random header image

কাটেইন গণহত্যা: একটি সিনেমা, ইতিহাস খুঁজে দেখা এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

একটা সিনেমা দেখে আমি স্তব্ধ হয়ে গেছি। একটা পোলিশ ছবি, পরিচালক আন্দ্রে ওয়াজদা (Andrzej Wajda)। ছবিটার নাম কাটেইন (Katyń)। ২০০৭ সালের ছবি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল পোল্যান্ড থেকে। জার্মাানি পোল্যান্ড আক্রমন করার পর। পোল্যান্ডের একদিক দখল করে নেয় জার্মানি, অন্যদিক সোভিয়েত ইউনিয়ন। বলা হয় গোপন চুক্তি করেই দেশ দুটি পোলান্ড দখল করে নেয়। ছবির শুরু এখান থেকে।
বিনা যুদ্ধে পোল্যান্ড ছেড়ে দেয়নি পোলিশরা। ফলে যুদ্ধে হেরে সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে বন্দী হয় বিশাল এক অংশ। সেনাবাহিনী ছাড়াও বন্দী হয় শিক, ডাক্তার, আইনজীবি, পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তাদের ধরে নিয়ে যায় রাশানরা। এর বড় অংশই আর শেষ পর্যন্ত ফিরে আসেনি। পুরো ছবিটা এগিয়েছে নারীদের চোখ দিয়ে। এর মধ্যে যারা আর ফিরে আসেনি তাদের স্ত্রী, বোন, মা, মেয়ে।
আন্দ্রেজ সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। যুদ্ধবন্দী হিসেবে ধরে নিয়ে যায় সোভিয়েত আর্মি ১৯৩৯ সালে। অপোয় থাকে স্ত্রী আনা ও মেয়ে নিকা। আন্দ্রেজ আর ফিরে আসে না নিয়মিত ডায়েরি লিখতো আন্দ্রেজ। লেখা আছে বন্দী ক্যাম্পের অনেক ঘটনা। আন্দ্রেজকে যখন আলাদা করা হয় তখন তার বন্ধু জারজি ঠান্ডায় কাতর আন্দ্রেজকে নিজের সোয়েটারটা পড়তে দেয়। এরপরই ছবির কাহিনী শুরু হয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরের পোল্যান্ড থেকে।
পোল্যান্ডে তখন সোভিয়েত পন্থী কমিউনিস্ট শাসন। আবিস্কার হয়েছে কাটেইন গণকবর। কাটেইন একটা গ্রাম, জঙ্গলও আছে। বিশ্বব্যাপী প্রচার যে নাজীদের হাতে মারা গেছে পোলিশ যুদ্ধবন্দীরা। তারাই কাটেইন গ্রামে গণহত্যা চালিয়েছে। একথা প্রচার করা হচ্ছিল সরকারি তরফ থেকেই। গণকবরে ছবি দেখানো হয়েছে রাস্তার রাস্তার মোড়ে। দেওয়ালে নাজী বিরোধী পোস্টার। কিন্তু পোলিশরা জানে কাজটা সোভিয়েত ইউনিয়নের। তবে তা বলা যাবে না। সিভিতে সোভিয়েতদের হাতে বাবার মারা যাওয়ার কথা লেখা ছিল বলে ভর্তি হতে পারেনি একজন। পরে সোভিয়েত বিরোধী পোস্টার ছিড়ে ফেলতে গিয়ে মারা যায় সে। ভাইয়ের কবরে সোভিয়েতদের হাতে মারা গেছে লিখতে চেয়ে জেলে যেতে হয় একজন বোনকে।এভাবেই ছবিটা এগিয়ে চলে। সবশেষে আন্দ্রেজের ডাইরি হাতে পায় আনা। ১৯৪০ পর্যন্ত সব কথা লেখা ছিল তাতে। তখনও সে সোভিয়েতের হাতে বন্দী। তারপর কেবলই ফাঁকা পৃষ্ঠা। এর পর ছবিতে দেখানো হয় আন্দ্রেজদের শেষ পরিণতি।
প্রায় ২২ হাজার যুদ্ধবন্দীকে হত্যা করেছিল সোভিয়েতরা। এদের মধ্যে ছিলো আন্দ্রেজদের মতো মানুষরাই। ছবিতে দেখায় দুটি স্থানের হত্যাকান্ড। একটি এক গোপন ক, অন্যটি কাটেইন জঙ্গল। গর্ত খুড়ে দাঁড় করায় একেকজনকে। পেছন থেকে মাথার খুলিতে একটা করে গুলি। এভাবে ২২ হাজার হত্যা। আন্দ্রেজ পড়ে থাকে গর্তে, একটা বুলডজার মাটি চাপা দেয়। ছবি শেষ।
ছবিটা দেখে স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম অনেকন। তারপর শুরু হয় ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি। পুরো ইতিহাস পরে এবার আমি হতভম্ব।

