<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ &#187; সাইফ (৯৪-০০)</title>
	<atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/author/saif/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.cadetcollegeblog.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Mon, 15 Mar 2010 16:30:41 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.8.4</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>স্মৃতির নুড়ি পাথর</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/15099</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/15099#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 10 Sep 2009 02:13:13 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[কুমিল্লা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=15099</guid>
		<description><![CDATA[একাডেমিক ব্যাপারে আমার স্মৃতি শক্তি খুব ই খারাপ। আমার এখনকার জীবন থেকে আমার ছেলেবেলা, ক্যাডেট কলেজ লাইফ এই দুটোকে আমি একেবারেই আলাদা করে দেখি। আমার এখনকার এই একঘেয়ে যান্ত্রিক,বিষাদদ্ময় জীবনের সাথে যখন সেই সময়কার জীবনের তুলনা করি তখন আমার মনে হয় আমার একবার জন্ম হয় নি ,আমি আগেও একবার জন্ম নিয়েছিলাম। ভীষন্রকম অতীত চারিতায় আমি [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>একাডেমিক ব্যাপারে আমার স্মৃতি শক্তি খুব ই খারাপ। আমার এখনকার জীবন থেকে আমার ছেলেবেলা, ক্যাডেট কলেজ লাইফ এই দুটোকে আমি একেবারেই আলাদা করে দেখি। আমার এখনকার এই একঘেয়ে যান্ত্রিক,বিষাদদ্ময় জীবনের সাথে যখন সেই সময়কার জীবনের তুলনা করি তখন আমার মনে হয় আমার একবার জন্ম হয় নি ,আমি আগেও একবার জন্ম নিয়েছিলাম। ভীষন্রকম অতীত চারিতায় আমি মগ্ন হই। সেই অতীতচারিতা আমকে কোন বেদনা দেয় না,কেবলি মুগ্ধতা আরা মোহাবিষ্টতায় আমি আচ্ছন্ন হই সেই জীবনের কথা মনে করে। প্রতিটি মুহূর্ত,উপলক্ষ্য আমি অনেক উপভোগ করি। যতবার ই আমি মনে করি সেই দিঙ্গুলার কথা ততবার ই মনে হয় আমি নতুন করে জন্ম নেই। নিজেকে জাতিস্মর মনে হয়। অনেকদিন ধরে সিসিবি তে কিছু লিখা হয় না। কামরুল কে ফোন দিলেই বলে তুই লিখিস না কেন। এতসব সিদ্ধহস্ত লেখকদের ভিড়ে ,এত সুন্দর সুন্দর লেখার মাঝে কি ই বা লিখব,হাত থেমে আসে আঙ্গুল চলতে চায় না। তাই নীরব পাঠক হিসেবেই বেশি স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করি।</p>
<p>১।<br />
আমরা তখন ক্লাস ইলাভেন এ পড়ি।ইংরেজির শফিক স্যার ক্রিস্টোফার মার্লোর দি প্যাশনেট শেফার্ড পড়াতেন।প্যাশনেট শব্দের অর্থ নিয়ে অনেকের মাঝেই অনেক দ্বিধা ছিল।জিন্নাত একদিন দাঁড়িয়ে বল্ল স্যার প্যাশনেট মানে কি? উত্তরো ওর কাছে জানা ছিল। স্যার অনেকভাবে প্যাশনেটের অনেকগুলো প্রতিশব্দ বললেন ,কিন্তু জিন্নাতের আর মন ভরে না ।শেষ মেষ ও বলেই ফেল্ল, স্যার এইখাননে কি প্য্যাশনেট মানে কামুক অর্থে ব্যব হার  করা হয়েছে? পুরো ক্লাস হেসে উঠল। স্যার আবার খুব প্যশনেটলি এই কবিতাটা পড়াতেন।কাজেই তিনি অবাক না হয়ে কিংবা এতটুকু বিচলিত,বিরত না হয়ে বল্লেন,হ্যা ঠিক ঈ বলেছ।স্যার খুব আবেগ দিয়ে পড়াচ্ছেন ,প্রেমিক শেফার্ড তার প্রেমিকা কে নিয়ে এই করবে,অই করবে,তাকে এই দিবে সেই দিবে,স্যার এর গলার স্বরটাও ছিল খুব প্যাশ্অনে ভরা।ভরাট জড়াণো কন্ঠে স্যার বলে চল্লেন,ত কপোত কপোতি মিলে একসাথে পাহাড়েড় চূড়ায় পাথরের উপর বসবে,কপোত তার কপোতিকে পৃথিবির সবচেয়ে সুন্দর ,নরম আরামদায়ক উল দিয়ে গাউন বানিয়ে পরাবে,গোলাপ দিয়ে তাদের শয্যা সুশোভিত করে সাজাবে,তার নাচবে ,গাইবে ফুর্তি করবে আরো কত কি?স্লিপার বানিয়ে দিবে,কোমরের বিছা বানিয়ে দিবে এই সেই আরো কত কি?হঠাত করে আমাদের আদনান হাত তুল্ল।স্যার থেমে যেতেই আদনান দাঁড়িয়ে বল্ল,আচ্ছা স্যার এই ব্যাটা অই মহিলাকে পাওয়ার জন্য এতসব দিতে চাইছে ,অই মহিলা কি এতই ফকির তার পড়নের কিছু নাই?<br />
বাকী দৃশ্য সহজেই অনুমেয়।</p>
<p>২।<br />
ক্লাস সেভেন এর তৃতিয় অথবা চতুর্থ দিন।মাগ্রিবের নামাজে ।সবাই প্রথম রাকাতে তাহ্রিমা বেধেছে ,হঠাত দেখলাম জিন্নাত ইশ্তিয়াকের চোখের সামনে আঙ্গুল ধরে শুরশুরি দেবার ভঙ্গিতে আঙ্গুল নাড়ছে।অতি সাব্ধানি ইশ্তিয়াক ফিসফিসিয়ে বলে,অই পাগল কি করিস,ভাইয়ার কাছে কম্পলেইন দিমু,জিন্নাত থামার ছেলে নয়,ওর হাত সরিয়ে দিতে গেলে ,জিন্নাত চোখ বড় বড় করে বলে,তোর ঈমান টেস্ট করি,তোর ত নামাজ হইব না।</p>
<p>৩।শাহরিয়ার ভাই না কে যেন, পরিক্ষার আগে দিয়ে হাউসে ছুটির দিনে ঘুমাচ্ছে।হাউস বেয়ারা ইউনুছ ভাই তাকে জাগিয়ে তুলতে ডাকছে &#8230;শাওহ্ রিয়ার শাওহ্অরিয়ার উঠো,জাগো,দেখো,সুর্য উঠি গিএছে ,শহরিয়ার ঊঠো,এখন আলস্যি করবার সময় নয়।</p>
<p>৪।সোলাইমান খন্দকার আমাদের ইংরেজি পড়াতেন।প্রেপ আওয়ারে স্যার কোন্ দিন ই সু পরে আসতেন না।একদিন প্রিন্সিপাল এইজন্য তাকে ধরল।কিছুক্ষন ইয়েস স্যার,স্যরি স্যার বলে তিনি আমাদের ফর্মে ঢূক্লেন।উনার দিকে তাকাতেই একটা হাসি দিয়ে বল্লেন,আরে মিয়া প্রিস্নিপাল আমারে ধরে ,সু পরি নাই কেন,আমিও কইছি আমি ঢাকা কলেজের পোলা,আই ডাজ় নট কেয়ার এনিবডি।আমার আবার মোজ পড়লে শুটকির গন্ধ বের হয়।<br />
৫।বাংলার রইস স্যার কে যারা চিনেন তারা জানেন স্যার কেমন।ক্লাস সেভেনে স্যার ছিলেন আমাদের ফর্ম মাস্টার।স্যার এর আবৃত্তি ছিল অসাধারণ।গলার ভয়েস,পড়ানোর স্টাইল,ব্যক্তিত্ব্ব সব মিলিয়ে স্যার ছিলেন আমাদের কাছে বাঘা রইস নামে খ্যাত।একদিন আমাদের লাদেন কে জ়ড়িয়ে ধরে আমাদের আশেক যাত্রার অভিনয় করছিলো,লাদেন কে ক্ষ্যাপানো ছিল সবচেয়ে সোজা।আর শরির দেইয়ে রক্ত সঞ্চালন দেখা যেত এতি ফর্সা ছিল,ক্লাস এঈটের কাহিনি।কে কারে ক্ষেপাইতে পারে এইপ্রতিযোগিতায় মগ্ন।লাদেঙ্কে জড়িয়ে আশেক বলছে,কাছে এসো সুন্দরি,তোমাকে ছাড়া আমি বাচব না,লাদেনের চোখ মুখ লজ্জায় লাল,এক পর্যায়ে বিবর্ন।এমন সময় রইস স্যারের আগমন,পুরা ক্লাস হাসছইল,শুন শান নিরবতা।লাদেন কান্না কান্না ভাবে স্যার এর সামনে দাড়াণো,স্যার মোটা ভারি গলায় জিজ্ঞেস করলেন,কি হয়েছে?লাদেন মিন মিনিয়ে বল্ল,স্যার ,আমাকে অশ্লিল কথা বলেছে,সুন্দরি বলেছে,স্যারের সুপ্রশ স্ত হাতের থাপ্পরে আশেক হাস পাতালে।<br />
৬।মজিব একদিন কি মনে করে জণৈক আবুল ভাইকে ভোদি বানাবে।ওর রুম মেট ছিল সেই ভাইয়া।প্রিন্সিপাল প্যারেডের আগের রাতে মুজিব সুপার গ্লু দিয়ে ইউনিফর্মের প্যান্টের নিচের পা ঢুকানোর জায়গা একসাথে জোড়া লাগিয়ে দিলো,সকালে সেই ভাইয়া তড়ীঘড়ীকরে প্যান্ট প্অরতে যেয়ে মউসিবতে পড়ল,অবাক বিস্ময়ে বলতে শোনা গেল,এই মুজিব ,আরি,আইঠে লাইগ লে ক্যাম নে,ভাইয়ার চোখ ছিল বড়বড় আর এক্সপ্রেশন অ জ়টিল।<br />
৭।রুহুল আমিন সিনহা স্যার একদিন পাপ সংক্রান্ত বিষয়ে ক্লাসে আলোচনা করছেন।কি করলে পাপ আর কি করলে পাপ হয় না।তিনি বলছিলেন যে যতক্ষন পর্যন্ত তোমার মাথায় পাপ চিন্তা কাজ করবে কিন্তু তুমি যতক্ষন না অই কাজটা করবে ততক্ষন পর্যন্ত সেইটা পাপ হবে না।কারণ তুমি যতক্ষন না করে থাকতে পারছো ততক্ষন তুমি জিহাদ করছ।তোমার আত্মার কু প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে।জিন্নাত দাঁড়িয়ে বল্ল,স্যার ,আমি না নামাজ পড়তে গেলে একটা সমস্যায় ভুগি।সেইটা হল আমার মাথায় খালি খারাপ চিন্তা আসে,আর খারাপ খারাপ ছবি ভাসে।সবাই হো হো করে হেসে উঠল।স্যার ও মৃদু হাসি দিয়ে বললেন সারদিন খারাপ ছবি,নগ্ন ছবি দেখলে আর মাথায় আমল করলে ত হবেই।স্ময় থাকতে এইগুলা বাদ দাও।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/15099/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>33</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ইয়েস্টারডে ওয়ানস মোর</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/6613</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/6613#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 04 Apr 2009 12:26:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=6613</guid>
		<description><![CDATA[হাজার বছর আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশিথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার
তখন, আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার
তখন,মুখোমুখি আমি আর শৈশব
মাঝখানে ব্যবধান-কুড়ি অথবা তিরিশ অথবা চল্লিশ অথবা&#8230;..?
