হঠাৎ হাওয়ায় নির্বাপিত

হঠাৎ হাওয়ায় নির্বাপিত

২৯ ডিসেম্বর ২০১৬। অন্যান্য দিনের মতই সকালে ঘুম ভাঙ্গার পরেও একটা ঘুম ঘুম আমেজ নিয়ে কিছুক্ষণ বিছানায় শুয়ে র’লো রুখসানা। বিছানায় শুয়ে শুয়েই স্মৃতির যাবর কাটতে থাকে। একদিন কত ব্যস্ত ছিল তার দিন! সেই সাত সকালে ঘুম থেকে ওঠা, বাচ্চাদেরকে স্কুলের জন্য তৈরী করা, স্বামী অফিস যাওয়ার আগে তার নাস্তাটা টেবিলে পরিবেশন করা, তারপর একে একে সবাই বেরিয়ে গেলে নিজের ঘর সংসারের কাজে মন দেয়া।

বিস্তারিত»

অসংলগ্ন

নাহরীন মৌলি চ্যাটার্জীর ছবিটার দিকে তাকিয়ে কি যেন খোঁজে। লাল স্লিভলেস ব্লাউজ। কালচে খয়েরী শাড়ি। গলায় অ্যান্টিক নেকপিস (কাঠমাণ্ডুর জুয়েলারি বোধহয়, ফেসবুকে কালারস অফ কাঠমাণ্ডু পেজটাতে এমন একটা নেকপিস দেখেছে)। চোখের ঢাউস চশমায় চেহারায় একটা গম্ভীর পড়ুয়া-ভাব। আরেকটা ছবিতে চশমার নিচে দুরন্ত চোখ, ঠোঁটে ছেলেমানুষী। গম্ভীর গভীর গাঢ় নীল আর উচ্ছলতার হলুদ মিলে সবুজ সতেজ। নাহরীনের মনে রঙের উপমাটাই এল। মৌলির সৌন্দর্য আর ব্যক্তিত্বের বলয়ে ঢুকে পড়তে না পড়তেই ঈর্ষাবাহী একটা তরঙ্গ মাথা থেকে নামে পায়ে।

বিস্তারিত»

কষ্টের জোছনা

সক্রামক ব্যাধি নিয়ে কাজ করছি বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো, এপিডেমিক হিস্টোরি বলে একটা টার্ম আছে, এর মানে হলো ডাক্তার রোগীর কাছে জিজ্ঞাসা করে কিছু গুরুত্বপূর্ন ক্ষেত্রের প্রশ্নের উত্তর জেনে নেবে। যেমন ধরা যাক রোগী ছয় মাস আগে ডেন্টিসের চেম্বারে দাঁতের চিকিৎসা করিয়েছে, আর এখন তার জন্ডিস হয়েছে, ডেনিস্ট এর যন্ত্রপাতির কারনে ডাক্তার এখন হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিং করাবে, কারন হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মানুষের শরীরে চুপচাপ ছয় মাস পর্যন্ত বসে থাকতে পারে,

বিস্তারিত»

টলমল জল মোতির মালা দুলিছে ঝালর –পলকে!!!

ফযরের আযান শুনে নীলার ঘুম ভাংলো। উঠি উঠি করেও অভ্যেস বশতঃ কিছুক্ষণ বিছানায় শুয়েই এপাশ ওপাশ করলো। তারপর গা ঝারা দিয়ে উঠে সে বিছানার পাশে দখিনের জানালার পর্দাটা সরিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ বাইরে তাকিয়ে থাকলো। দুই একজন মসজিদমুখী মুসল্লীর হেঁটে যাওয়া নির্বিকারভাবে তাকিয়ে দেখলো। জানালার কাঁচটা কিছুটা সরিয়ে দিয়ে নেটের ফ্রেমটা টেনে দিল। ঝিরঝিরে মৃদু সমীরণ শীতের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছিল। নীলা ওযু করে এসে ফ্যানটা অফ করে দিয়ে নামাযে দাঁড়াল।

বিস্তারিত»

একটি ছোটগল্প, অন্যটি চতুর্দশপদি

প্রেম বনাম ফ্লার্ট

অহন আমি জাইনা গেছি, তুমি তারে ঘেন্না করো
ক্যান? ক্যান বা তার কথাগুলান বিষের লাহান
ঠেকে তোমার কানে? বুঝো নাই, তোমারে সে যে বড়
বাইসাছিল ভালো। তোমার জন্য পর্বত-প্রমান
প্রেম সাজাইয়া, হাত মেইললা – বইসা ছিল সে,
অপেক্ষার প্রহর গ্যাছে, আর তার প্রেম বাড়ছে।
কিন্তু তুমি যে তাঁর কাছে প্রেম চাও নাই, সেইটা
সে জানতেও পারে নাই।

