যা দেখছি, যা ভাবছি ইদানিং

Almost Famous (movie)

ক্লাসিক রক মিউজিক এন্থুসিয়াস্টিক হিসেবে গত শতাব্দীর ষাট আর সত্তুরের দশক নিয়ে আমার বিশাল আগ্রহ। রক এন রোল এই যুগের সবকিছুই আমার কাছে একটা হাতছানি দিয়ে ডাকা রহস্যময় ধোয়াশার মতন। Almost Famous মুভিটার নাম প্রথম জানতে পারি একটা মুভি ব্লগে। ভালো সাউন্ডট্র্যাক এর একটা মুভি খুজতেছিলাম। ঐখান থেকেই এই রিকমেন্ডেশন পাই। মুভির কাহিনী লিখতে আমার সবসময় আলসেমি লাগে। ইন জিস্ট কাহিনী টাকে সংক্ষেপে এরকম বলা যায় ,
” William Miller is a 15-year-old aspiring music writer in the 1970s. Given the dream assignment of going on the road with band Stillwater for a Rolling Stone feature, he embarks on the trip with enthusiasm, much to the chagrin of his mother. Once on the road, he finds his life changing forever.”
প্রথমত এটা একটা রোড মুভি যেটা কিনা আমার ফেভারিট জনরা। তার উপর রক এন রোল যুগের সেই মিউজিক। একেবারে পোয়াবারো। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে মুভিটা দেখেছি। কেট হাডসন এর গ্রুপির চরিত্রে অভিনয় ছিল অসাধারণ। উইল চরিত্র টা তো এককথায় মারহাবা ! রজার এবার্ট এই চরিত্রকে তুলনা করেছেন মডার্ন হাকলবেরি ফিনের সাথে। হাকলবেরি ফিন তার অভিযান করেছিলো মিসিসিপি ডেল্টার পারে, আর উইল এর এই অভিযান সত্তুরের সেই উন্মাতাল যুগের এক রক ব্যান্ড এর ট্যুর বাসে। দুই অভিযান শেষেই চরিত্রগুলোর মাঝে একধরণের আত্মউপলব্ধি আসে.. এই রিয়েলায়জেশন টা দর্শক হিসেবে আমাদেরও স্পর্শ করে। আমার কাছে মনে হয়েছে রকস্টার দের যে জীবনযাত্রা মুভিতে দেখা হয়েছে তা প্রায় একুরেট। ড্রাগস, গ্রুপি কালচার, আন্ডারএজ সেক্সুয়াল রিলেশন , কেয়ারলেস জীবন যাপন এগুলো বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে মুভিতে। স্টিলওয়াটার এর রাসেল হ্যামন্ড যেন পারফেক্ট রকস্টার সিম্বল। কালচার আর কাউন্টার কালচার এর সেই সময়টাকে এরচেয়ে ভালোভাবে আর কোনো মুভি দেখাতে পেরেছে বলে মনে পরেনা।
মুভিটা এমনিতে বেশ বড়.. ডিরেক্টর কাট সহ প্রায় ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিটের মতন.. আমি দেখেছি নেটফ্লিক্সে। ওখানে যেটা আছে সেটা ২ ঘন্টা ৩ মিনিটের। এই ডিফারেন্স টা টের পেয়েছি পরে আবার ফুল ভার্সন দেখার পরে। গল্পের ফ্লো তে তেমন কোনো পার্থক্য তৈরি না করলেও এই লম্বা ভার্সন টাই দেখার জন্য সবাইকে রিকমেন্ড করবো। Led Zeppelin Official এরStairway to Heaven সম্পূর্ণ ট্র্যাক টা একটা সিনে ব্যবহার করা হয়েছে। পুরা মুভি জুড়ে অসাধারণ সব সাউন্ডট্র্যাক।
মুভির গল্পটা আসলে পরিচালক ক্যামেরন ক্রো র কিশোর জীবনের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লেখা। তিনি ও ১৫ বছর বয়সে এরকম একটা ট্যুর করেছিলেন Allman Brothers Band , Lynrd Skynyrd আর Eagles এর সাথে। মনে হয় একারনেই মুভিটার অথেনটিসিটি আরো বেড়ে গেছে।

রোটেন টমেটো : ৮৮%
IMDb : ৭.৯/১০
আমার রেটিং : ৮/১

০ tumblr_mn84uvTwZJ1qkyz1oo1_500

 

