ্চিত [১৪]।</p>
<p>আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কথাই ধরি। গানের ফিজিক্স বোঝার মাধ্যমে  একে আরও ভালোভাবে উপভোগ, উপস্থাপন করার সুক্ষ্মতা উদ্ভাবনের পাশাপাশি ,  আবিষ্কৃত হয়েছে নানা যন্ত্রপাতি। রেকর্ডিং করার উপায় আবিষ্কারের মাধ্যমে  যেকোনো পরিস্থিতিতে গান যে কাউকে সংগ দিতে পারে।  বিজ্ঞানের কারণে আমরা নিজেরাও এখন ছবি তুলে/ এঁকে সেগুলো ফ্লিকারে আপলোড করার মাধ্যমে সবার সাথে শেয়ার করতে পারি। দুনিয়ার প্রায় সকল কবিতা, গল্প খুব কিছুদিনের মধ্যেই চলে আসবে ইন্টারনেটে। স্টিফেন হকিং এর নতুন বই পড়ার জন্য মানুষের এখন আর বছর খানেক অপেক্ষা করতে হয়না, তারা আমাজনে চট করে অর্ডার দিয়ে পরের দিন হাতের কাছে পেয়ে যায়। </p>
<p>কোন ধরণের উদাহরণ না দিয়ে মার্শাল তার তৃতীয় ও চতুর্থ দাবী, বাস্তবতাকে পাশ কাটানো, এবং &#8220;মনে করি” ব্যাপারটাকে কটাক্ষ করে কি বোঝাতে চেয়েছেন সেটা বোধগম্য হলোনা কোনোভাবেই।</p>
<p>বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পণা (Intelligent Design) নামক ছদ্মবিজ্ঞানের এক মুখোপাত্র ডেভিড বারলিনস্কি (David Berlinski) বিজ্ঞানীদের চরিত্র নিয়ে গবেষনার পর প্রবন্ধে লিখেন, অধিকাংশ বিজ্ঞানীরা গোঁয়ার, অন্তসারশূন্য, রাজনীতিতে অপরিপক্ক, অলস এবং অহংকারী [১৫]। রেফারেন্স ছাড়াই বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের লাইন তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা সবকিছু বিশ্বাস করতে প্রস্তুত [১৬]। অবশ্যই বিজ্ঞানীরা যে কোন কিছু বিশ্বাস করতে প্রস্তুত যদি সেটা বিশ্বাস করার মতো পর্যাপ্ত প্রমান থাকে। হ্যাঁ! মাঝে মাঝেই বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ধারণা পড়ে আমাদের সেটা অর্থহীন, অসম্ভব বলে মনে হয়, কিন্তু সেটার দোষ তো বিজ্ঞানীদের না। ব্যাপারগুলো আমাদের দৃষ্টিভংগিতে অর্থহীন বলে মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। কারণ প্রতিটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সম্পন্ন হয় বস্তুনিষ্ঠ নৈর্ব্যক্তিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। প্রতিটি আবিষ্কার বা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আরও অসংখ্য তত্ত্বের সমন্বয়ে গঠিত হয়। প্রতিটি বৈজ্ঞানিক ধারণা যিনি আবিষ্কার করেছেন শুধু তার জন্য সত্য না, বরঞ্চ সেটা পৃথিবীর যে কোন ল্যাবরেটরিতে, যে কোন মানুষ দ্বারা স্বাধীনভাবে পরীক্ষা যোগ্য। </p>
<p>গ্রুপ মেইলে হঠাৎ করেই একবার ধর্ম- নির্ধর্ম আলোচনায় একজন বিশাল এক মেইল করে বসলেন। আস্তিকতা- নাস্তিকতা বিষয়ে অনেক বই তিনি পড়েছেন, এই দাবীসম্বলিত বিশাল মেইলে নাস্তিকদের উদ্দেশ্য করে বলা কথাটির সারমর্মঃ  &#8220;ঈশ্বরের মতো একজন যিনি স্থান,কালের উর্দ্ধে, তার অস্তিত্ব মাপার জন্য পার্থিব পরিমাপ, ওজন, গনিত ব্যবহারের মতো হাস্যকর কিছুই আর হতে পারেনা&#8221;। নাস্তিকতার বিপক্ষে প্রচলিত এই কথাটি অযৌক্তিক হলেও অসংখ্য বিজ্ঞানী দুঃখজনকভাবে এটি সমর্থন করে থাকেন। রক্ষণশীল লেখক এবং বক্তা দিনেশ ডি&#8217;সুজা জীববিজ্ঞানী ডগলাস এরউইনকে উদ্ধৃত করে বলেন, বিজ্ঞানের অন্যতম একটি নিয়ম বা ধারা হচ্ছে, সকল ধরণের মিরাকলের অস্তিত্ব অস্বীকার করা [১৭]। তার মানে কি এই দাঁড়ালো যে, সত্যিকার অর্থেই ব্যাখ্যাতীত মিরাকলের সন্ধান পাওয়া গেলে বিজ্ঞান সেটা অস্বীকার করবে? কোন সুস্থ মস্তিষ্কের যুক্তিমনস্ক মানুষই দিনেশ ডি&#8217;সুজার বক্তব্যকে সমর্থন করার কথা না। </p>
<p>দিনেজ সু&#8217;জা জীববিজ্ঞানী ব্যারি পালেভিটয কে উদ্ধৃত করে আরও বলেন, &#8220;প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে জানান জন্য অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যা এমনিতেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়&#8221; [১৮]। এখন, যদি অতিপ্রাকৃত কোন ব্যাখ্যা সত্যই চমৎকারভাবে কাজ করতে থাকে তখন সেটাও কি বাদ দিয়ে দেওয়া হবে? কেন?</p>
<p>শুধু দিনেশ ডি&#8217;সুজার মতো ব্যক্তিরাই কেবল নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্স বিজ্ঞান এবং অতিপ্রাকৃত ঘটনা সম্বন্ধে একই ধরণের অযৌক্তিক ধারণা পোষণ করে [১৯]- </p>
<blockquote><p>&#8220;প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে জানার জন্য বিজ্ঞান ব্যবহার করা হয়। প্রাকৃতিক কারণের আলোকে প্রাকৃতিক মহাবিশ্ব ব্যাখ্যা করা পর্যন্তই বিজ্ঞানের সীমারেখা। অতিপ্রাকৃত ব্যাপার নিয়ে বিজ্ঞানের বলার কিছু নেই। সুতরাং ঈশ্বর আছে কি নেই, এমন প্রশ্ন বিজ্ঞানে অবান্তর, যতক্ষণ পর্যন্ত বিজ্ঞান তার নিরপেক্ষতা ধরে রাখে&#8221;।
</p></blockquote>
<p>অথচ খোদ ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সের সদস্যদের মধ্যে মাত্র সাত শতাংশ ঈশ্বরে বিশ্বাসী [২০], সুতরাং বাকিরা হয় নাস্তিক কিংবা অজ্ঞেয়বাদী, যদিও এদের কারোরই অধিকাংশ ধার্মিক আমেরিকানদের সাথে দার্শনিক ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত হবার বাসনা নেই। </p>
<p>বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক (এবং নাস্তিক) স্টিফেন জে গুল্ড তাঁর শেষ বইয়ে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যে একটি সমঝোতা আনার চেষ্টা করেছেন। বিজ্ঞান ও ধর্মকে তিনি চিহ্নিত করেছেন দুইটি স্বতন্ত্র বলয় [non-overlapping magisteria (NOMA)] হিসেবে, যেখানে বিজ্ঞান তার নিজস্ব বলয়ে কাজ করে প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে বুঝতে, আর ধর্ম অন্য বলয়ে কাজ করে নৈতিকতা বজায় রাখতে [২১]।</p>
<p>অসংখ্য সমালোচক গুল্ডের বক্তব্য পর্যালোচনা করে বলেছেন, তিনি ধর্মকে নৈতিকতার দর্শন হিসেবে  সংজ্ঞায়িত করছেন। যদিও বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাই, কেবল মাত্র নৈতিকতার দর্শনেই ধর্মের কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ নয়। ধর্ম প্রাকৃতিক মহাবিশ্ব সম্বন্ধেও নানা ধরণের মতামত প্রদান করে। ধর্ম মতামত করে জীবনের উৎপত্তি নিয়ে, মতামত প্রদান করে মহাবিশ্বের সূচনা নিয়ে- যেই দাবীগুলো সত্যতা কোন নৈতিক ধর্ম দিয়ে নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পক্রিয়ায় জানা সম্ভব। রিচার্ড ডকিন্স তার গড ডিলুশন বইয়ে এবং অন্যত্র গুল্ড প্রস্তাবিত স্বতন্ত্র বলয় তত্ত্বের বিরুদ্ধে জোরালো যুক্তি দিয়েছেন একাধিকবার [২২]। ডকিন্স ধর্মীয় বিশ্বাস প্রসূত কল্পকাহিনীগুলোকে বিজ্ঞানের কষ্টিপাথরে যাচাইয়ের বাইরে রাখার চেষ্টাকে অসৎ মনোবৃত্তির পরিচায়ক মনে করেন। তাঁর ভাষায়, ধর্মে যে সমস্ত অলৌকিক গল্প-কাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো হয়, সেই গল্পগুলির মধ্যে ব্যবহার করা হয় বিজ্ঞানের উপকরণ; আর বিজ্ঞান যখন এই সব গাঁজাখুরি গল্প-কাহিনীর সত্যতা এবং সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তখনই বলা হয়, বিজ্ঞান ধর্মে নাক গলাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে স্বতন্ত্র বলয়ের প্রবক্তাদের মনে হয় শান্তিকামী, কিন্তু মিথ্যাকে মেনে নিয়ে যে শান্তি, তা কাম্য হওয়া উচিৎ নয়। দূর্ভাগ্যের ব্যাপার, এমনকি বাংলাদেশেও হারুন অর রশিদ কিংবা জাফর ইকবালের মত বিজ্ঞানীও শুধুমাত্র সমন্বয়ের খাতিরে ধর্মবাদীদের সাথে আপোষ করতে প্রস্তুত। স্বতন্ত্র বলয় বা Nonoverlapping Magisteria হচ্ছে তাঁদের এই ধরনের মানসিকতারই ফলশ্রুতি। এঁরা বিজ্ঞান পেশার সাথে জড়িত হলেও বিভ্রান্তির শিকার এবং অবচেতনভাবেই বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছেন।</p>
<p>এবার আসা যাক নৈতিকতা প্রসংগে। মানব সভ্যতার পথপরিক্রমায় ধর্ম এই একটি ক্ষেত্রেও যে খুব অবদান রেখেছে বা রেখে চলছে তাও নয়। এটি সমর্থন করেছে দাস প্রথা, সমর্থন করেছে রাজার একচ্ছত্র অধিকার, সমর্থন করেছে মৃত্যুদণ্ড, অংগচ্ছেদন, হরণ করেছে নারীর স্বাধীনতা। ইরান সহ আরও কিছু মুসলিম দেশে এখনও ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী মেয়েদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হয়।  প্রতিবেশি দেশ ভারতে সতীদাহ প্রথা অনুসারে স্বামীর সাথে জীবন্ত পোড়ানো হতো স্ত্রীকে। নানা সময়ে নানা জায়গায় ধর্ম ওষুধ গ্রহন করতে বাধা দিয়েছে, বাধা দিয়েছে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি ব্যবহারের। সর্বাধিক এইডস আক্রান্ত আফ্রিকায় এইডসের সংক্রামক থেকে নিজেকে রক্ষা করার অন্যতম উপায় যৌনমিলনের আগে কনডম ব্যবহার, সেটাকেও একসময় বাধা দিয়েছিলো চার্চ।</p>
<p>মানুষকে মিথ্যা বলা থেকে বিরত রাখা, সৎ রাখা কিংবা খুনাখুনি থেকে বিরত রাখার জন্য উপরওয়ালার ভয়ের প্রয়োজনীয়তা কতোটুকু সেটাও ভাববার বিষয়। বইয়ের পরবর্তী একটি অধ্যায়ে এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা আমরা করবো। কিন্তু একটি কথা এখানেই বলে নেবার প্রয়োজনিয়তাবোধ করছি। বাস্তবতা হলো, সাধারণ নৈতিক ব্যাপারগুলো (সত্য কথা বলা, সৎ থাকা, হত্যা না করা) বড় বড় ধর্ম শুরু হবার বহু আগে থেকেই মানব সমাজে প্রচলিত ছিলো। সুতরাং ধর্মের যদি কোন উপকারীতা থেকেও থাকে, সেগুলো ধর্ম ছাড়াও সমানভাবে থাকবে, এমন আশা করাটা অযৌক্তিক নয় [২৩]।</p>
<p>ন্যাশনাল একাডেমি এর সদস্যদের মধ্যে যারা মনে করে থাকেন, বিজ্ঞানের ঈশ্বর সম্পর্কে বলার কিছু নেই, তারা আসলে চোখের সামনে থাকা বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছেন। হার্ভাড ইউনিভার্সিটি, ডিউক ইউনিভার্সিটি এবং মেয়ো ক্লিনিকের মতো পৃথিবী বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা প্রার্থনার কোনো উপকারিতা আছে কিনা তা নিয়ে গবেষণা করছেন [২৪]। এই গবেষণাগুলোতে প্রাপ্ত ফলাফল যদি ধনাত্মক হয় এবং এগুলো যদি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরণের মানুষের উপর একই ধরণের ফলাফল প্রদান করে তাহলে আমরা নব্য নাস্তিকরা অবশ্যই ঈশ্বর বলে একজন থাকতে পারে, এমন ধনাত্মক ধারণা নিয়ে আরও সুক্ষ্ম গবেষণায় আগ্রহী হবো। </p>
<p>হ্যাঁ! উপরের গবেষণাগুলোয় প্রার্থনা কাজ করে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সেটা ব্যাপার না, ব্যাপার হলো পাওয়া যেতে পারতো। তখন ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সের সদস্যদের মতামত কি হতো? আমরা কি সেই গবেষণা বাতিল ঘোষণা করতাম? করতাম না। ঈশ্বরের মতো একজন, যিনি মানুষের প্রার্থনা শুনেন এবং সেটা কবুল করেন তাকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক ভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব। কারণ প্রার্থনা কবুলের ফলাফল অনেকসময় পৃথিবীতেই পাওয়া যায়। পৃথিবীতে যখন পাওয়া যায় তখন সেটা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। </p>
<p>তবে ধর্মবেত্তা এবং হুজুরেরা এখন অতিপ্রাকৃত বিষয় পরীক্ষায় বিজ্ঞানকে যতই তাচ্ছিল্য করে থাকুক না কেন, আজকে যদি প্রার্থনার সরাসরি উপকারিতা (প্ল্যাসিবো নয়) বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হতো তাহলে আমরা অসংখ্য টিভি- চ্যানেল, পত্র- পত্রিকায় বড় করে খবর দেখতাম, <strong>&#8220;মাওলানা অমুক আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণকে স্বাগত জানিয়েছেন!&#8221;</strong></p>
<p>চলবে&#8230;</p>
<p>তথ্যসূত্রঃ</p>
<div id="attachment_27708" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/11/ref1.png"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/11/ref1-300x224.png" alt="" title="তথ্যসূত্র" width="300" height="224" class="size-medium wp-image-27708" /></a><p class="wp-caption-text">তথ্যসূত্র (ছবিতে ক্লিক করে বড় করে দেখুন)</p></div>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/27707/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>18</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নির্ধর্মকথাঃ ইন দ্য বিগিনিং &#8230;</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/26834</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/26834#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 14 Aug 2010 14:45:17 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=26834</guid>
		<description><![CDATA[পৃথিবী কোথা থেকে এলো? আমি জানিনা। ভাবলো সোফি। নিশ্চয়ই কেউ-ই আসলে জানে না সেটা। জীবনে এই প্রথমবারের মতো সে উপলব্ধি করলো যে, পৃথিবীটা কোথা থেকে এলো এ- ব্যাপারে অন্তত প্রশ্ন না করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই ঠিক নয় &#8230; Sophie&#8217;s World, Jostein Gaarder এই সুন্দর ফল, সুন্দর ফল, মিঠানদীর পানি ছেড়ে এবার তাকানো যাক বিশ্বব্রক্ষ্মান্ডের দিকে। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<blockquote><p>পৃথিবী কোথা থেকে এলো?<br />
আমি জানিনা। ভাবলো সোফি। নিশ্চয়ই কেউ-ই আসলে জানে না সেটা। জীবনে এই প্রথমবারের মতো সে উপলব্ধি করলো যে, পৃথিবীটা কোথা থেকে এলো এ- ব্যাপারে অন্তত প্রশ্ন না করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই ঠিক নয় &#8230;<br />
Sophie&#8217;s World, Jostein Gaarder</p></blockquote>
<p>এই সুন্দর ফল, সুন্দর ফল, মিঠানদীর পানি ছেড়ে এবার তাকানো যাক বিশ্বব্রক্ষ্মান্ডের দিকে। এই সুন্দর চাঁদ, সুন্দর তারা, অসীম শূন্যতার দিকে। বাইবেলের প্রথম বাক্য, ইন দ্য বিগিনিং&#8230; বা “শুরুতেই &#8230;” এবং পরবর্তীতে আরও অনেকবার মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কিত বাক্য, কুরআনের ৪৫: ৩-৫, ২১:৩০, ৪১:১১, ২১:৩৩, ৫১:৪৭ এইধরণের বাক্য পড়ে আমরা জানতে পারি, এই অপার মহাবিশ্ব একজন সৃষ্টি করেছিলেন শূন্য থেকে। বিভিন্ন ধর্ম বিভিন্ন ঈশ্বরকে বসিয়েছে সেই স্রষ্টার আসনে। ঈশ্বর ভিন্ন হলেও ধর্মবেত্তাদের আয়াত থেকে উদ্ধার করে আনা দেওয়া যুক্তিগুলো একদম কাছাকাছি।</p>
<p>১। প্রতিটি ঘটনারই এক বা একধিক কারণ রয়েছে।<br />
২। কোনো ঘটনার কারণই সেই ঘটনাটা নিজে নয়।<br />
৩। কোনো একটা ঘটনার কারণ হিসাবে থাকে একটা আদি ঘটনা। সেই আদি ঘটনার কারণ হিসাবেও থাকতে পারে অন্য কোনো আদিতর ঘটনা। কিন্তু এভাবে ঘটনাপ্রবাহ অনন্ত কাল ধরে চলতে পারেনা।<br />
৪। তাই অবশ্যই কোনো ঘটনা প্রবাহের একটি মাত্র শুরুর কারণ থাকবে।<br />
৫। আর সেই শুরুর কারণই ঈশ্বর। অতএব ঈশ্বর আছেন।</p>
<p>আমরা সাধারণভাবে ধরে নেই মহাবিশ্বের একটি সূচনা ছিলো। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে, বিগ ব্যাঙ নামক এক মহাবিস্ফোরণের ফলে এই সকল কিছুর উৎপত্তি হয়েছে। যেহেতু কোন কিছুই নিজে নিজে শুরু হতে পারেনা, একে অন্য কারও দ্বারা শুরু হতে হয়, সুতরাং ঈশ্বর হলেন সেই ব্যক্তি যিনি বিগ ব্যাঙ এর মাধ্যমে প্রথম বলটা গড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমরা কি তবে ঈশ্বরকে খুঁজে পেলাম?</p>
<p>অবশ্যই না। ঈশ্বরবাদীদের যুক্তি তাদের নিজের তৈরী গর্তেই মুখ থুবড়ে পড়ে। যুক্তির প্রথম পয়েন্টটা এমন হওয়া উচিত ছিলো যে, ‘সকল কিছু হবার পেছনেই কারণ রয়েছে কিংবা এমন কিছু আছে যা হতে কোন কারণের প্রয়োজন নেই, সেটা এমনি এমনিই হতে পারে।’ সৃষ্টিবাদীদের কথা অনুসারে যদি সকল কিছুর হবার পেছনে একটি কারণ থাকে তাহলে সেটা ঈশ্বরের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে, সৃষ্টিকর্তা হলেন ঈশ্বর। এবার তাহলে কথা হলো, ঈশ্বরকে সৃষ্টি করলো কে? ঈশ্বর যদি নিজে নিজে সৃষ্টি হতে পারেন তাহলে প্রকৃতিও এমনি এমনি সৃষ্টি হয়েছে সেটা ধরে নিতে অসুবিধা কোথায়? ঈশ্বরবাদীরা এইক্ষেত্রে জবাব দেন, ঈশ্বরের কোন সূচনা নেই, তিনি প্রথম থেকেই এমন ছিলেন, তাঁকে কেউ সৃষ্টি করেননি, তিনি নিজে নিজেই হয়েছেন,  তারপর খুব দারুন কিছু ব্যাখ্যা করে ফেলেছেন এমন একটা ভাব ধরেন। </p>
<p>‘যার শুরু আছে তার পেছনে কারণ থাকতেই হবে’- এই ধরণের দর্শন কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের উদাহরণের মাধ্যমে বিজ্ঞান অনেক আগেই বাতিল করে দিয়েছে। আণবিক পরিবৃত্তি (Atomic Transition), আণবিক নিউক্লিয়াসের তেজষ্ক্রিয় অবক্ষয়ের (Radio active decay of nuclei) মতো কোয়ান্টাম ঘটনাসমূহ ‘কারণবিহীন ঘটনা’ হিসেবে ইতিমধ্যেই বৈজ্ঞানিক সমাজে স্বীকৃত। হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা তত্ত্ব (uncertainty principle) অনুযায়ী সামান্য সময়ের জন্য শক্তি (যা E = mc2 সূত্রের মাধ্যমে শক্তি ও ভরের সমতুল্যতা প্রকাশ করে) উৎপন্ন ও বিনাশ ঘটতে পারে- স্বতঃস্ফুর্তভাবে- কোনও কারণ ছাড়াই। এগুলো সবগুলোই পরীক্ষিত সত্য। তাই আমরা যদি ধরে নেই প্রাকৃতিক বিশ্ব কোনও কারণ ছাড়া বা অন্যকারও হাত ছাড়াই এমন হয়েছে সেইক্ষেত্রে অযথা ঈশ্বরকে যোগ করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অক্কামের রেজরের মূলনীতি অনুযায়ী অপ্রয়োজনীয় সকল ধারণা কেটে ফেলতে হয়১। মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরকে নিয়ে আসা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। এই নিয়ে আসার মাধ্যমে আমরা কোন প্রশ্নেরই জবাব পাইনা, উলটা আরও প্রশ্ন সৃষ্টি করি।</p>
<p>সৃষ্টিবাদীরা প্রাকৃতিক বিশ্ব এমন কেন, এটা এমন কিভাবে হলো, যদি হয়েই থাকে তাহলে কে কাজটা করলো?- এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দিশেহারা হয়ে একটি বাক্যই উচ্চারণ করেন, ঈশ্বর করেছেন। এখন তাহলে সেই একই প্রশ্ন আবার আসলো, ঈশ্বর কে? তিনি কিভাবে এলেন? যদি এসেই থাকেন তাহলে কে তাকে আনলেন? ঈশ্বরের মহাবিশ্ব সৃষ্টি এবং তার অপার মহিমা বর্ননা করার সময় সেন্ট অগাস্টিনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, আচ্ছা! মহাবিশ্ব সৃষ্টি’র আগে ঈশ্বর কি করছিলেন? জবাবে তিনি রেগে মেগে উত্তর দিয়েছিলেন, যারা এইধরনের প্রশ্ন করে তাদের জন্য জাহান্নাম তৈরী করছিলেন। </p>
<p>ঈশ্বরবাদীদের এই উত্তর খুঁজতে যেয়ে আরও বড় প্রশ্নের উদ্ভবানকে বার্ট্রান্ড রাসেল বেশ দারুন ভাবে বলেছিলেন। হিন্দু পুরান অনুযায়ী মহাবিশ্ব একটি হাতীর উপর, হাতীটি একটি কচ্ছপের উপর বিশ্রাম নেয়। যখন একজন বিশ্বাসী হিন্দুকে কচ্ছপটি কিসের উপর বিশ্রাম নেয় তা জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি বলেন, আসো অন্য কিছু নিয়ে কথা বলি।</p>
<p>আজকে আমরা অন্যকিছু নিয়ে কথা বলবোনা। এছাড়াও এই বইয়ের উদ্দেশ্যই এইধরণের নানা ধরণের কুসংস্কার সবার সামনে তুলে ধরা। শুধু প্রশ্ন উত্থাপন করেই আমরা থেমে যাবোনা, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়গুলো কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায় সেটাও আলোচনা করবো। বিজ্ঞান হয়তো সকল প্রশ্নের জবাব দিতে সক্ষম নয়, কিন্তু বৈপ্লবিক অগ্রগতীতে এখন অনেক কিছুরই জবাব দিতে সক্ষম। যেখানে বিজ্ঞান এখনও পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি সেখানেই আমরা ঈশ্বরকে বসিয়ে দিয়ে হাত ঝেড়ে ফেলবো সেটাও ঠিক নয়। বিজ্ঞানের দর্শন আমাদের বুঝতে হবে। আমরা প্রশ্ন করবো, আমরা উত্তর খুঁজবো। সেই উত্তর খোঁজার পথটা যৌক্তিক হওয়া বাঞ্চনীয়। আমি বিশ্বাস করি, বা আমার মনে হয় এমন নয়। </p>
<p><strong>মিরাকল</strong></p>
<p>মহাবিশ্ব কেমন করে এলো? সহস্রবছর ধরে মানুষের মনকে আন্দোলিত করা একটি প্রশ্ন। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তিনটি ধর্ম ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম অনুসারে একজন ঈশ্বর এই মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছিলেন। প্রশ্নটার এটি একটি উত্তর এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে একটি হাইপোথিসিস। হাইপোথিসিস যে কোন কিছুই হতে পারে। তবে সেটিকে সত্য বা বাস্তবতার পর্যায়ে যাবার জন্য যৌক্তিকতা প্রমান করতে হয়। এই অধ্যায়ে আমরা এই ঈশ্বর হাইপোথিসিসকে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করবো, আমরা খুঁজবো অতিপ্রাকৃতিকভাবে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হবার হাইপোথিসিসের সত্যতার কোন প্রমান আছে কিনা।  যে প্রমানগুলো আমাদের দরকার তা হলো, ১) মহাবিশ্বের একটি সূচনা ছিল, ২) এই সূচনা প্রাকৃতিকভাবে বা এমনি এমনি হয়নি। মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরো প্রক্রিয়ায় কোন একটি ক্ষেত্রে একটি অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা বা মিরাকল ঘটেছিলো। অর্থাৎ কসমলজিকাল ডাটা যদি আমাদের এমন তথ্য দেয় যে, সৃষ্টির শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে প্রাকৃতিক নিয়মের/ সুত্রের লংঘন ঘটেছিলো যা ব্যাখ্যাতীত এবং এই ব্যাখ্যাতীত ঘটনা বা মিরাকলের ফলেই মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছিলো তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি ঈশ্বর হাইপোথিসিসের একটি শক্ত ভিত্তি রয়েছে। ঈশ্বর যে রয়েছেন সেটারও রয়েছে।</p>
<p>প্রায় শত বছর আগেই দার্শনিক ডেভিড হিউম দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহারিক প্রয়োগের উপর ভিত্তি করে তিন ধরণের মিরাকলের কথা বর্ননা করে গিয়েছিলেন। ১) এমন কোন ঘটনা যা প্রতিষ্ঠিত কোন প্রাকৃতিক নিয়মের লংঘন। ২) ব্যাখ্যাতীত কিছু ৩) অসম্ভব কিন্তু কাকতালীয়ভাবে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা। ধরা যাক, নাসা অবজারভেটরির বিজ্ঞানীরা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন পৃথিবীর পাশে নতুন একটি গ্রহ করে উদয় হয়েছে। পৃথিবীর পাশে একটি গ্রহ নতুন করে উদয় হওয়া অসম্ভব কেননা এতে করে,  শক্তির নিত্যতার সূত্রের সরাসরি লংঘন হবে। যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে আমরা এই ঘটনাকে মিরাকল বা অতিপ্রাকৃতিক আখ্যায়িত করতে পারি।</p>