১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯, জার্মান দখল করে পোল্যান্ডের একটি অংশ। আর ১৭ সেপ্টম্বর সোভিয়েত রেড আর্মি দখল করে নেয় পোল্যান্ডের পূর্বাংশ। ইতিহাস বলে এই দখলের জন্য জার্মানি ও সোভিয়েতের মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজস ছিল। রেডআর্মি কিছুটা বাঁধার মুখে পড়েছিল। ফলে সাড়ে ৪ লাখ যুদ্ধবন্দী থাকলেও পরে ৪০ হাজার রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সোভিয়েত ইন্টানন্যাল সিকিউরিটি সার্ভিস বা এনকেভিডির (আসলে সোভিয়েত গুপ্ত পুলিশ) হাতে যুদ্ধবন্দীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের নেওয়া হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায়। বন্দীদের তালিকায় সেনা সদস্য ছাড়াও ছিল শিক, ডাক্তার, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। অনেককে আবার আটক করা হয়েছিল সোভিয়েত বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য। ১৯৩৯ এর অক্টোবর থেকে ১৯৪০ সালের ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চলে তাদের উপর। এর উদ্দেশ্য ছিল আসলে কে বাঁচবে আর কে মরবে সেটি নির্ধারণ করা। যাদের মধ্যে সামান্যতম সোভিয়েত বিরোধী মনোভাব পাওয়া গেছে তারাই তালিকাভূক্ত হয়।
পিপলস কমিশার ফর ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ও ফার্স্ট র‌্যাংক কমিশার অব স্টেট সিকিউরিটি ল্যাভরেনিটি বেরিয়া ১৯৪০ সালের ৫ মার্চ স্টালিনসগ সোভিয়েত পলিটব্যুরোর সব সদস্যের কাছে একটি নোট পাঠায়। তাতে যুদ্ধবন্দীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ ছিল। পলিটব্যুরো তাতে সম্মতি দেয়। ১৯৪০ সালের ৩ এপ্রিলের পর থেকে অল্প সময়ের মধ্যে ২২৪৩৬ জনকে মেরে ফেলা হয় ঠান্ডা মাথায়, আয়োজন করে। এর মধ্যে ছিলেন একজন এডমিরাল, দুইজন জেনারেল, ২৪ জন কর্ণেল, ৭৯ লে.কর্ণেল, ২৫৮ মেজর, ৬৫৪ ক্যাপ্টেন, ২০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক, ৩০০ ডাক্তার, ২০০ বিমান চালক, ১শ লেখক-সাংবাদিক, ইত্যাদি। গুলি করা হয়েছিল জার্মানির তৈরি ওয়ালথার পিপিকে পিস্তল দিয়ে। তখন গুপ্ত পুলিশের চিফ এক্সিকিউশনার ভাসিলি মিখাইলোভিচ ব্লোখিন একাই গুলি করে মেরেছে ৬ হাজার পোলিশ বন্দীকে।

স্টালিনকে পাঠানো নোট। এখানেই হত্যার অনুমতি দেওয়া হয়।

মোট তিনটি স্থানে মারা হয়। যেমন কাটেইন জঙ্গল এবং কালিনিন ও কার্কিভে গুপ্ত পুলিশের বন্দীশালায়। সকালে শুরু হতো, হত্যা উৎসব চলতো সন্ধ্যা পর্যন্ত। পদ্ধতি ছিল একই। মুখে কাপড় ঢেকে পিছন থেকে একটা গুলি। বন্দীশালায় এভাবে মেরে ট্রাকে করে জঙ্গলে গণকবর। একজন জেনারেলের মেয়েকেও এভাবে হত্যা করা হয়।
১৯৪১ সালে জার্মানি রাশিয়া আক্রতম করে। ১৯৪২ সালে কিছু পোলিশ রেলশ্রমিক কাটেইনে গনকবর আবিস্কার করলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। ১৯৪৩ সালের এপ্রিলে কাটেইন জার্মানের দখলে চলে গেলে তারাই গণকবর আবিস্কার করে। বার্লিন রেডিওতে ১৩ এপ্রিল এটি ব্যাপক ভাবে প্রচার করা হয়। জার্মানরা একটি কমিশন গঠন করে যাতে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের ফরেনসিক এক্সপার্টরা ছিলেন। তারা সবাই এ জন্য সোভিয়েতকে দায়ী করলেও সোভিয়েত তা অস্বীকার করে। তারা দাবি করে ১৯৪১ সালে জার্মানদের দখলে চলে যাওয়ার পর তারাই পোলিশ বন্দীদের হত্যা করেছে।

