জার্মানির জার্নাল ২

সকালে হোটেলের রিসেপসনে ডাক পড়লো। ওলফ ওয়ান্ডারস নামে সিমেন্স থেকে একজন ভদ্রলোক এসেছেন। ওলফের সাথে রাতে কথা হয়েছিল। নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন লিয়াজো অফিসার হিসাবে। রিসেপসনে এসে জানা গেল তিনি শুধু লিয়াজো অফিসারই নন, সিমেন্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের এক জন শিক্ষকও বটে। তিনি আমাদের শেখাবেন হাইকম টেলিফোন এক্সচেঞ্জের নেট ওয়ার্কিং। ওলফের চেহারায় একটা সারল্য আছে, আর আলাপ চারিতায় আছে বন্ধুতা। পরিচয় পর্বের পর প্রত্যেককে একটি করে রেল পাশ আর পাতাল রেলের রূট ম্যাপ ধরিয়েদিলেন।

বিস্তারিত»

জার্নাল মালয়েশিয়াঃ আরো কিছু

মালয়েশিয়া নিয়ে লেখা লেখি প্রায় শেষ। আর বড়জোর ২ – ১ কিস্তি। এর পর অন্য কোথাও পাঠকদের নিয়ে যাবার আশা রাখি।

পাসির সালাক গ্রামের একটা ইতিহাস আছে অগে বলেছিলাম।

ইংরেজের রাজ্য বিস্তারের কাল তখন। মালয় উপদ্বীপেও তার সদম্ভ উপস্থিতি। ছোট খাট স্থানীয় রাজ্য গুলো  আপাতঃ স্বাধীন কিন্তু আসলে করদ রাজ্য বিশেষ। কোন কোন রাজ্যে আবার সরাসরি ইংরেজের শাসন। অনৈক্য আর পিছিয়ে পড়া জনগন নিয়ে তেমন কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠে না।

বিস্তারিত»

জার্মানির জার্নাল ১

অনেকদিন আগে জার্মানি গিয়েছিলাম। ছিলামও মাস দেড়েক। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখছি জার্মানির জার্ণাল।

frankfurt-airport2
পৃথিবীর ব্যস্ত এয়ারপোর্ট গুলির অন্যতম ফ্রাঙ্কফুর্ট । আমরা যখন ওখানে পৌছালাম বাংলাদেশে তখন পড়ন্ত বিকেল আর ফ্রাঙ্কফুর্টে বুড়ো বাঘের মত শয়ে আছে শীতের দুপুর। তেজহীন সূর্যকে আগলে রেখেছে মেঘ, হঠাত দমকা বাতেসে কুয়াশা অথবা মেঘ সরে গেলে সূর্যের দেখা মেলে। আমাদের গন্তব্য মিঊনিখ এখান থেকে বিমানে ৪০ মিনিটের পথ।

বিস্তারিত»

কল্পপুরের গাড়ি আর একটা ইনটেক বার্থডে…

ক্লান্ত শরীর নিয়ে বসে, দুপুর একটা বাজে। হঠাৎ-ই কল্পপুরের এক গাড়ি এসে হাজির। আরে, আজ না ১৫ই এপ্রিল, টাইম তো ২টা ছিল, তাইনা?

তড়িঘড়ি করে কল্পপুরের গাড়িতে চেপে বসলাম। গন্তব্য সেই ৬বছরের সম্পর্কে আঁটকে পড়া সবগুলো মুখের সাথে দেখা করা। আসলেই, আমার সেই ৬বছরের বন্ধুগুলো যেন ঐঠিক সেরকমই রয়ে গেছে আমার কাছে। এখন যতই ডিএসএলআর-এ ছবি তুলে ফাটিয়ে দিক, আমার কাছে আশিক সেই তব্দা খেয়ে তাকিয়ে থাকা গোবেচারা আশিক-ই আছে।

বিস্তারিত»

জার্ণাল মালয়েশিয়া- পুনশ্চঃ

১১। রেলগাড়ী ঝমাঝম

ঝমাঝম- এই ব্যাঞ্জনাময় শব্দজুটির বহুল ব্যাবহার দুটি প্রসঙ্গে। বৃষ্টি আর রেলগাড়ী। দুইই আমার অতি প্রিয়। রেলের সাথে আজন্ম মিতালী, সেই শৈশবকালে, দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্থারও শৈশবকাল তখন, বছরে বার দুই পিতামহ-মাতামহ সন্দর্শনে যাওয়া হত। পূরাকালে যেমন পূন্যাত্মাদের মাঝেমধ্যে স্বর্গ দর্শনের রেওয়াজ ছিল। আর কে না জানে, শৈশব-কৈশরে অন্তত আমার প্রজন্ম  অবধি ওই দুটি স্থানই ছিল স্বর্গের সবচেয়ে কাছাকাছি। সেখানে যাবার একমাত্র উপায় যখন রেলগাড়ী- তাকে ভাল না বেসে পারা যায়!