<p>ধর্মবেত্তা রিচার্ড সুইনবার্নও প্রাকৃতিক কোন নিয়মের লংঘনকে মিরাকল বলে আখ্যায়িত করেছেন২। তিনি এর সাথে আরও যোগ করেছেন, লংঘন মাত্র একবার সংগঠিত হলেই সেটা হবে মিরাকল। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। কারণ কোন লংঘন যদি বার বার সংঘটিত হতে থাকে তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটি ঘটার প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা বের করা সম্ভব। যুক্তিসংগত কারণে, পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞান পরিবর্তিত হয়। সুতরাং প্রাকৃতিক নিয়মের নিয়মিত লংঘন হতে থাকলে বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা করবেন কেন এমন হচ্ছে এবং এর ব্যাখ্যা বের করার জন্য তারা জীবন দিয়ে দিবেন। অবশ্য বিজ্ঞানের এই ধর্মের কারণে অনেকেই একে ব্রাত্য মনে করেন। অনেকটা পাশের বাসার যদুর মতো, যে আদতে কিছুই জানেনা, আজকে এক কথা বলে তো কালকে অন্য!</p>
<p>অবশ্য বিজ্ঞান সম্পর্কে অনেকের ধারণা এমন হলেও, বর্তমানে বিজ্ঞানের জানার পরিধি তাদের অনেকেরই কল্পনাতীত। একই সাথে বিজ্ঞানের অনেক নিয়ম ও সত্যতা সহস্র বছর ধরে অপরিবর্তিত। পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ সূত্রগুলো নিউটনের সময় যেমন ছিলো এখনও তাই আছে। বিংশ শতকে কোয়াণ্টাম মেকানিক্সের অভূতপূর্ব উন্নতিতে সেই সূত্রগুলো পরিমার্জিত, পরিবর্ধিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান নিয়া নাড়াচাড়া করা সবাই এখনও নিউটনিয়ান মৌলিক বিষয়গুলো যেমন শক্তির নিত্যতার সূত্রের মতো বিষয়ে আগের মতই ঐক্যমত প্রকাশ করেন। চারশ বছরে ধরে এই সূত্র অপরিবর্তিত৩। নিত্যতা এবং নিউটনের গতিসূত্র এখনও আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সে ব্যবহৃত হয়। রকেটের কক্ষপথ নির্ণয়ের গানিতিক হিসেবে এখনও নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ব্যবহার করা হয়।</p>
<p>এখন, শক্তির নিত্যতা এবং ক্লাসিকাল পদার্থবিজ্ঞানের অনেক নিয়ম বা সূত্র সৌরজগত ছাড়িয়ে লক্ষ কোটি আলোক বর্ষ দূরে অবস্থিত গ্যালাক্সির জন্যও সত্য। যেহেতু বিগব্যাঙ পরবর্তী তের বিলিয়ন বছর ধরে এই নিয়মের সত্যতা সম্পর্কে কারও কোন সন্দেহ নেই, সুতরাং যে কোন পর্যবেক্ষণ, যা এই সূত্রগুলোকে মিথ্যা বা ভুল প্রমান করে তাকে আমরা আমরা সরাসরি মিরাকল আখ্যায়িত করতে পারি।</p>
<p>সন্দেহ নেই, ঈশ্বর যদি আসলেই থেকে থাকেন তাহলে তার একই মিরাকল বারবার ঘটানোর সামর্থ্যও আছে। যাই হোক, আগেই বলেছি, বার বার কোন ঘটনা ঘটলে এর সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা সম্ভব হয় এবং এইসব তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে ঠিকই প্রাকৃতিক কোন ব্যাখ্যা বের করা সম্ভব হয়। কিন্তু যেই ঘটনা একবারই ঘটে সেটা রহস্যাবৃত কাকতালীয়ই রয়ে যায়। ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানরা যেমন মাঝে মাঝেই আম্পায়ারের “বেনিফিট অফ ডাউট” পান এই পুরো আলোচনায় আমরা ঈশ্বর হাইপোথিসিসকে সেই রকম বেনিফিট অফ ডাউট দিতে চাই এবং মহাবিশ্বের ঈশ্বরের মাধ্যমে সৃষ্টি হবার সম্ভাবনার সকল পথ উন্মুক্ত রাখতে চাই। কিন্তু যদি সংজ্ঞা অনুযায়ী অত্যন্ত নিন্মমানের মিরাকলের সন্ধানও আমরা আমাদের আলোচনায় না পাই, তাহলে সেইক্ষেত্রে ঈশ্বর হাইপোথিসিসকে সরাসরি বাতিল করে দেওয়া সম্ভব একই সাথে ঈশ্বর নামক ধারণাকে, যিনি মিরাকল ঘটান।</p>
<p><strong>পদার্থের সৃষ্টি</strong></p>
<p>বিংশ শতকের শুরুর দিক পর্যন্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে যে একটি বা বেশ কয়েকটি অলৌকিক ঘটনার প্রয়োজন ছিলো তা বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত মানতেন। আমরা জানি মহাবিশ্ব বিপুল পরিমান পদার্থ দিয়ে গঠিত। আর পদার্থের ধর্ম হলো এর ভর। বিংশ শতাদ্বীর শুরু পর্যন্ত ধারনা করা হতো, ভরের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই, এটি শুরু এক রূপ থেকে আরেকরূপে পরিবর্তিত হয়। শক্তির নিত্যতার সূত্রের মতো এটি ভরের নিত্যতার সূত্র। সুতরাং এই বিপুল পরিমান ভর দেখে সবাই ধারণা করে নিয়েছিলেন একদম শুরুতে ভর সৃষ্টি হবার মতো অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিলো, যা সরাসরি ভরের নিত্যতার সূত্রের লংঘন। এবং এটি ঘটেছিলো মাত্র একবারই- মহাবিশ্বের সূচনাকালে।</p>
<p>পদার্থের অনেক সংজ্ঞা আমরা জানি। আমার কাছে এর সবচেয়ে দুর্দান্ত ও সহজ সংজ্ঞা হলো- পদার্থ এমন একটি জিনিস যাকে লাথি মারা হলে এটি পালটা লাথি মারে। কোন বস্তুর মধ্যকার পদার্থের পরিমাপ করা যায় এর ভরের সাহায্যে। একটি বস্তুর ভর যতো বেশি তাকে লাথি মারা হলে ফিরিয়ে দেওয়া লাথির শক্তি তত বেশি। বস্তু যখন চলা শুরু করে তখন সেই চলাটাকে বর্ননা করা হয় মোমেন্টামের মাধ্যমে, যা বেশিরভাগ সময়ই বস্তুর ভর ও বস্তুর যে গতিতে চলছে তার গুনফলের সমান। মোমেন্টাম একটি ভেক্টর রাশি, এর দিক ও বস্তুর গতির দিক একই। </p>
<p>ভর এবং মোমেন্টাম দুইটি জিনিসই পদার্থের আরেকটি ধর্মকে যথাযথভাবে সমর্থন করে যাকে আমরা বলি ইনারশিয়া বা জড়তা। একটি বস্তুর ভর যত বেশি তত এটিকে নাড়ানো কঠিন এবং এটি নড়তে থাকলে সেটাকে থামানো কঠিন। একই সাথে বস্তুর মোমেন্টাম যত বেশি তত একে থামানো কষ্ট, থেমে থাকলে চালাতে কষ্ট। অর্থাৎ বেশি পরিমান শক্তির প্রয়োজন।</p>
<p>বস্তুর গতির আরেকটি পরিমাপযোগ্য ধর্ম হলো এর শক্তি। শক্তি, ভর ও মোমেন্টাম থেকে স্বাধীন কোন ব্যাপার না, এই তিনটি একই সাথে সম্পর্কিত। তিনটির মধ্যে দুইটির মান জানা থাকলে অপরটি গানিতিকভাবে বের করা সম্ভব। ভর, মোমেন্টাম এবং শক্তি এই তিনটি রাশি দিয়ে আমরা একটি সমকোনী ত্রিভুজ আঁকতে পারি। সমকোনী ত্রিভুজটির লম্ব হলো মোমেন্টাম p, ভুমি ভর m আর অতিভুজ শক্তি E। এখন পিথাগোরাসের উপপাদ্য ব্যবহার করে এই তিনটির সম্পর্ক নির্নয় করা যায়। ছবিতে দ্রষ্টব্য-</p>
<p><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/08/pic-for-book-.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/08/pic-for-book--257x300.jpg" alt="" title="pic for book" width="257" height="300" class="aligncenter size-medium wp-image-26835" /></a></p>
<p>লক্ষ করুন, কোন বস্তু যখন স্থির অবস্থায় থাকে তখন এর মোমেন্টাম শূন্য এবং এর শক্তি ভরের সমান (E=m)। এই শক্তিকে বলা হয়ে থাকে পদার্থের স্থিতি শক্তি। এটাই আইনস্টাইনের বিখ্যাত গানিতিক সম্পর্ক E=mc² যেখানে c মান 1। ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তার এই বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি প্রমান করে দেখান যে, শক্তি থেকে ভরের সৃষ্টি সম্ভব এবং একই সাথে শক্তির মাঝে ভরের হারিয়ে যাওয়া সম্ভব।</p>
<p>স্থির অবস্থায় বস্তুর স্থিতি শক্তি ও ভরের মান সমান। এখন বস্তুটি যদি চলা শুরু করে তখন এর শক্তির মান পূর্ববর্তী স্থিতি শক্তির চেয়ে বেশি। অতিরিক্ত এই শক্তিকেই আমরা বলি, গতিশক্তি। রাসায়নিক ও নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফলে গতিশক্তি স্থিতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয় যা আদতে বস্তুর ভর৪। একই সাথে উলটা ব্যাপারও ঘটে। ভর বা স্থিতি শক্তিকে রাসায়নিক ও নিউক্লিয় বিক্রিয়ার ফলে গতিশক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব, আর সেটা করে আমরা ইঞ্জিন চালাতে পারি, কিংবা বোমা মেরে সব উড়িয়ে দিতে পারি।</p>
<p>সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম মহাবিশ্বের ভরের উপস্থিতি কোন ধরণের প্রাকৃতিক নিয়মের লংঘন করেনা। শক্তি থেকে ভর সৃষ্টি সম্ভব একই সাথে ভরের শক্তিতে রুপান্তর হওয়াটাও একেবারে প্রাকৃতিক একটি ব্যাপার। সুতরাং ভর সৃষ্টি জনিত কোন মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনার প্রয়োজন মহাবিশ্ব সৃষ্টি সময় ছিলোনা। কিন্তু শক্তি এলো কোথা থেকে?</p>
<p>শক্তির নিত্যতা সূত্র বা তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র অনুযায়ী আমরা জানি শক্তিতে অন্য কোথাও থেকে আসতে হবে। ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্ব সত্য হবে যদি তাত্ত্বিকভাবে এমন প্রমান পাওয়া যায় যে, আজ থেকে তের দশমিক সাত বিলিয়ন বছর পূর্বে বিগব্যাঙের শুরুতে শক্তির নিত্যতার সূত্রের লংঘন ঘটেছিলো।</p>
<p>কিন্তু পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে তাত্ত্বিক ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় মোটেও ব্যাপারটি এমন নয়। তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র অনুযায়ী একটি বদ্ধ সিস্টেমে মোট শক্তির পরিমাপ স্থির থাকলেই কেবল শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়। মজার এবং আসলেই দারুন মজার ব্যাপার হচ্ছে, মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ শূন্য৫! বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার ১৯৮৮ এর সর্বাধিক বিক্রিত বই, কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বা A Brief History of Time এ উল্লেখ করেছেন, যদি এমন একটা মহাবিশ্ব ধরে নেওয়া যায়, যেটা মহাশূন্যে মোটামুটি সমস্বত্ত্ব, তাহলে দেখানো সম্ভব, যে ঋণাত্বক মহাকর্ষীয় শক্তি এবং ধনাত্বক মহাকর্ষীয় শক্তি ঠিক ঠিক কাটাকাটি যায়। তাই মহাবিশ্বের মোট শক্তি থাকে শূন্য। বিশেষ করে, পরিমাপের অতি সূক্ষ্ম বিচ্যুতি ধরে নিলেও, ক্ষুদ্র কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার মধ্যে, মহাবিশ্বের বড় শক্তির ঘনত্ব ঠিক ততটাই দেখা যায়, যতটা হতো সবকিছু একটা শূন্যশক্তির আদি অবস্থা থেকে শুরু হলে৬।</p>
<p>ধনাত্মক ও ঋণাত্মক শক্তির এই ভারসাম্যের কথা নিশ্চিত করে বিগ ব্যাঙ তত্ত্বের বর্তমান পরিবর্ধিত রূপ ইনফ্লেশনারি বিগ ব্যাঙ ধারণা। ইনফ্লেশন থিওরী প্রস্তাবিত করার পর একে নানাভাবে পরীক্ষা- নিরিক্ষা করা হয়েছে। যেকোন পরীক্ষায় ব্যর্থ বা ভুল ফলাফল দানই এই তত্ত্বকে বাতিল করে দেবার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এটি সকল পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়েছে৭।</p>
<p>সংক্ষেপে, মহাবিশ্বে পদার্থ ও শক্তির উপস্থিতি কোন ধরণের প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক না। ধর্মীয় সৃষ্টিতত্ত্ব মোতাবেক ঈশ্বরের হস্তক্ষেপের ফলে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পর্যবেক্ষণ ও বিজ্ঞান আমাদের দেখাচ্ছে কারও হস্তক্ষেপ নয় বরঞ্চ একদম প্রাকৃতিকভাবেই এর সৃষ্টি হওয়া সম্ভব।</p>
<p>এই উদাহরণের মাধ্যমে আরেকটি বিষয়ে আলোকপাত করা যায়। অনেকেই বলে থাকেন, বিজ্ঞানের ঈশ্বর সম্বন্ধে কিছু বলার সামর্থ্য বা সাধ্য নেই। ধরা যাক আমাদের গননাকৃত ভরের ঘনত্বের মান মহাবিশ্বকে একদম শূন্য শক্তি অবস্থায় সৃষ্টি হতে যা প্রয়োজন তার মতো আসেনি। সেইক্ষেত্রে আমরা নির্দ্ধিধায় ধরে নিতে পারতাম, এখনে অন্য কারও হাত ছিলো। সেইক্ষেত্রে এমন ধারণা করাটা হতো বিজ্ঞান সম্মত সুকুমার আচরণ। এর ফলে ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমান না হলেও তিনি যে আছেন বা থাকতে পারেন সেটা একটি ভালো ভিত্তি পেতো।</p>
<p><strong>শৃঙ্খলার সূচনা</strong></p>
<p>সৃষ্টিবাদের আরেকটি অনুমানও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের সাথে মেলে না। যদি মহাবিশ্বকে সৃষ্টিই করা হয়ে থাকে তাহলে সৃষ্টির আদিতে এর মধ্যে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা থাকবে- একটি নকশা থাকবে যেটার নকশাকার সয়ং স্রষ্টা। এই যে আদি শৃঙ্খলা, এটার সম্ভাব্যতাকে সাধারণত প্রকাশ করা হয় তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্রের আকারে। এই সূত্র মতে, কোনো একটা আবদ্ধ সিস্টেমের সব কিছু হয় একইরকম সাজানো গোছানো থাকবে (এন্ট্রপি স্থির) অথবা সময়ের সাথে সাথে বিশৃঙ্খল হতে থাকবে (অর্থাৎ এন্ট্রপি বা বিশৃঙ্খলা বাড়তেই থাকবে)। একটি সিস্টেমের এই বিক্ষিপ্ততা কমানো যেতে পারে শুধুমাত্র বাইরে থেকে যদি কেউ সেটাকে গুছিয়ে দেয় তখন। তবে বাইরে থেকে কোনো কিছু সিস্টেমকে প্রভাবিত করলে সেই সিস্টেম আর আবদ্ধ সিস্টেম থাকে না। </p>
<p>তাপগতিবিদ্যার এই দ্বিতীয় সূত্রটি প্রকৃতির অন্যতম একটি মৌলিক সূত্র, যার কখনো অন্যথা হয় না। কিন্তু আমরা চারপাশে তাকালে এলোমেলো অনেক কিছুর সাথে সাথে সাজানো গোছানো অনেক কিছুই দেখি। আমরা এক ধরণের সার্বিক শৃঙ্খলা দেখতে পাই যেটা প্রকৃতির নিয়মেই (তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র) দিনে দিনে বিশৃঙ্খল হচ্ছে। (যেমন তেজস্ক্রিয় পরমানু ভেঙ্গে বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়, অথবা ক্ষয়ে যেতে থাকে পুরোনো প্রাসাদ)। তার মানে সৃষ্টির আদিতে নিশ্চই সব কিছুকে একরকম ‘পরম শৃঙ্খলা’ দেওয়া হয়েছিলো। প্রকৃতির সকল ক্রিয়া-বিক্রিয়া তাপগতি বিদ্যা মেনে সেই শৃঙ্খলাকে প্রতিনিয়ত বিশৃঙ্খল করে চলেছে। তাহলে শুরুতে এই শৃঙ্খলার সূচনা করল কে?</p>
<p>কে আবার? নিশ্চই সৃষ্টিকর্তা! ১৯২৯ এর আগ পর্যন্ত সৃষ্টিবাদের পিছনে এটাই ছিলো অলৌকিক সৃষ্টিবাদীদের একটা শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক যুক্তি। কিন্তু সেই বছর জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল পর্যবেক্ষণ করেন যে গ্যালাক্সি সমূহ একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে নিজেদের দূরত্বের সমানুপাতিক হারে। অর্থাৎ দুইটা গ্যালাক্সির পারস্পারিক দূরত্ব যত বেশি একে অপর থেকে দূরে সরে যাওয়ার গতিও তত বেশি। এই পর্যবেক্ষণই বিগ ব্যাঙ তত্ত্বের সর্বপ্রথম আলামত। আর আমরা জানি, একটা প্রসারনশীল মহাবিশ্ব চরম বিশৃঙ্খলার থেকে শুরু হলেও এর মধ্যে আঞ্চলিক শৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ সব কিছু এলোমেলোভাবে শুরু হলেও তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্রকে ভঙ্গ না করেও প্রসারনশীল কোনো সিস্টেমের কোনো কোনো অংশে শৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া সম্ভব।</p>
<p>ব্যাপারটাকে একটা গৃহস্থলির উদাহরণ দিয়ে বর্ণনা করা যায়। ধরুন যখনই আপনি আপনার বাড়ি পরিষ্কার করেন তখন জোগাড় হওয়া ময়লাগুলো জানলা দিয়ে বাড়ির উঠানে ফেলে দেন। এভাবে যদিও দিনে দিনে উঠানটা ময়লা আবর্জনায় ভরে যেতে থাকে কিন্তু ঘরটা সাজানো-গোছানো এবং পরিষ্কারই থাকে। এভাবে বছরের পর বছর চালিয়ে যেতে হলে যেটা করতে হবে উঠান সব আবর্জনায় ভরে গেলে আশে পাশের নতুন জমি কিনে ফেলতে হবে। তারপর সেসব জমিকেও ময়লা ফেলার উঠান হিসাবে ব্যবহার করলেই হলো। তারমানে এভাবে আপনি আপনার ঘরের মধ্যে একটা আঞ্চলিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছেন কিন্তু এর জন্য বাকি দুনিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। </p>
<p><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/08/jj.png"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/08/jj-300x195.png" alt="" title="jj" width="300" height="195" class="aligncenter size-medium wp-image-26836" /></a></p>
<p>চিত্র -২: <em>এখানে মহাবিশ্বের সর্বমোট-এন্ট্রপি এবং সর্বোচ্চ-সম্ভাব্য-এন্ট্রপিকে মহাবিশ্বের ব্যাসার্ধের ফাংশন আকারে আঁকা হয়েছে। শুরুতে (প্লাঙ্ক সময়ে) উভয়ই সমান, যেখান থেকে বলা যায় মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলার মধ্যে। কিন্তু যেহেতু মহাবিশ্ব ক্রমপ্রসারমান, তাই এই নতুন সৃষ্ট স্পেসে সর্বোচ্চ-এন্ট্রপি বা বা সর্বোচ্চ-বিশৃঙ্খলা যতটা হতে পারত মহাবিশ্বের মোট এন্ট্রপি, যদিও সেটাও ক্রমবর্ধমান, তার চেয়ে কম। অর্থাৎ তাবপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্রকে লঙ্ঘন না করেও এই ক্রমবর্ধমান বাড়তি স্পেস মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে শৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। </em></p>
<p>একই ভাবে মহাবিশ্বের অংশ বিশেষে শৃঙ্খলা রক্ষা করা যেতে পারে, যদি সেখানে সৃষ্ট এন্ট্রপি (বিশৃঙ্খলা) ক্রমাগত ভাবে বাইরের সেই চিরবর্ধনশীল মহাশূন্যে ছুড়ে দেওয়া হয়। চিত্র-২ এ আমরা দেখি মহাবিশের সার্বিক বিশৃঙ্খলা তাপগতিবিদ্যা মেনেই ধারাবাহিক ভাবে বেড়ে চলেছে৮। কিন্তু মহাবিশ্বের আয়তনও বাড়ছে ক্রমাগত। সেই বর্ধিত আয়তন (স্পেস) কে পুরোপুরি বিশৃঙ্খলায় ভরে ফেলতে যে বাড়তি এন্ট্রপি লাগতো সেটাই হচ্ছে আমাদের সর্বোচ্চ-সম্ভাব্য-বিশৃঙ্খলা। কিন্তু চিত্র-১ থেকেই আমরা দেখি বাস্তবে বিশৃঙ্খলার বৃদ্ধির হার তটটা নয়। আর বিশৃঙ্খলার অনুপস্থিতি মানেই শৃঙ্খলা। তাই এই বাড়তি স্পেসে অনিবার্যভাবেই শৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। </p>
<p>ব্যাপারটাকে এভাবে দেখা যায়। আমরা জানি, কোনো একটা গোলকের (আমরা মহাবিশ্বকে গোলক কল্পনা করছি) এন্ট্রপি যদি সর্বোচ্চ হয় তাহলে সেই গোলকটা ব্লাক হোলে পরিণত হয়। অর্থাৎ ঐ গোলকের আয়তনের একটা ব্লাকহোলই হচ্ছে একমাত্র বস্তু যার এন্ট্রপি ঐ আয়তনের জন্য সর্বোচ্চ। কিন্তু আমাদের এই ক্রমপ্রসারনশীল মহাবিশ্বতো পুরোটাই একটা ব্লাকহোল নয়। তার মানে মহাবিশ্বের এন্ট্রপি(বিশৃঙ্খলা) সম্ভাব্য-সর্বোচ্চের চেয়ে কিছুটা হলেও কম। তার মানে যদিও সময়ের সাথে সাথে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে ক্রমাগত, তারপরও আমাদের মহাবিশ্ব এখন সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল নয়। কিন্তু একসময় ছিলো। একদম শুরুতে।</p>
<p>ধরুন যদি আমরা মহাবিশ্বের এই প্রসারণকে পিছনের দিকে ১৩.৭ বিলিওন বছর ফিরিয়ে নিয়ে যাই তাহলে আমরা পৌছাব  সংজ্ঞাযোগ্য একদম আদিতম সময়ে অর্থাৎ প্লাঙ্ক সময় ৬.৪ x ১০-৪৪ সেকেন্ডে যখন মহাবিশ্ব ছিলো ততটাই ক্ষুদ্র যার চেয়ে ক্ষুদ্রতম কিছু স্পেসে থাকতে পারে না। এটাকে বলা হয় প্লাঙ্ক গোলক যার ব্যাসার্ধ হচ্ছে প্লাঙ্ক দৈর্ঘের (১.৬x১০­-৩৫ মিটার) সমান। তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র থেকে যেমন অনুমান করা হয় তখন মহাবিশ্বের মোট এন্ট্রপি এখনকার মোট এন্ট্রপির চেয়ে তেমন ভাবেই কম ছিলো। অবশ্য প্লাঙ্ক গোলকের মত একোটা ক্ষুদ্রতম গোলকের পক্ষে সর্বোচ্চ যতটা এন্ট্রপি ধারণ করা সম্ভব তখন মহাবিশের এন্ট্রপি ঠিক ততটাই ছিলো। কারণ একমাত্র কোনো ব্লাকহোলের পক্ষেই প্লাঙ্ক গোলকের মত এতটা ক্ষুদ্র আকার ধারণ করা সম্ভব। আর আমরা জানি ব্লাকহোলের এন্ট্রপি সব সময়ই সর্বোচ্চ্য।</p>
<p>পদার্থবিজ্ঞানীরা এই তত্ত্ব শুনে অনেক সময়ই যে আপত্তি জানান সেটা হলো, ‘আমাদের হাতে এখনো প্লাঙ্ক টাইমের পূর্বের ঘটনাবলির উপর প্রয়োগ করার মত কোনো কোয়ান্টাম মহাকর্ষের তত্ত্ব নেই’। আমরা যদি সময়ের আইন্সটাইনিয় সংজ্ঞাটাই গ্রহন করি, মানে ঘড়ির সাহায্যে যেটা মাপা হয়। তাহলে দেখা যায় প্লাঙ্ক সময়ের চেয়ে ক্ষুদ্রতম সময়ের ব্যাপ্তি মাপতে হলে আমাদের প্লাঙ্ক দৈর্ঘ্যের চেয়ে ক্ষুদ্রতম দৈর্ঘ্যে মাপযোখ করতে হবে। যেখানে প্লাঙ্ক দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্লাঙ্ক সময়ের আলো যে পথ অতিক্রম করে তার দৈর্ঘ্য। অর্থাৎ আলোর গতি ও প্লাঙ্ক সময়ের গুণফল। কিন্তু হাইজেনবার্গের আনসার্টেনিটি প্রিন্সিপাল থেকে আমরা জানি, কোনো বস্তুর অবস্থান যত সূক্ষ ভাবে মাপা হয় তার শক্তি সম্ভাব্য মান ততই বাড়তে থাকে। এবং গাণিতিক হিসাব থেকে দেখানো যায় প্লাঙ্ক দৈর্ঘ্যের সমান কোনো বস্তুকে পরিমাপযোগ্য ভাবে অস্তিত্বশীল হতে হলে তার শক্তি এতটাই বাড়তে হবে যে সেটা তখন একটা ব্লাকহোল এ পরিণত হবে। যে ব্লাকহোল থেকে কোনো তথ্যই বের হতে পারে না। এখান থেকে বলা যায় প্লাঙ্কটাইমের চেয়ে ক্ষুদ্রতম কোনো সময়ের বিস্তার সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়৯।</p>
<p>বর্তমান সময়ের কথা চিন্তা করুন। পদার্থবিজ্ঞানের কোনো প্রতিষ্ঠিত সূত্র প্রয়োগেই আমাদের দ্বিধার কিছু নেই যতক্ষণ না আমরা প্লাঙ্ক সময়ের চেয়ে ক্ষুদ্র বিস্তারের কোনো সময়ের জন্য এর প্রয়োগ করছি। মূলত সংজ্ঞা অনুযায়ী সময়কে গণনা করা হয় প্লাঙ্ক সময়ের পূর্ণসঙ্খ্যার গুণিতক হিসাবে। আমারা আমাদের গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞানে সময়কে একটা কন্টিনিউয়াস চলক হিসাবে ধরে পার পেয়ে যাই, কারণ সময়ের এই ক্ষুদ্র অবিভাজ্য একক এতই ছোটো যে ব্যবহারিক ক্যালকুলাসে আমাদের এর কাছাকাছি আকারের কিছুই গণনা করতে হয় না। আমাদের সূত্রগুলো প্লাঙ্ক সময়ের মধ্যেকার অংশগুলো দিয়ে এক্সট্রাপলেট হয়ে যায় যদিও এই ইন্টারভেলের মধ্যে কিছু পরিমাপ অযোগ্য এবং অসংজ্ঞায়িত। এখন এভাবে এক্সট্রাপোলেট যেহেতু আমরা ‘এখন’ করতে পারি, সেহেতু নিশ্চই বিগ ব্যাঙ এর শুরুতে প্রথম প্লাঙ্ক ইন্টারভেলের শেষেও করতে পারবো। </p>
<p>সেই সময়ে আমাদের এক্সট্রপোলেশন এর হিসাব থেকে আমরা জানি যে তখন এন্ট্রপি ছিলো সর্বোচ্চ। এর মানে সেখানে ছিলো শুধুমাত্র ‘পরম বিশৃঙ্খলা’। অর্থাৎ, কোনো ধরণের শৃঙ্খলাই অস্তিত্ব ছিলো না। তাই, শুরুতে মহাবিশ্বে কোনো শৃঙ্খলাই ছিলো না। এখন আমরা মহাবিশ্বে যে শৃঙ্খলা দেখি তার কারণ, এখন বর্ধিত আয়তন অনুপাতে মহাবিশ্বের এন্ট্রপি সর্বোচ্চ নয়। </p>
<p>সংক্ষেপে বললে, আমাদের হাতের কসমোলজিক্যাল উপাত্ত মতে মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে কোনো ধরণের শৃঙ্খলা, নকশা বা নির্মান ছাড়াই। শুরুতে ছিলো শুধুই বিশৃঙ্খলা।</p>
<p>বাধ্য হয়েই আমাদের বলতে হচ্ছে যে আমরা চারিপাশে যে সূক্ষাতিসূক্ষ শৃঙ্খলা দেখি তা কোনো আদি স্রষ্টার দ্বারা সৃষ্ট নয়। বিগ-ব্যাঙ এর আগে কী হয়েছে তার কোনো চিহ্নই মহাবিশ্বে নেই। এবং সৃষ্টিকর্তার কোনো কাজের চিহ্নই বা তার কোনো নকশাই এখানে বলবত নেই। তাই তার অস্তিত্বের ধারনাও অপ্রয়োজনীয়। </p>