জার্মানরা এই পোস্টারটা বের করেছিল সে সময়। তথ্য অনুযায়ী এভাবেই হত্যা করা হয়।

পোলান্ডের প্রবাসী সরকার তখন লন্ডনে। এই সরকার ১৯৪৩ সালে বিষয়টি নিয়ে সোভিয়েত ব্যাখ্যা দাবি করলে স্টালিন পাল্টা দাবি করে যে পোলান্ডের এই সরকার নাজীদের সাথে হাত মিলিয়েছে। তারপর স্টালিন আরেকটি প্রবাসী সরকার (মস্কো ভিত্তিক) সমর্থন দেওয়া শুরু করে। সেসময় লন্ডন প্রবাসী পোলি প্রধানমন্ত্রী সিকোরসকি ইন্টারন্যাশনাল রেড ক্রসের মাধ্যমে তদন্ত চেয়েছিলেন। ১৯৪৩ সালের ৩ জুলাই এক বিমান দূর্ঘটনায় মেয়েসহ তিনি মারা যান। মনে করা হয় এর সঙ্গেও সোভিয়েতের হাত ছিল।
১৯৪৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আবার কাটেইন সোভিয়েতের দখলে চলে আসে। দখল পেয়েই শুরু হয় পুরো ঘটনা ভিন্নখাতে নিয়ে জার্মানির উপর চাপিয়ে দেওয়ার কাজ। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বাইরের কাউকে রাখা হয়নি। কমিটি তদন্ত করে জানিয়ে দেয় যে গণহত্যা জার্মানির কাজ, এবং সেটি হয় ১৯৪১ সালে। কাটেইন তখন জার্মানির দখলে। যুদ্ধের পর বিষয়টি আবারো ধামাচাপা দেওয়া হয়। নুরেমবার্গ ট্রায়ালে এটি প্রথমে স্থান পেলেও পরে তা বাতিল করা হয়।
সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম ১৯৯০ সালে স্বীকার করে যে কাটেইন হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী তারাই। গর্ভাচেভ তখন মতায়। জানানো হয় এটি ছিল সোভিয়েত গুপ্ত পুলিশের কাজ। ১৯৯০ সালের ১৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দায় মেনে নিয়ে মা চায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। তবে বিষয়টির নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। কে দায়ী সেটি সুনির্দিষ্ট ভাবে বলতে নারাজ রাশিয়া। এমনকি এটিকে গণহত্যা বলতেও রাজী না। পোলান্ড রাশিয়ায় এসে তদন্ত করতে চাইলেও তাতেও রাজী নয় তারা।
প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই গণহত্যা। ইতিহাসবিদরা মনে করেন এর কারণ একটিই। আর সেটি হচ্ছে-পোল্যান্ড সোভিয়েতের সীমান্তের দেশ। তারা চায়নি সীমান্তে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে পোল্যান্ড টিকে থাকুক। যারাই পোল্যান্ডকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে তাদেরই মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়।
পুরো ছবিটা দেখে এবং মেরে ফেলার কারণ জেনে মনে পড়ে যায় বাংলাদেশে সংগঠিত গণহত্যার কথা। পাকিস্তান যখন দেখলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা অনিবার্য তখনই পরিকল্পনা হয় বুদ্ধিজীবি হত্যার, যাতে শক্তিশালী দেশ হিসেবে থাকতে না পারে বাংলাদেশ।
পোল্যান্ড আজও কাটেইন গণহত্যার বিচার চাইছে। আমরাও চাইছি। পোল্যান্ডের পে রাশিয়ার কিছু মানুষের বিচার করা হয়তো সহজ নয়। স্টালিনরা মৃত। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীরা বেঁচে আছে। কিছুদিন আগে তাদের একটি বড় অংশ গাড়িতে ফ্যাগ উড়িয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। এবার তাদের বিচারের পালা। আওয়ামী লীগ প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। এবার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা। আসুন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার থাকি। জয় আমাদের হবেই। জয়ী হওয়ার এটাই সুযোগ।

