দৌড়

এক অদৃশ্য হুইসেলের ফুঁৎকারে আমাদের দৌড় শুরু হয়।
নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আমরা দৌড়াতেই থাকি।
শেষ সীমারেখা দৃশ্যমান নয়।
যার পথ যত দীর্ঘ, স্মৃতির সম্ভার তার তত বেশি ভারী।

যার যার পথসীমা নির্দিষ্ট, তবে ট্র্যাক পৃথক।
রেলপথের মত কখনো দুটো ট্র্যাক এক হয়ে যায়,
আবার কখনো বাঁকা পথ নেয়।
পথ শেষ হওয়া সতীর্থরা পড়ে রয়, আমরা দৌড়াতে থাকি।

বিস্তারিত»

সময়

সময় একটি সতত বহমান নদী।
সে নদীতে আমরা মাত্র কিছুকাল ভেসে চলি।
কখনো চোখ বুঁজে উজানে সন্তরণে,
আবার কখনো ভেসে ভেসে ভাটায়, নির্লিপ্ততায়!

সময় বয়ে চলে জন্ম জন্মান্তর ধরে,
কালের সাক্ষী হয়ে রয় মানুষের কিছু অমর কীর্তি।
নশ্বর মানুষ বিলীন হয়ে যায় ধরিত্রীর মৃত্তিকায়,
কিছু কিছু মানব কর্মকে সময়ও সমীহ করে যায়।

এক জলে মানুষ দু’বার নামতে পারেনা
একটি মুহূর্তকে কেবল একবারই আঁকড়ানো যায়।

বিস্তারিত»

ভয়ঃ ভিন্ন প্রেক্ষিতে

খন্দকার সাহেব একজন সুখী মানুষ, কারণ জীবনে তার চাহিদা খুব বেশী কিছু নয়। জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অল্পতেই তিনি সন্তুষ্ট থাকতে শিখেছেন। সন্তানদেরকেও তাই শেখাতে চেয়েছেন। যুগের প্রভাব বলয় থেকে ক’জনাই বা বের হয়ে আসতে পারে? কিন্তু তিনি সফলতার সাথে তা পেরেছেন। এ জন্যেই তার সুখটা নির্ভেজাল।

নিজে যতটুকু ধর্মকে বোঝেন, খন্দকার সাহেব ততটুকুই ধর্মাচার যথাসম্ভব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন এবং ধর্ম নিয়ে কিছুটা হাল্কা পড়াশোনাও করে থাকেন।

বিস্তারিত»

ছবি ব্লগঃ জীবনের বৈচিত্র ও বৈপরীত্য (Diversity and contrariety of life)

আজ প্রত্যুষে ফজরের নামায শেষে হাঁটতে বের হই। পথে জীবনের কিছু বৈচিত্র ও বৈপরীত্য চোখে পড়ে। সেলফোনের ক্যামেরায় সেগুলোর কিছু ছবি তুলে রাখি।
শেষের দুটো জোড়া শালিকের ছবি গুগল থেকে নেয়া, বাকীগুলো আমার আইফোন দিয়ে তোলা।

“ঝরা পাতা গো, আমি তোমারি দলে।
অনেক হাসি অনেক অশ্রুজলে
ফাগুন দিল বিদায়মন্ত্র
আমার হিয়াতলে॥”

Oh the fallen leaves,

বিস্তারিত»

একটি হ্যাটের আত্মকাহিনীঃ

আমার নাম হ্যাট। আমার নামটি খুবই ছোট হলেও আমার পরিচিতি বিশাল এবং ব্যাপক, আমার একটি প্রাচীন ঐতিহ্যও রয়েছে। আমি মানুষের শিরস্ত্রাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছি সে আজ থেকে নয়, সেই ব্রোঞ্জ যুগ থেকে। ইতিহাস ঘেঁটে আমার প্রথম পরিচয় হিসেবে জানা যায় যে খৃষ্টপূর্ব ৩৩০০ সালে অস্ট্রিয়া এবং ইটালীর মধ্যবর্তী এক পাহাড়ী অঞ্চলে মাথায় হ্যাট পরিহিত ওজি (Otzi) নামের এক লোককে বরফে হিমায়িত অবস্থায় পাওয়া যায়,

বিস্তারিত»

অনু কবিতাঃ নতুন ত্বক

লোকটার একটা গভীর ক্ষত ছিল।
সেই ক্ষতের উপরে কেউ একজন
এসেছিল নতুন ত্বক হয়ে।
সেই থেকে……
লোকটা খুব ভয়ে ভয়ে থাকতো,
কখন কে এসে ঘষে দিয়ে যায়!