<p>আবারও আমরা কিছু বৈজ্ঞানিক ফলাফল পেলাম যেগুলো একটু অন্যরকম হলেই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ হতে পারতো। যেমন মহাবিশ্ব যদি ক্রমপ্রসারণমান না হয়ে স্থির আকৃতির হতো (যেমনটা বাইবেলে বলে) তাহলেই তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র মতে আমরা দেখতাম সৃষ্টির আদিতে এন্ট্রপির মান সর্বোচ্চ-সম্ভাব্য-এন্ট্রপির চেয়ে কম ছিলো। তার মানে দাড়াতো মহাবিশ্বের সূচনাই হয়েছে খুবই সুশৃঙ্খল একটা অবস্থায়। যে শৃঙ্খলা আনয়ন করা হয়েছে বাইরে থেকে। এমনকি পিছনের দিকে অসীম অতীতেও মহাবিশ্বের অস্তিত্ব থাকতো তাহলে আমরা যতই পিছনে যেতাম দেখতাম সব কিছুই ততই সুশৃঙ্খল হচ্ছে এবং আমরা একটা পরম শৃঙ্খলার অবস্থায় পৌছে যেতাম যে শৃঙ্খলার উৎস সকল প্রাকৃতিক নিয়মকেই লঙ্ঘন করে।</p>
<p><strong>মহাবিশ্বের সূচনা</strong></p>
<p>বিগব্যাঙ বা মহাবিস্ফোরণের মধ্যদিয়ে এই মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে- বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারের পর ধর্মবেত্তারা বলা শুরু করেছেন এই আবিষ্কারের ফলেই প্রমান হলো ঈশ্বর আছেন, তাদের ধর্মগ্রন্থে আছে বিগব্যাঙ এর কথা।</p>
<p>১৯৭০ সালে জ্যোতি-পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এবং গণিতবিদ রজার পেনরোজ, পেনরোজের আগের একটি উপপাদ্য আলোকে প্রমান করেন যে, বিগব্যাং এর শুরুতে “সিংগুলারিটি” র অস্তিত্ব ছিলো১০। সাধারণ আপেক্ষিকতাকে শূন্য সময়ের আলোকে বিবেচনা করার মাধ্যমে দেখা যায় যে, বর্তমান থেকে পেছনে যেতে থাকলে মহাবিশ্বের আকার ক্রমশ ছোট এবং ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। পেছন যেতে যেতে যখন মহাবিশ্বের আকার শূন্য হয় তখন সাধারণ আপেক্ষিকতার গণিত অনুযায়ী এর ঘনত্ব হয় অসীম। মহাবিশ্ব তখন অসীম ভর ও ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি বিন্দু যার নাম “পয়েন্ট অফ সিংগুলারিটি”। ধর্মবেত্তারা যারা বিগব্যাঙকে ঈশ্বরের কেরামতি হিসেবে ফুটিয়ে তুলতে চান তারা বলেন, তখন সময় বলেও কিছু ছিলোনা।</p>
<p>তারপর থেকে এভাবেই চলছে। বিগব্যাঙ এর আগে অসীম ভর ও ঘনত্বের বিন্দুতে সবকিছু আবদ্ধ ছিলো, তখন ছিলোনা কোন সময়। তারপর ঈশ্বর ফুঁ দানের মাধ্যমে এক মহাবিস্ফোরণ ঘটান, সূচনা হয় মহাবিশ্বের, সূচনা হয় সময়ের। আরেক ধর্মবেত্তা দিনেশ ডি&#8217;সুজা বলেন, বুক অফ জেনেসিস যে ঈশ্বর প্রদত্ত মহা সত্য গ্রন্থ সেটা আরেকবার প্রমানিত হলো। আধুনিক বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিলো শক্তি এবং আলোর এক বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে। এমন না যে, স্থান ও সময়ে মহাবিশ্বের সুচনা তখন ঘটেছে, বরঞ্চ মহাবিশ্বের সূচনা ছিলো সময় ও স্থানেরও সূচনা১১। ডি&#8217;সুজা আরও বলেন, “মহাবিশ্বের সূচনার আগে সময় বলে কিছুর অস্তিত্ব ছিলোনা। অগাস্টিন অনেক আগেই লিখেছিলেন, মহাবিশ্বের সুচনার ফলে সময়ের সূচনা হয়েছিলো। এতোদিনে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান নিশ্চিত করলো, অগাস্টিন এবং ইহুদি, খ্রিস্টানদের মহাবিশ্বের সূচনা সম্পর্কে আদিম উপলব্ধির সত্যতা”১২। অবশ্য আদতে বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার জেনেসিসের সত্যতার কোন রকমের নিশ্চয়তা তো দেই না, বরঞ্চ এই ধর্ম গ্রন্থ এবং আরও অনেক ধর্ম গ্রন্থে থাকা সৃষ্টির যে গল্প এতোদিন ধার্মিকরা বিশ্বাস করিয়ে এসেছেন তা কতোটা ভুল এবং অদ্ভুত সেটাই প্রমান করে।</p>
<p>যাই হোক, সিঙ্গুলারিটির কথা বলে ধর্মবেত্তাদের ভেতরে গভীর সাড়া ফেলা স্টিফেন হকিং এবং পেনরোজ প্রায় বিশ বছর আগে ঐক্যমতে পৌঁছান যে, বাস্ততে সিংগুলারিটি নামের কোন পয়েন্টের অস্তিত্ব ছিলোনা। সাধারণ আপেক্ষিকতার ধারনায় হিসেব করলে অবশ্য তাদের আগের হিসেবে কোন ভুল ছিলোনা। কিন্তু সেই ধারনায় সংযুক্ত হয়নি কোয়ান্টাম মেকানিক্স। আর তাই সেই হিসেব আমলে নেওয়া যায়না। ১৯৮৮ সালে হকিন্স এ ব্রিফ হিস্টোরি অফ টাইম বইতে বলেন, There was in fact no singularity at the beginning of universe. অর্থাৎ মহাবিশ্বের সূচনার সময়ে সিঙ্গুলারিটির অস্তিত্ব ছিলোনা১৩।</p>
<p>ডি&#8217;সুজার মতো মানুষেরা ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম বইটিতে একনজর চোখ বুলিয়েছেন সেটা সত্যি। কিন্তু পড়ে বোঝার জন্য না। তারা খুঁজেছেন তাদের মতাদর্শের সাথে যায় এমন একটি বাক্য এবং সেটা পেয়েই বাকি কোনদিকে নজর না দিয়ে লাফিয়ে উঠেছিলেন। বইয়ের আলোকে সুজা হকিংকে উদ্ধৃত করে বলেন, বিগ ব্যাঙ এর আগে অবশ্যই একটি সিংগুলারিটির অস্তিত্ব ছিলো১৪। ডি&#8217;সুজা এই উদ্ধৃতির সামনের পেছনের বাকি বাক্যগুলোকে উপেক্ষা করার মাধ্যমে এমন একটি অর্থ দাঁড় করালেন, যা হকিং এর মতের ঠিক উলটো। হকিং আসলে বলছিলেন তাদের ১৯৭০ করা হিসেবের কথা, যেখানে তারা সিঙ্গুলারিটির কথা আলোচনা করেছিলেন। সম্পূর্ণ কথাটি ছিলো এমন- আমার এবং পেনরোজের গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল ১৯৭০ সালে একটি যুগ্ম প্রবন্ধের মাধ্যমে প্রথম প্রকাশিত হয়, যেখানে আমরা প্রমান করে দেখাই যে, বিগ ব্যাঙ এর আগে অবশ্যই সিঙ্গুলারিটির অস্তিত্ব ছিলো, যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়, এবং এও ধরে নেওয়া হয় যে, বর্তমানে মহাবিশ্ব যেই পরিমান পদার্থ রয়েছে আগেও তাই ছিলো”১৫ হকিং আরও বলেন,</p>
<blockquote><p>এক সময় আমাদের(হকিং এবং পেনরোস) তত্ত্ব সবাই গ্রহন করে নিলো এবং আজকাল দেখা যায় প্রায় সবাই এটা ধরে নিচ্ছে যে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে একটা বিন্দু(সিঙ্গুলারিটি) থেকে বিগ ব্যাঙ এর মাধ্যমে। এতা হয়তো একটা পরিহাস যে এ বিষয়ে আমার মত পালটানোর পরে আমিই অন্য পদার্থবিজ্ঞানীদের আশ্বস্ত করতে চেষ্টা করছি, যে এমন কোনো সিঙ্গুলারিটি ছিলো না- আমরা পরে দেখতে পাবো, কোয়ান্টাম ইফেক্টগুলো হিসাবে ধরলে এই সিঙ্গুলারিটি আর থাকে না১৬।
</p></blockquote>
<p>অথচ ধর্মবেত্তারা আজ অবদি সেই সিংগুলারিটি পয়েন্টকে কেন্দ্রে করে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমান বিষয়ক অসংখ্য বই লিখে চলছেন। বছরখানেক আগে প্রকাশিত বইয়ে র‍্যাভি যাকারিয়াস বলেন, “আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের পাশাপাশি বিগ ব্যাঙ তত্ত্বের মাধ্যমে আমরা এখন নিশ্চিত সব কিছুর অবশ্যই একটি সূচনা ছিলো। সকল ডাটা আমাদের এই উপসংহার দেয় যে, একটি অসীম ঘনত্বের বিন্দু থেকেই মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ শুরু হয়েছিলো”১৭।</p>
<p>স্টিফেন হকিং এর প্রথম প্রবন্ধ এতো ভালোভাবে পড়লেও পরবর্তীতে আর কিছু পড়ে দেখার ইচ্ছে হয়তো তাদের হয়নি। কিংবা পড়লেই, নিজেদের মতের সাথে মিলেনা বলে তারা সেটা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে বের করে দিয়েছেন আরেক কান দিয়ে। তারা অবিরাম ঘেঁটে চলছেন সেই পুরোনো কাসুন্দি, যেই কাসুন্দি আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেন কাসুন্দি প্রস্তুতকারী মানুষটি নিজেই। </p>
<p>‘বিগ ব্যাঙ’ তত্ত্বটি বৈজ্ঞানিক সমাজে গৃহীত হওয়ার পর ১৯৫১ সালে Pope Pius XII পন্টিফিকাল একাডেমীর সভায় ঘোষণা করেছিলেন,</p>
<blockquote><p>‘যদি সৃষ্টির শুরু থাকে, তবে অবশ্যই এই সৃষ্টির একজন স্রষ্টাও রয়েছে, আর সেই স্রষ্টাই হলেন ঈশ্বর।’</p></blockquote>
<p>এই কারণেই জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এবং ধর্মযাজক জর্জ হেনরি লেমিত্রি (যিনি ‘বিগ ব্যাঙ’ প্রতিভাসের একজন অন্যতম প্রবক্তা) পোপকে সে সময় বিনয়ের সঙ্গে এ ধরনের যুক্তিকে ‘অভ্রান্ত’ হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কেন দিয়েছিলেন সেটা এখন আমরা ঠিকই বুঝতে পেরেছি। পোপ বুঝতে পারেন নি, আর তাই এখন পোপের সময় এসেছে ঈশ্বরের বানীকে পরিবর্তন করে বিগ ব্যাঙ্গের মূল বিষয়ের সাথে ধর্মগ্রন্থকে খাপ খাওয়াতে।</p>
<p><strong>প্রাকৃতিক ভাবে কিভাবে মহাবিশ্বের সূচনা হতে পারে</strong></p>
<p>মহাবিশ্বের একটি সূচনা থাকতেই এমন কোন কথা কিন্তু নেই। একে পেছনে সীমাহীন অনন্ত সময় পর্যন্ত টেনে নেওয়া সম্ভব, যেমন সম্ভব সামনের দিকে অনন্ত সময় পর্যন্ত যাওয়া, অর্থাৎ এর কোনো ধ্বংসও নেই। আজ থেকে হাজার কোটি বছর পরে হতে পারে মহাবিশ্বের আর কোন প্রাণ তো দূরের কথা নিউট্রিনোস ছাড়া আর কিছুই নেই, কিন্তু নিউট্রিনো দিয়েই তৈরী একটা ঘড়ি কিন্তু তখনও চলবে- টিক টিক করে।</p>
<p>প্রাকৃতিক ভাবে মহাবিশ্বের সূচনা কিভাবে হতে পারে সেটা নিয়ে জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানী ভিক্টর যে স্টেংগরের ব্যাখ্যা আমার সবচেয়ে পছন্দের। এই মতবাদ তিনি দিয়েছেন ১৯৮৩ সালে দেওয়া বিজ্ঞানী জেমস হার্টেল ও স্টিফেন হকিং একটি প্রস্তাবনার আলোকে১৮। গানিতিক মডেল তৈরী করার মাধ্যমে স্টেংগর সম্পূর্ণ ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেছেন। পরবর্তীতে সেটা নিয়ে তিনি একটি বই ও দার্শনিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন১৯ ২০। তাঁর প্রস্তাবনা সল্প পরিসরে নীচে তুলে ধরা হলো।</p>
<p>এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী আমাদের মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছিলো কোয়ান্টাম টানেলিং নামক পক্রিয়ায় অপর একটি মহাবিশ্ব থেকে- যেই মহাবিশ্ব অস্তিত্ব ছিলো অসীম সময় পর্যন্ত, অন্তত আমাদের সময় পরিমাপের দৃষ্টিকোন থেকে। কোয়ান্টাম টানেলিং একটি প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক ধারণা। কোন বস্তুর একটি বাধার বা দেওয়ালের ভেতর গলে বের হয়ে যাওয়াই কোয়ান্টাম টানেলিং। বিগ ব্যাঙ নামক যেই অভিজ্ঞতা আমাদের মহাবিশ্ব উপলব্ধি করেছে আদিম মহাবিশ্বটি উপলব্ধি করেছে ঠিক তার উলটো একটি অভিজ্ঞতা। আরও একটি ব্যাপার হলো, একটি মহাবিশ্বে সময়ের দিক নির্ধারণ করা হয়ে থাকে এনট্রপি বৃদ্ধি বা বিশৃংখলা বৃদ্ধির দিকের সাথে। এখন অপর মহাবিশ্বের সময়ের দিক যদি আমাদের মহাবিশ্বের সময়ের দিকের ঠিক উলটো হয় তাহলে কোয়াণ্টাম টানেলিং এর মাধ্যমে দুই দিকে দুটি মহাবিশ্বের পথচলা শুরু হতে পারে একেবারে &#8220;কিছু না” থেকে।</p>
<p>তবে ভিক্টর স্টেনগর নিজেও স্বীকার করেছেন, আদতে এমনটাই হয়েছে সেটা তিনিও হলফ করে বলতে পারে না। নিউ এথিজম গ্রন্থে তিনি এ বিষয়ে বলেছেন, যেটা হতে পারে এই লেখারও শেষ বক্তব্য২১,</p>
<blockquote><p>আমার বলতে দ্বিধা নেই, মহাবিশ্বের সূচনা কিভাবে হয়েছিলো তা নিয়ে করা আমার ব্যাখ্যা এতোটা বিখ্যাত নয় সাধারণের কাছে। অবশ্য, এই প্রস্তাবনা প্রকাশের পর কয়েকবছর কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন পদার্থবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিদ এমনকি দার্শনিকরা কোন ভুল বের করতে পারেন নি। তারপরও আমি দাবী করিনা, ঠিক এইভাবেই মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছিলো। আমি এতটুকুই বলতে চাই, এটি আমাদের বর্তমান জ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন একটি প্রস্তাবনা যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারে, মহাবিশ্বের একটি প্রাকৃতিক অসম্ভব কোন ধারণা নয়। এবং একই সাথে আমি এটাও বলতে চাই, মহাবিশ্ব সূচনায় আসলে ব্যাখ্যাতীত কোন বিষয় বা শূন্যস্থান নেই, যেখানে ধর্মবেত্তারা টুপ করে ঈশ্বরকে বসিয়ে দিতে পারবেন।
</p></blockquote>
<p>তথ্যসূত্রঃ</p>
<div id="attachment_26837" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/08/Screenshot.png"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/08/Screenshot-300x113.png" alt="" title="Screenshot" width="300" height="113" class="size-medium wp-image-26837" /></a><p class="wp-caption-text">ছবিতে ক্লিক করে বড় করে দেখুন</p></div>
<p>অসীম কৃতজ্ঞতাঃ তানভীরুল ইসলাম ওরফে স্পর্শ। নিশ্চয়ই তার জন্য বেহেশতের আম্রকাননে অপেক্ষায় নেই সত্তরজন হুর পরী! </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/26834/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>17</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বাংলাদেশে লিনাক্স ব্যবহারকারীদের আড্ডা</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/26608</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/26608#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 21 Jul 2010 05:31:29 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=26608</guid>
		<description><![CDATA[আয়োজকরা আড্ডার নাম দিয়েছেন &#8220;বন্টু-মিন্টুর আড্ডা&#8221;। আমি এইখানে যাচ্ছি মূলত গেঞ্জি আর প্রয়োজনীয় সকল সফটওয়ার সহ কাস্টোমাইজ ডিভিডি কিনতে। অনুষ্ঠানের বিস্তারিত: অনুষ্ঠানের নাম: বন্টু-মিন্টুর আড্ডা তারিখ: ২৩ জুলাই, ২০১০, শুক্রবার সময়: বিকাল ৩:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০ স্থান: আরসি মজুমদার মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমি প্রায় একমাস হয় উবুন্টু ব্যবহারশুরু করেছি, আপনারা যারা উইন্ডোজের পেইনে পেইনাক্রান্ত তারা [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আয়োজকরা আড্ডার নাম দিয়েছেন &#8220;বন্টু-মিন্টুর আড্ডা&#8221;। আমি এইখানে যাচ্ছি মূলত গেঞ্জি আর প্রয়োজনীয় সকল সফটওয়ার সহ কাস্টোমাইজ ডিভিডি কিনতে।</p>
<p><strong>অনুষ্ঠানের বিস্তারিত:</strong></p>
<p>অনুষ্ঠানের নাম: বন্টু-মিন্টুর আড্ডা<br />
তারিখ: ২৩ জুলাই, ২০১০, শুক্রবার<br />
সময়: বিকাল ৩:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০<br />
স্থান: আরসি মজুমদার মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</p>
<p>আমি প্রায় একমাস হয় উবুন্টু ব্যবহারশুরু করেছি, আপনারা যারা উইন্ডোজের পেইনে পেইনাক্রান্ত তারা চট করে সেদিন চলে আসতে পারেন।</p>
<p><a href="http://forum.amaderprojukti.com/viewtopic.php?f=21&#038;t=5907">মূল আলোচনা পড়ার জন্য এইখানে ক্লিক করুন</a> </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/26608/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>10</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের গবেষণা প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/25974</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/25974#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 29 Jun 2010 20:54:23 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25974</guid>
		<description><![CDATA[পহেলা জুলাই, বৃহস্পতিবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স এণ্ড টেকনোলজি বিভাগ মেডিক্যাল ফিজিক্স নিয়ে বিভাগের গবেষণা, গবেষণার অগ্রগতি ও প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি সবার সামনে তুলে ধরার জন্য একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। মেডিকেল ফিজিক্সে অধ্যাপক সিদ্দিক- ই- রব্বানীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে গর্ব করার মতো প্রচুর কাজ হয়েছে, সেগুলো দেখে তরুন গবেষক সহ অনেকেই প্রেরণা পাবেন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>পহেলা জুলাই, বৃহস্পতিবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে <a href="http://www.univdhaka.edu/department/science/biomedical_physics.php">বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স এণ্ড টেকনোলজি বিভাগ</a> মেডিক্যাল ফিজিক্স নিয়ে বিভাগের গবেষণা, গবেষণার অগ্রগতি ও প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি সবার সামনে তুলে ধরার জন্য একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। মেডিকেল ফিজিক্সে অধ্যাপক <a href="http://www.univdhaka.edu/department/common/facultymemberdetail.php?memberid=FMPHY78010&#038;bodyid=BIOPHY">সিদ্দিক- ই- রব্বানীর</a> নেতৃত্বে বাংলাদেশে গর্ব করার মতো প্রচুর কাজ হয়েছে, সেগুলো দেখে তরুন গবেষক সহ অনেকেই প্রেরণা পাবেন বলে আমি মনে করি। প্রদর্শনী চলবে সকাল দশটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত, কার্জন হলে অবস্থিত বিভাগের সামনেই। সবাই আমন্ত্রিত। বিভাগের গবেষনা কার্যক্রম নিয়ে আগ্রহীদের জন্য নীচে একটি ধারণা দেবার চেষ্টা করেছি।</p>
<div class="wp-caption aligncenter" style="width: 520px"><img alt="" src="http://sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc4/hs095.snc4/36125_459106948495_775638495_6196448_4752892_n.jpg" width="510" height="720" /><p class="wp-caption-text">আমন্ত্রণ পোস্টার। ডিজাইন করে দেবার জন্য কাইয়ূম ভাইকে ধন্যবাদ</p></div>
<p>________________________________________________</p>
<p>উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক বাংলাদেশী ছাত্ররা জ্ঞান- বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অনেক অবদান রেখে চলছেন দীর্ঘদিন ধরেই। কিন্তু তা স্বত্তেও তাদের অবদানকে মাঝে মাঝেই তীরবিদ্ধ করা হয় নানা সমালোচনায়। প্রথম সমালোচনা হয়, তাদের দেশে ফেরত আসা নিয়ে। দ্বিতীয় সমালচনা হয়, যারা দেশে ফিরে আসেন তাদের দেশে গবেষনা গ্রাফ একদম নিন্মমূখী হয়ে থাকে কেন তা নিয়ে। এইসব কারণে প্রবাসী/ দেশফেরত প্রায় সকল বাংলাদেশী বিজ্ঞানীকে আমরা সন্দেহের চোখে দেখি বা সোজা কথায় তাদের ভালো পাইনা। কিন্তু ঢালাওভাবে তাদের দোষারোপ করার আগে সমস্যার গোড়াটাও ভেবে দেখা প্রয়োজন।</p>
<p>একটি ভালো গবেষণার জন্য কী প্রয়োজন? প্রয়োজন ভালো অংকের অর্থ। এছাড়াও একটি নির্দিষ্ট গবেষণা চালানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতির প্রয়োজন, প্রয়োজন সফটওয়ারের। এই তিনটিই বাংলাদেশে সোনার হরিণ। সামান্য কিছু অর্থের যোগানের জন্য এই দেশে কয়েকবছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় ধরণা দিতে হয়, আর যন্ত্রপাতি তো বেশিরভাগ সময়ই পাওয়া যায়না। অনেক কষ্টে টাকা পয়সা জোগাড় করে বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ দিয়ে যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার কিনে কাজ চালানোও কঠিন। কারণ হঠাৎ করে একটা কিছু নষ্ট হয়ে গেলে সেটা আবার পাঠাও। এইসব করে করে প্রচুর পরিমান সময় নষ্ট হয় যার কারণে দেশে বসে গবেষণা করে উন্নত বিশ্বের গবেষণার সাথে তাল মেলানো সম্ভব হয়না। তাই ক্ষেত্র বিশেষ অনেকে চেষ্টা করলেও একসময় হাল ছেড়ে দেন। আর বাকিরা বিদেশেই কাজ করতে থাকেন। কারণ সেখানে তিনি হাত বাড়ালেই সব পাচ্ছেন।</p>
<p>ড. সিদ্দিক- ই- রব্বানী স্যার ১৯৭৮ সালে যুক্তরাজ্য থেকে মাইক্রো-ইলেক্ট্রনিক্সে পিএইচডি শেষ করে সব ছেড়ে ছুড়ে চলে এসেছিলেন দেশে। তাঁর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি ছিলো না। পরবর্তীতে মরহুম প্রফেসর এম. শামসুল ইসলামের হাত ধরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। বিভাগে তখন পদার্থবিদ ড. আবদুর সাত্তার সাইদ ও অধ্যাপক ইসলামের তত্ত্বাবধানে ইলেক্ট্রিকাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে বোন ফ্র্যাকচার হিলিং (bone fracture healing) নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম মেডিক্যাল ফিজিক্সের গবেষনার সূচনা হয়। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে এই বিষয়ের উপর গবেষণার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে অধ্যাপক ইসলাম বিট্রিশ অর্থায়নে একটি দুই দেশের বিজ্ঞানীদের জন্য একত্রিত একটি গবেষণা পোগ্রামের আয়োজন করেন। নিজে নিজেই ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতী প্রস্তুতে পারদর্শী সিদ্দিক- ই- রব্বানী এই বিষয়ের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। গত বত্রিশ বছরে তিনটি মৌলিক আবিষ্কার ছাড়াও অধ্যাপক রব্বানী ও তাঁর ল্যাবের ছাত্ররা তৃতীয় বিশ্বের মানুষের জন্য অসংখ্য বায়োমেডিক্যাল সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছেন।  ২০০৮ সালে পদার্থ বিজ্ঞান থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন, বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স এণ্ড টেকনোলজি বিভাগ।</p>
<p><a href="http://www.flickr.com/photos/32764613@N04/4746853724/" title="DSC00924 by raihan abir, on Flickr"><img src="http://farm5.static.flickr.com/4135/4746853724_43585d6236.jpg" width="500" height="375" alt="DSC00924" /></a><br />
বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগ</p>
<p>কিন্তু কীভাবে দেশে থেকেও বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে বলার মতো গবেষণা করেছেন অধ্যাপক রব্বানী? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভাগে কাজ শুরু করার সময় থেকেই আমি দুইটি দর্শন সবসময় মেনে চলেছি। প্রথমতো, আমি এমন কোন গবেষনায় হাত দিবোনা, যা করতে উন্নত বিশ্ব হাবুডুবু খাচ্ছে। মেডিক্যাল ফিজিক্সে দুনিয়াজুড়ে অসংখ্য জিনিস আবিষ্কৃত হয়েছে, কিন্তু তৃতীয় বিশ্ব যেখানে সারা পৃথিবীর জনসংখ্যার আশিভাগ লোকের বাস তাদের জন্য কিছুই হয়নি। সরাসরি তারা উপকৃত হবে এমন জিনিস নিয়েই কাজ করতে আমি সবসময় আগ্রহী ছিলাম। দ্বিতীয় দর্শন, আমি নিজে যেই জিনিস তৈরী করতে পারবোনা সেইটা নিয়ে কাজও করবোনা। একটি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি যদি আমার তৈরী করার সামর্থ থাকে তাহলে সেই গবেষণার কাজ শুরু করবো। অন্য কারও জন্য বসে থাকলে আদতে কাজ হয়না। আজকে বত্রিশ বছর পার হবার পর নবনির্মিত বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে গবেষক ছাত্র হিসেবে যোগ দিয়ে পুরো ডিপার্টমেন্ট জুড়েই স্যারের এই কথাগুলোর প্রয়োগ দেখতে পাই। একদম শূন্য থেকে কিভাবে প্রতিটা জিনিস তৈরী হয়েছে/ হচ্ছে।</p>
