ক্যাডেট কলেজ ব্লগ http://www.cadetcollegeblog.com Sat, 25 May 2013 09:01:45 +0000 bn hourly 1 একটা কুইক ভিজিট করে আসলাম কলেজে…যা যা দ্যাখলাম http://www.cadetcollegeblog.com/chinta-shilpy/38791 http://www.cadetcollegeblog.com/chinta-shilpy/38791#comments Sat, 25 May 2013 09:01:45 +0000 শাহরিয়ার (২০০৪-২০১০) http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38791 বি এম এ তে যখন প্রথম শুনলাম পোস্টিং কুমিল্লায়…সেরাম মজা পাইসিলাম।সাথে থ্রীল…গাড়ি নিয়ে কলেজে যাবো…ক্লাস সেভেন এইটে যেমন দ্যাখতাম জিডিও যায়,ভাইয়ারা যায়।রেজিমেন্টেশান টাইমে একদিন ডিউটি,রাস্তায় দাড়ায়া আছি,হঠাৎ করে কলেজের বাসটা সামনে দিয়ে চলে গেলো,প্রথম দিনের সেই আবেগটা বোঝানো যাবে না।আজকাল প্রায়ই হয়,কলেজের যারা গ্রাউন্ডস ম্যান,হাউজ বেয়ারা,হয়তো রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে,দূর থেকে দেখে ডাক দেয়,শাহরিয়ার ভাই কেমন আছেন?আমিও ডাক দেই “আরে,আক্কাস ভাই না”…ভাল্লাগে খুব…রি-ইউনিয়নের পরে আর নানা ব্যস্ততায় যাওয়া হয় নাই।মাঝে মাঝে প্ল্যান করি,এত কাছে কলেজ,না গেলে পরে আফসোস হবে।সেই মোতাবেক আজকে একটা চান্স পাইসিলাম প্যারেন্টস ডে উপলক্ষ্যে।কিন্তু ফ্রী হইতে হইতে ১ টা বাইজা গেসে।তাই ভাবলাম একটানে একটু ঘুইর‍্যা আসি।তাই একটা কুইক ভিজিট করে আসলাম কলেজে…মেইনলি যা যা দ্যাখলামঃ

১। আউটগোয়িং ক্লাস ১২ এর সাথে দেখা হলো…(ওদেরকে ক্লাস টেনে রেখে আসছিলাম…সবগুলা আজকাল প্রিফেক্ট টিফেক্ট হয়ে উড়ায়া ফেলসে)
২। নতুন ক্লাস সেভেন অব প্রমত্তা মেঘনা : অস্তিত্বের প্রতিশ্রুতি’র সাথে দেখা হইলো(আহা বেচারারা,এইটুক পিচ্চি আমরাও ছিলাম একদিন)
৩।সবগুলা ব্লক ভিজিট করলাম,বিশেষ করে রুম নাম্বার ২৯,১৬,১৮,২৪,৩২,২৭,৩৩,৯ ও ২ !(সবগুলা’র কোণায় কোণায় দেইখ্যা আসছি)
৪।অনেক অকাজের সাক্ষীঃকমন রুম,টিভি রুম(নতুন এলসিডি দিসে),হাউজ অফিস(আগের মতই নিরামিষ),স্টোর রুম(জানালার ভাঙা কাঁচটা এখনো আছে)

আরো বিশেষ যে জিনিসগুলা চোখে পড়সে-

ক।বাথরুমে ক্যাডেটরা চিল্লায়া গান গাইতেসে!(কতিপয় ক্যাডেটকে টাওয়াল পরে ঘুরাঘুরি করতে দ্যাখা গেলো)
খ।একদল ক্যাডেট আকাশী রঙের স্লিপিং ড্রেস পড়া,প্যান্ট টাখনুর উপর পর্যন্ত গোটানো,মাথায় টুপি,রুমে রুমে ঘুরতেসে (বোঝা গেলো হাউজ মস্কে যোহরের নামাজ পড়তে যাবে)
গ।প্যারেন্টস ডে মাত্র শেষ হইসে…তাই একদল ক্যাডেটকে দেখলাম হাফপ্যান্ট আর স্লিপিং ড্রেসের অপূর্ব সমন্বয়ে টিভিরুমে হিন্দী গান দেখতেসে।
ঘ।ক্লাস টেনের এক ক্যাডেট মনোযোগ দিয়ে ক্যামিস্ট্রি পড়তেসে…একজনকে পথের পাঁচালীও পড়তে দেখলাম।ঙ্কিছু কিছু ক্যাডেটের মন খারাপ,মাত্র প্যারেন্টস ডে শেষ হইসে,বিকালের ঘুমটা পর্যন্ত এই মন খারাপটা থাকবে আশা করি!
ঙ।ক্লাস সেভেনের রুমে যথারীতি পোস্ট-প্যারেন্টস ডে এক্টিভিটিসরূপ আড্ডাতে বসে প্যাকেট খুলতেসে…আমি আর হাউজ প্রিফেক্ট হঠাৎ ঢুকে পড়ায় দীর্ঘ ৩-৪ আলিফ টানে আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া!কেউ পানিশমেন্ট দেয় কিনা জিজ্ঞাসা করায় খুব সুন্দর উত্তর “ভাইয়া,ফল্ট করলে তো দিবেই”,আর কোনো প্রকার চার্জ নাই শুনে ভালো লাগলো!
চ।ক্লাস ইলিভেনের স্বাভাবিক কুয়্যেরি “ভাইয়া আর্মিতে যাওয়ার জন্য কী করবো?”
জ।নিচের কোন হাউজে হাল্কা চিৎকার শুনলাম,সিনিয়র জুনিয়রের নিয়মিত বিষয়!( মজা লাগলো)

এছাড়া কলেজ আগের মতই,সবকিছু আগের মত…সেই আগের ঘ্রাণ কলেজের কোণগুলো তে…ক্লাস সেভেন-টুয়েল্ভ সেই একই কাজ করে বেড়ায় (হয়তো একটু অন্য উপায়ে,বাট একই রকম)হয়তো ক্যাডেট কলেজগুলোর বয়স এত বেশী হয়ে গেসে যে মনে হয় নতুন কিছু করার মত বাকি নাই আর।অনেকদিন পর দিনের বেলার স্বাভাবিক কলেজ এবং ক্যাডেটদের স্বাভাবিক কাজ কর্ম দ্যাখে খুব ভালো লাগলো…ক্যাডেট লাইফের এই রূপটা একমাত্র ক্যাডেট ব্যাতীত আর হয়তো কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না।ইভেন নিজের বাসাটার চেয়েও,নিজের এখানকার রুমটার চেয়েও কলেজের রুমগুলো, দেয়ালের চুনভাঙা দাগ, করিডোর, বেসিন, ওয়াশরুমগুলো, পথগুলো, এমনকি পথের পাশের ফুলগুলোও বেশী পরিচিত আমাদের !

