<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ক্যাডেট কলেজ ব্লগ</title>
	<atom:link href="http://www.cadetcollegeblog.com/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.cadetcollegeblog.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Sun, 14 Mar 2010 05:17:39 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.8.4</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>যেমন হবে বিশ্বকাপ দলঃ  আর্জেন্টিনা</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/khasan955/22146</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/khasan955/22146#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 14 Mar 2010 05:17:39 +0000</pubDate>
		<dc:creator>কামরুল হাসান (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[খেলাধুলা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22146</guid>
		<description><![CDATA[একটা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। সেটা আবার জোড়া লাগাতে হবে। অন্ধকারে এবং হাত দুটোকে কাজে না লাগিয়ে! এই কাজটা যতটা কঠিন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করাটাও ছিল ঠিক ততটাই। ১৬ মাসে যে ভদ্রলোক ১০৩ জন খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের জার্সি পরিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে আর যাই হোক, কোন ভবিষ্যদ্বাণীতে যাওয়া [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><font size=6>এ</font>কটা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। সেটা আবার জোড়া লাগাতে হবে। অন্ধকারে এবং হাত দুটোকে কাজে না লাগিয়ে! এই কাজটা যতটা কঠিন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করাটাও ছিল ঠিক ততটাই। ১৬ মাসে যে ভদ্রলোক ১০৩ জন খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের জার্সি পরিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে আর যাই হোক, কোন ভবিষ্যদ্বাণীতে যাওয়া যায় না। তবে সুখের কথা, বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কমে এসেছে আর্জেন্টিনা দল নিয়ে ম্যারাডোনার পরীক্ষা-নিরীক্ষাও। জার্মানির বিপক্ষে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচটা খেলার আগে &#8216;ফুটবল ঈশ্বর&#8217; স্বয়ং বলে দিয়েছেন, শতকরা ৮০ ভাগ নিশ্চিত করে ফেলেছেন তিনি তাঁর দল। এদের অনেককে ফোন করে তিনি জানিয়েও দিয়েছেন বিশ্বকাপে খেলার সুসংবাদটা। বাকি ২০ ভাগ? সেটা তো অন্য কোচরাও নিশ্চয়ই এখনো হাতে রেখেছেন। </p>
<p>কোচ হিসেবে ম্যারাডোনা তাহলে অন্যদের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই? কিন্তু ১৬ মাসের কীর্তিকলাপ তো আবার কথা বলছে এর বিপক্ষে। নাহ! এই বিতর্ক অন্তহীন হয়ে যাবে। তার চেয়ে বরং চলুন দেখা যাক আর্জেন্টাইন কোচের ফোন পেয়েছেন কারা সেটা আন্দাজ করা যায় কি না।</p>
<p>বিশ্বকাপের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণার এখনো মাস দুয়েক বাকি। অফিসিয়ালি তাই এখনো কারো নাম বলছেন না ম্যারাডোনা। কিন্তু হাভিয়ের মাসচেরানোকে ছাড়া যে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবেন না, এটা বলেছেন বহু আগেই। ডিফেন্সিভ এই মিডফিল্ডারকে এতই পছন্দ ম্যারাডোনার, গত নভেম্বরে নিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্বটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁকে। বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব থাকবে লিভারপুলের এই তারকার কাঁধে_সেটা একরকম নিশ্চিত। মাসচেরানোর মতো আর্জেন্টাইন কোচের পছন্দের তালিকায় আছেন আরো একজন। হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন। মাঝখানে অনেকদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। কিন্তু ম্যারাডোনার পছন্দ এবং এস্তুদিয়ান্তেসের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স গত বছর মার্চে তাঁকে আবার ফিরিয়ে এনেছে দলে। সেই থেকে মিডফিল্ডে নিজের দায়িত্বটাও বেশ ভালোমতোই সামাল দিচ্ছেন ভেরন। ম্যারাডোনাও তাই তাঁকে বিশ্বকাপ দলে রাখার কথা জানিয়েছেন বেশ কয়েকবার। আর্জেন্টিনার হয়ে মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলেছেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। কিন্তু এরই মধ্যে দলে নিজের অবস্থা পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন বেনফিকার এই মিডফিল্ডার। শুধু ম্যারাডোনার দলে থাকা নয়, আগামী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অন্যতম তারকা হয়ে উঠতে পারেন তিনি। হোনাস গুতিরেজ অবশ্য এইদিক দিয়ে সৌভাগ্যবান। আর্জেন্টাইন কোচ নিজে বিশ্বকাপের দল নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে একবার বলেছেন, &#8216;মাসচেরানো, মেসি, গুতিরেজসহ আরো আটজন।&#8217; কোচের আস্থার প্রতিদানটা বিশ্বকাপে ঠিকই দেবেন &#8216;স্পাইডারম্যান&#8217;, এই বিশ্বাস আছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। গত দেড় বছরে ম্যারাডোনার দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন পাবলো আইমার, ম্যাক্সি রড্রিগেজ আর এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো। অভিজ্ঞ এই তিন মিডফিল্ডারও থাকতে পারেন আর্জেন্টাইন কোচের বাছাই করা ২৩-এ। যেমন থাকার সম্ভাবনা আছে ফিওরেন্টিনার মারিও বোলাত্তির। হেসাস দাতোলোকেই বা কেন বাদ দেবেন ম্যারাডোনা। রাশিয়ার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের প্রথম গোল করা অলিম্পিয়াকসের এই লেফট উইঙ্গার আছেন আর্জেন্টাইন কোচের সুনজরে।</p>
<p>দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার মার্টিন দেমিকেলিস আর নিকোলাস ওতামেন্দির ওপর ম্যারাডোনা ভরসা করছেন অনেকদিন ধরেই। এদের সঙ্গে ইন্টার মিলানের হয়ে নিজের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে আবারও ডাক পেয়েছেন ওয়াল্টার স্যামুয়েল। বয়স ত্রিশের কোটা পেরিয়ে গেলেও লেফট ব্যাকের জায়গাটা মোটামোটি পাকা সাবেক অধিনায়ক গ্যব্রিয়েল হাইঞ্জের জন্যে। রাইটব্যাক হিসেবে ম্যারাডোনার পছন্দের তালিকায় সবার উপরে থাকতে পারেন এস্তুদিয়েন্তেসের ক্লেমেন্তে রড্রিগেজ। রোমা থেকে ইন্টার মিলানে ধারে খেলতে আসা নিকোলাস বুরদিসোকেও দেখা যেতে পারে আগামী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সামলাতে। গত বছর দেড়েক ইনজুরিতে ছিলেন, কিন্তু এখন ফিরে এসে ধীরে ধীরে যেভাবে ফর্মে ফিরছেন, তাতে গ্যাব্রিয়েল মিলিতোও হয়ে উঠতে পারেন রক্ষণভাগের প্রধান ভরসা।</p>
<p>গত দেড় বছরে সাতজন গোলরক্ষককে নিজের দলে ডেকেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তবে সাম্প্রতিককালে তাঁর সবচেয়ে বেশি আস্থাভাজন সার্জিও রোমেরো। নেদারল্যান্ডের ক্লাব আলকামারের এই গোলরক্ষককে তাই আগামী বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন গোলবারের সামনে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় গোলরক্ষক হিসেবে ম্যারাডোনার পছন্দের তালিকায় আছেন আরো দুইজন। কাতানিয়ার মারিনাও আনজুয়ার আর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বেশির ভাগ সময় আর্জেন্টাইন গোলবার সামলানো হুয়ান পাবলো ক্যারিজো।</p>
<p>বাছাইপর্বে পেরুর বিপক্ষে এক অবিস্মরণীয় গোল করে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে যাওয়ার স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন মার্টিন পালেরমো। ম্যারাডোনাও তাঁকে তুলনা করেছিলেন দেবদূতের সঙ্গে। কিন্তু আপাতত &#8216;ফুটবল ঈশ্বর&#8217;-এর কাছ থেকে পাওয়া এই প্রশংসাবাণী নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাঁকে। কারণ তাঁর বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নটা খুব সম্ভব সত্যি করতে পারছেন না আর্জেন্টাইন কোচ। পারবেন কী করে! গনজালো হিগুয়াইন, কার্লোস তেভেজ, ডিয়েগো মিলিতো আর সার্জিও অ্যাগুয়েরো মিলে এক মধুর সমস্যায় ফেলে দিয়েছেন তাঁকে। ফরোয়ার্ড লাইনে কাকে রেখে কাকে খেলাবেন আর্জেন্টাইন কোচ! রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই মৌসুমে ১৮ গোল করা হিগুয়াইন যদি থাকেন তাহলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৩১ ম্যাচে ২১ গোল করা তেভেজকেও রাখতে হয়। এইটুকু শুনে যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তাহলে বলি, ২৯ ম্যাচে ১৭ গোল করে সিরি &#8216;এ&#8217;-র এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার মিলিতো আর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে ১৫ বার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো।</p>
<p>এদের সবার মতো ম্যারাডোনাকে এত সমস্যায় রাখেননি লিওনেল মেসি। শুধু দলে থাকা নয়, আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে খেলাও সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত ফিফার এই বর্ষসেরা ফুটবলারের। এত &#8216;আনপ্রেডিকটেবল&#8217; যে কোচ তাঁর দল সম্পর্কে এতটা নিশ্চিন্তে এ কথাটা বলাটা কি ঠিক হলো?</p>
<p>হবে না কেন? ম্যারাডোনাই তো বলেছেন, &#8216;ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে মেসি আমার দলে খেলছে।&#8217;</p>
<p>———————————————————<br />
<font size=5>সম্ভাব্য একাদশঃ</font></p>
<p> &#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-গনজালো হিগুয়াইন&#8212;&#8212;&#8212;-লিওনেল মেসি&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;- </p>
<p>অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া&#8212;&#8212;- হোনাস গুতিরেজ&#8212;&#8212;&#8212;-হাভিয়ের মাসচেরানো&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212; হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন</p>
<p>হেইঞ্জ&#8212;&#8211;মার্টিন দেমিকেলিস&#8212;&#8212;- নিকোলাস ওতামেন্দি/ গ্রাবিয়েল মিলিতো&#8212;&#8211; ক্লিমেন্তে রড্রিগেজ</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;সার্জিও রোমেরো&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;</p>
<p><font size=5>গোল ডট কম প্রেডিকসন</font></p>
<p><img src="http://www.castrolfootball.com/resources/cache/success-2bd76eb87452c3a582c9285226986226.png" alt="গোল ডট কম প্রেডিকসন" /></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/khasan955/22146/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ব্যাক্তিগত একটি সংবাদ নিয়ে একটি আজাইরা পোস্ট</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/amin1861/22139</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/amin1861/22139#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 13 Mar 2010 17:43:52 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আমিন (১৯৯৬-২০০২)</dc:creator>
				<category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22139</guid>
		<description><![CDATA[একটা গল্প আছে মিথ্যাবাদী রাখালের। সেই গল্প সবাই নিশ্চয় জানেন অতএব তার উল্লেখে সবাইকে বিরক্ত করাটা অনুচিত হবে। তাই গল্পটা আর মনে করানোর ধৃষ্টতা দেখালাম না। তবে যেহেতু তার উল্লেখ ঘটেছে এই পোস্টে অতএব তার সাথে মিল বা বেমিল ব্যাখ্যা করতে আমি বাধ্য। এই গল্পটা আমরা খুব ব্যবহার না করলেও গল্পের শিরোনামটা বেশ ব্যবহৃত আমাদের [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>একটা গল্প আছে মিথ্যাবাদী রাখালের। সেই গল্প সবাই নিশ্চয় জানেন অতএব তার উল্লেখে সবাইকে বিরক্ত করাটা অনুচিত হবে। তাই গল্পটা আর মনে করানোর ধৃষ্টতা দেখালাম না। তবে যেহেতু তার উল্লেখ ঘটেছে এই পোস্টে অতএব তার সাথে মিল বা বেমিল ব্যাখ্যা করতে আমি বাধ্য। এই গল্পটা আমরা খুব ব্যবহার না করলেও গল্পের শিরোনামটা বেশ ব্যবহৃত আমাদের কলেজে বিশেষ করে দুটি হাউসে। তার কারণ অবশ্য শিরোনামে একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের নামোল্লেখে। যা হোক ভূমিকা খুব বেশি হয়ে যাচ্ছে। এত সব কিছু বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা কথাই বলা সেটা হলো ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে আমি অনেক ব্যস্ত  মোবাইল থেকে ব্লগ পড়ছি, লোডশেডিং জ্যাম  ব্লা ব্লা&#8230;..। তা এই পুরাতন কথাটা আবার বলার আগেই মিথ্যবাদী রাখালের গল্পটা মনে পড়লো। কারণ সিসবিতে আমার এই কথাগুলো (সত্য হোক আর অসত্যই হোক) মোটামুটি প্রবাদতুল্য জায়গায় পৌঁছে গেছে। অতএব আমার অবস্থান বর্তমান সিসিবিয়ানদের  কাছে মিথ্যাবাদী রাখালের ন্যায় হতে বাধ্য।</p>
<p>ভূমিকা পোস্টের অনেক বড় হয়ে গেছে। কারণ ভূমিকা ছাড়া এই পোস্টে কন্টেন্ট বলে তেমন কিছু নেই। কন্টেন্টের উদ্দেশ্য আমার ব্যস্ততার কারণ ব্যাখ্যা করা অথবা একটা শুভ সংবাদ শেয়ার করার জন্য ব্যস্ততার ভান করে তার কারণ ব্যাখ্যা করা। খবরটা আমার নিজের ব্যাক্তিগত জীবনের সংবাদ এবং সিসিবি যেহেতু আমার আরেক ফ্যামিলি তাই শেয়ার করার তাগিদ অনুভব করলাম। আর সেটা হলো জীবনের ২৭ বসন্ত পার করে আমার ব্যাচেলর জীবনের অবসান ঘটেছে গত ১১ই মার্চ। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পুরো পরাধীনতার বেড়ী ( এই শব্দটি বন্ধুদের মজা করে দেয়া)  আমার পায়ে পড়ছে সামনেই। আর বিবাহোত্তর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান ২৭ শে মার্চ দুপুরে। এইসিসবি সূত্রে পরিচিত হওয়া শ্রদ্ধেয় আর স্নেহের সকলকে দাওয়াত রইলো ২৭ তারিখ,অফিসার্স ক্লাব, বেইলী রোডে।  </p>
<p>ও হো যাহোক, পোস্ট দেয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিলো আমার ব্যস্ততার কারণ ব্যাখ্যা করা।  সবাই নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝতে পেছেন নতুন জীবনের ঢোকার দরজা তৈরিতে আমি আসলেই অনেক ব্যস্ত।</p>
<p>(পুনশ্চ : সিসিবির জন্য একটি কার্ড ব্লগ প্রিন্সিপালের কাছে পৌছে দেয়া হয়েছে।)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/amin1861/22139/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>29</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বেঁচে আছি</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/zobayer/22135</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/zobayer/22135#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 13 Mar 2010 15:43:58 +0000</pubDate>
		<dc:creator>শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)</dc:creator>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>
		<category><![CDATA[রাজশাহী]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22135</guid>
		<description><![CDATA[বেঁচে আছি বলেই তো মনে হয়,
এর চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজন
থাকার কথা তো নয়।
হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খাওয়া
তারপরে সামলে নেয়া
যেন সে প্রতিদিনেরই ঘটনা।
উঠে দাঁড়াতে পারছি আবার,
এই তো যথেষ্ট;পথ চলা থামানোর
কথা তো আর না।
জীবনের সাথে অভিমান,
ক্ষোভ, আক্ষেপের আস্ফালন;
ফলাফল শূন্যে শেষ।
কি দরকার এসবের তবে,
লাভের খাতায় বরং
শূন্যই থাকবে বেশ।
দিনভর তোষামোদের পর
শুনতে হয়, আরও চেষ্টা কর।
নিজের রাস্তা চেষ্টাতেই গড়ি,
দিনভর হাত কচলিয়ে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বেঁচে আছি বলেই তো মনে হয়,<br />
এর চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজন<br />
থাকার কথা তো নয়।</p>
<p>হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খাওয়া<br />
তারপরে সামলে নেয়া<br />
যেন সে প্রতিদিনেরই ঘটনা।<span id="more-22135"></span><br />
উঠে দাঁড়াতে পারছি আবার,<br />
এই তো যথেষ্ট;পথ চলা থামানোর<br />
কথা তো আর না।</p>
<p>জীবনের সাথে অভিমান,<br />
ক্ষোভ, আক্ষেপের আস্ফালন;<br />
ফলাফল শূন্যে শেষ।<br />
কি দরকার এসবের তবে,<br />
লাভের খাতায় বরং<br />
শূন্যই থাকবে বেশ।</p>
<p>দিনভর তোষামোদের পর<br />
শুনতে হয়, আরও চেষ্টা কর।<br />
নিজের রাস্তা চেষ্টাতেই গড়ি,<br />
দিনভর হাত কচলিয়ে মরি,<br />
জীবনের এই বিচিত্র সৌন্দর্য!</p>
<p>তাই বেঁচে থাকার সুখে,<br />
নয় সুখের মুখোশে<br />
কণ্ঠ ছিঁড়ে চিত্‌কার করি<br />
হর্ষে, আমোদে<br />
নয়ত বিষাদে।<br />
জীবনের এই তো শেষ নয়,<br />
বেঁচে থাকার জন্যই<br />
তাই বেঁচে থাকতে হয়।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/zobayer/22135/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আগোরা-আলেকজান্দ্রিয়া-হাইপেশিয়া</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/4thintheline/22130</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/4thintheline/22130#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 13 Mar 2010 11:11:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আন্দালিব (৯৬-০২)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগর ব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22130</guid>
		<description><![CDATA[[নোট: দীর্ঘ লেখা। লেখার পেছনে প্রেরণা - মাহমুদ ভাই, আর মুহাম্মদ। অনেক ধন্যবাদ তাদের দু'জনকেই!]
