বৃষ্টি এবং ফুটবল এর গল্প

কালকে রাত এ অফিস এর কিছু প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করছিলাম। কাজ করতে করতে কখন যে রাত পার হয়ে ভোর হয়ে গেছে টের পাই নাই। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি ভোরের আলো এবং বৃষ্টি। বৃষ্টি দেখেই মনে পড়ে গেলো কলেজ এর সকাল এর কথা । প্রতিদিন পিটি এর সময় চিন্তা করতাম বৃষ্টি নামে না কেনো? ইস , একটু বৃষ্টি নামলেই ত সবাই দোয়া করতাম আরেকটু জোরে নামতো যদি।

বিস্তারিত»

আমার বন্ধুয়া বিহনে

ক্লাস নাইনে একবার আমার খুব জ্বর হলো। রাত ২ টার দিকে ঘুম ভেঙে গেলো। টের পেলাম জ্বরে সারা শরীর পুড়ে যাচ্ছে। আমি উঁহু, আহা করছি।
পাশের বেডে থাকতো মাসুদ। আমার গোঙানি শুনে ও ঘুম থেকে উঠল। বিছানা থেকে নেমে এসে আমার কপালে হাত রাখল।
-তোর তো অনেক জ্বর। চল হাসপাতালে নিয়ে যাই।
-এখন এতদূর হেঁটে যেতে পারবো না। একটু কমুক, সকাল বেলায় যাব।

বিস্তারিত»

জাহেল,আনপড়াহ……

আমাদের ইসলামিয়াতের টিচার আনিস স্যার। সদ্যই ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করেছেন। প্রথম ক্লাস নিতে এসেছেন আমাদের ক্লাসে। স্যার পড়াতে পড়াতে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যান। স্যার পড়াচ্ছিলেন জিহাদ নিয়ে । “জিহাদ হলো রিপুর সাথে। জিহাদ হলো নিজের নফসের সাথে। (স্যার অলরেডি জিহাদী জোসে উত্তেজিত ও বলার সাথে সাথে নিজের বুকে দুম দুম করে কিল দিতে থাকলেন) “জিহাদ ইন মাই চেস্ট ( দুম করে বুকে কিল) , জিহাদ ইন মাই মাইন্ড (আবার বুকে কিল) “।

বিস্তারিত»

চৌইদ্দ জন ক্যাডেট নিখোঁজ হওয়ার কাহিনী

আবারও সেই সি এইচ এম এর কাহিণী। ক্লাস ইলেভেন এর এক্সকারসন এ আমরা সবাই যখন আনন্দে আত্মহারা,এক রাতে চৌইদ্দজন ক্যাডেট এর নিখোঁজ হওয়ার আচমকা এক সংবাদ ফর্ম মাস্টার,এডজুট্যান্ট,প্রিন্সিপাল,স্টাফ সবার রাতের ঘুমই শুধু কেড়ে নিলনা, জনৈক ফর্ম মাস্টারের বুড়ো বয়সে হানিমুন পালনকে ঘোর অমাবস্যার অন্ধকারে ডুবিয়ে দিলো।

তিন মাসের লম্বা ছুটি শেষ করে আসার পর এক একটি মস্তিস্ক তখন শয়তানের শিল্প কারখানা। কক্সবাজারে বার্মিজ মার্কেট এ রাখাইন কন্যা ভিও,

বিস্তারিত»

গরু, তোমরা সব গরু

“বেহেশতের দারোয়ানকে একটা রাঙামাটির তরমুজ দিও। তাহলে ওখানে সহজে ঢুকতে পারবে।” ভুগোল পড়াতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন সম্পদের গুণমাণ বোঝাতে এমনটাই বলেছিলেন আমাদের শিক্ষক অধ্যাপক এম এ কাশেম।

গত শনিবার হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অপারেশন টেবিল থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি। শুধু ক্যাডেট কলেজেই ৩৪ বছর। ১৯৫৮ থেকে ১৯৯২ সাল। এর মধ্যে অল্প সময়ের জন্য বরিশাল ও কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজে গিয়েছিলেন।

বিস্তারিত»

