নস্টালজিয়াঃ সময়ের পালাবদল

নস্টালজিয়াঃ সময়ের পালাবদল
আহমদ মাহবুব-উল-আলম
[আহমদ, সিসিআর, ১৯৮৮-’৯৪]

১। ক্যাডেট কলেজে ৭ম শ্রেণীতে পড়ার সময় ক্লাস টুয়েলভের বড় ভাইদের দানবাকৃতির মনে হতো। সময় গড়ালো, আমরা যখন টুয়েলভে, নতুন ইণ্টেক যখন ক্লাস সেভেনে ভীতু-ভীতু চেহারা নিয়ে ভর্তি হতো, ভাবতাম ওদের মা-বাবা-দের কোন দয়া-মায়া নেই, এইটুকুন বাচ্চাদের কেউ ক্যাডেট কলেজে পাঠায়!!

২। আমাদের সময়ের এক প্রিন্সিপাল ম্যাডাম (মিসেস প্রিন্সিপাল) একবার তাঁর বাসায় তিনশ ক্যাডেটকে একসাথে দাওয়াত করে শবে বরাতের হালুয়া রুটি খাইয়েছিলেন।

বিস্তারিত»

স্মৃতিগুলো (পার্ট-১)

ক্লাস ১২ এ থাকাকালীন সময়ে কলেজে পাওয়া অ্যাডজুটান্ট স্যার খুবই রসিক মানুষ ছিলেন। ICCVBM এর প্র্যাকটিসে স্যার অভিনব পানিসমেন্টের ব্যবস্থা করলেন। কিভাবে মিস করেছো দেখাও। এর মাঝে সবচেয়ে কঠিন পানিসমেন্ট ছিল বল রিং এর চারপাশে ঘুরে বাহিরে পড়ার মিসটা দেখানো। দেখা যেতো ৩০ বার ট্রাই করা হয়ে গেছে কিন্তু কোনভাবেই একটা বল রিং_য়ের চারপাশে ঘুরে বাহিরে পড়তো না।
আদেশ অব্যাহত থাকতো। যতক্ষণ না মিসটা দেখানো যাচ্ছে,

বিস্তারিত»

সোশ্যাল মিডিয়া কতখানি সোশ্যাল

“পুরানা যদিও কেচ্ছা তবু বর্বকত / সমঝাইয়া দিবে নয়া হাল হকিকত”
— সৈয়দ মুজতবা আলী, “গুরবে কুশতন শব ই আওয়াল” (মার্জার নিধন কাব্য), পঞ্চতন্ত্র

[ডিসক্লেইমারঃ এটা কোন গবেষণালব্ধ লেখা নয়; ব্যাপক পড়াশুনা করে ডেভলাপ করা কোন ড্রাফটও নয়। নিজের দেখা এবং অনুভব করা কিছু অভিজ্ঞতাকেই এখানে সাজানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। আসলে দুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় পারিবারিকভাবে বেশ ঘনিষ্ট এবং যথেষ্ট স্নেহভাজন একজনের ক্রমাগত “মন খারাপ করা” ফেসবুক স্ট্যাটাসের কমেণ্টের ঘরে কিছু কথা লিখতে গিয়ে তার সাথে ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনেই কিছুটা বাদানুবাদ শুরু হয়ে যায়।

বিস্তারিত»

জানা হতো না

ক্যাডেট কলেজে না গেলে হয়তো ওই ছোট বয়সে ১ হাজার সূর্যোদয়ের দেখা পেতাম না। টেবিল সাজানোর জন্য ফল ইন ভেঙ্গে উসাইন বোল্ট হওয়ার ইচ্ছাও মনে যে জাগতে পারে তা ভাবনার মাঝে আসতো না। মাথা নিচু করে হাঁটতে হবে, টেবিলে দাঁড়ালে গ্লাসের নিচের অংশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে, সবসময় সালামের উপর থাকতে হবে, টাচ লাগলে সাবধান হয়ে সরি বলতে হবে,সবার জন্য চা ঢেলে সবচেয়ে বড় কাপ সবচাইতে সিনিওরকে দিতে হবে এরকম হাজারও নিয়মের মাঝে যে মজার ঘটনা ঘটতে পারে তা জানা হত না।

বিস্তারিত»

অনুকথনঃ আরিশা-বচন

মেয়েঃ (রাত ১০টা … রিডিং রুমে বাবাকে খুঁজে না পেয়ে …) মা, পাপা কোথায়?

মাঃ বাবা নিচে গেছে।

মেয়েঃ নিচে কোথায়? দাদুর ওখানে? নাকি গ্যারেজে?

মাঃ বাবা গ্যারেজে গেছে।

মেয়েঃ আমি পাপার কাছে যাব।

মেঃ বাবা তো কাজে গেছে। তুমি যাবে কেন?

মেয়েঃ (বেশ আশ্চর্য হয়ে …) আমি আমার ভালবাসার কাছে যাব না!!