<p>নীচে বিভাগের মৌলিক কাজগুলো তুলে ধরা হলো।</p>
<p><strong>ফোকাসড ইমপিড্যান্স মেজারমেন্ট (এফআইএম)</strong></p>
<p>এফআইএম বিভাগের উদ্ভাবিত একটি নতুন পরিমাপ পদ্ধতি। শরীরের বেশ কিছু পরিমাপে ও রোগ নির্ণয়ে এর ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। বিদেশীরাও বাংলাদেশের উদ্ভাবিত এ পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে, পরে কিছু বর্ণনা দেয়া আছে। এর উপর আন্তর্জাতিক জার্ণালে প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, বিদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মধ্যে ১৯৯৮ সনে স্পেনের বার্সিলোনায় একটি ও গত ২০০৯ এর জুনে ইংল্যান্ডের ম্যানচেষ্টারে আমাদের তরফ থেকে পাঁচটি প্রবন্ধ পড়া হয়েছে। এ ছাড়া এ পদ্ধতি নিয়ে গবেষণার উপর যুক্তরাজ্য থেকে একটি ও কোরিয়া থেকে একটি প্রবন্ধ ম্যানচেষ্টারের সম্মেলনে পড়া হয়েছে। ২০১০ এর এপ্রিলে আমেরিকার ফ্লোরিডার একটি সম্মেলনে বিভাগ থেকে চারটি প্রবন্ধ পড়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এফআইএম পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। তারাও এ যন্ত্রটির একটি উন্নত সংস্করণ তৈরী করে আমাদেরকে সাহায্য করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমাদের বর্তমান কার্যক্রম নীচে তুলে ধরা হল।</p>
<p>ক) আমাদের গবেষণাগারে ফুসফুসের বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ু চলাচলের পরিমাপের জন্য এফআইএম এর প্রয়োগ করা হচ্ছে, অনেকদূর এগিয়েছে। শীঘ্রই বক্ষব্যাধির কোন হাসপাতালের সঙ্গে রোগ নির্ণয়ে এর বাস্তব প্রয়োগের চেষ্টা করা হবে। </p>
<p>খ) বারডেমের সঙ্গে আলোচনায় দেখা গেছে যে পেটের চর্বির পুরুত্ব নির্ণয় ডায়াবেটিস ও হার্টের অসুখ সহ বিভিন্ন অসুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। আমরা মনে করি এফআইএম এ কাজটি সফলতার সঙ্গে করতে পারবে এবং প্রাথমিক গবেষণা শুরু করা হয়েছে।<br />
গ) পাকস্থলীর খাদ্য নিষ্ক্রান্ত করার বিষয়ে আমাদের প্রাথমিক পরিমাপ সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আইসিডিডিআরবি এর সঙ্গে গবেষণার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।</p>
<p>ঘ) এফআইএম এর তাত্ত্বিক দিক নিয়ে গবেষণা করার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।</p>
<p><a href="http://www.flickr.com/photos/32764613@N04/4746238637/" title="DSC02083 by raihan abir, on Flickr"><img src="http://farm5.static.flickr.com/4077/4746238637_c232b7f422.jpg" width="500" height="375" alt="DSC02083" /></a></p>
<p><strong>ডিষ্ট্রিবিউশন অফ এফ-লেটেন্সী (ডিএফএল)</strong></p>
<p>ডিএফএল আমাদের আবিষ্কৃত একটি নতুন পদ্ধতি যার মাধ্যমে শরীরের স্নায়ু-তন্তুসমুহের কিছু অতি প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায় যা এর আগে সম্ভব ছিল না। এর উপর আন্তর্জাতিক জার্ণালে প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এর উপর গবেষণা করার আগ্রহ দেখিয়েছে। এর উপর আমাদের নিম্নলিখিত গবেষণাসমুহ চলছে। </p>
<p>ক) সার্ভিকাল এবং লাম্বো-স্যাক্রাল স্পন্ডিলোসিস রোগ নির্ণয়ে আমাদের এ নতুন উদ্ভাবনটির বিশেষ সম্ভাবনা আছে বলে প্রাথমিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। রোগীর এমআরআই করে তার সঙ্গে আমাদের রোগ নির্ণয়কে তুলনা করে দেখার কাজ চলছে।  আমাদের এ পদ্ধতিটি এ ধরণের রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই নির্দেশ করতে পারবে বলে প্রাথমিক গবেষণায় মনে হচ্ছে।</p>
<p>খ) ডায়াবেটিক রোগীদের স্নায়বিক রোগের ধরণ নির্ণয় করা যায় কিনা সে বিষয়ে বারডেমের সাথে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।</p>
<p>গ) পদ্ধতির প্রয়োজনীয় যন্ত্রের সামগ্রিক উন্নয়ন এর জন্য গবেষণা শুরু করা হয়েছে। উল্লেখ্য বর্তমানে ব্যবহৃত কমপিউটারাইজড যন্ত্রটি ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতায় অধ্যাপক রব্বানী নিজেই তৈরী করেছিলেন ও বাংলাদেশে এর সাহায্যে রোগীদের নার্ভ কনডাকশন পরিমাপের সেবার ব্যবস্থা শুরু করেছিলেন, যা তিনি এখনো চালু রেখেছেন। বাংলাদেশে নিজস্ব তৈরী কোন কম্পিউটারাইজড যন্ত্র এটিই প্রথম এবং রোগীদের নার্ভ কনডাকশন পরিমাপের সেবা দেয়াতেও দেশে এটিই ছিল প্রথম পদক্ষেপ।  </p>
<p><a href="http://www.flickr.com/photos/32764613@N04/4746234243/" title="BBCEq-2 by raihan abir, on Flickr"><img src="http://farm5.static.flickr.com/4121/4746234243_62939eab9e.jpg" width="350" height="500" alt="BBCEq-2" /></a><br />
নার্ভ কনডাকশন ইউনিট</p>
<p><strong>সূর্যের কিরণে ও বিদ্যুতের সাহায্যে স্বল্প খরচে সহজলভ্য জিনিস দিয়ে পানি জীবানুমুক্তকরণ</strong></p>
<p>সৌর বিকিরণ ব্যবহার করে নিজস্ব উদ্ভাবিত কয়েকটি প্রযুক্তিতে প্রাথমিক সফলতা আগেই এসেছে। এখন এগুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য পদক্ষেপ নেয়া দরকার। পাশাপাশি প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রচেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে। বৈদ্যুতিক কয়েকটি উদ্ভাবনীমূলক ধারণা প্রাথমিকভাবে আশা জাগিয়েছে। এর উপর আরও গবেষণা চালানো প্রয়োজন।</p>
<p>সৌর পদ্ধতিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইব্রাহিমের প্রতিষ্ঠান সিএমইএস বরিশালে বেদেদের মধ্যে সফলভাবে চালু করতে পেরেছিল এক সময়ে, কিন্তু অনুদান শেষ হয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে নি। </p>
<p><a href="http://www.flickr.com/photos/32764613@N04/4746890808/" title="harvest1 by raihan abir, on Flickr"><img src="http://farm5.static.flickr.com/4118/4746890808_931861af0e.jpg" width="500" height="473" alt="harvest1" /></a></p>
<p><strong>বায়োমেডিক্যাল যন্ত্রপাতি</strong></p>
<p>মেডিকেল ফিজিক্সে উন্নত বিশ্বে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু বেশিরভাগ গবেষণা হয়েছে উন্নত বিশ্বে, যন্ত্রপাতির উদ্ভাবনও সেখানেই। অত্যাধিক দাম হবার কারণে সেগুলোর বেশিরভাগই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো যেখানে প্রায় মোট জনসংখ্যার আশিভাগের মানুষ বাস করে তাদের দোর গোরায় পৌঁছায়নি। তাই বিভাগ থেকে নানা ধরণের প্রয়োজনীয় বায়োমেডিক্যাল যন্ত্রপাতি স্বপ্ল খরচে প্রস্তুতের জন্য গবেষণা করা হয়। এর মধ্যে ইসিজি, ইএমজি মেশিন, মাসেল স্টিমুলেটর সহ অতিপ্রয়োজনীয় নানা ধরণের যন্ত্রপাতি তৈরী করা হয়েছে। একটি ইসিজি মেশিনের মূল্য এক লাখ টাকার মতো হলেও আমাদের উদ্ভাবিত ইসিজি মেশিন মাত্র দশ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। ডায়বেটিকস রোগীরের পায়ের ওজন তারতম্য নির্নয়ের যন্ত্র পেডোগ্রাফের মূল্য পঞ্চাশ লাখ টাকা হলেও আমাদের উদ্ভাবিত একই কাজে ব্যবহারযোগ্য পেডোগ্রাফের মূল্য মাত্র ছয় লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যে এই যন্ত্রটি পাকিস্তানের একটি হাসপাতাল ক্রয় করেছে এবং তা দিয়ে রোগীদের সেবাদানও শুরু হয়েছে।</p>
<p><a href="http://www.flickr.com/photos/32764613@N04/4746429019/" title="ecg by raihan abir, on Flickr"><img src="http://farm5.static.flickr.com/4094/4746429019_98be3fa0e4.jpg" width="500" height="370" alt="ecg" /></a><br />
ইসিজি আউটপুট</p>
<p><a href="http://www.flickr.com/photos/32764613@N04/4746242703/" title="DSC03077 by raihan abir, on Flickr"><img src="http://farm5.static.flickr.com/4135/4746242703_6325cab78d.jpg" width="500" height="375" alt="DSC03077" /></a><br />
পেডোগ্রাফ আউটপুট</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/25974/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>25</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>যেই লেখা আপনাকে পড়তেই হপে!</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/25385</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/25385#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 06 Jun 2010 17:51:46 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আলোচনা]]></category>
		<category><![CDATA[নোটিশ বোর্ড]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25385</guid>
		<description><![CDATA[সুপ্রিয় সিসিবিবাসী, কানাডা না ফানাডার দুই তিনজন জড়ো হইয়া সেইটাকে গেটটুগেদার বইলা পার্ট লয় না? এইবার তাইলে শুনেন। আগামী এগারোই জুন, হ্যাঁ যেদিন বিশ্বকাপ শুরু সেদিন সকাল নয় ঘটিকায় সিসিবির মহামান্য প্রিন্সিপাল স্যার সানাউল্লাহ লাবলু ভাইয়ের বাসার সামনেস্থ ফুটবল মাঠে এক বিশাল ব্রাজিল ভার্সেস আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত ম্যাচ প্রিন্সিপাল স্যারের বাসাতেও [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>সুপ্রিয় সিসিবিবাসী,</p>
<p>কানাডা না ফানাডার দুই তিনজন জড়ো হইয়া সেইটাকে গেটটুগেদার বইলা পার্ট লয় না? এইবার তাইলে শুনেন। আগামী এগারোই জুন, হ্যাঁ যেদিন বিশ্বকাপ শুরু সেদিন সকাল নয় ঘটিকায় সিসিবির মহামান্য প্রিন্সিপাল স্যার সানাউল্লাহ লাবলু ভাইয়ের বাসার সামনেস্থ ফুটবল মাঠে এক বিশাল ব্রাজিল ভার্সেস আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত ম্যাচ প্রিন্সিপাল স্যারের বাসাতেও হলে আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ৯৯ ব্যাচ, সুতরাং খেলার মাঠে ব্রাজিলকে হারানোর জন্য আমাদের সকল সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। </p>
<p>খেলা শেষে দুপুরে পেটপুরে খেয়ে আপনারা আমাদের সাথে টেলিভিশনের খেলা দেখতে পারেন কিংবা রাস্তা মাপতে পারেন, কোন সমস্যা নাই। তাই ভাই ও বোনেরা, মনে রাইখেন শুক্রুবার সকাল নয়টায়। দয়া করে কমেন্টের ঘরে দলাদলি শুরু করেন। আর আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন কীনা সেটা আমাদের জানান।</p>
<p>অনুষ্ঠানসূচী</p>
<p>সকাল নয়টায়ঃ ফুটবল ম্যাচ।<br />
সকাল এগারোটায়ঃ সিসিবি সংক্রান্ত গীবত।<br />
দুপুর দুইটায়ঃ মাসরুফ ভাই।<br />
মাসরুফ ভাই শেষ হলে আবার গীবত।<br />
তারপরঃ রাস্তা পরিমাপ।<br />
<strong>নিজের উপস্থিতি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে: ৯ তারিখের মধ্যে</strong></p>
<p>ঠিকানার জন্য আপডেটে খেয়াল রাখুন কিংবা ফোন করুন, 01670414782 এই নাম্বারে। </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/25385/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>84</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নির্ধর্মকথা- এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি (শেষ পর্ব)</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/23909</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/23909#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 02 May 2010 20:04:17 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আলোচনা]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=23909</guid>
		<description><![CDATA[আগের পর্ব&#8230; &#8230; &#8230; তারও আগের পর্ব&#8230; &#8230; &#8230; আর্গুমেণ্ট ফ্রম ব্যাড ডিজাইন সৃষ্টির সুনিপুন নকশা বা ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইন নিয়ে মানুষের কী মাতামাতি! এই মাজেজা তারা স্কুল, কলেজের পাঠ্যপুস্তকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। আরে ভাই, নিজের শরীরের দিকেই একটু তাকিয়ে দেখুন না। এটা কী ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের কোনো নমুনা? একজন ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইনার কি তাঁর ডিজাইনে কখনও বিনোদন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/22497">আগের পর্ব</a>&#8230; &#8230; &#8230; <a href="http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/22169">তারও আগের পর্ব</a>&#8230; &#8230; &#8230;</p>
<p><strong>আর্গুমেণ্ট ফ্রম ব্যাড ডিজাইন</strong></p>
<blockquote><p>সৃষ্টির সুনিপুন নকশা বা ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইন নিয়ে মানুষের কী মাতামাতি! এই মাজেজা তারা স্কুল, কলেজের পাঠ্যপুস্তকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। আরে ভাই, নিজের শরীরের দিকেই একটু তাকিয়ে দেখুন না। এটা কী ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের কোনো নমুনা? একজন ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইনার কি তাঁর ডিজাইনে কখনও বিনোদন স্থানের পাশে পয়নিষ্কাশণ পাম্প রাখবেন? 1</p></blockquote>
<p>কথাটা বলেছিলেন কৌতুকভিনেতা রবিন উইলিয়াম তাঁর অভিনিত চলচ্চিত্র “ম্যান অব দ্য ইয়ার” এ। চলচ্চিত্রে রবিন একজন নগণ্য টেলিভিশন টক-শো অনুষ্ঠানের উপস্থাপক থেকে নানা ঘটনা, দূর্ঘটনার মাধ্যমে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হয়ে যান। প্রথা অনুযায়ী প্রাক-নির্বাচন বিতর্কে তাঁকে যখন ইণ্টেলিজেন্ট ডিজাইন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় তখন এই ছিলো তাঁর উত্তর। কৌতুক করে বললেও কথাটা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও মানুষের শরীরের সব অংগ-প্রত্যংগ আপাতদৃষ্টিতে ভালোভাবেই কাজ করছে এবং আমাদেরও বিনোদনের জায়গায় কাছাকাছি অন্যকিছুর সহাবস্থানের ব্যপারে তেমন কোনো অভিযোগ নেই, তবুও আমাদের আজন্ম লালন করা “সুনিপুন নকশা” প্রবাদটি মানসিক ভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। ঠিক মতো বিচার করলে প্রতিটি প্রজাতির নকশায় কিছু না কিছু ত্রুটি আছে। কিউইর (Kiwi) অব্যবহৃত ডানা, তিমির ভেস্টিজিয়াল পেলভিস, আমাদের এপেণ্ডিক্স যা শুধু আকামের না বরঞ্চ পাপিষ্ট কারণ কারও ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায় 2। </p>
<p>এই লেখার শুরুতে আমরা দেখেছি ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইনের প্রবক্তা প্যালে, বিহেরা মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংগের সাথে তুলনা করেছিলেন ডিজাইন করা একটি ঘড়ি বা ইঁদুর মারা কলের সাথে। বিহের ইঁদুর মারার কলে প্রতিটি যন্ত্রাংশ- কাঠের পাটাতন, ধাতব হাতুড়ি, স্প্রিং, ফাঁদ, ধাতব দণ্ড খুব সতর্কভাবে এমনভাবে জোড়া দেওয়া হয়েছে যেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এটি ইঁদুর মারার কাজটি করতে পারে। এখন প্রতিটা যন্ত্রাংশ আরও ভালোভাবে তৈরী করতে গেলে ইঁদুর মারার যন্ত্র বলুন আর ঘড়ির কথা বলুন মূল ডিজাইনে নতুন করে কিছু করার থাকেনা। এবং আরও মনে রাখা দরকার ঘড়ি, ইঁদুর মারার কল সহ মানুষের তৈরী প্রতিটি যন্ত্রে কখনও অপ্রোয়জনীয় যন্ত্রাংশের উপস্থিতি দেখা যায়না। আমাদের গবেষণাগারে চা বানানোর জন্য পানি গরম করার হিটার আছে। কিন্তু এই হিটারে পানি দিয়ে আমি, আমার তত্ত্বাবধায়ক স্যার সবসময়ই সেটা বন্ধ করার করার কথা ভুলে যাই। পরে ঠিক করা হলো, আমরা একটা টাইমার সার্কিট তৈরী করে হিটারের সাথে সংযুক্ত করে দিবো- সেটিতে তিনটি সুবিধা থাকবে। পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট, পনের মিনিট এই তিন সময়ে এটি বন্ধ করা  যাবে। ফলে পানি দিয়ে আমাদের আর চিন্তা করতে হবেনা। যদি পাঁচ মিনিট দরকার হয় তাহলে আমরা একটা সুইচ টিপে দিয়ে বসে থাকবো, আর যদি অনেক পানি থাকে এবং সেটি গরম করার জন্য পাঁচ, দশ মিনিট পর্যাপ্ত নয় তাহলে আমরা পনের মিনিটের সুইচটি টিপ দিয়ে অন্যকাজে মন দিতে পারবো- কাজ শেষ হলে এটি নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে আমাদের জানান দিবে। স্যার আমাকে দায়িত্ব দিলেন সার্কিট তৈরি করে সেটির কার্যক্রম পরীক্ষা করে দেখতে। আমি মোটামুটি একটা উপায়ের কথা চিন্তা করে একটা সার্কিট তৈরী করলাম। ব্রেড বোর্ডে সেটি লাগানো হলো। তারপর দেখা গেলো, ঠিক পাঁচ, দশ, পনেরও মিনিটের টাইমিং সার্কিট না হলেও মোটামুটি কাজ চালানোর মতো হয়েছে। স্যারকে সেটা দেখানো মাত্র উনি একটি মুচকি হাসি দিলেন। কারণ আমার সার্কিটটা কাজ করলেও পুরা সিস্টেমটি বিশাল আকার ধারণ করেছে, অসংখ্য ক্যাপাসিটর, রেজিস্টেন্স। এই আইডিয়ায় টাইমার সার্কিট তৈরী করলে সেটা মোটামুটি মশা মারতে  কামান দাগার মতো খরুচে ব্যাপার হয়ে যাবে। তারপর উনি কাগজ কলম দিয়ে একটা চমৎকার ডিজাইন এঁকে দিলেন। যেই সিস্টেমে মাথা খাটানো হয়েছে বেশি, তাই খরচ কমে গিয়েছে, মূল যন্ত্রটি সরল এবং আমারটার চেয়েও দক্ষ হয়েছে। স্যারও একজন ইঞ্জিনিয়ার, আমিও তাই। আমার সাথে তাঁর পার্থক্য হচ্ছে তিনি দক্ষ আর আমি শিক্ষানবিস। তিনি এমনভাবে একটি সিস্টেমের ডিজাইন করতে সক্ষম যেটার খরচ কম হবে, হাবিজাবি অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভরপুর থাকবেনা, সর্বোপরী সবচেয়ে ভালো কাজ করবে। এতদিন আমরা ঈশ্বরকে স্যারের মতোই চৌকস ডিজাইনার বলে মনে করতাম। কিন্তু এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা হলো তিনি তা নন। প্রকৃতিতে তার হাতে যেসব জিনিসপত্র ছিলো তা দিয়ে তিনি চাইলে আরও সুনিপুন নকশা করতে পারতেন। অপরদিকে বিবর্তন জ্ঞানে আমরা জানি, প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রানীদেহের এক অংগ বিবর্তনের পথ ধরে অন্য অংগে পরিবর্তিত হয়েছে। এভাবে পরিবর্তিত হলে স্বাভাবিক ভাবেই কিছু সমঝোতা করা আবশ্যক। প্রকৃতি জুড়ে আমরা তাই সুনিপুন ডিজাইনের পরিবর্তনে অসংখ্য সমঝোতা দেখতে পাই। যেহেতু আমার অজ্ঞতার সুযোগে এতোদিন স্রষ্ঠার অস্তিত্ত্বের প্রমানের হাতিয়ার হিসেবে আর্গুমেণ্ট ফ্রম ডিজাইন এতোদিন ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো, তাই সেটির অনুকরণে বিবর্তন হবার প্রমান হিসেবে আমাদের আর্গুমেণ্ট ফ্রম ব্যাড ডিজাইন।  </p>
<p>প্রজাতির ডিজাইনের ত্রুটি নিয়ে আলচনায় সবার আগেই আসবে স্তন্যপায়ী প্রানীদের বাকযন্ত্রের স্নায়ুর (recurrent Laryngeal nerve) কথা। মস্তিষ্ক থেকে বাকযন্ত্র পর্যন্ত আবর্তিত এই স্নায়ুটি আমাদের কথা বলতে এবং খাবার হজম করতে সাহায্য করে। মানুষের ক্ষেত্রে এই স্নায়ুর মস্তিষ্ক থেকে বাকযন্ত্র পর্যন্ত আসতে একফুটের মতো দুরত্ব অতিক্রম করা প্রয়োজন। কিন্তু কৌতুহল উদ্দীপক ব্যপার হলো, এটি সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে বাকযন্ত্রে যাওয়ার রাস্তা গ্রহণ করেনি। মস্তিষ্ক থেকে বের হয়ে এটি প্রথমে চলে যায় বুক পর্যন্ত। সেখানে হৃদপৃণ্ডের বাম অলিন্দের প্রধান ধমনী এবং ধমনী থেকে বের হওয়া লিগামেণ্টকে পেঁচিয়ে আবার উপরে উঠতে থাকে। উপরে উঠে তারপর সে যাত্রাপথে ফেলে আসা বাকযন্ত্রের সাথে সংযুক্ত হয়। হাত মাথার পেছন দিয়ে ঘুরিয়ে ভাত খাওয়ার ব্যাপারের মতো এই যাত্রাপথে স্নায়ুটি তিনফুটের চেয়েও বেশি দুরত্ব অতিক্রম করে। আরেক স্তন্যপায়ী জিরাফের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। মস্তিষ্ক থেকে বের হয়ে সে লম্বা গলা পেরিয়ে বুকের মধ্যে ঘোরাঘুরি শেষে আবার লম্বা গলা পেরিয়ে উপরে উঠে বাকযন্ত্রে সংযুক্ত হয়। সরাসরি সংযুক্ত হলে যে দুরত্ব তাকে অতিক্রম করতে হতো, তার থেকে প্রায় পনের ফুট বেশি দুরত্ব সে অতিক্রম করে।</p>
<p>বাকযন্ত্রের স্নায়ুর এই আবর্তিত পথ শুধু মাত্র খুব বাজে ডিজাইনই নয় এটি ভয়ংকরও। স্নায়ুটির এই অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যের কারণে এর আঘাত পাবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধরা যাক, কেউ আপনাকে বুকে আঘাত করলো। এই ব্যাটার বুকে থাকার কথা ছিলোনা, কিন্তু আছে এবং যার ফলে ঠিকমতো আঘাত পেলে আমাদের গলার স্বর বন্ধ হয়ে আসে। যদি কেউ বুকে ছুরিকাহত হয় তাহলে কথাবলার ক্ষমতা নষ্টের পাশাপাশি খাবার হজম করার ক্ষমতাও ধ্বংস হয়ে যায়। বুঝা যায় কোনো মহাপরিকল্পক এই স্নায়ুটির ডিজাইন করেননি, করলে তিনি এই কাজ করতেন না। তবে স্নায়ুর এই অতিরিক্ত ভ্রমণ বিবর্তনের কারণে আমরা যা আশা করি ঠিক তাই।</p>
<p><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/05/bad-design.JPG"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/05/bad-design-278x300.jpg" alt="bad design" title="bad design" width="278" height="300" class="aligncenter size-medium wp-image-23910" /></a></p>
<p>মানুষ তথা স্তন্যপায়ীদের বাকযন্ত্রের এই চক্রাকার পথ আমরা যে মাছের মতো প্রানী হতে বিবর্তীত হয়েছি তার এক চমৎকার প্রমান। মাছের শরীরের নাড়ি-ভুড়ি ঢেকে রাখার কাঠামোর ষষ্ঠ শাখাটি (6th branchial arch) ফুলকায় রুপান্তরিত হয়েছিল। ফুলকায় রক্ত সরবাহ করতো হৃদপিণ্ডের বাম দিকের প্রধান ধমনীর দ্বিতীয় ভাগ যা Aortic Arch নামে পরিচিত।  এই ধমনীর পেছনে ছিলো ভেগাস স্নায়ুর (Vagus Nerve) এর চতুর্থ শাখা। প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেকটা মাছের ফুলকা সামগ্রিক ভাবে এগুলো নিয়েই ছিল। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে মাছের নাড়ি ভুড়ি ঢেকে রাখার ষষ্ঠ শাখার একটি অংশ বিবর্তিত হয়ে বাকযন্ত্রে রুপান্তরিত হয়েছিল। সেই সময় যেহেতু ফুলকাই বিলুপ্ত, সুতরাং ফুলকাকে রক্ত সরবরাহকারী, হৃদপিন্ডের বামদিকের প্রধান ধমনীর প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গিয়েছিল। কাজ না থাকায় এটি মূল গঠন থেকে একটু নীচে নেমে বুকের কাছে চলে এসেছিলো। আর যেহেতু এই ধমনীর পেছনে ছিলো স্নায়ুটি, তাই একেও বাধ্য হয়ে নেমে যেতে হয়েছিলো বুকের দিকে। তারপর বুকে থাকা বাম অলিন্দের প্রধান ধমনী এবং ধমনী থেকে বের হওয়া লিগামেণ্টকে পেঁচানো শেষ করে সে আবার উপরে উঠে এসে বিবর্তিত বাকযন্ত্রের সাথে সংযুক্ত হয়েছিলো। বাকযন্ত্রের স্নায়ুর অতিরিক্ত ভ্রমনের কারণ এটাই। বোঝা গেলো, বাকযন্ত্রের স্নায়ুর এই চক্রাকার ভ্রমন কোনো মহাপরাক্রমশালীর সৃষ্টিকর্তার ইংগিতের পরিবর্তে আমাদের বলছে আমাদের পূর্বপুরুষদের কথা।</p>