বনানী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আমার একটা পছন্দের ডিভিডি&#8217;র দোকান আছে। মাসে, দু&#8217;মাসে আমি সেখানে ঢুঁ দেই, নতুন মুভি কিনতে। দোকানটির বৈশিষ্ট্য এই যে ডিভিডি&#8217;র মান, ছবির প্রিন্ট ও সাউন্ড খুব ভালো থাকে। মাঝে মাঝে বিদেশি, একটু কম আলোচিত ছবিও ওখানে পাই। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>[নোট: দীর্ঘ লেখা। লেখার পেছনে প্রেরণা - মাহমুদ ভাই, আর মুহাম্মদ। অনেক ধন্যবাদ তাদের দু'জনকেই!]<br />
<em>বনানী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আমার একটা পছন্দের ডিভিডি&#8217;র দোকান আছে। মাসে, দু&#8217;মাসে আমি সেখানে ঢুঁ দেই, নতুন মুভি কিনতে। দোকানটির বৈশিষ্ট্য এই যে ডিভিডি&#8217;র মান, ছবির প্রিন্ট ও সাউন্ড খুব ভালো থাকে। মাঝে মাঝে বিদেশি, একটু কম আলোচিত ছবিও ওখানে পাই। গতমাসের মাঝামাঝি সময়ে একদিন আবার গেলাম। বেশ কয়েকটা নতুন মুভি আনলাম যাদের মাঝে একটাকে নিয়ে আজকে না লিখে পারলাম না!</em> </p>
<p>ছবিটার নাম <a href="http://www.imdb.com/title/tt1186830/">আগোরা</a><img alt="" src="http://ia.media-imdb.com/images/M/MV5BMTA2MjIwMjE0MjZeQTJeQWpwZ15BbWU3MDU4ODIwODI@._V1._SX98_SY140_.jpg" title="Agora Movie Poster" class="alignnone" width="98" height="140" /></p>
<p>আমাদের দেশে আগোরা বললেই একটা সুপার মার্কেটের কথা মনে পড়ে যেখানে টুথপিক থেকে শুরু করে খেলনা সাইকেল পর্যন্ত সবই পাওয়া যায়। ডিভিডি দেখে ভাবলাম, হয়তো সেই সুপার মার্কেট নিয়েই বিতং ছবি বানিয়েছেন <a href="http://www.imdb.com/name/nm0024622/">আলেহান্দ্রো আমেনাবার</a>। এই পরিচালকের বানানো মাত্র সাতটি ছবির মাঝে তিনটি ছবি দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। চিলি&#8217;র সৌভাগ্য, এমন একজন পরিচালক তাদের আছে যিনি প্রথাগত সিনেমার মধ্যেও সুররিয়্যাল ছবির মেজাজ নিয়ে আসতে পারেন। তাঁর প্রথম যে ছবিটা দেখেছিলাম, সেটি &#8220;<a href="http://www.imdb.com/title/tt0125659/">আব্রে লোস ওহোস</a>&#8221; (ওপেন ইয়োর আইজ)। (এই ছবিটির একটা হলিউডি-ভার্সন আছে, ক্যামেরন ক্রোয়ের বানানো, নাম- <a href="http://www.imdb.com/title/tt0259711/">ভ্যানিলা স্কাই</a>)। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে আলেহান্দ্রো এই ছবিটি বানিয়েছিলেন, যেটা ছবি দেখার সময়ে একবারও মনে হয়নি। ছবির এডিটিং, দৃশ্যবিন্যাস, পরপর বাস্তব-পরাবাস্তবের মধ্যে সংলাপগুলো, চরিত্রগুলোর মনস্তত্ত্ব এতোটাই জটিল-সরল রূপ নিয়েছে যে মন্ত্রমুগ্ধ হতেই হয়। যে বছর &#8220;আব্রে লোস ওহোসে&#8221;র রিমেক &#8220;ভ্যানিলা স্কাই&#8221; মুক্তি পেলো, সেই বছরেই আলেহান্দ্রো আরেকটি ছবি বানালেন, এবারে ভৌতিক গল্প নিয়ে। এটার নাম &#8220;<a href="http://www.imdb.com/title/tt0230600/">দ্য আদার্স</a>&#8220;। এখানেও প্রথাগত হরর ছবির হাস্যকর রক্তারক্তি নেই, খুব চিৎকার চ্যাঁচামেচি নেই, কিন্তু অজান্তব একটা শিরশিরে ভয় দর্শককে আচ্ছন্ন করে রাখে। আর ছবির শেষে একটা মারাত্মক মোচড় আমাকে এতোটাই ঘাবড়ে দিয়েছিলো যে ক্রেডিট শেষ হয়ে যাওয়ার অনেকক্ষণ পরেও চুপচাপ বসেছিলাম!</p>
<p>&#8220;আগোরা&#8221; কেনার সময়ে তাই আলেহান্দ্রোর নাম দেখে বেশ উৎসাহিত হয়েই কিনলাম।<br />
ছবির পটভূমি ৩৯১ খ্রিস্টাব্দের আলেকজান্দ্রিয়া নগরী। গ্রিক সভ্যতার সবচেয়ে উজ্জ্বল নারী, একাধারে দার্শনিক, জ্যোতির্বিদ, গণিতবিদ এবং শিক্ষানুরাগী হাইপেশিয়াকে নিয়ে ছবিটা তৈরি। যদিও বিভিন্ন প্রচারণাতে তাঁর চাইতে বেশি বলা হয়েছে ক্রিশ্চিয়ানিটির অনুসারী এক যুবক এই ছবির মূল উপজীব্য (যে কিনা হাইপেশিয়ার দাস ছিলেন), ছবি দেখার সময়ে আমার সেটা মনে হয়নি। মূলত হাইপেশিয়ার নাম দেখে আমি তুমুল আগ্রহী হয়ে উঠি ছবিটা দেখার জন্যে। গ্রিক-রোমান সভ্যতার যে জ্ঞানার্জন, সেটার শেষ প্রদীপ ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথেই আলেকজান্দ্রিয়াকে ঘিরে গড়ে ওঠা জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা অন্ধকারে পতিত হয়। খ্রিস্টান ধর্মের প্রবল ধর্মগুরুদের প্রতাপে রোমান প্রিফেক্টরা দলে দলে প্যাগান থেকে খ্রিস্টান হয়ে ওঠেন। ধর্মাচরণ, ধর্মপালন ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং এক দীর্ঘ কুৎসিত অন্ধকার যুগের বন্ধ্যা সময়ের শুরু হয়।<br />
<a href="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/409px-Hypatia_portrait.JPG"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/409px-Hypatia_portrait-204x300.jpg" alt="Hypatia_portrait" title="Hypatia_portrait" width="204" height="300" class="aligncenter size-medium wp-image-22131" /></a><br />
এতোক্ষণ মুভিটির সামনে ও পিছনে থাকা দুজন সবচেয়ে জরুরি মানুষ নিয়ে কথা বললাম। আলেহান্দ্রো আর হাইপেশিয়াকে ছাড়া মুভির বাকি অংশগুলো বুঝে উঠতে দ্বিতীয়বার দেখলাম ছবিটা।</p>
<p>&#8220;আগোরা&#8221; মানে বাজার। গ্রীক-রোমান সভ্যতায় কোন কমনপ্লেসকে ঘিরে যে বাজার গড়ে ওঠে সেটাকে আগোরা বলে। রোমের কলিসিয়ামের ধার ঘেঁষে যেমন আগোরা ছিলো, তেমনি আলেকজান্দ্রিয়ার প্যাগান ভাস্কর্যের (অর্থাৎ দেবদেবীদের মূর্তি যেখানে স্থাপিত ছিলো) চারিদিকেও একই ধরনের আগোরা গড়ে উঠেছিলো। খ্রিস্টধর্মের বয়স যখন প্রায় চারশ বছর, তখন আলেকজান্দ্রিয়া একটি কসমোপলিটান নগরী হয়ে উঠছিলো। একই সাথে সেখানে গ্রীক সভ্যতা, রোমান সভ্যতার মিশেল আর ইহুদী, প্যাগান এবং নব্যআহূত খ্রিস্টান নাগরিকের একটা মিলনমেলা হয়ে উঠলো নগরটি। শাসন করতো রোমান প্রিফেক্ট, ধর্মানুসারে যারা প্যাগান ছিলেন। কিন্তু সিনেটের একটা বড়ো অংশ তখন ইহুদী এবং খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে। যীশুর মৃত্যুর প্রায় চারশ বছর পরেও সামাজিক সৌহার্দ্যের মুখোশ খুলে তাদের মাঝে বিরোধ মাঝে মাঝেই দেখা দিচ্ছে। আবার নিরাকার ঈশ্বর বনাম মূর্তিমান দেবতার যে সংঘাত, সেখানে একদিকে ইহুদী-খ্রিস্টানদের অবস্থান, বিপরীতে প্যাগান শাসক।</p>
<p>আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত বাতিঘর আর পাঠাগার তখন সভ্যবিশ্বের প্রতীক, পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি ছিলো এই বাতিঘর! পাঠাগার যেমন ছিলো গ্রিক-রোমান সভ্যতার সকল জ্ঞানের সংগ্রহশালা, তেমনি প্যাগানদের উপাসনালয়ের স্থান। পাঠাগারের বইগুলো ছিলো হাতে লিখিত। মূল লেখকের লেখা একটি কপি থেকে পাঠাগারের শিক্ষার্থীরা আরো অনেকগুলো কপি করতেন। এভাবে বইগুলো সংরক্ষিত হতো। শিক্ষকদের বেশিরভাগই ছিলেন প্যাগান, পাঠাগারের ঠিক মাঝখানে প্যাগান দেবতা সেরাপিস, হোরাস, আনুবিস আর আইসিসের মূর্তি রাখা ছিলো। সারা শহর জুড়েই অসংখ্য স্থাপত্য নিদর্শন ছিলো যেগুলো এখন কিছুই অবশিষ্ট নেই!</p>
<p>হাইপেশিয়ার গবেষণার মূল প্রেরণা ছিলো জ্যোতির্বিদ্যা আর গণিত। পৃথিবীকে তখনও মনে করা হতো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্র। তার চারপাশে সূর্য, মঙ্গল, শনি, বুধ এবং শুক্র হলো &#8220;পরিব্রাজক&#8221;(ওয়ান্ডারার)। টলেমির দেয়া মডেল অনুযায়ী, সকল ঘূর্ণনপথকে বৃত্তাকার কল্পনা করা হতো। সেক্ষেত্রে যেটা মূল সমস্যা ছিলো, তা হলো সূর্য এবং অন্যান্য পরিব্রাজকের আকারের ছোটবড় হওয়া। বৃত্তাকার পথে ঘুরলে সেটা হওয়ার কথা নয়। টলেমি এই সমস্যার সমাধান দিয়েছিলেন এই বলে যে, সবগুলো পরিব্রাজক পৃথিবীর চারপাশে ঘোরার সাথে সাথে নিজেদের একটা ছোট বৃত্তাকার পথেও ঘুরছে। এই কারণেই তার আকারের পার্থক্য আমাদের চোখে ধরা পড়ে। মনে রাখতে হবে, সেই সময়ে বৃত্ত ছিলো বিশুদ্ধতম জ্যামিতিক ক্ষেত্র। উপবৃত্ত, পরাবৃত্তকে মনে করা হতো অবিশুদ্ধ বা পার্থিব, বৃত্তাকার ছিলো স্বর্গীয়। এখনকার যুগে জ্যামিতিক ক্ষেত্রকে পবিত্র মনে করার ব্যাপারটা হাস্যকর মনে হলেও সে সময়ে এগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা, বিরোধিতা করার জন্যে কাউকে মুক্তমনা হওয়া ছিলো খুবই জরুরি। বিজ্ঞানের প্রসারের প্রথম পদক্ষেপটাই ছিলো প্রতিষ্ঠিত সত্যের ব্যাখ্যায় প্রচলিত পদ্ধতিকে প্রশ্ন করা। জ্যামিতিক ক্ষেত্রের এই স্বর্গীয়/পার্থিব ভেদাভেদ করে অনেকদিন পর্যন্ত ভ্রান্তপথে চালিত হয়েছে গবেষণা। এখনও আমরা অনেকেই পড়াশোনা করার পরেও যেমন জ্যোতিষবিদ্যায় বিশ্বাস করি, পানিপড়া, তুকতাক, ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাসীও খুঁজলে পাওয়া যাবে! একমাত্র মানুষের পক্ষেই সকল যুক্তি ও বোধ বিসর্জন দিয়ে এমন অবিশ্বাস্য &#8220;শক্তি&#8221;র ওপর বিনাশর্তে বিশ্বাস করা সম্ভব।</p>
<p>ছবিটির প্রথমাংশের একটি দৃশ্যে হাইপেশিয়ার ক্লাসরুম দেখানো হলো। এখনকার মতো নয়, আলেকজান্দ্রিয়ার ক্লাসরুম অনেক বেশি &#8216;ক্যাজুয়াল&#8217; ছিলো। সেখানে পাশাপাশি প্যাগান-ইহুদি-খ্রিস্টান সকলেই তাঁর কাছে পড়তো। তিনি পৃথিবী ও সৌরজগতের এই জটিল ঘূর্ণন ব্যাখ্যা করছিলেন। ওরেস্টিস (পরবর্তীতে রোমান প্রিফেক্ট হন তিনি, ধর্মে প্যাগান) নামের একজন বলে উঠলো, &#8220;এমন ঘূর্ণনের নিয়ম বানানোর আগে দেবতাদের উচিত ছিলো আমার সাথে পরামর্শ করে নেয়া&#8221;। সকলে হেসে উঠলো, ওরেস্টিস একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললো, &#8220;কারণ এতো জটিল করে বানানোর কী দরকার ছিলো? সবগুলো পরিব্রাজক কি একটা সরল বৃত্তপথেই ভ্রমণ করতে পারতো না? তাহলে তো অনেক সহজ হতো সবকিছু&#8221;। তার প্রশ্ন নিয়ে হাইপেশিয়া তখনও ভাবছেন, পাশ থেকে সাইনেসিস (পরবর্তীতে খ্রিস্টান বিশপ হন তিনি) আপত্তি করে উঠলেন, &#8220;ওরেস্টিস, তোমার কোন অধিকার নেই ঈশ্বরের সৃষ্টি নিয়ে এরকম হাসি-তামাশা করার। তিনি মহান, তাঁর সৃষ্টির নিয়মকে তুমি প্রশ্ন করতে পারো না!&#8221;</p>
<p>ওরেস্টিস: &#8220;তোমার কি সমস্যা? একজন মানুষ কি তার মতামত জানাতে মুখও খুলতে পারবে না?&#8221;</p>
<p>সাইনেসিস: &#8220;তুমি আমাদের ঈশ্বরের সমালোচনা করছো, তার সৃষ্টির সমালোচনা করছো। এগুলো করে তুমি আমাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করছো।&#8221;</p>
<p>ওরেস্টিস: &#8220;তোমরা এক কাজ করো, মরুভূমিতে চলে যাও। ওখানে তোমাদের অনুভূতিকে আহত করার কেউ থাকবে না।&#8221;</p>
<p>এই উত্তপ্ত কলহের মাঝে দাঁড়িয়ে হাইপেশিয়ার আচরণ আমাকে মুগ্ধ করে। সাইনেসিসের দিকে তাকিয়ে তিনি শান্ত স্বরে বললেন, &#8220;সাইনেসিস, ইউক্লিডের প্রথম সূত্রটা কি?&#8221;</p>
<p>সাইনেসিস জবাব দিলো, &#8220;If two things are equal to a third thing, then they are all equal to each other.&#8221;</p>
<p>হাইপেশিয়া: &#8220;এখন বলো, তোমরা দু&#8217;জন কি আমার কাছে সমান নও?&#8221;</p>
<p>ওরেস্টিস আর সাইনেসিস চুপ করে মাথা নাড়লো, অনেকটা অনড় সিদ্ধান্তের স্বরে হাইপেশিয়া বললেন, &#8220;যদি তোমরা দুজনেই আমার কাছে সমান হয়ে থাকো, তাহলে তোমরা একে অপরের কাছেও সমান। আমি বাকিদেরকেও বলি, যতোকিছু আমাদের বিভক্ত করে, তার চেয়েও অনেক বেশি জিনিশ আমাদের একত্র করে। বাইরে বাজারে যে সংঘাত, মারামারি, হিংসা, হানাহানি, সেগুলো আমাদের এখানে নেই। এখানে আমরা সবাই এক। উই আর ব্রাদার্স!&#8221;</p>
<p>ছবির বাকি অংশ দেখার আগেই আমি বুঝে ফেলি, এটি সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে অসামান্য দৃশ্যের একটি। একই দৃশ্যে মৌলবাদ, ধর্মীয় কুযুক্তি, বিশুদ্ধ বিজ্ঞান-দর্শনের ক্ষমতা, আর সাম্যের বাণী মিলে মিশে এক হয়ে গেছে! তখন বুঝতে পারি কেন রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। কারণ এই ধর্মের সাহায্যে মানুষে মানুষে সবচেয়ে বেশি বিভেদ তৈরি করা যায়। কোন মানুষের অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞাকে খুব সহজেই নাকচ করে দেয়া যায়, ভিন্ন ধর্মের অপবাদ দিয়ে। অন্য যে কোন বিষয়ে মানুষের মাঝে যতোগুলো ভাগ করা সম্ভব, তার চেয়ে অনেক সহজে মানুষকে বড়ো বড়ো গ্রুপে ভাগ করে ফেলা যায় খালি ধর্মের পার্থক্য করলেই। একটু মিলিয়ে দেখলাম, এই ভারত উপমহাদেশে, আলেকজান্দ্রিয়ার সময়ের প্রায় ১৫০০ বছর পরে ঠিক এভাবেই ভাগ করা হয়েছিলো হিন্দু আর মুসলিম ধর্মের নামে। কতো সহস্র মানুষ সেসময়ে মারা গিয়েছিলো, তার কোনো হিসেব ইতিহাসে নাই!</p>