বিস্তারিত»

সারাহার ভিন্নমাত্রাঃ “আঁই অন কিত্তাম”

ফেসবুকের সারাহা নিয়ে আমার আগের ব্লগটা লেখার পরে বেশ মজার কিছু অভিজ্ঞতা হলো। সোশাল মিডিয়ায় অধিকাংশ মন্তব্য এলো পুরোনো ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে, যাদের অন্তত হারানোর কোন ভয় নেই, অর্থাৎ পেনালাইজড হবার প্যানিক নেই। একজন তো পরামর্শ দিয়েই দিল, যাতে আমিও একটা সারাহা একাউণ্ট খুলে ফেলি; এটাও গ্যারাণ্টি দিল যে আমি নাকি পাঞ্চাশোর্ধ মন্তব্য পাব, যার মধ্যে কুড়িটার মত থাকবে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনের জমে থাকা আক্ষেপের ঢালাও বাক্যবাণ,

বিস্তারিত»

হাই সারাহা! হায় সারাহা!

আমার কোন সারাহা একাউণ্ট/প্রোফাইল নেই। আমি কারো সারাহা একাউণ্ট/প্রোফাইলে কখনো (এখন পর্যন্ত) ঢুকিনি, মন্তব্য করা বা ম্যাসেজ দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না। পুরো বিষয়টাই আমার কাছে কেমন যেন অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে। এটা অনেকটা নিবন্ধন বিহীন সিম কার্ড দিয়ে পরিচয় গোপন রেখে কাউকে ফোন করার মতই মনে হচ্ছে আমার কছে। কাউকে হিডেন ক্রাশের খবর জানানো, কিংবা মনের ঝাল মিটিয়ে গালি দেয়া, কিংবা এখন পর্যন্ত যেটার খবর সারাহাতে ঘটেছে বলে শুনিনি তা হলো প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদা চাওয়া।

বিস্তারিত»

ডিভোর্স এণ্ড সোশ্যাল মিডিয়া

কিছু বিষয়ের অহেতুক সমালোচনা আমি একেবারেই মেনে নিতে পারি না। বিশাল এই সমাজের নিতান্তই একটা ক্ষুদ্র অংশ হিসেবে আমার ধারণা, কিছু-কিছু সমালোচনা, হাসি-তামাসা বা তিরস্কার, ব্যাক্তি এবং সমাজ উভয়ের দৃষ্টিতেই অগ্রহনযোগ্য। হাসি-তামাসা টাইপের সমালোচনা বা কটাক্ষ, যা ইদানিং “ট্রল” নামে ব্যপকভাবে পরিচিত, এসবের মধ্য দিয়ে আমরা কিন্তু প্রকৃতার্থে নিজের বুদ্ধিমত্তা এবং রুচিজ্ঞানকেই জনসম্মুখে নিয়ে আসি। অনেকেই হয়ত মুখে কিছু বলে আমাদের এই অসুস্থ মানসিকতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন না,

বিস্তারিত»

বিয়ে বিচ্ছেদ, বিশেষজ্ঞ মতামত ও আমাদের সমাজবিজ্ঞানীরা-১

সম্প্রতি বাংলাদেশে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বিয়ে বিচ্ছেদ মহামারী আকার ধারণ করেছে যা কয়েকমাস আগে মিডিয়াতে এসেছিল। অনেকগুলো পত্রিকা এবিষয়ে সাম্প্রতিক তথ্য ও উপাত্তের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেইসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আমি এই উপসংহারে পৌঁছেছি যে, বিয়ে বিচ্ছেদকে রোধ করার জন্য বাংলাদেশকে তালেবানী আফগানিস্তান বানাতে হবে। পাশাপাশি, সমাজবিজ্ঞান এমন একটি বিষয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য সামজবিজ্ঞান না পড়লেও চলে। কিভাবে এইসব অনুসিদ্ধান্তে আসলাম,

বিস্তারিত»

কালি-কলম কাহিনী/এই সময়

বা দিক থেকে Croco Rome Dile, Jinhao x250, Jinhao x750, Jinhao 992, Mini Pen without brand name (blue color), Traditional pen F002, KAIDULI এবং BAOER 516

আমার কালি কলমের “এই সময়” শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। কি মনে করে KAIDULI নামক ব্র্যান্ডের একটা কলম কিনলাম যাতে Piston টাইপের ইংক কনভার্টার আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়েই। কারন রাবারের Bladder যুক্ত Squeeze টাইপ ইংক কনভার্টার আমার কাছে একেবারেই সেকেলে মনে হত। তারপর কিনলাম BAOER 516 ঐ বছরই একই জায়গা সেই নিউমার্কেট থেকে। লিখে যা আরাম…। সেকেলে ইংক কনভার্টার থাকা সত্ত্বেও এরপর কিনলাম এক নাম না জানা (কলমের গায়ে কোন Brand Name খোদাই করা নেই) গাঢ়হ‌্ নীল রং এর ছোট একটা কলম।

বিস্তারিত»

