ফাঁসির রশিতে মুক্তিযোদ্ধা রওশন ইয়াজদানী

মূল : সাইফুদ্দাহার শহীদ; ৬ষ্ঠ ব্যাচ; ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ।
অনুবাদ : সানাউল্লাহ

ভুমিকা
লেখাটি একটি ভূমিকা দাবি করে। নিচের লেখাটির মূল লেখক ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৬ষ্ঠ ব্যাচের সাইফুদ্দাহার শহীদ। লেখাটির লিংক তিনি দিয়েছিলেন ফৌজদারহাটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ইয়াহু গ্রুপ মেইলে। এটি আমাকে আবেগতাড়িত করে। সিসিবির সক্রিয় সদস্যরা জানেন, আমি গত কয়েকমাস ধরে এখানে একটি স্মৃতিকথা লিখছি। লেখার বর্তমান পর্যায়ে আশির দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংকটের কথা আসছিল। ব্লগারদের একটা বড় অংশ আশির দশকের কম আলোচিত ও আড়ালে থাকা সেনা অভ্যূত্থান, হত্যা-খুন-ফাঁসিসহ তখনকার পরিস্থিতি-পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইছিল। সবার দাবি মেটাতে তাই শুধু স্মৃতির ওপর ভরসা নয়, আমাকে কিছু পড়াশুনার কাজও করতে হচ্ছে। এ সময় সাইফ ভাইয়ের লেখাটি হাতে এলো। ওই সময়টা জানতে তার লেখাটি প্রাসঙ্গিক হবে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। সাইফ ভাই লেখাটি অনুবাদ ও সিসিবিতে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যে সিসিবিতে তালিকাভুক্তও হয়েছেন। মূল লেখাটি এবং সাইফ ভাইয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটের লিংক নিচে দিয়ে দিলাম। সাইফ ভাই দীর্ঘদিন ওফায় সক্রিয় ছিলেন। সে হিসাবে তাকে চিনি। তবে এমনভাবে তাকে চেনাটা আগে হয়নি। পেশায় মূলতঃ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হলেও এখন তিনি তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। গত এক দশক ধরে মার্কিন প্রবাসী। আগ্রহীরা সাইফ ভাইয়ের সাইটটি ভ্রমণ করতে পারেন। অনুবাদক হিসাবে আমি নিজের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়েছি।

সাইফ ভাই মনে করিয়ে দিয়েছেন, লেখাটির মূল উদ্দেশ্য কোনো বন্ধু বা অন্য কাউকে হেয় করা নয়। প্রিফেক্টের সঙ্গে ক্যাডেটদের দ্বন্দ্বও নয়, যা কলেজে সচরাচর হয়ে থাকে। বরং মানুষ, স্বপ্নচারী, নীতিনিষ্ট, বন্ধুত্বপরায়ন একজন রওশন ইয়াজদানীকে সামনে নিয়ে আসা। আর এ কারণে কলেজের ঘটনাটা এখানে এসেছে। ১৯৮১ সালে জিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রওশন ইয়াজদানীর বিরুদ্ধে যে অন্যায় এবং মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং প্রহসনের বিচারে তাকে ফাঁসিতে হত্যা করা হয়েছে সেই ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসা।

রওশন ইয়াজদানী নামটার সঙ্গে আমি প্রথম পরিচিত হয়েছিলাম ১৯৮১ সালে। সে বছর ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে সেনা কর্মকর্তাদের একটি ক্ষুদ্র অংশের হাতে নিহত হন। সেদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে গিয়েছিলাম। খবরটি জানাজানি হতেই মূহুর্তে বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁকা হয়ে যায়। আমিও আকষ্মিক সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের বাসে চড়ে বসি। উদ্দেশ্য ছিল সেখানকার পরিস্থিতি কাছ থেকে জানা-বোঝা। সার্কিট হাউজের চারপাশ দিয়ে ঘোরাঘুরি করেছি, কিন্তু ভেতরে ঢোকার সাহস হয়নি। ওই সময় ঢাকা বেতার আর টেলিভিশন থেকে অভ্যূত্থানকারীদের নাম ধরে ধরে আত্মসমর্পনের আহ্বান জানানো হচ্ছিল। তখনো জানতাম না তিনি প্রাক্তন ফৌজিয়ান। পরে বিচার প্রক্রিয়া ও ফাঁসিতে মৃত্যুর সুবাদে তার নামটা ভালোভাবেই জানা হয়ে যায়। জেনারেল মনজুরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং জিয়া হত্যা ও অভ্যূত্থানের বিচারের নামে প্রহসনের আজো সুরাহা হয়নি। সাইফ ভাইয়ের লেখাতে বিচারের নামে আসলেই যে প্রহসনই হয়েছিল তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি বা বেগম খালেদা জিয়াকে দু’দুবারের শাসনামলে জিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকৃত তদন্তে কখনো উৎসাহিত দেখা যায়নি। আজ সময় এসেছে ওই প্রহসন উদঘাটনের এবং জিয়া হত্যার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ও দোষীদের চিহ্নিত করার। আমরা রওশন ইয়াজদানী বা ওই সময় খুন-ফাঁসিতে নিহতদের কাউকে ফিরে পাবো না। তবে সত্যটা জানলে সবাই শান্তি পাবো। অন্যায় ও মিথ্যা অভিযোগ মাথায় নিয়ে যারা মাটির নিচে শুয়ে আছেন, সত্য উদঘাটিত হলে তাদের পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও ঘনিষ্টরা স্বস্তি পাবেন, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন।

ফাঁসির রশিতে মুক্তিযোদ্ধা রওশন ইয়াজদানী

Rowshan1প্রিয় বন্ধু রওশন ইয়াজদানী

রওশন ইয়াজদানীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবরটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ আমাকে ফোনে নিশ্চিত করলো। ও আরো জানালো, শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত ইয়াজদানী বাঁচার চেষ্টা করেছে, বেঁধে রাখা পা দিয়েই অন্ধকূপ বেয়ে ওঠার চেষ্টা করে সে তার মৃত্যুকে বিলম্বিত করেছে এবং কষ্ট পেয়েছে। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে এটাই তো আশা করা যায়। নিজের বিরুদ্ধে সব অপ-তৎপরতার কথা জানা ছিল যদিও, তবুও মৃত্যুতে ইয়াজদানী লড়াই চালিয়ে গেছে। এটা ১৯৮১ সালের শেষ দিকের কথা।

আমি খুব ভালো করে জানি ভারী ওজনের একজন মানুষকে যখন ফাঁসির কাঠে ঝোলানো হয়, নিজের শরীরের ওজনেই তার ঘাড় ভেঙ্গে যায় এবং তার মৃত্যু দ্রুত ও কম যন্ত্রণার হয়। কিন্তু যার ওজন কম, এমন মানুষের ফাঁসিতে মৃত্যূ! শরীরের ভারে তো ঘাড় সহজে ভাঙ্গে না। গলায় আটকানো ফাঁসির রশিতে ভীষণ শ্বাষকষ্ট হয়, মৃত্যুযন্ত্রণা বাড়ায়। হাত-পা এমনকি মাথাটা পর্যন্ত কালো কাপড়ে বাঁধা! ফুসফুস তাজা বাতাসের জন্য তখন আকুপাকু করে! শান্তির মৃত্যু তখন ওই মানুষটার জন্য কতোটা আকাঙ্খার! আহ্, আমি আর এর বেশি কিছু ভাবতে পারি না।

ফোনটি রেখে দেওয়ার পর স্মৃতি আমাকে ২০ বছর পেছনে নিয়ে যায়। আমি দেখি র্ওশন রাগত স্বরে আমাকে বলছে, “আর তুই কিছু করলি না, তুই তাদের কেন পেটালি না?” আমার যন্ত্রণা আর অপমান ওকে কতোটা ছুয়ে গিয়েছিল আমি সেটা বুঝতে পারি। আমি বুঝতে পারি ও আমাকে কতোটা ভালোবাসে, আমার জন্য ভাবে। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ইয়াজদানী আর আমি একই কক্ষে থাকতাম। আমাদের সঙ্গে আরো ছিল শামস (শামস আহাদ, বর্তমানে কানাডা প্রবাসী), ও তখনো কাঁদছিল। এক-দুটো চড়-থাপ্পরের শারিরীক আঘাতের চেয়ে অপমানটা ওকে বিদ্ধ করেছিল বেশি। রওশন মানতে পারছিল না তার একই কক্ষের বাসিন্দা, দুই বন্ধুকে তাদেরই ক্লাসের প্রিফেক্টরা মারধর করেছে, অপমান করেছে। অথচ ওর বন্ধুরা লড়াই করেনি, পাল্টা আঘাত করেনি। রাগে-ক্ষোভে ফুসছিল ও। শারিরীকভাবে ইয়াজদানী আমাদের চেয়ে আকারে ছোট ছিল, কিন্তু মানসিকভাবে আমাদের চেয়ে বেশি সাহসী। অবশ্যই ওর হৃদয়টা ছিল অনেক বড়।

পুরো বিষয়টি শুরু হয়েছিল একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে। আমাদের বোর্ড পরীক্ষার আগে আগে। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামে হলেও আমরা ছিলাম ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। ক্লাস ইলেভেন ও টুয়েলভ ছাড়া বাকিরা ছিল ছুটিতে। পরীক্ষার জন্য আমরা কলেজে ছিলাম। ঘটনার দিন দুপুরে আমরা লাঞ্চের জন্য ডাইনিং হলের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাদের কয়েকজন তখন একজন জুনিয়রের সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক (জুনিয়রটি অবশ্য তখন ছুটিতে ছিল) নিয়ে মেসবাহকে টিজ করছিল। প্রিফেক্ট মেসবাহ (বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী এবং আমার ভালো বন্ধু। এখনো নিয়মিত ফোনে কথা হয়) অবশ্য বন্ধুদের টিজ করাটা পছন্দ করেনি। আমাদের ক্লাসের অন্য প্রিফেক্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শামস, মুশফিক এবং আমাকে লাঞ্চের পর ডাইনিং হলের সামনে থাকতে বললো মেসবাহ।

