একজন সাধারন মানুষের গল্প-১
একজন সাধারন মানুষের গল্প-২
একজন সাধারন মানুষের গল্প-৩
অনেকদিন পর লেখাটা দিলাম বলে দুঃখিত। আসলে আমার মাথায় যত বড় প্লট কাজ করছে, তাতে এটা একটা বিশালাকৃতির উপন্যাসে রূপ নিতে পারে। কিন্তু লিখতে গেলে তা গল্প হিসেবে বের হয় না। গল্প প্রসবে যে অনেক বেদনা, তা আমি অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। তবুও কেন যে এই গল্প লেখার দুঃসাহস দেখালাম, কে জানে? এই পর্বটা এমন রেখেছি যাতে আমি চাইলে পরের পর্ব লিখতে পারি, আবার চাইলে এটাকেও শেষ পর্ব বলতে পারি। সবাই কি বলে তার ওপর নির্ভর করে আমার পরের পর্ব লেখা। এই গল্পটা লেখার পেছনে সবাই অনেক সাহস দিয়েছেন, তাই সবাইকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে ধন্যবাদ মইনুল ভাইকে তার সাপোর্টের জন্য।
প্রতি রাতে এমন ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখতে কার ভালো লাগে? আমি আমার এই স্বপ্নটা নিয়ে খুবই বিরক্ত। আমার ডাক্তার এক বন্ধুকে এই স্বপ্ন সম্পর্কে বলে খুবই হতাশাব্যঞ্জক উত্তর পেয়েছি। ওর মতে আমি যতদিন স্মৃতিকে ভুলতে পারছি না সম্পুর্নরূপে ততদিন এই স্বপ্ন আমাকে তাড়া করে বেড়াবে। তাই আমি এই স্বপ্নকে আমার জীবনের একটা অংশ হিসেবে মেনে নিয়েছি। স্মৃতির বিয়ের পর ওর সাথে আমি কোনরূপ যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি নি। চেষ্টা করলে যে ও আমাকে যোগাযোগ রাখতে দিত তাও মনে হয় না। সিগারেটটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। শেষ টান দিয়ে রাস্তার দিকে ছুড়ে দিলাম ফিল্টারটাকে। রাতের অন্ধকারে সিগারেটের ফিল্টারের আগুন যখন রাস্তায় পরে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে তা দেখতে খুব ভালো লাগে। মনে হয় আমার ভেতরের অগ্নিস্ফূলিঙ্গ হয়ত কোন দিন এভাবে ছিট্কে বের হয়ে আসবে এবং তখন আমি এমন কিছু করে ফেলব যাতে আমাকে নিয়ে আমার বাবা অহংকার করবে। আমার মাকে সবসময় আমাকে সব বিপদ হতে আগলে রাখতে হবে না, বরং আমিই আমার মাকে সব প্রতিকূল পরিবেশ থেকে দূরে রাখব আর মার সকল চাহিদা পূরণ করব। কিন্তু এমন কোন কিছুই হয় না কারণ কিছুই এমনি এমনি হয় না। এই বোধ টা আমার যখন হওয়ার দরকার ছিল তখন হয় নি। ফলাফল স্বরূপ এমন একটা রেজাল্ট হয়েছে যে আজ আমি কোন চাকরির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত নই। যাই হোক এসব নিয়ে চিন্তা করা আর সময় নষ্ট করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ঘুমাতে যাই, কাল সকালে অনেক কাজ আছে।
পরদিন সকালে হঠাৎ আমার রুমের দরজায় জোড়ে জোড়ে ধাক্কা শুনলাম। মোবাইল চোখের সামনে নিয়ে দেখি মাত্র ৮ টা বাজে। বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে দেখি আমার মা দাঁড়িয়ে আছে। মার ওপর কেন যেন রাগ করতে পারি না। তবুও একটু ঝাঁঝের সাথে জিজ্ঞাসা করলাম এত সকালে কি? মা আমার হাতে একটা খাম ধরিয়ে দিল। এই ধরনের খামের সাথে আমি বেশ পরিচিত। আমার পুরানো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আমাকে চিঠি পাঠানো হয় প্রায় নিয়মিত তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জানিয়ে। কিন্তু আমি আর রাজনীতি তে আগ্রহ পাই না। এই চিঠি দেয়ার জন্য আমাকে সকালে ঘুম থেকে ওঠানোর কোন মানে নাই। আমার মা ও সেটা জানে, তাই এটা যে ওদের চিঠি না সেটা নিশ্চিত। চিঠি আমাকে দিয়ে আমার মা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। একটু ভালো করে লক্ষ্য করেই টের পেলাম এই চিঠিটা আগেই খোলা হয়ে গেছে। তার মানে আমার মা জানে যে এতে কি লেখা আছে। এরপরও যে কেন দাড়িতে আছে তা আমি ঘুমের ঘোরে বুঝতে পারলাম না। খামটা খুলে চিঠিটা বের করে দেখলাম এটা একটা এপয়েন্টমেন্ট লেটার। সাথে সাথেই আমি বুঝতে পারলাম যে আমি আবার স্বপ্ন দেখছি। এক রাতে দুইবার স্বপ্ন দেখা ঠিক না। তাই আমি আবার ঘুমাতে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। প্রায় সাথে সাথেই আমার মুখের ওপর ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কি যেন পড়ল, আর আমি লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে বসলাম। উঠে দেখি আমার মা আমার মুখের ওপর এক মগ পানি ঢেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে। আমাকে বলল, তোর চিঠি এসেছে, পড়ে দেখ।