<p>এই লেখার শুরুতেই প্যালের করা মানব দেহের সাথে ঘড়ির তুলনা সম্পর্কে আমরা জেনেছি। যুক্তিগত ফ্যালাসিতে এই তুলনার মাধ্যমে অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হলেও সত্যিকার অর্থে মানব দেহের সাথে ঘড়ির কোনও ধরনের তুলনাই হয়না। সায়েন্টিফিক আমেরিকায় প্রকাশিত “If Humans Were Built to Last” প্রবন্ধে লেখক এস. যে. ওলসানস্কি, ব্রুস কারনস এবং রবার্ট এন. বাটলার বিস্তারিত আলোচনা মাধ্যমে মানব দেহের ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন 3। এই বিস্তারিত আলোচনায় আমাদের ডিজাইনের নানা ত্রুটি তুলে ধরার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, যদি একজন দেহ প্রকৌশলী সত্যিকার অর্থেই আমাদের দেহের ডিজাইনার হয়ে থাকেন, তাহলে সামান্য একটু মাথা খাটানোর মাধ্যমে তিনি ডিজাইনটিকে কীভাবে সুনিপুন করতে পারতেন। আর এই সুনিপুনতা করা হলে লাভ হতো আমাদের, অত্যন্ত সু- স্বাস্থ্য বজায় রেখে আমরা শতবছর আরাম করে বেঁচে থাকতে পারতাম। </p>
<p>বস্তুত প্রাকৃতিক নির্বাচন নিপুনতা এবং সুস্বাস্থ্যের সাথে দীর্ঘদিন টিকে থাকাকে থোরাই কেয়ার করে। একটা প্রজাতি বংশধর রেখে যাবার মতো সময় টিকে থাকলেই হলো। হারিয়ে যাওয়ারা হারিয়ে গেছে কারণ তারা বংশধর রেখে যেতে পারেনি, টিকে থাকারা টিকে আছে কারণ তারা বংশধর রেখে যেতে সমর্থ হয়েছিলো প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়ানোর মাধ্যমে। দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সাথে এর কোনও সম্পর্ক নেই। এবার দেখা যাক, সায়েন্টিফিক আমেরিকানের লেখকরা মানব যন্ত্রের ডিজাইনের কী কী ক্রুটির কথা আলোচনা করেছেন। আমাদের হাড়গুলো বয়স ত্রিশ হবার পর মিনারেল হারাতে থাকে যার ফলে খুব অল্পতেই হাড় ভেঙ্গে যাবার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আমাদের বুকের খাঁচা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়না এবং সকল অভ্যন্তরিন অংগ-প্রত্যংগকে রক্ষা করেনা। আমাদের পেশী ক্রমশ ক্ষয় হয়। আমাদের পায়ের শিরা সময়ের সাথে বড় হয়। হাড় গোড়ের সংযোগস্থল লুব্রিকেণ্টের অভাবে সংকুচিত হতে থাকে। পুরুষের প্রস্টেট বড় হয়, সংকুচিত হয় এবং মূত্র বের হওয়ায় প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে। ওলসানস্কি, কারনেস এবং বাটলার দেখিয়েছেন একজন সুনিপুন ডিজাইন করা মানুষ দেখতে হওয়া উচিত ছিল এমন- বড় বড় কান, বাঁকানো ঘাড়, স্বল্প দৈর্ঘ্যের অংগ-প্রত্যংগ, প্রতিটি সংযোগ স্থলে অতিরিক্ত প্যাডিং, অতিরিক্ত পেশি এবং চর্বি, পুরু মেরুদন্ড, বিপরীতমুখী হাঁটুর সংযোগ ইত্যাদি, ইত্যাদি।</p>
<p><strong>আদম- হাওয়া ও নূহের মহাপ্লাবন</strong></p>
<p>আমার খুব প্রিয় একটা বাক্য আছে। ইয়ুটিউবে এক ব্লগার নিজের পাতায় লিখে রেখেছিলেন কথাটি। “সত্য কখনই কাউকে আঘাত করে না যদিনা সেখানে আগে থেকেই একটা মিথ্যা অবস্থান করে।” বিবর্তনের জন্য কথাটি গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৫৯ সালে ডারউইন এবং ওয়ালেস যখন বিবর্তন তত্ত্বটি প্রকাশ করেন তখন চার্চের বিশপের স্ত্রী আর্তনাদ করে বলেছিলেন, 4</p>
<blockquote><p>“বন মানুষ থেকে আমাদের বিবর্তন ঘটেছে। আশাকরি সেটা যেন কখনই সত্য না হয়। আর যদি তা একান্তই সত্য হয়ে থাকে তবে চলো আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি সাধারণ মানুষ যেন কখনই এই কথা জানতে না পারে। ”
</p></blockquote>
<p>যে প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই সেই প্রশ্নগুলোর মনগড়া উত্তর দেওয়া এবং তা মানুষকে বিশ্বাস করানোই ধর্মের কাজ। বিবর্তনের ফলে প্রজাতির ক্রমবিকাশ হয়েছে এই কথা মানুষ জানতে পেরেছে দুই শতকও হয়নি। উত্তরটা যদিও একেবারে নতুন কিন্তু প্রশ্নটা নয়। তাই দীর্ঘসময় ধরে মানুষ নানা উত্তর কল্পনা করে নিয়েছে। আর ধর্ম এসে সেই উত্তরগুলোকে খোদার উত্তর বা খোদা থেকে প্রাপ্ত উত্তর বলে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্মগুলো, ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুসলমানদের বিশ্বাস করা সৃষ্টিবাদ সেইরকমই একটি জিনিস। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের লাইন উদ্ধৃত করে লেখাটা দীর্ঘ করবো না, কারণ মূল কাহিনী আমাদের কমবেশি সবারই জানা। বর্ণনাভেদে ধর্মগ্রন্থগুলোতে পার্থক্য থাকলেও মূল কাহিনী মোটামুটি একইরকম এবং এই দুই ক্ষেত্রেই সৃষ্টিবাদ দুটি অংশে বিভক্ত।</p>
<p>১। আল্লাহ প্রথম মানুষ হিসেবে আদমকে সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর পাজরের হাঁড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছিলো বিবি হাওয়াকে। অতঃপর শয়তানের প্ররোচনায় ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করায় তাঁদের বেহেশত থেকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়। তারপর তাঁদের থেকেই সৃষ্টি হয় মানব সভ্যতা। (জেনেসিস ১), কুরআন- আল- আরাফ ৭:১৮৯, আল- ইমরান ৩:৫৯, আল- আরাফ ৭:১১-২৭।</p>
<p>২। মানব সভ্যতার এক পর্যায়ে হযরত নূহ- নবীর নবীর পৃথিবীর সকল মানুষ পাপে নিমজ্জিত হয়, ভুলে যায় ইশ্বরকে। ঈশ্বর ক্রোধান্বিত হয়ে নূহকে একটি নৌকা বানানোর হুমুক দেন। সেই নৌকায় নির্বাচিত কয়েকজন মানুষ এবং পৃথিবীর সকল ধরণের প্রজাতির এক জোড়া তুলে নেওয়া হয়। বাকীদের মহাপ্লাবনের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। পাপের দায়ে ধ্বংস করা হয় মহাপ্লাবনের আগের রাতে জন্মগ্রহণ করা শিশুকেও। (জেনেসিস ৭-৮)</p>
<p>এই ঈশ্বর ইব্রাহিমের ঈশ্বর বা গড অফ আব্রাহাম। পৃথিবীর প্রধান তিনটি ধর্ম এই ঈশ্বরের পুজারি। বিবর্তন বিজ্ঞানী এবং এর লেখকরা বিবর্তন এবং নানা ধরণের সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম ব্যাপার নিয়ে অসংখ্য বই, নিবন্ধ লিখলেও এই সৃষ্টিবাদকে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা করতে খুব একটা সময় দেননি। কিন্তু সময় দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁদের কাছে একটি একটি পৌরানিক কাহিনী হলেও পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ আক্ষরিক ভবে এই গল্পে বিশ্বাস করে। আর এই গল্পে অগাধ বিশ্বাস তাদের মনের কপাট বন্ধ করে রাখে ফলে বিবর্তনের হাজারো প্রমান তাদের মাথায় ঢুকেনা।</p>
<p>ধর্মগ্রন্থে আমরা আদম হাওয়ার কথা পড়েছি, পড়েছি তাঁদের দুই সন্তান হাবিল, কাবিলের কথা। তবে আমাদের পড়াশোনা ঠিক এখানেই শেষ, আমরা ধরে নিয়েছি দুটো মানুষ, তাঁদের সন্তানরা মিলে সারা পৃথিবী মানুষে মানুষে ছেয়ে ফেলেছে। তবে এখানেই থেমে না যেয়ে আরেকটু সামনে আগালে, আরেকটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই একটা গভীর প্রশ্নের সন্মুখীন আমাদের হতে হয়। সন্তান উৎপাদনটা ঠিক কীভাবে হলো?</p>
<p><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/05/20091210_22.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/05/20091210_22-300x231.jpg" alt="20091210_22" title="20091210_22" width="300" height="231" class="aligncenter size-medium wp-image-23913" /></a></p>
<p>গুগল ডিকশেনারী ইনসেস্ট বা অজাচার এর অর্থ বলছে এটি ভাই-বোন, পিতা- কন্যা, মাতা- ছেলের মধ্যে যৌন সংগমের দরুন একটি অপরাধ। ধর্ম নিজেকে নৈতিকতার প্রশাসন হিসেবে পরিচয় দেয়, অথচ তারা আমাদের যে গল্প শোনায় তা মারাত্মক রকমের অনৈতিক। আদম হাওয়ার গল্প সত্যি হয়ে থাকলে পৃথিবীতে আমরা এসেছে মারাত্মক এক পাপের মধ্য দিয়ে।</p>
<p>পাপ- পূন্যের কথা থাক। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাপারটি বিবেচনা করা যাক। ইনসেস্ট বা অজাচারকে বৈজ্ঞানিক ভাবে অভিহিত করা হয়ে থাকে ইন-ব্রিডিং হিসেবে। নারী ও পুরুষের আত্মীয় হওয়া মানে তাদের মধ্যে জিনেটিক গঠনে পার্থক্য কম। এখন তারা যদি একে অন্যের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে সন্তান উৎপাদন করে তাহলে সেই সন্তানের মধ্যে ব্যাড মিউটেশনের সম্ভাবনা প্রবল। এর ফলে সন্তানটি বেশিরভাগ সময়ই হবে বিকলাংগ। আর এই কারণেই প্রকৃতিতে আমরা ইন-ব্রিডিং দেখতে পাইনা। কারণ ইন- ব্রিডিং হলে প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা কমে যায়, তারা খুব দ্রুত প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু যদি ভিন্ন পরিবার থেকে এসে দুইজন সন্তান উৎপাদন করে তাহলে সন্তানের মধ্যে যথেষ্ট পরিমান জিনেটিক ভ্যারিয়েশন হবে। আর যথেষ্ট পরিমান জিনেটিক ভ্যারিয়েশন প্রজাতির টিকে থাকার জন্য অবশ্য দরকার। প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে পৃথিবীর চিতাবাঘের সংখ্যা নেমে এসেছিল ত্রিশ হাজারে। ত্রিশ হাজারকে একটা বড় সংখ্যা হলেও জনপুঞ্জের জনসংখ্যা হিসেব করলে সেটা খুব একটা বড় নয়। আর এই কারণেই চিতাবাঘকে ইনব্রিডিং এর আশ্রয় নিতে হয়েছিল। যার পরিমান আজকে আমরা দেখতে পাই, প্রকৃতিতে চিতাবাঘ বিলুপ্ত প্রায়। সুতরাং দুইটি মানুষ থেকে সমগ্র মানব জাতির সৃষ্টি হয়েছিল এটার মতো হাস্যকর কথা নেই। পৃথিবীতে কখনই আদম, হাওয়া নামে দুইটি মানুষ ছিলোনা।</p>
<p>এবার আশা যাক নূহের মহাপ্লাবন নিয়ে। সিলেট থেকে প্রকাশিত যুক্তি পত্রিকার সম্পাদক এবং ২০০৬ সালে মুক্তমনা ড়্যাশনালিস্ট এওয়ার্ড পাওয়া অনন্ত বিজয় দাশ “মহাপ্লাবনের বাস্তবতা”  নামে একটি সুলিখিত প্রবন্ধে বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থে বর্নিত নূহের মহাপ্লাবন সম্পর্কিত আয়াত লিপিবদ্ধ করেছেন 5। আলোচনার সুবিধার্থে সেখান থেকে কয়েকটি তুলে ধরা হলো।</p>
<p><em>ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল-এর ওল্ড টেস্টামেন্টের (পুরাতন নিয়ম) অন্তর্গত তৌরাত শরিফে হযরত নুহ্ (আঃ) সম্পর্কে বলা হয়েছে-</em></p>
<p>এই অবস্থা দেখে ঈশ্বর নোয়া কে বললেন, “গোটা মানুষজাতটাকেই আমি ধ্বংস করে ফেলব বলে ঠিক করেছি। মানুষের জন্যই দুনিয়া জোরজুলুমে ভরে উঠেছে। মানুষের সঙ্গে দুনিয়ার সবকিছুই আমি ধ্বংস করতে যাচ্ছি। তুমি গোফর কাঠ দিয়ে তোমার নিজরে জন্য একটা জাহাজ তৈরি কর। তার মধ্যে কতগুলো কামরা থাকবে; আর সেই জাহাজের বাইরে এবং ভিতরে আল্কাত্রা দিয়ে লেপে দিবে। জাহাজটা তুমি এইভাবে তৈরি করবে; সেটা লম্বায় হবে তিনশো হাত, চওড়ায় পশ্চাশ হাত, আর উচ্চতা হতে ত্রিশ হাত। জাহাজটার ছাদ থেকে নীচে এক হাত পর্যন্ত চারদিকে একটা খোলা জায়গা রাখবে আর দরজাটা হবে জাহাজের একপাশে। জাহাজটাতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থাকবে। আর দেখ, আমি দুনিয়াতে এমন একটা বন্যার সৃষ্টি করব যাতে আসমানের নীচে যে সব প্রাণী শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে বেঁচে আছে তারা সব ধ্বংস হয়ে যায়। দুনিয়ার সমস্ত প্রাণীই তাতে মারা যাবে (পয়দায়েশ, ৬:১৩-১৭)। </p>
<p>“কিন্তু আমি তোমার জন্য আমার ব্যবস্থা স্থাপন করব। তুমি গিয়ে জাহাজে উঠবে আর তোমার সঙ্গে থাকবে তোমার ছেলেরা, তোমার স্ত্রী ও তোমার ছেলেদের স্ত্রীরা। তোমার সঙ্গে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য তুমি প্রত্যেক জাতের প্রাণী থেকে স্ত্রী-পুরুষ মিলিয়ে এক এক জোড়া করে জাহাজে তুলে নেবে। প্রত্যেক জাতের পাখী, জীবজন্তু ও বুকে-হাঁটা প্রাণী এক এক জোড়া করে তোমার কাছে আসবে যাতে তুমি তাদের বাঁচিয়ে রাখতে পার; আর তুমি সব রকমের খাবার জিনিস জোগাড় মজুদ করে রাখবে। সেগুলোই হবে তোমার ও তাদের খাবার।” নুহ্ তা-ই করলেন। আল্লাহ্র হুকুম মত তিনি সবকিছুই করলেন (পয়দায়েশ, ৬:১৮-২২)। </p>
<p><em>কোরান শরিফে হযরত নুহ্ এবং মহাপ্লাবন সম্পর্কে বর্ণিত তথ্য</em></p>
<p>অতপর আমি তার কাছে ওহি পাঠালাম যে, তুমি আমার তত্ত্বাবধানে আমারই ওহি অনুযায়ী একটি নৌকা প্রস্তুত করো। তারপর যখন আমার (আজাবের) আদেশ আসবে এবং (জামিনের) চুল্লি প্লাবিত হয়ে যাবে, তখন (সব কিছু থেকে) এক এক জোড়া করে নৌকায় উঠিয়ে নাও, তোমার পরিবার পরিজনদেরও (উঠিয়ে নেবে, তবে) তাদের মধ্যে যার ব্যাপারে আল্লাহতায়ালার সিদ্ধান্ত এসে গেছে সে ছাড়া (দেখো), যারা জুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে আমার কাছে কোনো আরজি পেশ করো না, কেননা (মহাপ্লাবনে আজ) তারা নিমজ্জিত হবেই (সুরা আল মোমেনুন, ২৩:২৭)। </p>
<p>তুমি আমারই তত্ত্বাবধানে আমারই ওহির আদেশে একটি নৌকা বানাও এবং যারা জুলুম করেছে, তাদের ব্যাপারে তুমি আমার কাছে (কোনো আবেদন নিয়ে) হাজির হয়ো না, নিশ্চয়ই তারা নিমজ্জিত হবে (সুরা হুদ, ১১:৩৭)। </p>
<p>(পরিকল্পনা মোতাবেক) সে নৌকা বানাতে শুরু করলো। যখনই তার জাতির নেতৃস্থানীয় লোকেরা তার পাশ দিয়ে আসা-যাওয়া করতো, তখন (নূহকে নৌকা বানাতে দেখে) তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে দিতো; সে বললো (আজ) তোমরা যদি আমাদের উপহাস করো (তাহলে মনে রেখো), যেভাবে (আজ) তোমরা আমাদের ওপর হাসছো (একদিন) আমরাও তোমাদের ওপর হাসবো (সুরা হুদ, ১১:৩৮)। </p>
<p>অবশেষে (তাদের কাছে আজাব সম্পর্কিত) আমার আদেশ এসে পৌঁছল এবং চুলো (থেকে একদিন পানি) উথলে উঠলো, আমি (নুহকে) বললাম, (সম্ভাব্য) প্রত্যেক জীবের (পুরুষ-স্ত্রীর) এক একজোড়া এতে উঠিয়ে নাও, (সাথে) তোমার পরিবার-পরিজনদেরও  (ওঠাও) তাদের বাদ দিয়ে, যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত (ঘোষিত) হয়েছে এবং (তাদেরও নৌকায় উঠিয়ে নাও) যারা ঈমান এনেছে; (মূলত) তার সাথে (আল্লাহর ওপর) খুব কম সংখ্যক মানুষই ঈমান এনেছিলো (সুরা হুদ, ১১:৪০)।</p>
<p>নূহের মহাপ্লাবন সম্পর্কিত পৌরানিক গল্পের সূচনা এই ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে নয়। এই গল্পের শেকড় খুঁজতে যেয়ে আমরা সবচেয়ে পুরাতন যে ভাষ্য বা বর্ননা পাই সেটা ২৮০০ খ্রিস্টপূর্ব সময়কার। সুমিরিয়ান পুরানে এমন এক বন্যার বর্ননা পাওয়া যায় যার নায়ক ছিল রাজা জিউশুদ্র, যিনি একটি নৌকা তৈরীর মাধ্যমে একটি ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে অনেককে রক্ষা করেছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ১৮০০ এর মধ্য বিখ্যাত বেবেলনিয়ান পৌরানিক চরিত্র গিলগামেশ তার এক পূর্বপুরুষের য়ুতনাপিসটিমের কাছ থেকে একই রকম এক বন্যার কথা শুনতে পান। সেই গল্পানুসারে পৃথিবীর দেবতা আ (Ea) রাগান্বিত হয়ে পৃথিবীর সকল জীবন ধ্বংস করে ফেলার অভিপ্রায়ের কথা য়ুতনাপিসটিমকে জানান। তিনি য়ুতনাপিসটিমকে ১৮০ ফুট লম্বা, সাততলা বিশিষ্ট এবং প্রতিটি তলায় নয়টি কক্ষ থাকবে এমন একটি নৌকা তৈরী করে তাতে পৃথিবীর সকল প্রজাতির এক জোড়া করে তুলে নেবার আদেশ দেন। 6 </p>
<p>গিলগামেশের এই মহাপ্লাবন মিথটিই লোকেমুখে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে। আব্রাহামিক গডের আবিষ্কারক এবং পুজারি হিব্রুরা প্যালেস্টাইনে আসার অনেক থেকেই সেখানকার মানুষদের কাছে এই গল্প প্রচলিত ছিলো। আর সেই গল্পের প্রভাবই আমরা দেখতে পাই, পরবর্তীতে হিব্রুদের গড অফ আব্রাহামের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ তৌরাত, বাইবেলে। আর এই তৌরাত, বাইবেলের গল্প থেকেই অনুপ্রানিত হয়েছে আরবের ইসলাম ধর্মের কুরআনের নূহের মহাপ্লাবন কাহিনী।</p>
<p>একটা সংস্কৃতিকে এর ভৌগোলিক অবস্থান বেশ প্রভাবিত করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি সংস্কৃতি যাদের ভৌগলিক অবস্থান নদ-নদী বিধৌত, যেগুলো প্রায়শই বন্যার ঘটিয়ে জনপদ গিলে ফেলে সেইসব সংস্কৃতিতে নদ-নদী সম্পর্কিত কিংবা বন্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন গল্প চালু থাকে। সুমেরিয়া এবং ব্যবিলনিয়া জনপদ টাইগ্রিস এবং ইউফ্রাটিস নদী দিয়ে আবৃত ছিল। এইসব অঞ্চলে প্রায়শই বন্যা হতো। এখন এর মানে কী এই তৌরাত, বাইবেল, কুরআনের সকল গল্প মিথ্যা? অবশ্য এই প্রশ্ন করা মানেই পৌরানিক কাহিনীর সত্যিকারে বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করা। জোসেফ ক্যাম্পবেল (১৯৪৯, ১৮৮৮) তাঁর সারাজীবন অতিবাহিত করেছেন এই বৈশিষ্ট্য সঠিকভাবে মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করতে 7। তাঁর মতে, মহাপ্লাবন সম্পর্কিত পৌরানিক কাহিনীগুলোকে আমরা যেভাবে দেখি তার থেকে এর অনেক গভীর মর্মার্থ রয়েছে। পৌরানিক কাহিনী কোন ঐতিহাসিক সত্যকাহিনী নয়, এটি হলো মানব সভ্যতার প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সংগ্রাম। প্রতিটা মানুষের মনেই তাঁর জন্মের উদ্দেশ্য, সে কীভাবে এলো, কেমন করে এলো এইসব প্রশ্ন ঘুরে ফিরে। আর এই প্রশ্ন থেকে মুক্তি পেতে সে বিভিন্ন উত্তর দাঁড়া করায়। আর তা থেকেই জন্ম নেয় পৌরানিক কাহিনীর। পৌরানিক কাহিনীর সাথে বিজ্ঞানের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ধর্ম এসে এই শ্বাশত কাহিনীগুলোকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যেয়ে একে বিজ্ঞান বলে প্রচার করেছে। এটা বিজ্ঞান এবং পৌরানিক কাহিনী দু’টির জন্যই অপমানজনক। সৃষ্টিবাদীরা পৌরানিক কাহিনীর চমৎকার সব গল্পকে গ্রহণ করেছে, তারপর সেটাকে ধ্বংস করেছে।</p>
<p>পৌরানিক কাহিনীকে বিজ্ঞানে রূপান্তর করার আহাম্মকীর উদাহরণ দিতে গেলে নূহের মহাপ্লাবনই যথেষ্ট। ৪৫০ (৭৫* ৪৫) বর্গফুটের একটি নৌকায় কয়েক কোটি প্রজাতিকে জায়গা দিতে হবে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা কী হবে? পয়নিষ্কাশন, পানি? ডায়নোসোররা কোথায় থাকবে, কিংবা সামুদ্রিক প্রানীরা। এক প্রাণীর হাত থেকে অন্যপ্রানীকে রক্ষার উপায় কী? আর সমুদ্রে থাকা প্রানীরা বন্যায় মারা যাবে কীভাবে? এই সকল প্রশ্নের উত্তর বিশ্বাসীদের কাছে একটাই। ঈশ্বর চাইলে সব হবে। তবে সেক্ষেত্রে ঈশ্বরের নূহকে দিয়ে নৌকা বানিয়ে খেলাটা খেলার দরকার কী ছিলো? তিনি চাইলেই তো এক হুকুমেই পৃথিবীর তাবত পাপীকে মেরে ফেলতে পারতেন। তাতে করে অন্তত আগের দিন জন্ম নেওয়া নিষ্পাপ শিশুগুলো বেঁচে যেতো।</p>
<div id="attachment_23911" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/05/noas-ark.JPG"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/05/noas-ark-300x191.jpg" alt="ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ইন্সটিউট অফ ক্রিয়েশন রিসার্চ মিউজিয়ামে নূহের নৌকার ছবি। মানুষকে জোর করে গালগল্প বিশ্বাস করানোর জন্য আলাদা আলাদা কম্পার্টমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তরদানের চেষ্টা (!!) করা হয়েছে। ছবি সূত্রঃ বার্নাড লে কাইন্ড যে।" title="noa&#039;s ark" width="300" height="191" class="size-medium wp-image-23911" /></a><p class="wp-caption-text">ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ইন্সটিউট অফ ক্রিয়েশন রিসার্চ মিউজিয়ামে নূহের নৌকার ছবি। মানুষকে জোর করে গালগল্প বিশ্বাস করানোর জন্য আলাদা আলাদা কম্পার্টমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তরদানের চেষ্টা (!!) করা হয়েছে। ছবি সূত্রঃ বার্নাড লে কাইন্ড যে।</p></div>
<p>নৌকার কথা বাদ দিলেও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে পৃথিবীতে এমন কোনও মহাপ্লাবন হয়নি, যাতে করে বাড়ি- ঘর থেকে শুরু করে সকল উঁচু পর্বত ডুবে গিয়েছিলো। এছাড়া মহাপ্লাবন এর ফলে মৃত প্রাণীদের জীবাশ্মগুলো সব মাটির একই স্তরে থাকার কথা ছিল (যেহেতু তারা সবাই একই সময়ে মৃত্যু বরণ করেছে) তেমন প্রমানও খুঁজে পাননি ভূ-তত্ত্ব বিদরা। দেখা যাচ্ছে সৃষ্টিবাদীরা শুধু বিবর্তনীয় জীবনবিজ্ঞানকে অস্বীকার করছেন না, তারা অস্বীকার করছেন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইতিহাস, ভূ-তত্ত্ব, ফসিল বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রানীবিদ্যা সহ সকল বিষয়কে।</p>
<p>নূহের মহাপ্লাবনের অসাড়তা আব্রাহামিক গডকে বেশ বিড়ম্বনায় ফেলে দেবার জন্য যথেষ্ঠ। এমন ঘটনা যেহেতু কোনোদিনও ঘটেনি এবং তিন দাবী করেছেন ঘটেছে তাই আমরা সহজের সিদ্ধান্তে আসতে পারি আব্রাহামিক গড বলে আসলে কেউ নেই, এটা মানুষের মন গড়া কল্পনা, ধর্মগ্রন্থগুলো মানুষের লিখিত।</p>
<p><strong>মগজ ধোলাই</strong></p>
<p>ঈশ্বরের ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার জন্য সৃষ্টিবাদীদের বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে প্রচারিত সন্দেহ (!) নিয়ে আলোচনা আর দীর্ঘায়িত করে লাভ নেই। কারণ ডারউইন তাঁর “অরিজিন অফ স্পেসিজ” বইটিতেই সকল ভুল ধারণা কবর দিয়েছিলেন। তারপর আরও শত জীববিজ্ঞানী সেগুলো আলোচনা করেছেন। এর কোনোটিই সৃষ্টিবাদীদের এবং ইণ্টেলিজেণ্ট ডিজাইন সমর্থকদের চোখে পড়েনি, তারা একই জিনিস বারবার চর্বন করে যাচ্ছেন। লেখার এই পর্যায়ে পাঠকদের উদ্দেশ্যে মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে প্রাকৃতিক নির্বাচন পক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্য তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের মনকে এই তত্ত্ব গ্রহণে কিংবা বাস্তবতা গ্রহণে প্রস্তুত করার চেষ্টা করবো। কারণ আদতে বিবর্তনকে কোয়াণ্টাম মেকানিক্সের মতো বিমূর্ত মনে হলেও বিবর্তন তত্ত্ব তা নয়। সৃষ্টিবাদীদের হাজার বছরের মিথ্যার কারণে আমাদের মাথায় প্রলেপ পড়েছে, তাই সেখানে একটি শিরিষ কাগজের ঘষা বাঞ্চনীয়। একবার মন প্রস্তুত হয়ে গেলে বিবর্তন তত্ত্বকে সঠিক ও যৌক্তিক মনে করাটাই স্বাভাবিক হয়ে পড়বে। বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী এবং অক্সফোর্ড প্রফেসর রিচার্ড ডকিন্স বলেন, একবার ভালোভাবে বুঝতে পারলে এই পথটাকেই (বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা) অধিক যুক্তিসঙ্গত মনে হতে বাধ্য 8 ।  ডারউইনের বুলডগ নামে খ্যাত টমাস হাক্সলি ‘অরিজিন অব স্পিসিজ’ পড়ে মন্তব্য করেছিলেন, “আমি কতবড় গাধা, এই ব্যাপারটা আগে চিন্তাই করি নি&#8221;। 9  </p>
