জুলি

দুই বছর বয়সী জুলিকে নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত সময় কাটায় ইউসুফ মোল্যা। ওর জন্য সারাদিনের অন্য সকল কাজকে বিসর্জন দিয়েছে সে। সমস্যা হল বাচ্চাটা কিছুই খেতে চায় না। না খেলে যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এই চিন্তাই সারা রাত ইউসুফের চোখে অনিদ্রার বীজ বোনে। জুলির অসুস্থতার কথা সে কল্পনাই করতে পারে না। ওর জন্য সব কিছু করতে রাজি আছে সে। তার এই প্রবাস জীবনের একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে জুলি।

বিস্তারিত»

মেঘ বলেছে যাব যাব

বিকাল থেকে রোদের তাপটা আজ একটু কম। উত্তর দিকের আকাশে মেঘের আনাগোনা। চৈত্র মাসের শেষ দিকে এমনিতেই ভ্যাঁপসা একটা গরম থাকে। তার ওপর প্রতিদিন লোকাল বাসের ভীড়ে বাড়ি ফিরতে যা তা অবস্থা হয়ে যায় অভ্রর। আজকে পরিস্থিতি ভিন্ন। সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা ঠান্ডা একটা বাতাস বইছে। হয়ত কাছে পিঠেই কোথাও বৃষ্টি হয়েছে। বাসায় ফিরে স্ত্রী নীলার হাতে ব্যাগ টা দিয়েই অভ্র গোসল করতে চলে যায়।

বিস্তারিত»

ফুড প্রসেসর

গল্পটা দারিদ্র্যের। গল্পটা আপেক্ষিকতার। পাথরকুচি গাছকে কেটে ফেলে দিলেও তার মৃত পাতা আর প্রোথিত শিকড় থেকে যেমন জন্ম নেয় অসংখ্য গাছ, তেমনি দারিদ্র্যেরও কোন বিনাশ নেই। অভাবকে উতরে যাওয়া অনেক সাফল্যের গল্প আছে। কিন্তু সে গল্পের পরে আরও গল্প থাকে। পড়াশোনা শেষ করেই যে কয়েকজন ভাগ্যবান ছেলে অতিদ্রুত ভালো চাকরিতে ঢুকতে পারে রকিব তাদের মধ্যে একজন। বরাবরই সে খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। জীবনের এতগুলি বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসলই যেন এই চল্লিশ হাজার টাকা বেতনের চাকরি।

বিস্তারিত»

~ কাইলকাই তো বৈশাখ, হ পয়লা বৈশাখ ~

[ অণুগল্প ]

: ডিঙ্গিটা উজানের দিকে ঠেল এইবার।
: অহনই যাইবাগা বাজান ! মাছ তো বেশি উডে নাই। জাটকাডি কি রাইখ্যা দিবানি !
জমির শেখ ঘাড়টা ঘুরায়া পোলা কলিমুদ্দিরে দেহে।
: বাপরে মাছ যা উডনের হেইট্টুকই উডবো। কপালে থাহন লাগে। হের থে বেশি কি আর উডবো নি ! জাটকাডিরে আমি রাহুম ক্যারে। অহন তো জাটকা ধরন নিষেধ।
: আইজকা তাইলে বেলা থাকতে যাওন হইবো।

বিস্তারিত»

পাগলের দেশে

পাগলের দেশের গল্পে যাবার আগে ঘুরে আসা যাক জনির শৈশব থেকে। সাঁতার শেখার আগেই তিন বছর বয়সে সমবয়সীদের সাথে গরুর লেজ ধরে বিল পার হয়ে ওপাড়ে চলে যেত সে। বিলের ওপাড়ে তখন তরমুজের চাষ হত। সেখান থেকে বাচ্চা ছেলেদের দু একটা তরমুজ ছিঁড়ে খাওয়াকে চৌর্যবৃত্তি না বলে অধিকার প্রতিষ্ঠা বলা যেতে পারে। এরপর গোড়ালি পানিতে শাপলা ফুলের পাতার নিচে হাঁসের ডিম খুঁজে আর কিছু মাছ ধরে ফিরতি গরুর পালের লেজ ধরে আবার বাড়ি ফিরত তারা।

বিস্তারিত»

দেশাত্মবোধক গানঃ সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য…..