বিস্তারিত»

প্রবাসে প্রাকৃতজন (পর্ব ০.৪: অথঃ ইমিগ্রেশান)

এদেশে এসেছিলাম এক বছরের ভিসা নিয়ে। তবে ভিসা হাতে পাওয়ার তিন মাস পরে এদেশে আসার কারনে হাতে আর সময় ছিল মাত্র নয় মাস। এর মাঝেই চাকরী-বাকরী খোঁজা, গোধূলির জন্ম, এসব করতে করতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসলো। তখন মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অ্যাপ্লাই করলাম, পেয়ে গেলাম আরও চার বছরের জন্য। এই চার বছর যখন শেষ হবে তখন আমাদের এদেশে অবস্থানের সময়কাল হবে চার বছর নয় মাস।

বিস্তারিত»

শাপে বর

ডিসক্লেইমারঃ এটি কোন ধর্মীয় পোষ্ট না, আমাদের মত নিতান্তই সাধারন কিছু মানুষের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষনের প্রচেষ্টা এবং আমার অযোগ্য দর্শনচিন্তাপ্রসূত লেখা।

মানুষ স্বভাবতই দূর্বলচিত্তের অধিকারী। আর এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে যুগের পর যুগ আধুনিক পুজীবাদী উদ্যোক্তাশ্রেনীর বুদ্ধিমান মানুষগুলো নিজেদের জীবিকার সন্ধান খুজে নিতে চেয়েছে। ধর্মে যেহেতু ব্যাবসাকে জীবিকার প্রথমসারির হালাল পন্থা বলে রায় দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত বানিজ্য-শিক্ষার পাঠ্যপুস্তকগুলোতে বিপননের পদ্ধতি হিসেবে বাইবেলের মত বাধাধরা কৌশলগুলোর মধ্যে বারবার ভোক্তার মনস্তাত্বিক চাহিদা বিশ্লেষন করে কার্যপন্থা গ্রহনের উপর আলোকপাত করা হয়েছে,

বিস্তারিত»

ইস্তানবুলের ডায়েরী………কিছু স্মৃতিচারণ

স্বপ্ন নাকি বাস্তবতা… নাকি দুটোই…অনেকের মত আমিও হাতড়ে বেড়াই এই প্রশ্নের না জানা উত্তরটি। হয়ত সেই অজানা উত্তরের আশায় হাতড়িয়ে বেড়াতেই কেটে গেছে সময়ের গর্ভ থেকে নামবিহীন ২ টি বছর। খুলে দেখা হয়নি সেই পুরনো ডায়েরীর মলাটখানা। হয়তবা তারই আবর্তে ঢাকা পড়ে গেছে সেই অভিজ্ঞতার পাতা গুলো, জীর্ণতা ছেয়ে বসেছে প্রতিটি কোণে। আজ হটাৎ করেই অজানা এক বাস্তবতার বুক চিরে আবারো সেই ডায়েরীর মলাটখানায় হাত রাখলাম।

বিস্তারিত»

পথের ক্লান্তি ভুলে – ১ম পর্ব

২১ ডিসেম্বর ২০১৪ – আজ তবে বিদায় জানাও।

সকালে উঠেই বাথরুমে গিয়ে আয়নায় তাকিয়ে বিষন্ন এক টুকরো হাসি দিলাম। সকাল আটটা বাজে। এই এলাকায় আছি আর মাত্র তিনটি ঘন্টা। হাতমুখ ধুয়ে সকালের নাস্তা সেড়ে গোছানোর বাকি কাজটুকু শুরু করলাম। সময় কোনদিক দিয়ে পার হয়ে গেল টের পেলাম না। ঠিক বেলা ১১টার সময় ক্ষুদেবার্তা এলো, “I’m coming to pick you up. My friend needs more time.”

বিস্তারিত»

প্রবাসে প্রাকৃতজন (পর্ব ০.৮: মাই নেম ইজ খান)

পূর্বের পর্ব: প্রবাসে প্রাকৃতজন (পর্ব ০.৫)

 

আমার শহরের বেশিরভাগ ট্যাক্সি ড্রাইভারই পাকিস্তানি। কখনো কখনো ফোন করে ট্যাক্সি ডেকে আনলে ড্রাইভার এসে সালাম দিয়ে উর্দুতে কথা বলা শুরু করেন, সেলামালেকুম খাঁসাব, ক্যায়সি হেয় আব? কাঁহা যাইয়ে? ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বলি আমি বাঙালী, তেমন একটা উর্দু জানিনা। তাঁরা তখন আকাশ থেকে পড়েন, বলেন, আমরা আর তোমরা তো প্রায় একই –

