মৃত্যুর পরের জীবন কিংবা পুনর্জন্ম, কোনোটাতেই আমার বিশ্বাস নেই। থাকলে খারাপ হত না। আমার অনেকদিনের ইচ্ছে আরো একবার জন্মানোর।
নাহ, এই আমি হয়ে নয়। পলাশ হয়ে। আমার বন্ধু সাদিকুর রহমান খান পলাশ!
ছোটবেলায় আমি অনেক কিছু হতে চেয়েছি। ঝালমুড়িওলা, ঘুড়ির দোকানদার, মিঠুন চক্রবর্তী, ফেলুদা আরো কত কী। এখন আর সব মনে নেই। বড় হয়ে আমার মনে হল আসলে এসব কিছু না, আমি পলাশের মত হতে চাই। কিন্তু ততোদিন পলাশ হওয়ার সময়টা পেরিয়ে গেছে। আরেকবার জন্মানো ছাড়া উপায় নেই। সেই থেকে অপেক্ষার শুরু…
খুব আহামরি কোন ছেলে না পলাশ। হ্যা, দেখতে আমাদের সবার চেয়ে একটু ভালো, অনেকে বলে চশমা ছাড়া মাঝে মাঝে নাকি ওকে শাহরুখ খানের মত লাগে। কিন্তু বোম্বের ওই ছ্যামড়াকে আমার কোনদিনই ভালো লাগেনি। তাই আমাকেও ওর মত লাগবে-এই ভেবে পলাশ হতে চাওয়া? ছি!
পলাশের কথা কাজে কোন মিল নেই। ও যেকোন মানুষের চোখে দিকে তাকিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসে একের পর এক মিথ্যা বলে যেতে পারে। হয়তো আমাদের বিকেল পাঁচটায় কোথাও যাওয়ার কথা। পলাশ ঘুম থেকেই উঠবে পাঁচটায়। ফোন করলে দিব্যি বলে দেবে, ‘এইতো আমি কাছাকাছি চলে এসেছি, এক মিনিট একটা বিড়ি ধরা আমি চলে আসতেছি।’ সেই এক মিনিট কখনো কখনো কয়েক ঘন্টা হয়ে যায়। হেলে দুলে পলাশ আসে। এবং আসার পর ভয়ংকর সব অজুহাত দেখায়। কখনো বা ওর কোন কাল্পনিক মামা আকসিডেট করায় হাসপালাত ঘুরে আসতে দেরি হয়, কখনো ওর কোন কাল্পনিক নানী মারা যায়। একবার কে যেন এমনই একটা মিথ্যা ধরে ফেলেছিল-
‘ওই গত সপ্তাহে না তুই বলছিলি তোর নানী মারা গেছে, তাইলে এইডা কোই থেইক্কা আইলো?’
‘আরে ওইটা ছিল আপন নানী, এইটা নানীর কাজিন!’
পলাশ এমনই। ওকে কিছুতেই আটকানো যায় না। সব প্রশ্নের উত্তর থাকে ওর কাছে।
ছেলেটার চরিত্রও খুব একটা সুবিধার না। এক সঙ্গে ৮/১০ খানা মেয়ের সঙ্গে প্রেম করা ওর কাছে ওয়ান-টুর ব্যাপার। আমি একবার এক মেয়ের মেসেজ ভুলে আরেক মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়ে বুঝেছি দুই নৌকায় পা রাখা কত ঝামেলার। কিন্তু পলাশের কাছে এগুলো ডালভাত। দেশে থাকতে আমি ওকে একসঙ্গে তিনটা মেয়ের সঙ্গে প্রেম করতে দেখেছি। এখন নাকি লন্ডনে বসে এট-এ-টাইম ৮/১০কে দিব্যি শিডিউল দিয়ে যাচ্ছে। কোন ওভারল্যাপ হচ্ছে না। লোকমুখে শুনা, ওর হৃদয়ের একটু অংশ ইন্ডিয়ান এক মন্ত্রীর মেয়ের কাছে, একটু নিয়েছে ফিলিপাইনের এক বিমানবালা, একটু এক বাঙ্গালি ছাত্রী.. একটু …..