বকবকানির বাকবাকুম

রাত দুইটা বেজে উনিশ মিনিট। আমি পঞ্চগড়ে। সবাই ঢাকায়। জরুরি কাজে এসেছি। আগের দিন রাত পৌনে এগারটায় বাসে চেপে, হাইওয়ের অস্বাভাবিক ট্রাফিক ঠেলে সতেরো ঘণ্টা পাড়ি দিয়ে পরদিন বিকাল চারটায় পৌছেছি। আরেকটু হলে তো শিকড় গজিয়ে যেত। বিকাল-সন্ধ্যায় টানা ঘুম। এখন আর ঘুম আসছে না। ফেসবুকে সময় কাটাচ্ছি। ওদিকে পরিবার মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে। ম্যাসেঞ্জারে সাড়া পাচ্ছি না। ফোনে ডিস্টার্ব করতেও ইচ্ছা করছে না।

কিছুক্ষণ অনেক ছোট বয়সের দুজন জুনিয়রের সাথে একই প্লাটফর্মে ভার্চুয়াল ক্যাচাল করলাম।

বিস্তারিত»

অনুকথন স্মৃতিচারণঃ নকশীকাঁথার মাঠ

অনুকথন স্মৃতিচারণঃ নকশীকাঁথার মাঠ

আমার একটা কাঁথা আছে; তিনটা শাড়ির লেয়ার দিয়ে বানানো। তিনটা শাড়িই ছিল এম্ব্রয়ডারিতে ভরা সুতি শাড়ি। অনেক স্মৃতিবিজড়িত এই কাঁথাটা। এটার মূল্য আমার কাছে অনেক। জড়িয়ে নিয়ে থাকি, ঘ্রাণ নেই। অন্যরকমের একটা ছোঁয়া পাই। বাইরের দিকের শাড়ি দুটো আমার স্ত্রীর, যেগুলো আমি তাকে আমাদের বিয়ের সময় দিয়েছিলাম। ভেতরের লেয়ারে যে শাড়িটা আছে সেটা সবচেয়ে স্মৃতিবিজড়িত। আমার মায়ের অনেক শখের একটা শাড়ি ছিল সেটা।

বিস্তারিত»

আমরা সবাই রাজা

লিজার্ড লগ পার্কে পৌঁছুতে মনে হলো কোন অলিম্পিক ভিলেজে এসেছি বুঝি। উনিশশো ছিয়ানব্বইতে আটলান্টা অলিম্পিকে বিভিন্ন ইভেন্ট দেখার পাশাপাশি ঘুরে ঘুরে শহরের সাজসজ্জা দেখেছিলাম। ইসিএফ অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত ক্যাডেটস ডে আউটের বর্ণাঢ্য আয়োজন দেখে অলিম্পিকের পুরনো স্মৃতি ফিরে এলো মনে। পার্কে আমরা পৌঁছুতেই চারপাশের উৎসবমুখরতা চোখে পরে! এখানে শীতের শেষে গাছে গাছে নবীন পাতা আর রংবাহারী ফুলের মেলায় আলো ছড়াচ্ছে প্রিয় সব মুখ। ব্যানার, ফেস্টুন, বেলুন আর কলেজের পতাকায় বর্ণময় বসন্ত সকাল!

বিস্তারিত»

লিরিকস এণ্ড থটস

লিরিকস এণ্ড থটস

“পিয়ার ইয়ে, জানে ক্যায়সা হ্যায় / কিয়া কাহে, ইয়ে কুছ এ্যায়সা হ্যায় / কাভি দার্দ ইয়ে দেতা হ্যায় / কাভি চ্যায়েন ইয়ে দেতা হ্যায় / কাভি গাম দেতা হ্যায় / কাভি খুশি দেতা হ্যায়।” খুব সম্ভবত হায়ার সেকেণ্ডারিতে পড়ার সময় এটা প্রথম শুনি। এমনিতেই আমি এ.আর.রেহমানের অন্ধভক্ত ছিলাম। এখনও ভাল লাগে এই সুরকারের সুর। কিন্তু টিন এইজের মতন বিশেষ কোন ব্যক্তি বা বিষয়ে সেই অন্ধ আসক্তি এখন কোনখানেই আর কাজ করে না।

বিস্তারিত»

পার্সেপশন্স টুয়ার্ডস টিচিং কমিউনিটি

পার্সেপশন্স টুয়ার্ডস টিচিং কমিউনিটি

প্রাইভেট টিউটর হিসেবে অভিজ্ঞতা নিয়ে এক্স ক্যাডেটস ফোরামের ফেসবুক পেইজে কদিন আগে অনেকেই তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছিলেন। সেখানে একটা স্ক্রীণ-স্ন্যাপশটের পোস্টে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে দেখি বেশ লম্বা হয়ে গেল। লম্বা মন্তব্য অন্যদের বিরক্তির কারণ হতে পারে ভেবে তখন লেখাটা আলাদা করে লিখেছিলাম, যেখানে আমি আগেই পরিস্কার করে নিয়েছিলাম যে, আমার লেখাটাতে কেবলমাত্র প্রাইভেট টিউশন নয়, বরং সার্বিকভাবে টিচিং কমিউনিটির প্রতি প্রায়শই অন্যদের যে দৃষ্টিভঙ্গিটা কাজ করে,

বিস্তারিত»