ক্যাডেট ডায়েরী ( ১৯৯৬ )—- ২

পূর্ব পাতা
মার্চঃ ২৪
ওফফ আজ ক্যাডেট কলেজের ভাইভা পরীক্ষা ছিল। একটা অবশ্য মজা হয় ক্যাডেট কলেজের এই পরীক্ষাগুলার দিন। বেশ পিকনিক পিকনিক ভাব হয়। আমার পরীক্ষা ছিল শহীদ রমিজউদ্দীন স্কুলে। ক্যান্টনমেন্ট এর স্কুল গুলা কেমন যেন। কখনো আমি এর আগে ক্যান্টনমেন্ট এ যাইনাই ক্যাডেট কলেজের পরীক্ষা দেওয়ার আগে। আজ অবশ্য আমার বেশ টেনশন হচ্ছিল। কারণ আব্বুর সামনে ভাইভা প্র্যাকটিস করা ছাড়া আমি আসলে আর কিছুই করিনাই।

বিস্তারিত»

ঘটনা, নাকি দূর্ঘটনা

১.
ছোটবেলায় অন্যান্য সব পিচচি পোলাদের মত আমারও কিউরিসিটির সীমা-পরিসীমা ছিল না। বাপের পোষ্টিং তখন রাজশাহীতে। প্রতিদিন গোয়ালা এসে দুধ দিয়ে যায়, কিন্তু এই দুধ কোথায় থেকে আসে তা জানার আসীম আগ্রহ আমার। মাকে জিজ্ঞেস করলে বলে, গরু দুধ দেয়। তাও আমার প্রশ্ন গরু দুধ কোথায় থেকে দেয়, এবার মা বলে পেট থেকে দেয়। কিন্তু তাও পরিষ্কার হয় না আমার কাছে ব্যাপারটা। আমরা থাকতাম নিচতলাতে।

বিস্তারিত»

বৃষ্টি ভেজা রাতের কথা

(কেউ দেখি নতুন লেখা দেয়না। এই চামে আমি পুরান একটা লেখা ছাইড়া দিলাম। ক্লাস নাইন বা টেন এ লেখা। ঠিক মনে নাই। )

সেদিন বৃষ্টি ভেজা রাত ছিলো,
হিম হিম হিম শীতল বাতাস
সারা গায়ে কাঁপন তুলে
আলতো ছোঁয়ায় ডাকছিলো।

আধখানা চাঁদ ধীরে ধীরে
আদর মাখা রাত্রি ছিড়ে
চুপটি করে হাসছিলো;
রাতের আঁধার গলে গলে
জানলা ছেড়ে যাবার ছলে
দৃষ্টিসীমার দুয়ার থেকে
পেছন ফিরে চাচ্ছিলো;

বিস্তারিত»

এই দূর পরবাসে ……

খুব মন খারাপ। বিছানায় পড়ে থাকা আমার মত নিঃসঙ্গ সেল ফোন টায় সেই প্রিয় নাম্বার টা ডায়াল করলাম। হয়তো শুনতে পাব প্রিয় একটি কন্ঠস্বর। রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ ফোন ধরছে না। অনেকক্ষন রিং হল। একবার মনে হল ফোন না ধরলেই ভাল। হয়তো কোন খারাপ খবর শুনে মনটা আরও খারাপ হবে। কারন আজকাল দেশ থেকে শুধু খারাপ খবর আসে। তেলের দাম আরও বাড়ছে, এখন প্রতিদিন ৮ ঘন্টা লোডশেডীং হয়,

বিস্তারিত»

বস্ত্রহরণের গল্প

(আমার আমেরিকা-প্রবাসী বন্ধু শাহেদ। গত লেখায় সে মন্তব্য করেছিলো, আমার “ভালো” লেখা পড়তে পড়তে সে খুব “বোর” হয়ে গেছে, তাই এই “খারাপ লেখা”টি ওর-জন্যে উত্সর্গ করলাম।)