আমাদের ক্লাসের অন্য প্রিফেক্টরা ছিল তানভীর (এখন অবসরপ্রাপ্ত জ্বালানি সচিব), বাশার (অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার) এবং নাসিম (প্ল্যান্টার ও আমার ঘনিষ্ট বন্ধু)। মেসবাহ আর আমার সম্পর্কটাও ভালো ছিল। আগের ছুটিতে আমি রাজশাহীতে ওদের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম এবং তার বাবা-মা-বোনদের সঙ্গে ডিনার করেছিলাম। এরপরের ঘটনাটা আমাদের জন্য ভীষণ অপ্রীতিকর হয়ে উঠলো। আমাকে আর মুশফিককে দুটি আলাদা বাথরুমে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে আটকে রেখে টিজ করার কারণে সব প্রিফেক্টরা শামসকে নিয়ে ব্যস্ত হলো। ওখানে কি হচ্ছিল, আমি ঠিক জানিনা। কিন্তু বাথরুমের নেট দরজার বাইরে থেকে দেখলাম ৫/১০ মিনিট পর শামস মাথা নিচু করে, সম্ভবত কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যাচ্ছে। তারপর তারা মুশফিককে (ডা. মুশফিকুর রহমান, বর্তমানে মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী) নিয়ে গেল। আবারো আমি দেখলাম মুশফিক একইভাবে বেড়িয়ে যাচ্ছে। এসব কিছু আমাকে ক্ষিপ্ত করে তুলছিল। কিন্তু নিজেকে আমি শান্ত রেখেছিলাম। আমি কোনো প্রিফেক্টের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়াতে চাইছিলাম না, কারণ এদের কলেজ প্রশাসনের অংশ মনে করা হতো। এ অজুহাতে আমাকে সঙ্গে সঙ্গে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার আশঙ্কা ছিল।

আমাকে যখন ওই কক্ষে নেওয়া হলো, মেসবাহ জানতে চাইলো কেন আমি তাকে টিজ করেছি। আমি বললাম, এটা ঠাট্টা, বড় কিছু না। কিন্তু সে বললো, এটা তার জন্য ঠাট্টা নয়। এরকম আর কখনো হবে না, এমন অঙ্গীকার সে আমার কাছে চাইলো। আমি আবার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ব্যাপারটাকে হালকাভাবে নেইনি কখনো, তাই সহজে এরকম কোনো কিছু করার ব্যাপারে রাজি ছিলাম না। কিন্তু সে বারবার একই চাপ দিচ্ছিল। আমি একটা শর্তযুক্ত অঙ্গীকার করতে চাইলাম যে, যদি মনে থাকে তাহলে আর এরকম হবে না।

– মনে থাকলে মানে, তুমি কি বলতে চাও? – মেসবাহ ক্ষিপ্তস্বরে জানতে চাইলো।
– তোমার শিক্ষকরা যা শিক্ষা দেন সব কিছু কি তুমি মনে রাখতে পারো? – আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম।

আমাদের ক্লাসে আমাদের তিনজনের তুলনায় মেসবাহ তেমন ভালো ছাত্র ছিল না। সে আমার কথাটিকে আরো অপমান হিসাবে নিল। সে আমার কাছে এগিয়ে এলো, সামনের ছোট টেবিলটার ওপর বাম পা’টা তুলে দিয়ে (ও আমার চেয়ে আকারে ছোট ছিল) আমার চুল ধরতে হাত বাড়ালো।

– আমার চুল ধরবে না, আমি বললাম।
– প্রথমে তুমি প্রতিজ্ঞা করবে আমাকে আর কখনো টিজ করবে না। একথা বলতে বলতে সে হাতের আঙ্গুল আমার চুলের ভেতর ঢুকিয়ে মাথা ধরতে এবং ঝাঁকা দিতে গেল।

হঠাৎ করেই আমার ডান হাতটি আমাকে এবং বাকি সবাইকে বিষ্মিত করে এগিয়ে গিয়ে মেসবাহর নাকে-মুখে জোরালোভাবে আঘাত হানলো। যন্ত্রণায় সে নুয়ে পড়লো এবং অন্য প্রিফেক্টরা আমার দিকে ছুটে এলো। আমি তাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বললাম, ‘ভুলে যেও না, তোমরা চারজন আর আমি একা।’ আমি আসলে লড়াকু ধরণের ছেলে ছিলাম না। আমি নিজেও বুঝতে পারছিলাম না, হঠাৎ করে ওই সময়ে আমার কি হয়েছিল যে, আমি ওইরকম আচরণ করেছিলাম। একজন প্রিফেক্ট বললো, ‘ঠিক আছে, সাইফুদ্দাহার চলে যাক। আমরা বিষয়টা ক্যাডেট ক্যাপ্টেনের কাছে অভিযোগ করবো।’ তারা নিজেরা নিশ্চিত হয়েছিল যে, কলেজ থেকে বহিস্কারের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি আমি, তাই আমার ওপর হাত তুলে আর লাভ নেই।

মেসবাহর নাক থেকে সম্ভবত রক্ত ঝরছিল, এ কারণে ক্যাডেট ক্যাপ্টেনের কাছে পৌঁছাতে তাদের কিছুটা দেরি হয়। আমি খুব দ্রুত ভাবলাম। আমি যে ঘটনাটি ঘটিয়েছি তার পরিণতি হচ্ছে ক্যাডেট কলেজ শৃঙ্খলায় বড় ধরণের অপরাধ, যার একমাত্র শাস্তি কলেজ থেকে বহিস্কার। আমাদের বোর্ডের পরীক্ষা আর মাত্র ৭দিন পর। এই সময়ে আমাকে যদি বের করে দেওয়া হয়, আমি কোথাও ভর্তি হওয়া ও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবো না। আমি আরো জানতাম বিষয়টা আমার বাবাকে আহত করবে। আমি জানি অভিভাবকের আয়ের উপর ভিত্তি করে কিছু বৃত্তি পেলেও আমার কলেজের খরচ জোগাতে বাবাকে তার একটি বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছিল। তাই, আমি তখন সিদ্ধান্ত নিলাম আমিই আগে ক্যাডেট ক্যাপ্টেনের কাছে যাবো। মির্জা রকিবুল হুদা তখন ক্যাডেট ক্যাপ্টেন এবং তিনি আমার সম্পর্কে জানতেন। আমি তাকে পুরো ঘটনা খুলে বললাম। আর এটাও জানালাম যে আমি একজন প্রিফেক্টকে মেরেছি। তিনি শান্তভাবে শুনলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘তুমি নিশ্চিত করো, কেউ যেন জানতে না পারে যে তুমি একজন প্রিফেক্টকে মেরেছো। তা না হলে আমি তোমাকে রক্ষা করতে পারবো না।’ আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, আমি কাউকে এ ঘটনা সম্পর্কে কিছু বলবো না। তিনি তখন একটা কাঠের রুলার বের করলেন এবং আমাকে হাত পাততে বললেন। আমার হাতের তালুতে তিনবার আঘাত করে তিনি শাস্তি দিলেন।

পরে প্রিফেক্টরা এ নিয়ে ক্যাডেট ক্যাপ্টেনের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে। তিনি প্রিফেক্টদের বোঝাতে সক্ষম হন যে বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। তিনি বললেন, ‘এটা জানাজানি হলে সাইফুদ্দাহার বহিস্কার হবে নিশ্চিত, কিন্তু বাকি সবটা সময় ক্যাডেটরা মেসবাহকে দায়ী করবে। আরো বলবে, একজন ক্যাডেট এই প্রিফেক্টকে পিটিয়েছে। কলেজের ইতিহাসে কোনো ক্যাডেট কোনো প্রিফেক্টকে এর আগে কখনো মারার সাহস করেনি।’ আমি ধারণা করি এই সময়ের মধ্যে প্রিফেক্টরাও বুঝে গিয়েছিল, তারাও কাজটা ভালো করেনি, আর তদন্ত হলে তারাও সমস্যায় পড়ে যাবে। তাই তারা ক্যাডেট ক্যাপ্টেনের পরামর্শ মেনে চলার ব্যাপারে একমত হলো।

Rowshan2মেজর রওশন ইয়াজদানী

এ কারণে আমি রওশনকে পুরো কাহিনী বলতে পারিনি। যখন সে প্রশ্ন করলো, ‘তুই কি তাকে পাল্টা আঘাত করেছিস?’ আমি নেতিবাচকভাবে মাথা নেড়েছিলাম।
– কাপুরুষের মতো তোরা মার খেলি?
– হ্যা।
– তোদের জন্য আমার লজ্জা হয়।

সে কোনোমতেই তার রাগ দমাতে পারছিল না। হঠাৎ করেই আমার ভীষণ ভালো লাগতে শুরু করলো। আমার বন্ধু ক্ষিপ্ত হয়েছে, কারণ এই অপমান তাকেও দগ্ধ করেছে। বন্ধুদের জন্য ওর হৃদয়ে এতোটাই ভালবাসা ছিল।

আমাদের গল্পটা এখানেই শেষ নয়। খেলার পর সেই সন্ধ্যায় প্রিফেক্ট ছাড়া আমাদের ক্লাসের সবাই সুইমিং পুলের কাছে জড়ো হয়েছিলাম। খোলামেলা আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হলো, ওই প্রিফেক্টদের একটা শিক্ষা দিতে হবে। রওশন (ফাঁসিতে মৃত্যু), হাবিব (মৃত), শাকুর (মৃত) এবং আরো কয়েকজন ভীষণ আবেগপ্রবণ বক্তব্য দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিল। ডিনারের ঠিক পরপর, আমরা যখন ডাইনিং হল থেকে বেরিয়ে প্রেপের জন্য ক্লাসের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি; হঠাৎ করেই আমাদের একজন মেসবাহর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওকে মাটিতে ফেলে দিল। অন্যরা যারাই সুযোগ পেল তাকে কিল-ঘুষি, লাথি মারতে থাকলো। সব কিছু ঘটে গেল খুব অল্প সময়ের মধ্যে। কিন্তু ক্ষতিটা হলো যথেষ্ট। মেসবাহকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো।

