<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?> <rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/" xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/" ><channel><title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ &#187; রাজশাহী</title> <atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/category/colleges/rcc/feed" rel="self" type="application/rss+xml" /><link>http://www.cadetcollegeblog.com</link> <description></description> <lastBuildDate>Thu, 29 Jul 2010 21:09:14 +0000</lastBuildDate> <language>en</language> <sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod> <sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency> <item><title>সব বোর্ডে সেরা ১০ ক্যাডেট কলেজ : অভিনন্দন তোমাদের</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/999/26413</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/999/26413#comments</comments> <pubDate>Thu, 15 Jul 2010 12:24:05 +0000</pubDate> <dc:creator>সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)</dc:creator> <category><![CDATA[কুমিল্লা]]></category> <category><![CDATA[খবর]]></category> <category><![CDATA[ঝিনাইদহ]]></category> <category><![CDATA[নোটিশ বোর্ড]]></category> <category><![CDATA[পাবনা]]></category> <category><![CDATA[ফৌজদারহাট]]></category> <category><![CDATA[বরিশাল]]></category> <category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category> <category><![CDATA[ময়মনসিংহ]]></category> <category><![CDATA[রংপুর]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category> <category><![CDATA[সিলেট]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=26413</guid> <description><![CDATA[অভিনন্দন ক্যাডেটস। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবার ক্যডেট কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা অসাধারণ ভালো ফল করেছে। সেরা ফলের হিসাবে প্রতিটি বোর্ডের (মাদ্রাসা আর কারিগরী শিক্ষা বোর্ড ছাড়া   ) সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় ক্যাডেট কলেজগুলো প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে। এমন খুশির খবরটা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে বেশ অনেকদিন পর আপনারা আমার এই পোস্টটির [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>অভিনন্দন ক্যাডেটস। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবার ক্যডেট কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা অসাধারণ ভালো ফল করেছে। সেরা ফলের হিসাবে প্রতিটি বোর্ডের (মাদ্রাসা আর কারিগরী শিক্ষা বোর্ড ছাড়া <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/wink.gif' alt=';;;' class='wp-smiley' /> ) সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় ক্যাডেট কলেজগুলো প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে। এমন খুশির খবরটা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে বেশ অনেকদিন পর আপনারা আমার এই পোস্টটির জন্ম দেখতে পেরেছেন। (আমার অফিসের সহকর্মীরা অবশ্য বেশ অনেকদিন পর আমার হাসিখুশি মুখ দেখে বিষয়টা আগেই অনুমান করেছে)।</p><p>ঢাকা বোর্ডে সেরা হয়েছে ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ। ৫০ জন পরীক্ষার্থীর ৪৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরপরের স্থানটি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের। তাদের ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর ৩৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। রাজশাহী বোর্ডে সেরা পাবনা ক্যাডেট কলেজ, ৪৮ জনের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের অবস্থান এরপরই। ওদের ৪৫ জনের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। সিলেট বোর্ডে সিলেট ক্যাডেট কলেজ সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজটির ৪১ পরীক্ষার্থীর ৩৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৫০ পরীক্ষার্থীর ৪৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বরিশাল বোর্ডে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ শীর্ষে আছে। কলেজটির ৪৯ পরীক্ষার্থীর ৪২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজটির ৪৪ পরীক্ষার্থীর ৩৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। যশোর বোর্ডে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ সেরা হয়েছে। কলেজটির ৪৮ পরীক্ষার্থীর ৪৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাকি রইলো রংপুর ক্যাডেট কলেজ। দিনাজপুর বোর্ডে ওরাও সেরাই হয়েছে। ৪৪ পরীক্ষার্থীর ৪৪ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে।</p><p>প্রিন্সিপাল হিসাবে সফলদের প্রথম অভিনন্দন জানানোর কাজটা তো আমারই। তাই ২০০৪-২০১০ ব্যাচের সবাইকে উষ্ণ অভিনন্দন সিসিবির পক্ষ থেকে। আরো বড় হও তোমরা। ভালো মানুষ হও।</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/999/26413/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>70</slash:comments> </item> <item><title>কাই বৃত্তান্ত ২</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/26089</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/26089#comments</comments> <pubDate>Sun, 04 Jul 2010 02:17:46 +0000</pubDate> <dc:creator>রিজওয়ান (২০০০-২০০৬)</dc:creator> <category><![CDATA[রম্য রচনা]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category> <category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=26089</guid> <description><![CDATA[আমার এক দোস্ত (নাম বললে চিনে ফেলবেন&#8230;.) কাই-রে ডেকে আগের লেখাটা দেখাইছে। কাই খুবই ক্ষিপ্ত এতে। সে আমারে রিসেন্টলি &#8216;জান কবজ&#8217; করার হুমকি দিছে। আমি নাকি অনেক চাপা মারছি&#8230;(তাও নাকি কথ্য বাংলায়&#8230;&#8230;&#8230;শুদ্ধ বাংলায় নাকি চাপা টের পাওয়া যায় না)&#8230;আর যদি ভবিষ্যতে লিখি এইরকম কিছু তাইলে নাকি আমার কুলখানিতে সবাইরে দাওয়াত দেওয়া লাগবে! তা আপনাদের দাওয়াত [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>আমার এক দোস্ত (নাম বললে চিনে ফেলবেন&#8230;.) কাই-রে ডেকে আগের লেখাটা দেখাইছে। কাই খুবই ক্ষিপ্ত এতে। সে আমারে রিসেন্টলি &#8216;জান কবজ&#8217; করার হুমকি দিছে। আমি নাকি অনেক চাপা মারছি&#8230;(তাও নাকি কথ্য বাংলায়&#8230;&#8230;&#8230;শুদ্ধ বাংলায় নাকি চাপা টের পাওয়া যায় না)&#8230;আর যদি ভবিষ্যতে লিখি এইরকম কিছু তাইলে নাকি আমার কুলখানিতে সবাইরে দাওয়াত দেওয়া লাগবে! তা আপনাদের দাওয়াত রইল। কিন্তু কি আর করা! হাতে কোনো কাজ নাই। কিছু তো লিখতে হবে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়া হইলেও continue করি &#8216;কাই উপাখ্যান&#8217; এর ২য় পর্ব&#8230;&#8230;</p><p> সেবারকার ঘটনা। আমরা আড্ডা দিতেছি। কাই হাজির হইল। এবং সে অতি উত্তেজিত, মানে red alert । আমরাও পাত্তা দিতাম না কিন্তু সে অইদিন চুল আঁচড়ায়ে নদীর ধারে আসছে আড্ডা দিতে।তা আমরা খুব টেনশিত মুখে অপেক্ষা করতেছি &#8230;&#8230;&#8230;&#8230;কি কয়?? কি যে কয়!! নতুন কি কেস ঘটাইলো সে আবার। যা জানলাম তা আরো মারাত্মক!!!!</p><p><strong>কাই প্রেমে পড়ছে&#8230;</strong></p><p>শুনে আমরা কয়েক সেকেন্ড চুপ&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230; তারপর সবাই সমস্বরে,<br /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/13.gif' alt=':-o' class='wp-smiley' /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/13.gif' alt=':-o' class='wp-smiley' /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/13.gif' alt=':-o' class='wp-smiley' /><br /> তারপর<br /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/thumbup1.gif' alt=':thumbup:' class='wp-smiley' /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/thumbup1.gif' alt=':thumbup:' class='wp-smiley' /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/thumbup1.gif' alt=':thumbup:' class='wp-smiley' /></p><p>যাহোক আমরা তো খবর শুনে  উত্তেজিত এবং উল্লসিত। তা কে সেই রহস্যময় বিপরীত লিঙ্গের জীব?! কে সেই কন্যা যে কিনা আকাশ বাতাস কাঁপায়ে, মেঘের গন্ধ ছড়ায়ে, স্বপ্নদৃষ্টি মাখায়ে, এলোপায়ে আলোল চুলে আগায়ে,&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;এসে টোকা দিছে কাই এর দিলের দরজায়?! অনেক খোঁচায়ে, অনেক গুঁতায়ে যা জানলাম তা হইল মেয়ে পড়ে কাই এর ডিপার্টমেন্ট-এই। (নাম কবো না, তাইলে এই পোষ্ট পাবলিশ হইতে যা দেরি&#8230;&#8230;&#8230;আমি এর মধ্যেই শ্যাষ!) আমরা সাথে সাথে বু্ঝে গেলাম মেয়ের বর্ণনা কি হইতে পারে।কারণ টা বলি তাইলে। কাই রে তো চিনি খুব ভালো করেই। তাই আমার আইডিয়ায় কাই এর স্বপ্নের নারীর কিছু prerequisites:</p><p>১। মেয়ে খুব লম্বা না, খাটোও না&#8230;&#8230;(এটাই প্রথম এবং শেষ সহজ চাহিদা)<br /> ২। চাঁপাইয়ের টানে কথা কয় না(নো অফেন্স, আমি ওই জেলায় ছিলাম পাঁচ বছর আর ওই টানে কথা বলতে পারি ভালোমত।)<br /> ৩। মুখে রঙ মাখে না(মেক আপ নেয় না)<br /> ৪। শেলী কিংবা কীটস-এর কবিতা পড়ে এবং বুঝে।<br /> ৫। মেঘের(!) মত চুল<br /> ৬। শ্যামা ত্বন্নী শিখরিদশনা&#8230;<br /> &#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br /> &#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br /> &#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br /> (অনন্ত ক্রম শেষে) কাই রে পাত্তাই দেয় না।</p><p>আমি জানি না সে মেয়ে কয়টা পয়েন্ট পূরণ করতে পারছে(শেষটা ছাড়া); মোদ্দাকথা কাই তারে ভয়ানক পেয়ার করে। কিন্তু প্রপোজ করে ক্যামনে? ক্যামনে?? শ কয়েক কাপ কফি আর শত শত গোল্ডলিফ গায়েব হয়ে গেলো। উপায় নাই। কয়েকদিনে চিন্তায় চিন্তায় আমাদের মাথায় prematured টাক পড়লো বলে ভাব, ঠিক তখনই কাই দুম করে মেয়েরে প্রপোজ করে বসলো। যাকে বলে একেবারে blunder!! মেয়ে আমাদের ধারণার চেয়েও স্মার্ট। সে কাই রে ডাইরেক্ট &#8216;না&#8217; দিলো। কাই এমনিতেই একটু বেশি ডিসেন্ট। তাও সে কিছু ধানাই পানাই করলো। সে মেয়েরে জিগাইলো<br /> <strong>&#8220;কেনো না&#8230;কেনো??? কেনোওওও&#8221;</strong>(এই অংশটা সিনেমাটিক স্টাইলে পড়েন&#8230;&#8230;)</p><p>জবাবে মেয়ে যা কইছে তাতে আমরা বেশ অবাক। &#8220;তুমি খুব ভালো ছেলে, কিন্তু একটু পাগলাটে আছো। তাছাড়া খুব স্মোক করো। বেশি ফান করো আর মোটেও সিরিয়াস না লাইফ নিয়ে। বেশি ক্যাজুয়াল থাকো&#8230;&#8230;আর তোমার সব কলেজ ফ্রেন্ড গুলার মাথায় গোলমাল আছে(মানে আমি ও আমরা ক’জন)&#8230;&#8230;&#8230;ইত্যাদি ইত্যাদি।&#8221;<br /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/12.gif' alt='=((' class='wp-smiley' /><br /> সে মেয়ে যা বললো কাইরে নিয়ে তা কাই কেনো আমাদের সবার বেলায় খাটে(পাগলামিটা কম এই যা)। কিন্তু এতে সমস্যা টা কই? যাইহোক আমরা কাইরে হলিউডি মুভি স্টাইলে সান্তনা দিলাম,</p><p><strong>don’t worry dude, she would understand&#8230;&#8230;&#8230;someday(!). Now let’s get you to a bar. You’ll forget ‘bout her in 10 seconds.</strong></p><p>দশ মিনিট পর এক ফাস্টফূডে বসে banana shake খাইতেছি আমরা, কাই কিছুক্ষণ চুপচাপ। হঠাৎ কাই বলে উঠলো&#8230;&#8230;<br /> &#8220;দোস্ত, মেয়রের বাসভবনে পটকা মারবি?&#8221;<br /> &#8220;ক্যান!&#8221;<br /> &#8220;লোকে মনে করবে বোমা মারছে।&#8221;<br /> &#8220;পুলিশে দৌড়াইলে&#8230;&#8230;?&#8221;<br /> &#8220;দৌড়াবো।&#8221;<br /> &#8221; <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/bash.gif' alt=':chup:' class='wp-smiley' /> (হালায় কয় কি!)&#8221;</p><p>আমাদের ভীষণ আপত্তি দেখে কাই একটু থামল। একটু পর আবার আওয়াজ দেয়,<br /> &#8220;আচ্ছা, পছন্দ না হলে চল নাটোর ঘুরে আসি&#8230;&#8230;সাইকেলে।