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/chinta-shilpy/38791/feed 0
বিভাজন মেনে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস প্রয়োজন http://www.cadetcollegeblog.com/rashid20ccr/38790 http://www.cadetcollegeblog.com/rashid20ccr/38790#comments Fri, 24 May 2013 15:45:12 +0000 রশিদ (৯৪-০০) http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38790 গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারই নাকি সবচেয়ে খারাপ স্বৈরাচারি সরকার হতে পারে। আর আমাদের মতো বিপুল জনসংখ্যার অর্ধশিক্ষিত অভাবি ক্ষেত্রবিশেষে অধৈর্য্য অসংগঠিত নাগরিকদের পরিচালনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নে অদক্ষ শাসকগোষ্ঠির মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠলে বিবদমান শক্তির পরস্পরকে নির্মূল করার খেলায় মেতে ওঠাটা অসম্ভব কিছু নয়।

গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সকল রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহন জরুরি হলেও নেতৃত্ব এক্ষেত্রেও সরকারের উপরই বর্তায়, যা কোন অজুহাতেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ক্ষমতায় থাকলে বিরোধি রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলায় যে দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রয়োজন, ঐতিহাসিকভাবেই স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা তার প্রতিফলন দেখিনি। তাই কার্যকর গনতন্ত্রের পরিবর্তে আমরা অস্থিতিশীল এবং খুবই হাস্যকরভাবে সবসময়ই এক তথাকথিত ক্রান্তিকাল পার করছি বলে আলোচনা করা হয়।

আজকের আওয়ামি লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এর থেকে বেরিয়ে আসার সব সুযোগ তুচ্ছ করে সেই একই অগনতান্ত্রিকপন্থা বেছে নিয়েছে। বিরোধিদের আস্থায় নয়, নির্মূলের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে অদক্ষভাবে অপব্যবহার করছে।

অথচ বিরোধিশক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা যে কোন শুভবুদ্ধি নয় আর বর্তমান বাস্তবতায় একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিকে নির্মূল করার প্রয়াস যে সকল বিচারেই অগ্রহনযোগ্য সেটুকু বোঝার মতোন ধীশক্তি কি আওয়ামি লীগের বর্তমান নেতৃত্বের কারো মাঝেই নেই?

উইকিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফল দেখছিলাম, দুটো জিনিস জেনে অবাক হলাম যার প্রথমটি হলো ঐ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার! দ্বিতীয় অবাক ব্যাপার সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৭০টিতে অংশ নিয়ে ১৬০টিতে জিতে আওয়ামি লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানেই শতকরা হিসাবে ৭৫ভাগেরও কম ভোট পেয়েছিল তারা । মোদ্দাকথা হলো অনন্য ঐসময়েও ২৫ভাগের বেশি ভোটার (এবং নাগরিক?) আওয়ামি লীগের বিরোধীই ছিল!!

এমন ফলাফল থেকে যদি কেউ সিদ্ধান্ত নেয় যে এই ২৫ভাগের বেশি মানুষ বঙ্গবন্ধুর ছয়দফার বিরোধি ছিলো, পশ্চিমাদের অন্যায্য আচরনে অনেকটাই ভাবলেশহীন ছিলো, স্থানীয় পর্যায়ে আ’লিগ নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে তীব্র হতাশা ছিল, মাওলানা ভাসানীর নির্বাচন বয়কটের পরও তার অনেক অনুসারির ভোট আ’লিগের বিরুদ্ধেই গেছে মোদ্দাকথায় কারন যাই হোক না কেন এই মানুষগুলো কট্টর আওয়ামি বিদ্বেষিই, তাহলে তা কি খুব অযৌক্তিক হয়ে যাবে?

আজ এই ৪২বছর পরে এই আওয়ামি বিরোধি মানুষের সংখ্যা কি কমেছে? উত্তর সবারই জানা, “না”! অনেকখানি বেড়েছেই বরং। আমরা কেউ কি শেষবিচারে বাংলাদেশের রাজনীতির সক্রিয় দুটি ধারা যথা আওয়ামিপন্থা এবং আওয়ামি বিরোধিতাকে এড়িয়ে যেতে পারি? সবার উত্তর এক্ষেত্রেও ”না” হওয়ারই কথা।

আর জামায়াত তার কোটামত ৬ভাগ ভোট সেইসময়ও পেয়েছে। এই ভোটব্যাংককে অস্বীকার বা এড়িয়ে যাওয়া কি সম্ভব? আবারো সেই ”না”।

আমার প্রশ্ন হলো এইসংখ্যক যে মানুষ আছেন তাদের কি অস্বীকার বা এড়িয়ে যাওয়া উচিত? সুযোগ বুঝে তাদের খাতির করা অথবা লাঠি হাতে দাবড়ানোর বাইরে এই মানুষদের নিয়ে অন্য আর কিছু কি করা যায় না (নিশ্চিহ্ন করার উদ্ভট সমাধানের বাইরে, যেটাও আদতে অসম্ভব)?

অথচ এই প্রশ্নে সরকারের আচরনে মনে হয় তারা চিরন্তন আওয়ামি বিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার অপকৌশলই নিয়েছে যা প্রকারান্তরে ঐ বিরোধিদেরকেই আরো শক্তিশালী (এবং জনপ্রিয়?) করবে।

অথচ এদেরকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করতে প্রয়োজন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ও গনতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে মোকাবিলা করা। এইটুকু বোঝার মতোন ক্ষমতা আর তা বাস্তবায়ন করতে হলে যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা আর সাহসের প্রয়োজন তা বোধকরি একগুঁয়ে অদক্ষ এই সরকারের নেই। সামনে কি আছে আমাদের সেটা জানতে আমরা বোধহয় শুধু দ্বিধা আর শংকার সাথে অপেক্ষাই করতে পারি।

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/rashid20ccr/38790/feed 0
“তেলাপোকা কেন উল্টো হয়েই মরে?” http://www.cadetcollegeblog.com/aninda-imtiaz/38786 http://www.cadetcollegeblog.com/aninda-imtiaz/38786#comments Thu, 23 May 2013 09:30:27 +0000 অনিন্দ্য (২০০৬-২০১২) http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38786 চিঠিটা খুলে বার বার দেখি
আরও একবার-
লেখাগুলোর উপর হাত বুলোই,
নিস্প্রান এই লেখাগুলো এত সজীব কেন?
কি মায়ায় এরা আমাকে ডাকে-
বারেবার;  জানিনা।
মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে
কখনও বা উপদেশ,  আবার হঠাৎ হঠাৎ -
খুচরো কিছু ভালোবাসার আবেশ।

খাটের পাশে রাখা  গিটারটা তুলে নেই
“টুং টাং” কিছু অচেনা সুর -
নিজের অজান্তেই বেজে ওঠে।
অকস্মাৎ চেতনা ফিরে পাই,
কে যেন বলে, ”গিটারে তো সুর নেই”
আমি ভাবি- তারটাই হয়ত ছেড়া।
কখনো কখনো নিজের অজান্তেই জাগ্রত হয়-
সুপ্ত কবি মন,
খাতায় লিখে ফেলা দু’চারটে লাইন-
“কেন তার নির্ঘুম ছুটে চলা আমার শয়নে,
কল্পনায় ভেসে চলা অস্ফুট লাবন্যে,
প্রতিক্ষনে দু’টি কানে তার নুপূরের ঝংকার
উদগ্রীব দৃষ্টির সীমানায় তাকে খোঁজার হাহাকার”

কিন্তু হঠাৎ কলম থমকে যায়,
মনে শুধুই ঘুরতে থাকে –
“তেলাপোকা কেন উল্টো হয়েই মরে?”
আবার আনমনা হয়ে যাই।
বৃষ্টি দেখেও দেখিনা,মেঘেরাও আর আমায় ডাকেনা
রুমের কোণে হঠাৎ দেখতে পাওয়া তেলাপোকা
-টানে আমায়।
ইচ্ছে হয় বলি,”কেন তোমার এহেন উল্টো মরণ?
কি যন্ত্রনা তোমার সোজা হয়ে মরিতে?”
তেলাপোকা তবু নির্বাক
হয়ত হাসে; কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ,
অথবা বলে, ”উল্টো হয়ে মরার যে তৃপ্তি
বুঝবে না সে, উল্টো হয়ে কভু মরেনি যে।“
আমার চেতনাকে আচ্ছাদিত করে রাখে এই প্রাণী
হিংসে হয়,
আমার প্রিয়জনের চিন্তায় কেবল আরশোলাই সাথী,
আমার স্থান সেথায় নেই।
আবার ভাবতে বসি-
লোডশেডিং এর আলোয়
রাতের আঁধারে।