<p>কলেজে থাকাকালীন সময়ে বিতর্কের ঝোঁক ছিল প্রচুর। এবং আদতে যা হয়, কলেজে পর্যায়ের বিতর্কে সাধারণত কয়েকটি বিষয়ই ঘুরে ফিরে বক্তব্যদানের জন্য নির্বাচিত হয়। আর এই কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে সেরা এবং সর্বাধিক বিতর্কিত বিষয়ের নাম ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’। কলেজে আমার শেষ বিতর্কের বিষয় ছিল “মুক্তবাজার অর্থনীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়”। স্ক্রিপ্টের বেশ কিছু লাইন এখনো মুখস্ত আছে। পাঁচ মিনিটের বক্তব্য আমি সূচনা করেছিলাম এই বলে, “যোগ্যরা স্থায়ী চিরকাল, অযোগ্যরা বিতাড়িত সর্বকাল”- এ নীতির উপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক পরিভাষায় যুক্ত হয়েছে ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’ শব্দদয়। এছাড়া মুক্তবাজারের সবচেয়ে বোধগম্য সংজ্ঞা আমার কাছে- সাধারণত কোনো প্রতিকূলতা বা বাধা-বিপত্তি ছাড়াই একটি দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে যে কোনো ধরনের পন্য বা সেবা বেচাকেনার সুযোগ-সুবিধা বা বিধি-ব্যবস্থা বজার রাখার নাম মুক্তবাজার বা খোলা বাজার।<br />
ধরা যাক, একটি ভারতীয় জামার বাজার। এখানে ক্রেতারা সকলেই ভারতীয় এবং তাঁরা জামা কিনবেন। এখন দুনিয়ার ত্রিশটি দেশ ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য জামা তৈরী করে সেই বাজারে পসরা সাজিয়েছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশের দোকানে রয়েছে অসংখ্য ডিজাইনের জামাকাপড়। আমেরিকা, জাপানের দোকানেও পাওয়া যাবে বৈচিত্রময় ফ্যাশানেবল অংসখ্য জামা। কিন্তু বাংলাদেশে আমেরিকা ও জাপানের তুলনায় শ্রমের দাম কম বিধায়, উৎপাদন খরচ কম সুতরাং তাদের জামা অন্যান্যদের মতো দেখতে একই হলেও দাম অনেক কম। এখন ভারতীয় একজন ক্রেতা কাদের জামাটি কিনবেন? যেহেতু কোনো কিছু কেনার সময় ক্রেতারা সর্বনিম্মমূল্যে সবচেয়ে ভালো পন্যটি পেতে চান, তাই তাদের পছন্দ হবে বাংলাদেশি পন্য। এখন বাংলাদেশ তার সকল পন্য বেচে দেশে বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে যাবে, তা দিয়ে জামা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করবে। অপরদিকে ধীরে ধীরে ধসে পড়বে জাপান ও আমেরিকার পোশাক শিল্প। এটাই মুক্তবাজার অর্থনীতি। খোলা বাজার, খোলা প্রতিযোগীতা। তুমি যোগ্য হলে, বাজার উপযোগী হলে টিকে থাকবে, নতুবা হারিয়ে যাবে।</p>
<p>আমার বাবা একটি টেক্সটাইল কোম্পানীতে কাজ করেন। সেদিন তিনি বললেন, আগে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে একটি চুক্তি সাইন করতে প্রায় মাস খানেক লেগে যেতো। এখন ই-মেইলের কল্যাণে থাইল্যাণ্ডের বায়ারের সাথে চুক্তি সম্পাদন করতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। বাজার জটিল হচ্ছে, এবং তা হচ্ছে ধীরে ধীরে প্রয়োজনের সাথে খাপ খাওয়াতে। এখন কোন কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার যদি ই-মেইল ব্যবহার না করেন, তাহলে তিনি কী কারও সাথে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন? পারবেন না, কারণ তাঁর সাথে চুক্তি করতে যতটা সময় লাগবে সেই সময়ে বায়াররা ত্রিশজনের সাথে চুক্তি করতে পারবেন। সুতরাং পর্যাপ্ত অর্ডারের অভাবে সেই কোম্পানীর লাটে উঠতে খুব বেশিদিন লাগবেনা। কিংবা ধরুন, পথে প্রান্তরে এই যে এতো কথা, মুক্তবাজার অর্থনীতি বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়, মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে আমাদের কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এই কথাগুলোর মানে কী? ঘর সাজিয়ে রাখার জন্য, বিশেষ অনুষ্ঠানে উপহার দেবার জন্য ব্যবহৃত শো-পিসের কথা ধরুন। আগে আমরা গ্রামাঞ্চলের মানুষদের হাতে তৈরী বিভিন্ন শো-পিস ক্রয় করতাম। কিন্তু এখন মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশে স্বল্পদামে বিভিন্ন দেশের তৈরী শো-পিস পাওয়া যাচ্ছে। বাইরের দেশের মানুষেরা শো-পিসগুলো তৈরী করতে এখন আর মানুষের হাতের আশ্রয় নেয় না, তারা মেশিনের মাধ্যমে একদিনে কয়েকহাজার পন্য উৎপাদন করে সেগুলো চালান দেয়। যত বেশি উৎপাদন হবে, গড় উৎপাদন খরচ তত কম হবে। এখন সেই পণ্যের যা দাম তার চেয়ে বাংলাদেশের গ্রামে হাতে বানানো জিনিসটির দাম বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। বাজারে গিয়ে আপনি এখন কোনটা ক্রয় করবেন। আবেগের বশে প্রথমদিকে নিজেদের জিনিস ক্রয় করলেও দীর্ঘমেয়াদে আপনি খরচ কমানোর স্বার্থে ঝুকে পড়বেন বিদেশী পন্যের দিকেই। এখন বাংলাদেশের কুটির শিল্পীরা যদি মেশিন ক্রয় করে নিজেরাও এইভাবে উৎপাদন শুরু করে তাহলে আর আবেগ দেখানো প্রয়োজন হবেনা, বাজার প্রতিযোগীতায় যোগ্য হয়েই তারা টিকে থাকতে পারবে। কিন্তু যদি সেটা  না পারে, তাকে হারিয়ে যেতে হবে অচিরেই। প্রকৃতিতে যোগ্যরাই টিকে থাকে। </p>
<p>উপরের উদাহরণটা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলেও মুক্তবাজার অর্থনীতি একটি জটিল পক্রিয়া। চিন্তা করে দেখুন, একটি কোম্পানী শুধু একটি পন্য তৈরী করেই বসে থাকেননা, এদের এই পন্যটি বিভিন্ন দেশে পৌঁছাতে হয়, দেশভেদে প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার জন্য পন্যের মান নির্ধারণ করতে হয়। আপনি মার্কস চকলেটটি খুব পছন্দ করেন। গিয়ে দেখুন সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারের ইংল্যাণ্ডে উৎপাদিত মার্কস চকলেটটি ঠিকই আপনার বাসার পাশের দোকানে আছে। আপনার পছন্দের স্প্যাগাটি ফ্লেবারটিও পাবেন বাসার পাশের সুপার স্টোরে। আপনি নীচের দিকে চাপা আর উপরের দিকে ঢোলা মডেলের জিন্সের প্যান্ট পড়তে স্বচ্ছন্দবোধ করেন, সেটাও আছে বংগবাজারে।</p>
<p>তবে আজ থেকে একশ বছর আগেও বাজার এমন ছিলোনা। কিন্তু ধীরে ধীর সব কিছু জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে, পণ্য ও সেবা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রাকৃতিক ব্যাপারটি সর্বপ্রথম আলোচনা করেছিলেন এডাম স্মিথ এবং পরবর্তীতে ফ্রেডরিক হায়েক এবং কার্ল পুপার  10 । অর্থনীতির সর্বোচ্চ চেয়ারে আসন গেড়ে কে এই মহাপরিকল্পনা করছেন? কে নির্ধারণ করছেন একটি শপিং মলে একটি নির্দিষ্ট ক্যাণ্ডি সংখ্যা, এই দেশে এই মডেলের জিন্সের প্যাণ্টের সংখ্যা? কোন অর্থনৈতিক ইশ্বর? অবশ্যই না। একটি কোনও অর্থনৈতিক ইশ্বরের মহাপরিকল্পনা নয়। সম্পূর্ণ সিস্টেমটি ক্ষুদ্র থেকে নিজে নিজে গড়ে উঠেছে, চাহিদা সাথে তাল মিলিয়ে এটি নিজে নিজেই ক্রমান্বয়ে জটিল হচ্ছে, বিবর্তিত হচ্ছে। এই বিষয়ে কেউই সন্দেহ পোষণ করেন না। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, অর্থনীতির এই নিজে নিজে তৈরী হওয়া, ধীরে ধীরে বিবর্তনের মাধ্যমে জটিলতর হওয়াকে একবাক্যে মেনে নিলেও প্রানীজগতের বেলায় একই ঘটনা আমরা মেনে নিচ্ছিনা। প্রানীজগতের জটিলতা ব্যাখ্যায় আমরা বসাচ্ছি একজন ঈশ্বরকে। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর অন্যান্য সকল প্রাণীকে মানুষের উপকারী করে সৃষ্টি করেছেন। এমন কয়েক লক্ষ প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যাবে যারা শুধুমাত্র মানুষের ক্ষতি করে, এমন কয়েক লক্ষ প্রজাতি পাওয়া যাবে যাদের থাকা না থাকার সাথে মানুষের কোনও সম্পর্ক নেই।</p>
<p>আবার উল্লেখকরি, র‌্যান্ডব জিনেটিক মিউটেশন ও জিনেটিক ড্রিফটের কারণে প্রানীজগতে অসংখ্য প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন তৈরী হয়। তৈরী হওয়া এই ভ্যারিয়েশন সমৃদ্ধ প্রানীদের উপর ক্রিয়া করে প্রাকৃতিক নির্বাচন। প্রাকৃতিক নির্বাচন নিজে একটি নন র‌্যাণ্ডম পক্রিয়া। এটি বলতে বোঝানো হয় প্রানীর উপর পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ক্রিয়াকে। অসংখ্য ভ্যারিয়েশনের মধ্যে অল্প সংখ্যক পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী থাকে, এরা টিকে থাকে, বাকিরা ঝরে পড়ে। টিকে থাকাদের থেকে আরও ভ্যারিয়েশন তৈরী হয়, তাদের মধ্যে থেকে যারা পরিবেশে আরও ভালোভাবে টিকে থাকার উপযোগী তারা টিকে থাকে, সন্তান জন্ম দেয়, বাকিরা ঝরে পড়ে। এভাবেই প্রানীরা জটিল হতে থাকে। ঠিক মুক্তবাজার অর্থনীতির বাজার ব্যবস্থার মতো। বলে রাখা প্রয়োজন প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে বানররা একদিন সকালে উঠে দেখবেনা যে তাদের মধ্যে দুইজন হঠাৎ করে মানুষ হয়ে গিয়েছে। পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রানীজগতে পরিবর্তন হয়, এই পরিবর্তন খুব ধীর, নির্ভর করে সম্পূর্ণ পরিবেশের চাহিদার উপর (বাজার ব্যবস্থায় ভোক্তার চাহিদা)।</p>
<p>এই আলোচনার পর পাঠকের উদ্দেশ্যে দু’টো প্রশ্ন রেখে যাবো আমি। বাজার ব্যবস্থার এমন জটিলতা, বিভিন্ন জিনিসের সাথে পারষ্পরিক সম্পর্ক, এই বিশাল ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠার পেছনে যে বাস্তব কারণ, যুক্তি ও প্রমান রয়েছে সেগুলো সব অস্বীকার করে কেউ যদি এটিকে এক মহাপরাক্রমশালী, ক্ষমতার মোহে অন্ধ, অর্থনৈতিক আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তির কাজ বলে অভিহিত করে তাহলে তাকে আমরা কী বলবো? বলবো, পাগল কিংবা নিদেনপক্ষে গর্দভ কন্সপাইরেসি থিওরিস্ট।</p>
<p>আচ্ছা তাহলে জীব বৈচিত্র, এর উদ্ভব, জটিল থেকে জটিলতর হবার পেছনে যে পূর্নাংগ যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে সেটিকে অস্বীকার করে পুরো বিষয়টিকে একটি মহাপরাক্রমশালী, ক্ষমতার মোহে অন্ধ ঈশ্বরের কাজ বলে জাহির করার চেষ্টাকারীকে তাহলে আমাদের কী বলা উচিত?</p>
<p><strong>তথ্য সূত্রঃ</strong></p>
<p>১। Why Evolution is True? Jerry A. Coyne. পৃষ্ঠা নং ৮৬</p>
<p>২। একই বই, একই পৃষ্ঠা। </p>
<p>৩। সায়েন্টিফিক এমেরিকান, মার্চ ২০০১ সংখ্যা</p>
<p>৪। (Skybreak, A.2006, The Science of Evolution and The Myth of Creationism, Insight Press, Illinois, USA)</p>
<p>৫। http://www.mukto-mona.com/project/muktanwesa/1st_issue/mohaplaban_ananta.htm</p>
<p>৬। Why People Believe Weird Things, মাইকেল সারমার। পৃষ্ঠা নং ১৩০।</p>
<p>৭। একই বই, একই পৃষ্ঠা।</p>
<p>৮। রিচার্ড ডকিন্স “…there is another way and, once you have understood it, a far more plausible way, for complex “design” to arise out of primeval simplicity.” The Blind Watchmaker, W. W. Norton &#038; Company, Inc. New York, 1987, (Preface).</p>
<p>৯। টমাস হাক্সলি। “How extremely stupid for me not to have thought of that!”<br />
(Thomas Huxley’s first reflection after mastering, in 1859, the central idea of Darwin’s Origin of Species))!”</p>
<p>১০। Irreligion, John Allen Paulos. পৃষ্ঠা নং ২০</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/23909/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>83</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ইট হ্যাপেন্‌ড ওয়ান নুন</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/23462</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/23462#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 16 Apr 2010 16:25:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=23462</guid>
		<description><![CDATA[মুহাম্মদ ইট হ্যাপেনড ওয়ান নাইট লেখার অনেক আগেই আমাকে জানান দিয়েছিলো তার জ্যোতির্বিদ হবার স্বপ্নের কথা। আইইউটির বোরিং বোরিং রাতগুলোর একটিতে আমি আর ও ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোর নীচে বসে জীবন নিয়ে চিন্তা করছিলাম- ঠিক তখনই। প্রকৌশলী থেকে কেউ পদার্থবিজ্ঞানী হতে চাইবে এটা আমার মতো প্রকৌশলীর ভাবনার অতীত কিন্তু মুহাম্মদ ভেবেছিল এবং আমরা সবাই জানতাম একবার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>মুহাম্মদ <a href="http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/1284">ইট হ্যাপেনড ওয়ান নাইট</a> লেখার অনেক আগেই আমাকে জানান দিয়েছিলো তার জ্যোতির্বিদ হবার স্বপ্নের কথা। আইইউটির বোরিং বোরিং রাতগুলোর একটিতে আমি আর ও ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোর নীচে বসে জীবন নিয়ে চিন্তা করছিলাম- ঠিক তখনই। প্রকৌশলী থেকে কেউ পদার্থবিজ্ঞানী হতে চাইবে এটা আমার মতো প্রকৌশলীর ভাবনার অতীত কিন্তু মুহাম্মদ ভেবেছিল এবং আমরা সবাই জানতাম একবার যখন ভেবে ফেলেছে তখন ব্যাটা হয়েই যাবে।</p>
<p>ফোর্থ ইয়ারে আমরা প্রজেক্ট নিলাম জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানের উপর। আমার কাছে বিষয়টা কতোগুলো ইকুয়েশন আর কঠিন কঠিন ম্যাথ ছাড়া আর কিছুই না, কিন্তু মুহাম্মদের কাছে অপরীসীম আনন্দের ব্যপার। বের হয়ে আসার আগে আমরা যেদিন প্রেজেণ্টেশন দিলাম, তখন মুহাম্মদের কষ্ঠের অসংখ্য সিমুলেশন, গ্রাফ, ডাটা দেখে অলটাইম কোপ মারার জন্য রেডি থাকা একস্যার পর্যন্ত উঠে দাঁড়িয়ে হাত তালি দিলেন। আর সবগ্রুপ তার মুখ তালিইই পেয়েছিলো শুধু।</p>
<p>কানাডায় যাবার জন্য ভার্সিটি প্রফেসরদের মেইল করতে হয়, তিনি কোনও ছাত্র নিবেন কীনা জানার উদ্দেশ্য। মুহাম্মদ মেইল করা শুরু করেছিল অন্য সবার সাথেই। এবং একদিন সকালে হঠাৎ আমাদের ব্লকে চিৎকার শুরু হয়ে গেলো, মুহাম্মদকে এলবার্টার এক প্রফেসর খুব ভালো রিপ্লাই দিয়েছেন। আমরা ধরেই নিলাম ওর হয়ে গেছে। নেটে একভাইয়া মুহাম্মদের জন্য সমবেদনা জানালেন, কারণ এলবার্টায় নাকি প্রচুর শীত। তাদের এক স্যার মাস্টার্স করেই শীতের চোটে দেশে চলে এসেছিলেন, পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি না হয়ে।</p>
<p>তারপর নিকুঞ্জে থাকা শুরু হলো। মুহাম্মদ আইএলটিএস দিলো। কী মনে করে আমিও দিলাম। এলবার্টায় কাগজ পাঠানো হলো। প্রফেসরের সাথে ওর তখনও যোগাযোগ চলছে। এলবার্টায় যেহেতু হয়েই যাবে তাই মুহাম্মদ আর তেমন কোথাও এপ্লাই না করে উঁচু এবং বিশাল ফাটাফাটি একটা স্কলারশীপে নামমাত্র এপ্লাই করলো- হবে না তাও করি, এইটাইপ আর কী।</p>
<p>এবং একদিন দুপুরে হঠাৎ এলবার্টা থেকে মেইল আসলো ওরা প্রিলিমিনারী সিলেকশনেই মুহাম্মদকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। খুব সম্ভবত বিএসসি লাইফে ওর পদার্থবিজ্ঞানের ক্রেডিট কম বলে। মুহাম্মদের প্রফেসর সমবেদনামূলক মেইল করলো। এবং ধূম করে মুহাম্মদের সব স্বপ্ন ধোঁয়াটে হয়ে গেলো। </p>
<p>এমনই একসময় আমরা ওর বাসার পাশের চায়ের দোকানের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টের কাছে প্রার্থনা শুরু করলাম। প্রার্থনার বিষয়বস্তু, মুহাম্মদ যেন তার আরেক অপসন ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশীপটা পায়। এই স্কলারশীপ প্রোগ্রামের নাম এস্ট্রোমুণ্ডুস। মুহাম্মদ জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর দুইবছরের মাস্টার্স করবে ইউরোপের চারটা দেশে- অস্ট্রিয়া, ইতালী, জার্মানী আর সার্বিয়া।</p>
<p>ল্যাম্পপোস্ট বেচারা আজীবন মানুষের সর্দি ছাড়া আর কিছু পায়নি, আমাদের প্রার্থনা পেয়ে সে আবেগে ইমোশোনাল হয়ে গেলো। সে প্রার্থনা কবুল করে ফেললো। কিন্তু নবিস হলে যা হয়, ইরাসমাস থেকে মেইল আসলো মুহাম্মদের পাশের বেডের তাওসীফের কাছে, সে ইরাসমাস মুণ্ডুস পেয়েছে। মিস ফায়ার।</p>
<p>তারপর আমরা ল্যাম্পপোস্টের কাছে যেয়ে বললাম সে ভুল করেছে। ব্যাপারটা যেনো আরেকবার দেখে। এরই মাঝে মুহাম্মদের কাছে মেইল আসলো, এস্ট্রোমুণ্ডুস স্কলারশীপ এবার ননইয়রোপীয়ান সবগুলো দেশ থেকে মাত্র দশজনকে দেওয়া হবে। ওরা পঞ্চাশজনের একটা লিস্ট সিলেক্ট করেছে, মুহাম্মদ সেই লিস্টে থাকলেও দশজনের মধ্যে নেই। তবে ও চাইলে নিজের টাকা দিয়ে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারে।</p>
<p>বিশাল বিশাল টাকার ব্যপার। একবার আমরা ভাবলাম সাহায্য চাই পোস্টার তৈরী করে সারাদেশে ক্যাম্পেইন করবো কীনা, কিন্তু তারপরই মনে পড়লো ল্যাম্পপোস্টের কথা। দেখা যাক, সে কদ্দুর কী করতে পারে।</p>
<p>এবং তারও অনেক অনেকদিন পর আজকে দুপুরে হঠাৎ একটি মেইল আসলো মুহাম্মদের কাছে। সে ওয়েটিং লিস্টের এক নম্বরে ছিল। নির্বাচিত দশজনের মধ্যে একজন কোনও কারণে ভর্তি হবেনা, তাই সে স্কলারশীপের জন্য মনোনীত হয়েছে।</p>
<p>সাবাস মুহাম্মদ। আমরা জানতাম তুই পারবি এবং পারলিই। তবে ভুলে যাইস না, সকল প্রশংসা কিন্তু ল্যাম্পপোস্টের  <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/3.gif' alt=';)' class='wp-smiley' />  </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/23462/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>86</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভুল করে ভুল করা</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/23106</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/23106#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 06 Apr 2010 18:49:27 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=23106</guid>
		<description><![CDATA[শুরু করার আগে শেষ কথাঃ আজকে বাসায় এসেছি সন্ধ্যা সাতটায়। সাতটা পনেরোতে কারেণ্ট চলে গেলো। আসলো ১১ টা পয়তাল্লিশে। আমি জানি আপনাদেরও একই অবস্থা। সুতরাং কারেন্ট থাকাকালীন সময়ে এই ভাবের লেখা পড়ে সময় নষ্ট না করে কাজের কাজ করার অনুরোধ থাকলো। আর যারা পড়তে যাচ্ছেন তাদের বলি, লেখাটার বিষয়বস্তুটাই এমন কিছু লাইন জ্ঞানদান মনে হতে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><font size="2"><em>শুরু করার আগে শেষ কথাঃ আজকে বাসায় এসেছি সন্ধ্যা সাতটায়। সাতটা পনেরোতে কারেণ্ট চলে গেলো। আসলো ১১ টা পয়তাল্লিশে। আমি জানি আপনাদেরও একই অবস্থা। সুতরাং কারেন্ট থাকাকালীন সময়ে এই ভাবের লেখা পড়ে সময় নষ্ট না করে কাজের কাজ করার অনুরোধ থাকলো। আর যারা পড়তে যাচ্ছেন তাদের বলি, লেখাটার বিষয়বস্তুটাই এমন কিছু লাইন জ্ঞানদান মনে হতে পারে।</em></font></p>
<p>তথ্যের সাগরে ভাসছি আমরা। টেলিভিশন, পত্রিকা, বই, ব্লগ, ইয়ুটিউব, ইন্টারনেট হাজারো মাধ্যম প্রতি মুহূর্তে আমাদের তথ্য দিয়ে চলছে। কিন্তু এর মধ্যে কোন তথ্যটি সঠিক? কোন তথ্যটি আমরা গ্রহণ করবো? গত কয়েকদিন যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে কয়েকজনের বক্তব্যের পর বাকরুদ্ধতা কাটিয়ে তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে একটা ব্লগ লেখার চিন্তা মাথায় আসলো। এটি যুদ্ধাপরাধী বিষয়ক তথ্যের সঠিকতা কীভাবে নিরুপন হবে তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, মূলত মানুষের বিভিন্ন আজগুবি জিনিসে বিশ্বাস এবং আর অসারতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। মনের প্যাঁচটা ধরতে পারলে তথ্যের প্যাঁচ আমাদের মনে গিট্টু লাগাতে পারবেনা, পারবেনা আমাদের অজান্তে মগজ ধোলাই করে দিতে।</p>
<p><strong>বুঝলাম, কিন্তু তোমার কথা বিশ্বাস করবো কোন দুঃখে?</strong></p>
<p>অবশ্যই আমার কথা আপনাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে হবেনা। আমি আপনাকে কিছু কথা বলবো, আপনি সেটা নিজে যাচাই করবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা আমি আপনাকে এইটা জিনিসটা ভালো, এইটা জিনিসটা মন্দ এভাবে কোনো জিনিস সম্পর্কে বলবো না। আমি বলবো একটা কাজ বা জিনিস ভালো না মন্দ, একটি তথ্য সঠিক না ভুয়া, সেটা কীভাবে আপনি যাচাই করতে পারবেন সেই প্রক্রিয়ার কথা।</p>
<p><strong>আপনি একটি দাবী করলেন, সেই দাবী আপনি একটি তথ্য দেখে করেছেন। দাবীটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার আগে পরীক্ষা করুন আপনার তথ্যসূত্র কতটা নির্ভরযোগ্য<br />
</strong></p>
<p>সিসিবিতে আদনান তার পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যু নিয়ে লেখা ব্লগে একটি মন্তব্য করেছিল যার প্রধান সূত্র ছিল নয়াদিগন্ত পত্রিকা। এছাড়াও ভারত বন্দনা নামে একটা পোস্ট এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর, সেখানকার সকল তথ্যের মূল সূত্র ছিল জামাতি মিডিয়া। ভুল ধরিয়ে দেবার পর লেখক তার অজ্ঞানতা স্বীকার করেছিলন। তিনি বলেছিলেন তিনি ঠিকমতো যাচাই করে দেখেন নি। সুতরাং কিছু বলার আগে আপনার তথ্যসূত্রের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করুন।</p>
<p>প্রতিটি খবরের পরিবেশিত তথ্যে ভুল ভ্রান্তি থাকা স্বাভাবিক। যেহেতু মানুষ মাত্রই ভুল এবং ভুল করার সময় সে বুঝতে পারে না সে ভুল করেছে তাই ভুলগুলো হবে ড়্যান্ডম। কিন্তু যদি কোন খবরে পরিবেশিত তথ্যে ভুলগুলো একই দিকের হয় এবং এই ভুলগুলো যদি একটি নির্দিষ্ট উপসংহারকে জাস্টিফাই করে তাহলে বুঝতে হবে ঘাপলা আছে। নীচের ছবিটি দেখুন।<br />
<div id="attachment_23129" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/jamat.JPG"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/jamat-300x277.jpg" alt="ভুল" title="jamat" width="300" height="277" class="size-medium wp-image-23129" /></a><p class="wp-caption-text">ভুল</p></div></p>
<p>এই ধরণের ঘাপলা সমৃদ্ধ তথ্যসূত্র এড়িয়ে চলুন।</p>
<p><strong>কীভাবে বুঝবো এই তথ্যসূত্র ঘাপলা</strong></p>
<p>ইতিহাস দেখুন। অন্যান্য বিষয়গুলোতে তারা একটি নির্দিষ্ট মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করছে কীনা সেটা যাচাই করুন।</p>
<p><strong>প্রথমেই উপসংহারে যাবেন না</strong></p>
