লতাগুল্মের গালগল্প

আমাদের শহরে এখন সন্ধ্যা নামছে। দিনশেষের এই সময়টুকু আমার বড় প্রিয়। এখানে গ্রীষ্মের দিনগুলি অনেক লম্বা। ‘ঠাডাপড়া’ গরমে স্থানীয় লোকজন দেখি কেবল সমুদ্র সৈকতের দিকে দৌড়োয়। মাঝেমধ্যেই তাপমাত্রা একশো ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। দিনভর তুমুল গরম থাকলেও সন্ধ্যা আসে প্রশান্তি নিয়ে। সারাদিনের প্রচন্ড দাবদাহে গাছেরা তৃষ্ণাতর্ হয়ে থাকে। আমাদের বাড়ির সামনে পেছনে খোলামেলা সবুজ সমতল জায়গা আছে। সামনের চত্বরে আগে কেবল বুনো লাল গোলাপ ছিল, আর দক্ষিণের সীমানা ঘিরে ছিল ঘন সবুজ ফার্ণের ঝোপ ও জেরানিয়াম।

বিস্তারিত»

এক বালকের যুদ্ধ-স্মৃতি

স্মৃতির পাতা থেকে বলছি। এটি এমন সময়ের স্মৃতি যা আমার মনে থাকার কথা নয়। এটি এমন সময়ের গল্প যখন বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষকে নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বড়-বড় হেডলাইন তৈরি হচ্ছিল। এই হেডলাইনগুলোর কথা আমি জীবনে আরো অনেক পরে জেনেছি। জেনেছি সেই গৌরব-গাথা যার গল্প মানুষ মনে করবে আরো হাজার বছর ধরে। গৌরবের পাশাপাশি এ এক ব্যর্থতার গাথাও। এই গৌরবকে মনে না নিয়ে, আলোর পথে না এসে কিছু মানুষ মানবতার চেহারায় কালিমা লেপে দিয়েছিল।

বিস্তারিত»

দিনলিপিঃ চিকেন টামালে কিংবা খগেন জে্যঠুর চালতার আচার

এক
সাতদিনের জন্য কেটি এসেছিল আমাদের বাড়ি; চৌদ্দ দিন পুরিয়ে অবশেষে সে ফিরে গেল কানেকটিকাটে। তবু কি যেতে চায়? আমিই প্রায় ঠেলে ধাক্কিয়ে পাঠিয়ে দিলাম। কেটির বাবা এবছর অবসর গ্রহণ করেছেন। বাবার সূত্রে কন্যা বছরে বিমানে তিনটে ট্রিপ নিতে পারে বিনা টিকিটে। ওর আটলান্টা ট্রিপটা এমনই একটা ফ্রি ট্রিপ ছিল।

চার পুরুষ আগে কেটি আরমানিনির পরিবার ইটালী থেকে এদেশে এসেছিল বসতি গড়তে।

বিস্তারিত»

শুভ জন্মদিন!

ফেসবুক বার্থডে নোটিফিকেশনের যুগে এখন কষ্ট করে কারো জন্মদিন মনে রাখার প্রয়োজন হয় না। সিসিবির জন্মদিনের কোন নোটিফিকেশন না আসলেও কিভাবে জানি মনে পড়ে গেল আজকে জন্মদিন। আর তাই সমকালীন ফেসবুকীয় ধারা বজায় রেখে শুভেচ্ছা জানিয়ে যাই…….

শুভ জন্মদিন সিসিবি।

বিস্তারিত»

স্মৃতিকথন

 

ক্লাস ফাইভে থাকতে স্কুলের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহে দুইটা বই প্রাইজ পেয়েছিলাম।‘শাহনাজ ও ক্যাপ্টেন ডাবলু’ আর ‘সায়রা সায়েন্টিস্ট’। দুপুরের দিকে বাসায় এসেই সঙ্গে সঙ্গে ‘শাহনাজ ও ক্যাপ্টেন ডাবলু’ বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম। বই পড়ে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি যাবার মত অবস্থা হয়েছিল। বিকালে মা স্কুল থেকে আসলে দাদু মাকে বলেছিলেন, ‘ওর যেন কি হইছে, একা একা বারান্দায় বসে জোরে জোরে হাসতেছিল’। সেই শুরু।

বিস্তারিত»