৪ votes, average: ৫.০০ out of ৫৪ votes, average: ৫.০০ out of ৫৪ votes, average: ৫.০০ out of ৫৪ votes, average: ৫.০০ out of ৫৪ votes, average: ৫.০০ out of ৫ (ভোট, ৫.০০/ ৫)
রেটিং করার জন্য আপনাকে রেজিস্টার্ড সদস্য হতে হবে
Loading ... Loading ...
প্রকাশিত লেখা বা মন্তব্য সম্পূর্ণভাবেই লেখক/মন্তব্যকারীর নিজস্ব অভিমত। এর জন্য ক্যাডেট কলেজ ব্লগ কর্তৃপক্ষকে কোনভাবেই দায়ী করা চলবেনা।

২৫ টি মন্তব্য

  1.    জানুয়ারি ৫, ২০০৯ at ৮:০২ অপরাহ্ন |

    পড়ে মনে হচ্ছে অসাধারণ হবে ছবিটা

    জবাব দিন

    শওকত (৭৯-৮৫)
        জানুয়ারি ৫, ২০০৯ at ৮:২৮ অপরাহ্ন |

    আসলেই অসাধারণ ছবিটা। তবে ইতিহাস আরো করুণ

    জবাব দিন

  2. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
       জানুয়ারি ৫, ২০০৯ at ৮:২৫ অপরাহ্ন |

    আপনার কাছে “কাটেইন” আছে? শওকত ভাই, আপনার কাছে কিন্তু মুভি আনতে যাব। কাটেইন দেখার শখ অনেকদিন ধরেই ছিল। একসময় সেরা বিদেশী ছবি হিসেবে অস্কার পাওয়া ছবিগুলো জোগাড় করা শুরু করেছিলাম। ২০০৭ সালে যে পাঁচটা মনোনয়ন পেয়েছিল:
    - The Counterfeiters
    - Mongol
    - Beaufort
    - 12
    - Katyn
    তার মধ্যে প্রথম দুইটা দেখেছি। ১২ তো ১৯৫৯ সালের “১২ অ্যাংগ্রি মেন” এর রিমেইক। ওটা দেখেছি বলে এটা না দেখলেও চলে। বাকি ছিল কেবল বিউফোর্ট আর কাটেইন। খোঁজ পেয়ে গেলাম কিন্তু।

    মুভি দেখার পর আমারও এই কাজটা করতে খুব ভাল লাগে। মুভির মাধ্যমে যে নতুন চোখটা গজাল তা সতেজ থাকতেই সবকিছু দেখে নেয়া। ইতিহাসের পাঠটাও দারুণ ছিল। কাটেইন গণহত্যার খবর কিছুই জানতাম না। অথচ আমাদের এসব জানা উচিত। কারণ আমরাও একটি গণহত্যার বিচার করতে চলেছি। পৃথিবীর কোন দেশ কিভাবে গণহত্যার বিচার করছে তা জানা আবশ্যক। যা দেখলাম, মুভি দেখেই সব থেকে বেশী জানা যায়। রুয়ান্ডা গণহত্যার কথাও আমি প্রথম শুনেছিলাম “হোটেল রুয়ান্ডা” সিনেমা দেখে।

    পৃথিবীর সকল গণহত্যার বিচার চাই…

    জবাব দিন

    শওকত (৭৯-৮৫)
        জানুয়ারি ৫, ২০০৯ at ৮:৩০ অপরাহ্ন |

    আছে আমার কাছে। ঢাকায় তো পাওয়া যায় এর ডিভিডি। কাউন্টারফেটিয়ারস পুরস্কার পেলেো কাটেইন আমার কাছে বেশি ভাল লাগছে।

    জবাব দিন

    মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
        জানুয়ারি ৫, ২০০৯ at ৯:৪৯ অপরাহ্ন |