আজ অনেকদিন পর আমি আর শৈশব এসে মুখোমুখি দাড়িয়েছি।মনে পড়ছে আমার সেই ছেলেবেলার কথা।একা একাই আমরা সবাই পথ চলে যাই আর [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>হাজার বছর আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে<br />
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশিথের অন্ধকারে মালয় সাগরে<br />
জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার<br />
তখন, আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার<br />
তখন,মুখোমুখি আমি আর শৈশব<br />
মাঝখানে ব্যবধান-কুড়ি অথবা তিরিশ অথবা চল্লিশ অথবা&#8230;..?</p>
<p>আজ অনেকদিন পর আমি আর শৈশব এসে মুখোমুখি দাড়িয়েছি।মনে পড়ছে আমার সেই ছেলেবেলার কথা।একা একাই আমরা সবাই পথ চলে যাই আর নিজের সাথে কথা বলে যাই।আজো একা একা কথা বলতে গিয়ে অনেক কিছুই চোখের সামনে ভেসে উঠছে স্মৃতিপটে।ছেলেবেলার সেই স্মৃতিগুলো আজ নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়,মনে হয় রুপকথার মত,স্বপ্ন দেখার পুর ঘুম থেকে জেগে যেমন মনে হয়,আমি যা দেখেছি তা কি আসলেই সত্যি?আবার মনে হয়,ইস যদি সত্যি হত তাহলে কি চমতকার ই না হত জীবন।কিন্তু সত্যকার অর্থে জীবন স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর এবং রঙ্গিন।অতীতচারিতা মানুষের মধ্যে সহজাত একটা ব্যাপার।আধুনিকতা কিংবা যান্ত্রিকতা যাই বলি না কেন তার ভিড়ে আমরা জীবন ও জীবিকার অন্বেষণে পুরনো দিন গুলোকে হারিয়ে ফেলি।সবকিছুই কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে আসে স্মৃতিপটে।অতীতের অনেক কিছুই অবিশ্বাস্য মনে হয়,মনে হয় কল্পনায় ঘটে যাওয়া অনেক গল্পের মত।কিন্তু সেই অবিশ্বাসের ঋণ বেড়ে চলে দিন দিন,আর তাই অতীতের অনেক সোনালী মূহূর্ত গুলো আমরা সহজেই অব লীলায় হারিয়ে বসি।আর জীবনের একটা পর্যায়ে এসে সব ফ্যাকাশে মনে হয়,অনেক কিছু অর্জন করেও জীবনের অর্থ নিরর্থক মনে হয়,ভীষণ একাকিত্বে ভুগি।অনেক কিছু পেয়েও মনে হয় কিছুই নেই।জীবনের সেই সময়টাতে একাকিত্বের সঙ্গি হিসেবে এক্টুখানি সুখের ছোয়া দেয়,সংগ দেয় আমাদের সেই অতিতের দিনগুলো,ছেলেবেলার এক টুক রো স্মৃতি।<br />
১।আমার স্কুলে ভর্তি হওয়ার ঘটনাটির কথা মনে পড়লে আমি আজও অনেক মজা পাই।আমরা যারা গ্রামে কিংবা  মফস্বলে বড় হয়েছি,তাদের কাছে প্লে গ্রুপ,নার্সারি,কেজি ওয়ান,কেজি টু কিংবা স্ট্যান্ডার্ড ওয়ান এইসব শব্দগুলো সুদুরপরাহত এবং অজানা বলতে পারেন,অন্তত আমার কাছে ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।আমরা বড় ওয়ান আর ছোট ওয়ান বলতাম।তারপর ক্লাস টু,থ্রি এইরকম।আদর্শ লিপি,শিশু শিক্ষা,বাল্যশিক্ষা এইসব বই ই ছিল আমাদের হাতে খড়ীর উপকরণ।টূইঙ্কল টূইঙ্কল লিটল স্টার কিংবা অন্য সব ইংরেজি ছড়া যেগুলা গভমেন্ট ল্যাব,উদয়ণ,উইলস লিটল ফ্লাওয়ার এইসব স্কুলে ভর্তি হতে গেলে লাগে সেগুলো  আমি অনেক বড় হয়ে শুনেছি,শিখেছি।আমাদের বাড়ির পাশে পুকুর আর তার ওপারেই ছিলো আমাদের স্কুল।প্রথমদিন আমাকে যখন আমার মামা স্কুলে নিয়ে যান ভর্তি করানোর জন্য সেদিন আমার স্কুলে ভর্তি হবার বয়স হয়েছে কিনা তা যাচাই করার জন্য আমার স্কুলের হেড স্যার আমাকে বলেন ডান কান স্পর্শ করে মাথার উপরে ঠিক মাঝখান দিয়ে ডান হাত রেখে বাম কান স্পর্শ করতে,স্বাভাবিক ভাবেই আমি স্পর্শ করতে ব্যর্থ হই।সাথে সাথেই হেড স্যার না করে দিলেন যে আমার বয়স হয়নি।আমার মামার অনুরোধে হেড স্যার আমার কাছ থেকে অনেকগুলো ছড়া মুখস্থ শুনলেন।আর ইংরেজি এ্যালফাবেট দিয়ে বিভিন্ন শব্দ বানানো ও তার অর্থ শুনে অবশেষে হেড স্যার আমাকে সরাসরি বড় ওয়ানের বার্ষীক পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে দিলেন।বছরের শেষের দিকে আমাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ায় আমি সরাসরি বার্ষিক পরিক্ষায় অংশগ্রহন করি।আমাদের বাড়িতে হরি দাস নামে এক মিস্ত্রি কাজ করতেন। তাকে দুপুর বেলা চিড়া , গুড় আর দুধ দিয়ে খাবার দেওয়া হত।আমি তার পাশে বসে কাঠের টুকরা নিয়ে খেলতাম,সে কেন গরু খেতনা এই নিয়ে আমি তাকে অনেক প্রশ্ন করতাম।হরি কাকা হাসতেন আমার কথা শুনে।ছোট বেলায় অন্য ছেলেদের কাছ থেকে শুনে একটা সাম্প্রদায়িক বুলি শিখেছিলাম।সেটা আমি হরি কাকার সামনে সারাক্ষন চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে আওড়াতাম।সেটা হলো এরকম<br />
হরি বলে রাম রাম<br />
রাত পোহাইলে গরু খাম।</p>
<p>এইটা শুনে হরি কাকা শুধু হাসতেন।অবশেষে একদিন মায়ের হাতে মার খেয়ে সেই বুলি আওড়ানো বন্ধ করলাম।পরে যখন বুঝতে শিখেছি তখন এই বুলিটার কথা মনে পড়লে নিজে নিজে অনেক লজ্জিত হতাম আর অপরাধবোধ কাজ করত।এই ঘটনাটা  ক্যাডেট কলেজে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।ক্লাস সেভেন এইট এ ক্লাস মেট রা একে অন্যের সাথে অল্পতেই টুক টাক ঝগড়ায় জড়িয়ে পরতাম।কে কাকে কিভাবে নতুন নাম ধরে ডাক তে পারে সেই প্রতিযোগিতা চলত।আমাদের এক বন্ধুর সাথে ঝগড়া হলে অনেক বন্ধুরাই ওকে ক্ষ্যাপানোর জন্য কিংবা নিজের রাগ ক্ষোভ মেটানোর জন্য ওকে ড্যাডাই বলে ডাক তো।এই শব্দটা আমার কাছে অনেক আপত্তিকর হিসেবে ঠেকতো,দুই একজন কে এই শব্দ ব্যবহার করার জন্য নিষেধ করেও লাভ হয় নি ঊল্টো আমি অই বন্ধুর দালাল হিসেবে গন্য হলাম।অবশ্য পরে যখন সবাই আমরা অনেক ম্যাচিউর হলাম আর কাউকে আমি সেই শব্দ ব্যবহার করতে শুনি নি।্যাই হউক সেই হরি কাকার কাছে প্রতিদিন আমি একটা আবদার করতাম আমাকে একটা নাটাই বা লাটাই বানিয়ে দেয়ার জন্য।অবশেষে স্কুলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সুবাদে আমার ভাই এর নির্দেশ ক্রমে হরি কাকা আমাকে একটা বিশাল সাইজের রঙ্গিন নাটাই বানিয়ে দিলেন,সেই নাটাই দিয়ে আমি ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত রঙ বেরঙ্গের ঘুড়ি উড়িয়েছি,ঘুড়ীর সাথে উড়েছি রঙ্গিন স্বপ্ন লোকে কল্পনার পাখা মেলে।ঘুমের মধ্যে মাঝে মাঝে আমার ঘুড়ী কেটে যাচ্ছে দেখে চিতকারে ঘুম ভেঙ্গে যেতো,স্বপ্নের সেই ভয়াবহতা থেকে পরিত্রানের জন্য মায়ের কোলে নিরাপদ আশ্রয় খুজতে মুখ লুকোতাম।আজ মাও নেই,ভয়ও নেই,ঘুড়ি কেটে যাবার ভয় এর চাইতে অনেক বড় বড় ভয়ও আজ আমাকে পেরেশান করে তুলে না।</p>
<p>২।ক্লাস ফাইভের বৃত্তি পরিক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে ক্লাস সিক্সে উঠেছি।আমাদের পাশের বাড়ীতে আমাদের নবীনগর সরকারি কলেজের বাংলার এক স্যার ভাড়া থাক্তেন।তার দুই ছেলে ছিল সাচী আর জ্যোতি নাম।সাচী আমাদের এক ক্লাস উপরে আর জ্যোতি আমাদের দুই ক্লাস উপরে পড়ত।খেলার সূত্রে দুইজন ই বন্ধু ছিলো।পহেলা বৈশাখে নদীর পারে মেলা জমত,সাতদিন পর্যন্ত সেই মেলা চলত।পায়ে হেটে বিকেল বেলা সবাই মিলে সেই মেলায় যেতাম।মেলা থেকে চাক্কু কেনা,প্লাস্টিক এর বন্দুক কেনা,বাশি কেনা ,গাড়ি কেনা এবং সে গুলো দিয়ে খেলা ছিলো আমাদের বিণোদন।সাচি ছিলো অনেক দুষ্টু।একদিন সাচীর মাথায় এলো সে আমাদেরকে পুতুল নাচ দেখাতে নিয়ে যাবে।পুতুল নাচ&#8230;নিশ্চয় ই অনেক মজার ব্যাপার।কাজেই শোনামাত্র সবাই ঔতসুক হয়ে উঠলাম।৭/৮ জন বন্ধু মিলে মেলায় গেলাম পুতুল নাচ দেখতে।শারীরিক অবয়বে বয়সের চাইতেও অনেক ছোট বলে প্রথমে আমাদের ঢুক তে দেয়া হলো না,ধমকের সাথে গেট ম্যান আমাদেরকে মার দেবার ভঙ্গিতে তাড়িয়ে দিলো।সাচী অনেক বুদ্ধিমান ছেলে,তাই ও আমাদের সবার কাছ থেকে ২ টাকা করে বেশি চাদা নিয়ে গেট ম্যান কে ম্যানেজ করে ফেল লো কিছুক্ষনের মধ্যেই।শুরু হলো পুতুল নাচ।অনেক ভিড়ের মধ্যে অনেক বড় বড় লোকদের মাঝখান দিয়ে ফাক ফোকরদিয়ে চলে গেলাম একবারে সাম্নে।বিস্ময় এর সাথে ছেলে পুতুল আর মেয়ে পুতুল এর কথোপোকথন এর মজা উপভোগ করতে থাক লাম।মিনিট পাচেক পর পর্দা টেনে দেয়া হলো।হঠাত করে পর্দা সরে গেলো।আমাদেরকে চমকে দিয়ে লাইট অন হওয়ার সাথে সাথে পুতুল মানবীর স্থলে আবির্ভুত হল জলজ্যান্ত ষোড়শি এক মানবী।দেখতে পুতুলের চেয়েও অনেক সুন্দরি ছিলো।