ঢাকায় কতজন মানুষ থাকে কে জানে! তবে গতকাল এবং আজ যা দেখলাম তাতে মনে হল ১৫/২০ কোটির কম হবে না…পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা লাভ করে ঠিক করেছিলাম- কোন মতেই আজ বের হব না…বাই হুক অর বাই ক্যাপ্টেন কুক বাসায় রিচার্ড গের-এর মতন হাঁটু গেড়ে বাসায় পড়ে থাকব!!! কিন্তু কেম্নে কি…ঠিকই বের হওয়া লাগল। সকালেই আমাদের লোকাল কলেজ প্রিফেক্ট সাইদের ফোন-’বিকালে কয়েকজন মিলে আড্ডা দেব, আড়ং এর সামনে চলে আসিস’…সরাসরি ‘ঠিক আছে, আসব’ না বলে ভাব মেরে বললাম, ‘সবাইকে জানা, কয়েকজন যাওয়ার পর আমাকে জানাস…সুযোগ পেলে যাব খন…’
আমাদের বাসা এমন এক জায়গায় যেখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সবই মোটামুটি ভাল, শুধু যাতায়াত ব্যবস্থা ছাড়া…তবে, বাড়ির পাশে মেস আলফা’য় থাকা জাফরের কাছে যখন শুনলাম ও যাবে- কষ্টকর যাত্রাটাও আনন্দময় হয়ে উঠল…ছ’টার দিকে আড়ং এর সামনে গিয়ে শুধু নাসিম এবং বিসিসির আরিফকে দেখে কিছুটা হতাশ হলাম…শালার ফাউল পোলাপাইন…কারো যদি সময়জ্ঞান ঠিক থাকে!!! এদিক দিয়ে আমরা যারা খায়বার হাউজে ছিলাম তারা কিন্তু অনেক ভাল…ক্লাস টুয়েল্ভ-এ থাকতে হাউজ মাষ্টার স্যারের সেই বিখ্যাত ‘বয়, তোরা সবখানে যাবি ইনটাইম নয়, বিফোর টাইম…’ উক্তিটি আমরা এখনো মেনে চলি…যাই হোক, একে একে সাইদ, মারুফ, শরফুদ্দীন, হাসান, শরীফ চলে এল। কেউ কেউ আসব/আসছি/তোরা কতক্ষণ আছিস ইত্যাদি ডাউট দিল…পহেলা বৈশাখ এমন একটি দিন, যেদিন কাউকে আসার জন্য অন্ততঃ জোর করা ঠিক না…ইউ নো হোয়াট আই মিন…!!!
এরপর আমরা ধানমন্ডি চলে গেলাম, আনাম প্লাজার চত্তরটাতে…সেখানে যোগ দিল হোসেন এবং ইমাম। এছাড়া হাসানের মেডিকেলের আরো কিছু বন্ধু মিলে কয়েক ঘন্টা কিভাবে যেন উড়ে গেল…হাসি, ঠাট্টা, গল্প, এর-ওর খবর/ সুখবর-এ সময়টা ভালোই কেটে গেল। সবশেষে শরীফের (ও আবার শখের ফটোগ্রাফার!) ৫৫ হাজার টাকা দামের ডিজিট্যাল ক্যামেরায় কিছু ফটো সেশনও হল (অবশ্য ক্যামেরার কারনে বেচারা বরাবরের মতন পঁচানিও খেল)।
সবশেষে আগামী ২৪ তারিখে আমাদের ইমরুলের বিয়েতে আবার দেখা হবার শুভকামনা জানিয়ে আমরা যার যার মতন চলে আসলাম। অবশ্য এর আগে ওর বিয়েতে কোন গিফট দেয়া হবে কিনা, সেই ব্যাপারে অনেক আলোচনা করেও আমরা কোন ডিসিশনে না আসতে পেরে ‘পরে দেখা যাবে’ বলে চিন্তাটাকে বাইপাস করে দিয়েছিলাম…!!!
আগামী বছর কে কোথায় থাকব-কে জানে!!! আবার কবে কার সাথে কখন দেখা হবে তাও অনিশ্চিৎ। শুধু একটা ব্যাপারই নিশ্চিৎ, আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন…হৃদয়ে বাংলাদেশ…থুক্কু! শুধু বাংলাদেশ না, ৩২তম ইন্টেক…জেসিসি!!!
দোস্তরা, তোরা যে যেখানেই থাকিস না কেন, সবাই ভাল থাকিস…
শুরুর কথা দিয়েই আবার শেষ করি। পহেলা বৈশাখে আমরা ১৫ কোটি মানুষ সবাই সবাইকে ‘শুভ নববর্ষ’ জানাই…তাহলে এতগুলো মানুষের শুভ কামনা বিফল হয়ে বছরটি কিভাবে অশুভ হয়…বুঝি না! দোষ কি আমাদের, নাকি অন্য কোথাও…কবে যে বড় হব, আর এসব বুঝব!!!!
যাই হোক, গত বছর সবাইকে ‘শুভ নববর্ষ’ জানিয়েছিলাম। কিন্তু বেশিরভাগেরই শুভ হয় নি…এমন কি দেশের জন্যও না। তাই, ঠিক করেছি এবার কাউকে উইশ করব না…দেখি কি হয়…



৩২ টি মন্তব্য
আরে ব্যাপার না …… ইনশাল্লাহ বছর ভালো যাবে ……
জবাব দিন
জবাব দিন
আমি বাইর হইনাই। কালকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবো।
জবাব দিন
আইজ টাইমিং হয় নাই???
