ছায়া কিংবা ছবিঃ ছয়

পরীক্ষার হল একমাত্র জায়গা যেখানে একটি ছেলে একটি মেয়েকে নির্ভয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারে, “তোমারটা একটু দেখি, দেখাবা?”
গল্পটার শুরু এখানেই।
মেয়েটি’র খুব রাগ হয়েছিল। ছেলেরা এত্ত খারাপ!

অনেক অনেক দিনের পরে মেয়েটি একদিন বলেছিল, “দেখবা?”
চাঁদ তখন ভীষণ ছুটছে মনকে নিয়ে যেন ডুরি ছেঁড়া ঘুড়ি।
পূর্ণিমার আলো-আঁধারিতে মেয়েটি কী এক হাসি হেসেছিল,
সেই থেকে ছেলেটি অন্ধ-কালা-বোবা!

কোন এক ভরা পূর্ণিমাতে দূরের এক সাঁওতাল পল্লীতে কালো এক ছোঁড়ার কাঁকাল ধ’রে মাতাল এক ছুঁড়ির নাচার বড় ইচ্ছে জমা হয়েছিল অনেক অনেক দিন ধ’রে,

বিস্তারিত»

ছায়া কিংবা ছবিঃ চার

একটা ছেলে দেশ থেকে অনেক দূরে, খানিকটা অভিমান, খানিকটা অহং আর খানিকটা ভাগ্য মিলিয়ে। মাঝে মাঝে ভাত খেতে বসলে দেশের খাবারের সেই স্বাদের কথা মনে পড়ে যায়। এখনো সে দেশ নিয়ে ভাবে, দেশের প্রকৃতির ছবি, দেশের মানুষের হাসিমুখ কিংবা দেশের জয় দেখলে পুলকিত হয়।
মনে মনে কে যেন বলে, “বুঝি, এত পচা একটা দেশ, তবু কেন জানি তাকে না ভালবেসে থাকা যায় না।”

একটা মেয়ে জানে আরেকটা মানুষ বড্ড খামখেয়ালিতে পূর্ণ;

বিস্তারিত»

ছায়া কিংবা ছবিঃ এক

মানুষটা আকাশের পানে চেয়ে থাকে। চকচকে শহরের ঝকঝকে আলোর ফাঁকে মেঘের আড়ালে আছে ঠান্ডা গোল চাঁদ। বেরিয়ে আসে, আবার ঢাকা পড়ে। জীবনে একবার প্রকাশিত হওয়া, আবার লুকিয়ে থাকার যুগপৎ চেষ্টা – লোকটি মনে মনে হাসে – হাসতে হাসতে চোখে জলের ধারা নামে। কেন কে জানে?

অনেক দূরে আরেকজন চেয়ে ছিল আরও বেশি তন্ময় হয়ে চাঁদের পানে। জোছনা গলে গলে নেমে আসছে যেন নদীর জল হয়ে।

বিস্তারিত»

একজন সুখী মানুষ ও তার বৃষ্টিবিলাস

কালাচাঁদপুর ব্রীজে সন্ধার পর আমরা প্রায় আড্ডা দেই । শামীমের দোকানে রাজনীতির আলাপ নিষিদ্ধ । একটা ভাংগা টুল, দাড়িয়ে থেকেই আমরা ঘন্টাখানেক পার করে দিতাম । অফিস শেষে ক্লান্ত শরীরটা যেন নিমিষেই শক্তি এনে দিত । আমি, সোহাগ, মঈন আর তন্ময়, বন্ধুদের গল্প কোনদিন শেষ হত না । মঈন বুয়েটের ছাত্র, পড়াশোনায় সবসময় খুব ভালো ছিল । তার কমপ্লেইন আমাদের জন্য সে লাইফে কিছু করতে পারিনি ।

বিস্তারিত»

ছায়া কিংবা ছবিঃ পাঁচ

এই দেশে কালো লোকটি ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থেকে কিছু ফেলে দেয়া খাবার খুঁজে নিয়ে ক্ষুধা মেটায়। প্রথম কয়েক লোকমা গোগ্রাসে গিলে নেয়। স্বাদ, গন্ধ কোন কিছুই তো কমতি লাগে না তার কাছে! পেটের কোণে একটু ভুটভাট হয় এই যা। ক্ষুধা কমে এলে একটু আরাম ক’রে মেহগিনি গাছটার সাথে হেলান দিয়ে বাকিটুকু ধীরে ধীরে গিলতে থাকে। তারপরে উজ্জ্বল, খোলা আকাশের পানে চেয়ে একটু হেসে দেয়।

আরেক দেশে সাদা মেয়েটি শেষ রাতে এক কাপ কফির পয়সা জোগাড় করে ব্লোজব-এর বিনিময়ে।

বিস্তারিত»

