<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?> <rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/" xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/" ><channel><title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ &#187; আলোচনা</title> <atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/category/alochona/feed" rel="self" type="application/rss+xml" /><link>http://www.cadetcollegeblog.com</link> <description></description> <lastBuildDate>Thu, 29 Jul 2010 21:09:14 +0000</lastBuildDate> <language>en</language> <sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod> <sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency> <item><title>শিশু বিকাশের স্বাভাবিক পর্যায়সমূহঃ</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/26653</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/26653#comments</comments> <pubDate>Mon, 26 Jul 2010 19:54:47 +0000</pubDate> <dc:creator>সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category> <category><![CDATA[পড়াশোনা]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=26653</guid> <description><![CDATA[(এভাবে নিজের ইমেজ নষ্ট হতে দেওয়া ঠিক না। তাই আগের পোষ্টে নিজের যেরূপ ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছিল, তার পুনরুদ্ধারের জন্য, বড় ভাইদের রক্তচোক্ষু এবং ছোট ভাইদের অতিমাত্রায় লম্ফঝম্ফ কমানোর লক্ষ্যে এই পোষ্ট। হয়ত অনেকেই শিরনামটি দেখে লেখাটি পড়বেনই না, কিন্তু জ্ঞ্যান বিতরণ মহান ধর্ম, তাই কোন প্রতিদান (মন্তব্য) পাওয়ার আশা না করেই পোষ্টটা দিলাম।) &#8221; The [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p><em>(এভাবে নিজের ইমেজ নষ্ট হতে দেওয়া ঠিক না। তাই আগের পোষ্টে নিজের যেরূপ ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছিল, তার পুনরুদ্ধারের জন্য, বড় ভাইদের রক্তচোক্ষু এবং ছোট ভাইদের অতিমাত্রায় লম্ফঝম্ফ কমানোর লক্ষ্যে এই পোষ্ট। হয়ত অনেকেই শিরনামটি দেখে লেখাটি পড়বেনই না, কিন্তু জ্ঞ্যান বিতরণ মহান ধর্ম, তাই কোন প্রতিদান (মন্তব্য) পাওয়ার আশা না করেই পোষ্টটা দিলাম।) </em></p><p><strong>&#8221; The infant is a growing action system.&#8221; -(Gesell)</strong></p><p>মাতৃগর্ভে ভ্রূনের আগমনের সাথে সাথেই যে প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে মানবসন্তানের বৃদ্ধি ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সবাই কমবেশী জানি। তাই এতো বিজ্ঞ আলোচনায় আমরা না যাই। প্রাকজন্ম বৃদ্ধির ব্যাপারে আমাদের ডাক্তার আপা এবং ভাইয়েরা ভালো লেকচার দিতে পারবেন, আমি জন্মপরবর্তী বৃদ্ধি বা বিকাশ নিয়ে কিছু তথ্য দিচ্ছি। যারা বর্তমানে ১-৫ বছরের সন্তানের মাতা-পিতা বা ভবিষ্যতে হতে ইচ্ছাপোষন করছেন তাদের জন্য এই পোষ্টটি বিশেষভাবে প্রয়জন হবে বলে আমার ধারনা। আমি নিজে মিলিয়ে দেখেছি, সামান্য কিছু ভ্যারিয়েশান ছাড়া আমার নিজের সন্তানের ক্ষেত্রেও এই গ্রোথ-চার্টটি বেশ ভালোভাবে মিলে গেছে এবং যাচ্ছে। মজাও পেয়েছি এই ভেবে যে যুগযুগ ধরে আমাদের দাদী নানীরা নিছক অভিজ্ঞতা থেকে বলে এসেছে, &#8220;এইত চার মাস হল তোর বাচ্চাটার, এখন খিল খিল করে হাসা শুরু করবে&#8221;,  &#8220;পাঁচ মাস তো, এখন পাশ ফিরে যাবে&#8221; বাচ্চার সামনে এসে সামান্য অনুযোগের সুরে নানীরা বলবেন &#8220;আমি এতো আদর যত্ন করি আর সারাক্ষন বলে আব্বা, আব্বা করে!&#8221; নয় মাসের পর থেকে শিশুটি একটু  রঙ্গঢঙ্ করা শুরু করবে, অভিমান দেখান, লজ্জা পাওয়া&#8230;আর আমরা গর্বিত মাতা পিতা আহ্লাদে আটখানা হয়ে সবার কাছে নিয়ে সেই গল্প শুনাবো। এসব তো যুগযুগ ধরে চলে আসছেই, আর আজকাল কিনা এসব জিনিস নিয়ে গবেষনা হচ্ছে! আর আমারা আজকালকার মা বাবারা এসব গবেষোনার উপর ঝাপ দিয়ে চেটেপুটে খেয়ে নিচ্ছি। বিশেষ করে নতুন মায়েরা  বই পত্র, ইন্টারনেট ঘেটে ঘুটে, একাকার করে ফেলছি, কিভাবে আরো বেশী ভালোবভাবে সন্তানের যত্ন করা যায়, কিভাবে আরো বেশী ওদের শারিরীক ও মনস্তাতিক বিকাশ সম্পর্কে জানা যায়।<br /> এখন আমি মূল লেখায় প্রবেশ করি, এতোক্ষন ধরে অনর্থক বাক্যব্যায় করেছি সুতরাং আপনাদের অসীম ধৈর্য্যের আর চ্যুতি ঘটাতে চাই না। আমি যে বিষয়ে লিখতে যাছি, সে বিষয়ে আসলে অনেক অনেক কিছু লেখা যায়, আমি যতদুর সম্ভব সংক্ষিপ্ত আকারে দিচ্ছি। য়ামি কেবলমাত্র শারিরীক, ভাষাগত, মনস্তাত্বিক এবং সামাজিক বিকাশের ব্যাপারে উল্লেখ করছি। এখানে বলে রাখা ভাল, যে এই গবেষনাটা গড়পরতা শিশুদের উপর করা হয়েছিল তাই অনেক শিশুই উল্লেখিত সময়সীমার আগে কিম্বা কিছু পরে উল্লেখিত আচরন করতে পারে। উল্লেখিত তথ্য কেবলমাত্র অভিভাবকেরা তাদের শিশুদের কাছ থেকে কতটুকু বিকাশ আশা করতে পারেন সেই বিষয়ে আলোকপাত করলাম।</p><p><strong>শিশু বিকাশের (১-৫ বছর পর্যন্ত) স্বাভাবিক পর্যায়সমূহঃ</strong><br /> ১. ০ &#8211; ১ মাসঃ<br /> >শারিরীক ও ভাষাগতঃ<br /> ১) সাধারনত দৈনিক ৮-১২ বার খাদ্য গ্রহনে ইচ্ছাপ্রকাশ করে।<br /> ২) ২০ ঘন্টা পর্যন্ত ঘুমন্ত অবস্থায় কাটায়।<br /> ৩) ইন্দ্রিয় সচেতনতা যেমনঃ সাদা-কালো বা এজাতীয় রঙ এর চরম বৈপরীত্য, শব্দ, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ, তাপমাত্রায় তারতম্য এবং শারিরীক ব্যাথা অনুভুতি জাগ্রত হওয়া শুরু করে।<br /> >মনস্তাত্বিকঃ<br /> ক্ষুধা এবং শারিরীক ব্যাথা জানান দেবার মাধ্যম হিসেবে কান্নাকে বেছে নেয়।<br /> >সামাজিকঃ<br /> ১) আসহায় সামজিক জীব।</p><p>২. ২-৩ মাসঃ<br /> >শারিরীক ও ভাষাগতঃ<br /> ১) রঙ এর প্রাথমিক পার্থক্য বোধগম্য হয়।<br /> ২) কান্নার পাশাপাশি ক্ব বা ক্বু এবং গ্ব বা গ্বু বা গ্বা স্বর তৈরী করা শুরু করে।<br /> ৩) চোখের পেশির উপর আয়ত্ব আসা শুরু হয়। জোরে শব্দে পলক ফেলে।<br /> ৪) পায়ের হাড় ও পেশিতে শক্তি বোধ হবে, পায়ের সঞ্চালন হাত অপেক্ষা বেশি হয়।<br /> > মনস্তাত্বিকঃ<br /> ১) খুশি, আনন্দ ও ব্যাথার প্রাথমিক আবেগের সাথে পরিচয় হয়।<br /> ২) মুখে হাসির রেখা স্পষ্ট হয়।<br /> ৩) দুলুনি বা ঝুলুনি উপভোগ করে।<br /> > সামাজিকঃ<br /> ১) অন্যদের মুখভঙ্গী বঝার চেষ্টা করে।<br /> ২) হাশি মুখ দেখে স্বস্তি বোধ করে।</p><p>৩. ৪ &#8211; ৬ মাশঃ<br /> > শারিরীক ও ভাষাগতঃ<br /> ১) ডান বা বাম কাতে পাশ ফিরে উলটে যাবার চেষ্টা করে।<br /> ২) আশপাশের ধ্বনি বা শব্দের সাথে নিজেকে পরিচিত করে নেয়।<br /> ২) আওয়াজ করে হাসা শুরু করে।<br /> ৫) ব ধ্বনি দিয়ে শব্দ তৈরী করা শুরু করে যেমন বাব্বা, আব্বা, বু&#8230;, বেবে ইত্যাদি।<br /> ৩) বেশিরভাগ স্বরধ্বনি বা vowel sound উচ্চারন করতে পারে।<br /> ৪) ৬ মাসের দিকে এসে নিজে নিজে উলটে গিয়ে মাথা উঠানোর চেষ্টা করে।<br /> ৫) হাতে মুঠোয় শক্ত করে কিছু ধরার চেষ্টা করে।<br /> ৬) সবকিছু মুখে দেবার চেষ্টা করে (শিশু মনবিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে বলে থাকেন যে, শিশুরা এই সময় তাদের একমাত্র অ্যাকটিভ বা সচল ইন্দ্রিয় জিহ্বা তথা স্বাদ দ্বারা যেকোন কিছুর চরিত্র বা বৈশিষ্ঠ্য বোঝার চেষ্টা করে থাকে)।<br /> >মনস্তাত্বিকঃ<br /> ১)কোলে উঠতে বেশি পছন্দ করে।<br /> ২) চলমান বস্তু বা &#8220;moving object&#8221; এর প্রতি অধিকতর আকৃষ্ট হয়।<br /> >সামাজিক<br /> ১) অন্যদের মুখভঙ্গী দেখে অনুভুতি পড়ার চেষ্টা করা শুরু করে।<br /> ২) মা অথবা যিনি সর্বাধিক যত্ন নেন (খাবার খেতে দেন) তার সাথে অন্যদের পার্থক্য করতে শেখে।<br /> ৩) খাওয়া, গোছল করা, পোষাক বদলান&#8230; ইত্যাদি এসবের চাহিদা তৈরী হয়।</p><p>৪. ৭-৯ মাসঃ<br /> > শারিরীক ও ভাষাগতঃ<br /> ১) হাতের উপর আয়ত্ব আসে। কোন জিনিস হাত দিয়ে ধরে তা আবার মুঠো ছেড়া ফেলে দিতে শেখে এবং এটাকে তারা একটা খেলা ভেবে মজা পায়।<br /> ২) নিজে নিজে বসতে শেখে।<br /> ৩) হামা দেয় বা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চারা হামা নাও দিতে পারে।<br /> ৪) দুই হাতমিলিয়ে হাতে তালি দিতে চেষ্টা করে।<br /> > মনস্তাত্বিকঃ<br /> মায়ের প্রতি বা যিনি সর্বদা যত্ন নেন তার প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। মা বা যিনি সর্বদা যত্ন নেন তার সাথে সামান্য বিচ্ছেদেও অভিমান প্রকাশ করা শুরু করে।<br /> >সামাজিকঃ<br /> ১) নিজের নাম চিনতে শিখে।<br /> ২) এই সময় &#8220;লুকচুরি&#8221; খেলায় বিশেষভাবে আনন্দিত হয়। (শিশু মনবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, চাদরের বা ওরনার আড়ালে যখন কেউ লুকিয়ে যায়, শিশুদের মনে একপ্রকারের হাড়ানোর ভীতি কাজ করে।তাই যখন &#8220;টুকি&#8221; বা &#8220;বুঃ&#8221; বলে আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসে মানুষটি, শিশুটি তখন স্বস্তিতে আনন্দিত হয়)</p><p>৫.১০-১২ মাসঃ<br /> >শারিরীক ও ভাষাগলঃ<br /> ১) পায়ে জোড় আসা শুরু করে, দাড়ানোর চেষ্টা করে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিজে নিজে কারো সাহায্য ছাড়া অনেকখন দাঁড়িয়ে থাকে, কিছু কিছু এ্যাডভান্স শিশুরা গুটি পায়ে হাটা শুরু করে।<br /> ২) একটি দুটি শব্দ পুরোপুরি উচ্চারণ করতে শিখে যায়।<br /> ৩) অন্যদের কথা অনুকরণ করতে চায়।<br /> ৪) ছোট ছোট কমান্ড, আদেশ বা নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে যেমনঃ এদিকে তাকাও, ওদিকে যেও না ইত্যাদি।<br /> ৫) খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। অন্যদের বিশেষ করে বড়দের খাবারের প্রতি আগ্রহ আসে।<br /> ৬) ঘুম কমে আসে।<br /> ৭) একটি কি দুটি দাঁত উঠতে পারে।<br /> >মনস্তাত্বিকঃ<br /> ১) রাগ, লজ্জা, ভয় ইত্যাদি আনুভুতিগুলো প্রকট হওয়া শুরু করে।<br /> ২) &#8220;stanger anxiety&#8221; অর্থাৎ&#8221; অপরিচিত কাউকে দেখলে ভয় বা অনিশ্চয়তা কাজ করে।<br /> ৩) নতুন জিনিস সম্পর্কে আগ্রহী ও উৎ&#8221;সাহীত হয়ে উঠে, আবিষ্কার করার আগ্রহ জন্মায়।<br /> > সামাজিকঃ<br /> ১) নিজের নাম বলার চেষ্টা করে।<br /> ২) টাটা বা বাই বাই বললে হাত উল্টিয়ে ঘুড়িয়ে নাড়ায়।<br /> ৩) কোন কিছু দেয়া বা নেয়ার কমান্ড বঝে।</p><p>৬. ১ বছর- ১.৫ বছরঃ<br /> >শারিরীক ও ভাষাগতঃ<br /> ১) দু-একটি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারে।<br /> ২) সর্বচ্চ ১০-২০ মিনিট পর্যন্ত হাটতে পারে।<br /> ৩) পেনসিল বা কলম হাতের মুঠোয় দ্গিরে কাগজে এলোমেলো দাগ দিতে ভালবাসে।<br /> >মনস্তাত্বিকঃ<br /> ১) নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।<br /> ২) গানের বা সুরের প্রতি ভালবাসা জন্ম নেয়।<br /> ৩) গোসলের প্রতি হয় আগ্রহ বাড়ে না হয় কমে।<br /> > সামাজিকঃ<br /> ১) কমান্ড বুঝতে শিখে।<br /> ২) কিছু কিছু কথা শুনে সেগুলো বলার চেষ্টা করে।<br /> ৩) প্রিয়জনদের ডাকতে চায় বা পারে।<br /> ৪) আয়নায় প্রতিচ্ছবি দেখে খুব আনন্দিত হয়, নানা রকমের মুখভঙ্গী করে।</p><p>৭. ১.৫ বছর &#8211; ২ বছরঃ<br /> >শারিরীক ও ভাষাগতঃ<br /> ১) বলে হালকা লাথি দিতে পারে।<br /> ২) একটার উপর আরেকটা জিনিস রাখতে সক্ষম হয়।<br /> ৩) পরিবেশভেদে শিশুর শব্দভান্ডার ২০০ বা ততাধিক অর্থপুর্ণ শব্দে উন্নিত হয়।<br /> ৪) tense বা কালের ব্যাবহারে শুদ্ধতা আনার চেষ্টা করে।<br /> ৫) নিজের কথা বল্লেও &#8220;বাবু খাবে&#8221; এ জাতীয় সেকেন্ড পারসন ব্যাবহার করে।<br /> > মনস্তাত্বিকঃ<br /> ১) &#8220;temper tantrums&#8221; রাগ, ক্ষভ, হতাশা জাতীয় অনুভুতি বিশেষভাবে পরিলক্ষীত হওয়া শুরু করে যা ৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।<br /> ২) নবজাতক শিশুদের প্রতি আকাংক্ষা বাড়ে, সংসারে দ্বিতীয় শিশুর আগমন কামনা করে।<br /> >সামাজিকঃ<br /> ১) নবজাতক শিশুর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।<br /> ২) স্ট্রেঞ্জার এঞ্জাইটি কমা শুরু করে।</p><p>৮. ২ বছর -৩ বছরঃ<br /> > শারিরীক ও ভাষাগতঃ<br /> ১) লাফ দিতে পারে।<br /> ২) তিন চাকার সাইকেলে চড়তে পারে।<br /> ৩) রঙ পেনসিল ব্যাবহারের প্রতি ঝোক বাড়ে।<br /> ৪) মোটামোটি পুরোপুরি অর্থবহ দুই-একটা বাক্য তৈরী করে কথা বলা শুরু করে।<br /> ৫) নতুন নতুন শব্দ শিখে সেগুলোকে বারংবার প্রয়গের প্রবনতা বৃদ্ধি পায়।