<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?> <rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/" xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/" ><channel><title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ &#187; সামীউর (৯৭-০৩)</title> <atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/author/west%20wind/feed" rel="self" type="application/rss+xml" /><link>http://www.cadetcollegeblog.com</link> <description></description> <lastBuildDate>Thu, 29 Jul 2010 21:09:14 +0000</lastBuildDate> <language>en</language> <sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod> <sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency> <item><title>হেকমত আলিদের দিন</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/25360</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/25360#comments</comments> <pubDate>Sat, 05 Jun 2010 19:55:51 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[রম্য রচনা]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category> <category><![CDATA[স্যাটায়ার]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25360</guid> <description><![CDATA[কদিন ধরেই বাঁ চোখের পাতাটা নাচছে হেকমত আলির। লক্ষণটা নাকি শুভ কিন্তু শুভ ভাবার কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এই অবসর প্রাপ্ত আমলা। সেই পাকিস্তান আমলে সরকারী চাকুরিতে ঢুকেছিলেন, বাংলাদেশ হওয়ার সময় ট্রেনিং এ ছিলেন ইংল্যান্ডে। তারপর স্বাধীন দেশের ফাঁকা পদে এসে ফেঁদে বসেছেন। একে ওকে এটা ওটা বুঝিয়ে নিজের পকেটটা ভরানোর কায়দাটা ভালোই জানতেন। [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>কদিন ধরেই বাঁ চোখের পাতাটা নাচছে হেকমত আলির। লক্ষণটা নাকি শুভ কিন্তু শুভ ভাবার কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এই অবসর প্রাপ্ত আমলা। সেই পাকিস্তান আমলে সরকারী চাকুরিতে ঢুকেছিলেন, বাংলাদেশ হওয়ার সময় ট্রেনিং এ ছিলেন ইংল্যান্ডে। তারপর স্বাধীন দেশের ফাঁকা পদে এসে ফেঁদে বসেছেন। একে ওকে এটা ওটা বুঝিয়ে নিজের পকেটটা ভরানোর কায়দাটা ভালোই জানতেন। হল জীবনে এই করেই তো কত বন্ধুর ঘাড় ভেঙ্গে খেয়েছেন! এভাবেই একদিন এই মন্ত্রণালয়, ঐ দপ্তর ঘুরে একসময় অবসর। ছেলে মেয়েদের বাইরে পড়তে পাঠিয়েছিলেন, আর ফেরেনি। মাঝে সাঝে একটু ফোন, বাবা ভালো আছো, বুকের ব্যথাটা কমেছে এই ব্যস। বিয়েটা কমবয়সে করেছিলেন, এক ধনী পিতার কন্যাকে পড়াশোনার সাথে সাথে প্রেমের পাঠটাও দিতেন। যদিও নজর ছিলো ওয়ারির বাড়িটার আংশিক মালিকানার দিকে। সেই বৌ ও আজকাল আর সময় দেয় না। বছরের ছমাসই থাকেন দেশের বাইরে, ছেলেমেয়েদের কাছে। অবসর জীবনটা তাই খুব একাই কাটে হেকমত সাহেবের। আর একটা জিনিষের খুব অভাব লাগে তার কাছে, গুণমুগ্ধ শ্রোতার। যখন চাকরিতে ছিলেন তখন আশে পাশে শোনার লোকের অভাব ছিলো না। প্রাইমারি স্কুলের পুরষ্কার বিতরণী থেকে অর্থনৈতিক সমিতির সাধারণ সভা , দাওয়াত পেলে কোথাও  না করতেন না। হাত নেড়ে, চোখের ভাষায়, গলার স্বর উঠিয়ে নামিয়ে ভালোই বলতে পারতেন তিনি। আর বিলেতের ট্রেনিং এ একটা জিনিষ বুঝেছিলেন, ইংরেজিটা হলো প্রভুর ভাষা। তাই সাধারণ কথাটাই মাঝে মাঝে ইংরেজিতে বলতেন জনাব হেকমত, তাতে হাততালিটা বেশি পাওয়া যেত। আর হলভরা দর্শকের হাততালির আওয়াজ শুনে যে তৃপ্তি, বিশেষ একটা মাত্র ব্যাপারের সঙ্গেই তার তুলনা করা যায়! সেই মুগ্ধ শ্রোতার কাজটাও ঘুচিয়েছিলো টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। অনিদ্রা রোগে এমনিতেই ঘুম আসে না, আর চ্যানেলগুলোরও ২৪ ঘন্টা অনুষ্ঠান চালানো দরকার। এই দুয়ে মিলে কপাল খুলে গেলো হেকমত সাহেবের। সাবেক উচ্চপদস্থ আমলা, ভালো বলিয়ে আর কি চাই। সারা দিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে সরকারের মুন্ডুপাত আর দেশ ও জাতির চোখ খুলে দেয়ার মহান দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন তিনি। তীর্যক মন্তব্য করে সাড়াও ফেলে দিলেন তিনি। আর তার অনুষ্ঠানে কিছু উটকো ফোনে “অনাকাংখিত” কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে তার পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দিলো।  যদিও ব্যাপারটা একেবারেই &#8220;কাংখিত&#8221;, কারণ ততদিনে লোকে “কোনটা খায়” এই জিনিষটা ভালোই বুঝেগিয়েছিলেন ঝানু আমলা হেকমত। নিজের লোক দিয়ে ফোন করিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলিয়ে স্পটলাইটটা নিজের উপর নিয়ে আসতে খুব বেশিদিন লাগে নি তার। তাইতো টিভি চ্যানেলগুলোতে ব্যস্ত মডেল বা তারকা সংবাদ পাঠিকাদের মতো তার টেকো মাথা চেহারাটাও চোখে পড়ে। কিন্তু কদিন ধরেই একটু মনমরা হয়ে ছিলেন তিনি, কারণ আর কিছুই না “বিষয়ের” অভাব।<br /> “লোডশেডিং” হয়েছে, “দ্রবমূল্য”র আর আগের মতো মার্কেট ভ্যালু নেই, পাশা পাল্টে যাওয়ায় যথেচ্ছা সরকারের বিষেদগারও করা যাচ্ছে না। তাই কথাবার্তা গুলো আর আগের মতো জমছে না। সাহিত্যের সঙ্গে হেকমত সাহেবের সম্পর্কটা আদায় কাঁচকলায় না হলেও কাছাকাছি। তাই পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্র নজরুল জয়ন্তী, কিংবা নিদেন পক্ষে মে দিবসের অনুষ্ঠানেও ডাক পড়েনি তার। আশা করেছিলেন সামনে বাজেট আসছে, ব্যস্ততা বাড়বে। তা আর হলো কই? কোথাকার কোন মুসা না ইসা, সে নাকি হিমালয় পাহাড়ের চূড়া থেকে ঘুরে এসেছে! আরে বাবা যৌবনে জরিপের কাজে রাঙ্গামাটি বান্দরবনের পাহাড়ে কম ঘুরেছেন নাকি। সরকারী ডাকবাংলোতে থাকা, সেখানকার বাবুর্চির রান্না&#8230;তোফা তোফা। হিমালয়টাও নিশ্চয়ই ওরকম, আরেকটু উঁচু এই যা। ওখানেও নাকি ঘাটে ঘাটে বেস ক্যাম্প আছে, ফোন করা যায় তাহলে আর চিন্তা কি। ঠান্ডাটা একটু বেশি আর খাড়া তাই দড়ি দড়া নিয়ে উঠতে হয়। নেহাত বয়েস হয়ে গেছে আর পুরনো বাতের ব্যথাটা বেড়েছে। নইলে অমন একটা পাহাড়ে চড়াটা কোন ব্যাপার হলো। শীর্ষ স্থানীয় দৈনিকে ছাপা হওয়া মুসার হাসিমুখের ছবিটা দেখে এটাই ভাবছিলেন হেকমত সাহেব। এই কদিন আলোচনার টেবিলে মুসাই থাকবে, যত্তসব। একটা ছেলে পাহাড়ে উঠেছে বলে কি মাথা কিনে ফেলেছে নাকি? দেশের এই অস্থিরতা, বাণিজ্য ঘাটতি, সীমান্ত সংঘাত, যানজট এসব নিয়ে আলোচনা না করলে দেশ এগোবে কিভাবে? রমিজ কে ডেকে চা দিতে বলে এসব ভাবতে ভাবতেই মনে মনে গজরাচ্ছিলেন তিনি। এমন সময় চালু হিন্দি গানের রিংটোনে বেজে উঠলো তার কদিন আগেই কেনা দামী মোবাইল খানা। স্ক্রিনে নাম দেখলেন, শরিফ সদরুল। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক। টক শো গুলোতে মাঝে মাঝেই তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। পর্দায় তাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক আর মতবিরোধ হলেও বাইরে তাদের ভালোই মিল। হেকমত সাহেবও বুঝে গিয়েছেন, তাদের জুটিটা পাবলিক “খায়”।<br /> কি হেকমত সাহেব, খোঁজ খবর রাখছেন কিছু? ২২ জন তো শেষ&#8230;<br /> আরে ছাড়ুনতো এসব, হয়েছে টা কি? এদেশে এত্তো মানুষে মানুষে গিজগিজ&#8230;<br /> আরে “চোখ” টিভিতে দেখুন, ওরা লাইভ দেখাচ্ছে&#8230;<br /> আচ্ছা দেখছি।<br /> হেকমত সাহেব রিমোট খুঁজে তার ৪২ ইঞ্চি প্লাজমা টিভিটা ছাড়লেন। টিভিতে টকশো করে পাওয়া টাকাতেই ভালো করে টিভি দেখার ব্যবস্থা, কই এর তেলে কই ভাজা আরকি। রিমোট টিপে চোখ টিভিতে গেলেন। চ্যানেলটা ভালো, প্রডিউসার ছেলেটা খাতির করে, গেলে ভালো নাস্তা টাস্তা আনিয়ে খাওয়ায়।  একদিন কথায় কথা পুর্বানীর কেক এর কথা বলেছিলেন, এরপর স্টুডিওতে গেলেই বের হওয়ার পর তার জন্য পুর্বানীর কেক থাকে।<br /> রাজধানীর বেগুনবাড়ীতে একটু বহুতল ভবন কাত হয়ে পরে গেলে&#8230;&#8230; ক্যামেরায় রিপোর্টারকে দেখা যাচ্ছে না, শুধু কন্ঠটা শোনা যাচ্ছে। আর ৪২ ইঞ্চি ঝকঝকে পর্দা জুড়ে শোকাহত মানুষের মাতম, কান্না, স্বজনহারানোর যন্ত্রণা। “পাশের টিনের বস্তির বেশিরভাগ মানুষ তখন ঘুমিয়ে ছিলেন&#8230;” আবারও বলছে রিপোর্টার মেয়েটা। আরে মেয়েটা দেখতে সুন্দর আছে তো, একে রিপোর্টিং এ না দিয়ে টকশো উপস্থাপনাতে দেয় না কেন?