আমরা সবাই রাজা

লিজার্ড লগ পার্কে পৌঁছুতে মনে হলো কোন অলিম্পিক ভিলেজে এসেছি বুঝি। উনিশশো ছিয়ানব্বইতে আটলান্টা অলিম্পিকে বিভিন্ন ইভেন্ট দেখার পাশাপাশি ঘুরে ঘুরে শহরের সাজসজ্জা দেখেছিলাম। ইসিএফ অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত ক্যাডেটস ডে আউটের বর্ণাঢ্য আয়োজন দেখে অলিম্পিকের পুরনো স্মৃতি ফিরে এলো মনে। পার্কে আমরা পৌঁছুতেই চারপাশের উৎসবমুখরতা চোখে পরে! এখানে শীতের শেষে গাছে গাছে নবীন পাতা আর রংবাহারী ফুলের মেলায় আলো ছড়াচ্ছে প্রিয় সব মুখ। ব্যানার, ফেস্টুন, বেলুন আর কলেজের পতাকায় বর্ণময় বসন্ত সকাল!

বিস্তারিত»

বাঁচতে চাই

অমরত্বের লোভ নিয়ে আমি বাঁচতে চাই না এই পৃথিবীতে
প্রতিদিন একটা নতুন সূর্যোদয় দেখা যোগ করতে চাই জীবনের খেরোখাতাতে
জীবনকে আটকাতে চাই না ফিগার এইট নটে কিংবা কোন ফসকা গিরোতে
অনেক খরার মাঝে এক পশলা বৃষ্টির জন্য আমি বাঁচতে চাই
দিনশেষে রাখাল আর গরুর পাল মেঘ্নার সবুজ ঘাসের উপর যে সরল রেখা একে ঘরে ফিরে তার জন্য আমি বাঁচতে চাই
অগ্নিঝরা রোদের আড়াল থেকে হঠাত যে কালবোশেখির কালো ছবি আড়াল করে দেয় পৃথিবির সমস্ত চকচকে ঝকঝকে ছবিগুলাকে
তা দেখার জন্য আমি বাঁচতে চাই অনেকদিন
নারকেলের খোসা দিয়ে গাড়ী বানিয়ে খেলা ছোট্ট শিশু দুটোকে দেখার জন্য বাঁচতে চাই
রাজ হাসের দল ঘ্যাত ঘ্যাত শব্দ তুলে যে সংগীত গেয়ে গৃহস্থের খোয়ারে ফিরে সেই দৃশ্য আর সংগীত এর জন্য বাঁচতে চাই
মাঠের মাঝখানে বৃষ্টিতে আটকে পরা গরুটি গৃহস্থের অপেক্ষায় যেই মায়াময় দৃশ্য তইরি করে তা দেখার জন্য আমি বাঁচতে চাই
সারারাত নদীতে মাছ ধরে রতইন্যা জেলে যখন ঘাটে নাও ভিড়ায় তখন উলংগ শিশুটা কোমরে বাধা ঘন্টার ছন্দে দৌড়ে এসে-বাজান বলে চিৎকার দিয়ে যে।আনন্দ আর হাসির দৃশ্যপট তৈরী করে সেই দৃশ্য দেখার জন্য আমি।বাঁচতে চাই আরো অনেকদিন
এমনি কিংবা তার চাইতে অনেক তুচ্ছ লজ্জাবতীর শিশিরভেজা রুপ দেখার জন্য আমি বাঁচতে চাই অনেকদিন –

বিস্তারিত»

পাথরের ঝর্ণা জানে জলের আঘাত

পাথরের ঝর্ণা জানে জলের আঘাত
তোমাতে মগ্ন থাকার ঘুমভাঙা রাত
সুবহে সাদিক জানে চোখের ধকল
তবুও বুঝছো না কেন্ বুকের দখল