&#8221;<br /> &#8220;সিরিয়াস!&#8221;<br /> &#8220;হ্যা!&#8221;<br /> (দ্রষ্টব্যঃ রাজশাহী থেকে নাটোর ৫০ কি,মি, দূর&#8230;&#8230;যেতে আসতে ১০০ কি,মি,&#8230;&#8230;সাইকেলে!)</p><p>&#8220;অবশ্যই!&#8221; কাইয়ের ভাব এমন যে এইটা কোন ব্যাপারই না। একবার তো এই নাটোর ট্রিপ পোলাপাইন দিছেই।তাই হইছিলো আগে একবার&#8230;&#8230;&#8230;বিশ্বাস করেন। আমি যাই নাই অবশ্য। বাকিরা গেছিল। যারা গেছিল তারা এখনও গভীর রাতে কোমর ব্যাথায় ওই সাইকেল ট্রিপের দুঃস্বপ্ন দ্যাখে। ১০০ কিলোমিটার প্যাডেল মারার কোন খায়েশই আমাদের নাই; কিন্তু কি করা আজকের হার্টব্রোকেন নায়ক কাই। সে যা বলবে তাই আমরা সাপোর্ট দিব।</p><p>তাও ব্যাপার না,আমরা সবাই হ্যাপি, কাই ইজ ব্যাক টু নরমাল। এই সকল উদ্ভট প্রস্তাব কাই স্বাভাবিক থাকলেই দেয়। এতকিছুর পর যদি ওই মেয়ে কাইয়ের মাথা থেকে উবে যায় তাতে সবারই ভাল। আমরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছি কেবল, অমনি&#8230;&#8230;&#8230;</p><p>&#8220;দোস্ত, ওই মেয়ের মুখ দিয়ে আমি হ্যা শুনবই।&#8221;<br /> &#8220;আরে? <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/13.gif' alt=':-o' class='wp-smiley' /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/7.gif' alt=':-/' class='wp-smiley' /> &#8221; আমি সত্যই অবাক হইলাম। কাই আমারে পাত্তা না দিয়ে শুরু করল,<br /> &#8220;যতদিন লাগে লাগুক। আমি ছাড়তেছি না। হাজার হউক আমার পরথম প্রেম। তা তোরা আমারে মানসিক সাহায্য করবি। আমি আবার&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক</p><p>&#8230;&#8230;&#8230;(অনন্তকাল ধরে)&#8221;</p><p>শুনে আমাদের মাথায় হাত <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/102.gif' alt='~x(' class='wp-smiley' /> ।(চলবে&#8230;)</p><p><a href="http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25949">কাই বৃত্তান্ত ১</a></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/26089/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>27</slash:comments> </item> <item><title>ফাউ প্যাঁচাল ০৪-&#8221;কাই&#8221; বৃত্তান্ত</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25949</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25949#comments</comments> <pubDate>Mon, 28 Jun 2010 01:35:28 +0000</pubDate> <dc:creator>রিজওয়ান (২০০০-২০০৬)</dc:creator> <category><![CDATA[রম্য রচনা]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category> <category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25949</guid> <description><![CDATA[বহুদিন হইয়া যাইতেছে সিসিবিতে নতুন রম্য দিতেছিনা। যাহাই হউক সম্প্রতি আমার সকল গভীর প্যাঁচাইন্যা রচনাসমূহ(কাব্য ও ছোটগল্প) পড়িয়া যাহারা নাভিশ্বাস ফেলিতেছেন, তেনাদের জন্য সুসংবাদ&#8230;&#8230;নির্মল বাতাসে মুক্তির শ্বাস নিন। তবে আজিকে রম্য লিখিব চলিত ভাষায়। তাহা হইলে শুরু করিয়া দেই&#8230;&#8230; আমার বন্ধু &#8216;কাই&#8217;; ক্লাস সেভেন থেকে ওরে আমরা আদর করে &#8216;কাউয়া&#8217;ও ডাকি। সে মোটেও কোনো সাধারণ পোলা [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p><em>বহুদিন হইয়া যাইতেছে সিসিবিতে নতুন রম্য দিতেছিনা। যাহাই হউক সম্প্রতি আমার সকল গভীর প্যাঁচাইন্যা রচনাসমূহ(কাব্য ও ছোটগল্প) পড়িয়া যাহারা নাভিশ্বাস ফেলিতেছেন, তেনাদের জন্য সুসংবাদ&#8230;&#8230;নির্মল বাতাসে মুক্তির শ্বাস নিন। তবে আজিকে রম্য লিখিব চলিত ভাষায়। তাহা হইলে শুরু করিয়া দেই&#8230;&#8230;</em></p><p>আমার বন্ধু &#8216;কাই&#8217;; ক্লাস সেভেন থেকে ওরে আমরা আদর করে &#8216;কাউয়া&#8217;ও ডাকি। সে মোটেও কোনো সাধারণ পোলা না। সবাই যদি ডাইনে যায় তাইলে কেউ কেউ বাঁয়ে যাইতে পারে, কিন্তু কাই যাবে উল্টা দিকে। রিকশাওয়ালা ভাড়া ২ টাকা বেশি চাইলে অভিমান করে ৫ কিলোমিটার হেঁটে বাসায় ফিরে সে। আগে বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড মেটাল ব্যান্ডের গান তুমুল রকম শুনতো, এখন মিলার গান শুনলে নাকি ওর দিল-এ দোলা দেয়। ওর প্যান্টে অনেক পকেট, এবং খুবই বিচিত্র দেখতে(আমি একবার গুনছিলাম ১১ টা); কারণ বলতে বলে ভার্সিটির পোলাপাইনদের নাকি &#8216;ব্যাগ বহন করা অনুচিত&#8217;। তাছাড়াও বেশি পকেট থাকলে অনেক সুবিধা, বহুত কিছু নেওয়া যায়(ওর পকেটে আমি স্ক্রু ড্রাইভার, স্যান্ডো গেঞ্জী, বই, এমনকী একটা ২ লিটার সেভেন আপও দেখছি)।</p><p>কলেজ থেকে বের হয়ে সে এক বছর খালি ঘুরেফিরে বেড়ালো; সে নাকি লাইফ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতেছিলো। এইরকম একটা এক্সপেরিমেন্ট ছিলো তিনতলা থেকে একতলা একটা ছাদে লাফ দেওয়া, পদ্মা নদীর কসম, সে লাফ দিছিলো! তয় আল্লা মালুম, সে বহাল তবিয়তে সেই লম্ফ সারভাইভ করেছিল। ওই বাড়ির আন্টি নাকি বাড়ির তোশক-বালিশ-লেপ সব রোদে দিছিলেন, যেগুলো কাই-এর জন্য ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্মের কাজ করে দিয়েছিলো।</p><p>এরচেয়েও ডেঞ্জারাস কাহিনী পরেরটা&#8230;&#8230; একবার রাস্তায় এক ট্রাক দেখে পাগলের তাল উঠল হঠাৎ। সাইকেল নিয়ে একটা পরীক্ষামূলক ধাক্কা খাইতে গ্যালো সে। পরে তারে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে কইছিলো &#8220;কোনটার ভরবেগ বেশি তা চেক করে দেখতেছিলাম&#8221;।</p><p>যাইহোক, কপালগুণে ট্রাকের স্পিড ছিল কম, সে &#8220;জাপানীজ কামিকাজি&#8221; ষ্টাইলে আত্মঘাতী হামলা চালাইতে গেলে ড্রাইভার আতঙ্কে ব্রেক করছিলো। তাই হাত পা ছিলে যাওয়া ছাড়া আর কিছু হয় নাই তার। শোনা যায় ট্রাকের ড্রাইভার আর হেল্পার মারাত্মক রকম আশ্চর্য হয়ে গেছিলো&#8230;&#8230;তারা খুফই এক্সপেরিয়েন্সড লোক, এ পর্যন্ত অনেক যানবাহন রে ধাক্কা দিছে, বহু এক্সিডেন্ট দেখছে, কিন্তু সাইকেল নিয়ে কেউ তাদের কখনোও ধাক্কা মারার চেষ্টা করে নাই।</p><p>খানকয়েক ইনজুরি নিয়ে তারপর &#8216;কাই&#8217; হসপিটালে পৌঁছাইলো, তাও সে অফ যায় না। বেডে শুয়ে নার্সরে গুঁতাইতেছে, &#8220;আমি সিগারেট খাইতে চাই।&#8221;<br /> নার্সঃ &#8220;হসপিটালে তো সিগারেট নিষেধ। তাছাড়া আপনি বেশ অসুস্থ&#8230; &#8221;<br /> কাইঃ &#8220;না! আমি খাবই&#8230;&#8230;কেনো খাবনা?&#8230;&#8230;এইটা আমার বাকস্বাধীনতার অংশ&#8230;&#8230;সংবিধানের চতুর্দশ পরিচ্ছেদের ষষ্ঠ ধারায় আছে&#8230;&#8230;&#8230;(ইত্যাদি, ইত্যাদি&#8230;)&#8221;<br /> এইদেখে নার্স ডিউটিতে থাকা ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আসলো। ডাক্তার এসে সব শুনে মাথা নেড়ে&#8230;&#8230;<br /> ডাক্তারঃ &#8216;আচ্ছা ঠিক আছে, আমার কাছে সিগারেট আছে। একটা দিচ্ছি তোমাকে। কিন্তু একটার পর আর যন্ত্রণা দিবা না&#8230;&#8230;নাও&#8230;&#8217;<br /> কাইঃ &#8220;আমি বেনসন খাই না&#8230;গোল্ডলিফ খাবো।&#8221;<br /> ডাক্তারঃ &#8220;এমনিতেই আমি বিপদে আছি। আপাতত খাও, পরে দেখা যাবে।&#8221;<br /> কাইঃ &#8220;না! আমি কিন্তু পালাবো বলতেছি, আমার গোল্ডলিফ-ই চাই&#8230;আমি কিন্তু&#8230;&#8230;&#8221;</p><p>সে দাবি করে যে ব্যস্ত ডাক্তার তারে সিগারেট কিনে এনে খাওয়াইছিলো কিন্তু আমার ধারণা ওরে হাত পা বেঁধে ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়ানো হইছিলো।</p><p>আবার সে মাঝেমধ্যে গভীর রাতে ঘোরাফিরা করত, এমনকী ওর এলাকায় পেট্রল দেওয়া র‌্যাবের সদস্যদের সাথে ওর খাতির হয়ে গেছিল এতবার দেখা হওয়ায়&#8230;&#8230;ইদানীং সে দাবী করে যে তার বুদ্ধিতেই নাকি র‌্যাব &#8216;ক্রসফায়ার&#8217;-এর বদলে &#8216;বন্দুকযুদ্ধ&#8217;  শুরু করেছিল।</p><p>কলেজে থাকতে সে ভালো গোলকীপার ছিলো। সেটা ছাড়ছে কারণ এ পর্যন্ত প্রায় ডজন দেড়েক চশমা ভাংগা হইছে তার। তাছাড়া চশমা না পরলে সে নাকি মাঠে &#8220;একাধিক&#8221; বল দেখতে পাইত! ক্রিকেটেও খুব ভালো&#8230;&#8230;ভালো ফিল্ডিং দিতো, উড়ে উড়ে লাফ দিয়ে ক্যাচট্যাচ ধরত। গুজব শোনা যায়, তার খেলা দেখে &#8220;বৈকালী&#8221; ক্লাবের কোচ তারে রিক্রুট করতে চাইছিলেন। কিন্তু প্রস্তাব শুনে &#8220;কাই&#8221; ডাইরেক্ট না কয়ে দিল। তার বক্তব্য&#8230;&#8230;</p><p> <strong>“অসংখ্য ধন্যবাদ&#8230;&#8230;কিন্তু আমি মনে করি, আমি কাসিম হাউসের হয়েই খেলতে চাই।” </strong></p><p>মাত্র কয়দিন আগে তার মনে হইছে যে সে কথাটা তখন হাউস ফিলিংস্‌ থেকে কয় নাই; সে অন্য কোনো স্পোর্টস নিয়ে তার ভবিষ্যত দেখতেছিল। কোনটা জানতে চাইলে সে কয় -হা-ডু-ডু&#8230;&#8230;</p><p><em>যাই হোক তারে নিয়ে বছর দুয়েক আগের একটা গল্প দেই&#8230;&#8230;</em></p><p>তখন রাজশাহী ভার্সিটির  ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট –এর তারকা ছাত্র &#8216;কাই&#8217;। নিজ যোগ্যতায় ফার্স্ট ইয়ারেই এক IELTS  কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেয়া শুরু করল। ১ম ক্লাসটা তারে নিতে দেয়া হল listening skill -এর উপর। স্টুডেন্ট তার সব সিনিয়র ভাই এবং আপু। গড়ে সবাই তার থেকে ৪/৫ বছরে সিনিয়র। তাই সে খুবই টেনশিত। আমি আবার সেখানে প্রায়ই যাই&#8230;&#8230;সেন্টারের কম্পিউটার সেকশানে-এ কিছু কাজ করি। আমার বসার যে জায়গা সেটা ক্লাসরুমটা থেকে একটা কার্ডবোর্ডের দেয়াল দিয়ে আলাদা করা মাত্র।</p><p>কাই কিন্তু আমাকে বারবার বলে দিছে আমি যেনো উল্টাপাল্টা কোনোকিছু না করি। কিন্তু পাগলরে সাঁকো নাড়াইতে না করে লাভ আছে নাকি?! পাশের রুমে বসে আছি এবং আমি জানি কাই এইমূহুর্তে খুফ টেনশিত। এই সুযোগ কাজে না লাগাইলে আমার &#8220;এক্স-ক্যাডেট <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/4.gif' alt=':D' class='wp-smiley' /> &#8221; বিবেক কেমনে মানে কন!</p><p>ঠিক টাইমে ক্লাস শুরু হল। সে লেকচার দেয়া শুরু করল। আমি কান খাড়া করে আছি। নার্ভাস কাই-এর কথাগুলান এরকম&#8230;&#8230;<br /> &#8220;আঁ&#8230;&#8230;listening  এ-এ-এ-কই সাথে স-স-সহজ এবং ক-ক-কঠিন। আ-আ-আমরা চেষ্টা ক্ক-ক-করব&#8230;&#8230;&#8230;(এইরকম তোতলামি আরও দেড় মিনিট&#8230;) ।&#8221;<br /> হঠাৎ এক সুন্দর গলার আওয়াজ&#8230;&#8221;আপনি কি সুস্থ বোধ করতেছেন?? নাহলে কিছুক্ষনের জন্য ব্রেক নিতে পারেন&#8230;&#8230;আমরা কিছু মনে করব না।&#8221;<br /> কাইঃ &#8220;জ্বী&#8230;&#8230;ইয়ে মানে&#8230;আপনারা সবাই কতো সিনিয়র! একটু এম্ব্যারাসড ফিল করছি&#8230;&#8230; <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/17.gif' alt=':-?' class='wp-smiley' /> &#8221;<br /> সুন্দর গলার মালিকঃ &#8220;নাহ, কোন সমস্যাই নয়&#8230;&#8230;I find it rather cute&#8221;<br /> কাই থতমত খেয়ে গেলো মনে হয়। ভাঙ্গাচোরা গলায় আওয়াজ শুনলাম,&#8221;থ্যাঙ্কস আপু&#8230;&#8230;&#8230; <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/9.gif' alt=':shy:' class='wp-smiley' /> &#8221;<br /> দেয়াল এর ওপাশ থেকে আমার উল্লসিত চিৎকার, <strong>&#8220;ওরে-এ-এ-এ-এ-এ-এ-এ কাই&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;হায়! হায়!! হায়!!!&#8230;&#8230;&#8221;</strong></p><p>এরপর পুরা কোচিং সেন্টার অফ, পিনপতন নীরবতা; পাঁচ মিনিট সব চুপ! হঠাৎ কোচিং সেন্টারের আইটি সেকশানের পরিচালক সবুজ ভাই এসে হাজির আমার সামনে;<br /> &#8220;রিজওয়ান, তুমি আজকের মতো অনেক কাজ করে ফেলছ&#8230;&#8230;এখন বাড়ি যাও।&#8221;<br /> &#8220;কিন্তু সবুজ ভাই আমি মাত্র বিশ মিনিট আছি&#8230;&#8230;!&#8221;<br /> &#8220;তা ঠিক , কিন্তু  LISTENING-এর ক্লাস তোমার কাজের থেকে বেশী জরুরী।&#8221;<br /> &#8220;প্লিজ ভাই&#8230;&#8230;সেইরকম মজা দেখতেছি তো।&#8221;<br /> &#8220;যাবা না মাইর খাবা!