 

Anthony Bourdain: Parts Unknown (TV Show)

এই শো র খোজ পেয়েছিলাম আমি গত গ্রীষ্মে। নেটফ্লিক্সে ডকুমেন্টারি সেকশনে পপ আপ করায় চোখে পরে.. সত্যি কথা বলতে কি Anthony Bourdain এর নাম ই আগে কখনো শুনি নি। তাই কিছুটা রিলাকটেন্টলি শো টা দেখা শুরু করি.. প্রথম যে এপিসোড টা দেখেছিলাম সেটা মরক্কোর তানজিয়ার অঞ্চল নিয়ে। কিছুক্ষণ দেখার পরই আমি নড়েচড়ে বসি..
প্রথমত আমি এরকম কিছু প্রত্যাশা করিনি আসলে। আমার ধারণা ছিল আর ১০টা ফুড ডকুমেন্টারি র মতন এটাও খাবার দাবার এর কাহিনী দেখিয়েই শেষ করে দিবে। কিন্তু Parts Unknown ঠিক এই জায়গাটা তেই আর সবকিছুর চেয়ে আলাদা। ওই এপিসোডেই দেখলাম অন্য এক মরক্কো কে। এই অঞ্চল টা মরক্কোর অন্যান্য অঞ্চল থেকে একটু আলাদা। সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে খুব সমৃদ্ধ। এই ইন্টারজোনে নানা সময়ে নানা কবি,সাহিত্যিক , গায়ক এসে তাদের সৃস্টির জন্য অনুপ্রেরণা খুজেছেন। Anthony Bourdain এই স্পিরিচুয়ালিটি র মূল খোজার চেস্টা করেছেন। মিসেছেন সেখানকার মানুষ দের সাথে। কথা বলেছেন সেই স্বর্ণালী যুগ কে নিয়ে। সেই সংস্কৃতি , ভাষা আর মানুষের সাথে সেখানকার খাবার দাবার ও লোকাল কুইজিন এর সম্পর্ক দেখিয়েছেন। এপিসোডটা শেষ করে আমি কিছুটা কনফিউজড হয়ে যাই। এটাকে কি বলা উচিত ? ট্রাভেল শো ? নাকি ফুড ডকুমেন্টারি ? নাকি কালচারাল ডকুমেন্টারি ? নাকি পলিটিকাল কমেন্ট্রি? হাউ এবাউট এ কমপ্লিট প্যাকেজ অফ এভরিথিং ! হ্যা, Anthony Bourdain: Parts Unknown কে একটা কমপ্লিট প্যাকেজ বলা যেতেই পারে। টানা দেখতে থাকি এই শো.. প্রথম সিজনে Anthony Bourdain মোট ৮ টা দেশ/ শহর কে দেখিয়েছেন। মায়ানমার, লস এঞ্জেলেস, কলম্বিয়া, ক্যানাডা, মরক্কো, লিবিয়া, পেরু, কঙ্গো। এরপরের সিজন এ আরো ৮ টা জায়গা। জেরুজালেম, স্পেইন, নিউ মেক্সিকো, কোপেনহেগেন, সিসিলি, সাউথ আফ্রিকা, টোকিও, ডেট্রয়েট। তৃতীয় সিজনে পাঞ্জাব, লাসভেগাস, লিও, মেক্সিকো সিটি, রাশিয়া, মিসিসিপি ডেল্টা , থাইল্যান্ড, ব্রাজিল। ফোর্থ সিজনে সাংহাই, ব্রংক্স (নিউ ইয়র্ক সিটি), প্যারাগুয়ে , ভিয়েতনাম, তানজানিয়া, ইরান, ম্যাসাচুসেট্স , জ্যামাইকা।
আমি দেখেছি থার্ড সিজন পর্যন্ত। নেটফ্লিক্সে এখনো ফোর্থ সিজন আসেনি। Anthony Bourdain সম্পর্কে খোজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম। উনি বাস্তব জীবনেও একজন শেফ ছিলেন। অনেকদিন কাজ করেছেন এই পেশায়। এর পর ট্রাভেল চ্যানেল এর জন্য অনুষ্ঠান বানিয়েছেন।

