কর্ণফুলীর মুহূর্তরা

ফিরে যদি যেতেই হয়
তবে আজ আর দীর্ঘশ্বাস নয়;
আজ শুধু মেনে নেয়ার পালা।
যুদ্ধ করতে করতে সবগুলি তারা খসে গেছে
দূরত্ব ক্রমশ হয়েছে সমুদ্রের মত
তবুও একটি মুহূর্ত কোথাও উল্লেখিত হয়নি।

তুষারে কি ঢাকা পড়েছে তোমাদের শহর?
মধ্য রাতের নীল রঙ দেখার ইচ্ছায় কি রাত জাগা হয়?
চাঁদের সাথে মেঘেদের লুকোচুরি
আঙ্গুস এবং জুলিয়াস্টোনের গান এখনো কি বাজে?

বিস্তারিত»

মৌ

মৌ,
জন্মান্তরে সাহসী হবো।

এ জন্মে-
পরাজিত সৈনিকের মতো
মাথা নিচু করে ফিরেছি আমি।

জন্মান্তরে এমন হবে না।
জন্মান্তরে সাহসী হবো।

তোমার হাতে হাত
চোখে চোখ রেখে –
হৃদয়ের সব কথা বলবো।
তুমি তৈরি থেকো।

নিসঙ্গ প্রহরে মনে হয়
পূর্বজন্মেও আমাদের দেখা হয়েছিলো।
সেবারও ফিরেছি আমি
শূন্য হ্রদয়ে ।

বিস্তারিত»

~ কাইলকাই তো বৈশাখ, হ পয়লা বৈশাখ ~

[ অণুগল্প ]

: ডিঙ্গিটা উজানের দিকে ঠেল এইবার।
: অহনই যাইবাগা বাজান ! মাছ তো বেশি উডে নাই। জাটকাডি কি রাইখ্যা দিবানি !
জমির শেখ ঘাড়টা ঘুরায়া পোলা কলিমুদ্দিরে দেহে।
: বাপরে মাছ যা উডনের হেইট্টুকই উডবো। কপালে থাহন লাগে। হের থে বেশি কি আর উডবো নি ! জাটকাডিরে আমি রাহুম ক্যারে। অহন তো জাটকা ধরন নিষেধ।
: আইজকা তাইলে বেলা থাকতে যাওন হইবো।

বিস্তারিত»

অন্তর্গত দাবানলের ভিতর বসবাসকারী তাবৎ কবিদের প্রতি রইলো বিশ্ব কবিতা দিবসের শুভেচ্ছা

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে কবিতার জন্য একটা বিশেষ দিন পালনের এক রীতির শুরু। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো প্রতি বছর ২১ মার্চ তারিখে এ দিন পালনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

আজ ‍’বিশ্ব কবিতা দিবস’ (World Poetry Day)। গোটা বিশ্ব যে দিবস পালন করছে তা আমরা কতোটা জানি-মানি পালন করি! কবিতাকে কতোটা ব্যবচ্ছেদ করি, কবিকে করি কতোটা! কাব্যচর্চা বা কাব্য আন্দোলন আসলে কোথায় পড়ে আছে আমাদের নিজেদের দেশে সমাজে কী সাহিত্য চর্চার ডেঁরায়।

বিস্তারিত»

~ বইমেলা প্রাণের মেলা, তার প্রাণভোমরা সেথায় জোর দেখাক খেলা ~

বইমেলা প্রাণের মেলা। দীর্ঘ একটা মাস ধরে এমন বইমেলা পৃথিবীর কোথাও হয়না। লেখক-কবি-প্রকাশক-পাঠক সবার জন্য এমন একটা মেলা নিঃসন্দেহে দারুন প্রাণসঞ্চারী ভাব বিনিময়, কৃষ্টির চর্চা এবং প্রসারের এক মহামঞ্চ হবারই কথা। তা হবার জন্য এর চেয়ে বড় কোনো আয়োজন-উৎসব এদেশে নেইও। এক সময় বাঙলা একাডেমীর প্রাঙ্গন জুড়ে বসতো এ সৃজনশীলতার মেলা। গোটা প্রাঙ্গনে বইয়ের স্টল নিয়ে প্রকাশকরা সাজিয়ে তুলতেন নতুন পুরোনো সব প্রকাশনার এক আলোকজ্জ্বল গ্রন্থসমাবেশ।

বিস্তারিত»

~ অযুত নিযুত জীবনের অপার আনন্দ – জীবনানন্দ ~

[ প্রিয় কবির ১১৮তম জন্ম দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি ]