<p>এখনকার বাস্তবতায় হয়তো আমরা ধর্মীয় পরিচয়ের চাইতে মানুষের কথা, কাজের মূল্য কিছুটা বেশি দেই। কিন্তু আমাদের সভ্যতার গত তিন-চার হাজার সময়ে বারবার জ্ঞানচর্চা, বিজ্ঞানের প্রসারে বাধা দিয়েছে ধর্ম। ধর্মানুভূতির কোমল ইন্দ্রিয়ে আঘাত পেয়েছে বলে যাজকদের, পাদ্রিদের, মোল্লাদের তলোয়ার আর বোমাতে মারা গেছে কাফের-নাস্তিক-বিধর্মী-ডাইনি (খেয়াল করলাম, এরা কোন মানুষ নয়, এরা কেবলই কতোগুলো নোংরা বিশেষণ!)। জেরুজালেম থেকে খ্রিস্টের মৃত্যুর পরে তাঁর বারো শিষ্যের হাত ধরে খ্রিস্ট ধর্মের প্রচার ঘটেছে। প্রায় সাত-আটশ বছরের অর্জিত গ্রিক-রোমান সভ্যতার বারোটা বাজাতে তাদের বেশিদিন লাগেনি। আলেকজান্দ্রিয়ায় ৩৯১ সালে পাঠাগার ধ্বংস হলো, পুড়িয়ে ফেলা হলো প্যাগান মূর্তিপূজারীদের অর্জিত বিজ্ঞানের বই, গবেষণার সরঞ্জাম! পাঠাগারের ভেতরে মূর্তিগুলো ভেঙে স্থাপনা হলো খ্রিস্টধর্মের নিরাকার ঈশ্বরের। প্রাচীন বাইবেল অনুযায়ী লিখিত হতে লাগলো শাসনের নিয়ম। নগরে চরে বেড়াতে লাগলো <em>প্যারাবেলামি</em> নামক মাস্তানেরা। এদের ঝোলায় থাকতো পাথর, কোমরে তলোয়ার। খ্রিস্টান ধর্মের প্রতাপে উচ্ছেদ হলো ইহুদিদের। তাদের বিরুদ্ধে সুপ্রাচীন অভিযোগ, তারা খ্রিস্টকে ক্রশবিদ্ধ করেছে। তাই তারা অভিশপ্ত, নির্বাসিত! মেরে ভাগিয়ে আগোরা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হলো তাদের। এবং রোমান সরকার চেয়ে চেয়ে দেখলো কীভাবে ধর্মীয় বিশপ সিরিল পরাক্রমশালী হয়ে ওঠে!</p>
<p>হাইপেশিয়া এই সকল উত্তেজনার মাঝেও জ্যোতির্বিদ্যার কাজ চালিয়ে গেছেন। অল্প কিছু বাঁচাতে পারা বই, কিছু গণিতের সরঞ্জাম দিয়ে তখনও চেষ্টা করছেন বিশ্বের সূত্র আবিষ্কারের। পৃথিবী এবং নক্ষত্রের ভ্রমণ নিয়ে তাঁর গবেষণায় বাধা হয়ে দাঁড়ালো খ্রিস্টান চার্চ। বাইবেলে বর্ণিত আছে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড একটা চেস্ট, যার সর্বোচ্চে আছে স্বর্গ, সর্বনিম্নে পৃথিবী, এবং পৃথিবী সমতল চাকতির(!) মতো। সেই মতবাদের প্রতাপে টলেমির গোলাকার পৃথিবীর মডেলও বাতিল। এখন হাইপেশিয়া যদি বলে বসেন, পৃথিবী আসলে কেন্দ্র নয়, সূর্যকে ঘিরে ঘূর্ণায়মান একটি গ্রহমাত্র, তাহলে তা বাইবেলের সরাসরি বিরোধিতা করে বসে! হাইপেশিয়া ব্যক্তিগত বিশ্বাসে নাস্তিক ছিলেন, প্যাগান ধর্মের মূর্তিতেও তিনি বিশ্বাস করতেন না। প্রখর প্রজ্ঞার এই দার্শনিকের কাছে দর্শনই ছিলো একমাত্র &#8220;ঈশ্বর&#8221;, একমাত্র পূজনীয় স্বত্ত্বা। তাই অচিরেই তিনি চার্চের চক্ষুশূল হয়ে উঠলেন। আর্চবিশপ সিরিল বাইবেল থেকে পাঠ করলেন স্রষ্টার অমোঘ বাণী, &#8220;নারীকে সৃষ্টি হয়েছে অবগুণ্ঠিত থাকার উদ্দেশ্যে, পুরুষের সহধর্মিনী হিসেবে, অনুচর হিসেবে। কোনো নারীর ক্ষমতার নিচে, নেতৃত্বের নিচে পুরুষ থাকতে পারে না। সেই নারী, যে আব্রু করে না, জ্ঞানের চর্চা করে এবং পুরুষকে নিয়ন্ত্রণ করে সে ডাইনি।&#8221; উদাহরণ হিসেবে সিরিল বললেন, যীশুখ্রিস্ট তাঁর বারোজন শিষ্যের মাঝে এজন্যেই কোন নারীকে রাখেন নাই। এই আলেকজান্দ্রিয়ায় একজন এমনই ডাইনি আছে যে কোন ঈশ্বরেই বিশ্বাস করে না, সৃষ্টিতত্ত্বের বিরোধিতা করে, পুরুষকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। হাইপেশিয়া নামক সেই ডাইনির বিরুদ্ধে চার্চের সমন জারি হয়ে গেলো!</p>
<p>পরের গল্পটুকু বেদনাদায়ক। ক্রীড়নক রোমান প্রিফেক্টের (ওরেস্টিস) শত আপত্তি সত্ত্বেও হাইপেশিয়াকে চার্চ আটক করে ফেলে। প্রকৃত ইতিহাস থেকে মুভিটি এখানেই একটু সরে আসে। মুভিতে দেখানো হয় হাইপেশিয়ার পুরনো দাস তাঁর শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে, তাঁকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেয়। তারপর সেই মৃতদেহের দিকে পাথর ছুঁড়ে মারে প্যারাবেলামির মাস্তানেরা, খ্রিস্টের অনুসারীরা(!)। <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Hypatia#Death">মূল ইতিহাসে</a>, তাঁকে জীবন্ত অবস্থায় পাথর ছুঁড়েই মারা হয়, তারপরে তাঁর দেহ আলেকজান্দ্রিয়ার রাস্তায় ঘোড়া দিয়ে হিঁচড়ানো হয়। শিউরে ওঠার মতো নৃশংসতা? ইতিহাস বলে এটি কিছুই না। এর পরের প্রায় এক হাজার বছরের অন্ধকার মধ্যযুগে অনামী এমন অসংখ্য নারীকে ডাইনি অপবাদে মারা হয়েছে, পুড়িয়ে, পাথর ছুঁড়ে, চাবুক মেরে। কেবল নারীই নয়, জ্ঞান আহরণে আগ্রহী, বিজ্ঞান গবেষণার নিবেদিত যে কোন মানুষ যখনই ধর্মীয় সত্যের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন- তারা এরকম নির্মমভাবেই স্তব্ধ হয়ে গেছেন।</p>
<p>মুভি হিসেবে &#8220;আগোরা&#8221; এই চিরন্তন প্রশ্নগুলো উস্কে দেয়। ধর্মের শ্বাশত রূপ, মহান বাণী, সাম্যের প্রতিশ্রুতি কখনই প্রমাণিত হয়নি। যুগে যুগে ধর্মের পতন হয়েছে প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্মকে হঠিয়ে। এই হঠানোর কাজটি সহজে হয়নি, মিষ্টি কথায় হয়নি। হয়েছে প্রবল প্রতাপে, নির্মম খুন-হত্যা-রক্তপাতের মধ্যে দিয়ে। এই নির্মমতার ব্যাপারে একটা মজার পর্যবেক্ষণ হলো, বহুদেবতাবাদী ধর্মের চাইতে একেশ্বরবাদী ধর্ম অধিক নিষ্ঠুর। প্যাগান বা হিন্দুধর্মের পৌত্তলিকতার চেয়ে খ্রিস্টান বা ইসলাম অনেক বেশি দাপুটে। আর এই সকল ধর্মের বিপরীতে একা দাঁড়িয়ে আছেন গুটিকতক মানুষ- যাঁরা মুক্তবুদ্ধির চর্চা করেন, যাঁরা বাকি সবার মতো একবাক্যে অমোঘ বাণী মেনে নেন না, যাঁরা প্রকৃত দর্শন, প্রকৃত বিজ্ঞানের পথে চলেন। মহাপ্রতাপশালী শাসক বা রাজার ধর্মকে অনায়াসে প্রশ্ন করতে পারেন। </p>
<p>আলেকজান্দ্রিয়ার সিনেটে ইহুদী-প্যাগান-খ্রিস্টান সকল ধর্মের সভাসদ ছিলেন। এক উত্তপ্ত বিতর্কের সময়ে খ্রিস্টান এক সিনেটর বলেন, &#8220;এটা কেবল সময়ের ব্যাপার যে আপনারা একদিন খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করবেন। প্রিফেক্ট বুদ্ধিমান তাই তিনি এরই মধ্যে করেছেন। আপনারাও করবেন।&#8221;</p>
<p>হাইপেশিয়া উত্তর দিলেন, &#8220;আপনার ঈশ্বর আগের যে কোন দেবতার চেয়ে বেশি ন্যায়পরায়ণ, ক্ষমাশীল এরকম প্রমাণ করতে পারেন নাই। চার্চ এখন যে ঈশ্বরের নামে হত্যা-লুঠ চালাচ্ছে সেটা আগের সকল দেবতার নামে ঘটে যাওয়া হত্যা-লুঠের চাইতে কম না। আমি কেন সময়ের সাথে আপনার ধর্মে বিশ্বাস করবো, যেখানে আপনি আমাকে সন্তুষ্ট করার মতো কোন প্রমাণ দেখাতে পারছেন না?&#8221;</p>
<p>উত্তর দিতে না পেরে সেই সিনেটর পালটা প্রশ্ন করলেন, &#8220;আপনি কেন স্রষ্টা ও ধর্ম নিয়ে কথা বলছেন। আপনি তো কোনোকিছুতেই বিশ্বাস করেন না!&#8221;</p>
<p>হাইপেশিয়া থেমে থেমে উত্তর দিলেন, &#8220;<strong>I believe in Philosophy</strong>.&#8221;</p>
<p>*******</p>
<p>স্টেজভ্যু থেকে ডাউনলোডের লিঙ্ক: http://stagevu.com/video/xzfwayteuqie</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/4thintheline/22130/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>23</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সিসিবির অটোয়া সম্মেলন (বিলম্ব-রিপোর্ট)</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/rokib2048/22106</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/rokib2048/22106#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 22:08:41 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রকিব (০১-০৭)</dc:creator>
				<category><![CDATA[কলেজ সমূহ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22106</guid>
		<description><![CDATA[তাড়াহুড়া করে যখন বাস স্টপেজে এসে দাঁড়ালাম, ঘড়িতে তখন বাজে বেলা ৩টা। সাড়ে চারটার মধ্যে লবিতে থাকতে বলেছেন মঈন ভাই। কপাল ভালো এক্সপ্রেস বাস পেয়ে গেলাম। সিটে বসে একটু হাঁফ ছেড়ে গত দুদিনের কথা ভাবতে শুরু করলাম। কানাডা এসে কেমন যেন একটা বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন চলছে। এরই মাঝে সিসিবিয়ানদের গেট-টুগেদারের ছবিগুলো যেন কাঁটা ঘায়ে আয়োডিন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>তাড়াহুড়া করে যখন বাস স্টপেজে এসে দাঁড়ালাম, ঘড়িতে তখন বাজে বেলা ৩টা। সাড়ে চারটার মধ্যে লবিতে থাকতে বলেছেন মঈন ভাই। কপাল ভালো এক্সপ্রেস বাস পেয়ে গেলাম। সিটে বসে একটু হাঁফ ছেড়ে গত দুদিনের কথা ভাবতে শুরু করলাম। কানাডা এসে কেমন যেন একটা বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন চলছে। এরই মাঝে সিসিবিয়ানদের গেট-টুগেদারের ছবিগুলো যেন কাঁটা ঘায়ে আয়োডিন যুক্ত মোল্লা লবণের ছিটা দিয়ে যেত। শেষ পর্যন্ত আমিও এমন একটা গেট-টুগেদারে অংশ নিতে যাচ্ছি। আসলে কেন যেন পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে কেবল গেট-টুগেদার নয়, আরো বড়, বিস্তৃত অর্থ বহন করছিল। রাব্বি ভাই, নাসিম ভাই আর মঈন ভাইকে যেভাবে গত ক’দিন জ্বালিয়েছি; শুধু ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তাদের হয়তো ছোট করা হয়ে যাবে, সে ধৃষ্টতা তাই আর দেখাচ্ছি না। </p>
<p>আগেরদিন বিকেলে এহসান ভাইয়ের সাথে দেখা; সময়ের অভাবে যেতে পারছেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করলেন; চাও খাওয়ালেন। যা হোক, যাবার আগে গেলাম রবিন ভাইয়ের (এসসিসি)| পেট পুরে নাস্তা করে,অবশেষে রাত ৮:৩০ নাগাদ যাত্রা হলো শুরু। মাঝখানে অবশ্য কথা ছিল, পথিমধ্যে মেলিতা ভাবীকে তুলে নেবার (অপহরণ না কিন্তু) উনার ভার্সিটি থেকে। কিন্তু রান্না করে খাওয়াতে হবে- এই ভয় দেখানোয় উনি একদিন আগেই পালিয়েছেন অটোয়ায়। তাই আপাতত সব মিলিয়ে চারজন- আমি, সোহেল ভাইল (এসসিসি), মঈন ভাই এবং আসিফ ভাই (পিসিসি)| শুক্রবার রাত হওয়ায় হাইওয়েতে গাড়ি বেশ কম, শুরু হলো ভ্রাম্যমান আড্ডা। আসিফ ভাই আর সোহেল ভাই পুরোটা জমিয়ে সমিয়ে রেখেছিলেন। রাস্তায় হঠাৎ কোথা থেকে একখান গাড়ি এসে পাল্লা দিতে শুরু করলো আমাদের সাথে। মিনিট খানেক পর, আসিফ ভাই গাড়ির কাঁচ নামিয়ে জিটিএ গেমের মতো আঙ্গুল উঁচিয়ে ঠা ঠা শব্দে কাল্পনিক গুলি ছুড়তেই পাশের গাড়ি দিলো ঝেড়ে টান।</p>
<p>অবশেষে রাত ১:৩০ নাগাদ পৌঁছালাম রাব্বী ভাইয়ের বাসায়। ভাইয়া সারাদিন ক্লাস করে এসে রাত জেগে অপেক্ষা করছিলেন আমাদের জন্য। মাঝপথে বেশ ক’বার ফোন দিয়ে জেনে নিয়েছিলেন আমাদের অবস্থান। বাসায় পৌঁছেই শুরু হলো আড্ডার দ্বিতীয় দফা; সশব্দে, আরো জোরেসোরে। আশেপাশে অন্য কেউ থাকলে হয়তো সময়টা কী দিন নাকী রাত, তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়তো।<br />
<div id="attachment_22110" class="wp-caption aligncenter" style="width: 460px"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_00282.jpg" alt="সিসিবি টহল- আর সেই সাথে আড্ডা" title="DSC_0028" width="450"  class="size-full wp-image-22110" /><p class="wp-caption-text">সিসিবি টহল- আর সেই সাথে আড্ডা</p></div><br />
মাঝে মাঝে চললো সিসিবিতে আপডেট। রাত তিনটের দিকে মাথায় ভূত চাপলো- রাতের নগরী দেখতে যাবো। গায়ে জ্যাকেটটা চড়িয়ে আবারো গাড়িতে চেপে বসলাম; প্রথম গন্তব্য- কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়, রাব্বী ভাইয়ের এলাকা। অন্ধকারে তেমন কিছু না বুঝলেও বুঝলাম ক্যাডেটরা পারেও বটে। ফটোসেশন চললো খানিকক্ষণ।<br />
<div id="attachment_22109" class="wp-caption aligncenter" style="width: 460px"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_0035.jpg" alt="কার্লেটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে" title="DSC_0035" width="450"  class="size-full wp-image-22109" /><p class="wp-caption-text">কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে</p></div></p>
<p>এরপর দৌঁড় দিলাম সংসদ ভবনের দিকে; গিয়ে দেখি ঢোকার গেট বন্ধ। মাঝরাতে আমাদের উদ্দেশ্যবিহীন ঘোরাঘুরি দেখে একটা পুলিশের গাড়ি (মতান্তরে, আরসিএমপি= রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ) পিঁছু নিলো। বাধ্য হয়ে পিঁছু-ছাড়া করতে হাইওয়েতে উঠে এলাম; কিন্তু কপাল এমনই খারাপ জিপিএস এর সিগনাল গেলো বন্ধ হয়ে। একটু পর দেখি ক্যুইবেক প্রভিন্সের গ্যাটিনিউ চলে এসেছি। পুরা শহরে দেখি গিরিঙ্গিমার্কা অবস্থা- কোথাও ইংরেজি সাইন বা লেখা নেই, সব কিছু ফ্রেঞ্চে। যা হোক রাতটা বেশ গোলমাল করে বাসায় এসে দিলাম ছোট্ট একটা ঘুম, কালকের জন্য শক্তি সংরক্ষণ করতে হবে।</p>
<p><strong>মূল-পর্ব (গেট-টুগেদার)</strong><br />
<div id="attachment_22112" class="wp-caption aligncenter" style="width: 460px"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_0039.jpg" alt="সম্মেলনে যাবার জন্য প্রস্তুত" title="DSC_0039" width="450"  class="size-full wp-image-22112" /><p class="wp-caption-text">সম্মেলনে যাবার জন্য প্রস্তুত</p></div><br />
বেলা ১২ টা নাগাদ গিয়ে হাজির হলাম ভেন্যুতে, সিতার রেস্টুরেন্ট। আমরাই সবার আগে পৌঁছে গিয়েছিলাম; আমরা মানে রাব্বি ভাই গ্যাং এবং মামুন ভাই-মেলিতা ভাবি। মামুন ভাইকে দেখেই ফট করে আমি বলে বসলাম- যুবরাজ সিং; আসিফ ভাই ঝাড়ি দিয়ে থামাইলো আমাকে। একটু পরই একে একে হাজির হলেন হ্যান্ডসাম নাসিম ভাই (সকক), এবং প্রায় একই সময়ে গিয়াস ভাই(ফকক)। টুকটাক গল্প শুরু হতে না হতেই দেখা মিললো চির-সবুজ সামি রিয়াজ ভাইয়ের (এফসিসি, ৭৫-৮১); আরো এলেন; সারোয়ার ভাই (আরসিসি); লেট পার্টির মধ্যে ছিলেন উচ্ছ্বাস ভাই (সালেহীন ভাই, ফকক), কামরুজ্জামান ভাই(ককর) এবং আসিফ ভাই (বকক); কামরুজামান ভাইকে সেদিনও অফিসের কাজে আটকা পড়তে হয়েছিলো; তবুও এরই মধ্যে উনি সময় বের করে চলে এসেছিলেন। আর মন্ট্রিয়ল থেকে প্রফেসরদের সাথে মিটিং সেরে অনেকটা পথ গাড়ি চালিয়ে হাজির হয়েছিলেন আসিফ ভাই।<br />