একদিন ফাঁক পেয়ে ছুটে যাই তার কাছে
হাতে ধরে দু’চারটে গোলাপের কলি
রাজকন্যে হাসে
তারপর জিজ্ঞেস করে
নাহ! কোন কুশলাদি নয়;
তার জিজ্ঞাস্য সেই পুরনো প্রশ্ন খানি
“তেলাপোকা কেন উল্টো হয়ে মরে?”
কি বলার আছে আমার?
আমি হাসি।

ইচ্ছে হয় বলি-
“হায় সেলুকাস!!
কি বিচিত্র আমার প্রশ্নকর্তা।”
এমন অবান্তর প্রশ্ন শোনার জন্যই কি আবার
ছুটে আসতে হয়েছে আমার; কোন সূদূর হতে?

পরক্ষনেই ভাবি,
এই হয়ত সৃষ্টিশীলতা ,
সৃজনশীল মনভাবের বহিঃপ্রকাশ
জাফর ইকবালের বক্তৃতার ফল বুঝি –
দেশ এবার সত্যিই পেল।
সবার মনে আলোড়ন  তুলে
মাধ্যমিক পরিক্ষায় হয়ত স্থান হবে এই প্রশ্নের-
“তেলাপোকা কেন উল্টো হয়ে মরে?”
কবি-সাহিত্যিকেরাও হয়ত একদিন –
বের হবেন এই প্রশ্নের সন্ধানে,
শামসুর রহমান হয়ত লিখে বসবেন-
“আরশোলা তুমি”
বইমেলায় হয়তবা সেরা বই হবে-
“হিমু ও কয়েকটি তেলাপোকা”
সুকুমার রায়ের কোন বংশধর লিখবে-
“বলতে পার –
সুয্যি কেন ওঠে? জোয়ার কেন আসে?
চাঁদটা কেন কমে-বাড়ে?
আর আরশোলা কেনই বা উলটে মরে?
বাসে বাসে বিক্রি হবে-
“তেলাপোকা সোজা করে মারার দশটি উপায়।”
এলাকার মোল্লারা ফতোয়া দিয়ে বসবেন-
“তেলাপোকা সোজা করে মারা নাজায়েজ”
নেতা-নেত্রীরাও অঙ্গিকার করে বসবেন-
তারা ক্ষমতায় গেলে কোন তেলাপোকাই উল্টো হয়ে মরবে না।
স্কুলেও হয়ত “c for cat“ না বলে
প্রথমেই পড়ানো হবে- “c for cockroach“
পোষা বিড়াল-কুকুরের মত, অনেকেই পুষবে তেলাপোকা
এফডিসিতেও তৈরি হবে-
”এক টাকার ঝাটা, কোটি টাকার তেলাপোকা”

তখন হয়ত তুমি সত্যিই খুশি হবে
পেয়ে যাবে তোমার পুরনো প্রশ্নের জবাব।
সেইসব গল্প-কবিতা তোমায় শোনাব –
কোন এক গাছের ছায়ায়, নির্জনে।
তখন কি হবে?
তোমার কৌতুহল কি দমে যাবে?
না’কি জেগে উঠবে আরও নানান উদ্ভট সব প্রশ্ন?
“ঘুমালে কেন কেউ দেখেনা চোখে?
আহারের পর কেন লাগেনা ক্ষুধা?
জেব্রা কেন হলনা ঘোড়া?
কেনই বা কান টানলে আসে মাথা?
কিংবা…………
কেন ভালোবাসি শুধুই তোমাকে?”
তুমি শুধু জানতে চেয়েছ রাজকন্যে
বুঝতে চাওনি কভু-
প্রশ্ন আছে এমন , কোন উত্তর যার নেই
আবার কিছু প্রশ্ন এমন –
যার উত্তর দিতে নেই।।

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/aninda-imtiaz/38786/feed 0
মিশরের পিরামিড http://www.cadetcollegeblog.com/ashraf5132/38782 http://www.cadetcollegeblog.com/ashraf5132/38782#comments Wed, 22 May 2013 20:06:49 +0000 আশরাফ (০১-০৭) http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38782 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১ বছর ফিজিক্সের ছাত্র ছিলাম কিনা) পড়ুয়া তিন বন্ধু ফার্মগেটে একটা মেসে থাকতাম। টয়লেটসদৃশ রুমে বন্ধু নিয়াজ, শাকিল আর আমি; তিন বন্ধুর সুখের সংসার।

মেঝের তিন কোনায় পরস্পর সংলগ্ন তিনটি বিছানা, দুইটি টেবিল ফ্যান, খানকয়েক বই (শাকিলের ১০১ ম্যাজিকশিক্ষা, পত্রিকা(?), নিয়াজের জীবনানন্দসমগ্র, আমার কিছু ওয়েষ্টার্ন), একধামা আলুপটল, চাল, এক বোতল সয়াবিন তেল, কিছু কাপড়চোপড় -এই ছিল আমাদের পার্থিব সম্পত্তি।

মাঝেমাঝে ক্লাসে যাই, প্রত্যেক বিকালেই হন্টন ভ্রমণে বের হই।রাজধানী দেখে বেড়াই। মোড়ের দোকানে ‘গরুর মূত্র’- সদৃশ রং চা খাওয়া, রাতের অন্ধকারে পানি খেতে গিয়ে ভুলে সয়াবিন তেল দিয়ে গড়গড়া করা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উজিরনাজির মারা, প্রচন্ড গরমে বাইরে থেকে এসেই জনৈক বন্ধুর লুঙ্গী তুলে ফ্যানের বাতাস খাওয়া;সবই আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।৩০% ছাড়ে বন্ধু শাকিল একবার গ্যালারি এপেক্সের চপ্পল নিয়ে আসল ১২০০ টাকায়। সেইসময়ের হিসেবে অনেক টাকা।

“বলিস কি রে? চপ্পল না জুতা?”
“বেকুবের মত কথা বললি, পায়ে দিয়া দ্যাখ ব্যাটা, মনে হবে একদম সোফা।” একে একে তিন জনই ক্যাটওয়াক করে ট্রায়াল দিলাম। ১২০০ টাকার ‘সোফা’ পায়ে দিয়ে সবাইই চমৎকৃত হলাম।

টিভি, পিসি, এমপি৩, স্মার্টফোন, আইপড কিছুই নাই। সিনেমা, গানবিহীন জীবন আর ভাল লাগে না। কি করা যায়? সহজ সমাধান দিল শাকিল। তার নোকিয়া ফোনে ওয়েলকাম টিউন সেট করল “কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে/রাতের নির্জনে”।

বিনোদনের অভাব হলেই শাকিলের মোবাইলে কল দেই। ওয়েলকাম টিউনের গান শুনি।গভীর রাতে সে গান শুনে বিষন্ন হই। একবার, দুইবার, বারবার।

মন্দ কী?? কিছু একটা শোনা তো হল।

মেসের রান্না করতেন এক খালা। খালার সবই ভাল শুধু মাঝেমাঝে মিসকল দেয়ার জন্য মোবাইল চাইতেন। তাতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু যে সর্বনাশা মিসকল দিতেন তাতেই একাউন্ট ফাঁকা হয়ে যেত। না দিলে প্রতিশোধ নিতেন….তরকারির লবন বাড়িয়ে…বা না দিয়ে।