    কাটেইনের কাহিনীই বেশী গাঢ় মনে হচ্ছে।
    কাউন্টারফিটার্স দেখে একটা কারণে খুব উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম: মূল যুদ্ধ না দেখিয়েও কত সহজে সবকিছু বলে দেয়া যায়। অবশ্য এই সিনেমায় কাহিনীটাই মিল রেখে বেছে নেয়া হয়েছে, যাতে আউটডোর শ্যুটিং খুব বেশী করতে না হয়। এটা দেখার পর বারবার মনে হচ্ছিল, একজন মাত্র ভাল পরিচালকের জন্ম হলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্বল্প ব্যয়েও অনেক ভাল সিনেমা করা সম্ভব। রাঘব বোয়াল প্রডিউসারও সেক্ষেত্রে লাগবে না। কাউন্টারফিটার্স নিয়ে অনেকদিন আগে সচলায়তনে একটা লেখা লিখেছিলাম। নিচে লিংকটা দিলাম:
    - ডি ফ্যালশার (দ্য কাউন্টারফিটার্স)

    জবাব দিন

    এহসান (৮৯-৯৫)
        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১:২৪ পুর্বাহ্ন |

    মুহম্মদ,

    ভাই যত দিন যাইতেসে ততো মুগ্ধ করছো আমায়। সচলে তোমার রিভিওটা জটিল ছিলো। slumdog millionaire নিয়ে একটা রিভিও দাও না প্লিজ। আজকে slumdog millionaire নামাচ্ছি।

    আমি জানি রিভিও লিখতে অনেক টাইম লাগে। কিন্তু কোনো সিনেমা দেখে সেইরকম মনে হলে ছোট একটা পোস্টে শুধু জানিয়ে দিবা।

    জবাব দিন

    তৌফিক (৯৬-০২)
        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১:২৮ পুর্বাহ্ন |

    এহসান ভাই, লিংক দেন। প্লিজ।

    টরেন্ট দিয়া নামাইতেছেন কি?

    জবাব দিন

    এহসান (৮৯-৯৫)
        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১:৩৫ পুর্বাহ্ন |

    @ তৌফিক,

    হুমম টরেন্ট…
    http://www.mininova.org/tor/2140709

    জবাব দিন

    তৌফিক (৯৬-০২)
        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১:৩৬ পুর্বাহ্ন |

    থেংকু। :)

    জবাব দিন

    মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১০:৫০ পুর্বাহ্ন |

    এহসান ভাই, আমি এখনও স্লামডগ মিলিয়নেয়ার দেখি নাই। হাতেই আসে নাই এখনও। আপনি ডাউনলোড করে দেখেন। রিভিউ আপনার কাছ থেকেই আশা করছি। তারপর আমি দেখমু।

    জবাব দিন

    কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)
        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১০:৫৯ পুর্বাহ্ন |

    স্লামডগ মিলিয়নেয়ার এ আর রহমান এর সাউন্ড ট্র্যাক।
    ভালোই লাগছে মিঊজিকগুলা :)

    জবাব দিন

    হাসনাইন (৯৯-০৫)
        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১২:০২ পুর্বাহ্ন |

    Beaufort

    কি কস??? :-o
    তিনদিন ধইরা ফেলাই রাখছি, ইচ্ছা হইতেছিল না।
    এইবার কোন মিস নাই। :grr:

    কাটেইন পাইলে রেখে দিস। :thumbup:

    জবাব দিন

        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১২:৫১ পুর্বাহ্ন |

    ২০০৭ সালে যে পাঁচটা মনোনয়ন পেয়েছিল:
    - The Counterfeiters
    - Mongol
    - Beaufort
    - 12
    - Katyn

    এর মধ্যে প্রথম ৩টা দেখেছি। Mongol ভালো লাগে নাই। বাকি দুইটা অসাধারন। Mongol-এ সিনেমাটোগ্রাফী শুধু সুন্দর। মেকিং খুব দুর্বল মনে হয়েছে। পরিচালক গল্পে বার বার জাম্প করেছে। আর অভিনয় খুব বেশি মন কাড়েনি। :D

    জবাব দিন

  3. শোয়েব (৯৪ - ০০)
       জানুয়ারি ৫, ২০০৯ at ৮:৫২ অপরাহ্ন |

    চমৎকার তথ্যবহুল লেখা।

    জয় আমাদের হবেই

    হতেই হবে।

    জবাব দিন

  4. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
       জানুয়ারি ৫, ২০০৯ at ১০:৩৭ অপরাহ্ন |

    দারুন লাগলো লেখাটা। :thumbup: :thumbup:

    জবাব দিন

  5. তৌফিক (৯৬-০২)
       জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১২:২৬ পুর্বাহ্ন |