&#8230;&#8230;&#8221;</p><p>কি আর করব! কাই সেইরকম বাঁচা বেঁচে গেলো সেদিন। তবে তার দাবী সে নাকি কঠিন ক্লাস নিতেছিলো। আর আমার &#8220;আর্তনাদ&#8221; নাকি কেউ শোনে নাই। ওইটা আমার চাপা। আর সে নাকি পুরা ক্লাস একবারো তোতলায় নাই। যাহোক এরপর সে আরো ৪ মাস ক্লাস নিছিলো। আর সেই চিকন কন্ঠের বড় আপুর সাথে পরে তার বেশ খাতিরও হইছিলো। তাইলে আপনারাই বোঝেন! (চলবে&#8230;&#8230;)</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25949/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>60</slash:comments> </item> <item><title>ছোটগল্পঃ শহুরে মৃত্যু</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25869</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25869#comments</comments> <pubDate>Thu, 24 Jun 2010 16:01:38 +0000</pubDate> <dc:creator>রিজওয়ান (২০০০-২০০৬)</dc:creator> <category><![CDATA[গল্প]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25869</guid> <description><![CDATA[ ওভারব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে আকাশকুসুম কল্পনায় নিজেকে দ্বিতীয় আসমানে উড়িয়ে বেড়াচ্ছি আর পায়ের বিশফুট নিচে দেখছি নির্বোধ ভিড়ে মিশে যাওয়া ঘাম ও ধুলোর গন্ধের। আশপাশ দিয়ে ধাতব শব্দে পা ফেলে দৌড়াচ্ছে সময় এবং ব্যস্ত কর্মমূখী মানুষগুলো। কালো ধোঁয়ায় ভুতুড়ে স্বপ্নের দেশের দিকে জড়োসড়ো এগিয়ে যাচ্ছে আটটি শিশু। রাস্তার ধারে রেস্টুরেন্টে খাবার গিলছে একমনে কয়েকটি তরুণ। এসব [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/OVERBRIDGE.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/06/OVERBRIDGE.jpg" alt="" title="OVERBRIDGE" width="640" height="480" class="aligncenter size-full wp-image-25870" /></a></p><p>ওভারব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে আকাশকুসুম কল্পনায় নিজেকে দ্বিতীয় আসমানে উড়িয়ে বেড়াচ্ছি আর পায়ের বিশফুট নিচে দেখছি নির্বোধ ভিড়ে মিশে যাওয়া ঘাম ও ধুলোর গন্ধের। আশপাশ দিয়ে ধাতব শব্দে পা ফেলে দৌড়াচ্ছে সময় এবং ব্যস্ত কর্মমূখী মানুষগুলো। কালো ধোঁয়ায় ভুতুড়ে স্বপ্নের দেশের দিকে জড়োসড়ো এগিয়ে যাচ্ছে আটটি শিশু। রাস্তার ধারে রেস্টুরেন্টে খাবার গিলছে একমনে কয়েকটি তরুণ। এসব কিছুর মাঝখানে আমি পোড়াচ্ছি সিগারেট কিন্তু টেনে নিচ্ছি ট্রাফিক জ্যামের কালো ধোঁয়া।</p><p>এইরকমই সহজ একটা দিন এই দিনটি। নিত্যকার মতোই কোন এক শাদা প্রাইভেট কারের ড্রাইভার সিগন্যালে আটকে চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করছে নিস্পাপ সকালের; টুং টাং শব্দে কাঁদছে বেমানান রিকশাগুলো; কতগুলো ইউনিফর্ম পরা শিশু নিপুণ পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে স্কুলের দিকে; একই রেস্টুরেন্টে খাবার গিলছে কয়েক প্রবীণ এবং এত ভীড়েও আমি কেন জানি খুঁজে পাচ্ছি নৈঃশব্দ্য।</p><p>যদিও আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটা ছায়া বরাবরের মতই; ওরা আমাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে মেতে আছে খোশগল্পে নিজেদের মাঝে। সবচে’ বাচাল ছায়াটা বকে যাচ্ছে আপনমনে,</p><p>“&#8230;এই শহর, এই যে শহরটা! কি ছিল আর এখন কি! এত দ্রুত বদলাচ্ছে&#8230;”, কোনরকম নি:শ্বাস না ফেলেই আবার শুরু করে দিল,<br /> “ব্যাঙের ছাতার মত গজাচ্ছে সব দালান আর রাস্তাগুলো&#8230;&#8230;প্রত্যেকটা দিন মাথার ভেতর শহরের ম্যাপটা আপডেট করা লাগে&#8230;”, খানিক বিরক্তির সাথে ঘাড় নাড়াই আমি এবং পরক্ষণেই স্বস্তিবোধ করি। কারণ এই কথক মৃত, আর মৃত ছায়াদের প্রলাপ পাত্তা দেবার মত সময় কোনকালেই ছিলো না এই শহরের। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে মাথা দুলিয়ে বাচালকে সায় দিলো সবচে’ বিষণ্ণ ছায়াটা; শুধু বলল,<br /> “হুম&#8230;”, আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। লম্বা চুলের মৃত এই ছায়াটা সবচে’ বীভৎসভাবে মারা গিয়েছিল বলে জানা যায়। কবি ছিল সে; তার লেখা একটা কবিতা পড়ে ক্ষেপে গিয়েছিল একদল কাক, নিপুণ ক্রোধে ওকে পুরো শহর তাড়া করে ফিরেছিল। ছুটতে ছুটতে শেষ পর্যন্ত কবি হাল ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়লে কাকেরা একে একে ঠুকরে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিল তার সমস্ত শরীর, উপড়ে ফেলেছিল অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো। মনে পড়তেই গা শিরশির করে উঠল আমার। চিন্তার স্রোত অন্যদিকে ফেরাতে নজর দিলাম রাস্তার ভীড়ে আর একবার।</p><p>সিগন্যালে সবুজ বাতি জ্বলছে এখন। ক্রসিংয়ের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে একজন মা ও শিশু। মায়ের চোখেমুখে একরাশ উদ্বেগ এবং শিশুর চোখে উজ্জ্বল আলো, স্কুলে পৌছাতে হবে সময়মত! আমি কেন জানি গভীর উৎসাহ নিয়ে দেখতে থাকি ব্যাপারটা। সিগন্যাল পেরিয়ে যাচ্ছে যানবাহনগুলো খুব দ্রুত, যেন একটু দেরী করলেই কেউ ওদের চিরকালের জন্য আটকে ফেলবে এই কংক্রীটের নিষ্ঠুর অরণ্যে। এটা ভাবতেই আপনমনে হেসে উঠলাম আমি। আমরা সবাই এই অরণ্যের মায়ায় জড়িয়ে গেছি চিরকালের মত; এমনকী মরে গিয়েও লাভ নেই। এই নরকে ফিরে আসতেই হবে ছায়া হয়ে; বিভিন্ন দালানের ছাদে, ওভারব্রীজের ছায়ায়, ডাষ্টবিনের দুর্গন্ধে আশ্রয় নিতে হবে তারপরে।</p><p>“ কেন জানি মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছি&#8230;”,পাশ থেকে বলে উঠল কেউ। তাকিয়ে দেখি এই দলের বিপজ্জনক ছায়াটাকে, যে কিনা জীবিতকালে ছিল ভাড়াটে খুনি। মৃত্যুর আগমুহূর্তে সে দেখেছিল রিভলভারের নল, এখন তার কপালে দুইটি ফুটো দেখা যাচ্ছে। তার কথা ভুল হয়েছে খুব কমই। আমি খানিক শঙ্কা নিয়েই তাকালাম ব্যস্ত রাস্তাটার দিক।</p><p>কোন পূর্বাভাস ছাড়াই সিগন্যালের সবুজ বাতিটা হলুদ হয়ে গেল হঠাৎ করে। প্রাণপণে গতি বাড়িয়ে দিল একটা পিকআপ ট্রাক, আটকা পড়বার কোন ইচ্ছেই নেই তার। ছুটছে, ছুটছে&#8230;&#8230;জ্বলে উঠলো লাল বাতিটা। ঠিক সেইসময়ে ক্রসিংয়ে পা বাড়ালো সেই মা ও শিশু, তীব্র হর্ন এবং লোকজনের চিৎকারে ভরে উঠলো চারপাশ,</p><p>ব্রেক ফেল করেছে সেই পিকআপ ট্রাকটার।<br /> কর্কশ শব্দ করে উঠল রাবারের টায়ার পিচের রাস্তায় কালো দাগ ফেলে;<br /> সোজা রাস্তায় বাঁক খেয়ে পাশ কাটালো সেই হতভম্ব মা ও শিশুকে;<br /> ফুটপাত টপকে আছড়ে পড়লো একটা ল্যাম্পপোষ্টের গায়ে;<br /> দুই মুহূর্তের জন্য চুপচাপ হয়ে গেলো সমস্তকিছু;<br /> মৃত্যুর তীব্র গন্ধ এসে ধাক্কা দিল আমার মগজে।</p><p>এরপরই সম্বিৎ ফিরে পেলো সবাই, চেঁচামেচি করতে করতে দৌড়ে গেলো কাত হয়ে থাকা ট্রাকটার দিকে। ওটার উইন্ডশিল্ড ভেঙ্গে গেছে। বেকায়দায় বেরিয়ে আছে কারো অর্ধেক শরীর। টেনে হিঁচড়ে বের করা হল শরীরটাকে। কয়েকমহূর্তের জন্য যেন থরথরিয়ে কেঁপে উঠল শরীরটা; এরপরই সকলের অলক্ষ্যে নির্বিবাদে ঝিমিয়ে পড়ল মৃত্যুতে। খানিক পরেই সকল শব্দে থিতিয়ে এলো আমার মাথার ভেতর। এদিক ওদিক চেয়ে খুঁজতে লাগলাম সেই মা ও শিশুকে; পেলাম না।</p><p>এই সমস্ত শোরগোলের মাঝে দ্রুত কোথায় হারিয়ে গিয়েছে ওরা। আমি তবুও বারবার খুঁজলাম এই দু’জনকে; নাহ্‌, কোথাও নেই।<br /> “খুঁজে লাভ নেই&#8230;”, আমার দৃষ্টি অনুসরণ করে বলল সেই প্রাক্তন ভাড়াটে খুনি।</p><p>“বলেছিলাম না মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছি! এখনো ঠিক ঠিক টের পাই&#8230;।” শুনে আমি প্রচন্ড অবসাদ বোধ করি, এই নিয়ে তৃতীয় মৃত্যু দেখলাম এই ওভারব্রীজের উপর থেকে। প্রত্যেকবারই নতুন একটা ছায়া এসে জুটেছে এই দলটায়। একসময় আমি একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম এখানে, এখন আর নয়। মৃতরা জড়ো হচ্ছে আমার প্রিয় এই জায়গাটাতে। অভিশপ্ত আমি, মৃতদের দেখতে পাই, ওদের কথা শুনতে পাই। আমি নিজে অর্ধমৃত, এই শহরের বাতাস আমার সবটুকু জীবন শুষে নিয়েছে। বাকি রয়েছে এই খোলসটুকু শুধু।</p><p>কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজির হল আজকের দুর্ঘটনায় মৃত পিকআপ ড্রাইভার, এলোমেলো শরীরে যোগ দিল ছায়াদের সাথে। ওকে সানন্দে ঘিরে ধরল অন্যান্যরা। অনেক শীতল অভ্যর্থনা, কুশল বিনিময়, সমবেদনা প্রকাশ এসবের মাঝে আমি অনাহূত বোধ করতে লাগলাম। মৃতদের মাঝে অর্ধমৃতরা হয়ত কখনোই স্বাগত নয়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘরে ফেরার জন্য পা বাড়ালাম। তখনোও বকে যাচ্ছে সেই বাচাল ছায়াটা&#8230;</p><p>কি মনে করে ঘুরে দাঁড়ালাম। বাচাল ছায়াটার দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলাম,<br /> “তা আপনি মারা গিয়েছিলেন কিভাবে?”</p><p>মুচকি হাসলো ছায়াটা; খানিক ভেবে নিয়ে বলল,<br /> “হৃৎপিন্ডটা বেঈমানী করেছিলো&#8230;”</p><p><em>(শেষ)</em></p><p><em>তারিখঃ ৭ই জুন, ২০১০</em></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25869/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>22</slash:comments> </item> <item><title>নস্টালজিক বিশ্বকাপ ২০০৬ আর অপ্টিমিস্টিক বিশ্বকাপ ২০১০!</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/25523</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/25523#comments</comments> <pubDate>Thu, 10 Jun 2010 20:05:56 +0000</pubDate> <dc:creator>আছিব (২০০০-২০০৬)</dc:creator> <category><![CDATA[খেলাধুলা]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[রম্য রচনা]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category> <category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25523</guid> <description><![CDATA[২। অপ্টিমিস্টিক বিশ্বকাপ ২০১০: &#8230;&#8230;বিশ্বকাপ-জ্বরে ভুগছে গোটা বিশ্ব। এই জ্বর থার্মোমিটারে মাপা যায় না, অনুভব করতে হয়। বাঙ্গালীরাও পিছিয়ে নেই। ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা স্বপ্লের জাল বুনি, কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলা আর লোডশেডিং-জর্জরিত বাংলাদেশ ডিজিটালাইজড হওয়া একই কথা। তারপরও ফুটবলই এদেশে জনপ্রিয়। বাপ-চাচারা সবাই ’৮৬-তে ম্যারাডোনার খেলা দেখে আর্জেন্টিনার ভক্ত, ভাই-বেরাদাররা অবশ্য রোমারিও-বাজ্জিও-বালাকদের খেলা দেখে [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p><strong>২। অপ্টিমিস্টিক বিশ্বকাপ ২০১০:</strong></p><p>&#8230;&#8230;বিশ্বকাপ-জ্বরে ভুগছে গোটা বিশ্ব। এই জ্বর থার্মোমিটারে মাপা যায় না, অনুভব করতে হয়। বাঙ্গালীরাও পিছিয়ে নেই। ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা স্বপ্লের জাল বুনি, কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলা আর লোডশেডিং-জর্জরিত বাংলাদেশ ডিজিটালাইজড হওয়া একই কথা। তারপরও ফুটবলই এদেশে জনপ্রিয়। বাপ-চাচারা সবাই ’৮৬-তে ম্যারাডোনার খেলা দেখে আর্জেন্টিনার ভক্ত, ভাই-বেরাদাররা অবশ্য রোমারিও-বাজ্জিও-বালাকদের খেলা দেখে দ্বিধাবিভক্ত। আমি প্রথম থেকেই ব্রাজিল-ভক্ত, কেননা যখন থেকে ফুটবল বুঝি, তখন ব্রাজিলই ফর্মে ছিল। তো ‘বিশ্বকাপে বিশ্ব কাঁপে’ এই ডায়লগটা এদেশে ব্যাপক খাটে। আজকে জানলাম, এক কলেজ ছাত্র আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙ্গাতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে মারা গেছে! হায়রে, কাঁপাকাঁপি করতে করতে শেষ পর্যন্ত কিনা পপাতধরণীতল! কবে যে পেপারে দেখব, ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১০, ২জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক!’ হায়রে হুজুগে বাঙ্গালী!&#8230;.<br /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/th_wallbash.gif' alt=':bash:' class='wp-smiley' /></p><p>&#8230;&#8230;আমার ছোট ভাই পড়ে এইটে। ফুটবল খেলে কম, শরীর নিয়ে নড়তে পারে কম, তাই গোলকিপার থাকে। ফুটবল নিয়ে তার যতটুকু জ্ঞান, তার সূচনা হয় কম্পিউটারে ফিফা খেলতে গিয়ে! প্লেয়ার বায়োডাটা মুখস্থ করে আর টিম পার্ফর্মেন্স, প্লেয়ার ক্যারেক্টারিস্টক্স মুখস্থ করে সে আমার কাছে পার্ট নেয়, ‘তুমি কিছু জান??’ আমি বলি ‘না, জানি না, ফুটবলও এখন ডিজিটালাইজড হয়ে গেছে!’&#8230;.সে বাসার মধ্যে একটা মাঝারি আকারের লাঠির আগায় ব্রাজিলের পতাকা লাগিয়ে হাঁটাহাঁটি করে! তার এই মৌনবিজয়মিছিল দেখে যদি উপরওয়ালা ব্রাজিলকে কাপটা দান করত!..<br /> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/105.gif' alt=':dreamy:' class='wp-smiley' /></p><p>&#8230;.আমার ‘ইয়ে’-ও ব্রাজিলের সাপোর্টার। সেও খেলাধুলা পছন্দ করে না,কিন্তু আমার সাথে মিলে যাওয়াতে আমি একইসাথে খুশি ও অবাক। অবাক হওয়ার কারণ,মেয়েরা অধিকাংশই আর্জেন্টিনার সমর্থক। এর কারণ&#8230;বুঝে নিন নিচের থেকে&#8230;.<br /> আমার এক বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করলাম,<br /> -কিরে,তুই ব্রাজিল সাপোর্ট করিস না কেন রে?