ক্যাডেটে ভর্তির লিখিত পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিতভাবে চান্স পেয়ে যাই আমি। এরপর শুরু হয় ভাইভার প্রস্তুতি, সাথে থাকে প্রতি রাতে ঘুমাতে যাবার সময় দু’পায়ের মাঝে একটা বালিশ। ‘সাবধান’ পজিশনে আমার দুই হাঁটুতে গ্যাপ হতোনা, সেজন্যে এই বাড়তি কসরত। O:-)
ওদিকে মিরপুর ক্যাডেট কোচিংয়ে যেতাম ভাইভার প্র্যাক্টিস ক্লাস করতে।

বিস্তারিত»

আমার প্রথম পোস্ট

ক্যাডেট কলেজ ব্লগে সবার পোস্ট পড়তে অনেক ভাল লাগে। আমি মাসখানেক আগে এই ব্লগে জয়েন করেছি। লিখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু লিখার কোন টপিক পাচ্ছিলাম না। তাই আজকে আপনাদের, তোমাদের ও তোদের সবার জন্য ২ টা ভিডিও দিলাম। আমাদের রংপুর ক্যাডেট কলেজের ১৯তম ইনটেকের (১৯৯৩-১৯৯৯) ১৪ বছর এবং ১৫ বছর পুর্তি উপলক্ষে ভিডিও ২ তা বানানো হয়েছিল। আমাদের ইনটেক হয়েছিল ২০ মে ১৯৯৩। তাই ভিডিও ২টা যথাক্রমে ২০ মে ২০০৭ এবং ২০ মে ২০০৮ এ রিলিজ করা হয়।

বিস্তারিত»

সদস্য ডিরেক্টরী প্রসঙ্গে

“ক্যাডেট কলেজ ব্লগ” এর সম্মানিত সদস্যগণ এবং এর পাঠকদের সুবিধার্থে ব্লগের বর্তমান সদস্যদের নিয়ে একটি ডিরেক্টরী তৈরী করা হয়েছে যা আলাদা পৃষ্ঠা হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে “সদস্য ডিরেক্টরী” নামে।

দেখা গেছে ব্লগের নতুন এবং পুরোনো অনেক সদস্যই নিজ নিজ প্রোফাইলের তথ্যগুলো সঠিক ভাবে পূরণ করেননি কিংবা এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে।

এজন্য ব্লগের সকল সদস্যকে নিজ নিজ প্রোফাইল তথ্যগুলো সঠিকভাবে বাংলায় লিপিবদ্ধ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।

বিস্তারিত»

কোথায় পাবো তাদের-৫

।১।

আমদের সময়ে কোরান তেলওয়াত প্রতিযোগিতা বলে একটা জিনিস ছিল। এর দায়িত্বে থাকতেন ইসলামিয়াতের আব্দুর রব স্যার। কলেজে যতো প্রতিযোগিতা ছিল এর মধ্যে এটাই সবচেয়ে বোরিং টাইপ। এমনিতেই মসজিদ খুব গুরুগম্ভীর জায়গা। খুব বেশি ফাজলামি দুষ্টামি করার সুযোগ নাই। তার উপর কোরান তেলাওয়াত। কয়েক ঘন্টা চুপ চাপ বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নাই।
সেবারও একই ঘটনা। একজন একজন করে তেলাওয়াত করছে আর বাকিরা সবাই ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সেটা শুনে যাচ্ছে।

বিস্তারিত»

বিদ্যুৎ চলে যাবার কূফল

আমাদের কলেজে তখন সবেমাত্র জেনারেটর লাগানো হয়েছে। নাইট প্রেপের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে ১-২ মিনিট পর জেনারেটর চালু করা হতো। একদিন প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবেই কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে গেল। আমাদের তখন কেবলমাত্র বদঅভ্যাস হয়েছে যে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া মাত্র এলোপাথাড়ি এ ওকে চড় থাপ্পর দেয়া (হারিকেনের যুগে এই সুযোগটা ছিলনা যা আমরা খুব মিস্ করেছি)। সেদিনও যথারীতি বিদ্যুৎ চলে যাবার সাথে সাথেই কে কতটুকু সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারে সেই প্রতিযোগিতায় নেমে গেল।

বিস্তারিত»

