<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ</title>
	<atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.cadetcollegeblog.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Mon, 14 May 2012 19:01:41 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	
		<item>
		<title>যখন আমি ক্যাডেট ছিলাম (পর্ব ২)</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/kheya/36427</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/kheya/36427#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 14 May 2012 19:01:41 +0000</pubDate>
		<dc:creator>খেয়া (০৬ - ১১)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36427</guid>
		<description><![CDATA[ওই দেখা যায় ক্যাডেট কলেজঃ খাওয়ার টেবিলে আজ সবাই খুব চুপচাপ; মাঝেমাঝে চামচের টুংটাং শব্দ হচ্ছে নীরবতা ভেঙ্গে। এমনকি আমার বাচাল ছোট ভাইটাও কথা না বলে খেয়ে যাচ্ছে নিরবে। আজকে আমার পছন্দের খাবারগুলো রান্না করেছে মামনি। রান্না হয়েছেও চমৎকার। অথচ দেখে মনে হচ্ছেনা খাওয়ায় রুচি আছে কারো। নববর্ষের দিন আজ, কিন্তু কেউ বাইরে বের হইনি [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong>ওই দেখা যায় ক্যাডেট কলেজঃ</strong><strong></strong></p>
<p>খাওয়ার টেবিলে আজ সবাই খুব চুপচাপ; মাঝেমাঝে চামচের টুংটাং শব্দ হচ্ছে নীরবতা ভেঙ্গে। এমনকি আমার বাচাল ছোট ভাইটাও কথা না বলে খেয়ে যাচ্ছে নিরবে। আজকে আমার পছন্দের খাবারগুলো রান্না করেছে মামনি। রান্না হয়েছেও চমৎকার। অথচ দেখে মনে হচ্ছেনা খাওয়ায় রুচি আছে কারো। নববর্ষের দিন আজ, কিন্তু কেউ বাইরে বের হইনি আজকে, কারণ কালকে আমার ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার দিন। আজকে সাড়ে তিনটার ট্রেনে রওয়ানা হবো ফেনীর উদ্দেশ্যে। ব্যাগ গোছানো শেষ, ক্যাডেট কলেজের দেওয়া লিস্ট অনুযায়ী গত কয়েকদিনে সব কেনাকাটা করেছে মা। কতরকম জিনিস যে কেনা লাগলো! অক্সফোর্ড নামে যে একটা জুতো আছে তাই আমি আগে জানতাম না। পাপা ঠাট্টা করে মাকে বলে,”ভালই তো হোল, মেয়ে বিয়ে দেবার সময় তো অনেক কিছু কিনতে হতোই, এখন সেটার একটা প্র্যাকটিস হোল কি বল?” মা মুখ বাঁকিয়ে বলে,” কচু। মেয়ে বিয়ে দিতে হলে কি এত টিকা, ভ্যাকসিন দেয়া লাগত নাকি?” সত্যি, ভ্যাকসিন দেয়া আর রক্ত পরীক্ষা করানোর অভিজ্ঞতা আমার কাছে ছিল দুঃস্বপ্নের মত। বিশেষ করে রক্ত পরীক্ষার সময় যখন ইয়া বড় একটা সুঁই আমার হাতে ঢুকিয়েছিল, তখন ব্যাথা কতটুকু পেয়েছি জানিনা, কিন্তু চিৎকার করেছি গলা ফাটিয়ে। আরও মজার ব্যপার হল, হাতে তুলা চেপে যখন বাইরে এসে দাঁড়িয়েছি, তখন দেখি কি মা চোখে আঁচল চেপে দাঁড়িয়ে, কেঁদে কেঁদে চোখ লাল! ব্যথা ভুলে আমি চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে থাকি মায়ের দিকে,” মা! ব্যথা পেলাম আমি আর কাঁদছ তুমি! মা তাড়াতাড়ি চোখ মুছে বলে,” তোর গায়ে কখনো মশার কামড়ের দাগ পড়তে দেইনি। তোর গায়ে সুঁই  ঢুকালে আমি ব্যথা পাই না?” আমি মাথা নেড়ে সায় দেই, কথাটা ভুল বলেনি মা। আমার গায়ে কেউ হাত তুললে মা সত্যি কেমন যেন পাগল পাগল হয়ে যায়, কোন ভাবে ব্যথা পেলেও মাথাটা বিগড়ে যায় একদম। শীতের দিনে একবার মা গোসলের জন্য পানি গরম করে সেটা নামিয়ে রেখে দরজা খুলতে গিয়েছিলো। আর ছোট্ট আমি হেলেদুলে গিয়ে হাঁড়ির ফুটন্ত পানিতে গিয়ে দিলাম পা ডুবিয়ে। তারপর কি হল বলার অপেক্ষা রাখেনা। পায়ের পোড়া ক্ষত না শুকানো অব্দি মা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে আমাকে কোলে নিয়ে বসে থাকতো। ওইদিন থেকে আজ পযন্ত মা কনকনে শীতের দিনেও গরম পানি দিয়ে গোসল করেনি। সুতরাং আমার হাতে সুঁই ঢুকালে মা ব্যথা পেতেই পারে, এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই।</p>
<p>আজকে খেতে বসে যে মা কিছুই খেতে পারছেনা সেটা আমি স্পষ্টই বুঝতে পারছি। একটু ভাত আর ডাল নিয়ে নাড়াচাড়া করে খাবার ভান করছে শুধু। আমি একটু পানি খেয়ে নিয়ে মাকে বলি,” মা,তুমি কিছু খাচ্ছনা না কেন?” মা চমকে বলে উঠে,”কই,খাচ্ছি তো! তুই খাচ্ছিস না কেন? আরেক টুকরা মাছ নে। কাল থেকে কোথায় পাবি এইসব?” বলতে বলতে মায়ের গলাটা কেঁপে যায়। সে টা খেয়াল না করার ভঙ্গিতে আমি বললাম, “ক্যাডেট এ এর চেয়ে আরও ভাল খাবার দিবে। শুনলে না মুকিদ ভাইয়ার আম্মু কি বললেন? “ মুকিদ ভাইয়া আমাদের একমাত্র পরিচিত ক্যাডেট। ফৌজদারহাটে পড়ে। মা আমার কথায় তেমন একটা ভরসা পেল বলে মনে হয় না। মুখ কাল করেই বলল, “কিন্তু ওখানকার রান্না যদি খেতে না পারিস?” আমি এবার হেসে ফেলি,” মা, তুমি আমাকে যে হারে খাওয়াচ্ছ, ছয় মাস না খেয়ে থাকলেও আমার কিচ্ছু হবে না। আমার গায়ে এমনি অনেক গোশত। আরেকটু হলে  overweight হয়ে বাদ পরে যেতাম। আল্লাহর দোহাই লাগে,তুমি টেনশন টা একটু কমাও। আর দয়া করে একটু খাও, জার্নি করতে হবে কিন্তু।“ পাপা আর সৃষ্টি(আমার ছোটভাই) এতক্ষণ চুপচাপ বসে আমাদের কথা শুনছিল। এবারে পাপা মুখ খুলে,” খেয়াসোনা, জুতার ফিতা বাঁধাটা মনে আছে তো?” আমি দু্রবল ভাবে মাথা নাড়ি। টেবিলের সবাই হেসে ফেলে একসাথে। কাল রাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা দুধরষ পরিশ্রমের পরনামি জুতার ফিতা বাধা শিখেছি। সামান্য জুতার ফিতা বাঁধায় যে এত অসামান্য কারিগরি তা কে জানতো? হঠাৎ মায়ের ফোন বেজে উঠে। “নিশ্চয়ই তোর ফোন।যা কথা বলে আয়।“ আমি হাত না ধুয়েই দৌড় দেই ফোন ধরতে। গত কয়েকদিনে যে কতো ঘণ্টা ফোনে কথা বলেছি তার হিসাব নেই। সব আত্মীয়স্বজনরা ফোন করেছেন, কয়েকদফা দেখাসাক্ষাৎ হয়ে গেছে এর মধ্যেই। সবার হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে আমাকে চিরবিদায় দিচ্ছে। ক্যাডেট কলেজ থেকে আর ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। স্কুল আর কোচিং এ বিদায় নিতে যাওয়ার সময়ও দেখি সবার চোখ ছলছল। সারা তো কেঁদেকেটে হুলস্থূল কাণ্ড বাঁধিয়ে ফেললো। ওর কান্না দেখে আমার খুব কান্না পেয়ে যাচ্ছিলো। স্যার-ম্যাডামরাও অনেক আদর করলেন, এমনকি লাকি ম্যাডাম পযন্ত বুকে চেপে ধরে আদর করে দিলেন! গানের স্কুলে বিদায় নিতে গেলাম একদিন। সতীর্থরা ছলছল চোখে বিদায় দিল। নববর্ষের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের রিহার্সাল চলছিলো সেইদিন। সত্যি বলতে কি আমারও বেশ খারাপই লাগছিলো। প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানটায় আমি গান করি,এবার কিছুই করা হলনা।১৫ তারিখে কলেজে পৌঁছাতে হবে যে!</p>
<p>অন্যরকম কিছু অভিজ্ঞতাও হয়েছে অবশ্য। আমার সাথে আরেকটা মেয়ে ভরতিপরীক্ষা দিয়েছিল ক্যাডেটে,কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত চান্স পায়নি। ওর মনখারাপ দেখে আমারো খারাপ লাগছিলো, কিন্তু ওকে কি বলা উচিৎ সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না। কোচিং এ বিদায় নিতে যাওয়ার সময় শুনি ও বলছে,” ভালো হইছে চান্স পাইনি। আমার মামা অনেক বড় আর্মি অফিসার, উনি বলেছেন নতুন কলেজে একদম পড়াশোনা হবেনা। ধানক্ষেতের মধ্যে ক্যাডেট কলেজ বানিয়ে রেখেছে নাকি!” কথাটা শুনে কিছু বলিনা আমি,সারা খুব কড়া একটা জবাব দিতে যাচ্ছিলো, ওকেও আটকালাম হাত ধরে। কি দরকার শুধুশুধু ঝামেলা করে। ভেতরে ভেতরে একটু দমে যাই নিজেও। সত্যিই কি ধানক্ষেতের মধ্যে ক্যাডেট কলেজ বানিয়ে রেখেছে! পাপাকে বলতেই সব হেসে উড়িয়ে দেয়,” আরে বেটি, ও মন খারাপ করেছে তো তাইহয়তো ওর মামা সান্তনা দিয়েছেন এসব বলে।“ পাপার কথায় মনের জোর ফিরে পাই আমি।মনভালো হয়না শুধু মায়ের, আসন্ন বিচ্ছেদব্যথায় সে সবসময় কাতর হয়ে থাকে।</p>