প্রায় নগ্ন স্বল্পবসনা সেই মেনকা দেবী আমাদের সামনে নূপুরের ঝঙ্কার দিয়ে শুরু করলো তার নাচ&#8230;&#8230;সাথে হারমোনিয়াম তব লায় আর বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে টুপি পরা এক লোক গেয়ে চল্ল,মেহবুবা মেহবুবা&#8230;আর সেই মেঙ্কা দেবীর উদ্দাম উত্তাল নৃত্য এর সাথে সবাই শিস দিয়ে নাচতে শুরু করলো,মেঙ্কা দেবী কাছে  আসা মাত্র কেউ কেউ আবার তার দিকে ইশারায় অনেক কিছুই ছুড়ে দিচ্ছে, কেউ বা আবার এক টাকা, দুই টাকা খুশি হয়ে তার গোপন বুক পকেটে  ছুড়ে দিচ্ছে হিমালয় দেখার আবদার নিয়ে।তারপর একে একে ঝিমি ঝিমি,আজা,আজা,ডিস্কো ড্যান্সার ,ক্যায়সে বানি,আজানা&#8230;&#8230;এইসব গানের সাথে প্রায় এক ঘণ্টা আসর মাতিয়ে সেই মেঙ্কা দেবি নাচে সবাইকে পাগল করে তুল্ল।আমরা শুধু অবাক হয়ে বুঝে না বুঝে মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখে চল্লাম সেই পুতুল রুপি জলজ্যান্ত মানবীর নাচ গান।ক্যাডেট কলেজে যখন ক্লাস এইটে উঠলাম তখন ছুটী থেকে ফেরার পর যখন গল্প শুরু হত তখন আমি এই গল্প বলে যেতাম আর কলেজের অনেক বন্ধুরা বিশেষ করে তিতাস হাউসের ছেলেরা সেই গল্প অবাক বিস্ময়ে বসে বসে শুন ত।এরপর থেকে যখুনি আমি ছুটি থেকে ফিরতাম অনেকেই এসে বলত দোস্ত এইবার এই ছুটিতে কি কি দেখলি..আমি সত্য মিথ্যা মাখিয়ে অনেক প্রাপ্ত বয়স্ক গল্প শোনাতাম।নিজকে বস বস মনে হতো।কিন্তু ক্লাস নাইনে উঠার সঙ্গে সঙ্গেই প্রিজন ভ্যানের মত খাচাবন্দি স্কুল ভ্যানে করে মা মনির আচল লুকোনো আমার অনেক বন্ধুরা অনেক নতুন নতুন গল্প নিয়ে আবির্ভুত হতে থাক্লো।প্রেপ টাইম এ কিংবা ছুটির দিনে সবাই আগ্রহ ভরে সেই সব গল্প শুনতে থাক্লাম।ততদিনে রসময় এর সাহিত্য রস এ সবাই নতুন করে মগ্ন হওয়া শুরু করলাম।বাকি সব ত ইতিহাস&#8230;&#8230;লাইব্রেরি তে বইয়ের পাতা কাটা,পত্রিকার ছবি কাটা,চাদা দিয়ে স্টার ডাস্ট,ফিল্ম ফেয়ার ম্যাগাজিন কেনা,নীল ক্ষেত থেকে চাদা দিয়ে প্লে বয় ম্যাগাজিন কেনা,তারপর সেইটা দেখা ও পড়ার জন্য সিরিয়াল দেয়া নিয়ে ঝগড়া মারামারি&#8230;.।।&#8230;।হা হা হা।</p>
<p>আজ জীবন জীবিকার ব্যস্ততার ভিড়ে অনেক কিছুই হারাতে বসেছি,বন্ধুদের আড্ডা,খেলার মাঠ কিংবা অঞ্জনের বেলা বোসের গান।এখন ঘরে বসেই হয়ত অবসরে বিনোদনের অনেক কিছু হাতের কাছে পাই,কিন্তু সেই প্রাপ্তি আর এই প্রাপ্তির ব্যবাধান অনেক।সেই শৈশবের প্রাপ্তিটা আজো সুখ দেয়,আনন্দ দেয় । সেই দিনের বেলা বোসের গান,পুতুল নাচের নায়িকারা শুধু সুখ দিয়েই হারিয়ে যায় নি,মনের গহিনে একটা পোক্ত স্থান করে নিয়েছে।আজকের টূয়াইলাট এর বেলা কে দেখে থিয়েটারে খোয়া যাওয়া পয়সা ওসুল হয় ঠিক ই কিন্তু মনের ভেতর সে পোক্ত করে দীর্ঘস্থায়ী আসন গাড়তে পারে না।সেই স্মৃতি খুজে পেতে প্রতিদিন ই আমি রাতে একবার করে carpenters এর  yesterday once more গান টা শুনি।আমার কাজের ফাকে ব্যস্ততার ভিড়ে সমস্ত  যান্ত্রিকতার যন্ত্রনার সঙ্গী হিসেবে অন্য অনেক গানের পাশা পাশি আমার কানে বাজে&#8230;.।।&#8230;।<br />
When I was young<br />
Id listened to the radio<br />
Waitin for my favorite songs<br />
Waiting they played Id sing along<br />
It made me smile<br />
Those were such happy times<br />
Lyrics downloads from www.SuperLyrics.net<br />
And not so long ago<br />
How I wondered where theyd gone<br />
But theyre back again<br />
Just like a long lost friend<br />
All the songs I loved so well<br />
(*) every sha-la-la-la<br />
Every wo-wo-wo<br />
Still shines<br />
Every shing-a-ling-a-ling<br />
That theyre starting to sings<br />
So fine<br />
When they get to the part<br />
Where hes breakin her heart<br />
It can really make me cry<br />
Just like before<br />
Its yesterday once more<br />
Lookin back on how it was<br />
In years gone by<br />
And the good times that I had<br />
Makes today seem rather sad<br />
So much has changed<br />
It was songs of love that<br />
I would sing to then<br />
And Id memorize each word<br />
Those old melodies<br />
Still sound so good to me<br />
As they melt the years away<br />
Repeat (*)<br />
All my best memories<br />
Come back clearly to me<br />
Some can even make me cry<br />
Just like before<br />
Its yesterday once more<br />
Repeat (*)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/6613/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>40</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নিলামে উঠছে দেশ&#8230;</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/5943</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/5943#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 14 Mar 2009 22:48:46 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[কুমিল্লা]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=5943</guid>
		<description><![CDATA[মোনাজাত উদ্দিনের কথা হয়ত অনেকেই ভুলে গেছেন।  মফস্বল সংবাদের অগ্রপথিক এক সাংবাদিক। এখনও হয়ত মাঝে মাঝে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে কোন কোন দৈনিক কাগজের ভিতরের কোন এক পৃষ্ঠায় ছোট্ট এক কোনে তার স্মরণে ছোট্ট করে সাংবাদিকতার দায় সারতে কেউ কেউ খবর ছাপিয়ে থাকেন। অনেক ছোট বেলায় তার দুই একটা বই পড়ার দুঃসাহস করেছিলাম, কলেজে থাকতেই। &#8216;লক্ষ্মীটারি&#8217; [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>মোনাজাত উদ্দিনের কথা হয়ত অনেকেই ভুলে গেছেন।  মফস্বল সংবাদের অগ্রপথিক এক সাংবাদিক। এখনও হয়ত মাঝে মাঝে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে কোন কোন দৈনিক কাগজের ভিতরের কোন এক পৃষ্ঠায় ছোট্ট এক কোনে তার স্মরণে ছোট্ট করে সাংবাদিকতার দায় সারতে কেউ কেউ খবর ছাপিয়ে থাকেন। অনেক ছোট বেলায় তার দুই একটা বই পড়ার দুঃসাহস করেছিলাম, কলেজে থাকতেই। &#8216;লক্ষ্মীটারি&#8217; তেমনি একটা বই। </p>
<p>ওই বয়সে অনেক কিছুই বুঝতাম না, তাও পড়েছি, তাই অনেক কিছুই আজ ভুলে গেছি। তার উপর আবার গত ৯ বছর ধরে হাটুর উপর দিয়ে অনেক প্রেসার গিয়েছে, কিন্তু এত প্রেসারের মাঝেও হাটুটাকে অক্ষত রাখতে যে কিছুটা মগজের দরকার আছে, অনেক কষ্টে অন্যদের না হউক নিজের প্রয়োজনে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, জানি না কতটুকু পেরেছি। মাফ করবেন ,আমি অহেতুক জটিলতায় যাচ্ছি।তার চেয়ে আসল গল্পে আসি। ওই বইটাতে কয়েকটা লাইন ছিল, হুবুহু  মনে নেই, অনেকটা এরকম. &#8230;&#8230;   (আগেই বলেছি ভুলে গেছি, ভুল হলে ক্ষমা করবেন&#8230;&#8230;)</p>
<p><em>&#8220;কুপির শলতে কেরোসিন খাচ্ছে, কুপির আলোকে অন্ধকার খাচ্ছে, ঘরের ফাক দিয়ে আসা ব্যাং পোকামাকড় খাচ্ছে, সেই ব্যাংকে সাপ খাচ্ছে ,সাপ এবং ব্যাং দুইই খাচ্ছে মানুষ, মানুষ মানুষ কে খাচ্ছে, সেই মানুষ পচে গলে যাচ্ছে, ব্যাক্টেরিয়া মানুষকে খাচ্ছে &#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;এভাবেই জগন্ময় সবল দুর্বল কে গ্রাস করছে&#8230;..এ যেন খাদ্য শৃংখলের মত।&#8221;</em></p>
<p>বস্তুতপক্ষে শাসক/শোষক আর শোষিতের প্রতিকী হিসেবে তিনি তার অন্ধকার ঘরের মাঝেই জাগতিক শোষন এর একটা চিত্রকল্প তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। এরকম একটা লাইনও মনে হয় ছিল <em>&#8220;&#8230;&#8230;হত দরিদ্র গরিব মানুষের গল্প বানিয়ে আমি বই লিখে খাচ্ছি, পত্রিকার কাটতি বাড়ছে&#8230;.যারা না খেয়ে মরার তার না খেয়েই মরছে।&#8221;<br />
</em><br />
সত্যিই তো, নইলে আজো এত বছর পর সেই উত্তরবঙ্গের পায়রাবন্দ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারীকে আমরা এখনো মঙ্গাপীড়িত এলাকা হিসেবেই কেন জানি।</p>
<p>কালকে কিছুক্ষনের জন্য আমার ঘরে আলো চলে যাবার পরে, পোকামাকড় আর ইদুর বিড়ালের দৌড় আর গত কয়েক সপ্তাহে দেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি সব মিলিয়ে কেমন যেন একটা আশঙ্কা আর অস্থিরতার কারনেই হয়ত হঠাৎ করে মোনাজাত উদ্দিনের এই কথাগুলো আমার মনে অবচেতনভাবে এসেছে, সচেতন ভাবে কিনা জানি না।</p>
