ছড়ায় না শিউলি ফুল

** পর্ব ১ **
বাবার সরকারি চাকুরির সুবাধে বিভিন্ন জায়গা ঘোরা হয়েছে বেশ । তবে সে বয়সটা ১০-১২এর দিকে, ঘুরে বেরানোর তখন সময় ছিলনা । এ স্কুল থেকে ঐস্কুল, এভাবেই কাটত । সেসময়ে আমার কোন ব্যক্তিগত অনুভূতিও ছিলনা । বাবা-মা যেভাবে ভাবতেন সেভাবেই হত । মা হাত ধরে নিয়ে যেতেন অমুক শিক্ষক থেকে তমুক শিক্ষকে । সব মিলিয়ে আমার কোন বন্ধুও ছিল না তাই ।

বিস্তারিত»

ছায়া কিংবা ছবিঃ তিন

একটা ছেলে কী সুন্দর বাঁশি বাজায়। এই যেদিন একটু ফুল-টুল ফোটে, চাঁদ-টাদ উঠে, সেদিন বাঁশির সুরটাও যেন চড়ে বেশ! মেয়েটি বলেছিল, একটা কথা তার খুব জানার-শোনার ইচ্ছা বহুদিনের – সেও অপেক্ষায় থাকে, যেদিন একটু ফুল-টুল ফোটে, চাঁদ-টাদ উঠে, যদি ছেলেটি আজ বলে।
না বলা, না জানা’র ব্যথা যে কী ভীষণ বাজে বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে!

আরেকটি ছেলে ভালই বাসতে গিয়েছিল নির্ভেজাল জীবনের বাইরে।

বিস্তারিত»

লাইন

(ক)

মাইজুদ্দিন ওরফে মজু বেশ একটা সমস্যার মধ্যে আছে। তার বয়স চৌদ্দ অথচ বয়সের তুলনায় তাকে দেখতে অনেকটা বড় লাগে। তবে সমস্যাটা তার বয়স বা উচ্চতা নিয়ে নয়।
তার পিঠ চুলকাচ্ছে। ঘামে।
হেমন্তের শেষ দিনগুলির কোনো এক সকাল। গাছের ফাঁক গলে শীতার্ত সূর্যের উঁকিঝুঁকি। হুট করেই তাতে রোদ চড়েছে। আর মজুরও ঘাম ধরেছে।

গতকাল দিনব্যাপী মাইকিং হয়েছে এখানে, আজ সকাল আট ঘটিকায় মহিম গাজির আড়তের সামনে স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সরকারি রিলিফ বিতরণ করা হবে।

বিস্তারিত»

রেডিও সাইলেন্স -২

রেডিও সাইলেন্স -১

২৬তম – ২৮তম ঘন্টা ০৯০০ – ১২০০
বুধবার সকালের প্রথম ক্লাস ম্যানেজেরিয়াল ফিন্যান্স। আজ ক্লাসে আজ সবাই প্রেজেন্ট। স্যার ডিক্লেয়ার করলেন – ইমপ্রমচু কুইজ। সবাই নড়ে চড়ে বসলো। আকাশ অনড় বসে রইলো; শুধু ওর শক্ত চোয়াল দেখে বোঝা যাবে সে মহা বিরক্ত। কারন, ঐ রেডিও সাইলেন্স এর পাল্লায় পড়ে ও এখন মোবাইল বিহীন বীরপুরুষ। আর মোবাইলে ডাউনলোড করা ফিনান্সিয়াল ক্যালকুলেটর এর অ্যাপস ছাড়া কুইজ হবে সিমপ্লি ফাল্‌তু।

বিস্তারিত»

রেডিও সাইলেন্স – ১

মঙ্গলবার সকাল, এখন সময় সকাল ৭;৫৫।
ভার্সিটির ক্যাফে’তে আকাশের সামনে দুজন ভদ্র লোক বসা; একজন কোট টাই পড়া আরেক জন ক্যাজুয়াল শার্ট। আকাশ একটা কনট্র্যাক্ট পেপারে সাইন করে নিজের মোবাইলটা সুইচ অফ করে শার্ট পড়া লোকটাকে দিয়ে দিল। সাথে সাথে স্টপ ওয়াচ এ টাইম ধরলেন টাই পড়া লোকটা।

নেক্সট ৪৮ ঘন্টা আকাশকে কোন ধরনের মোবাইল ব্যবহার না করে তার রুটিন অনুযায়ী যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

বিস্তারিত»