তিন বন্ধু আজ তিন দিকে।কেউ জাহাজী, কেউ হতে যাচ্ছে আইনজীবী, কেউ মেডিকেলে।
ম্যাড়ম্যাড়ে জীবন।
অনেক দিন সিগারেটের ধোঁয়া দিয়ে কুলি করা দেখি না, লুঙ্গী তুলে বাতাস খাওয়া দেখি না, ওয়েলকাম টিউনে গান শুনি না।
কার প্লেটের ভাত দেখিয়ে বলি নাঃ “মিশরের পিরামিড বাংলাদেশে ….শালা,তোর প্লেটে।”

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/ashraf5132/38782/feed 4
বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমঃ বয়স্ক ভাতা http://www.cadetcollegeblog.com/mostafiz/38756 http://www.cadetcollegeblog.com/mostafiz/38756#comments Wed, 22 May 2013 20:06:03 +0000 মোস্তাফিজ (১৯৮৩-১৯৮৯) http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38756 ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৩।
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের জন্মদিন পালন করতে যাচ্ছি।বানেশ্বরে কলেজ বাসে উঠতেই এক সিনিয়র ভাই জিজ্ঞেস করলেন কোথায় আছ ? কি কর ? লজ্জার সাখেই বললাম পুঠিয়া উপজেলায় আছি, সমাজসেবায় চাকরী করি।সমাজসেবা ! এটা আবার কোন এনজিও ? খালি ঋণ দাও? না কি আরও কিছু কর ? উপজেলা গুলোতে  আসলে কী হয় ? তাকেঁ আমাদের অফিসের কাজের সাথে সাথে আরও কয়েকটি অফিসের কাজের কথা বললাম।তিনি বললেন, ‘জানতামই না তোমরা এত কাজ কর। এসব অন্যদেরও জানা দরকার।’ তাঁর কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজসেবা অধিদফতরের কয়েকটি  কার্যক্রম সম্পর্কে সিসিবির মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই।আজ বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম দিয়ে শুরু করছি। তবে তার আগে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের জন্মদিনের কেকটা দেখুন।

Birthday

Birthday

বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমঃ বাংলাদেশের অসহায় ও দুঃস্থ্য বৃদ্ধ/বৃদ্ধাদের সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান এবং পরিবারে সম্মান বৃদ্ধির জন্য ১৯৯৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে এই যুগান্তকারী কার্যক্রম শুরু হয়। বয়স্ক ভাতা পাবার জন্য ন্যুনতম বয়স পুরুষদের জন্য ৬৫ বছর এবং মহিলাদের জন্য ৬২ বছর। ওয়ার্ড পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে প্রাথমিক ভাবে ভাতাভোগী বাছাই করা হয়। বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা/পৌরসভা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হয়।হিসাব রক্ষণ অফিস হতে তালিকাভুক্তদের নামে ভাতা বহি পাশ হবার পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় প্রত্যেক ভাতাভোগীর নামে একাউন্ট খুলতে হয়।মাত্র ১০ টাকা দিয়ে  খোলা এসব একাউন্টের মাধ্যমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভাতা পরিশোধ করেন।এসব একাউন্ট হতে কোন প্রকার ভ্যাট, ট্যাক্স, লেভী  কর্তন করা হয় না।বাংলাদেশে বর্তমানে ২৪ লক্ষ ৭৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি ( ১২,৭২,৫৫২ জন পুরুষ এবং ১২,০২,৪৪৮ জন মহিলা ) মাসে ৩০০/-টাকা হারে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন।

বয়স্কভাতাভোগীদের বিভাগ্ওয়ারী সংখ্যা নিম্নরুপ-

Capture

বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের শুরু খেকে চলতি অর্খ বছর পর্যন্ত বছরভিত্তিক বাজেট নিম্নরুপ

Old Age Budget

কয়েকজন বয়স্কভাতাভোগীর ছবি

Old Age

Old Age

গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষ এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হচ্ছে।একটি দরিদ্র দেশ হওয়া সত্বেও বাংলাদেশ কল্যাণ রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে এ কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/mostafiz/38756/feed 2
ইসলামোফোবিক???!!!… http://www.cadetcollegeblog.com/rajibhappy/38767 http://www.cadetcollegeblog.com/rajibhappy/38767#comments Wed, 22 May 2013 12:03:16 +0000 রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬) http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38767 66388_434193899977332_181533514_n
525165_362971010480513_611125551_n374169_441660542564001_2053927877_n526983_364852290292385_748961774_n581782_357060387738242_1738589065_n
জীবনে কখনো ইসলাম ধর্ম, কোরান, হাদিস, নবী, মেরাজ, শিশু বিবাহ, নারী অধিকার, হিলা, বহুবিবাহ, দাসপ্রথা, দাসী সেক্স, মুরতাদ, রজম, যুদ্ধবন্দী, সেকুলারিজম, ব্লাসফেমি ল এর কোন একটা নিয়ে কথা বলেছেন, ডাউট দিয়েছেন?
হয়তো আপনাকেও শুনতে হয়েছে যে আপনি ইসলামোফোবিক।

আপনাকে হয়তো সপাটে মাথা নেড়ে বলতে হয়েছে না, আপনি ইসলামোফোবিক নন।
বলেছেন, আপনার কিছু প্রশ্ন আছে।
- কিন্তু আপনি জানেন না যে প্রশ্ন করার অধিকার ইসলামে কারো নেই।
মেনে নাও, মেনে যাও।
আপনি কিছু বুঝেন নাই, তাতে কি অফ থাকেন।
আপনি কি আল্লাহ, নবী, রাসূলের চাইতে বেশি বুঝেন মিয়া!
আপনে দেখি মুরতাদ, কাফির।
আল্লাহ আপনারে আগুনে রোষ্ট করবে।

তুই রাজাকার যেমন একটা গালি, ইসলামোফোবিক ও অনেকটা তেমনি।

নিচের ভিডিওটি দেখুন।

Islamophobia1

Islamophobia2

Islamophobia3

Islamophobia4

ভাবুন।

কিন্তু না, কিচ্ছু বলা যাবে না।

রজম
madraasa225723_366466276796551_1539191540_n531437_435805416460006_1869507770_n
মহান ধর্ম ইসলাম
ছবি ও ভিডিও সূত্রঃ ইন্টারনেট

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/rajibhappy/38767/feed 3
নিশিকন্যা http://www.cadetcollegeblog.com/mazhar2306/38759 http://www.cadetcollegeblog.com/mazhar2306/38759#comments Tue, 21 May 2013 11:19:13 +0000 মাজহার (০৬-১২) http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38759

কাঁধে রাইফেল, নির্ঘুম লাল চোখ যা অন্ধকার তার হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছে, কোমরে গামছা বাঁধা, খালি পা, পরনে শতচ্ছিন্ন শার্টপ্যান্ট যেটার এখানে ওখানে ফেঁসে গেছে, কাদাপানিতে ভিজে আর রোদে শুকিয়ে খটখটে হয়ে আছে। হাতে পায়ে অসংখ্য কাঁটাছেঁড়ার দাগ, কোথাও কোথাও থেকে রক্তও পরছে। এসব দিকে কারো খেয়াল নেই। উত্তর দিকে একজায়গায় আগুন লেগেছে সবার দৃষ্টি সেদিকেই নিবদ্ধ। সবাই সেখানেই যাচ্ছে।

