random header image

রিজওয়ান (২০০০-২০০৬) এর ব্লগ

পুরো নাম :  রিজওয়ান মাশহুর উল মুত্তাকীন
ক্যাডেট নাম :   রিজওয়ান
ক্যাডেট নম্বর :   ১৯৭৬
ব্যাচ :   ৩৭
কলেজ :  রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ
অবস্থান সময়কাল :   ২০০০-২০০৬
বর্তমানে যা করছেন : হা ডু ডু খেলি, হা ডু ডু............

কাই বৃত্তান্ত ২

আমার এক দোস্ত (নাম বললে চিনে ফেলবেন….) কাই-রে ডেকে আগের লেখাটা দেখাইছে। কাই খুবই ক্ষিপ্ত এতে। সে আমারে রিসেন্টলি ‘জান কবজ’ করার হুমকি দিছে। আমি নাকি অনেক চাপা মারছি…(তাও নাকি কথ্য বাংলায়………শুদ্ধ বাংলায় নাকি চাপা টের পাওয়া যায় না)…আর যদি ভবিষ্যতে লিখি এইরকম কিছু তাইলে নাকি আমার কুলখানিতে সবাইরে দাওয়াত দেওয়া লাগবে! তা আপনাদের দাওয়াত [...]

ফাউ প্যাঁচাল ০৪-”কাই” বৃত্তান্ত

বহুদিন হইয়া যাইতেছে সিসিবিতে নতুন রম্য দিতেছিনা। যাহাই হউক সম্প্রতি আমার সকল গভীর প্যাঁচাইন্যা রচনাসমূহ(কাব্য ও ছোটগল্প) পড়িয়া যাহারা নাভিশ্বাস ফেলিতেছেন, তেনাদের জন্য সুসংবাদ……নির্মল বাতাসে মুক্তির শ্বাস নিন। তবে আজিকে রম্য লিখিব চলিত ভাষায়। তাহা হইলে শুরু করিয়া দেই……
আমার বন্ধু ‘কাই’; ক্লাস সেভেন থেকে ওরে আমরা আদর করে ‘কাউয়া’ও ডাকি। সে মোটেও কোনো সাধারণ পোলা [...]

ছোটগল্পঃ শহুরে মৃত্যু

ওভারব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে আকাশকুসুম কল্পনায় নিজেকে দ্বিতীয় আসমানে উড়িয়ে বেড়াচ্ছি আর পায়ের বিশফুট নিচে দেখছি নির্বোধ ভিড়ে মিশে যাওয়া ঘাম ও ধুলোর গন্ধের। আশপাশ দিয়ে ধাতব শব্দে পা ফেলে দৌড়াচ্ছে সময় এবং ব্যস্ত কর্মমূখী মানুষগুলো। কালো ধোঁয়ায় ভুতুড়ে স্বপ্নের দেশের দিকে জড়োসড়ো এগিয়ে যাচ্ছে আটটি শিশু। রাস্তার ধারে রেস্টুরেন্টে খাবার গিলছে একমনে কয়েকটি তরুণ। এসব [...]

ডানাওয়ালা বেড়াল, চার বর্ষাহত তরুণ এবং মৃত সেসোস্ট্রিস

অন্ধকারের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে থাকা একটা ছায়া অস্পষ্ট নিপুণ শব্দে চমকে দিলো আমাদের। এতে আমার হাত থেকে খসে পড়ল হলদে আলো ছড়াতে থাকা মোবাইল ফোনটা, মুখ গুঁজে দিলো ঘাসে; আর তাই ভোঁতা শোনাতে লাগলো ওটায় বাজতে থাকা গানটা।
“কিসের আওয়াজ?” ভুরু কুঁচকে কয়েক হাত দূরে ঝোপটার দিকে তাকিয়ে বললাম আমি।
“রাতের মফস্বলের অসংখ্য বেনামী, অচেনা, গন্ধহীন [...]