শেষ না হওয়ার গল্প

ক্যাডেট কলেজের রাতগুলো নগর জীবনের রাতের চাইতে ভিন্ন ছিল। আমাদের ময়মনসিংহের শহরতলীতে সন্ধ্যা নামতো ঝুপ করে। এমজিসিসির তিন দিকে ছিল ধানক্ষেত, বছরের ছয়মাস জুড়ে সেখানে হাঁটু জল থাকতো। কলেজের দক্ষিণে ধারে কাছে কোথাও শেয়ালকূলের ঘর গেরস্থালি ছিল। সন্ধ্যা হতে না হতে পরিবার পরিজন সহ শতেক শেয়াল একসাথে হুক্কাহুয়া রবে চারদিক কাঁপাতো আর আমাদের শহরবাসী অনভ্যস্ত কান সেই ডাকাডাকিতে ভীত হয়ে পড়তো! শৃগাল সংগীত শুরুর আগে গেমস শেষে হাউসের স্বনামধন্য দৌড়বাজ ক্যাডেটরা বাথরুমের দখলদারিত্ব নিয়ে তোড়জোড় শুরু করে দিত।

বিস্তারিত»

~ প্রবাসে পরবাসে নেই, সাত সকালে বেরিয়েছে সে; বহুকাল পর বাড়ী গেছে ~

বলা হয় কোনো লেখা পড়ে পাঠকের মনে যখন সেই দ্যোতনাটি জেগে ওঠে – আর সে ভাবে, ‘আরে এ যে আমারও কথা’; তখনই সে লেখাটা সার্থক লেখা হয়ে ওঠে। যতো বেশী পাঠকের মনে এমন ধারণার জন্ম দিতে পারে কোনো লেখা, ততো বেশী পাঠকপ্রিয়তা, ততো বেশী জনপ্রিয়তা পাবে তা; পাবে দীর্ঘায়ু। সহজ শাদামাটা ভাবে তাই বলাই যায় যে, বিভিন্ন ভাষার শীর্ষ কবি ও লেখকরা যখন লেখেন, এমনটা ভেবে এরকম কিছুই লেখেন।

বিস্তারিত»

আমরা সবাই রাজা

লিজার্ড লগ পার্কে পৌঁছুতে মনে হলো কোন অলিম্পিক ভিলেজে এসেছি বুঝি। উনিশশো ছিয়ানব্বইতে আটলান্টা অলিম্পিকে বিভিন্ন ইভেন্ট দেখার পাশাপাশি ঘুরে ঘুরে শহরের সাজসজ্জা দেখেছিলাম। ইসিএফ অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত ক্যাডেটস ডে আউটের বর্ণাঢ্য আয়োজন দেখে অলিম্পিকের পুরনো স্মৃতি ফিরে এলো মনে। পার্কে আমরা পৌঁছুতেই চারপাশের উৎসবমুখরতা চোখে পরে! এখানে শীতের শেষে গাছে গাছে নবীন পাতা আর রংবাহারী ফুলের মেলায় আলো ছড়াচ্ছে প্রিয় সব মুখ। ব্যানার, ফেস্টুন, বেলুন আর কলেজের পতাকায় বর্ণময় বসন্ত সকাল!

বিস্তারিত»

ভ্রমণ

ভ্রমণ

আমার বয়স তখন ১৪ অথবা ১৫ বছর। নবম শ্রেণীতে পড়ি। মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজের নজরুল হাউজের রিক্রিয়েশন রুমের পার্শ্ববর্তী কক্ষে স্থাপিত পিংপং খেলার টেবিল। মাঝখান থেকে জালটা সরিয়ে নেয়া হয়েছে।এই টেবিলের ওপরেই আমি আন্তঃহাউজ দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের জন্যে আমাদের হাউজের বাংলা দেয়াল পত্রিকা লিখছি। আমাদের অর্থাৎ নজরুল হাউজের এই পত্রিকার নাম ‘তরঙ্গ’! পাশেই হাউজ মাস্টারের কক্ষে অথবা ১১ নম্বর রুমে ১৪ তম ব্যাচের রফিক ভাই লিখছেন ইংরেজি দেয়াল পত্রিকা।

বিস্তারিত»

লিরিকস এণ্ড থটস

লিরিকস এণ্ড থটস

“পিয়ার ইয়ে, জানে ক্যায়সা হ্যায় / কিয়া কাহে, ইয়ে কুছ এ্যায়সা হ্যায় / কাভি দার্দ ইয়ে দেতা হ্যায় / কাভি চ্যায়েন ইয়ে দেতা হ্যায় / কাভি গাম দেতা হ্যায় / কাভি খুশি দেতা হ্যায়।” খুব সম্ভবত হায়ার সেকেণ্ডারিতে পড়ার সময় এটা প্রথম শুনি। এমনিতেই আমি এ.আর.রেহমানের অন্ধভক্ত ছিলাম। এখনও ভাল লাগে এই সুরকারের সুর। কিন্তু টিন এইজের মতন বিশেষ কোন ব্যক্তি বা বিষয়ে সেই অন্ধ আসক্তি এখন কোনখানেই আর কাজ করে না।