খবর শুনে প্রিন্সিপাল কর্নেল ব্রাউন আসলেন এবং আমাদের সবাইকে মিলনায়তনে নিয়ে গেলেন। আমরা নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে সেখানে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। আমাদের কাজটিকে অভ্যূত্থান বা বিদ্রোহ হিসাবে মনে করা হলো। একজন প্রিফেক্টেকে আঘাত করার অর্থ হলো কলেজ প্রশাসনকে আঘাত করা। কর্নেল ব্রাউনকে বেশ উদ্বিগ্ন দেখা গেল। তিনি বললেন, তার সারা জীবনের অর্জন শেষ হয়ে গেছে। তিনি জানতে চাইছিলেন, কে মেসবাহকে মারার জন্য দায়ী। সারির প্রথমে ছিল শরীফ। যখন প্রিন্সিপাল জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কি ওকে মেরেছো?’ শরীফ দৃঢ়তার সঙ্গে উত্তর দিল, ‘হ্যা, স্যার।’ প্রিন্সিপাল পরের জনকে একই প্রশ্ন করলেন, সেও একই উত্তর দিল, ‘হ্যা, স্যার।’ আমাদের সবাই একে একে একই উত্তর দিল, ‘হ্যা, স্যার।’ নুসরাত (মৃত) অন্যদের তুলনায় শারিরীকভাবে ছিল ছোট আকারের। তাই সেও যখন বললো, ‘হ্যা, স্যার’, বিষ্মিত প্রিন্সিপাল জানতে চাইলেন, ‘শারিরীকভাবে?’ তার উত্তর তখনো ছিল, ‘হ্যা, স্যার।’

এরপর প্রিন্সিপাল এই অপকর্মের হোতাদের নাম জানতে চাইলেন। তিনি এই প্রশ্নটিই করলেন, ‘তুমি কি এই দলের নেতা?’ এইবার সবাই একে একে বললো, ‘না, স্যার।’ এটা আমার জীবনের ভীষণ স্মরনীয় একটি মূহুর্ত ছিল। আমি আমার জীবনে কখনো সংহতির একরকম জোরালো প্রকাশ দেখিনি। ‘হ্যা, স্যার’ বলে আমাদের সবাই নিজেদের কলেজ থেকে বহিস্কারের মুখে ঠেলে দিয়ে যার যার ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে তুলেছিল। কিন্তু ওই মূহুর্তে আমাদের বন্ধুত্ব, আস্থা ও সহমর্মিতা ছিল অন্য সব কিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কলেজ কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত আমাদের কারো বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

পরে কখনো কখনো আমি ভাবি, কেন আমরা পরের জীবনে রওশনের জীবন বাঁচাতে একই ধরণের জোরালো বন্ধুত্ব এবং সহমর্মিতা দেখাতে পারিনি? বাংলাদেশে এটা বলা হয়, যথাযথ সম্পর্ক এবং যোগাযোগটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রওশনের বেলায় এটা কেন কাজ করলো না? ক্যাডেট কলেজে রওশনের ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল আশরাফ। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফ তখন নিরাপত্তা গোয়েন্দার কর্তা এবং তখনকার লৌহমানব (?) এরশাদের খুব কাছের লোক। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ ছিল এরশাদের পিএস। আমিন (সিএসপি) রাষ্ট্রপতির পিএস ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের সময় জিয়ার সঙ্গে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ছিল। আনিস (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পরে এরশাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিল) সেই রাতে জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছিল। সবাই ছিল রওশনের খুব ঘনিষ্ট এবং জানতো ও ষড়যন্ত্রকারী বা হত্যাকারী ধরণের মানুষ ছিল না। রওশন সব সময় ন্যায়ের পক্ষে থাকতো এবং এটাই ছিল ওর বিশ্বাস।

শেষ ইচ্ছা হিসাবে জেল কর্তৃপক্ষ রওশনকে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধুর কাছে একটি সংক্ষিপ্ত টেলিগ্রাম পাঠানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। এনএসআই পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফ পেয়েছিল রওশনের টেলিগ্রামটি। এতে শুধু লেখা ছিল, ‘আমাকে বাঁচাও।’

Group-saif-moazzem-rowshan-mushfiqবাঁ থেকে আমি, মোয়াজ্জেম (অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, বর্তমানে রাওয়া ক্লাব সভাপতি), রওশন ও মুশফিক

রওশন একজন আধুনিক কৃষক হতে চেয়েছিল। এটাই ছিল তার স্বপ্ন। ছুটিতে আমরা ট্রেনে রাজশাহী এক্সপ্রেসে করে বাড়ি ফিরতাম। চট্টগ্রাম থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছানোর আমাদের ভ্রমণটা হতো ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়ের। রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কলেজ প্রশাসন আমাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে রাখতো। এর ফলে আমরা একটা তৃতীয় শ্রেণীর রিজার্ভ কামরায় ভ্রমণ করতাম। ভ্রমণের শেষ পর্যায়ে যখন বাকি সবাই নেমে যেত, রওশন, হাবিব আর আমি থাকতাম ওই কামরার শেষ যাত্রী। এটা আমাদের নিজেদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা ও স্বপ্নগুলো ভাগাভাগি করার চমৎকার সুযোগ এনে দিত। রওশনের বাবা দত্তনগর সরকারি কৃষি পরীক্ষাগারে কাজ করতেন। সেখানকার খামারে ট্রাক্টর চালানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা আমাদের বলতো রওশন। মেয়েদের নিয়ে ওকে কখনো তেমন একটা কথা বলতে আমি শুনিনি। সবসময় সে বলতো তার স্বপ্নের খামারের কথা। সে চাষের জন্য ট্রাক্টর, টিলার, সেচ পাম্প এবং উন্নতমানের বীজ ব্যবহার করে তার আদর্শ খামারকে অন্য কৃষকদের সামনে অনুসরনীয় করে তুলতে চেয়েছিল। অসাধারণ বাঁশি বাজাতো ও। গভীর রাতে ও যখন বাঁশিটা বের করে সুর তুলতো, আমরা তখনো ওর স্বপ্নের খামারের কথা ভাবতাম। আমার মনে হয়, আমাদের মধ্যে রওশনই ছিল একমাত্র ক্যাডেট, যে কৃষক হতে চেয়েছিল। কলেজ থেকে বেরিয়ে আমাদের বন্ধুদের বেশির ভাগ যখন কাকুলের (পাকিস্তানে অবস্থিত) মিলিটারি একাডেমি, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো; রওশন তখন ময়মনসিংহে গিয়ে ভর্তি হলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রওশন তার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধে যোগ দিল, সেনাবাহিনীতে কমিশন পেল। সেনাবাহিনীতে ও যোগ দিয়েছিল দেরিতে, তাই তার বন্ধুরা যখন কর্নেল বা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তখনো সে ছিল মেজর পদমর্যাদায়।

আমি যতদূর জানতে পেরেছি, রওশন জিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল না। ওই রাতে (৩০ জুন, ১৯৮১) যারা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে গিয়েছিল কিম্বা পরিকল্পনায় যারা জড়িত ছিল তাদের মধ্যে ও ছিল না। যখন চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন সে ছিল জেনারেল মনজুরের স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে। ও ওই পরিবারটির জন্য একটা নিরাপদ জায়গা খুঁজছিল। ততক্ষনে মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে। আবারো সেই রওশন- যে অসহায়, দুর্বলের পাশে তাদের সাহায্যের জন্য ছিল। যখন অন্যরা মনজুরকে ছেড়ে এরশাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে, রওশন তখন পরিত্যাক্ত জেনারেলের পরিবারকে রক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

কলেজের দিনগুলোর পর আমার সঙ্গে রওশনের আর দেখা হয়নি। একবার আমি ময়মনসিংহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ওর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে সে তখন সেখানে ছিল না।

আমি এখনো রওশনের একটা স্মৃতি বয়ে বেড়াই। যে স্বপ্নের সাম্রাজ্যটা ওর কখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি, একটা আদিগন্ত ধানের ক্ষেতে পূর্নিমা রাতে দাঁড়িয়ে ও বাঁশি বাজাচ্ছে। কিন্তু এক সময় এই সুখের চিত্রটি মুছে গিয়ে স্মৃতিতে ভেসে উঠে ফাঁসির রশির প্রান্তে অসহায়ভাবে ঝুলন্ত আমার প্রিয় বন্ধুর মুখ। নিরবে নিজের চোখের পানিটুকু মোছা ছাড়া ওই সময় আমি আর কিছুই করতে পারিনা।

[মূল লেখাটি ও এর লিংক এবং প্রাক্তন ক্যাডেট সাইফুদ্দাহার শহীদ -এর ওয়েবসাইট এখানে পাওয়া যাবে।]

১০,০১০ বার দেখা হয়েছে

৮৭ টি মন্তব্য : “ফাঁসির রশিতে মুক্তিযোদ্ধা রওশন ইয়াজদানী”

  1. নাজমুল (০২-০৮)

    :( খুবই খারাপ লাগলো লেখাটা পড়ে
    কিন্তু ক্লাস মেট দের মধ্যে প্রিফেক্ট নিয়ে সমস্যাটা বোধহয় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে
    সানা ভাই কিছু মনে করবেননা আপনাদের সময় কি এই সমস্যাটা ছিল??

    জবাব দিন
  2. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    লেখা পড়তে পড়তে একই সাথে প্রচন্ড ক্ষোভ এবং কান্না এল...মাঝে মাঝে খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়, এদেশে একসময় সকল প্রহসনের বিচার হবে এবং আমরা প্রকৃত সত্য জানতে পারব...
    সানা ভাই, লেখাটা শেয়ার করার জন্য আপনারে স্যালুট...

    অফটপিকঃ তত্‍কালীন প্রিফেক্টদের সাথে ব্যাচমেটদের সম্পর্ক দেখে অবাক হলাম...