&#8230;রাজউকের উদাসীনতা, বিল্ডিং কোড না মানা, অনুমোদনহীন ভবন নির্মান&#8230;মেয়েটা বলেই যাচ্ছে দেখি। এবার বাচ্চাকোলে এক ভুক্তভোগী মহিলাকে দেখা যাচ্ছে, “ আমার চাইর বছরের মাইয়াটা&#8230; বিকট একটা শব্দ শুইনা কোলের পোলাটা লইয়া দৌড় পাইরা বাইর হইসি, মাইয়াটারে ডাকবারও পারি নাই। কাইলকা বাচ্চাডারে জামা কিন্যা দিমু কইসিলাম&#8230;আল্লাগো&#8230;<br /> নাহ, বয়সে কিছুটা ছোট অধ্যাপকের উপর খানিকটা বিরক্তই হন হেকমত সাহেব। লেখাপড়া আর আইন জানলে কি হবে “নিউজ সেন্স”টাই এখনো তৈরি হয়নি। দূর্যোগ মন্ত্রী যায়নি, গণপূর্ত মন্ত্রী যায়নি এমনকি ডিএমপি কমিশনারকেও দেখা যায়নি। বিশ্বকাপের বাজারে এই নিউজ সেনসেসনালাইজ হবে না। হুঁ বাবা, বিশ্বকাপ বলে কথা। বাংলাদেশ খেলুক আর নাই খেলুক পতাকা ওড়ানো চাই, রাত জেগে খেলা দেখা চাই। আরে আছেটা কি হাফপ্যান্ট পড়া ঐ লোকগুলোর বলের পেছনে ছোটাছুটির মধ্যে! মাঝে আইপিএলটা অবশ্য বেশ ভালোই মজা নিয়ে দেখেছিলেন। গ্যালারিতে বলিউডের নায়িকারা ছিলো, চার ছক্কা হলে বেশ দারুণ নাচ ছিলো, সন্ধ্যেটা ভালোই কেটে যেতো। এই আইপিএল নিয়ে ভারতে কত সুন্দর টকশো হচ্ছিলো। ৩ ঘন্টার খেলার আগে, পরে ও মাঝে মিলিয়ে ৬ ঘন্টার টকশো। বাংলাদেশেও কি এমন করা যেতো না। কথায় কথায় সিনেমা, গানে, বিজ্ঞাপণে প্রতিবেশী দেশের উদাহারণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে টকশো আসলে ক্ষতিটা কোথায়?<br /> ক্রিকেটটা তাও অবসর জীবনে খানিকটা সময় কাটানোর সঙ্গী ছিলো বলে ব্যাটিং আর বোলিং এর তফাতটা বোঝেন। তাছাড়া বাংলাদেশ যেহেতু খেলে, বেশ কিছু উপলক্ষ্যে তাকে এ ব্যাপারে একটু বলতেও হয়েছে। সাংবাদিকগুলো যা হয়েছে না, কোন একটা ম্যাচ জিতলেই পত্রিকার  প্রথম পাতায় ছেপে দেয়। একটু আধটু ক্রিকেট না জানলে সংবাদপত্র পর্যালোচনা অনুষ্ঠানগুলোতে তো ঝামেলাতেই পড়তে হতো। কিন্তু ফুটবল একদম নয়! সেই কবে ম্যারাডোনার খেলা দেখেছিলেন, তাই আর্জেন্টিনার নামটা জানেন। আর কফির সুবাদে ব্রাজিলের নামটা শুনেছেন। কিন্তু এরা কে এখন কেমন খেলে, কারা খেলছে এই নিয়ে একদমই হদিশ রাখেন না তিনি। তাই বিশ্বকাপের সময় যে ফুটবল নিয়ে গলাবাজী করে কিছুটা চেহারা দেখাবেন এই সুযোগটাও হচ্ছে না। আর মানুষ খেলার কথা শুনতে চায় খেলোয়াড়ের কাছ থেকে, কিন্তু হেকমত সাহেবের তো “ফাইল টেবিল” খেলা ছাড়া আর কোন খেলাই যে খেলেননি। তাই ভাবছিলেন এই জৈষ্ঠমাসে দেশের বাড়িতে গিয়ে একটু আম কাঠাল খেয়ে আসবেন। দেশেও একটা বাগান বাড়ী মতো বানিয়েছেন তিনি, এক গ্রাম সম্পর্কের ভাস্তে আছে, সেই দেখে। ফলটা মূলটা দেয়, গেলে খাতির তোয়াজ করে আর কি চাই।<br /> কদিন ঘরেই তাই দেশে যাবার কথা ভাবছিলেন তিনি, কিন্তু বৃহস্পতিবারের রাত পালটে দিলো সব। নিমতলীর রুনার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সবার গায়ে ছড়িয়ে গেলো হলুদ আগুন। মানুষ আবারো দেখলো নিজেদের অসহায়ত্ব, ২০০ গজ দুরের ফায়ার স্টেসনের গাড়ি এলো দেরীতে, পানির উৎস খুঁজে পেতে নষ্ট হলো আরো কিছু সময়, এরমধ্যেই হয়তো পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে আদৃতা। কিন্তু এই আঁচ অভিজাত এলাকায় বাস করা হেকমত আলীর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমের ভেতরে পৌঁছায়নি। স্যাটেলাইট টেলিভিশনের তার বেয়ে পৌঁছেছে শুধুই “সংবাদ”। ঝকঝকে টিভি পর্দায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে থাকা হেকমত আলীর চোখটা কেমন যেন চকচক করে ওঠে। পরপর দুই দিন দুইটা “স্টোরি”। রাজউক, পিডিবি, ডেসকো সহ অনেকের চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধারের এখনই সময়। টক শো তে কিসের মুসা, কিসের বিশ্বকাপ? দিন আবারো আসছে&#8230;প্রযোজকের ফোন, চ্যানেলের গাড়ী, খামের ভেতর চেক&#8230; আচ্ছা বেগুনবাড়ীর ঘটনার রিপোর্টার মেয়েটা যেন কোন চ্যানেলের ছিলো? চোখ টিভির না বাইশে টেলিভিশনের&#8230;নাহ&#8230;একদম মনে পড়ছে না&#8230;<br /> ( কোনকিছু কারো সাথে মিলে গেলে তা নিতান্ত কাকতাল মাত্র। সবই মূর্খ ব্লগারের  অনুর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা মাত্র)</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/25360/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>24</slash:comments> </item> <item><title>দ্যা গ্রেটেস্ট , মাই ওন স্টোরি- ৪+৫</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/23325</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/23325#comments</comments> <pubDate>Sat, 10 Apr 2010 12:01:26 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[গুণীজন]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=23325</guid> <description><![CDATA[সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধার আত্মজীবনী ‘দ্য গ্রেটেস্ট – মাই ওন স্টোরি’ । মোহাম্মদ আলীর জবানীতে লিখেছেন রিচার্ড ডারহাম। ‘কালের কন্ঠ’তে ধারাবাহিক ভাবে অনুবাদ করছি আমি। ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ, সেই প্রতিক্রিয়া জানার জন্যে সিসিবিতে দেয়ার লোভটাও সামলানো গেল না! আজ দিচ্ছি ধারাবাহিকের পরের দুই পর্ব- ৪ অনেক দিন ধরেই এর উল্টোটাই দেখিয়েছি । ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে জো ফ্রেজিয়ারের লেফট [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধার আত্মজীবনী ‘দ্য গ্রেটেস্ট – মাই ওন স্টোরি’ । মোহাম্মদ আলীর জবানীতে লিখেছেন রিচার্ড ডারহাম।<br /> ‘কালের কন্ঠ’তে ধারাবাহিক ভাবে অনুবাদ করছি আমি। ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ, সেই প্রতিক্রিয়া জানার জন্যে সিসিবিতে দেয়ার লোভটাও সামলানো গেল না! আজ দিচ্ছি ধারাবাহিকের পরের দুই পর্ব-<br /> ৪<br /> অনেক দিন ধরেই এর উল্টোটাই দেখিয়েছি । ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে জো ফ্রেজিয়ারের লেফট হুক যখন আমাকে মাটিতে শুইয়ে দিয়েছিল তখনো তাদের এমন বুনো আনন্দ দেখিনি। কিন্তু এবার আর ফ্রেজিয়ার কিংবা ফোরম্যানের মতো  দানবীয় কেউ নয় বরং আমাকে হারিয়ে দিয়েছে সামান্য এক &#8216;লোকাল বয়&#8217;।<br /> রিং-এ নামার আগে, আলাপের সময় হার্বাট বলেছিল, ‘ তোমার সঙ্গে লড়াইয়ের সময় কোনো স্থানীয় আর বহিরাগত থাকে না।’ ও বলছিলো, ‘তোমার বয়স বত্রিশ চলছে, আর তোমাকে লড়তে হচ্ছে তোমার চেয়েও কমবয়সী, রাফ আ্যন্ড টাফ তরুণদের সঙ্গে।  তোমাকে হারিয়ে দিতে পারলে সারা দুনিয়ার নজর কাড়তে পারবে ওরা। তাই তোমাকে প্রতিপ হিসেবে পেলেই আরো বেশি তেতে ওঠে নতুনরা। তোমার কাছে হারলে কোন লজ্জ্বা নেই, জিতলেই দেদার খ্যাতি &#8212; এই ভাবনাটাই ওদের ভেতরের আগুনটাকে উস্কে দেয়।’<br /> রিংয়ে নামার আগে আমি আর হার্বার্ট একটা নিভৃত  কোণে বসে আল্লাহ&#8217;র সাহায্য চাইতাম, এটা একরকম নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আজকের লড়াই নিয়ে হার্বার্ট বলেছিল, ‘তুমি নিয়মের বইয়ে লেখা সুস্থতার সব শর্তই ভাংতে যাচ্ছো’। আমি অনেকটা জোর দিয়েই বলেছিলাম, নরটনকে আমি যে কোনো অবস্থায় হারিয়ে দিতে পারি, আমি কোন ম্যাচ বাতিল করে দিতে পছন্দ করি না।<br /> আয়নার সামনে বসে নিজের তবিত মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। মানুষজন ককে আসছে যাচ্ছে। কেউ কোন কথা বলছে না। কেমন অদ্ভুত এক নীরবতা। আসলে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম এটা কোনো বিজয়ীর ক নয়। সেখানে সবাই অভিনন্দন জানাতে আসে। এটা পরাজিতের জায়গা। এখানে  ঠিক কী  বলতে হবে  কেউ সেটা জানে?<br /> কেন হারলাম আমি? এটা চিন্তা করতে করতে ম্যাচের দ্বিতীয় রাউন্ডের ছবিগুলো ভেসে উঠলো মনের পর্দায়। নরটন আমার রণ ভেঙ্গে চোয়ালে একটা লেফট আপ বসিয়ে দিয়েছিল, আমি দেখতে পাচ্ছিলাম গ্লাভস পরা একটা হাতের সঙ্গে আমার চোয়ালের সংঘর্ষ। হঠাৎ করেই চোখের সামনে কালো পর্দা, মুখের ভেতর রক্তের নোনা স্বাদে সম্বিত ফিরে পেলাম। আমার নির্ধারিত জায়গায় ফিরে এসে &#8216;ডক&#8217;কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা কারো চোয়াল ভেঙ্গে গেলে তোমরা কীভাবে টের পাও’?<br /> ‘তুমি যখন এভাবে হা করো’ বেশ বড় করে মুখ খুলে দেখিয়ে প্যাচিও বললো, ‘তখন কিক একটা শব্দ হবে’। &#8216;কিক&#8217;, হাঁ করেই আমি নিজের চোয়ালের ভাঙ্গা হাড়ের অদ্ভুত শব্দটি  শুনলাম, সেই সঙ্গে প্রচন্ড ব্যথার অব্যক্ত এক অনুভূতি ছড়িয়ে পড়লো আমার চোখে- মুখে।<br /> ‘আসলেই ,তোমার চোয়াল ভেঙ্গে গেছে’ &#8212;  ডাক্তারের সহজ অথচ নির্ভুল জবাব। ‘ভাঙ্গা চোয়াল নিয়ে বক্সিং চালিয়ে যাওয়া উচিৎ হবে না’, আমাকে সাবধান করে দিলো সে। যদিও সে জানে একবার রিংয়ে নামলে জেতা বা হারার আগে আমি বের হই না। মুখের ভেতরে জমা থাকা একদলা থুথু ও রক্তের মিশেল  উগড়ে ফেলে  পানি দিয়ে মুখের ভেতরটা ভালো করে ধুয়ে নিলাম।<br /> এখনো ১৩ রাউন্ড বাকি এবং আমি জিততেও পারি। আমি রিংয়ের আশেপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম, সামনেই জো ফ্রেজিয়ার আর আর্চি মুর বসে আছে, নরটনকে ওরাই শেখাচ্ছে। ওদের আজ হতাশ করে বাড়ি পাঠাতে চাই।<br /> রিং এর ভেতরে ঢোকার আগে একদম শেষমূহুর্তে বান্ডিনি আমার কানের কাছে এসে ফিসফিসিয়ে বললো, ‘ &#8216;শর্টি&#8217; তোমায় দেখছে। সে বসার ঘরে  পা ভাঁজ করে বসা, সে তোমায় দেখছে, কথাটা মনে রেখো’।