সাতাশ বছর আগে- ছয়

কাল রাতে ভরা জ্যোৎস্না অন্ধকার করে মেঘ জমলো;

জমাট মেঘ নিমিষেই গড়ে তুললো
এক অস্বস্তিকর অমাবশ্যা।
চাঁদ কি মুখ লুকোল না ডুবে গেল?
নীলা –
কাল রাতে আমি কি একাই বৃষ্টিতে ভিজেছি?
তুমি কি বুকের উত্তাপে তোমার চুল শুকাওনি?

এখনতো তুমি এত দূরে নও নীলা:
রাতের বৃষ্টিতেতে আমি একাই ভিজবো
আর তুমি বিদেশ বিভূইয়ে
সাদা রোদ্দুরে চুল খুলে হাসবে;

বিস্তারিত»

টোনাটুনি সমাচার।। ছড়ায় ছড়ায়

এইচএসসি পাশ টোনা আর ডিএমসির ছাত্রী টুনি।
প্রেম এসেই দুরমুশ পেটানো শুরু করল।
সামাজিক বিধি-নিষেধ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত সবকিছু মিলে মানুষের যে ভালো খারাপের সাধারণ মাপকাঠি তৈরী হয়, প্রেম সেই মাপকাঠিটাকেই দিল ঠুস করে ভেঙে।

ফলে প্রেমের তাড়নায় তারা দুজনে মিলে মহাসমারোহে সেসব কার্য করতে লাগল যা কিছু ছিল নিষেধ, অন্যায়, অনুচিত এবং এক কথায় যা কিছু সমাজের গ্রহনযোগ্য কাজকর্মের সীমানার বাইরে এবং চোখ রাঙানির এক্তিয়ার-ভূক্ত।

বিস্তারিত»

অনুকথন স্মৃতিচারণঃ নকশীকাঁথার মাঠ

অনুকথন স্মৃতিচারণঃ নকশীকাঁথার মাঠ

আমার একটা কাঁথা আছে; তিনটা শাড়ির লেয়ার দিয়ে বানানো। তিনটা শাড়িই ছিল এম্ব্রয়ডারিতে ভরা সুতি শাড়ি। অনেক স্মৃতিবিজড়িত এই কাঁথাটা। এটার মূল্য আমার কাছে অনেক। জড়িয়ে নিয়ে থাকি, ঘ্রাণ নেই। অন্যরকমের একটা ছোঁয়া পাই। বাইরের দিকের শাড়ি দুটো আমার স্ত্রীর, যেগুলো আমি তাকে আমাদের বিয়ের সময় দিয়েছিলাম। ভেতরের লেয়ারে যে শাড়িটা আছে সেটা সবচেয়ে স্মৃতিবিজড়িত। আমার মায়ের অনেক শখের একটা শাড়ি ছিল সেটা।

বিস্তারিত»

কর্ণফুলীর মুহূর্তরা

ফিরে যদি যেতেই হয়
তবে আজ আর দীর্ঘশ্বাস নয়;
আজ শুধু মেনে নেয়ার পালা।
যুদ্ধ করতে করতে সবগুলি তারা খসে গেছে
দূরত্ব ক্রমশ হয়েছে সমুদ্রের মত
তবুও একটি মুহূর্ত কোথাও উল্লেখিত হয়নি।

তুষারে কি ঢাকা পড়েছে তোমাদের শহর?
মধ্য রাতের নীল রঙ দেখার ইচ্ছায় কি রাত জাগা হয়?
চাঁদের সাথে মেঘেদের লুকোচুরি
আঙ্গুস এবং জুলিয়াস্টোনের গান এখনো কি বাজে?