বুকেতে ঘাস জমেছে, ঘ্রাণ নিতে রোজ
পানকৌড়িদের রাজা চাইছিলো খোজ
লুকোবে সাতার এবং ডুবের শেষে
তুমি তো মুখ ফিরিয়ে আলতো হেসে

ও রাণী, তোমার চোখের অমল দ্বিধায়
আমি যে রোজ ভুলে যাই মন যে কী চায়
পাথরের মন্দিরে রোজ ফুল দিয়ে যায়
দেবী মুখ চাইবে ফিরে এই তো আশায়

আমি ডুবি চায়ের কাপে,

বিস্তারিত»

যেমন ইচ্ছে লেখার আমার ডায়েরীর পাতা: চুমুতে আপত্তি (?!)

এক ভাই এর মারফত জানলাম ফেসবুকে নাকি কি ইভেন্ট খোলা হয়েছে যার নাম পুলিশি প্রহড়ায় প্রকাশ্যে চুমু খাবো জাতীয় কিছু একটা। দেখলাম ইভেন্ট পেইজটা। সেখানে আরিফুর রহমান নামের এক ভাই এর ভিডিও ভ্লগ দেখলাম যেখানে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে কেন প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া উচিৎ আমাদের। ইভেন্ট ওয়ালে মানুষজনের পোস্টও দেখলাম। বেশ লাগলো।

বাংলাদেশের প্রত্যেকটা জিনিস আমি মিস করি। বিশেষ করে কিছু মানুষকে যারা কল্পনার এক অবাস্তব জগৎ এ বাস করে।

বিস্তারিত»

যায়েফ কে এবং যায়েফকে

যায়েফ কে এবং কেন; সমগ্র ভুলে গেছি
সময় প্রসারিত হয়েছে,বেড়েছে আঙুলের ফাঁক
মিথ্যা সমগ্র, যাবতীয় প্রতারণা, অন্ধত্বও বেড়েছে
গ্যালারীতে ঝুলে গেছে সহস্র তৈলচিত্র, ফটোগ্রাফ
কেউ জানে না নাকের দাগের কারণ, টোলের ইতিহাস
প্রতি রাত্রে হয়েছি কাদা, তারপর নিপূণ শিল্পীর হাতে
ঘোড়ায় রূপ নিয়েছি।
অথচ এ যৌবন কেটেছে রাবারের বনে
আদিম কাঠুরের হাতে হিংস্র কুঠারে বিদীর্ণ বৃক্ষ
কোন কোন দিন প্রতিশোধ পরায়ন হয়,

বিস্তারিত»

যেমন ইচ্ছে লেখার আমার ডায়েরীর পাতা: কেন লিখছি কি লিখছি

 

ডায়েরী লেখার অভ্যাস প্রথম হয় ক্যাডেট কলেজে গিয়ে। কেমন জানি একটা নিয়ম ছিল সব ক্যাডেটকে বাধ্যতামূলক ডায়েরী লেখা লাগবে। এতো তেল সব ক্যাডেটের থাকত না। দেখা যেত হাউজ ইন্সপেকশনের দিন সব গোছানো শেষে কয়েক সপ্তাহের ডায়েরী একবারে লিখে ফেলতো। আমার আবার শরীরে তেল চর্বি না থাকলেও এইসব হাবিজাবি কাজে ভালই তেল ছিল। ক্লাস এইট থেকে মোটামুটি নিয়মিত ডায়েরী লিখছি। এমনো হইছে দুইটা ডায়েরী লেখা হইছে।

বিস্তারিত»

যতিতে পূরবী

ক.
যতিতে পূরবী;ছড়াও নাগরিক ছোঁয়া
মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে জেগে উঠা দাবী
জোছনা-জোছনা চায়,আর ছাদঘরে
পুঞ্জীভূত মেঘ হয় উর্বর নাভী

নাভীমূলে গোলাপের চাষ
কৃষিবিদ শীতঘুম ভেঙে
রোদে বসে লিখবে থিসিস
:নেপিয়ারে ধূর্ত দোঁ-আশ

খ.
রাখি বলে ছেড়ে দিয়ে ফোন
বই খুলে তর্জমা খোঁজে
এলোমেলো জ্যামিতিক কোণ
মাপজোকে প্রেম ভুল বোঝে

গ.