<br /> কোন এক অজানা কারণে সৃষ্টিকর্তাকে &#8216;শর্টি&#8217; ডাকে বান্ডিনি। এবং আমার ভাঙ্গা চোয়ালে নরটনের আরেকটা কড়া আঘাত না পড়া পর্যন্ত ও  চেঁচিয়েই যাচ্ছিলো ‘শর্টি তোমায় দেখছে! সে বসার ঘরে! টেলিভিশনে তোমায় দেখছে!’।<br /> একের পর এক রাউন্ড পেরিয়ে যেতে থাকে, আর  বুঝতে থাকি ভেতর থেকে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি আমি। কোন পালতা ঘুঁষি মারতে পারছিনা, নরটনকে কোণায় নিয়ে চেপে ধরতে পারছিনা, গেঁটেবাতের রোগির মতো অবশ হয়ে উঠেছে আমার হাত। আর চোখ দেখছে একের পর এক ধেয়ে আসা একজোড়া দস্তানা। পরে লোকে জানতে চেয়েছিলো, আমি থেমে যাই নি কেন? আমি কি জানতাম না ও আমার চেহারাটাকে একটা ছেঁড়া পুরোনো খবের কাগজের মতো বানিয়ে তুলবে? আমি জানি , এটা ব্যাখ্যার অতীত। খুব সম্ভবত আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে নরটনের মতো কেউ একজন আমাকে হারিয়ে দেবে, এমনকি চোয়াল ভেঙ্গে যাবার পরেও! নির্বোধের মতো মৃত ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ জয়ের স্বপ্ন দেখছিলাম আমি। আমার  চোয়ালকে সে এতোটা বাজে ভাবে ভেঙ্গে দেবে এটা কল্পনাতেই আমার মাথায় আসেনি। এর একটাই ব্যখ্যা দাঁড় করানো যায়, কারণ আমি কখনো এর আগে লড়াই    শেষ না করে রিং এর বাইরে আসি নি।<br /> কে যেন দরজায় খুব জোরে ধাক্কা দিচ্ছে, ‘ডাক্তারকে ভেতরে আসতে দাও’। ক্যালিফোর্নিয়া বক্সিং আ্যসোসিয়েশনের ডাক্তার এসে পড়েছে, সে দরজা থেকে সোজা আমার দিকেই হেঁটে এলো। আমার মুখটা আলতো করে তুলে দেখতে লাগলো, যেমন নিলামের শেষে চেক কাটার আগে শেষবারের মতো জিনিষটা পরখ করে দেখে কোন ক্রেতা! রিং এর ভেতর হট্টগোল আর লড়াই এর উত্তেজনায় ব্যাথাটা বোঝা যায়নি, এখন পেশির সামান্য নড়াচড়াতেই কেন নরটনকে মনে পড়ছে!<br /> চোয়ালটা কি ভেঙ্গেই গেছে?<br /> কোন উত্তর নেই&#8230;<br /> অবস্থা কতটা খারাপ?<br /> একমাত্র এক্স-রে রিপোর্ট পেলেই সেটা বোঝা সম্ভব, ডাক্তারের উত্তর। এরপর সে ব্যস্ত হয়ে পড়লো প্যাচিও সাথে কথাবার্তায়। আমি শুধু দেখছি একজোড়া ঠোঁট নড়ছে, আর প্যাচিও&#8217;র চেহারায় ক্রমেই দুশ্চিন্তার ছাপ প্রকট হয়ে উঠছে। এসময় আবারো দরজায় কোন আগন্তুকের আওয়াজ। নিশ্চয়ই খারাপ কিছু একটা ঘটেছে, খুব খারাপ।<br /> বেলিন্ডা কোথায়?<br /> আবারো সবাই চুপ<br /> অবশেষে মুখ খুললো জোসেফ, সে পাশের রুমেই আছে। তাহলে যাও কেউ একজন তাকে এখানে নিয়ে এসো, বললাম আমি। আসলে সে হলের দিকের একটা রুমে আছে, খুবই বিপর্যস্ত।<br /> এমন সময় আবার মুখ খুললেন ক্যালিফোর্নিয়ান ডাক্তার, ‘মোহাম্মদ, আমাদের জন্য গাড়ি অপেক্ষা করছে। প্লাস্টিক সার্জনও প্রস্তুত, আমাদের এক্ষুণি যাওয়া উচিত’।<br /> কিন্তু এসবের কোন কিছুই আমি গা করলাম না। আমার চিন্তায় শুধুই বেলিন্ডা, কোথায় সে? ওদের ঠেলে সরিয়ে আমি বেরিয়ে এলাম দরজা দিয়ে, পেছনে ছুটে এলো দুই ডাক্তার।<br /> দরজা খুলতেই দেখলাম উল্লাসে ভাটা পড়েনি এখনো, জটলা পাকানো মানুষ গুলোর কণ্ঠে বিদ্রুপ আর চিতকার&#8217;চাপাবাজটার দিন শেষ&#8217;, &#8216;নরটন ঐ নিগ্রোটাকে হারিয়ে দিয়েছে&#8217;। হায় রে নিগ্রো! আজ সকালেই বিছানা ছাড়ার সময়ও নরটন ছিলো আমার মতোই একজন &#8216;কালা আদমি&#8217;, আর আজ সে সাদা মানুষদের আশা ভরসার পাত্র!<br /> ব্যাথায় ভরা শরীরে সব বিদ্রুপের বাক্যবাণ উপো করে একসময় বেলিন্ডার রুম পর্যন্ত গেলাম, আমরা ঢুকে যেতেই দরজা বন্ধ করে দেয়া হলো। এ কি দেখছি আমি! দৃশ্যটা কেন নরটনের ঘুঁষির চেয়ে জোরে নাড়িয়ে দিলো আমাকে। বেলিন্ডা একটা ড্রেসিং টেবিলের সাথে বাঁধা, নিজেই নিজেকে আঁচড়াচ্ছে, মাটিতে গড়াচ্ছে। আর তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে চারজন বলশালী লোক! হা ঈশ্বর।<br /> আমাকে দেখেই মোচড় দিয়ে উঠলো বেলিন্ডা, বাঁধনগুলো আলগা হয়ে গেলো। তাকে ধরে রাখাদের একজন ছুটে গিয়ে গিঁট শক্ত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। এই দৃশ্য দেখে মনে হলো আমার উপর যারা প্রতিশোধ নিতে চায়, আমার পরাজয়ে যাদের উল্লাস তাদের সকল প্রার্থনাই ঈশ্বরের কানে পৌঁছেছে।<br /> আমি আস্তে করে তার মাথার কাছটায় বেঞ্চে গিয়ে বসলাম, ‘আমি ওকে কড়া ঘুমের ঔষধ দিয়েছি’, বললো প্যাচিও। বেলিন্ডার সাথেই থাকে মন একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছিলো?<br /> ‘আমি জানি না’ উত্তরে বললো মেক্সিকান মেয়েটা,  ওরা যখন কেন নরটনকে বিজয়ী ঘোষণা করল তখনি ও পাগলাতে হয়ে গেলো। প্রথম দিকে ও ছিলো একদম চুপচাপ, খুবই চুপচাপ কিন্তু আমি টের পাচ্ছিলাম ওর ভেতর একটা খারাপ কিছু হচ্ছে। লড়াইতে নামার আগেই বেলিন্ডা বলছিলো অর মনে কি যেন একটা হচ্ছে, নেহাত আমার মনোযোগের খাতিরেই সবটা বলেনি।  রিং থেকে দেখেছিলাম , ফল ঘোষণার পর সে চোখ ঢেকে ফেলছিলো, শুনলাম পরে সে নাকি পাশের কিছু লোককে মেরে বসেছে।</p><p><strong>আলী-৫</strong></p><p>‘ও (বেলিন্ডা) ভেবেছে আমি মরে গেছি’! আমি আস্তে করে গিয়ে ওকে ধরলাম,শক্ত করে, বোঝাতে চেষ্টা করছিলাম এখনো বেঁচে আছি। আমার মনে পড়ে যাচ্ছিলো আমাদের অনেক মধুর স্মৃতি। বিয়ের সময় ওর বয়স ছিলো ১৭, আর আমি তখন নিষিদ্ধ। প্রথম তিনটা বছর কি দারুণই না কেটেছিলো আমাদের । বক্সিং লড়তে দূরে কোথাও যাওয়া নেই, নিজেকে তৈরী রাখার জন্য কঠোর অনুশীলন নেই। এটা ছিলো আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়, কিন্তু আমার পরিবারের জন্য সবচেয়ে মধুর।<br /> বেলিন্ডার কপালটা আগুনের মতো গরম। এরপর ওর হাতে জড়ানো বাঁধন গুলো ঢিল করে দিলাম, একটু ঝুঁকে মুখটা ওর কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বললাম ‘ সবকিছুই  ঠিক আছে, এই যে আমি এখানে’। কিন্তু বেলিন্ডার কানে এসবের কিছুই ঢুকছে না , সে শুধু বিড়বিড় করেই যাচ্ছে,‘ আলী মারা গেছে, ওরা আলীকে মেরে ফেলেছে’। ওর চোখের দিকে তাকালাম , ফ্যাকাসে হয়ে আসা চোখদুটোতে শুধুই শুন্যতা, আর আতংক।<br /> আমার চিন্তার জাল ছিঁড়ে ডাক্তারের কথায়,  ‘তোমাকে এখুনি হাসপাতালে যেতে হবে, যত দ্রুত এক্স -রে টা করানো যায় ততোই ভালো’।  ‘ও আমার সঙ্গে যাবে’ বেলিন্ডাকে কিছুতেই আর কাছ ছাড়া করতে চাই না আমি। ‘ওর জন্য আরো ভালো একটা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি, তোমাকে হারতে দেখেই মনে হয় ও প্রচন্ড মানসিক আঘাত পেয়েছে’ ডাক্তারের সোজা উত্তর। আমি বেঞ্চ থেকে উঠে টেবিলে ওর পাশে একটু গা এলিয়ে দিয়ে কানে কানে বললাম,‘ আমি এখনো মারা যাইনি, ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারেনি’। ডাক্তার দুজন আমাকে বারবার তাড়া দিচ্ছিলো, কিন্তু আমাকে তখন নিজের যন্ত্রণার চেয়ে বেলিন্ডার এই অবস্থাটাই বেশি ভোগাচ্ছে। পরে সুজিকে বললাম যেন বেলিন্ডার সাথে হাসপাতালে যায় এবং ঠিকমতো দেখেশুনে রাখে।<br /> ওরা আমাকে নিয়ে গেলো কেয়ারমন্ট হাসপাতালে,একতলা লম্বা একটা বিল্ডিং যেখানে একটাও ব্যক্তিগত কামরা নেই। কেবল আমার জন্য পাশের বিছানাটা ফাঁকা রাখা হলো। চললো এক্স রে সহ নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা। এরপর আমাকে প্রায় উড়িয়ে নেয়া হলো অপারেশন থিয়েটারে। ‘ঘুম ভাংগলেই দেখবে, সব ব্যাথা গায়েব’ চেতনানাশক দেবার আগে শেষ বারের মতো এই  কথাগুলোই আমার কানে ঢুকলো, তারপর সব অন্ধকার।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/23325/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>10</slash:comments> </item> <item><title>দ্যা গ্রেটেস্ট , মাই ওন স্টোরি- ২+৩</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/22647</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/22647#comments</comments> <pubDate>Thu, 25 Mar 2010 14:14:33 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[গুণীজন]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22647</guid> <description><![CDATA[সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধার আত্মজীবনী ‘দ্য গ্রেটেস্ট – মাই ওন স্টোরি’ । মোহাম্মদ আলীর জবানীতে লিখেছেন রিচার্ড ডায়হাম। ‘কালের কন্ঠ’তে ধারাবাহিক ভাবে অনুবাদ করছি আমি। ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ, সেই প্রতিক্রিয়া জানার জন্যে সিসিবিতে দেয়ার লোভটাও সামলানো গেল না! আজ দিচ্ছি ধারাবাহিকের ২য় ও ৩য় কিস্তি- ২ ‘তোকে আমরা হারিয়ে দিয়েছি, বেজন্মা’  কথাটা যে বললো তার দিকে একবার [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধার আত্মজীবনী ‘দ্য গ্রেটেস্ট – মাই ওন স্টোরি’ । মোহাম্মদ আলীর জবানীতে লিখেছেন রিচার্ড ডায়হাম।<br /> ‘কালের কন্ঠ’তে ধারাবাহিক ভাবে অনুবাদ করছি আমি। ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ, সেই প্রতিক্রিয়া জানার জন্যে সিসিবিতে দেয়ার লোভটাও সামলানো গেল না! আজ দিচ্ছি ধারাবাহিকের ২য় ও ৩য় কিস্তি-<br /> ২<br /> ‘তোকে আমরা হারিয়ে দিয়েছি, বেজন্মা’  কথাটা যে বললো তার দিকে একবার তাকালাম। ভারি গড়নের এক শ্বেতাঙ্গ, যে নিজের চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে হাতের মুঠোয় গোল করে পাকানো খবরের কাগজটা রাজদন্ডের মতো নাড়তে নাড়তে বলছে ‘তোকে বাগে পেয়েছি, এইবার তোকে বাগে পেয়েছি’।<br /> আমাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ এসে রিংটা ঘিরে রাখলো, তারপরেও উন্মত্ত জনতার উন্মাদনা চলছেই। কেউ পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে দড়ি গলিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে জো ফ্রেজিয়ার আলিঙ্গনে টেনে নিচ্ছে তারই সহ-প্রশিণার্থী ও অনুশীলনের সঙ্গী নরটনকে।<br /> একজন রেডিও ধারাভাষ্যকার আমার নাম ধরে চেঁচাচ্ছে, ‘ব্যাপারটা ব্যখ্যা করে কিছু একটা বলুন’, কি বলবো? ততণে আ্যঞ্জেলো এবং বান্ডিনি আমাকে ধরে রিং থেকে নিচে নামিয়ে আনছে। আমার গলা বেয়ে নামছে আমারই নোনতা স্বাদের রক্ত,চোখে মুখে ফুটে উঠছে ব্যথা আর আঘাতের চিহ্ণ, কাঁধ দুটো টনটন করছে। তারপরেও আমি একটু থমকে দাঁড়ালাম, আমি জানি বেলিন্ডা কোথায় বসে। আমি সেদিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে তাকে আস্বস্ত করার চেষ্টা করলাম, যে আমার কিছু হয়নি। কিন্তু পুলিশ আর জনতার প্রাচীর ঠেলে আমি বেলিন্ডাকে দেখতে পেলাম না, উলটো সেই দেয়ালের চাপে ক্রমশ পিছু হটতে লাগলাম ড্রেসিং রুমের দিকে।<br /> ‘কি গো সুন্দরী’, ’এখন সুন্দরীটা কে?’&#8230;একদল সাদা মহিলা ঔদ্ধত্য নিয়ে তাদের পা মাটিতে দাবাতে   দাবাতে আমার দিকে প্রশ্নগুলো ছুঁড়ে দিলো। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলেও প্রশ্নগুলো কিন্তু মাথায় থেকেই গেল।   ব্যাথায় আমার মাথা ছিঁড়ে পড়ে যাচ্ছে, চোয়ালে অসহ্য যন্ত্রণা, এসময় কানে এলো, ‘তুমি শেষ ! খুব তো বড় বড় কথা বলছিলে, এবার সব শেষ’। অগ্নিনির্বাপন কর্মীর পোষাক পড়া লোকটার কথায় আগুনের আঁচ।</p><p> ৩<br /> আমার সামনে দেয়াল তুলে আছে নিরাপত্তাকর্মীরা। তাদের পেছনে চোরের মতো লুকিয়ে ড্রেসিং রুমের দিকে হাঁটছি, কানে আসছে অশ্রাব্য,অকথ্য সব গালিগালাজ আর চিৎকার ! আমার দিন কি তাহলে সত্যিই ফুরিয়ে এলো!<br /> দরজাটা খুলতেই কয়েকটা পরিচিত চেহারার দেখা পেলাম, যাদের চোখে মুখে ফুটে আছে আমার জন্য সহানূভূতি। আমার ম্যানেজার হার্বার্ট মুহাম্মদ, সহকারী ট্রেনার বান্ডিনি,  আমার ডাক্তার প্যাচিও,  টেম্পল সেভেন এর ক্যাপ্টেন জোসেফ ইউসুফ- মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করার দিন থেকেই যাকে চিনি, ট্রেনার আ্যঞ্জেলো ডান্ডি&#8230; এমন আরো অনেকে। রুমে ঢুকে যাবার পরেও উত্তেজিত জনতা দরজা খোলার চেষ্টা করেই যাচ্ছিলো, আর মাঝে মাঝে খোলা দরজা দিয়ে শোনা যাচ্ছিলো বাইরের উল্লাস, ‘কি? এখন সবার সেরাটা কে?’</p><p>অবশেষে দরজা ঠেসে দাঁড়ালো আ্যঞ্জেলো, আর আমি নিস্তার পেলাম এক নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণা থেকে। ‘জংলি’ এই একটা কথাই শুনতে পেলাম তার মুখে।<br /> ‘এটা নরটনের শহর আলী, তোমার যেমন লুইভিল। বুঝতে চেষ্টা করো, এই শহরের এক ছোকরা তোমাকে হারিয়ে দিয়েছে, এটা আজকের নায়কের প্রতি শহরবাসীর অভিনন্দন’। কিন্তু ঐ ঘামে ভেজা উল্লাসে চকচক করতে থাকা চেহারাগুলোকে আমি ভালো মতোই চিনি। ওরা কেউ বক্সিং এর ভক্ত নয়। নরটনের তো নয়ই! এটা  শ্বেতাঙ্গ মার্কিনীদের উচ্ছাস, এক &#8216;কালা আদমি&#8217;কে হারিয়ে দিয়েছে একজন সাদা মানুষ।<br /> চলবে&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/22647/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>14</slash:comments> </item> <item><title>দ্যা গ্রেটেস্ট , মাই ওন স্টোরি- ১</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/22314</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/22314#comments</comments> <pubDate>Fri, 19 Mar 2010 05:47:30 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[গুণীজন]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22314</guid> <description><![CDATA[সর্বকালের সেরা  মুষ্টিযোদ্ধার আত্মজীবনী  &#8216;দ্য গ্রেটেস্ট &#8211; মাই ওন স্টোরি&#8217; । মোহাম্মদ আলীর জবানীতে লিখেছেন রিচার্ড ডায়হাম। &#8216;কালের কন্ঠ&#8217;তে ধারাবাহিক ভাবে অনুবাদ করছি আমি। ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ, সেই প্রতিক্রিয়া জানার জন্যে সিসিবিতে দেয়ার লোভটাও সামলানো গেল না! &#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;- ‘আলীর দিন শেষ’ &#8212;&#8212; মুষলধারে বৃষ্টির মাঝে আবছাভাবে মাইলফলকটা চোখে পড়ল, ‘লুইভিল-১০০ মাইল’। ‘আমরা সকালের আগে পৌঁছাতে পারব না’ভেসে [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>সর্বকালের সেরা  মুষ্টিযোদ্ধার আত্মজীবনী  &#8216;দ্য গ্রেটেস্ট &#8211; মাই ওন স্টোরি&#8217; । মোহাম্মদ আলীর জবানীতে লিখেছেন রিচার্ড ডায়হাম।<br /> &#8216;কালের কন্ঠ&#8217;তে ধারাবাহিক ভাবে অনুবাদ করছি আমি। ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ, সেই প্রতিক্রিয়া জানার জন্যে সিসিবিতে দেয়ার লোভটাও সামলানো গেল না!<br /> &#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br /> <strong>‘আলীর দিন শেষ’</strong><br /> &#8212;&#8212;<br /> মুষলধারে বৃষ্টির মাঝে আবছাভাবে মাইলফলকটা চোখে পড়ল, ‘লুইভিল-১০০ মাইল’। ‘আমরা সকালের আগে পৌঁছাতে পারব না’ভেসে আসা কণ্ঠটা আমার ড্রাইভার হ্যারল্ড হ্যাজাড্রের। সে অনেকণ ধরেই স্টিয়ারিংয়ে বসে আছে, এবং আমার মনে হয় স্রেফ মনের জোরেই গাড়ি চালাচ্ছে।<br /> ‘অবশ্যই পারব, স্টিয়ারিংটা আমায় দাও’ বলে হ্যারল্ডকে পেছনের সিটে পাঠিয়ে দিলাম, যেখানে বেলিন্ডা ও মরিয়ম বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।<br /> এই রাস্তার প্রতিটি অন্ধি-সন্ধি আমার হাতের তালুর মতোই চেনা, কারণ এই পথ চলে গেছে আমার নিজের শহর লুইভিলে। এ সময় হঠাৎ করে ক্রিস ডানডির সেই কথাটাই মনে হলো, ‘একজন পরাজিত মানুষ হিসেবে মাথা নিচু করে নিজের ফেরার পথটা অনেক লম্বা মনে হয়।’ আসলেই, মানুষ বিজয়ীদেরই মনে রাখে, পরাজিত মানুষের জন্য কোনো সংবর্ধনা অপক্ষা করে না। এত দিন ধরে লোকজন শুধু আমার বিজয়ী চেহারাটাই দেখেছে, দুটো গোল্ডেন গ্লাভস শিরোপা, বেশ কিছু অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ইউনিয়ন শিরোপা, একটা অলিম্পিক স্বর্ণপদক, বিশ্ব হেভিওয়েট শিরোপা&#8230; সবকিছু জিতে এখানে এসেছিলাম সম্রাট আলেকজান্ডারের মতো! এমনকি, যখন আমার বক্সিং লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হলো, তখনো পেয়েছিলাম  বীরের সম্মান, আর এখন নিজেকে লুকানোর জায়গা খুঁজছি!<br /> সময়টা ১৯৭৩-এর বসন্ত, এমন এক সময় নিজের শহরে ফিরছি যখন সেখানকার প্রতিটি শিশু, কিশোর, তরুণ, বৃদ্ধ আমাকে হারতে দেখেছে অথবা আমার পরাজয়ের খবরটা শুনেছে। পত্রিকার পাতায় বড় বড় শিরোনাম, ‘আলীর দিন শেষ’, ‘আলী খতম হয়ে  গেছে’, ‘আলীকে যে কেউই হারাতে পারে!’, ‘সব বড় বড় কথা বন্ধ’!<br /> আমি ঘরে ফিরতে চাই, শান্তি চাই, বিশ্রাম নিতে চাই, নীল আকাশে উড়ে বেড়ানো পাখি দেখতে চাই, আমার বাবাকে দেখতে চাই, পুরনো বন্ধুদের কাছে ফিরতে চাই। আমি দেখতে চাই আমি কোথায় ছিলাম, কোথা থেকে এলাম এবং কোথায় যেতে চাই! যেখানে আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, আমার জীবনের প্রথম একুশটি বসন্ত। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে ‘বাড়ি’ কোনটা? সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর চাবুকপেটা খাওয়ার পর কান্ত-শ্রান্ত ক্রীতদাসরা যেখানে ফেরে, সেটাই কি তাদের সত্যিকারের ‘ঘর’?<br /> গাঢ় অন্ধকারে সামনের রাস্তা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। অগত্যা গাড়ি থামাতে হলো। সামনে উঁকি দিয়ে দেখলাম, জমাট বাঁধা অন্ধকারে মাইলের পর মাইল। যেন একটা সিনেমায় একটাই দৃশ্য, রিল ঘুরছে কিন্তু ছবি সরছে না!<br /> আমার মাথার ভেতরেও একটা সিনেমা চলছে, যেখানে আমি থাকলেও নায়ক অন্য কেউ। সান ডিয়েগো স্পোর্টস অ্যারেনা, শেষ রাউন্ড সমাপ্ত। আমি দাঁড়িয়ে আছি রিংয়ের এক কোণে। রেফারি বিচারকদের ভোট সংগ্রহে ব্যস্ত। লোকটা ভোট গোনা শেষ করল, আমার দিকে এক পলক তাকাল, এরপর তাকাল নরটনের দিকে। এবং ঘোষণা করল, ‘সম্মানিত বিচারকদের রায়ে আজকের বিজয়ী কে-এ-এ-ন&#8230; ন-অ-অ-রটন।’ রেফারির ঘোষণার রেশ বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই দর্শক-সারি থেকে ভেসে এল বিদ্রুপেরর উল্লাস, সেই সঙ্গে নরটনের নামে জয়ধ্বনি। ‘নরটন, নরটন’ ধ্বনিতে উল্লাসে ভেসে যাচ্ছে আকাশ-বাতাস।</p><p>চলবে&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/22314/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>10</slash:comments> </item> <item><title>সিঙ্গেল লাইন</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/17419</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/17419#comments</comments> <pubDate>Sat, 14 Nov 2009 15:22:13 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[গল্প]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category> <category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category> <category><![CDATA[অধারাবাহিক]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=17419</guid> <description><![CDATA[১. আচ্ছা মানুষ কি পিঁপড়ে? নাকি মানুষদের পিঁপড়ে হতে এখানে পাঠানো হয়? ব্যাপারটা ঠিক বুঝে ঊঠতে পারে না তাশফিন। এখানকার সবকিছুই কেমন পিঁপড়ে পিঁপড়ে! দল বেঁধে থাকা, খাওয়া, পড়া খেলা ঘুমানো এমনকি বাথরুম অবধি ! সবখানেই লাইন, সিঙ্গেল লাইন। দুপুরের খাবারের জন্য ক্লাসরুম থেকে বেড়িয়ে খাবার ঘরের দিকে যাচ্ছিলো তাশফিনরা। মানে তাশফিন, নাঈম, মুকুল এমন অনেক, প্রায় [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>১.<br /> আচ্ছা মানুষ কি পিঁপড়ে? নাকি মানুষদের পিঁপড়ে হতে এখানে পাঠানো হয়? ব্যাপারটা ঠিক বুঝে ঊঠতে পারে না তাশফিন। এখানকার সবকিছুই কেমন পিঁপড়ে পিঁপড়ে! দল বেঁধে থাকা, খাওয়া, পড়া খেলা ঘুমানো এমনকি বাথরুম অবধি ! সবখানেই লাইন, সিঙ্গেল লাইন।<br /> দুপুরের খাবারের জন্য ক্লাসরুম থেকে বেড়িয়ে খাবার ঘরের দিকে যাচ্ছিলো তাশফিনরা। মানে তাশফিন, নাঈম, মুকুল এমন অনেক, প্রায় শ&#8217;দুয়েক ক্ষুধার্ত মুখ। সারি সারি পিঁপড়ের মতো, লম্বা লাইন করে। আকাশ থেকে দেখলে কেউ ভাববে, এই  খাকি রঙ এর পিঁপড়ে গুলো আবার কারা?<br /> খেতে যেতে একদমই ইচ্ছে করে না তাশফিনের। খেতে যাওয়া মানেই টেবিলে কারো গায়ে পানি ফেলে দেওয়া, চামচ থেকে ডাল ছিটকে পরে পোষাকে দাগ হয়ে যাওয়া  এবং এসবের মাশুল হিসেবে দুপুরের বিশ্রামের সময়ের অর্ধেকেরও বেশি সময় জুড়ে দেয়ালে ঠ্যাং তুলে হাত দিয়ে মাটিতে ভর দিয়ে থাকা! গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাশফিনের দুপুর গুলো এভাবেই কাটছে। তারচাইতে অনেক ভালো ফুটবল মাঠের পাশের শিরিষ গাছের ছায়ায় শুয়ে ঘাসের ডাঁটি চাবাতে চাবাতে শরতের নীল আকাশে নানান মূর্তির রূপ নেওয়া আশ্চর্য্য মেঘদল দেখা। একদিন ফুটবল মাঠে ঘাসের ডাঁটি চাবিয়ে দেখেছে তাশফিন, স্বাদ মন্দ না। একটা ঘাস আছে যার ডাঁটির গোড়াটা বেশ মিস্টি! কোনটা<br /> আবার তিতকুটে, ওয়াক!  সবুজ ঘাসের বুকে হলুদ ঠোঁট ডুবিয়ে পোকা খুঁজতে থাকা খয়েরি শালিকদেরও দেখা যেতে পারে। গেটের সামনের রাস্তা দিয়ে আচমকা কোন বড় গাড়ি শব্দের ঢেউ তুলে চলে গেলে চকিত পাখিগুলো হঠাৎ উড়াল দেয়! দৃশ্যটা ভারি অদ্ভুত লাগে তাশফিনের। তাশফিনের দলছুট পিঁপড়ে হতে ইচ্ছে করে। কবিতার সেই পিঁপড়ের মতো, &#8221;পিপীলিকা পিপীলিকা, দলবল ছাড়ি একা&#8230;&#8230;”।<br /> দলছুট হলেই সমস্যা। বড় সড় কোন লাল পিঁপড়ে হয়তো গর্জে উঠবে। তারপর তাকে ডেকে নিয়ে বলবে সিঙ্গেল লাইন ভাঙ্গা মানে মহাপাতকের কাজ করা। এই জন্য তাকে নরকের সপ্তম স্তরে দীর্ঘদিন দগ্ধ হতে হবে।  পাপের প্রায়শ্চিত্য করবার জন্য তাশফিনকে তাই মধ্যদুপুরের তপ্ত পিচের রাস্তায় (অথবা পাশের স্যাঁতস্যাতে ঘাস অথবা ড্রেনে&#8230;কোনটাই কম নয়!) ডিগবাজি, গড়ানো কিংবা কান ধরে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে হবে। তাশফিন বুঝে উঠতে পারে না একটু বাইরে আসলে কি হয়? পিঁপড়ে সমাজে কি দলছুট পিঁপড়ে থাকে না? নাকি সেখানেও বড় বড় ডেঁয়ো পিঁপড়ে গুলো এভাবে ছোট ছোট কাল পিঁপড়েগুলোকে শুঁড় উঁচিয়ে দাবড়ে বেড়ায়?<br /> &#8216;তাশফিন কভার আপ&#8217;! বাঁজখাই কন্ঠে নিজের নাম শুনে ভাবনার সূতোটা ছিঁড়ে যায় তাশফিনের। দেখে, আনমনে ভাবতে ভাবতে সামনের মুকুলের সাথে বেশ একটা দূরত্ব তৈরী হয়েছে তার। সে পিছিয়ে পরেছে মানে পেছনের বাকীরাও পিছিয়ে পড়ছে। ফলে ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা সময় থেকে কিছু মূহুর্ত পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে সবাইকে। গুরুতর অপরাধ। শাস্তি পাবার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হয় তাশফিন।<br /> কিন্তু তাশফিনকে অবাক করে দিয়ে আর কিছুই করেন না কলেজ ডাইনিং হল প্রিফেক্ট শাহনূর ভাই। বোধ হয় আজকের লাঞ্চের মেন্যুটা তার খুব প্রিয়। তাশফিন ব্যাপারটা বেশ লক্ষ্য করেছে। লাঞ্চে প্রিয় খাবার থাকলে বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকেন শাহনূর ভাই। ছোটখাট ব্যাপারে ধমকের উপরেই ছেড়ে দেন। আজ যেমন তাশফিন পার পেয়ে গেলো। অথচ গতকাল জুতার ফিতে বাঁধতে গিয়ে পিছিয়ে পড়া শাহীনকে পুরোটা পথ ডিগবাজি খাওয়ালেন শাহনূর ভাই। শাহনূর ভাই বোধ হয় মাছ পছন্দ করেন না, তাই মাছের ঝাল শাহীনের উপর ঝেড়ে দিয়েছেন! ভাগ্যিস আজ খিচুড়ি।</p><p>২.<br /> দ্বিতীয় তলার মাঝামাঝি একটা রূমে থাকে ওরা চারজন, তাশফিন, চয়ন, রাশিক আর ইমন। ইমন এদের মধ্যে সিনিয়র। ক্লাস এইটে পড়ে,থাকে দরজার পাশের বিছানাটাতেই। বাকী তিনজন ক্লাস সেভেন, ক্যাডেট জীবনের আয়ূ মাত্র তিন চার মাস। এরমধ্যেই রাশিকটা অনেক ভাব নেওয়া শুরু করেছে। সবকিছুতেই একটু দাদাগিরি ফলানো, সবজান্তার মত মন্তব্য করা। ইমনের আড়ালে সিনিয়র ভাইদের হাস্যকর হাস্যকর সব নামকরণ করা। এসব নাকি করতে হয়, এটাই নিয়ম। রাশিক বলে চয়নটা এখনো বাচ্চা, বাড়ির কথা ভেবে কাঁদে, মায়ের লেখা চিঠি পড়ে কাঁদে, ফেলে আসা প্লে স্টেশনটা এখন ওর দস্যি ছোটবোনটার দখলে এসব মনে করে কাঁদে। আর রাশিক তাই নিয়ে চয়নকে খেপায়। একটু কান্নাকাটি করলেও চয়ন ভালো ছেলে। কলেজে আসার আগে সে তার স্কুলের ফার্স্ট বয় ছিলো। তার আগের স্কুলের হেডমাস্টার তো তাকে ছাড়তেই চায়নি, তার বাবাকে অনেক করে বুঝিয়েছে চয়নকে রেখে দেবার ব্যাপারে। চয়নের বাবার একটাই কথা, &#8221;বোঝেনই তো বদলীর চাকুরি&#8221;। বাবাটা কেন যে হেডমাস্টার স্যারের কথাটা শুনলো না। অবশ্য একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। চয়নরা যে হাউসে থাকে , সেই হাউসটার নাম এক বিখ্যাত মনীষীর নামে। তিনি নাকি জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেননি। চয়নের ইচ্ছা সেও ঐ মনীষীর মতো হবে। তারপর ওর নামে একটা ক্যাডেট কলেজের হাউসের নাম হবে। ঢোকার মুখেই ওর ছবি, সংক্ষিপ্ত জীবনী থাকবে। খাবারের শেষে ডাইনিং হল প্রিফেক্ট বলবে চয়&#8230; অ&#8230; অ &#8230;অ &#8230;ন হাউ&#8230;উস, সবাই একসাথে উঠে যাবে, কি অদ্ভুত।  অনেকগুলো মানুষের সাথে মিশে থাকবে ওর নাম! ভাগ্যিস  রাশিকটা  এই স্বপ্নের কথা জানে না, জানলে আর উপায় থাকতো না। তবে হাউসের রঙ টা বদলাতে হবে। রংটা হবে কমলা, চয়নের প্রিয় রঙ। প্রিয়ন্তীকে কমলা জামায় অদ্ভুত সুন্দর লাগে। শেষ যেদিন স্কুল ছেড়ে চলে আসে চয়ন সেদিন ক্লাস ফেয়ারওয়েলে কমলা একটা জামা পড়ে এসেছিলো প্রিয়ন্তী। বিকেলের মরা আলোয় এতো সুন্দর লাগছিলো প্রিয়ন্তীকে! ছবিটা এখনো চোখে লেগে আছে&#8230; ভাবতেই একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে চয়নের।</p><p>(একটা আইডিয়া বেশ ক&#8217;দিন ধরেই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অফিস শেষে &#8216;দিবানিশি&#8217; বাসের জন্য টিকেট হাতে সিঙ্গেল লাইনে অপেক্ষা করতে করতে সিঙ্গেল লাইন নিয়ে একটা কিছু লেখার তাড়না। সাহস করে লিখে ফেললাম, সামনে হয়তো চলবে, হয়তো চলবেনা। এখন বলতে পারছিনা, তবে নিজেকে বেশ &#8216;ভারমুক্ত&#8217; লাগছে!)</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/17419/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>32</slash:comments> </item> <item><title>অন্যরকম কবি</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/16308</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/16308#comments</comments> <pubDate>Tue, 06 Oct 2009 19:12:47 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=16308</guid> <description><![CDATA[একজন কবির কথা বলি। এই কবি এমন একধরণের কবিতার চর্চা করেন যার উৎপত্তি পোকেমনের দেশ জাপানে! উনি ফুটবল খেলেন, &#8216;কিক অফ&#8217;ও করেন! হাইকু লিখে উনি ব্যাঙ্গালোর ঘুরে এসেছেন, আর ফুটবল দেখে সিঙ্গাপুর! নিশ্চয়ই বুঝতে পারতেসেন উনি কে? আমাদের হাসান ভাই ( কামরুল হাসান, ডেইলি স্টার)। আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ। একই ডিপার্টমেন্টে পড়ায় উনারে সময় [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>একজন কবির কথা বলি। এই কবি এমন একধরণের কবিতার চর্চা করেন যার উৎপত্তি পোকেমনের দেশ জাপানে! উনি ফুটবল খেলেন, &#8216;কিক অফ&#8217;ও করেন! হাইকু লিখে উনি ব্যাঙ্গালোর ঘুরে এসেছেন, আর ফুটবল দেখে সিঙ্গাপুর! নিশ্চয়ই বুঝতে পারতেসেন উনি কে? আমাদের হাসান ভাই ( কামরুল হাসান, ডেইলি স্টার)। আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ। একই ডিপার্টমেন্টে পড়ায় উনারে সময় অসময়ে অনেক পেইন দিসি। আজকে এই হাসান ভাই এর জন্মদিন।