ইথার সুন্দরী

ইথার সুন্দরী,
গত রাতের স্বপ্নগুলি ছিল অনেকটা স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার মতো। বেশ অনেক গুলি ছোট ছোট স্বপ্ন দেখলাম। আশ্চর্য হলাম এটা ভেবে যে কোনো স্বপ্নেই আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম না। আমার এই জীবনের পাওয়া না-পাওয়া আর চাওয়া না-চাওয়া মানুষগুলিকে ঘিরে ছিল আমার এই সিরিজ স্বপ্ন। প্রথম যে স্বপ্নটা দেখলাম তা ছিল আমার জীবনের প্রথম ভালবাসার মানবীকে নিয়ে, যাকে কখোনোই জানানো হয়নি আমার মনের কথা। দৃশ্যটা ছিল এমন যে,

বিস্তারিত»

একটি হ্যাটের আত্মকাহিনীঃ

আমার নাম হ্যাট। আমার নামটি খুবই ছোট হলেও আমার পরিচিতি বিশাল এবং ব্যাপক, আমার একটি প্রাচীন ঐতিহ্যও রয়েছে। আমি মানুষের শিরস্ত্রাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছি সে আজ থেকে নয়, সেই ব্রোঞ্জ যুগ থেকে। ইতিহাস ঘেঁটে আমার প্রথম পরিচয় হিসেবে জানা যায় যে খৃষ্টপূর্ব ৩৩০০ সালে অস্ট্রিয়া এবং ইটালীর মধ্যবর্তী এক পাহাড়ী অঞ্চলে মাথায় হ্যাট পরিহিত ওজি (Otzi) নামের এক লোককে বরফে হিমায়িত অবস্থায় পাওয়া যায়,

বিস্তারিত»

শিক্ষকের মৃত্যু নেই

মানুষের মৃত্যু আছে। শিক্ষকের কি মৃত্যু আছে? মনে হয় না।

একবার আমার এক শিক্ষক আমার বর্তমান কর্মস্থলে শিক্ষক নিয়োগের ইণ্টারভিউ-এ এক্সটার্নাল সাব্জেক্ট এক্সপার্ট হিসেবে এসেছিলেন। রেজিস্ট্রার অফিসে বসেছিলেন। সন্ধ্যার পরে সিলেকশন বোর্ড বসবে। আমি বিকেলে অফিস আওয়ারের পরে রেজিস্ট্রার অফিসে গেলাম তাঁর সাথে দেখা করতে। কুশালাদি বিনিময়ের এক পর্যায়ে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কি মাহবুব!! পড়াতে টড়াতে পার কিছু?” আমি তো বেশ হতবাক হয়ে গেলাম।

বিস্তারিত»

মতিউর রহমান স্যার

আজকে কেন জানি হঠাৎ অংকের মতিউর রহমান স্যারকে বারবার মনে পড়ছে। একেবারেই কাদামাটির অন্তর, প্রাতঃস্মরণীয় মানুষ, পরম শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ। আমাদেরকে তিনি নিজের সন্তানদের মতই দেখতেন।

স্যারের একটা অদ্ভুত অভ্যাস ছিল। কোন একজনকে ধমক দিতে হলে তিনি বলতেন, “ইডিয়েটস!”, আর একাধিক জন হলে বলতেন “ইউ ইডিয়েট!” গনিতের লোক বলেই বোধহয় গ্রামারের নাম্বারকে খুব একটা তোয়াক্কা করতেন না। তাঁর একটি কথা আমার মাথায় আজও ঘোরে (এবং আমি সবসময় অনুসরণ করার চেষ্টা করি) সেটা হল,

বিস্তারিত»

প্রেমের চিঠি

প্রেয়সী,
কেমন আছো? আমি ভালই আছি, বললে ভুল বলা হবে। আমি যেনো কেমন পাথরের মত নির্লিপ্ত হয়ে যাচ্ছি। মগজের ভিতরের সুক্ষ অনুভূতিগুলো কেমন যেনো শ্যাওলা জমা ছত্রাকের মত নিথর হয়ে পরেছে। আমি জানিনা কোন ঠিকানায় এই চিঠি পাঠাবো, কিন্তু লিখতেতো কোনো অসুবিধা নাই। তাই না? হৃদয়ের অলিন্দ নামক স্থানে আনকোরা এক অনুভূতি আজকাল বোধ হচ্ছে। সেখানে কোনো আশার আলো আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বিস্তারিত»