বিস্তারিত»

পাতা ঝরার গান-০২

২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে মিলিটারি একাডেমিতে গেলাম। ছেলে হিসেবে আমার মধ্যে হোম সিকনেস ব্যাপারটা খুব কম। ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবাদে নিজের কলেজের বন্ধু ছাড়াও বাকি নয় কলেজের আরও অনেক পরিচিত মুখ পেয়েছিলাম ওখানে। প্রথমদিনেই মনে করে নিলাম যে আগামী দুটো বছর যা ই হোক আমার একার সাথে তো আর হবে না। যা হবে সবাইকেই ভাগ করে নিতে হবে। কেউ যদি ভেবে বসেন যে ক্যাডেট কলেজে পড়েছি বলে হোম সিকনেস নেই,

বিস্তারিত»

স্মৃতি প্রতারক

আমার পাপ করলেও তোমাকে মনে পড়ে
আমার পূণ্য করলেও তোমাকে মনে পড়ে
পাপ করলে মনে হয়,এসে দ্যাখো,কী খারাপ হয়ে গেছি তুমিহীনতায়
পূণ্য করলে মনে হয় কাকে তুমি ছেড়ে গেছো জানলে না
এতটা দু:খ কষ্ট চেপে অত মমতাহীন কিংবা এত দয়াবতী কেবল তোমার পৃথক মুখোশ
ভিখারিকে আধুলি দিলে ফিরিয়ে দিবে,
পেশেন্টদের অসুখ সারবে না,
তোমার ছাত্ররাও মুখ টিপে হাসবে ক্লাসময়
তারচেয়ে বরং ফিরে আসো তুমি,অসুস্থ হও,নত হও
কেউ জানবে না গোপন সন্ধি,জানলে বলে দিও
অথবা মুখভর্তি বমি হবে তোমার,নাকের দাগ আড়ো বেড়ে যাবে,

বিস্তারিত»

কমোডে বসে লেখা

হাগলে আরামবোধ হয়, যেমন ফরাসী পতাকায়
কিংবা কুরবানীর গরুর জন্য ব্যথিত হৃদয়ের
উহু আহা শুনলে; আরো ভালো লাগে অতিকায়
মস্তকের রঙধনু প্রীতি; অথবা লোমশ ভাতৃদ্বয়ের
রগরগে গল্পে পুলকিত হই। ‘পাদ’ শব্দটি
অশ্লীল বলে মেনে নিয়েছে রাষ্ট্র, যদিও সানি লিওন
কখনো নয়।হঠাৎ জেগে ওঠা যৌন উত্তেজনার মতো স্থায়ী প্রতিটি
বিপ্লব বা আন্দোলন আমাদের, তাই বীর্যস্খলন শেষেই নিওন
আলোর মধ্যেই আরামসে ঘুমিয়ে পড়ি।

বিস্তারিত»

নাচঘরে দেখা হবে

flamenco-dancer-dance-series-ii-78376
‘নাচঘরে দেখা হবে’ এই বলে
জনৈক সন্ন্যাস হারিয়ে গেলো বিলীন সাগরে
নীল পাহাড়ের আড়ালে ক্রমশ লুকালো আর
নর্তকী বসে রইলো পাথরের মেঝেতে, প্রিয় সাজঘরে।

অবিরত এইসব কবিতাকল্প, সংকেতময় এক্রসটিকে
নিজেতে মুগ্ধ হই, তুমিও প্রশ্নবোধক টানো আমারই দিকে।

বিস্তারিত»