<p>টিভি খুললেই কত কিছু দেখি&#8230;&#8230;&#8217;বাংলালিংকে&#8217;র দিন বদলানোর গল্প, গ্রামীন ফোনের মুক্তিযুদ্ধের গল্প, প্রিয়জনের কাছে থাকার গল্প, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার অনাগত সন্তানকে মা আর মাতৃভুমির লেখা গল্প, ফুল চুরি করে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধঞ্জলির গল্প&#8230;দেখলে মন ভরে যায়, চোখে পানি আসে, চা খেতে খেতে কাজের ফাঁকে সবার সাথে আলোচনা &#8230;&#8230;জটিল আইডিয়া&#8230;। কিন্তু আবার এক সময় মনে হয়, নিজের আবেগ অস্তিত্ব আর ইতিহাস সবই যেন নিলামে উঠছে। কে কার চাইতে বেশি দর তুলতে পারে সেই প্রতিযোগিতা। লজ্জায় আর অপরাধবোধে লীন হয়ে যাই নিজের কাছেই নিজে। প্রশ্ন করি নিজেকেই। আমি কি পেরেছি নিজেকে এইসবের বাইরে রাখতে। আমার ছায়াসঙ্গিনী উত্তর দেয়। না, পারনি।</p>
<p>নিজেরাই নিজেদেরকে নিলামে তুলছি অথচ টেরও পাচ্ছি না কেউ। কেউ কথা দিয়ে, কেউ ছোট্ট একটা ছবি ছাপিয়ে ,কেউ দিন বদলের স্বপ্ন দেখিয়ে, কেউ ব্লগিং করে, কেউ রিসার্চ পেপার তৈরি করে, কেউ প্রহসনের হাসি হেসে, কেউ নিজের দায়ভার অন্যের ঘারে চাপানোর চেষ্টা করে, কেউ নিছক সস্তা প্রচারনার খাতিরে, কেউবা লাবলু ভাইয়ের গল্পের শান্তির মা&#8217;কে দিয়ে সালিশ ডেকে, কেউ হত্যাকে উৎসব বানিয়ে, কেউবা সেই উৎসবের লজ্জা ঢাকতে টিভির পর্দায় কিংবা দেশব্যাপী শোক পালন করে, কেউবা ধৈর্য ধারন করে কেউবা তদন্ত বোর্ড গঠন করে,  কেউবা সেই বোর্ডের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করে, কেউবা ঘটনা ঘটার তিন দিন পরে হঠাৎ সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে, সরকারকে সহযোগিতা দেবার ঘোষনা দিয়ে, আর আমাদের মত কেউবা নিজের আবেগ আর অনুভূতি নিয়ে ব্লগর ব্লগর করে।</p>
<p>অবশেষে সব একদিন থমকে যায়, দিন যায়, রাত যায়, নিলামের পাল্লা ভারি হতে থাকে। সেই পাল্লায় আমরা নিজেদেরকে তুলে দেই,  নিরবে অজান্তে।নিলামের সেই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মনে হয়, অনেক দূর এসে&#8230;&#8230;সেই আগের জায়গায়তেই দাঁড়িয়ে আছি কিংবা অনেক পিছনে।</p>
<p>সেদিন খুব দূরে নয়, নচিকেতার গানের মত&#8230;&#8230;আমার মৃত দেহে ঝুলবে নোটিশ বোর্ড<em> &#8216;কর্তৃপক্ষ দায়ী না।&#8217;</em>  আমার মনে হয় সেই ভালো। নইলে গোটা দেশ যেভাবে নিলামে উঠছে &#8230;জন্ম  থেকে যেরকম দেখে আসছি, তা যদি চলতেই থাকে তাইলে তো &#8230;&#8230;আমার লাশও একদিন নিলামে উঠবে&#8230;কিন্তু কেনার কেউ কি থাকবে?<br />
আগে সুমনের গানে ভরসা খুজতাম  &#8211; <em>সন্ধ্যে নেবে লুটে, অনেকটা চেটেপুটে,  অন্ধকারের তবু আছে সীমানা , সীমানা পেরুতে চাই জীবনের গান গাই , আশা রাখি পেয়ে যাব বাকি দু আনা ।</em> কিংবা <em>কতটা পথ পেরুলে তবে পথিক বলা যায়, কতটা পথ পেরুলে পাখি জিরোবে তার ডানা , কতটা অপচয়ের পর মানুষ চেনা যায় , প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তর ওতো জানা</em><br />
কিন্তু সেই গানও আজ আর মনের খোরাকি দেয় না। হৃদযন্ত্রীতে অনুরনন তুলে না। বাস্তব যেখানে অনেক কর্কশ, রুঢ়, সীমারের চেয়েও পাষান,  গান সেখানে হেমলক এর মত মনে হয়, সেই হেমলক পানে মৃত্যু ছাড়া আর কিছু নেই।</p>
<p>১৯৯৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে,জহির রায়হানের &#8216;সময়ের প্রয়োজনে&#8217; অবলম্বনে বিটিভিতে একটা নাটক প্রচার করা হয়,ওই একই নামে। সেখানে ছোট্ট এক কিশোরের চরিত্রে সামি আনসারী অভিনয় করে&#8230;তাকে লেখক জিজ্ঞেস করে&#8230;&#8230;&#8221;কেন লড়ছো?&#8221;  উত্তর দেয়&#8230;&#8221;ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইল! সে তো ভূগোলের কথা, কিছুই জানি না, শুধুই জানি&#8230;সময়ের প্রয়োজনে লড়ছি।&#8221;  সেই সময় কি এই সময়! ভাগ্যিস সে তরুণ বেচে নেই, তাইলে বুকে মাইন বেধে ভৈরব ব্রিজ নিচে ঝাপিয়ে পড়া সেই তরুন হয়ত আজ গোটা জাতির সামনে প্রকাশ্যে ঝাপিয়ে পড়ত। সময়ের প্রয়োজনে বহিঃশত্রুর সাথে লড়া যায়, কিন্তু সে যদি ঘরের শত্রু বিভীষন হয় ,কিভাবে লড়বেন? রাবনের চিতায় জ্বলে মরা ছাড়া যে আর কোন পরিনাম নেই। এখন কি তাহলে a Wednesday  ছবির নাসিরুদ্দিন শাহ এর মত আমাদের সবার a damn bloody common people &#8230;&#8230;&#8230;&#8230;হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই? কেন  মেজর কামরুল ইসলামের  &#8216;জনযুদ্ধের গনযোদ্ধা&#8217; সেই তৈয়ব আলি, অহেদ কেরানি, তাগড়া, রমিজ, শমসের এদের সব কিছুই আজ অর্থহীন, গল্প, বিরক্তিকর ইতিহাস? </p>
<p>চেঙ্গিস খা&#8217;র একটা উদ্ধৃতি মনে পড়ছে&#8230;&#8230;&#8230;<br />
&#8220;আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বর্ধিষ্ণূ জনপদের ধ্বংসলীলা , উৎপীড়িত জনগনের প্রবল বিদ্রোহ বা মাতৃভুমির উপর বন্য বর্বর জাতির আক্রমঅনের মত বিরাট ঘটনা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ যদি কেউ পায়, তবে তার উচিত যা কিছু দেখেছে লিখে রাখা। ইতিহাসের ভাষা লিপিবদ্ধ করার নৈপূণ্য যদি তার না থাকে ,লেখনীর ব্যাবহার থাকে অনায়ত্ত্ব, তবে তার উচিত কোন অভিজ্ঞ লিপিকারকারের কাছে সে অভিজ্ঞতা বর্ননা করা। লিপিকার লিখে রেখে পৌত্র-প্রপৌত্রদের শিক্ষার নিমিত্তে তা অক্ষয় করে রাখাবেন&#8221;<br />
আমাদের অতীত গৌরবোজ্জ্বল সেই স্বাধীনতার ইতিহাস আমাদের পূর্বসুরীরা হয়ত ঠিকমত আমাদের মাঝে পৌছে দিতে পারেননি, নইলে এত বছর পরেও কেন এত কিছু দেখব, কেন গাইতে হবে- কি দেখার কথা কি দেখছি, কি শোনার কথা কি শুনছি&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
আমাদের অগ্রজদেরতো সু্যোগ ছিল, কিন্তু আমাদেরতো সেই সু্যোগও থাকবে না&#8230;কেননা যেই ইতিহাস আমাদের চোখের সামনে রচিত হচ্ছে ,এ কি লিখে রাখার কিংবা বলার মত ইতিহাস&#8230;&#8230;এর চেয়ে তো মনে হয় ধরনী দ্বিধা হও, আমি তোমার ভিতরে প্রবিষ্ট হই&#8230;&#8230;<br />
কিন্তু  বীরভোজ্ঞা বসুন্ধরা তো বীর ছাড়া কাউকে ঠাই দিবে না&#8230;।<br />
তবে কি নর্দমাই আমার শেষ ঠিকানা? </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/5943/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>18</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>একটি ব্যক্তিগত নোটিশ&#8230;ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/4549</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/4549#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 27 Feb 2009 01:04:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[নোটিশ বোর্ড]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=4549</guid>
		<description><![CDATA[নন ক্যাডেট ভাই,প্লিজ আপনাদের কারো  ব্যক্তিগত ভাবে ভাল লেগেছে শুনে ধন্যবাদ,কিন্তু  আপনি যদি অন্য কোন ব্লগে এই পোস্ট দিয়ে থাকেন…দয়া করে সরিয়ে নেন,পাশাপাশি সব ক্যাডেট ভাইদের বলছি,প্লিজ কেউ অন্য কোন ব্লগে এই লেখটা দেয়ার দরকার নেই,আমি কারো সহানুভুতির জন্য কিংবা অন্য কোন কারনে এই লেখা লিখি নাই,আমরা সবাই যেহেতু ক্যাডেট তাই একের সাথে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>নন ক্যাডেট ভাই,প্লিজ আপনাদের কারো  ব্যক্তিগত ভাবে ভাল লেগেছে শুনে ধন্যবাদ,কিন্তু  আপনি যদি অন্য কোন ব্লগে এই পোস্ট দিয়ে থাকেন…দয়া করে সরিয়ে নেন,পাশাপাশি সব ক্যাডেট ভাইদের বলছি,প্লিজ কেউ অন্য কোন ব্লগে এই লেখটা দেয়ার দরকার নেই,আমি কারো সহানুভুতির জন্য কিংবা অন্য কোন কারনে এই লেখা লিখি নাই,আমরা সবাই যেহেতু ক্যাডেট তাই একের সাথে অন্যের কষ্ট ভাগাভাগির জন্য লিখি……নিজেকে লেখক হিসেবে জাহির করারা জন্য নয়……কেউ ভুল বুঝবেন না প্লিজ……………………আমাদের কি বেচে থাকা উচিত?……কার জন্য কিসের জন্য?</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/4549/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>16</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মাজহার ভাই, হায়দার ভাই&#8230;&#8230;&#8230;</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/4526</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/4526#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 26 Feb 2009 21:03:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[কুমিল্লা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=4526</guid>