মকবুল বুড়োর গ্রামে

খুব ভোরে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। ফযরের আযান কানে এলো। নামাযটা পড়ে ভাবলাম যাই গ্রামটা একটু ঘুরেই আসি,কাল রাতেই বেড়াতে এসেছি এইগ্রামে। বাইরে এখনো অন্ধকার কাটেনি,আবছা আলোতে চারপাশ কেমন যেন রহস্যময় লাগছে। হাঁটতে হাঁটতেই বড় দীঘিটার পাশে চলে এলাম।
কি সুন্দর শাপলা ফুটে আছে দেখেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। হঠাত একটা শব্দ কানে এলো,কারা যেন কথা বলছে,অন্ধকারে ভয় পেয়ে গাছের আড়ালে দাঁড়ালাম। তাকিয়ে দেখি দুজন নারীপুরুষ হাত ধরাধরি করে হাটছে,আর হাসাহাসি করছে,মেয়েটার হাত ভরতি শাপলা।

বিস্তারিত»

আমার আপুসোনা-২ (এক স্বপ্নের সকাল)

(এক স্বপ্নের সকাল)
********************

-তপুউউউউ , উঠলি তুই?
-উমমম…
-এই নিয়ে আমি ১০ বার ডাকলাম । উঠ।
-হুমম এইতো আপু আর একটু।
-নাহ আর একটুও না। তোর না আজ ক্লাস আছে।
-আরে আপু কি কর , বালিশ সরাও কেন। উঠতেছি তো।
উফফ কি যে সমস্যা। এই বৃষ্টির সকালে কি আর কোথাও যেতে ভাল লাগে। আজকে ক্লাস আছে কিন্তু এর থেকে এই বৃষ্টিতে ঘরে বসে ১১টা পর্যন্ত ঘুমানোর উপরে কিছু কি আছে?

বিস্তারিত»

গোবর থেরাপি

আমাদের এক ক্লাসমেটের গালে খুব ব্রণ ছিল।ও একদিন জানতে পারল যে যদি মুখে সদ্য ত্যাগ করা গোবর মেখে ৩ ঘন্টা রাখা যায় তবে সে এই ব্রন হতে মুক্তি পাবে। কি আর করা সে তার ঘনিষঠ একজনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ১২ টার সময় কলেজ ডাইনিং এর পিছনে বাঁধা গরুর লেজের কাছে অপেক্ষা করতে লাগল…এর মাঝে ও কিছু ঘাস ও দিল গরুটা কে যাতে করে একটু তাড়াতাড়ি করে।

বিস্তারিত»

প্যারেড গ্রাউন্ডে স্টাফ প্রদত্ত কতিপয় ডায়ালগঃ(নিজ সতর্কতায় পড়ুন)

(ক্যাডেট কলেজের ৬ বছরে কিম্ভুতকিমাকার বহু স্টাফের সাথে আমার বেশ ‘দহরম মহরম’ ছিল।এছাড়া আমি প্রায় ৩ মাসের মত বি এম এ ছিলাম-সেখানেও কতিপয় স্টাফ ছিলেন যাদের কিছু উক্তি এখনও হাসির খোরাক যোগায়।আর কথা না বাড়িয়ে সেগুলো কিছু তুলে দিচ্ছিঃ)

১। তাহসিন সাহেব আপনার তালব্য শ কি বেশি বড় হয়ে গেছে?ঠিক মত পা তুলেন না কেন?

২।কি শাহেদ সাহেব,হাসি কিসের?বাসর রাইতের হাসি এইখানে কেন?

বিস্তারিত»

আমার (ক্যাডেট) জীবনের প্রথম চুরির ঘটনা

তখন ক্লাস ৮ এ পড়ি। প্লান করলাম লিচু চুরি করব। মূল দল এ আছি আমি,আসাদ আর কুত্তা(ছদ্দ নাম কারন ও কুত্তার মত ডাকতে পারত)ওর কাজ ছিল পাহারা দেওয়া।
ওকে দিয়েছি ক্যান্টিনের কোনায়। রাত ৩ টা। আসাদ এসে আমাকে ঘুম থেকে ওঠায়। সবার পরনে ছিল কাল প্যান্ট,খাকী পুল ওভার আর পিটি সু,প্রথমেই ঘাপলা,বৃষ্টি পড়ছে,একবার মনে হলো প্লান বদল করি।
পরে সবার মত দিল না ।

বিস্তারিত»