<div id="attachment_22111" class="wp-caption aligncenter" style="width: 460px"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_0049.jpg" alt="আড্ড হলো শুরু" title="DSC_0049" width="450" class="size-full wp-image-22111" /><p class="wp-caption-text">আড্ড হলো শুরু</p></div><br />
তুমুল আড্ডা শুরু হলো; রিয়াজ ভাই আমাকে পাকড়ালেন ক্যাডেট কলেজের বর্তমান অবস্থা সম্বন্ধে জানতে। সারমর্মে, বদলে যাওয়া অনেক কিছুর পাশাপাশি চিরায়ত কিছু ট্রেডিশনের টিকে থাকার কথা জানালাম। এরই মাঝে শুরু হলো খাওয়া দাওয়া; বাফেট- তাই যত খুশি তত খাবার সুযোগ পেয়ে কেবলই একজনের কথা মনে পড়ছিলো; বলুন দেখি কে?? প্রায় দু’দফায় খাওয়া দাওয়া চললো। এরই মাঝে জানা গেলো সিসিবির বেশ কিছু নীরব পাঠকের কথা, আশা করি শীঘ্রি তাঁরা সরব হবেন। <img src='http://www.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/5.gif' alt=';;)' class='wp-smiley' />   রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ; কারণ বেলা ২-৫ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তারা আমাদের সেখানে বসে আড্ডা দেবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। নাসিম ভাই আর রিয়াজ ভাই মিলে খানিকক্ষণ গিয়াস ভাইকে খোঁচালেন।<img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_00561.jpg" alt="DSC_0056" title="DSC_0056" width="450"  class="aligncenter size-full wp-image-22113" /><br />
<img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_0062.jpg" alt="DSC_0062" title="DSC_0062" width="450"  class="aligncenter size-full wp-image-22114" /><br />
আড্ডাবাজির এক পর্যায়ে এবারে একটু সিরিয়াস আলোচনাও চললো। আসলে গেট-টুগেদারের পেছনে দেখা- সাক্ষাত ছাড়াও আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিলো। সিসিবির ডাটাবেইজের ব্যাপারে বেশ জোরেসোরেই আলোচনা চলছে অনেকদিন আগে থেকেই; কাজও মোটামুটি ভাবে শুরু হতে যাচ্ছে কিংবা হয়েছে। আমরা যারা প্রবাসে থাকি তারা এমনিতেই খানিকটা দেশ-দেশের মানুষ, এবং সর্বোপরি ক্যাডেটদের কাছে থেকে খানিকটা বিচ্ছিন্ন থাকতে বাধ্য হই। একটা উদাহরণই দেই- আসিফ ভাই কানাডাতে আছেন বছর পাঁচেকের বেশি; থাকেন আমার থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিট বাস-যাত্রার দূরত্বে। উনার বিল্ডিঙ্গে আমি অনেকবার গিয়েছি এক বন্ধুর বাসায়; কিন্তু কখনো উনাকে জানবার সুযোগ হয়নি। একই ব্যাপার ঘটেছে সোহেল ভাইয়ের ব্যাপারেও, এই গেট-টুগেদার এবং মঈন ভাইয়ের বদৌলতেই চমৎকার মানুষটার সাথে দেখা হবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।<br />
<div id="attachment_22115" class="wp-caption aligncenter" style="width: 460px"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_0117.jpg" alt="আলোচনার এক ফাঁকে" title="DSC_0117" width="450"  class="size-full wp-image-22115" /><p class="wp-caption-text">আলোচনার এক ফাঁকে</p></div></p>
<p>এখন এক্ষেত্রে যদি আমাদের ক্যাডেটদের একটা ডাটাবেইজ থাকতো, যেখানে ক্যাডেটদের বর্তমান অবস্থা-অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য থাকতো; তবে হয়তো আরো অনেককে আমি টরন্টোতে খুঁজে পেতাম। এছাড়া যারা দেশ থেকে পড়াশুনা-চাকুরীজনিত কাজে প্রবাসে আসছেন, তারাও সহজে পরিচিতদের (ক্যাডেট মাত্রই পরিচিত, অন্তত আমি এখন পর্যন্ত এখানে এসে যতজন ক্যাডেটদের সাথে পরিচিত হয়েছি, কখনোই তাঁরা আমাকে এমন আপনজন ছাড়া অন্য কিছু ভাবেননি। এপ্রাপ্তির কোন সংজ্ঞা নেই) সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন, নতুন জায়গায় খাঁপ খাইয়ে নিতে সাহা্য্য হবে।</p>
<p>এখানে আরো একটা ব্যাপার কাজ করছে, তা হলো; প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, প্রায় সবগুলো ক্যাডেট কলেজেরই কিন্তু বিভিন্ন ডাটাবেইজ আছে। কোনটা হয়তো সামগ্রিকভাবে কলেজ ভিত্তিক, কোনটা হয়তো ইনটেক-ভিত্তিক, কোনটা আবার বিশেষ কোন কলেজের অঞ্চলভিত্তিক (এটা প্রবাসের বেলায় খাঁটে)| কিন্তু কলেজ-ইনটেক নির্বিশেষে ক্যাডেটদের কোন একক ডাটাবেইজ বোধ করি নেই। প্রবাসে এসে তাই এজিনিসটা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি যে, এমন কোন ডাটাবেইজ থাকলে খুব ভালো হতো। তাতে করে কেবল সমমনাদের যোগাযোগটাই গড়ে উঠতো না, বরং ক্যাডেটদের নানা প্রয়োজনে ক্যাডেটদের এগিয়ে আসবার সুযোগটা আরো সুগম হতো। আর সেজন্য যদি সিসিবিকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিয়ে একটা ডাটাবেইজ দাঁড় করানো যায়, তাতে কেমন হবে; ব্যাপারটা কতটা সম্ভাবনাময় হবে- তা নিয়ে অনেকক্ষণ কথাবার্তা হলো। সবাই এ ব্যাপারে একমত এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।<br />
<div id="attachment_22116" class="wp-caption aligncenter" style="width: 460px"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_0083.jpg" alt="গ্রপ ফটুক" title="DSC_0083" width="450" class="size-full wp-image-22116" /><p class="wp-caption-text">গ্রপ ফটুক</p></div><br />
<img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_00782.jpg" alt="DSC_0078" title="DSC_0078" width="450"  class="aligncenter size-full wp-image-22117" /><br />
আসলে গল্পে-আড্ডায়-খুঁনসুটিতে কখন যে বেলা পড়ে এসেছে টের পাইনি। আড্ডা ছেড়ে উঠতে মন চাইছে না, কিন্তু যেতে হবেই। বাইরে এসে খানিকক্ষণ কথাবার্তার পর রিয়াজ ভাই, নাসিম ভাইকে বিদায় জানিয়ে আবার গিয়ে থিতু হলাম কফির দোকানে; উদ্দেশ্য আরো কিছুক্ষণ সাথে থাকা, গল্পগুজব করা। সেই সাথে  <img src='http://www.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/57.gif' alt=':teacup:' class='wp-smiley' /> , ডোনাট তো চলছেই- স্পন্সরঃ কামরুজ্জামান ভাই <img src='http://www.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/4.gif' alt=':D' class='wp-smiley' /> ।  <div id="attachment_22118" class="wp-caption aligncenter" style="width: 460px"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_0141.jpg" alt="চায়ের দোকানেও আড্ডা চলছে" title="DSC_0141" width="450" class="size-full wp-image-22118" /><p class="wp-caption-text">চায়ের দোকানেও আড্ডা চলছে</p></div>আসিফ ভাই আর সালেহীন ভাইয়ের গল্পে টেবিল চাপড়ানোর শুনে আশেপাশের লোকজন বেশ ঘাঁবড়ে গিয়ে ভয়ে ভয়ে তাকাচ্ছিলো। </p>
<p>আড্ডা ভেঙ্গে বাইরে আসবার পর গেলাম সংসদ দেখতে। এমনই আজাইরা এই দেশের সংসদ- না আছে সামনে চটপটি-ফুস্কা, কিংবা ভ্রাম্যমান চাওয়ালা (আমি ছাড়া), না আছে জোড়ায় জোড়ায় বসে থাকা Just বন্ধুদের দল। ঠান্ডার মধ্যে খানিকক্ষণ ফটোসেশন চললো। তারপর সবাইকে বিদায় জানিয়ে পাড়ি জমালাম রাব্বী ভাইয়ের বাসার উদ্দেশ্যে। রাতে বেরুবার আগেই নাসিম ভাই এলেন ভাবীকে নিয়ে, বিদায় জানাতে।  সাথে এক রাজকন্যা, কেবলই হাসে। অবশেষে সবার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিলাম; গন্তব্য- টরন্টো, আর সঙ্গী- পিছনে রেখে যাওয়া একরাশ ভালো লাগার গল্পকথা।<br />
<div id="attachment_22119" class="wp-caption aligncenter" style="width: 460px"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/DSC_0180.jpg" alt="সংসদের সামনে কতিপয় সংসদ সদস্য " title="DSC_0180" width="450" class="size-full wp-image-22119" /><p class="wp-caption-text">সংসদের সামনে কতিপয় সংসদ সদস্য </p></div><br />
কি অদ্ভূত তাই না; প্রায় সবাইকেই আগে কখনো দেখিনি; কথা বলেছি মাত্র দু’তিনজনের সাথে। আর আমার সাথে প্রায় সবারই বয়সের ব্যবধানটা অনেক বেশি। রিয়াজ ভাই আর আমার মাঝে কলজের হিসেব করলে দূরত্ব প্রায় ২৬ বছর; আর সবচেয়ে কাছাকাছি যিনি, সেই আসিফ ভাইও ৬ বছরের সিনিয়র। অথচ এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি- এরা কেউ অচেনা। পুরোটা সময় হাসি ঠাট্টা আর গল্প- স্মৃতিচারণে অমলিন এক ভালোবাসার ছোঁয়া ছিল। আসলে কতগুলো সম্পর্কের পরিধি অনেক ব্যাপক, অনেক সমৃদ্ধ হয়- যেখানে চোখের দেখার থেকেও প্রাণের স্পর্শটাই প্রাধান্য পায়। ক্যাডেটীয় সম্পর্কগুলো তেমনই। এখন থেকে বোধহয় ঢাকার গেট-টুগেদারগুলো আরো বেশি বেশি মিস করবো।     </p>
<p>যারা গেট-টুগেদারে অংশ নিয়ে আয়োজনকে প্রাণবন্ত সফল করেছেন; তাদের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ রইলো। বিশেষ করে রাব্বী ভাই, মঈন ভাই এবং নাসিম ভাইকে আবারো বলবো- আপনাদের নিরলস প্রয়াস না থাকলে হয়তো এভাবে হতো না  <img src='http://www.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/Ex-cadet.gif' alt=':salute:' class='wp-smiley' /> । আর যারা আসতে পারেননি, তাদের জন্য সুসংবাদ— এই গ্রীষ্মের ছুটিতে আরো বড় পরিসরে, দারুণ আয়োজনের সাথে সিসিবি/ক্যাডেট গেট টুগেদারের আয়োজন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভেন্যু এবার সেভাবেই ঠিক করা হবে, যাতে করে সবার সরব উপস্থিতি সম্ভব হয়। ছোট্ট একটা বাক্যেই শেষ করছি-<br />
 <img src='http://www.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/rofl.gif' alt=':goragori:' class='wp-smiley' /> <strong>“সিসিবি রকস, ক্যাডেটস রকস।” </strong> <img src='http://www.cadetcollegeblog.com/wp-includes/images/smilies/awesome.gif' alt=':awesome:' class='wp-smiley' /> </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/rokib2048/22106/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>23</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>&#8220;রোকেয়া কিবোর্ড লেআউট&#8221;: আমার তৈরী করা বাংলা কিবোর্ড লেআউট ও প্রোগ্রাম</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/seoul/22101</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/seoul/22101#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 20:50:48 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আহমেদ মাশফিক রায়হান সিউল (১৯৯৮-২০০৪)</dc:creator>
				<category><![CDATA[রংপুর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22101</guid>
		<description><![CDATA[অন্যরকম একটা অনুভূতি নিয়ে এই ব্লগটি লিখছি৷ যেখানে শেষ হয়েছিল তার পরে অনেকটা অংশ জুড়ে কিছু নেই, এরপর এই পোস্ট৷ শেষ থেকে শুরু করছি মনে হচ্ছে৷ 
সামহোয়ারইনে ২টি পোস্টে আলোচনা শুরু করেছিলাম আমার বানানো ফোনেটিক-ফিক্সড লেআউটের উপর৷
( দিনে বাংলা ভাষা নিয়ে আমার একটি কাজ: নতুন একটি ফোনেটিক কিবোর্ড ও বাংলা ভাষার কিবোর্ড: কেমন চাই &#8211; [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>অন্যরকম একটা অনুভূতি নিয়ে এই ব্লগটি লিখছি৷ যেখানে শেষ হয়েছিল তার পরে অনেকটা অংশ জুড়ে কিছু নেই, এরপর এই পোস্ট৷ শেষ থেকে শুরু করছি মনে হচ্ছে৷ </p>
<p>সামহোয়ারইনে ২টি পোস্টে আলোচনা শুরু করেছিলাম আমার বানানো ফোনেটিক-ফিক্সড লেআউটের উপর৷<br />
( <a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/seoul/29107458">দিনে বাংলা ভাষা নিয়ে আমার একটি কাজ: নতুন একটি ফোনেটিক কিবোর্ড</a> ও <a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/seoul/29113933">বাংলা ভাষার কিবোর্ড: কেমন চাই &#8211; কি আছে&#8230;&#8230; তুলনামূলক আলোচনা</a> )৷ এখন ওটার ডিটেইলস লিখছি৷ আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করবো প্লিজ সেটা দেখবেন ও ফিডব্যাক দিবেন </p>
<p><strong>কিবোর্ডের ছবি:</strong><br />
<img alt="" src="http://phonetic.sourceforge.net/rokeya.gif" title="rokeya keyboard layout" class="aligncenter" width="800" height="299" /></p>
<p><strong>অক্ষরের বিন্যাস:</strong><br />
যেকোন লেআউটেই আমাদের বাংলা টাইপের জন্যে ৬২টি সিম্বল মাথায় রাখতে হয়৷ (৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ+১১টি স্বরবর্ণ+১০টি কার-রূপ+হসন্ত+য-ফলা = ৬২)৷ আমি আগেই বলেছি কিবোর্ড মুখস্থ করাতে বাধ্য করাকে আমি সমর্থন করিনা৷ তাই দেখা যাক আমাদের পরিচিত স্টাইলেই কিভাবে মনে রাখা যায়৷</p>
<p>খুব সহজ, আমরা কিভাবে বর্ণমালা মনে রাখি ??? স্বরবর্ণ ও প্রথম ২৫টি ব্যঞ্জনবর্ণ জোড়ায় জোড়ায় এবং বাকিগুলি মনে রাখতে পারিনা সিরিয়ালি৷ ইংরেজীতে কোন বর্ণ লিখতে প্রতিটার করেসপন্ডিং একটা ইংরেজী বর্ণ আছে যেটা আমরা ব্যবহার করি৷ আমার লেআউটে এরকম মিল সাপোর্ট করা হবে৷ এবং তা জোড়ায় জোড়ায়, অর্থাৎ যে বাটনে &#8220;ক&#8221; আছে সেই বাটনেই &#8220;খ&#8221; আসবে আবার যে বাটনে &#8220;গ&#8221; আছে সেই বাটনেই &#8220;ঘ&#8221; থাকবে৷ একইসাথে স্বরবর্ণগুলি কার-রূপ ও পূর্ণ রূপে একই বাটনে থাকবে। তাহলে প্রাইমারী লিস্টটা হল:</p>
