অল্প কথার গল্পঃ সবুজের শার্ট

সবুজের পরিবারটা ঠিক স্বচ্ছলও ছিল না, আবার অভাবীও ছিল না। কঠোর নিয়ম কানুন আর পই পই হিসেব নিকেশের মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্ত সংসারে সে বড় হয়েছে। মা বাবা কিংবা বড় ভাইবোন কোন কিছু কেনাকাটা করার জন্য যদি তাকে কোন অর্থ দিতেনও, খরচ শেষে তারা তার পুংখানুপুংখ হিসেব নিতেন। ঈদে পর্বে নতুন জামা কাপড় সে পেত ঠিকই, কিন্তু সব সময় তা নিজের পছন্দ অনুযায়ী হতোনা। এ নিয়ে অবশ্য সবুজের তেমন কোন দুঃখবোধ ছিল না,

বিস্তারিত»

‘Last In, First Out’

ছোটবেলায় স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পর আমরা প্রায় প্রতি বছরই নানাবাড়ী, দাদাবাড়ী বেড়াতে যেতাম। উভয়বাড়ী উত্তরবঙ্গে হওয়ার কারণে আমরা ট্রেনেই বেশী যাওয়া আসা করতাম। খুবই আনন্দের ছিল এ জার্নিটা। তখন সারাদিনে ঢাকা থেকে মাত্র দুটো ট্রেন উত্তরবঙ্গে যেত, একটা সকাল ৮ টার দিকে ছাড়তো, নাম ১১ আপ দ্রুতযান এক্সপ্রেস। অপরটা রাত ১১টায়, নাম ৭ আপ নর্থ বেঙ্গল মেইল। প্রথম প্রথম ট্রেনগুলো নারায়নগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করতো,

বিস্তারিত»

একটি উচ্ছ্বল প্রাণের ঊর্ধ্বারোহণঃ

Friends at a funeral

আমার বন্ধু জামান, অনেক প্রতিভা ও গুণের অধিকারী। ওর সব গুণের চেয়ে আমার বিবেচনায় সবচেয়ে বড় যে গুণটি সেটি হলো শত প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও ধীর স্থির এবং প্রতিক্রিয়াহীন থাকার সক্ষমতা। গত কয়েক বছর ধরে জানি যে ক্রমাগতভাবে ওর উপর দিয়ে নানা রকমের ঝড় ঝঞ্ঝা বয়ে চলেছে। প্রথমে ওর বড়ভাই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে কয়েকবার সিঙ্গাপুরে যাওয়া আসা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

বিস্তারিত»

অসুখের ছবি-

এবারে একেবারে জমকালো ঠাণ্ডা পড়েছে মেলবোর্নে।
এইটুকু লিখে মনে হলো, প্রতি বছরই কি এরকমই লিখি? নাকি এবারের ঠাণ্ডা আসলেই অনেক বেশি?
প্রতি বছরই মনে মনে প্রস্তুত থাকি, বছরে এক সপ্তাহ সর্দি-কাশি লাগিয়ে বসে থাকবো বাসায়। রুটিনের মত করেই। এবং ব্যস, ওই একবারই। তারপরেই আবার পুরো বছরের জন্যে মুক্তি।
কিন্তু এবারের ঠাণ্ডা আমাকে ভালোই বাগে পেয়েছে। মাসখানেক আগে সোনামুখ করে সপ্তাহখানেক সর্দি জ্বরে ভুগলাম,

বিস্তারিত»

নস্টালজিয়াঃ সময়ের পালাবদল

নস্টালজিয়াঃ সময়ের পালাবদল
আহমদ মাহবুব-উল-আলম
[আহমদ, সিসিআর, ১৯৮৮-’৯৪]

১। ক্যাডেট কলেজে ৭ম শ্রেণীতে পড়ার সময় ক্লাস টুয়েলভের বড় ভাইদের দানবাকৃতির মনে হতো। সময় গড়ালো, আমরা যখন টুয়েলভে, নতুন ইণ্টেক যখন ক্লাস সেভেনে ভীতু-ভীতু চেহারা নিয়ে ভর্তি হতো, ভাবতাম ওদের মা-বাবা-দের কোন দয়া-মায়া নেই, এইটুকুন বাচ্চাদের কেউ ক্যাডেট কলেজে পাঠায়!!

২। আমাদের সময়ের এক প্রিন্সিপাল ম্যাডাম (মিসেস প্রিন্সিপাল) একবার তাঁর বাসায় তিনশ ক্যাডেটকে একসাথে দাওয়াত করে শবে বরাতের হালুয়া রুটি খাইয়েছিলেন।

বিস্তারিত»

কি করে অকৃতজ্ঞ হও?