<p>ট্রেনে উঠে যতক্ষণ পারা যায় আমার প্রিয় নরসিংদীর দিকে তাকিয়ে থাকি আমি। বৈশাখী মেলা জমে উঠেছে রেললাইনের দু’ধারের বিশাল মাঠে।ইশ,মেলায় যাওয়া হলনা এবার! আমার গা ঘেঁষে চুপচাপ বসে আছে সৃষ্টি। গতকয়েকদিন যাবৎ অস্বাভাবিকরকম শান্ত হয়ে আছে ও। স্বভাবসুলভ দুষ্টুমি ভুলে সারাক্ষণ লেগে আছে আমার গায়ে গায়ে। পিচ্চি ভাইটার জন্য মায়ায় আমার বুকটা ভরে উঠে। বাম হাতটা দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরি আমি। মামনি-পাপা বসেছে আমাদের মুখোমুখি সীটে। দু’জন স্বাভাবিক থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে,কিন্তু মনের মেঘের ছায়ায় কালো হয়ে আছে মুখ। জোর করে চোখ সরিয়ে নিয়ে জানালার বাইরে তাকাই আমি। ট্রেন এগিয়ে চলে হেলেদুলে।</p>
<p>রাতের ফেনী শহরে যখন ট্রেনটা পোঁছাল, তখন বেশ রাত হয়ে গিয়েছে। নতুন জায়গা, বেশ কৌতুহল নিয়েই চারপাশটা দেখতে শুরু করি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। ক্লান্ত যাত্রীরা ব্যাগ টেনে নিয়ে এগোচ্ছে, রিকশাওয়ালাদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা ট্রেনে উঠছে হুড়মুড়িয়ে, কেউ কেউ রাস্তার দু’ধারের হোটেলগুলোর দিকেও এগোচ্ছে। কাল দুপুর পর্যন্ত হোটেলে কাটাবো আমরা। সিএনজিতে উঠে মা জিজ্ঞাসা করে,”ক্ষুধা লেগেছে আম্মু?” আমি মিনমিন করে বলি,”না না ঠিক আছে।“ মা হেসে ফেলে,”এত সংকোচ নিয়ে তুই অখানে টিকবি কেমন করে?” ওখানে কি তোর মা থাকবে? সোনামণি, নিজেরটা বুঝতে হবেনা?যাই খেতে দিবে,পেটভরে খেয়ে নিবে, স্বাদ যাইহোক। কেমন?” আমার কেমন যেন অসহায় বোধ হয়, মা প্লেটে তুলে না দিলে,নিজে বসে থেকে না খাওয়ালে একা একা খাওয়ার কথা তো আমার কল্পনাতেই আসেনা! এখন থেকে আমাকে তাই করতে হবে? আমার বুকটা কেমন ফাঁকা হয়ে যায়। সেটা টের পেয়েই বোধহয় মা আমাকে কাছে টেনে নেয়, মায়ের বুকে মুখ গুঁজে প্রথমবারের মত আমি হু হু করে কেঁদে ফেলি। মাও কাঁদতে থাকে বাচ্চাদের মতো। ড্রাইভার আঙ্কেল অবাক হয়ে বারবার ফিরে তাকান আমাদের দিকে।</p>
<p>মা সারারাত বুকে চেপে ধরে রাখে, মনে হয় যেন একটু ছেড়ে দিলেই আমি হারিয়ে যাবো কোথাও। সকালটা চারজনে গল্প করে কাটিয়ে দেই আমরা, টিভিতে ক্রিকেট ম্যাচ চলছে, স্কোর দেখি ফাঁকেফাঁকে। দুপুরে মা ভাত মাখিয়ে খাওয়িয়ে দেয়। ব্যাগট্যাগ নিয়ে দুপুরের দিকে রওয়ানা দিলাম ক্যাডেট কলেজের দিকে। কলেজটা মূল শহর থেকে দূরে, দেখতে দেখতে দোকানপাট সরে গিয়ে সবুজগাছপালা আর ধানক্ষেত জায়গা করে নেয় রাস্তার দু’ধারে। “ধানক্ষেতের মধ্যে ক্যাডেট কলেজ”- কথাটা মনে করে ঢোক গিলি কয়েকবার। মা মাঝেমাঝেই ধমক দিচ্ছে মৃদুস্বরে। “অত ঝুঁকে বসে না মা,পড়ে যাবি তো!” মা যে কী না!ক্লাস এইটের এতো বড় মেয়ে মেয়ে বুঝি পড়ে যাবে সিএনজি থেকে? হঠাৎ পাপা চিৎকার করে বলে,”খেয়াসোনা, ঐ যে দেখো তোমার ক্যাডেট কলেজ!” পাপার কথায় চমকে তাকাই গলা বাড়িয়ে, একরাশ সবুজের মধ্যে মরুভূমির মতো একটু জায়গা,তাতে আধুনিক কয়েকটা বিল্ডিং দাঁড়িয়ে আছে। কাজ যে এখনও শেষ হয়নি বোঝাই যাচ্ছে, ছাদে ইয়াবড় কতোগুলো রড বের হয়ে আছে। কোন বাউণ্ডারি ওয়াল নেই। কিছুটা বিস্ময়,কিছুটা অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে থাকি কলেজটার দিকে।</p>
<p>সৃষ্টি সিএনজির ভেতর থেকে ওর ছোট্ট হাতটা বাড়িয়ে বলে,” আপু,ওই দেখো  ক্যাডেট কলেজ!”</p>
<p>(চলবে)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/kheya/36427/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>11</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>&#8220;মা&#8221;</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/azizul/36431</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/azizul/36431#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 14 May 2012 16:16:52 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আত্মজীবনী]]></category>
		<category><![CDATA[ফৌজদারহাট]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36431</guid>
		<description><![CDATA[দিনটা ছিল শুক্রবার । সারা দিন টানা ক্লাশ ছিল। দুপুরে খাবার ও সময় মিলেনি। পেটে ইঁদুরের দৌড়োনি।হোস্টেলে এসে ভাত রেধে খাবো ভেবেই ভাল লাগছে।পিটার হিলি ওয়েগ-১৩, স্টুডেন্টস হোস্টেল, ১০০৮ নম্বর রুম। &#8216;এক&#8217; নিচের তলা নির্দেশক।ইন্টারনেশনাল উইং। পার্টিকোতে থরে থরে সাজানো লেটার বক্স থেকে নিজের টাতে হাত দিয়ে একটা কার্ড পেলাম। একটা &#8216;প্যেকেট&#8217; ডেলিভারি নোটিস।বাংলাদেশ থেকে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>দিনটা ছিল শুক্রবার ।</p>
<p>সারা দিন টানা ক্লাশ ছিল। দুপুরে খাবার ও সময় মিলেনি। পেটে ইঁদুরের দৌড়োনি।হোস্টেলে এসে ভাত রেধে খাবো ভেবেই ভাল লাগছে।পিটার হিলি ওয়েগ-১৩, স্টুডেন্টস হোস্টেল, ১০০৮ নম্বর রুম। &#8216;এক&#8217; নিচের তলা নির্দেশক।ইন্টারনেশনাল উইং। পার্টিকোতে থরে থরে সাজানো লেটার বক্স থেকে নিজের টাতে হাত দিয়ে একটা কার্ড পেলাম। একটা &#8216;প্যেকেট&#8217; ডেলিভারি নোটিস।বাংলাদেশ থেকে এসছে। বিকাল পাঁচটার মধ্যে &#8216; হোপ্ট পোস্ট আম্ট &#8216; (Head Post Office) থেকে সংগ্রহ করতে হবে।</p>
<p>সময় বিকাল সাড়ে চারটা । তাড়াহুড়া করে গেলে হয়ত পোস্ট অফিস খোলা পাওয়াও যেতে পারে। এক লাফে গাড়ীতে গিয়ে উঠলাম। দশ মিনিট বাকি থাকতেই পৌঁছে গেলাম । ডেলিভারি নোটিস আর আই ডি দিতেই ভেতর থেকে সাদা মার্কিন কাপড়ে প্যাক করা, বাবার হাতের ঠিকানা লিখা প্যেকেটা টা এনে দিলো।</p>
<p>&#8216;ফিলেন ডাঙ্ক, ডাঙ্কে সুন&#8217; সহ সমস্ত ভদ্রতা শেষে গাড়ীতে উঠেই প্যেকেটা ছিঁড়তে লাগলাম।</p>
<p>ভেতর থেকে রঙিন কারু কাজ করা পাতলা পাঞ্জাবি, পাটের টেবিল ম্যাট, ছিকে ও আমার অর্ডারি হস্ত শিল্পের অন্যান্য সামগ্রির সাথে ছোট্ট একটা &#8216; ডানোর কৌটায়&#8217; মহামূল্যবান জিনিস বেরলো !</p>
<p>আমাদের ঢাকার গ্রামে &#8221; কাটা পিঠা &#8221; নামে পরিচিত। অর্ধ চন্দ্র (ক্রিসেন্ট) আকৃতির চালের গুঁড়ির আটায় বানানো তেলে ভাজা মচ মচে পিঠা। ভিতরে নারিকেল-গুড়ের পুলি ঠাঁসা।অনেকটা &#8216;মুখশালা&#8217; পিঠার মত, কিন্তু মচ মচে ভাজা আর নারকেল পুলির জন্যে ভাল থাকে বহু দিন।</p>
<p>এর চেয়ে আরো মুল্যবান কিছু আমার জন্যে অপেক্ষা করছিল।</p>
<p>বাদামি একটা খামে মা, বাবা, বোনদের চিঠি। সাথে মহামূল্যবান একটি &#8216; ক্যেসেট &#8216;। এক পীঠে সকলের কথা টেপ করা।বাবা ছাড়া। অন্য পিঠে বাংলা গান।</p>
<p>আশির দশকের প্রেক্ষিতে, যখন মোবাইল-ই মেইল তো দুরের কথা, বছরে একবার &#8216; ল্যান্ড ফোনে&#8217; লং ডিসট্যান্স কল বাংলাদেশে কানেকশান পাওয়াই দুষ্কর ছিল, চিঠিই যখন একমাত্র ভরসা, তখন অতি দূর দেশে মা&#8217;র কণ্ঠস্বরতো দ্বৈব বানীর মত! গাড়ির রেকর্ডারে কেস্যেটটা ঢুকাতেই ভেসে আসলো মা&#8217;এর  গলার আওয়াজ।</p>