কেন পার্টস আননোন দেখবেন ?
১) আগেই বলেছি এটা একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। আপনি কি ভোজন রসিক ? ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন? বিভিন্ন দেশের বা অঞ্চলের সংস্কৃতি আর ট্রেডিশন নিয়ে আগ্রহী? রাজনীতি সচেতন থাকার চেস্টা করেন ? উত্তর হ্যা হলে এই শো দেখা আপনার জন্য ফরজ কাজ। আর এগুলোর মাঝে কোন বিষয় সম্পর্কে আগ্রহ না থাকলেও আপনার উচিত পার্টস আননোন দেখা। উপভোগ করতে করতেই অনেক কিছু সম্পর্কে জানতে পারবেন কখনো এতটুকু বিরক্ত না হয়ে..
২) Anthony Bourdain এর সেন্স অফ হিউমার আর সারকাজম। সত্যি বলতে এরকম স্ট্রেইট টপিকের একটা অনুষ্ঠান কে এতটা উপভোগ্য করানোর পেছনে মূল ক্রেডিট দিব আমি Anthony Bourdain এর অসাধারণ স্ক্রিপ্ট আর ইন্সটেন্ট সেন্স অফ হিউমার কে। এই একটা কারনে আমি কখনোই বিরক্ত বোধ করিনি এই প্রোগ্রাম দেখতে গিয়ে। লোকাল মানুষ দের সাথে তিনি খুব সহজেই মিশে গিয়ে , খেতে খেতে নানা বিষয়ে গল্প করতে করতে অন্যরকম একটা পার্সপেক্টিভ তুলে এনেছেন।

এইরকম একটা প্রোগ্রাম কখন ১০০% বিতর্ক ছাড়া করা সম্ভব না। বেশ কয়েকবার ই তার অনেক গুলো মন্তব্য নিয়ে মিডিয়া তে অনেক আলোচনা- সমালোচনা হয়েছে। তবে আবার মতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনেকটা ওভাররিয়েকশন দেখিয়েছে কনজারভেটিব একটা সেকশন।

qzqwbgwkjcc-market_maxres

Boyhood  (2014)

