মতিউর রহমান স্যার

আজকে কেন জানি হঠাৎ অংকের মতিউর রহমান স্যারকে বারবার মনে পড়ছে। একেবারেই কাদামাটির অন্তর, প্রাতঃস্মরণীয় মানুষ, পরম শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ। আমাদেরকে তিনি নিজের সন্তানদের মতই দেখতেন।

স্যারের একটা অদ্ভুত অভ্যাস ছিল। কোন একজনকে ধমক দিতে হলে তিনি বলতেন, “ইডিয়েটস!”, আর একাধিক জন হলে বলতেন “ইউ ইডিয়েট!” গনিতের লোক বলেই বোধহয় গ্রামারের নাম্বারকে খুব একটা তোয়াক্কা করতেন না। তাঁর একটি কথা আমার মাথায় আজও ঘোরে (এবং আমি সবসময় অনুসরণ করার চেষ্টা করি) সেটা হল,

বিস্তারিত»

কুটিলা মুড়া – কুমিল্লা

আমরা আমাদের আদিমতম সমাজবদ্ধ জীবনে শুদ্ধ প্রকৃতির কোলঘেঁষে কি অকৃত্রিমই না ছিলাম। অরণ্য ছিল আমাদের বিচরনভূমি, গুহা কিংবা গাছের কোটর ছিল আশ্রয়স্থল। আমাদের সংস্কৃতি ছিল খাদ্য সংগ্রহ করা – গাছের ফল আর পশু শিকারই ছিল খাদ্যের উৎস। তখনও আমরা খাদ্য উৎপাদনকারী নই। গাছ থেকে ফলমূল আর পশু থেকে মাংস আহরনের মধ্য দিয়ে আমরা উপলব্ধি করলাম যে আমরাও ঐসব গাছপালা আর জীবজন্তু থেকেই উৎপন্ন, ওসব আমাদের সাথে একাত্মা।

বিস্তারিত»

বিনয়ীরাই বিজয়ী

“You must be humble, as it is one of the greatest [forms of] worship.”
-হযরত আলী (রা)

জার্মানির বন শহরে সুরসম্রাট বিটোভেন-এর বাড়ি। তার মৃত্যুর পর সেই বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। জাদুঘরের একটি ঘরে রাখা আছে সেই মহামূল্যবান পিয়ানো যা দিয়ে বিটোভেন সৃষ্টি করেছিলেন অমর সব রাগ।

একবার সেই জাদুঘর পরিদর্শনে এলো লিবারেল আর্টসের জন্যে বিখ্যাত মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাসার কলেজের একদল শিক্ষার্থী।

বিস্তারিত»

সব অশ্রুফোঁটা জল নয় জোলোও নয়

সব অশ্রুফোঁটা জল নয়, জোলোও নয়।
কিছু কিছু ফোঁটা উঠে আসে
জলের নীচে ডুবে থাকা বর্ণহীন ভারী তরল থেকে।
ছোটবেলায় রসায়নে শেখা এইচটুও নয়, এইচটুওটু।
যেন জলের চেয়ে ভারী হাইড্রোজেন পারোক্সাইড।

কিছু কিছু অশ্রুফোঁটার জন্মই হয়
নীরবে নিঃশব্দে ঝরে পড়তে,
নিভৃতে, গোপনে, অন্ধকারের বিষণ্ণতায়।
সৌম্যতায়, মৌনতায়, ঐকান্তিকতায়।
নিবিড় স্মৃতির প্রতিবিম্বে, একান্তে, বিবিক্তবাসে।

কেউ সেসব ঝরে পড়ার সাক্ষী হতে পারেনা।

বিস্তারিত»

প্রেমের সংজ্ঞা

প্রেমের সংজ্ঞা।

এটাতো একলা একটা হৃদয়; কোন মহাকাশ নয়,
ছোট ছোট অভিমান; সুখ জাগানীয়া নয়।
তারপরেও সুযোগ আসে; হিয়ার চতুরতায়,
সত্যি প্রেমের প্রলাপ শোনে; মনের বর্বরতায়।
প্রেমের সংজ্ঞা কে দিতে পার
আমিতো পারিনা মোটে,
তুমি যদি পারো বলনা আমায়
কপালেতে যদি জোটে।।

যতদিন যায় ততবেশী দেখি; নতুনের রং পেলব,
মানেনা কিছুই ঘর সংসার;

বিস্তারিত»

গৃহকর্মী কি বিদেশে পাঠাতেই হবে?