দেশের গান করতে গেলে আমার মধ্যে অনেক বেশি আনন্দ আর আবেগ এসে ভর করে। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন যাপন করার জন্যই এমন হয় কি না জানিনা। গত বছর বড়দিন এর ছুটিতে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সুযোগ হয়েছিল গ্রাম এর বাড়িতে যাবার। বরাবর এর মতোই গ্রামে গেলে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই। এবারও দেখলাম হলুদ রাঙ্গা সর্ষে ক্ষেত, মেঠো পথ, আর চারিদিকে সবুজ আর সবুজ, মনটা জুড়িয়ে যায়।

বিস্তারিত»

অত্যাচার

বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এও কি হতে পারে? সম্ভব? তবে তিনি গেছেন। এ সত্যটি জানার পর দুটি বিষয় আমাদের সবার নজরে এল। বাবাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে এই বিষয়টিই এর আগে কারো মনে হয়নি। তাঁর জন্য সবাই কাতর হয়ে পড়লাম। এ ঘটনার আগে তাঁর অনুপস্থিতি আমরা কেউ কখনো টের পাইনি। বাবাকে ভালোবাসি কি-না তা নিয়ে কখনো ভাবিনি, ভাবতে হয়নি আসলে। তিনিই বোধহয় আমাদের ভালোবাসা চাননি।

বিস্তারিত»

বেস্ট ফ্রেন্ড

আজ নীলার বিয়ে।মা মরা বাড়ি র একমাত্র মেয়ে।আদর টা তাই ওর একটু বেশি। বাবা কখনই মেয়ের কোনো আব্দারের সাথে পেরে ওঠেননি।বাবাকেও অনেক ভালোবাসে নীলা।এক এক করে সব অতিথিরাই আসছে।এখোনো আসেনি কেবল নীলা র বেস্ট ফ্রেন্ড রাফি।
..
বাবাকে জিজ্ঞেস করে নীলা
-বাবা রাফি কি এসেছে?
-না মা ও তো এখনো আসেনি।
প্রচন্ড রাগ হয় নিলার।রাফিটা এমন কেন?ও না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।অথচ আমার বিয়ের দিনটাতেও কি এমন কাজ ওর?

বিস্তারিত»

হারানো গল্পের ডায়েরি থেকে

আমার কেমন লেগেছিলো সেদিন তা আমিই কেবল বলতে পারবো।। আর কেউ হয়তো জানবেনা।।কতো ইচ্ছা ছিলো একসাথে জ্যোৎস্না দেখবো।।তোমায় পায়েল পড়িয়ে দেওয়ার খুব শখ ছিলো আমার।।কোনো ১টি বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে একসাথে ভিজতে চেয়েছিলাম।।খুব কি বেশি কিছু ছিলো?তোমার চোখের পানি আমি নিতে পারতাম না।।এখোনো পারিনা নিতে।আমি সেদিন যা ছিলাম আজ ও তাই আছি।।আমি আর জ্যোৎস্না দেখিনা।।দরজা বন্ধ করে কাদি।।বৃষ্টি হলেও টিনের ঘরটাতে যাইনা আর আজ।।আর অপেক্ষা করিনা,কোনো আশাও বাকি রাখিনি।।

বিস্তারিত»

বেতাল

কখনো ডায়েরি আর কলমটাকে কোলের ওপর ফেলে রেখে দেয়ালের দিকে শূন্যচোখে তাকিয়ে থাকা, কখনো গিটারের তারে আঙুলের নানা মাপের চাপে-টোকায় সুর খোঁজা, কখনো ইয়ারফোন কানে গুঁজে চোখ বুঁজে বুঁদ হওয়া। নিলয় যতক্ষণ বাসায় থাকে, ততক্ষণ এ তিনটা দৃশ্য চোখে পড়ে। ডায়েরি, গিটার আর ইয়ারফোনের তিন ইয়ারী কথা আদতে একটা গল্পই বলতে চায়। নিলয়ের তন্ময়তা চোখে পড়ে, অস্থিরতার আঁচ পাওয়া যায়। ভেতরে ভেতরে বেসুরো-বেহাল এক বাদ্যযন্ত্রের মত নিলয় প্রায় নীরব ও নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকে।

বিস্তারিত»

‘সাইলেন্ট নয়েজ’র মোড়ক উন্মোচন

প্রতিশ্রুতিশীল গল্পকার জ্যাকী কবীরের ছোট গল্পের প্রথম সংকলন ‘সাইলেন্ট নয়েজ’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে ২৯ জানুয়ারী।

রাজধানীর ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে বইটির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফখরুল আলম, ইন্ডিপেনন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসাদ মরতুজা, সানবীমস স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নুসরাত হক।

জ্যাকী কবিরের লেখা ১৫টি ছোট গল্পের সংকলন ‘সাইলেন্ট নয়েজ’ প্রকাশ করেছে পাঠক সমাবেশ।

বিস্তারিত»

