শান্তির দেশ ভুটান ভ্রমণ – ২

স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে ভূগোল আমার অন্যতম প্রিয় বিষয় ছিল। সহপাঠীদের সাথে কিংবা বাসায় বড় বোনের সাথে আমরা ম্যাপ ম্যাপ খেলতাম। বেশ মনে পড়ছে আমরা আরেকটা খেলা খেলতাম, যার নাম ছিল “Name-Place-Animal-Thing”। অর্থাৎ কেউ একজন পালাক্রমে ইংরেজী একটা বর্ণ উল্লেখ করবে, পরে সবাই সেই বর্ণকে আদ্যোক্ষর করে প্রথমে একজন মানুষের নাম, তারপরে একটা জায়গার নাম, তারপর একটা প্রাণীর নাম এবং সবশেষে যে কোন একটা জিনিসের নাম লিখবে।

বিস্তারিত»

জাপান ভ্রমণ ২০১৬ (পর্ব ২)

ভিসা সংগ্রহের পরের স্টেপ বিমান ভ্রমণ। দীর্ঘ ২০-৩০ ঘণ্টার ভ্রমণ, মাঝখানে প্রায় ১০ ঘণ্টার যাত্রা বিরতি। টিকেট কাটা হল EVA AIRWAYS থেকে, TAIWAN ভিত্তিক একটি এয়ার লাইন। যেতে হবে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে ১৬ ঘণ্টা। তাইপে তে প্রথম ল্যান্ডিং, তারপর সেখান থেকে ওসাকা। ২০১২ সালে কানাডা আসার সময় হংকং হয়ে ভাঙ্কুভার এসেছিলাম ১০ ঘণ্টায়।যা হোক ১৬ ঘণ্টা একটু বেশীই। লম্বা যাত্রা হওয়ায় টেনশনে ছিলাম, বিশেষ করে মালয়েশিয়া এয়ার লাইন MH370 আকাশে হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে।কিন্তু পূবের জাপান,

বিস্তারিত»

শান্তির দেশ ভুটান ভ্রমণ — ১

প্রায় হঠাৎ করেই এক অনির্ধারিত সাক্ষাতে আমরা চার বন্ধু দম্পতি ইচ্ছে প্রকাশ করলাম, শান্তির দেশ ভুটান সফরে যাব। শুধু ইচ্ছে প্রকাশ করলেই তো হবেনা, অর্থকড়ি ছাড়াও কিছু কাঠ খড়ও পোড়াতে হবে। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে কম কথা বলে যে বন্ধুটি, সেই দায়িত্ব নিল সবার পক্ষ থেকে হোটেল বুকিং, টিকেট বুকিং, তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ইত্যাদি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার। শুধু তাই নয়, ০৬ মে ১৭ তারিখে তার বাসায় বাকী তিন যুগলকে দাওয়াত করে সফরের উপর একটা নাতিদীর্ঘ প্রারম্ভিক ব্রীফিং দিল এবং টিকেট ও হোটেল বুকিং এর কাগজপত্র হস্তান্তর করলো।

বিস্তারিত»

জাপান ভ্রমণ ২০১৬ (ভিসা সংগ্রহ)

পেপার টা সম্পর্কে একটি হ্যাঁ সূচক ই-মেইল পাওয়ার পর থেকে মনের ভিতরে একটি সুন্দর অনুভুতি শুরু হল। জাপান ভ্রমনের এই সুযোগ কানাডীয় সরকারের খরচে ! যখন প্রাথমিক স্কুলে পড়তাম, তখন সম্ভবত চীন-জাপান নিয়ে একটি গল্প পড়ান হত। তাই ছোট বেলা থেকেই এই দুটো দেশ সম্পর্কে একটি কৌতূহল ছিল। যাহোক, এবার সেটা মেটানোর পালা। প্রফেসর ও খুশি, শুধু খুশি নয় জীবন সঙ্গিনী, যাচ্ছি যে  আমি একাই।

বিস্তারিত»