খবরে দেখলাম, আমিরা বিন আয়দান বিন নায়েফ নামে সৌদি এক প্রিন্সেস ফরাসি কাগজ ‘লো মন্দ’-এর কাছে রাজপরিবারের বেশকিছু গোমর ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন ক্রীতদাস প্রথা এখনও সেখানে বহাল আছে। রাজপরিবারের কাছের লোকজন ক্রীতদাস প্রতিপালন করতে পারেন। তারা মেয়েশিশুদের কিনে নিয়ে অন্যের কাছে ‘ভাড়া’ দেন। শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া এবং বাংলাদেশের মেয়েদের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশের কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

বিস্তারিত»

চারপত্র মুড়া – কুমিল্লা

ছোট একটি ইমারত, অন্য সব স্থাপনার তুলনায় চোখে পড়ার মতো নয় – অথচ এর মাঝেই লুকিয়ে ছিল অমূল্য সব তথ্য, ধূলো-মাটির পাজরে আকড়ে থাকা বাংলার এক অজানা ইতিহাস। স্থাপনাটি একটি মন্দির কিন্তু এর গঠন, স্থাপত্যশৈলী, ভূমি পরিকল্পনা ও আকার-আকৃতি বাঙলার সর্বজনীন মন্দির-স্থাপনার তুলনায় ভিন্নধর্মী। তাই বাংলাদেশের প্রত্ন-ইতিহাসের বিস্ময় জাগানিয়া এই মন্দির বেশ কয়েকটি কারণে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ময়নামতি সেনানিবাসের ভিতরে ও ময়নামতি-লালমাই পাহাড় শ্রেণির উত্তরাংশে ১০.৬ মিটার উঁচু এক পাহাড়ের উপরে প্রাচীন বাঙলার এই মন্দিরটি অবস্থিত।

বিস্তারিত»

সবুজ পাতারা একদিন হলুদ হয়ে যায়

সবুজ পাতারা একদিন হলুদ হয়ে যায়,
বৃক্ষ তাদের ছেড়ে দেয়, মাটি ডেকে নেয়।
শিস দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদুমন্দ সমীরণ
গেয়ে যায় জীবনের শেষ গান, অনুক্ষণ।

মর্মর নৃত্যগীতে ওরাও গায় নিপতনের গান,
ভুলে যায় জীবনের যত না বলা মান অভিমান।
সব গ্লানি, সব গৌরব ভুলে দখিনা হাওয়ায়,
আনন্দ বিষাদ নিয়েই ওরা নেচে নেচে যায়।

ঊর্ধ্ব থেকে পরিত্যাক্ত হয়ে ওরা অধঃ পানে ধায়
পরম আদরে মাটি ওদের ডেকে বলে আয় আয়!

বিস্তারিত»

সাগরদিঘী – টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপেজলার লোহানী গ্রামে সাগরদিঘী নামে ঐতিহাসিক এক দিঘী রয়েছে। এলাকাটি বাংলাদেশের অন্যান্য অংশের ন্যায় সমতল নয় বরং এর সাধারন ভূমি উচু, টিলার মতো বা পাহাড়ী। বাংলাদেশের প্রাচীনতম ভূমি গঠনের আদি নিদর্শন মধুপুর-ভাওয়াল গড়ের এক অংশ এটি। ধারনা করি এখানকার সভ্যতার ইতিহাসও তাই বেশ প্রাচীন। গ্রামের পূর্ব দিকে রয়েছে সনাতনী ধর্মের রাধা-কৃষ্ণের তমালতলা, গুপ্ত-বৃন্দাবন আর পশ্চিম পাশে রয়েছে বেহুলা-লক্ষীন্দরের পদ্মদিঘী, লক্ষীন্দরের বাবা চাঁদ সওদাগরের বাড়ী ইত্যাদি।

বিস্তারিত»

অব্যক্ত ভালোবাসা

প্রিয়ার অভিশাপ নিয়ে পুড়ে যাওয়া
ভালোবাসার লতা-গুল্মগুলোর উপহাস,
বারান্দায় টবে ঝুলানো মানিপ্ল্যান্ট গাছটির
অহংকার মেশানো দোল খাওয়া,
কোন কিছুই আমায় আজ
স্পর্শ করেনা প্রিয়তমা।
না দেয়া মিথ্যে আশ্বাস
সত্যভাষণের নীল কষাঘাত,
ছিন্ন ভিন্ন করে দেয় হৃতপিন্ড…।
রক্তক্ষরণ…?
সেতো বুকের মধ্যে চলছে…
চলুক…
না হয় কেউ না-ই বা দেখলো …
না-ই বা জানলো…

বিস্তারিত»

এক ফোঁটা জল

এক ফোঁটা জল,
সেটাও হতে পারে এক সমুদ্র অতল,
যদি সেটা ঝুলে কোন আঁখির পাতায়
হৃদয় মথিত কোন সূক্ষ্ম ব্যথায়।

কবিতা, স্বপ্ন, গান, ঝর্না বহমান,
নিভৃতে বিরহী হৃদয় রোরুদ্যমান,
সব কিছু মূর্ত হয় এক ফোঁটা জলে,
ইতিহাস ভেসে উঠে কত কথা বলে!