<br /> তার জবাব,<br /> <strong>-ধুর,এইসব কালা কালা প্লেয়ার কেউ সাপোর্ট করে?!</strong> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/14.gif' alt='x-(' class='wp-smiley' /><br /> মেজাজ খারাপ হলেও শয়তানী বুদ্ধি তো কম না,তাই তাকে জ্বালাতে ইচ্ছা করল। পরদিন কাকার ছবি দেখিয়ে বললাম,<br /> -একে চিনিস?দেখ তো কেমন লাগে!<br /> সে বলে<br /> -ওয়াও! ছেলেটা তো হ্যান্ডসাম,কিউটও আছে!<br /> আমি বললাম,<br /> -এ কিন্তু ব্রাজিলের প্লেয়ার!<br /> শুনেও তার মুড-অফ।এইবার নায়ক ব্র্যাড পিটের ছবি দেখিয়ে বললাম<br /> -দোস্ত, এও কিন্তু ব্রাজিলের প্লেয়ার,একে ভাল লাগে না?<br /> এবার সে একটা মোহনীয় হাসি দিয়ে বলল,<strong> ‘এরকম আর কয়েকটা কিউট কিউট প্লেয়ার দেখাইতে পারলে আমি ব্রাজিলের ফ্যান হয়ে যামু</strong> যা!’ (উল্লেখ্য,সে হিন্দি সিনেমা-সিরিয়ালে ব্যাপক বিশেষজ্ঞ হলেও হলিউড আর খেলাধুলাতে বিশেষ-অজ্ঞ!)</p><p>&#8230;.সমস্যা এখানে মিটে গেলে ভালো ছিল। কিন্তু সেদিন মেজাজ খিঁচড়ে গেল আমার রুমমেটের কথা শুনে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিরে তুই কোন দল, ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা?’ সে বলে,<br /> <strong>-ব্রাজিলের কালা সব প্লেয়ার, ভাল্লাগে না! আমি আর্জেন্টিনা!</strong> (বলাই বাহুল্য, সে কিন্তু ছেলে! খেলাধুলা করে-বুঝে-দেখে না, শাহরুখ খানের ডাই-হার্ড ফ্যান আর প্রচুর টিউশনী করায়!)<br /> আমি বললাম,<br /> -শালা, তোর ছাত্রীরা যদি এই কথা বলত, কিচ্ছু মনে নিতাম না, তুই ব্যাটা ফুটবলারদের মধ্যেও চেহারা দেখস, গে কুনহানকার! <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/mad.gif' alt=':mad:' class='wp-smiley' /></p><p>&#8230;&#8230;. হুজুগের শেষ নেই। সারা দেশ পতাকায় ভরে গেল। আকাশে বাতাসে এত পতাকা। আশা করি, বিশ্বকাপের পরে এসব পতাকা দিয়ে অগণিত গরীব-দুস্থদের বস্ত্রচাহিদা পূরণ করা হবে! এখন এদেশে আসলে মনে হয় পতাকা আর জার্সির বহর দেখে ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার আমাদের ‘সোনার’ ছেলেদের আফ্রিকার মাঠে ফুটবল খেলতে নামিয়ে দিতেন। অবশ্য, আমি মোটামুটি নিশ্চিত, আফ্রিকায় গেলে আমাদের ‘সোনার’ ছেলেরা ‘সোনার কাপ’ এর চিন্তা বাদ দিয়ে হীরার খোঁজে দলছুট হয়ে যেত কিংবা আফ্রিকার পার্মানেন্ট সিটিজেন হওয়ার তরিকা খুঁজত!<br /> আমার হলের সামনে ৪০’x২৮’ এর ব্রাজিলের পতাকা টাঙ্গানো হল, যা দেখে সবাই বাহবা দিল। আর আর্জেন্টিনার একটা পতাকা টাঙ্গানো হল,৪ তলা থেকে নিচ পর্যন্ত। এসব দেখে জনৈক বুয়েটীয় আঁতেলের সুচিন্তিত মন্তব্য- ‘আর্জেন্টিনার পতাকার লেংথ বেশি,তাই আর্জেন্টিনার সাপোর্টার বেশি!’ কি আর বলব, পতাকার ডাইমেনশন দেখে যারা ফিলিংস মাপার চেষ্টা করে, তারা ভালো ইঞ্জিনিয়ার হবে না তো কি আমার মত ফাতরা পোলাপান ভালো ইঞ্জিনিয়ার হবে?!! <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/102.gif' alt='~x(' class='wp-smiley' /></p><p>&#8230;..যাই হোক, হলে তো আর কারেন্ট যায় না, ওয়ার্ল্ড কাপ দেখব ৪২’’ এলসিডি টিভিতে। সেইরাম ফিলিংস! সব হলেই দেয়া হয়েছে এইসব টিভি! গত কয়েক মাসের পারফরমেন্স আর টিম স্পিরিট দেখে আমার ব্রাজিলের এবার অপার সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়। অনেক ভাই-বেরাদাররা তথ্যবহুল রচনা দিয়ে আমার মত ম্যাংগো-সাপোর্টারদের ক্রীড়াজ্ঞান বিকশিত করেছেন।মইনুল ভাই, আকাশদা, কামরুল ভাই সবাইকে সাধারণ সালাম <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/Ex-cadet.gif' alt=':salute:' class='wp-smiley' /></p><p>আমি অ্যানালাইসিসের ধৃষ্টতা দেখাব না। তাই আমার চারপাশে ঘটমান অবস্থা নিয়ে একটু আলগা ভ্যাজর ভ্যাজর করলাম। সব কথার শেষ কথা, আশা করছি  মেয়েদের হার্টথ্রব কিউট কিউট আর্জেন্টাইনের মুখে চুনকালি দিয়ে আমার যোগ্য ব্রাজিলিয়ানরা কিংবা  স্প্যানিয়ার্ডরা এবার ওয়ার্ল্ড কাপ ঘরে তুলবেই। যাই তাহলে, শাকিরার ড্যান্স দেখে আসি&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;</p><p><strong>১।নস্টালজিক বিশ্বকাপ ২০০৬:</strong></p><p> ২০০২ সালে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হল মনে আছে। জুনিয়র ছিলাম, কলেজে শান্তিমত খেলা দেখিনি, তবে ক্লাসমেটদের মধ্যে বাকযুদ্ধে ঠিকই তৎপর ছিলাম! ছুটিতে এসে শেষ কয়েকটা খেলা দেখেছিলাম। কিন্তু লোডশেডিং এর ব্যাপক তাফালিং এর জন্য শান্তি পাইনি খেলা দেখে। অত দরদ নিয়েও দেখিনি, কিন্তু কিছু কিছু স্মৃতি স্পষ্ট মনে আছে, যা অনেকেই স্মৃতিচারণ করে ফেলেছেন।</p><p>&#8230;..কিন্তু ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল আমার সারাজীবন মনে থাকবে। মনে পড়ে, ২৮শে জুন কলেজ থেকে পাস আউট করলাম। ৯ই জুন- ৯ই জুলাই বিশ্বকাপ হল। ৩০শে জুন যখন জার্মানী-আর্জেন্টিনার উত্তেজনাকর ম্যাচ হল, তখন আমার চোখে পানি! আর্জেন্টিনা হারার দুঃখে তো নয়ই, উত্তেজনাবশতও নয়। এই পানির কারণ, টিভিরুম আর আমার বন্ধুদের চিল্লাপাল্লা ব্যাপকভাবে মিস করছিলাম! কলেজ থেকে কেঁদে বের হইনি, কিন্তু বুকের মধ্যে যে হাহাকার সেটা ধীরে ধীরে শুধু বেড়েছেই, কমেনি!</p><p>&#8230;..জুনের আগেই প্রিন্সিপাল আবু সাঈদ বিশ্বাস স্যার আর এ্যাডজুটেন্ট শফিউল্লাহ মাস্তান স্যার বদলি হয়ে চলে গেলেন। আমরা বিদায়ী ব্যাচ, এইচ.এস.সি. পরীক্ষা চলছে। কিন্তু বিশ্বকাপ কাছে আসছে, ‘জ্বর’ বাড়ছে,টের পাচ্ছিলাম। ইনারা চলে যাওয়াতে এতদিন যা যা করতে পারিনি, তা তা করার বুদ্ধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। আগের অ্যাডজুটেন্ট পতাকা-সে কাপড়ের কিংবা কাগজের যা-ই হোক, সিজ করে নিয়ে যেতেন, চড়-থাপ্পরও দিতেন, কিন্তু নতুন অ্যাডু কিচ্ছু বললেন না। ছেলেপেলেও ব্যাপক উৎসাহে নেমে পড়ল পতাকা বানানোর কাজে। আর আমরা যখন টিভিরুম খোলা থাকত, তখন টিভিরুমেই সকল জুনিয়রের আনাগোনা নিষিদ্ধ করে বেঞ্চ সব সরিয়ে দুই দল করে ফুটবল খেলতাম! বল যথারীতি মোজা দিয়ে বানানো! সাদা মোজা তো আর তখন লাগত না, আমরা যে পরীক্ষার্থী!</p><p>&#8230;..আমরা ছিলাম এককাঠি সরেস। কলেজ অথরিটি গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর জন্য কিছু ফ্রীনেস দিল। যেমন, লাইটস অফের (১০টা ৪৫ মিনিট) পরও কিছুক্ষণ খেলা দেখতে দেয়া, কোন কোন খেলার জন্য সেকেন্ড প্রেপ এক্সকিউজ করা ইত্যাদি। তারপরও আমরা সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। এক্সামিনী ব্যাচ আমরা,সবকিছুই এক্সকিউজ। সারাদিন হাউসে থাকি আর পড়ি। আর খাইস্টা প্রিন্সি-অ্যাডু চেঞ্জ হওয়ায় আমাদের সাহস গেল বেড়ে।চোরের মত রুম ক্রিকেট খেলা বাদ দিয়ে করিডোর ক্রিকেট খেলা শুরু করলাম। ধরাও খেতাম অবশ্য নতুন হাউস মাস্টার জামশেদ স্যারের কাছে (জেসিসি থেকে আগত,বর্তমানে এমজিসিসির ভিপি হিসেবে আরসিসি থেকে ভাগত!)। তিনি আসতেন, মোজা দিয়ে তৈরি বলটা আর দুর্ভাগ্যে থাকলে ব্যাট হিসাবে ব্যবহৃত পা-দানি টা নিয়ে চলে যেতেন। পরে অবশ্য হাউস বেয়ারাকে ম্যানেজ করে আবার বল-ব্যাট নিয়ে আসতাম। একদিন কায়দা করে মেইন দরজার সাথে আঁটাতালা চেঞ্জ করে আমরা পার্সোনাল একটা তালা সেঁটে দিলাম। এইভাবে সেইরাতে একটা বিগ ম্যাচ দেখলাম,সম্ভবত ইংল্যান্ড বনাম সুইডেন!  কিন্তু এই তরিকা তো আর প্রতিদিন খাটবে না। কেননা, হাউস বেয়ারাকে তো আর প্রতিদিন ফাঁকি দেয়া যাবে না! তাই একদিন রেস্টটাইমে আমাদের মেহেদী আর কয়েকজন মিলে টিভিরুমে ঢুকার একটা দরজা ভেঙ্গে ফেলল! দরজা ছিল দুইটা। একটা সবসময় তক্তা দিয়ে সাঁটা থাকত। খোলা হতনা। তো আমরা ধরে নিলাম, যেহেতু এই দরজা কেউ খুলে না, তাই কেউ খেয়ালও করবে না। তো তক্তা যেওরকম ছিল, তেমনই থাকল, আমরা কবজা খুলে নিলাম! কেউ বুঝল না, দরজাটা ভাঙ্গা। রাতে ১টার দিকে ম্যাচ হত মনে আছে। তো সেই সময় আমরা ঢুকে যেতাম চুপচাপ। জানালায় ব্যবহার করতাম আমাদের বিছানার চাদর। আর চেয়ারে না বসে লাইট সব অফ করে মেঝেতে বসতাম, যাতে কেউ বাইরে থেকে না বুঝে! খেলা শেষে সব কিছু ক্লিয়ার করে ভালো করে দরজা মেরে দিয়ে বেরিয়ে আসতাম। ভালোই চলছিল এভাবে, প্রায় এক দুই সপ্তাহ ভালো কাটল। কিন্তু ঐ যে প্রচলিত প্রবাদ, ‘চোরের ১০ দিন আর গৃহস্থের এক দিন!’ আমরাও এই প্রবাদে সিদ্ধ হলাম!&#8230;.কাহিনী নিম্নরূপঃ</p><p> &#8230;..কলেজ থেকে বের হতে বেশি দেরী নেই। দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হল। জার্মানী বনাম সুইডেন খেলা দেখে রাত ৩টায় ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে হাউস বেয়ারা এসে আমাদের মাহমুদকে ডেকে নিয়ে গেল, ‘ও মাহমুদ ভাই, উঠেন ঊঠেন,আপনেরে হাউস মাস্টার ডাইক্তিছে’ মাহমুদ গেল। ব্যাপক ঝাড়ি আর শেষ মুহূর্তে কলেজ আউট হওয়ার হুমকি নিয়ে সে ফিরল! ঘটনা হচ্ছে, খেলা দেখে তার জানালা থেকে বেডশীট খুলে নিয়ে আসতে মনে ছিল না! তো সকালে তারিক হাউসের বেয়ারা খেয়াল করল,কাসিম হাউসের টিভি রুমে বেডশীট ঝুলে! আমাদের বেয়ারাকে বলার পর সে বেডশীট নিয়ে যায়,তাতে লেখা ক্যাডেট নং-১৯৬০। যথারীতি হাউস মাস্টার জেরা করল, লাইটস অফের পর কিভাবে টিভিরুমে ঢুকলাম আমরা! তো মাহমুদের যাতে কিছু না হয়,তাই আমাদের স্বীকার করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। সব শুনে স্যারের মন্তব্য, ‘ডাকাত দেখেছি,এরকম ডাকাত দেখিনি,তোমরা টিভিরুমেও ভাংচুর করলা!কেবলই হাউস মাস্টার হয়ে আসলাম তোমাদের কলেজে,এই নমুনা দেখাচ্ছ আমাকে? জেসিসিতে-তো অমুক&#8230;তমুক&#8230;ইত্যাদি ইত্যাদি&#8230;&#8230;’ উল্লেখ্য, এই কাহিনী ছাড়াও শেষ এক দেড় মাস আমরা ম্যালা আকাম করেছিলাম, তাই স্যারের এসব কথা আসলেই যুক্তিহীন ছিল না! স্যারকে অনেক জ্বালিয়েছি, অবশ্য স্যার কোন ঘটনা ফরোয়ার্ড করেননি। মাহমুদের ধরা খাওয়ার পর আর শেষ কয়টা দিন আমরা ঠান্ডাই ছিলাম! স্যারকে সাধারণ সালাম <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/Ex-cadet.gif' alt=':salute:' class='wp-smiley' /></p><p>&#8230;&#8230;আমাদের ব্যাচে প্রায় সবাই ছিল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। দুইজন ছিল ইটালীর আর দুইজন ছিল ফ্রান্সের, আর একজন মনে হয় পর্তুগাল ছিল! তো গণতান্ত্রিক দেশে একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব দেখানো বোকামী। কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে সংখ্যালঘু হয়ে পার্ট নেয়াটা আহাম্মকী। কিন্তু আমাদের ইটালীর সাপোর্টার রাফিকে কিছুতেই টিজ করে দমানো যাচ্ছিল না! তার কাজ ছিল, যে দলের খেলাই হোক, খালি গায়ে ইটালীর পতাকা জড়িয়ে টিভি রুমে এসে বসে থাকত! ইটালী একটার পর একটা ম্যাচ জিতছিল, আর তার উল্লাস দেখে আমাদের গা জ্বলছিল! অবশ্য তখনও ব্রাজিল চরম ফর্মে ছিল। আর্জেন্টিনাকে অনেক নড়বড়ে লাগছিল।তারপরও কিভাবে যেন চলে আসল কোয়ার্টারে,ব্রাজিলও তো বিদায় নিল কোয়ার্টার ফাইনালে! দুঃখের ষোল কলা পূর্ণ হল যখন ইটালী চ্যাম্পিয়ন হল আর রাফি ফোন দিয়ে বলল, ‘কিরে পিন্টুর বাচ্চা,খুব তো টিজ করলি, ইটালীর বেল নাই,এখন দেখলি তো! তোর ব্রাজিল ভুয়া, ভুয়া, ইত্যাদি ইত্যাদি&#8230;’&#8230;. <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/12.gif' alt='=((' class='wp-smiley' /></p><p>&#8230;..আজ যখন খেলা দেখব, তখনও মিস করব সেই টিভিরুমকে। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের টিভিরুমেও খেলা দেখি, কিন্তু পাইনা সেই কলেজের সিনিয়র হয়ে সামনে রিমোট নিয়ে বসার মজা, জুনিয়রদের টিম-সাপোর্ট নিয়ে ডিকটেশন করার মজা, বেআইনী ভাবে টিভিরুমে ফুটবল খেলার মজা!&#8230;&#8230;.ক্যাডেট মাত্রই নস্টালজিক,তাই না??&#8230;&#8230;.</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/25523/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>32</slash:comments> </item> <item><title>ডানাওয়ালা বেড়াল, চার বর্ষাহত তরুণ এবং মৃত সেসোস্ট্রিস</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25390</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25390#comments</comments> <pubDate>Sun, 06 Jun 2010 19:00:26 +0000</pubDate> <dc:creator>রিজওয়ান (২০০০-২০০৬)</dc:creator> <category><![CDATA[গল্প]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25390</guid> <description><![CDATA[অন্ধকারের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে থাকা একটা ছায়া অস্পষ্ট নিপুণ শব্দে চমকে দিলো আমাদের। এতে আমার হাত থেকে খসে পড়ল হলদে আলো ছড়াতে থাকা মোবাইল ফোনটা, মুখ গুঁজে দিলো ঘাসে; আর তাই ভোঁতা শোনাতে লাগলো ওটায় বাজতে থাকা গানটা। &#8220;কিসের আওয়াজ?