ঢাকা
১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

বিস্তারিত»

ধারাপাত ভুলে গেছি, পদ্য ভুলিনি

শৈশবে মুখস্ত করা ধারাপাত ভুলে গেছি,
নামতা ভুলে গেছি, পাটিগণিতের আর্য্যা ভুলে গেছি।
তবে মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর নাম এখনো ভুলিনি,
কারণ শৈশব থেকেই কবিতাকে মনে মনে ভালবেসেছি।

মায়ের শেখানো ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি’ কিংবা-
‘পাখি সব করে রব রাতি পোহাইলো’- এসব স্বপ্নীল পংক্তিমালা
এখনো বিস্মৃতির অতল গর্ভে হারিয়ে যায়নি, এখনো এগুলো
প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছে, কন্ঠে নিত্য আবৃত্ত হয়,

বিস্তারিত»

উপেক্ষিতার সম্ভ্রম

ফুলের দোকানে সেদিন খুব ভিড় ছিল,
ফুলপ্রেমী ক্রেতাদের আনন্দোচ্ছ্বাস ছিল।
সুশোভিত, সুঘ্রাণ, সতেজ ফুলের মাঝে
পেছন সারিতে ছিল এক বাসি ফুল লাজে।

কারো কারো দৃষ্টি ছিল শুধু রঙের উপর,
কেউবা খুঁজেছিল কিছু গোলাপ মনোহর।
কেউবা মৃণাল হাতে শুভ্র রজনীগন্ধার,
স্মিতমুখে কিনেছিল প্রিয়ার উপহার।

দিনশেষে অবশেষে এলেন এক ঋষি,
পেছন সারিতে এসে তিনি হলেন খুশী।

বিস্তারিত»

সব অশ্রুফোঁটা জল নয় জোলোও নয়

সব অশ্রুফোঁটা জল নয়, জোলোও নয়।
কিছু কিছু ফোঁটা উঠে আসে
জলের নীচে ডুবে থাকা বর্ণহীন ভারী তরল থেকে।
ছোটবেলায় রসায়নে শেখা এইচটুও নয়, এইচটুওটু।
যেন জলের চেয়ে ভারী হাইড্রোজেন পারোক্সাইড।

কিছু কিছু অশ্রুফোঁটার জন্মই হয়
নীরবে নিঃশব্দে ঝরে পড়তে,
নিভৃতে, গোপনে, অন্ধকারের বিষণ্ণতায়।
সৌম্যতায়, মৌনতায়, ঐকান্তিকতায়।
নিবিড় স্মৃতির প্রতিবিম্বে, একান্তে, বিবিক্তবাসে।

কেউ সেসব ঝরে পড়ার সাক্ষী হতে পারেনা।

বিস্তারিত»

সবুজ পাতারা একদিন হলুদ হয়ে যায়

সবুজ পাতারা একদিন হলুদ হয়ে যায়,
বৃক্ষ তাদের ছেড়ে দেয়, মাটি ডেকে নেয়।
শিস দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদুমন্দ সমীরণ
গেয়ে যায় জীবনের শেষ গান, অনুক্ষণ।

মর্মর নৃত্যগীতে ওরাও গায় নিপতনের গান,
ভুলে যায় জীবনের যত না বলা মান অভিমান।
সব গ্লানি, সব গৌরব ভুলে দখিনা হাওয়ায়,
আনন্দ বিষাদ নিয়েই ওরা নেচে নেচে যায়।

ঊর্ধ্ব থেকে পরিত্যাক্ত হয়ে ওরা অধঃ পানে ধায়
পরম আদরে মাটি ওদের ডেকে বলে আয় আয়!