ঢাকা
০৬ অক্টোবর ২০১৭
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

বিস্তারিত»

শালবন বিহার – কুমিল্লা

বাংলাদেশ তথা কুমিল্লা জেলার ‘আইকনিক ল্যান্ডমার্ক’ শালবন বিহার ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম বিহারসমূহের মধ্যে অন্যতম। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শ্রমন, ভিক্ষু, আচার্য্য, সিদ্ধি-পুরুষদের মূলতঃ ধর্ম-চর্চ্চা কিন্তু পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কেও পড়াশুনার জন্য আবাসিক শিক্ষালয় হল বিহার। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে বাংলার বিহার স্থাপত্যের অনুকরণে রচিত বৌদ্ধবিহারের অস্তিত্ব নজরে পড়ে। সব বিহারগুলো একদিনে তৈরী হয়নি বটে তবে বুদ্ধদেবের জীবদ্দশাতেই বিহারের প্রচলন শুরু হয়। সাধারনতঃ বর্ষাকালে পর্যটনে বিড়ম্বনা,

বিস্তারিত»

স্মৃতিকাতরতাঃ একটি অপ্রেরিত চিঠি

পাখি,
আমার এখানে এখন দুপুর তিনটে বাজে। তোমার ওখানে রাত তিনটে। আমাকে এ সময় চিরাচরিত দিবানিদ্রায় পেয়ে বসে। আজও আমার দু’চোখ ভরে ঘুম নেমে আসছে। তুমিও এখন এই মধ্যরাতে নিশ্চয়ই গভীর ঘুমে নিমজ্জিত। হয়তো কিছু স্বপ্ন তোমায় ঘিরে রেখেছে, হয়তো নয়। এই সেদিনও এ সময়ে তুমি আমার সাথেই ঘুমাতে, আমার ঘাড়ে কিংবা বুকে মাথা রেখে। আমি গান শুনতে শুনতে ঘুমাতে ভালবাসি, তুমিও। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো,

বিস্তারিত»

অতঃপর ব্লগর ব্লগর – ৯ : প্রসঙ্গ ‘হাকুল্লা’

অনেক দিন বাদে ব্লগর ব্লগর নিয়ে হাজির হলাম।
জীবিকার সাথে জীবনের সমঝোতায় আজকাল ক্লান্ত হয়ে যাই সহজেই। ব্যস্ত রুটিনের বেড়াজালে ক’দিন আগে বন্ধু ‘মইন’ এর সাথে ক্লাবে দেখা। ও বললো – “যোবা’র বইটা পড়ছস? জোস লেখে কিন্তু।ফেসবুকে তো ও রেগুলার দারুন দারুন স্ট্যাটাস দেয়।” … নজরুল হাউসে আমাদের পিঠাপিঠি ব্যাচের যোবা’র সাথে আমার খাতির এর জায়গা হলো – বাস্কেটবল। দুর্দান্ত খেলে। ‘মেকা’ রি-ইউনিয়নে গেলে বাস্কেট গ্রাউন্ডে ওর সাথে খেলতে গেলেই ফিরে পাই ফেলে আসা দিনের আমেজ।।

বিস্তারিত»

অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজঃ ইংলিশ খেলোয়াড়দের অগ্নি পরীক্ষা!

ঐতিহাসিকভাবেই ইংলিশ খেলোয়াড়দের জন্য প্রতিটি অস্ট্রেলিয়া ট্যুর অত্যন্ত কঠিন। প্রতিপক্ষ হিসেবে শুধু অসি ক্রিকেট দলই নয়, অস্ট্রেলিয়ার সবকিছু এবং সবাইকে মোকাবেলা করতে হয়। এই লড়াই শুরু হয় দেশটিতে পা রাখার আগে থেকে, আক্ষরিক অর্থেই! কেননা, এমনও হয়েছে প্লেনের পাইলট নিজেই ইংলিশ খেলোয়াড়দের স্লেজিং করছেন!!

অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ইংল্যান্ড যে সিরিজ জেতে নি, তা নয়। কিন্তু সংখ্যায় সেটা খুব কম। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমের পর মাত্র চারবার জিতেছে।

বিস্তারিত»