কবিতা নয়, দীর্ঘশ্বাস লিখি

কেমন আছো, প্রিয়তা? সেলফোন, স্কাইপ, ভাইবার… কতকিছু আছে
তবু কথা নেই বহুদিন, নেই আসা কাছে।

ভালো আছি, খুব ভালো আছি আমি। স্বচ্ছল সদয় স্বামী, দুটি ফুটফুটে বাবু।
এখনও কি তেমনি আছেন, এলোচুল, উস্কোখুস্কো, বড় অগোছালো, পোশাকে-স্বভাবে হাবুগাবু?

নিউজে দেখলাম, ওখানে ভীষণ শীত, তুষার ঝড়, হিমাঙ্কের বহু নিচে নেমে আছে পারদের চুড়ো।
বুড়ো সান্তাক্লজ তো বিদায় নিল, তো শীত কেমন দাঁত বসাচ্ছে তোমাদের?

আস্ত গাড়ল, জানেন না বুঝি, আতপের ব্যবস্থা আছে এদেশে, কামরার ভেতরে। শীত-গ্রীষ্ম কিছুই পাবেন না টের।

হৃদয়েও আছে? উষ্ণতা জমে থাকে কতটুকু, চুপে চুপে, শিহরিত রোমকুপে?

দাঁতাল জন্তুর স্বভাব আজো গেল না আপনার, যাবেও না কখনো।
আপনাকে ক্ষমা করতেও রুচিতে বাঁধে
খাদি পাঞ্জাবি, ক্যাম্বিসের ব্যাগ কাঁধে
এখনও কি কবিতা লিখেন ?

মুহূর্তের নীরবতা তারপর; মুহূর্ত যেন গিলে ফ্যালে সহস্র বছর!
কিছু উপহাস, করুণায় ভেজা প্রেম, কিছুটা উচ্ছ্বাস!
শ্লেষের গরল কিছু, হু হু ডাক, লিলুয়া বাতাস–
এ কেমন অচেনা বিষাদ ইথারের শরীর বেয়ে নামে?

কবেই তো সব গেছে, বুকের গভীরে ঘুণ, ক্ষয়ের আওয়াজ–
তবু যে জলতরঙ্গের মত হাসি তার, কিছু তো উত্তর দিতে হয়!

কিছু তো উত্তর দিতে হয়, তাই অস্ফুটে, ক্ষীণস্বরে বলি–
কবিতা নয়, প্রিয়তা, এখন দীর্ঘশ্বাস লিখি…

৩,৬৭৮ বার দেখা হয়েছে

২৫ টি মন্তব্য : “কবিতা নয়, দীর্ঘশ্বাস লিখি”

  1. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    দীর্ঘশ্বাসেরা বুকের সমুদ্রে তোলে ঢেউ, ডাকে বান, আনে জলোচ্ছ্বাস ।
    শিরায় শিরায় তার খেলা করে স্মৃতিভষ্ম, ফেলে আসা আগুন উচ্ছ্বাস !

    চমতকার ! মুগ্ধ হলাম ।

    জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    প্রকাশের প্রথম দিনেই পড়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু এই এসে দুটা কথা বলার অবকাশ হল!

    বিষাদ আর মুগ্ধতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বিচ্ছেদের সেই একই কাহিনী -- একি পরিণতি।
    আপনার হাতযশে তা-ই কত কারুকার্যখচিত হয়ে উঠলো!
    শেষের কথাটা একেবারে ভেতরে বিঁধল। :boss: :boss:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।

ফেসবুক মন্তব্য