এবার আমি ঠিকমতো পড়ে দেখি সত্যি সত্যি আমার জন্য এপয়েন্টমেন্ট লেটার। কিন্তু কেন যেন আমি এই এন.জি.ও. টার নাম মনে করতে পারছিলাম না। আমি এখানে কোন ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম বলে মনে পড়ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যে অবশ্য মনে পড়ে গেল যে প্রায় ১১ মাস আগে আমি এই এন.জি.ও. তে একটা মৌখিক পরীক্ষার জন্য যাই। আমার রেজাল্ট এতটাই খারাপ ছিল যে ওরা আমাকে চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় ডাকবে না বলে ঠিক করে রেখেছিল। কিন্তু আমার বিভিন্ন স্থানে ইংরেজী শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দেখে আমাকে তারা ডাকে। তারা আমাকে কথা দেয় যে যদি কখনও ওরা কোন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে তবে আমাকে ওরা ডাকবে। আমি ওদের ওই আশ্বাসের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। এমন সময়েই ওরা এই চিঠিটা পাঠাল।
প্রাথমিক উচ্ছ্বাসের পর ভালো ভাবে দেখলাম চিঠিটা। এন.জি.ও. টা খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বেশ কিছু স্কুল নির্মাণ করেছে। আমি সেখানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগদানের জন্য উৎসাহী হলে যেন ৭ দিনের মধ্যে যোগাযোগ করি, এমনটা লেখা আছে। আমার মা এখন কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছেন। আমি এত দূরে থাকলে মার খুব কষ্ট হবে সেটা আমি যেমন জানি, মাকে ছেড়ে থাকতে আমার কেমন কষ্ট হবে সেটাও মা জানে। কিন্তু অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, আমার চাকরি পাওয়া আর বাংলাদেশ ফুটবল দলের বিশ্বকাপ জেতাটা সমার্থক। আমার পরিবারের সবাই মেনে নিয়েছিল যে আমি টিউশনি করে আমার জীবন পার করে দেব। তাই এই চাকরি হাতছাড়া করা বাস্তবিক অর্থে আমার জন্য বোকামি হবে। বেতন তথৈবচ হলেও, এই চাকরির মাধ্যমেই আমি আমার ভবিষ্যৎ আরও গুছিয়ে নিতে পারব। তাই অনেক কষ্ট সত্ত্বেও আমার মা আর আমি, দুজনেই মেনে নিলাম এই চাকরিটাকে। ওদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম যে আর ১৫ দিন পরই জয়েন করতে হবে। তাই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করলাম।



২৯ টি মন্তব্য
1st
[ জবাব দিন ]
একটু ডানে, উহু বেশি হয়ে গেল একটু হাসেন, একটু মুখটা উপরে তুলেন হা পারফেক্ট এইবার ক্লিক। হয়ে গেল আপনার ছবি তুলা কাল পেপারে…
[ জবাব দিন ]
তপু, তুমি এসেই আমার ছবি তুলে দিলে, এত দিন কেউ এ কাজটা করলোনা।
[ জবাব দিন ]
পাপারাৎই তপু
[ জবাব দিন ]
জন্যঃ পাপারাৎই
পড়ুনঃ পাপারাৎজি
[ জবাব দিন ]
অভিনন্দন ভাবিপ্পু
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
কাইয়ুম ভাই, এইটা কি আমার ছবি তোলা নিয়ে দেখাইলেন?
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
কাইয়ুম ভাই কি ইমো কাইয়ুম হয়ে গেলেন নাকি?
[ জবাব দিন ]
যাক, অবশেষে একটা পর্বের হ্যাপি এন্ডিং ……

নিয়মিত লিখো ভাই …… তুমি বা রকিব বা ছোট আদনান এত চমৎকার লিখ, কিন্তু তিনজন তিন সিরিজের মাঝে বসায়ে রাখছো …… তোমাদের মতন লিখতে পারলে তো সিসিবি ভাসায়ে দিতাম ……
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
কি ব্যাপার মাহমুদ ????
[ জবাব দিন ]
একটু তাইফুর ভাইরে দরকার। আপনিও দেখি ভাই অমায়িক হয়ে যাচ্ছেন। আমার কাছে কেন যেন মনে হচ্ছে এই পর্বটা ভালো হয় নি। জোড় করে লিখেছি লেখাটা। সিরিজ কি চালিয়ে যাবো ভাই?