অনেক দিন বাইরে রেখে দেওয়ার পর আধ পাকা কাঠাল পেকে যায়। খেতে খুব মজা লাগে। রিচার্ড লিংকলেটার এর মুভি গুলো অনেকটা আধ পাকা কাঠালের মতন.. শুরুতে একবার দেখে পরে আবার দেখা লাগে। বিফোর ট্রিলজি আমি প্রতিবছর দেখার ট্রাই করি। প্রতিবার ই ডায়লগ গুলোর অন্যরকম অর্থ খুঁজে পাই.. এই মুভিটা দেখে এই পোস্ট টা আগের গ্রুপে দিয়েছিলাম প্রায় ৪ মাস আগে। সামনে আবার দেখবো বলে ভাবছি। তাই আবার অনুভূতিটা শেয়ার করছি।
Boyhood দেখে রুমে ফিরে এসে অনেকক্ষণ চেয়ারে ঝিম মেরে বসে ছিলাম। মুভিটার সাথে নিজের শৈশব বা কৈশোর কে রিলেট করার চেস্টা করছিলাম।কিছু কিছু মুভি আমাদের জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়, অতীত কে নিয়ে ভাবতে শেখায়। আমার মতে Boyhood একটা মাস্টারপিস। এধরণের মুভি সবসময় তৈরি হয়না. বাড়িয়ে বলছিনা এতটুকুও। মুভির ডিরেক্টর হলেন Richard Linklater.. বিফোর ট্রিলজি এর ডিরেক্টর। “বিফোর ট্রিলজি এর ডিরেক্টর” এই ফ্রেজ টাই তো একটা কমপ্লিমেন্ট, তাইনা ? তাই Boyhood নিয়ে প্রত্যাশা ও অনেক বেশি ছিল.. মুভি শেষ করে এখন সেফলি বলতে পারি যে মুভিটা আমার প্রত্যাশা কেও ছাড়িয়ে গেছে।
রিচার্ড লিংকলেটার ২০০২ সালে এই মুভির শুটিং শুরু করেন। ৬ বছর এর ম্যাসন ও তার পরিবার এর সদস্য দের জীবনের কাহিনী এর মুভি। এরপরের ১২ বছর জুড়ে এই ছবির শুটিং চলতে থাকে এবং ম্যাসন সহ বাকি ক্যারেক্টার গুলো চোখের সামনে পর্দায় বড় হতে থাকে। এই মুভিতে মসলা দায়ক কিছু নেই.. নেই সেরকম কোনো প্লট টুইস্ট ও। স্পয়লার দেওয়ার মতন তেমন কিছু নেই.. মুভির ডায়লগ অসাধারণ। পুরো মুভির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে অদ্ভুত এক নস্টালজিয়া। আমি এরকম কোনো কিছু আগে দেখিনি। ৪ ঘন্টা আগে দেখে শেষ করেছি, কিন্তু এখনো এক অদ্ভুত ভালো লাগা তে আচ্ছন্ন হয়ে আছে মন। আসলে এই অনুভূতি টা কি ভালো লাগা নাকি নস্টালজিক বিষণ্ণতা তা বুঝে উঠতে পারছিনা। রিচার্ড লিংকলেটার এর একটা আলাদা স্টাইল আছে.. সেই Slacker থেকে শুরু। Dazed and Confused.. এরপর বিফোর ট্রিলজি। কোহেরেন্ট ওয়েতে গল্প প্রেজেন্ট করা আমি কখনো লিংকলেটার এর মুভিতে খুজিনা। এটা খুজতে গেলে উনার স্টাইল এর মূল এসেন্স টাই নস্ট হয়ে যায়.. ডায়লগ বেজড মুভি এগুলো। গল্প, চিত্রনাট্য , সিনেমাটোগ্রাফি, ডায়লগ সহ সবকিছুকেই মুভির ইন্ডিপেন্ডেন্ট একটা পার্ট হিসেবে বিবেচনা করি। কমপ্লিট প্যাকেজ এর প্রত্যাশা কখনো করিনা। ওয়েস এন্ডারসন এর সিনেমাটোগ্রাফি এর টানেই ওর সব মুভি দেখি। লিংকলেটার এর এই সিগনেচার স্টাইল হলো ডায়লগ বেজড মুভি। অন্য সাধারণ সব মুভির মতন ফার্স্ট পেসড গল্প থাকলো কিনা এইটা নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি… বয়হুড সবার কাছে যে ভালো লাগবে সেই প্রত্যাশা ও আমি করিনা। প্রত্যেকের অপিনিয়ন এর প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তবে সিনেমার ইতিহাসে এই মুভি আলাদা একটা জায়গা নিয়ে নিবে এ নিয়ে আমার সন্দেহ নেই.. পিপল উইল কনসিডার ইট এজ এ কাল্ট ক্লাসিক ইন ফিউচার।

বয়হুড ২০১৪ সালের বেস্ট মুভি এতে কোনো সন্দেহ নেই.. তবে আমার কম্প্লিমেন্ট আরো বেশি। Boyhood এই দশকেরই অন্যতম সেরা একটা চলচ্চিত্র। মনে হচ্ছে বাড়িয়ে বলছি? নতুন বছরের শুরুতে মুভিটা দেখেই ফেলুন না..
রোটেন টমেটো : ৯৯% ফ্রেশ
IMDb : ৮.৪/১০
মেটাক্রিটিক: ১০০% ফ্রেশ ( Yes, you read it right. 100% fresh in meta-critic after 49 review ! One of the best rated movies in Meta-critic history )
আমার রেটিং : ৮.৮/১০

10897990_10200127367024378_3376720926452287686_n

Wild  (2014)