ছড়ায় না শিউলি ফুল

** পর্ব ১ **
বাবার সরকারি চাকুরির সুবাধে বিভিন্ন জায়গা ঘোরা হয়েছে বেশ । তবে সে বয়সটা ১০-১২এর দিকে, ঘুরে বেরানোর তখন সময় ছিলনা । এ স্কুল থেকে ঐস্কুল, এভাবেই কাটত । সেসময়ে আমার কোন ব্যক্তিগত অনুভূতিও ছিলনা । বাবা-মা যেভাবে ভাবতেন সেভাবেই হত । মা হাত ধরে নিয়ে যেতেন অমুক শিক্ষক থেকে তমুক শিক্ষকে । সব মিলিয়ে আমার কোন বন্ধুও ছিল না তাই ।

বিস্তারিত»

ছায়া কিংবা ছবিঃ তিন

একটা ছেলে কী সুন্দর বাঁশি বাজায়। এই যেদিন একটু ফুল-টুল ফোটে, চাঁদ-টাদ উঠে, সেদিন বাঁশির সুরটাও যেন চড়ে বেশ! মেয়েটি বলেছিল, একটা কথা তার খুব জানার-শোনার ইচ্ছা বহুদিনের – সেও অপেক্ষায় থাকে, যেদিন একটু ফুল-টুল ফোটে, চাঁদ-টাদ উঠে, যদি ছেলেটি আজ বলে।
না বলা, না জানা’র ব্যথা যে কী ভীষণ বাজে বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে!

আরেকটি ছেলে ভালই বাসতে গিয়েছিল নির্ভেজাল জীবনের বাইরে।

বিস্তারিত»

লাইন

(ক)

মাইজুদ্দিন ওরফে মজু বেশ একটা সমস্যার মধ্যে আছে। তার বয়স চৌদ্দ অথচ বয়সের তুলনায় তাকে দেখতে অনেকটা বড় লাগে। তবে সমস্যাটা তার বয়স বা উচ্চতা নিয়ে নয়।
তার পিঠ চুলকাচ্ছে। ঘামে।
হেমন্তের শেষ দিনগুলির কোনো এক সকাল। গাছের ফাঁক গলে শীতার্ত সূর্যের উঁকিঝুঁকি। হুট করেই তাতে রোদ চড়েছে। আর মজুরও ঘাম ধরেছে।

গতকাল দিনব্যাপী মাইকিং হয়েছে এখানে, আজ সকাল আট ঘটিকায় মহিম গাজির আড়তের সামনে স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সরকারি রিলিফ বিতরণ করা হবে।

বিস্তারিত»

রেডিও সাইলেন্স -২

রেডিও সাইলেন্স -১

২৬তম – ২৮তম ঘন্টা ০৯০০ – ১২০০
বুধবার সকালের প্রথম ক্লাস ম্যানেজেরিয়াল ফিন্যান্স। আজ ক্লাসে আজ সবাই প্রেজেন্ট। স্যার ডিক্লেয়ার করলেন – ইমপ্রমচু কুইজ। সবাই নড়ে চড়ে বসলো। আকাশ অনড় বসে রইলো; শুধু ওর শক্ত চোয়াল দেখে বোঝা যাবে সে মহা বিরক্ত। কারন, ঐ রেডিও সাইলেন্স এর পাল্লায় পড়ে ও এখন মোবাইল বিহীন বীরপুরুষ। আর মোবাইলে ডাউনলোড করা ফিনান্সিয়াল ক্যালকুলেটর এর অ্যাপস ছাড়া কুইজ হবে সিমপ্লি ফাল্‌তু।

বিস্তারিত»

রেডিও সাইলেন্স – ১

মঙ্গলবার সকাল, এখন সময় সকাল ৭;৫৫।
ভার্সিটির ক্যাফে’তে আকাশের সামনে দুজন ভদ্র লোক বসা; একজন কোট টাই পড়া আরেক জন ক্যাজুয়াল শার্ট। আকাশ একটা কনট্র্যাক্ট পেপারে সাইন করে নিজের মোবাইলটা সুইচ অফ করে শার্ট পড়া লোকটাকে দিয়ে দিল। সাথে সাথে স্টপ ওয়াচ এ টাইম ধরলেন টাই পড়া লোকটা।

নেক্সট ৪৮ ঘন্টা আকাশকে কোন ধরনের মোবাইল ব্যবহার না করে তার রুটিন অনুযায়ী যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

বিস্তারিত»