আমরা শুনে বলি ..হোয়াট দ্য ফা*.. এগুলো কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব?
সম্ভব। পলাশ সব অসম্ভবকেই সম্ভব করতে পারে। ছাত্র জীবন থেকে ও টিউশনি করে সংসারের হাল ধরতে পারে। বিদেশে পড়তে গিয়ে পার্ট-টাইম জব করে নিজের এবং ছোট ভাই-বোনের পড়াশুনার খরচ চালাতে পারে। একেবারে অপরিচিত কাউকে বাঁচাতে রাত-বিরাতে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতে পারে, বন্ধুর বাবার অপারেশনের সময় রক্ত দিতে যেখানে সেখানে ছুটে যেতে পারে।
আর পারে বন্ধুদের কথা মনে হলে বিদেশ থেকে কাঁদতে কাঁদতে ফোন দিতেও।
আমি আসলে সেই পলাশ হতে চাই। ওর মত স্টাইল করে চশমা পরা না হোক, না হোক অতগুলো মেয়ের সঙ্গে প্রেম কিংবা সব অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলার অভ্যেস। আমার পলাশের ওইটুকু দরকার যেটা দেখে আমার মা প্রায়ই বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো বছর থেকেও তুই পলাশের মত হতে পারলি না কেন রে বাবা?’
মা কে খুশি করার জন্য নয়। সত্যি বলছি আমার নিজেরও এখন কেন জানি পলাশ হতে ইচ্ছে করে। এই জন্মে যদি না হয় তাহলে অন্তত পরের জন্মে …




৩৯ টি মন্তব্য
এত অল্পতে অরে ছাইরা দিলি মামা।।। কাজটা ঠি ক করলি!!!!
জবাব দিন
মোটেও ঠিক হয় নায়। কিন্তু ঘুম আসছিল তাই হালকার উপর ছেড়ে দিতে হল
জবাব দিন
জবাব দিন
সিসিবির সার্ভারে বোধহয় আবার গন্ডগোল হইছে। পোষ্টের শুরুতে কামরুল ভাইয়ের নাম দেখায় ক্যান!
লেখা পইড়া আমারো পুনর্জন্মের সাধ জাগছে। এমন ভাবে বন্ধুদের নিয়ে লিখবার জন্য আমি আরেকজন কামরুল হাসান হইয়া জন্মাইতে চাই
জবাব দিন
আমিও কামরুল হাসান হইয়া জন্মাইতে চাই
জবাব দিন
কামরুল হাসান লোক ভালো না। তার মত হয়ে লাভ নাই
জবাব দিন
আমিও পলাশ হপো [মাঝামাঝি পর্যন্ত যেমনটা বলা হইছে]
কাম্রুল, আবার শীতনিদ্রা যাবা নাকি?
জবাব দিন
ভাইজান… পুরাটা হইতে সমস্যা কি???
জবাব দিন
রাব্বী ভাই, যা গরম পড়ছে, চাইলেও শীত নিদ্রা দেবার উপায় নাই। খুব হট
জবাব দিন
পলাশের বিবাহ পরবর্তী জীবনও আপডেট কইরো। কারণ দেখেছি যে অতি টাংকিবাজ শ্রেণির ছেলেগুলো বিয়ের পর ভেড়ার থেকেও নিরিহ টাইপের হাজবেন্ড হয়।
লেখা ভাল। তবে মনে আছে তুমি আমাকে চা খাওয়াও নাই।
জবাব দিন
আপু বেআদবি মাপ করবেন.. ঘটনা হল যে ভেড়া সে সবসময়ই ভেড়া… আর যে পলাশ সে আজীবন পলাশ… ও তো আসলে মাটির ছেলে
জবাব দিন
অতি খাটি কথা, অতি খাটি কথা…
(আমি ত এমনিতেই অনেক নিরিহ
জবাব দিন
শান্তাপু, চা পাওনা রইলো। নইলে পরের বার আসলে কি আর দেখা করতেন
জবাব দিন
হ্যাপি নিউ ইয়ার কামরুল ভাই
(বছরের প্রথম ব্লগ বলে কথা
)
জবাব দিন
কস কী !! আর কয়দিন হইলে তো মেডেন ইয়ার হইয়া যাইতো
জবাব দিন
সাদেক (পলাশ) ভাইয়ের গোলকিপিং দক্ষতার কথা কইলেন না যে?