-আমি সবাইকে ক্যাম্পে জীবিত ফিরিয়ে আনার নিশ্চয়তা দিতে পারবো না। তবে আমার সাথে থাকলেএটুকু বলতে পারি যে ক্ষয়ক্ষতি কম হবে। দলছাড়া হবে না। প্রতি দুইজনে একটা করে রাইফেল আছে, হিসেব করে গুলি করবে। আর দুইজনের মধ্যে একজনের কিছু হলে আরেকজন রাইফেল নেবে।

-ইয়েস কমান্ডার।

কথাগুলো বলে ক্যাম্প কমান্ডার আগুনের দিকে তাকালেন। অনেকদিন পরে বাড়ির কথা মনে পড়ছে, কে জানে সবাই ঠিকভাবে পালাতে পারলো কি না। বাকীরা রাইফেল চেক করতে লাগলো, খট খট আওয়াজ আসতে লাগলো। সব মিলিয়ে ১৭ জন। ৯ টা রাইফেল, ৬টা হ্যান্ড গ্রেনেড আর অল্প সংখ্যক গুলি। তবে আজ সবকিছু প্ল্যানমত হলে আরো কিছু রাইফেল পাওয়ার কথা। কপাল ভালো থাকলে একটা-দুইটা মেশিনগান ও পাওয়া যেতে পারে।

পানিতে ডুব দেয়ার ঝুপ ঝুপ শব্দ হল। দূরে গুলির আওয়াজের সাথে মিলিয়ে সবাই চটপট পানিতে নেমে পড়ল। শেষজন নামার পরে কৌশলে নৌকাটা উল্টিয়ে দিল যাতে কেউ ট্রেস করে ক্যাম্প পর্যন্ত না যেতে পারে। ওরা এক রাস্তা দুইবার ব্যবহার করে না, নিতান্তই ঝামেলায় পড়লে তখনকার কথা আলাদা। আজকে ফেরার সময় আজমত রাজাকারের বাড়িতে আগুন দেয়ার প্ল্যান আছে। তাই নৌকাটার প্রয়োজন নেই।

রঙ্গিলা বাড়ি আজকে খুব ঝলমল করছে। অবশ্য প্রতিদিনই এই বাড়ি আলোতে ঝলমল করে। আজকেও তার ব্যতিক্রম নয়। এই বাড়ির আশেপাশে দেখলে মনেই হবে না যে দেশে একটা ভয়ংকর যুদ্ধ চলছে। সেই যুদ্ধে প্রতিদিন অজস্র মানুষ মারা যাচ্ছে। এ বাড়ির লোকজনকে দেখলে মনে করবে এদের মত সুখী মানুষ এই দুনিয়াতে নেই। বাড়ির মালকিন আজকে খুব সাজগোজ করেছে। আজকে বরণপুর মিলিটারি ক্যাম্পের মেজর সাহেব আসছেন সাথে আরো কিছু সাঙ্গোপাঙ্গো। তাই আজকেএকটু স্পেশাল আয়োজন। পোলাও-মাংস আর সাথে বিলেতি পানি। মেজর সাহেব আবার বিলেতি পানি ছাড়া অন্য কিছু খান না। রাত ১০ টায় আসার কথা এখন পৌনে দশটা বাজে। মালকিন কে খুব খুশি খুশি লাগছে। মেজর সাহেব যে আজকে কাকে পছন্দ করে কে জানে।

বরণপুরের রঙ্গিলা বাড়িটা তিনতলা। সব মিলিয়ে ৩০ জন মেয়ে আছে আর তাদের দেখাশোনা করার জন্যে তাদের মালকিন আছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের ব্যবসা বন্ধ হতে লেগেছিল প্রায়, পরে এ এলাকায় মিলিটারি ক্যাম্প হওয়াতে তাদের ব্যবসা আবার জমেছে। এই কঠিন আকালের সময় সবাই ঠিক মত খেতে পারছে, সবচেয়ে বড় কথা আনন্দে আছে। প্রতিদিনই ক্যাম্প থেকে বেশ কয়েকজন আসে সারারাত আনন্দ-ফুর্তি করে ভোরে চলে যায় বরণপুর “কাফের” মুক্ত করার মিশনে। কিন্তু ইদানীং ক্যাম্প থেকে লোকজন আসা কমে গেছে। কারণ, প্রতিদিনই দেখা যায় রাস্তায় দুই-একজন মরে পড়ে থাকে। হাজার পাক মিলিটারি হোক, মরার ভয় সবারই থাকে। বিশেষ করে আনন্দ-ফুর্তি করতে এসে যদি মারা পড়ে তাহলে জিনিসটা কেমন হয় না! তবে আজকে বিশেষ উপলক্ষ্যে সবাই আসছে। বরণপুর “কাফেরমুক্ত” করা হয়েছে এই আনন্দে তারা আনন্দিত। সেই আনন্দে ভাগ বসানো অতি সৌভাগ্যের ব্যাপার দেখেই বরণপুর রঙ্গিলা বাড়ি আজকে আলোয় ঝলমল করছে।

ঐ যে জিপ দেখা যাচ্ছে। বাপরে বাপ! সব মিলিয়ে ৫টা জিপ। কম করে হলেও ২০ জন তো হবেই। মালকিন একটা আকর্ণ বিস্তৃত হাসি দিল।

- আরে মেজর সাহেব রাস্তায় কোন সমস্যা হয় নি তো? বড় চিন্তা লাগে আপনার জন্যে!!

- হাহা! ভূত ছাড়া মেজর দবিরের কেউ কিছু করতে পারবে না।

মালকিনের মুখের হাসি আরো বিস্তৃত হল। কিসের জন্যে কে জানে!

সব মিলিয়ে ১৮ জন এসেছে। সবাই অস্ত্র এনেছে, খালি মেজর একটা পিস্তল এনেছে। মালকিন কেন জানি আজকে খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। অন্য দিনও তো আসে, সেদিন তো দেখে না। আর আজকে কেমন জানি লাগছে, মনে হচ্ছে কিছু একটা হতে চলেছে।

 

আনোয়ারের ১৭ জন বিশিষ্ট দল ঘাপ্টি মেরে মেরে এগোচ্ছে। বদমায়েশগুলো কোথায় যে মাইন পুঁতে রেখেছে কে জানে। ইশ! যদি গোটাকয়েক মাইন পাওয়া যেত বরণপুর মিলিটারি ক্যাম্প আর ক্যাম্প থাকতো না। ভূতের বাড়ি হয়ে যেত। আজকের মিশনটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ, এর উপরে অনেক কিছু নির্ভর করছে। তারা এখানে থাকবে কি থাকবে না। এই এলাকায় আরো মিলিটারি আসবে কি আসবে না, আরো অনেক কিছু। আস্তে আস্তে ওরা রঙ্গিলা বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। ঘড়িতে রাত ১১ টা বাজে। ছোট্টু যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে আজ ওরা ১০টায় আসার কথা। মিলিটারি দুনিয়া উল্টিয়ে গেলেও ঠিক টাইমে বাথরুমে যায়, আর সেখানে রঙ্গিলা বাড়ি তো কোন ছার!!! তার উপরে আবার পাকি মিলিটারি! রঙ্গিলা বাড়ির ১০০ হাত দুরত্বে আছে এখন সবাই। সবাই ছোট্টুর জন্যে অপেক্ষা করছে। আনোয়ারের হাতে কাগজে মোড়ানো কিছু একটা, ওটা ছোট্টুর হাতে দিলেই অর্ধেক কাজ শেষ। আনোয়ার মাটিতে কান পেতে আছে। ধুপ ধুপ জাতীয় কিছু শব্দ হল, আনোয়ার ও ধুপ ধুপশব্দ করে উত্তর দিল।

- আনোয়ার বাই আনছেন?