পাতা ঝরার গান

স্কুল জীবনের একটু সিনিয়র পর্যায়ে ঠিক কতদিন যে এসেমব্লির পর ক্লাস করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে সেটা আমি হাতে গুনে বলে দিতে পারব। এসেম্বলি হত থার্ড পিরিয়ডের পর। রংপুরে লায়ন্স দিয়ে আমার স্কুলিং শুরু। সে সময় আমি আবার তদানীন্তন কেজি শ্রেনীর বেশ উদিয়মান তারকা ছিলাম। প্রথম ক্লাস টিচার ছিলেন মধুছন্দা ম্যাডাম।ম্যডাম বেশ যত্ন করে আমাদের হ্যান্ড রাইটিং শেখাতেন। সে সময় আমাদের স্কুলে আমরা প্যাচানো হাতের ইংরেজী লেখা শিখতাম।

বিস্তারিত»

দাবা ও জুয়া

Jean_Metzinger,_1915,_Soldat_jouant_aux_échecs_(Soldier_at_a_Game_of_Chess),_oil_on_canvas,_81.3_x_61_cm,_Smart_Museum_of_Art
দেখেছো তোমার পুরাণ আমাকে পোঁড়ায়
আমি ভাসি নির্নিমেষ নিঃঘ্রাণে
আমিও কুয়াশায় বশ হারানো লোকের মতো
স্থানু থাকি, নির্বান্ধব সন্ধ্যায় কাঠের ক্যাম্পে বসে
একা একা বদল করি সাদা কালো সাইড
বড়ে-মন্ত্রী , দাবার গুটি,
উভয় পক্ষে বেটে দেই ট্রাম, তাসের স্পেড
তার পর বাজি ধরি তোমার নামে
জিতে গেলে সুউচ্চ প্রাসাদ বানাবো
হেরে গেলে মেনে নেবো নিঃশর্ত নির্বাসন
দুর দ্বীপে আবাস বানাবো,

বিস্তারিত»

পাহাড়ের দিনলিপি-২

DSC_0529
Good Morning Sunday…সকাল থেকে আকাশ মেঘলা…এই মধ্য কার্তিকে, এই হেমন্তে বৃষ্টি হওয়ার কথা না…কাল দুপুর পর্যন্ত আঝোর বৃষ্টি হয়েছে…ঠিক ভাবে বললে মন্ত্রী আসার আগ পর্যন্ত…অথবা মন্ত্রী বৃষ্টি থামতেই এসেছেন…রেইনকোট পড়ে বৃষ্টিতে হাটতে হাটতে ভেবেছি এই কার্তিকের বৃষ্টি নিয়ে কেউ কবিতা লিখেছেন কিনা…ভেবে পাইনি…রাতে ঘরে ফিরে নেটে ঘেটেছি…পেয়েছিলামও…এখন মনে নেই…তাই অফিসে বসেই খোঁজ করছি…পাচ্ছি না…অস্থির লাগছে…
কাল রাতে কোন কোন পেজ গুলো ব্রাউজ করেছি?

বিস্তারিত»

গল্পটা আর যে রকম হতে পারতো…(২)

ডাকাতের মতো চাঁদ উঠেছে বাইরে।
ডাকাতের মতো চাঁদ।
কবি বসে আছে বাইরে,লেকের পাড়ে। শীত করছে খুব। কুয়াশা নেই,পরিষ্কার আকাশ। শিশির ঝরছে।

“এইসব জলদুঃখ,এইসব প্রার্থনা
সব ধূয়ে যাবে শিশিরের স্নেহে…

এই লাইনগুলো ফুল স্পীডে ঘুরছে মাথার ভেতর। এর বেশী আগানো যাচ্ছে না। অন্য কবিতা ঢুকে পড়ছে। কবি লাইটার হাতে নেয়, এই কবি সিগারেট খায় না। উইড খায়। উইড মানে গাঁজা।

বিস্তারিত»