<br /> হাসান ভাই হ্যাপি বার্থ ডে। দেখা হইলে কেক খাওয়ায়ে দিয়েন।  বৃহস্পতিবারে বেঁচে থাকলে আরেফিন এর বাসায় তো আসতেসি&#8230;তখনই না হয়&#8230;&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/16308/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>25</slash:comments> </item> <item><title>কাঁচামরিচ- বিগতযৌবনা এক তারকা ও অন্যান্য</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/15534</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/15534#comments</comments> <pubDate>Thu, 17 Sep 2009 20:31:02 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category> <category><![CDATA[বাজার দর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=15534</guid> <description><![CDATA[কাঁচামরিচ ওরফে কাঁচা লংকা।  শুনেচি আকাশদার দেশের দাদারা নাকি নংকা বলে ডাকেন! শোনা কথা মিছেও হতে পারে, সে যাই হোক । বছর ঘুরে সংযমের মাস রমজান এলেই আমাদের দ্রব্যমুল্যের পাগলাঘোড়াটি যেন আরো  অসংযমী হয়ে ওঠে। ফলে কাঁচামরিচ হয়ে ওঠে রমজানের সুপারস্টার! লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে তার দাম, কারণ বিপুল চাহিদা! ইফতারে মুড়িমাখা খাবেন ছোলা [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>কাঁচামরিচ ওরফে কাঁচা লংকা।  শুনেচি আকাশদার দেশের দাদারা নাকি নংকা বলে ডাকেন! শোনা কথা মিছেও হতে পারে, সে যাই হোক । বছর ঘুরে সংযমের মাস রমজান এলেই আমাদের দ্রব্যমুল্যের পাগলাঘোড়াটি যেন আরো  অসংযমী হয়ে ওঠে। ফলে কাঁচামরিচ হয়ে ওঠে রমজানের সুপারস্টার! লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে তার দাম, কারণ বিপুল চাহিদা! ইফতারে মুড়িমাখা খাবেন ছোলা দিয়ে, সাথে কুঁচানো কাঁচামরিচ না হলে যে মুখে রুচবে না। পেঁয়াজু খাবেন , তাতেও যে লংকার উপস্থিতি ! ডাল কিংবা বেসনের মিশ্রণে কুঁচানো পেঁয়াজের সাথে একটু কাঁচা লংকার কুঁচি মিশিয়ে দিন, স্বাদ বেড়ে যাবে বহু গুণ। দশাশই সাইজের একখানা কাঁচা মরিচ বেসনে গুলে তেলে ভেজে &#8216;মরিচা&#8217; বানিয়ে খেয়ে দেখুন, কথা দিচ্ছি খারাপ লাগবে না। আপনি স্বাস্থ্য সচেতন, তাই ভাজাপোড়া কিছু খান না। তাই বলে বাটি ভর্তি ধোঁয়া ওঠা হালিমের ওপর একটি কুঁচানো লংকার গার্নিশ না ছড়িয়ে দিলে কি ভালো লাগে?</p><p>এতো গেলো ইফতারের কথা। ভাত খেতে বসে টেবিলে পঞ্চ ব্যঞ্জনের সাথে একটা বাটিতে লেবু-কাঁচামরিচ না থাকলে টেবিলটাই যে ফাঁকা ফাঁকা লাগে। ঝোল দিয়ে ভাত মেখে এক লোকমা খেয়ে সাথে বাঁ চোয়ালে কাঁচামরিচে একটি কামড় দিলে তবেই না আসল স্বাদ ফুটে বেরুবে। এত গেলো সুশীল সমাজের কথা। একটু &#8216;প্রলেতারিয়েত&#8217;দের পাতে তাকাই। কাঁচা পেঁয়াজ, লবণ আর পান্তা ভাত ( নাকি এক্সট্রা চিলড আ্যকোয়া রাইস)  দিয়ে খেয়েই যে তাদের দিনের শুরু। আর এই হেভি ডিমান্ড এর কারনেই তো রোজার শুরুর দিকে কাঁচামরিচ হয়ে উঠেছিলো কাঁচাবাজারের তারকা। মুল্য ২০০ টাকা কেজি মাত্র। এককেজি কাঁচামরিচে ২০০টা মরিচ হয় কি না এ নিয়ে কারো সন্দেহ থাকলেও দাম নিয়ে কারো সন্দেহ ছিলো না। কারণ দেশের দূরদর্শণ ও বেতার মাধ্যমের খবর ও বাজারদর  বিষয়ক অনুষ্ঠানে কাঁচা মরিচ এর দামই হয়ে উঠেছিলো &#8216;হট&#8217; খবর।  টিভির পর্দায় দেখা যাচ্ছে,কেউ কাঁচামরিচ কিনছেন এবং  কিনে বুক পকেটে পুরছেন। কারণ থলেতে পুরলে  কোথায় যে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে যাবে  সে খবর আর পাওয়া যাবে না।</p><p>শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় আটমণ চাল পাওয়া যেত এই বাক্যটা পড়লে আমাদের কাছে যেমন আজগুবি ঠেকে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও হয়তো  “এককালে বাংলাদেশের খাবারের হোটেলগুলোর  টেবিলে সবসময়  বাটিতে অনেকগুলো  কাঁচামরিচ এমনিতেই দেয়া থাকতো! নীলক্ষেতের তেহারীর দোকানে গামলা ভর্তি পানিতে প্রচুর কাঁচামরিচ চুবান থাকতো। যার যত ইচ্ছা খেত&#8221; এমন লাইন পড়ে চোখ কপালে তুলবে।</p><p>কিনতু বিধি বাম! কাঁচামরিচের নামের মধ্যেই যেহেতু “কাঁচা” শব্দটি রয়েছে তাই তিনি বেশী দিন আর টপ চার্টে থাকতে পারলেন না। শীর্ষ স্থান থেকে নেমে এখন প্রায় রেলিগেশনের মুখে, ২০০ টাকা থেকে ২৬/ ২৮ টাকা। কারণ বাজারে আরেক তারকার আগমণ। “চিনি আপা” নামে আরেক উঠতি তারকার কাছে শীর্ষস্থান হারালেন আমাদের এই গ্রীন হট তারকা । একই অবস্থা রোজার আরেক &#8216;তারকা খেলোয়াড়&#8217; বেগুনেরও।“বে” উপসর্গ গূণ এর আগে বসে গুণহীনতা প্রকাশ করলেও  ইফতারের টেবিলে বেগুনী হবার অসাধারণ যোগ্যতায় তিনিও হয়ে ওঠেন মাহে রমজানের অন্যতম তারকা। কিন্তু তারা এখন শাবানা-ববিতার মতোই বিগত যৌবনা।  কারণ সামনে আসছে ঈদ! আর ঈদে খেতে হবে সেমাই, পায়েস, ফিরনী সহ মিস্টি  মিস্টি সব খাবার, আর তাই “চিনি আপার” চাহিদাও তুঙ্গে! শ্বেত শুভ্র মিষ্টি এই তারকার সুমিষ্ট স্বাদে আটকে আছে সবাই! কবি লিখেছেন, “দূর দ্বীপবাসিনী&#8230;চিনি তোমারে চিনি..&#8221;। কবির লেখনীতে যার নাম সে কি আর পেছনে পরে থাকতে পারে! তাইতো ঢালিউডের বক্স অফিস কুইন নায়িকা &#8216;অপু বিশ্বাসের&#8217; এর মতো ঈদের বাজারের সবচাইতে কাংখিত বস্তুটি  এখন বোধ হয় চিনি! আর  চিনির ট্রাকের সামনে পিঁপড়ের মতো মানব-সারী।</p><p>চা কিংবা কফি অথবা  এই গরমে শরবত।  অতিথি আপ্যায়ণে এই তিনের উপস্থিতিতো থাকবেই আর সবার মাঝেই থাকতে হবে চিনি। কিন্তু মিষ্টি চিনির তিক্ত দামের কারনে অনেককেই আজ তেতো চা সোনামুখ করে খাচ্ছেন। ফ্রিজ খুলেই হোক আর দোকানে গিয়েই হোক মিষ্টি খেতে ভালো বাসেন সবাই, এমনকি ডায়বেটিক যারা তারাও! ডাক্তারের বিধি নিষেধের কারণে যারা চিনি দেয়া খাবার খেতে পারতেন না , শাওয়ালের চাঁদ দেখার আগেই তাদের ঈদ! কারণ , সবাই যে এখন তাদের মতোই “সুগার ফ্রি” খাবার খাচ্ছেন। এতে তাদের কাটা ঘায়ে  কিছুটা হলেও যে মলম পড়ছে । ব্যাটারা খেয়ে দেখ, চিনি ছাড়া চা কেমন বিস্বাদ। খুবতো রসগোল্লা আর মিষ্টি দই সাঁটিয়েছিস, এখন বোঝ ঠ্যালা।</p><p>সিন্ডিকেট শব্দটা প্রথম প্রথম খুব গম্ভীর মনে হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভা, শুনলেই মনে হয় অনেক চশমা পড়া জ্ঞানী শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। কিতু এখন “সিন্ডিকেট” শব্দটি বহু ব্যবহারে মলিন। সিন্ডিকেটের মানেই এখন কিছু ব্যবসায়ী যারা কারসাজী করে দাম বাড়ায়।</p><p>কাঁচামরিচে সিন্ডিকেট, ভোজ্যতেলে সিন্ডিকেট, এখন চিনির বাজারও নাকি নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ডিকেট। সবাই ভূতের মতো এদের অস্তিত্ব জানে, বিশ্বাস করে কিন্তু কেউ চর্মচক্ষে তাদের দেখতে পায় না। এমনকি শাসনযন্ত্রের উপরের স্থানীয়রাও না। শুধু দেখা যায় তাদের কারসাজী। তাদের অস্তিত্ব “টক শো”তে, খবরের কাগজের পাতায়। কিন্তু আমাদের জনপ্রতিনিধিরা “কানে দিয়েছেন তুলো আর পিঠে বেঁধেছেন তুলো”। তাদের কানের তুলো ভেদ করে চিনি নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলার আওয়াজ যাচ্ছে না।</p><p>অনেক তো বাজে বকা হলো, এবার একটা কাজের কথা বলি, ওসব সিন্ডিকেট -টেট বাদ দিন। তিন চাকার তারকা, নির্মানের তারকা অনেক তো হলো! এবার আসুন সব ছাপিয়ে আমরাই নির্বাচণ করি “কাঁচাবাজারের তারকা”।  “এই রমজানে কে হচ্ছে কাঁচাবাজারের তারকা ?” পেটমোটা পটল, লিকলিকে বরবটি, কচকচে শশা নাকি অন্যকেউ? আপনার পছন্দের সবজিকে &#8216;কাঁচাবাজারের তারকা&#8217; হিসেবে দেখতে চাইলে a, b, c অথবা d লিখে পাঠিয়ে দিন&#8230;&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/15534/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>32</slash:comments> </item> <item><title>একদিনের ম্যাচের সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যাক্তিগত ইনিংস</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/14108</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/14108#comments</comments> <pubDate>Sun, 16 Aug 2009 19:12:47 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[খেলাধুলা]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=14108</guid> <description><![CDATA[ক্রিস কভেন্ট্রি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৯৪ রান করে একদিনের ম্যাচের সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডবুকে সহবস্থান করছেন পাকিস্তানের সাঈদ আনোয়ারের সাথে। কিন্তু্ তামিমের সেঞ্চুরিতে শেষ হাসি বাংলাদেশের ।