<p>ক/খ=K , গ/ঘ=G , চ/ছ=C , জ/ঝ=J , প/ফ=P , ব/ভ=B , য=Z , এ/ঐ=E , অ/আ=A , ই/ঈ=i , উ/ঊ=U , ঋ=W , ম=M , ন/ণ=N , ভ=V , র=R , ও/ঔ=O , স/ষ=S , ল=L </p>
<p>এবার তাহলে বাকিগুলি৷ &#8220;ড়/ঢ়&#8221; ২টিকে আমরা একসাথে মনে রাখি কিন্তু &#8220;R&#8221;-এ &#8220;র&#8221; চলে যাওয়ায় ৩টিকে একত্রে জায়গা দিতে পারবো না৷ তাই &#8220;Q=ড়/ঢ়&#8221; হল৷ ঙ/ঞ এই দু&#8217;টিকে দেয়া হল &#8220;X&#8221; এর জায়গায়৷ </p>
<p>বাকি থাকলো ত,থ,দ,ধ এবং ট,ঠ,ড,ঢ৷ এখানে হাসিন ভাইয়ার ডেভেলপ করা স্টাইলটা ফলো করে &#8220;T&#8221; এ ট এবং ত কে, &#8220;D&#8221; তে ড এবং দ কে দেয়া হল৷ একই সাথে &#8220;Y&#8221;- এ য় এবং য-ফলাকে জায়গা দেয়া হল৷ </p>
<p>বাদ থাকলো শ,ং,ঁ,ঃ, ধ,ঢ,থ৷ থ-কে ক্যাপিটাল-R , ধ-কে ক্যাপিটাল-W এবং শ-কে ক্যাপিটাল L এ দেয়া হল<br />
সবশেষে ঃ=M ঁ=B ং=V (এই কয়েকটাই শুধু মুখস্থ করতে হবে, সমস্যা হবে না আশা করি )</p>
<p>এবার <strong>ফোনেটিক ও যুক্তাক্ষর সাপোর্ট</strong>:<br />
 ক/খ এর মত জোড়া কিভাবে লিখা যায় ?? ক=k হলে খ=kh ,তাইনা ?? এখানেও এমন সব ফর্মেশন সাপোর্ট করবে। তাহলে তো আবার সমস্যা, &#8220;হ&#8221; তাহলে কই যাবে ??? মানে তো &#8220;হ&#8221;। সিম্পল, &#8220;হ&#8221; লিখতে হবে &#8220;ক্যাপিটাল-H&#8221; দিয়ে।<br />
আর যুক্তবর্ণ লিখতে হবে অক্ষরটি বানান করে এবং বর্ণগুলিকে যুক্ত করতে চাপতে হবে হসন্ত। হসন্ত আছে F(ছোট হাতের এফ, বড় হাতেরটায় &#8220;ফ&#8221; আছে)-এর জায়গায়। মানে স্কুল= স(s) হসন্ত(f) ক(k) উ(u) ল(l)</p>
<p>************</p>
<p>আরো কিছু ব্যাপার আছে সেটা না বলি। টেস্ট করে দেখুন ও ফিডব্যাক দিন প্লিজ  </p>
<p><strong>প্রজেক্ট হোমপেজ:</strong> <a href="http://code.google.com/p/bangla-keyboard-layout/">http://code.google.com/p/bangla-keyboard-layout/ </a><br />
<strong>অনলাইন ডেমো:</strong> <a href="http://phonetic.sourceforge.net/">http://phonetic.sourceforge.net/</a> </p>
<p><strong>নামকরণ:</strong><br />
আর হ্যা, এটার নাম রেখেছি &#8220;রোকেয়া&#8221; লে-আউট কারণ আমি রংপুরের ছেলে, আমার বাসার খুব কাছেই বেগম রোকেয়ার জন্ম। বেগম রোকেয়া না আসলে এদেশের মেয়েরা ১০০ বছর পিছায় থাকতো। সমাজ তো খালি ছেলেদের দিয়ে না, তাই পুরো সমাজ ১০০ বছর পিছিয়ে থাকতো। আমার মা হয়তোবা শিক্ষিত হতেন না, আমিও তাই হতাম না। একই কথা সবার জন্যেই, তাইনা??? আমি নামকরণের দ্বারা উনাকে ছোট্ট একটা সম্মান দেয়ার চেষ্টা করেছি </p>
<p>আর ওয়েবসাইট তৈরী করেছে &#8220;<a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola">আমড়া কাঠের ঢেকী</a>&#8220;। আমি ওর কাছে ভীষণ ভীষণ ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। পুরো প্রজেক্টে আমার ক্রেডিট যদি হয় ৪০% তাহলে ওর ৬০% কারণ ও অনলাইন ডেমো সাইটটা বানিয়ে দিয়েছে, কিম্যাপটি তৈরী করে দিয়েছে, কোড টেস্টিং করে দিয়েছে। আমি তো শুধু বসে বসে কোড করেছি, এগুলি করা কঠিন ছিল আমার জন্যে। থ্যাংকস থ্যাংকস থ্যাংকস ম্যান     </p>
<p>এইতো এ পর্যন্তই&#8230;&#8230;..ভাল থাকবেন সবাই<br />
(অরিজিনাল পোস্ট: <a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/seoul/29115161">http://www.somewhereinblog.net/blog/seoul/29115161</a>  সামহোয়ারইন থেকে সরাসরি কপি করে দেয়া ব্লগ৷ উদ্দেশ্য: আপনাদের সবার রিভিউ কালেকশন করা) </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/seoul/22101/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>19</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>একজন পর্বতারোহী ও কিছু কথা ৩য় পর্ব</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/omar-817/22084</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/omar-817/22084#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 18:14:10 +0000</pubDate>
		<dc:creator>ওমর (৯৫-০১)</dc:creator>
				<category><![CDATA[কুমিল্লা]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রমণ কাহিনী]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22084</guid>
		<description><![CDATA[&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230; Everest was the embodiment of the physical forces of the world. Against it Mallory had to pit the spirit of man. He could see the joy in the faces of his comrades if he succeeded. He could imagine the thrill his success would cause among all fellow mountaineers; the credit it would bring to [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230; Everest was the embodiment of the physical forces of the world. Against it Mallory had to pit the spirit of man. He could see the joy in the faces of his comrades if he succeeded. He could imagine the thrill his success would cause among all fellow mountaineers; the credit it would bring to his country; the interest all over the world; the name it would bring him; the enduring satisfaction to himself that he had made his life worthwhile……..Perhaps he never exactly formulated it, yet in his mind must have been present the idea of “All or nothing”. Of the two alternatives, to turn back a third time, or to die, the latter was for Mallory probably the easier. The agony of the first would be more than he as a man, as a mountaineer, and as an artist, could endure.<br />
                      &#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;Sir Francis younghusband in The Epic of Mount Everest </p>
<p><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/GeorgeMallory-150x150.jpg" alt="-GeorgeMallory" title="-GeorgeMallory" width="150" height="150" class="alignnone size-thumbnail wp-image-22085" /><br />
       এভারেস্ট নামের সাথে পুরোপুরি জড়িয়ে যাওয়া এই পর্বতারোহীর কাহিনী আমাকে এডমুন্ড হিলারীর গল্প থেকেও বেশি আকর্ষণ করে। কেন জানিনা, ভাবতে খুব ভাল লাগে যে মৃতুর আগে স্যার জর্জ ম্যালরী সামিটে উঠতে পেরেছিলেন। উল্লেখ্য যে, স্যার জর্জ ম্যালরী এভারেস্ট অভিযানের প্রথম তিন টাতেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ১৯২৪ সালের অভিযানে আরেক পর্বতারোহী আন্দ্রে আরউইন এর সাথে সামিট থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে নিখোজ হন। তারা ওখানে পৌছাতে পেরেছিলেন কিনা তা এখনো পৃথিবীর বড় আমিমাংসিত রহস্যগুলোর একটি। ৭৫ বছর পর ম্যালরীর মৃতদেহ ১৯৯৯ সালে খুজে পায় একটি দল এবং এমন অনেক আলামত আছে যা ইঙ্গিত করে যে হয়ত এভারেস্টের বুকে পা রাখা প্রথম ব্যক্তি হিলারী নন। একজন পর্বতারোহীর সবচাইতে বড় দুর্বলতা খুবই ironic একটা ব্যপার। আশেপাশের সবার কথা অগ্রাহ্য করে পর্বত অভিযানে আসা মানুষগুলোর দুর্বলতা ultimately তার একরোখা স্বভাব এবং লক্ষ্য। বৈষয়িক দৃষ্টিতে পর্বতারোহোণের কোন মূল্য নেই, এ কারণেই হয়ত যে কোন ধরনের ব্যর্থতা একজন পর্বতারোহীর কাছে একদমই অগ্রহণযোগ্য। এবং তাদের একরোখা মনোভাবের একটা বড় কারণও তাই। যে কোন লক্ষ্যে সফল হওয়ার চাপটা এজন্য আর সবকিছু থেকে বেশি। </p>
<p>২৭-১১-০৯<br />
    ৯০০০ ফূট উচচতার বাক্ষিম অসম্ভব ঠান্ডা । এমন না যে আমরা বরফের খুব কাছাকাছি কিন্তু জায়গাটা মূলত valley এর ভেতরে হওয়ায় এখানে দিনের বেলায়ও সূর্যের আলো আসে না। তবে এখানে সিক্কিম গভমেন্টের বানিয়ে দেয়া একটা হাট এবং কিচেন থাকায় আমাদের আর টেন্ট এ থাকা লাগলো না। নিচের তলায় ২ টি বড় রুমে আমরা বেসিক ২৭৫ কোর্সের ৫৬ জন, উপরে এয়ার ফোর্স এর স্পেশাল কোর্স এবং বাইরে তাবু করে থাকলো ITBP (ইন্ডিয়ান তিবেত বরডার পুলিশ) এর কোর্স। ওই যে বলেছিলাম দেবাশীষ, ওর কারণেই আমি এবং পারভেজ খুব ভাল একটা জায়গা পেয়ে গেলাম, মানে একটি ম্যাট্রেসই আমাদের এক এক জনের জায়গা। কাল বাক্ষিম পৌছানোর পর পর আমার এবং পারভেজ দুজনেরই অবস্থা ছিল দেখার মত। ট্রেক করার সময় শরীর থাকে গরম, যার ফলে ঠান্ডার মাত্রাটা টের পাওয়া যায়না। কিন্তু এখানে এসে পৌছাতেই দেখি ভেতরে গা ঘেমে পুরো গোসল হয়ে গেছে। উইন্ডব্রেকার খুলতেই ঠান্ডার ঝাপটা। কাপুনি ধরে আমি যে গিয়ে lunch এনে খাব সে শক্তি নেই। দেবাশীষ সেটাও করলো। অতপর আমাদের কোর্স ডিরেক্টর কুশুং শেরপা স্যার ফল ইন করিয়ে লেকচার দিলেন, সারমর্ম হলো তোমরা এ পর্যন্ত এসেছ, এটা কোন ছেলেখেলা নয়, কালকে আমরা এখানেই থাকছি, তারপর দিন আমরা যাব জংরীতে। দেখিয়ে দেয়া হলো আমাদের প্রাকৃতিক কাজ সম্পন্ন করার স্থানটি।<br />
<img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/17280011-300x198.jpg" alt="17280011" title="17280011" width="300" height="198" class="alignnone size-medium wp-image-22086" /><br />
     যাই হোক, লেকচারের পর জায়গাটা ঘুরেফিরে দেখার টাইম পাওয়া গেল। প্রাকৃতিক কাজটি সম্পন্ন করার জন্য সন্ধ্যা হওয়ার একটু আগে আমি, পারভেজ এবং আমাদের আরেক বাঙ্গালী বন্ধু রনজিত দল বেধে ice-axe, টয়লেট পেপার ও পানি নিয়ে বেড়িয়েছি, দেখি Air force এর মেয়েগুলো আড্ডায় ব্যস্ত( উল্লেখ্য Air force এর ৩০ জনের দলে ৮ টি মেয়ে ছিল)। এখন ice-axe হাতে থাকা মানে ইজ্জতের ফালুদা, জান দিলেও ওটা নিয়ে তো কোন আপোশ সম্ভব নয়। রনজিতের চাপ মনে হয় কিছুটা বেশি, সে তাই ইজ্জতের কথা আপাতত ভুলে গিয়ে জঙ্গলমুখে রওনা দিয়ে দিল। আমার আর পারভেজ এর কথা আলাদা। হাজার হোক, দেশের মানসম্মান নিয়ে প্রশ্ন। তাই দুজনে ভেতরে গিয়ে গায়ে উইন্ড ব্রেকার চাপিয়ে সেটার ভেতরে ice-axe ভরে নিলাম, তারপর বেশ কষ্টে হাটতে হাটতে মেয়েদের গ্রুপটা পার হয়ে পৌছে গেলাম গন্তব্যে, যে যার যার মত কাজ শেষ করে একটু ক্যাজুয়াল মুডে ফিরে আসার সময় ওই শালা রনজিত আমার ice-axe টা টেনে বের করে দিল উইন্ড ব্রেকারের নিচ দিয়ে। এ যাত্রা আর শেষ রক্ষা হলো না। মেয়েদের অভিব্যক্তি সম্পর্কে আর নাই বা বললাম। ফোর্সে থাকলে এমনিতেই মেয়েরা সেয়ানা হয়ে যায়, তারপর এরা হলো গিয়ে আরো এক কাঠি বেশি, আমি আর পারভেজ কোন রকমে বাকি ইজ্জত নিয়ে ফিরলাম। </p>
<p>       প্রথম থেকেই যেন কি কারণে বাক্ষিম জায়গাটা আমার ভাল লাগেনি। কেমন যেন একটা অন্যরকম পরিবেশ। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ভাত ও সবজি দিয়ে ডিনার করেছি এসময় কথা উঠল বাক্ষিম নিয়ে। স্যার আগেই আমাদের হাল্কা একটা আভাস দিয়েছিলেন কিন্তু তখনও বুঝিনি ব্যাপারটা কি। এবার জানলাম যে, এই রেঞ্জে যত এক্সপেডিশন হয় তার ক্যাজুয়াল্টি এনে রাখা হয় আমাদের এই হাটটিতে । তা ছাড়াও পাশের জঙ্গলে নাকি বেশ কিছু কবর আছে যা হয়ত বিভিন্ন সময় এখান থেকে নেয়া সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে বেশি যে কথাটি আমাদের মনে আঘাত করলো তা হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা বেইসের একটা এক্সপেডিশনে ১২ দিন আগে ঘটে যাওয়া একটা আ্যভালাঞ্চ এ মৃত ৪ জনের মধ্যে উদ্ধার করা ২ জনের লাশ এই মুহুর্তে আমাদের হাটের ঠিক পেছনে একটা ছোট্ট ঘরে। এটা শুনে সবাই কমবেশি অন্যমনস্ক হয়ে পড়লো, তবে আর্মির কিছু কিছু ছেলের আবার কোন ভাবান্তরই নেই, মৃত্যু এর বেশী কাছ থেকে দেখা হয়ে গেছে এমন অনেকেই আছে আমাদের এই কোর্সে। হটাত করে মনে পড়ে গেল এ বছরই বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ আমাদের হায়দার ভাই এবং মাজহার ভাই এর কথা, আরো বাকি সব শহীদ অফিসারদের কথা। মাঝে মাঝে নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হয়, রাগ হয় কারণ আমি ভুলে যাই, রাগ হয় কারণ আমি আর সেই কয়দিনের মতো রাগান্বিত হতে পারিনা, রাগ হয় কারণ আমি শুধু বলি, আমি কিছু করতে পারিনা।<br />
        সে কথা যাক। আজ সকালে acclimatization এর জন্য আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ১১৫০০ ফুট উচু চোখা নামক জায়গায়। পর্বতারোহণের একটি নিয়ম হলো “Go High, sleep Low”. শরীর কে বেশি উচচতায় মানিয়ে নেয়ার জন্যই এই প্রক্রিয়া, এতে রাতের ঘুম ভালো হয় এবং শরীর এই উচচতার এটমসফেরিক প্রেশারের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়। তো, সেই চোখা থেকে ফিরে বিকালটা এখানে বেশ ভালই কেটেছে বলতে হবে। চাইনিজ ফোনের লাউড স্পিকারে পুরোনো কিছু হিন্দী গান শুনে আমিও বেশ চার্জড আপ। কাল ঈদ, কিন্তু দুঃখ এই যে, দেশে সবাই যখন এত মজা করবে তখন আমরা জংরীর পথে বোঝা টানবো। লোকমুখে এও শুনেছি যে এই খাড়া ৭ মাইল নাকি বেইস ক্যাম্প যাওয়ার পথে সবচাইতে কঠিন পথ। তবুও কেন যেন মনে আজ বেশ সাহস। জো হোগা দেখ লুঙ্গা  ইয়ার। আনে দো যিসকো ভি আনা হ্যায়।<br />