<br /> ৬) সব কাজ নিজ হাতে করার প্রবনতা বৃদ্ধি পায়।<br /> >মনস্তাত্বিকঃ<br /> ১) আবেগ বৃদ্ধি পায়<br /> ২) &#8220;fear of separation&#8221; বা বিচ্ছেদের ভয় জন্মায়।<br /> ৩) &#8220;negaativistic&#8221; হয়।<br /> ৪) ধ্বংসাত্বক মনভাব জন্ম নেয়।<br /> ৫) রসবোধ জন্ম নেয়।<br /> ৬) আত্ম নির্ভরশীলতা বাড়ে।<br /> > সামাজিকঃ<br /> ১) সমাজে তার নিজের অবস্থান আবিষ্কার করার চেষ্টা করে। নিজের বাসস্থান, ছোটখাট সম্পত্তি যেমন জামা, জুতা, চিরুনী, খেলনা, আপন-পর ইত্যাদি বুঝতে শিখে।<br /> ২) অভিভাবকদের আচরন আনুকরন করে, রোল প্লে জাতীয় খেলা খেলতে আনন্দ পায়।<br /> ৩) আদেশ দেওয়া উপভোগ করে।<br /> ৪) জোড়পুর্বক দাবী আদায়ের প্রবনতা প্রকাশ পায়।<br /> ৫) বাহিরমুখী প্রবনতা বৃদ্ধি পায়।<br /> ৬) সমবয়সীদের সাথে মেলামেশা করার ইচ্ছা জাগ্রত হয়।</p><p>৯. ৩ বছর -৪ বছরঃ<br /> > শারিরীক ও ভাষাগতঃ<br /> ১) এক পায়ে লাফাতে পারে।<br /> ২) নিজের জামা স্যান্ডেল পরতে পারে।<br /> ৩) চামচ দিয়ে বা হাত দিয়ে খাওয়া শিখে।<br /> ৪) ছোট টুল বা চেয়ার তুলতে পারে।<br /> ৫) নিজের সব রকম চাহিদার কথা স্পষ্ট ভাবে বোঝাতে পারে।<br /> ৬) মাতৃভাষা ভিন্ন অন্য কোন ভাষার বহুল ব্যাবহার দেখলে সেই ভাষা বোঝার বা বলার চেষ্টা করে।<br /> ৭) ৪ বছরের শেষের দিকে এসে শব্দভান্ডার ১৬৪০ শব্দে উন্নীত হয়।<br /> ৮) পেনসিল ধরে গোল দাগ, বাঁকা দাগ, সোজা দাগ দিতে পারে, ডট দিয়ে দিলে, সেই ডটের উপর হাত ঘুরাতে পারে।<br /> >মনস্তাত্বিকঃ<br /> ১) মা বাবা দুইজনের প্রতি ভালবাসা জন্মায়।<br /> ২) বিপরীত লিঙ্গের অভিভাবকের প্রতি রোমান্টিক অ্যাটাচমেন্ট বৃদ্ধি পায়।<br /> ৩) সম লিঙ্গের অভিভাবকের প্রতি হিংসার জন্ম নেয়।<br /> ৪) কল্পনাপ্রসুত ভীতি তৈরী হয় যেমন অন্ধকারের ভূত ইত্যাদি।<br /> ৫) নিজের কি ছেলে না মেয়ে সে ব্যাপারে জানতে শিখে।<br /> ৬) সমগত্রীয় পদার্থ, তথ্য ইত্যাদি আলাদা করতে পারে।<br /> > সামাজিকঃ<br /> ১) সমবয়সী শিশুদের সাথে সঙ্ঘবদ্ধ খেলাধুলা ভালবাসে।<br /> ২) অন্যদের সামনে জড়তাবোধ কাটিয়ে উঠা আরম্ভ করে।<br /> ৩) কাল্পনিক চরিত্র তৈরী করে সঙ্গী বানায়।<br /> ৪) সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন করে।<br /> ৫) কথা বলা বেড়ে যায়।</p><p>১০. ৪ বছর- ৫ বছরঃ<br /> > শারিরীক ও ভাষাগতঃ<br /> ১) এক পা দিয়ে বেশ অনেক্ষন লাফাতে পারে।<br /> ২) কারো কোন সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে জামা পড়তে পারে।<br /> ৩) পেশী শক্তির উপর অনেকাংশে আয়ত্ব চলে আসে, কাঁচি ধরা ইত্যাদি স্মল মটর কাজগুলোতে তুলনামুলকভাবে দক্ষতা চলে আসে।<br /> ৪) শব্দভান্ডার ২০৭২ এ উন্নীত হয়।<br /> ৫) ভালভাবে নির্দেশনা গ্রহন করতে পারে।<br /> ৬) গননায় দক্ষতা আসে।<br /> > মনস্তাত্বিকঃ<br /> ১) সঠিকভাবে কোন কাজ করতে পেরে গর্ববোধ করে।<br /> ২) নিজের মধ্যে ভারিক্বি আসা শুরু করে।<br /> ৩) দায়িত্ব নিতে ভালবাসে।<br /> ৪) নিয়ম সম্বৃদ্ধ খেলায় উত&#8221;সাহীত হয়।<br /> ৫) আবহাওয়া এবং পরিবেশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।<br /> > সামাজিকঃ<br /> ১) সহযোগিতামূলক খেলায় আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।<br /> ২) যেকোন কাজ আগের চেয়ে গুছিয়ে করার চেষ্টা করে।<br /> ৩) &#8220;বোর্ড গেমস&#8221; বা &#8220;টেবিল গেমস&#8221; এর প্রতি ঝোঁক বারে।<br /> ৪) প্রতিযোগীমূলক মনভাব তৈরী হয়।</p><p><strong>&#8230; &#8230; &#8230; &#8230; &#8230; &#8230; &#8230; &#8230; &#8230; &#8230; &#8230; </strong></p><p>আমরা বোধহয় আজকাল একটু বেশীই সচেতন। জানা অবশ্যই ভাল জিনিস, তবে পুথিগত বিদ্যা যতই থাকুক না কেন, যতখন পর্যন্ত না আপনি সেই জ্ঞ্যান কাজে লাগাচ্ছেন আপনার সব জ্ঞ্যানই বৃথা। আপনার সন্তানের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যে জিনিসটি সেটি হচ্ছে আপনার সান্নিধ্য, কাজেই আমাদের অবস্থা যেন কখনই নীচের ছবিটির মত না হয়ে যায়&#8230;<br /> <a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/07/child-psychology.gif"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/07/child-psychology-241x300.gif" alt="" title="child-psychology" width="241" height="300" class="alignnone size-medium wp-image-26668" /></a></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/26653/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>82</slash:comments> </item> <item><title>বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাঃস্বপ্নপূরণ না স্বপ্নহরণ???</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/crude_oil/26646</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/crude_oil/26646#comments</comments> <pubDate>Thu, 22 Jul 2010 13:42:30 +0000</pubDate> <dc:creator>আমিনুল (২০০০-২০০৬)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category> <category><![CDATA[পড়াশোনা]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=26646</guid> <description><![CDATA[আমার এক বন্ধুর মামাতো ভাই।গত মাসে ঢাকায় চলে আসলো,ঢাকায় ‘উচ্চতর’ ভর্তি কোচিং এর বাড়তি সুবিধা নিতে।আমার এক ছাত্র আগামী বছর সহিসালামতে এইচএসসি পাস করবে বলে আশা করছি।কিন্তু এখন থেকেই তার সমস্ত দুশ্চিন্তা ভর্তি পরীক্ষা নামক এক কঠিন যুদ্ধ নিয়ে।সারাক্ষণ সে আমাকে ভর্তি পরীক্ষার এটা সেটা নিয়ে জিজ্ঞেস করে-ভাবটা এমন যেন সুযোগ থাকলে বোর্ড পরীক্ষা না [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>আমার এক বন্ধুর মামাতো ভাই।গত মাসে ঢাকায় চলে আসলো,ঢাকায় ‘উচ্চতর’ ভর্তি কোচিং এর বাড়তি সুবিধা নিতে।আমার এক ছাত্র আগামী বছর সহিসালামতে এইচএসসি পাস করবে বলে আশা করছি।কিন্তু এখন থেকেই তার সমস্ত দুশ্চিন্তা ভর্তি পরীক্ষা নামক এক কঠিন যুদ্ধ নিয়ে।সারাক্ষণ সে আমাকে ভর্তি পরীক্ষার এটা সেটা নিয়ে জিজ্ঞেস করে-ভাবটা এমন যেন সুযোগ থাকলে বোর্ড পরীক্ষা না দিয়েই ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে দিবে।তাছাড়া বুয়েটে পড়ার সুবাদে মাঝে মাঝে আমার কাছের আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের ছোট ভাই-বোনদের কেউ কেউ বুয়েটে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বিষয়ে জানতে চায়, এমনকি মাঝে মাঝে এই অধমের উপদেশও চায়।তখন তাদের বলতে হয় কোন কোচিং ভালো, কোনটায় ফালতু জিনিস বেশী পড়ায়, কিভাবে পড়লে আইবিএ আর বুয়েটে একসাথে পরীক্ষা দেয়া যাবে কিংবা সবশেষে বুয়েটে সিএসই নাকি ইইই নিবে ইত্যাদি ইত্যাদি।তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমার এই পোষ্ট।</p><p>কেউ কেউ হয়ত ভাবছেন আমি ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার উপায় নিয়ে কথা বলব।আসলে ভর্তি পরীক্ষার এই বিষয়টাকে আমি সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য বলে মনে করি।সেটার ব্যাপারে বিস্তারিত বলার আগে আলোচনার প্রেক্ষিতটা কিছুটা বলে নেয়া দরকার।প্রতিবছর লাখ দেড়েখ ছাত্রছাত্রী এইচএসসিতে কৃতকার্য হয়। বিপুল পরিমাণ এই শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই, তাই দিনে দিনে বাড়ছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা।প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিকাশকে অনেকে অনেকভাবে ব্যাখ্যা করলেও আমি এটাকে ভীষণরকম পজিটিভ বিকাশ বলে মনে করি।চিন্তা করে দেখুন যদি এই ৫৩ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না থাকতো তাহলে কোথায় যেত এই লাখখানেক কিংবা তারও বেশী সংখ্যক শিক্ষার্থী?যারা এগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তাদের অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মান নিয়ন্ত্রন সরকারেরই কর্তব্য;তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়ে দিলেই হবে না, সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের ন্যায়সংগত প্রাপ্তিও সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।প্রতিবছর  এইসব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য লাখ লাখ সিক্ষার্থী এক কঠিন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।একজন শিক্ষার্থীর ১২ বছরের শিক্ষাজীবনের খুব সামান্য মূল্যই আছে তাদের ভবিষ্যত নির্ধারণে।কারণ ভর্তি পরীক্ষা নামক বিশাল এক অগ্নিগোলক তাদের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়, যারা একে উতরে সামনে যেতে পারে তাদের জন্য থাকে সোনালি সময়, কিন্তু যারা একটুর জন্য হোঁচট খায় কিংবা একই দিনে বা সামান্য ব্যবধানে একাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা থাকায় ভালো করতে পারে না কিংবা পরীক্ষা দিতেই পারে না, তাদের জন্য কি সময় অপেক্ষা করে সেটা সহজেই অনুমেয়। আমার আজকের আলোচনার প্রেক্ষিত এটাই।</p><p><strong>তাহলে কি ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না?</strong><br /> আমি কখনোই ভর্তি পরীক্ষার বিরোধী নই।একটা প্রতিষ্ঠান কেন কাউকে যাচাই না করে ভর্তি করবে?কিন্তু সেই যাচাই প্রক্রিয়াটি হতে হবে নমনীয় এবং সবাইকে সমান সুযোগ দিয়ে।ব্যাপারটা আরেকটু খোলাশা করি।এখন প্রায়শ দেখা যায় আইবিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা খুব নিকটবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভর্তি পরীক্ষার সময় একই থাকে। শুধু এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, বাংলাদেশের সাত বিভাগের প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ভর্তির জন্য আলাদা আলাদা দিন নির্ধারিত থাকে যার জন্য শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার আগেই কিংবা যোগ্যতা প্রমাণের আগেই সেইখানে ভর্তির ব্যাপারে না-বোধক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।এমনকি এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এই বিষয়টি লক্ষনীয়।যেমন গেল বছর ব্র্যাক ও নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ভর্তি পরীক্ষা একইদিনে একইসময়ে অনুষ্ঠিত হয়।কিন্তু এই বিষয়টি কোনভাবেই কোন শিক্ষার্থীর নাগরিক অধিকারকে সমর্থন করে না।রাষ্ট্রকেই যোগ্যতাভিত্তিতে সবাইকে সব জায়গায় অংশগ্রহণের সুযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।কারণ উচ্চতর শিক্ষাব্যবস্থায় এরূপ বৈষম্য অনেককেই তার প্রকৃত অবস্থান থেকে বঞ্চিত করে,যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।<br /> আরো একটি বিষয় এখানে না তুললেই নয়।প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা আলাদা পরীক্ষার সময় নির্ধারিত থাকে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশ্নের ধরণ এবং নিরীক্ষণ পদ্ধতি আলাদা থাকে।আমার প্রশ্নটা আমি একটা উদাহরণ দিয়ে তুলে ধরছি।ধরলাম কোন ছাত্রের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার শখ।তাহলে তাকে কেন বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট এবং কুয়েট-প্রতিটা জায়গায় আলাদা করে পরিক্ষা দিতে হবে?ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য একটা সাধারণ পরীক্ষা থাকলে এবং সেখান থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয় নির্ধারণ করলে সমস্যা কোথায়?দ্বিতীয়ত, কেউ এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হতে হলে আলাদা ফর্ম কিনতে হবে এবং আলাদা আলাদ জায়গায় সেগুলো আবার জমা দিতে যেতে হবে।এই একের পর এক ফর্ম কেনা এবং অন্য জায়গায় গিয়ে থাকা ও পরীক্ষা দেয়ার খরচটা আমাদের মধ্যবিত্ত,নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত  পরিবারের জন্য অতিরিক্ত বোঝা নয় কি?এইজন্যই আমি ভর্তি পরীক্ষার সামগ্রিক বিষয়টিকে আমার লেখার প্রথম দিকে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য বলেছি।</p><p><strong>তাহলে সমাধান কি?</strong><br /> আমি মনে করি নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছাই পারে এই ভোগান্তি থেকে ছাত্রছাত্রীদের রেহাই দিতে।আমি একটা সমধানের ব্যাপারে চিন্তা করেছি।সেটা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই।<br /> একতি সাধারণ বা কমন পরীক্ষা প্রতিটি ইউনিট বা ফ্যাকাল্টির জন্য নির্ধারিত থাকে পারে।