স্বপ্ন দেখে দিন যায়, আধো ঘুমে রাত যায়,
সহজেই ভুলে যাওয়া বেকুব অকৃতজ্ঞ মানুষের কাছে সম্মান পাওয়ার স্বপ্ন ,
দুই দিনের দুনিয়ায় অনেক ধনী হবার স্বপ্ন।

আবার অবাক চোখে তাকিয়ে দেখি 
জেগেও দেখি, ঘুমিয়েও দেখি

একবারও কি স্বপ্নে দেখেছি পালনকর্তার সামনে দাঁড়ানোর মুহূর্তের কথা !!

###

সন্ধ্যার ক্লান্ত ঘরে ফেরা মানুষ দেখি
এবং আয়েশরত মানুষ
সন্ধ্যা-প্রভাত ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ,

বিস্তারিত»

সোশ্যাল মিডিয়া কতখানি সোশ্যাল

“পুরানা যদিও কেচ্ছা তবু বর্বকত / সমঝাইয়া দিবে নয়া হাল হকিকত”
— সৈয়দ মুজতবা আলী, “গুরবে কুশতন শব ই আওয়াল” (মার্জার নিধন কাব্য), পঞ্চতন্ত্র

[ডিসক্লেইমারঃ এটা কোন গবেষণালব্ধ লেখা নয়; ব্যাপক পড়াশুনা করে ডেভলাপ করা কোন ড্রাফটও নয়। নিজের দেখা এবং অনুভব করা কিছু অভিজ্ঞতাকেই এখানে সাজানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। আসলে দুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় পারিবারিকভাবে বেশ ঘনিষ্ট এবং যথেষ্ট স্নেহভাজন একজনের ক্রমাগত “মন খারাপ করা” ফেসবুক স্ট্যাটাসের কমেণ্টের ঘরে কিছু কথা লিখতে গিয়ে তার সাথে ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনেই কিছুটা বাদানুবাদ শুরু হয়ে যায়।

বিস্তারিত»

অনুকথনঃ আরিশা-বচন

মেয়েঃ (রাত ১০টা … রিডিং রুমে বাবাকে খুঁজে না পেয়ে …) মা, পাপা কোথায়?

মাঃ বাবা নিচে গেছে।

মেয়েঃ নিচে কোথায়? দাদুর ওখানে? নাকি গ্যারেজে?

মাঃ বাবা গ্যারেজে গেছে।

মেয়েঃ আমি পাপার কাছে যাব।

মেঃ বাবা তো কাজে গেছে। তুমি যাবে কেন?

মেয়েঃ (বেশ আশ্চর্য হয়ে …) আমি আমার ভালবাসার কাছে যাব না!!

বিস্তারিত»

সারাহার ভিন্নমাত্রাঃ “আঁই অন কিত্তাম”

ফেসবুকের সারাহা নিয়ে আমার আগের ব্লগটা লেখার পরে বেশ মজার কিছু অভিজ্ঞতা হলো। সোশাল মিডিয়ায় অধিকাংশ মন্তব্য এলো পুরোনো ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে, যাদের অন্তত হারানোর কোন ভয় নেই, অর্থাৎ পেনালাইজড হবার প্যানিক নেই। একজন তো পরামর্শ দিয়েই দিল, যাতে আমিও একটা সারাহা একাউণ্ট খুলে ফেলি; এটাও গ্যারাণ্টি দিল যে আমি নাকি পাঞ্চাশোর্ধ মন্তব্য পাব, যার মধ্যে কুড়িটার মত থাকবে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনের জমে থাকা আক্ষেপের ঢালাও বাক্যবাণ,

বিস্তারিত»

পিছু ফিরে দেখাঃ “কামিজ কা বাটন টুটেঁ হ্যায়”….

১৯৭৫ সালের শেষের ক’টা দিন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সদ্য কমিশন লাভ করে ঢাকার একটা ইউনিটে যোগদান করেছি। পাকিস্তান প্রত্যাগত অফিসারদের দেশে ফিরিয়ে আনাতে তখন আবাসন সংকট চলছিল। জরুরী ভিত্তিতে আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য তখন সেনানিবাসের এখানে সেখানে “রূপসা” প্রকল্পের অধীনে কিছু ব্যাচেলর অফিসার্স কোয়ার্টার্স (বিওকিউ) তৈরী করা হয়েছিল। সদ্য বিবাহিত কিংবা ছোট পরিবারের জন্য দুই কক্ষ বিশিষ্ট কিছু ম্যারেড অফিসার্স কোয়ার্টার্সও নির্মিত হয়েছিল। ইটের হাল্কা গাঁথুনী,

বিস্তারিত»

