“আমার নাম নুরুজ্জামান মোল্লা……”

মোল্লা স্যারের মত অতীত ইতিহাস বরিশাল ক্যাডেট কলেজের আর কোন শিক্ষক সম্পর্কে জানা যায় না। স্যার যখন আশির দশকের শুরুর দিকে আমাদের কলেজে পোস্টিং এসে অন প্যারেড হলেন ঠিক সেই দিন থেকে তাকে নিয়ে কাব্য গাঁথা রচনার শুরু। ক্লাসে এসে যেই তিনি বললেন, “আমার নাম নুরুজ্জামান মোল্লা…..” ঠিক সাথে সাথেই পিছন থেকে এক ক্যাডেট গলা চিকন করে বলে উঠল,“…..আমি একটা কবিতা বলব”। ব্যস আর যায় কোথায়?

বিস্তারিত»

ছুটি শেষে অভ্যর্থনা

কলেজ গেটে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দারুণ সব উপকরণ হাজির থাকত। কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা নিতেন আর কি। সেগুলো আবার একটার চাইতে আরেকটা কয়েক কাঠি করে বেশি সরেস!

দুলাল ভাই (ও তার দল) এর কাঁচির নিচে ২২/ ২৩ দিনের সযত্ন লালিত মাথাভর্তি চুলের বিসর্জন দিয়ে শুরু হত সেই অভ্যর্থনা পর্ব। করুণ চোখে তাকিয়ে দেখতাম আমার আগের জনের পায়ের কাছে কি নির্দয়ভাবেই না থোকা থোকা চুলগুলো লুটিয়ে পড়ছে।

বিস্তারিত»

৫১ একরে সীমাবদ্ধ জীবন (শেষ পর্ব)

ক্যাডেট কলেজের প্রেক্ষাপটে মসজিদ একটা বড় ভূমিকা রাখে মাগরিবের নামাজের কারণে। বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে সান্ধ্যকালীন রোলকল (যার অন্যতম উদ্দেশ্য সৈনিকের ব্যারাকে উপস্থিতি নিশ্চিত করা) দেখে মনে হয়েছে মাগরিবের নামাজটা হয়তো তারই একটা পরিবর্তিত সংস্করণ। মসজিদে হর হামেশাই নানান ঘটনা ঘটত। পাশাপাশি বসা দুজনের পাঞ্জাবিতে গিঁট মারা এর মধ্যে সবচাইতে চিত্তাকর্ষক বলে মনে হয়েছে। আর যদি সেটা হয় সিনিয়রের পাঞ্জাবিতে তাহলে তো কথাই নেই, অভিযুক্তের উপর প্রিফেক্ট সৃষ্ট নির্ভুল কাড়া নাকাড়ার শব্দ পাওয়া যেত।

বিস্তারিত»

৫১ একরে সীমাবদ্ধ জীবন (দ্বিতীয় পর্ব)

নবমে এসে লেখাপড়ায় একটু সিরিয়াস ভাব আসল। যাই লেখাপড়া হোক না কেন সবই হয় এসএসসি কে টার্গেট করে। এক বন্ধুর বড়ভাই রংপুর ক্যাডেট কলেজে ক্লাস টুয়েলভে ছিলেন। তিনিও চিঠিতে এসএসসি’র কথা গুরুত্ব সহকারে লিখেছিলেন। সায়েন্স আর আর্টস ভাগ হবে। সেটা নিয়ে মোল্লা স্যারের হুমকি ধামকিতে আমরা প্রথম কয়েকমাস বেশ তটস্থ ছিলাম। (জন্মলগ্ন থেকেই স্যার আর কলেজ যেন হরিহর আত্মা, আপন সহোদর। স্যারকে ছাড়া বরিশাল ক্যাডেট কলেজকে চিন্তাই করতে পারি না।

বিস্তারিত»

৫১ একরে সীমাবদ্ধ জীবন (প্রথম পর্ব)

২১ মে ১৯৯২ সাল।

প্রতি বছর নিজের জন্মদিন যতটা না খেয়াল থাকে তার চাইতে বেশি খেয়াল থাকে এই দিনটির কথা । কেননা ২১ মে ১৯৯২ এ পা রেখেছিলাম বরিশাল ক্যাডেট কলেজের বুকে। দুরু দুরু বুকে এক নব্য কিশোরের চোখ দিয়ে দেখছিলাম আমাকে গ্রহণ করার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা। সেটার শেষ পর্যায়ে দেখেছিলাম আমাকে একা রেখে অশ্রুসজল চোখে বাবা-মা, আত্মীয়দের চলে যাওয়া। একইভাবে আরও ৫৪ জন ছেলে একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিল সেদিন।

বিস্তারিত»

টক-মিষ্টি-ঝাল (ছোটবেলা)