কুসুমকুমারী দাশ যখন লিখেছিলেন – “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে / কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?” তখন নিশ্চিত তাঁর জানা ছিল না আপন গর্ভে তিনি কত বড় মাপের একজন মানুষকে, বাংলা ভাষার একজন প্রধান কবিকে ধারণ করবার মহিমা অর্জন করবেন।

পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশাল গিয়ে আবাস গড়েন।

বিস্তারিত»

~ কফিপেয়ালায় পরিত্যাক্ত স্মৃতি ~

চুম্বনে নি:শেষিত কফিকাপ
জানুদেশে ফেনার চাদর গায়
ফ্যাকাশে টেবিলে উৎকীর্ণ
প্লেসম্যাট জুড়ে শুয়ে আছে –
ক্লান্ত, শ্রান্ত, অবসাদ প্লাবিত;
পাকা শিল্পীর তুলিতে আঁকা
জলজ্যান্ত স্টিললাইফ
তেলরঙ মাতানো ক্যানভাস;
চিনি দুধের ব্যবহৃত
ছেঁড়াখোঁড়া শ্যাশে,
সাবাড় করা কুকির গুঁড়ো আভাস
এইসব দৃশ্যপটে সেজে,
এলায়ে আছে সে আজো
নাজুক মনের নকশাকাটা আঙ্গিনায়;
গ্লোরিয়া জিনসের ওয়েটার,

বিস্তারিত»

ব্যক্তিগত রেসিপি – ১৩

সেলফোনটা ঘুমিয়ে পড়ছিলো। অবশ হয়ে ওর পাশে আমিও শুয়ে ছিলাম রাত দুটো পর্যন্ত। চোখ মেলে দেখি বারান্দার আলো ঘরের ভেতরে এসে দাঁড়িয়ে আছে। যেন বললেই এক দৌড়ে চার্জারটা এনে দেবে, ভেতরের ঘর থেকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে।

দু’দিন আগে পৃ বলছিল এই দৃশ্যের কথা – আগাম। ছুটির দিন সারা দুপুর এঁটো হাতে বসে রইলো — অনেকক্ষণ আমাকে দেখতেই পাচ্ছিল না যেন। আমি টিভিতে একটা অখাদ্য নাটকের সুখাদ্য নায়িকার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেখিয়েও ওর ধ্যান ভাঙাতে পারলাম না।

বিস্তারিত»

আমার কথা ছাড়ুন

আমার কথা ছাড়ুন,
আপনি অনেক বিখ্যাত হয়েছেন শুনে খুশী হলাম,
তবে ভাবছি, কোন একদিন আপনিও কি আমার মত মাটি হবেন?
এত এত মানুষকে টপকে এতো উপরে উঠেছেন,
এত এত মানুষের ভালোবাসা আপনার জন্য,
এসব কি একটুও কন্সিডার করা হবে না, ভাবতে কষ্ট হচ্ছে।
আপনার জন্য কি একটু বিশেষ ব্যবস্থা করা যেতো না?
এ ধরুন, মাটি না হয়ে অন্য কোন মহামূল্যবান খনিজ হবেন।

বিস্তারিত»

~ প্রবাসে পরবাসে নেই, সাত সকালে বেরিয়েছে সে; বহুকাল পর বাড়ী গেছে ~

বলা হয় কোনো লেখা পড়ে পাঠকের মনে যখন সেই দ্যোতনাটি জেগে ওঠে – আর সে ভাবে, ‘আরে এ যে আমারও কথা’; তখনই সে লেখাটা সার্থক লেখা হয়ে ওঠে। যতো বেশী পাঠকের মনে এমন ধারণার জন্ম দিতে পারে কোনো লেখা, ততো বেশী পাঠকপ্রিয়তা, ততো বেশী জনপ্রিয়তা পাবে তা; পাবে দীর্ঘায়ু। সহজ শাদামাটা ভাবে তাই বলাই যায় যে, বিভিন্ন ভাষার শীর্ষ কবি ও লেখকরা যখন লেখেন, এমনটা ভেবে এরকম কিছুই লেখেন।

বিস্তারিত»