আমার আপুসোনা-১

[ডিসক্লেমার – সবাই এখন ক্যাডেট কলেজের স্মৃতিচারণ করছে। আমার ও অনেক কিছু লেখার ছিল কিন্তু অনেকদিন ধরে বেশ ব্যস্ত সময় পার করাতে একটু লেখার সাথে কোন সম্পর্ক নাই। তাই একটা অফটপিক পুরান লেখা দিয়ে দিলাম। কেউ মাইন্ড খাইয়েন না। আগে আমাদের এখানে চাটনি হিসাবে কিছু লেখা দিত তারেক(কনফুসিয়াস) ভাই। উনি বহুদিন চাটনি দেয়া বন্ধ করে দিছেন। আমার এই লেখা তাই সবাই চাটনি হিসাবে নেন। ওহহ এখন এত ভাল ভাল লেখক আমি লেখালেখি করি এইটা বলতে নিজেরই লজ্জা লাগছে।

বিস্তারিত»

গভীর রাতে কয়েক কিশোরের অ্যাডভেঞ্চার

তখন ছিল গভীর রাত। শীতকালে রাত ১২টা মানেই অনেক। পেছনে পাহাড় আর সামনে বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে সবুজের এক সমতলে ইট-কাঠ মাঝে নিয়ে গাছগাছালির ১৮৫ একরের বিশাল ক্যাম্পাসে সবাই ঘুমিয়ে। নাইট গার্ড কয়েকজন লাঠি নিয়ে ক্যাম্পাস পাহারা দিচ্ছে। আর একটু পরপর হুইসেল বাঁজিয়ে তাদের চলছে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ। সময়টা ১৯৮০ সাল।

এমন সময় ডাইনিং হলের পেছনে একে একে এসে জড়ো হলো আট-দশজন কিশোর। সবার বয়স ১৭-১৮ হবে।

বিস্তারিত»

আজকে রেজাল্ট ছিলো

আজকে এস.এস.সির রেজাল্ট দিয়েছে। প্রতিবছর এইদিনটাতে আমি অতি উদ্বিগ্ন মুখ নিয়ে টিভির সামনে বসে থাকি, বেশির ভাগ সময়ই আমার আত্মীয় স্বজন কেউ থাকে না পরীক্ষার্থীর মাঝে, থাকে এমজিসিসির কয়েকজন বাচ্চা পুলাপাইন।
এবার এমজিসিসির সবাই জিপিএ ফাইভ, সব্বাই।
চোখে পানি চলে আসলো। একদম ঝরঝর করে পানি চলে আসলো।
টিভিতে দেখা গেলো কয়েকটা মেয়ে ইয়েল দিচ্ছে, চেনা মুখ পেলাম না কোন, কি আশ্চর্য! বেশি দিন তো হয়নি কলেজ ছেড়ে আসছি!

বিস্তারিত»

ক্যাডেট জীবন : বন্দীত্ব না মুক্তি

লেখাটা লিখেছিলাম আমাদের ব্যাচের ব্লগসাইট www.ccr19.com এ আমাদের ক্যাডেট কলেজে ভর্তির 14 তম বার্ষিকী উপলক্ষে । বাইরের সবাই ভাবে ক্যাডেট কলেজ বুঝি একটা জেলখানা । ক্যাডেট কলেজে থাকার সময় আমারও এমনই ধারনা ছিল। কিন্তু যখন কলেজ থেকে বের হলাম দেখলাম আসলে ক্যাডেট কলেজেই বেশি উপভোগ করেছি সময়টা। নিয়মের মধ্যে থেকেও যেন অন্যরকম স্বাধীন ছিলাম। আমার কবিতাটা এ উপলদ্ধি থেকেই লেখা। আপনাদের মতামত জানতে পেলে খুশি হবো।

বিস্তারিত»

এরশাদকে কালো পতাকা দেখিয়েছিল কিছু তরুণ

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে যখন খুনি চক্র সপরিবারে হত্যা করে তখন আমার বয়স মাত্র ১৪। অষ্টম শ্রেনীতে পড়ি। একে তো ওই ঘটনার তাৎপর্য বোঝার বয়স তখন ছিল না; দ্বিতীয়ত, ক্যাডেট কলেজের মতো সেমি কারাগারে রাজনীতিটা একরকম নিষিদ্ধ বস্তু। মনে পড়ে, ক্লাস কক্ষে একজন শিক্ষক এসে আমাদের বঙ্গবন্ধু হত্যার তথ্যটি জানিয়েছিলেন। ব্যাস ওইটুকুই।

১৯৮১ সালে যখন চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমানতে হত্যা করা হয়, তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ি।

বিস্তারিত»