বিস্তারিত»

নগরের কাল বৈশাখী

নগরের কাল বৈশাখী

“বৈকালের দিকটা হঠাৎ চারিদিক অন্ধকার করিয়া কালবৈশাখীর ঝড় উঠিল। অপু-দুর্গা দুজনেই সোনামুখী তলায় আম কুড়াতে ছুটছিল। ঝড়ের শব্দে আম পড়ার শব্দ শুনিতে পাওয়া যায় না, যদি বা শোনা যায় ঠিক কোন জায়গা বরাবর শব্দ, হইল—তাহা ধরিতে পারা যায় না। দুর্গা আট-নয়টি আম পেলেও ছোটাছুটির পর অপু পেলে মাত্র দুটি। একটু পরেই চারদিক ধোয়াকার করে মুষলধারে বৃষ্টি নামিল। হঠাৎ ঝটিকাসুদ্ধ অন্ধকারে আকাশের এ প্রান্ত হইতে লকলকে আলো জিহ্বা মেলিয়া বিকট অট্টহাসির রোল তুলিয়া এক লহমায় ও প্রান্তের দিকে ছুটিয়া গেল ক্কড় ক্কড় কড়াও শব্দে বাজ পড়ল।

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে – পাঁচ

যে জল ঝরার শব্দে

নির্জনতার ঘুম আরো গাঢ় হয়;
সেই চোখ দুটো আমি তোমার সামনে রাখছি
তুমি কি দু পায় মাড়িয়ে যাবে, নীলা?

ঘুম যখন তন্দ্রায় এসে নামে
আমি তোমাকে হাতের নাগালে পাই নীলা;
কতবার ছুয়েঁ দেখতে চেয়েছি তোমার চুল
চুলের ভেতর হাত চালিয়ে ঝর্ণা বানিয়েছি;
নীলা, আমার হাতের নাগালে নয়,
তোমাকে নি:শ্বাসের মাঝে চেয়েছি।

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে- চার

এমন অনাহূতের মত যাওয়া আসা ভালো লাগে না।

এমনি করে এক একটা অলস দিন আসে,
ভাসিয়ে নিয়ে যায় কেনো আমায় একা, নীলা?

সময় থেমে থেমে চলে, নষ্ট ঘড়ির মত;
এমন না চলে থেমে থাকে না কেন?
চুপ করে বসে বসে সময়ের হৃদস্পন্দন গুনতাম!

এমন অযাচিত যাওয়া আসা ভালো লাগেনা, নীলা।

মড়াঁ কাঁধে নিয়ে হাঁটবার মত
সময় আমার কাঁধে চেপে দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়।

বিস্তারিত»

সমুদ্রপারে তাদের পাড়ায় পাড়ায়

সমুদ্রপারে তাদের পাড়ায় পাড়ায়

 

লুমলে বীচ (LUMLEY BEACH)

 

“আজ রাত্রে আসিয়াছি নামি

এই দূর সমুদ্রের জলে!

যে নক্ষত্র দেখ নাই কোনোদিন, দাঁড়ায়েছি আজ তার তলে!

সারাদিন হাঁটিয়াছি আমি পায়ে পায়ে

বালকের মতো এক — তারপর, গিয়েছি হারায়ে

সমুদ্রের জলে,

নক্ষত্রের তলে!

রাত্রে,

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে -তিন

নীলা তুমি হাত বাড়িয়ে কি আমাকেই খুঁজছো?

আমার আমিত্ব আমায় অস্বীকার করে,
তুমিও কি আমার অস্তিত্ব অনুভব করোনা?
তোমার এলোচুলে হাত দিয়ে দেখ
আমার দৃষ্টি এখনো প্রথিত আছে
তুমি কি কখনো অনুভব করনি, নীলা?
তোমার পরিপাটি কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে
আমার ঘ্রাণ মিশতে দাওনি;
সোনালী আর কমলা তোমার কাপড়ের ভাঁজে
আমার হাত দূর থেকে নির্বিঘ্নে ছুঁয়ে গেছে
তাও কি তুমি অনুভব করনি?

বিস্তারিত»

সর্বনাম তুমি

আচ্ছা, যদি এমন হতো
কোনদিন হয়ত দেখা হয়েই গেল
নগরীর কোন ব্যস্ত ভীরে
অথব শুনশান কোন চরে
হয়ত আমি আমি গিয়েছিলাম
একটু একা থাকতে,
নিজেকে একটু সময় দিতে
নিজেকে আরো কাছ থেকে দেখতে
আর তুমিও-
আনমনে আকাশ দেখতে দেখতে
হঠাৎই চোখ আটকে গেল
কোন এলোমেলো বাতাসে
শাড়ীর ওড়ানো কোন তোমাতে
তবে আমি কি করব!