বিস্তারিত»

মুক্ত

লাইন ম্যানেজার আমাকে আমার ডেস্ক দেখিয়ে দিলেন। বিশাল ফ্লোরের একদম শেষ মাথার পশ্চিম কোণের কিউবিকলে। একেকটা কিউবিকলে তিনটা ডেস্ক। আমার চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে খানিকটা ঘাবড়ে গেলাম। আমার কিউবিকলের বাকি দু’জন সহকর্মী নারী। পাশের কিউবিকলের তিনজনই নারী। আমার আগে এ ডেস্ক যার দখলে ছিল তিনিও ছিলেন নারী। দেখে মনে হচ্ছে এখানটায় মেয়েরা নিজেদের বেশ একটা সুরক্ষিত সংরক্ষিত এলাকা বানিয়ে ফেলেছে। আমার অসহায় চেহারা দেখে লাইন ম্যানেজার পিঠ চাপড়ে বললেন,

বিস্তারিত»

ডাকঘরে বৃষ্টি আর অভিমানী গল্প

সেদিন তার চিঠির উত্তরটা দিতে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। তুমি জানতে চেয়েছিলে এই পুজোর ছুটিতে আমি ঢাকায় আসব কিনা। ২দিনের জন্য এইবার আর সময় হয়ে উঠেনি। মা বলেছিল একবার সেজোমামার বাসায় ঘুরে আসতে। যাব যাব করে আর যাওয়া হলনা। কাজের ব্যস্ততায় তখন অনেক কিছুই যেন মিলাতে পারছিলাম না। তবুও তোমার মনরক্ষায় খানিকটা সময়ের জন্য আসব বলে মনস্থির করেছিলাম। তোমার ভেতরের উদাসীনতা আমাকে একপা একপা করে পিছনে টেনে রাখে।

বিস্তারিত»

ফেসবুকের মানুষগুলো ( পর্ব – ৫)

ঠিক কি কারণে ঘুমটা ভাঙ্গলো হঠাৎ বুঝে উঠতে পারছে না মালিহা। জানালা দিয়ে আসা কড়া রোদ নাকি কাকের কা কা ডাক??

কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে থাকার সিদ্ধান্ত আবার। আজকে ছুটির দিন। এতো আগে উঠে কি হবে!

 

“মালিহা, ওই মালিহা তোর একটা পার্সেল এসেছে”- রুমের জানালায় বান্ধবী ইশরাত এর গলা। চোখ মেলে তাকালো সে। তাকে পার্সেল কে পাঠাবে! বাসা থেকে তো পার্সেল আসার কথা না।

 

ঘুম ঘুম চোখে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয়।

বিস্তারিত»

★★বংশ★★

নিশ্চুপ বিকেল। রমজানের শেষ ভাগ। ঝুম বৃষ্টি। নিজের চেম্বারে শিহাব। বড় মেয়ে ফোন করেছিল। কথা হল। ঈদের কেনাকাটা সংক্রান্ত।
আর তিনদিন পরেই ঈদের ছুটি। এবার আর বাড়ি যাওয়া হল না শিহাবদের। নাড়ির টান। এর অনুকূলে ভাসা হল না। টিকেট পেতে পেতে ও.. কনফার্ম হল না।

‘তুমি কি আসলেই যেতে চেয়েছিলে? যদি চাইতে তবে টিকেট কোনো ব্যাপারই ছিল না।’ – নিজের কাছ থেকে এমন রুঢ় কমপ্লিমেন্ট,

বিস্তারিত»

তান্ত্রিকের ছোবল

১.
বাড়িটা দোতলা, একটু পুরান ধাঁচের। শ্যাওলা জমে সাদা রঙের দেয়ালে সবুজ সবুজ ছোপ পড়েছে। উঁচু দেয়াল পুরো বাড়িটাকে ঘিরে রেখেছে। জায়গাটা একটু নির্জন, শহরের বাহিরে। এজন্য সবুজের ঘাটতি এখনও দেখা দেয়নি এখানে।
‘আমার নাম আদনান।’ গেটের দারোয়ানকে নিজের পরিচয় দিল ও। ‘আমাকে আজকে আসতে বলা হয়েছিল।’
‘বড় সাহেব আপনার কথা বলেছে আমাকে। ভেতরে যান।’
দারোয়ানকে কিছুটা ভয়ার্ত মনে হল আদনানের।

বিস্তারিত»