আমরা সবাই রাজা

লিজার্ড লগ পার্কে পৌঁছুতে মনে হলো কোন অলিম্পিক ভিলেজে এসেছি বুঝি। উনিশশো ছিয়ানব্বইতে আটলান্টা অলিম্পিকে বিভিন্ন ইভেন্ট দেখার পাশাপাশি ঘুরে ঘুরে শহরের সাজসজ্জা দেখেছিলাম। ইসিএফ অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত ক্যাডেটস ডে আউটের বর্ণাঢ্য আয়োজন দেখে অলিম্পিকের পুরনো স্মৃতি ফিরে এলো মনে। পার্কে আমরা পৌঁছুতেই চারপাশের উৎসবমুখরতা চোখে পরে! এখানে শীতের শেষে গাছে গাছে নবীন পাতা আর রংবাহারী ফুলের মেলায় আলো ছড়াচ্ছে প্রিয় সব মুখ। ব্যানার, ফেস্টুন, বেলুন আর কলেজের পতাকায় বর্ণময় বসন্ত সকাল!

বিস্তারিত»

আমার শহীদ কাদরী

“সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো। ঘর-ফেরা রঙিন সন্ধ্যার ভীড়ে
যারা তন্দ্রালস দিগ্বিদিক ছুটলো, চৌদিকে
ঝাঁকে ঝাঁকে লাল আরশোলার মত যেন বা মড়কে
শহর উজাড় হবে, – বলে গেল কেউ – শহরের
পরিচিত ঘণ্টা নেড়ে খুব ঠাণ্ডা এক ভয়াল গলায়
এবং হঠাৎ
সুগোল তিমির মতো আকাশের পেটে
বিদ্ধ হলো বিদ্যুতের উড়ন্ত বল্লম!”

‘বৃষ্টি, বৃষ্টি’ কবিতাটি প্রথম কখন পড়ি মনে নেই,

বিস্তারিত»

~ স্রেফ চার-ছয় মাসের যাদুমন্ত্র এটা নয় ~

অবিশ্বাসে ছেয়ে আছে মানুষের মন। সবার মাঝেই যেনো একই প্রশ্ন, এরা তো অভাবী পরিবারের সন্তান নয় যে এভাবে নিজেকে বিকিয়ে দেবে। নি:সঙ্গ এতিম নয় যে এক বিন্দু পিছুটান নেই, কিংবা এমন নয় যে যাদের কৃপায় বেঁচে থাকা তাদের প্রতি আছে অপার দায়। আলোকিত, নামে উজ্জ্বল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে তো তাদের মনের কোনায় এমন অন্ধকার লুকিয়ে থাকবার কথা নয়। মৃদুভাষী, অমায়িক, বন্ধু বৎসল, নির্দ্বিধায় আর দশ জনের চেয়ে এক কাঠি বেশী ইতিবাচক বলবে এদের যারা চেনে তারা সবাই।

বিস্তারিত»

~ প্রাণঘাতী মৌলবাদী সন্ত্রাসের নীলনকশার তীর, তীরন্দাজ, ফলভোগী ও ভুক্তভোগী নিয়ে কিছু বীক্ষণ ~

আমি বিশ্বাস করি কোনো ধর্মই অশান্তি সহিংসতা হত্যা এসবকে সমর্থন করেনা বা মদত দেয়না। এটা সুদূর অতীতের সেই যুগও না যে বল প্রয়োগ করে ধর্মকে টিকিয়ে রাখতে হবে বা ধর্মালম্বীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আর তা না করতে পারলে ধর্ম কিংবা ধর্মালম্বী বিপন্ন হবে।

এই যে গুটিকয় সন্ত্রাসী জেহাদি সাফল্যের আকাক্সক্ষায় ক্রুসেডার হত্যার মিশন নিয়ে প্রাণঘাতী অপকর্মটি ঘটালো। তাতে ইসলামের কি কি প্রাপ্তিযোগ ঘটলো?

বিস্তারিত»

~ স্মৃতিশকট : প্রজন্মের দৃশ্যপট ~

[ গল্প অথবা গল্পের ছায়া ]

বাসাটার সামনে টানা তিনশ ফুটের রাস্তা। সেই পত্তনি থেকে দিনে দিনে বেড়ে এতোদূর এসেছে। এটাই শেষ সীমান্ত আজ অব্দি। আদপে ঠিক শহরের প্রান্ত বলে না মানলেও জনবসতির এখানেই শেষ। তিনশ ফুট রাস্তার পরে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ। মাঠ ঠিক নয় পরিত্যাক্ত বিরান ভূমি। প্রস্থে প্রায় এক কিলোমিটারের কাছাকাছি, দৈর্ঘ্যে সাতের বেশী। খুব বেশীদিন অবশ্য এর আয়ু বোধ করি আর নেই।

বিস্তারিত»