		<description><![CDATA[মাজহার ভাই, হায়দার ভাই, মোশারফ স্যার ,তোমরা কি শুনতে পাও। আমাদের কান্না? তোমরা তোমাদের বিবেকের কাছেতো হেরে যাওনি? এই অকৃতজ্ঞ জাতি তোমাদের কে দুর্নিতিবাজ আর ব্যর্থ কমান্ডার বলে&#8230;&#8230;তোমাদের লাশটাকে খুজে বের করারা প্রয়াস করেনি, কেউ তোমাদের কথা বলেনি। তোমরা আমাদেরকে ক্ষমা করে দিও।
তোমরা কষ্ট পেয়োনা প্লিজ। তোমরাতো তোমাদের বিবেকের কাছে হেরে যাও নি। তোমাদের জীবনের [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>মাজহার ভাই, হায়দার ভাই, মোশারফ স্যার ,তোমরা কি শুনতে পাও। আমাদের কান্না? তোমরা তোমাদের বিবেকের কাছেতো হেরে যাওনি? এই অকৃতজ্ঞ জাতি তোমাদের কে দুর্নিতিবাজ আর ব্যর্থ কমান্ডার বলে&#8230;&#8230;তোমাদের লাশটাকে খুজে বের করারা প্রয়াস করেনি, কেউ তোমাদের কথা বলেনি। তোমরা আমাদেরকে ক্ষমা করে দিও।<br />
তোমরা কষ্ট পেয়োনা প্লিজ। তোমরাতো তোমাদের বিবেকের কাছে হেরে যাও নি। তোমাদের জীবনের বিনিময়ে এই জাতি বেচে আছে। যারা আজ তোমাদের দুর্নীতিবাজ বলছে, কিন্তু তোমাদের আত্মা তাদেরকে থুথু মেরে বলছে&#8230;&#8230;বাংলাদেশ! ছি! তোর তো অনেক আগেই মরে যাওয়া উচিত ছিল। আমাদের জীবনের বিনিময়ে আজ তোরা টক শোতে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিস, তোদের কি এতটুকু লজ্জা নেই?</p>
<p>কই তুমিতো না খেয়ে সারাদিন খেটেছো, তুমিতো বেতনের অতিরিক্ত টাকা না পেয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছো, তুমিতো বিদ্রোহ কর নি? তোমরা তোমাদের বিবেকের কাছে হারনি। হেরেছে এই নির্লজ্জ জাতি। যারা তোমাদের হত্যা করেছে। আমাদেরকে তোমরা ক্ষমা করে দিও না প্লিজ, তাইলে যে আমরা প্রয়াশ্চিত্ত করতে পারব না।</p>
<p>তোমাদের হত্যা কে  নিয়ে যারা সেলিব্রেট করতে বলে টিভি চ্যানেলে, তাদের বোধ শক্তি নেই, ওরা উন্মত্ত উন্মাদ, তাদের সন্তানেরাও একদিন তাদের ক্ষমা করবে না।<br />
তারা তোমার লাশটা খুজে পাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেনি, তারা তাদের বীর জোয়ানদের বীরত্ত্ব গাথার কারন অনুসন্ধানেই ব্যস্ত&#8230;&#8230;&#8230;আর আমরা তোমাদের ভাই হইয়েও রক্ষা করতে পারলাম না, এই অকৃতজ্ঞ জাতি একদিন আমাদেরকেও তোমাদের চাইতেও জঘন্য ভাবে হত্যা করবে। তাইলেই হয়ত আমাদের প্রায়শ্চিত্ত হবে।</p>
<p>শুধু জেনে রেখো- তোমাদের জন্য তোমাদের ভাইরা কাঁদছে।  তোমরা শান্তিতে ঘুমাও&#8230;&#8230;..।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/4526/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>21</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমাদের কি বেচে থাকা উচিত?&#8230;&#8230;কার জন্য কিসের জন্য?</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/4500</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/4500#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 26 Feb 2009 20:22:13 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আলোচনা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=4500</guid>
		<description><![CDATA[ফিনিক্স ভবণ ধ্বসে পড়ল, গার্মেন্টসে আগুন লাগলো, লোকজন পানির অভাবে বিদ্রোহ করল, সিডর হল ,বন্যা হল, ভোটার লিস্ট হলো &#8230;&#8230;রাত নেই, দিন নেই, ঘুম নেই, নিজের পকেট থেকে মোবাইল বিল দিয়ে কাজ করেছি। আমি অফিসার, ৫০০/১০০ টাকা মোবাইল বিল চাওয়া আমার জন্য লজ্জার ব্যাপার। মাস শেষে ব্যাঙ্কে ওডি লেগেই আছে, বাবার নীরব অভিযোগ, ভাই বোনের [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ফিনিক্স ভবণ ধ্বসে পড়ল, গার্মেন্টসে আগুন লাগলো, লোকজন পানির অভাবে বিদ্রোহ করল, সিডর হল ,বন্যা হল, ভোটার লিস্ট হলো &#8230;&#8230;রাত নেই, দিন নেই, ঘুম নেই, নিজের পকেট থেকে মোবাইল বিল দিয়ে কাজ করেছি। আমি অফিসার, ৫০০/১০০ টাকা মোবাইল বিল চাওয়া আমার জন্য লজ্জার ব্যাপার। মাস শেষে ব্যাঙ্কে ওডি লেগেই আছে, বাবার নীরব অভিযোগ, ভাই বোনের অভিযোগ, আর্মি অফিসার অথচ ফ্যামিলিকে কোন সাপোর্ট দিতে পারে না। বুঝিয়েছি, সবাই মেনেও নিয়েছে। শুধু বলেছে, সম্মানের সাথে চাকরি কর, টাকা পয়সাই সব কিছু না। </p>
<p>কিন্তু আজকে যখন বাড়ি থেকে ফোন পেলাম&#8230;সবার একটাই কথা, বাবা সাবধানে থাকিস, তোর চাকরির দরকার নাই। আমরা তোকে হারাতে চাই না। কয়দিন পর যে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে তোকেও ফেলে রাখবে না তার তো কোন নিশ্চয়তা নেই।  নিরব হয়ে থাকলাম,  ভালো লাগছে না বলে ফোন টা রেখে দিলাম।</p>
<p>মেজর মোশারফ স্যার এর চেহারাটা চোখের সামনে ভাসতে লাগলো, কিছুদিন আগেই কুয়েত থেকে ঢাকায় গিয়েছেন। আর তারেক স্যারকে, পাঠানো গতকাল এর লাস্ট এসএমএস&#8230;my 13 years service went in vain bro, they r taking me in the gun pit&#8230;&#8230;.pl pray for my family&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;</p>
<p>মাজহার ভাই এর চেহারাটা ,লাস্ট রি-ইউনিওয়নে দেখা হায়দার ভাই এর চেহারাটা চোখের সামনে ভাসছে। যাকে দেখে আমি আক্ষেপ করতাম আর ইর্ষা ছিল, আমাকে কেন আল্লাহ হায়দার ভাই এর মত লম্বা বানায় নাই। তাইলেইতো  উনার লং-জাম্পের রেকর্ডটা আমি ভাংতে পারতাম। এমন কোন খেলা নেই যেইটা ভাল খেলতেন না, মাজহার ভাই ,হায়দার ভাই, দুজনেই। </p>
<p>প্রতিটি মিডিয়াতে শুধু জওয়ানদের বিজয় গাথা আর টক-শো&#8217;তে আর্মির গোষ্ঠী উদ্ধারের সাথে সাথে কফির গরম চুমুকে দেশ যেনো উৎসবে মাতোয়ারা। আর আমরা সবাই মিলে টিভি সেটের সামনে প্রশ্ন করছি&#8230;১৬৮ জন অফিসার এর কি হলো, কেউ কেন তাদের লাশগুলোকে খুজে বের করার কোন কথা বলছে না? সবার কথা একটাই আমাদের জনগনের টাকায় পোষা আর্মি, এইটা দু;খজনক, এর বেশি কিছু না।  তাদের ফ্যামিলির কি খবর? তাদের লাশগুলোর কি হলো? কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই, করবে কেন?আমরা তো জনগনের দাস। মানুষ না, আমরা আর্মি, আমদের টাকাতো raw, cia, isr দেয়না, কাজেই আমাদেরকে যে যখন চাইবে নিজের কাজে টিস্যু পেপার এর মত যতেচ্ছ ব্যবহার করবে তারপর ছুড়ে ফেলদিবে যত্র তত্র।</p>
<p>ভুক্তভোগী  আমদের বাবা, মা, আমদের সন্তান, বউ&#8230;&#8230;&#8230;তাতে কি আসে যায়?<br />
গত দুই দিনে মিডিয়াতে গরম কফির চুমুকের সাথে তুমুল আড্ডা জমে ঊঠেছে। অপারেশন ডাল ভাত এর কাহিনী, তত্বাবধায়ক সরকারের কাহিনী কত কি!  কেউ বলছে না ১৬৮ জন অফিসারকে তাদের পরিবারগুলাকে কিভাবে উদ্ধার করা যায়? লাবলু ভাই, শওকত ভাই- আপনাদের মাধ্যমে প্রশ্ন  &#8230; আপনারা মিডিয়ার লোকেরা না এত মানবাধিকার আর দেশ প্রেমের কথা বলেন? আমরা কি এর বাইরে? মানলাম আমরা বাইরে? কিন্তু আমাদের পরিবারগুলোও কি বাইরে? সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা থেকে শুরু করে সবার একই বয়ান&#8230;&#8230;&#8230;প্রধানমন্ত্রী&#8217;র কথা মত বিডিআর এর লোকজন আত্মসমঅর্পন করেছেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর অবস্থান  আর বিডিআর সদস্যদের কি হবে এই নিয়ে সবাই বেশ উৎসুক, কিন্তু ১৬৮ জনের লাশ কোথায়, তাদের পরিবারের কি হলো এ-নিয়ে কেউ একবারও বলে নি। অদ্ভুত এই জাতি! অকৃতজ্ঞ এই জাতি। আর তাই ৭১ এর যুদ্ধ অপরাধী থেকে শুরু করে ৭৫ এবং অদ্যাবধি ঘটে যাওয়া কোন অপরাধের কোন বিচার হয়নি আজো এবং কোন দিনও হবে না। </p>
