নিজেকে ভালবাসা

নিজেকে ভাল না বাসলে অন্যকে ভালবাসাও কঠিন হয়ে যায়।
আবার অন্যের কাছ থেকে ভালবাসা পাবার প্রথম ধাপও হলো: “নিজেকে ভালবাসা”
নিজেকে ভালবাসতে থাকুন, একটা সময় সবাই আপনাকে ভালবাসবে। এবং আপনিও ভালবাসতে শিখে যাবেন……

কেন নিজেকে ভালবাসবেন?
১) কেউ যখন নিজেকে ভালবাসে তার সব কর্মকান্ডেই সেটার এমন একটা ছাপ পড়ে যা তাঁকে অন্যের কাছে ভালবাসার উপযুক্ত একজন হিসাবে চিহ্নিত করে। লক্ষ করবেন, যাদেরকে আপনার কাছে পছন্দনীয় বলে মনে হচ্ছে, তাঁদের বেশির ভাগই নিজের প্রতি কেয়ারিং। একজন উরাধুরা মানুষকে আর দশজনের চেয়ে কম পছন্দ হবারই কথা। তাই নিজেকে ভালবাসলে সাথে সাথে আপনি এই বার্তাও দিচ্ছেন, যে আপনি ভালবাসতে সক্ষম মানুষ। এজন্যই যারা নিজেকে ভালবাসে, তাঁদের ভালবাসা পাওয়ার সম্ভবনাটাও অনেক বেড়ে যায়…
২) নিজেকে ভালবাসাটা একজনকে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হবার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। আপনি শারীরিক ভাবে ভাল থাকাটাকে শুধু একটা দায়িত্ব বলেই ভাবতে পারবেন না, বরং দেখবেন, এই ভাল থাকাটা নিজের জন্য কতটা উপভোগ্য একটা ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আর এরমধ্য দিয়ে আপনি অন্যদের চেয়ে সপ্রতিভতায় অনেক এগিয়ে থাকছেন…
৩) যতই নিজের আধ্যাত্বিক উন্নয়ন চান না কেন, নিজেকে ভাল না বেসে সেটা অর্জন করা সম্ভব না। আধ্যাত্বিক বা আত্মিকভাবে নিজেকে মেলে ধরার জন্য নিজেকে ভালবাসার কোনো বিকল্প নাই…
৪) নিজেকে ভালবাসার মধ্য দিয়ে সবক্ষেত্রে নিজেকে এগিয়ে নেয়ার, তুলে ধরার প্রবনতাটা অর্জন করা সম্ভব। আপনাকে আরও “অনেক কিছু করতে হবে”, “অনেকটা পথ পেরুতে হবে”, – এই কথাগুলো তখনই অর্থপুর্ন হবে, যখন আপনি জানবেন এগুলো আপনাকে এমন রকমের খুশি করবে যা আপনি হতে চান…
৫) নিজেকে ভালবাসার মধ্য দিয়ে আপনি নিজের জন্য এমন একজন সারবক্ষনিক সঙ্গি পাবেন যে আপনাকে সারাক্ষনই উৎসাহ দিয়ে যাবে আপনার প্রতিটা কর্মকান্ডে। উৎসাহ পাবার জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীলতায় সংশয় থাকে কিন্তু নিজের উপর নির্ভর করলে সেই সংশয় আর কখনোই থাকে না…
৬) স্বাস্থ্য সম্মত কোন কোন কাজ করবেন অথবা অস্বাস্থ্যকর কোনো কোনো কাজ ছাড়বেন – যত কঠিনই হোক, এই সিদ্ধান্তগুলো নেয়া তখনই সহজ হয়ে যাবে, যখন, আপনি নিজের প্রতি ভালবাসা অনুভব করে সেই সিদ্ধান্তগুলো নেবেন…
৭) আপনি মোটা না চিকন, কালো না সাদা, লম্বা না খাটো – এসবই আপনার নিজের কাছে আর গুরুত্বপুর্ন কিছু বলে মনে হবে না, যখন আপনি নিজেই নিজেকে ভালবাসা শুরু করবেন। আপনি জানবেন, আপনি যা, তাই নিয়ে যখন নিজেকে ভালবাসতে পারছেন, অন্য কেউ না কেউ আছেই যে আপনাকেও এইভাবে ভালবাসবেন। আপনি যেমনই হন না কেন, নিজেকে ভালবাসার মধ্য দিয়ে আপনার নিজের ইমেজ নিজের কাছে হয়ে উঠবে অনন্য…
৮) নিজেকে ভালবাসার কারনে আপনার মধ্যে যে সুখিভাব, শান্তিময়তা, স্নিগ্ধতা, কমনিয়তা, সুস্থতা বিরাজ করবে তা আপনাকে অন্যদের চেয়ে অনেক তারুন্যময় করে তুলবে। আপনাকে নিয়ে অন্য কারো কোনো অভিযোগ যেমন আপনার কাছে অর্থহীন মনে হবে, অন্যদের নিয়েও আপনার কোনো অভিযোগ থাকবে না। দেখবেন, কারো দুর্বলতার সাতেপাচে থাকছেন না বলে দিনে দিনে সবার কাছে কত বেশী গ্রহনযোগ্যতা তৈরী হয়েছে আপনার…
৯) নিজেকে ভালবাসলে দেখবেন আপনাকে নিয়ে অন্যদের ঝামেলাগুলো আর আপনাকে স্পর্শ করছে না। তাঁদেরকে বাদ দিয়েও চমৎকার সময় কাটানোর পথ আপনি পেয়ে গেছেন। যারা যারা আপনার শান্তির জন্য হুমকি, নিজেকে ভালবেসলে আপনি তাঁদেরকে নির্দ্বিধায় উপেক্ষা করতে ও তাঁর মধ্য দিয়ে সুখি হতে পারবেন…
১০) নিজেকে ভালবাসলে যা যা করছেন তা করতে পারবেন নিজের মনের আনন্দে, অন্যকে খুশি করার জন্য না।
অন্যকে খুশি করার কোনো শেষ নাই। আর তা করে শেষ করা যায় না। বরং একটা উৎকণ্ঠা কাজ করেই যে, “যথেষ্ট করলাম তো?”
কিন্তু যখনই আপনি নিজেকে খুশি করার জন্য কিছু করবেন, তা হবে ঐ উৎকণ্ঠা মুক্ত। আর এজন্য অনেক বেশী বেশী এমন সব কাজ করতে পারবেন, যা দিনের শেষে অন্যদের প্রত্যাশা পুরন তো করবেই আপনাকেও পরিপূর্নতা এনে দেবে।