সমুদ্রকন্যার সাথে সাক্ষাৎ

বহুদিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে অল্পবিস্তর লিখতে হলে অবশ্যই প্রচুর পড়াশোনা করতে হয় আর সেই অভ্যাসটা আমার একদমই নষ্ট হয়ে গিয়েছে আনফরচুনেটলি। শর্ট কাট প্রসেসে এখন শুধু মুভি আর সিরিয়াল দেখে দিনানিপাত করি। তবে বিগত বছরের শেষ থেকে কিছুটা ঘোরাঘুরি শুরু করেছি আর সেই অভিজ্ঞতা থেকে কিছু লেখার চেষ্টা করছি। আগেই বলে নেই,লাস্ট ১/২ বছর আমি তেমন কোনো গল্পের বই তো দূরে থাক- কেউ যদি বিশাল আকৃতির ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেয় আমি সেটাও পড়ি না;

বিস্তারিত»

গৌতম বুদ্ধের দেশে (প্রথম পর্ব)

[আমাকে কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে, বিনোদনের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা কি, আমি এক মুহূর্তও চিন্তা না করে উত্তর দেব- “ভ্রমণ’। এর আগে বেশ ক’টি দেশ ঘোরার সৌভাগ্য হলেও, ভ্রমণকাহিনী কখনোই লেখা হয়ে ওঠেনি। কাজেই যা লিখতে যাচ্ছি, আদর্শ ট্রাভেলগের অনেক বৈশিষ্ট্যই হয়তো সেখানে অনুপস্থিত থাকবে। সবার কাছে অগ্রিম ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।]

১.

বেশ ক’মাস ধরেই নেপাল ঘোরার একটা ইচ্ছে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। সব জায়গা বাদ দিয়ে নেপালই কেন,

বিস্তারিত»

মাটির গান মানুষের গান

কয়েক দিন আগে বাড়িতে গিয়েছিলাম। নদী পাড়ে ঘুরতে গেলাম। দেখলাম প্রচুর মানুষ, কোলাহল আর হই হই আওয়াজ। বুঝতে বাকি রইলো না যে নৌকা বাইচ হচ্ছে। আগে যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন একবার দেখেছিলাম, এই ব্রম্মহপুত্র নদী তীরে নৌকা বাইচ। ছোট বলতে স্কুলেও যাইনা। ভাবলাম এখনো নৌকা বাইচ হয়। এ জিনিস পরে আর কখন দেখতে পারবো চিন্তা করতে গিয়ে দেখলাম, চান্স নাই বলতে গেলেই হয়। আর কোন চিন্তা করতে হবে না।

বিস্তারিত»

ভবঘুরের গপ্পোঃ দেবশিশু দর্শন

জগৎ সংসারে মায়া দুই প্রকার – অপরাপর মানুষের মায়া এবং তাহার চারপাশের নশ্বর পৃথিবীর কিয়দংশের প্রতি সৃষ্ট মায়া। ব্যক্তি বিশেষের মায়া ছাড়িয়া থাকিলে একাকীত্ব চাপিয়া ধরে, আর পরিপার্শের বস্তুসর্বস্ব নিবাসের প্রতি মায়া উঠিয়া গেলে মানুষ হইয়া যায় ভবঘুরে। কথায় আছে না – এক জায়গায় বেশিদিন থাকিলে মায়া পড়িয়া শেকড় গজাইয়া যায়? আমাদের নরেন বোধহয় এই শেকড়ের ভীতিতে কাবু। নইলে ছোটাছুটি করিবার আর কোন হেতু আছে বলিয়া মনে হইতেছে না।

বিস্তারিত»

কায়রোর দিনলিপি

ছবিতে দেখা সুবিশাল গগনচুম্বী পিরামিড,পবিত্র কুরআনে পড়া অত্যাচারী ফেরাউন, নীলনদ, মুসা নবী আর মমির গল্প- মিশর সম্পর্কে আগ্রহহীন মানুষ সম্ভবত পৃথিবীতেই বিরল।পিরামিড,মরুভুমি, নীলনদ, ফেরাউন আর মমি আমাকে যেমন টেনেছে, তেমনি কৈশোরের নায়ক মাসুদ রানার কায়রোর বিভিন্ন মিশনও আমাকে করেছে দুর্নিবার আকর্ষণ। আবার একই সাথে আরবের বেদুঈন আর মহানবী (সঃ) এর মক্কা মদীনাও আমাকে টানে সমানভাবে। কিন্তু বাংলাদেশে বসে এত দূরদেশে ভ্রমণের চিন্তা বিলাসিতার পর্যায়ে পড়ে।