বিস্তারিত»

স্মৃতিকাতরতাঃ একটি অপ্রেরিত চিঠি

পাখি,
আমার এখানে এখন দুপুর তিনটে বাজে। তোমার ওখানে রাত তিনটে। আমাকে এ সময় চিরাচরিত দিবানিদ্রায় পেয়ে বসে। আজও আমার দু’চোখ ভরে ঘুম নেমে আসছে। তুমিও এখন এই মধ্যরাতে নিশ্চয়ই গভীর ঘুমে নিমজ্জিত। হয়তো কিছু স্বপ্ন তোমায় ঘিরে রেখেছে, হয়তো নয়। এই সেদিনও এ সময়ে তুমি আমার সাথেই ঘুমাতে, আমার ঘাড়ে কিংবা বুকে মাথা রেখে। আমি গান শুনতে শুনতে ঘুমাতে ভালবাসি, তুমিও। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো,

বিস্তারিত»

অতঃপর ব্লগর ব্লগর – ৯ : প্রসঙ্গ ‘হাকুল্লা’

অনেক দিন বাদে ব্লগর ব্লগর নিয়ে হাজির হলাম।
জীবিকার সাথে জীবনের সমঝোতায় আজকাল ক্লান্ত হয়ে যাই সহজেই। ব্যস্ত রুটিনের বেড়াজালে ক’দিন আগে বন্ধু ‘মইন’ এর সাথে ক্লাবে দেখা। ও বললো – “যোবা’র বইটা পড়ছস? জোস লেখে কিন্তু।ফেসবুকে তো ও রেগুলার দারুন দারুন স্ট্যাটাস দেয়।” … নজরুল হাউসে আমাদের পিঠাপিঠি ব্যাচের যোবা’র সাথে আমার খাতির এর জায়গা হলো – বাস্কেটবল। দুর্দান্ত খেলে। ‘মেকা’ রি-ইউনিয়নে গেলে বাস্কেট গ্রাউন্ডে ওর সাথে খেলতে গেলেই ফিরে পাই ফেলে আসা দিনের আমেজ।।

বিস্তারিত»

অল্প কথার গল্পঃ সবুজের শার্ট

সবুজের পরিবারটা ঠিক স্বচ্ছলও ছিল না, আবার অভাবীও ছিল না। কঠোর নিয়ম কানুন আর পই পই হিসেব নিকেশের মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্ত সংসারে সে বড় হয়েছে। মা বাবা কিংবা বড় ভাইবোন কোন কিছু কেনাকাটা করার জন্য যদি তাকে কোন অর্থ দিতেনও, খরচ শেষে তারা তার পুংখানুপুংখ হিসেব নিতেন। ঈদে পর্বে নতুন জামা কাপড় সে পেত ঠিকই, কিন্তু সব সময় তা নিজের পছন্দ অনুযায়ী হতোনা। এ নিয়ে অবশ্য সবুজের তেমন কোন দুঃখবোধ ছিল না,

বিস্তারিত»

‘Last In, First Out’

ছোটবেলায় স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পর আমরা প্রায় প্রতি বছরই নানাবাড়ী, দাদাবাড়ী বেড়াতে যেতাম। উভয়বাড়ী উত্তরবঙ্গে হওয়ার কারণে আমরা ট্রেনেই বেশী যাওয়া আসা করতাম। খুবই আনন্দের ছিল এ জার্নিটা। তখন সারাদিনে ঢাকা থেকে মাত্র দুটো ট্রেন উত্তরবঙ্গে যেত, একটা সকাল ৮ টার দিকে ছাড়তো, নাম ১১ আপ দ্রুতযান এক্সপ্রেস। অপরটা রাত ১১টায়, নাম ৭ আপ নর্থ বেঙ্গল মেইল। প্রথম প্রথম ট্রেনগুলো নারায়নগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করতো,

বিস্তারিত»

একটি উচ্ছ্বল প্রাণের ঊর্ধ্বারোহণঃ

Friends at a funeral

আমার বন্ধু জামান, অনেক প্রতিভা ও গুণের অধিকারী। ওর সব গুণের চেয়ে আমার বিবেচনায় সবচেয়ে বড় যে গুণটি সেটি হলো শত প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও ধীর স্থির এবং প্রতিক্রিয়াহীন থাকার সক্ষমতা। গত কয়েক বছর ধরে জানি যে ক্রমাগতভাবে ওর উপর দিয়ে নানা রকমের ঝড় ঝঞ্ঝা বয়ে চলেছে। প্রথমে ওর বড়ভাই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে কয়েকবার সিঙ্গাপুরে যাওয়া আসা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

বিস্তারিত»