মনে রাখবেন, নিজেকে ভালবেসে যত সহজে নিজের ও অন্যের ভাল করা সম্ভব, অন্যের ভালবাসার উপলক্ষ হওয়া সম্ভব তা অন্য কোনো ভাবেই সম্ভব না।
তাই অন্যের ভালবাসা পাবার চেষ্টা না করে নিজেকে ভালবাসুন।
এবং তাঁর মধ্য দিয়ে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটান।
এতে নিজে ভালো তো থাকবেনই, একটা সময় অন্যের ভালবাসার লক্ষস্থলেও পরিনত হয়ে উঠবেন।

কিভাবে বুঝবেন, আপনি নিজেকে ভালবাসেন কিনা?
১) আপনি যখন আপনার পছন্দের পেশাটি নিজে থেকে বেছে নেন এবং তাতে উন্নতি করার জন্য যতটা পরিশ্রম করা দরকার সেটা হৃষ্টচিত্তেই করে যান – বুঝবেন, আপনি নিজেকে ভালবাসেন।
মনে রাখবেন, প্রেম আর পেশা – এই দুইটার সর্বোচ্চ উৎকর্ষতা অর্জনে কোনো বাধাই বাঁধা না, কোনো কষ্টই কষ্ট না। প্রেমের উৎকর্ষতার জন্য যেমন নিজের ভাললাগা প্রসুত দায়বদ্ধতা প্রেমাষ্পদের প্রতি থাকতে হয়, পেশার উৎকর্ষতার জন্যেও তেমনই নিজের ভাললাগা প্রসুত দায়বদ্ধতা কাজটির প্রতি থাকতে হয়।
আর নিজেকে ভাল না বাসলে সেই দায়বদ্ধতাটা কখনোই আসে না…
২) আপনি যখন নিজেই নিজের বিনোদনের জন্য কোনো না কোনো আয়োজন করছেন, জানবেন, আপনি নিজেকে ভালবাসেন।
নিজের সাথে আটপৌড়ে সময় তো আমরা সারাক্ষনই কাটাই কিন্তু ভেবে দেখুন তো, তারমধ্যে মাঝে মাঝে কিছু কিছু সময় কি বিশেষ ভাবে উপভোগ্য করার চেষ্টা আমরা করি? আপনি যদি তা না করেন, দেখবেন একাকিত্ব আপনার জন্য একটা বোঝা হয়ে দাড়াচ্ছে। নিজেকে ভালবাসলে আপনি কখনই নিজেই নিজের বোঝা হতে চাইবেন না। আপনি যখনই নিজেই নিজেকে বিনোদোন দিতে, সুখি করতে, সান্ত্বনা দিতে, এমপাওয়ারড করতে পারবেন – বুঝবেন আপনি সঠিক পথেই আছেন।
৩) আপনি যখন সুস্থ্য থাকা ও সেজন্য স্বাস্থ্য সচেতনতাকে একটা প্রায়োরিটি হিসাবে নেন, জানবেন, আপনি তা করছেন নিজেকে ভালবাসেন বলেই।
রোগমুক্ত, সুস্থ্য-সবল ও স্বাস্থ্যবান থাকতে না পারলে আপনার নিজের অনেক অনেক পছন্দের কর্মকান্ডই আপনাকে বাধ্য হয়ে মিস করতে হবে। আপনি যদি তা মিস করতে না চান ও সেজন্য সুস্থ্য থাকাতে যা যা প্রিভেন্টিভ মেজারস নেয়া দরকার তা নেন, বুঝবেন, আপনি ঠিক পথেই হাটছেন…
৪) আপনি যখন নিজেকে নিয়ে বিশেষ করে একাকী থাকা সময়গুলোতে খুব স্বাভাবিক থাকতে পারেন এমনকি সেগুলো উপভোগ্য করেও তুলতে পারেন, বুঝবেন, আপনি নিজেকে ভালবাসেন বলেই সেটা সম্ভব হচ্ছে।