<p>আদনানের বক্তব্য এবং বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে নয়াদিগন্তের লিংক ব্যবহারের কারণ নিয়ে আলোচনা করা যাক। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে আদনান এর একটি বক্তব্য আছে এবং এই বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ও নেটে বিভিন্ন লেখা খুঁজে দেখেছে। এর মধ্যে নয়াদিগন্ত তার মতো করে কথা বলেছে, তাই সে নয়াদিগন্তের রেফারেন্স ব্যবহার করেছে। </p>
<p>খুবই ভুল প্রক্রিয়া। ধরা যাক, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেদের কমন সেন্সের উপর আস্থা রেখে আমরা একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সেটা অন্য সবার সামনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই প্রাপ্ত ডাটাকে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে পৌছানোর উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় টেম্পারিং করবো, ফলে সিদ্ধান্ত একপেশে হবে। নিজের কমন সেন্সের উপর আমাদের অনেক আস্থা, আমাদের মনে যা হয় সেটাকেই আমরা সাধারণত সত্য বলে ধরে নেই, যা ঠিক নয়। হিটলার নিজের মনকে সত্য বলে ভেবেছিলেন, সে হিসেবে সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষ হত্যা করেছিলেন। সুতরাং কমনসেন্সের উপর থেকে আস্থা কমান। একজন বুদ্ধিমান মানুষ হিসেবে আমরা প্রথমে ডাটা সংগ্রহ করবো, সংগৃহিত ডাটা এনালাইস করবো এবং যে কোন উপসংহারের জন্য প্রস্তুত থাকবো। সেই উপসংহার আমার মনের ধারণার বিরুদ্ধে যেতে পারে কিন্তু যেহেতু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিরুদ্ধমতটাই এসেছে সুতরাং সেটাই সঠিক হবার সম্ভাবনা বেশি। </p>
<p><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/2.JPG"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/2.JPG" alt="উপসংহার" title="উপসংহার" width="707" height="457" class="aligncenter size-full wp-image-23130" /></a></p>
<p>উদাহরণ হিসেবে আরও বলা যায় কোপারনিকাসের কথা। তিনি যখন বলেছিলেন পৃথিবী গোল এবং তা সূর্যের চারিদিকে ঘোরে তখন সেটা তৎকালীন কেউ মেনে নেয়নি। কেন নেয়নি? কারণ সূর্যের প্রতিদিন একপাশ থেকে আরেকপাশে ভ্রমন দেখে মানুষের কমন সেন্স বলেছিল, সূর্যই ঘোরে, পৃথিবী নয়। সুতরাং কোপারনিকাস পাগল। পৃথিবীর ঘূর্নন আবিষ্কার করে কোপারনিকাসও মানসিক ভাবে আঘাত পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি তার পরীক্ষালব্ধ উপসংহার থেকে সরে আসেন নি।</p>
<p><strong>অপ্রাকৃতিক ব্যাখ্যায় যাবার আগে প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা খুঁজুন</strong></p>
<p>বিবর্তনের কারণে আমরা মানুষেরা সবকিছুতে প্যাটার্ন খুঁজে বেড়াই। প্যাটার্ন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ন। আমাদের বাসায় ক্যালেণ্ডারে সৌদিআরবের কোন এক জংগলে কয়েকটি গাছের সারি সম্বলিত ছবি আছে, যেগুলোর ডালপালা সুসজ্জিত ভাবে বিস্তৃত হয়ে লা ইলাহা ইল্লাহ লেখা তৈরী করেছে। আমাদের অনেকের কম্পিউটারেই ইসলামী মিরাকল ফোল্ডার আছে। যেখানে আল্লাহ লেখা মাছের ছবি আছে, আল্লাহ লেখা মাংশের ছবি আছে। পরিচিত এক ভাই একবার হতাশা নিয়ে বলেছিলেন, বাঙালি হইলো মাছের গায়ে আল্লাহ নিজের নাম খোদাই করে দিয়েছেন তার অস্তিত্ব প্রমানের জন্য এটা বিশ্বাস করা জাতি। কথাটা ভুল, সারা দুনিয়ার অসংখ্য মানুষ এগুলো বিশ্বাস করে। তবে তাদের সাথে আমাদের পার্থক্য হলো, তারা দেখে যীশূ খ্রিস্ট ও কুমারী মেরিকে। চিজ কেক থেকে শুরু করে, পাথর, বিল্ডিং নানা জায়গায় তারা যীশুর, মেরির প্রতিকৃতির সন্ধান পেয়েছে। <a href="http://www.dhormockery.com/2009/10/blog-post_26.html">ধর্মকারী সাইটে মেরি, যীশুর ছবিটি দেখুন। </a></p>
<p>সুতরাং অপ্রাকৃতিকভাবে আল্লাহ, যীশু, মেরী এগুলো খোদাই করেছেন না প্রাকৃতিক ভাবে ফটোশপে তৈরী করা হয়েছে সেটা ভাবুন। </p>
<p>ছবি না। আপনি নিজের চোখে দেখেছেন? তাহলে আমাকেও একদিন দয়া করে দেখাবেন। আপনি কেন দেখেছেন তার প্রাকৃতিক কারণ আপনাকে ব্যাখ্যা করে দেবো।</p>
<p><strong>এক্সট্রাঅর্ডিনারী ক্লেইম রিকয়ারস এক্সট্রাঅর্ডিনারী এভিডেন্স</strong></p>
<p>বিশ্বখ্যাত জ্যোতির্বিদ কার্ল সাগান উপরের বাক্যের জনক। ধরা যাক, দুবাই থেকে বাংলাদেশ আসা এক বিমানের পাইলট রিপোর্ট করলেন, দুবাই থেকে একশ কিলোমিটার দূরে ভয়ংকর ঘূর্নিঝড় হয়েছে। তার এই দাবী আমরা মেনে নিতেই পারি। কিন্তু তিনি যদি বলেন, দুবাই থেকে ঢাকা আসার পথে তিনি একটি ফ্লাইং সসার দেখেছেন তাহলে আমরা বলবো, দারুন। কিন্তু প্রমান কই?</p>
<p><strong>সকল ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতে হবে এমন নয়</strong></p>
<p>ধরা যাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান সময়ে জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় কী কী অগ্রগতি হয়েছে তা নিয়ে সেমিনারে বক্তারা বক্তব্য রাখছেন। এখন এই সভার মধ্যে ঢুকে আমি যদি বলি,  ট্রটেস্কি নামে এক এলিয়ান বিয়ার জ্বাল দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ফলে কড়াই উত্তপ্ত হয়ে এক মহাবিস্ফোরণ ঘটার মাধ্যমেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে কেমন হবে? মঞ্চে উপবিষ্ট পদার্থবিদদের কি উচিত হবে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কিত আমার মতামতকে শ্রদ্ধা দেখানো। তাদের তত্ত্বের পাশাপাশি আমারটাও পদার্থবিজ্ঞানে বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা?</p>
<p>আপনি কথা বলতে পারেন। তারমানে এই না, যা ইচ্ছা তাই বলবেন। আপনাকে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে হবে। </p>
<p><strong>দুনিয়াবী নিয়ম বিবেচনা করুন</strong></p>
<p>আমি নাইজেরিয়ার ব্যাংক বোকাদিচুর সিইও বরকতুল্লাহ মদন বলছি। আমাদের ব্যাংকের এক ক্লায়েন্ট সম্প্রতি তার একাউণ্টে এক বিলিয়ন ডলার রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার কোন ওয়ারিশ না থাকায় টাকাটি এখন একাউন্টে পড়ে আছে। আমি তাই আপনার সাথে যোগাযোগ করছি, কারণ আমি জানি আপনি বুদ্ধিমান এবং বিশ্বস্ত। আপনি আমাকে একটি এপ্লিকেশন এবং সবকিছু প্রসেসিং করার জন্য ছয় হাজার ডলারের চেক প্রেরণ করলেই আপনার ঠিকানায় এক বিলিয়ন ডলারের ৫০ ভাগ চলে যাবে।</p>
<p>হাসছেন? এমন গাধামি কেউ করে নাকি? আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি- জ্বী করে।</p>
<p>নাইজেরিয়ার ব্যাংকে বিলিয়ন ডলার পাবার লোভে আমার পরিচিত কেউ টাকা পাঠায়নি সত্য, তবে প্রায় একই ধরণের কাজ একজন করেছে। বুয়েট মেকানিক্যাল ০৫ এ আমার পরিচিত এক বন্ধুকে একদিন মোবাইলে ফোন করে জানানো হয় সে মোবাইলের নম্বরের একটা লটারিতে লক্ষ টাকা জিতেছে। তবে টাকাটা পাওয়ার জন্য তাকে একটি নির্দিষ্ট মোবাইলে নম্বরে ফ্যাক্সিলোড করে কিছু টাকা পাঠাতে হবে। টাকার অংক বেশি না, মাত্র ছত্রিশ হাজার। আমার সেই মেধাবী বন্ধুটি টাকা পাঠিয়েছিলো।</p>
<p>দুনিয়া কি এভাবে চলে? মাগনা মাগনা আপনাকে কেউ এভাবে টাকা দিবে? কাম অন।</p>
<p><strong>বৃত্তাধীন যুক্তি মোটেও যুক্তি নয়</strong></p>
<p>উদাহরণঃ</p>
<p>আল্লাহ আছেন।<br />
- কীভাবে জানো?<br />
কারণ কুরআন শরীফে বলা আছে তিনি আছেন।<br />
- কিন্তু কোরাআন যে সত্যি বলছে এইটা কীভাবে বুঝলা?<br />
কারণ আল্লাহ বলছেন, কুরআন তাঁর বাণী, এর প্রতিটি বাক্য সত্য।</p>
<p>নিজামী একাত্তরে কিছু করেন নি। তিনি ছাত্র ছিলেন, পড়ালেখায় ব্যস্ত ছিলেন।<br />
- তাই নাকি? কে বললো?<br />
গোলাম আযম বলছে।<br />
- কিন্তু আমি তো জানি গোলাম আযম ও খারাপ লোক।<br />
না, নিজামী বলছেন, সে খুবই পরহেজগার আদমী।</p>
<p>যুক্তি এবং কুযুক্তির পার্থক্য বুঝুন।</p>
<p><strong>ফাইনেস্ট ডাজনট মিন ইনোসেণ্ট</strong></p>
<p>ক্ষমাপ্রার্থনা পূর্বক আরেকটি ইংরেজি টাইটেল। এটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত আমার কয়েকবন্ধুর মতামত (অনেকের না, কয়েকজনের)। তাদের মতে, গোলাম আযমের ছেলে সেনাবাহিনীর অন্যতম ফাইনেস্ট অফিসার। তাকে বরখাস্ত করে সরকার অপরাধ করেছে। বাপের বোঝা ছেলের কেন টানতে হবে?</p>
<p>প্রথম কথা, আমরা সবাই জানি, বেশিরভাগক্ষেত্রেই সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে উঠতে হলে কী পরিমান রাজনৈতিক ধান্ধাবাজ হওয়া প্রয়োজন হয়। অনেক পারফরমার অফিসার মেজর হবার পর জমাখানায় চলে যান, কারণ তারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তা পোষণ করেন না বা কোনও ধরণের রাজনৈতিক চিন্তাই পোষণ করেন না। সুতরাং ফাইনেস্ট অফিসার হবার জন্য, অনেক অনেক ড়্যাংক পাবার জন্য  গোলাম আযমের ছেলে কী করতে হয়েছে তা ভাবুন। একজন ফাইনেস্ট অফিসার হতে পারে কিন্তু সেটা কোনোভাবেই প্রমান করেনা তিনি ইনোসেণ্ট। সেনাবাহিনী প্রধান হয়ে তিনি যে দেশের ইয়ে মেরে দিবেন না, তা বুকে হাত দিয়ে কেউ বলতে পারবে না। থুক্কু পারবে, বরাহপোনা ও তাদের আব্বা বরাহ শাবকেরা।</p>
<p>আর বাপের দোষ ছেলে কেন বহন করবে? তিনি দোষী না কে বললো? তার সাথে জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে। বরখাস্তের পর জামাতি ওয়েবসাইটে তার চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল।</p>
<p><strong>অন্ধবিশ্বাস থেকে দূরে থাকুন</strong></p>
<p>অন্ধবিশ্বাস করার গুনটাও আমরা বিবর্তনের কারণে পেয়েছি। বাবা মাকে অন্ধবিশ্বাস না করলে ছোট বেলায় আমাদের টিকে থাকাটা সমস্যাসংকুল হতো। বিনা দ্বিধায় আমরা মেনে নিয়েছি আগুনে ঝাঁপ দিতে হয়না, পুকুর দেখলেই তাতে লাফ দিতে হয়না।</p>
<p>কিন্তু মনে রাখবেন, বাবা মা যাই বলে তাই সঠিক না। আপনার বড় ভাই এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন যেখানকার ছাত্র ছিলেন হকিং। তারমানে এই না দুনিয়াবী সকল বিষয়ে তিনি যাই বলবেন তাই সঠিক। তার ক্রেডেনশিয়াল অতি উচ্চ পর্যায়ে তাই তাকে অন্ধবিশ্বাস করতে হবে এমন কথা নেই। তিনি যেই বাক্যটি বলবেন, সেটাকে যুক্তিযুক্ত হতে হবে। বাবা- মা সহ যাবতীয় সবার ক্ষেত্রেই তাই। অন্ধবিশ্বাস করবেন না। আপনার কোম্পানি কমাণ্ডার অনেক দারুন একজন মানুষ কিন্তু তার সকল ধ্যান ধারণা সঠিক নাও হতে পারে। আপনি যদি যাচাই না করে তার সব কথাকে বেদ বাক্য বলে হজম করে ফেলেন তাহলে লোকে আপনাকে চামচা বলবে, আর বলবে সিও আপনার মগজ ধোলাই দিয়েছে। সুতরাং সাবধান।</p>
<p><strong>শেষকথাঃ</strong></p>
<p>উপরের উদাহরনের অনেকের কাছেই জানা এবং অনেকেই সেটা প্র্যাকটিস করেন। তবে জেনে রাখুন, আপনার পাশেই মগজ ধোলাই হওয়া একজন আছে যে বিশ্বাস করে একাত্তরে জামাতের আচরণ ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তারা খুন হত্যার সাথে জড়িত ছিলোনা, তারা কেবল ইসলাম রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বাসঘাতক হিন্দুকে হত্যা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বাঙালি মারা গিয়েছিল দশ হাজার আর বিহারী মারা গিয়েছিল এক লাখ।</p>
<p>উদ্ভট জিনিসে আমরা বিশ্বাস করি। হয়তো সবাই একটাতে না, ভিন্নরূপে, ভিন্ন আঙিকে। তাই চিন্তাভাবনায় যৌক্তিক হওয়া প্রয়োজন। আমাদের সবার জীবন দীপান্বিত হোক।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/23106/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>64</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নির্ধর্মকথা- এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি (২/৩)</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/22497</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/22497#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 22 Mar 2010 12:01:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রায়হান আবীর (৯৯-০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আলোচনা]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[পড়াশোনা]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>
		<category><![CDATA[ডারউইন]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22497</guid>
		<description><![CDATA[আগের পর্ব অসম্ভব্যতাঃ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইসলামী পণ্ডিত জাকির নায়েকের বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে সাত মিনিটের লেকচারটি আমার খুবই প্রিয় 1। সাত মিনিটে প্রায় ২৮ টি মিথ্যা বা ভুল কথার মাধ্যমে জাকির নায়েক ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব ভুল প্রমান করতে না পারলেও সৃষ্টিবাদীরা কতটা অজ্ঞ তা ঠিকই প্রমান করেছেন 2। এই সাতমিনিটের মধ্যে মাত্র পাঁচ সেকেণ্ড [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/22169">আগের পর্ব</a></p>
<p><strong>অসম্ভব্যতাঃ</strong></p>
<p>বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইসলামী পণ্ডিত জাকির নায়েকের বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে সাত মিনিটের লেকচারটি আমার খুবই প্রিয় 1। সাত মিনিটে প্রায় ২৮ টি মিথ্যা বা ভুল কথার মাধ্যমে জাকির নায়েক ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব ভুল প্রমান করতে না পারলেও সৃষ্টিবাদীরা কতটা অজ্ঞ তা ঠিকই প্রমান করেছেন 2। এই সাতমিনিটের মধ্যে মাত্র পাঁচ সেকেণ্ড সময় জাকির নায়েক বিবর্তন ঘটার “সম্ভাবনা” নিয়ে আলোচনা করেছেন হাসতে হাসতে, কারণ তার মতে, এটা সবাই বুঝতে পারে এইপ থেকে বিবর্তিত হয়ে মানুষ হবার সম্ভাবনা কী পরিমান ক্ষুদ্র। প্রায় সকল সৃষ্টিবাদীরা এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে রুপান্তরিত হবার সম্ভাবনাকে “শূন্যের কাছাকাছি” রায় দিয়ে বিবর্তন তত্ত্বকে বাতিল করে দেন। </p>
<p>অনেকে অনেক ভাবে বললেও সবচেয়ে যথাযথ যুক্তিটা এমন, এক প্রানী থেকে অন্য প্রানীতে পরিবর্তনের জন্য আলাদা- আলাদা অসংখ্য মিউটেশন হতে হবে। প্রতিটি মিউটেশন হবার সম্ভাবনাই যেখানে প্রায় শুণ্যের কাছাকাছি, সেখানে সবগুলো একসাথে হয়ে আলাদা একটি প্রাণী সৃষ্টি হওয়া অকল্পনীয় ব্যপার। ধরা যাক, একটি ছক্কার গুটি পাঁচবার নিক্ষেপ করা হবে। পাঁচবার নিক্ষেপে যদি পর্যায়ক্রমে ৩, ২, ৬, ২, ৫ উঠে আসে তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে একটি প্রাণী থেকে আরেকটি প্রাণী বিবর্তিত হলো। এখন পাঁচবার ছক্কা নিক্ষেপ করে ৩, ২, ৬, ২, ৫ পাবার সম্ভাবনা  (১/৬* ১/৬* ১/৬* ১/৬* ১/৬* ১/৬= ১/৭৭৭৬)  &#8211; ৭৭৭৬ বারে একবার। একটি নতুন প্রজাতির বিবর্তন কিংবা একটি নতুন অঙ্গের বিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা এরচেয়ে অনেক অনেক কম, সুতরাং বিবর্তন একটি অসম্ভব ব্যাপার।</p>
<p>কার্ডের উদাহরণে সম্ভাবনার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তাতে আপত্তি না থাকলে বিবর্তনের সাথে একে মেলানো মর্মান্তিক ত্রুটিপূর্ণ এবং অপ্রাসংগিক। চোখের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, বিবর্তন হবার জন্য অসংখ্য পথ খোলা থাকে। এখন একটি পথ গ্রহণ করে ফেলার পর আমরা যদি সেই পথটি গ্রহণ করার সম্ভাবনা হিসেব করি তাহলে সেটা যুক্তিসংগত হবেনা। উদাহরনের মাধ্যমে কথাটা পরিষ্কার করা যাক।</p>
<p>একটি তাসের প্যাকেটে বাহান্নটি তাস থাকে। এখন দোকান থেকে প্যাকেট কিনে, আমরা টেবিলের উপর সেগুলো সাজালাম। ধরি আমাদের সামনে  ১০^৬৮ (১ এর পর ৬৮ শূন্য) টি তাস আছে। এখন তাসগুলোকে বস্তায় ভরে ঝাঁকাতে শুরু করি। ঝাঁকানো শেষে আমরা বস্তা থেকে ছয়টি কার্ড বের করবো। ধরা যাক, আমরা প্রথমে পেলাম স্পেড এর টেক্কা। এরপর যথাক্রমে ডাইসের সাত, ক্লাবসের দশ, ক্লাবসের বিবি, ডাইসের দুই, হার্টসের রাজা। এখন হাতের মধ্যে প্রাপ্ত অনুক্রমের পাঁচটি তাস ধরে আমরা যদি ১০^৬৮  টি তাসের মধ্য থেকে এদের পাবার সম্ভাবনা বের করে বলি যে, প্রাপ্ত অনুক্রমটি পাবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষুদ্র, সুতরাং এই পাঁচটি তাস পাওয়া অসম্ভব, তাহলে কী হবে? হবেনা। বস্তায় ঝাঁকি দিয়ে পাঁচটা হোক, দশটা হোক যে কয়টি তাসই আমরা বের করিনা কেন, সবসময়ই একটি অনুক্রম পাবো এবং সবসময়ই সেই নির্দিষ্ট অনুক্রম পাবার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি হবে। তারমানে এই না যে, আমাদের সম্ভাবনা হিসেব শেষ করার পর হাত থেকে তাসগুলো উধাও হয়ে যাবে। </p>
<p>বিবর্তন তত্ত্ব অনুসারে, ড়্যাণ্ডম মিউটেশনের কারণে অসংখ্য ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি হয়। ব্যাপারটাকে তুলনা করা যায় স্পেড ট্রাম খেলার সাথে। চারজন খেলোয়াড়, দৈববন্টনে সবাই ১৩ টি করে তাস পাবেন। এখন এই চারজনের মধ্যে একজনের হাতে বাকি তিনজন অপেক্ষা ভালো তাস থাকবে, সুতরাং তিনি জিতবেন। প্রকৃতিতেও নন ড়্যাণ্ডম প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে সবচেয়ে উপযোগীরা টিকে থাকে, বাকীরা ঝরে পড়ে। স্পেড ট্রামে জয়ী মানুষটির হাতের কার্ড দেখে কেউ যদি মন্তব্য করে এমন কম্বিনেশন পাওয়া অসম্ভব তাহলে তাকে কী বলা যাবে? একইভাবে প্রকৃতিতে টিকে থাকা একজনকে ধরে কেউ যদি সম্ভবনা হিসেব করে এবং বলে যে সম্ভাবনা খুব কম, সুতরাং এই প্রক্রিয়া সত্য নয় তাহলে তাকে কী গালি দেওয়া যেতে পারে? বোধহয়, সৃষ্টিবাদী।</p>
<p><strong>বিহে’র হ্রাস অযোগ্য জটিলতাঃ </strong></p>
<p>প্যালের মতো আরেকজন বিখ্যাত সৃষ্টিবাদের প্রবক্তা মাইকেল বিহে। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত তার জনপ্রিয় বই, “Darwin’s Black Box: The Biochemical Challenge to Evolution” এ তিনি “irreducible complexity” বা হ্রাস অযোগ্য জটিলতার নতুন এক অর্থ পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্টি যন্ত্রে বেশ কয়েকটি অংশ থাকে এবং এদের মধ্য থেকে যেকোন একটি অকেজো হলে, বা না থাকলে সেটি আর কাজ করেনা।</p>
<blockquote><p>যে সমস্ত জৈব তন্ত্র (Biological System) নানা ধরনের, পর্যায়ক্রমিক কিংবা সামান্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কোনোভাবেই গঠিত হতে পারেনা, তাদের আমি “হ্রাস অযোগ্য জটিল” (Irreducible Complex) নামে অভিহিত করি। “হ্রাস অযোগ্য জটিলতা” আমার দেওয়া এক বর্ন্যাঢ্য শব্দমালা যার মাধ্যমে আমি পারষ্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নেওয়া একাধিক যন্ত্রাংশের একটি সিস্টেম বোঝাই- যার মধ্য থেকে একটি অংশ খুলে নিলেই সিস্টেমটি কাজ করবেনা।
</p></blockquote>
<p>ইঁদুর মারার যন্ত্রকে তিনি উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন। এ যন্ত্রটির মধ্যে কয়েকটি অংশ থাকে। ১) কাঠের পাটাতন, ২) ধাতব হাতুড়ি, যা ইঁদুর মারে, ৩) স্প্রিং, যার শেষ মাথা হাতুড়ির সাথে আটকানো থাকে, ৪) ফাঁদ যা স্প্রিংটিকে বিমুক্ত করে, ৬) ধাতব দণ্ড যা ফাঁদের সাথে যুক্ত থাকে এবং হাতুড়িটিকে ধরে রাখে 3। এখন যদি যন্ত্রটির একটি অংশ (সেটি স্প্রিং হতে পারে, হতে পারে ধাতব কাঠামো) না থাকে বা অকেজো থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ যন্ত্রটিই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় এটি আর ইঁদুরকে মারা তো দুরের কথা ধরতেও পারবেনা। বিহের মতে, এটি হ্রাস অযোগ্য জটিল সিস্টেমের একটি ভালো উদাহরণ। এখানে প্রতিটি অংশের আলাদা কোনও মূল্য নেই। যখন তাদের একটি বুদ্ধিমান মানুষ দ্বারা প্রয়োজন মোতাবেক একত্রিত করা হয় তখনই এটি কর্মক্ষম হয়ে ওঠে। ঠিক একইভাবে বিহে মনে করেন, প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়ার ফ্ল্যাজেলামগুলো হ্রাস অযোগ্য জটিল। এ ফ্ল্যাজেলামগুলোর প্রান্তদেশে এক ধরণের জৈবমটর আছে যেগুলোকে ব্যাকটেরিয়ার কোষগুলো স্ব-প্রচারলনের কাজে ব্যবহার করে। তার সাথে চাবুকের মতো দেখতে এক ধরণের প্রপেলারও আছে, যেগুলো ঐ আনবিক মটরের সাথে ঘুরতে পারে। প্রোপেলারগুলো একটি ইউনিভার্সাল জয়েণ্টের মাধ্যমে মোটরের সাথে লাগানো থাকে। মোটরটি আবার একধরনের প্রোটিনের মাধ্যমে জায়গামতো রাখা থাকে, যেগুলো বিহের মতে স্ট্যাটারের ভূমিকা পালন করে। আরেক ধরণের প্রোটিন বুশিং পদার্থের ভূমিকা পালন করে যার ফলে চালক- স্তম্ভদণ্ডটি ব্যাকটেরিয়ার মেমব্রেনকে বিদ্ধ করতে পারে। বিহে বলেন, ব্যাকটেরিয়ার ফ্ল্যাজেলামকে ঠিকমতো কর্মক্ষম রাখতে ডজনখানে ভিন্নভিন্ন প্রোটিন সম্মিলিতভাবে কাজ করে। যে কোন একটি প্রোটিনের অভাবে ফ্ল্যাজেলাম কাজ করবে না।, এমনটি কোষগুলো ভেঙ্গে পড়বে 4।</p>
<p>বিহে বিবর্তনবিজ্ঞানী ছিলেন না, ছিলেন জৈবরসায়নবিদ। হ্রাস অযোগ্য জটিলতা নামক শব্দের ব্যঞ্জনায় বিবর্তনকে ভুল প্রমানে বই লেখার প্রায় ষাট বছর আগেই নোবেল বিজয়ী হারমান জোসেফ মুলার বিবর্তনের হ্রাস অযোগ্য জটিলতা ব্যাখ্যা করেছিলেন, তখন থেকেই সেটা বিহে ব্যতিত অন্যসকলের কাছে জীববিজ্ঞানের সাধারণ জ্ঞান হিসেবে জ্ঞাত 5। বিবর্তনের পথ ধরে বইয়ের, আমেরিকায় ইণ্টেলিজেন্ট ডিজাইনের নামে হচ্ছে কী প্রবন্ধে ডঃ অভিজিৎ রায় এবং বন্যা আহমেদ বিহের যুক্তির অযৌক্তিকতা খণ্ডন করেছেন। সেখান থেকেই পাঠকের জন্য উদ্ধৃত করা হলো,</p>
<p>“বিহের উদাহরণে বর্ণিত ঐ ইঁদুর মারার কলটির কথাই ধরুন। কলটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুলে এর ফাঁদ এবং ধাতব দণ্ডটি সরিয়ে নিন। এবার আপনার হাতে যেটি থাকবে সেটি আর ইঁদুরের কল নয়, বরং অবশিষ্ট তিনটি যন্ত্রাংশ দিয়ে গঠিত মেশিনটিকে আপনি সহজেই টাই ক্লিপ কিংবা পেপার ক্লিপ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এবারে স্প্রিংটিকে সরিয়ে নিন। এবারে আপনার হাতে থাকবে দুই-যন্ত্রাংশের এর চাবির চেইন। আবার প্রথমে সরিয়ে নেওয়া ফাঁদটিকে মাছ ধরার ছিপ হিসেবেও আপনি ব্যবহার করতে পারবেন, ঠিক যেমনিভাবে কাঠের পাটাতনটিকে ব্যবহার করতে পারবেন, ‘পেপার ওয়েট’ হিসেবে। অর্থাৎ যে সিস্টেমটিকে এতক্ষণ হ্রাস অযোগ্য জটিল বলে ভাবা হচ্ছিল, তাকে আরও ছোট ছোট ভাবে ভেঙ্গে ফেললে অন্যান্য অনেক প্রয়োজনীয় কাজে লাগানো যায়”</p>