    শওকত ভাই, অনেক কিছু জানলাম। রাশিয়া পোল্যান্ড যুদ্ধের এক দানবীয় স্নাইপারের কথা মনে পড়ে গেল। ওকে নিয়ে লিখব ভবিষ্যতে ইনশাল্লাহ।

    জবাব দিন

  6. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
       জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১২:৪৮ পুর্বাহ্ন |

    একসময় মনে করতাম বলপ্রয়োগ করে মিথ্যা দিয়েও হলেও ভালো কিছু করা যায়। নিজেকে একমাত্র সঠিক মনে হতো। আমি যেটা ভালো মনে করি সেটা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়াটাও ন্যায় মনে করেছি। তখন আমি কমিউনিস্ট ছিলাম।

    আদর্শ হিসাবে সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ অনেক মানবিক। কিন্তু বিপ্লবের মাধ্যমে এর অর্জনে ভীষণ অমানবিকতা থাকে। সমাজের শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এর বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে সেখানে আমিও থাকবো।

    গর্বাচেভকে ধন্যবাদ। অনেক কমিউনিস্ট তাকে পুঁজিবাদের দালাল বলে। আমি মনে করি একজন সৎ মানুষ। সোভিয়েতের অনেক মিথকে ভেঙ্গে দিয়েছেন তিনি। সাহস দেখিয়েছেন। মহৎ কিছুই যে মিথ্যা দিয়ে শেষ পর্যন্ত অর্জন করা যায় না। মাসুম, জানি না ছবিটা দেখার সময় আদৌ পাবো কিনা। তবে আরো কিছু সত্য জানলাম।

    জবাব দিন

        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ২:৪০ পুর্বাহ্ন |

    মহৎ কিছুই যে মিথ্যা দিয়ে শেষ পর্যন্ত অর্জন করা যায় না।

    লাবলু ভাইকে :salute:

    জবাব দিন

  7.    জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১:০৩ পুর্বাহ্ন |

    দারুন তথ্যবহুল লেখা শওকত ভাই।
    আমি এখনো কাটেইন (Katyń) দেখিনি। তবে এখন লিস্টে রেখে দিলাম, পাওয়া মাত্র দেখে ফেলবো।

    আসলে বেশকিছুদিন ধরে ইরানী ছবিতে মত্ত হয়ে আছি। যা পাওয়া যায় সব একেবারে শেষ করে অন্য দিকে ঝুকবো ভাবছিলাম। তবে এর ফাকে ফাকে অন্য অনেক ছবি দেখেছি, এর মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুধ্ব নিয়ে সবচেয়ে ভালো লেগেছে জার্মান ছবি As Far As My Feet Will Carry Me। এক জার্মান যুদ্ধ্ববন্দীকে নিয়ে।
    প্রধান চরিত্রে যে অভিনেতা অভিনয় করেছেন তার অভিনয় দেখে আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ছিলাম। মেকিংও খুব ভালো।

    দেখে ফেলতে পারেন।

    জবাব দিন

    টিটো রহমান (৯৪-০০)
        জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১১:০৬ পুর্বাহ্ন |

    দ্বীতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আমার ভাল লাগা বা আমার সবচেয়ে প্রিয় ছবি COME & SEE
    রাশান এই ছবিটা দেখার পর অনেক্ষণ এর পিরচালককে গালাগাল করেছি …….এত ভাল ছবি কেমন করে নির্মাণ সম্ভব?

    কামস…. না দেখলে দেখে নিস

    জবাব দিন

  8. এহসান (৮৯-৯৫)
       জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১:১৭ পুর্বাহ্ন |

    শওকত ভাই,

    ধন্যবাদ আসাধরন একটা সিনেমার অসাধারন রিভিও দেয়ার জন্য। :boss: আসলে আপনার লেখাটা সিনেমা দেখার চেয়েও বেশী ভালোলাগা তৈরী করেছে। আমি আসলে রেটিং দেখে সিনেমা দেখিনা কিন্তু যেসব সিনেমা অস্কার নমিনি হয় তা দেখার চেষ্টা করি। আর Katyń এর মতো সিনেমা আপনাকে সিনেমা দেখার পর অবশ্যই গুগল এর কাছে পাঠাবে।