<p>আজিজ&#8230;&#8230;&#8230; আ&#8230;জি&#8230;.জ&#8230;. বাবা&#8230;, মা&#8217;র কান্না ভরা রুদ্র কণ্ঠস্বর আমাকে  হ্যাঁচকা টানে মর্তে নামিয়ে আনলো ।হটাৎ পৃথিবীটা ফাকা মনে হলো।সেদিনের টি ভিতে দেখা আমি যেন সেই লাইফ লাইন ছিঁড়ে যাওয়া দুর্ঘটনাকবলিত রাশিয়ান &#8216; সুয়েজের এস্ঢ্রনট্ &#8216; । একা মহাশুন্যের অন্ধকারের অতলান্তে হারিয়ে যাচ্ছি!</p>
<p>নেশা আমাকে কখনো আকর্ষণ করেনি। তাই প্রয়োজনও অনুভব করিনি তেমন। কিন্তু তখন প্রতিটি রক্ত কণা দেশের জন্যে, মা&#8217;এর কাছে ফিরার জন্যে নিজের ভেতরে বিদ্রোহ করে বসলো।</p>
<p>&#8221; Tackt&#8221; ডিসকোটেক্ট টা একিই পার্কিং ইয়ার্ডের অপর দিকে। ওরা সবে ধুয়ে মুছে শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্টুডেন্ট ডিসকো হিসাবে আসা যাওয়া থাকলে ও বার টেন্ডার মোটকু আমাকে কখনই হার্ড ড্রিঙ্কস গেলাতে পারেনি।</p>
<p>আজ গাড়িতে বসেই ওকে কিছু একটা নিয়ে এসে আমার সাথে সামিল হওয়ার জন্যে অনুরোধ করলাম।</p>
<p>তারপর আর কিছু মনে নেই। ঘুম যখন ভাঙল, তখন শনিবার সন্ধ্যা হয়ে গেছে। পুরোপুরি চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে।</p>
<p>এরপর কেটে গেছে কত বছর&#8230;, কত শত মাইল একাকি অটোবানের ( হাই ওয়ে&#8217;র) একমাত্র সাথি হয়েছে &#8221; নাই টেলিফোন, নাই রে পিয়ন &#8221; বা &#8220;পাপিয়ারে পাপিয়া, দোজনে মিলিয়া আয় না মিতালি করি&#8230;।&#8221; সেই বাংলা গানের ক্যেসেট টা!</p>
<p>সাথে মা&#8217;র কণ্ঠ &#8221; আজিজ&#8221;&#8230; কেমন আছিস বাবা? ।।</p>
<p>দুই হাজার সালের সেই দিনটা থেকে আর &#8220;আজিজ&#8221; ডাকটি শুনতে পাইনা। ক্যাসেট টিও কোথায়ও আর খুজে পাইনি আর।</p>
<p>&#8220;মা দিবস&#8221; গুলি কেন যে প্রতি বছর ঘুরে ঘুরে আসে,</p>
<p>ধ্যেৎ !</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/azizul/36431/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বিড়ম্বনা&#8230;</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/scorpion1241/36428</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/scorpion1241/36428#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 14 May 2012 15:21:58 +0000</pubDate>
		<dc:creator>মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ছড়া]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>
		<category><![CDATA[আইফোন]]></category>
		<category><![CDATA[ছড়া]]></category>
		<category><![CDATA[মোবাইল]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36428</guid>
		<description><![CDATA[চরম ভাবে ছিলাম আমি আইফোন নিয়ে, কত কাজই করা যায় এ ফোন দিয়ে। হঠাৎ কি এক কারনে যাচ্ছে না কোন কল। মেজাজ খারাপ করে আমি পাড়ছি সমান গাল। এরি মাঝে এক সৈনিক আমার কাছে এসে, &#8220;স্যার নকিয়া বেশী ভাল&#8221; বলল মুচকি হেসে। কথা শুনে টাশকী খেয়ে বললাম আমি তাই, তবে আমি কোন দুঃখে কিনতে গেলাম [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2012/05/iphone-apple-logo-01.jpg"><img src="http://static.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2012/05/iphone-apple-logo-01.jpg" alt="" title="আইফোন" width="320" height="300" class="aligncenter size-full wp-image-36430" /></a><br />
চরম ভাবে ছিলাম আমি<br />
আইফোন নিয়ে,<br />
কত কাজই করা যায়<br />
এ ফোন দিয়ে।</p>
<p>হঠাৎ কি এক কারনে<br />
যাচ্ছে না কোন কল।<br />
মেজাজ খারাপ করে আমি<br />
পাড়ছি সমান গাল।</p>
<p>এরি মাঝে এক সৈনিক<br />
আমার কাছে এসে,<br />
&#8220;স্যার নকিয়া বেশী ভাল&#8221;<br />
বলল মুচকি হেসে।<br />
কথা শুনে টাশকী খেয়ে<br />
বললাম আমি তাই,<br />
তবে আমি কোন দুঃখে<br />
কিনতে গেলাম &#8216;আই&#8217;?</p>
<p>সৈনিকের উত্তর শুনে<br />
লজ্জ্বা পেলাম আমি<br />
&#8220;চাইনিজ না কিনে<br />
কিনতেন একটু দামী&#8221;<br />
চাইনিজ কেন হবে?<br />
বললাম আমি কেশে,<br />
&#8220;তাইতো মনে হচ্ছে<br />
উহার বেশভুষে&#8221;।</p>
<p>হায় চাইনিজ তোর কারণে<br />
ইজ্জত কিছু নাই,<br />
আইফোন দেখে নাকি<br />
চাইনিজ মনে হয়???</p>
<p> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/th_wallbash.gif' alt=':bash:' class='wp-smiley' />  <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/th_wallbash.gif' alt=':bash:' class='wp-smiley' />  <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/th_wallbash.gif' alt=':bash:' class='wp-smiley' /><br />
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/scorpion1241/36428/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমি যখন ক্যাডেট ছিলাম</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/kheya/36424</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/kheya/36424#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 14 May 2012 07:24:23 +0000</pubDate>
		<dc:creator>খেয়া (০৬ - ১১)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আত্মজীবনী]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36424</guid>
		<description><![CDATA[&#160; লক্ষ্য যখন ক্যাডেট হওয়া : রাগে গজগজ করতে করতে মোড়টা পেরোলাম ।-“এতো সকালে মানুষ ওঠে ঘুম থেকে ? ওঠে কাক । আমি কি কাক ? কেন কোচিংটা এই কাকডাকা ভোরেই হতে হবে ?” প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে ভীষণ কষ্ট হয় আমার । কোনমতে নামায পড়ে পোশাকটা বদলে আসতে গিয়ে অবধারিতভাবে দেরী হয় প্রতিদিন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>&nbsp;</p>
<p>লক্ষ্য যখন ক্যাডেট হওয়া :</p>
<p>রাগে গজগজ করতে করতে মোড়টা পেরোলাম ।-“এতো সকালে মানুষ ওঠে ঘুম থেকে ? ওঠে কাক । আমি কি কাক ? কেন কোচিংটা এই কাকডাকা ভোরেই হতে হবে ?” প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে ভীষণ কষ্ট হয় আমার । কোনমতে নামায পড়ে পোশাকটা বদলে আসতে গিয়ে অবধারিতভাবে দেরী হয় প্রতিদিন । তাই প্রথম ক্লাসে দাঁড়িয়ে থাকাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে । আজ কি বার মনে করার চেষ্টা করলাম । শুক্রবার ! ভাবতেই বুকের রক্ত হিম হয়ে এলো , লাকী ম্যাডাম ! ম্যাডামের তেলমাখানো বেতটার সুমধুর শপাং শপাং শব্দটা মনে পড়তেই হাঁটার গতি বেড়ে গেলো অনেকখানি । যখন ভাবতে শুরু করেছি যে কোচিং এ আর পৌঁছাতে পারবনা ঠিক তখন সদর দরজায় পৌঁছে গেলাম । পরিচিত এক আংকেল কে দেখে সালাম ও দিলাম । কিন্তু কপাল মন্দ হলে যা হয় আরকি । কেন যেন আজকেই উনার আমার কুশলাদি জানতে ইচ্ছা করলো এবং আঙ্কেল বেশ আন্তরিকতা নিয়েই আমার পড়াশোনা, আমার বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন । আমি মোটামুটি ধৈয্য ধরেই জবাব দিলাম সব প্রশ্নের । বেতের বাড়ির সুমধুর অভ্যর্থনা যখন অবধারিত হয়েই গেছে, তখন দুএকটা কমবেশি হলে আর কি বা এমন হবে ? হঠাৎ কি একটা কথা মনে