রং কাস্টিং

সেই বিপ্লবী কিংবা বলা ভাল প্রাক্তন-বিপ্লবীর সাথে আমাদের একতরফা ঘনিষ্ঠতা হয়ে গেল। একতরফা কারণ তিনি আমাদের বিন্দুবিসর্গও জানেন না। আমরাও তাকে রক্তে-মাংসে দূরের কথা, ছবিতেও সনাক্ত করিনি। তার এই অশরীরী উপস্থিতিতে আমাদের কৌতূহল ও অনুমান পাক খায়। লোকটা বকিয়ে না, করিয়ে। কলমবিপ্লবী বা কাগুজে যোদ্ধা না। রীতিমত চাষীর পাতের এঁটোকাঁটা খেয়ে বিপ্লব করা মানুষ। শ্রেণীশত্রু খতম মিশনে আপন ভাইকে রেহাই না দেওয়া ভ্রার্তৃঘাতী। আমাদের রায়ে আত্মঘাতীও।

বিস্তারিত»

ছায়া কিংবা ছবিঃ দুই

কৈশোরে বিভূতিভূষণ’র লেখা ‘পথের পাঁচালী’ পড়ে মন আটকে গিয়েছিল অপু’র চরিত্রে, কাহিনী’র বিন্যাসে, আর জীবনবোধ বিশ্লেষণে। অনেক পরে টেলিভিশনের পর্দায় সত্যজিৎ রায়ের হাতে গড়া সেই উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ন দেখেছিলাম।

পার্থক্যটা পরে বলছি।
বাংলা’র শিক্ষক শিখিয়েছিলেন – ‘অপু আমাদের সমষ্টিগত কৈশোর – ব্যাখ্যা কর। – এটি ছিল পরীক্ষার সবচেয়ে ওপেন কোশ্চেন!
সেই উপন্যাস আমার এখনো সেরা পড়ার তালিকায় – সবার ওপরেই আছে!

কাছে এসে,

বিস্তারিত»

একটি ক্যাডেটীয় প্রেমকাহিনী

রংপুর ক্যাডেট কলেজের কলেজ বাসটা জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে যখন পার্ক করলো ক্যাডেটরা তখন ক্লাস শেষে ফলইন করে আছে লাঞ্চে যাবার জন্য।পার্কিং এ যাবার সময়ই ক্ষণিকের জন্য চোখে চোখ পড়লো নীল হাউজের জেপির সাথে( ফার্স্ট স্পেলের জেপিশীপ চলছিল)। সি সি আর এর ইলেভেন এর এক্সকারশন!
ঐ দিন থেকেই কবিরের মনে লাল-নীল প্রজাপতি উড়া শুরু করলো।সেই যে শুরু,এরপর আর ওকে পায় কে! কক্সবাজার,ইনানী কি টেকনাফ-সবখানে সে তার জেপি কেই দেখে।ক্লাস ইলেভেনের এক্সকারশন শেষ হয়।কবিরের মনের নীল হাউজের জেপি ভূত হয়ে চেপে বসে।লাজুক স্বভাবের কবির একে ওকে বলে খোঁজ করার চেস্টা করে।কিন্তু পেতে পেতে অপেক্ষা করতে হয় পরের ছুটি পর্যন্ত।অবশেষে খুঁজে পায় এনাকে!ক্লাসমেট ওরা।তাই অবশ্যই প্রথমে ফ্রেন্ডশীপ করতে হবে।এখন কবির দ্বারস্ত হয় ব্যাচের লাভগুরু আসিফের কাছে!

বিস্তারিত»

বিক্ষিপ্ত ভাবনাঃ হক সাহেবের হালচাল

হক সাহেব কবিও নন, লেখকও নন, তবে একনিষ্ঠ সাহিত্যানুরাগী। জীবনে খুব যে বেশী সাহিত্য পড়েছেন তাও নয়; কিন্তু সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পকলার প্রতি তার একটা আকর্ষণ সেই ছেলেবেলা থেকেই ছিল। নিজে ভাল গাইতে না পারলেও ভাল লাগা গানের কলি সবসময় তার কন্ঠে আশ্রয় খুঁজতো। গলা যেমনই হোক, সময় সুযোগ পেলেই তিনি নিবিষ্ট মনে সেসব কলি মেলে ধরতেন, সুর মেলাতেন। বিশ্বের বড় বড় কবি লেখকদের সম্পর্কে তিনি কিছুটা ধারণা রাখতেন,

বিস্তারিত»

আরআইপি

রঞ্জন ক্লাবের বারে এসে বসেছে মিনিট দশেক হয়েছে। আজ আসার ইচ্ছেই ছিল না। অথচ আজ তার মনের যা অবস্থা, তাতে বারে বসে স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা না করে বরং পান করলেই ভালো লাগত। তার পরও রঞ্জন আসতে চায়নি। দুপুর থেকে মনের ভেতর কান্না ভর করেছে। দুবার কেঁদেওছে। বেশ জোরেই। লাভ হয়নি। ভেবেছে নকীবের বাসায় গিয়ে ওর বৌয়ের সঙ্গে দেখা করে আসবে। রীমা এখন কী করছে,

বিস্তারিত»