স্মৃতিকাতরতাঃ একটি অপ্রেরিত চিঠি

পাখি,
আমার এখানে এখন দুপুর তিনটে বাজে। তোমার ওখানে রাত তিনটে। আমাকে এ সময় চিরাচরিত দিবানিদ্রায় পেয়ে বসে। আজও আমার দু’চোখ ভরে ঘুম নেমে আসছে। তুমিও এখন এই মধ্যরাতে নিশ্চয়ই গভীর ঘুমে নিমজ্জিত। হয়তো কিছু স্বপ্ন তোমায় ঘিরে রেখেছে, হয়তো নয়। এই সেদিনও এ সময়ে তুমি আমার সাথেই ঘুমাতে, আমার ঘাড়ে কিংবা বুকে মাথা রেখে। আমি গান শুনতে শুনতে ঘুমাতে ভালবাসি, তুমিও। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো,

বিস্তারিত»

বাবা-মা চিরদিনই বাবা-মা

আমার বাবা ঝিনাইদাহ ক্যাডেট কলেজের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে তাঁর অবদান আমার জীবনে অনেক। তবে তাঁকে আজ শিক্ষক-রূপে চেনাতে চাইছি না। বাবা-রূপে চাইছি।
আমরা যখন খেলতাম তিনিও প্রায়ই আমাদের মাঝে থাকতেন, খেলতেন। বেশ কয়েকটি খেলায় তিনিও খুব ভাল ছিলেন। ডিউটি মাস্টারদের ক্যাডেটদের মাঝে থাকতেই হত। শুধু সে কারণেই তিনি আমার আশে-পাশে ঘোরাঘুরি করতেন তা নয়। তিনি কাছে থাকতেন তাঁর ছেলে খেলছে বলেও। ব্যপারটি আমি প্রথম টের পাই দশম শ্রেনীতে পড়ার সময়।

বিস্তারিত»

কাগজের চিঠি

আমাদের যখন ১২ বছর বয়স, বাবা-মাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম অনেক দূর। ক্যাডেট কলেজে পড়তে গিয়েছিলাম। আমাদের সেই অভিভাবকহীন দিনগুলোতে কলেজের শিক্ষকরাই ছিলেন বাবা-মা। তাঁরা আমাদের যতই ভালোবাসুন না কেন, বাবার-মায়ের অভাব পূরণ করতে কখনোই পারতেন না। ক্যাডেট কলেজের কঠোর জীবনের মাঝে, প্রায় সব ক্যাডেটই তাদের পিতা-মাতাকে চিঠি লিখতো, সারা সপ্তাহ সবাই অপেক্ষা করতো বাবা কিংবা মায়ের কাছ থেকে চিঠি পাবে বলে।
আমার জন্য অবশ্য ব্যাপারটি অন্যরকম ছিল।

বিস্তারিত»

কেউ কেউ রয়ে যায়

রেলগাড়ির ভেতরে বসে সাঁই-সাঁই করে পার হয়ে যাওয়া স্টেশনগুলোর নামফলক পড়া আমার একটি নেশার মতো। সব পড়া যায় না, অনেকটি যায়। কিছু ফলক এতই পুরনো যে, পড়তে কষ্ট হয়। দিনের বেলা খুব একটা আনন্দদায়ক না হলেও, রাতের ট্রেনে যাওয়ার সময় ফলক চেনার পাশাপাশি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলোও দেখতে ভীষণ ইচ্ছে করে। অপেক্ষাকৃত নিশ্চুপ শহরের স্টেশন আমায় আরও বেশি টানে। স্বল্প-রাতে নিবুনিবু হলদে আলোয় দোকানিরা তাদের শেষ ক্রেতার কাছে সদাই বিক্রি করছে।

বিস্তারিত»

সৈয়দ হককে মনে পড়ে

খবরটি শুনেই মনে হয়েছিল একসাথে হাজার তারার আগুন বুকের ভেতর ছুরি হয়ে বিঁধেছে। নিজেকে আকাশের মতো একা মনে হলো, মানুষ জন্মের আগে পৃথিবী যেমন একা ছিল, তেমনই একা মনে হয়েছিল। তিনি চলে গেছেন এ বাস্তবতাটি মেনে নেয়া আমার জন্য কঠিন ছিল। জানি না কেন। আমরা সবাই জানতাম তিনি চলে যাচ্ছেন; ডাক্তাররা তাই-ই বলেছিলেন। বললেই বা কী! ওনাকে কীভাবে যেতে দেই? এমন মানুষকে যেতে দেয়া যায় না।

বিস্তারিত»

নস্টালজিয়াঃ সময়ের পালাবদল

নস্টালজিয়াঃ সময়ের পালাবদল
আহমদ মাহবুব-উল-আলম
[আহমদ, সিসিআর, ১৯৮৮-’৯৪]

১। ক্যাডেট কলেজে ৭ম শ্রেণীতে পড়ার সময় ক্লাস টুয়েলভের বড় ভাইদের দানবাকৃতির মনে হতো। সময় গড়ালো, আমরা যখন টুয়েলভে, নতুন ইণ্টেক যখন ক্লাস সেভেনে ভীতু-ভীতু চেহারা নিয়ে ভর্তি হতো, ভাবতাম ওদের মা-বাবা-দের কোন দয়া-মায়া নেই, এইটুকুন বাচ্চাদের কেউ ক্যাডেট কলেজে পাঠায়!!