দীর্ঘ এক যুগ পর আবারো আলোচনায় সাঈদ আনোয়ারের ১৯৪,সেই ধারাবাহিকতাতেই  থাকছে একদিনের ম্যাচের সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যাক্তিগত ইনিংসের কথা। ১. চার্লস কভেন্ট্রি- ১৯৪* (১৫৬বল, ১৬x৪,৭x৬)- ২৬ বছর বয়সী চার্লস কেভিন [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>ক্রিস কভেন্ট্রি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৯৪ রান করে একদিনের ম্যাচের সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডবুকে সহবস্থান করছেন পাকিস্তানের সাঈদ আনোয়ারের সাথে। কিন্তু্ তামিমের সেঞ্চুরিতে শেষ হাসি বাংলাদেশের ।দীর্ঘ এক যুগ পর আবারো আলোচনায় সাঈদ আনোয়ারের ১৯৪,সেই ধারাবাহিকতাতেই  থাকছে একদিনের ম্যাচের সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যাক্তিগত ইনিংসের কথা।<br /> ১. চার্লস কভেন্ট্রি- ১৯৪* (১৫৬বল, ১৬x৪,৭x৬)- ২৬ বছর বয়সী চার্লস কেভিন কভেন্ট্রি&#8217;র   ১৪ ম্যাচের ওডিআই ক্যারিয়ারের সেঞ্চুরি ছিলো না একটিও! সর্বোচ্চ ছিল চার বছর আগে ২০০৫ সালে, হারারে তে করা ভারতের বিরুদ্ধে ৭৪ রান। মাঝে জিম্বাবুয়ে দলে সাদা-কালোর দ্বন্দে মাঠের বাইরে চলে যাওয়া কভেন্ট্রিকে হয়তো ক্রিকেট বিশ্ব ভূলেই যেত! কিন্তু কভেন্ট্রিকে বিশ্ব মনে রাখবে কারণ জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড  বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০০৯ এর গ্রামীণফোন সিরিজের আগে আবারো তাকে দলে ফিরিয়ে আনে। আর সিরিজে ফিরেই ২-১ এ পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে কভেন্ট্রি খেললেন এক অতিমানবীয় ইনিংস, যা তাকে একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহের চূড়ায় স্থান করে দিলো। বুলাওয়ের  কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে  তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা কভেন্ট্রি খেলেছেন ইনিংসের শেষ বলটি পর্যন্ত, অপরাজিত ছিলেন ১৯৪ রানে যা সাঈদ আনোয়ারকে সরিয়ে তাকে স্থান দিয়েছে রেকর্ড বুকের প্রথম পাতায়। এই রান করতে তিনি বল খেলেছেন ১৫৬টি, চার মেরেছেন ১৬ টি আর ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৭টি। তবে একটি জায়গায় কভেন্ট্রি হারাতে পারেননি সাঈদ আনোয়ারকে, কভেন্ট্রি’র ব্যাট জেতাতে পারেনি জিম্বাবুয়েকে। চেন্নাইতে সাঈদ আনোয়ার আউট হয়ে গেলেও তার দল পাকিস্তান ম্যাচ থেকে আউট হয়নি, কিন্তু কভেন্ট্রি’র  রেকর্ডস্পর্শী সেঞ্চুরিতেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ থেকে আউট জিম্বাবুয়ে।<br /> ২. সাঈদ আনোয়ার ১৯৪ (১৪৬ বল, ২২x৪, ৫x৬)- সালটা ১৯৯৭, প্রায় এক যুগ আগে বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজার নেতৃত্বে, ভারতের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে আয়োজিত পেপসি ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ খেলতে ভারতে গেল পাকিস্তান। চার-জাতির এই টুর্নামেন্টের ৬ষ্ঠ ম্যাচে মুখোমুখি চির-প্রতিদ্বন্দী ভারত-পাকিস্তান। চেন্নাই এর চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে দিবারাত্রীর ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিলেন রমিজ রাজা, আর রমিজ রাজার মুখে হাসি ফোটাতেই যেন সাঈদ আনোয়ার খেললেন তার জীবনের অন্যতম সেরা একটি ইনিংস। অনিল কুম্বলে, ভেংকাটেশ প্রসাদ , রবীন সিং ও কুরিভিল্লাদের নাকের জল চোখের জল এক করে খেললেন এক প্রতাপশালী ইনিংস। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অনিল কুম্বলের এক ওভারে হাঁকালেন তিন ছক্কা।সাঈদ আনোয়ারের ব্যাটেই প্রথম মনে হয়েছিলো, ওয়ানডে ম্যাচেও ডাবল সেঞ্চুরি করা সম্ভব! তবে ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছে যেয়েও সৌরভ গাংগুলীর এক অসাধারাণ ক্যাচে থেমে যায় সাইদ আনোয়ারের ইনিংস। আর বোলার ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার! স্কোরকার্ডে এক সাথে  ক্রিকেট বিশ্বের সেরা এই তিন মহারথী’র এমন সম্মেলন দূর্লভ বটে, যেমন দূর্লভ সাঈদ আনোয়ারের এই  ইনিংস!<br /> ৩.স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস ১৮৯* (১৭০ বল,২১x৪,৫x৬) এবার ঘটনাস্থল ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ড এর ম্যানচেস্টার। ১৯৮৪ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের  ইংল্যান্ড সফরে টেক্সাকো ট্রফি’র প্রথম ম্যাচ। দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শুরুতেই বিপদে ফেলে দিলো বোথাম-উইলিস-দের ইংল্যান্ড।১১ রানেই নেই হেইন্স-গ্রীনিজের মতো ব্যাটসম্যান। নামলেন স্যার ভিভ এবং আক্রমণের জবাব দেবার জন্য  বেছে নিলেন সেরা ভাষাটাই-পাল্টা আক্রমণ। আর তার আক্রোশে পুড়লো ইংরেজ বোলাররা। অবশ্য অন্যপ্রান্তে আসা-যাওয়ার মিছিল অব্যহত ছিলো, তা নইলে কি আর স্কোরকার্ডে ১৮৯ এর পরের সেরা ব্যক্তিগত রান ২৬ হয়! সব মিলিয়ে তিন জন ব্যাটসম্যান এক অংকের কোটা পার করতে পারেন, ভিভ ১৮৯*,ব্যাপ্টিস্তা ২৬ ও মাইকেল হোল্ডিং ১০*! বাকীরা সবাই ১০ এর নিচে, তারপরও হোল্ডিং- গার্নার- মার্শালদের কারণে ম্যাচ জিততে অসুবিধে হয়নি ক্যারিবীয়দের। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৭, এক যুগেরও বেশী সময় ধরে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন আ্যন্টিগায় জন্ম নেওয়া বিশ্ব শাসনকারী এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান।<br /> ৪.সনাথ জয়সুরিয়া-১৮৮ (১৬১ বল, ২১x৪, ৪x৬)- ‘মাতারা হারিকেন’ শ্রীলংকার সনাথ জয়সুরিয়া শারজাহ এর মরুর বুকে তুললেন মরু-ঝড়! আর সেই ঝড়ে নুয়ে পড়লো ভারতের বোলিং আক্রমণ। ২০০০ সালে শারজাহ তে কোকাকোলা চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফির ফাইনালে আক্ষরিক অর্থেই ভারতীয় দলকে  গুঁড়িয়ে দেয় শ্রীলংকা। আর শুরুটা হয় সনাথ জয়সুরিয়ার ব্যাট থেকে, যার ঝাঁঝটা বেশী বুঝেছেন অজিত আগারকার ও ভেঙ্কটেশ প্রসাদ। আগারকার ১০ ওভারে দিয়েছেন ৬৭ আর প্রসাদ ৭ ওভারে ৭৩! শ্রীলংকার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৯৯ আর তাতে জয়সুরিয়ার একক অবদান ১৮৯! জয়সুরিয়া ৪৯ তম ওভারের প্রথম বলে গাঙ্গুলীর বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্প হবার আগে মনে হচ্ছিলো  যেন সাইদ আনোয়ারের রেকর্ড ভাঙ্গাটা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। সেই ম্যাচে ভারতীয় দলকে মাত্র ৫৪ রানে অল-আউট করে ২৪৫ রানের বিশাল হারের লজ্জ্বায় ডোবায় লংকানরা, জিতে নেয় কোকাকোলা চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফি।<br /> ৫. গ্যারি কারস্টেন ১৮৮* (১৫৯ বল,১৩ x৪,৪x৬)-১৯৯৬ এর উইলস বিশ্বকাপ।  বি গ্রুপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাত। রাওয়ালপিন্ডি’র মাঠে আরব আমিরাতের অঘটনের স্বপ্ন উড়ে গেল কারস্টেনের ব্যাটে। ভারতীয় দলের বর্তমান কোচ গ্যারী কারস্টেন রীতিমতো ছেলেখেলা করেছেন ‘ইউ এ ই’ এর অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে, উদ্বোধন করতে নেমে ইনিংস শেষে ছিলেন অপরাজিত। একই সাথে ক্যারিং দ্যা ব্যাট থ্রু দ্যা ইনিংস এবং বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ইনিংস।</p><p>(পাঁচটি ইনিংসের মধ্যে কভেন্ট্রি , সাঈদ আনোয়ার ও জয়সুরিয়ার ইনিংস গুলো টিভিতে লাইভ দেখেছি, স্যার ভিভ এর সময় জন্মও হয়নি আর কারস্টেনের ইনিংস খুব সম্ভবত সম্প্রচার করা হয়নি বা দেখি নাই।<br /> একই সাথে  www.crickettomorrow.com এ প্রকাশিত।)</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/14108/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>31</slash:comments> </item> <item><title>আমাদের যোগ্যতা কি আসলে এতটুকুই?