<p>আমরাতো আর্মি। কসম খেয়েছি জল, স্থল অন্তরীক্ষে যেখানে যাইবার আদেশ হইবে সেইখানে যাইতে বাধ্য থাকিব&#8230;&#8230;তাই আমাদেরকে দিয়ে হাল চাষ,গবাদি পালন, সবজি চাষ, ত্রাণ বিতরণ , দেশকে সঙ্ঘাত আর হাত থেকে রক্ষা করা, দোকানদারি করা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন, পানি বিতরণ, উদ্ধার অভিযান, বন্যা, খরা, সিডর আরও কত কি করতে হবে&#8230;&#8230;তারপরো বলবেন আপনারা&#8230;&#8230;আর্মি জনগনের টাকায় ফুলে ফেপে উঠছে। ওরা অমানুষ। </p>
<p>আসলেই আমরা অমানুষ নইলে আমাদেরকে যা বলবে তাই করব কেন? আর বিনিময়ে শুধু গালি, লাথি আর মৃত্যু&#8230;</p>
<p>কিন্তু আমার কথা হলো আপনারা সব সময় গোয়েন্দা সংস্থাকে জড়িয়ে আমাদের সবাইকে অপবাদ দেন। আমাদেরকে কি আপনারাই নিয়ে যাননা? আপনারাই কি সরকার বদলের সাথে সাথে আমাদের চাকরিতে রদবদল করেন না, আর আমাদের সিনিয়রদের প্রোমোশন এর আর জুজুর ভয় দেখিয়ে আপনারাই তথা আমলা বুদ্ধিজীবিরাইতো নিয়ন্ত্রন করেন? ১/১১ এর মত পরিস্থিতি কি শুধু আর্মির একক প্রচেষ্টায় হয়েছে? raw,CIA er টাকায় পালিত সাংবাদিক বুদ্ধিজীবি, পত্রিকার সম্পাদক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অর্থনিতিবিদ এদের কি ভুমিকা ছিলনা? এইটা একটা বাচ্চা কিংবা অবোধ শিশুও বুঝবে। আমরা তো অনেক অশিক্ষিত। তাই আমাদেরকে দিয়ে যা খুশি করিয়ে নেন আপনারা। কিন্তু শেষতক আমাদেরকেই গালি শুনতে হয়। </p>
<p>এইটা সত্য যে আমাদের মধ্য থেকে হাতে গোনা কিছু মানুষের অনেক ফায়দা হয়। আর ভুক্তভোগী আমাদের মত সাধারণরা যারা সেলফ মোটিভেটেড হয়ে কলুর বলদের মত খেটে যাই?</p>
<p>আজ দুদিন ধরে শুধু একটাই আলোচনা অপারেশন ডাল-ভাত আর আর্মি অফিসারদের দূর্নীতি। বিডি আর কি কোনভাবে আর্মির নিন্ত্রনাধীন? ওখানে অফিসাররা শুধু পোস্টেড হয়। আর স্বারাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আদেশ নির্দেশ কিংবা খাদ্য মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রন ছাড়া কি অপারেশন ডাল ভাত হয়েছে? সেখানে যদি দূর্নীতি হয়ে থাকে তার দায়ভার এককভাবে আর্মি অফিসারদের ঘাড়ে কেন বর্তাবে? আর দূর্নীতি হয়ে থাকলে তার মূল্য কি ১৬৮ জন অফিসার এর জীবন আর তদের পরিবারের বিনিময়ে পরিশোধ করতে হবে ?</p>
<p>কয়দিন আগে বিভিন্ন বুদ্ধিজীবিদের হুমকি আর প্রতিশোধ স্পৃহার বাস্তব প্রতিফলন দেখলাম। অনেকেই গত কদিন ধরে টক শোতে আর্মি অফিসারদের দেখে নিবে বলে যে হুমকি দিয়ছিল তার ভালই প্রতিফলন দেখিয়েছেন।</p>
<p>যদি অধিকার বঞ্ছিত আর অবিচারের ফসল হিসেবে বুদ্ধিজীবিরা এইটাকে বলে আর কমান্ড এর ব্যর্থতা বলে চালিয়ে দেন&#8230;আমার কোন ক্ষতি নেই। দেশ ও জাতিকে হয়ত অদূর ভবিষ্যতে  এরকম আরো অনেক কিছু দেখতে হবে। আপনারা বিডিআর জওয়ানদের যেই স্তুতিকীর্তন গাইলেন&#8230;&#8230;তা জেনেশুনেই সবাই গেয়েছেন। কেননা  বুদ্ধিজীবি মহলের এতেই লাভ।</p>
<p>২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী হলে বর্বর হামলা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মনে এতটুকু আচর কাটে না, বামদলের কর্মীদের মহিলা কর্মীর পেটে গুন্ডা ক্যাডারদের লাথিতে যখন মুখ দিয়ে রক্ত আসে তখন বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষকরা কিছু বলেন না, আর একটা সাধারণ কথা কাটাকাটি থেকে অনেক কিছুর জন্ম দেন আমাদের শিক্ষকরা, বুদ্ধিজিবিরা, আর চাকরি খোয়া যায় একজন সাধারন সৈনিক এর যার রোজগারে দশজন মানুশ বাঁচতো। কি সুন্দর আর বিচিত্র আমাদের দেশ প্রেম?একটু আগে টিভি চ্যানেল এ দেখলাম- প্রধানমন্ত্রী কেন সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করার পর বিডিআর জওয়ানদের গ্রেফতার করছে পুলিশ, তাদের কেন হাত বাধা হচ্ছে এইসব&#8230;&#8230;।অনেক মানবতার কথা? কিন্তু ১৩৭ জন এখনো লাশ হয়ে কোথায় পড়ে আছে কেউ একটি বারও বলছে না। কি চমৎকার আমাদের জাতির বিবেক, কি সুন্দর আমাদের মানবতা, এত কিছুর পরও আপনাদের নির্দেশেই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়, আর আমরা ধৈর্য ধরে আমাদের আমদের সহকর্মীদের পচতে গলতে দেখি। নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি।</p>
<p>আমরা যে আপনাদের খেলার গুটি, আমাদেরকে নিয়ে সবাই বাঘবন্দি খেলে। এই আমরাই সিডর এ যখন খেয়ে না খেয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাবার পরেও আপনারা অনেক মিডিয়তে সমালোচনা করেন কেন এই করা হচ্ছে না কেন সেই করা হচ্ছে না!!  সেই আমরাই আমাদের সহকর্মীদের লাশ উদ্ধার করতে পারি না, এই আমরাই ntv  ভবনে ছুটে যাই, আপনাদের উদ্ধার করতে mask ছাড়াই suffocated room e নিজের জীবনের কথা ভুলে যাই, উদ্ধার করি আপনাদের। আর আজ এই টিভি চ্যানেলে বসে সাংবাদিক বুদ্ধিজীবি বলেন&#8230;&#8230;এত সুন্দর করে সব কিছু নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে দেখে আমারতো সেলিব্রেট করতে ইচ্ছে করছে। আপনারা আমাদের লাশ নিয়ে মহা উৎসবে মেতে উঠুন,হোলি খেলা খেলুন। আমাদের যে এটাই প্রাপ্য।</p>
<p>এই দেশ নিয়ে আপনারা যতই কথার ফুলঝুড়ি ছড়িয়ে বলেননা কেন, আমাদের ভবিষ্যত এই, ভবিষ্যত সেই,  কিন্তু আমি একজন অর্ধশিক্ষিত মানুষ হিসেবে বলে দিতে পারি-অন্ধকার।</p>
<p>সেই অন্ধকারের একদিন সবাইকে তলিয়ে যেতে হবে।</p>
<p>পুনশ্চঃ   </p>
<p>লাবলু ভাই আর শওকত ভাই, প্লিজ ভুল বুঝবেননা, আপনাদের মাধ্যমে আমি শুধু আমাদের বিবেকবান লোকজনের কাছে কিছু প্রশ্ন করেছি।  আমি জানি বড় ভাই হিসেবে আপনারা এই কথাগুলো পৌছে দিবেন তাদের কাছে। আমি জানি না এই লেখার জন্য আমার রুটি রোজগারের উপর মানে পেটে কোন লাথি পরবে কিনা? আর যারা যুক্তি দেন যে জাতিসঙ্ঘ মিশনে আমরা নাকি ডলার গুনি তাই কাজ করি, তাদের উদ্দ্যশ্যে বলছি শিলাজিতের স্বাধীনতা গানটা</p>
<p>তুমি ভাই বুঝবে কি হায়<br />
ফুর ফুরে দিন কেটে যায়<br />
বুঝাচ্ছ স্বাধীনতার মানে?<br />
যে মানুষ দিনে রাতে<br />
বুলেটে যে বুক পাতে<br />
সেই বুঝেছে স্বাধীনতার মানে।<br />
স্লিম জিমে ফেলে আসি ঘাম<br />
ফরেন জিন্স কিনতে দিই দাম<br />
স্বাধীন থাকা তোমার কাজের রুটিন। </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/4500/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>192</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ঠিক এখুনি</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1852</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1852#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 11 Jan 2009 20:09:14 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=1852</guid>
		<description><![CDATA[হয়ত কোথাও সূর্য ডুবলো টুপ করে,আর শেষ হইয়ে গেল ঝকঝকে একটা দিন, গাজ়ায় হয়ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেল অথবা অপ্রত্যাশিতভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেল&#8230;&#8230;..সাইবেরিয়াতে সবুজ ফসল ফলে গেল&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..ঠিক এখনই অনেক কিছু ঘটে যাচ্ছে প্রতিটি মানুষের মনের গহিনে&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;দায়ভার এড়াতে গর্ভপাতে শেষ হয়ে গেল একটা  সৃস্টি, অথবা ছাড়পত্র পেল সদ্যজাত এক শিশু নতুন বিশ্বের দ্বারে ব্যক্ত [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>হয়ত কোথাও সূর্য ডুবলো টুপ করে,আর শেষ হইয়ে গেল ঝকঝকে একটা দিন, গাজ়ায় হয়ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেল অথবা অপ্রত্যাশিতভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেল&#8230;&#8230;..সাইবেরিয়াতে সবুজ ফসল ফলে গেল&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..ঠিক এখনই অনেক কিছু ঘটে যাচ্ছে প্রতিটি মানুষের মনের গহিনে&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;দায়ভার এড়াতে গর্ভপাতে শেষ হয়ে গেল একটা  সৃস্টি, অথবা ছাড়পত্র পেল সদ্যজাত এক শিশু নতুন বিশ্বের দ্বারে ব্যক্ত করল অধিকার জন্ম মাত্র সুতীব্র চিৎকারে&#8230;&#8230;&#8230;..তখুনি  হয়ত  কোথাও  ইথিওপিয়াতে কারও গালে হাত, ভাবছে মেঘেতে কি সত্যি জল থাকে, কোথাও মক আপে এন্টেনা আর খালি ছাদ মিটিং বসালো একদল পাতি কাকে, কোথাও সভা শেষ প্যাকেটে প্যাকেটে চলে গেল ঠান্ডা লুচি,কোথাও গ্লাসে গ্লাসে খুবই দরকার কড়া পানীয় বরফ কুচি,হয়ত কাউকে দাম দিতে হল কাল ঘাম,কোথাও কাউকে চাকরি দিল নোটের খাম, তখুনি কচি কচি আংগুলে বুড়োর কোলে বসে কেউ শেখে- তেরে কেটে,এ নয় এ ঘটণা,ঘটে তুমি জান না,এ নয় এ ঘটনা ঘটেছে অজান্তে,এ সব ই ঘটে  আর দেখি শুনি সবাই,তবুও ভুলে যাই দিন কি দিনান্তে, এখুনি কোথাও সুমনা ফিরল বাড়ি আর এক ছুটে চান ঘরে,চান নয় আঞ্চান অজানা শিহ র ণে একা একা গোপ্ নে মিলের চিঠি পড়ে যখুনি,তখুনি হয়ত কোথাও মাতাল হাওয়া উদাসী,ফিস ফিসিয়ে কেন যে বলল ভালবাসি,ভালবাসি&#8230;&#8230;&#8230;.<br />