<img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/17290015-299x300.jpg" alt="17290015" title="17290015" width="299" height="300" class="alignnone size-medium wp-image-22087" /><br />
চলবে </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/omar-817/22084/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>যেমন হবে বিশ্বকাপ দলঃ   ব্রাজিল</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/khasan955/22083</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/khasan955/22083#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 18:08:24 +0000</pubDate>
		<dc:creator>কামরুল হাসান (৯৪-০০)</dc:creator>
				<category><![CDATA[খেলাধুলা]]></category>
		<category><![CDATA[সিলেট]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22083</guid>
		<description><![CDATA[[ বিশ্বকাপ ঘনিয়ে এসেছে। গুনে গুনে আর ৯০ দিন বাকি। অংশ গ্রহনকারী প্রতিটা দলকে ১২ মে'র মধ্যে ৩৫ জনের প্রাথমিক দল ঘোষনা করতে হবে। চুড়ান্ত ২৩ জনের নাম জমা দেয়ার জন্যে অবশ্য ফিফা সময় দিয়েছে ১০ জুন পর্যন্ত।
বড় দলগুলোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড কেমন হতে পারে এই নিয়ে পত্রিকার জন্যে একটা সিরিজ লেখা শুরু করেছি।  শুরু [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>[ বিশ্বকাপ ঘনিয়ে এসেছে। গুনে গুনে আর ৯০ দিন বাকি। অংশ গ্রহনকারী প্রতিটা দলকে ১২ মে'র মধ্যে ৩৫ জনের প্রাথমিক দল ঘোষনা করতে হবে। চুড়ান্ত ২৩ জনের নাম জমা দেয়ার জন্যে অবশ্য ফিফা সময় দিয়েছে ১০ জুন পর্যন্ত।<br />
বড় দলগুলোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড কেমন হতে পারে এই নিয়ে<a href="http://www.dailykalerkantho.com/index.php?view=details&#038;type=single&#038;pub_no=103&#038;menu_id=18&#038;news_type_id=1&#038;news_id=39358"> পত্রিকার জন্যে একটা সিরিজ </a>লেখা শুরু করেছি।  শুরু হচ্ছে ব্রাজিলকে দিয়ে, তারপর আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স এইভাবে। আমি কয় পর্ব লিখবো এখনও জানি না। তবে যতগুলোই লিখি সেটা সিসিবিতে দিয়ে দিলে সমস্যা কী ! আর কিছু লেখার সময় যেহেতু পাচ্ছি না এই দিয়েই না হয় চলুক।</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p><font size=6>ব্রা</font>জিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডি সিলভা চাইছেন না রোনালদিনহো বিশ্বকাপের দলে থাকুক। এমন একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধান তিনি, যেখানে বেঁচে থাকার অপর নাম ফুটবল। ঊনিশ কোটি মানুষ আক্ষরিক অর্থেই মনে করে এই খেলাটা তাদের জীবনের একটা অংশ। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে ফুটবল নিয়ে দুয়েক কথা বলা দোষের কিছু না। কিন্তু তাই বলে একেবারে দল নির্বাচনে নিজের চাওয়া-পাওয়ার কথা জানানো!<br />
ভাগ্যিস  ফুটবল কোচদের কাছে এই চাওয়া-না চাওয়ার কোন মূল্য নেই। তা সে আপনি দেশের প্রেসিডেন্ট হোন বা অন্যকিছু। &#8216;আমি তো আপনার মন্ত্রীসভা ঠিক করে দেই না, আপনি কেন আমার ফুটবল দল ঠিক করে দেবেন&#8217;- একজন প্রেসিডেন্টকে তো একবার এমন কথাও শুনতে হয়েছিল কোচের কাছ থেকে। লুলা ডি সিলভার ভাগ্য ভালো তাকে এইবার এমন কিছু হয়তো শুনতে হবে না। কারন রোনালদিনহো যে বিশ্বকাপ দলে থাকছেন না তা ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট বলার আগেই মোটামোটি নিশ্চিত করে দিয়েছেন কোচ কার্লোস দুঙ্গা!</p>
<p>তারমানে ৬ষ্ট বারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার লড়াইয়ে রোনালদিনহো শুধুই দর্শক। তাহলে দুঙ্গার সৈন্য-সামন্ত কারা? কেন, কাকা, লুই ফ্যাবিয়ানো, আদ্রিয়ানো আর রবিনহো আছেন না? ইনজুরির কারনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ প্রীতি ম্যাচটা খেলতে পারেননি, কিন্তু বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ৯ গোল করা ফ্যাবিয়ানোকে ছাড়া দল গঠনের কথা ব্রাজিল কোচ ভাবছেন না এটা নিশ্চিন্তে বলে দেয়া যায়। যেমন বলে দেয়া যায় কাকার কথা। ফিফার সাবেক বিশ্বসেরা ফুটবলার, কিন্তু এসি মিলান থেকে রিয়াল মাদ্রিদে এসে নিজেকে খুঁজে পেতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে এই ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকারের। আফসোস, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে গেছে রিয়াল। ক্লাবকে শিরোপা জেতানোর স্বপ্নটা ভেঙ্গে গেলেও দেশের হয়ে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিশ্চয় ঘটতে দিতে চাইবেন না কাকা। দুঙ্গার সব পরিকল্পনাও তাই তাকে ঘিরেই। আর কেউ না থাকুক, ২৩ জনের দলে কাকা থাকবেন এই নিয়ে সন্দেহ নেই।</p>
<p>দুঙ্গার দলে নিয়মিতই আছেন রবিনহো। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এই মৌসুমে তার পারফরম্যান্স প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছিল এই থাকাটা। রবিনহো নিজেও জানতেন সময়টা ভালো যাচ্ছে না তাঁর। ফর্ম ফিরে পাওয়ার জন্যেই যেন অনেকটা নিজের উৎসাহেই ছয় মাসের ধারে খেলতে এলেন নিজের পুরনো ক্লাব স্যান্টোসে। এতকিছুর পরও যখন তার উপর এখনও আস্থা হারাননি দুঙ্গা তখন তিনি কেন তার প্রতিদান দেবেন না! আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে তাই রবিনহো বুঝিয়েছেন কেন তিনি দুঙ্গার দলে নিয়মিত। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন তাই দেখতেই পারেন এই ব্রাজিলিয়ার স্ট্রাইকার। একই কথা বলা যায় আদ্রিয়ানোকে নিয়ে। ২০০৮ সালের অক্টোবরে ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে দুই গোল করেছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে সমর্থকদের শুধু অপেক্ষাতেই রেখেছেন ফ্ল্যামিঙ্গোর এই স্ট্রাইকার। অপেক্ষাটা বিশ্বকাপেই গিয়েই শেষ হয়ে যাবে এটা নিশ্চয়ই চাইছেন দুঙ্গা। কেন চাইবেন না? ৪৮ ম্যাচে ২৭ গোল করে এই মুহূর্তে ব্রাজিল দলে তিনিই তো সর্বোচ্চ গোলদাতা।</p>
<p>বেশিরভাগ সময়ে তাঁকে মাঠে নামতে হয় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। কিন্তু ওইটুকুতেই নিজের জাত চিনিয়েছেন নিলমার দা সিলভা। বাছাই পর্বে চিলির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, তারপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও মাস দুয়েক আগে প্রীতি ম্যাচে গোল করেছেন ভিলারিয়ালের এই স্ট্রাইকার। গত এক বছরে ব্রাজিলের হয়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন নিলমার আর এই পাঁচ ম্যাচে ৬ গোল করে এরই মধ্যে তিনি চলে এসেছেন কোচ দুঙ্গার পছন্দের তালিকায়। শেষ মুহূর্তে কোন অঘটন না ঘটলে হয়তো প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলবেন তিনিও।</p>
<p>আর এঁদের কারণেই খুব সম্ভব আরকেটি বিশ্বকাপ খেলে, গোলের সংখ্যা (বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৫ গোল) আরো বাড়ানোর সুযোগ হচ্ছে না রোনালদোর। ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে পঞ্চম শিরোপা জেতানোর এই নায়ক গত বিশ্বকাপের পর আর সুযোগই পাননি দলে। যদিও করিন্থিয়ান্সে ফেরার পর ফর্মের অনকেটাই ফিরে পেয়েছেন, গোলও করছনে নিয়মিত। কিন্তু দুঙ্গা গত চার বছরে একবাররে জন্যও ডাকনেনি তাঁকে।  কাজেই মোটামুটি নিশ্চিত, রোনালদোও থাকছেন না।</p>
<p>ইন্টার মিলানের ডিফেন্সটা বেশ ভালোমতোই সামাল দিচ্ছেন দুই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মাইকন আর লুসিও। কোচ দুঙ্গারও সবচেয়ে বেশি ভরসা এই দুজনকে নিয়েই। বহুদিন ধরে ব্রাজিলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন লুসিও। বিশ্বকাপেও এর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। পরীক্ষিত ডিফেন্ডার হিসেবে দলে জায়গা ধরে রেখেছেন আরো তিন জন বার্সেলোনার ড্যানিয়েল আলভেস, বেনফিকার লুইসাও আর রোমার সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হুয়ান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ প্রীতি ম্যাচে দলে না থাকলেও লেফট ব্যাক হিসেবে ব্রাজিল দলে এখন মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত আন্দ্রেই স্যান্তোস।  এদের পাশাপাশি দুঙ্গার বিশ্বকাপ দলে দেখা যেতে পারে লিওঁর মিচেল বাসতোস বা এসি মিলানের থিয়াগো সিলভাকে।</p>
<p>কাকা, হুলিও ব্যাপতিস্তা আর ক্লেভারসনকে নিয়ে গড়া ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ড যে কোন দলের বিপক্ষে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্যে যথেষ্ট। এদের সঙ্গে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ফিলিপে মেলো আর গিলবার্তো সিলভার দলে থাকাটাও মোটামোটি নিশ্চিত। আশা আছে হামবুর্গের মিডফিল্ডার হোসে অলিভেইরাও। গত দুই বছরে দুঙ্গার দলে বেশ নিয়মিত দেখা গেছে তাঁকে। ব্রাজিলের হয়ে মাত্র ১১টি ম্যাচ খেলেছেন রামিরেস নাসিমেন্তো। কিন্তু এরই মধ্যে সবার নজর কেড়েছেন বেনফিকার এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপ দলে তাই দেখা গেলে খুব একটা অবাক হওয়ার কিছু নেই কারণ সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও তাঁকে প্রথম একাদশে খেলিয়েছেন ব্রাজিল কোচ।</p>
<p>একটা সময় ছিল যখন ব্রাজিলের গোলরক্ষকদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকতেন সমর্থকরা। গত এক দশকে মার্কোস,  দিদা&#8217;রা সেটা দূর করে দিয়েছেন। তাদের সার্থক উত্তরসূরী  হুলিও সিজার তো এখন বিশ্বের সেরা কয়েকজন গোলরক্ষকদের একজন। গত বছর ফিফার কাছ থেকে বিশ্বের সেরা তিন গোলরক্ষকের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সিজার দক্ষিণ আফ্রিকায়ও থাকবেন ব্রাজিল গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে এটা বলে দেয়াই যায়। দ্বিতীয় গোলরক্ষক হিসেবে দলে জায়গা পাওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার রোমা&#8217;র দনি। কিছুদিন সুযোগ পেয়েছিলেন টটেনহামের গোলরক্ষক হিউরেলহো গোমেজও। কিন্তু সিজার ফিট থাকলে বিশ্বকাপের দলে অন্য কাউকে নিয়ে আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা কেন করবেন ব্রাজিল কোচ! </p>
<p>করবেন না দুঙ্গা।<br />
যেটা করতে চান সেটা তিনি বাছাই পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার পরই বলে দিয়েছিলেন, &#8216;আমরা ব্রাজিল। আমাদের কাজ হচ্ছে সব সময় জেতা !&#8217;</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
<font size=4>সম্ভাব্য একাদশঃ</font></p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211; লুই ফ্যাবিয়ানো&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>রবিনহো&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;কাকা&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;আদ্রিয়ানো</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;ফিলিপে মেলো&#8212;&#8212;&#8211;গিলবার্তো সিলভা&#8212;&#8211;</p>
<p>আন্দ্রেই স্যান্তোস&#8212;- লুইসাও&#8212;&#8211;লুসিও&#8212;&#8212;&#8211;মাইকন</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;হুলিও সিজার&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
<font size=4>গোল ডট কমের প্রেডিকসনঃ</font></p>
<p> <a href="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/success-e4f242dffe83cfb1a1c55758b164224e.jpg"><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/success-e4f242dffe83cfb1a1c55758b164224e.jpg" alt="success-e4f242dffe83cfb1a1c55758b164224e" title="success-e4f242dffe83cfb1a1c55758b164224e" width="600" height="400" class="alignnone size-full wp-image-22091" /></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/khasan955/22083/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>34</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অতীত বয়ান &#8211; কেউ যদি শুনতে চায় (নারীকথ্ন)</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/noorafza/22077</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/noorafza/22077#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 12:10:46 +0000</pubDate>
		<dc:creator>ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আলোচনা]]></category>
		<category><![CDATA[ময়মনসিংহ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22077</guid>
		<description><![CDATA[
১
নারীদের জন্য আলাদা দিবস কেন?
প্রথমেই একটা কুইজ দিয়ে শুরু করি।
এক গাড়ি দুর্ঘটনায় বাবা মারা গেলেন আর ছেলে মারাত্মকভাবে জখম হলো। অপারেশন থিয়েটারে রোগীর চেহারা দেখে ডাক্তার চিৎকার দিয়ে উঠলেন, ‘এটা তো আমার ছেলে।‘
কিভাবে সম্ভব?