পড়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে আঙ্কেল বললেন, “আম্মু, আজকে তো তোমার ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল দিয়েছে জানো তো ?” কথাটা শুনে চেপে রাখা হাসিটা আর লুকাতে পারলাম না । হি হি করে হাসতে হাসতে বললাম,” না আঙ্কেল, জানিনা তো !” আঙ্কেল এর মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম আমাকে হাসতে দেখে উনি অবাক হয়েছেন । আসলে গত ১৫ দিনে এই ফলাফল প্রকাশের গুজবে এতো বেশি নাকাল হয়েছি যে আর ঠিক করেছি আর কারো কথায় কান দেবো না । ক্যাডেট নিয়ে আমার আগ্রহের কথা মোটামুটি সবাই কমবেশি জানে । গতবছর ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজে ভর্তির চেষ্টা করেছিলাম, লিখিত পরীক্ষায় উতরে গেলেও চূড়ান্তভাবে বাদ পরেছি। ফলাফলের পর কিছুদিন খুব মনমরা হয়ে ছিলাম, কান্নাও করেছি একটু একটু কাউকে না দেখিয়ে । তারপর অবশ্য সব স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে, ক্লাস সেভেন এর নির্ঝঞ্ঝাট জীবনটা বন্ধুদের নিয়ে বেশ ভালভাবেই কাটিয়ে দিচ্ছিলাম প্রায়, কিন্তু বাদ সাধলেন মুকুল স্যার । এক কপি প্রথম আলো হাতে হাজির হলেন বাসায়। উনার কাছ থেকেই শুনলাম ফেনী আর জয়পুরহাটে নাকি ২ টা নতুন গার্লস ক্যাডেট কলেজ করা হয়েছে। সেভেন-এইট দুই ক্লাসের জন্যই ভরতির আবেদন করা যাবে। শুরুতে একটু দ্বিধান্বিত হয়ে গেলেও পরে ফর্ম আমিও তুলেছি এবং পরীক্ষাও দিয়েছি। যদিও মনে হয় না এবারেও গতবারের ব্যাতিক্রম হবে। নিছক কৌতুহলের বশেই ফলাফল জানতে চাওয়া।</p>
<p>“May I come in madam?“- অনেক চেষ্টার পরেও চিঁ চিঁ শব্দের বেশিকিছু বের হলনা মুখ দিয়ে। “No, you can’t.”- আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন লাকি ম্যাডাম। অন্য কারো ক্লাসে হলে বলার ভঙ্গিতে হেসে ফেলত সবাই। কিন্তু ম্যাডামের ক্লাসে নিঃশ্বাস টাও ফেলতে হয় খুব সাবধানে। তাই হাসি চেপেই বসে থাকল সবাই। ঘড়ির দিকে চোখ গেল আমার, পুরো ১০ মিনিট দেরি! ম্যাডামের সামনে দাঁড়িয়ে থাকব না দৌড়ে গিয়ে ট্রাকের নিচে পরে যাব ভাবতে লাগলাম চুপচাপ। ধীরেসুস্থে বোর্ড এর লেখা শেষ করে আমার দিকে তাকালেন ম্যাডাম।”কি করতে পারি আপনার জন্য?”- ভুরু নাচিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। “ইয়ে মানে তেমন কিছু না ম্যাডাম, শুধু ভেতরে আসতে দিলেই হবে।“-প্রায় তোতলাতে থাকি আমি। “সত্যি?ভেতরে আসতে দিলেই হবে? কিন্তু তার আগে বলেন তো ১০ মিনিট লেট হলেন কেন?’-আসামি জেরা করার ভঙ্গিতে বললেন ম্যাডাম। “ইয়োর অনার,আমি সময়মতই কোচিং এ এসে পৌঁছেছিলাম, কিন্তু দরজায় শ্রদ্ধেয় খায়রুল আঙ্কেল এর সাথে কুশলাদি বিনিময় করতে গিয়ে ১০ মিনিট অতিবাহিত হয়ে গেছে। আমি জানি এই গুরুতর অন্যায়ের জন্য আপনি আমার জন্য বেত্রাঘাত বরাদ্দ রেখেছেন। তা প্রদান করে হলেও আমাকে প্রবেশ করতে দিন।“- আমার দুঃসাহসী উত্তরে প্রথম কয়েক টা মুহূর্ত পুরো ক্লাস স্তব্ধ হয়ে রইলো । তারপর আমাকে হতভম্ব করে  দিয়ে সবাই হোহো করে হেসে ফেলল। তারচেয়েও বিরল ব্যাপার, ম্যাডামও হেসে ফেললেন ভালো মানুষের মতো। ম্যাডাম এমনিতেই দেখতে সুন্দরি,হাসলে যে এতো সুন্দর দেখায় তা কে জানত? ভয়ডর ভুলে গিয়ে আমি হা করে ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে রইলাম। হাসিটা লুকিয়ে ফেলে গম্ভীর হউয়ার চেষ্টা করে ম্যাডাম বল্লেন,”আসেন,ভেতরে আসেন।“ আটকে থাকা নিঃশ্বাস টা সাবধানে বের করে দিলাম, অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেছি আজকে। আমাকে দেখে সারা ডানপাশে সরে গিয়ে বসবার জায়গা করে দিল। “homework করেছ তো? “-প্রায় ফিসফিস করে ও জিজ্ঞাসা করে। “হ্যাঁ, করেছি। “-কেউ ফিসফিস করে কথা বললে জবাবটাও সেভাবেই দিতে হয়,তাই কথাটা বললাম খুব নিচুগলায়। কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই ম্যাডামের ক্লাস টা পার হল। শাস্তি ছাড়া আমি মাফ পেয়ে গেলাম এটা মেনে নেয়া ক্লাসের ছেলেদের জন্য খুবই কঠিন ব্যাপার, প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। কাজেই সজীব পাকা গোয়েন্দার মত জিজ্ঞাসা করল,”আচ্ছা খেয়া, কি এমন কথা বললে যে ১০ মিনিট লাগলো? “ আমিও হেসে উত্তর দিলাম,” ফেলুদা, আঙ্কেল আসলে বলছিলেন যে আজকে ক্যাডেট ভর্তির রেজাল্ট বের হয়েছে।“ আমার কথার শেষ অংশটা শুনতে পেয়ে মুকুল স্যার বললেন,”আবারো রেজাল্ট!” স্যারের বলার ভঙ্গিতে না হেসে পারিনা আমরা। হাসাহাসির ফাঁকেই স্যার কিন্তু পত্রিকা আনতে লোক  পাঠিয়ে দিয়েছেন। সারা আর আমি হাত-পা নাড়িয়ে ক্রমাগত বকেই যাচ্ছি, সবাই গা ছাড়া ভাবে গল্প করছে যে যার মত। আর স্যাররা বসে বসে ইনডেক্স নাম্বার মিলাচ্ছেন পত্রিকার সাথে। নিজের অজান্তেই হ্রিদস্পন্দন বেড়ে গেছে আমার। “ইশ, যদি হয়ে যেতো!”- বিড়বিড় করি নিজের অজান্তেই। সারা কনুই দিয়ে খোঁচা দেয় এক টা।“এত কি ভাবো? ক্যাডেট এর রেজাল্ট নিয়ে? “ আমি মাথাটা উপরনিচ করি কয়েকবার। “আচ্ছা খেয়া, তোমার ক্যাডেট এ যাবার এত ইচ্ছা কিভাবে হল?” সারাকে আমি একটু ভেবে বলি,” পাপা-মামনি খুব চাইতো আমি যাতে ক্যাডেট এ পড়ি। ময়মনসিংহে পরীক্ষা দিয়েছিলাম শুধু ওদের স্বপ্ন পূরণ করতে।“ “আর এবার? “- সারা জানতে চায় কৌতুহলি গলায়। “ইয়ে মানে সবসময় ইচ্ছা করতনা,শুধু অর্ক যখন ছুটিতে এসে কোচিংয়ে দেখা করতে আসে সবার সাথে,তখন খুব আফসোস হতো কেন  টিকে গেলাম না। সবাই কেমন প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকায় না ওর দিকে?” সারা মাথা নেড়ে সায় দেয় আমার কথায়। “ওরা কি সুন্দর বন্ধুরা একসাথে থাকে,মজা করে। ওদের খাকী পোশাকটাও আমার খুব পছন্দের। জান সারা, প্রথম আলোর গল্প লেখার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে খাকী পোশাক পরা এক আপু কে দেখেছিলাম,রিফাত আঞ্জুম পিয়া। কি যে স্মার্ট লাগছিল আপুটাকে! সেইদিন থেকে আমার ক্যাডেট হউয়ার ইচ্ছাটা খুব প্রবল হয়ে গেছে।“- এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থামি একটু। সারা কেমন দুখি দুখি গলায় বলে,”কিন্তু ক্যাডেট এ হলে ত তুমি আমাদের ছেড়ে চলে যাবা!” একটু থতমত খেয়ে যাই আমি, পরক্ষনেই হেসে বলি,”আরে ধুর,হলে তো!” সারা আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভঙ্গিতে বলে,” থাক খেয়া মন খারাপ কর না। ক্যাডেট এ না পড়ে কি মানুষ ভাল করেনা? “ আমি কিছু না বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি। “স্টুডেন্টস, অ্যাটেনশন প্লিয। “- ক্লাসে ঢুকে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললেন ইমরান স্যার, উনার পিছুপিছু মুকুল স্যার। সবাই চুপ হয়ে যায় মুহূর্তেই। পুরো ক্লাসের দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে মুকুল স্যার বক্তৃতা দেয়ার ভঙ্গিতে বললেন, “তোমরা জানো আজকে ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বেরিয়েছে পত্রিকায়। লিখিত পরীক্ষায় আমাদের ১২ জন চান্স পেয়েছিলো। আর চূড়ান্ত ফলাফল এখন আমাদের হাতে।“ একটু থেমে থেমে নামগুলো পরে শোনান স্যার। সবাই মিলে জোরে জোরে হাত তালি দিলাম নামগুলো শোনার পরে। ক্লাস সেভেন এ চান্স পাওয়া নামগুলো পরে শোনানোর পরে স্যার বললেন, “নতুন দুইটি গার্লস ক্যাডেট কলেজে ক্লাস এইটে ও ক্যাডেট নেওয়া হচ্ছে এটা তো নিশ্চয়ই জানো সবাই। আমাদের একজন ছাত্রী চান্স পেয়েছে  ফেনীতে, শেমী। “ স্যারের কথাটা শুনে আবার হাততালি দেই আমরা। ও আমার ভাল বন্ধু,কাজেই অর চান্স পাওয়ায় খুশি হলেও ভেতরের তেতো ভাবটা দূর করতে পারিনা আমি। কেমন যেন অদ্ভুত অনুভূতি হয় আমার। কি যেন একটা ঠিক হয়নি, এমন মনে হতে থাকে। আমাকে বিষণ্ণ দেখে মুকুল স্যার হাসেন, ডান ভ্রুটা উঁচু করে জিজ্ঞাসা করেন,”মন খারাপ?” আমি কাষ্ঠহাসি  হেসে বলি, “একটু ত খারাপই। “ “ভালই ত হল চান্স পেলে সারাকে রেখে যাওয়া লাগতনা?” স্যার হাসেন। সারা আমার কাঁধে হাত রেখে হাসিমুখে বলে, “বন্ধুত্তের জোর আছে না স্যার?” ওর কথা শুনে স্যার মিটিমিটি হাসেন,”সারা, তোমরা কত ভাল বন্ধু সেইটা এবার বোঝা যাবে। একজন নরসিংদী, একজন ফেনী।“ “কি?”- আমি আর সারা একসাথে চেঁচিয়ে উঠি। “ডিয়ার স্টুডেন্টস, ফেনীতে চান্স পাওয়া আরেকজনের নাম খেয়া!” জল ভরা চোখে আমরা একজন আরেকজনের দিকে তাকাই।আমি ত আনন্দে কাঁদছি, কিন্তু সারার চোখে অশ্রু টা ঠিক কিসের জন্য তা বলতে পারিনা!</p>