&#8221; ভুরু কুঁচকে কয়েক হাত দূরে ঝোপটার দিকে তাকিয়ে বললাম আমি। &#8220;রাতের মফস্বলের অসংখ্য বেনামী, অচেনা, গন্ধহীন [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>অন্ধকারের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে থাকা একটা ছায়া অস্পষ্ট নিপুণ শব্দে চমকে দিলো আমাদের। এতে আমার হাত থেকে খসে পড়ল হলদে আলো ছড়াতে থাকা মোবাইল ফোনটা, মুখ গুঁজে দিলো ঘাসে; আর তাই ভোঁতা শোনাতে লাগলো ওটায় বাজতে থাকা গানটা।</p><p>&#8220;কিসের আওয়াজ?&#8221; ভুরু কুঁচকে কয়েক হাত দূরে ঝোপটার দিকে তাকিয়ে বললাম আমি।<br /> &#8220;রাতের মফস্বলের অসংখ্য বেনামী, অচেনা, গন্ধহীন শব্দগুলোর কোনো একটা হবে হয়ত&#8230;&#8230;।&#8221; দাড়ি চুলকে বলে উঠল আমাদের মাঝে চশমা পরা একজন, তাকে আমরা কবি বলে ডাকি।<br /> &#8220;হুমম্‌&#8230;&#8230;তাহলে; আমাদের সামনে সেটা নদী দেখছিস সেটা আসলে নদী নয়।&#8221; এটা বলল আমাদের মধ্যে যে ভবঘুরে এবং খেয়ালী, সে। কিন্তু পরমুহূর্তেই ব্যঙ্গ ঝরে পড়ল তার কথায়&#8230;<br /> &#8220;নদী নয়, ওটা আসলে একটা পুরনো রাস্তা।&#8221; শুনে হেসে উঠলাম আমরা বাকি দু&#8217;জন।</p><p>&#8220;ওটা একটা বেড়াল।&#8221; ঝনঝন শব্দে ভেঙ্গে পড়ল আমাদের কথোপক্থনে শার্সির কাঁচ; আমরা তিনজন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম আমাদের চতুর্থ বন্ধুটির দিকে, যে কিনা সুদর্শন এবং নির্বোধ। ওর বাঁ হাতে একটা নরম পাথর; দু&#8217;হাতে বারকয়েক লুফোলুফি করল সেটাকে।<br /> &#8220;আওয়াজটা একটা বেড়ালে করেছিল।&#8221; বলল আবার।<br /> &#8220;তুই মারা যা।&#8221; হাত নেড়ে বলল ভবঘুরে।</p><p>দীর্ধশ্বাস ফেলে আঙ্গুল চালালাম ভেজা চুলে। আমাদের কাপড়চোপড় এখনও শুকোয় নি। আজ সারাদিনে যে কয়বার বৃষ্টি হয়েছে তার সব&#8217;কটাতে আমরা প্রবল উৎসাহে ভিজেছি। এই মফস্বলে বর্ষা বরাবরই অকৃপণ; তাই চারজন সারাটা দুপুর এবং বিকেল শহরের নির্জন রাস্তাগুলোতে হেঁটে গিয়েছি সারবেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোষ্টগুলোকে গালি দিতে দিতে। বৃষ্টি যখন পড়েছে ছোট ছোট ফোঁটায় ঝিরঝিরিয়ে, আমরা দুকান ঝুলে পড়া দুখী কুকুরছানাদের মতো আকাশের দিকে চেয়েছি চোখ পিটপিট করে; বৃষ্টি নেমেছে মুষলধারে। আমরা উল্লাসে চেঁচিয়েছি আর মাঝেমধ্যে দু&#8217;এক ফালি রোদ খুঁজে পেলে সযত্নে মাটিতে পুঁতে ফেলেছি তাদের। আকাশ মাঝেমধ্যে দুঃখ ভুলে গেলে আমরা আশ্রয় নিয়েছি কোন পরিত্যক্ত শেড কিংবা মরচে পড়া চায়ের দোকানে।<br /> অবশেষে আকাশ থেমেছে। সন্ধ্যে থেকে একবারও সে ফোঁপায় নি, গুমরে কেঁদেও উঠেনি; থমথমে মুখে ধমকে উঠেছে কয়েকবার শুধু। ওতে কোন সমস্যা নেই আমাদের কারোও এখন। আমাদের চিত্ত বৃষ্টিতে ভিজে ফুলে ফেঁপে উঠেছে; মগজের কোণায় কোণায় পানিভর্তি বেলুন আর হাতের তালুতে কাঠগোলাপ। আমরা হৃষ্টচিত্তে অসে আছি নদীর ধারে।</p><p>&#8220;দ্যাখ! দ্যাখ!!&#8221; উত্তেজিত গলায় বলে উঠল কবি, আঙুল তুলে দেখাল আকাশের দিকে।</p><p>একটা কালো বেড়াল, উজ্জ্বল শাদা ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে চাঁদের দিকে। লোমশ লেজ থেকে ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়ছে টুকরো আলোর গল্প। তা দেখে আমরা সবাই বেশ আনন্দিত হলাম, কেবলমাত্র নির্বোধ ছাড়া। সে কেন জানি কোনরকমের ডানাওয়ালা বেড়াল দেখতে পাচ্ছিল না।<br /> &#8220;কি মনে হয়? চাঁদ পর্যন্ত যেতে পারবে সে!&#8221; একরাশ উদ্বেগ নিয়ে বলি আমি। ভবঘুরে খানিক চিন্তা ভাবনা করে বলল,<br /> &#8220;তা পারবে মনে হয়। তবে গ্র্যাভিটি ছিন্ন করাটা নিয়ে খানিক দুশ্চিন্তা আছে আমার &#8230;&#8230;&#8221;<br /> &#8220;কেন? পাখা দুইটা দেখেছিস! যাদু আছে যখন&#8230; ঠিকঠাক পার হয়ে যাবে।&#8221; কবির বাঁ হাতে ধরা সিগারেটটা শেষ হয়ে এসেছে অনেক আগেই; আমার মনে হল দু&#8217;আঙুলের ফাঁকে এখন সেটা পাঁয়তারা কষছে একটা দাবানল দেবার।</p><p>আমরা কথা বলতে বলতে বেড়ালটা আরো উপরে উঠে গেছে, ওটাকে দেখাচ্ছে ছোট্ট একটা আলোর গোলার মত। আমরাও চেয়ে আছি, শেষটুকুও দেখতে হবেই যেন। আর ঠিক তখনই ঘটে গেলো কয়েকটা অঘটন&#8230;&#8230;</p><p>হঠাৎ কোত্থেকে একঝাঁক কাক এসে হাজির হল মাঝ আকাশে; অন্ধকার নীলের মাঝে গাঢ় ছায়াগুলো কর্কশ আওয়াজে তেড়ে গেলো দূরে ঐ বেড়ালটার দিকে।</p><p>কবির দু&#8217;আঙুলের ফাঁকে মৃতপ্রায় সিগারেটের টুকরোটা সহসা জ্বলে উঠল মশালের মত।</p><p>এতক্ষণ মাটিতে অবহেলায় পড়ে থাকা মোবাইল ফোনটায় নতুন একটা গান বাজতে শুরু করল কর্কশ ধাতব আওয়াজে। সেই শব্দে আমাদের কানা তালা লেগে গেল প্রায়; দুটো নির্বিবাদী ল্যাম্পপোষ্টের গায়ে ধরল চিড়।</p><p>এসব হুলুস্থুলের চোটে আমরা কয়জন আছড়ে পড়লাম মাটিতে। কেউ এতক্ষণ খেয়াল করিনি যে আমরা ঘটনা দেখতে দেখতে কয়েকহাত শূন্যে ভেসে উঠেছিলাম।</p><p>সবার আগে সামলে উঠল নির্বোধ। প্যান্টের কাদা ঝাড়তে ঝাড়তে নির্মোহ সুরে বলল,<br /> &#8220;উঁহু&#8230;ডানাওয়ালা কোন বেড়াল নয়, একটা শঙ্খচিল উড়ে গিয়েছিল।&#8221;<br /> কবি তার বাঁ হাতে ধরে যাওয়া আগুন এক ফুঁয়ে নিভিয়ে দিয়ে বলে উঠল,<br /> &#8220;তাই নাকি! তা শঙ্খচিল &#8220;ম্যাও&#8221; ডাক দেয়া শুরু করল কবে থেকে শুনি?&#8221;<br /> &#8220;জীবনানন্দ যেদিন ট্রামচাপা পড়লেন সেদিন থেকে।&#8221; বাঁকা চশমা সোজা করতে করতে বলল ভবঘুরে। ও হ্যাঁ, সেও চশমা পরে।<br /> &#8220;তোদের মাথাগুলোয় কি সব ধোঁয়াভর্তি বেলুন নাকি! বেড়াল কবে আবার ওড়ে?&#8221; গোঁয়ার নির্বোধ তবুও হাল ছাড়ে না। আমি মহা বিরক্ত হয়ে আঙুল তুলে বললাম,<br /> &#8220;ওই, এত ত্যক্ত করিস ক্যান? যা, শৈশবে ফিরে যা&#8230;&#8230;&#8230;..নাহলে দশের ঘরের নামতা বলতে থাক।&#8221;<br /> নির্বোধ গভীর অভিমানে উল্টো ঘুরে বসল। এরপর আমাদের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে শুরু করল প্যানপ্যানানি&#8230;<br /> &#8220;অ-তে, অজগরটি আসছে তেড়ে;<br /> আ-তে, আমটি আমি খাব পেড়ে;<br /> ই-তে&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8221;</p><p>আমরা তিনজন তাচ্ছিল্যে হাত নেড়ে ঘাড় উঁচিয়ে খুঁজতে লাগলাম ছোট্ট বেড়ালটাকে। &#8220;ঐ যে!&#8221; আবছা দেখতে পেলাম সেই ছোট্ট বেড়াল, এখন আলোর বিন্দুর সমান দেখাচ্ছে। কান পেতে শুনলাম ওকে ঘিরে আক্রমণরত ছায়া কাকগুলোর ডানা ঝাপ্টানি। একটা যুদ্ধ বেধে গেছে। কাকগুলো যেন বেড়ালটাকে কালো নখে আঁচড়ে দিতে চায়। আর বেড়ালটাও প্রত্যুত্তরে শ্বদন্ত আর থাবার নখে যেন শাসাচ্ছে ওদের।</p><p>আমরা গভীর উত্তেজনায় শুনতে লাগলাম সেই অসম যুদ্ধের শব্দ। কুৎসিত কাকেরা উড়তে দেবে না সেই আলোকিত বেড়ালকে। কিন্তু ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল শব্দগুলো আরো দূরে, আলোর বিন্দু হারিয়ে গেল অন্য আকাশে, তার পিছু নিল ছায়া কাকেরা। আমরা শব্দগুলো হারিয়ে হতাশায় মাথা নুইয়ে দিচ্ছি, ঠিক তখনই&#8230;&#8230;</p><p>পেছনে গলা খাকারি দিল কেউ। আমরা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম।<br /> &#8220;একটু সময় হবে?&#8221; আমরা তাকিয়ে রইলাম অদ্ভুত আগন্তুকের দিকে। কমসে কম আট ফুট লম্বা হবে। দীর্ঘ শুভ্র দাড়ি এবং ধূসর আলখেল্লায় তাকে দেখাচ্ছিল প্রাচীন উপকথার কোন যাদুকরের মত। এবং আমরা টের পেলাম এই অনাহূত প্রানীটি আর যাই হোক, মনুষ্যপ্রজাতির নয়। আমাদের চিন্তাগুলো মনে হয় ধরে ফেলল আগন্তুক। কারণ সে কয়েক কদম এগিয়ে এসে বাও করে বলল,<br /> &#8220;আমার নাম সেসোস্ট্রিস।&#8221;<br /> অদম্য কৌতূহল যথাসম্ভব চেপে বললাম আমি,<br /> &#8220;কিছু মনে করবেন না দয়া করে, আপনি আসলে কে?&#8221;<br /> &#8220;কিংবা আপনি এখানে কেন?&#8221; বলল কবি। হাত বাড়িয়ে তুলে নিল ফোনটা ঘাসের উপর থেকে।<br /> মুচকি হাসল সেসোস্ট্রিস,<br /> &#8220;আমি হলাম&#8230;&#8230;&#8230;সহজ ভাষায় বলতে পারো, শহুরে জ্বীন।&#8221;</p><p>আমরা দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়লাম। সেসোস্ট্রিস পাগল নয় কিন্তু সে কীভাবে একজন জ্বীন হতে তা পারে আমরা বুঝতে পারলাম না। সত্যি বলতে আমরা অলৌকিক কিছু দেখবার প্রত্যাশা করছিলাম তার কাছ থেকে। ভবঘুরে বলে উঠল,<br /> &#8220;তা শহুরে জ্বীন, আপনি কোন চেরাগ বা কুপি কিংবা বোতল থেকে এসেছেন?&#8221;<br /> &#8220;বোতল ভূত! বোতল ভূত!!&#8221; হাততালি দিল তিক্ত নির্বোধ। ব্যাপারটা পছন্দ করল না আগন্তুক।<br /> &#8220;ছেলেমানুষী! ছেলেমানুষী&#8230;&#8230;নাহ্‌, এই প্রজন্মের কল্পনা শক্তি দেখি খুব সীমিত। আমি বাস করি ল্যাম্পপোষ্টগুলোর সোডিয়াম আলোয়।&#8221; আমরা মুখ চাওয়া চাওয়ি করলাম। হাত নেড়ে বলল শহুরে জ্বীন,<br /> &#8220;দেখো, আমার হাতে এই মুহূর্তে একটা বিশাল লিষ্ট। তাই তোমাদের ইচ্ছে কয়টা দ্রুত পূরণ করে অন্য কাজে ফরতে চাই আমি।&#8221;<br /> &#8220;ইচ্ছে পূরণ! কয়টা ইচ্ছে পূরণ করতে দেবেন?&#8221; ক্ষ্যাপা গলায় বলল কবি। সে এই ঘটনায় মোটেও সন্তুষ্ট নয়।</p><p>&#8220;এক বা একাধিক&#8230;&#8230;দাঁড়াও এক কাজ করি। বরং তোমাদের কয়েকটা ইচ্ছে দেখাই আমি, সবকিছু সহজ হয়ে যাবে।&#8221; ঠিক তখনই সেসোস্ট্রিসে দুহাতে আধ ডজন ডিম্বাকৃতির আয়না উদয় হল ভোজবাজির মত; একেকটাতে একেক দৃশ্য। আমরা গভীর বিস্ময়ে দেখতে লাগলাম আয়নার ছবিগুলো&#8230;&#8230;জনাকীর্ণ শহুরে রাজপথ, সুদৃশ্য অট্টালিকা, রাশি রাশি কাগুজে নোট, ভারি নিতম্ব, মোড়কের শরীর, গোছানো একটা অফিস, বেনসনের প্যাকেট&#8230;&#8230;আরো কত!!</p><p>&#8220;চোখ বন্ধ কর, বেছে নাও।&#8221; পাকা জুয়াড়ীর কন্ঠে বলল জ্বীন। আমরা স্বপ্নালু চোখে তাকালাম তার দিকে। কেবলমাত্র নির্বোধ অবিচল থেকে বলল,<br /> &#8220;কেন?&#8221;<br /> &#8220;কেন কি!&#8221;<br /> &#8220;ইচ্ছেপূরণ কেন? কেন আমরা চারজন?&#8221; নির্বোধ ছেলেভোলানো কথায় মানবে না।</p><p>দীর্ঘশ্বাস ফেলল সেসোস্ট্রিস। এরপর যেন নিতান্ত অনিচ্ছায় বলে গেল,<br /> &#8220;উজ্জ্বল চাঁদের সম্ভাবনার রাতে চার বর্ষাহত তরুণ নদীর তীরে বসে আছো। জেগে উঠবে না? সময়ের তাগিদে আমি এসেছি তোমাদের ঘোর ভাঙ্গিয়ে দিতে।&#8221;<br /> এ কথা শুনে আমরা সচেতন হয়ে উঠলাম দ্রুত। আমি অনিশ্চিত গলায় বললাম,<br /> &#8220;আমরা যদি এসব না চাই! আমরা এই অসম্ভব নদী থেকে সরে যেতে না চাই! তাহলে কি হবে??&#8221;<br /> তুমুল আত্মবিশ্বাসে মাথা দুলিয়ে বলে উঠল সেই জ্বীন,<br /> &#8220;কোথায় যাবে তোমরা! ঘোর কেটে যাবেই&#8230;&#8230;আমি বরং তোমাদের রঙিন মোড়কে দেখাচ্ছি সত্যগুলো। চুপচাপ লক্ষী ছেলেদের মত নিজ নিজ গল্প বেছে নাও।&#8221; এ কথা শুনে আমরা শীতল ক্রোধে তাকালাম তার দিকে। কারণ আমরা নদী, বৃষ্টি এবং সন্ধ্যে খুব ভালোবাসি। উটকো সময়কে তা ছিনিয়ে নিতে দেব ক্যানো? সেসোস্ট্রিস আমাদের ক্ষোভ খেয়ালই করল না,<br /> &#8220;বেছে নাও, বেছে নাও&#8230;&#8221; একঘেয়ে গলায় বলে যেতে লাগল সে। আমরা একে অন্যের চিন্তাগুলো পড়ে নিলাম খুব দ্রুত। চারজনই জানি সময়ের হাত থেকে নিস্তার নেই। এরপর&#8230;&#8230;</p><p>নির্বোধ বাদে বাকি তিনজন প্রবল ক্রোধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম শহুরে জ্বীনের উপর। সর্বশক্তিতে আমি দুহাতে গলা চেপে ধরলাম তার; কবি পুড়ে যাওয়া পাঁচ আঙুল ডুবিয়ে দিলো আটফুট দানবের বুকের গভীরে, হৃৎপিন্ড ছিঁড়ে আনবার প্রতিজ্ঞায়। ভবঘুরে দুই বৃদ্ধাঙ্গুলির চাপে রক্তাক্ত করে দিলো সেসোস্ট্রিসের দুচোখ। আমাদের সম্মিলিত আক্রমণে সশব্দে মাটিতে আছড়ে পড়ল সে। আমরা মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত করে দিলাম তাকে, অন্ধ করে দিলাম, ছিঁড়ে ফেললাম তার শ্বাসনালী, কালো হাতে আঁকড়ে ধরলাম হৃৎপিন্ড; তবুও মরল না সেই শীতল আগুনের শরীর। হাসির দমকে কেঁপে কেঁপে উঠল বারবার। &#8220;অর্থহীন, অর্থহীন&#8230;&#8230;&#8221;</p><p>সেই সময় এগিয়ে এল নির্বোধ, তার দুহাতে সেই নরম পাথর এখন এক ভারী ওজনের বিকট নির্দয় শরীর। মাথার উপর তুলে ধরল সে সেই পাথর, নিস্কম্প নৈপুণ্যে নামিয়ে আনল সেটা সেসোস্ট্রিসের ওপরে। কালো রক্ত ছিটে গেলো চারপাশে, আমাদের ছাড়িয়ে উঁচু দেয়ালের শরীরে। থেঁতলে যাওয়ার শব্দ এক মুহূর্তের জন্য দূষিত করে তুলল চারপাশ। এরপরই সব চুপচাপ; সুন্দর-সহজ-দ্রুত একটা মৃত্যু।