ক্যাডেট ডায়েরী ( ১৯৯৬ )—- ১

শুরুর আগে
ক্যাডেট কলেজে থাকতে ডায়েরী লেখার অভ্যাস ছিল আমার। আবার সেই সাথে একটা বদভ্যাস ও ছিল বেশ কিছু দিন চলে গেলে সেই গুলা পড়ে নিজেরই লজ্জা লাগত তাই সেটা আবার ছিড়ে ফেলে দেওয়া। এই সিসিবি আসার পর থেকে আমি সেই ডায়েরী গুলাকে খুব খুবই মিস করছি। তাই পুরান ডায়েরীর আদলে পুরান ঘটনাগুলা নতুন করে লেখার চেষ্টা করছি। যেহেতু এটা পুনঃলিখন তাই দিন তারিখ না মিলার সম্ভাবনাই ৯৯%।

বিস্তারিত»

ছুটি, ক্যালেন্ডার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হবার আগে বাসার বাইরে ভাল করে বলতে গেলে আম্মুকে ছেড়ে কখনোই থাকিনি। একবার মনে আছে নানাবাড়িতে আমাকে এক খালার কাছে রেখে আম্মু আরেক খালার বাড়ি গিয়েছিল ২ দিনের জন্য। সেই দুদিন নিজেকে খুবই বেচারা বেচারা মনে হয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই আমি মা ন্যাওটা। সবসময় মায়ের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করি। তাই ক্যাডেট কলেজে গিয়ে আমার প্রথম রাত থেকেই দিন গুনা শুরু হয়েছিল। প্রতিদিন ক্লাসে স্যারদের লেকচার শুনতে শুনতে আমি আমার খাতায় ক্যালেন্ডার বানিয়ে ফেলতাম।

বিস্তারিত»

বৃষ্টির সাথে ভালোবাসা …

সকাল থেকে অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজছে মানুষ, গাছপালা, ব্যালকনি, রাস্তা, সবকিছু। এই অঝোর বৃষ্টিতে, মন খারাপ করা স্যাঁতস্যাতে সকালে বারান্ধায় দাঁড়ালাম। বৃষ্টির একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্যে। বৃষ্টি দেখতে দেখতে আনমনা হয়ে গেলাম। দূর পাহাড়ে রিমঝিম বৃষ্টির শব্দ শুনছিলাম অনেকক্ষন। হঠাৎ চমকে উঠলাম অনেক পরিচিত ভেজা হাওয়ার স্পর্শে। মন চলে গেল সেই সব দিনগুলিতে। অনেক দিনের পরিচিত সেই দিনগুলিতে। বৃষ্টিকে উপভোগ করার দিনে, বৃষ্টিকে ভালোবাসার দিনে।

বিস্তারিত»

ছুটি শেষে অভ্যর্থনা

কলেজ গেটে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দারুণ সব উপকরণ হাজির থাকত। কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা নিতেন আর কি। সেগুলো আবার একটার চাইতে আরেকটা কয়েক কাঠি করে বেশি সরেস!

দুলাল ভাই (ও তার দল) এর কাঁচির নিচে ২২/ ২৩ দিনের সযত্ন লালিত মাথাভর্তি চুলের বিসর্জন দিয়ে শুরু হত সেই অভ্যর্থনা পর্ব। করুণ চোখে তাকিয়ে দেখতাম আমার আগের জনের পায়ের কাছে কি নির্দয়ভাবেই না থোকা থোকা চুলগুলো লুটিয়ে পড়ছে।

বিস্তারিত»

কোথায় পাবো তাদের-৪

১.
বাংলার শাহজাহান আলী স্যার কে আমরা খুব পছন্দ করতাম কারণ স্যার দারুণ পড়াতেন। আমার এখনো মনে আছে রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’ গল্পে ফটিক যখন মারা যাওয়ার আগে বলে ‘এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি….’ এইটুকু পড়াতে পড়াতে স্যার আমাদের সামনে হু হু করে কেঁদে ফেললেন। স্যারের কান্না দেখে আমরাও চোখের পানি আটকাতে পারিনি।

এই শাহজাহান স্যারই প্রেপ টাইমে কেমন যেন পাগল হয়ে যেতেন।

বিস্তারিত»