১৭ মে ২০১০(সকাল)-১৭ মে ২০১০(রাত)
আমাদের পুরা ট্যুর প্রাইভেট ট্যুর এজেন্সি প্লান করেছিল। তারাই আমাদেরকে রেলওয়ে স্টেশন থেকে নিতে এসেছে। বাসে যাওয়ার পথে আমাদের আজকের ট্যুর এর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হলো। আজকের ভেন্যু ঠিক করা হয়েছে তিয়েন-আন-মেন স্কয়ার। বেইজিং এর নান্দনিক সব বহুতল ভবন দেখতে দেখতে আমাদের হোটেল ‘হেজেল ইন্টারন্যাশনাল’ এ পৌছালাম। হোটেল এ চেক ইন করে রুম এর কার্ড নিয়ে রুমে প্রবেশ করেই দেখি দরজার কাছে ৩ টা বিজনেস কার্ড পড়ে আছে। কৌতুহল নিয়ে বিজ়নেস কার্ড তুলে দেখি ছবিসহ তিনটা কলগার্ল এজেন্সির কার্ড।(ছিঃ ছিঃ … ) এর মাঝে পাশের রুম থেকে ঘানার অফিসার এসে আমার পাশে দাঁড়িয়ে কার্ড দেখে আমাকে জিজ্ঞাসা করল আমার কার্ডগুলো লাগবে কিনা। আমি না সূচক জবাব দেওয়ার সাথে সাথেই আমার কাছ থেকে কার্ডগুলো নিয়ে নিজ রুমে চলে গেল।
আমি এর মাঝে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিচে হোটেলের লবিতে অপেক্ষা করতে থাকলাম।
দুপুর ৩ টার সময় আমরা তিয়েন-আন-মেন স্কয়ার এর উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলাম। বাস থেকে নেমে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সিটি স্কয়ার(৮৮০ মিটার x ৫৫০ মিটার) এ নামলাম । আমাদেরকে দেখানো হলো এই তিয়েন-আন-মেন স্কয়ার এর একদিকে চায়নার প্রেসিডেন্ট এর বাসভবন, অন্যদিকে চায়নার ৫০০ বছর ধরে ব্যবহৃত রাজপ্রাসাদ- ফরবিডেন সিটি। এই স্কয়ার এ বিশাল স্ক্রীন এর টেলিভিশন দেখে মনে হল, এইটাতে বিশ্বকাপ দেখতে পারলে মন্দ হত না !
আমাদের ট্যুরিস্ট গাইডকে এই স্কয়ার এ ১৯৮৯ সালে সরকারের নির্দেশে কথিত ১০ হাজার ছাত্র হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে সে কোন উত্তর না দিয়ে বলল, ” রাজনীতি আলাপ এই দেশে নিষিদ্ধ” ।
এই স্কয়ার এ প্রচুর ট্যুরিষ্ট এর আনাগোনা এবং আমার মনে হল ট্যুরিষ্ট এর অধিকাংশই মেয়ে। কি জানি, হয়তবা মেয়ে ট্যুরিষ্ট হলেই খেয়াল করেছি !
চাইনীজরা অবশ্য আমাদেরকে দেখে ছবি তুলতে লাগল। এরা আরব, আমেরিকান আর আফ্রিকানদের সাথে ছবি তুলতেই বেশি পছন্দ করে। আমরা যারা না কালো, না ধলা – তাদের কোন পাত্তাই নাই।
এক ঘণ্টা পরে দেখি চাইনীজ সৈন্য মার্চ করে আমাদের দিকে আসছে। ঘটনা কি জানতে চাইলে জানালো, একটু পরেই কোন এক দেশের প্রেসিডেণ্ট আসবেন চাইনীজ প্রেসিডেণ্টের সাথে সাক্ষাত করতে তাই স্কয়ার ছেড়ে দিতে হবে। অগত্যা সব ট্যুরিস্ট ই চলে আসলাম।
আমদের সকাল আর দুপুরের খাবার কতৃপক্ষ সরবরাহ করলেও রাতের খাবার এর ব্যবস্থা নিজ দায়িত্বে করার জন্য বলা হয়েছিল। তাই হোটেল এ ফিরে সন্ধার সময় আমরা যারা মুসলিম আছি সবাই একসাথে মুসলিম রেস্তরার খোঁজ়ে বের হলাম। প্রায় এক ঘণ্টা হাটার পর মুসলিম রেস্তরা পেলাম। এটা ছিল প্রধাণত বার-বি-কিউ। রাস্তার পাশেই টেবিল-চেয়ারে বসে গেলাম। আমাদের মধ্যে ইজ়িপ্ট এর অফিসার মুহাম্মদ কিছুটা চাইনীজ বলতে পারে, তাই তিনিই নান, চিকেন, মাটন আর বীফ এর অর্ডার দিলেন। কিছুক্ষন পরে লাউবান(দোকানের মালিক) আগুনসহ বড় একটা তাওয়া, তেল, বিভিন্ন মশলা, কাঁচা মাংশ আর নান দিয়ে গেলেন। কি আর করা ! উপস্থিত সবাই রন্ধনশিল্পে নিজ নিজ প্রতিভার সাক্ষর রাখার জন্য ইচ্ছামত মশলা দিয়ে রান্না করতে থাকল। আমিও বা বাদ যাব কেন ! তাই আমি বেশি করে লবন আর জিরা দিলাম । যদিও লবন একটু (অনেক) বেশি হয়েছিল, তারপরও বারবিকিউ এ রান্না সুস্বাদুই হয়েছিল। সত্যি কিন্তু !