[ জবাব দিন ]
আবার জিগস ?????
সিরিজের পর্ব আলাদা করে মুল্যায়ন করা আমার কাছে ঠিক মনে হয়না।
যা হোক, আশা করছি তুমি নিয়মিত লিখবে।
[ জবাব দিন ]
আজকেই আশা রাখি পরের পর্ব পেয়ে যাবেন।
[ জবাব দিন ]
মইনুল ভাইয়া, আপনি হ্যাপী এন্ডিং কোথায় দেখলেন? মাত্র চাকরিতে জয়েন করতে যাচ্ছে।
থাক ভাইয়া তুমিই লিখ। এইখানে শেষ করতে চাইলে করতে পারো। আমিও মইনুল ভাইয়ার মত হ্যাপী এন্ডিং পছন্দ করি কিনা। 
সামনেতো মনে হল তার অনেক লম্বা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। আপনি কি মনে করেন?
ভাইয়া শার্লী, তোমার যদি অসুবিধা না থাকে প্লীজ, আরেকটু বিস্তারিত লিখ। খাগড়াছড়ি তে জয়েন করার পর, স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনতে পার খাগড়াছড়ি তে। আমি যদি বলে দিই, তুমিই কি লিখবে?
ভাল লেগেছে।
[ জবাব দিন ]
আসলে আমি পর্বের হ্যাপি এন্ডিং কথা বলেছি…… আগের পর্বগুলোতে মনে হয়েছে দুনিয়া সব কষ্ট মনে হয় এই ছেলেটির জন্যে বরাদ্দ করা হয়েছে ……
[ জবাব দিন ]
ভাবিপ্পু, স্মৃতি আর ফিরবে না। প্লটটা একটু অন্য ধরনের। রোমান্টিক লেখা আমাকে দিয়ে হয় না। তাই অন্য দিকে লেখা এগোতে পারে, সবাই যদি চায় আর কি।
[ জবাব দিন ]
ভালো ছিলো…
শুধু কোন ডায়ালোগ ছিলনা
[ জবাব দিন ]
আমি কোন এক অদ্ভুত কারএ ডায়লগ সাজাতে পারি না। আর আমি জানি আমার লেখা খুব একটা ভালো ছিল না
। শুধু শুধু প্রশংসা করার দরকার নাই।
[ জবাব দিন ]
এই পর্বটা বেশ ভাল লাগল শার্লী।

আমরা অনেকেই মনে হয় হ্যাপি এন্ডিং পছন্দ করি। খুব খুশী হব যদি এইটারও শেষমেশ একটা হ্যাপি এন্ডিং হয়।
পরের পর্বগুলো দিতে বেশী দেরী কইর না।
[ জবাব দিন ]
পরের পর্ব তার মানে দিতে হবে? ভাই জীবনে একটু কষ্ট না থাকলে আনন্দের স্বাদ কি বোঝা যায়? মনে হয় না। তাই কষ্টের দরকার আছে।
[ জবাব দিন ]
প্র্যাকটিক্যাল জীবনে যদি দেখো, তাহলে তুমি খেয়াল করবে, কেউ যদি নিজের অবস্থানে নিজেকে সুখী ভাবতে না পারে, তাহলে প্রেম, সন্মান বা অর্থ থাকা সত্ত্বেও সে সুখী হতে পারবে না।
ছেলেটাকে (এখনও তুমি নায়কের নাম দাওনি) কোটিপতি বা প্লেবয় বানানোর দরকার নেই,
এমন অবস্থানে নিয়ে যেও, যেন সে ভাবতে পারে – হুমম, ভালোই আছি।
[ জবাব দিন ]
নায়কের নাম যখন না দিলেই নয় তখন দিব। প্রথম পুরুষে লেখা গল্পতো তাই আর নাম দেয়া প্রয়োজন মনে করি নাই।
[ জবাব দিন ]
শার্লী, তোর অচো’গিরি দুই দিন পর থেকে শুরু করিস…
আমারে আবার মাস খানেকের জন্য হাইবারনেশনে যাইতে হইব…
দুই দিনের মধ্যে যদি আরেক পর্ব না নামাস…তোর কোন পায়ে জানি ব্যাথা??????
[ জবাব দিন ]
জুনা ভাই… যাওয়ার আগে আপনিও আপনার সিরিজের দুই তিন পর্ব দিয়ে যেয়েন…
[ জবাব দিন ]
ঐটা কেবল সূচনা পর্ব ছিল…
এরপর আসল কাহিনী শুরু হইব…আপাতত একটা লিখছি…কিন্তু শেষ করতে পারব না মনে হয়…
[ জবাব দিন ]
পরের পর্ব পেয়ে যাবেন ভাই।
[ জবাব দিন ]