দত্তক

আমি অনেক ছোট । আমার বয়স তিন বছর। কিন্তু আমার মাথায় অনেক বুদ্ধি। আমরা থাকি শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি বহুতল ভবনের তিন তলায়। শহরে থাকলেও আমাদের পরিবার কিন্তু যৌথ পরিবার। সকালের আলো ফুটতেই কাজিনরা সবাই চলে আসে বড় হলরুমটাতে। বসে খেলাধুলা আর চিৎকার চেঁচামেচির আসর। রীতা খালামনিই আমাদের সবচেয়ে বেশী আদর করে। আমাদের খাইয়ে দেয়, ঘুম পাড়ায় আবার শাসনও করে। সারাটা দিন স্বপ্নের মধ্য দিয়ে কেটে যায়।

বিস্তারিত»

চাপা আবেগ: রূপকথা, সুড়সুড়ি, গণপিটুনি, সিরিয়াল কিলার এবং সেফুদা প্রসঙ্গ

কোন একটা সময় কোন ধরনের আবেগ তৈরী হলে সেটা সবসময় চায় প্রকাশ হতে। কিন্তু সেটাকে নানা কারণে প্রকাশ করা যায় না। হয়ত আবেগটা প্রকাশ করলে খুব কাছের মানুষটি কষ্ট পাবে , অথবা সেটা শুনলে সমাজের মানুষ ছি ছি করে চলে যাবে। মাঝে মাঝে হয়ত সেই আবেগের প্রকাশ যদি স্বৈরশাকদের বিরুদ্ধে হয় তাহলে জেল হাজত খাটা বা গুম হয়ে যাওয়াটাও বিচিত্র কিছু নয়।

তো যাই হোক চেপে রাখা এই আবেগুলো যখন থিতিয়ে পড়ে জমতে থাকে তখন একটা পর্যায়ে গিয়ে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে খুব কদাকার রূপে প্রকাশ পায় ।

বিস্তারিত»

নেহাত সাধারণ

কে‌টে গেছে দিন বকুল ত‌লে খে‌লে মার্বেল গু‌টি
স্কুল ফে‌লে ডাংগু‌লি পি‌টে অম‌নি হ‌য়ে‌ছে ছু‌টি,
ভা‌বি‌নি আকাশ ছু‌তে হ‌বে বা‌ড়ি‌য়ে হাত চা‌দে
মা‌টি‌তে ছিল দৌড়ঝাপ উঠি‌নি দালানের ছা‌দে।
‌ছিল দিন সাদামাঠা সকা‌লে সুরুজ রাত্রি‌তে চাদ
মাঠভরা ধান পুকু‌রের মাছ ব্যাঞ্জনে অমৃত স্বাদ,
নদী‌তে নে‌য়ে শি‌খে‌ছি সাতার গুলটি‌তে শিকার
মগডা‌লে উঠে আম পারা নাও বে‌য়ে নদী পাড়।

কাট‌লো দিন হে‌লে ফে‌লে এখ‌নো তেম‌নি বেভুল
হয়‌নি মাপ‌জোক শেখা জ্বী’ভর পা‌লি‌য়েছি ইস্কুল,

বিস্তারিত»

আমার ভুত দর্শন

দিন-তারিখ মনে নেই, সালটা ছিলো ২০০৩। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে আমাদের প্রায়ই এ জেলা থেকে সে জেলা করতে হতো। এটুকু বেশ মনে আছে, বাসাটার পাশে একটা প্রকান্ড হাসনাহেনা গাছ ছিলো। পূর্ণিমা-অমাবস্যায় বাসাটা ফুলের গন্ধে ম ম করতো।

 

বাবা ছিলেন সরকারী কলেজের অধ্যাপক। কলেজ থেকে অল্প দূরে একটা ভাড়া বাসায় উঠেছিলাম আমরা। একতলা ছোট বাসা, সাথে লাগোয়া উঠান, আর বাসার পেছনে আম-কাঁঠাল-মেহগণি গাছের জঙ্গল।

বিস্তারিত»

এ সময়ে সুনামগঞ্জ ভ্রমন

সুনামগঞ্জ কে এ সময়কার অন্যতম বিখ্যাত ট্যুরিস্ট স্পট বললে কম বলা হবে না।  অত্যন্ত সুন্দর এই জেলার টাংগুয়ার  হাওর এর কথা প্রায় সবাই জানি। এখনকার দিনে আমরা কম বেশি প্রায় সবাই অবসরে ঘুরতে যেতে চাই, না গেলেও জেনে রাখি ভবিষ্যৎ এর জন্য বাকেট লিস্ট।  এ কারনেই আজকের পোস্টটি দিচ্ছি।