আর তখুনি হয়ত কোথাও সূর্য উঠল টুপ করে,আর শুরু হয়ে গেল ঝকঝকে একটা দিন&#8230;&#8230;&#8230;.।</p>
<p>ছন্দ আর গানের মতই পৃথিবির বুকে সৃস্টি আর ধ্বংস লীলা পালাক্রমে চলতে থাকে,এর ই মাঝে এগিয়ে চলে মানব সভ্যতা ,আর মানুষের দিন বদলের স্বপ্নে লালিত বিজয় গাঁথা রচিত হয়,পঞ্জিকার পাতাকে রাঙ্গিয়ে জন্ম নেয় ইতিহাস।<br />
প্রতিদিন ই মনে হয় এত কিছু বদলায় আর আমদের দিন গুলো কি বদলাবে না। অনেক আশঙ্কা সত্ত্বেও স্বপ্ন দেখি দিন বদলের.। &#8230;কেননা আমি বিশ্বাস করি সন্ধ্যার অন্ধকার যতটাই চেটে পুটে লুটে নিক না কেন,অন্ধকারের ও আছে সীমানা। আর সেই সীমানা পেরিয়ে  একদিন টুপ করে সূর্য উঠবে, সূচনা হবে একটা ঝকঝকে দিন। সেই ঝলমলে আলোয় আমরা সবাই সূর্য স্নান করব&#8230;আলোক রশ্মির স্পর্শে আমাদের পুরনো ক্ষতগুলো শুকিয়ে যাবে। আমি আশাবাদী,কাল ভোর হবেই।</p>
<p>দেশ,সে তো ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইল,ভুগোলের কথা। তবুও সময়ের প্রয়োজনে আমরা সবাই লড়ছি প্রতিনিয়ত আলোর সন্ধানে,এতটুকুন সুখের আশায় স্বস্তির জন্য। যে  কৃষক  সারের অভাবে ফসল ফলাতে পারে না, সেও তো লাংগল চালানো থামিয়ে দেয়নি, নিস্ফলা মাঠের দিকে শুন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেও সে আশার বীজ বুনে যায় প্রতিনিয়ত,সেখানে আমরা কেন হতাশ হব। আমরাও আশাবাদী ,ঘোর অমাবস্যা কেটে যাবে একদিন। সে দিন বেশি দূরে নয়।<br />
আমি জানি আমার এই কথা শুনে সবার মনে হচ্ছে হয় আমি মদ্যপ হয়ে কথা বলছি নয়ত বিশাল ভুরি ভোজের পর ঘুমের ঘোরে ফ্যান্টাসিতে হারিয়ে গেছি।</p>
<p>৫২ এর ভাষা আন্দোলন আর ৭১ এর গৌরব গাথা ছাড়া আমাদের জাতির জন্য সত্যিকার অর্থেই বড় আর কোন অর্জন নেই। এর পরের সব ইতিহাস হত্যালীলায় ক্লেদাক্ত,ক্ষমতার পালাবদল,স্বৈরতন্ত্র ,স্বাধীনতাকে কলঙ্কিত করে ধর্মকে পুজি করে জঙ্গিবাদ আর স্বাধীনতা বিরোধি শক্তির উত্থান।<br />
নব্বই এর দশকে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের দাবিতে অনেক আন্দোলন হয়েছে,রাজপথে নেমেছে প্রগতির ধারক বাহকরা, আশায় গুড়ে বালি,সব আন্দোলন ব্যর্থতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। ছোট বেলায় দেখেছি বড় ভাইরা মামারা স্লোগান দিয়েছে,দেয়ালে চিকা মেরেছে&#8230;&#8230;&#8230;..। লাখো শহীদ ডাক পাঠালো সব সাথিদের খবর দে সারা বাংলা ঘেরাও করে রাজাকারদের কবর দে। এক সময় সবাই হাল ছেড়ে দিয়েছে ,বিপ্লব ,আন্দোলন তাদের কাছে একটা সময়ে ঠুনকো মনে হয়েছে।<br />
আজ এত বছর পর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মই সেই অসাধ্যকে সাধন করেছে,প্রবীন আর নবীনের যে একাত্মতায় যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সুচিত হয়েছে তা আমাদেরকে আশার বাণীই শোনায়। বাকিটা  রাষ্ট্র যন্ত্রের পরিচালক যারা তাদের দায়িত্ব। ৮ কোটির বেশি সংখ্যক লোকের ডাটাবেইজ  এবং ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র এবং তার ই ধারাবাহিকতায়  রেকর্ড সঙ্খ্যক ভোতারের উপস্থিতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীর  বহুল প্রতিক্ষিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন কি আমাদের কে আশার বাণী শোনায় না। ৩৩ শতাংশ নতুন ভোটারদের অগ্রণী ভুমিকা কি আমাদের সম্বভাবনার গল্প শোনায় না। পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিচাল্কদের জন্য সতর্ক বাণীও পৌছে দেয়,&#8230;আমরাও বেঁচে  আছি,দেখে নেবো রংবাজদের.. ।<br />
আর তাই বলছি এককভাবে কোন দলের জন্য খুশি হওয়ার মত কিছু দেখছি না,শুধু বলতে চাচ্ছি, দলমত নির্বিশেষে এটাই আমাদের জন্য একটা বড় সুযোগ। একটা কথা আছে..TIME IS BABBLER, IT SPEAKS WHEN NO QUESTION IS PUT&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..<br />
রাষ্ট্র পরিচালনাকে কেউ যদি ক্ষমতা মনে  করে যথেচ্ছ ব্যবাহার করে বা অপপ্রয়োগ করে&#8230;&#8230;&#8230;তাদের পিছু নিতে সেই নিস্ফলা মাঠের কৃষক কিংবা মুক্তি যুদ্ধের পরের এই প্রজন্ম কেউ এতটুকূ দ্বিধা করবে না..সুকান্তের বাণী ধ্বনিত হবে তাদের মুখে&#8230;..<br />
 শোন রে মালিক ,শোন রে মজুতদার<br />
তোদের দুয়ারে জমা হল কত  মৃত মানুষের হাড়<br />
হিসাব কি দিবি তার<br />
প্রিয়াকে আমার কেড়েছিস তোরা ভেঙ্গেছিস ঘর বাড়ি<br />
জীবনে মরণে সে কথা কি আমি কখনও ভুলিতে পারি<br />
আদি হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই<br />
স্বজন হারানো শ্মশানে তোদের চিতা আমি তুলবই<br />
শোন রে মালিক শোন রে মজুত দার<br />
শস্য ফলানো মাটিতে তোদের রোপণ করব এবার। </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1852/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>22</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আসুন সবাই মশিউর ভাইয়ের জন্যে দোয়া করি।</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1207</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1207#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 20 Nov 2008 22:32:13 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=1207</guid>
		<description><![CDATA[ব্যস্ততার কারণে অনেকদিন ধরে ব্লগেও তেমন আসা হয়না, মেইল বক্সও চেক করা হয়না, আজকে মেইল বক্স খোলার আগেই বন্ধু মান্না এম.এস.এনে   নক করে বলল কিরে, মশিউর ভাই এর খবর জানিস? আমি বললাম, না। কি হইছে ক? উনি তো ইউ.এন মিশনে।  ও বললো ,একক (acoc) গ্রুপে যা, আমার ভাল্লাগছে না, কিছু কইতে পারুম [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ব্যস্ততার কারণে অনেকদিন ধরে ব্লগেও তেমন আসা হয়না, মেইল বক্সও চেক করা হয়না, আজকে মেইল বক্স খোলার আগেই বন্ধু মান্না এম.এস.এনে   নক করে বলল কিরে, মশিউর ভাই এর খবর জানিস? আমি বললাম, না। কি হইছে ক? উনি তো ইউ.এন মিশনে।  ও বললো ,একক (acoc) গ্রুপে যা, আমার ভাল্লাগছে না, কিছু কইতে পারুম না, তুই মেইল দেখ।</p>
<p>এই মুহুর্তে আমিও বেশি কিছু বলতে পারব না,আমার সারা শরীর কেমন যেন ভারি  হয়ে আসছে.। চোখের সামনে ভাসছে &#8230;.কাপ্তাই লেক, ক্রিকেট মাঠ, মশিউর ভাই  আর ভাবির রিসেপশন, তারপর মশিউর ভাই এর একটা ফুটফুটে  পরির মত মেয়ে, আর আমি  দেশ ছেড়ে আসার আগে উনার সাথে শেষ দেখা, মশিউর ভাই তখন MIST থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে এসেছেন। আর আজকের এই অপ্রত্যাশিত মেইল । </p>
<p>মশিউর ভাই কুমিল্লার ১০ম ইন্টেকের।<br />
ভয়াবহ রকমের ব্রেইন টিউমারে (Glioma) আক্রান্ত হয়ে মশিউর ভাই মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। </p>
<p>এর বেশি কিছু লিখতে পারছি না ,আপনারা সবাই শুধু উনার জন্য একটু দোয়া করবেন..</p>
<p><em>Condition of Maj Moshiur / Rahman vai is very very bad which is beyond imagination. Doctor advised UN auth to re-unite him with his family at  the earliest poss time. one air amb with ICU facilities is made aval for him to travel from Pretoria to Dhaka. Maj Zami, Contingent comd is going to accy him as directed by the FPM. OC is leaving today or tomorrow for Pretoria. Maj Moshiur has got very critical problems. I am att the med report for ur better consumption. But one req, if anyone has got any contact with moshiur vabi or his father (retd Brig Gen) pl do not let them know.<br />