- হ্যাঁ। ভিতরে কি অবস্থা?

- সব হালায় পুলাও খাইতাছে। এমনে খাইতাছে মুনে হ জীবনে খায় নাই।

- হুম! মালকিন?

- হেই বেডি তো ম্যাজরের লগে এমুন ঢলাঢলি করতাছে প্যা….

- চুপ। এই ধর যতটুকু চেয়েছিলি ততটুকু পাই নি। ১৮ জনের জন্যে কম হতে পারে। তখন অবশ্য একটু সমস্যা হবে। সেটা দেখা যাবে।

- বাই, কম অইলে বিরাট সমেস্যা অইবো। হালার পুতেরা বেহেই বন্দুক লয়া আইছে, খালি ম্যাজর একখান পিস্তল লয়া আইছে।

- সেটা আমাদের চিন্তা। তুই এগুলা নিয়ে দৌড় দে।

ছোট্টু নিমেষের মধ্যে হাওয়া হয়ে গেল। ছোট্টু কিন্তু আসলে বাচ্চা শিশু না। ১৭-১৮ বছর বয়সের হবে। তাই মুখ একটু বেশি আলগা, মাঝে মাঝেই তাকে ধমক দিয়ে থামাতে হয়। একটু আগে মালকিনকে নিয়ে কিছু বেফাঁস কথা বলতে যাচ্ছিল। ছোট্টু কে প্রায়ই রঙ্গিলা বাড়ির আশেপাশে দেখা যায়, আঙ্গুরবালা নামের এক মেয়েকে সে মনে মনে বেশ পছন্দ করে। অবশ্য কিছু বলা তার দ্বারা সম্ভব না। মুখ আলগা হলেও মেয়েদের সামনে তার কথা জড়িয়ে যায়, তোতলামো শুরু হয়। এই কাজ করতে যেয়ে ওর যে কতক্ষণ লাগবে কে জানে। যদি ভিতরে গিয়ে আঙ্গুরের সাথে দেখা হয় তাহলেই হয়েছে!

 

- কমলাদি। ও কমলাদি।

- কিরে! এনেছিস?

- হ। (একমাত্র কমলার সাথেই সে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে পারে) ধুরো! কাপড়ডি বালা কইরা পড়ত পারো না?

- চুপ থাক। ভালো করেই পড়েছিলাম। তুই না তাকালেই তো হয়!!

- না তাহাইলেও দেহা যায়।

- কি দেখা যায়?

- কিছু না! হুদাই।

অতি দ্রুত হাতে বিলেতি মদের বোতল খুলে পাউডার গুলো ঢেলে দেয় কমলা। আবার ছিপিগুলোও দক্ষ হাতে আটকে রাখে যাতে মিলিটারির কেউ সন্দেহ না করে।

- কমলাদি! আঙ্গুর কই?

- কেন? কি দরকার? ডাকবো?

জোরে জোরে মাথা নাড়ায় ছোট্টু। ডাকার দরকার নেই।

- আঙ্গুরকে মেজর সাহেবের খুব পছন্দ হয়েছে। জানি না কি হবে। তুই আনোয়ার ভাইকে গিয়ে বল যে, এতে হবে না। সবাইকে রেডি থাকতে।

বিষ্ফোরিত চোখে ছোট্টু কমলার কথাগুলো শোনে ছোট্টু। আঙ্গুরকে মেজরের পছন্দহওয়ার মানে… না! এটা ছোট্টু মানবে না। আঙ্গুরের গায়ে হাত দেবে মেজর? চিন্তা করেই ছোট্টুর গা ঘিনঘিন করছে। কোনমতে ছোট্টু আনোয়ারের কাছে গিয়ে কমলার কথাগুলো বলে, পরে আবার ফেরৎ আসে। কি করা যায় চিন্তা করছে। আঙ্গুর আর মেজর এই দুইটা সে মেলাতে পারছেনা। আর আঙ্গুর তো রঙ্গিলা বাড়ির মেয়েদের মত ছলাকলায় পারদর্শী ও না যে, মেজরের হাত থেকে কিছু একটা করে পার পাবে। আসল কথা আঙ্গুর রঙ্গিলা বাড়ির কেউ না। ছোট্টুর সাথে একই কলেজে পড়ত। ওর আসল নাম অতশী। এপ্রিলের পরে রঙ্গিলা বাড়ির বেশিরভাগ মেয়েই পালিয়ে যায়। তারপরেও ১০-১৫ জন আর মালকিন থেকে যায়। পরে বরণপুরে মিলিটারি ক্যাম্প করলে অনেক মেয়েই প্রাণে বাঁচতে রঙ্গিলা বাড়িতে আশ্রয় নেয়। অতশী ও তখন সেখানে আশ্রয় নেয়। অন্তত নিরাপদ তো থাকা যাবে। এক রাতে পালানোর সময় আনোয়ার আর তার সাথে ৬ জন এইবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। তখন আনোয়ারের মাথায় এই বুদ্ধি আসে। প্রতিরাতে কয়েকজনকে এখানে দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখা। এই প্রস্তাবে মালকিন আর তার মেয়েরা সানন্দে রাজী হয়েছিল। পাকি মিলিটারির নুন খেয়ে তাদের সাথেই নিমকহারামি(?)করার মজা কে না নিতে চায়! আজকে সবচেয়ে বড় প্ল্যান। ক্যাম্প কমান্ডার ও চলে এসেছে। সব মাথাকে একসাথে পাওয়া যাবে। ১৮ জনের মধ্যে ৫ টা অফিসার। মন্দ না। ৫ টা গেলে আরথাকবে ১ টা।

 

ছোট্টু আজকে পণ নিয়েছে, অতশীর গায়ে মেজরকে হাত দিতে দেবে না। আগে থেকেই অতশীর ঘরে চলে যাবে, গিয়ে খাটের তলায় লুকিয়ে থাকবে। তারপরে বাকিটুকু দেখা যাবে। অবশ্য আনোয়ার ভাই শুনলে করতে দেবে না, সেইজন্যে সে আনোয়ার ভাই কে না বলেই অতশীর ঘরের দিকে হাঁটা দিল। খাটের তলায় ঘাপটি মেরে শুয়ে থেকে চিন্তা করতে লাগলো কলেজের দিনগুলোর কথা। কলেজে কত মজা, ক্লাসে না গেলেও চলে, সুবলের দোকানে বসে চা-সিগারেট খেয়েও পরীক্ষায় পাশ করা যায়। অতশীর পিছু পিছু লুকিয়ে লুকিয়ে ওদের বাড়িটাও দেখে আসা যায়। ছোট্টু প্রায় ৭-৮ বার ওদের বাড়ি গিয়েছিল ওভাবে। একবার প্রায় ধরা পড়তে লেগেছিল। একবার রাতে তার মাথায় কি ভূত চাপলো অতশীকে দেখতে ইচ্ছা করল। সেই রাতে সাপ-খোপের ভয় উপেক্ষা করে হাঁটা দিল অতশীর বাড়ির দিকে। পরে গায়ের জামা খুলে লুঙ্গিতে ধুলা ময়লা লাগিয়ে অতশীর বাড়িতে গিয়ে দরজা ধাক্কাতে লাগলো। “আম্মাগো, দুইদিন ধইরা কিছুই খাই নাই, দুই নলা বাত খাওয়াইবাইন?”  ভাত নিয়ে অতশীই এসেছিল। এর পরেরটুকু মনে করতে গিয়ে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তে গিয়ে নিজেকে সামলাল ছোট্টু। মেজর অতশীর ঘরে ঢুকছে। আর হাসছে। অতশী নিশিকন্যাদের মত হাসার চেষ্টা করছে, পারছে না।