জবাব দিন
জবাব দিন
আমারে নিয়াও একটা লিখিস কামরুল, ময়মন্সিং লেনের চা খাওয়ামুনে তরে ।
জবাব দিন
ফয়েজ ভাই, আপনার গৃহস্থালি সমস্যা নিয়া তো একদিনে ৩টা ব্লগ রচিত হইসিলো, কোন রকম চায়ের প্রলোভন ছাড়াই। আর চা কেমনে খাওয়াইবেন, বাসায়তো গ্যাস নাই!
জবাব দিন
ফয়েজ ভাই, আগে চা পরে লেখা। কামরুল বাকিতে কাজ করে না
জবাব দিন
এতো দেখি রীতিমতো বিখ্যাত লোক!! আমাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিও তোমার বন্ধুকে।
আমাদেরও একজন “সাদিইইইইইইখখখখখখখখখ বাই” আছে! তবে তার গল্প করা যাবে না, বন্ধুদের নিষেধ আছে।
জবাব দিন
ভাইয়া কামরুল খালি খারাপ কতা কয়… আমি কিন্তু এক্কেরে ভাল পুলা…
আপনাদের “সাদিইইইইইইখখখখখখখখখ বাই” এর গল্প ঝাতি জান্তে চায়
জবাব দিন
লাবলু ভাই, কেমন আছেন?
জবাব দিন
অনেকদিন পর কামরুল ভাইয়ের লিখা
খুব ভালো লাগলো
জবাব দিন
নাজমুল কেমন আছিস?
জবাব দিন
ভাই আপনার টুইটার আর ফেসবুকের মেসেজ চেক কইরেন
কত মেসেজ পাঠাইলাম কিন্তু কোনো রিপ্লাই নাই
আমি ভালো আসি
দোয়া কইরেন
জবাব দিন
বড় ভুল হয়ে গেছে রে। সরি।
ভালো থাকিস।
জবাব দিন
অছাম হইছে লেখাটা।
জবাব দিন
বড় ভাইএর ব্লগ এ বাজে ইমো দেয়ায় কিয়ামতের আগ পযন্ত ফ্রন্টরল ইসু হইলো তোর নামে…
জবাব দিন
হারামি রায়হান, কুনু খবর নাই ক্যান? খুব ব্যস্ত হয়ে গেছিস না?
জবাব দিন
কামরুল তোরে কইলাম মাসুদ/শান্ত রে নিয়া একটা ব্লগ লিখতে… একি করলি মামা… একি করলি…
জবাব দিন
ক্যান তোর বিয়া হবে না?
জবাব দিন
জবাব দিন
পলাশের কথা কাজে কোন মিল নেই। ও যেকোন মানুষের চোখে দিকে তাকিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসে একের পর এক মিথ্যা বলে যেতে পারে।
জবাব দিন
জবাব দিন
লেখা ভাল হয় নাই। চরিত্রের একাংশ মাত্র বর্ণনায় আসছে। গরুর রচনায় শুধু লেজের র বর্ণনা দেয়ার মত, বাকি শরীর কই?
জবাব দিন
বার কয়েক রিফ্রেশ দেয়ার পরও বিশ্বাস হচ্ছে না……..
যাই, কম্পু টাই একবার রিস্টার্ট মেরে দেখি…..
জবাব দিন
জবাব দিন
সূর্য কি আজকে নৈঋত কোণে উঠসে নাকি?
জবাব দিন