বাসার গলির মুখে রিকসা এসে থামলো। আমি নিশি আপুর পাশে যেয়ে বসলাম। শোন, আজকে স্কুল থেকে ফেরার সময় হেঁটে আসবো… ঠিকাছে? আমি বলি এতো দূর হাটঁতে পারবোনা…আরে পারবি। দুইজন গল্প করতে করতে ঠিক চলে আসবো।

মুখে গাইগুই করলেও আনন্দে আমার বুকটা ভরে উঠলো। আমি আপুর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। আপু তখন কথা বলছেন আর মিটিমিটি হাসছেন। ওনার হাসিটা এত্তো সুন্দর। হাসলে চিবুকটা ভেতরের দিকে ডেবে যায়।

বিস্তারিত»

ছোট দুটি ঘটনা

“কোথায় পাবো তাদের – ২” ব্লগ টা পড়তে পড়তে কলেজ এর দুই-একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। সব কলেজেই এই ধরনের কেউ না কেউ থাকে যারা যৌন সুড়সুড়ি মুলক কথা গুলো খুব রসালো করে ক্যাডেট দের সামনে পেশ করে। আমরা খালি ঘুরে ফিরে সেই কথাই শুনতে চাইতাম স্যারদের কাছে। আমরা কলেজ এ দুই জন ইসলামীয়াত এর স্যার পাইছি। তারা দুজন নিজ নিজ
গুনে গুনান্বীত। বিল্লাহ্‌ স্যার তার নাম অতি শুদ্ধ করে উচ্চারনে “বিল্লাহ্‌”

বিস্তারিত»

ডাব চুরির ইতিকথা!!

বেশ কিছু দিন ধরে লিখা লিখা করে লিখা হচ্ছে না। আমার একটা ফালতু টাইপ assignment due ছিল আজ। তো assignment এর দোহাই দিয়ে নিজেকে অনেক কষ্টে কন্ট্রোল করেছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। গত কয়েক দিন প্রচুর ঘটনা মনে পড়ছিল, কিভাবে লিখব, কিভাবে শুরু করব, টাইটেল কি হবে সব কিছুর খসড়া মনে মনে রেডী। but এখন কিছুই মনে পড়ছেনা। আমার খুব একটা বাজে স্বভাব হইছে ১০/১৫ মিন পর পর এক বার ব্লগ চেক্‌ না করলে কেমন জানি অস্থির অস্থির লাগে।

বিস্তারিত»

আত্মার ডায়রি থেকে: শুধু একটু আদর

১.

“” আমার ভালবাসা, আমার প্রাণপ্রিয়,

এত আনন্দ আমি কীভাবে যে তোমাকে বোঝাব! কোনো ভূমিকা ছাড়াই বলছি, তোমার একটা মেয়ে হয়েছে, একেবারে চাঁদের মত সুন্দর। তুমি বাবা হয়েছ, আর আমি – মা। জানো লক্ষ্মীটি, তোমার মেয়ে একেবারে তোমার মত হয়েছে, তোমার মত ওর কপালের ডানপাশেও একটা তিল আছে। কিন্তু মেয়েটা সারাক্ষণ শুধু কাঁদে, মনে হয় বাবার আদর পেতে চায়। please লক্ষ্মীটি,

বিস্তারিত»

সন্দেহ প্রবণ

কলেজ এর কাহিনির তো শেষ নাই। যাই হোক, প্রথম ব্লগ হিসাবে একটা ঘটনা বলি। কলেজ এর খুব বিরক্তকর কিছু বাশির আওয়াজ এর মধ্যে
আফটার নুন প্রেপ এর বাশি টা ছিল জঘন্যতম। আধো ঘুম, আধো জাগরনের মধ্য একাডেমীর উদ্দেশ্য রওনা হতাম। ৯৭’ এর ঘটনা, আমরা তখন ক্লাস নাইনে পরি।
হাফ প্যান্ট, হাফ শার্ট পরে রাজ্যের ঘুম চোখে নিয়ে হাউস থাকে বের হয়ে একাডেমীতে যাচ্ছি।

বিস্তারিত»

আজাইরা প্যাচাল ০১

ক্যাডেট কলেজের ছেলেদের অনায়াসে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়া যায়। একদল যাদের লক্ষ থাকে প্রচণ্ড বিদ্বান হবার, এই জন্য তারা ত্রিকোণমিতির এসএউ আহমেদের বইয়ের পাশাপাশি হারুনুর রশীদের বইও সমাধানের চেষ্টা চালায়। বাকিদের ‘চির উন্নত মম শির’, মানে হাঁটু-বাহিনীতে যোগ দেয়া আর কি। এই পার্টি পড়ালেখা বাদে কলেজের অনান্য সকল কাজে আত্মনিয়োগ করে। স্যারদের টিজ করা, কোন ফ্রেন্ড কোনদিন ভুল করে কোন শব্দ উচ্চারণ করেছে তা নোট করে বাকিদের জানান দেয়া,

বিস্তারিত»