    অনেক সময় নিয়ে লেখাটা তৈরী করেছেন। ইন্টারনেট এ অনেক ঘেঁটেছেন। কিছু লিঙ্ক বোধ হয় দিতে চেয়েছিলেন। লিঙ্ক গুলো সময় পেলে দিয়ে দিয়েন। আপনার তথ্যবহুল লেখাটা ভালো লাগতে বাধ্য, কারন শুধু ইতিহাস হিসাবে বই পড়লে অনেক সময়ই একঘেঁয়ে লাগে, তাই সিনেমার কোনো গল্পের সাথে কিংবা কোনো উপন্যাসের সাথে ইতিহাস পড়লে দারুন হয়। প্রথম আলো কিংবা পূর্ব-পশ্চিম এই জন্যই আমার বেশী ভালো লেগেছিলো।

    অনেক অনেক ধন্যবাদ এই লেখাটার জন্য। :clap: অনুগ্রহ করে আপনার ভালোলাগা এইরকম আরো সিনেমার গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করবেন। :)

    জবাব দিন

  9. রহমান (৯২-৯৮)
       জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ২:৩২ পুর্বাহ্ন |

    আসুন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার থাকি। জয় আমাদের হবেই। জয়ী হওয়ার এটাই সুযোগ।

    শওকত ভাই, একমত :thumbup:

    জবাব দিন

  10. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)
       জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ২:৫১ পুর্বাহ্ন |

    চমৎকার তথ্য সব
    শওকত ভাইকে স্যালুট :salute:
    মুভিটা দেখার জন্য মাথাটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু উপায় নাই :(( :((

    পোল্যান্ড আজও কাটেইন গণহত্যার বিচার চাইছে। আমরাও চাইছি। পোল্যান্ডের পে রাশিয়ার কিছু মানুষের বিচার করা হয়তো সহজ নয়। স্টালিনরা মৃত। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীরা বেঁচে আছে। কিছুদিন আগে তাদের একটি বড় অংশ গাড়িতে ফ্যাগ উড়িয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। এবার তাদের বিচারের পালা। আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এবার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা। আসুন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার থাকি। জয় আমাদের হবেই। জয়ী হওয়ার এটাই সুযোগ।

    জয় আমাদের হবেই

    জবাব দিন

  11. ফয়েজ (৮৭-৯৩)
       জানুয়ারি ৬, ২০০৯ at ১২:৫৩ অপরাহ্ন |

    শওকত ভাই, এত সুন্দর করে একটা ইতিহাস আমাদের সামনে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।

    বস আপনাকে স্যালুট করে ইচ্ছা করছে। করি।

    :salute:

    জবাব দিন

  12. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)
       জানুয়ারি ৭, ২০০৯ at ৭:১২ পুর্বাহ্ন |

    এর আগে একটা মুভিতে (নাম মনে নেই) দেখেছিলাম জার্মানরা প্রায় আড়াইশ পোলিশ অফিসারের মৃতদেহ সম্বলিত একটা গণকবর আবিস্কার করে। হিসেব মিলতেছিল না। জার্মানরাই যদি পোল্যান্ড আক্রমণ করে তবে কেন তারা পোলিশদের গণকবর উদ্ধার করে হাল্লা মাচাবে??
    এই বেলা সেটা অনেকটা ক্লিয়ার হলো।

    একইভাবে “ক্যাপ্টেন কোরেলিস ম্যান্ডোলিন”এ জার্মানরা কেন ইতালীয়ান ট্রুপসদের মেরে ফেলে তাও ক্লিয়ার হয়নি। আবার দেখতে হবে।

    থ্যাংকু শওকত ভাই – অসামান্য একটা লেখা :clap: :clap:
    প্রথম সুযোগেই মুভিটা দেখব।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন :

আপনার ই-মেইল ঠিকানা কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা শেয়ার করা হবেনা। দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা। আবশ্যিক তথ্যগুলো * চিহ্নিত করা আছে।

*
*
:) :( :P :D :)) :(( =)) :clap: ;) B-) :-? :grr: :boss: :shy: x-( more »


(বাংলায় টাইপ করতে ctrl+g চাপুন। একটি শব্দ লেখা শেষে স্পেস বার চাপুন। তাহলেই ইংরেজী থেকে শব্দটি বাংলায় রুপান্তরিত হবে।একই শব্দের একাধিক বানান অপশন দেখতে শব্দটির উপরে মাউস রেখে ক্লিক করুন)
Ekushey Inline virtual Bangla keyboard