যেমনঃ যারা ‘ক’ ইউনিটে পরীক্ষা দেন তাদের লক্ষ্য তাকে বিজ্ঞানের কোন বিষয়ে ভর্তি হওয়া।বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের বিষয়গুলোতে ভর্তির জন্য যদি একটি কমন পরীক্ষা থাকে, তাহলে এই একটি পরীক্ষা দিয়েই সব জায়গায় ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সেই বিভাগে বা অনুষদে ভর্তির জন্য সেই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরকে যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।<br /> সমস্ত সিস্টেমটিকে ছয়ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।ইঞ্জিনিয়ারিং,মেডিকেল,বিজ্ঞান অনুষদ,কলা অনুষদ, বাণিজ্য অনুষদ এবং বিভাগ বা অনুষদ পরিবর্তন।এই ছয়টি বিভাগের আলাদা আলাদা ছয়টি পরীক্ষা প্রয়োজনুযায়ী সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে।এখন প্রশ্ন হলো এই পরীক্ষাগুলো কি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দিনে কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে?<br /> না, তার কোন প্রয়োজন নেই।এই পরীক্ষাগুলো নিয়ন্ত্রনের জন্য সরকারের একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা থাকবে।তাদের অধীনে বছরে তিনবার বা চারবার এই পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে এবং এইচএসসি পাস করা যে কোন শিক্ষার্থী তার পছন্দসই সময়ে সেখানে পরীক্ষা দিতে পারবে।<br /> আমি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা পরিষ্কার করি।একজন ছাত্র মনে করল যে সে মেডিকেল ও বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চায়।সাধারণত জুন-জুলাইতে রেজাল্ট দেয়।তারপর সে তার সুবিধা অনুযায়ী সময়ে দুটি পরীক্ষাই দিয়ে দিতে পারে।<br /> প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজ ভর্তির যোগ্যতায় একটি নির্দিষ্ট নম্বর ঠিক করতে পারে, এমনকি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কোন বিশেষ বিষয়েও নির্দিষ্ট নম্বর রাখতে পারে।যেমনঃফিজিক্স বা অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্সে ভর্তির যোগ্যতায় ফিজিক্সকে জোর দিতে পারে অথবা জিনেটিক্সে ভর্তির জন্য বায়োলোজীতে বেশি নম্বর চাইতে পারে।<br /> যুক্তরাষ্ট্রে অনার্স লেভেলে ভর্তির জন্য স্যাট নামক একটি স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষায় সবাকে বসতে হয়। একইভাবে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য পৃথিবীর অনেক দেশেই জিআরই বা জিম্যাট পরীক্ষার নম্বর অত্যাবশ্যকীয়।একটা কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নিয়ন্রণ ব্যবস্থা থাকলে সেটা সবার জন্য সমান সুযোগ ও নিয়ন্রণ নিশ্চিত করতে পারে।<br /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/22.gif' alt=':|' class='wp-smiley' /><br /> সবশেষে আমি আশা করছি এইরূপ ভোগান্তি হতে শিক্ষার্থীরা খুব শীঘ্রই মুক্তি পাবেন। আশা করি আমাদের নীতিনির্ধাকেরা এই সমস্যার দিকে দৃষ্টি দিবেন এবং সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করবেন।আপনি বা আপনারা যদি আমার সাথে সহমত পোষণ করেন কিংবা মনে করেন এই সমস্যাটির সমাধান জরুরী,তাহলে বিনা দ্বিধায় এটা যেকোন ব্লগ,নেটওয়ার্ক(ফেসবুক,টুইটার,বাজ)কিংবা কমিউনিটিতে শেয়ার করতে পারেন।আমরা আওয়াজ না তুললে ওনারা তো আবার শোনেন না,শোনাতে হবে না?<br /> মেহেদী<br /> ২২.০৭.১০</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/crude_oil/26646/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>5</slash:comments> </item> <item><title>একটা মেইল করছিলাম&#8230;</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/gulshan/26630</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/gulshan/26630#comments</comments> <pubDate>Wed, 21 Jul 2010 14:22:16 +0000</pubDate> <dc:creator>গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[কলেজ সমূহ]]></category> <category><![CDATA[ঝিনাইদহ]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=26630</guid> <description><![CDATA[জিহাদকে একটা মেইল করছিলামঃ দোস্ত, আমার মাথায় সবসময় নানা আইডিয়া ঘুরে। সিসিবিতে বেশীদিন হয় নাই আসা। কিন্তু আইডিয়া ঠিকই মাথায় একটা চইলা আইছে। দোস্ত সিসিবিতে একটা আইসিসিএলএম করা যায় না? গল্প, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ, এমনকি আজাইরাও – এইসব বিভাগে প্রতিযোগিতা হবে। বিতর্কও হতে পারে। হতে পারে উপস্থিত গল্প লেখা টাইপের কিছু। এখানে গল্পের টপিক দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>জিহাদকে একটা মেইল করছিলামঃ<br /> <em>দোস্ত,<br /> আমার মাথায় সবসময় নানা আইডিয়া ঘুরে। সিসিবিতে বেশীদিন হয় নাই আসা। কিন্তু আইডিয়া ঠিকই মাথায় একটা চইলা আইছে।</p><p>দোস্ত সিসিবিতে একটা আইসিসিএলএম করা যায় না? গল্প, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ, এমনকি আজাইরাও – এইসব বিভাগে প্রতিযোগিতা হবে। বিতর্কও হতে পারে। হতে পারে উপস্থিত গল্প লেখা টাইপের কিছু। এখানে গল্পের টপিক দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (তিন/চার ঘন্টা) ঐ টপিকে সবাই গল্প লিখে জমা দিবে। একই টপিক সবার। বা শুধু টপিক না থেকে গল্পের শুরুটাও দেয়া থাকতে পারে। বা আরও যে কোন কিছু…</p><p>যদি ইন্টার ক্যাডেট কলেজ করাটা সমস্যা মনে হয়, যেহেতু অনেক কলেজের সদস্য কম, তাহলে ইন্টার হাউসও( আসলে হাউস কালার- লাল, নীল, সবুজ, হলুদ) হতে পারে। এই সুযোগে আমরা নতুন কিছু সদস্যও পেতে পারি। কারণ এমন কিছু হলে সবাই নিজেদের কলেজ/হাউসের ভাল ভাল প্রতিযোগীদের সিসিবিতে আনার চেষ্টা করবে।</p><p>আমার মাথায় আইছিল, তোরে কইলাম। বাকীটা তোর ব্যাপার।<br /> -গুলশান</em></p><p>জিহাদের উত্তরঃ<br /> <em>আরে আমার একার বলার তো কিছুনা। তুই তোর আইডিয়া নিয়ে একটা পোস্ট দিয়া ফ্যাল। দেখি বাকি সবার রেসপন্স কেমন হয়। সিসিবিতে সেই অর্থে মডারেটররা একচ্ছত্রভাবে কিছুই করেনা। অনেকটা পরিবার টাইপের। সবাই মিলে যে ডিসিশন নেয়া হয় সেইটাই হয়। কাজেই তুই পোস্ট দে। রেসপন্স ভালো থাকলে না করার তো কোন কারণ নাই।</em></p><p>আমার উত্তরঃ<br /> <em>পরিবার টইপের বইলাই তো সিসিবিকে এত ভাল্লাগে। তাও এখনও ঠিক পরিবারের আপন কেউ হয়ে উঠতে পারিনি তো…<br /> তাও চেষ্টা করবোনি।</em></p><p>ওরে কইছিলাম বইলাই সিসিবিতে শেয়ার করলাম।</p><p>এডিটঃ শিরোনাম পরিবর্তন করলাম।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/gulshan/26630/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>22</slash:comments> </item> <item><title>জামায়াত-শিবিরের প্রতিষ্ঠান: আসুন চিনে রাখি</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/shawkatmasum/26546</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/shawkatmasum/26546#comments</comments> <pubDate>Mon, 19 Jul 2010 11:03:56 +0000</pubDate> <dc:creator>শওকত (৭৯-৮৫)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[বরিশাল]]></category> <category><![CDATA[যুদ্ধাপরাধ ও বিচার]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=26546</guid> <description><![CDATA[সকালে ফেসবুকে ঢুকেই একটা ম্যাসেজ পেলাম। ‌&#8217;ভাইয়া, কেমন আছেন? সম্ভব হলে আপনার এই ব্লগটা সিসিবিতেও পোষ্ট করেন। সবাই জানুক, শিখুক এবং এদের এঁড়িয়ে চলুক।&#8217; আমরাবন্ধুতে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। আসলে পোস্টটা আরো আগের লেখা। সামুতে তখন ছাগা তাড়াতাম। তখন আমার আরেকটা নিক ছিল, সেই নিক ছিল মূলত ছাগু তাড়ানোর নিক। তখন এটি লিখেছিলাম। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটি আবার কিছুটা সম্প্রসারণ [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>সকালে ফেসবুকে ঢুকেই একটা ম্যাসেজ পেলাম।<br /> ‌&#8217;ভাইয়া, কেমন আছেন?<br /> সম্ভব হলে আপনার এই ব্লগটা সিসিবিতেও পোষ্ট করেন। সবাই জানুক, শিখুক এবং এদের এঁড়িয়ে চলুক।&#8217;<br /> আমরাবন্ধুতে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। আসলে পোস্টটা আরো আগের লেখা। সামুতে তখন ছাগা তাড়াতাম। তখন আমার আরেকটা নিক ছিল, সেই নিক ছিল মূলত ছাগু তাড়ানোর নিক। তখন এটি লিখেছিলাম। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটি আবার কিছুটা সম্প্রসারণ ও পরিমার্জন করে লেখা। যদিও আমি বিশ্বাস করি, যে যার জায়গা থেকেই যুদ্ধ করবে। এই যুদ্ধে যুক্ত থাকবে আবার আবেগও থাকবে। তারপরেও মনে করি এই যুদ্ধের প্রয়োজন আছে। এর নানা ধরণের ব্যাখ্যা হতে পারে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থাকতে পারে। অনেকের কাছে চরমপন্থা মনে হতে পারে। তারপরেও আমি মনে করি আমিই সঠিক এবং সবারই সচেতন হওয়া উচিৎ, বিশেষ করে যার যার সাধ্য আছে।</p><p>এবার মূল পোস্ট</p><p>যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক তরুণ ভোটারকে আকৃষ্ট করে ক্ষমতায় এসেছে। মাঝে অনেকেই এ নিয়ে হতাশ ছিলেন। এখন বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। আমরা আবার আশায় বুক বেঁধেছি।<br /> আশা করছি সরকার তার নিজের কাজটি করবেন। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের কাজ সরকারকে প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেওয়া, চাপ অব্যাহত রাখা। একইসঙ্গে সাধারণ এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের আরও একটি দায়িত্ব আছে। আমাদের চারপাশে নানা ভাবে বেড়ে উঠছে জামায়াত-শিবিরের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। আপনার গলির মোড়ের যে ছোট্ট মুদি দোকানটি, সেটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জামাতীদের অর্থে পরিচালিত। সংগ্রাম এসব দোকানে আপনি অবশ্যই পাবেন। আপনি কি বাসার কাছে বলে এই দোকানটির উপরই ভরসা করেন। নিজের অজান্তেই কে মৌলবাদী ও স্বাধীনতা বিরোধীতের হৃষ্টপুষ্ট হতে দিচ্ছেন না? টাকা আয় করে তারা কি কেবল সংসার চালায়, নাকি আরও বড় কোনো নাশকতা বা পরিকল্পনায় শক্তি সঞ্চয় করে। আপনার ভাই বা সন্তান কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। কি শিখছে সেখানে। একবার খোঁজ নিয়ে দেখেছেন?<br /> মৌলবাদীদের অর্থনীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অধ্যাপক আবুল বারকাত এ নিয়ে ২০০৫ সালে একটি গবেষণা করেছিলেন। বিষয় ছিল: মৌলবাদের রাজনৈতিক-অর্থনীতি। সেখানে তিনি বলেছেন,<br /> মৌলবাদীদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৭ থেকে ৯ ভাগ। তারা প্রতি বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করে শুধু রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে। এর মধ্যে, জঙ্গি কর্মকান্ড ছাড়াও সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা ব্যয়, রাজনৈতিক কর্মীদের বেতন, জনসভা আয়োজন ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ।<br /> তাদের ১ হাজার ৫শ কোটি টাকা মুনাফার ২৭ শতাংশ আসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যার মধ্যে রয়েছে, ব্যাংক, বীমা ও লিজিং কোম্পানি। ২০ দশমিক ৮ শতাংশ আসে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে, ১০ দশমিক ৮ ভাগ আসে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে। ১০ দশমিক ৪ ভাগ আসে ওষুধ শিল্প ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে। ৯.২ শতাংশ আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। ৮.৩ শতাংশ আসে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে। যোগাযোগ ব্যবসা থেকে আসে ৭.৫ শতাংশ এবং তথ্য প্রযুক্তি ও সংবাদ মাধ্যম থেকে আসে ৫.৮ শতাংশ। ‌</p><p>তাহলে আমাদের দায়িত্ব কি? আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে জামায়াত শিবিরের ব্যবসায়ীক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়কট করা, যাতে এসব প্রতিষ্ঠান আরও ফুলে ফেঁপে বড় হতে না পারে।</p><p>১. ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড: এটিই জামায়াতের সবচেয়ে বড় এবং লাভজনক সংগঠন। ধর্মের নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করে তারা। এই ব্যাংকটির মূল কাজ হচ্ছে জামাত-শিবির যারা করে তাদের ঋণসহ নানা ধরণের আর্থিক সুবিধা দেওয়া। এখানে যারা চাকরি করেন তারাও পরীক্ষিত জামায়াত কর্মী।