ম্যারিয়ানের জন্য উপহার (মূল: পলা হকিন্স)

দাঁড়িয়ে আছি রান্নাঘরে। ধোয়ামোছার কাজটা শেষ করে এনেছি, এমন সময় দেখি তুষার পড়া শুরু হয়েছে। তুলার ন্যায় ভাসতে ভাসতে নেমে আসছে শুভ্র তুষারকণা। আলোয় ঝলমল করছে রাস্তাটা। ক্রিসমাস ট্রিটা জানালার পাশে রেখেছে তারা, সোনালী আর লালে সুন্দর করে সাজানো। ম্যারিয়ানকে দেখতে পাচ্ছি। ক্রিসমাসের আলোয় এক মূহুর্তের জন্য যেন ঝলসে উঠল তার চেহারা। আমাকে দেখতে পেয়ে হাত নাড়াল।
উপহারটার কথা এখনও জানে না সে।
এ বছর গাছ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাইনি।

বিস্তারিত»

একটি অসম্পূর্ণ গল্পের গল্প

(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ দৈর্ঘে একটু বড়। পড়ার মাঝে ধৈর্যচ্যূতি ঘটতে পারে, পড়া শেষে সময়ের অপচয় হয়েছে বলে আফসোস হতে পারে)

সেদিন সন্ধ্যায় মাগরিবের আযানের ঠিক আগে আগে হক সাহেবের দাফন প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হলো। তার ছোট ছেলে ক্ববরের উপর শেষ কয়েকটা মাটির ঢেলা ছিটিয়ে দিয়ে মাওলানা সাহেবের সাথে কন্ঠ মেলালো… “মিনহা খালাক নাকুম, ওয়া ফিহা নুয়িদুকুম, ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম, তা’রাতান উখরা” – “মাটি দিয়ে আমি সৃষ্টি করেছি,

বিস্তারিত»

উর্ধতন কর্মকর্তার পাইপজীবন: উপন্যাস

এক.
মধ্য আষাঢ় । ঝুম বৃষ্টি। বাইরে আঁধার। যদিও শিহাব যেখানে এখন শুয়ে আছে, সেটার দুই প্রান্ত ছালার চট দিয়ে ঘেরা, তাই ভেতরে সবসময়েই অন্ধকার থাকে। তারপরও ভেতরের অন্ধকার ছাপিয়েও কিছুটা আলো থেকেই যায়। আজ বাইরে আকাশের মন খারাপ। তাই আঁধারের মাঝে আরো কিছুটা আঁধারে ঢেকে আছে এক অন্ধকারের মানুষ, যার ভেতরটা আলোয় ভরা।

এখন দিন-রাত্রির কোনো প্রভেদ নাই। সবকিছু-ই একইরকম। কালো।

বিস্তারিত»

~ স্মৃতিশকট : প্রজন্মের দৃশ্যপট ~

[ গল্প অথবা গল্পের ছায়া ]

বাসাটার সামনে টানা তিনশ ফুটের রাস্তা। সেই পত্তনি থেকে দিনে দিনে বেড়ে এতোদূর এসেছে। এটাই শেষ সীমান্ত আজ অব্দি। আদপে ঠিক শহরের প্রান্ত বলে না মানলেও জনবসতির এখানেই শেষ। তিনশ ফুট রাস্তার পরে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ। মাঠ ঠিক নয় পরিত্যাক্ত বিরান ভূমি। প্রস্থে প্রায় এক কিলোমিটারের কাছাকাছি, দৈর্ঘ্যে সাতের বেশী। খুব বেশীদিন অবশ্য এর আয়ু বোধ করি আর নেই।

বিস্তারিত»

★★আকাশের নীলে★★

চারিদিকে কেউ নেই। বাতাসের মন মাতাল। সবুজ পাতায় ভালোলাগার ভ্রমরগুঞ্জন। দূরে মিশে যাওয়া মেঠো পথটি বামে যেখানে বাঁক নিয়েছে, একটা বাঁশঝাড় ওখানে। যত্ন করে ছাটা। বুঝাই যায়। ছনে ছাওয়া একটা গ্রাম্য চায়ের দোকান। এই ভরদুপুর বেলায় দোকান বন্ধ। এখন পাতাঝরার দিন। ঝরছে.. অবিরাম।
লম্বা বেঞ্চটাতে বসে আছে মেয়েটি। পাতায় পাতায় সবুজে ছায়া যুবতীর শরীর বেয়ে যৌবন উপচে পড়ছে যেন!

দূর থেকে মোড় ঘুরবার সময়ে চোখে এমনই লাগলো।

বিস্তারিত»