বিস্তারিত»

প্রবাসে প্রাকৃতজন (পর্ব ০.৫)

পূর্বের পর্ব: প্রবাসে প্রাকৃতজন: পরিবেশ পরিচিতি (১ম ভাগ)

একদিন স্কুল থেকে ফিরে গোধূলি জানালো যে তাদের ক্লাসে একটা নতুন মেয়ে এসেছে, নাম লীয়াহ। কয়েকদিন পরেই পরিচয় হল লীয়াহর বাবা অ্যান্ডির সাথে। ভদ্রলোক পেশায় অর্থপেডিক সার্জন, (তাঁকে আমি ফাজলামো করে মাঝে মধ্যে বাংলায় হাড়-কবিরাজ বলে ডেকে থাকি) । আমাদের মিডল্যান্ডস এলাকায় বেশ নাম ডাক ওয়ালা কনসালটেন্ট। আদিতে নাইজেরিয়ান, দীর্ঘদিন স্লোভানিয়াতে ছিলেন। গায়ে গতরে নেহায়েত মন্দ না,

বিস্তারিত»

হাওরের দেশ, হাসন রাজার দেশ, নীলজলা নদীর দেশ

তোমরা ভ্যাকেশন কাটাতে যাও ব্যাংকক, পাতায়া, মানালী, কাঠমুন্ডু, মরিশাশ, বালি আর ফিরে এসে ফেইজবুকে ছবি ভরে দিয়ে আমাদের বুকের হাহাকার বাড়াও! টাকা খরচ করে, ভিসার ঝামেলা মাথায় নিয়ে, বিমানবালার হাতের ফ্রি খাবার খেয়ে, শীতোতাপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল হোটেলের নরম বিছানায় গা না এলালে ঠিক যেন ভ্যাকেশনটাকে জাতে তোলা যায় না। আজকাল ফেবু কবিদের ভীড়ে আমরা এককালের কাগজ আর কালি খরচ করে গড়ে ওঠা কবিদের কথা মনেই রাখি না।

বিস্তারিত»

স্বর্গের কিনারায়

১. গড়ুড়

গড়ুড়ের পিঠ নয়, পেটের ভেতর থেকে আমরা জনা শ’য়েক মানব সন্তান যখন যোগজাকার্তার ভেজা কংক্রিটে ভূমিষ্ঠ হই, বেলা গড়িয়ে তখন দুপুর। কলিকালের গড়ুড়- এর দেহ ধাতব, খাদ্য তরল জ্বালানি। মহাকায় মহাবল পৌরাণিক আদিপুরুষের মত তেজবীর্য এর নেই, ইনি ঈন্দ্রের বজ্রাঘাতে মৃদু হেসে একটি পালক উপহার দেন না, বরং পূরো দেহটাই বিসর্জন দেবার সম্ভবনাই বেশি। তবু হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে এরা বিশ্বময় উড়ে বেড়াচ্ছে প্রতিদিন।

বিস্তারিত»

জার্নাল মালয়েশিয়া

১। প্রথম দেখা

আমার শ্যামল বাংলা- তার পূবে ব্রম্মদেশ, তারও পরে শ্যাম রাজ্য। সেখান থেকে  লম্বা একটা বকের পা যেন দক্ষিনে সমুদ্রের ভেতরে চলে গেছে অনেক দুর। এটাই মালয় উপদ্বীপ। যার দক্ষিন অংশ আজকের মালয়েশিয়ার প্রধান ভাগ, যাকে পেনিনসুলার মালয়েশিয়া বলা হয়। চীন সাগরের ওপারে বিশাল বর্নিও দ্বীপে আছে আরো দুটি প্রদেশ- সাবা ও সারাওয়াক।পঞ্চাশের দশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান হবার পর ইদানীং রীতিমত উন্নত বিশ্বের সারিতে স্থান করে নিতে সচেষ্ট।

বিস্তারিত»

দুই চাকার দিনলিপি- ১ (ট্যুর ডি কুয়াকাটা)

[বিচ্ছিরি রকমের বড় ব্লগ। ছবি বড় করে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে]

১.
সিদ্ধান্তটা নেয়া হলো হুট করেই। শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে প্রাত্যহিক রুটিনের অংশ হিসেবে আমরা ফুচকা খাচ্ছিলাম। আমরা বলতে আমিন ভাই, এহসান ভাই, ইমতিয়াজ, জামান এবং আমি। ঈদের ছুটি তখন আসি আসি করছে, আর মাত্র কয়েকদিন। আমিন ভাই খেতে খেতে হঠাৎ বলে উঠলো – “ধূর মিয়া, তোমাদের দিয়া কিছু হইবোনা।”

বিস্তারিত»