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      অবশ্যই জুনা সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই।

      মনে রেখো, আমরা যে সময়ের কথা লিখছি ও বলছি, সেটা ষাটের দশক। ক্যাডেট কলেজেরও শুরুর দিক। তখনকার শৃঙ্খলাও ছিল অনেক কঠোর। স্বাধীনতার পর যেটা অনেকটা বদলে যায়। আর এটা তো কোনো নিয়মিত ঘটনা না। একটা ঘটনা মাত্র। এরকম আরো হয়েছে বলে শুনিনি। আমাদের সময় তো ক্যাডেট ক্যাপ্টেনকে পর্যন্ত টিজ করতাম। আরো যা যা করেছি সেসব লিখলাম না। (সেন্সরড) ।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  3. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    খুবই মন খারাপ হয়ে গেলো ......

    মাঝে মাঝে খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়, এদেশে একসময় সকল প্রহসনের বিচার হবে এবং আমরা প্রকৃত সত্য জানতে পারব

    ইনশাল্লাহ ...কোনো একদিন ...

    জবাব দিন
  4. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    খুব কষ্টের অনুভূতি হল।

    বারবার এসে ফিরে যাচ্ছি কিন্তু মন্তব্য করার মতো কিছু ভেবে পাচ্ছি না।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      ভীষণ কষ্টের অনুভূতি কামরুল। প্রথম পড়ার পর একরকম তীব্র আবেগাক্রান্ত হয়েই তাই লেখাটা অনুবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, আরো অনেক বেশি মানুষের সঙ্গে এই অন্যায় হত্যার ঘটনাটি ভাগাভাগি করা প্রয়োজন। মানুষ সত্য জানুক। ইতিহাসের অন্ধকার সম্পর্কে আরো বেশি করে জানুক। প্রতিবাদে উচ্চকিত হোক সবাই। দাবি তুলুক সত্য জানার।

      ওই সময়ের সত্য অনুসন্ধানে সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠন করার দাবি আমাদের জানাতে হবে।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  5. মোস্তফা (১৯৮৮-১৯৯৪)

    লেখাটি পড়ে খুব মনটা খুব খারাপ হল। এ রকম আরো কত শত মৃত্যু যে ঘটেছে মানব সভ্যতার ইতিহাসে তার মনে হয় ইয়ত্যা নেই। প্রতিটি মৃত্যুর বিনিময়েই আসলে আমাদের এই সভ্যতার ক্রমবিকাশ-এই সত্যটি আমাদের সকলের সব সময় মনে রাখা উচিত। প্রতিটি বিপ্লব, স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ, গণমানুষের অধিকারের জন্য আন্দোলন-এই সব কিছুর ফলেই আজ আমরা ব্যক্তি স্বাধীনতা উপভোগ করছি। সেই সব মানুষের আত্মার প্রতি রইল অজস্র শ্রদ্ধা।

    রওশন ভাইয়ের ঘটনাটি সিসিবির সাথে ভাগ করার জন্য লাভলু ভাইকে বিশেষ ধন্যবাদ। ব্যাচমেটদের সাথে প্রিফেক্টদের ব্যবহারে যারপর নাই বিষ্মিত!

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      মোস্তফা, উনি যদি প্রকৃতই ঘটনার পরিকল্পনাকারী বা ষড়যন্ত্রকারী হতেন, হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতেন তাহলে হয়তো এই শাস্তি নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতো না। জেনারেল মঞ্জুর যেমন, জিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে তার অধস্তনরা যখন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে তিনি এর দায়ভার এড়িয়ে যাননি। সেজন্য তার বিচার হতে পারতো। তা না করে ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাংকে গুলি করে হত্যা............ নিষ্ঠুরতারও একটা সীমা থাকে।

      একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন সেনা কর্মকর্তা যদি কোনো অন্যায়ও করেন, বিচারের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সম্মান-মর্যাদাপূর্ণ আচরণ দাবি করতেই পারেন এবং সেটা তাকে দিতে হয়। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও এই সম্মান দিতে হয়। পাকিস্তানিদেরও আমরা সেটা দিয়েছিলাম। কিন্তু দিইনি নিজ দেশের মানুষকে।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  6. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ সানা ভাই। পড়ে কষ্ট আর ক্ষোভ হলো। কত অন্যায়ের ইতিহাস আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি। আর এ সম্পর্কে দেশের বেশিরভাগ মানুষই পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে

    কবে যে সত্য সবার সামনে উন্মোচিত হবে!


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  7. শাওন (৯৫-০১)
    পরে কখনো কখনো আমি ভাবি, কেন আমরা পরের জীবনে রওশনের জীবন বাঁচাতে একই ধরণের জোরালো বন্ধুত্ব এবং সহমর্মিতা দেখাতে পারিনি? বাংলাদেশে এটা বলা হয়, যথাযথ সম্পর্ক এবং যোগাযোগটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রওশনের বেলায় এটা কেন কাজ করলো না?

    ঠিক কেন কাজ করলো না তার উত্তর কি কখনো পাওয়া যাবে?

    @সানা ভাই,
    অনেক সত্য আমরা জানিনা। আসলে আমাদের তো তখনও জন্ম হয়নি। আর ইতিহাস বিকৃতির যে ধারা চলছে তাতে সত্য থাকে মাটি চাপা পড়ে ।


    ধন্যবাদান্তে,
    মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শাওন
    প্রাক্তন ক্যাডেট , সিলেট ক্যাডেট কলেজ, ১৯৯৫-২০০১

    ["যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি"]

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
      ঠিক কেন কাজ করলো না তার উত্তর কি কখনো পাওয়া যাবে?

      শাওন, এর উত্তর পাওয়া খুব কষ্টকর নয়। ছাত্রত্বের সময়টা ভিন্নরকম। তখন স্বার্থবুদ্ধি, নিজের লাভালাভ বড় চিন্তা থাকে না। যতো বড় হই, ততোই বিচ্ছিন্ন হই। নিজের স্বার্থ নিয়ে বেশি ভাবি। তাই হয়তো সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা- ব্যক্তির সংকীর্ণ স্বার্থ, লাভ, ক্ষমতার কাছে হার মানে।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  8. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আমিও আকষ্মিক সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের বাসে চড়ে বসি। উদ্দেশ্য ছিল সেখানকার পরিস্থিতি কাছ থেকে জানা-বোঝা।

    সানা ভাই,

    কিছু মনে করবেন না, হয়তো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে তাও বলি- এই লাইনটা পড়ে ক্যাডেট হিসেবে ভীষণ গর্ব হচ্ছে আমার।বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আমার চাইতেও ছোট একটা ছেলে-প্রেসিডেন্ট হত্যাকাণ্ডের মত একটা ঘটনায় সারা দেশ যখন উত্তপ্ত,সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে লুকাতে ব্যস্ত,তখন কোনরকম অফিসিয়াল সাপোর্ট ছাড়া আক্ষরিক অর্থেই "ইন দা লাইন অব ফায়ারে" যাচ্ছে সত্য অনুসন্ধান করতে- এরকম খুব বেশি উদাহরণ পাওয়া যাবেনা বলেই আমার ধারনা।

    রওশন ভাইয়ের ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেও মন্তব্য করতে পারছিনা-উনার বাঁচবার আকুতি আমার কল্পনারও বাইরে।

    যারা এর জন্যে দায়ী তারা সবাই নিজ নিজ প্রাপ্য সুদে আসলে পেয়ে যাক জীবিত অবস্থাতেই(পরকালে আমার বিশ্বাস নেই)-অন্তর থেকে এটাই কামনা করছি।

    জবাব দিন
  9. হাসনাইন (৯৯-০৫)
    অন্যায় ও মিথ্যা অভিযোগ মাথায় নিয়ে যারা মাটির নিচে শুয়ে আছেন, সত্য উদঘাটিত হলে তাদের পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও ঘনিষ্টরা স্বস্তি পাবেন, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন।

    কোন হত্যার বিচারও কি হবে?
    সানাউল্লাহ ভাই;সাইফুদ্দাহার ভাই লেখাটা আমার একদম ভাল লাগে নাই; কারণ একজন মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি, একজন রওশন ইয়াজদানীর ফাঁসি বিনা প্রমাণে।

    যে স্বপ্নের সাম্রাজ্যটা ওর কখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি, একটা আদিগন্ত ধানের ক্ষেতে পূর্নিমা রাতে দাঁড়িয়ে ও বাঁশি বাজাচ্ছে।
    এতে শুধু লেখা ছিল, ‘আমাকে বাঁচাও।’

    এমন আরও অনেক কোট করতে ইচ্ছা করতেছে...

    জবাব দিন
  10. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    লাবলু ভাই,
    আপনার অনুবাদে সাইফ ভাইয়ের এই লেখাটি পড়লাম।
    মনটা খারাপ হলো অনেক খানি - ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে কালের আবর্তে।
    আমাদের চেতনা জাগ্রত হবে কবে ?
    এই প্রশ্নবানে জর্জরিত হই লাগাতার।

    রওশন ভাইকে :salute: , :boss:
    সাইফ ভাই আর আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন
  11. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    এই লেখাটার প্রথম অংশ পড়ার পর সারাটাক্ষন চোখের সামনে একটা নিরপরাধ মানুষের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বাঁচার তীব্র চেষ্ঠার দৃশ্যটা চোখের সামনে ভাসছিলো। শক্তি সঞ্চয় করে বাকীটা পড়লাম।
    ধন্যবাদ সানা ভাই। ধন্যবাদ সাইফ ভাই। এইসব সত্যিগুলো খুব বেশি বেশি করে সবার সামনে তুলে ধরা দরকার। তাতে আর কিছু না হোক, যারা মিথ্যার বসতি গড়ে অন্তত্ব তাদেরকে একটু হলেও ভড়কে দেওয়া যাবে।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
  12. সানাউল্লাহ ভাই, লিখাটা পড়ে খুবই মন খারাপ হল। এতো ঘটনার বিচার কিভাবে হবে সেটা ভাবলে কোন উপায় পাইনা। তাই যুক্তির ধার না ধেরে শুধু বিশ্বাস করে যাই যে একদিন সত্যটা প্রকাশ পাবেই।

    টেলিগ্রামটা পড়ে মনে পড়ল পিলখানা ট্রাজেডীর কথা। দরবার হলে থাকা অফিসাররাও এসএমএস করেছিল সাহায্যের জন্য, ফোনে কথা বলেছিল প্রধানমন্ত্রীর সাথে শুধু সাহায্য আসবে এই আশায়। হায়রে সাহায্য !!!!!!