বিস্তারিত»

পিতা-কন্যার হ্যাং আউট-১

অনেক সময়ই দেখা যায়, একটা বয়সে পৌছুলে পুত্ররা আর বাবা-মায়ের সাথে বেরুতে চায় না।
এটার একটা কারন হতে পারে এই যে, মামা’স বয় বা ড্যাডি’স বয় – এদুটো পরিচয়ের কোনোটাই তারা পেতে চায় না।
কন্যারা এই দিক দিয়ে সুবিধায় থাকে। মামা’স গার্ল হতে কিছু আপত্তি থাকলেও ড্যাডি’স গার্ল হতে তাদের কারোরই কোনো আপত্তি থাকে না।
বাবার সাথে তারা শুধু যে বেরোয়, তাই না,

বিস্তারিত»

দেখে এলাম ভারতবর্ষঃ পর্ব ৩

আমাদের ট্রেনের নাম কালকা মেইল,স্লিপার ক্লাস।সিট অনেকটা আমাদের দেশের শোভন শ্রেণীর মত,তবে সাইজে অনেক বড় এবং পুরোটাই একজনের জন্য।আছে ফোন চার্জ দেওয়ার সুব্যবস্থা।সেইটা দেখে প্রেমিককুলের মুখের হাসি ছিলো দেখার মত।

ট্রেনে উঠে দেখি আমাদের উপরের বাংকে পা ঝুলিয়ে বসে আছেন দুই ভদ্রলোক।আমাদের সীট বলতেই বললেন,ঘুমানোর সময় বললেই নেমে যাবেন।উনারা যাবেন আসানসোল কিংবা বর্ধমান পর্যন্ত।

জানা ছিলো,এই ট্রেন দিল্লীতে যেতে কমপক্ষে ২৪ঘণ্টা সময় নেবে।আমি আগেই সবাইকে বলেছিলাম,যে চাইলে এই ট্রেনে আমরা কালকা পর্যন্ত যেয়ে সেখান থেকে ২ঘণ্টায় সিমলা পৌছাতে পারি।কিন্তু আমার ব্লগ পড়া জ্ঞানে ওদের ভরসা ছিলনা।অথচ ট্রেনে উঠেই পাশের সীটের এলাহাবাদগামী দাদা যখন একই কথা বললেন,তখন সবাই রাজি হয়ে গেল।আর আমরা রেডি হলাম,লাইফের দীর্ঘতম ট্রেন জার্নি করতে।সবাই ফুলানো যায় এমন বালিশ,কম্বল নিয়ে উঠেছিলাম।একটু পরেই ট্রেনের লোক ডিনার করবো কিনা জানতে আসলো।দুই ধরণের খাবার,ভেজ-ননভেজ।হালাল-হারাম বিবেচনায় ভেজ নিলাম সবাই।

বিস্তারিত»

দেখে এলাম ভারতবর্ষঃ পর্ব ২

আগের পর্ব ছিলো,কলকাতা পৌঁছানো নিয়ে।পৌঁছে তো গিয়েছি,এবার আগানো যাক।

কলকাতায় নেমে সবার আগে যেখানে গেলাম আমরা,সেটা হচ্ছে ফেয়ারলি প্লেস।ফরেন কোটার যাত্রীরা এখান থেকে সারা ভারতজুড়ে ট্রেনের টিকিট অগ্রীম কাটতে পারেন।ভিতরে ঢুকে দেখি কয়েকজন সাদা চামড়া বাদে বেশিরভাগই বাংলাদেশি।নোয়াখালি,বরিশাল,সিলেট,অনেক এলাকার ভাষা কানে এল।বেশিরভাগই চিকিৎসাপ্রার্থী,যাবেন চেন্নাই অথবা অন্য কোথাও।ফর্ম পূরণ করে বসে থাকলাম সবাই।ঘণ্টা দুই পর সিরিয়াল এল আমাদের।

আমাদের প্ল্যান ছিলো,যাওয়া আসা,২বারের যেকোনো একবার,ইন্ডিয়ার বিখ্যাত ট্রেন রাজধানী এক্সপ্রেসে চড়বো।কিন্তু কপাল খারাপ,কোনদিনের টিকিটই পেলাম না,পেলেও তা এসি-টায়ার ২,যেইটা আমাদের সাধ্যের বাইরে।তো কালকা মেইলের আপ এবং দুরন্ত এক্সপ্রেসের ডাউন টিকিট কেটে ব্যাগ টানতে টানতে বের হলাম সামনের মহাসড়কে।

বিস্তারিত»

ঘুরে এলাম মেঘের বাড়ি- সাজেক!!!