মৃত ষাঁড় এবং সিগারেট

ঘাড় লম্বা করে মাথাটা ঝাঁকালো কয়েকবার। হাত দুয়েক পিছিয়ে গেল, হঠাৎ সামনে এগিয়ে এসে দুম করে গুঁতো লাগিয়ে দিলো বয়স্ক মানুষটার গায়ে। আহ! করে কাতরিয়ে উঠলেন ভদ্রলোক, বয়স হয়েছে অনেক; একটা রাগী ষাঁড় সামলানোর ধৈর্য বা শক্তি কোনটাই নেই এখন তাঁর। একটা দড়ি ধরা ছিলো হাতে, ছেড়ে দিয়ে এগিয়ে এসে লম্বা ছুরিটা হাতে তুলে নিলেন। [...]

নির্ধর্মের গান

লেখকের কথাঃ এইটা ১১০% আউলামি………মানে না পাইলে গালিগালাজ দিয়েন কিছু, আপত্তি নাই।

“………বুকে ভর দিয়ে এগোই, কালো প্রেমে মৃত্তিকার আলিঙ্গনে। এইখানে কাদায় কাদায় দশটি পায়ের ছাপ দিগন্তে দেখায় সূর্যাস্তের পথ। দুপাশে যন্ত্রমূখী মানুষের ভীড়ে আমি পাগল বৃক্ষ আর সবুজের কথা চেঁচাই আপনমনে। কিন্তু কেউ [...]

রোদে পোড়া মৃত শহর

শহরের ব্যস্ততম রাস্তাটার খুব কাছাকাছি
কোথাও একটা পুরনো দালানের ছাদ;
যে দালানের দারিদ্র্যে অন্য অট্টালিকারা হাসে,
এমনই একটা দালানের ছাদে পা ঝুলিয়ে বসি;
নিচে তাকিয়ে দেখি নিয়মিত মৃতদের মিছিল।
সুর্যের ক্রোধাগ্নি পুড়িয়ে দিচ্ছে শরীরের লোম,
দু’আঙ্গুলে জ্বলছে সিগারেট শীতল আগুনে।
ডানহাতের তলায় ধরে আছি এক দলছুট ছায়াকে,
ওকে খানিক পরপর পিষে মারি;
এবং ভাবি,
ভাবি, থেঁতলানো সৌন্দর্য আমার কেন জানি ভালো লাগে,
বলা যায় রাস্তার মৃত [...]

শহরের শেষ প্রান্তে………

নিম্নগামী একটা বিকেলে বসে আছি প্রাচীন গন্ধের মফস্বলের এক প্রান্তে,
ঠিক ১৩ টা প্রবাহ যেখানে মিশেছে শান্তিবাগে। সেখানে শাপাচ্ছি একসারি কলাগাছ আর সরষে ক্ষেতটাকে।
মগজের সর্বশেষ গলিতেও তখন ছন্দের কালোবাজারি নেই একটাও।
তিন নম্বর সিগারেটটা ধরাচ্ছি তখন………………………
ঘুরে দেখলাম শহরের শুরুর দিকে,
গোঁফওয়ালা এক পাগল দৌড়াচ্ছে অনিয়মিত সরষে ক্ষেতের দিকে।
একোনা থেকে ওকোনা অচ্ছ্যুৎ গোড়ালিতে আর পেছনে হায়েনার মতো দাবড়াচ্ছে
দুইটি কোমল [...]