    জবাব দিন
  13. তানভীর (৯৪-০০)

    খুব মন খারাপ হয়ে গেল লাবলু ভাই।

    আমি একটা কথা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি- "Nothing goes unpaid"। যারা অন্যায় করেছে তারা একদিন না একদিন তার ফল পাবেই।

    রওশন ইয়াজদানী ভাইয়ের জন্য রইল শ্রদ্ধা। :salute:

    জবাব দিন
  14. রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)

    অনেক কৃতজ্ঞতা সানা ভাই। ওফা গ্রুপে সাইফ ভাইয়ের লেখাটার হদিস পাওয়া অবধি তাগিদ অনুভব করছিলাম অনুবাদের। এতো ব্যস্ততার মাঝেও আপনি কারো অপেক্ষায় না থেকে কাজটি করে ফেললেন। সে জন্য আবারো কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ।

    জবাব দিন
  15. রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)

    আরেকটা কথা। ক্যাডেট জীবনের বন্ধুত্বের বুনিয়াদকে কেন্দ্র করে অনেক কথা হয়েছে। বন্ধু বন্ধুর জন্য কি পরিমাণ ঝুঁকি নেয়, ত্যাগ স্বীকার করে - সে সব আমরা সবাই জানি, সে সবের আলোচনা নেহাত কম হয়নি। কিন্তু অন্ধকার একটা দিকও আছে যেটা খুব কম সময়ই উপরিতলে উঠে আসে। আপনিও জানেন সে সবের কথা।

    নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা সে সব কাহিনী জানেই না, আর আগের প্রজন্ম সে সব গ্লানির কথা পারলে ভুলে থাকে। এই ক্যাডেট কলেজের ইতিহাসেই এমন কুলাঙ্গার "বন্ধু"-দের কাহিনী আমরা শুনেছি, যারা ব্যাচমেট হয়েও অন্য ব্যাচমেটকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন-হত্যার দায়িত্ব উল্লাসের সাথে পালন করেছে। অসৎ সরকারের নির্দেশে হাতে বন্ধুর এবং তার পরিবারের রক্ত মাখিয়ে সেটাকে আবার পূঁজি করে চাকুরিতে উন্নতিও করেছে। '৭১ এর যুদ্ধের সময় বাপ-বেটা মিলে যুদ্ধাপরাধ করেছে এমন গুণধর ক্যাডেটও আছেন। স্মৃতিচারণের সময় আমরা যেন অন্ধকারময় এই স্মৃতিগুলোও আলোতে নিয়ে আসি, ইতিহাসের স্বার্থে লিপিবদ্ধ করে রাখি। কারণ, এগুলো হল cautionary tale, ভবিষ্যতের ছোট ভাইবোনদের জন্য। ওদের জানা থাকলে ওরা সজাগ থাকবার স‍ুযোগটা অন্তত পাবে। বাকীটা ভবিতব্য, আমাদের দায়িত্ব জানিয়ে রাখা।

    আরেকটা কারণে বিষয়টা উল্লেখ করলাম। পিলখানা ঘটনার পর, অনেকেরই কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। নিজের ব্যাচের ক্ষমতাধর "প্রাণের বন্ধু"দের কাছ থেকে নোংরা হুমকি পেতে হয়েছে, এমন ঘটনাও খুব কম না। সে সব কিছু কিছু হুমকির ভাষা যদি এখানে উদ্ধৃত করি তাহলে আমি নিশ্চিত অনেকেই চমকে উঠবেন। একারণে আমার উপলদ্ধি - ক্যাডেট কি অ-ক্যাডেট, ঘাতকেরা চিরন্তন, তারা সব যুগে সব ব্যাচেই কিন্তু কিছু না কিছু থাকে, ভেজা বেড়াল সেজে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। অপেক্ষায় বসে থাকে মোক্ষম সুযোগের। হাতে ক্ষমতা পেলে (আর বন্ধুকে নির্যাতন সেলে নিজের নিয়ন্ত্রণে পেলে) এদের কে যে কখন কি করে বসতে পারে সে বিষয়ে হলফ করে আগাম সার্টিফিকেট দিতে আমাদের অন্তত দশবার চিন্তা করা উচিত।

    জবাব দিন
    • রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)

      @ কামরুল @ মাসরুফ
      বিষয়গুলো আসলেই উঠে আসা দরকার। যেমন ধরো আমাদের জানা দরকার, মেজর রওশন ইয়াজদানীকে নিরাপত্তা সেলে জিজ্ঞাসাবাদ কারা করেছিল? মিথ্যা মামলা কারা সাজিয়েছিল? সেখানে প্রাক্তন "বন্ধুদের" কেউ ছিল না তো? নাটের গুরু কে বা কারা ছিল তা আমরা সবাই কম বেশী জানি, কিন্তু চামচিকাগুলোকেও চেনা দরকার।

      আর মাসরুফ যাদের কথা বললে, "অল্প বয়সের ভুল" করা এই শ্রেনীটির কথা - তাদের সনাক্তকারী লক্ষণগুলোর আলোচনাও দরকার। নির্দিষ্ট নাম ধাম ঘটনার উল্লেখ করার দরকার নেই। প্রবণতাগুলো এবং লক্ষণগুলো যেন এক নজরেই চেনা যায় সেই মার্কারগুলোর উল্লেখ জরুরী। বয়স তখন কম ছিল; সেই স্কুল-কলেজের ছোটবেলায় বুঝতাম না সাইকোপ্যাথ এবং সোশিওপ্যাথ আসলে কাদের বলে, কিভাবে তাদের চেনা যায়। পরে জানা হয়েছে, জানার পর মিলিয়ে নিতে পেরেছি। শুনতে হয়তো পছন্দ হবে না অনেকেরই - প্রাক্তন ক্যাডেট কিংবা সেনা সদস্যদের ব্যাপারে কিছু নেতিবাচক ধারণা আমাদের সমাজেই এখন প্রচলিত রয়েছে। একেবারে ভিত্তিহীন কিন্তু নয় সে সব। আমি মনে করি এখানে মুষ্টিমেয়'র কর্মের দায় বহন করছে সমষ্টি।

      তোমরা ভাল থেকো। তোমাদের দেখলে (সাইফ ভাইয়ের মতো) ভরসা হয়।

      জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      রায়হান : ধন্যবাদ তোমার মন্তব্যের জন্য। একটা ক্যাডেট কলেজে একটা ব্যাচে কমবেশি ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকে। একেকজন একেক ধরণের পরিবেশ থেকে আসে। কলেজের ছয়টা বছরে তাদের মধ্যে যে বন্ধনটা তৈরি হয়, সেটাকে পরের জীবনেও নার্সিং করতে হয়। যে কোনো সম্পর্কের মতোই। তারপরও বয়সের সাথে সাথে দূরত্ব বাড়ে। পেশা-ক্যারিয়ার-উচ্চাভিলাষ-ক্ষমতা-পরিবার, এই দূরত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ক্রমেই আমরা আত্মকেন্দ্রীক হয়ে পড়ি। এটাই সত্য, এটাই বাস্তব। অস্বীকার করার জো নেই।

      তারপরও শুধু বন্ধুত্বের জন্য নয়, মানুষ হিসাবেই আমরা প্রত্যেকের কাছে ন্যায়পরায়নতা আশা করি। বুকে হাত দিয়ে বলি, কতোজন সেটা পারি? যখন চাকরিতে পদোন্নতি, পোস্টিং, বিদেশ সফরের মতো লোভনীয় শব্দগুলো সামনে আসে কতোজন ন্যায়ের পক্ষে থাকতে পারি? এমন মানুষ আছেন, যারা আর্থিক ক্ষেত্রে অনেক সৎ- কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রে বারবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়েছেন, অন্যকে ডিঙ্গিয়ে প্রমোশন নিয়েছেন; তাদের কি বলবো? আসলে ন্যায়ের পক্ষে থাকাটা খুবই কঠিন। আরো কঠিন নিজের কাছে সৎ থাকা। আমরা জানি না, ইয়াজদানী ভাইয়ের বন্ধুরা আসলে তার জন্য চেষ্টা করেছিলেন কিনা! হয়তো, হয়তো না। তাদের কথা তো জানি না।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  16. সাইফ শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)

    প্রিয় নাজমুল, রেশাদ, জুনায়েদ, কামরুল, মোস্তফা, আহসান, শাওন, সাব্বির, মাসরুফ, হাসনাইন, ওবায়দুল্লাহ, ওয়াহিদা, স্বপ্নচারী, খালেদ, ফাইসাল, তানভীর, জুবায়ের, আহমদ, মেহেদী, রাহাত, রায়হান ও নতুন প্রজন্মের বন্ধুরা,

    তোমাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাদের মতামতের জন্যে। সত্যি বলতে কি, নতুন প্রজন্মের মাঝে এভ সুন্দর সংবেদনশীল মনের পরিচয় পেয়ে আমি আশাবাদি আমাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে।

    সাইফ শহীদ
    পুন: লাভলুকে বিষেশ ধন্যবাদ ।

    জবাব দিন
  17. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    আগেও পড়েছি। আবার পড়লাম।
    এরকম লেখায় কি বলতে হয় তা জানিনা। শুধু লেখার শুরুর বর্ণনার ফাঁসিতে ঝুলা কাপড়াবৃত একজন মৃত্যু পথযাত্রীর সংগ্রাম অনবরত খুচিয়ে গেলো মাথায়।
    সানাউল্লাহ ভাই আর সাইফ ভাইকে স্যালুট সত্য তুলে আনার জন্য আর রওশন ভাইয়ের জন্য কী বলব তার ভাসা খুঁজে পাচ্ছি না...........