স্কয়ার এ নামার পর আমাদের গ্রুপ ছবি

এই সেই বিশাল টেলিভিশন, যেটাতে বিশ্বকাপ এর ম্যাচগুলো দেখতে পারলে ভাল হতো…

চাইনীজ সৈন্যদল মার্চ করে স্কয়ার থেকে সবাইকে সরিয়ে দিচ্ছে।

বারবিকিউ এ রন্ধনশিল্পে সবাই নিজ নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন !
রাতের খাবার শেষ করে আমরা পরের দিনের ‘ফরবিডেন সিটি’ ‘র ট্যূর এর জন্য বিশ্রাম নিতে হেঁটে হেঁটে হোটেল এ ফেরত এলাম। (চলবে….)



১৯ টি মন্তব্য
[ জবাব দিন ]
ভাই

অসাধারন এক ভ্রমন কাহিনি
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ।
[ জবাব দিন ]
দারুন মজা করছেন তো দেখি। মনে হচ্ছে নিজেই ঘুরে আসলাম। আরো ছবি দিয়েন পরের পোষ্টে।
[ জবাব দিন ]
হুমম।
[ জবাব দিন ]
ভাইয়া আরো ছবি চাই ।কাহিনী বেশ ভালো লাগলো ।
[ জবাব দিন ]
চীনে যাব ।
[ জবাব দিন ]
চলে আস ।
[ জবাব দিন ]
ভ্রমণ কাহিনী ভালো হচ্ছে।
মেয়ে ট্যুরিষ্ট-এর কোন ছবি (কাছ থেকে নেওয়া) না দেয়ায় তোমার আইপিসুদ্ধা ভ্যান চাই।
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ।
পরের লেখাতে মেয়ে ট্যুরিষ্ট-এর ক্লোজ ভিউ ছবি দিব।
[ জবাব দিন ]
ইয়ে,একটা সিক্রেট ফাঁস করি
এপ্রিলে মালয়েশিয়া ভ্রমনের সময় সিসিবির মেহেদী(সুমন) ভাই আর মইনুল ভাই যখন আমাকে কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখাচ্ছিলেন তখন আমি তাঁদের চোখ এড়িয়ে মিনি স্কার্ট পরা চায়নিজ বংশোদ্ভুত মালয়েশিয়ান ললনাদের দিকে চোরা দৃষ্টি দিয়েছি বহুবার। সেন্সর বোর্ডের উপস্থিতির কারণে সে সৌন্দর্যের বর্ণনা দেয়া থেকে বিরত থাকছি-তবে এইটুকু বলি,মইনুল ভাইয়ের কাছে ধরা না খাইলেও মেহেদী(সুমন) ভাইয়ের কাছে ধরা খেয়েছি বেশ কয়েকবার-কারণ আর কিছুই না,উনার আর আমার “চয়েস” এক হওয়ায় প্রায়শঃই একই ললনার দিকে নজর দিতে গিয়েই…
অফ টপিক- মেহেদী ভাই আসার আগেই
[ জবাব দিন ]
হুমম। এতক্ষন তো আত্মগ্লানিতে ভুগছিলাম।
শুধু কি আমিই এরকম কিনা ! তোর কথা শুনে মনে বড়ই প্রশান্তি লাভ করলাম। যাক, আমার মতো তাইলে সবাই !
[ জবাব দিন ]
সবাই দলে দলে বলো……জয়……(নাহ! কিচ্ছুনা)
[ জবাব দিন ]
মনের মাঝে খালি … চিন্তা।
[ জবাব দিন ]
ইসস। চিন্তাগুলোকে যদি বাস্তবে রূপদান করতে পারতাম।
[ জবাব দিন ]
জাফর ভাই,
এত সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন মনে হচ্ছে নিজেই ঘুরে আসলাম।ইউএ মানে, ভিসিটিং কার্ডের কাহিনী কি সত্যি? আসলেই কি…নাহ থাক কিছু না
[ জবাব দিন ]
মাসরুফ, ঝেড়ে কাশ ! তোরও মনে হচ্ছে এমন কোন কাহিনী আছে !
হুমম । ঘটনা এক্কেবারে সত্য ।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
কইয়া ফেলাও। মাস্ফু কিছু কইব না। আর কিছু কইলে আমি আছি না ওর বড় ভাই ।
[ জবাব দিন ]