প্রাপ্তি শূণ্য

আজকাল আমি বদলাতে শুরু করেছি ।হঠাত্‍ করেই বদলাতে শুরু করেছি !নাকের নিচে গোঁফের রেখাটা ঘন থেকে ঘনতর হচ্ছে ।আমার এখন পাখি হয়ে উড়তে ইচ্ছে করে , বন্ধুদের সাথে এডাল্ট গল্প করতে ইচ্ছে করে , ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দিতে ইচ্ছে করে । কিন্তু আমার ইচ্ছেগুলো শুধু ইচ্ছেই রয় ।মায়ের কঠিন শাসনের কারণে আমার কিছু করা হয় না ।

আমার মাকে আয়রন লেডী বললেও কম বলা হবে ।শুনেছি চাকুরীজীবী মা রা নাকি বাচ্চাদের সময় দিতে পারে না ।

বিস্তারিত»

সুনিতা কিংবা বিদ্যাঃ দখিন থেকে পুব

আমার গল্পের চরিত্র কিন্তু একই দেশের। তবে সুনিতার মত মাতাল দক্ষিণা হাওয়ার সাথে তার চলাফেরা কখনোই ছিল না। ছিল উত্তর-পূর্বের নদী বরাক, ইম্ফালের সাথে তার গভীর সংযোগ। বাড়ির পাশের লোকটাক লেকের শান্ত নীল জলের মত তার গতি। উচ্ছ্বাস নেই, মাদকতা আছে। সাদা মেঘের মত পেলব, ছুঁতে ইচ্ছে করে। সুনিতার মত অবশ্য তার চোখ গভীর কালো নয়, বরং কিছুটা ঘোলাটে বলা যেতে পারে। তবে সে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে এক মুহূর্ত ক্লান্তি আসেনি আমার।

বিস্তারিত»

নির্দোষ পরজীবী

এইখানে ঢাকা শহরের অ্যাপার্টমেন্ট কালচার ঢুকে পড়েনি এখনো। স্ত্রীরা মূলত গৃহবধূ। স্বামীরা ছোট চাকুরে। স্ত্রীদের জীবন মানে জী-বাংলা কিংবা হিন্দি সাঁস-বহু সিরিয়ালে আসক্তি কমই। বরং পাশের বাসার ভাবির রান্নাঘরে ঢুকে পড়ে তার ডাল ঘুঁটনি নাড়তে নাড়তে কাঁচাবাজারের হালচাল (পেঁয়াজ দশটাকা বাড়ল, অথচ ঝাঁজ নাই দেখেন), বাচ্চাদের পড়াশোনা (প্রাইভেট পড়ায় যে ছেলেটা, মহা ফাঁকিবাজ), স্বামীর খানাখাদ্যে রুচি-অরুচি (আপনার ভাই পাঁচফোড়ন দেওয়া মাছ খাইতেই পারেনা) এবং বিবিধ মেয়েলি সুখ-অসুখের দৈনিক ফিরিস্তি দেওয়ার রেওয়াজ।

বিস্তারিত»

“এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প” পড়ার জন্য ধন্যবাদ

এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প ২০১৬ তে প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর আমি যে পাঠক-প্রতিক্রিয়া পেয়েছি তা লেখক হিসেবে আমার হৃদয় ভরিয়ে দিয়েছে। চেনা-অচেনা পাঠক আমায় জানিয়েছেন যে উপন্যাসটি পড়ে তাঁদের ভাল লেগেছে। যাঁরা আমার এই বইটি পড়েছেন তাঁদের জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা।
এ গল্পের ঘটনাগুলো এতো দ্রুত ঘটছে যে অনেকেই শুধু ঘটনাগুলোর ওপরই মনোনিবেশ করেছেন। ক্যাডেটরা কি করে তাই দেখেছেন। অনেকে ক্যাডেট কলেজে ইতিহাস বলে গন্য করেছেন।

বিস্তারিত»

খিদে

১।
স্বামী হিসেবে সৈকতকে নিয়ে রুপা-র তেমন কোন অভিযোগ নেই…কেবলমাত্র একটি বিষয় ছাড়া। সময় নেই…অসময় নেই- কেবলই খাওয়ার (?) জন্য ছোঁক ছোঁক করে। এই জন্য অনেকবারই রুপাকে লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে…তারপরেও সৈকতকে সামাল দিয়ে রাখা খুবই কঠিন!! নেহায়েৎ ভালবেসে বিয়ে করেছে নয় তো…!! এর চেয়ে অনেক কম ঝামেলার বিষয় নিয়ে বহু তথাকথিত সুখের সংসার ভেঙে যেতে দেখেছে রূপা।

একটা লম্বা কোর্সের জন্য এবার সৈকতকে একা ঢাকায় আসতে হলো…রুপা ওর হাসপাতাল…ছেলের পিএসসি পরীক্ষা…মেয়ের স্কুল…সন্ধ্যায় চেম্বার ইত্যাদির জন্য আসতে পারলো না।

বিস্তারিত»