শুরুর আগেঃ
ব্লগে আছি প্রায় ৬ মাস হবে, কোনোদিন লিখতে বসা হয়ে উঠে না, নানাবিধ কারনেই। কারনের ফিরিস্তি দিতে গেলে অবশ্য আমার অলসতা কেই সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে। কিছুদিন থেকেই জুলফিকারের কাছ থেকে বেশ মজার সব ঘটনার বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ হিসেবে আমি খুবই নস্টালজিক প্রকৃতির, জুলুর এসব পোস্ট পরে আরো বেশি হয়ে যাচ্ছি।আমার লিখার ভাণ্ডার খুব অল্প আমি কখনই কোনো কবিতা বা গল্প ম্যাগাজিন বা দেয়ালিকাতেও লেখা ছাপাতে পারিনাই। আশা করি সকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।যা মনে পরছে এমন সব টুকরো গপপোই বলতে চাই সকলকে।
কলেজে নতুন ক্লাস সেভেন নতুন যাবার পর ক্লাস এইট এর একটা প্রধানতম কাজ থাকে ক্যামনে জুনিয়রদের ভুল ধরা যায়।তারা আমাদের ফল্ট ধরার জন্য নিত্যনতুন বুদ্ধি বের করত।আমাদের ওমর ফারুক হাউসের ক্যাডেটদের আবার নতুন কিসিমের একটা জিনিস ছিল, তা হল একটি খাতা………
ব্যাপারটি শুনে আমিও প্রথম দিন খুব অবাক হয়ে ছিলাম, যখন আমাকে ক্লাস এইটের এক ভাইয়া ফল্ট করার পর গম্ভীর ভাবে বললেন “এটা (ফল্ট) খাতায় লিখে রাখবে, তুমি খুব বেশি বেড়ে গেছো তোমার হিসেব পরে করব”…… 
অনেক দিন অনেক খাতার নাম শুনে ছিলাম, কিন্তু ফল্টের খাতার কথা ঐ প্রথম । আভিধানিক অর্থ বলতে গেলে দাঁড়ায়, যে খাতায় আমার বিভিন্ন রকমের অকর্মের এবং কুকর্মের (!!) বিবরণ সময় এবং তারিখ সহ থাকবে তাকে ফল্টের খাতা বলা হয়।যাতে করে কোনো ফল্ট কোনোভাবেই মিস না করে যায়। আজও কলেজে এমন কিছু চালু আছে কিনা জানতে ইচ্ছে করে।
যা হোক, আমার ফল্টের খাতা ছিলোনা তাই আমি কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম তাদের এমন কিছু আছে নাকি?? দেখলাম হাউসের অনেকেই বললো আছে এবং কয়েক জন তো এটা নিয়ে বেশ সিরিয়াস হয়ে গ্যালো “তোর এখনও ফল্টের খাতা নাই………!!! আমার তো ফল্টের খাতা অলক্লিয়ার !!!!!(সেই সাথে তুই তো শ্যাষ টাইপের একটা ভাব)” এর মানে তার ফল্টের খাতা আছে এবং তার সব ফল্টের ক্লিয়ারেন্স ও করা আছে।
তো আমি সেদিন একজনের ফল্টের খাতা দেখলাম। সাদা নিউজপ্রিন্ট কাগজের একটা খাতা, ভেতরে ৩ টা লাইন টেনে ছক কাটা, অনেকটা আজকালকার ফ্লেক্সিলোডের খাতা গুলোর মতন,
প্রথম কলামের উপরে লিখা “ফল্টের বিবরণ” , ২য় কলামে “তারিখ” ও ৩য় তে “স্বাক্ষর”।
তো আমি তার খাতায় দেখি লিখা “ব্রেকফাস্টে ডিম খেতে পারিনাই” সাথে তার তারিখ… এবং এ ব্যাপারে যে তার ব্যবস্থা হয়ে গেছে সেটার প্রমাণ স্বরূপ ব্যবস্থা গ্রহনকারী সিনিয়র ভাইয়ের তারিখ সম্বলিত স্বাক্ষর। বলাবাহুল্য আমার সেই দোস্ত ডিম খাবার ব্যাপারে বেশ দূব্বল প্রকৃতির, এ ফল্ট লিখার ঘটনা দেখে খুব একচোট হাসলাম।এরপর আরো কয়েকজনের খাতা দেখলাম একজনের লিখা বেশ বড় প্রকৃতির কিছুটা এরকম,
“টেবিলে ভাইয়ার সাথে টাচ লাগছিলো সরি বলি নাই” “ফলইনে দেরি করে গিয়েছি” ইত্যাদি ইত্যাদি…… এই খাতার আরো একটা ব্যাপার ছিলো এ খাতা ছিলো অতি গোপনীয়, কেউ সাধারণত কারো ফল্টের খাতা কাউকে দেখাত না, আর সামনে তো বের করাই যাবেনা। কারণ কোনো স্যারের সামনে যদি কোনোভাবে পরে তাহলে ঐ ভাই আর জুনিওর কাউকেই দেশে থাকা লাগতো না……এবং স্যারদের কাছেও ক্যাডেট নিয়ে গবেষণার নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচিত হত।
এরপর ও শেষ পর্যন্ত আমার কোনো ফল্টের খাতা ছিলোনা সেই ভাই পরে হয়তো কোনো কারণে ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঐ ফল্টের খাতা ছাড়াই বহুত মাইর খাইছিলাম বলে মনে আছে

যা হোক ভবিষ্যতে আরও কিছু মাথায় আসলে তখন লিখা যাবে…।
শেয়ার করুন


১৫ টি মন্তব্য
গোলটা দিয়া যাই।
[ জবাব দিন ]
হা হা হা … ফল্টের খাতার কথা চিন্তা করেই হাসি আসছে …
আমাদের সময় এমন কিছু থাকলে তাতে কি কি লেখা থাকতো চিন্তা করলে আরো বেশি
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
হেহে.
…….দোস্ত….বুয়েটেও তোমার ফল্টের খাতা আছে,
আমরা কিন্তু জানি,তবে এটা তোমার কাছে থাকে না.
..কার কাছে যে থাকে..
…বল না তুই বল না………. 
[ জবাব দিন ]
অই…হাপ্পি ব্লগিং…
…নিয়মানুযায়ী ১স্ট ব্লগ লিখে ১০টা গড়াগড়ি দিতে হয়…..দিয়ে ফেল দোশ্ত 
[ জবাব দিন ]
………খালি ফল্টের খাতা !!
[ জবাব দিন ]
আগে ১০টা ফ্রন্টরোল দাও, তারপর এটা ফল্টের খাতায় লিখে খাতার উদ্বোধন কর।
[ জবাব দিন ]
বলেন ফল্টের খাতায় কি লিখবো???
[ জবাব দিন ]
আমাদের এই টাইপের কোন ফল্ট খাতা ছিল না
।
থাকলে তো প্রত্যেক টার্মে এক্সট্রা ২/৩ টা খাতা নিতে হইত
ব্লগে স্বাগতম আনোয়ার!!
[ জবাব দিন ]
হা হা হা ভাইআ আপনার লেখা পড়ে আমার মনে পড়ে গেল আমারো একটা খাতা ছিল


যেখানে আমি যাবতীয় রুলস লিখে রাখতাম
যাক সে গল্প না হয় আর একদিনব করব………
মজা পাইলাম
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
বড় বাচা বেঁচে গেছি, এমন কোন খাতা ছিলো না। নাইলে প্রতি মাসেই নতুন খাতা কিনা লাগতো।
[ জবাব দিন ]
রকিব ভাই পাথরায়…
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]