“দুনিয়াটা অনেকের কাছে টেনিস বলের মতো ছোট্ট। একটুখানি। এরা নিত্যদিন নানা কাজে লন্ডন- প্যারিস- নিউইয়র্ক করে বেড়াচ্ছে। আর অনেকের কাছে এই পৃথিবী এক অফুরান তেপান্তরের দেশ; সাতসমুদ্দুর তেরো নদী, ভুত-পেত্নী, রাক্ষস খোক্কসে আকীর্ণ। তাদের অজানা দুনিয়ার শেষ নেই।”
বলাই বাহুল্য আমি পড়ি দ্বিতীয় দলে। ছোটবেলায় বছরে একবার আট-দশজনের দল করে একটা ভ্রমণ হতো বটে। একবার সিলেট, বেশ কয়েকবার চট্টগ্রাম- কক্সবাজার। ক্যাডেট কলেজের আধাসামরিক ভ্রমণগুলো ছিল অন্যরকম,

বিস্তারিত»

দেখে এলাম ভারতবর্ষঃ পর্ব ১

২০০৯ সাল থেকেই শুরু বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া।ক্যাডেট কলেজের বন্ধু,বড় ভাই,ডিপার্টমেন্টের বন্ধু,অন্য কলেজের বন্ধু…সবার সাথে একের পর এক ট্যুরে বেড়িয়েছি।কখনো পাহাড়ে,কখনো চরে,কখনো বা নির্জন দ্বীপ,সমুদ্র সৈকতে।২০১৫তে এসে ঠিক করলাম আমরা কয়েকজন,লেভেলটা এবার বাড়িয়ে নিতে হবে,ট্যুরে যাবো দেশের বাইরে।

সবাই স্টুডেন্ট আমরা,টিউশনি করে চলি।আমাদের পক্ষে থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুর যাওয়া সম্ভব নয়,অবধারিত ভাবেই ডেস্টিনেশান প্রতিবেশী দেশ,ভারতবর্ষ।কাশ্মীর যাওয়া অনেক খরচ,প্ল্যান হোল তাই,ঘুরে আসবো সিমলা-মানালি-দিল্লী-কোলকাতা। প্রায় একবছর ধরে প্ল্যানিং আর স্টেপ বাই স্টেপ আগানোর পর গত ২২ডিসেম্বর পা বাড়াই আমরা ইন্ডিয়ার পথে।সেই ট্যুরের অভিজ্ঞতা নিয়েই এই ব্লগ লেখা।আশা করি কারো হয়ত কাজে আসবে।

বিস্তারিত»

সাংহাইয়ের পথে পথে-১

ইউয়ুন গার্ডেনের সম্মুখ ভাগআপনি যদি ঘুরতে ঘুরতে কখনো সাংহাই চলে আসেন তবে প্রথমে কোথায় যাবেন? চোখবন্ধ করে চলে যান ইউয়ন গার্ডেন (ইউ গার্ডেন)। আধুনিক রমরমা এত আকর্ষণ থাকতে কেন আমি আপনাকে প্রথমেই একটি ক্ল্যাসিকাল বাগানবাড়ির কথা বলছি তার অবশ্য কারণ আছে।
‘ইউ গার্ডেন দ্যা ফরবিডেন সিটি’ ওল্ড সাংহাইয়ের উত্তর-পূর্বের অ্যানরেন ঝিতে অবস্থিত। তদানিন্তন মীং সম্রাজ্যের সরকারী কর্মকর্তা প্যান ইউনডন বৃদ্ধ বয়সে বাবা মায়ের সুখ ও শান্তি নিশ্চিত করতে এটি তৈরি করেন।

বিস্তারিত»