<br /> তাহলে আসুন দেখি ইসলামি ব্যাংক কারা চালায়। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এখন অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের। । একাত্তরের ঘাতক দালাল কে কোথায় বইটিতে আছে ৭১-এ তার ভূমিকার বিবরণ।<br /> এই লোকটি একজন কুখ্যাত রাজাকার-আলবদর। ৭১ সে ছিল আল বদর হাইকমান্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সে ছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রধান।<br /> এই ব্যাংকের আরেক পরিচালক ছিলেন মোহাম্মদ ইউনুস। এখন মৃত। সেও ছিল আল বদর হাইকমান্ড-এর একজন সদস্য। সে আবার জামাতের মজলিসে সূরার সদস্য ছিল। আরেক পরিচালক ছিল মীর কাশেম আলী। মীর কাশেম আলী প্রথমে চট্টগ্রাম জেলা প্রধান। পরে আল বদর হাই কমান্ডের তিন নম্বর সদস্য হিসাবে স্থান লাভ করে। আর তার স্থানে আসে আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের। মীর কাশেম আলী নয়া দিগন্ত পত্রিকা ও টেলিভিশনের চেয়ারম্যান। সেও একসময় মহানগর জামায়াতের আমীর ছিল। বলা যায় মীর কাশেম আলি জামায়াতের অর্থ ভান্ডার ও রক্ষক।</p><p>২. ইবনে সিনা ট্রাস্ট- জামাতের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে আয়ের বড় অংশ আসে। এই ট্রাস্টের নামে আছে ইবনে সিনা হাসপাতাল, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইবনে সিনা ফার্মাসহ ৬টি প্রতিষ্ঠান। কর্মীদের লালন-পালন করার আরেকটি বড় উদ্যোগ এই ট্রাস্ট। ট্রাষ্টিদের নামগুলো জেনে নেই-<br /> 01. Mr. Advocate Mujibur Rahman, Chairman</p><p>02. Commodore (Retd.) Md. Ataur Rahman, Member, Ex-chairman TCB</p><p>03. Dr. Shamsuddin Ahmed, Member, Professor, International University of Technology</p><p>04. Mr. Shah Abdul Hannan, Member, Ex. Secretary. Govt. of Bangladesh</p><p>05. Mr. A.N.M.A. Zaher, Member Finance, Chairman, Islami Bank</p><p>06. Mr. Mir Quasem Ali, Member Administration</p><p>07. Prof. Chowdhury Mahmood Hasan, Member, Professor. Dhaka University.</p><p>08. Prof. A.K.M. Sadrul Islam, Member, Professor, International University of Technology.</p><p>09. Mr. Nazir Ahmed, Member, Ex-Chairman, Islami Bank</p><p>10. Mr. Kazi Harun Al Rashid, Member, Ex-Chairman, Islami Bank</p><p>৩. দৈনিক নয়া দিগন্ত, দিগন্ত টেলিভিশন ও সংগ্রাম: তাদের দলীয় পত্রিকা ও টেলিভিশণ মাধ্যম। এর মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে যেতে চাচ্ছে। বিশেষ করে সংগ্রামের কোনো ধরণের জনপ্রিয়তা বা গ্রহনযোগ্যতা না থাকায় তারা নয়া দিগন্ত পত্রিকা বের করে এবং দিগন্ত টেলিভিশন চালু করে।</p><p>৪. বেসরকারি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়: জামায়াতের অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। যেমন চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, ঢাকার মানারত বিশ্ববিদ্যালয়, সাঈদীর বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এর বাইরে আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেগুলোর মুল বা সিংহভাগ মালিক জামাতীরা। যেমন, নর্দান ইউনিভার্সিটি ও ইষ্টার্ণ ইউনিভার্সিটি।</p><p>৫. কোচিং সেন্টার: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ‘ফোকাস’, মেডিকেলে ভর্তির জন্য ‘রেটিনা’, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির জন্য ‘কনক্রিট’, ‘কনসেপ্ট’ ও ‘এক্সিলেন্ট’ কোচিং সেন্টারগুলো মূলত জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের নামে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। এসব কোচিং সেন্টার আবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গেও জড়িত।</p><p>৬. ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান: মীর কাশেম আলরি কেয়ারি গ্রুপ রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে জড়িত। সেন্টমার্টিন যেতে যে কেয়ারি সিন্দবাদ নামের ফেরি জাহাজ আছে, সেটিও মীর কাশেম আলীর।<br /> আবুল কাশেম হায়দার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের নেতা ছিলেন। তার ইয়ুথ গ্রুপ থেকে তৈরি হতো ভার্জিন ড্রিংকস। মেট্রো শপিং সেন্টারের মালিকও জামাতী।<br /> রিয়েল এস্টেট মিশন গ্রুপও জামাতীদের।</p><p>৭. বীমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান: ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টম্যান্ট লিমিটেড।<br /> ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কো. লি. ইসলামী ইন্সুরেন্স কো. লি.</p><p>এখানে সব নাম দেওয়া গেলো না। এটি আপডেট করা যেতে পারে। আপনারাও বলতে পারেন এরকম আরও নাম।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/shawkatmasum/26546/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>72</slash:comments> </item> <item><title>ভাঙ্গনের সাতকাহন</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/26015</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/26015#comments</comments> <pubDate>Sun, 04 Jul 2010 01:53:51 +0000</pubDate> <dc:creator>সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[দর্শন]]></category> <category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=26015</guid> <description><![CDATA[ ভালবাসা শ্বাশত, স্বর্গীয়। ভাল লাগা থেকে ভালবাসার সৃষ্টি হয়। ভালবাসার এই জগৎ&#8221;টা অনেক রঙ্গীন, অনেক দুরন্তপনায় ভরপুর, অনেক বেশি স্বপ্নময়। ভাল লাগার জোয়ারে ভেসে যায় যেন দুজনে। এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই কাম্য। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের এই দিনে আর দিন বদলের এই সময়ে জগতের সব নয়ম কানুন এ যেন কেমন উল্টেপালটে যাচ্ছে। পৃথিবীর মানুষগুলো হঠাৎ&#8221; করেই [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p><img src="http://www.lusterstudios.com/images/carriematthew/kissing%20forehead.jpg" alt="null" /><br /> ভালবাসা শ্বাশত, স্বর্গীয়। ভাল লাগা থেকে ভালবাসার সৃষ্টি হয়। ভালবাসার এই জগৎ&#8221;টা অনেক রঙ্গীন, অনেক দুরন্তপনায় ভরপুর, অনেক বেশি স্বপ্নময়। ভাল লাগার জোয়ারে ভেসে যায় যেন দুজনে। এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই কাম্য। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের এই দিনে আর দিন বদলের এই সময়ে জগতের সব নয়ম কানুন এ যেন কেমন উল্টেপালটে যাচ্ছে। পৃথিবীর মানুষগুলো হঠাৎ&#8221; করেই কেমন যেন জাগোতিক হয়ে উঠেছে। অনেক বেশি বৈষয়িক, অনেক বেশি স্বার্থপর, অনেক বেশিই অধিকার সচেতন। আমি এর কোনোটাকেই খারাপ বলতে চাচ্ছি না। কারণ ভাল খারাপের বিচার করার মত জ্ঞ্যানী এখনো আমি হয়ে উঠেনি, আর এটি আসলেই অনেক আপেক্ষিক একটি বিষয়। কিন্তু সমাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এত অশান্তি, এত ভাঙ্গন, এত বিচ্ছেদ… আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক বলছে এটা বেদনাদায়ক। কেন এত dissatisfaction? প্রেম-ভালবাসা, বিয়ে-সংসার সবসম্পর্কেই অনেক অস্থিরতা, অনেক অনেক বেশী অসহনিয়তা। নাটক সিনেমাতে দেখেছি প্রেমে পড়ে মানুষ পুরো দুনিয়াকে তুচ্ছ জ্ঞ্যান করে, সুনীল গঙ্গপাধ্যায়ের কোনো এক লেখায় পরেছিলাম “ ভালবাসলে মন হয়ে যায় অন্ধ”। কিন্তু মানুষ আজকাল অনেক বেশি সচেতন, অন্ধ হলে চলবে কি করে? খুবই যুক্তিযুক্ত কথা। মানুষ তার অধিকার নিয়ে, স্বকীয়তা নিয়ে, নিজস্বতা নিয়ে স্বোচ্চার হবে, সচেতন হবে, স্পষ্ট কন্ঠে তার দাবী জানিয়ে আদায় করে নিবে এমন শিক্ষাকে কখনোই খারাপ বলা যাবে না। কিন্তু কখনো কি আমরা কেউ ভেবে দেখেছি যে এই অধিকার আদায়ের বিপ্লবে আমরা আমাদের স্বজন্দের দূরে ঠেলে দিচ্ছিনাতো? ক্ষুদ্র মস্তিস্ক, স্বল্প অভিজ্ঞতা, সীমীত জ্ঞ্যান নিয়ে এক দুঃসাহসী কাজ করতে যাচ্ছি। জীবনের এই অল্প পরিসরে যতটুকুই দেখেছি, এই ভাঙ্গনের পেছনের কারণগুলো সচরাচর কি কি তা তুলে ধরছি। নিতান্তই আমার নিজস্ব দর্শন আর observation.</p><p><strong>সম্পত্তি না সম্পদ :</strong><br /> HSC তে আমরা সবাই মনে হয় হৈমন্তি ছোটগল্পটি পড়েছি। সেই সময়ে আমাদের তরুণ মনে বেশ রোমান্সের ভাব উদয় ঘটিয়েছিলো এই ছোট গল্পটি! বিশেষ করে সামসুল আলম স্যার তার ভরাট কন্ঠে আর শব্দের মায়াজাল বিছিয়ে আমাদের সামনে এক প্রগতিশীল ভালবাসার রূপ তুলে ধরেছিলেন। লাইনটি তখন ভাব-সম্প্রসারনের জন্যই পড়েছিলাম, কিন্তু আমাদের মধ্যে খুব কমই আছেন যারা এর প্রকৃত ভাব তাদের জীবনে র্কাযকর করতে পেরেছি, আমার সেই খুব প্রিয় লাইনটি হচ্ছে,<br /> <strong>সে আমার সম্পত্তি নয়, সম্পদ।</strong><br /> বিয়ে বা ভালবাসার সম্পর্কের মধ্যে সম্পত্তি জাতীয় অধিকারবোধটা আজকাল খুব বেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে।পুরুষ কিংবা স্ত্রী যেই হক না কেন, যাকে ভালবাসবে তাকে সমাদর করা দরকার অমূল্য সম্পদ মনে করে। সম্পত্তি ভেবে ভোগ করা নয়। মুখে বলছি ভালবাসি, অথছ কাজেকর্মে বুঝাচ্ছি তুমি আমার অধিকারভুক্ত সম্পত্তি। দুইজন যখন দুইজনের প্রতি এই মনভাব ত্যাগ করে দুইজন কে তাদের asset  বা সম্পদ ভেবে কদর করবে, যত্ন নিবে তখন আমার মনে হয় অনেক ভুল বুঝাবুঝির অবশান ঘটবে।</p><p><strong>সন্দেহের ধুম্রজাল: </strong><br /> সব সময় শুনে এসেছি যে, বিশ্বাস নাকি ভালবাসার ভিত। কিন্তু আজকাল couple দের মধ্যে এই ভীষন দরকারী জিনিস টার ভীষন ভাবে অভাব দেখা যাচ্ছে। ভালবাসার মানুষটি যদি বিশ্বাসযগ্য না হয়, তবে তাকে কতদিন সন্দেহ করে আর চোখে চোখে রেখে আটকে রাখা যাবে? যেকোনো সম্পর্কই কিছুটা ছাড় চায়, space  চায়। দম বন্ধ করা পরিবেশ কখনই সুখোকর না, স্বাস্থ্যকর না, কোনো সম্পর্কের জন্যই না। যখন দুইজনের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব্যপূর্ন সম্পর্ক হবে, দুইজন দুইজনের কাছে সব বিষয়ে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে তখনি একে একটা স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক বলা যাবে। আর এমন সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ অনেক কম। আর কেউ যদি একান্তই বিশ্বাসভাজন না হয় সে তো তবে ভালবাসা পাবার যগ্যতাই হাড়ায়, নয় কি?</p><p><strong>স্বাধীন আমি আমাতে পরিপপুর্ন:</strong><br /> ভালবাসা একটা বন্ধনের কাজ করে বলে আমার মনে হয়। দুইটা অপরিচিত ভিন্ন মানুষ ভালবাসার বন্ধনে এক হয়ে যায়। তাদের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ&#8221;, তাদের ভাল লাগা, মন্দ লাগা সব কিছু একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়। আর এ কারণেই হয়তো বিলেতিরা &#8220;life partner&#8221; শব্দটিকে এতো বেশি প্রাধান্য দেয়। পার্টনার শব্দটির মধ্যেই একরকম ভাগাভাগি করে নেয়ার একটা ব্যাপার আছে যা অনেক স্বাধীনচেতা মানুষের অপছন্দের কারণ হলেও হতে পারে। কারণ এখন আমরা সবাই খুব স্বাধিনতা প্রিয়। একলা একলা চলতে ভীষন ভালবাসি। আর যারা একলা চলতে পারেননা বা চাননা, আমরা তাদের নাম দেই অসহায় বা পরাধীন বা স্বাবলম্বী নন। কিন্তু ভালবাসার সম্পর্ক যেহেতু জয়েন্ট এ্যাকাউন্টের মত, দুজন দুজনকে কেছুটা ওপেন স্পেস দেওয়ার দরকার থাকলেও ভাগাভাগি করে নেওয়া প্রয়োজন অনেক কিছুই। কারণ সংসার কিন্তু একটাই, দুজনের আলাদা কিন্তু নয়।</p><p><strong>আধুনিকতার যান্ত্রিকতা:</strong><br /> আমার মনে আছে আমার যখন এই ৩/৪ বছর বয়স, তখন ঘরে ঘরে টেলিভিশনের চল সবে মাত্র শুরু হয়েছে আর যারা একটু বেশি অবস্থাসম্পন্ন ছিল তাদের বাসায় নতুন নতুন ভিসিআর বা ভিসিপি আসা শুরু করল। আর সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া খুব কম লোকের বাড়িতেই ল্যান্ড ফোন থাকতো। আর এখন ঘরে ঘরে এসি, এলসিডি টেলিভিশন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রওয়েভ ওভেন, গৃহকর্তা আরম্ভ করে এমনকি গৃহপরিচারিকা সবার হাতে হাতে সেলফোন&#8230; এসব আর এখন কোনো বিলাসিতার বস্তু না। মানতেই হবে আমরা সবাই যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি, অবশ্যই জীবনকে আরো একটু সহজ করে নিতে। কম্পিউটার, সেলফোন, এসব যেমন মানুষের মধ্যেকার দুরত্ব অনেক কমিয়ে এনেছে তেমনি ঘরের পাশে বসা মানুষটিকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে যোজন যোজন দূরে।  