<p>মজার ব্যাপার হলো, বিবর্তনের পথে প্রানীদের ধর্ম বা গুনাবলীর পরিবর্তন হয়। চাবির চেইন থেকে পেপার ক্লিপ, পেপার ক্লিপ থেকে আবার ইঁদুর কল, গুনাবলীর এমন পরিবর্তন (আক্ষরিক ভাবে পেপার ক্লিপ বা চাবীর রিং বোঝানো হচ্ছেনা) যে প্রানীজগতেও হচ্ছে সেটা বিজ্ঞানীরা প্রমান করে দেখিয়েছেন 6। কীভাবে এমনটি ঘটে সেটির ব্যাখ্যা বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানে একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। নির্দিষ্ট একটি জৈবযন্ত্র শুরুতে একধরণের কাজ করলেও প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে ক্রমান্বয়ে দেহের জটিলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সেই নির্দিষ্ট যন্ত্র ভিন্ন ধরণের কাজ করার ক্ষমতা লাভ করে। মানুষের চোখের বিবর্তনের অংশে ঠিক এমন জিনিস আমরা দেখেছি। চোখ যেখান থেকে উদ্ভব হয়েছে সেটি ছিল মস্তিষ্কের বাইরের দিক, বাইরের পরিবেশ থেকে মস্তিষ্ক রক্ষাই ছিল যার কাজ।</p>
<p>এবার আসা ফ্লাজেলাম আর প্রোটিনের আলোচনায়। বিবর্তন পথ ধরে বই থেকে উদ্ধৃত-</p>
<p>“বিহে যেমন ভেবেছিলেন কোন প্রোটিন সরিয়ে ফেললে ফ্ল্যাজেলাম আর কাজ করবেনা, অর্থাৎ পুরো সিস্টেমটিই অকেজো হয়ে পড়বে, তা মোটেও সত্য নয়। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কেনেথ মিলার পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন সরিয়ে ফেলার পরো ফ্ল্যাজেলামগুলো কাজ করছে; বহু ব্যাকটেরিয়া এটিকে অন্য কোষের ভিতরে বিষ ঢেলে দেওয়ার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছে। অর্থাৎ বিজ্ঞানীরা প্রমান করতে পেরেছেন যে, ফ্ল্যাজেলামের বিভিন্ন অংশগুলো আলাদা আলাদা ভাবে ভিন্ন কাজ করলে প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে এটি টিপে থাকার সুবিধা পেতে পারে। জীববিজ্ঞানে এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া যায় যে বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো এক সময় এক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে সরীসৃপের চোয়ালের হাড় থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর কানের উৎপত্তি। আজকে আমাদের কানের দিকে তাকালে তাকালে সেটিকে হ্রাস অযোগ্য জটিল মনে হতে পারে, কিন্তু আদিতে তা ছিল না। এমন নয় যে, হঠাৎ করেই একদিন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের কব্জাবিহীন চোয়ালের হাড়গুলো ঠিক করলো তারা কানের হাড়ে পরিণত হয়ে যাবে; বরং বিবর্তনের পথ ধরে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়েই তারা আজকের রূপ ধারণ করেছে। সুতরাং উৎপত্তির সামগ্রিক ইতিহাস না জেনে শুধুমাত্র চোখ, কান কিংবা ফ্ল্যাজেলামের দিকে তাকালে এগুলোকে হ্রাস অযোগ্য জটিল বলে মনে হতে পারে বৈকি। ”</p>
<p>জীববিজ্ঞানের গবেষণা পত্রে স্তন্যপায়ীদের কানের মতো অসংখ্য উদাহরণ চোখে পড়বে। জীবাশ্মবিজ্ঞানী স্টিফেন যে গুল্ড পাণ্ডার বৃদ্ধাংগুলের মাধ্যমে এই জিনিসটি ব্যাখ্যা করছেন সবচেয়ে দারুন ভাবে 7।  পাণ্ডার হাতে ছয়টি করে আঙ্গুল থাকে। এর মধ্যে বৃদ্ধাংগুলটি আদতে আংগুল নয়, কবজির হাড়। এটি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে পাণ্ডার একমাত্র খাবার বাঁশ ধরে রাখার সুবিধার্থে আঙুলে পরিনিত হয়েছে। যাই হোক, বিহে তার বইয়ে এমন আরও উদাহরণ হাজির করেছেন যার প্রায় সবগুলোই বিজ্ঞানীরা বিবর্তনের আলোকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করে গিয়েছিলেন। বিহের ইচ্ছা ছিল, শূন্যস্থান খুঁজে সেখানে ঈশ্বরকে বসিয়ে দেওয়া, কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের সাথে বলতে হচ্ছে, শূন্যস্থানটাও তিনি ঠিকমতো খুঁজে বের করতে পারেন নি।</p>
<div id="attachment_22498" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/intelligent_design.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/intelligent_design-300x216.jpg" alt="কানসাসে নিয়ম করে প্যালে, বিহেদের ছদ্ম বিজ্ঞান পড়ানো শুরু করায় বানর সমাজের দুঃখপ্রকাশ" title="intelligent_design" width="300" height="216" class="size-medium wp-image-22498" /></a><p class="wp-caption-text">কানসাসে নিয়ম করে প্যালে, বিহেদের ছদ্ম বিজ্ঞান পড়ানো শুরু করায় বানর সমাজের দুঃখপ্রকাশ</p></div>
<p><strong>ডেম্বস্কির গানিতিক চালাকিঃ</strong></p>
<p>সেদিন চারমাসের তাবলীগ থেকে ফেরত আসা আমার এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ যে আছে এটা তুই কীভাবে জানিস? সে নির্দোষ জবাব দিলো, এই সব সৃষ্টি দেখলে তো বোঝা যায় যে আল্লাহ আছেন। আমি ততোধিক নির্দোষ ভঙ্গিতে জবাব দিলাম, এমন কী হতে পারেনা, আল্লাহ এদের সৃষ্টি করেন নি? তখন সে জানালো, তাহলে কি এমনে এমনে হয়েছে? এই নিবন্ধের টাইটেলও একটি বহুল প্রচারিত ইসলামীক গান যেখানে স্রষ্ঠার সুনিপুনতা বর্ননা করা হয়েছে। এছাড়া, সাধারণভাবে আমরা সবাই জগতের নানা ধরণের জটিল ব্যাপার দেখে এতোটাই বিমোহিত হই যে, এগুলো যে নিজে নিজে এমন হতে পারে কিংবা প্রাকৃতিক কারণে এমন হতে পারে তা মেনে নেওয়াটাকে পাগলামী বলে ঠাওর হয়। আর সেটাকেই ব্যবহার করে যুক্তি (!) উপস্থাপন করেন প্যালে, বিহের মতো ধর্মবেত্তারা।</p>
<p>ইণ্টেলিজেণ্ট ডিজাইনের খ্যাতনামা আরেকজন প্রবক্তা উইলিয়াম ডেম্বস্কি। এই সময় পর্যন্ত ইণ্টেলিজেণ্ট ডিজাইন সমর্থন করে বিহের বই সংখ্যা একটি হলেও তার ডিসকভারি ইন্সটিটিউটের (সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে যেখানে গবেষণা করা হয়) আরেকজন সহকর্মী ডেম্বস্কির বইয়ের সংখ্যা বেশ কয়েকটি এবং নিবন্ধের সংখ্যা অসংখ্য 8। প্যালে, বিহের থেকে দশগুন এগিয়ে থাকা ডেম্বস্কি প্রচার করে বেড়ান প্রকৃতির “ডিজাইনড” হবার বিষয়টি গানিতিক ভাবে প্রমানযোগ্য।  তারমতে, প্রকৃতির বিভিন্ন জায়গায় “সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপিত তথ্য”-এর সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত বই “ইণ্টেলিজেণ্ট ডিজাইন” এ ডেম্বস্কি একটি উদাহরণ প্রদান করার পর বলেন, যেহেতু কোনো বস্তুতে সাধারণ প্রাকৃতিক উপায়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য উৎপাদন হওয়া অসম্ভব সুতরাং এটা সহজেই বোধগম্য কোনো একজন পরিকল্পক বা ডিজাইনার এই কাজটি করেছেন তার অস্তিত্বের প্রমান মানুষকে অবহিত করতে 9। বক্তব্যকে যুক্তিসংগত করতে তিনি কার্ল সাগানের উপন্যাস “কনটাক্ট” অবলম্বনে তৈরী একই নামের চলচ্চিত্রের প্রসংগ টেনে আনেন (10)। এই চলচ্চিত্রে পৃথিবীর জ্যোতির্বিদরা একটি এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল বার্তার সন্ধান লাভ করেন, যেটি ভাষান্তর করে তারা দেখতে পান মহাশূন্যের অপরপ্রান্ত থেকে “কে বা কারা” তাদের কাছে ২ থেকে ১০১ পর্যন্ত প্রত্যেকটি প্রাইম সংখ্যা পাঠিয়েছেন। আর এই প্রাইম সংখ্যা পাবার পর চলচ্চিত্রের জ্যোতিবির্দরা বুঝতে পারেন, বার্তাটি যেই পাঠিয়ে থাকুকনা কেন, সে অবশ্যই বুদ্ধিমান। ডেম্বস্কি তারপর উপসংহার টানেন যে, প্রকৃতিতে প্রাপ্ত এমন সুনির্দিষ্ট গানিতিক তথ্যও নিশ্চিত করে যে, এই তথ্যগুলো জগতের বাইরের কারো কাজ এবং তিনিই মহাপরিকল্পক, ডিজাইনার ঈশ্বর।</p>
<p>কিন্তু একটি সুশৃংখল গানিতিক ক্রমের সন্ধান পাবার জন্য ডেম্বস্কির বহিবিশ্বের কারও সংকেতের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তার বাসার পাশে ফুলের বাগান আছে কিনা আমার জানা নেই, যদি থাকে তাহলে সে বাগানে গিয়ে বিভিন্ন ফুলের পাঁপড়ির সংখ্যা গণনা করলেই তিনি “প্রাকৃতিকভাবে” উৎপাদিত চমৎকার গানিতিক ক্রমের সন্ধান পাবেন, যাকে গনিতে বলা হয় ফিবোনাচ্চি রাশিমালা। ফিবোনাচ্চি রাশিমালা অনেকগুলো সংখ্যার একটি সেট যেখানে প্রতিটি সংখ্যা তার পূর্ববর্তী দুইটি সংখ্যার যোগফলের সমানঃ ০, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১, ৩৪, ৫৫, &#8230;। প্রকৃতির অসংখ্য ফুলের সর্বোমোট পাপড়ি সংখ্যা একটি ফিবোনাচ্চি রাশি। যেমনঃ বাটারকাপের পাপড়ি সংখ্যা ৫, গাঁদা ফুলের ১৩, এসটার্সের ২১।</p>
<p>তবে একটা বিষয় বোঝা যাচ্ছে প্যালে, বিহের তুলনায় ডেম্বস্কির দাবী অনেক বেশি ব্যবহারিক ও প্রযুক্তি নির্ভর। সুতরাং এগুলো ঠিকমতো উপলব্ধি করা এবং পরীক্ষা নিরিক্ষা করার জন্য প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ মানুষ। সৌভ্যাগ্যক্রমে অনেক বিশেষজ্ঞই এই কষ্টটুকু গ্রহণ করেছেন এবং তাদের প্রত্যকেই দেখিয়েছেন ডেম্বস্কির উপস্থাপিত প্রতিটি দাবী এবং তা থেকে টেনে আনা উপসংহার মারাত্মক ক্রুটিযুক্ত 11।</p>
<p><strong>স্বতঃ সংগঠন (Self- Organization):</strong></p>
<p>ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইন বা আইডি প্রবক্তারা তাদের বই, ডকুমেণ্টারিতে সবসময় ৪০০ বিজ্ঞানীর একটি সম্মিলিত বিবৃতির উদাহরণ টানেন। তাদের মতে আইডিকে সমর্থন জানানোর জন্য বিজ্ঞানীরা এই বিবৃতি প্রদান করেছেন। এবার জানা যাক সত্যিকার অর্থেই এই বিজ্ঞানীরা তাঁদের সম্মিলিত বিবৃতিতে কী বলেছিলেন।</p>
<blockquote><p>“ জীবনের জটিলতা ব্যাখ্যায়,  আমরা ড়্যাণ্ডম মিউটেশন এবং প্রাকৃতিক নির্বচনের সামর্থের ব্যপারে সন্দিহান। আমরা মনে করি যে প্রমানগুলোর মাধ্যমে ডারউইন তত্ত্বের সঠিকতা নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো আরও সুক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা উচিত ”12
</p></blockquote>
<p>লক্ষ্য করুন, এখানে একবারের জন্যও ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন শব্দটা আসেনি। বিজ্ঞানীরা উপরে যে বিবৃতি দিয়েছেন তা নিতান্তই স্কেপটিক আচরণের শান্ত, সুকুমার অভিব্যক্তি, যৌক্তিক বিজ্ঞানমনস্ক আচরণ। তবে ডারউইনের তত্ত্বকে আরও সুক্ষ্মভাবে পরীক্ষার নিরিক্ষার আহবান- অপ্রয়োজনীয়, কেননা ডারউইনের বিগল যাত্রা পরবর্তী যে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের সূচনা হয়েছিল তার একমাত্র কাজই বিবর্তনের প্রমান পরীক্ষা নিরিক্ষা করা। ডারউইন তত্ত্বের মতো প্রতিনিয়ত অসংখ্য পরীক্ষা নিরিক্ষার সন্মুখীন অন্য কোনও তত্ত্বকে হতে হয়নি। গত দেড়শ বছর ধরে পরীক্ষা চলছে, চলবে অনন্তকাল।</p>
<p>এবার ৪০০ বিজ্ঞানীর উদ্ধৃতিতে ফিরে আসা যাক এবার। একটা জিনিস উল্লেখ করা আবশ্যক, বিবর্তন কৌশলে ড়্যাণ্ডম মিউটেশন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন ছাড়া আরও বেশ কিছু অত্যাবশ্যকীয় ব্যপার ক্রিয়া করে। জীব, জড় দুই ধরনের জটিল বস্তু সংস্থান (Complex Material system) একটি প্রাকৃতিক ধর্ম প্রদর্শন করে যার নাম “স্বতঃ সংগঠন” বা সেলফ অর্গানাইযেশন। স্বতঃ সংগঠন বলতে বিভিন্ন বস্তুর নানা ধরণের নকশায় বিন্যস্ত হবার কথা বোঝানো হয়। আর চমৎকারিত্বপূর্ন ও গানিতিক এই নকশা তৈরী হয় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে, কোনও ধরণের মিরাকল ব্যতিত।</p>
<p>“Self- Made Tapestry ” নামের বইটিতে লেখক ফিলিপ বল বিভিন্ন জীব ও জড় বস্তুর প্রাকৃতিকভাবে নানা ধরণের নকশায় বিন্যস্ত হবার উদাহরণ দেখিয়েছেন অসংখ্য চিত্র সহকারে। আশেপাশের বিভিন্ন জটিলতা দেখে সেগুলো ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমান মনে করে তা নিয়ে পাগলামী করা সৃষ্টিবাদীদের পাগলামী রোধের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করতে পারে তার বইয়ে উল্লেখিত জটিলতাগুলো, যেগুলো একদমই নিজে নিজে প্রাকৃতিকভাবে এমন হয়েছে 13। সত্যি কথা হলো, বিভিন্ন জীবিত জৈব তন্ত্রে সন্ধান পাওয়া নকশা একই সাথে মৃত জড় সিসটেমেও দেখতে পাওয়া যায় এবং এগুলো পদার্থ বিজ্ঞান এবং রসায়নের মৌলিক সূত্র দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায়। এদের কোনটাই বাইরের কারও নিজের অস্তিত্ব প্রমানের জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র নয়। মনে রাখা দরকার, বিশ্বের প্রতিটি স্থানে কণাগুলো একে অপরের সাথে মিথস্ক্রিয়া করছে। এ ধরণের বিশ্বে সরলতা খুব সহজেই জটিলতার জন্ম দিতে পারে। পূর্ণ একটি ব্যবস্থা তার বিভিন্ন অংশের সমষ্টি ছাড়া কিছুই নয় 14।</p>
<p>প্রকৃতির প্রায় সকল জায়গায় ডাবল স্পাইরাল বিন্যাসের উপস্থিতিকে বল উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন ১৫। প্রকৃতিতে শতকরা ৮০ ভাগ উদ্ভিদ প্রজাতির ক্ষেত্রেই দেখা যায় কাণ্ড বা মধ্যরেখা থেকে পাতাগুলো উপরের দিকে কুণ্ডলাকারে বিস্তার লাভ করে। প্রতিটি পাতা তার নিচেরটি থেকে একটি নির্দিষ্ট কোণে অবস্থান করে। উপর থেকে দেখলে, এ ধরণের কুণ্ডলাকার গড়নকে ডাবল-স্পাইরাল তথা দ্বি-কুণ্ডলাকার মনে হয়। একটি পাতার মোচড় অন্যটার বিপরীত দিকে বলেই এমন গড়নের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ফুলের অগ্রভাগ তথা পুষ্পিকার মধ্যেও এ ধরণের গড়ন দেখা যায়; যেমন সূর্যমুখী ফুল এবং পাইন ফলের পাতা।</p>
<div id="attachment_22499" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/sunflower-double-spiral-pattern.JPG"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/sunflower-double-spiral-pattern-300x225.jpg" alt="সূর্যমূখী ফুলের ডাবল স্পাইরাল প্যাটার্ণ" title="sunflower double spiral pattern" width="300" height="225" class="size-medium wp-image-22499" /></a><p class="wp-caption-text">সূর্যমূখী ফুলের ডাবল স্পাইরাল প্যাটার্ণ</p></div>
<p>সাধারণভাবে ধারণা করা যেতে পারে, ব্যাপারটি জীববিজ্ঞানেরই কোনো একটি প্রক্রিয়া যা ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু গবেষণার পর দেখা গেলো, এটি আসলে সাধারণ পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞান- সবচেয়ে কম বিভব শক্তিতে বিন্যস্ত হওয়া। ১৯৯২ সালে বিজ্ঞানী Stephanie Douady এবং Yves Couder একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেন। প্রথমে তারা চৌম্বকীয় তরলের অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা তেলের আবরণের উপর ফেলেন। এরপর তেলের আবরণের সাথে উলম্বভাবে চৌম্বকক্ষেত্র প্রয়োগ করে ক্ষুদ্র চৌম্বকীয় কণাগুলোকে আহিত করেন। ফলস্বরূপ কণাগুলো সমধর্মে আহিত হবে এবং পরষ্পর পরষ্পরকে বিকর্ষণ করবে। গবেষকরা এবার তেলের আবরণের পরিধি বরাবর আরেকটি চৌম্বকক্ষেত্র প্রয়োগ করে আহিত চৌম্বকীয় কণাগুলোকে কিনারা বরাবর টেনে আনা শুরু করলেন। দেখা গেলো ক্ষুদ্র কণাগুলো ডাবল স্পাইরাল প্যাটার্নে বিন্যস্ত হয়েছে 16। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ডাবল স্পাইরাল প্যাটার্ণ জীবের অদ্বিতীয় কোনও বৈশিষ্ট্য নয়, এটি জীব, জড় সবার ধর্ম। </p>
<p>এছাড়া ব্যাপারটি অন্যভাবেও পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। প্রথমে আমরা একটি ইলেক্ট্রন নেই (যেকোন আহিত কণা হতে পারে)। এবার একে একটা টেবিলে স্থাপন করি। ইলেক্ট্রনটিকে কেন্দ্র করে খুব ছোট ব্যাসার্ধের একটি বৃত্ত অংকন করি। এবার আরেকটি ইলেক্ট্রন নেই। আমাদের কাজ হবে নতুন আঁকা বৃত্তের পরিধির কোনো একটি জায়গায় দ্বিতীয় ইলেকট্রনটি স্থাপন করা। তবে শর্ত হলো, পরিধির যে অংশে আমরা ইলেক্ট্রন স্থাপন করবো সেখানে তার তড়িৎ বিভব শক্তির মান হতে হবে সর্বনিন্ম। এবার প্রথম ইলেকট্রনকে কেন্দ্র করে আরেকটু বেশি ব্যাসার্ধ নিয়ে আরেকটি বৃত্ত আঁকি, এবং সেই বৃত্তের পরিধিতেও সর্বনিম্ম বিভব শক্তি বজার রাখার শর্তপূরণ করে আরেকটি ইলেক্ট্রন স্থাপন করি। এভাবে ধীরে ধীরে ব্যাসার্ধ বাড়িয়ে, ছোট থেকে বড় অসংখ্য বৃত্ত অংকন করে, প্রতিটির সর্বনিন্ম বিভব শক্তির বিন্দুতে ইলেক্ট্রন স্থাপন করলে একটি প্যাটার্নের উদ্ভব হবে। হ্যাঁ! সেটি হবে ডাবল স্পাইরাল প্যাটার্ন। লক্ষ্য করুন এখানে আরোপিত কোনও এলগোরিদম কাজ করছেনা, শুধুমাত্র বিভব শক্তির সর্বনিন্ম ব্যবহার হচ্ছে।</p>
<div id="attachment_22500" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/double-spiral-pattern.JPG"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/double-spiral-pattern-300x276.jpg" alt="ইলেক্ট্রনের ডাবল স্পাইরাল প্যাটার্ন" title="double spiral pattern" width="300" height="276" class="size-medium wp-image-22500" /></a><p class="wp-caption-text">ইলেক্ট্রনের ডাবল স্পাইরাল প্যাটার্ন</p></div>
<p>শুধুমাত্র প্রাকৃতিক নির্বাচন সকল কিছু ব্যাখ্যা করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। এর পাশাপাশি স্বতঃ সংগঠন ধর্মটি বিবর্তনের একটি বড় প্রভাবক বলে মনে করেন জীববিজ্ঞানী স্টুয়ার্ট কুফম্যান 17। তিনি প্রস্তাব করেন, ক্যাটালাইটিক ক্লোসার (catalytic closure) নামক রাসায়নিক পক্রিয়ায় সেলফ সাসটেইনিং বিক্রিয়ার নেটওয়ার্ক উৎপন্ন হবার মাধ্যমে প্রথম প্রাণের উৎপত্তি ঘটেছিল। কুফম্যান আরও বলেন, স্বতঃ সংগঠন কে নব্য আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক নিয়ম মনে করা হলেও বাস্তবিক অর্থে এখানে মৌলিক পদার্থ বিজ্ঞান আর রসায়ন ছাড়া নতুন ধারণা আরোপ করা হচ্ছেনা। যাই হোক, জীবনের সূচনা কীভাবে হয়েছিল সেটি বিবর্তনের আলোচ্য বিষয় নয়। এমনটা ধরে ধরে নেওয়াটা খুবই যুক্তিসংগত যে, উৎপত্তিতে স্বতঃ সংগঠনের মতো রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের অন্য কোনো প্রাকৃতিক নিয়মের হাত ছিল। যদিও এখন পর্যন্ত প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে প্রামানিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে কুফম্যানের প্রস্তাবের মতো বিভিন্ন যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব ঈশ্বরকে সেই শূন্যস্থান থেকে দূরে সরিয়া রাখতে যথেষ্ট।</p>
<p>যারা এতোক্ষণ পর্যন্ত ঈশ্বরের জানাজায় শামিল হলেন, তাদের জন্য <a href="http://www.dhormockery.com/2010/03/blog-post_3658.html">ধর্মকারী সাইটের</a> সৌজন্য তবারক।</p>
<p><object width="640" height="385"><param name="movie" value="http://www.youtube.com/v/hod20AzYB4o&#038;hl=en_US&#038;fs=1&#038;"></param><param name="allowFullScreen" value="true"></param><param name="allowscriptaccess" value="always"></param><embed src="http://www.youtube.com/v/hod20AzYB4o&#038;hl=en_US&#038;fs=1&#038;" type="application/x-shockwave-flash" allowscriptaccess="always" allowfullscreen="true" width="640" height="385"></embed></object></p>
<p><strong>তথ্য সূত্রঃ<br />
</strong><br />
১। ১৯ শে মার্চ শুক্রুবার, চ্যানেল ওয়ানের বিশেষ ইসলামী আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির এক সাবেক মহাপরিচালক জাকির নায়েককে ঘোষণা করলেন এই সময়ের সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ হিসেবে। ফেসবুকে তাকে রামছাগল ঘোষণা দিয়ে একটা গ্রুপ থাকলেও অনেক মুসলমান জাকির নায়েককে সময়ের সেরা ইসলামী স্কলার কিংবা কেউ কেউ আরও বিশ ধাপ এগিয়ে সময়ের সেরা স্কলারের ঘোষণা দিয়ে ফেলেন।</p>
<p>২। জাকির নায়েকের মিথ্যাচারঃ প্রসংগ বিবর্তন। খান মুহাম্মদ। http://www.sachalayatan.com/shikkhanobish/21894</p>
<p>৩। বিবর্তনের পথ ধরে। চ্যাপ্টারঃ আমেরিকায় ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইনের নামে হচ্ছে কী- বন্যা আহমেদ, অভিজিৎ রায়। অবসর প্রকাশনী।</p>
<p>৪। ঐ</p>
<p>৫। H. J. Muller, &#8220;Recersibility in Evolution Considered from the Standpoint of Genetics,&#8221; Biological Review 14 (1939): 261- 80. সৃষ্টিবাদীরা একটি কথা প্রায়ই বলে থাকেন, আজ অবদি কোন বিবর্তন বিজ্ঞানী নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন নি, যা মিথ্যা।</p>
<p>৬। Doriit, review of Darwin&#8217;s Black Box; Miller, Finding Darwin&#8217;s Gor; Perakh, Unintelligent Design; Davis Ussery, &#8220;Darwin&#8217;s Transparent Box: The Biochemical Evidence for Evolution.&#8221; in Young and Edis, Why Intelligent Design Fails, chap 4.</p>
<p>৭। Stephen J. Gould, The Panda&#8217;s Thumb (New York: Norton, 1980, ১৯-৩৪ পৃষ্ঠা)</p>
<p>৮। Dembski, The Design Inference, Intelligent Design, &#8220;The Design Inference.&#8221;</p>
<p>৯। ঐ</p>
<p>১০। একই বই, পৃষ্ঠা ১২৮- ৩১</p>
<p>১১। এই বিষয়ে নতুন লেখার জন্য পড়ে দেখা যেতে পারে, Why Intelligent Design Fails বইয়ের Gishlack, Shanks এবং Karsai; Hurd, Shallit এবং Elsberry; Perakh in Young এবং Edis এর লিখিত চ্যাপ্টারগুলো।</p>
<p>১২। ডিসকভারি ইন্সটিটিউট এর ওয়েবসাইট।</p>
<p>১৩। Phillip Ball, The Self- Made Tapestry: Pattern Formation in Nature (New York, Oxford: Oxford University Press, 2001)</p>
<p>১৪। Jhon Gribbon, Deep Simplicity: Bringing Order to Chaos and Complexity (New York: Random House, 2004)</p>
<p>১৫। Ball, The Self-Made Tapestry, পৃষ্ঠা সংখ্যা ১০৫- ১০৭।</p>
<p>১৬। S. Douady and Y. Couder, &#8220;Phyllotaxis as a Physical Self- Organized Growth Process&#8221;, Physical Review Letters 68 (1992): 2098</p>
<p>১৭। Stuart Kauffman, At Home in The Universe: The Search for the Laws of Self- Organization and Complexity (New York and Oxford: Oxford University Press, 1995)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/22497/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>18</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Page Caching using disk: enhanced
Object Caching 848/937 objects using disk: basic
Content Delivery Network via static.cadetcollegeblog.com

Served from: www.cadetcollegeblog.com @ 2012-05-17 04:01:54 -->
