(আমার লেখা প্রথম নাটক। নাট্য পরিচালক কামরুল হাসান ভাইয়ের জন্য উত্সর্গীকৃত।
বোধকরি সিসিবি’র ভান্ডারেও এটাই প্রথম নাটক।)
১ম অংক
(নির্জন রেললাইন, পথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে হাটহাজারী পাহাড়। ওরা দু’জন হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। শ্যামলবর্ণের ছেলেটি গভীর আবেগে জড়িয়ে আছে প্রেমিকার হাত।)
অনুপঃ আজকের পৃথিবীটা কত্তো যে সুন্দর লাগছে! তুমি যদি তা দেখতে পেতে!
অপলাঃ জান্, পৃথিবীটা এতো সুন্দর, আমি এর সব দেখতে চাই। জান্, আমি তোমায় দেখতে চাই।
অনুপঃ দেখবে, তুমি দেখবে সবি। প্রিয়া, আমি তোমাকে পৃথিবী দেখাবো। আমি তোমায় সমুদ্র দেখাব, আমি তোমায় পাহাড় দেখাবো, আমি তোমায় অবারিত সৌন্দর্য দেখাবো।
অপলাঃ কী করে প্রিয়? এ কী করে সম্ভব বলো। হায়, আমি যদি একটু দেখতে পেতাম তোমায়!
অনুপঃ দুঃখ করোনা প্রিয়া। আমার জীবন দিয়ে আমি তোমার দৃষ্টিসন্ধান করবো। দেখবে, তুমি আমায় দেখবে, প্রাণভরে আমায় দেখবে তখন।
২য় অংক
(স্থানঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। চক্ষু বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে ওরা।)
অনুপঃ তোমার জন্যে চোখের ব্যবস্থা হয়েছে, আজ তুমি ভাল হয়ে উঠবে প্রিয়া। আজ থেকে তুমি আমায় দেখবে, আজ থেকে তুমি এই পৃথিবীর সব সৌন্দর্য দেখবে।
অপলাঃ আমি শুধু তোমায় দেখবো, দুচোখ ভরে। শাদা মনের এই মানুষটাকে দেখবো আমি। যে আমায় ভালোবেসেছে উজাড় করে, তারে দেখবো আমি প্রাণভরে।
অনুপঃ তবে চল সুন্দরী।
৩য় অংক
(ডিসি হিল, চট্টগ্রাম। পাহাড়ের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে একজন প্রাণবন্ত যুবতী। লাঠিতে ভর দিয়ে দিয়ে এগিয়ে এলো একজন ক্লান্ত-শ্রান্ত অন্ধ লোক।)
অনুপঃ কেমন আছো প্রিয়া?
অপলাঃ তুমি, তুমি কে?
অনুপঃ আমিই তোমার অনুপ। আমায় চিনতে পারছনা, জান? যাকে দেখবে বলে প্রতিদিন ছটফট করতে তুমি, এইতো আমি, তোমার সামনে। তুমি কি আমায় দেখতে পাচ্ছ, জান্?
অপলাঃ হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি সব দেখতে পাচ্ছি। তবে তুমি আমায় এটা বলনি কেন, যে তুমিও একজন অন্ধ? এটা তুমি কি করলে?
অনুপঃ প্রিয়া, বোঝার চেষ্টা কর। তোমায় কষ্ট দিতে চাইনি আমি।
অপলাঃ তুমি মিথ্যাবাদী প্রতারক, আমি তোমাকে বিশ্বাস করিনা।
অনুপঃ তবে চললাম আমি। (অন্ধ মোড় নেয়, সঙ্গে একটি দীর্ঘশ্বাস, এরপর খানিক ভেবে ফিরে দেখে মেয়েটির দিকে, আর্তনাদ করে বলেঃ)
ম্যাডাম অপলা, আমার চোখদু’টির খেয়াল রেখো।