    জবাব দিন
  18. তৌফিক (৯৬-০২)

    যারা এই অন্যায় করেছে তাদের গলার ভেতর হাত ঢুকিয়ে হৃদপিন্ডটা যদি হ্যাঁচকা টানে ছিঁড়ে আনা যেত।

    লাবলু ভাইকে ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য। সাইফ ভাইকে স্বাগতম। আশা করি ভাইয়া আমাদের সাথেই থাকবেন। আপনার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু জানার অপেক্ষায় রইলাম।

    জবাব দিন
  19. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    ওফার গ্রুপে সাইফ ভাইয়ের মেইলের পর থেকেই লাবলু ভাইয়ের রিপ্লাইটি চোখে পড়েছিলো, তাই বিশেষ ভাবে অপেক্ষা করছিলাম লেখাটির জন্য। প্রথম প্যারাটা সহ্য করার মতন নার্ভ আমাকে একদিনে জড়ো করতে হয়েছে :( কমেন্ট করার মতো ভাষাটা কিছুই পাইনি।

    যখন চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন সে ছিল জেনারেল মনজুরের স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে। ও ওই পরিবারটির জন্য একটা নিরাপদ জায়গা খুঁজছিল।

    এই লাইন কটি পড়ে চোখের পানি কি ধরে রাখা যায়? রওশন ইয়াজদানী ভাইয়ের জন্য শত সহস্র শ্রদ্ধা মিশ্রিত স্যালুট। আগেও সম্ভবতঃ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লাবলু ভাইয়ের একটা লেখায় বলেছিলাম যেটি রওশন ভাইয়ের জন্যও বলে যাই, এই অন্যায়ের দায়ভার একটি বিস্মৃতি প্রবণ অকৃতজ্ঞ জাতির প্রতিনিধি হিসেবে মাথা পেতে নিচ্ছি।

    লাবলু ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার স্মৃতির ঝাপি সিরিজটি শুধু সিসিবিই নয়, ঐ সময়টা না দেখা কিংবা দেখা সকল বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই অবশ্য পাঠ্য এক প্রামাণ্য দলিল। আর লাবলু ভাইয়ের ওফা মেইলে দেয়া এই লেখাটির লিঙ্ক ধরে সিসিবিতে সাইফ ভাই সহ অনেক সিনিয়র ফৌজিয়ানই সদস্য হয়েছেন এবং আশা করা যাচ্ছে উনারাও সিসিবি'র নিয়মিত লেখক হয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য চমৎকার কিছু দিক নির্দেশনা রাখবেন। সিসিবি'র জন্য লাবলু ভাইয়ের এই ভালোবাসায় কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা মনে হয় নেই আমাদের কারোরই।

    সাইফ ভাইয়ের লেখায় প্রিফেক্ট দের সাথে সাধারণ ক্যাডেটদের যে সম্পর্কের কথাটি উঠে এসেছে ক্যাডেট কলেজ সিস্টেম চালুর সময়টাতে একে এখনকার সিস্টেমের সাথে মেলানোর কোন সুযোগ নেই। স্যার ব্রাউনের সময়টাতে কেবল এই সিস্টেমটি শুরু হয়েছিলো, তাই আপাতঃ অস্বাভাবিক এই ব্যাপারগুলো তখনকার সেই ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে একটি আনকোরা সিস্টেমের শুরুর দিককার প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে আর অস্বাভাবিক লাগবেনা নিশ্চয়ই।

    পরিশেষ রওশন ইয়াজদানী ভাই সহ সকল শহীদের প্রতি আবারো শ্রদ্ধাঞ্জলি।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  20. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    আরেকবার পড়ে গেলাম।

    খুব কষ্ট হয় লাবলু ভাই -
    আছি তো - এখনো বেঁচে আছি।
    মাঝে মাঝে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে
    ধিক্কার দিয়ে উঠি-
    এ কোন আমি?
    এ কেমন আমি?
    থেকে থেকে খুব অসহয়ায় লাগে - জানেন;
    নিজেকে খুব স্বার্থপর বলে মনে হতে থাকে তখন । :bash:


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন
  21. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    আজ একটা ছোট ভাইয়ের মেইল পেলাম। ফৌজদারহাটে আমার ছোট ভাইয়ের ব্যাচমেট। লেখাটা পড়ে ওর মনে হয়েছে, আমি বা মূল লেখক সাইফ ভাই ইয়াজদানী ভাইয়ের বন্ধুদের নাম উল্লেখ করে এই লেখায় তাদের প্রতি সুবিচার বা ন্যায়বিচার করিনি। ওর মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়াটা এখানে প্রকাশ করলাম।

    ইংরেজিতে লেখা ওর মেইল অনুবাদ করে নিচে দিলাম।

    ছোট ভাইটি লিখেছে, "ইয়াজদানী ভাইকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে তার ওইসব বন্ধুর কি হতে পারতো তা আমরা জানি না। ওই বন্ধুদের সম্ভবত সবার পরিবার আছে, সন্তান আছে, বাবা-মা আছে; ইয়াজদানী ভাইয়ের চেয়ে তাদের সম্ভবত স্বজনদের জন্য বেশি নৈতিক বাধ্যবাধকতা ছিল। নিজেকে তাদের অবস্থানে রেখে ভাবুন আপনি ওই অবস্থায় কি করতে পারতেন!

    আমি জানি না, আপনার অধিকাংশ পাঠক এভাবে ভাববেন কিনা। ওই বন্ধুদের কাছ থেকে না জানা পর্যন্ত আমরা বলতে পারিনা তারা কি অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন। আমার এক ভায়রা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং তিনি এরশাদের হিটলিস্টে ছিলেন। ১৯৮১ সালে জিয়া হত্যার পরপরই অবসর নিয়ে তিনি নিজেকে রক্ষা করেন। এটা অনেক বড় কাহিনী, বর্ননা করে আপনার সময় নষ্ট করতে চাই না। এ রকম অনেক কাহিনী আছে, যা আমরা জানি না।

    আপনার লেখাটা আবেগ ছুয়ে যায় এবং আমি নিশ্চিত আপনি সম্ভবত মূল লেখায় থাকার কারণে নামগুলো উল্লেখ করেছেন। তবুও আমরা যেহেতু ইয়াজদানী ভাইয়ের বন্ধুদের প্রকৃত উদ্দেশ্য-কারণ জানি না, তাই তাদের অভিযুক্ত করতে পারি না। আমি কিছু প্রতিক্রিয়া পড়েছি, দেখলাম কেউ কেউ ইয়াজদানী ভাইকে রক্ষা করতে না পারায় তার বন্ধুদের অভিযুক্ত করেছেন। আমাকে এটা বিষ্মিত করেছে, মূল লেখক তার বন্ধুদের কাছে বা আশরাফ ভাইয়ের কাছে কারণটা জানতে চাননি।

    মূল লেখক পরে জেনেছেন, ইয়াজদানী ভাই শেষ টেলিগ্রামটি পাঠিয়েছিলেন আশরাফ ভাইকে। আমি নিশ্চিত আশরাফ ভাই তার বন্ধুকে বাঁচাতে না পারার জন্য কষ্ট পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এরশাদের বিরুদ্ধে কি করতে পারতেন? বন্ধুর জন্য কিছু করতে গিয়ে তিনি হয়তো আরো একটা সংখ্যাই হয়ে যেতেন!

    এ সবই আমার অভিমত। ভালো থাকবেন।"


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  22. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    আপনাদের হাত ধরেই আমরা সেই অন্ধকার সময়গুলোর কিছুটা হলেও বুঝতে পারছি। অনেক ধন্যবাদ লাবলু ভাই, সাইফ ভাই।
    ক্যাডেট, অ-ক্যাডেট নির্বিশেষে আমরা সবার কাছেই মানবতাবোধ আশা করি। এই ঘটনাগুলো আমাদের সেইই বোধকে আঘাত করে। কিন্তু আহত না হলে তো শিখতে পারব না।

    জবাব দিন
  23. লেখাটা পড়ে কষ্ট পেলাম লাবলু ভাই।

    ‘হ্যা, স্যার’ বলে আমাদের সবাই নিজেদের কলেজ থেকে বহিস্কারের মুখে ঠেলে দিয়ে যার যার ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে তুলেছিল। কিন্তু ওই মূহুর্তে আমাদের বন্ধুত্ব, আস্থা ও সহমর্মিতা ছিল অন্য সব কিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    এই সিদ্ধান্তটাকে শত সহস্র :salute:

    কলেজের ছয়টা বছরে তাদের মধ্যে যে বন্ধনটা তৈরি হয়, সেটাকে পরের জীবনেও নার্সিং করতে হয়। যে কোনো সম্পর্কের মতোই।

    সহমত। তবে সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে ওঠে না।

    জবাব দিন
  24. রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)

    @ সানাউল্লাহ ভাই,

    নিচের এই তথ্যটা সম্ভবত আপনারও জানা। আপনার পোস্টটা পড়ার পর একটু ঘাঁটাঘাটি করতে গিয়ে মেজর রওশন ইয়াজদানীর মৃত্যুর সাথে জড়িত এক ব্যাচমেটের কীর্তির খোঁজ পেলাম অনেক পুরনো এক ইমেইলে। লেখকের পরিচয় উদঘাটন করতে পারে সে অংশগুলো মুছে দিয়ে উদ্ধৃত করছি নিচে:

    "There is an ex-Faujian Maj. Gen…………. (served) under Ershad . . .. He was instrumental in torturing and ultimately responsible for the death of his own “FCC classmate and best friend” Major (retd.) Rowshan Yazdani of 2nd SS Course of Bangladesh Army. Yazdani bhai (a Freedom Fighter), also from FCC 6th batch, was serving under Manzur in Chittagong garrison in 1981 and was hanged accused of mutiny and killing of Zia. "X"(name deleted) could have easily saved him as he was very close to Ershad. Instead he chose to and took pleasure to personally interrogate and torture his classmate!"