ফেসবুকে বা ম্যাসেঞ্জারে আমরা আমেরিকায় থাকা বন্ধুটির খবর নিচ্ছি, অথচ ঘরের মানুষটির মনের খবর নেবার সময় আমাদের হাতে অনেক সময়ই হয়ে উঠেনা। সেলফোন কম্পানিগুলো বলছে &#8220;কাছে থাকুন&#8221; কিন্তু কত ঘর যে এই এদের কারণে ভাংছে তার হিসাব নেই।</p><p><strong>গেঁয়ো বনাম শহুরে:</strong><br /> নিউইয়র্ক আর নিউজার্সির চিরায়ত দ্বন্ধ&#8217;র মতো ছোট্ট বাংলাদেশেও মেট্রপলিটান আর মফশ্বল শহরের মধ্যে চাপা বিরোধ যেন চিরকালের। পারিবারিক জীবন, কর্মজীবন সবক্ষেত্রেই এরা আবহানী মহামেডান কিম্বা ইন্ডিয়া পাকিস্তানের মতো দুইদুলে বিভক্ত। তারা একে অপরকে কেমন যেনো একটা প্রতিদ্বন্দী মনে করে। সংসার করতে গিয়েও এই জিনিসটা অনেকের মনপীড়ার কারণ হয় অনেক সময়ই। খুব ছোট সামান্য একটা ব্যাপার থেকে ঘর ভাঙ্গার করণ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়ায়। অথচ আমরা এভাবেও তো দেখতে পার যে কতো ছোট একটা দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ&#8230; এর মধ্যে আবার আমরা নিজেদের এভাবে ভাগ করে নিচ্ছি। শহুরে মানেই স্মার্ট, cool আর মফঃশ্বল বা গাঁয়ের ছেলে-মেয়ে মানেই আনস্মার্ট, গেঁয়ো&#8230; এই ধারনা থেকে বেরিয়ে আসাটা খুব দরকার। আজকের বিশ্বায়নের যুগে এই প্রতিদ্বন্দিতা খুবই হাস্যকর।</p><p><strong>শেকড় বদলানোর গল্প:</strong><br /> বিয়ের মধ্য দিয়ে দুইটি ভিন্ন পরিবারের দুটি ভিন্ন মানুষ এক হয়ে যায়। অনেক সময়ই তারা ভিন্ন কালচার, ভিন্ন রীতিনীতি, ভিন্ন পছন্দ অপছন্দ, ভিন্ন নিয়ম কানুনে অভ্যস্ত থাকে। সাধারনত স্ত্রীদের অনেক কিছু মানিয়ে নিতে হয় যাহেতু তাকে শশুরবাড়িকে বা স্বামীরবাড়িকেই নিজ ঠিকানা বানাতে হয়। অনেকটা কলম কাটা গাছের মতো। অথবা যে গাছটিকে শেরড়শুদ্ধ মাটি থেকে উপড়িয়ে অন্য মাটিতে লাগানো হয়েছে। সে গাছটিরও কিছুটা যত্নের প্রয়োজন। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ, নতুন রীতিরেওয়াজের সাথে তাকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় ও সহযোগিতা ভীষন প্রয়োজন। এবং এই সহযোগিতাটা স্বামীর কাছ থেকে আসলে স্ত্রীর মনে স্বামীটির জন্য সম্মান আরো অনেক গুন বেড়ে যাবার কথা। ঠিক একইভাবে স্ত্রীর সহযোগিতাও কাম্য।</p><p><strong>আদেশ করেন জাহা মোর গুরুজনে:</strong><br /> বিয়ের পর সাধারনত এক যোগ এক সমান দুই না হয়ে এক হয়, অর্থাৎ&#8221; দুইজন মিলে একটি অভিন্ন জীবনে প্রবেশ করে। যেহেতু তারা দুজন মেলে সারাটা জীবন একসাথে পার করার স্বপ্ন দেখে, অঙ্গিকারবদ্ধ হয় সেক্ষেত্রে তাদের এই যৌথ খামারে অন্য তৃতীয় কারও হস্তক্ষেপ অনেক সময়ই সুফল বয়ে আনে না। মাথার উপর গুরুজনেরা আছেন, থাকবেনই সবসময় মমতার ছায়া বেছানর জন্য। মা-বাবার কাছে কিন্তু সন্তান কখনই বড় হয় না, সবসময়ই ছোটই থাকে। আর তাই অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় কন্যার মা-বাবা অথবা পাত্রের মা-বাবার অত্যাধিক ভালবাসা, উপদেশ, হস্তক্ষেপে স্বামী-স্ত্রীর মাঝেই দুরত্ব বয়ে নিয়ে আসে অনেক খানি। কিন্তু আমি শতভাগ নিশ্চিৎ&#8221; যে কোনো মা-বাবাই তাদের সন্তান্দের ঘর ভাঙ্গা দেখে সুখী হতে পারে না। তাই কিছুটা দুরদুর্শীতার পরিচয় দিয়ে গুরুজনদের উপদেশের আলোকে <strong>নিজেদের জীবন নিজের মত</strong> করে গুছানোই শ্রেয়।</p><p>আরো নিশ্চই অনেক অনেক প্রেক্ষাপট আছে ঘর বা সম্পর্ক ভাঙ্গার বা দূরত্ব বাড়ানোর পেছনে। আরো অনেক জটিল সমস্যাও থাকতে পারে, তবে দুইজনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেগুলো পার করা অসম্ভবও না। তবে যেহেতু একহাতে তালি বাজে না, তাই <strong>দুইজনেরই</strong> সদিচ্ছার উপস্থিতি থাকতে হবে এবং যতদুর সম্ভব সমস্যা গড়াতেই সমূলে উৎ&#8221;খাত করতে হবে। তা না হলে আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা কেবলমাত্র একটা ভাঙ্গা বা জড়াতালি দেওয়া ঘর রেখে যাব না, বরং ভাঙ্গা একটা সমাজ দিয়ে যাব। একটু গভীরভাবে ভেবে দেখি, আসলেই কি আমরা তা-ই চাই?<br /> <img src="http://scrapetv.com/News/News%20Pages/Technology/images/couple-holding-hands-1.jpg" alt="null" /></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/26015/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>55</slash:comments> </item> <item><title>আমার এবং আমাদের সন্তানের জন্য আমার শিক্ষানীতি -২</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/25771</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/25771#comments</comments> <pubDate>Thu, 24 Jun 2010 07:52:17 +0000</pubDate> <dc:creator>সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category> <category><![CDATA[পড়াশোনা]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[ময়মনসিংহ]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25771</guid> <description><![CDATA[: মামনি, বল, এ ফর এ্যাপেল, বি ফর বল, সি ফর ক্যাট, ডি ফর ডগ। কি হল, বলছনা কেন, বল&#8230;এখন খেলা রাখোতো, বল&#8230; হাতের পুতুলটি কে নিয়ে খেলতে খেলতেই শিশুটি বলল, : মা এ ফর এ্যাপেল মানে কি? : এত মানে বঝার দরকার নাই, আমার সাথে বল, এ ফর এ্যাপেল&#8230; : মা, &#8220;এ&#8221; মানে কি? : আহহা, বড় বেশি জ্বালাতন [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>: মামনি, বল, এ ফর এ্যাপেল, বি ফর বল, সি ফর ক্যাট, ডি ফর ডগ। কি হল, বলছনা কেন, বল&#8230;এখন খেলা রাখোতো, বল&#8230;<br /> হাতের পুতুলটি কে নিয়ে খেলতে খেলতেই শিশুটি বলল,<br /> : মা এ ফর এ্যাপেল মানে কি?<br /> : এত মানে বঝার দরকার নাই, আমার সাথে বল, এ ফর এ্যাপেল&#8230;<br /> : মা, &#8220;এ&#8221; মানে কি?<br /> : আহহা, বড় বেশি জ্বালাতন করছ&#8230;<br /> : বলনা মা &#8220;এ&#8221; মানে কি?<br /> এবার কিছুক্ষন চিন্তা করে মা খুব খুশিমনে তার জ্ঞ্যানের ঝুড়ি খুলে বসলেন,<br /> : &#8220;এ&#8221; হচ্ছে ইংরেজী বর্নমালার অদ্যাক্ষর বা প্রথম অক্ষর&#8230;বুঝলে কিছু? এখন আমার সাথে বল&#8230;</p><p>শিশুটি কয়েক সেকেন্ডের একটা নাতিদীর্ঘ শূন্য দৃষ্টি দিয়ে আবার তার অপেক্ষাকৃত জরুরী খেলাধুলায় মনোনিবেশ করল। কি বুঝলো শিশুটি? &#8220;এ&#8221; হচ্ছে এমন একটা জিনিস যা তার রঙ্গীন স্বপ্নময় খেলার জগতের চাইতে কোনোভাবেই মজার কিছু না। আমি মোটামোটি শতভাগ নিশ্চিত যে এখানে আমাদের সকলের প্রাথমিক ইংরেজী শিক্ষাটা এভাবেই হয়েছিল। এর সাথে সাথে এ, বি, সি, ডি, ই, এফ, জি&#8230;গানের সুর ধরে রিদম এর ছন্দে হয়তো কেউ শিখেছি, যার মধ্যে আবার এক পর্যায় গিয়ে এল, এম, এন, ও, পি কে একসাথে এলোমেলো পি বলে সবাই ভুল করতাম এমনকি অনেক বড় বয়স পর্যন্ত! আচ্ছা, এবার ওই শিশুটির মতন একবার ভেবে দেখি চলুন যে আসলেই এই &#8220;এ ফর এ্যাপেল, বি ফর বল, সি ফর ক্যাট, ডি ফর ডগ&#8221; এর মানে কি? মানে অনেকটা এরকম দাঁড়ায় না যে, &#8220;এ দিয়ে হয় এ্যাপেল, বি দিয়ে হয় বল, সি দিয়ে হয় ক্যাট, ডি দিয়ে হয় ডগ&#8221;?  তাহলে এই &#8220;এ&#8221; জিনিসটা কিরে ভাই? রান্নার কোনো উপকরণ? নাকি কোনো কীটনাশক বা ফসলের বীজ? &#8220;এ&#8221; বা &#8220;বি&#8221; দিয়ে কি করে কোনো জিনিস তৈরী হতে পারে? &#8220;এ&#8221; কি তাহলে এ্যাপেল তৈরী বা &#8220;বি&#8221; কি তাহলে বল তৈরীর উপাদান? তাহলে কি এ্যাপেল তৈরীর উপাদান দিয়েই এ্যারপ্লেন তৈরী হয়? একটু কি জটিল মনে হচ্ছে? কিছুটা জটিল তো বটেই। যদি আমাদের মত ক্যাডেট কলেজে পড়া স্নাতক বা স্নাতকত্তর গুনীজন দের কাছে এমন মনে হয় তাহলে সেই ৩/৪ বছরের শিশুটির কি মনে হবে? অনেকেই হয়তো বলবেন বয়স যত বাড়ে চিন্তার জটিলতাও ততোই বৃদ্ধি পায়, শিশুরা কি আর অতো বঝে? না, হয়তো এতটা বঝে না। কিন্তু ওদের মস্তিষ্কে একধরনের ধোয়াটে অষ্পষ্ঠতার বীজ বপন করা হয়ে যায়।                জতিলতার জন্য, অষ্পষ্ঠতার জন্য সারাটা জীবন পরেই আছে, শিশুকাল টা ওদের একটূ রেহাই দেই না।<br /> এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে তাহলে কিভাবে শিখাবো? এ, বি, সি, ডি&#8230; গানটি দিয়ে শিশুদের বর্নমালার ধারাবাহিকতা শিখান যেতে পারে, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু বানান বা শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে এ ফর এ্যাপেল বললে একটু সীমাবদ্ধতায় বেধে দেয়া হয়&#8230;বরং এর উল্টোটা কিন্তু অনেকটাই স্পষ্ট আর শিশুদের জন্য সহযে বোধগম্য। ধরেন, এ ফর এ্যাপেল না বলে এ্যাপেল শব্দটি থেকে শিশুদের নিজ থেকে ধরতে বলা হোক এর প্রথম বা শেষ সাউন্ড বা ধ্বনিটি বের করতে। ঠিক ধরেছেন, ফনেটিক্স, বা ফনোলজী। খুব সহযেই কিন্তু আমরা আমাদের শিশুদের সাথে এর পরিচয় করিয়ে দিতে পারি। কথপোকথনের মাধ্যমে জিনিসটা দেখাই-<br /> : মামনি, এটা কি বলতো? (হাতে একটি এ্যাপেল দেখিয়ে)<br /> : এটা আপেল।<br /> : গুড, বল এ্যাপেল।<br /> : এ্যাপেল।<br /> : এবার বলত মা, এ্যাপেলের শুরুর সাউন্ডটা কি? এ্যা&#8230;পেল&#8230;বলতো?<br /> : এ্যা মা? (একবারেই হয়ত ধরতে না ও পারে&#8230;প্রথমে কয়েকবার সুযোগ দিন)<br /> : ভেরি গুড। হাত তালি&#8230;। জানো, এই এ্যা দেখতে কেমন?<br /> : কেমন মা?<br /> : A এমন।<br /> একিসাথে শেষের সাউন্ড অর্থাৎ&#8217; (এ)ল দেখতে L এর মত এটা পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়। এ্যা দেখতে A এর মতো যখন একটি শিশু জানবে, তখন তার জন্য বুঝতে কষ্ট হবে না যে ক্যাট শব্দের মাঝেও যে এ্যা উচ্চারিত হচ্ছে তাতেও A আছে, বানান করাটা তখন তার কাছে অনেক বেশী সহয হয়ে যাবে। নার্সারী তে পরা বেশীর ভাগ শিশুরাই ক্যাট, ব্যাড, ম্যাট, প্যান এর মত শব্দগুলোর বানান করতে শিখে যায়। কিন্তু ফ্ল্যাগ বা স্যান্ড এর মত তুলনামুলকভাবে জটিল শব্দগুলোর বানান করতে কিছুটা বেগ কিন্তু পেতেই হয়। এভাবে উচ্চারন থেকে সাউন্ড ধরে বানান করাটা অনেকটাই সহয। আমি যখন আমার স্কুল কতৃপক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলচনা করলাম কেউ এই পদ্ধতি গ্রহন করতে সম্মত ছিল না। সবার নানা জ্ঞ্যান-গর্ভ কথা শুনে আমি নিজেও যে কিছুটা দ্বিধায় পরে যাইনি, তাও না। তবে আমি একরকম জোড় করেই শিশুদের এভাবে পড়ানো শুরু করলাম। এবং শিশুরা যেমন মজা পেলো তেমন ওদের শেখাটাও লক্ষ্য করলাম অনেকটা ত্বরান্বিত হচ্ছে। এখন আমার প্লে ক্লাশের বাচ্চারা বিগিনিং সাউন্ড বা অদ্যাক্ষর এবং এন্ডিং সাউন্ড বা অন্ত্যাক্ষর চিনতে ভুল করে না, যেখানে আগে তাদের সিলেবাস বা পাঠ্যক্রম কেবল মাত্র এ্যালফাবেট বা অক্ষর চেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। শিশুদের কোনোরকমের চাপ প্রয়োগ করে নয়, আনন্দ দিয়েই এগুলো গ্রহন করানো যেতে পারে। কারন শিশুদের গ্রহন ক্ষমতা আমাদের চাইতে ঢেড় বেশী। প্রচলিত পদ্ধতিতে সাধারনত বানানটা শিখিয়ে দেয়া হয়, আর তাতে করে শিশুদের সহজাত চিন্তা করে কোনো কিছু বের করার ক্ষমতাটা অনেক ক্ষেত্রেই নষ্ট করে দেয়া হয় বলে আমার ধারনা। উপরে বর্নিত পদ্ধতিতে শিশুদের বানান করে শব্দগঠনের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ মস্তিষ্কের অনুশীলন এবং ব্যাবহার হয়। এই পদ্ধতিতে বানান করে লেখা বা শব্দ উৎ&#8217;পাদন যেভাবে করা হয়, তেমনি এর উল্টো পদ্ধতিতে তাদের বানান করে পড়তে শিখানো যেতে পারে। ম্যাচিং পদ্ধতিতে ছবির সাথে শব্দ বা অক্ষর মিলাতে বলা যেতে পারে। এভাবে করলে তাদের বানান করে লিখতে পারা এবং বানান করে পড়তে পারা দুই-ই সহজ এবং সুন্দর ভাবে শিখানো যেতে পারে।