একাকী কাটানো সময়গুলো যে আপনি উপভোগ্য করতে পারেন, এটা হয়তো অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হতে পারে। কিন্তু জানবেন, তারাই এটা করতে সক্ষম, যাদের নিজের জন্য ভালবাসা থাকে। আপনি এটা পারছেন, কারন আপনি ঠিক আছেন। বরং যারা এটা নিয়ে দুর্ভাবনা করছে, তাদেরই কোনো না কোনো সমস্যা আছে। তাঁদের করুনা না করলেও নির্দ্বিধায় উপেক্ষা করতে পারেন…
৫) অন্যে আপনাকে কি চোখে দেখছে, তারচেয়ে আপনি নিজেই নিজেকে কি চোখে দেখছেন – এটা যখন আপনার কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ন বলে মনে হবে, বুঝবেন, আপনি নিজেকে ভালবাসেন।
ভেবে বলুন তো, আপনি অন্যদের জন্য যা যা করেন, তা কি তাঁদেরকে খুশি করতে? নাকি নিজের মনের আনন্দে?
যদি তাঁদেরকে খুশি করার চেষ্টা করেন, দেখবেন, তাঁরা প্রতিবারই খুশি হবার জন্য আপনার সামনে নতুন নতুন পরীক্ষা এনে হাজির করছে। একটা সময় দেখবেন এত এত পরীক্ষা দিতে দিতে আপনার নিজের জীবনটাই অতিষ্ট হয়ে গেছে।
যা যা করবেন, নিজের ভাল লাগার জন্য করুন, অন্যদের বরং সেটার সাথে খাপ খাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করুন। মনে রাখবেন, আপনার নিজের ভাল লাগার চেয়ে বড় কোনো প্রায়োরিটি নাই। অন্যের চাহিদা গুলো বরং সেই প্রায়োরিটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অন্যের চাহিদা মেটাতে আপনার সিদ্ধান্ত বদলাবেন না।
৬) আয়নায় যাকে দেখেন, তাঁকে কি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসি, দৃঢ় ও আকর্ষনিয় মনে হয়? তাঁকে কি আরও আকর্ষনিয় করে তুলতে ইচ্ছা জাগে? তা যদি হয়, জানবেন, আপনি নিজেকে ভালবাসেন।
আমরা সবাই এক অর্থে নিজের জন্য নিজেই সবচেয়ে কঠোর বিচারকের ভূমিকায় অবতির্ন হয়। তারপরেও যদি হাল ছেড়ে না দিয়ে বরং চর্চ্চার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রেজেন্টেবল করার চেষ্টাটা চালিয়ে যাই, বুঝতে হবে, সেটা করছি, নিজের প্রতি থাকা ভালবাসার কারনেই। মনে রাখবেন, সবাই কিন্তু শুধু বাইরের সৌন্দয্যটাই দেখে না, তা দেখে মুগ্ধ হয় না।
আপনাকে যারা পছন্দ করে, তাঁরা আপনার ভাল থাকার এফর্টটাও দেখে। আর সেটার মধ্যে কতটা সিনসিয়ারিটি আছে, তা দেখেও বিমুগ্ধ হয়।
দেখবেন, আপনার কাছের মানুষদের জন্য আপনার ভাল থাকাটাকেই হলো অনেক বেশী জরুরী। তাই, আপনি যেমন আছেন, সেটা নিয়েই আপনার নিজেকে যত বেশী গ্রহনযোগ্য মনে হবে, বুঝবেন, আপনি নিজেকে ভালবাসেন বলেই তা করতে পারছেন…

১৬৩ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।

:) :( :P :D :)) :(( =)) :clap: ;) B-) :-? :grr: :boss: :shy: x-( more »

ফেসবুক মন্তব্য