    অত্যন্ত গুরুতর এই অভিযোগ। আমার কাছে তথ্যটি এসেছে, তাই ধরেই নেয়া যেতে পারে - একই তথ্য অন্য আরও অনেকেই বয়ে বেড়াচ্ছেন। সুতরাং, এই তথ্যটি যদি সঠিক/সত্য হয়, তাহলে অবশ্যই তা সবার জানা থাকা দরকার। আর যদি ভুল বা অপপ্রচার হয়, তাহলে সেটাও উদঘাটন হওয়া দরকার, to set the record straight । যদি কারও বিষয়গুলো বিশদ জানা থাকে তাকে অনুরোধ করবো, এই তথ্যে কোন ভুল বা অসত্য থাকলে তিনি যেন দয়া করে তা উল্লেখ করেন (তথ্য-প্রমাণ-ব্যাখ্যাসহ অবশ্যই)।

    শুধু এটুকু বলি - ইমেইলটি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার।

    জবাব দিন
  25. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    সাইফ ভাইয়ের ওয়েবসাইটে উনার মূল লেখায় কয়েকটি মন্তব্য ছিল এবং সেগুলোএই লেখার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। তাই সাইফ ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে সেগুলো এখানে তুলে দিলাম।

    প্রথমেই আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি মন্তব্যগুলো ইংরেজিতে প্রকাশ করার জন্য। মূল মন্তব্য ইংরেজিতে আছে। এগুলো অনুবাদ বেশ সময়সাপেক্ষ অথচ এসব মন্তব্য মূল লেখাটি এবং এর জের ধরে যেসব মন্তব্য আসছে তার সঙ্গে সম্পর্কিত। পরপর বেশ কটি মন্তব্যে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে একেবারে সম্প্রতি ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নানা প্রতিক্রিয়া এখানে রয়েছে। সাইফ ভাইয়ের সঙ্গে তার ক্যাডেট ও অক্যাডেট বন্ধুদের মধ্যে এসব মন্তব্য ভাগাভাগি হলেও রওশন ভাই ও এই লেখাটি এবং বর্তমান প্রজন্ম নিয়ে তাদের মনোভাব এসব বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। লেখাটির পাঠক সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
    .......................................................................................
    এক.

    Feb 3, 2009 2:55 PM

    Saif, Thank you for writing on Rowshan.

    Let me cry a little more for your-our dear friend Rowshan. I have never seen him. But he suddenly became a very dear friend to me. Thank you Saif for introducing him to us.

    May Allah grant for Rowshan all the best things in his current home. I will ask the Almighty to allow us to spend a little quality time with him in our life hereafter.

    Rezaul Karim, Kuwait
    ....................................................................................
    দুই.

    Feb 3, 2009 2:58 PM

    Dear Saif: I have been very moved by reading this fragment of our collective memory. You have written this piece with such empathy and pathos that I can almost hear your voice as I read these words. I have already pledged that I will do every thing in my power to keep the memory of this heinous crime, the execution of an innocent man, my dear roommate, Rowshan Yazdani, alive. There is still time to bring some of these cruel and heartless perpetrators to justice. We shall see how things turn out. It is sufficient now that they have not managed to bury the memory of their crime. The memory of Rowshan's innocence lives as a pure flame. We moths are attracted to his memory flame because of the horrible injustice committed against him, the expedient and convenient nature of the judicial murder and the potential for goodness that this outstanding individual carried within him, that which is widely acknowledged by all those who knew him.

    But there is one thing I would like to add to your beautifully redolent word picture of Rowshan. It is not known to most of his class mates (and others) that Rowshan was a great reader and teacher of history. Almost all the books in his collection were in Bengali. At first, because of my background of English medium school and Calcutta family, he sort of treated me strangely. Then he started to know me better. He would order books from Calcutta, which in the early 1960's, was still possible. There were parts of one book which he read out to me that I still remember to this day. This was a book listing the names, ages at the time of their execution and the crime they were charged with of the ten and twelve year old youths (with some early teenagers) in the various groups who were part of the freedom fighters assassinating British officials in the period immediately after the 1905 partition of Bengal and just before the 1911(I am not absolutely sure of this date) movement of the British Indian capital from Calcutta (old spelling) to what was New Delhi. One incident he read out to me still stands out like jagged shards of glass, and note he was reading this to me by the light of the central staircase (yourself, myself and Rowshan were in the three room dormitory right next to the staircase)---this was after lights out and Mullard with his green Jeep was on the prowl, driving back and forth between the four Houses. This incident that I remember so well was about the writer recording the last day of these young patriots. Rowshan would read out, eyes heavy with tears, how they requested their last shower, what songs they sang what jokes they told just hours before their execution. As their story was written and told by Rowshan, I could see his deep sadness gradually transform into a smile. He appreciated the contempt these young fighters had for death--death from an inhuman imperial machine. In the end he had me captivated. After the story ended, he would lapse into silence. After waiting awhile, I would say, "Tarpor?"("And then?") as if to nudge him along to another story. Mostly, he would not reply. But sometimes he would say, "Tui Bhujbhi Na" (You will never understand). Alas, for now, those far sighted words is all I have to hang on to---"Tui Bhujbhi Na"----Will I ever understand?

    In addition, you have captured the mutiny scene at Faujdarhat, the first large scale mutiny against Col. Brown's regime and the prefects who enforced it, perfectly. Forgive the pun on the word "perfectly"---as it was about the corruption of one prefect. I will write more on this later.

    Regards,

    Your ex-roomate,

    Schams Ahad, BC, Canada
    ..........................................................................................
    তিন.

    Feb 3, 2009 3:01 PM

    A deep wound in our heart has been rekindled, we cannot turn back the history, we cannot bring him back alive. We are not in a position now to exonerate him,
    however if we agree we can take up a case.

    Nasim Anwar, Chittagong, Bangladesh
    ........................................................................................
    চার.

    Sep 15, 2009 9:35 AM

    Dear Saif, Several years back I dreamt meeting Yazdani on a sea beach. When I thought about it I felt terrible. Not just the hanging which I don't think I could have done anything to stop. But the fact that I did not make an attempt to meet him or his family. I inquired with (late) Gen Mozammel Hossain who was President Ershad's Principle Secretary (this was soon after Ershad had taken over & BD was still under Martial law). I was told that Yazdani was likely to get a few years jail sentence and I felt relieved. I returned to Saudi Arabia and after a few months I got the horrible news.

    Soon after my Yazdani dream, I wrote an article with the purpose of opening up this discussion and coming to terms with his unnatural death. It was meant to be an acknowledgment of collective guilt at my/our indifference. However, first I decided to send it to a few close friends including yourself, Fakhruddin and a few others in our current Faujian mailing list. I wanted to gauge their reactions first before attempting to circulate it to a wider list or even try and publish it in a newspaper.

    I had also forwarded my write-up to Prodip Anwar who lives in Melbourne. Prodip had in turn sent it to many of his friends and in fact the piece got circulated quite widely among the Faujian community. I had lots of feed back, mostly empathetic, including one from Brig. Anam which surprised me because he was known to be quite close to Ershad. I also had one negative feedback from an ex-army officer (not a Faujian and I don't even know him) saying that Yazdani had committed treason and there was no other way.

    Unfortunately, all this happened before my GMAIL days. I am not very meticulous with back-ups and my hard disk had crashed and I lost all data in the HD including my write-up on Yazdani and the email chain coming via Prodip's circulation.

    Mushfiq, Melbourne, Australia


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  26. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    ব্লগটি পড়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফকক'র ৫ম ব্যাচের একজন ভাই সাইফ ভাইয়ের কাছে নিচের প্রতিক্রিয়াটি পাঠিয়েছেন। সাইফ ভাই পড়ার জন্য আমাকে পাঠান। আমি তার অনুমতি নিয়ে সেটিও এখানে তুলে দিলাম। ৫ম ব্যাচের ভাইয়ের অনুমতি যেহেতু নেয়া হয়নি তাই তার নাম এখানে উল্লেখ করা হলো না। উল্লেখ্য ফকক'র ৫ম ব্যাচই প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাচ যারা ৭ম শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে।

    Saturday, September 26, 2009, 1:31 AM

    Dear Saif, It is interesting to observe that no one who knew Yasdani from his Cadet College days have commented on your article. Either they are not aware of its existence or they intentionally want to avoid reality. I knew Col. Rashid quite well, who was executed also. He was brother-in-law of my batch mate Forhad Azizul Huq.

    On our journey back home during vacation of Cadet College, I rode with Raushan Yasdani Bhuiya on the train also and it was long before you started at the Cadet College. Raushan's father was posted in Rajshahi when he joined cadet college in 1959 and my parents were also in Rajshahi until late 1961. We used to kid him as RI Bhuiyan [2-1/2 (Arhai) Bhuiyan].

    I would not take a position that every one of the executed officers was innocent, but I am convinced that many were not part of the planning or execution of the incident at the circuit house. I am also aware that many of us fail to stand up against dishonesty and wrong doing and will cow tow dishonest people in power to uplift our future. Most of us are "Nandalal".

    In history, you will always find people like Mesbah, who abused their power. Your four prefects were not perfect and followed the easy path, abuse the power. History of Bangladesh is not any different, it started with Sheikh Mujibur Rahman and never stopped. We still elect and vote for people like Ershad, Begum Zia, and Hasina Wajed. Zia was not devoid of faults - he had the physically handicapped Muktijodhdha killed, who saved him during one of the coups. Each one of the elected leader of Bangladesh is branded for dishonesty, yet people of Bangladesh still voted the dishonest people to power. May be there are no true and honest candidates.

    In Shata Bose's words in "Chowrangee" by Shankar, "A country gets the government it deserves ...."

    In my setting years, I hope and pray that our young generation will thrive for a brighter future.