২। আমাদের সময়ের এক প্রিন্সিপাল ম্যাডাম (মিসেস প্রিন্সিপাল) একবার তাঁর বাসায় তিনশ ক্যাডেটকে একসাথে দাওয়াত করে শবে বরাতের হালুয়া রুটি খাইয়েছিলেন।

বিস্তারিত»

স্মৃতিগুলো (পার্ট-১)

ক্লাস ১২ এ থাকাকালীন সময়ে কলেজে পাওয়া অ্যাডজুটান্ট স্যার খুবই রসিক মানুষ ছিলেন। ICCVBM এর প্র্যাকটিসে স্যার অভিনব পানিসমেন্টের ব্যবস্থা করলেন। কিভাবে মিস করেছো দেখাও। এর মাঝে সবচেয়ে কঠিন পানিসমেন্ট ছিল বল রিং এর চারপাশে ঘুরে বাহিরে পড়ার মিসটা দেখানো। দেখা যেতো ৩০ বার ট্রাই করা হয়ে গেছে কিন্তু কোনভাবেই একটা বল রিং_য়ের চারপাশে ঘুরে বাহিরে পড়তো না।
আদেশ অব্যাহত থাকতো। যতক্ষণ না মিসটা দেখানো যাচ্ছে,

বিস্তারিত»

আমার ব্যাটম্যানেরা

কিছুদিন আগে পোস্ট করা আমার “পিছু ফিরে দেখাঃ “কামিজ কা বাটন টুটেঁ হ্যায়”….” শীর্ষক একটা লেখা পড়ে জনৈক পাঠক মন্তব্য করেছেনঃ This is the first instance where somebody wrote about batman. তার এ মন্তব্যটা পড়ে ভাবছিলাম, সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন সময়ে ব্যাটম্যানরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটা গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ছিল। তাদের ক’জনার কথা আমি মনে রেখেছি?

আমি যখন ময়নামতি সেনানিবাসে (সবার উপরে ময়নামতি) জেন্টেলম্যান ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণরত ছিলাম,

বিস্তারিত»

জানা হতো না

ক্যাডেট কলেজে না গেলে হয়তো ওই ছোট বয়সে ১ হাজার সূর্যোদয়ের দেখা পেতাম না। টেবিল সাজানোর জন্য ফল ইন ভেঙ্গে উসাইন বোল্ট হওয়ার ইচ্ছাও মনে যে জাগতে পারে তা ভাবনার মাঝে আসতো না। মাথা নিচু করে হাঁটতে হবে, টেবিলে দাঁড়ালে গ্লাসের নিচের অংশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে, সবসময় সালামের উপর থাকতে হবে, টাচ লাগলে সাবধান হয়ে সরি বলতে হবে,সবার জন্য চা ঢেলে সবচেয়ে বড় কাপ সবচাইতে সিনিওরকে দিতে হবে এরকম হাজারও নিয়মের মাঝে যে মজার ঘটনা ঘটতে পারে তা জানা হত না।

বিস্তারিত»

পিছু ফিরে দেখাঃ “কামিজ কা বাটন টুটেঁ হ্যায়”….

১৯৭৫ সালের শেষের ক’টা দিন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সদ্য কমিশন লাভ করে ঢাকার একটা ইউনিটে যোগদান করেছি। পাকিস্তান প্রত্যাগত অফিসারদের দেশে ফিরিয়ে আনাতে তখন আবাসন সংকট চলছিল। জরুরী ভিত্তিতে আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য তখন সেনানিবাসের এখানে সেখানে “রূপসা” প্রকল্পের অধীনে কিছু ব্যাচেলর অফিসার্স কোয়ার্টার্স (বিওকিউ) তৈরী করা হয়েছিল। সদ্য বিবাহিত কিংবা ছোট পরিবারের জন্য দুই কক্ষ বিশিষ্ট কিছু ম্যারেড অফিসার্স কোয়ার্টার্সও নির্মিত হয়েছিল। ইটের হাল্কা গাঁথুনী,

বিস্তারিত»