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/25771/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>42</slash:comments> </item> <item><title>মুসলিম ইন আমেরিকা-৪ঃ স্ট্যান্ড-আপ্ কমেডি</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/shahedccc/25438</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/shahedccc/25438#comments</comments> <pubDate>Sun, 20 Jun 2010 03:04:43 +0000</pubDate> <dc:creator>শাহেদ_৯৭-০৩</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[কুমিল্লা]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25438</guid> <description><![CDATA[মুসলিম ইন আমেরিকা-১ মুসলিম ইন আমেরিকা-২ মুসলিম ইন আমেরিকা-৩ &#8220;America was built by the Immigrants&#8221;-আমেরিকাতে এই উক্তিটি বহুল আলোচিত এবং সর্বজনবিদিত। আমেরিকাকে গড়ার ক্ষেত্রে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব অভিবাসীদেরই কম-বেশি অবদান রয়েছে। নতুন অভিবাসী হিসেবে এখানে যারাই এসেছে, তাদের সবাইকেই এখানে প্রথম প্রথম একটি সংকটময় সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। ১৬০০ এবং ১৭০০ শতকের দিকে যারা এখানে আসে, তাদের [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.cadetcollegeblog.com/shahedccc/11136">মুসলিম ইন আমেরিকা-১</a><br /> <a href="http://www.cadetcollegeblog.com/shahedccc/11376">মুসলিম ইন আমেরিকা-২</a><br /> <a href="http://www.cadetcollegeblog.com/shahedccc/12757">মুসলিম ইন আমেরিকা-৩</a></p><p>&#8220;America was built by the Immigrants&#8221;-আমেরিকাতে এই উক্তিটি বহুল আলোচিত এবং সর্বজনবিদিত। আমেরিকাকে গড়ার ক্ষেত্রে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব অভিবাসীদেরই কম-বেশি অবদান রয়েছে। নতুন অভিবাসী হিসেবে এখানে যারাই এসেছে, তাদের সবাইকেই এখানে প্রথম প্রথম একটি সংকটময় সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। ১৬০০ এবং ১৭০০ শতকের দিকে যারা এখানে আসে, তাদের জন্য প্রধান সংকটসমূহ ছিলঃ জাতিগত দাঙ্গা, অভাব, অজানা ভূমি, রোগ-বালাই ইত্যাদি। ১৯০০ শতকের পরে এখানে যারা আসে, তাদের জন্য অন্যতম প্রধান সমস্যা হলঃ জাতিগত/বর্ণগত বৈষম্য (racial discrimination) এবং stereotyping, এবং ৯/১১ এর পরবর্তী সময়ে আমেরিকান মুসলিমদেরকে এই সমস্যা দুটিকে সবথেকে প্রকটভাবে ফেইস করতে হয়েছে। যদিও আমেরিকাতে বসবাসকারী বেশিরভাগ মুসলিমই শান্তিপ্রিয় এবং দায়িত্ববান, তথাপি মুসলিম নামধারী কোনো লোক কোথাও একটি অঘটন ঘটালে তার রেশ ধরে আমেরিকার বেশিরভাগ মুসলমানকে সেই অঘটনের জন্য দায়ী করার একটি প্রবনতা র‌য়েছে অনেক আমেরিকানদের মধ্যে&#8230;অবশ্য আমি তাদেরকে খুব একটা দোষারোপ করব না এই জ়ন্য যে, ব্যক্তিগত ভাবে আমি যদি নন-মুসলিম হতাম এবং মুসলিমদের ব্যপারে যদি আমার একমাত্র জ্ঞানের উৎস হত FOX news আর CNN, তবে আমার দৃষ্টিভঙ্গিও হয়ত তাদের মতই হত&#8230;</p><p>আমেরিকানদের মন থেকে এই মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব দূরিকরনের একটি প্রধান উপায় হলঃ পারস্পরিক সচেতনতা বৃ্দ্বি, আর এই লক্ষ্যটি অর্জনের জন্য একদল আমেরিকান মুসলিম বেছে নিয়েছে <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Stand-up_comedy">স্ট্যান্ড-আপ্ কমেডিকে</a>। বৈষম্য দূর করতে স্ট্যান্ড-আপ্ কমেডির ব্যবহার এই প্রথম নয়। আমেরিকাতে আগত আগের অনেক অভিবাসী জনগষ্ঠীই একে ব্যবহার করে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যকে দূর করতে। একজন স্ট্যান্ড-আপ্ কমেডিয়ানের  এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষকে হাসানো, আর মানুষ যখন হাসে তখন তাদের মনের দরজা উন্মুক্ত হয় বেশি, আর এমতাবস্থায় তাদের কাছে একটি পজিটিভ মেসেজ কনভে করা সহজতর হয়। তো আর কথা না বাড়িয়ে আমেরিকার কয়েকটি স্ট্যান্ড-আপ্ কমেডি দলের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেইঃ</p><p><a href="http://www.allahmademefunny.com/">আল্লাহ মেইড মি ফানিঃ</a><br /> <a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/allah-made-me-funny.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/allah-made-me-funny.jpg" alt="" title="allah-made-me-funny" width="403" height="395" class="aligncenter size-full wp-image-25538" /></a><br /> তিন সদস্যের এই গ্রুপটি ইতিমধ্যে কমেডি দুনিয়াতে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং আমেরিকার বিভিন্ন বড় বড় শহর ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ট্যুর করেছে। এই গ্রুপটির মূলত কমেডির মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে আমেরিকান মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবন, আমেরিকার পোষ্ট ৯/১১ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী ইত্যাদি। এই গ্রুপটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট হলঃ বাচ্চা-বুড়ো সবাই তাদের কমেডি উপভোগ করতে পারে&#8230;কারন তাদের কমেডিতে অশ্লিল শব্দের (F-words) ব্যবহার নেই-যা কিনা অন্যান্য স্ট্যান্ড-আপ্ কমেডিয়ানদের ক্ষেত্রে একটি অতি সাধারন ব্যাপার। এই গ্রুপটির প্রধান দুটি কমেডি ট্যুর এর ট্রেইলার দেখতে পারেন এইখানেঃ <a href="http://www.youtube.com/watch?v=hmOvIwH4DTg">১</a> এবং <a href="http://vids.myspace.com/index.cfm?fuseaction=vids.individual&#038;videoid=43000096">২</a>।<br /> আল্লাহ মেইড মি ফানি এর একটি পূর্নাংগ শো দেখতে পারবেন <a href="http://video.google.com/videoplay?docid=-6946730478661467537#">এইখানে<br /> </a>এই গ্রুপটির তিনজন সদস্য হলেনঃ<br /> <a href="http://www.azhar.com/">আজহার উসমান</a>ঃ (ইউটিউব লিঙ্কঃ <a href="http://www.youtube.com/watch?v=HPPu08awM-A&#038;feature=related">১</a>, <a href="http://www.youtube.com/watch?v=QIMPFCU7lhU&#038;feature=channel">২</a>)ইন্ডিয়ান বংশদ্ভুত আজহার উসমানের ল-এর উপর ডিগ্রী থাকলেও বর্তমানে <a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/az-us.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/az-us-223x300.jpg" alt="" title="az us" width="223" height="300" class="alignright size-medium wp-image-25571" /></a>স্ট্যান্ড-আপ্ কমেডিই তার ফুল টাইম পেশা। কমেডিয়ান হিসেবে তার লক্ষ্যঃ &#8220;হাস্যরসের মাধ্যমে শান্তির আগমন (waging peace through humor)&#8221;. আল্লাহ মেইড মি ফানি ছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য প্রযেক্টগুলো হলঃ যিউইশ রেবাই বব আল্পারে সাথে &#8220;One Muslim. One Jew. One stage. Two very funny guy&#8221; এবং রাজিব সাত্তায়ালের সাথে &#8220;Make chai, Not war.&#8221;</p><p><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Preacher_Moss">প্রিচার মসঃ</a> (ইউটিউব লিঙ্কঃ <a href="http://www.youtube.com/watch?v=EbJySe-L-yM">১</a>, <a href="http://www.youtube.com/watch?v=WDKZ5CvwA-w">২</a>)<br /> আফ্রিকান-আমেরিকান বংশদ্ভুত প্রিচার মস হলেন একজন <a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/pre-moss.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/pre-moss-200x300.jpg" alt="" title="pre moss" width="200" height="300" class="alignright size-medium wp-image-25573" /></a>কনভার্ট মুসলিম এবং আল্লাহ মেইড মি ফানির প্রধান উদ্যোক্তা। এই শো ছাড়াও তিনি আরো তিনটি জনপ্রিয় টিভি প্রোগ্রামের লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেগুলো হলঃ সেটারডে নাইট লাইভ, জর্জ লপেজ শো, ইন লিভিং কালার-মাই ওয়াইফ এন্ড কিডস। সমসাময়িক কালের সমাজের গুরুত্বপূর্ন ইস্যুগলো হাস্যরসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা তার কমেডির অন্যতম স্টাইল। কমেডি ছাড়াও  তিনি মানুষিক বিকারগ্রস্থদের স্কুলে শিক্ষক হিসেবে আট বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।</p><p><a href="http://www.guardian.co.uk/stage/2009/mar/27/mo-amer-arab-american-standup-texas">মো আমেরঃ</a>(ইউটিউব লিঙ্কঃ <a href="http://www.youtube.com/watch?v=Ck_CnHhxUrk&#038;feature=related">১</a>, <a href="http://www.youtube.com/watch?v=2I6N0WJzYM8&#038;feature=related">২</a>) উনিভার্সিটি স্টুডেন্টদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় মো আমের প্যালেস্টাইনের বংশদ্ভুত হলেও তার জন্ম কুয়েতে। পারস্য গালফ ওয়ারের সময় <a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/Mo-Amer-002.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/Mo-Amer-002-300x180.jpg" alt="" title="Mo-Amer-002" width="300" height="180" class="alignright size-medium wp-image-25574" /></a>তিনি তার পরিবারের সাথে রেফিউজি হিসেবে আসেন টেক্সাসে। ২০০৪ সালে সারা আমেরিকা থেকে বাছাইকৃত ১২ জন কমেডিয়ানের মধ্যে তিনি একজন যাদের লাস ভেগাস কমেডি ফেস্টিভেলে পারফর্ম করার সুযোগ হয়। আমেরিকা ছাড়াও তিনি পারফর্ম করেছেন ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং সাইথ আফ্রিকাতে।</p><p><a href="http://www.funnymentalists.com/">দি মুসলিম ফানিমেন্টালিস্ট</a>ঃ<br /> <a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/muslim-funnymentalists.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/muslim-funnymentalists.jpg" alt="" title="muslim-funnymentalists" width="805" height="256" class="aligncenter size-full wp-image-25543" /></a><br /> এই কমেডি গ্রুপটি তুলনামুলকভাবে নতুন হলেও, এই গ্রুপের তিনজন সদস্যের কেউই কমেডি দুনিয়াতে নতুন নন। এই গ্রুপটির অন্যতম বৈশিষ্ট হল, এদের কমডিগুলোতে দর্শকরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে। আল্লাহ মেইড মি ফানির মত এদের শোতেও অশ্লিল শব্দের (F-words) ব্যবহার নেই এবং বাচ্চা-বুড়ো সবাই তাদের কমেডি উপভোগ করতে পারে। এদের ট্যুরের একটি ট্রেইলর দেখতে পারে <a href="http://www.youtube.com/watch?v=L5SBOBUuErY">এইখান</a>।</p><p>এই গ্রুপের তিনজন সদস্য হলেনঃ<br /> <a href="http://amanali.net/">আমান আলীঃ</a> (ইউটিউব ভিডিও লিঙ্কঃ <a href="http://www.youtube.com/watch?v=prJpaMMPF1k&#038;feature=related">১</a>,<a href="http://www.youtube.com/watch?v=45BTxF-FCIY&#038;feature=related"> ২</a>, <a href="http://www.youtube.com/watch?v=EusOx4JlB74">৩</a>) ইন্ডিয়ান বংশদ্ভুত আমান আলী সাধারনত নিউ-ইয়র্কের বিভিন্ন কমেডি ক্লাব এবং কলেজ <a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/aman-ali.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/aman-ali-150x150.jpg" alt="" title="aman ali" width="150" height="150" class="alignright size-thumbnail wp-image-25575" /></a>ক্যাম্পাসগুলোতে পারফরম করে থাকেন। বর্তমানে কমেডি তার পেশা হলেও, তিনি জার্নালিজম এর উপর পড়াশোনা করেছেন, এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলের রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছেন।</p><p>আসিফ আলীঃ শিকাগোর বাসিন্দা আসিফ আলী আমেরিকার নামকরা কমেডি ক্লাবগুলোতে পারফরম করে থাকেন। কমেডিয়ান হিসেবে তার অন্যান্য <a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/AsifAli.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/AsifAli-150x150.jpg" alt="" title="AsifAli" width="150" height="150" class="alignright size-thumbnail wp-image-25577" /></a>সাফল্যগুলো হলঃ ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ে কমেডি ফেস্টিভেলে ১ম স্থান এবং এইচবিও এর &#8220;লাকি-২১&#8221; কমেডি কম্পিটিশনের ফাইনালিস্ট।</p><p><a href="http://www.alistandup.com/index.html">বাবা আলিঃ</a> দি মুসলিম ফানিমেন্টালিস্ট গ্রুপের সবথেকে জনপ্রিয় কমেডিয়ান <a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/baba.