বিস্তারিত»

আমার শহীদ কাদরী

“সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো। ঘর-ফেরা রঙিন সন্ধ্যার ভীড়ে
যারা তন্দ্রালস দিগ্বিদিক ছুটলো, চৌদিকে
ঝাঁকে ঝাঁকে লাল আরশোলার মত যেন বা মড়কে
শহর উজাড় হবে, – বলে গেল কেউ – শহরের
পরিচিত ঘণ্টা নেড়ে খুব ঠাণ্ডা এক ভয়াল গলায়
এবং হঠাৎ
সুগোল তিমির মতো আকাশের পেটে
বিদ্ধ হলো বিদ্যুতের উড়ন্ত বল্লম!”

‘বৃষ্টি, বৃষ্টি’ কবিতাটি প্রথম কখন পড়ি মনে নেই,

বিস্তারিত»

পার্সেপশন্স টুয়ার্ডস টিচিং কমিউনিটি

পার্সেপশন্স টুয়ার্ডস টিচিং কমিউনিটি

প্রাইভেট টিউটর হিসেবে অভিজ্ঞতা নিয়ে এক্স ক্যাডেটস ফোরামের ফেসবুক পেইজে কদিন আগে অনেকেই তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছিলেন। সেখানে একটা স্ক্রীণ-স্ন্যাপশটের পোস্টে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে দেখি বেশ লম্বা হয়ে গেল। লম্বা মন্তব্য অন্যদের বিরক্তির কারণ হতে পারে ভেবে তখন লেখাটা আলাদা করে লিখেছিলাম, যেখানে আমি আগেই পরিস্কার করে নিয়েছিলাম যে, আমার লেখাটাতে কেবলমাত্র প্রাইভেট টিউশন নয়, বরং সার্বিকভাবে টিচিং কমিউনিটির প্রতি প্রায়শই অন্যদের যে দৃষ্টিভঙ্গিটা কাজ করে,

বিস্তারিত»

ঘুমন্ত শহরে, রূপালী রাতে

ভূমিকা
অনেক দিন পরে আমার ক্যাডেট কলেজের অনুজ যার ক্যাডেট নাম শফিক আর ডাক নাম অ্যাঞ্জেল । তবে ক্যাডেট নামের থেকে অ্যাঞ্জেল শফিক হিসাবে বেশি পরিচিতি। অনেকদিন পরে দেখা আর একই কলেজের প্রায় পিঠাপিঠি ব্যাচ তাই দীর্ঘদিন দেখা না হলেও হৃদয়ের এক আলাদা বন্ধনের সাথে জড়িত বলেই মন হতে দূরে যাওয়ার কোন উপায় নাই। শ্মশ্রুমণ্ডিত অ্যাঞ্জেল শফিকের দাড়িতে আবার হালকা পাক ধরেছে। এই লেবাসে অনেকদিন পরে দেখা বলে একটু চিনতে কষ্টই হচ্ছিল।

বিস্তারিত»

আমি কি? শিক্ষক? – ২য় পর্ব

আমি কি? শিক্ষক? – ১ম পর্ব
আমি কি? শিক্ষক? – ২য় পর্ব

যারা ১ম পর্বটা মিস করেছেন, তারা এখানে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন। ১ম পর্বটা না পড়ে থাকলে ২য় পর্বটা খুব বেশি সাব্জেক্টিভ মনে হতে পারে।

[শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা আমার পুরোনো একটা ব্লগে আমারই একটা প্রাসঙ্গিক মন্তব্যকে বেশ খানিকটা এডিট করে এই ব্লগটা লিখেছি।]

প্রায় ১০/১২ বছর আগের একটা অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল।

বিস্তারিত»

প্রাঙ্গণে মোর…

খুব সম্ভবত: আমি তখন উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র। ক্যাডেট কলেজে এই শ্রেণিটি সুপরিচিত ‘ক্লাস এলিভেন’ নামে। এই শ্রেণির ছাত্রদের একটা বিশেষ প্রকটিত বৈশিষ্ট্য হলো-‘ফার্স্ট ইয়ার ড্যাম কেয়ার’। অনেক প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য ছাপিয়ে প্রায় প্রত্যেকটি ছাত্রের ভেতর এই মনোভাব কমবেশি ফুটে উঠে। সেই সাথে চলে চারপাশের জগতের কাছে নিজেকে প্রতিনিয়ত আরো আধুনিক ও স্বতন্ত্র করে তুলে ধরবার প্রয়াস। পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয় ফ্যাশন সচেতনতা আর নিজস্ব ভঙ্গিমা।

বিস্তারিত»