<p>(চলবে)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/kheya/36424/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>19</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ক্যাডেট লাইফ ও একটি মায়ের চিঠি</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/rabbi-ahmed/36420</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/rabbi-ahmed/36420#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 13 May 2012 17:51:08 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাব্বী (২০০৫-২০১১)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আত্মজীবনী]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36420</guid>
		<description><![CDATA[আম্মুর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল চিঠি। দুই টাকার হলুদ একটি খাম ভেতরে দুই জনমের আবেগ। আম্মুর লেখা প্রতিটি চিঠি অসংখ্য বার পড়তাম। মাঝেমাঝে চোখ ঝাপসা হয়ে এলে কোন মতে বালিশে চাপা দিতাম অবাধ্য অশ্রুরাশিকে। প্রতি সপ্তাহে একটি চিঠি আসতো। মায়ের কাগজ বন্দী আবেগ আর উপদেশ গুলো ক্যাডেট কলেজের সেই প্রতিকুল পরিবেশে টিকে থাকার প্রেরনা যুগিয়েছে। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আম্মুর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল চিঠি। দুই টাকার হলুদ একটি খাম ভেতরে দুই জনমের আবেগ। আম্মুর লেখা প্রতিটি চিঠি অসংখ্য বার পড়তাম।<br />
মাঝেমাঝে চোখ ঝাপসা হয়ে এলে কোন মতে বালিশে চাপা দিতাম অবাধ্য অশ্রুরাশিকে। প্রতি সপ্তাহে একটি চিঠি আসতো। মায়ের কাগজ বন্দী আবেগ আর উপদেশ গুলো ক্যাডেট কলেজের সেই প্রতিকুল পরিবেশে টিকে থাকার প্রেরনা যুগিয়েছে। আধুনিক সভ্যতার মুঠোফোনের বেতার তরঙ্গ তখনো ক্যাডেট কলেজে জায়গা করে নিতে পারেনি আর্মি হেড কোয়াটারের স্বেচ্ছাচারিতায়। এক দিক থেকে ভালোই হল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিঠি গুলো জ্বলন্ত সাক্ষী হয়ে থাকবে মায়ের ভালোবাসার। অনেক বেশি ভালোবাসি মা কে।</p>
<p>আমার মা অনেক আবেগী একজন মানুষ। প্রতিবার আম্মাকে ছেড়ে কলেজে যেতে খুব কষ্ট হতো। মনে পড়ে কলেজে যাওয়ার আগের রাতে মা খুব কাঁদতেন। গভীর রাতে নিজর্নতায় একা একা। মা কখনো চাইতেন না আমি তার চোখের পানি দেখি। তিনি জানতেন আমার পৃথিবীটা তাহলে এলোমেলো হয়ে যাবে। শুধু যাওয়ার আগে চোখের ওপর একটা চুমু দিয়ে বলতো,ভালো থাকিস বাবা। ক্যাডেট কলেজের নিয়ম কানুন মেনে চলিস। মায়ের চোখে বিদায়ের অশ্রু তখন চকচক করছে যেন আমি ছুঁয়ে দিলেই সেখানে তুমুল বর্ষন শুরু হবে। আমি মায়ের পা ছুঁয়ে সালাম করে যখন গাড়ীতে উঠতাম তখন দেখতাম অতি আবেগী একজন মানুষ মুখে আঁচল চেপে আছে। ইচ্ছে হত সেনাবাহিনীর সব নিয়ম কানুন ভেদ করে ক্যাডেট কলেজের মধ্যে মাকে নিয়ে আলাদা এক পৃথিবী গড়ে তুলি। যে পৃথিবী শুধু আমার আর মায়ের। স্টেশন ছাড়িয়ে গাড়ী চলত তার আপন গতিতে শুধু আমি তাকিয়ে দেখতাম বিন্দুর মত ছোট আমার মা সিন্ধু সম মমতা নিয়ে তখনো দাঁড়িয়ে আছে একাকী</p>
<p>অষ্টম শ্রেনীতে থাকা কালীন একবার কলেজ থেকে আমার নামে ওয়ানিং লেটার পাঠানো হলো। সপ্তম শ্রেনীর এক ক্যাডেট কে মারার কারনে কলেজ থেকে বিশেষ চিঠি। কলেজের নিয়ম ছিল প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার অভিভাবক সাক্ষাতকার দিবস হবে। ক্যাডেট কলেজের ভাষায় যার নাম প্যারেন্টস ডে। সেই প্যারেন্টস ডে তে আব্বু আম্মুকে প্রিন্সিপাল ডাকলেন। আমার অভিযোগ শোনালেন। আর্মি হেড কোয়ারটারের নিয়ম অনুযায়ী আমাকে জরিমানা করা হল।আম্মু প্রিন্সিপাল স্যারকে অনেক অনুরোধ করলেন। আম্মুর অনুরোধে এ যাত্রায় আমাকে কলেজ থেকে বহিস্কৃত করা হলোনা। শুধু প্রিন্সিপাল এর রুম থেকে বের হয়ে তিনি অত্যন্ত কঠিন চোখে আমার দিকে তাকালেন। আমি অপরাধীর মত মাথা নিচু করে ফেললাম। আম্মু আমাকে মাফ চাওয়ার ও সুযোগ দিলেন না। অত্যন্ত আবেগী এই মহিলা এক মুহূর্তে পাথর হয়ে গেলেন। আমার সাথে কোন কথা না বলে কলেজের গেট থেকে বের হয়ে গেলেন। আমি শুধু তাকিয়ে দেখলাম অজস্র মমতার গাঢ় আচ্ছাদনে ঢাকা আবেগী আমার মা কি গভীর সহজ অভ্যাসে হেঁটে চলছেন। একবার পিছু ফিরে তাঁর এই অপদার্থ ছেলেটিকে দেখলেন ও না। সেদিন নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হয়েছিল। ইচ্ছে করছিল পৃথিবীকে চিত্‍কার করে বলি, মা গো আমি আর কখনো ভুল করবোনা। শুধু তোমার আঁচলে একবার থাকতে দিও।</p>
<p>টানা তিন সপ্তাহ তিনি কোন চিঠি পাঠালেন না। পরবর্তী চিঠিতে তিনি লিখলেন,</p>
<p>প্রিয় রাব্বী,<br />
অজস্র ভালোবাসা নিস। সেদিন তোর কাছ থেকে এভাবে চলে আসার পর অনেক কেঁদেছি। আমি জানি আমার চেয়েও তোর কষ্টটা বেশি। ক্যানো এমন করিস? অনেক কষ্টে তোকে ক্যাডেট কলেজে পড়াই। মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা ছেলেকে ক্যাডেট কলেজে পড়াতে পরিবারের যে কত ধাক্কা সামলাতে হয় তা তুই জানিসনা। আমরা সবাই তোর জন্যে অনেক কষ্ট করি। আর্থিক কষ্টের চেয়েও মানসিক কষ্টটা প্রধান। যে আমি তোকে ছাড়া কখনো ঘুমায়নি সেই আমি তোকে ছাড়া থাকছি। তুই কি বুজবিনা আমার কষ্টটা। আর কখনো কোন জুনিয়রকে মারবিনা। আমার কছম থাকলো। ভালো থাকিস বাবা। তোর জন্যে অনেক আদর।<br />
ইতি তোর মা<br />
০২.০৬.০৬</p>
<p>মায়ের এই চিঠির জবাব আমি দিতে পারিনি। পরবর্তী কয়েক মাস নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হতো। পরবর্তী বছর আমাদের কলেজের ম্যাগাজিনে মাকে নিয়ে আমার লেখা একটা কবিতা ছাপা হলো। কবিতাটির কয়েকটি লাইন তুলে দিচ্ছি।</p>
<p>&#8220;জন্ম নিয়ে প্রথম আলোয় দেখি তোমার মুখ<br />
মাগো তোমার মাঝেই খুঁজে পাই আমার যত সুখ<br />
মাগো তুমি সকল সুখের মূল কেন্দ্রবিন্দু<br />
তুমি সাহারা সম এই হৃদয়ে বয়ে চলা সিন্ধু<br />
দুখের মাঝে সুখের স্বপন মরন অঞ্জলীতে<br />
তাই তোমায় স্মরন করি দিবস ও রাত্রিতে&#8221;</p>
<p>কবিতাটি মা সবাইকে দেখিয়ে গর্ব করে বলেছিলেন এটা আমার ছেলের লেখা। সেদিন মা তাঁর তরল হাসির আড়ালে আমার প্রতি তাঁর জমে থাকা সব অভিমান মুছে ফেলে কপালে একটা চুমু দিয়ে বলেছিলেন,অনেক বড় হ। আমি মায়ের সামনে অপরাধীর কন্ঠে বললাম, মা, মাফ করেছোতো?<br />