- আঙ্গুর বালা, তুম বহত খুবসুরত হ্যায়।

অতশী উত্তরে কিছুই বলতে পারছে না, গলা কাঁপছে। সে অপেক্ষা করছে আনোয়ার ভাইয়ের হুক্কা হুয়া ডাকের জন্যে। হুক্কা হুয়া শুনলেই সে এক দৌড় দেবে ঘর থেকে। দৌড় না দিতে পারলে সাথে এক শিশি বিষ আছে। পালাতে না পারলে এটা কাজে দেবে। যুদ্ধ সেই কবে শুরু হয়েছে, এখনো শেষ হচ্ছে না। যুদ্ধ তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। যুদ্ধটা শেষ হলে ছোট্টুর সাথে চলে যাবে। যদিও ছোট্টুকে সে কিছুই বলে নি। যে ছেলে চোখের দেখা দেখার জন্যে মধ্যরাতে ৪-৫ মাইল হেঁটে ফকির সেজে বাড়িতে আসতে পারে সে ভাল বৈ খারাপ হতে পারে না। বাবা-মা’র কথা মনে পড়ছে। অতশীর চোখে সামনে তাদের গুলি করেছে মেজর, অতশী খড়ের গাদার ভেতরে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছে আর কেঁদেছে আর কিছুই করার ছিল না তার পক্ষে। আর সেই মেজর আজকে তার সামনে দাঁড়িয়ে!! অতশীর গা ঘিনঘিন করতে লাগলো। জান যাবে, তাও মেজরের আনন্দের খোরাক হওয়া চলবে না। মনে হচ্ছে অনন্তকাল পেরিয়ে যাচ্ছে, মেজরের ললায়িত দৃষ্টি অতশীর শরীরের উপর দিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। অতশীর মনে হচ্ছে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাবে। মেজর আস্তে আস্তে সামনে এগোচ্ছে।

ছোট্টু অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আনোয়ার ভাইয়ের ডাকের জন্যে। হঠাৎ পাশের জঙ্গলে শেয়াল ডেকে উঠলো সাথে দুইটা গুলির আওয়াজ। মেয়েরা জানে এটা কিসের সংকেত। সবাই দরজা ছেড়ে সরে দাঁড়ালো আর রঙ্গিলা বাড়িতে ১৮ টা দরজা ধড়াম করে শব্দ করে খুলে গেল আর একটা করে গুলির শব্দ। সবার কাছ থেকে কৌশলে সব অস্ত্র কেড়ে নিয়েছিল মেয়েরা। সব মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে এখন তাই অস্ত্র।

নিমকহারাম! বলে চিৎকার করে উঠলো মেজর। বলেই হোলস্টার থেকে পিস্তল বের করল। সেই সাথে আনোয়ার ভাই প্রচন্ড শব্দ করে দরজা ভেঙ্গে রাইফেল তাক করলো মেজর দবিরের দিকে। ছোট্টু দেখলো দুইজনের মধ্যে পড়েছে অতশী। সেও খাটের তলা থেকে বের হয়ে এসে অতশীকে সরাতে গেল। হঠাৎ অনুভব করল তার পিঠ চিড়ে কি যেন ঢুকে যাচ্ছে আর শুনতে পেল অতশীর তীব্র গলার চিৎকার। ছোট্টু আর মেজর দবির একই সাথে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।

- তুম মুক্তি। সব লোগকো……

সজোরে দবিরের মুখ বরাবর লাত্থি মেরে ঠান্ডা করে দিল আনোয়ার। শেষে একদলা থুতু ছিটিয়ে একটা খাঁটি বাংলা গালি ও দিল। ছোট্টু পড়ে আছে অতশীর কোলে। অতশী শূণ্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ছোট্টুর দিকে। সে কাঁদতেও পারছে না কথাও বলতে পারছে না। ছোট্টুর মেরুদন্ডে গুলি লেগেছে। হাত-পা কিছু নাড়াতে পারছে না। সে ঠোঁট দুটো ফাঁক করলো, কিছু বলতে চায়। অতশী তার কান ছোট্টুর মুখের একেবারে কাছে নিয়ে গেল। ক্ষীণ গলায় ছোট্টু তার শেষ কথা বলল, “তুমি এত সুন্দর কেন?”

 

কাঁধে রাইফেল, নির্ঘুম লাল চোখ যা অন্ধকার তার হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছে, কোমরে গামছা বাঁধা, খালি পা, পরনে শতচ্ছিন্ন শার্টপ্যান্ট যেটার এখানে ওখানে ফেঁসে গেছে, কাদাপানিতে ভিজে আর রোদে শুকিয়ে খটখটে হয়ে আছে। হাতে পায়ে অসংখ্য কাঁটাছেঁড়ার দাগ, কোথাও কোথাও থেকে রক্তও পরছে। এসব দিকে কারো খেয়াল নেই। পশ্চিম দিকে এক জায়গায় আগুন লেগেছে সবার দৃষ্টি সেদিকেই নিবদ্ধ। ওখানে বরণপুর মিলিটারি ক্যাম্প।

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/mazhar2306/38759/feed 2
কলেজের প্রথম দিন মে ২০, ১৯৯৩। (পাবনা ক্যাডেট কলেজ) http://www.cadetcollegeblog.com/kabir781/38748 http://www.cadetcollegeblog.com/kabir781/38748#comments Tue, 21 May 2013 02:19:20 +0000 Md. Humyun Kabir http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38748 সকাল থেকেই অস্থিরতার শুরু।ব্যাগ গুছিয়ে চলেছি।কি বাদ পড়ল  আর কি বাদ পড়লো না তা দেখছি যেন বার বার। আমার মনে হয় ব্যাগ টা ২ কি ৩ বার গুছিয়েছি। সকালেই চুল কাঁটিয়ে আসলাম। গোসল করে নিলাম । সকাল গড়িয়ে দুপুর। টেবিলে মা তার ছেলের জন্য নানান পদের খাবার রান্না করে ভরে ফেলেছে। কোনটা রেখে কোনটা খাব? এই ক’দিন চামচ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করেছি। আজ আর না । আজ হাত দিয়ে খাব। আবার কবে খেতে পারবো তার তো ঠিক নাই।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। বিকাল ৩ টা বাজে। ৪ টা বাজার জন্য অপেক্ষা। মা কি কি যেন খেতে দিয়েছিল মনে পরছে না। তবে মায়ের ইচ্ছাতে পেট ভরে গলা পর্যন্ত ঠেসে ঠেসে খেয়েছিলাম। ৪ বাজার আগেই বের হলাম। সবার সাথে দেখা করলাম। সবাইকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করল।
৪ টার পরপর ই কলেজে প্রবেশ করলাম। আমার ব্যাগ চেক করল। তারপরে একজন আরিফ আমাকে নিতে আসল। আরিফ তখন আমার গাইড। না সে তো আর আরিফ না আরিফ ভাই তখন। তো আরিফ ভাই আমাকে নিয়ে গেল shiraji house এ । শুরু হল আমার কলেজ জীবনের পথচলা।
কলেজ জুড়ে সবাই সাদা পোশাক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাকে নিয়ে যাওয়া হল ৩০৪ নাম্বার রুমে। কলেজ জীবনে আমার প্রথম রুম। মাগরিবের আগে আগে সবার বাবা মা বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। আরিফ ভাই ততক্ষণে কলেজের নিয়ম কানুন সেখান শুরু করে দিয়েছেন। রুমের সবার সাথে পরিচয় পর্ব এর মধ্যে শেষ। আমি আশিক আর শাহিন। পরে রিপন যে আমার ছোটবেলা বন্ধু সেও আমাদের রুমে চলে আসেছিল।
Tea break হবে মাগরিবের আগে। সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি পরে লাইন ধরে করিডরে দার করিয়ে দিলেন গাইডরা। আমরা ১৯ জন। মোট ছিলাম ৫৬ জন। তখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যাচ।  Tea break শেষে মাগরিবের নামাজ পরে আবার হউসে । সবার সাথে পরিচয় পর্ব শুরু । দুরু দুরু বুক। ভয় ভয় নিয়ে পথচলা। বড় ভাইয়াদের সাথে পরিচয়। রাতের খাবার সময় হয়ে গেল । রাতের খাবার শেষ করে আসে বিদায়ী ব্যাচের ভাইয়াদের সাথে পরিচয়। ১০ম ব্যাচ। যাদের কে আমরা ৭ দিনের জন্য পেয়েছিলাম।
১০ঃ৪৫ । লাইট’স  অফ। ইচ্ছা হোক আর অনিচ্ছাই হোক লাইট’স  অফ।
অনেক কথা বাদ পরে গেছে। আরেক দিন লিখব।