আমার ঘোরাঘুরির শখ দিন দিন স্বভাবে পরিণত হচ্ছে। যদিও শত ব্যস্ততার কারণে বর্ষার সময় সিলেট এলাকা ঘুরার কোনভাবেই অবসর বের করতে পারলাম না।

বিস্তারিত»

স্থলবিমুখ জাহাজ

সাগরের বুকে ভাসমান সব জাহাজ
কখনো না কখনো পোতাশ্রয় খোঁজে,
রাতের আঁধারে গতিপথ সন্ধানে
সমুদ্রতটে বাতিঘর খোঁজে।

আমি এক স্থলবিমুখ জাহাজ,
আমি না খুঁজি কোন পোতাশ্রয়
না খুঁজি কোন বাতিঘর।
সাগরের প্রশস্ত বুক আমার সাকিন।

সম্মুখের অনন্ত জলরাশি আমায় ডাকে,
কখনো তরঙ্গে তরঙ্গে হয়ে উঠি উদ্বেলিত
কখনো নিস্তরঙ্গ মৌনতায় সাগর আমায়
স্থৈর্যের মন্ত্র দান করে দীক্ষিত করে তোলে।

বিস্তারিত»

দল নির্বাচনের সময় আমি কোন রিস্ক নিই না!

দল নির্বাচনের সময় আমি কোন রিস্ক নিই না। নিজের আসল অফিস থেকে সন্ধ্যাবেলা বিসিবি ফিরে দেখি কুজন, ফান্নু, জুমন, মোটকুরাম গল্প করছে। মাঝে মাঝে ওদের চাপা হাসির শব্দ ভেসে আসছে। আমি চট করে নিজের রুমে ঢুকে পড়লাম। রুমের দেয়ালের সামনে-পেছনে একে একে বঙ্গবন্ধু, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গ্রিনিজ, হোয়াটমোর, বার্লো, সাবের হোসেন…এরকম অনেকগুলো ছবির ফ্রেম। একটু লজ্জা লাগলেও চেয়ারে বসে ড্রয়ার থেকে লম্বাটে কাচের বোতলটা বের করে ডাইরেক্ট কয়েক চুমুক মেরে দিলাম।

বিস্তারিত»

আমি কেউ না

আমি কেউ না! তুমি কে?
তুমিও কি “কেউ না “?
বেশ, তা হলে আমরা
হয়ে গেলাম এক জোড়া।
হিস্…, একদম চুপ
কাউকে বলবে না।
ওরা আমাদের একদম
শেষ করে দিবে, জানো!

“কেউ” হয়ে ওঠা যে
কী বিষন্ন ব্যাপার!
প্রকাশ্যে কোলা ব্যাঙ
কেমন এক জীবন!
কাদা ভর্তি আত্মগরবী
জলাশয়ের সামনে
সারা বেলা সেই এক ঘেঁয়ে
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ!

বিস্তারিত»

চামারের গদ্য

চামারের বড় সুখ,
চামড়ার অভাব
নেইকো আর
গরু আর মানুষে
মিলেমিশে একাকার।
হলেও বা ক্ষতি কী?
সবকটা জানোয়ার।

ফেসবুক মন্তব্য

বিস্তারিত»

শাপে বর!

বয়সটাই এখন এমন যে বন্ধু মহলে ছোট-বড় অনেকেই আছেন। জীবনের একটি পর্যায়ে এসে বন্ধু হবার জন্য বয়স কোন ফ্যাক্টর হয় না, মনের মিলটাই আসল। এরকম একজন ঘনিষ্ঠ বড় ভাই/বন্ধু আছেন যিনি পেশায় ডাক্তার। ইএনটি স্পেশালিস্ট, মোটামুটি ভালই নামকরা। খুব বেশি ব্যস্ততা না থাকলে প্রায় প্রতিদিনই তার সাথে আড্ডা মারি। সুখ-দুঃখের গল্প করি।

তো সেদিন তিনি হঠাৎ বলে উঠলেন,

-ডাক্তার হবার সবচেয়ে খারাপ দিকটি কি জানো?