মা তার চির চেনা হাসি দিয়ে বলেছিলেন,ধুর পাগল। সন্তানের কোন অপরাধ কি মা মনে রাখে?. . . . . .</p>
<p>মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে হয় মা রা এত ভালো কেন? কিছু কিছু প্রশ্ন আছে যার উত্তর নেই।<br />
<img src="http://www.facebook.com/photo.php?fbid=458119907537548&#038;set=a.181708118512063.52675.100000186287524&#038;type=1&#038;theater" alt="null" /><code></code></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/rabbi-ahmed/36420/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>11</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মু-হা-হা-হা</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/salehtias/36419</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/salehtias/36419#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 13 May 2012 10:27:17 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সালেহ (০৩-০৯)</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ঝিনাইদহ]]></category>
		<category><![CDATA[রম্য রচনা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36419</guid>
		<description><![CDATA[সালেহ, এই সালেহ! কে যেন আমাকে ডাকছে। কণ্ঠটা পরিচিত মনে হচ্ছে। এই শালা, ওঠ! আমি চোখ মেলে তাকালাম। দেখি আমার রুমমেট কবির ভাই। হাতে ওটা কি? ঝাঁটা নাকি? হায় হায়, ঝাঁটা কেন? পিটাবে নাকি আমাকে? আমি বড় একটা হাই তুলে দুনিয়ার সবটুকু বিরক্তি মুখে এনে বললাম, কি হইছে? চেচামেচি করতেছ কেন? কবির ভাই বলল, রুম [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>সালেহ, এই সালেহ!</p>
<p>কে যেন আমাকে ডাকছে। কণ্ঠটা পরিচিত মনে হচ্ছে।</p>
<p>এই শালা, ওঠ!</p>
<p>আমি চোখ মেলে তাকালাম। দেখি আমার রুমমেট কবির ভাই। হাতে ওটা কি? ঝাঁটা নাকি? হায় হায়, ঝাঁটা কেন? পিটাবে নাকি আমাকে?</p>
<p>আমি বড় একটা হাই তুলে দুনিয়ার সবটুকু বিরক্তি মুখে এনে বললাম, কি হইছে? চেচামেচি করতেছ কেন?</p>
<p>কবির ভাই বলল, রুম তো জঞ্জাল বানায়া রাখছ মিয়া। তোমার ঠেলায় রুমে পা ফালাইবার উপায় নাই। আজকে তোমার ঝাড় দেবার পালা। নাও কাজ শুরু কর।</p>
<p>হায় হায়, বলে কি? আমি দেব রুম ঝাড়? পাগল নাকি?</p>
<p>বললাম, প্লিজ কবির ভাই, তুমি একটু দিয়ে দাও না। পিলিজ পিলিজ জানটু মনটু কদু মধু।</p>
<p>আমার জানটু মনটু কদু মধুতে কোনই কাজ হল না। কবির ভাই ঝাঁটা দিয়ে আমার পায়ে একটা ভয়াবহ বাড়ি দিল। ওঠ শালা আইলসা মুরগি!</p>
<p>ভেবেছিলাম জীবনের প্রথম ঝাঁটার বাড়িটা বউয়ের হাতেই খাব, কিন্তু এ কি হল? আমার পক্ষে আর শুয়ে থাকা সম্ভব হল না। আমি তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠে বসলাম। দীর্ঘদিনের সুপ্ত লুক্কায়িত পুরুষত্ব জেগে উঠল হঠাৎ করেই। গর্জে উঠে বললাম, দাও! ঝাঁটা দাও!</p>
<p>কবির ভাই মুখ ঝামটা দিয়ে ঝাঁটা আমার দিকে ছুঁড়ে দিল। আমি পুরা জন্টি রোডস এর মত ঝাঁটাটা লুফে নিলাম। তারপর পরনের লুঙ্গিটা কাছা বেঁধে বিপুল উৎসাহ নিয়ে শুরু করলাম &#8220;রুম ঝাড় দেয়া অভিযান&#8221;।</p>
<p>নিজের বেডের নিচ থেকে পাঁচ কেজি মত ময়লা বের করার পর হঠাৎ কিসে যেন ঠং করে একটা বাড়ি লাগল। আমি হামাগুড়ি দিয়ে হাতড়ে হাতড়ে জিনিসটা বের করে আনলাম।</p>
<p>আরে, এটা কি? এটা তো দেখতে একদম প্রাচীন আমলের কুপিবাতির মত। আমি আমার ফেলে দেয়া একটা সবুজ আন্ডারওয়ার দিয়ে জিনিসটা পরিষ্কার করতে গেলাম। অবশ্য প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হচ্ছিল। এই একটা আন্ডারওয়ার দিয়ে গত বছর পার করেছি কিনা।</p>
<p>দুই একটা ঘষা দিতেই কুপির মধ্যে ভটভট শব্দ হতে লাগল। লাল নীল বেগুনী ধোঁয়া বের হতে লাগল কুপির মুখ থেকে। আমি ভয়ে কুপিটা হাত থেকে ফেলে দিলাম।</p>
<p>একটু পরেই “মু-হা-হা-হা” করতে করতে কানে হেডফোন আর নাকে মুখে কাপড়ের মাস্ক নিয়ে বেরিয়ে এল এক অতিকায় দৈত্য। বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে সে বলল, “আমি এই কুপির দৈত্য, মু-হা-হা-হা। আমি আপনার তিনটা ইচ্ছা পূরণ করব, মু-হা-হা-হা”।</p>
<p>আমি তো তাকে দেখে পুরাই টাশকি। দৈত্য আবার মাস্ক পড়ে আছে কেন? জিজ্ঞেস করলাম, “এই তুমি মাস্ক পরে আছ কেন?”</p>
<p>দৈত্য বলল, “আপনার বেডের নিচে যে ময়লা, মু-হা-হা-হা। আমার আবার অ্যালার্জি আছে, মু-হা-হা-হা”।</p>
<p>আমার বেডের নিচে ময়লা বলে তাকে মু-হা-হা-হা করে কেন প্রাণঘাতী হাসি হাসতে হবে এটা আমার উর্বর মস্তিষ্কে ঢুকল না। আমি বরং তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “তা কানে হেডফোন কেন সেটা শুনি?”</p>
<p>“এফ এম রেডিওতে নিভা রহমানের গান শুনছিলাম, মু-হা-হা-হা। নিভা রহমান আমার প্রিয় গায়িকা, মু-হা-হা-হা”।</p>
<p>আমার খুব কৌতূহল হল। আমাদের মানুষদের রাজ্যে এক ইভা রহমানের জ্বালায় বাঁচি না, দৈত্যদের নিভা রহমান আবার কি মাল রে বাবা? একবার চেখে দেখা দরকার।</p>
<p>আমি দৈত্যের কাছ থেকে হেডফোনের এক মাথা নিয়ে কানে লাগালাম। প্রথমেই মনে হল অনেক গুলো মানুষ একসাথে বায়ুত্যাগ করলে যেরকম শব্দ সেরকম শব্দ। ফড়-ফড়-ফড়-ফড়াৎ। পক-পক-পক-পকাৎ। চট-চট-চট-চটাশ।</p>
<p>“এইটা কি?”</p>
<p>“আরে বস কি বলেন? মু-হা-হা-হা। এইটাই তো গান, মু-হা-হা-হা”।</p>
<p>এইটা গান!! এর চেয়ে তো আমাদের ইভা রহমান অনেক ভালো গান গায়!</p>
<p>আমি হেডফোন দৈত্যকে ফিরিয়ে দিলাম। এই ব্যাটা আমাকে তিনটা ইচ্ছা পূরণ করার কথা বলেছে। হুম, ভেবেচিন্তে তিনটা ইচ্ছা সিলেক্ট করতে হবে।</p>
<p>অনেক ভেবেচিন্তে আমি বললাম, “আমাকে একশ সুন্দরী এনে দাও”।</p>
<p>“জো হুকুম, মু-হা-হা-হা”, বলে ভ্যানিশ হয়ে গেল দৈত্য।</p>
<p>আমি আনন্দে কয়েকটা লাফ দিয়ে উঠলাম। একশ সুন্দরীকে নিজের বাহুডোরে কল্পনা করে চরম সুখে আত্মহারা হয়ে উঠলাম আমি। রুমের আয়নায় বারবার ঘুরেফিরে নিজের চেহারা দেখতে লাগলাম আমি।</p>
<p>কি করব একশ সুন্দরী আসলে? তাদের তো বসার জায়গাই দিতে পারব না। রুমে আবার একটাই ফ্যান। তাছাড়া সব রুমমেট আছে, এদের সামনে একটু ফষ্টিনষ্টিও করা যাবে না, তাহলেই আম্মুকে বলে দেবে। কি করা যায়?</p>
<p>নাহ, দৈত্য আসলে পরের উইশটা করতে হবে একটা বড় নির্জন প্রাসাদের জন্য। অবশ্যই উইথ কমপ্লিট প্রাইভেসি।</p>
<p>একটু পরে “মু-হা-হা-হা” করতে করতে আবার দৈত্য এসে হাজির। কিন্তু এ কি? তার গালে এরকম পাঁচ আঙ্গুলের দাগ কেন? আর সুন্দরীরা কই? একশটা দূরে থাক, একটাও তো নাই।</p>
<p>বললাম, “কি হইল?”</p>
<p>দৈত্য বিশ ত্রিশ বার “মু-হা-হা-হা” করে হেসে ওঠার ফাঁকে ফাঁকে আমাকে যা বলল তার সারমর্ম এরূপ, সে কোন এক মেডিকেল কলেজের ডালিম হলে পেয়ারা বেগম নামে এক সুন্দরীকে হাইজ্যাক করে আনতে গিয়েছিল। সেই ডাকসাইটে সুন্দরী নাকি তার মাথায় রবিনস দিয়ে বাড়ি মেরে তারপর গালে জোরে একটা চড় মেরেছে। এক চড়েই নাকি তার পঁয়তাল্লিশ পাটি দাঁত নড়ে গেছে। দুই তিনটা নাকি পড়েও গেছে।</p>
<p>ধুর, এইটা হইল কিছু? কত স্বপ্ন দেখে ফেলেছিলাম আমি সুন্দরীদের নিয়ে। এটা করব, ওটা করব। ও নাচবে, এ গাইবে। আর আমি শুয়ে শুয়ে মুক্তোর মালা ছুঁড়ে দিয়ে রাজা বাদশা স্টাইলে বলব, মারহাবা মারহাবা। তোফা তোফা। ধুর। সব গেল।</p>