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/kabir781/38748/feed 2
একটি কোটা আর বাংলালিংক http://www.cadetcollegeblog.com/siam/38745 http://www.cadetcollegeblog.com/siam/38745#comments Mon, 20 May 2013 02:25:52 +0000 সিয়াম (০৬-১২) http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38745 এইতো গত বছর-

রাজশাহী ভার্সিটি বি বি এ পরীক্ষা, আই বি এর কোচিং করে স্বভাবতই ধারণা জন্মেছিল, ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সেই ভুল পরীক্ষার হলে গিয়ে ভাঙল যখন দেখি পাশের ছেলেটি মহানন্দে দুইটি ক্যালকুলেটর একের পর এক ব্যবহার করে যাচ্ছে। ম্যাথ করতে যেয়েই যত বিপত্তি, এত বড় বড় ম্যাথ কিভাবে করবো? পাশের ছেলেটির ক্যালকুলেটর এর দিকে তাকাতেই সে বুঝতে পারল এবং মহানন্দে দুইটি ক্যালকুলেটর ই অন্যপাশে সরিয়ে রাখল।
আমি – :|

জাহাঙ্গীরনগর আই বি এ পরীক্ষা। আই বি এ তে সাধারন জ্ঞান আর বাংলা দেখে অবাক হলাম। !! পাশের জন আলাপ করে জানল আমি ক্যাডেট। সে তো মহা খুশি। ইংলিশ দেখালাম। একটু ম্যাথ দেখতে চাইলে বলল- পারি না। মনে মনে বললাম, বাহ! বুয়েটের প্রস্তুতি নিয়ে ম্যাথ পারো না! ( তখন তো আর বাহ ভালো তো! ভালো না? এই কথাটা জানতাম না!)
টেক্সটাইল এর পরীক্ষা, ইঞ্জিনীয়ারিং কোচিং করি নি, ভালো ছাত্র ও না। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে শুরু করলাম, একের পর এক উত্তর বের করলাম আর বসালাম। সামনের মেয়েটি ইংলিশ দেখতে চাইল, ক্যাডেট সুলভ আচরণের কারণে স্বভাবতই দেখালাম। ভাবলাম, ম্যাথ তো অনেকগুলোই পারি নি, জিজ্ঞাসা করা যাক। জিজ্ঞাসা করতেই বলল – পারি না ! আমি পেছন থেকেও দেখতে পাচ্ছিলাম তার উত্তরপত্রের সব বৃত্তই একেকটি ব্লাক হোলের মতই কালো। মন টা আবার খারাপ হল। কিছুক্ষন পর আবার পেছনে ফিরে জিজ্ঞেস করলো- ইংলিশ এত নাম্বার টা কত? O:-)
আমি নিরুত্তর, এবং আমার খাতা উলটিয়ে একপাশে রাখা… (আর কত?) x-(

অবশেষে রেজাল্ট, এক বন্ধু ফোন করে বলল- দোস্ত রাজশাহী তে তুই ৩৩ তম হইছছ, বি বি এ তে! বিশ্বাস করি নি নিজে দেখার আগ পর্যন্ত, জাহাঙ্গীরনগর আই বি এ ও পেয়েছিলাম, সে কথা আলাদা।

টেক্সটাইল এ ভর্তি হতে গিয়েছি। বাসায় সকাল বেলাও ঝগড়া করে এসেছি। আমার ইচ্ছা ফ্যাশন ডিজাইনিং নিবো, বাসার কেউ রাজি না। এডমিশন রুম এর সামনে দাঁড়িয়ে বাসায় বোঝানোর শেষ চেষ্টা। পাশে টেক্সটাইলের ই সি সি সির এক বড় ভাই। কোথা থেকে এক ছেলে এসে বলে, ভাইয়া আসসালামু আলাইকুম, আমি অমুক, পি সি সি। এমনিতেই মাথা গরম। ভ্রু কুচকে তাকালাম একবার ওর দিকে একবার আমার ট্র্যাক স্যুট এর দিকে- যেখানে চোখে পড়ার মতো যথেষ্ট বড় করে লেখা- এস সি সি, ২০০৬-২০১২।
ক্লাসমেটের সাথে কথা বলতে থাকলাম কিছুক্ষন।
বললো- তুই অ্যাপারেল নিস না কেন?
আমি বললাম আমার পজিশন ১১৪১ ! ম্যানেজমেন্ট এর ১ম কল!
বললো- ওহ তুই ইজিলি অ্যাপারেল পাবি।
আমি বললাম    :-o   কেমনে !?! তোর পজিশন কত?
বললো- (১৩০০-১৪০০) কিছু একটা। কেন তোর কোটা নাই??!
শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছিল, কি দোষ করেছিলাম একটা কোটা না নিয়ে এই যুগে জন্ম নিয়ে। :bash:
আমি জানি না তখন কি করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন জানি। গলা ফাটিয়ে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলাম- “কোটা কি বাংলালিংক দামে পাইছছ?”
:gulli:

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/siam/38745/feed 8
চুপকথা(১-৫) http://www.cadetcollegeblog.com/rabbi-ahmed/38744 http://www.cadetcollegeblog.com/rabbi-ahmed/38744#comments Fri, 17 May 2013 08:58:13 +0000 রাব্বী (২০০৫-২০১১) http://www.cadetcollegeblog.com/?p=38744 “চুপকথা” সিরিজের পাঁচটি
কবিতা:

এক.

রাত কেটে যাক চুমোতে
আজ দেবোনা ঘুমোতে

দুই.

অন্য সব ব্যাপারে হলাম না হয় অজ্ঞ
আজ থেকে আমি শুধু তুমি বিশেষজ্ঞ।

তিন.

গালের সাথে গাল মিলিয়ে তালের সাথে তাল
তোমার আমার কাটুক সময় দেখুক মহাকাল।

চার.

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপ
তোমার কপালের টিপ

পাঁচ.

তার চুলের সাথে মেঘ করেছে আজন্ম এক সন্ধি
নিকষ আঁধার সেই চুলেরই শুধুই প্রতিদ্বন্দী
তার চোখের সাথে কাজল দিঘীর মিল পেয়েছি তাই
রৌদ্রালোকে চেয়ে দেখি দিঘীর জল নাই. .

রাব্বী আহমেদ

]]>
http://www.cadetcollegeblog.com/rabbi-ahmed/38744/feed 1