মেঘ, বৃষ্টি এবং অগণিত বর্ষা

আমি ওকে কখনোই বলতে পারতামনা।।আসলে পারিওনিতো।ও আমাকে সবসময় বলত-
-মেঘ একটা প্রেম করনা দোস্ত।একা একা আর কতদিন?
বৃষ্টির কথাগুলো সবসময় বিঁধত আমাকে।ওরা আসলে বোঝেনা।কিংবা বুঝেও না বোঝার ভান করতে পছন্দ করে।তাই এভাবে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইতো সবসময়।আমিও তাড়াহুরো করিনি।সময় নিয়েছি।বুঝিয়েছি নিজেকে।আমার সুখদুঃখ হাসি কান্নার সাথী কি সত্যিই আমাকে আরো আপন করে চায় নাকি এটাই ওর শেষ।বৃষ্টি ছিল আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।আমার সবচেয়ে আপনজন।তাই ওর অপেক্ষাই আমাকে একা রেখেছিল।কিছু তো করার নেই।ভয় পেতাম।ফের যদি হারিয়ে যায়।সেই কষ্টটা তো আমি নিতে পারবোনা।তাই অপেক্ষা।সবচেয়ে বড় প্রতীক্ষা।মেঘ তো বৃষ্টি র জন্যই অপেক্ষা করবে তাইনা?আমিও করেছি।কখনো ভাবিওনি যে মেঘ ছাড়া বৃষ্টি পড়তে পারে।পারেনা তো।আমিও চালাকি করে পাশ কাটিয়ে যেতাম।ও কিন্তু সুযোগ পেলেই বলত-
-প্লিজ মেঘ,করনা ১টা প্রেম!!

বিস্তারিত»

হঠাৎ হাওয়ায় নির্বাপিত

হঠাৎ হাওয়ায় নির্বাপিত

২৯ ডিসেম্বর ২০১৬। অন্যান্য দিনের মতই সকালে ঘুম ভাঙ্গার পরেও একটা ঘুম ঘুম আমেজ নিয়ে কিছুক্ষণ বিছানায় শুয়ে র’লো রুখসানা। বিছানায় শুয়ে শুয়েই স্মৃতির যাবর কাটতে থাকে। একদিন কত ব্যস্ত ছিল তার দিন! সেই সাত সকালে ঘুম থেকে ওঠা, বাচ্চাদেরকে স্কুলের জন্য তৈরী করা, স্বামী অফিস যাওয়ার আগে তার নাস্তাটা টেবিলে পরিবেশন করা, তারপর একে একে সবাই বেরিয়ে গেলে নিজের ঘর সংসারের কাজে মন দেয়া।

বিস্তারিত»

অসংলগ্ন

নাহরীন মৌলি চ্যাটার্জীর ছবিটার দিকে তাকিয়ে কি যেন খোঁজে। লাল স্লিভলেস ব্লাউজ। কালচে খয়েরী শাড়ি। গলায় অ্যান্টিক নেকপিস (কাঠমাণ্ডুর জুয়েলারি বোধহয়, ফেসবুকে কালারস অফ কাঠমাণ্ডু পেজটাতে এমন একটা নেকপিস দেখেছে)। চোখের ঢাউস চশমায় চেহারায় একটা গম্ভীর পড়ুয়া-ভাব। আরেকটা ছবিতে চশমার নিচে দুরন্ত চোখ, ঠোঁটে ছেলেমানুষী। গম্ভীর গভীর গাঢ় নীল আর উচ্ছলতার হলুদ মিলে সবুজ সতেজ। নাহরীনের মনে রঙের উপমাটাই এল। মৌলির সৌন্দর্য আর ব্যক্তিত্বের বলয়ে ঢুকে পড়তে না পড়তেই ঈর্ষাবাহী একটা তরঙ্গ মাথা থেকে নামে পায়ে।

বিস্তারিত»

কষ্টের জোছনা

সক্রামক ব্যাধি নিয়ে কাজ করছি বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো, এপিডেমিক হিস্টোরি বলে একটা টার্ম আছে, এর মানে হলো ডাক্তার রোগীর কাছে জিজ্ঞাসা করে কিছু গুরুত্বপূর্ন ক্ষেত্রের প্রশ্নের উত্তর জেনে নেবে। যেমন ধরা যাক রোগী ছয় মাস আগে ডেন্টিসের চেম্বারে দাঁতের চিকিৎসা করিয়েছে, আর এখন তার জন্ডিস হয়েছে, ডেনিস্ট এর যন্ত্রপাতির কারনে ডাক্তার এখন হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিং করাবে, কারন হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মানুষের শরীরে চুপচাপ ছয় মাস পর্যন্ত বসে থাকতে পারে,

বিস্তারিত»