দোয়েল বৃত্তান্ত ও পাদুকাপুরাণ

তারিক হাউসের সম্মুখের বাগিচায় একাদশ শ্রেণীর ক্যাডেটেরা তাহাদের জুতা ও মোজা শুকাইতে দিত। এই ঐতিহ্য বহুদিনের পুরনো বটে, বিধায় বাগিচার প্রায় ২০ বর্গমিটার ক্ষেত্র ক্যাডেটদের জুতার সুবাসে নির্দয় মৃত্যুভূমিতে পরিণত হইয়াছিল। তাই অত্র এলাকায় বৃক্ষকুলের শ্যামলিমা অনুপস্থিত ছিলো, একটি মাত্র অর্ধমৃত পামট্রি ছাড়া; যে কিনা বিপুল বিক্রমে বাঁচিয়া রহিয়াছিল একাদশ শ্রেণীর ক্যাডেটদের পাদুকাসুবাস এবং [...]

সূর্য ডুবলে……………

কালো কুকুরটা সামনের পা দুটো ছড়িয়ে দিয়ে গা ঝাড়া দিতে,রাস্তার ধারের ল্যাম্পপোস্টগুলোর গা জড়িয়ে নামতে শুরু করল অলস আঁধার।টানা দুদিন বৃস্টিতে ভিজে বাবলা গাছটা সোঁদা গন্ধ ছড়াচ্ছে; দেয়ালে আঁটা পোস্টারগুলো নেতিয়ে আছে,রাস্তার এখানে ওখানে জমে থাকা পানি থেকে পা বাঁচিয়ে দ্রুত হাঁটছে লোকজন।
এই সময়ে স্রোতের উলটো দিকে [...]

“যে কিলাইয়া কাঁঠাল পাকাইয়াছিলো…………”

ছ’ফুট।
তাহারে নিয়া কিভাবে লেখা শুরু করিতে পারি? ক্লাস টুয়েলভে পড়িবার কালে তাহার হাইট ছ’ফুটে গিয়া থামিয়াছিল। এবং ক্লাস সেভেনে যখন তারে প্রথম দেখি, হাইট ছিলো চাইর ফুট আট ইঞ্চি। তাহার মুখ ছিলো এই এক্টুখানি আর কান দু’খানা ছিলো বেশ বড়; দুষ্টলোকেরা তাই তাহার চেহারার সাথে লেমুরজাতীয় কোনো [...]

ফাউ প্যাঁচাল-০৩

আমি নাকি এর আগের লেখাগুলায় চাপা মারছি আর ছোট ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করছি,এই ধরনের কথা বলায় হপ্তাখানেক আগে আমি বাপ্পী (মাহবুব ০০-০৬, BCC)-রে মাইখানেক দাবড়াইছি আর মিনিটদশেক পিটাইছি। যদিও তারে পিটানো নিয়ে আমার কোনোই আক্ষেপ নাই তারপরও বলতেই হয়, আমরা কমবয়েসী এক্স-ক্যাডেটরা একসাথে হইলে যেসব বিষয় নিয়ে গ্যাঁজাই সেইগুলা একই ভাষায় কখনও পোস্ট করলে বিরাট বিপত্তি [...]

সিগারেটের ধোঁয়ায় সংক্ষিপ্ত প্রলাপ………

ক্লেদ,
রক্ত,
যন্ত্রণা।
এই তিনটি শব্দে আমি বাঁচবো;
বালিশে আঙ্গুল বুলিয়ে প্রতিরাতে
দেখবনা আলতো স্বপ্ন।

ফাউ প্যাচাল-২

আমি ঘুরে ফিরে আবার ফাউ প্যাঁচাল পাড়তে আসলাম। কারণ আমার বখিল কাব্যচর্চায় ঘোর অমানিশা, কলম ছন্দ খুঁজতেছে আকুল হয়ে। তাই বলতে পারেন, এই প্যাঁচাল আমার কপিতা ক্ষেতে বেগুন ফলানো। তাছাড়াও অধিকাংশ ব্লগারই সিনিয়র যেনারা সমালোচনা কখনই করেন না, বরং উৎসাহ দ্যান। তাহলে আজকের গল্প শুরু করি………………
গল্প ৩-
এই গল্প আমার বেশ প্রিয় একজন স্যার কে নিয়ে। [...]