I pray from my deppest heart for Cap Moshiur for relief of pain and also pray almighty Allah for his family members to get rid of pschylogical pain at this moment.It is actually very unfavorable brain tumor of adult act like a &#8216;PYTHON&#8217; which engulf entire brain. Actually in book, it has been written it affects in 4th decade, but unfortunately this young promising younger brother. There are 4 grading according to WHO, it is the deadliest form of brain tumor (Glioma) which actually die within 8 months after the diagnosis.Let us pray all for Capt Moshiur.</em></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1207/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>19</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>চাষী মোস্তফা আর যুক্তিবাদী স্যারের গল্প</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1095</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1095#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 06 Nov 2008 13:26:45 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=1095</guid>
		<description><![CDATA[ক্লাস নাইন বা টেনের কাহিনী।
আমাদের এ্যাডজ়ুটেন্ট তখন মেজর মইনুদ্দিন মাহমুদ স্যার, কমান্ডো। আমাদের মোস্তফা শীতকালে গেইমস টাইমে হাফ শার্ট পড়লে ভিতরে অনেক কিছু পরিস্কার করতে হয় না,এই ডাউটের সুযোগে অনেক যত্নে সে অনেক কিছু চাষবাষ করেছে কয়েক মাস ধরে। হঠাৎ একদিন কি কারনে এ্যাডজ়ুটেন্ট এর সন্দেহ হল সবার শার্ট খুলে ভিতরকার হাইজিন চেক করতে আরম্ভ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ক্লাস নাইন বা টেনের কাহিনী।<br />
আমাদের এ্যাডজ়ুটেন্ট তখন মেজর মইনুদ্দিন মাহমুদ স্যার, কমান্ডো। আমাদের মোস্তফা শীতকালে গেইমস টাইমে হাফ শার্ট পড়লে ভিতরে অনেক কিছু পরিস্কার করতে হয় না,এই ডাউটের সুযোগে অনেক যত্নে সে অনেক কিছু চাষবাষ করেছে কয়েক মাস ধরে। হঠাৎ একদিন কি কারনে এ্যাডজ়ুটেন্ট এর সন্দেহ হল সবার শার্ট খুলে ভিতরকার হাইজিন চেক করতে আরম্ভ করল। মোস্তফাকে যখন চেক করল, তখন দেখা গেল ৪ /৫ ইঞ্চি লম্বা  কালো ঘাসে আর্মপিট ভর্তি। সবাই অকস্মাৎ একটা গর্জন শুনতে পেল । মইনুদ্দিন স্যার ক্ষেপে গেলে রাগে গড় গড় করতেন।কমান্ডো বলে কথা। পরের চিতকারে সবার কানে ভেসে আসলো,<br />
আক্কাআআআআস,   সেনিডা লইয়া  আয়।<br />
গ্রাঊন্ডস্ম্যান আক্কাস ভাই ঘাস কাটার সেনি মানে লম্বা দা নিয়া দৌড় আরম্ভ করল..এরপর থেকে  মোস্তফার নাম হয়ে গেল বগল চাষী মোস্তফা।</p>
<p>আমাদের কলেজের ডাইনিং হল প্রিফেক্ট ছিলেন জাহিদ ভাই। জাহিদ ভাই ছিলেন ক্লাস মেট আর জুনিয়রদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন লোক।প্রিন্সিপাল মাসুদ হাসান স্যার ছিলেন একটু অন্য ধাচের লোক।ক্যাডেটদের খেয়াল খুশিকে উনি অনেক শ্রদ্ধার সাথে মূল্যায়ন করতেন।আর তাই আমাদের কলজের রেজাল্ট এ একটা অভাবনিয় সাফল্য দেখা দেয় সব ক্ষেত্রে। ক্লাস টূয়েল্ভের  ভোটে জাহিদ ভাইকে বানানো হয় কলেজ ডাইনিং হল প্রিফেক্ট।স্যারদের মাথায় রীতিমত বাজ পড়ল,ডাইনিং হল বেয়ারা আর বাটলার এর বুকে খবরটা শেলসম বিধল। যাই হউক সেই জাহিদ ভাই একদিন খেজুর এর রস খেতে গিয়ে অধ্যাপক মুহম্মদ সাদিক এর কাছে ধরা পড়ল ।<br />
অধ্যাপক মুহম্মদ সাদিক কে যারা চিনেন তার জানেন কি জিনিস। স্বাধীনতার পরে মির্জাপুর এর ক্যাডেট আর মেস অয়েটররা মিলে উনার স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থানের জন্য উনাকে মেরে ফেলতে গিয়েছিল। কাহিনীটা একটা বইতেও আছে। স্পেশাল পারমিশনে তিনি সব সময় শেরওয়ানি পড়তেন। ক্যাডেট কলেজের ড্রেস রেগুলেশন মানতেন না। তাতে নাকি ধর্ম টিকে না। যুক্তি দিয়ে তিনি সব সময় কথা বলতেন।</p>
<p>তিনি জাহিদ ভাইকে গাছে দেখে বললেন, নিচে নামো বাবা নিচে নামো, কান ধর,কান ধর, বল আমি চুরি করেছি, অপরাধ করেছি। এরপর বললেন, উপরে আল্লাহ নিচে মাটি, বল বাবা তুমি চুরি করেছ।<br />
জাহিদ ভাই একটা দুষ্ট আর মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন, স্যার উপরে আল্লাহ নিচে মাটি আমি চুরি করি নাই ।<br />
‌যুক্তিবাদি সাদিক স্যার কিছু না  বলে চলে গেলেন, আর বিড় বিড় করতে থাকেলন। মিথ্যুক,মিথ্যুক,পৃথিবি ধ্বংস হয়ে যাবে,কেয়ামত আসন্ন। </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1095/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>27</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কে বলে দুষ্ট আমি</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1061</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1061#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 04 Nov 2008 23:29:48 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সাইফ (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=1061</guid>
		<description><![CDATA[আমাদের কলেজে একজন হিট ম্যাডাম ছিলেন।
বাংলার সেই ম্যাডাম যিনি পরীক্ষার সময় সেলফ স্টাডি দিয়ে আমার পাশের ডেস্কে বসে ঘুমাচ্ছিলেন। তার সেই ঘুমের ভঙ্গি পুরো ক্লাসের সবার ঘুম হারাম করে দিলো। আমাদের পরীক্ষার বারোটা বাজলো।
আমাদের বন্ধু জিনিয়াস জিন্নাত  ম্যাডামকে যেখানেই  দেখতো সেখানেই কেমন যেন অস্থির হয়ে যেতো। ম্যাডাম হাউসে আসছে শুনলেই জিন্নাত ওর লং [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আমাদের কলেজে একজন হিট ম্যাডাম ছিলেন।<br />
বাংলার সেই ম্যাডাম যিনি পরীক্ষার সময় সেলফ স্টাডি দিয়ে আমার পাশের ডেস্কে বসে ঘুমাচ্ছিলেন। তার সেই ঘুমের ভঙ্গি পুরো ক্লাসের সবার ঘুম হারাম করে দিলো। আমাদের পরীক্ষার বারোটা বাজলো।<br />
আমাদের বন্ধু জিনিয়াস জিন্নাত  ম্যাডামকে যেখানেই  দেখতো সেখানেই কেমন যেন অস্থির হয়ে যেতো। ম্যাডাম হাউসে আসছে শুনলেই জিন্নাত ওর লং টাওয়েল কে গলায় ঝুলিয়ে শর্ট টাওয়েল কোমরে বেঁধে, বাথ রুমের সামনে গিয়ে জোর গলায় চিতকার করত -<em>মিরাবাঈ..।।মিরা বাইই ,ঝাকা নাকা ঝাকা নাকা দেহ দুলা না ।</em>। হাউস অফিস কয়েক গজের মধ্যেই ছিল,তাই ম্যাডাম কেন কারো পক্ষেই ওই গগণ বিদারী আর্তনাদ শুনে বসে থাকা সম্ভব না। ম্যাডাম  হাউসবেয়ারাকে কয়েকবার পাঠিয়ে  ওর চিল্লানো থামাতে ব্যর্থ  হয়ে শেষমেষ নিজেই আসলেন।<br />
এই ছেলে এইভাবে পাগলের মত চিৎকার করছ কেন, বেয়াদব?<br />
ম্যাডাম আমি কি করব আমার খালি শীত শীত লাগে, তাই চিৎকার করে গা গরম করছি।<br />
এরকম অসভ্যের মত এত ছোট টাওয়েল পেচিয়ে আবার বলে.. আমার শীত লাগে, বেয়াদব<br />
ম্যাডাম,এখন আপনাকে দেইখ্যা আমার শীত চলে গেছে, এখন একটু গরম লাগছে । </p>
<p>এরপর আর কোনদিন ভুলেও জিন্নাতের মিরাবাঈ গান থামাতে আসেন নি ।<br />
আরেকদিন ক্লাসে ম্যাডাম শকুন্তলা পড়াচ্ছেন। <em>শকুন্তলা সখি অনুসয়ে আর প্রিয়ংবদাকে সাথে লইয়া আলবালে জল সেচন করিতে লাগিল।</em> ক্লাসের সবাই গুনগুন করছিল আর হাসছিল <em>আলবালে জল সেচন </em> শুনে। সবাইকে অবাক করে জিনিয়াস দাঁড়িয়ে বলে.,<br />
ম্যাডাম এই আলবাল টা আবার কারবাল,কিসের বাল ? বুঝলাম না।<br />
পুরা ক্লাস তখন হো হো করছে।<br />
ম্যাডামও  হেসে দিয়ে লজ্জায় লাল হয়ে পরক্ষনেই ধমকের সাথে জিন্নাতকে বসিয়ে দিয়ে আলবালের অর্থ ব্যাখ্যা করে দিলেন।<br />
আমাদের ক্লাসে অনেকদিন <em>আলবাল কার বাল </em>? স্লোগানটা জনপ্রিয় ছিলো।  বিদ্যূত চলে গেলেই পোলাপাইন একসাথে দিতো। </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/saif/1061/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>21</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