বিস্তারিত»

হয়তবা কোন একদিন

হয়তবা কোন একদিন
হয়ত,
আমার একটা ঘর থাকবে
চিলেকোঠায়-
রাতের আকাশে এক মগ চা হাতে তারা গুনব
আর অপেক্ষায় থাকব-
ভোরের সূর্যোদয়ের
এলোমেলো বাতাসে চুল উড়বে
আর কানে থাকবে-
কোল্ডপ্লে,লিংকিন পার্ক অথবা বন জোভির সব মাতাল করা গান।

হয়তবা কোন একদিন
হয়ত,
কোন বাধা থাকবে না
ক্লাশ, এসাইনমেন্ট, সিটি, মিড, প্রেজেন্টেশন কিচ্ছু না।

বিস্তারিত»

পর্বতশৃঙ্গে

পর্বতশৃঙ্গে

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

“এরপর গঙ্গার উৎপত্তিস্থল হিমালয় শিখর! সেই শিখর তুষারে আচ্ছন্ন বলেই শ্বেতবর্ণ। সেখানে কস্তুরী মৃগের দল এসে বসে। তাদের নাভির কস্তুরী গন্ধে পর্বতের শিখা সুরভিত হয়ে উঠে”। – কালিদাস (মেঘদুত)

২০০২ সালে সিয়েরালিওনে জাতিসংঘ মিশন করা কালে ছুটিতে আসার পথে আমি আর সাইদুল স্যার লন্ডনে ছিলাম কয়েকদিন। এই সময়ে টিউব ট্রেনে করে সাইদুল স্যারের মামার বাসায় যাবার সময়ে সাইদুল স্যারের অন্যমনস্কতার কারণে আমরা পথ হারিয়ে ফেলি।

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে – দুই

নির্জন রাত, এখন সবাই ঘুমিয়ে

খোলা আকাশের নীচে একা একা জেগে রয়েছি;
দুরন্ত বাতাস কান ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়। নীলা,
আমিই কি একা একাই হেঁটে চলেছি? তুমি কি নেই আমার সাথে?

নাকি সাথে সাথে হাঁটছিলে ছায়ার মত, কোথাও থেমে গেছো?

এখন অনেক রাত- ভোর হতে বেশী বাকী নেই,
শেষ রাতের মেঘগুলো শেষ বারের মত উত্তরে চলে যাচ্ছে।

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে- এক

কদিন আগে একটা কবিতা লিখবার চেষ্টা করেছিলাম। ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট করা আছে। কি হয়েছে আল্লাহ মালুম, তবে রফিক আজাদের একটা কথা মনে আছে, জীবনে যার নারী নাই সে কবিতা লিখবে কিভাবে?

যাইহোক, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, মাঝে মাঝে দুই এক লাইন লিখতাম, এরপর এক সময় বসে কম্পাইল করে একটা কবিতা দাঁড় করাতাম। নিশ্চিন্তে বলতে পারি এইগুলা কবিতা না। কারন কবিতা একটা সময়ে বা বিভিন্ন সময়ে একটা নির্দিষ্ট ভাব নিয়ে লিখতে হয়।

বিস্তারিত»

দেশাত্মবোধক গানঃ সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য…..

দেশের গান করতে গেলে আমার মধ্যে অনেক বেশি আনন্দ আর আবেগ এসে ভর করে। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন যাপন করার জন্যই এমন হয় কি না জানিনা। গত বছর বড়দিন এর ছুটিতে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সুযোগ হয়েছিল গ্রাম এর বাড়িতে যাবার। বরাবর এর মতোই গ্রামে গেলে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই। এবারও দেখলাম হলুদ রাঙ্গা সর্ষে ক্ষেত, মেঠো পথ, আর চারিদিকে সবুজ আর সবুজ, মনটা জুড়িয়ে যায়।

বিস্তারিত»