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/baba-150x150.jpg" alt="" title="baba" width="150" height="150" class="alignright size-thumbnail wp-image-25578" /></a>হলেন বাবা আলী। তিনি মূলত তার জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ইউটিউব ভিডিও ব্লগিং এর মাধ্যমে। তার ইউটিউব চ্যানেলের নাম <a href="http://www.youtube.com/ummahfilms#p/u/7/F4jQi0Gjy3M">উম্মাহ ফিল্মস</a> (<a href="http://www.ummahfilms.com/">পৃথক ওয়েবসাইট</a>)। পশ্চিমা বিশ্বের মানুষদের মন থেকে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারনার অবসান এবং এইখানকার মুসলিম সম্প্রদায়কে ইসলামী জীবনযাপনে উব্দুদ্ধ করা তার ভিডিও ব্লগিং এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বাবা আলীর ইউটিউব ভিডিও ব্লগ সিরিজগুলো পশ্চিমা বিশ্বের তরুন মুসলিমদের কাছে উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তার ইউটিউব ভিডিও সিরিজ &#8220;The Reminder&#8221; এর ৫ মিলিয়ন ভিউ কাউন্ট রয়েছে। তার ভিডিও ব্লগ গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখক &#8220;ভিউড&#8221; ভিডিওগুলো হলঃ <a href="http://www.youtube.com/watch?v=p2Clk5lNUdQ">ওয়াই ইসলাম</a>, <a href="http://www.youtube.com/watch?v=VqmMdPKw378">হু হাইজ্যাকড ইসলাম</a>, <a href="http://www.youtube.com/watch?v=-nolNcJ1G7w">মুসলিম ওয়াইল ফ্লাইং</a>, <a href="http://www.youtube.com/watch?v=i8CHSl_hqRk">জাস্ট ফ্রেন্ড</a> (মাস্রুফ স্পেশাল!!), <a href="http://www.youtube.com/watch?v=UzK4FvwDuSo">রেসিজম এন্ড প্রাইড</a>, <a href="http://www.youtube.com/watch?v=b4Q1vHQxsss">হারাম পুলিস</a>। তার কমেডির কাজের জন্য <a href="http://www.nytimes.com/2008/05/08/us/08video.html">নিউ-ইয়র্ক টাইমস</a>, এল-এ টাইমস, ইউ-এস-এ টুডের মত নামকরা নিউজ এজেন্সির প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বর্তমানে তিনি উম্মাহ ফিল্মের দ্বারা নির্মানকৃত পূর্নদৈর্ঘ্য ছবি &#8220;<a href="http://tncmovie.blogspot.com/2007/12/behind-scenes-footahe-from-tnc-pt-1.html">Tomorrow never comes</a>&#8221; এর শুটিং এর কাজে ব্যস্ত আছেন।</p><p>[ডিস্ক্লেইমারঃ<br /> ১। দেশে থেকে যারা স্লো নেট কানেকশন দিয়ে সিসিবিতে ঢুকছেন, তাদের ভিডিওগুলো দেখতে সমস্যা হতে পারে, এইজন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কারন, ভিডিওগুলো ছাড়া এই ব্লগটি পড়ার আনন্দ কিছুটা হ্রাস পাবে।</p><p>২। স্ট্যান্ড আপ কমেডি মূলত একটি দেশ/জাতি/গোষ্টির কালচারকে ঘিরে করা হয়ে থাকে, এবং স্ট্যান্ড আপ কমেডিকে পুরোপুরি উপভোগ করতে হলে সেই কালচার সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সুতরাং, আমেরিকান কালচারের সাথে পরিচিত না থাকলে স্ট্যান্ড আপ কমেডির জোক্সগুলো অনেক ক্ষেত্রে রসহীন মনে হতে পারে।]</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/shahedccc/25438/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>17</slash:comments> </item> <item><title>প্রসঙ্গঃ সিসিবি রেডবুক পরিমার্জনা</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/adjutant/25735</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/adjutant/25735#comments</comments> <pubDate>Sun, 13 Jun 2010 21:31:21 +0000</pubDate> <dc:creator>ব্লগ এডজুট্যান্ট</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[কলেজ সমূহ]]></category> <category><![CDATA[নোটিশ বোর্ড]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25735</guid> <description><![CDATA[সিসিবি&#8217;র রেডবুকটির সাথে আশা করি সদস্যদের সবারই পরিচয় আছে। সময়ের স্রোতে আমরা রেডবুকে কিছু নতুন নির্দেশনা যোগ করতে যাচ্ছি। সদস্যদের মতামত এবং অবগতির জন্য বিষয়গুলো এই পোস্টে সন্নিবেশিত হলো। পোস্টটি পড়ার পর নতুন কোন নীতি সংযোজন বা কোন নীতি সংশোধনের ব্যাপারে যে কেউ পরামর্শ দিতে পারেন। পরামর্শ যুক্তিযুক্ত এবং সময়োপযোগী হলে সেটি রেড বুকে যোগ [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>সিসিবি&#8217;র রেডবুকটির সাথে আশা করি সদস্যদের সবারই পরিচয় আছে। সময়ের স্রোতে আমরা রেডবুকে কিছু নতুন নির্দেশনা যোগ করতে যাচ্ছি। সদস্যদের মতামত এবং অবগতির জন্য বিষয়গুলো এই পোস্টে সন্নিবেশিত হলো। পোস্টটি পড়ার পর নতুন কোন নীতি সংযোজন বা কোন নীতি সংশোধনের ব্যাপারে যে কেউ পরামর্শ দিতে পারেন। পরামর্শ যুক্তিযুক্ত এবং সময়োপযোগী হলে সেটি রেড বুকে যোগ করে দেয়া হবে।</p><p><strong>১. </strong> বর্তমান ক্যাডেটদের জন্য সিসিবিতে লেখালেখি কিংবা অংশগ্রহণের দরজাটি বিভিন্ন সঙ্গত কারণে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ আমরা আর আপাততঃ বর্তমানে ক্যাডেট কলেজে অধ্যয়নরতদের সিসিবিতে লেখালেখির সুযোগটি দিচ্ছিনা। ক্যাডেট কলেজ কিছু বৈশিষ্ট্যপূর্ণ শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। সেইদিকে নজর দিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।</p><p><strong>২.</strong> প্রাক্তন ক্যাডেটদের পরিবারের সদস্যদের সিসিবি&#8217;র সদস্যপদের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া অন্যদের অতিথি একাউন্টে লেখার সুযোগটি আর থাকছেনা। অর্থাৎ সিসিবিতে লিখতে হলে অবশ্যই কোন প্রাক্তন ক্যাডেটের পরিবারের সদস্য হতে হবে। তবে অন্যান্যদের মন্তব্যে অংশগ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।</p><p><strong>৩.</strong> একটি ব্যাপারে আমরা সবার একটু মনোযোগ আকর্ষন করতে চাইছি। সিসিবি শুরু থেকেই লেখালেখির জায়গার আবেশে একটি পরিবারের মতন অবস্থান তৈরিতে সচেষ্ট থেকেছে এর সদস্যদের মধ্যে। ক্যাডেট কলেজের সিনিয়রিটি জুনিয়রিটির অভুতপূর্ব স্পিরিট বজায় রাখার ক্ষেত্রে সিসিবি তার অবস্থান স্পষ্ট করতে চায়। বিভিন্ন তর্ক-বিতর্কে অতীতে অনেক সময়ই অনেক সদস্য এই অনন্য স্পিরিটটির ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। এরপরেও সবার মিলিত অংশগ্রহণে আমরা আমাদের পরিবারটিকে ক্যাডেটিয় সংস্কৃতির উজ্জ্বল ধারাবাহিকতায় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি বলেই প্রতীয়মান হয়। যারা নতুন সদস্য হচ্ছেন তাদের প্রতি তাই একটি অনুরোধ থাকবে যেকোন যুক্তি-তর্কের মতবিরোধেও এই সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সদস্যের বিভিন্ন মন্তব্য এবং অবস্থানের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ভবিষ্যতে এইধরণের বালখিল্যতার ক্ষেত্রে সিসিবি কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়ার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সিসিবিকে একটি জমাটবদ্ধ আন্তরিক পরিবার হিসেবে দেখতে চাই। দলছুটদের ব্যাপারে তাই এরপর থেকে সবসময়েই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেবল ব্লগে নয়, ব্লগের বাইরেও সিসিবি সংশ্লিষ্ট কোন ধরণের অপপ্রচার কিংবা অসদাচারণ নিরুৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।</p><p><strong>৪. </strong> মন্তব্য করার বিষয়ে সবাইকেই একটু সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। হালকা চালের মন্তব্য করার ক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও পোস্ট লেখকের প্রতি তার লেখার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আরেকটু সতর্কতার সাথে মন্তব্য করতে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।</p><p><strong>৫. </strong> নতুন যারা রেজিস্ট্রেশন করবেন তাদের বর্তমান ফর্মেটে নাম এবং কলেজে অবস্থানের সময়কাল উল্লেখ করে রেজিস্ট্রেশন করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। কোন ধরণের ছদ্মনামকে আমরা নিরুৎসাহিত করছি। আমরা আশা করি এখানে যারা লিখবেন তারা নিজ নিজ নামেই লিখবেন। অন্যান্য কমিউনিটি ব্লগের সাথে সবদিক থেকেই স্বতন্ত্র্য থাকার প্রয়াস হিসেবেও ধরা যেতে পারে এটিকে।</p><p><strong>৬.</strong> সিসিবি&#8217;তে কমেন্ট এর সাথে সবার আই পি&#8217;র ট্র্যাক রেকর্ডও যোগ হয় যা কেবল এডমিন প্যানেল দেখতে পারেন। অতীতে অনেককেই নিজের আইডি লুকিয়ে বেনামে অস্থিতিশীল এবং বাজে মন্তব্য করতে দেখা গেছে। ভবিষ্যতে এরকম কাউকে করতে দেখা গেলে তার পরিচয় সবাইকে জানিয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ সহকারে বহিষ্কার করা হবে।</p><p><strong>৭.</strong> যেকোন মতের আদর্শের ধরণের লেখার জন্য আমরা সিসিবি&#8217;কে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। বিতর্ক আসবেই। আমরা চাইব তা যেন কখনোই মাত্রা না ছাড়ায়। এধরণের মাত্রালঙ্ঘিত অবস্থায় মডারেটরদের পরামর্শ অনুযায়ী এডজুট্যান্ট যেকোন ধরণের পদক্ষেপ নিতে পারবেন যেকোন সদস্যের বিরুদ্ধে।</p><p><strong>৮.</strong> আমরা লেখার গুণগতমানের দিকে এবার একটু নজর দিতে চাই। কন্ট্রিবিঊটর বা একদম নতুন সদস্যের লেখা প্রকাশিত না হলে সেই লেখার ভিতরে মডারেটর প্রদত্ত নোট দেখে নিতে বলা হচ্ছে। বানানের ব্যাপারে যত্নশীল হবার অন্য আহবান জানানো যাচ্ছে সকল সদস্যের প্রতি। অনেক সুন্দর লেখাও বানান ভুলের কারণে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। মূলত ক্যাডেটদের ব্লগ হওয়া সত্ত্বেও সিসিবি এখন ক্যাডেট পরিবার এবং পরিচিত পরিমণ্ডলেও যথেষ্ট সমাদৃত এবং পঠিত। এমতাবস্থায়, সিসিবির সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে লেখার বিষয়বস্তুর ব্যাপারেও আরেকটু সতর্ক হবার আহবান জানানো হচ্ছে।</p><p><strong>৯.</strong> সিসিবি একটি বাংলা ব্লগ। আমরা আমাদের দৈনন্দিন কথা বার্তায় যেভাবে ইংরেজির ব্যবহার করি, সেইভাবে পোস্টে এবং মন্তব্যে ইংরেজি বাংলা মিশিয়ে কিংবা ইংরেজির প্রাধান্য বা ইংরেজি অক্ষরের ব্যবহার চরম ভাবে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।</p><p><strong>১০.</strong> ব্লগের প্রাণ মন্তব্যে। মন্তব্যে ইমোটিকন ব্যবহারে একটু মিতব্যয়ী হবার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ইমোটিকন সমৃদ্ধ মন্তব্য স্প্যাম চিহ্নিত হবার সম্ভাবনা থাকে।</p><p>সবাইকে আলোচনায় সাবলীল অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ধন্যবাদ।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/adjutant/25735/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>120</slash:comments> </item> <item><title>স্বজাত্যবোধ, জাতীয়তাবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/gulshan/25706</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/gulshan/25706#comments</comments> <pubDate>Sat, 12 Jun 2010 17:37:19 +0000</pubDate> <dc:creator>গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[ঝিনাইদহ]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25706</guid> <description><![CDATA[কিছুদিন ধরে মাথায় এই বিষয়গুলো নিয়ে কিছু চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। ভাবলাম লিখে ফেলি। অনেক ভারী ভারী কথাবার্তা। আবার এইটাই প্রথম পোস্ট। সবাই আশা করি সেইভাবেই দেখবেন। স্বজাত্যবোধঃ স্বজাত্যবোধ মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যেই পড়ে। শুধু মানুষ না, এটা সম্ভবত সব প্রাণীদের বেলাতেই সত্যি। যেখানে মানুষের জন্ম হয়, যে পরিবেশে সে বেড়ে ওঠে, বা যেখানে তার উল্লেখযোগ্য কিছু সময় [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>কিছুদিন ধরে মাথায় এই বিষয়গুলো নিয়ে কিছু চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। ভাবলাম লিখে ফেলি। অনেক ভারী ভারী কথাবার্তা। আবার এইটাই প্রথম পোস্ট। সবাই আশা করি সেইভাবেই দেখবেন।</p><p><strong>স্বজাত্যবোধঃ</strong><br /> স্বজাত্যবোধ মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যেই পড়ে। শুধু মানুষ না, এটা সম্ভবত সব প্রাণীদের বেলাতেই সত্যি। যেখানে মানুষের জন্ম হয়, যে পরিবেশে সে বেড়ে ওঠে, বা যেখানে তার উল্লেখযোগ্য কিছু সময় কাটে, সেই পরিবেশের, সেই পরিবেশের মানুষদের এমনকী অন্যান্য প্রাণীদের সাথেও একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক নিছক স্বভাবজাত ভালবাসার সম্পর্ক। সমষ্টিগত স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের উপর প্রাধান্য দেওয়ার শুরুও এখান থেকেই।</p><p><strong>জাতীয়তাবাদঃ</strong><br /> স্বজাত্যবোধ থেকেই জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। কিন্তু কখনো কখনো তা ভালর বদলে খারাপের দিকে যায়। বর্তমানে জাতীয়তাবাদের যেসব বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তা হল-<br /> -জাতির সংগ্রামের ইতিহাসকে Highlight করা। &#8220;গৌরবময় অতীত&#8221; এর ধারণা সব জাতির মধ্যেই দেখতে পাওয়া যায়।<br /> -জাতির সাথে যেসব অন্যায় করা হয়েছে সেগুলোকে Highlight করা। কিন্তু নিজেরা অন্যান্য জাতির সাথে কোন অন্যায় করলে সেগুলোকে চেপে যাওয়ার চেষ্টা করা।<br /> -জাতির জনপ্রিয় নেতাদের দোষকে স্বীকার না করা বা চেপে যাওয়া।