বিস্তারিত»

অনুকথনঃ একালের অনুধাবন

আমি “জনপ্রিয়তা” ভয় পাই। এর তীব্র প্রকাশ থাকলেও, তা আমার বিচারে নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী। বরং মানুষের “ভালবাসা”-য় সিক্ত হওয়া অনেক স্বস্তিদায়ক। “জনপ্রিয়তা” এবং “রাগ” দুটোরই প্রকাশ যে কেবল অনেক বেশি তীব্র বা তীক্ষ্ণ, তাই শুধু নয়, এদুটোই অতি প্রকাশ্যও বটে; তবে দুটোই ক্ষণস্থায়ী। এই মুহূর্তের জনপ্রিয়তা ঠিক পরের মুহূর্তেই পতন এবং অপমানের কারন হয়ে যেতে পারে। অপরপক্ষে “ভালবাসা” এবং “ঘৃণা” দুটোই নিরব; আমার অনুধাবনে এদুটো কখনোই তেমন প্রকাশ্য নয়।

বিস্তারিত»

২১ আগষ্টের রায়, ব্যক্তিস্মৃতি আর টুকরো রাজনীতি ভাবনা

২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসির দন্ডাদেশ পাওয়া আব্দুস সালাম পিন্টু আমাদের টাঙ্গাইলের মানুষ। উনার পরিবারের সাথে একটা ফানি পারিবারিক সম্পর্ক হয়েছিলো আমাদের। সর্বশেষ যে বাসায় আমরা ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলাম সেই বাসায় আমাদের ঠিক আগেই ভাড়া থাকতেন উনারা। তো সেই জেনারেল এরশাদের সময়ে মোবাইল তো দূরে থাকুক ফোনেরও এত বিস্তৃতি ছিলোনা। ফলে রাজনীতিক পিন্টু”ভাই” যে বাসা বদলে ফেলেছেন তা তার দলের অনেকেই জানতে পারেননি। ফলে উনার সাথে দেখা করতে অনেক মানুষকে আসতে দেখেছি বাসায়।

বিস্তারিত»

একটা শব্দ….

কল আসল নাকি এলার্ম বাজল।

ঘুমটা ভাঙ্গার পর এই প্রশ্নটাই প্রথমে মাথায় এলো।

এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার রেকর্ড খুবই কম। অনেক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে গেছে এর মধ্যে। একবার ফোন অনেক দূরে রেখেছিলাম। হয়ত এলার্ম বন্ধ করার জন্য বিছানা থেকে উঠা লাগবে। এতেও যদি একটু ঘুমটা ভাঙ্গে। কিন্তু বিধিবাম! সাউন্ডই শুনতে পেলামনা। অন্যান্য দিনের চেয়েও দেরীতে উঠতে হয়েছে সেদিন।

আরেকবার ফোনটাকে সাউন্ডবক্সের সাথে কানেক্ট করে ঘুমালাম।

বিস্তারিত»

কতিপয় কথার কোলাজ

রজনীগন্ধার ঘ্রাণ

রজনীগন্ধা নিয়ে মাতম ছিলো একদা। আমাদের কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাগানের দু’ধারে ফুটে থাকতো সারিসারি রজনীগন্ধা। বাজারি রজনীগন্ধার সাথে এই রজনীগন্ধার তফাত ছিলো বেশ। মূলত এর গন্ধ আচ্ছন্ন করে রাখতো আমাকে। আধাসামরিক আবাসিক বিদ্যাপিঠে বিবিধ নিয়মের ভেতরে ছিল আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা। একটু সিনিয়র হবার পর প্রায়ই রাতের ডিনার শেষে রজনীগন্ধার গন্ধযুক্ত হাসপাতালের পথে হাঁটতাম। শরতের রাতে আকাশে যখন ঝুলে থাকতো শারদীয় জোছনা,

বিস্তারিত»

চলে গেলো রুশো

“সার্ভিং দ্য হিউম্যানিটি”, সংক্ষেপে এসটিএইচ (“Serving the Humanity- STH”) নামের একটি ছোট্ট সংগঠন গঠিত হয়েছিল আজ থেকে ৭/৮ বছর আগে। প্রথম প্রথম একটু অগোছালো ভাবেই কাজ শুরু হয়েছিল, পরে স্থপতি জগলুল এর গুলশানের অফিসে বসে একটা আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী নিয়ে একটা প্রাথমিক রূপরেখা তৈরী করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কিছু উপকারে আসা এবং এ লক্ষ্যে যার যার সাধ্যমত অবদান রাখা।

বিস্তারিত»