রং কাস্টিং

সেই বিপ্লবী কিংবা বলা ভাল প্রাক্তন-বিপ্লবীর সাথে আমাদের একতরফা ঘনিষ্ঠতা হয়ে গেল। একতরফা কারণ তিনি আমাদের বিন্দুবিসর্গও জানেন না। আমরাও তাকে রক্তে-মাংসে দূরের কথা, ছবিতেও সনাক্ত করিনি। তার এই অশরীরী উপস্থিতিতে আমাদের কৌতূহল ও অনুমান পাক খায়। লোকটা বকিয়ে না, করিয়ে। কলমবিপ্লবী বা কাগুজে যোদ্ধা না। রীতিমত চাষীর পাতের এঁটোকাঁটা খেয়ে বিপ্লব করা মানুষ। শ্রেণীশত্রু খতম মিশনে আপন ভাইকে রেহাই না দেওয়া ভ্রার্তৃঘাতী। আমাদের রায়ে আত্মঘাতীও।

বিস্তারিত»

ছায়া কিংবা ছবিঃ দুই

কৈশোরে বিভূতিভূষণ’র লেখা ‘পথের পাঁচালী’ পড়ে মন আটকে গিয়েছিল অপু’র চরিত্রে, কাহিনী’র বিন্যাসে, আর জীবনবোধ বিশ্লেষণে। অনেক পরে টেলিভিশনের পর্দায় সত্যজিৎ রায়ের হাতে গড়া সেই উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ন দেখেছিলাম।

পার্থক্যটা পরে বলছি।
বাংলা’র শিক্ষক শিখিয়েছিলেন – ‘অপু আমাদের সমষ্টিগত কৈশোর – ব্যাখ্যা কর। – এটি ছিল পরীক্ষার সবচেয়ে ওপেন কোশ্চেন!
সেই উপন্যাস আমার এখনো সেরা পড়ার তালিকায় – সবার ওপরেই আছে!

কাছে এসে,

বিস্তারিত»

একটি ক্যাডেটীয় প্রেমকাহিনী

রংপুর ক্যাডেট কলেজের কলেজ বাসটা জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে যখন পার্ক করলো ক্যাডেটরা তখন ক্লাস শেষে ফলইন করে আছে লাঞ্চে যাবার জন্য।পার্কিং এ যাবার সময়ই ক্ষণিকের জন্য চোখে চোখ পড়লো নীল হাউজের জেপির সাথে( ফার্স্ট স্পেলের জেপিশীপ চলছিল)। সি সি আর এর ইলেভেন এর এক্সকারশন!
ঐ দিন থেকেই কবিরের মনে লাল-নীল প্রজাপতি উড়া শুরু করলো।সেই যে শুরু,এরপর আর ওকে পায় কে! কক্সবাজার,ইনানী কি টেকনাফ-সবখানে সে তার জেপি কেই দেখে।ক্লাস ইলেভেনের এক্সকারশন শেষ হয়।কবিরের মনের নীল হাউজের জেপি ভূত হয়ে চেপে বসে।লাজুক স্বভাবের কবির একে ওকে বলে খোঁজ করার চেস্টা করে।কিন্তু পেতে পেতে অপেক্ষা করতে হয় পরের ছুটি পর্যন্ত।অবশেষে খুঁজে পায় এনাকে!ক্লাসমেট ওরা।তাই অবশ্যই প্রথমে ফ্রেন্ডশীপ করতে হবে।এখন কবির দ্বারস্ত হয় ব্যাচের লাভগুরু আসিফের কাছে!

বিস্তারিত»

বিক্ষিপ্ত ভাবনাঃ হক সাহেবের হালচাল

হক সাহেব কবিও নন, লেখকও নন, তবে একনিষ্ঠ সাহিত্যানুরাগী। জীবনে খুব যে বেশী সাহিত্য পড়েছেন তাও নয়; কিন্তু সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পকলার প্রতি তার একটা আকর্ষণ সেই ছেলেবেলা থেকেই ছিল। নিজে ভাল গাইতে না পারলেও ভাল লাগা গানের কলি সবসময় তার কন্ঠে আশ্রয় খুঁজতো। গলা যেমনই হোক, সময় সুযোগ পেলেই তিনি নিবিষ্ট মনে সেসব কলি মেলে ধরতেন, সুর মেলাতেন। বিশ্বের বড় বড় কবি লেখকদের সম্পর্কে তিনি কিছুটা ধারণা রাখতেন,

বিস্তারিত»

আরআইপি

রঞ্জন ক্লাবের বারে এসে বসেছে মিনিট দশেক হয়েছে। আজ আসার ইচ্ছেই ছিল না। অথচ আজ তার মনের যা অবস্থা, তাতে বারে বসে স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা না করে বরং পান করলেই ভালো লাগত। তার পরও রঞ্জন আসতে চায়নি। দুপুর থেকে মনের ভেতর কান্না ভর করেছে। দুবার কেঁদেওছে। বেশ জোরেই। লাভ হয়নি। ভেবেছে নকীবের বাসায় গিয়ে ওর বৌয়ের সঙ্গে দেখা করে আসবে। রীমা এখন কী করছে,

বিস্তারিত»