এক &#8211; দুই &#8211; তিন &#8211; সময় শেষ।
যে নারীকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে পরিগণিত করে তার পক্ষেই মুহূর্তের মধ্যে একজন মহিলা ডাক্তারের [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img src="http://www.cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/03/mom_dau1.JPG" alt="mom_dau[1]" title="mom_dau[1]" width="407" height="504" class="aligncenter size-full wp-image-22078" /><br />
১<br />
নারীদের জন্য আলাদা দিবস কেন?</p>
<p>প্রথমেই একটা কুইজ দিয়ে শুরু করি।<br />
এক গাড়ি দুর্ঘটনায় বাবা মারা গেলেন আর ছেলে মারাত্মকভাবে জখম হলো। অপারেশন থিয়েটারে রোগীর চেহারা দেখে ডাক্তার চিৎকার দিয়ে উঠলেন, ‘এটা তো আমার ছেলে।‘<br />
কিভাবে সম্ভব?</p>
<p>এক &#8211; দুই &#8211; তিন &#8211; সময় শেষ।</p>
<p>যে নারীকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে পরিগণিত করে তার পক্ষেই মুহূর্তের মধ্যে একজন মহিলা ডাক্তারের কথা ভাবা সম্ভব। সঠিক উত্তরদাতাদের অভিনন্দন। আর বাকী সবার জন্য উত্তর &#8211; এ কারণেই নারীদের জন্য একটা দিন সংরক্ষণ করা হয়েছে। </p>
<p>আমি কি নারীবাদী? মাথায় ঘুরপাক করা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুগল ঘেটে দুটো সংজ্ঞা বের করলাম। বলাবাহুল্য সবচেয়ে নরম দুটো সংজ্ঞা নিয়েছি।<br />
তাকেই নারীবাদী বলে -<br />
১। যে নারী নিজেকে যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যবহার হতে দেয় না।<br />
অথবা<br />
২। যে জীবনের সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতা আর সমতাতে বিশ্বাস করে। </p>
<p>প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী আমি একজন নারীবাদী। দ্বিতীয় সংজ্ঞা অনুযায়ী না। কারণ বোয়ামের শক্ত মুখ খুলতে গেলে এখনও নির্ঝরকে ডাকি। রান্নাঘরের উপরের তাক থেকে জিনিষ নামাতে গেলে কষ্ট করে টুলের সাহায্য না নিয়ে নির্ঝরের সাহায্য নিই। আবার হেসেলের কোন কাজেই নির্ঝরকে হাত দিতে না দিয়ে পুরোটা আমার নিয়ন্ত্রনে রেখেছি। সবাই নিশ্চয় ভাবছে মেয়েটা কতো পতিব্রতা। আসল রহস্য হলো এর থেকে সময়ে সময়ে বড় ফায়দা লোটা যায়। এই যেমন সেদিন নির্ঝর বললো, শান্তা তোমার গাড়ির সার্ভিসিং এর তারিখ পার হয়ে গেছে। এখনই যাও।<br />
আমি উত্তর দিলাম, চুলায় মাছটা মাত্র বসিয়েছি। তুমি রান্নাটা দেখ, আমি যাচ্ছি।<br />
তৎক্ষণাৎ পতির প্রতিত্তুর, না না। তুমি দেখ। আমিই যাচ্ছি। </p>
<p>আমার কাছে সমতার থেকে পরিপূরক শব্দটা আমার বেশি পছন্দের। গত বার বছর ধরে একটা ছেলের সাথে মোটামুটিভাবে শান্িতপূর্ণ সহাবস্থান করে আমার এই বোধোদয়। জীবন থেকে নেওয়া।</p>
<p>২<br />
ক্যাডেট কলেজে থাকতে নিজেকে আমি যে আলাদা কিছু, মানে নারী জাতীয় কিছু একটা, এই অনুভূতিটা তেমন বোধ করিনি। অধিকাংশই বোধহয় আমার মতোই ছিল। বাইরের পৃথিবী একটু অপরিচিত লাগতো। এখন হয়তো ব্যাপারটা ডালভাত। কিন্তু একানব্বই সালের দিকে ইচ্ছে হলো বলে মেয়েরা ধুম করে ফুটপাথে ফুচকা খেতে বসে গেলাম কিম্বা সানরাইজের কাছে মিষ্টির দোকানে ঢুকে সেখানকার বেঞ্চ-টেবিলে আড্ডা দিতে শুরু করলাম &#8211; বিষয়টা আমাদের কাছে কিছু না মনে হলেও সমবয়সী নন-ক্যাডেট মেয়েদের কাছে ভ্রুকুটিতুল্য। দৈত্যকুলে প্রহçাদের মতো আমাদের অতীব রমণীয় ক্যাডেট ম একদিন বলল, আমরা যে এইসব খারাপ কাজ করছি তা ওর মামীকে আমাদের সাথেই কোচিং করা একটা মেয়ে বলে দিয়েছে। ম আবার ছিল ক্লাসের ফাস্ট-সেকেন্ড হওয়া ছাত্রী। জানি না এই কথা শুনেই কিনা  রেজালট বেরুনোর পর পর সানরাইজে কোচিং করা মেয়েরা সব ধুপধাপ করে দেশের বাইরে চলে গেল। শুধু ম আর আমি রয়ে গেলাম এবং মকে অনুসরন করে আমিও একজন নারী হওয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম। ম কতোটা পেরেছে তা জানি না তবে বুয়েট বাকী কাজটা করে দেয়। </p>
<p>আমাদের ক্লাস শুরু হয়েছিলো তিরানব্বইয়ের ২৬শে সেÌেটম্বর। সেই ৯৩ থেকে ৯৮ &#8211; বুয়েট থাকাকালীন সময়টাতে নিজেকে খুব বেশি নারী নারী বলে মনে হতো। বুয়েটে আমাদের ব্যাচে সাড়ে পাচঁশ ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে শুধু পঞ্চাশ জন মেয়ে। আগে পরে সব ব্যাচেই একই অবস্থা। সংখ্যালঘুরা এমনিতেই দৃষ্টব্য আর মেয়ে হলে তো কথাই নেই। বুয়েটটা ছিল বড্ড বেশি ছেলেময়।<br />
এক স্যার ছিলেন একস-ক্যাডেট। জীবনে নাকি কখনও দ্বিতীয় হননি। একজন ভূতপূর্ব অর্থমন্ত্রীর নামে নাম। ক্লাসে দেখতাম মেয়েদেরকে খুবই অসম্মান করে কথা বলতেন। একদিন তো বলেই ফেললেন বুয়েটে মেয়েরা হচ্ছে ছেলেদের বিনোদন। কথাটা মনে পড়লে স্যারের উপর এখনও রাগ হয়। সেই স্যার শুধু যে নিম্ন মানসিকতা ধারন করতেন শুধু তাইই নয়, ক্লাসেও ঠিক সময়মতো আসতেন না, পড়াতেন না। শিক্ষকতার অধিকাংশ সময়ই ব্যয় করতেন নিজের ব্যক্তিগত উন্নয়নের কাজে। ফলস্বরূপ উনার ছিল নাকি সবচেয়ে বেশি পাবলিকেশনস। আর টপাটপ প্রমোশন। নিজের ধান্ধায় ব্যস্ত থাকা আরকি। সেই থেকে আমার ধারণা যারা নারীদের সম্মান করতে পারে না তারা মানুষ হিসেবেও তেমন ভালো না। অবশ্য শুধু এই একজন স্যারকে দোষ দিয়ে কী হবে? আমরা মেয়েরাই কী সবাই নিজেদের সম্পর্কে সঠিক সম্মানজনক ধারণা পোষণ করি?</p>
<p>৩<br />
আমার নানিরা ছিলেন দুবোন, একভাই। বৃটিশ আমলে ভাই গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় পশু চিকিৎসার উপর পড়াশোনা করতে। নানির ছোটবোন &#8211; ছোটনানি ১৯৪৫ সালে পাবনা এডোয়ার্ড কলেজ থেকে øাতক ডিগ্রি লাভ করার পর অবিবাহিত অবস্থাতেই চাকুরী করতে পশ্চিম পাকিস্থানের করাচীতে চলে যান। আবদুললাহ আবু সাঈদ স্যার উনার পাবনা এডোয়ার্ড কলেজ বিষয়ক একটা লেখায় ছোটনানিকে সে কলেজের প্রথম মুসলিম মহিলা গ্রাজুয়েট হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। মেট্রিক পরীক্ষা পাশের পর পরই নানির বিয়ে হয়ে যায় ১৯৩৬ সালের দিকে। কথিত আছে নানা নাকি নানির বাড়ির উঠোনে এসে নানির সাথে বিয়ে না দিলে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন। নানির বাবা-মা তখন কলকাতা থেকে এসে সদ্যই পাবনায় আশ্রয় গড়েছিলেন। এলাকার একজন প্রভাবশালীর ছেলের এই হুমকিতে আর দেরী না করে তাড়াতাড়ি নানার সাথে নানির বিয়ে দিয়ে দেন। তবে নানিকে কোনদিন শ্বশুরবাড়ি পাঠাননি। আমার নিজের নানির ছিল খুব গল্পের বই পড়ার নেশা। খুব সুন্দর করে গল্প বলতে পারতেন। উনার হাত ধরেই আমার রূপকথার রাজ্যে প্রবেশ। আমার মা মূলত নিজের নানা-নানির আদরেই বড় হয়েছেন। পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে নিজের এলাকায় যখন মেয়েদের বিজ্ঞান পড়ার তেমন কোন সুবিধা ছিল না, সে সময়টাতে আম্মা মেট্রিকে বিজ্ঞান বিভাগে মেধা তালিকায় স্থান করেছিলেন। তবে আম্মার আসল প্রতিভা ছিল সাহিত্যে। খুব সুন্দর সুন্দর কবিতা লিখতেন।<br />
আমার একমাত্র ফুফুকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, আচ্ছা ফুফু, আপনারা মাত্র একভাই একবোন। অথচ আপনি লেখাপড়া শিখলেন না, ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়েছেন মাত্র আর আপনার চাচাতো বোনরা সেই পঞ্চাশের দশকে ঢাকার ইডেন কলেজে গিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। এর কারণটা কী?<br />
ফুফুর উত্তর ছিল, সে সময় গ্রামে ক্লাস ফাইভের বেশি পড়ার সুযোগ ছিল না। লেখাপড়ার জন্য চাচাতো বোনদের চাচারা শহরে নিয়ে যায়।  কিন্তু লেখাপড়া করতো বলে গ্রামের সবাই তাদের নিন্দা করতো। ফুফু দেখলো যে লেখাপড়া না করলে লোকে ভালো বলে। সেই লোকের ভালো শোনার জন্য ফুফু লেখাপড়া ছেড়ে দিলেন। নইলে বাপ-চাচারা নাকি অনেক জোর করেছিলেন।<br />
ফুফু উনার জীবনটা অতোটা সম্মানের সাথে কাটাতে পারেননি। বিশেষ করে এই বৃদ্ধ বয়সে মনের মধ্যে অনেক দুঃখ নিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে। লেখাপড়া শিখলে কি ফুফুর জীবনটা অন্যরকম হতে পারতো? তাই বা বলি কী করে। আমার আগের প্রজন্মে আম্মার দিককার মেয়েরা তো সবাই লেখাপড়া শিখেছিলেন। তারাও কি খুব একটা সুন্দর জীবন কাটাতে পেরেছিলেন? সবারই কিছু না কিছু নাগরিক সমস্যা ছিল।ইচ্ছা থাকা সত্বেও কেউ কোন ক্যারিয়ার করতে পারেননি। এমনকি ছোটনানির মেয়ে রানা খালা বিয়ের আগে আমেরিকা থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেও শুধু ঘর-সংসার করে গেছেন। এক ধরনের অতৃপ্ততা তাদের ঘিরে থাকতো। যখন নানা ধরনের বিশ্লেষনে মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে তখন আর আম্মা নেই। শাশুড়িকে কাছে পেয়ে উনাকে প্রশ্ন করতাম। উনারও মোটামুটি একই অবস্থা। ষাটের দশকে ঢাকা ভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে øাতক ডিগ্রি নিয়েছিলেন। প্রথম জীবনে বাবা পরবর্তী জীবনে স্বামী বাইরে চাকুরী করতে দেননি। প্রগতিশীল মানসিকতা দিয়ে তিন ছেলেমেয়ে মানুষ করেছেন। আজ তারা সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু খুব কাছ থেকে আমি উনার দীর্ঘঃনিশ্বাস অনুভব করতে পারি। উনি নিজের সে কথা আমাকে বলেন। অল্পবয়সে সাগর দেখতে চেয়েছিলেন, পারেননি। নিজের ঘরটাকে যেভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন, পারেননি। নিজের জীবনটাকে শখ-আহçাদ দিয়ে যেভাবে পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন, পারেননি। এরকম ছোটখাট থেকে শুরু করে আরো অনেক বড় না পারা তাকে এখনও ভোগায়। ভাল লাগুক আর না লাগুক শ্বশুরের নির্দেশনামা পালন করেই জীবনটা কাটিয়ে দিতে হয়েছে। তবে নিজের স্বপ্নগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন ছেলেমেয়েদের মধ্যে। আম্মাও বোধহয় তাই করেছিলেন। নইলে ভালোই তো ছিলাম। হঠাৎ করেই বা লিখতে শুরু করবো কেন?</p>
<p>৪<br />
গত বছর দুটো মুভি দেখেছিলাম। রেভোল্যুইশনারী রোড আর ম্যারলী এন্ড মী। দুটোর বিষয়বস্তু প্রায়ই একই। আমেরিকান পারিবারিক জীবন। বিয়ে, সংসার, সন্তান হওয়ার আগে পরে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, স্বপ্ন হারানোর দারপ্রান্েত স্বপ্নকে বাঁচিয়ে তোলবার শেষ চেষ্টা, মধ্যবয়সের সংকট আর তার মোকাবেলা &#8211; দুটি ছবিতেই ঘুরেফিরে একই বিষয়গুলো এসেছে। তবে সময়টা ভিন্ন। প্রথম ছবিটা পঞ্চাশের দশকের প্রেক্ষাপটে আর পরেরটা সমকালীন।<br />
সমকালীন  ম্যারলী এন্ড মীর জেনিফারের চরিত্রটা দেখে মনে হয়েছে আমাদের জেনারেশনকে তুলে ধরেছে। নারী আর এখন শুধু সুতোয় বাধা পুতুল নয়। সে ঘটনা নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা রাখে। সে স্বনির্ভর, সে আত্মবিশ্বাসী। যখন প্রয়োজন মনে করছে নিজ ইচ্ছায় ক্যারিয়ার ছেড়ে সংসার-সন্তানকে সময় দিচ্ছে। সে জানে সে কী চায়, কিভাবে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে হয়। সর্বোপরি নিজেকে সে ভালোভাবেই বুঝতে পারে এবং তা প্রকাশ করতে পারে।<br />
রেভোলুইশনারী রোড ছবিতে কেটকেও একই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিলো। কিন্তু সেই পঞ্চাশের দশকে নারী বোধহয় তার ভেতরকার টানাপোড়েন, যন্ত্রণার  ভাষাটা তখনও আবিষ্কার করতে শেখেনি। সে সময় নারী রোল মডেল বা সুযোগের অভাব ছিল। সে জানতো না কিভাবে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে হয়। তাই অভিমানী মন নিয়ে তাকে ভেতরে ভেতরে দ© হতে হয়েছে। কখনওবা আত্মগ্লানিতে জর্জরিত হয়েছে। কিন্তু আত্মঅহমের কারণে তা প্রকাশ করতে পারেনি। </p>
<p>মানব সভ্যতা কতোটা সময় পার করে এতোদূর এসেছে। কিন্তু নারীর ভেতরে যে বিচিত্র অনুভূতির অনুরণন তা প্রকাশের ভাষাটা সবে মাত্র আবিষ্কার হতে চলছে।  আগে যেখানে নারীরা নিজের প্রতিভার জলাঞ্জলী দিয়ে আত্মত্যাগে অভ্যস্ত ছিল, এখন নারীরা আর সেই আত্মত্যাগের বলি হতে চায় না। হোক তাদের যতো পরিশ্রম, তারপরও সে নিজেকে প্রকাশ করতে চাচ্ছে। সে বুঝে গেছে অভিমানকে চেপে রেখে কোন লাভ নেই। তা ভাষায় প্রকাশ করতে হবে। আগের যুগে নারীরা তাদের সমস্যা জানতো কিন্তু সমাধান জানতো না। এ যুগে নারীরা তা জানার চেষ্টা করছে যদিও এদের সংখ্যা খুব কম। আগে পুরুষেরা নারীদের ঘরের বাইরে যেতে দিত না। কী মনে করে এখন জানি দিচ্ছে। এ যুগের আত্মবিশ্বাসী মায়েরা নারীর ব্যাপারে ছেলেদের দৃষ্টিভংগির আমূল পরিবর্তন করে দিচ্ছে। স্বামীরাও স্ত্রীদের ক্ষমতা এবং মতামতকে প্রাধান্য দিচ্ছে। কারণ তারা বুঝতে পারছে এতে তাদের নিজেদেরও অনেক চাপ কমে যায়। আর নারীরাও জেনে গেছে স্বামীর উপর অতিমাত্রার নির্ভরশীলতা অনেক ঝুকিপূর্ণ। এখানকার অনেক নারী স্ব-ইচ্ছায় একা থাকার সির্দ্ধান্ত নিচ্ছে। আমি এরকম অনেকের সাথে কথা বলে দেখেছি। তাদের বক্তব্য হলো যদি একান্তাই পছন্দমতো কাউকে পায় তবেই তারা সংসার করার কথা ভাববে। তার আগে নয়। ঠিকই তো, দরকার না থাকলে নারী কেন আপোষ করবে? আর আপোষ হলেও হবে সমানে সমান বা একটু Œনিশ-বিশে, দশ বা নব্বইয়ের সাথে নয়। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই বলে কতো নারী মুখ বুজে আপোষ করে সংসার করে গেছে, এখনও যাচ্ছে।                  </p>
<p>৫<br />
একটা ছেলে জন্ম থেকেই দেখে আসছে সমাজে তারা অর্থোপর্জনকারী। তাই দেখা যায় একটা ছেলে পড়াশোনা করুক বা না করুক, ফলাফল যেমনই হোক পরিশেষে সে ঠিকই একটা কর্মসংস্থান জুটিয়ে নিচ্ছে। অর্থোপর্জনের সাথে ক্ষমতায়নের একটা গভীর সম্পর্কে আছে। নারীবাদী লেখক ভার্জিয়ানা উলফ একবার বলেছিলেন যে মেয়েরা কম লেখে তার অন্যতম প্রধান কারণ তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নয় বলে। প্রগতিশীল মন মাানসিকতার সাথে সাথে নবাব ফয়জুন্নেসা, বেগম রোকেয়া স্বামী বা বাবার থেকে অর্থপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বলে বাংগালি মুসলিম নারী শিক্ষা প্রসারে তারা ভূমিকা রাখতে পেরেছিলেন। বেগম রোকেয়া আমার কাছে এক পরম বিস্ময়। একক চেষ্ঠায় বাঙ্গালি মুসলিম নারী সমাজকে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছিলেন।<br />