প্রিয়জনের বিদায়কালে স্নেহ-মায়া-ভালবাসার অভিব্যক্তিঃ

প্রিয়জনের বিদায়কালে স্নেহ-মায়া-ভালবাসার অভিব্যক্তিঃ

আমাদের এ ক্ষুদ্র জীবনে আমরা কতজনের সাথেই স্নেহ ভালবাসা, মায়া মমতার অটুট বাঁধনে আবদ্ধ হই ও থাকি। কারো সাথে জন্ম থেকেই, যেমন বাবা মা, ভাই বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে, আবার কারো সাথে মায়া ভালবাসার ডোরে আবদ্ধ হই জীবন-পথে চলতে গিয়ে। কখনো সে বাঁধন চির অটুট থেকে যায়, আবার কখনো পারস্পরিক দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলে সে বাঁধন ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে যায়।

বিস্তারিত»

ডিভোর্স এণ্ড সোশ্যাল মিডিয়া

কিছু বিষয়ের অহেতুক সমালোচনা আমি একেবারেই মেনে নিতে পারি না। বিশাল এই সমাজের নিতান্তই একটা ক্ষুদ্র অংশ হিসেবে আমার ধারণা, কিছু-কিছু সমালোচনা, হাসি-তামাসা বা তিরস্কার, ব্যাক্তি এবং সমাজ উভয়ের দৃষ্টিতেই অগ্রহনযোগ্য। হাসি-তামাসা টাইপের সমালোচনা বা কটাক্ষ, যা ইদানিং “ট্রল” নামে ব্যপকভাবে পরিচিত, এসবের মধ্য দিয়ে আমরা কিন্তু প্রকৃতার্থে নিজের বুদ্ধিমত্তা এবং রুচিজ্ঞানকেই জনসম্মুখে নিয়ে আসি। অনেকেই হয়ত মুখে কিছু বলে আমাদের এই অসুস্থ মানসিকতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন না,

বিস্তারিত»

প্রয়াত শিক্ষক, পরবর্তীতে সহকর্মী মীর ওয়ালীউজ্জামান স্মরণেঃ

এম সি সি তে (Momenshahi Cadet College-MCC) আমার কিছুদিনের শিক্ষক ছিলেন মীর ওয়ালীউজ্জামান, ইংরেজীর প্রভাষক। আমরা তখন একাদশ কিংবা দ্বাদশ শ্রেণীতে, উনি ঢাবি থেকে সদ্য মাস্টার্স করা টগবগে তরুণ শিক্ষক, অত্যন্ত সুদর্শন, নায়কোচিত চেহারা। বয়সের ব্যবধান তেমন ছিলনা (গুরু শিষ্যের মত), তদুপরি ওনার সারল্য এবং আন্তরিকতার কারণে আমরা বন্ধুর মত ছিলাম। আমাদের চোখে উনি তখন ভীষণ একজন স্মার্ট টীচার। এ রকম সুদর্শন একজন ব্যক্তিত্বকে আমরা প্রভাষক নয়,

বিস্তারিত»

ঈদ মুবারক!


আজ সন্ধ্যে ৭টা ২০ মিনিটে আমার শয়নকক্ষ থেকে ঈদুল ফিতর-২০১৭ এর নতুন চাঁদের ছবি।


আজ সন্ধ্যে ৭টা ২০ মিনিটে আমার শয়নকক্ষ থেকে ঈদুল ফিতর-২০১৭ এর নতুন চাঁদের ছবি।

রমজানের শেষ দিনে আজ ঘরে বসেই মাগরিবের নামাজ পড়লাম। নামাজ পড়ে বেডরুমের পর্দাটা সরিয়ে দেখি, আকাশের বুকে একফালি চাঁদ। ঈদুল ফিতর-২০১৭ এর চাঁদ। জীবনে এর আগে কখনো ঘরে বসে শয়নকক্ষ থেকে নতুন উদিত কোন চাঁদ দেখিনি,

বিস্তারিত»

‘নতুন কাপড়’ আন্দোলন শুরু হোক

অনেক দিন আগের কথা। ১৯৭৭ সাল। আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। আমার পর আরও এক ভাই ও দু’বোন। আমরা সবাই ছোট্ট শিশু তখন। ঈদ এলে আনন্দই ছিল অন্যরকম। বিশেষ করে ঈদের কাপড়। নতুন কাপড় পরার আশা আমাদের সবাইকে আচ্ছন্ন করে রাখতো। পাড়ার সব ছোট ছেলে-মেয়ের জন্য তাদের বাবা-মা রোজার সময়ই নতুন কাপড় কিনে আনতেন। বড়রা আমাদের জন্য কাপড় কিনছেন বা দর্জির কাছে তৈরি করাতে দিচ্ছেন, আর আমাদের মধ্যে আনন্দের নদী বয়ে যাচ্ছে।

বিস্তারিত»