Wild Movie টার নাম ডাক তেমন একটা শুনিনি আগে.. গতকাল অস্কার নমিনেশন লিস্টে বেস্ট একট্রেস ক্যাটাগরি তেReese Witherspoon এই মুভির জন্য নমিনেশন পেয়েছে দেখে কি মনে করে যেন গুগল করি। সত্যি কথা বলতে কি , মুভি টা দেখার আগ্রহ জাগে মুভির পোস্টার দেখে। আমার খুব ফেভারিট মুভি Into the Wild এর সাথে কেন জানি একটা মিল পাচ্ছিলাম পোস্টার টার.. মনে হচ্ছিল এই মুভিটাও ওরকম হতে পারে। যাই হোক, মুভি দেখে এখন বলতেই পারি যে ধারণা মোটামুটি ঠিক ছিল। ওয়াইল্ড কে আমি Into the Wild এর স্পিরিচুয়াল সিকুয়েল বলবো। যদিও দুইটা মুভির মাঝে কোন যোগসূত্র নেই। এই মুভিটা বানানো হয়েছেCheryl Strayed এর লেখা Wild: From Lost to Found on the Pacific Crest Trail নামক একটা বই থেকে। বইটা লেখিকার জীবনের সত্যি একটা এডভেঞ্চার এর গল্প। এডভেঞ্চার বললে মনে হয় ভুল বলা হবে.. স্পিরিচুয়াল ফিজিকাল জার্নি বললেই মনে হয় ভালো শোনায়। শেরিল ও তার ভাই দুজনেই তার সিঙ্গেল মা র সাথে থাকতেন। তার মা র মৃত্যুর পর তার জীবন হয়ে উঠে বেপরোয়া। ড্রাগ এবিউজ করা শুরু করে সে.. সেই সাথে বেপরোয়া জীবন যাপন যার কারনে হাজবেন্ড এর সাথে তার ডিভোর্স ও হয়ে যায়.. অন্ধকার সেই জীবন থেকে বের হয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার লক্ষ্যে সে বেড়িয়ে পরে Pacific Crest Trailএ। সাথে শুধু একটা ব্যাকপ্যাক ! নেই ক্যাম্পিং এর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা। সামনে ১১০০ মাইলের লম্বা এক যাত্রা। মুভির গল্প এগিয়ে চলে এই লম্বা যাত্রা ও তার ফেলে আসা জীবনের ফ্ল্যাশব্যাক এর মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে।
মুভির ডিরেক্টর Jean-Marc Vallée কাজ এমনিতেই ভালো লাগে। স্পেশালী ডালাস বায়ার্স ক্লাব খুব ভালো লেগেছিল। এই মুভিতেও তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। সিনেমাটোগ্রাফি ছিল প্রশংসনীয়। ল্যান্ডস্কেপ এর ব্যবহার খুব সুন্দর ভাবে করেছেন তিনি। মিউজিক ও ছিল ভালো। Cheryl Strayed এর মাঝে বারবার কেন জানি Into The Wild এর Christopher Maccandless কে খুঁজে পাচ্ছিলাম। দুজনের ভবঘুরে জীবনের উদ্দেশ্য এর কোনো মিল না থাকলেও একটা জায়গায় গিয়ে তারা দুজনেই একই সুতোয় আটকা পরছিলেন। সেটা হলো প্রকৃতির খুব কাছে গিয়ে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার তাড়না। Christopher Maccandless এর জার্নি আমি যেভাবে উপভোগ করেছি , ঠিক সেভাবেই উপভোগ করেছি Cheryl Strayed এর এই এপিক জার্নি। তবে দুইটা জার্নি ই ভিন্ন একটা নোটে শেষ হয়.. সেই অনুভব করার জায়গাটা তেই এসে এই মুভি তার মুনশিয়ানা দেখিয়েছে। অসাধারণ অভিনয় করেছেন Reese Witherspoon.. জুলিয়ান মুরের স্টিল এলিস এখনো দেখিনি। তাই তুলনা করতে পারলাম না। তবে এতে সন্দেহ নেই যে এই পারফরমেন্স এর পর Reese Witherspoon এই বছরের অস্কার এর অন্যতম সেরা দাবিদার ছিলেন । মনে হয় অভিনেত্রী হিসেবে জীবনের সেরা কাজটাই করে ফেললেন তিনি।
রেটিং:
পঁচা টমেটো: ৯০% ফ্রেশ  

আমার রেটিং : ৮/১০         

10361514_10200194814510523_3940027117024691761_n

২,৩৯৪ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “যা দেখছি, যা ভাবছি ইদানিং”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    বহুদিন পর একটা মুভি ব্লগ পাওয়া গেল। একটাও কমন পড়েনি, মুভির সাথে অনেকদিন সম্পর্ক নেই। ইদানিং কালের অভ্যাস এর কারনে boourdain এর সিরিজটাই বেশি টানলো।

    ওয়াচলিস্টে রাখলাম সবগুলো।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।

:) :( :P :D :)) :(( =)) :clap: ;) B-) :-? :grr: :boss: :shy: x-( more »

ফেসবুক মন্তব্য