</p><p>লাশটা আমরা চারজন টেনে হিঁচড়ে এনে ছেড়ে দিলাম রাস্তায় জমে থাকা একটুকরো পানির মাঝে। নিঃশব্দে গোপনে সেই অগভীর পানিতে তলিয়ে গেলো সেসোস্ট্রিসের দেহ। হারিয়ে যাক, ডুবে যাক সে; অন্তত কয়েকটা দিন আমরা লুকিয়ে রাখতে পারব সময়ের কাছ থেকে।</p><p>আমরা চার বর্ষাহত খুনি তরুণ জড়ো হলাম রাস্তাটার মাঝখানে। কপালের ঘাম মুছে নিলাম। আমি প্যান্টের পকেট থেকে গোল্ডলীফের দোমড়ানো প্যাকেটটা বের করে বাড়িয়ে ধরলাম। কবি, আমি আর ভবঘুরে, এই তিনজনে আগুন জ্বেলে সিগারেটের কটুগন্ধী তেতো নীলচে ধোঁয়া টেনে নিলাম ফুসফুসের গভীরে নিয়মিত অনুরাগে। নির্বোধ মুখে পুরল একটা চুইংগাম। এরপর সেই নির্জন রাস্তা ধরে চুপচাপ হেঁটে গেলাম আমরা।</p><p>সময় ঠেলে ঘড়ির কাঁটা এগোলে,<br /> থিতিয়ে এল রাত।<br /> টুপটাপ ঝরে পড়ল কয়েকটা পানির ফোঁটা ইঁটের শরীরে।<br /> পাশ কাটিয়ে দ্রুত হারিয়ে গেলো কোন হেডলাইট।<br /> ডানা ঝাপ্টে থিতু হল কতগুলো ফিরে আসা ক্লান্ত ছায়া।<br /> সমস্ত শহর ঘাড় গুঁজে দিল অলস নিদ্রায়।<br /> বেনামী চাঁদের নরম আলোয় মিশে এল একটা আদুরে আওয়াজ, অনেক দূর থেকে।<br /> হাতের নুড়ি পাথরটা নির্বোধ ছুঁড়ে মারল একটা ল্যাম্পপোষ্টের গায়ে;<br /> টং করে শব্দটা আমাদের দৃষ্টি টেনে আনল তার মুখের উপর&#8230;&#8230;</p><p>&#8220;ওটা মনে হয় বেড়ালই ছিলো&#8221; মৃদুগলায় বলল সে।</p><p><em>২০১০-০৫-৩১</em></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25390/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>14</slash:comments> </item> <item><title>অভিনন্দনবার্তা আর শাহী ডায়লগস ফ্রম দ্য গেরাম মোক্তারপুর-২</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/25256</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/25256#comments</comments> <pubDate>Thu, 03 Jun 2010 17:48:27 +0000</pubDate> <dc:creator>আছিব (২০০০-২০০৬)</dc:creator> <category><![CDATA[আলোচনা]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[রম্য রচনা]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category> <category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25256</guid> <description><![CDATA[                      ঃ অভিনন্দনবার্তাঃ &#8230;..খোমাখাতা বন্ধ করে দিয়ে সরকার আমাদের  ভার্চুয়াল সামাজিকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি। বাধা যখন দেয়া হয়,সেটা অতিক্রম করার দ্বারও উন্মোচিত হয়। যেভাবেই হোক,নিষিদ্ধ হবার পর খোমাখাতাতে ঢুকতে কেন জানি &#8216;ক্যাডেট [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p> <strong> ঃ অভিনন্দনবার্তাঃ </strong><br /> &#8230;..খোমাখাতা বন্ধ করে দিয়ে সরকার আমাদের  ভার্চুয়াল সামাজিকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি। বাধা যখন দেয়া হয়,সেটা অতিক্রম করার দ্বারও উন্মোচিত হয়। যেভাবেই হোক,নিষিদ্ধ হবার পর খোমাখাতাতে ঢুকতে কেন জানি &#8216;ক্যাডেট কলেজের নিয়ম ভাঙ্গা&#8217; ধরনের অনুভূতি হচ্ছে। সরকারের নামে সিসিবি-তে মাংস ভক্ষণ করলেও খোমাখাতাতে করার সাহস আমার নাই। করলে কালকের দুপুরের খাবার জেলে খেতে হতে পারে! কি যে দিনকাল পড়ল! গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারের মধ্যে আছি!&#8230;&#8230;</p><p> &#8230;..ধুরু,কিসের মধ্যে কি,পান্তা ভাতে ঘি। কথায় বলে,আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন! খোমাখাতায় আজকে না ঢুকলে একটা গরম,সুস্বাদু,টাটকা,টসটসে খাবার থুক্কু খবর জানতাম না! সেটা  ইতোমধ্যে সবাই জানেন>> আমাদের জুনিয়র ব্লগারদের উৎসাহদাতা,সিনিয়র ব্লগারদের অতি আদরণীয়,সবার প্রিয়>>যিনি সবার সাথে মাথা নিচু করে কথা বলেন(!),আর যার সাথে প্রায় সবাই মাথা উঁচু করে কথা বলেন(!)>>যার খাদ্যের প্রতি ভালোবাসা প্রবাদপ্রতিম,যার মন্তব্যে একটা ব্লগে আলাদা হিউমার যোগ হয়&#8230;&#8230;সেই লাভগরু (তার নিজের দাবী),পিচ্চি(!),মাইয়াদের হার্টথ্রব তারকা,সিসিবি-ফ্যামিলির অন্যতম জামাই &#8216;তাহসিন মাসরুফ হোসেন মাসফি&#8217; ওরফে মাস্ফ্যু ভাই,(আমার মাশরুম ভাই) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে পুলিশ ক্যাডারে মেধা তালিকায় ৪র্থ স্থান অধিকার করে&#8230;&#8230;এই ব্লগ এবং তার পরিবারের সবাইকে অনেক গর্বিত করেছেন।<br /> &#8230;.সবার কথা জানিনা,আমি তড়িঘড়ি করে নিজের মনের খবর জানিয়ে দিচ্ছি,ভাইইইইইইইইইইইইইইই,খুব ভালো লাগল,দোয়া করি আপনি সৎভাবে আপনার পেশাগত জীবনে একটা উজ্জ্বল ও সবার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।</p><p>&#8230;&#8230;আর কয়েকদিনের মধ্যে নিশ্চয় আমি আপনার চাচাশ্বশুর হতে যাচ্ছি।এই কে আছিস,আরসিসির জুনিয়ররা,জামাইকে সালাম দে&#8230;&#8230;</p><p>এই ব্লগটা তাই মাসরুফ ভাই এর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলাম &#8230;.</p><p><strong><br /> শাহী ডায়লগস ফ্রম দ্য গেরাম মোক্তারপুর-২</strong></p><p><a href="http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/22519">শাহী ডায়লগস ফ্রম দ্য গেরাম মোক্তারপুর-১</a></p><p>&#8230;..অনেকদিন আগে প্রথম পর্ব ছেড়েছিলাম,হাসাহাসি করতে গিয়ে কারো কারো বিরাগভাজন হয়েছিলাম,ক্ষমা চেয়ে নিস্তার পেয়েছি কিনা জানি না,এবার সাহস করে দ্বিতীয় পর্ব লিখে দিলাম,কেননা ব্লগে আজকে একটু উৎসব উৎসব ভাব,সবার মেজাজ ফুরফুরে,অফচান্সটা মেরেই দেই&#8230;.</p><p>(১) আমাদের সময়ে স্যাটেলাইট চ্যানেল বলতে ছিল কেবল চ্যনেল আই, এন টিভি,বি ফোর ইউ মিউজিক,সাহারা টিভি,রাশিয়ান টিভি আর ইটিভি বাংলা। ক্যাডেটদের চাহিদা তো আর বাংলা চ্যানেল দিয়ে পূরণ হয় না! তাই সারাদিন বুভুক্ষুর মত বি ফোর ইউ আর রাশিয়ান চ্যানেল দেখে চোখের ক্ষুধা মিটাতাম। কোন গরম গান বা দৃশ্য হলেই হাউসে ভূমিকম্প শুরু হত। সবার দৌড় টিভি রুমের দিকে। অবশ্য সেভেন-এইটের লাজ-লজ্জা বেশি হওয়াতে তারা রুমেই ছটফট করত,বাইরে আসত না। তো এরকমই এক শুক্রবারে ক্লাস টুয়েলভে উঠার পর আমাদের তারিক হাউসের ছেলেপেলেরা টিভিরুমে বসে আছে।হঠাৎ একজন বাইরে এসে চিৎকার দিল, <strong>&#8221;বয়েজ,হাররি আপ,টিভিতে বেড সিন দেখাচ্ছে!!&#8221;</strong> অমনি ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেল! তারিক হাউসের দৌড়াদৌড়ি দেখে আমাদের কাসিম হাউসেও দৌড়াদৌড়ি শুরু হল। সবাই টিভি রুমে গিয়ে দেখল, <strong>এন টিভিতে নাটক হচ্ছে! &#8221;দিলারা জামান&#8221;(!) খাটে শুয়ে আছেন!!</strong></p><p>(২) ইংলিশ ভার্সন চালু হয়ে ভালোই হয়েছিল। নইলে স্যারদের ইংলিশের গভীরতা আমরা মাপতে পারতাম না! আমরা তখন ইলেভেনে। আমরা কয়েকজন হাউসের সিঁড়িতে বসে গীটার প্র্যাকটিস দেখছি আমাদের ব্যান্ড টিমের। এমন সময় ডিউটি মাস্টার OH স্যার (যাকে আমরা হাইড্রক্সিল স্যার ডাকতাম ) এসে হাজির। তো এসব দেখে তিনি বললেন, &#8221;এহ বয়েজ, হোয়াট আর ডান?&#8221; একজন জবাব দিল, &#8216;স্যার,মিউজিক প্র্যাকটিস করতেছি&#8217; স্যারের উত্তর, &#8216;মিউজিক প্র্যাকটিস করবা,তো এখানে কেন, <strong>মিউজিয়ামে</strong> যাও! উল্লেখ্য,উনি মিউজিক ক্লাব বুঝিয়েছিলেন&#8230;..</p><p>(৩) আমাদের সবার প্রিয় ডঃ অ ব ম স্যার আমাদের গান-কবিতা লিখতে উৎসাহিত করতেন। ছেলেপেলেও কম শয়তান না! আমাদের নাহিদ একদিন স্যারের কাছে তাহসানের &#8216;ঈর্ষা&#8217; গানটা লিখে নিয়ে স্যারের কাছে গেল। স্যার পুরোটা পড়ে বললেন, &#8216;বাহ! তুমি তো ভালোই কবিতা লিখ! কিন্তু কষ্টের হয়ে গেছে একটু!&#8217;<br /> আর সুফিয়ান নিয়ে গেল অর্থহীনের &#8216;অদ্ভুত সেই ছেলেটি&#8217;। স্যার পড়ে বললেন, &#8216;ব্যাপার কী! আজকাল তোমরা এত ভালো ভালো কবিতা লিখতেছ কিভাবে? আচ্ছা সুফিয়ান,দিও তো,দেখি এই কবিতাটায় আমি সুর দিতে পারি কিনা!&#8221;<br /> উল্লেখ্য,তিনি বিশিষ্ট সুরকার,গীতিকার ও গায়ক ছিলেন!!</p><p>(৪) ক্লাস নাইনে আমাদের বাংলা ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন শা আ স্যার। পড়াচ্ছিলেন বাংলা উপসর্গ (অ,অঘা,অজ,অনা,&#8230;&#8230;রাম,উপ,আ&#8230;)। তো স্যার বললেন, &#8216;রাম&#8217; দিয়ে কি কি হয় বলত তোমরা&#8230;&#8230;একজন বলল রামদা,একজন বলল রামছাগল&#8230;বইতে এই দুইটাই ছিল। কিন্তু আমি বেশি বিজ্ঞ হতে গিয়ে একটানে লাফিয়ে বললাম, <strong>স্যার রামভোদাই</strong>! সমস্যা হল, &#8216;রামভোদাই,স্যার&#8217; বা শুধু রামভোদাই বললে হয়ত স্যার কিছু মনে করতেন না। আমার কথা শুনে তিনি কি না কি ভাবলেন,বললেন, &#8216;আছিব। এইদিক আস&#8217;। গেলাম। দুইকান ধরে দলাই মলাই করলেন,গালে দুইটা চড় দিয়ে বললেন, এইবার সবার দিকে ফির! ফিরলাম,স্যার তখন বললেন, &#8216;বয়েজ,একে যেমন দেখাচ্ছে,রামভোদাই দেখতেও সেরকম&#8217;!</p><p>(৫) কলেজে প্রিফেক্ট হলে অনেকেরই ভাবে কান্ডজ্ঞান উল্টায় যায়! ঠিক সেরকম ৩৩তম ব্যাচের ডাইনিং হল প্রিফেক্ট ভাই প্রায় প্রতিদিনই টি-ব্রেকে ডাইনিং এ ঢুকে শান্টিং দিতেন এইভাবে, <strong>&#8221;বয়েজ,কিপ মাম!হুয়াট ইজ আওয়ার প্রবলেম? ইট ইজ এ বাজার? মাছ মার্কেট? ইফ আই সি আনিওয়ান সাউন্ডিং,আই উইল কিক হিম &#8216;আপ&#8217; অফ দা ডাইনিং হল!&#8221; </strong></p><p>&#8230;..টু বি কন্টিনিউড&#8230;&#8230;&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/25256/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>128</slash:comments> </item> <item><title>সপ্তম শ্রেণীর সাতকাহনঃপর্ব-৩&gt;&gt;পাঙ্গা,রগড়া,প্যাঁদানি।।।।।(১ম ভাগ)</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/25165</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/25165#comments</comments> <pubDate>Tue, 01 Jun 2010 20:56:03 +0000</pubDate> <dc:creator>আছিব (২০০০-২০০৬)</dc:creator> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category> <category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25165</guid> <description><![CDATA[&#8230;&#8230;..গত ২৫শে মে,২০১০ আমাদের আর.সি.সি-র ৩৭-তম ইনটেক ওরফে মিলেনিয়াম ব্যাচের দশ বছর পূর্তি হয়ে গেল। সে উপলক্ষে আমরা ১৯জন বন্ধু মিলে ধানমন্ডি কে.এফ.সি-তে মিলিত হয়েছিলাম। ঢাকায় আমরা ৩৩জন থাকি,সবার সময়-সুযোগ মিলে না,তাই ব্যস্ত দিনেও এতজন একসাথে হতে পেরে খুব ভালো লেগেছিল। এক্স-ক্যাডেট মিলিত হলে যা হয় আর কি,একদম কে.এফ.সি.-তে শব্দদূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছিল। সেই ১০ বছর [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>&#8230;&#8230;..গত ২৫শে মে,২০১০ আমাদের আর.সি.সি-র ৩৭-তম ইনটেক ওরফে মিলেনিয়াম ব্যাচের দশ বছর পূর্তি হয়ে গেল। সে উপলক্ষে আমরা ১৯জন বন্ধু মিলে ধানমন্ডি কে.এফ.সি-তে মিলিত হয়েছিলাম। ঢাকায় আমরা ৩৩জন থাকি,সবার সময়-সুযোগ মিলে না,তাই ব্যস্ত দিনেও এতজন একসাথে হতে পেরে খুব ভালো লেগেছিল। এক্স-ক্যাডেট মিলিত হলে যা হয় আর কি,একদম কে.এফ.সি.-তে শব্দদূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছিল। সেই ১০ বছর আগের স্মৃতিকাতরতা,একেকজনের কাহিনী এসব রোমন্থন করতে গিয়ে বেখেয়ালী হয়ে গিয়েছিলাম সবাই! সবাই কত বড় হয়ে গেছি! যারা ছিল তালপাতার সেপাই,তাদের সামনে ঝুলে মস্ত ভুঁড়ি! আর যারা ছিল মোটা,তারাই এখন স্লিম!সময় মানুষকে কত বদলে দেয়!&#8230;&#8230;</p><p>&#8230;&#8230;&#8230;ফেসবুক বন্ধ হবার কারণে সব থেকে বেশি মিস করছি আমার কলেজমেটদের আর তাঁদের ট্যাগ করা ছবিগুলো। বন্ধুদের অনেকেই ফেসবুকে ঢূকতে পারছে না দেখে এটা শেয়ার করে লাভ হবে না। মনটাই খারাপ হয়ে গেল&#8230;..</p><p><strong>&#8230;&#8230;&#8230;আমার এই ব্লগটা আমি ১০ ক্যাডেট কলেজের সকল মিলেনিয়াম ইনটেকের বন্ধুদেরকে উৎসর্গ করছি। দোস্তরা,আশা করি সবাই জীবনে অনেক সম্মান এবং সচ্ছলতা অর্জন করবি,আর বন্ধুর প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াবি&#8230;&#8230;..</strong></p><p><a href="http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/19836">সপ্তম শ্রেণীর সাতকাহন</a><br /> <a href="http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/20511">সপ্তম শ্রেণীর সাতকাহন-পর্ব ২>>শিক্ষানবিশি কুচকাওয়াজ</a></p><p>&#8230;&#8230;&#8230;..