জবাব দিন
জবাব দিন
যে পরিমাণ রইদ আছিলো, এর মইধ্যে ধানমন্ডি সেরকম ‘হট’ থাকায় পুরা ভস্ম হয়ে গেছি
তাই নতুন বছরের পয়লা দিন ধোয়া হয়ে ইরা গিছে
জবাব দিন
তিলে তি ইপনি জিতিছিন দিখি…বছরের তো পুরা ফিলাইং ইস্টার্ট দিছেন…
জবাব দিন
ঐ
জবাব দিন
আমিও বাইর হইনাই। বাইর হয়া কি হয়। খালি খালি ঘুমটা নষ্ট করা।
জবাব দিন
ঠিক কথা
জবাব দিন
আমিও বাইর হই নাই ( আসলে পারি নাই) তবে দুপুরে পান্তা খেয়ে অসাধারন একটা ঘুম হইছে
জবাব দিন
লোকজন কিভাবে যে দুপুরে ঘুমায় বুঝি না…পুরা ফাউল!!!
আমারে দেখে শেখ, আমি ঠিক দুপুর হলেই ঘুম থেকে উঠে পড়ি…
জবাব দিন
আপনার শান্তি দেইখা তো আমার……
সুযোগ পাইলেই আমিও একই কাজই করি… কিন্তু সু্যোগের খুব অভাব… আর দুপুরে ঘুমাই সারা বছরে ২/১ দিন।
জবাব দিন
আমি বাইর হইনাই।
ল্যাবের ভেতরেই পইড়া ছিলাম।
রাত্রে গিয়া পাস্তা রাইন্ধা পান্তা মনে কইরা খায়া ঘুম দিমু। পেটের তো আর জিহ্বা নাই।
জবাব দিন
চোখ বন্ধ কইরা খাইও…
জবাব দিন
কি কমু, থাক কিছুই না কই !!!!
জবাব দিন
কিছু কইবি না…?? কিছুক্ষণ লং আপ (নাইন নাম্বার!) হয়ে থাক…
জবাব দিন
নিরীহ জুনিয়রের উপর পাঙ্গা কার্যক্রম শ্লথ করা যায় না????
জবাব দিন
মাইনে কি?
জবাব দিন
বস, আমগো আসল ছিপি কুনো কাম করে না…
সব কিছু করে সাইদ…এমনকি জেক্সকাতেও ও আমাদের ইনটেক রিপ্রেজেন্ট করে…এই জন্য ওর নাম হইছে লোকাল কলেজ প্রিফেক্ট…মিলে নাই হয়ত, তয় আসল ছিপিরে একটু পঁচানো গেছে- তাই বা কম কিসে!!!
জবাব দিন
হৃদয়ে ৩৬তম ব্যাচ রকক, আর তাদের সাথেই ১লা বৈশাখ উদযাপন করলাম।
জবাব দিন
দূর এইটা একটা সাম্প্রদায়িক পোষ্ট হইছে।
জবাব দিন
আহারে……কি দুক্ষের কতা……
জুনা ভাই শুভ নববর্ষ
জবাব দিন
আমিও সারাদিন বাইর হই নাই। রাইতে শুধু মিতালী মুখার্জীর গান শুনতে ক্যাডেট কলেজ ক্লাবে গেছিলাম। যেটুকু সময় তুমি থাকো পাশে , মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে……………
লগে তিনটা ভদকা লেমন 
এই ছিলো আমার পহেলা বৈশাখ
জবাব দিন
কিরে একা একা খাইলি? একটা ফোন দিতি। আমি তো কাছেই ছিলাম। Movenpick এ
জবাব দিন
তুই আমারে সারাজীবন কয়ডা ফোন দিছিস ? ফ্রি মোবাইল +বিল পাস তাও এতো কিপটামি করস ক্যান? এতো টাকা নিয়া কি কবরে যাবি?
জবাব দিন
কবরে মনে হয় জিপির নেটওয়ার্ক নাইক্কা, একমাত্র ভরসা ষিতিশেল
জবাব দিন
শুরুটা তো ভালই হইল
জবাব দিন
আমিও তো পুরা ঠিক বের হমুনা বাসায় ঘুমামু কীন্তু ফরহাদ(CCR) & সালেকীন(SCC) রাতে ফুল নিয়া বাসায় হাজির ১৪ এপ্রীল আব্বুর ও বিবাহ বার্ষিকী আম্মুর ও
ওরা wish করার জন্য আসছিল পরে চলে রাতে আমরা টি এস সি তে গেলাম পরের দিন ৫ টা পর্জন্ত ছিলাম আই আর ডিপার্টেন্টে
জবাব দিন
ওহ আমিও ২০০২-২০০৮ এর পোলাপান্দের সাথেই ছিলাম

আমাদের কলেজ এর মাত্র ৩ টা ছিল ১০ কলেজ মিলাইয়া ৫০ জন হবে
ওরে আমরা কত ইউনাইটেড রে
জবাব দিন
নতুন নতুন বের হলে অনেক দেখা সাক্ষাত হয়, এরপর দেখবা আস্তে আস্তে মানুষ কমতে থাকবে।
জবাব দিন
আমিও মেনে চলি। এখন শুধু পিটি টাইম এ বিফোর টাইমে না যেতে পারলে আফটার টাইম এ যাই।
হুমম। ঐ দিন রাস্তায় অনেক ভীড় থাকে। গাড়ি পাওয়া যায় না।
জবাব দিন