(৩ভোট, ৩.৬৭/ ৫)
২১ টি মন্তব্য
হ্যালো ১…২…৩…৪…
মডু স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণঃ “নাটক” বা “নাটিকা” নামে একটা বিভাগ কি খোলা যায়?
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ,
। থিমটা ভাল লেগেছে। কিন্তু আমার কাছে খুব ছোট মনে হলো। আরো বড় হলে মনে হয় আরো ভাল হত। নাম দেখে অবশ্য বুঝতে পারছি যে আরো পর্ব আছে। পরবতী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
।
নাটক লিখছো, গুড ইনিশিয়েটিভ
[ জবাব দিন ]
চমৎকার একটা লেখা…সত্যিই ভাল লাগল। কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমার এক বনদধুর কথা মনে পরে গেল। পাগল ছিল,একটা মেয়ের জন্য। তার জন্য এই প্রানবন্ত,প্রানচ্ছল গায়ক ছেলেটা সবকিছু হারাতে রাজি চছিল। মেয়েটিও এই অবাধ ভালবাসা অগ্রাহ্য করতে পারে নি। এসেছিল,বিয়েও হয়েছিল,কয়েকদিন সুখের ঘর ও করেছিল। তারপর একদিন কার উপর যেন অভিমান করে আমার বন্ধুটি তার ছোট্ট রুমটার একমাত্র ফ্যানটিকে তার প্রিয় স্ত্রী’র ওড়না দিয়ে কাছে টেনে নল।
কেমন আছিস রে অনুপ???? বিনিতার জন্য এখন কি আর গান লেখিস না??????
[ জবাব দিন ]
আপনার বন্ধুর নামও কি অনুপ ছিল?
আত্মহত্যার মতো এমন কিছু ঘটনা মাঝে মাঝে হয়, পৃথিবীতে রয়ে যাওয়া বাকি মানুষগুলো জানতেও পারেনা, কী কষ্ট নিয়ে বেচারা এই পথে পা দিয়েছিল।। ভেরি সেড।
[ জবাব দিন ]
হ্যা বস, হেব্বি গান গাইত, আর্টসেল এর লিংকন এর কাজিন ছিল। সেইরকম গিটার বাজাইত। আর খুব চঞ্চল ছিল। সব সময় চিল্লাচিল্লি, হই হুল্লর নিয়া থাকত। খুব সুইট একটা মেয়েকে বিয়েও করেছিল।কে জানে কি হয়েছিল ওর………পহেলা বৈশাখের আগের দিন রাতে……
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
আলম
উৎসর্গের জন্য ধন্যবাদ।
কাহিনী কি এই খানে শেষ? তাইলে সিরিজ করার মানে কি নিয়মিত নাটক/নাটিকা আসবে?

[ জবাব দিন ]
আরো লিখব নাটিকা।
এইটা সিরিজ দেয়ার মানে হলো পরবর্তিতে ‘ভালবাসার’ সংজ্ঞা-বৈশিষ্ট্য নিয়ে আরো লেখা আসতে পারে…।
ধন্যবাদের জন্য ধন্যবাদ।
[ জবাব দিন ]
জটিল কাজ ধরছ। নাটিকা খুব ভাল হয়েছে। তবে আর একটু বড় হলে আরও মজা করে পড়তাম।
দেখি দুই নম্বরটা কেমন হয়।
[ জবাব দিন ]
ছোট্ট কিন্তু সুন্দর। চালিয়ে যাও।
** খুবই কাঠখোট্টা কথা তাও বলি, অনুপ কি একটি চোখ দিতে পারতো না?তাহলে তারা দু’জন দু’জনাকে দেখতে পারতো।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
ভালো হইছেতো আলম

সুন্দর হইছে,
তবে ফয়েজ ভাইয়ের মতো আমারও মনে হইল, আরেকটু বড় হইলে আরেকটু মজা লাগতো।
সিরিজটা নিশ্চয়ই আকর্ষনীয় হবে।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
আলম, নিঃসন্দেহে চমৎকার একটা উদ্যোগ।

এই পর্বটা একটু ছোট লাগল। হঠাৎ করেই যেন শেষ হয়ে গেল। পরের পর্ব অবশ্যই আরেকটু বড় করবা।
ভালো লেগেছে লেখাটা। ভালোবাসা সবসময় বিয়োগান্তক হয়না। মাঝে মধ্যে মধুর সমাপ্তিও দিও।
[ জবাব দিন ]
প্রশংসার জন্য ধন্যবাদঃ
রহমান ভাই
রেজওয়ান
জুনায়েদ ভাই
কামরুল ভাই
ফয়েজ ভাই
আকাশ ভাইয়া
ফৌজিয়ান ভাই
সায়েদ ভাই
মুসতাকীম
তানভীর ভাইকে।
[ জবাব দিন ]
আলম,
? তাহলে আরেকটা কষ্ট করো। এইবার এই “টেন-ইন-ওয়ান ধন্যবাদ” ষ্টাইলে “টেন পোষ্ট ইন ওয়ান নাইট” লেইখা জমা দেও দেখি
। আমরা সবাই মিল্লা বাকি ১ টা পোষ্ট দিয়া ফালামু
। কুমিল্লার ১০০ পোষ্ট হইয়া যাইবেক তাহলে 
“টু-ইন-ওয়ান”, থ্রী-ইন-ওয়ান” ষ্টাইলে “টেন-ইন-ওয়ান” ধন্যবাদ দিয়া দিলা
[ জবাব দিন ]
২০০৯ সালের আগেই কুমিল্লার ১০০ করানোর জন্য আমার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
শীট, আমি তাইলে প্রশংসা করতে দেরি কইরা ফালাইসি। খুবই ভাল হইসে ব্রাদার। আমি টেরই পাই নাই যে কখন মনের মধ্যে একটা খোচা লাগসে। আরও ওনেক বেশি নাটক চাই, অবশ্যই অনেক বড় বড়।
[ জবাব দিন ]
টিটো ভাই এবং রাফিকেও ধন্যবাদ।

রাফিকে এই প্রথম দেখলাম মনে হয়। সিসিবিতে ওয়েলকাম, লেখা দিও কিন্তু।
[ জবাব দিন ]