এ যুগে অনেক নারী নিজেরাই তাদের ক্ষমতায়নের ধারণা পোষন করতে পারে না। স্বনির্ভর হয়ে এক বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে পুঁজিবাদের হাতছানিতে আরেক বন্দিদশায় পতিত হচ্ছে। এখানকার চাকুরীসূত্রে বা পতির কারণে অনেক বিত্তশালী মহিলাদের দেখেছি অতিমাত্রায় শাড়ি, গয়না, ইথান এলেন বা ড্রেক্সেল হেরিটেজের ফার্নিচার, নরডসট্রমের জুতো, ব্যানানা রিপাবলিকের ওভারকোর্ট, ফ্রেঞ্চ ফেসিয়াল  কিম্বা মাকস-ফাকটরের প্রসাধনীর জন্য শপিংমলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহিলাদের জমায়েতে একেকজন কতো বড় ভোক্তা তার বয়ান চলে। দেখা যায় কোন চ্যারিটির জন্য তাদের হাত দিয়ে এক পয়সাও সহজে গলছে না। সবাই অবশ্য এরকম নয়। অনেকে এখানে বসে দেশের জন্য উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করছেন। তারা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।  </p>
<p>সেদিন তসলিমা নাসরিনের একটা বই পড়লাম। বইটার নাম,’আমি ভালো নেই, তুমি ভালো থেক দেশ’। বইটাতে লিখেছেন যে নারী স্বাধীনতার রূপ উনি দেখতে চেয়েছিলেন, ইউরোপের পশ্চিম দেশগুলোতে সেটাই দেখতে পেলেন। পরে সে সমাজের মধ্যে অনেকদিন বসবাস করে আবিষ্কার করলেন সেখানকার অন্তঃসারশুন্যতা। মানুষের সুখ-দুঃখের একটা বড় পরিমাপক মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক &#8211; অর্থাৎ সামাজিকতা। এদিকটাতে আমরা পূবের মানুষেরা এখনও এগিয়ে আছি। এই ব্লগেই আমি কতো মানুষকে দাওয়াত দিয়ে দিয়েছে, আবার কতোজনের কাছ থেকে দাওয়াত পেয়েছে তা কিন্তু পশ্চিমের কোন ব্লগে অকল্পনীয়। লেখক দেখেছেন পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে  অল্পতেই বেড়িয়ে পড়ে তাদের রেসিস্ট চেহারা, বাহ্যিক ভদ্র ব্যবহারে আড়াল করে রেখেছে ভেতরের পংকিলতা, সে দেশে  মনরোগ চিকিৎসকদের কাছে ভীড় লেগেই থাকে, সব আছে তারপরও আত্মহত্যার হার অনেক বেশি, বৃদ্ধবয়সের অসহনীয় জীবন, সব মিলিয়ে অসম্ভব ধনশালী দেশগুলোর মধ্যে বসে নিজের নারীবাদ আর নাস্তিক্যবাদের চর্চা আর কথা বলার যথেচ্ছা স্বাধীনতা পেলেও মনে পাননি সুখ। মাঝে মাঝে লেখকের আত্মহত্যার ইচ্ছা জাগতো। আরজ আলী যেমন জানতেন না বলে গ্রামে বসে নিজেই আবার গতিসূত্র আবিষ্কার করেছিলেন, ঠিক তেমনি মফস্বলে বসে তসলিমা নাসরিন হিপিইজম কেন ব্যর্থ হলো সে খবর রাখেননি। এখানে মৌলবাদীদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে ওখানে মিডিয়ার ফাঁদে বন্দি হলেন। হুমায়ুন আজাদ, জাহানারা ইমামের উপরও তো মৌলবাদীদের খÍগ ছিল। কিন্তু পশ্চিম ঠিকই বুঝেছিলো, অল্পবয়সী নারী মিডিয়ার শুন্য পাতা পূর্ণ করার জন্য বেশি বানিজ্যিক হবে। যাইহোক একজন বাংগালি নারী নিজের জীবনটাকে অনেক  পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে গিয়ে তার দর্শন লিখে গেছেন তা নিঃসন্দেহে আমাদের সাহিত্য এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন। যেহেতু তার নিজেরই উপলদ্ধি &#8211; ’আমি ভালো নেই’ তাই সে পথ অনুসরণ করারও কোন কারণ দেখি না। যে দর্শন অনুসরণ করলে জীবনের যে কোন মূহুর্তেই ভালো থাকা যায় আমি সে দর্শন অনুসরণ করতে চাই। </p>
<p>৬<br />
বাংলাদেশে এখন মেয়েদের পাশের হার বেশি, ভালো ফলাফলের হারও বেশি। কিন্তু সঠিক লক্ষ্য বা রোলমডেলের অভাবে অনেকে দিকভ্রান্ত হচ্ছে। বুয়েটে ক্লাসে প্রথম হওয়া যে মেয়েকে প্রায়ই ছেলে আর মেয়েদের সমতা নিয়ে কথা বলতে শুনতাম, প্রবাসে সেই একই মানুষকে বলতে শুনলাম &#8211; মেয়েরা একদিক দিয়ে সুবিধাভোগী, কর্মজীবি স্বামী থাকলে কাজ করার অতো বাধ্যবাধকতা থাকে না। এভাবে ভাবাটা কেন জানি শুনতে ভালো লাগে না। নিজের পরিবারের জন্য হয়তো থাকে না কিন্তু গরিব দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বিনে পয়সায় পড়ে এসে আমরা কী করে দেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার কথা ভুলে যাই? মেয়েটির জায়গায় যদি কোন গরিব ছেলে পড়তে পারতো, হয়তো সে তার পরিবারের পরের প্রজন্মকে শিক্ষার আলোতে আলোকিত করতে পারতো।<br />
তবে সবচেয়ে ধাক্কা খেয়েছি বান্ধবী ম এর চিন্তা ভাবনার বর্তমান অবস্থা দেখে। আমি ঠিক বুঝি না কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একজন প্রতিভাময়ী নারী সম্পূর্ণভাবে তার নিজস্বতা হারিয়ে স্বামীর চোখে পৃথিবী দেখতে শুরু করে। বুয়েটে থাকতে ওর সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক দেখিনি। কিন্তু এখন বোধহয় নিজের গোঁড়া স্বামীকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। ধর্মের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। এখানে আনচলিক সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত এবং অনেক মনিষী দ্বারা দূষিত ধর্মের কথা বোঝাচ্ছি না। আমি ধর্মের আধ্যাত্মিকতা থেকে অনেক সুবিধাপ্রাপ্ত। মূল ধর্মের থেকে এই নির্যাসটুকু নেওয়ার জন্যও আরেক স্তরের জ্ঞান লাগে। তবে ধর্মের মধ্যে কোন ভুল, অপব্যখ্যা, অন্ধবিশ্বাস ঢুকে গেলে সেটা সমাজে এটম বোমের থেকেও বেশি ক্ষতি করে। বান্ধবী ম এর সাথে অনেকদিন পরে কথা বলার পর বিষয়টা আরেকবার উপলদ্ধি করলাম।<br />
আমেরিকা হয়তোবা দেশেও মেয়েদের বাচ্চা সামলে বাইরে চাকুরী করতে যাওয়া অতো সহজ নয়, কেউ না চাইলে সেটা করারও অতো বাধ্যবাধকতা আমি দেখি না। তবে কেউ যদি সেটা করে থাকে তবে তাকে নিরুৎসাহীত করবার কোন কারণ নেই। বান্ধবী ম বা আরো মহিলাদেরই বলতে শুনি যে ইসলাম মেয়েদের ঘরে থাকতে বলে। মেয়েদের আসল কাজ বাচ্চা পালন করা। বান্ধবী ম এর তো আরেক স্তর উপরের কথাবার্তা &#8211; যতোগুলো সম্ভব ততোগুলো বাচ্চা নেওয়া উচিত, রিজিকের চিন্তা আমাদের করার কথা না। আমি জিজ্ঞেস করলাম &#8211; তাহলে তুমি মাত্র তিনটাতে থেমে থাকলে কেন? সেক্ষেত্রেও তার ইসলামের দোহাই, স্বাস্থ্যে না কুলালে সেক্ষেত্রে ধর্মমতে বাচ্চা না নেওয়া যায়।<br />
আমার শুধু মনে হচ্ছিল এসব বলার সময় ওর কি একবারও মনে হচ্ছিল না যে পুরোনো বান্ধবীর কাছে তাকে কী পরিমান অসম্ভব শোনাচ্ছিল! আমি তো তার মনঃস্তত্ব খুব ভালো করেই বুঝি। ম এর মতো অনেকেই সহজে হাল ছেড়ে দিয়ে ধর্মকে বর্ম বানিয়ে সান্ত্বনা খোঁজার চেষ্টা করছে। ধর্মের কথা না বলে সে যদি বলতো, আমার নিজের ইচ্ছায় আমি সংসার-সন্তানকে সবকিছুর আগে অগ্রাধিকার দিয়েছি তাহলে তার প্রতি শ্রদ্ধাটা আমার আগের মতোই থেকে যেত। তার কারণ এই ধরনের মেয়েরা যখন ধর্মকে এভাবে উপস্থাপন করে তখন সমাজে তার কিছুটা অপ-ভূমিকা প্রভাব ফেলে। এরা সহজেই অন্যমেয়েদের রোল মডেল হয়ে যায়। আমি অনেক বাংগালি মেয়েকে বলতে শুনেছি, এতো ভালো রেজালট করা একটা বুদ্ধিমান মেয়ে যখন এই কথা বলছে তখন নিশ্চয় এটাই ঠিক।<br />
কে তাদের বোঝাবে যে ভালো ফলাফল করে একজন শুধু তার ব্যবহারিক জ্ঞানকেই শুধু শানিত করে যা চিন্তাভাবনাকে আপনা আপনিই প্রগতিশীল করে তোলে না।  </p>
<p>৭<br />
আমার দাদি অত্যন্ত গোড়া ধার্মিক ছিলেন। উনার কঠোর পর্দা নষ্ট হয়ে যেতে পারে এই আশংকায় শহরে স্বামী-ছেলের সাথে না থেকে মেয়েকে নিয়ে গ্রামেই থেকেছেন। আমার অতি শিক্ষিত এবং আধুনিক আম্মাকে ঠিক অতোটা পছন্দ করতে পারেননি। দাদিকে খুশি করার জন্য আম্মা শ্বশুর বাড়িতে গেলে বোরখা পরতেন। দাদি মেয়েকে তার দীক্ষায় দিক্ষিত করেছেন। আমার কাছে পোশাকের থেকে মনের পর্দা তথা অপ্রগতিশীল চিন্তাভাবনাকে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক বলে মনে হয়। পরবর্তী সময়ে ফুপুর পাঁচ মেয়ের কেউই মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্তও শিক্ষা পাননি। তবে আজ ফুপুর মেয়েরা এ অপ্রগতিশীলতা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। কারণ তারা দেখেছে শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থেকে সামাজিক আর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। এখন তাদের কষ্টটা অনেক বেশি। শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর এক্ষেত্রে নারীর দায়িত্ব অনেক।</p>
<p>উপসংহার টানতে চাই এই বলে যে নারীকে তার জগৎ বাড়াতে হবে। এটা দুভাবে সম্ভব। সশরীরে সে নিজে বাইরের জগতে প্রবেশ করতে পারে কিম্বা ঘরে বসে বিভিন্ন বিষয়ের উপর বই পড়াশোনা করতে পারে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের পথ তৈরীর দায়িত্ব আমাদের হাতে। একদিকে আমরা ঝুম্পা লাহিড়ি বা সাবা মাহমুদের মতো ক্ষমতাশালী নারী প্রজন্মের স্বপ্ন দেখতে পারি আরেকদিকে আবার বেগম রোকেয়ার অন্তপুরবাসিনীর জড়ভরত জীবনে ফিরে যেতে পারি।</p>
<p> আমার চার বছরের মেয়ে রাইসা এই কিছুদিন আগ পর্যন্তও বড় হয়ে প্রিন্সেস হতে চাইতো। এখন সে মামনি হতে চায়। মেয়েটা কী সূক্ষ্নভাবে মেয়েটা আমাকে খেয়াল করছে! আমাদের নানি-মায়েরা নানারকম প্রতিকুলতার মধ্যেও রিলে রেসের মতো একটু একটু করে সামনের দিকে আলোর মশাল এগিয়ে দিয়েছে এখন এ মশাল নিয়ে আমি কী সামনের দিকে এগিয়ে যাব নাকি আবার ফুফু-দাদির পথে পিছনের দিকে হাটা শুরু করবো? নাকি পুঁজিবাদের ভোক্তা, মিডিয়ার পন্য, গোঁড়া নারীবাদ আরো কত রকম ফাঁদ আছে, পথ আছে &#8211; সেদিকে চলতে শুরু করবো?</p>
<p>হে নারী সির্দ্ধান্ত এখন তোমার হাতে। </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/noorafza/22077/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>63</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নামটা খুঁজে পাচ্ছি না</title>
		<link>http://www.cadetcollegeblog.com/ghashphul/22068</link>
		<comments>http://www.cadetcollegeblog.com/ghashphul/22068#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 11 Mar 2010 08:51:27 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রুম্মান (১৯৯৩-৯৯)</dc:creator>
				<category><![CDATA[আলোচনা]]></category>
		<category><![CDATA[কুমিল্লা]]></category>
		<category><![CDATA[খেলাধুলা]]></category>
		<category><![CDATA[ঝিনাইদহ]]></category>
		<category><![CDATA[পাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[ফৌজদারহাট]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল]]></category>
		<category><![CDATA[মির্জাপুর]]></category>
		<category><![CDATA[ময়মনসিংহ]]></category>
		<category><![CDATA[রংপুর]]></category>
		<category><![CDATA[রাজশাহী]]></category>
		<category><![CDATA[সিলেট]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.cadetcollegeblog.com/?p=22068</guid>
		<description><![CDATA[আমার ঠিক জানা নাই  ভালো লেখকরা কোন কিছু লিখার আগেই নামটা দিয়ে দেন কিনা।আমি শুধু এটাই জানি যে আমি দেই।কিন্তু এইটার যে কি নাম দিব খুঁজে পাচ্ছি না।
ছোটবেলায় প্রথমে হতে চেয়েছিলাম কনফেকশনারীর দোকানদার।বিনা পয়সায় পেষ্ট্রী খাওয়াটাই যখন আমার কাছে সবচাইতে আকর্ষনীয়।তারপর কখন ও ক্রিকেটার,কখন ও জার্নালিষ্ট (স্পোর্টস),কখন ও ফ্যাশন ডিজাইনার আবার কখন ও স্বপ্ন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আমার ঠিক জানা নাই  ভালো লেখকরা কোন কিছু লিখার আগেই নামটা দিয়ে দেন কিনা।আমি শুধু এটাই জানি যে আমি দেই।কিন্তু এইটার যে কি নাম দিব খুঁজে পাচ্ছি না।</p>
<p>ছোটবেলায় প্রথমে হতে চেয়েছিলাম কনফেকশনারীর দোকানদার।বিনা পয়সায় পেষ্ট্রী খাওয়াটাই যখন আমার কাছে সবচাইতে আকর্ষনীয়।তারপর কখন ও ক্রিকেটার,কখন ও জার্নালিষ্ট (স্পোর্টস),কখন ও ফ্যাশন ডিজাইনার আবার কখন ও স্বপ্ন দেখেছি আমি বিরাট এক্সিবিশন করছি বেংগল গ্যালারীতে।কখনোই যেটা চাইনি সেটা হল আর্মি অফিসার হতে।শেষ পর্জ়ন্ত ওটাই হতে হল।তাই স্পোর্টস রিপোর্টার হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছেটা এই ব্লগেই পুরন করি।</p>
<p>গতকাল অফিস থেকেই মেজাজটা খারাপ।সন্ধ্যার পরে শুনলাম  রকিবুল হাসান অবসরের  ঘোষনা দিয়েছে।শেষ প্রাকটিস ম্যাচে সেঞ্চুরী আর হাফ সেঞ্চুরীর  পর মোটামুটি নিশ্চিত টিমে থাকা।সবার মত আমার ও প্রথমে মনে হল আমাদের দেশের সেই &#8220;চিরায়ত পলিটিকস&#8221;।পরে যে কয়েকটা কাগজ পেলাম পড়লাম।রকিবুল হাসানের অবসরের সিদ্ধান্তের কারন &#8216;অবহেলা&#8217;।আরে ভাই,২০-২০ ম্যাচ টেষ্ট প্র্যাকটিস করার জ়ায়গা না।তোমাকে কেন টিমে রাখবে?ইদানিং নাকি নামাজ রোজা করে ধার্মিক হওয়ায় সে ব্যাংকে টাকা রেখে সুদ খাবে না।খুব ভাল কথা।না খেলেই হয়।মোহাম্মদ ইউসুফ কিংবা সাউথ আফ্রিকার মত দেশে থেকে হাশিম আমলার মত খেলোয়াড় সবকিছু ম্যানেজ করে খেলতে পারে।পারে না  শুধু আমাদের রকিবুল।আমাদের সমস্যাটা এখানেই।সে হয়তোবা মনে করেছে এখন তাকে অনেক হাত পা ধরে ফিরিয়ে আনা হবে।হতেও পারে।আমাদের দেশের এটাই নিয়ম।কিন্তু ম্যাচের ২ দিন আগে দেশ ও টিমকে বিপদে ফেলে দিয়ে মজা দেখার অধিকারটা তাকে কে দিল?হয়তোবা আমাদের যে সাংবাদিকেরা এতদিন তাকে ধুয়ে ফেলেছে,তারাই আবার ওকে মাথায় তুলবে।কিন্তু আমার কাছে, যে খেলোয়াড় দেশ ও টিমকে এভাবে বিপদে ফেলে চলে যায়, তাকে আর না ডাকাটাই ভালো।সে তো এমন কিছু না- নিতান্ত ই আমার মতামত।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.cadetcollegeblog.com/ghashphul/22068/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>19</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