<br /> -জাতি/নেতার জন্য নীতিকে অনুগ্রভাবে(mildly) ছাড় দেয়া।</p><p><strong>সাম্প্রদায়িকতাঃ</strong><br /> আমার মতে, সাম্প্রদায়িকতা হল উপরোক্ত জাতীয়তাবাদেরই চরম পর্যায়। আর ঘৃণাই সাম্প্রদায়িকতার মূল ভিত্তি। সাম্প্রদায়িকতার যেসব বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তা হল-<br /> -&#8221;আমরাই ঠিক, অন্যরা সব ভুল&#8221; কোন যুক্তির তোয়াক্কা না করেই এধরণের ধারণা পোষণ করা।<br /> -অন্যান্য গোষ্ঠী/জাতির প্রতি ঘৃণাসুলভ ধারণা রাখা। বিশেষ কোন বিরোধী জাতির জন্য এটা সীমা অতিক্রম করতে পারে।<br /> -সম্ভাব্য বা অসম্ভাব্য সকল উপায়ে বিরোধী গোষ্ঠীর দোষ ধরার চেষ্টা করা।<br /> -নিজেদের ভুলকে অস্বীকার করা।<br /> -জাতি/নেতার জন্য নীতিকে বিসর্জন দেয়া।</p><p>আমার মনে হয়, কারও মনোভাব যে এই তিনটা পর্যায়ের যেকোন একটার মধ্যেই থাকবে তা নয়। বরং কারও মনোভাব এই পর্যায়গুলোর মাঝামাঝিও হতে পারে। সেটা লক্ষণগুলোর দ্বারা বিচার করা যেতে পারে। এখানে একটা বিষয় লক্ষ্য করার মত। তা হল, এই স্বজাত্যবোধ -> জাতীয়তাবাদ -> সাম্প্রদায়িকতার ক্রমবিকাশ কিন্তু মানুষকে তার জাতির জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা(spirit)-কে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে সে আত্মত্যাগের মত চরম পরিণতি বরণ করে নিতেও দ্বিধাবোধ করে না। এই অনুপ্রেরণার(spirit) মাধ্যমে অনেক ভাল কিছুও করা সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হল, যেই জিনিস তাকে এই ত্যাগের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে, সেই একই জিনিস তাকে সংকীর্ণমনা করে তুলছে এবং ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। আমরা কি পারি না মন্দটুকুকে বেছে ফেলে ভালটুকু নিয়ে এগিয়ে যেতে?</p><p>জাতীয়তাবাদকে সাধারণতঃ রাষ্ট্রের সাথে আর সাম্প্রদায়িকতাকে ধর্মের সাথে সম্পর্কিত করা হয়। আমি এখানে আমার মত করে ধারণাগুলোর সাধারণীকরণ(generalization) করলাম। এব্যাপারে অন্যদের মন্তব্য জানতে পারলে খুশী হব। আর একটা কথা না বললেই নয়। আমাদের মধ্যে নিজের চেয়ে অন্যের দিকে বেশী তাকানোর প্রবণতা আছে। আসুন অন্যের দিকে না তাকিয়ে নিজেই নিজের ভুলগুলো ধরার চেষ্টা করি। তাহলেই ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যায়!</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/gulshan/25706/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>26</slash:comments> </item> <item><title>আমার এবং আমাদের সন্তানের জন্য আমার শিক্ষানীতি</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/25708</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/25708#comments</comments> <pubDate>Sat, 12 Jun 2010 15:31:21 +0000</pubDate> <dc:creator>সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category> <category><![CDATA[পড়াশোনা]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[ময়মনসিংহ]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25708</guid> <description><![CDATA[পড়াশুনা এবং পাঠ্যপুস্তকের প্রতি অনীহা আমার বরাবরই। অন্যান্য বাবা মায়ের মত আমার মা বাবা ও দাবী করেন যে ছেলেবেলায় আমার ব্রেইন নাকি দারুণ সার্প ছিলো। ক্লাস ফোরের পর্বশেষ পরীক্ষার আগের সন্ধ্যার ঘটনা, মা সিলেবাস হাতে নিয়ে দেখেন আমি কিছুই পারি না। খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রচন্ড রাগারাগি করলেন এবং এক পর্যায়ে যথারীতি আমার উদ্ধারকারী জাহাজ &#8220;হামজা&#8221; [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>পড়াশুনা এবং পাঠ্যপুস্তকের প্রতি অনীহা আমার বরাবরই। অন্যান্য বাবা মায়ের মত আমার মা বাবা ও দাবী করেন যে ছেলেবেলায় আমার ব্রেইন নাকি দারুণ সার্প ছিলো। ক্লাস ফোরের পর্বশেষ পরীক্ষার আগের সন্ধ্যার ঘটনা, মা সিলেবাস হাতে নিয়ে দেখেন আমি কিছুই পারি না। খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রচন্ড রাগারাগি করলেন এবং এক পর্যায়ে যথারীতি আমার উদ্ধারকারী জাহাজ &#8220;হামজা&#8221; অর্থাৎ আমার বাবা এসে আমাকে মায়ের বকুনীর হাত থেকে রক্ষা করে নিয়ে গেলেন। বাকিটা সময় উনি পড়ে গেলেন আর আমি শুনে গেলাম। এই ভাবে ৮ টা বিষয়ের উপর পরীক্ষা শেষ করলাম এবং ফলাফল দেখা গেল খুব একটা ভাল না করলেও প্রথম ১০ জনের ভিতর ছিলাম (পাবলিক স্কুলে পড়েছি, তাই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা একেবারে কম ভাবার কারন নাই)| বাবার তৈরী করা এই &#8220;ওয়ান নাইট প্রিপারেশন&#8221; এর খারাপ অভ্যেসটা আমাকে আমার ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত তাড়া করে নিয়ে গেছে। পরে বুঝেছি, খুব খারাপ একটা অভ্যেস। কিন্তু করার কিছুই নাই, কারণ আমার পড়তে বসতে একেবারেই ভাল লাগতো না। শুধু আমি কেনো আমার তো মনে হয় শতকরা ৮০ ভাগ ছাত্র-ছাত্রীরই পরীক্ষার জন্য পড়তে ভাল লাগে না। কলেজে থাকতে, প্রেপ টাইমে পড়ার বইয়ের নীচে গল্পের বই পড়তে গিয়ে কতো না ধরা খেয়েছি তার হিসেব নেই। গল্পের বই, পেপার-পত্রিকা পড়তে এতো ভালো লাগে কিন্তু পাঠ্যপুস্তকের প্রতি কেন এতো বিতৃষ্ণা?</p><p>এতক্ষনে নিশ্চই অনেকে বুঝে গিয়েছেন কি নিয়ে লিখতে যাচ্ছি। আর যারা এখনও বোঝেননি তাদের জন্য আরেকটি ঘটনা বলি। ক্লাস এইট থেকে নাইনে উত্তীর্ন হলাম মাঝামাঝি একটা রেজাল্ট নিয়ে এবং স্বাভাবিকভাবেই সায়েন্স পেলাম। কিন্তু মাস দুই একের মধ্যেই আবিষ্কার করলাম যে বিজ্ঞানের জীবন সংক্রান্ত বিষয়টি তে আমি কোনো রকমের কোনো আগ্রহই পাচ্ছি না। যিনি বিষয়টি পড়াতেন তার প্রতি যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদর্শন করেই বলছি, ক্যাডেটদের তিনি দু চোক্ষে দেখতে পারতেন না এবং সারাক্ষন অকথ্য ঝাড়ির উপর রাখতেন। যাই হোক, তিনি যখন ক্লাশে আসতেন তাকে দেখা মাত্রই আমার হার্ট বী্ট দ্বিগুন, কখনো কখনো তিন বা চারগুন বেড়ে যেতো এবং উনার লেকচার আমার কাছে হায়ারোগ্লিফিক্স পর্যায় কিছু একটা মনে হতো। তাই না বুঝেই উনার প্রেপটাস্ক করে নিয়ে আসতাম (বলা বাহুল্য অন্যদেরটা টুকলী করে) এবং ক্লাশে বেছে বেছে যখন তিনি আমাকেই পড়া জিজ্ঞেস করতেন আমার নিজেকে তখন সিনেমার সেই নায়িকাটি মনে হতো যে এর আগের সিনে স্মৃতি হারিয়েছে। ক্লাশ নাইনের মাঝামাঝি সময় অর্থাৎ ৬ মাস পর বোধগম্য হল যে, নাহ, এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না, সিদ্ধান্ত নিলাম সায়েন্স ছেড়ে দিব। অনেক বড় একটা সিদ্ধান্ত আর মাচ্যুরিটি অনেক কম ছিল, তাই আবার উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার স্মরণাপন্ন হলাম। বাবা তখন আমাকে সায়েন্স ছেড়ে দেবার সুবিধা অসুবিধাগুলো জানিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেবার উপদেশ দিলেন। আমি আরো এক সপ্তাহ সময় নিলাম চেষ্টা করার জন্য, চিন্তা করার জন্য। বুঝলাম হবে না। হায়ার ম্যাথ ইলেচটিভ সাবজেক্ট রেখে আর্টসে চলে আসলাম এবং এস এস সি তে আর্টসদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে পাস করলাম।</p><p>উপরের ঘটনাটি আমার কৃতিত্ব কিংবা অপছন্দের বিষয় জানান দেবার জন্য লিখিনি। লিখেছি আমার ইদানিং কালের একটা বোধোদয় থেকে। এস এস সি- এর পর অনেকেই এই প্রাণী বা উদ্ভিদ নিয়ে আর পড়ার আগ্রহ বোধ করেনি। বলেছিল, ডাক্তার হবোনা, বায়োলজী ভাল লাগে না। কিন্তু কেন ভাল লাগে না? এইখানেই আমার ছোট্ট একটা উপলব্ধি। আর তা হচ্ছে, একজন ছাত্রের বিশেষ কোনো সাবজেক্টের প্রতি আগ্রহ কিংবা অনাগ্রহ দুই ই তৈরী করতে পারেন একজন শিক্ষক। অন্যভাবে বললে দাঁড়ায়, একজন শিক্ষকই পারেন কোনো ছাত্রের ভিতর পার্টিকুলার কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরী করতে, এবং একজন শিক্ষকের কারনেই কোনো ছাত্রের মধ্যে কোনো পার্টিকুলার সাবজেক্টের প্রতি অনীহা বা ভীতি তৈরী হয়। শুরুতেই বলেছি পড়ালেখার প্রতি আমার অনীহার কথা, তাই পড়ালিখা সংক্রান্ত কোনো ইস্যুই আমার চিন্তার বিষয়বস্তু ছিলনা কখনোই। তবে যখন থেকে জানলাম মা হতে চলেছি, নিজের অজান্তেই হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, লার্নিং সাইকলজী, বিহেভিওরাল সায়েন্স&#8230;এসব ব্যাপারগুলোতে খুব আগ্রহী হয়ে উঠলাম। শারীরিক অসুস্থতার কারনে ৯ টা ৫ টার চাকুরী থেকে ইস্তফা নিতে হল। শুরু করলাম বিষয়গুলো নিয়ে নেটে খোঁজাখুজি। খুজতে খুজতে মজার একটা বিষয় পেয়ে গেলাম &#8220;আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট &#038; এডুকেশান&#8221;| একসময় আমার রাজ্য আলো করে আমার রাজকন্যা এলো। ওর যখন ৮ মাস বয়স, তখন থেকে আমি ওকে সাথে করে আমাদের নিজেদের একটা ছোটখাট স্কুল আছে, সেখানে নিয়মিত আসা যাওয়া শুরু করলাম। সবার ইচ্ছা, এম বি এ ডিগ্রিটাকে এবার কাজে লাগাই, পারিবারিক এই স্কুলের ব্যাবসাটার হাল আমি ধরি। আমি ঘোষণা করলাম আগে টিচার হয়ে কাজ শিখব, তারপর এডমিন ধরব। একেবারে শুরুর দিন থেকেই খুব মজা পেয়ে গেলাম। আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশানের উপর একটা ডিপ্লোমাও করে ফেললাম। আমার মেয়ে তখন হয়ে দাড়ালো আমার প্রাক্টিকেলের সাবজেক্ট! থিওরীতে যা যা শিখি, ওর উপর প্রয়োগ করি। ফলাফল খারাপ হলনা, দেখলাম ওর বয়সী আর দশটা বাচ্চাদের চাইতে ওর লার্নিংটা বেটার হচ্ছে। দাবী করছিনা আমি ভাল শিক্ষক, তবে আমার মেয়ে বা আমার স্কুলের বাচ্চাদের যখন ইন্দ্রিয়-নির্ভর পদ্ধতিতে পড়াই, ফুল, পাখী, পোকা, মাছ, পাতা, বৃষ্টি নিয়ে গল্প করে করে, জ্যান্ত দেখিয়ে বা ধরিয়ে ধরিয়ে পড়াই লক্ষ্য করি ওরা জিনিসগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে গ্রহন করছে এবং এভাবে শিখানোতে ওদের শেখাটাও তুলনামূলকভাবে স্থায়ীও হচ্ছে। এগুলোও তো আসলে বিজ্ঞানের বিষয়, যদিও কাজ করি ৩ থেকে ৬ বছরের বাচ্চাদের নিয়ে। আমার কেজি ক্লাশের ৬ বছর বয়সী বাচ্চারা হার্বিভরাস বা ওমনিভরাস কাকে বলে তা জানে, নার্সারির ৪/৫ বছরের বাচ্চাগুল খুব সুন্দর করে বলে দিতে পারবে দিন আর রাত কি করে হয়, কেন কোনো জিনিস পানিতে ভাসে বা ডুবে যায়! ওদের কে বিজ্ঞান সম্পর্কে খুব প্রাথমিক ধারনা দিতে গিয়ে দেখলাম আরে, এই জীব-বিজ্ঞান বিষয়টা তো বেশ ভালই মজার!!!</p><p>আসলে আমাদের দেশের পড়ানোর পদ্ধতি অনেকটাই মুখস্ত এবং পরীক্ষা নির্ভর হওয়াতে ছাত্র-ছাত্রীরা এর মধ্যে নতুনত্ব, সৃজনশীলতা বা আনন্দদায়ক কিছু খুজে পায় না। আমি মুখস্ত পদ্ধতির বিরুদ্ধে। আমার কাছে মনে হয় শিশুদের সৃজনশীলতা পুরপুরি ধ্বংস করে দেয় এই মুখস্থ প্রথার চর্চা। বলা যেতে পারে পরীক্ষা-পদ্ধতিরও কিছুটা বিরুদ্ধে আমার অবস্থান, তবে তা প্রাথমিক-শিক্ষা পর্যায়ে। আমার মতে লেখাপড়ার প্রতি বিতৃষ্ণার পেছনে পরীক্ষাভীতি আরেকটি অন্যতম কারন। আর সবচাইতে ভয়ংকর ব্যাপার যেটি, তা হচ্ছে, আমাদের দেশে স্কুলগুলোতে একেবারে ছোট বয়স থেকেই পড়ানোর এই পদ্ধতি প্র্যাকটিস করানো হয়। আর এতে করে একেবারে গোড়াতেই একটি শিশুর মনে পড়ালিখার প্রতি বিরূপ প্রভাব বা বিতৃষ্ণা জন্মে যায়। কেউ কেউ সেই বিতৃষ্ণাটাকে কোনোমতে ধামাচাপা দিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উথতে থাকে আবার কেউ হয়তো আমার মত জ্ঞানের কোনো বিশেষ শাখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে রাখে কেউবা আবার মাঝপথেই ঝরে যায়।<br /> তাই আমি খুব চেষ্টা করি যাতে আমার নিজের এবং অন্যের যে সন্তানটির প্রাথমিক শিক্ষার ভার আমার উপর অর্পিত, তারা যেন কোনোভাবেই লেখাপড়া করতে গিয়ে হাপিয়ে না উঠে। আজ যদি তারা হাপিয়ে উঠে বাকি সারাটা জীবন আমার মত পড়ালিখা বিমুখ হয়ে থাকবে। তখন আমি অন্তত কোনোভাবেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না  এই ভেবে যে, আমার ভুল পদ্ধতিতে পড়ানোর কারণে ভবিষ্যতের কিছু সম্ভাবনাময় মেধা বিকশিত হতে পারলো না।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/sabiha/25708/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>58</slash:comments> </item> </channel> </rss>
<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Minified using disk
Page Caching using disk (enhanced)
Object Caching 779/826 objects using disk
Content Delivery Network via static.cadetcollegeblog.com

Served from: www.cadetcollegeblog.com @ 2010-07-30 05:36:30 -->