প্রথম পানিসমেন্ট  কে কবে খেয়েছিলেন মনে আছে কারও? আমার খুব মনে পড়ে।কলেজে ঢুকার তিন দিন পরই। এত গাধা ছিলাম যে,কিছুই বুঝতাম না কি করব না করব,না বুঝে ধুম ধাম কিছু একটা করে ফেলতাম,যা হত সিনিয়রদের হাসি বা বিরক্তির খোরাক কিংবা বন্ধুদের বিদ্রূপের বিষয়! তো আমার গাইড ছিলেন &#8216;সু-১৯২১ ভাই,আমার জন্য উনাকে অতটা ভুগতে হয়নি,যতটা ভুগেছেন আমার টেবিল গাইড &#8216;আ-১৯২৭&#8217; ভাই। কেননা,আমি যে টেবিলে বসতাম,সেখানে বসতেন ১১শ-এর সব খাইস্টা সিনিয়ররা,আমার কোন ফল্ট ধরা পড়লেই &#8216;আ&#8217; ভাইকে তাদের চার্জ। &#8221;কি &#8216;আ&#8217;, জুনিয়রকে কিছু শিখাওনাই? নাকি আমার কাছ থেকে এসে শিখে যাবা? লাঞ্চের পর ৭ নাম্বার রুমে আসবা,ওকে?&#8221; অত কিছু বুঝতাম না,তবে এইটুক বুঝতাম ভাই এর খবর আছে। তবে আমি এতটাই ভ্যাবদা ছিলাম যে,এরপর যে &#8216;চেইন অব কমান্ড&#8217; অনুসারে সকল তোপের অনলে আমাকে পুড়তে হবে,সেটা মনে আসত না। তো ঢুকার ৩ দিন পর ড্রায়িং রুমে নিয়ে গিয়ে ভাই আমার গালে কষা কয়েকটা চড় দিলেন,আহ সে কী ঝাঁঝ রে ভাই! বাপ-মা এর চড় খেয়ে অভ্যস্ত ছিলাম,কিন্তু বাইরের কেউ আমার গায়ে হাত তুলতে পারে সেটা তখনও বিশ্বাস হয়নি! যাই হোক,বুঝলাম সামনের দিনগুলি &#8216;সুন্দর&#8217; কাটবে যদি আমি আমার জীনোম বদলে &#8216;চালাক&#8217; না হতে পারি!&#8230;&#8230;</p><p> . . .নিয়ম-কানুনের গজব নাজিল হল সবার উপর! মোস্ট ফল্টি ক্যাডেট হিসেবে ক্লাস এইটের ভাইদের কাছে কুখ্যাত হয়ে গেলাম ১ম সাত দিনেই। অনেকেই কিন্তু এই সাত দিনেও মার খায়নি! ক্লাস সেভেন আমরা,সূর্য কখন উঠে আর কখন অস্ত যায় তা বুঝি আজান শুনে! আর রুমে রুমলীডারভাই এর তান্ডব তো আছেই। তার নিয়ম কানুনের কিছু নমুনা শেয়ার করিঃ</p><p>১। রুমে ক্রসটকিং করা যাবে না। ক্রসটকিং মানে হল নিজের প্লেস থেকে অন্য সাইডের কারো সাথে কথা বলা যাবে না,উঠে গিয়ে কথা বলতে হবে।</p><p>২। রুমে জোরে জোরে হাঁটা যাবে না,নিচে যেন কোন শব্দ না যায়,আর কথা এমনভাবে বলতে হবে যে দুইজন কথা বললে তাদের কথা ৩য় জন যেন না শুনে!</p><p>৩।  প্রতিদিন মাগ্রিবের নামাজ পড়ে এসে ৩মিনিটের মধ্যে রেডী হয়ে রুম থেকে বের হতে হবে। লাইটস অফের পর সবার বেডে থাকতে হবে,এমনকি নামাজও পড়া যাবে না।</p><p>৪। প্রতিদিন যে কোন সময় যে কারও প্লেস ইন্সপেকশন হবে,তাই সব কিছু যেন গোছানো থাকে!</p><p>৫। মশারি এমনভাবে টাঙ্গাতে হবে যে,মশারির ছাঁদ যেন টানটান থাকে,আর এমনভাবে গূঁজতে হবে যেন মশারির দেয়ালে সু ব্রাশ ছুড়ে মারলে সেটা আবার হাতে ফিরে আসে!</p><p>&#8230;.এসবের অন্যথা হলে ভাই যে কী করবেন তা তার মুখের ভাষায় শোনাতে পারলে মজা হত!&#8230;</p><p>&#8230;&#8230;&#8230;৭দিন কোন মতে পার করে বাসায় ফিরলাম। ছুটিতে তো ভাবেই কাটালাম। সবাই এসে জিজ্ঞেস করে,কেমন লাগছে? বললাম,ভালোই,সুন্দর!</p><p>যাই হোক,ছুটি শেষে আসার দিন থেকেই শুরু হয়ে গেল আপডেটেড নিয়ম-কানুন। ক্লাস এইটের ভাইদের আগে থেকে নিষেধ করা ছিল,প্রথম ৭ দিনে জুনিয়রদের কিচ্ছু বলা যাবে না। অপেক্ষার প্রহর শেষ করতে পেরে তাদের মনে পাশবিক আনন্দ কাজ করছিল হয়ত! ডিনারের পর ৯নং রুমে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম মনে আছে। এক পশলা &#8216;রুলস স্ট্রম&#8217; হল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল,রুম ডিউটি ক্যাডেটশিপ! এটা হল,ক্যাডেট নং সিরিয়াললি প্রতিদিন একজন করে রুম ডিউটি ক্যাডেট থাকবে। যে কোন প্রয়োজনে অমুক রুমের কাউকে ডাকা হলে যা ৭ম শ্রেণীর কাউকে ডাকা হলে রুম ডি.কে. দৌড় দিবে। তো আমরা থাকতাম ১০ আর ১১ নং রুমে। আমরা তখনো ফুল ক্যাডেট না। তা ৮ম শ্রেণীর ভাইরা হাউস ডিউটি ক্যাডেটশপ পালন করতেন। শুনতাম ১১-১২শ এর ভাইরা চিল্লাচ্ছেন, &#8221;হাউস ডিকে! হাউস ডিকে&#8221;,টের পেতাম ক্লাস এইটের কেউ দৌড় দিচ্ছে,খুশি হতাম না,কারণ সেই সিনিয়র যে কাজ পেত,তা এসে রুম ডি.কে-এর উপর ন্যস্ত করে ক্ষান্ত হত। রুম ডি.কে কাজ শেষ করে হাউস ডি.কে কে দিত,আর হাউস ডি.কে সেই সিনিয়রকে তা দিয়ে আসত! সেইরাম চেইন অব কমান্ড!</p><p>&#8230;&#8230;কাজ বাড়লে কাজে ফাঁকি দেয়ার তরিকা খুঁজতে হয়,আমরাও বের করলাম। তা হল ইবাদত-বন্দেগী! হাসবেন না,সত্যিকার অর্থেই এটা একটা মোক্ষম ছুতা! রেস্ট টাইমে মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে গেলে কারো আসার নাম নেই। দেখা যেত,সবাই খুব মন দিয়ে নফল নামাজ পড়ছে! অথবা খুব সুর করে কোরান তেলাওয়াত করছে! নামাজ আর কোরান তেলাওয়াত শুধু করলেই যদি সওয়াব হত,তাহলে মনে হয় ইতোমধ্যে আমাদের বেহেশত কিছুটা নসিব হয়ে গেছে!&#8230;.আরেকটা তরিকা ছিল টেইলর শপ! ভাইরা কাজ দিতেন,&#8217; যাও এই শার্টের পকেট সেলাই করে আন,এই প্যান্ট লম্বা করে আন।&#8217; এই কাজ পেলে আমরা খুশি হতাম,কেননা টেইলর শপ ছিল একটা ফ্রী জায়গা,যেখানে আড্ডা দেয়া যেত। অন্য দুই হাউস থেকেও আমাদের ক্লাসের ছেলেরা আসত। ডজিং মেরে রেস্ট টাইম শেষের আগে রুমে ফিরতাম। তবে আমার এই সুখ বেশিদিন থাকেনি। কেন থাকেনি পরে বলছি,আগে পানিশ্মেন্ট সংক্রান্ত কয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেইঃ</p><p>ক) আমার বন্ধু &#8216;ব-১৯৪৯&#8217; অতি জেদী ও কনফিডেন্ট,সেই সেভেন থেকেই,তো মার খেয়ে রুমে ফিরলে কখনও ব্যথা পেয়েছে বুঝতে দিতনা। লাল লাল বড় বড় চোখ নিয়ে রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে নিজের প্লেসের দিকে হাঁটা দিয়ে সোজা আলমারির দুই পাল্লার ফাঁকে ঢুকে পড়ত। তার হাতে থাকত টাওয়েল,সেটা মুখে চোখে চেপে ধরে কাঁদত। এক-দুই মিনিট কাঁদার পর পিছনে ফিরে দেখত,কেউ তাকে দেখছে কিনা! তারপর আবার শুরু করত তাঁর বিখ্যাত &#8216;চোরা-কান্না&#8217;</p><p>খ) ভাইদের রুমের সামনে দিয়ে গেলেই এ ডাকে,ও ডাকে। তাই আমাদের কেউ কেউ শান্তিতে টয়লেটও করতে পারত না। তো একদিন সকালে গেট আপের বেল দেয়ার ১০-১৫মিনিট আগে আমাদের মাতলা সাহেব-১৯৫৩ ঘুম থেকে উঠলেন। কিন্তু ওই যে ভয়,টয়লেটে যাওয়া যাবে না!যে যে যার যার কাজ করছিলাম, হঠাৎ তার চিৎকার, &#8221;বয়েজ,কেউ কিছু মনে নিস না,সবই আল্লাহর গজব!&#8221; প্রথমে কিছুই বুঝলাম না,পরে তাকিয়ে দেখলাম ওর পায়জামার সামনের দিক ভিজে যাচ্ছে আর ওর পায়ের নিচে ঝরঝর করে পানি জমছে! হায়রে পোড়াকপাইল্লা রে&#8230;&#8230;তবে এতে আমরা সবাই হাসলেও মেজাজ খারাপ হল &#8216;আ-১৯৫২&#8217; এর,কেননা আগের দিনই সে প্লেসটা স্যাভলন দিয়ে পরিস্কার করেছে।স্যাভলনের গন্ধে ঝাঁঝ আছে,কিন্তু বুঝতেই পারছেন,এই বিশেষ তরলের ঝাঁঝ স্যাভলনের থেকেও বেশি!&#8230;&#8230;.</p><p>গ) একদিন &#8216;মে-১৯৫৬&#8217; কি এক ফল্টে অনেক মার খেয়ে রুমে আসল। এসে চিৎকার করে ভাব নিচ্ছে সে,&#8221; আরে ধুর! এইসব মার দিয়ে কি আর আমার পাছা ব্যথা করতে পারবে নাকি! এগুলা আমার গায়ে লাগে না!&#8221; তো সে দেখেনি,কখন তার পিছে দুইজন ক্লাস এইটের ভাইও আমাদের রুমে এসছে।ফলাফল,তাকে আবারো ডাকা হল,এবং ফিরে আসার পর তার মুখে কোন কথা নেই,চোখ লাল&#8230;..</p><p>ঘ)  আমাদের &#8216;ফ&#8217; কলেজের খাওয়া দাওয়ার সাথে কোনভাবেই খাপ খাওয়াতে পারছিল না। প্রায় প্রতিদিনই দেখা যেত,একটা ছেলে মিল চলাকালে হঠাৎ করে উঠে ডাইনিং এর বাইরে দৌড় দিচ্ছে বেসিনের দিকে আর ওর টেবিল লীডার ভাই যাচ্ছেন ডিউটি মাস্টারের কাছে রিপোর্ট করতে! কাহাতক আর এই জ্বালা সহ্য করবেন তিনি! তো তিনি হুমকি দিলেন,এরপর যদি &#8216;ফ&#8217; এর বমি আসে এবং বমি করে,তাহলে সেই বমিই আবার খেতে হবে! এই হুমকি খেয়ে &#8216;ফ&#8217; কিছুতেই খেত না,খাওয়া নিয়ে ধানাইপানাই করত। এরজন্যেও সে মার খেল! তো একদিন,তার বমি আসল কিন্তু বার বার সে বমি না করে আবার গিলে ফেলছিল,পরে কোনভাবে সে কন্ট্রোল না করতে পেরে আস্তে আস্তে মুখে হাত দিয়ে একটু একটু করে বমি করে পকেটে ভরতে থাকল! কেউ টের পেল না সে কী করছে! লাঞ্চ শেষে হাউসে ফিরার পর আমরা আবিষ্কার করলাম,তার প্যান্টের কালার ও বদ খুশবু দেখে!&#8230;.</p><p>ঙ) ফল্ট করেও মার কিভাবে কম খাওয়া যায় সেটা নিয়ে সবারই কম বেশি চিন্তা থাকত। তেমনই এক উপায় বের করল,আমাদের &#8216;হা-১৯৫৯&#8217;। তাকে যখন মার খেতে ডাকা হত,যাওয়ার আগে সে তার সকল আন্ডি পরে যেত। অধিকাংশ দিনই সে মার খেয়ে খুশিমনে ফিরত,ভাব নিত,&#8221;ধুরু,ব্যথা লাগেনাই,সব বাড়ি জাইঙ্গার উপর দিয়া গ্যাছে।&#8221; একদিন সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরল। জিজ্ঞেস করলাম,কাহিনী কি? বলে,&#8221;ভাই পাছায় মারেনাই,তার একটু নিচে মারছে,সব বাড়ি চামড়ায় পড়ছে রে&#8230;..&#8221;</p><p>&#8230;.আমি ছিলাম গাধার গাধা। মারও বেশি খেতাম,ফল্টও বেশি করতাম,আর আমাকে ছাড়া মনে হয় ভাইদেরও শান্তি হত না মেরে! তো বেশি বেশি ফল্ট করার কারণে ১৫দিন যেতে না যেতেই আমার উপর আইন জারি হল,পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আমাকে সেই টার্ম পুরাটা রুম ডিউটি ক্যাডেট থাকতে হবে! এতে আমার আরাম হারাম হল আর আমার রুমমেটদের আরাম হালাল হল! রুম ডিউটি ক্যাডেটের প্রধান কাজ মূলত,সকালে কিংবা দুপুরে ভাই দের ঘুম থেকে তুলে দেয়া। তো দেখা যেত,প্রেপ থেকে এসেই বা লাঞ্চ করে এসেই সিনিয়ররা ডাকছেন। একেকজনের কমান্ড,&#8217;আছিব,সকালে গেট আপের ১০ মিনিট আগে ডেকে দিবা।&#8217; &#8216;আছিব,রাত ৩টার পর থেকে ১৫ মিনিট পর পর ডাকতে থাকবা।&#8217; &#8216;পিন্টু,কালকে যদি ফজরের আজানের সময় আমারে না ডাকছস,ধরে হাউস থেকে ছুঁড়ে মারমু!&#8217; তো দেখা যেত,প্রতিদিন রুমের ৯জনের ৯টা আলার্ম ঘড়ি নিয়ে ঘুমাতে যাচ্ছি,উঠছি রাত ২-২ঃ৩০ এ,হাতে থাকত টাইমলিস্ট,একেক্টা সিনিয়রকে ডেকে আসতাম,মাঝখানে যে কয়েক মিনিট পেতাম,তাতে খানিকটা ঘুমাতাম। আর রেস্ট টাইমে তো ঘুমই হত না! এভাবে এমন সেন্সিটিভ স্লিপার হয়ে গেলাম,যে রুমের মধ্যে কেউ পা টিপে হাঁটলেও আমার ঘুম ভেঙ্গে যেত। খাওয়া-দাওয়া আর ঘুমের অনিয়মের জন্য ওই টার্মে আমার ওজন ৪৩ কেজি থেকে ৩৪ কেজিতে নেমে গিয়েছিল! রাতে যখন রুম থেকে বের হতাম,শিয়ালের ডাকে ভূতের ভয় পেতাম,ভাইদের কাছে জ্বীন-প্রেতাত্মার গল্প শুনে ভয় পেতাম,কী বাচ্চাটাই না ছিলাম!</p><p> নভিসেস প্যারেডে ভালো পার্ফর্মেন্সের পর আমার উপর থেকে কন্টিনিউয়াস রুম ডিকেশিপের খড়গ  তুলে নেয়া হল। তাতে কি হবে,ফুল ক্যাডেট হবার বদৌলতে হাউস ডিকেশীপ নাজিল হল! অনেক অনেক কিছু মনে পড়ে,কোন স্মৃতি খুব স্পষ্ট আবার কোনটা আবছা। অনেক বন্ধুর নানা কাহিনী মনে পড়ে।বিস্তারিত লিখতে ইচ্ছে করে।জানি না পারব কিনা&#8230;&#8230;<br /> যাই হোক পাঙ্গা মানে তো সবাই জানেন? এটা নাকি বি এম এ টার্ম? কি জানি,যাই হোক,রগড়া মানে হল,একই সাথে চার্জ আর ফিজিক্যাল পানিশ্মেন্ট। আমাদের কলেজে মাংকীসিটিং চালু ছিল,এটা হল,রুমে মশারি বাঁধার জন্য তাঁর বাধা থাকত,সে তারে আমাদের ঝুলতে হত চেয়ারসীটিং স্টাইলে,আর নিচে ভাইরা কম্পাস ধরত,পা ছেড়ে দিলেই কম্পাসের খোঁচা! আরেকটা ছিল,মুরগী পজিশন,যেটাতে হাত নিয়ে হিপের নিচ দিয়ে বের করে দুই কান ধরতে হত! জীবনে কোন মুরগীকে এই পজিশনে দেখিনি,তারপরও যে কেন এর নাম মুরগী পজিশন হল,আল্লাহই জানেন! আর প্যাঁদানি তো বুঝেনই,<strong>পশ্চাতদেশের সাথে দন্ডাকার কাষ্ঠখণ্ড অথবা প্লাস্টিক অথবা ধাতবখন্ডের ইমপ্যাক্ট লোডিংকেই প্যাঁদানি বলে!</strong></p><p>পানিশমেন্ট এর সাথে আরও অনেক ফ্যাক্টর জড়িত! মূলত ক্যাডেট কলেজের সকল কাজের সাথেই এটা জড়িত। তাই পাঙ্গা,রগড়া নিয়ে লিখতে গেলে একাডেমিক,কালচারাল,ডিসিপ্লিন এসব ব্যাপারও চলে আসে। তাই এই পর্বে শেষ করতে পারছি না,বেশি বড় করলে অনেকেই বিরক্ত হন।আশা করি পরের পর্বে পাঙ্গা উপাখ্যান শেষ করতে পারব।&#8230;&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/madeye/25165/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>59</slash:comments> </item> <item><title>আজি ঝরঝর মুখর এই বাদল দিনে</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/mahmud_faisal/25085</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/mahmud_faisal/25085#comments</comments> <pubDate>Mon, 31 May 2010 12:51:46 +0000</pubDate> <dc:creator>মাহমুদ ফয়সাল (৯৯-০৫)</dc:creator> <category><![CDATA[গল্প]]></category> <category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25085</guid> <description><![CDATA[সুচরিতাসু, চিঠিটা পেয়েই বুঝি একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে ফেললে? বুঝে ফেলেছ, তাইনা? তুমি যে বুঝতে পারবা, সে আমি জানি! তাতে কী? তাই বলে বুঝি আমার লেখালেখি বন্ধ হয়ে থাকবে? সত্যিই আজকে ঝরঝর বর্ষাধারা বয়েই চলেছে প্রকৃতিতে… আর এই অপদার্থ উজবুকটা ছটফট করে বসে পড়েছে চিঠি লিখতে… মনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুভূতিগুলোকে রূপ দেয়ার চেষ্টা করতে… আরে আরে&#8230;.