<p>আমি হতাশ হয়ে বললাম, “আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে আমাকে এমন একটা প্রাসাদ বানিয়ে দাও যেটা কোনদিন ধ্বসে পড়বে না”।</p>
<p>দৈত্য আবার “জো হুকুম, মু-হা-হা-হা” বলে ভ্যানিশ হয়ে গেল।</p>
<p>যাক, এবার তো আর মেয়েমানুষ আনতে হচ্ছে না। এবার ডিস্কো দৈত্য নিশ্চয়ই আমার মনস্কামনা পূরণ করতে সক্ষম হবে। আর আমি এই ভাঙ্গাচোরা হলের ভাঙ্গাচোরা রুম বাদ দিয়ে রাজার হালে প্রাসাদে থাকতে পারব। সেখানে আমার থাকবে অনেকগুলো দাসী, অবশ্যই সুন্দরী&#8230;এই রে আবার মেয়েমানুষের চিন্তা করছি।</p>
<p>“মু-হা-হা-হা”! এই তো দৈত্য এসেছে। কিন্তু, প্রাসাদ কই?</p>
<p>“এবার কি হল?”</p>
<p>“আরে বস বইলেন না, মু-হা-হা-হা। দুনিয়ার সব মার্কেটেই ভেজাল, মু-হা-হা-হা। সিমেন্টের জায়গায় সিমেন ধরায়া দিলেও ধরতে পারবেন না, মু-হা-হা-হা। এইজন্য রিস্ক নিলাম না বস, মু-হা-হা-হা। যদি দুই তিন বছরেই ধ্বসে পড়ে আপনার প্রাসাদ, তাহলে কি হবে? মু-হা-হা-হা”।</p>
<p>মনে মনে খুবই ক্ষিপ্ত হলাম আমি। সিমেন্টের জায়গায় সিমেন ধরায়া দিলেও ধরতে পারব না?ফাইজলামি নাকি? শালা আইলসা, সিমেন চিনস তুই? শালা আইলসা মুরগি! কোন কামের না!</p>
<p>আর মাত্র একটা ইচ্ছা বাকি আছে। এই আইলসা, মুরগির কলিজা-অলা দৈত্যটার কাছে আর কি চাওয়া যায়? অনেক ভেবেচিন্তে চাইতে হবে।</p>
<p>নাহ, পেয়েছি। হ্যাঁ, এটাই চাওয়া যায়। কাজটা বেশি কঠিন না, দৈত্যটা সহজেই করতে পারবে। হ্যাঁ, এটাই।</p>
<p>অনেক, অ-নে-ক ভেবেচিন্তে আমি বললাম, “আচ্ছা, তাহলে আমাকে একটা সহজ কাজ করে দাও। কালকে হরতাল, এমন একটা ব্যবস্থা করে দাও যাতে কালকে ডিএমসি বন্ধ থাকে”।</p>
<p>দৈত্য আমার দিকে বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। যেন এত অবাক সে জীবনেও হয় নি। ধীরে ধীরে তার মুখে ভর করল গভীর, গভীর দুঃখ। এত দুঃখ কাউকে পেতে আমি জীবনেও দেখি নি। তার উঁচু দুটো শিং আস্তে আস্তে নেতিয়ে পড়ল, কানদুটোও। ধীরে ধীরে খসে পড়ল তার হেডফোন। ভিতর থেকে নিভা রহমান চিৎকার করতে লাগল, ফড়-ফড়-ফড়-ফড়াৎ। পক-পক-পক-পকাৎ। চট-চট-চট-চটাশ।</p>
<p>দৈত্য দৌড়ে এসে আমার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ল। তার চোখদুটো হয়ে গেল অশ্রুসজল। সে হেঁচকি তুলে বলতে লাগল, “আমি আপনাকে একশটা না, দুইশটা পেয়ারা, থুক্কু পেয়ারা বেগম এনে দেব, আপনাকে একটা না, একশটা প্রাসাদ বানায়া দেব&#8230;কিন্তু এত্ত অসম্ভব একটা কাজ আমাকে কেন দিলেন বস? এত্ত বড় শাস্তি আমাকে কেন দিলেন বস?”</p>
<p>আমি লক্ষ্য করলাম, এই প্রথম সে “মু-হা-হা-হা” করে হাসতে ভুলে গেছে।</p>
<p>***</p>
<p>ঘুম ভেঙ্গে ধড়ফড় করে উঠে বসলাম। ঘড়ির দিকে তাকালাম। নয়টা সাতচল্লিশ বাজে।</p>
<p>কবির ভাই দেখি প্যান্ট পরে ইন করছে। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কি সালেহ, যাইবা না?</p>
<p>আমার সব মনে পড়ে গেল। আজকে আমার প্যাথো পরীক্ষা। নাজমুল স্যারের কাছে। রাত তিনটায় উঠে সিলেবাস শুরু করার কথা ছিল। অথচ এখন বাজে নয়টা সাতচল্লিশ। পরীক্ষা দশটায়।</p>
<p>আমি লাফ দিয়ে উঠে রেডি হতে থাকি। আজ অবশ্য হরতাল। দেশের সব ভার্সিটি কলেজ বন্ধ। অফিস বন্ধ। সবাই ঘুমে।</p>
<p>বাট, হরতাল ডাজনট ম্যাটার চপিং স্টুডেন্টস অফ ডিএমসি।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/salehtias/36419/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>7</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>তবুও নিরাপদ সড়ক চাওয়া যাবে না</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/jahidmasudulabedin/36415</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/jahidmasudulabedin/36415#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 12 May 2012 10:49:18 +0000</pubDate>
		<dc:creator>জাহিদ (২০০০-২০০৬)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আলোচনা]]></category>
		<category><![CDATA[দিনলিপি]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36415</guid>
		<description><![CDATA[একদিনে ১৫ টি প্রান । প্রতিনিয়ত হাজারো নাগরিক সমস্যা, হত্যা, ছিনতাই, গুম, ধর্ষন , এত কিছুর ভীড়েও আমাদের মন কে কি একটু নাড়িয়ে দিয়ে যায় না? যায়। কতটা ? আজকের সংবাদ পত্রের পাতায় দেখলাম আগামীকালই তো এটা বাসি খবর। আবার নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। প্রতিদিন খারাপ খবর শুনতে শুনতে আমাদের কান অভ্যস্ত হয়ে গেছে। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>একদিনে ১৫ টি প্রান । প্রতিনিয়ত হাজারো নাগরিক সমস্যা, হত্যা, ছিনতাই, গুম,  ধর্ষন , এত কিছুর ভীড়েও আমাদের মন কে কি একটু নাড়িয়ে দিয়ে যায় না? যায়।  কতটা ? আজকের সংবাদ পত্রের পাতায় দেখলাম আগামীকালই তো এটা বাসি খবর। আবার  নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। প্রতিদিন খারাপ খবর শুনতে শুনতে আমাদের কান  অভ্যস্ত হয়ে গেছে। যেদিন পত্রিকার পাতায় এমন কিছু না পাই মনে মনে বলি আজকে  গুরুত্বপূর্ন কোন সংবাদ নাই। অন্যায় দেখতে দেখতে আমাদের চামড়া হয়ে গেছে  গন্ডারের চামড়ার দ্বিগুন পুরু। গা সওয়া হয়ে গেছে সব। প্রতিবাদের ভাষা তো  হারিয়ে ফেলেছি সেই কবে এখন কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখলেও মনে হয় অযথাই  বাড়াবাড়ি।</p>
<p>আজকে দূর্ঘটনার খবরটা দেখে ভাবলাম কেন বারবার এত দূর্ঘটনা ঘটে আমাদের দেশে।  নিজেকেই প্রশ্ন করি কেন ঘটবে না? যে দেশে লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ী চালানো যায়,  যে দেশে ট্রাফিক আইন এমনকি ড্রাইভিং না জানলেও লাইসেন্স পাওয়া যায় সেখানে  দুর্ঘটনা ঘটবে না তো কোথায় ঘটবে? আমরা অনেক সময় দুর্নীতির প্রভাব টা খেয়াল  করি না। অথচ যে ড্রাইভারটা লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালাচ্ছে বা ঘুষ দিয়ে  লাইসেন্স নিচ্ছে এটা কি সম্ভব হত যদি রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ ঠিকভাবে চেক  করত, যদি বি আর টি এ কোন প্রকার দুর্নীতি না করে ঠিকভাবে লাইসেন্স দিত?  জানি গাড়ী চললে দুর্ঘটনা হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু উপরের বিষয়গুলো খেয়াল করলে  কি দুর্ঘটনা কমানো যাবে না? সবাই জানে যাবে কিন্তু কে করবে? আজকে একজন  নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করেন তার কুশপত্তলিকা পোড়ানো হয় ,সেই উৎসবে যোগ  দেন জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি, মন্ত্রী।<br />
এত এত প্রান ঝরে যাবে, প্রতিদিন কয়েকটা পরিবার বিপন্ন হবে তবুও নিরাপদ সড়ক চাওয়া যাবে না।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/jahidmasudulabedin/36415/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জন্মদিনের তোড়া তোড়া ফুল</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/khasan955/36413</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/khasan955/36413#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 11 May 2012 22:30:25 +0000</pubDate>