</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/12140</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/12140#comments</comments> <pubDate>Fri, 10 Jul 2009 17:08:51 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[খেলাধুলা]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=12140</guid> <description><![CDATA[ধরুন, ক্রিকেটে মাঠে মুখোমুখি দুই পক্ষ। এক পক্ষে আছেন অভিষেকেই সবচেয়ে কম বয়সী শতরান করে ক্রিকেট বিশ্বকে আগমনীবার্তা ঘোষণা করা এক ব্যাটসম্যান, আছেন  কিছুদিন আগেও  আইসিসি টেস্ট ক্রিকেটারের রেটিং এ  শীর্ষ স্থান অধিকার করে থাকা  এক অল-রাউন্ডার। অধিনায়কের দ্বায়িত্ব পালন করছেন এমন এক লড়াকু ক্রিকেটার, খেলোয়াড়দের চিরশত্রু  ইনজুরিকে যিনি জীবনযুদ্ধে [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>ধরুন, ক্রিকেটে মাঠে মুখোমুখি দুই পক্ষ। এক পক্ষে আছেন অভিষেকেই সবচেয়ে কম বয়সী শতরান করে ক্রিকেট বিশ্বকে আগমনীবার্তা ঘোষণা করা এক ব্যাটসম্যান, আছেন  কিছুদিন আগেও  আইসিসি টেস্ট ক্রিকেটারের রেটিং এ  শীর্ষ স্থান অধিকার করে থাকা  এক অল-রাউন্ডার। অধিনায়কের দ্বায়িত্ব পালন করছেন এমন এক লড়াকু ক্রিকেটার, খেলোয়াড়দের চিরশত্রু  ইনজুরিকে যিনি জীবনযুদ্ধে একাধিক বার হারিয়েছেন। টেস্ট ম্যাচে ৭৮ উইকেট নেবার পাশাপাশি তিন হাজারের উপর রান করেছেন তিনি। দলের অনেক  প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানের চাইতে তার রান বেশী! আর অন্যদিকের, ক্যাপ্টেন শেষ টেস্ট খেলেছেন একযুগ আগে, দলের ১১ জনের মধ্যে মাত্র চারজনের রয়েছে টেস্ট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। বাকিদের কেউ স্কুল ক্রিকেট, কেউ বা বয়স ভিত্তিক দলে খেলেন। এমন দুটি দলের মধ্যে যদি পাঁচ দিনের ক্রিকেট হয় তাহলে ফেভারিট কারা? নিশ্চিত ভাবে প্রথম পক্ষ! কিন্তু এখানেই ভুল টা করলেন, কারণ ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা, তাই সবসময় এখানে ফেভারিটরা জেতেনা!<br /> ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো একক কোন দেশ নয়, ক্যারিবীয়ান সাগরের অনেক গুলো দ্বীপদেশের সমষ্টি  যারা শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলার জন্য এই একটি ছাতার নিচে সমবেত হয়। আধুনিক যুগের ক্রিকেটে যেখানে টাকা পয়সার জন্য খেলোয়াড়রা দেশের সিরিজের বদলে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে খেলতে আগ্রহী, সেখানে ক্যারিবীয়ান খেলোয়াড়দের তো দেশই নেই! তাই টাকা পয়সার বনিবনা না হওয়ায় বেঁকে বসলো ক্রিস গেইলের দল, পেশাদার ক্রিকেটারদের আ্যসোসিয়েসন জানালো দাবী মেনে না নিলে  কোন খেলোয়াড়ই খেলবে না। কিন্তু যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেঁতুল! একরাতের মধ্যেই জোড়াতালি দিয়ে আরো একটি দল মাঠে নামিয়ে ফেললো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। ভাগ্যিস , খেলাটা টেস্ট ম্যাচ, খেলোয়াড়দের গায়ের জার্সির পেছনে নাম লেখা নেই, একদিনের ম্যাচ হলে এতো অল্প-সময়ে হয়তো এগারোটা জার্সিই জোগাড় করা যেতনা!<br /> এমনতর এক দলের বিরুদ্ধে বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম দিনে খেলো হলো মাত্র ১৮ ওভার, দুই ওপেনার মাটি কামড়ে থেকে কোন উইকেটের পতন হতে দিলেন না, স্কোরবোর্ডে রান ৪২, অবস্থা বিবেচনায় খারাপ নয়। দ্বিতীয় দিনের ৩৬ ওভারে রান উঠলো ৭৯, উইকেটের পতন ঘটলো ৬টি! ক্রিজে এসে আচমকা কোন অতি জরূরী কাজ মনে পড়ে যাওয়ায় যেন তড়িঘড়ি করে আবার ফিরতি যাত্রা করলেন ব্যাটসম্যান। স্টেইন-জনসন- ফ্লিনটফ নয়, মুরালি- ওয়ার্ন-মেন্ডিস নয় এমন বোলারদের উইকেট দিলেন ব্যাটসম্যানরা, যাতে বোলারের কৃতিত্বের চেয়ে ব্যাটসম্যানের অকৃতিত্বটাই বেশী। ডেভিড বার্নার্ড নিয়েছেন ২ উইকেট, যিনি এর আগের টেস্টম্যাচটি খেলেছেন অর্ধযুগ আগে এবং সেই ম্যাচে ১১ ওভার বল করে ৬১ রান দিয়েছেন, কোন উইকেট পাননি! অর্থাৎ টেস্ট ম্যাচেও গড়ে ওভার প্রতি প্রায় ছয় রান করে দিয়েছেন এই বোলার। তিনি তুলে নিলেন জুনায়েদ সিদ্দিকি ও রকিবুল হাসানের উইকেট! বিদ্রোহী ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে যোগ দেয়া ও হালে ফিরে আসা, &#8216;দ্যা ওয়াইল্ড থিং&#8217; টিনো বেস্ট নামের সাথে মিল রেখে দলের বেস্ট দুই ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ আশরাফুলের উইকেট দুটি নিয়েছেন। আউট হবার ধরণ, অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে খোঁচা, ধারাভাষ্যকারদের ভাষায় নাথিং শট!<br /> যারা বলেন , দীর্ঘদিন বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটের বাইরে ছিলো বাংলাদেশ তারা এবার ব্যাটিং  ব্যর্থতার  কি অজুহাত দাঁড় করাবেন? ধারাবাহিক ব্যর্থতাই  যে দলের নিশ্চয়তা, তাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করাটাই আসলে ভূল। টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির দীর্ঘ ৯ বছরেও আমরা তরুণ দলই রয়ে গেলাম, খেলার ধারাতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এলোনা। তাই নির্মম হলেও প্রশ্নটা মাথায় জাগে, আমাদের টেস্ট মর্যাদা কি আমাদের যোগ্যতার পুরষ্কার নাকি ক্রিকেট কূটনীতির ফসল?<br /> ( ক্রিকেটটুমরো ডটকম&#8217; এর জন্য লেখা, এখানেও দিয়ে দিলাম)</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/12140/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>41</slash:comments> </item> <item><title>বাদলা দিনে মনে পড়ে, ছেলেবেলার গান</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/11693</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/11693#comments</comments> <pubDate>Wed, 01 Jul 2009 10:56:15 +0000</pubDate> <dc:creator>সামীউর (৯৭-০৩)</dc:creator> <category><![CDATA[গান]]></category> <category><![CDATA[দিনলিপি]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category> <category><![CDATA[বৃষ্টি]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=11693</guid> <description><![CDATA[ঢাকার আকাশে তুমুল, বৃষ্টি। গতকালকে যে prelude শুরু হইসিলো আজকে তা পুরাই  Concert এ রূপ নিছে। সারাটা দুপুর মেঘলা  করার পর ধুমায়া বৃষ্টি হইতেসে। বারান্দার ফাঁক দিয়া কফির কাপ হাতে বৃষ্টি দেখি, সাথে এক মিনিট করে নিজের আয়ূ কমাই। বৃষ্টি দেইখা একটা গানের কথা খুব মনে পড়তেসে, ভাবলাম সিসিবিতে শেয়ার করি। ১৯৯৮ সাল এ রিলিজ [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>ঢাকার আকাশে তুমুল, বৃষ্টি। গতকালকে যে prelude শুরু হইসিলো আজকে তা পুরাই  Concert এ রূপ নিছে। সারাটা দুপুর মেঘলা  করার পর ধুমায়া বৃষ্টি হইতেসে। বারান্দার ফাঁক দিয়া কফির কাপ হাতে বৃষ্টি দেখি, সাথে এক মিনিট করে নিজের আয়ূ কমাই।</p><p>বৃষ্টি দেইখা একটা গানের কথা খুব মনে পড়তেসে, ভাবলাম সিসিবিতে শেয়ার করি।<br /> ১৯৯৮ সাল এ রিলিজ হওয়া খুব ভূয়া ধরণের একটা ছবি &#8216;দাহেক&#8217;। সোনালী বেন্দ্রে আর অক্ষয় খান্না, হিন্দু মুসলিম প্রেম নিয়া ছবি, শেষে সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে নায়ক নায়িকার করুণ মৃত্য- রোমিও -জুলিয়েট মার্কা ছবি। আমাদের বাচপানের আওয়ারা দিল এই সোনালীর জন্য ধাড়কাইতো!  তার <a href="http://www.youtube.com/watch?v=SKyzJ0ZJZqw&#038;feature=related">&#8216;জো হাল দিলকা&#8217;</a> গানটার কথা মনে হইলে এখনো &#8230;.থাক আর কইলাম না।</p><p>তখন ক্লাস এইটে পড়ি, কলেজে দেখানোর জন্যে বড় ভাইরা নাম দিয়া আনলো এই ছবি।  বাসায় ছুটিতে যে মুভির <strong>সাওয়ান বারসে.</strong>..গানটা এমটিভিতে বহুতবার দেখসি! সিলেট বৃষ্টি বাদলার দেশ, বৃষ্টি বিলাস করার টাইম নাই। ঢাকা শহরের দাবদাহে বৃষ্টির শীতল পরশে যারা বৃষ্টি বিলাশ করতে চান তারা এই গানটা ছাইড়া এককাপ কফি নিয়া বারান্দায় গিয়া একটা সিগারেট ধরান। মাইরি বলচি, ভালো লাগবে।</p><p>গানটার- ইউটিউব লিঙ্কঃ<br /> <object width="340" height="285"><param name="movie" value="http://www.youtube-nocookie.com/v/Tb-S1d3dOxs&#038;hl=en&#038;fs=1&#038;border=1"></param><param name="allowFullScreen" value="true"></param><param name="allowscriptaccess" value="always"></param><embed src="http://www.youtube-nocookie.com/v/Tb-S1d3dOxs&#038;hl=en&#038;fs=1&#038;border=1" type="application/x-shockwave-flash" allowscriptaccess="always" allowfullscreen="true" width="340" height="285"></embed></object></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/west-wind/11693/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>29</slash:comments> </item> </channel> </rss>
<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Minified using disk
Page Caching using disk (enhanced)
Object Caching 734/768 objects using disk
Content Delivery Network via static.cadetcollegeblog.com

Served from: www.cadetcollegeblog.com @ 2010-07-30 05:42:16 -->