হাসি থামাও [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p><strong>সুচরিতাসু,</strong></p><p>চিঠিটা পেয়েই বুঝি একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে ফেললে? বুঝে ফেলেছ, তাইনা? তুমি যে বুঝতে পারবা, সে আমি জানি! তাতে কী? তাই বলে বুঝি আমার লেখালেখি বন্ধ হয়ে থাকবে? সত্যিই আজকে ঝরঝর বর্ষাধারা বয়েই চলেছে প্রকৃতিতে… আর এই অপদার্থ উজবুকটা ছটফট করে বসে পড়েছে চিঠি লিখতে… মনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুভূতিগুলোকে রূপ দেয়ার চেষ্টা করতে…</p><p>আরে আরে&#8230;.হাসি থামাও তো!! সুস্থির হয়ে বস দেখি! আমাকে একটু বলতে তো দাও!! জানো, সকাল থেকেই আকাশ কালো হয়ে আছে জমাট মেঘে। আর আমি মনে মনে খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম, এই মেঘলা মেঘলা দিনে কোন গানটা যেন আমাকে অনেক উদাস করে দিত সে-ই কৈশোরে… তারপর মনে পড়ে গেলো রবিঠাকুরের সেই গানখানিঃ</p><p><em>আজি ঝর ঝর মুখর বাদরদিনে<br /> জানি নে, জানি নে কিছুতেই কেন মন লাগে না ।।<br /> এই চঞ্চল সজল পবন-বেগে উদ্ভ্রান্ত মেঘে মন চায়<br /> মন চায় ঐ বলাকার পথখানি নিতে চিনে ।।<br /> মেঘমল্লারে সারা দিনমান<br /> বাজে ঝরনার গান ।<br /> মন হারাবার আজি বেলা, পথ ভুলিবার খেলা- মন চায়<br /> মন চায় হৃদয় জড়াতে কার চিরঋণে ।।</em></p><p>আসলেই আমার কিছুতেই মন লাগছে না। আমাকে ধানমন্ডিতে দেখা করতে বলেছেন জুয়েল ভাই। ছোট বোন একটা কাজ করতে দিয়ে কলেজে গেছে, দুলাভাই আজই আমাকে সময় করে দেখা করতে যেতে বলেছিলেন… অথচ আমি কিনা ঘরকুনো হয়ে বসে আছি!! কারণ? আমার যে কিছুতেই একদম মন লাগছে না!!!</p><p>এই চঞ্চল সজল পবন-বেগে উদ্ভ্রান্ত মেঘে বলাকার পথখানি চিনে নিয়ে যদি সত্যিই উড়ে উড়ে তোমার কাছে চলে যেতে পারতাম! তবে আর তোমার পথ চেয়ে অপেক্ষা করতে হত না! তোমার কোলে চিঠিখানি ছুঁড়ে দিয়ে আমি লুকিয়ে দেখতাম কী করে চিঠিটা পড়ে তুমি হেসে কুটি কুটি হও…</p><p>সত্যি কথা কী জানো হে বরষা কন্যা? রবীন্দ্রনাথের কথাগুলো, গানগুলো কেন যেন আমাকে বড্ড বেশি বেশি স্পর্শ করে… আমার অনুভূতিগুলো কি ঘুরে ফিরে ঠাকুরদা’র কবিতার মতন হয়ে গিয়েছে কিনা তা-ই বা কে জানে! ছেলেবেলায় আমার বালিশের পাশে সঞ্চয়িতা থাকত সবসময়… অদ্ভূত একটা আবেশে কেটেছিলো আমার কৈশোরটা জানো? আমি চোখভরা বিষ্ময় নিয়ে পড়তাম কবিতার পংক্তিগুলো… প্রতিদিন… প্রতিটি অবসর!!</p><p>গানটার কথা দেখেছ? মন হারাবার আজি বেলা, পথ ভুলিবার খেলা… মন চায় এই হৃদয় নাকি কার চিরঋণে জড়াতে… হাহাহাহহা!! না ভাই, না ভাই, আমি ভাই ঋণে জড়াইতে চাইনা… আমি ঋণী করে দিতে চাই… হুমম!!</p><p>নাহ। গান নিয়ে আর কথা বলবো না… এখন চুপ যাই। এমনিতেই এই ডিজিটাল যুগে মানুষ বইপত্র দেখলে শুধুই বিরক্ত হয়… তার উপর আমার চিঠির মতন এই বিশাল কলেবরের জিনিস হয়ত তোমাকেও “বোর” করে দিতে পারে! তুমি কেমন অদ্ভূত, বুঝো? একটা বার কোনদিন বললা না, আমার চিঠিভরা যেই বকবকানি, সেগুলো তোমার কেমন লাগে! অথচ আমি কোনসময়েই যে তোমার মন্তব্যের অপেক্ষা করিনা, তা তো না… যাক গে, হয়ত কোনদিন বলবা, হয়ত সেই একদিনের কথাতেই আমার চাওয়াখানি পূর্ণ হয়ে যাবে… হয়ত… জানিনা!</p><p>একটা কথা জানো, আমার ইদানিং মনে হয় আমি মনে হয় যন্ত্রমানব হয়ে যাচ্ছি। নতুবা কি পাষাণ হয়ে যাচ্ছি? আমাকে আর আগের মতন অনুভূতিগুলো স্পর্শ করে না। এই বৃষ্টি আর আমাকে আগের মত করে ছুঁয়ে যায় না… আমার হৃদয় অবধি যেতে পারেনা বর্ষাধারার শীতল অনুভূতিখানি…<br /> আমি যেন তোমাকে ঠিক আগের মতন করে অনুভব করিনা… কেন এমন হয়ে যাচ্ছি বলতে পারো? বলতে পারো, আমি কেন আমার কথাগুলোকে কিছুতেই ব্যক্ত করতে পারছিনা ইদানিং… আমার ভেতর হতাশা ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু তোমার বকা খাওয়ার ভয়ে তাকে ব্যক্ত করতে পারছিনা…</p><p>অথচ আমি দিব্যি জানি, আমি ক্রমাগত বদলে চলেছি। যেই বদলে যাওয়া আমার কাম্য না। আমি বদলে যেতে চাইনা… আমি সেই আগের আবেগপ্রবণ বোকাসোকা ছেলেটাই থাকতে চাই… তোমার স্মরণে আমি বিবশ হয়ে যেতে চাই… তোমার হাসিমুখ দেখে আমি চুপটি করে বোকাবোকা হাসি দিয়ে তাকিয়ে থাকতে চাই অপলক&#8230;… আমি বড় হতে চাইনা, চাইনা বদলে যেতে!!</p><p>কত কিছুই যে চাইনা, অথচ দেখ, সবই তো হয়ে যাচ্ছি… ক্রমাগত যেন জঞ্জাল এসে ভরিয়ে দিচ্ছে জীবন কুঠুরিটা… সেই জঞ্জাল দেখতে তো খারাপ বটেই। ধরে নাও জীবনের এই জঞ্জালগুলোকে ইগনোর করে অন্যকিছুতে মন দিবো-–তা যে হবেনা! সেসব বাজে জিনিসের তীব্র দুর্গন্ধে আমি বুঝতে বাধ্য হবো– আমি ভুল করেছি জীবনে… তার খেসারত আমায় দিতেই হবে…</p><p>নাহ! এখনি লেখাটা শেষ করতে হবে। কেমন যেন ভারাক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে লেখাগুলো। আর চাইনা এসব লিখতে। কিন্তু একটা সত্যি কথা বলে শেষ করি? আমার ইদানিং মনে হয়–- আমার বুঝি আর লেখার কিছুই নেই, আমার লেখনি স্তব্ধ হয়ে যাবে একদম… নতুন অনুভূতি নেই, নেই কোন ভালোবাসা আর ভালোলাগাদের দল&#8230;</p><p>আমার মনে হয় আর তোমাকে লেখা হবেনা গো &#8220;সুহাসিনী&#8221; !<br /> অনেক অনেক ভালো থেকো, হুমম? আর আমাকে দোয়া দিয়ো একটু প্লীজ।<br /> তুমি তো জানো, আমি একটু প্রশান্তিই চাই এই জীবনে। অর্থ-বিত্তের প্রাচুর্য নয়&#8230; শুধু নির্ঝঞ্ঝাট একটা জীবন… দোয়া করিও মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দরবারে। আমি সুখের স্পর্শ পাবই ইনশাআল্লাহ দেখে নিয়ো…<br /> এই জীবনে না পাই, অনন্ত জগতে আমার সুখ হবেই।</p><p>– শেষান্তে<br /> <strong>পথহারা পথিক </strong></p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/mahmud_faisal/25085/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>49</slash:comments> </item> <item><title>মৃত ষাঁড় এবং সিগারেট</title><link>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25073</link> <comments>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25073#comments</comments> <pubDate>Mon, 31 May 2010 03:41:19 +0000</pubDate> <dc:creator>রিজওয়ান (২০০০-২০০৬)</dc:creator> <category><![CDATA[গল্প]]></category> <category><![CDATA[রাজশাহী]]></category><guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=25073</guid> <description><![CDATA[ঘাড় লম্বা করে মাথাটা ঝাঁকালো কয়েকবার। হাত দুয়েক পিছিয়ে গেল, হঠাৎ সামনে এগিয়ে এসে দুম করে গুঁতো লাগিয়ে দিলো বয়স্ক মানুষটার গায়ে। আহ! করে কাতরিয়ে উঠলেন ভদ্রলোক, বয়স হয়েছে অনেক; একটা রাগী ষাঁড় সামলানোর ধৈর্য বা শক্তি কোনটাই নেই এখন তাঁর। একটা দড়ি ধরা ছিলো হাতে, ছেড়ে দিয়ে এগিয়ে এসে লম্বা ছুরিটা হাতে তুলে নিলেন। [...]]]></description> <content:encoded><![CDATA[<p>ঘাড় লম্বা করে মাথাটা ঝাঁকালো কয়েকবার। হাত দুয়েক পিছিয়ে গেল, হঠাৎ সামনে এগিয়ে এসে দুম করে গুঁতো লাগিয়ে দিলো বয়স্ক মানুষটার গায়ে। আহ! করে কাতরিয়ে উঠলেন ভদ্রলোক, বয়স হয়েছে অনেক; একটা রাগী ষাঁড় সামলানোর ধৈর্য বা শক্তি কোনটাই নেই এখন তাঁর। একটা দড়ি ধরা ছিলো হাতে, ছেড়ে দিয়ে এগিয়ে এসে লম্বা ছুরিটা হাতে তুলে নিলেন। ঘাড় ঘুরিয়ে পাশের লোকটার উপর রাগ ঝাড়লেন কিছুক্ষন, ছুরিতে ধার ঠিকমত দেয় নাই কেন&#8230;&#8230;সব অকম্মার ধাড়ি&#8230;&#8230;ইত্যাদি ইত্যাদি। এদিকে তখনও ষাঁড়টা প্রচন্ড রাগে দাবড়াচ্ছে, হাঁপিয়ে উঠছে দড়ি ধরা লোকজন।</p><p>বাবা একপাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে আর এইসব দেখছে। আর আমি ক্ষুধার্ত ফুসফুসে বিরক্ত হচ্ছি বারবার; এইমুহূর্তে সিগারেট খাওয়া খুবই দরকার। বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, “যাও হাত লাগাও। এত বড় ছেলে দাঁড়িয়ে আছ কেন??”<br /> আমি পাঞ্জাবির পকেটে সিগারেটের প্যাকেটটায় হাত বুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে এগিয়ে গেলাম। ব্যাপারটা এতক্ষণে ধস্তাঃধস্তির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে প্রায়। ষাঁড়টাও হাঁপিয়ে উঠেছে, চকচক করছে খয়েরী রংয়ের শরীরটা। খানিক শংকা নিয়েই মাটিতে পড়ে থাকা দড়িটা তুলে হাতে নিলাম। কতখানি শক্তি খরচ করে টানাহেঁচড়া করা লাগবে ভাবছি, ষাঁড়টা মাথা নিচু করে দাপাদাপি থামিয়ে দিলো। এরপর এগিয়ে এসে শুঁকতে লাগলো আমার পাঞ্জাবীর হাতা। ব্যাপার কি? ব্যাটা গোল্ডলিফের গন্ধ পেয়েছে নাকি! ব্যাপার খেয়াল করে বয়স্ক লোকটা বলে উঠলেন,<br /> “ভাইস্তা, দাঁড়ায়ে থাকো ত চুপচাপ। তোমারে দেখে শালা ক্ষ্যাপে না দেখি! &#8230;&#8230;&#8230;..ওই তাড়াতাড়ি কর তোরা&#8230;সারাদিন দাঁড়ায়ে থাকবি নাকি??”।</p><p>আমি মোটামুটি বোকা বনে দাঁড়িয়ে থাকলাম; এতগুলো কুরবানীর ঈদ পার করলাম, এইরকম কিছু হয়নি কখনও। এদিকে উপস্থিতদের কয়েকজন ব্যস্ত হয়ে পড়ল আবার; ষাঁড়টার পেটের উপর দিয়ে দড়ি ছুঁড়ে দিলো; অদ্ভুত কায়দায় দড়িটা পেঁচিয়ে আনলো পায়ের চারপাশ দিয়ে। তারপর গায়ের জোরে টান দিলো সবাই। কাজ হল এতে। মাটি কাঁপিয়ে সশব্দে কাত হয়ে পড়ল প্রাণীটা। দ্রুত তার পেটের উপর চেপে বসল কয়েকজন। বয়স্ক লোকটা তাড়াতাড়ি এগিয়ে গেলেন, দ্রুত দোয়া পড়ে নিলেন। এরপর সর্বশক্তিতে দুহাতে চালালেন লম্বা ছুরিটা ষাঁড়ের গলার উপর দিয়ে। থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো প্রাণীটার পুরো শরীর, রক্ত ছিটে এসে লাগলো আমার পাঞ্জাবীটায়। আর আমি বিরক্তমুখে মাথা নাড়লাম; শালার দিনটাই মাটি আমার। ৮০০ টাকায় আড়ংয়ের পাঞ্জাবী আর পাওয়া যায় না। এক বছর হল কিনেছি, পরাই হয় নাই। আর এই কুরবানী, মাত্র তিন মিনিটের ব্যাপার পুরোটাই; তাও আমারে নামিয়ে ছাড়ল।</p><p>ঠিক তখনই আমার দৃষ্টি আটকে গেলো মৃত ষাঁড়টার চোখে। দৃষ্টি এখনও মরে নি, কি এক ব্যাকুলতায় উজ্জ্বল হয়ে এখনও। আমাকে দেখে দাপাদাপি থামানোর পর থেকে যেন ওই দৃষ্টি ছিলো বড় বড় চোখগুলোয়। তাই এইটা দেখে মারাত্মক অশান্তিতে পড়লাম আমি এবং ঠা ঠা রোদে আমার মাথায় চেপে বসল নান্দনিকতার ভুত। গদ্যকবিতায় হিসেব মেলানো শুরু করে দিলাম তখনই আর&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;</p><p>চিন্তায় ছেদ পড়ল কারো গলা শুনে।<br /> “ছুরি কি এইটায় হবে, না আরো ছোট লাগবে?”<br /> “নাহ, ঠিক আছে এইটা।” ছুরিটা হাতে নিয়ে খানিক স্বস্তি বোধ করলাম আমি। ভুতটা গায়েব হয়ে গেছে মাথা থেকে। ব্যস্ত হয়ে পড়লাম চামড়া ছিলতে; মাংস আর চর্বির উষ্ণতায় ভুলে গেলাম সময়ের হিসেব।</p><p>ঘন্টাখানেক পরে খেয়াল হল আমার। প্রচন্ড তৃষ্ণা পেয়েছে, ভেতর প্রায় শুকিয়ে গেছে।</p><p>“আব্বা, আমি আসতেছি একটু।” বাবা মাথা নাড়ল। ন্যাকড়াতে হাত কোনমতে মুছে বেরিয়ে আসলাম। তাড়াহুড়োয় ধরাতে গেলাম সিগারেট, তিনটে কাঠি খরচ করতে হল এতে। ভেতর থেকে বয়স্ক গলার আওয়াজ এলো, “ছেলে তো দেখি বাপের মতই সিগারেট খায়।”</p><p>“কি আর করব ভাই বলেন! বড় হয়ে গেছে না এখন!” বাবার হাসি মেশানো গলা শুনি। সরে আসি ওখান থেকে। হাতে লেগে থাকা চর্বির তীব্র পিচ্ছিল গন্ধ উপেক্ষা করে তেতো ধোঁয়া টেনে নেই বুকে। থুতু ফেলি রাস্তার পাশে।</p><p>রোদের তীব্রতা বাড়ে। মাথার ভেতর মুচকি হাসে পুরনো ভুত; জেগে উঠেছে সে সিগারেটের ধোঁয়ায়। আমি নতুন করে হিসেব মেলাই&#8230;&#8230;</p> ]]></content:encoded> <wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/praxis/25073/feed</wfw:commentRss> <slash:comments>18</slash:comments> </item> </channel> </rss>
<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Minified using disk
Page Caching using disk (enhanced)
Object Caching 879/909 objects using disk
Content Delivery Network via static.cadetcollegeblog.com

Served from: www.cadetcollegeblog.com @ 2010-07-30 05:42:35 -->