		<dc:creator>কামরুল হাসান (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আত্মজীবনী]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36413</guid>
		<description><![CDATA[গলির সামনের চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দিতে সিরাজ হঠাৎ চিন্তিত মুখে বললো, আচ্ছা আমরা কি বেহেশতে যামু , না দোযখে ? মনে হয় দোযখে। বেহেশতে যাওয়ার মত কিছু তো এ জীবনে আমরা কেউ করি নাই, তাই না? -বললাম আমি। এবার সিরাজের চোখ-মুখ খুব সিরিয়াস হয়ে গেল। জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা দোযখে কি চিরকাল আজাবের মধ্যে থাকতে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>গলির সামনের চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দিতে সিরাজ হঠাৎ চিন্তিত মুখে বললো, আচ্ছা আমরা কি বেহেশতে যামু , না দোযখে ?<br />
মনে হয় দোযখে। বেহেশতে যাওয়ার মত কিছু তো এ জীবনে আমরা কেউ করি নাই, তাই না? -বললাম আমি।<br />
এবার সিরাজের চোখ-মুখ খুব সিরিয়াস হয়ে গেল। জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা দোযখে কি চিরকাল আজাবের মধ্যে থাকতে হবে আমাদের সবাইকে? মাঝে মাঝে যদি একটু রেস্ট চাই, দিবে না?<br />
দিতে পারে। তুই তো ছেলে ভালো, দয়া করে দিতেও পারে।<br />
এবার ওর মুখে হাসি। বলে, তাইলেই হবে।<br />
হবে মানে? রেস্ট দিয়ে কী করবি?<br />
সবাই মিলে আড্ডা দিমু। একটু সময়ের জন্য হলেও তো দোযখটা তখন বেহেশত মনে হবে! </p>
<p>&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.<br />
আমাদের বন্ধুত্বের গল্প এটুকুই। আমরা মানে ক্যাডেট কলেজের ১৯৯৪ থেকে ২০০০ ব্যাচের।<br />
আমি জানি, রেজাদের (২০০১- ২০০০৭) ব্যাচের গল্পটাও এরকম।<br />
বন্ধুতের এই গল্পটা ক্যাডেট কলেজের সব ব্যাচের গল্প ।</p>
<p>&#8212;-<br />
&#8216;৯৪ আর &#8216;০১  ব্যাচকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।</p>
<p>আজ ১২ই মে। তাই সকাল থেকে জন্মদিনের তোড়া তোড়া ফুল &#8230;&#8230;&#8230;</p>
<p><iframe width="100%" height="166" scrolling="no" frameborder="no" src="http://w.soundcloud.com/player/?url=http%3A%2F%2Fapi.soundcloud.com%2Ftracks%2F45966026&#038;show_artwork=true"></iframe></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/khasan955/36413/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>11</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সুখ ও শান্তি</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/md-asaduzzaman-shishir/36403</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/md-asaduzzaman-shishir/36403#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 11 May 2012 20:45:06 +0000</pubDate>
		<dc:creator>শিশির (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[রাজশাহী]]></category>
		<category><![CDATA[স্যাটায়ার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36403</guid>
		<description><![CDATA[কেমন চাও জীবনটা? দুমুঠো ভাত আর একটু কাপড় আরেকটু মাথা গুঁজার স্থান, ভালোবাসা আর সম্মান। ঠুনকো, ভনিতাময় বা মিথ্যা নয়। এতটুকুই দেবো, কী???? নিতে রাজি? সাথে পাবে শান্তি, একদম ফ্রি। অথবা প্রাসাদ, গাড়ি, নারী আর খাবার রকমারি, পোশাক বাহারি ঢঙের, মনকাড়া রঙের, নতুন প্রতিক্ষন। কুর্নিশে কুর্নিশে ক্লান্ত সবে, মহামতির তরে জান যতক্ষন রবে। চাকর, নওকর, [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>কেমন চাও জীবনটা?<br />
দুমুঠো ভাত আর একটু কাপড়<br />
আরেকটু মাথা গুঁজার স্থান,<br />
ভালোবাসা আর সম্মান।<br />
ঠুনকো, ভনিতাময় বা মিথ্যা নয়।<br />
এতটুকুই দেবো,<br />
কী???? নিতে রাজি?<br />
সাথে পাবে শান্তি, একদম ফ্রি।</p>
<p>অথবা প্রাসাদ, গাড়ি, নারী<br />
আর খাবার রকমারি,<br />
পোশাক বাহারি ঢঙের,<br />
মনকাড়া রঙের, নতুন প্রতিক্ষন।<br />
কুর্নিশে কুর্নিশে ক্লান্ত সবে,<br />
মহামতির তরে জান যতক্ষন রবে।<br />
চাকর, নওকর, পাইক, পেয়াদা<br />
আরও কত কী!!!!<br />
কী সুখ! কী সুখ! মরি মরি!<br />
তবে কিন্তু এমন আছে ভুড়ি ভুড়ি,<br />
সেখানেই শুরু যেথা শেষ তোমারি।<br />
আর পাবে ফ্রি,<br />
কিছু হিংসুক আর ষড়যন্ত্রকারী,<br />
আর এসব সুখ,<br />
হারাবার ভয় ও অশান্তি।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/md-asaduzzaman-shishir/36403/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>10</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জন্মদিন/ ফ্রন্ট রোল ব্লগ</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/siddique1237/36410</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/siddique1237/36410#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 11 May 2012 16:24:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রেজা শাওন (২০০১-২০০৭)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=36410</guid>
		<description><![CDATA[আজকে ক্যাডেট কলেজের দুইটা ইনটেকের শুভ জন্মদিন। ১৯৯৪-২০০০ ব্যাচ এবং ২০০১-২০০৭ ব্যাচ। আর কিছু ক্ষণ পরেই মহান ১২ মে। এই দিনটা আমার নিজের কাছেও বিশেষভাবে অর্থবহ। গত বছর এই দিনে সিসিবিতে প্রথম লেখালিখি শুরু। সে সময় ব্লগে লোকজন কম থাকায়, আমাকে কেউ ফ্রন্টরোল দিতে বলে নাই। আমিও দেই নাই। আজকে অফিশিয়ালি দিলাম। আমার ওরিয়েন্টেশন শেষ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আজকে ক্যাডেট কলেজের দুইটা ইনটেকের শুভ জন্মদিন। ১৯৯৪-২০০০ ব্যাচ এবং ২০০১-২০০৭ ব্যাচ। আর কিছু ক্ষণ পরেই মহান ১২ মে। </p>
<p>এই দিনটা আমার নিজের কাছেও বিশেষভাবে অর্থবহ। গত বছর এই দিনে সিসিবিতে প্রথম লেখালিখি শুরু। সে সময় ব্লগে লোকজন কম থাকায়, আমাকে কেউ ফ্রন্টরোল দিতে বলে নাই। আমিও দেই নাই। আজকে অফিশিয়ালি দিলাম।</p>
<p> <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/baby.gif' alt=':frontroll:' class='wp-smiley' />  <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/baby.gif' alt=':frontroll:' class='wp-smiley' />  <img src='http://static.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/baby.gif' alt=':frontroll:' class='wp-smiley' /> </p>
<p>আমার ওরিয়েন্টেশন শেষ হলো। সবাইকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে ৯৪-০০ এবং ০১- ০৭ ইনটেকের সবাইকে আবারও একবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা।</p>
<p>( কামরুল ভাই একটু পরে কি জানি একটা পোস্ট করবে, আমি তাই অফ গেলাম। শুভ রাত্রি) </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/siddique1237/36410/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>11</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Page Caching using disk: enhanced
Object Caching 912/914 objects using disk: basic
Content Delivery Network via static.cadetcollegeblog.com

Served from: www.cadetcollegeblog.com @ 2012-05-15 14:22:02 -->