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  27. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    নিচে রওশন ইয়াজদানী ভাইয়ের ফাঁসির বিষয়ে সিসিবি পোস্ট নিয়ে সাইফ ভাই ও তার এক অক্যাডেট বন্ধুর প্রতিক্রিয়া সিসিবির পাঠকদের জন্য তুলে দিলাম। বর্তমান প্রজন্মের ওপর তাদের আস্থার বিষয়টি নিশ্চয়ই আমাদের সবাইকে প্রেরণা যোগাবে।

    Thursday, September 24, 2009, 11:29 PM

    Saif: I read your piece quite a few times. It was good, but to me, has few details about the subject matter. That does not erode its historic patriotic values and your emotional sentiments either. May be, I expected more from you. Your writing, however, very correctly depicted one thing, a big question what friendship means. The friendship that we cherish (among school, college and university friends, and workplace colleagues) sometimes get blurred and overtaken by self-seeking ideas in real life. I am sure, his friends were not above that. To be a man like Rowshan Yazdani is very difficult in real life. But, I am sure, many of his friends who did not or could not respond to his call to save him, would have done the right thing if that have happened in common war-field like in 1971.

    You have excellent writing skills and should continue writing, especially, topics like this, which are still unknown to people.
    ..................................................................................

    Friday, September 25, 2009 1:02:45 PM

    Subject: Reaction of the new generation

    Dear ............, Your observations are quite correct. Actually when I initially started writing this story, my emphasis was on 'my own unreasonable reaction to an incident'. With age, now we have learnt to accept many humiliations without any protest. [Please read the 'Story of a helpless father']. We do this as we have learnt to compromise more for our immediate or ultimate objectives [also for our own selfishness].

    My empathy about Rowshan was purely on a personal basis. He was like any other man with both good and bad qualities. But, I strongly believe that he didn't deserve to die. I will also not blame my other friends (which should also include me) - may be they tried to help in their own way [I do not know]. I remember Mushfiq mentioning me, after he happened to come across Gen. Mozammel [who was chairman of the tribunal], a friend of his brother, that Rowshan will be spared the rope, but get a few years. May be his statement also made us relax a bit and we didn't try to take any pre-emptive actions.

    Incidentally, one of my own brother-in-laws [Major Hashmi Kamal, also a Faujian and a freedom fighter] was also arrested after the incident. He was posted in southern Chittagong and had come to Chittagong CMH to admit his wife [my wife's younger sister] who was giving birth to their first child. When I had asked one of my influential friends in Army to look into his arrest, he came back and asked me not to bring up this issue again.

    Basically I now feel, the strong regimentation and discipline that we had to go through in the Cadet College, didn't help us grow into a democratic liberal minded individual. Basically we were trained to be very good 'high ranking servants who could serve the top echelons of power-base blindly.

    Things have certainly changed after Bangladesh came into being. The reaction as reflected by the 50+ comments on the story reflect that the new generation are much more liberal and empathic. That's what I wanted you to notice. I feel very positively about our next generation.

    Saif
    ...............................................................................

    Thursday, September 25, 2009, 02:31 AM

    Dear Saif: I didn't expect such a quick and nice reply. What are you doing late at night? Perhaps enjoying you own private weekend evening till late at night.
    I not only agree but appreciate your following realization:

    Basically I now feel, the strong regimentation and discipline that we had to go through in the Cadet College, didn't help us grow into a democratic liberal minded individuals. Basically we were trained to be very good 'high ranking servants who could serve the top echelons of power-base blindly'.

    Like you, I have gone through the reactions and like the emotions expressed by younger generation. This is really positive. Here also, the younger generation, including my son and his friends, are much more vocal against any sort of injustices that we look around and 'digest unpalatable truths'.

    Personally, I raise one question to you. Could you guess why proper trials and punishments of actual masterminds did not take place in the case of JFK, Abraham Lincoln, Gandhi or Jinnah and many others. Considering or following same path, we may also find that more recent injustices will not be concluded. Starting from pre-historic times, particularly killings and massacres went unabated and with rather rewards. In this case, Ershad was the beneficiary, peoples pulled him down, but he was never implicated even in usurpation of power, not to say anything of the killings to ordered and supervised to carry through.


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  28. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    লাবলু ভাই,
    সাইফ ভাইয়ের লিঙ্কটি ওল্ড ফৌজিয়ানদের গ্রুপ মেইলে পেয়েছিলাম।আজ আবার ওফা সিজিবি'র গ্রুপ মেইলে দেখলাম।সেখানে কমেন্ট দেখে বুঝতে পারলাম আপনি সিসিবিতে শেয়ার করেছিলেন।ঈদের লম্বা ছুটিতে থাকার কারনে এই পোষ্ট মিস করে ফেলেছি। আমি খুব জেদি টাইপের আর ফ্রেন্ডশীপ আমার কাছে অনেককিছু। আর বিশেষ করে ফৌজিয়ান এবং ক্যাডেটদের ব্যাপারে খুব ইমোশনাল। তাই ইয়াজদানী ভাইয়ের জন্য কি ফিলিংস হচ্ছে সেটি আর প্রকাশ করতে পারছিনা ! :dreamy: ইয়াজদানী ভাইকে :just: :salute:

    জবাব দিন
  29. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
    আমি এখনো রওশনের একটা স্মৃতি বয়ে বেড়াই। যে স্বপ্নের সাম্রাজ্যটা ওর কখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি, একটা আদিগন্ত ধানের ক্ষেতে পূর্নিমা রাতে দাঁড়িয়ে ও বাঁশি বাজাচ্ছে। কিন্তু এক সময় এই সুখের চিত্রটি মুছে গিয়ে স্মৃতিতে ভেসে উঠে ফাঁসির রশির প্রান্তে অসহায়ভাবে ঝুলন্ত আমার প্রিয় বন্ধুর মুখ। নিরবে নিজের চোখের পানিটুকু মোছা ছাড়া ওই সময় আমি আর কিছুই করতে পারিনা।

    সাইফ ভাইয়ের লেখার এই শেষ বাক্যগুলো এতো জোরালো, এতো স্বাপ্নিক, এতো নির্মম, এতোটা অসহায়ত্বের প্রকাশ- ভীষণ কান্না পায়।

    সাইফ ভাই, কর্ণেল তাহেরের বিচারের নথি আবার খুলেছে। পূনঃবিচারের উদ্যোগ মনে হচ্ছে কাজে দেবে। রওশন ভাইয়ের পরিবারের কেউ কি নাই যিনি এ ব্যাপারে অগ্রণী হবেন। আমি অবশ্যই পাশে থাকবো।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
    • গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

      রওশন ভাইয়ের সাথেই মনে হয় ঝিনাইদহের একজন এক্স-ক্যাডেটকেও অভিযুক্ত করে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। আলীমুজ্জামান ভাই ভাল বলতে পারবেন। এসব দন্ডের অবশ্যই পুনঃবিচার হওয়া দরকার।

      জবাব দিন
      • পারভেজ (৭৮-৮৪)

        লেঃ রফিক। সম্ভবতঃ জেনারেল মঞ্জুরের এডিসি ছিলেন। জেনারেল মঞ্জুরকে যেহেতু মূল অপরাধি হিসাবে উপস্থাপন করা হয়, তাঁর এডিসিকে তাঁর সঙ্গী হিসাবে উপস্থাপন করে দৃশ্যকল্পটির বাস্তব রূপ দেয়া হয়।
        এখন আমরা জানি যে জেনারেল মঞ্জুর ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাই লেঃ রফিকেরও ঘটনাস্থলে থাকার কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারন বা সুযোগ নাই।


        Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

        জবাব দিন
  30. রাইসুল চৌধুরী

    অনেক ভালো লাগলো লেখাটা পরে, ভাই...thank you for sharing.

    লেখাটা পড়ে একটা কথাই বারবার মনে হচ্ছে আমার...
    প্রতিটি দেশ/জাতি শিক্ষা নেয় তাদের ইতিহাস থেকে..
    কি আজিব দেশের বাসিন্দা আমরা...seriously, আমার নিজের দেশের ইতিহাস খুঁজতে
    গেলে আমরা ১৯৭১ এর পরের কোন কিছুই খুঁজে পাইনা...
    মনে হয় ১৯৭১ এ ই বাংলাদেশ এর ইতিহাস এর সমাপ্তি।
    আমাদের necessary step নেয়া উচিত যাতে আগামী generation গুলো মেজর রওশন ইয়াজদানী-র কাহিনী্র মত আরও ঘটনা জানতে পারে এবংএছিল...যে আসলেই আমাদের দেশে কি হয়েছিল...

    জবাব দিন
  31. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    তখন জেঃ এরশাদের বয়স ৫১, জেঃ জিয়ার ৪৫ আর জেঃ মঞ্জুরের ৪১। চাকুরিতে তাঁরা একজন আরেকজন থেকে তিন বছরের করে জেষ্ঠ্য। এরশাদ জিয়ার ৩ বছরের এবং জিয়া মঞ্জুরের তিন বছরের সিনিয়ার। একসাথে দীর্ঘ্যদিন প্রতিকুল পরিবেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাঙ্গালী হিসাবে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে চাকুরি করেছেন।
    তাঁদের মধ্যে গুরুতর কোন মতভেদ হয়ে থাকলেও তা সমাধানে তাঁদের মধ্যে কোন কমুনিকেশন না থাকার মত বয়স বা সিনিয়ারিটি গ্যাপ থাকার কোন সুযোগ নাই। এই রকম একটা পরিস্থিতিতে কেবল মতভেদের কারনে তাঁরা একজন আরেকজনকে খুন করেছেন বা করিয়েছেন এটার বিশ্বাসযোগ্যতা নুন্যতম।
    যেটা অনেক বেশী বিশ্বাসযোগ্য তা হলো এর পিছনে অন্য আরও কিছু ছিল যা আজও সামনে আসে নাই। আসতে দেয়া হয় নাই। আর সাজানো গল্পটা কে বিশ্বাসযোগ্য করাতে, ধামাচাপা দিতে কিছু মানুষকে স্কেপগোট করার দরকার হয়েছিল।
    তড়িঘড়ি করে ফাসির নামে যাঁদের হত্যা করা হয়, তাঁরা ঐ সময়য়ে অন্য কারো কারো ব্যক্তিগত লাভালাভের স্কেপগোট ছিলেন। আর সেজন্যই তাঁরা কেউ পারলেও তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন নাই।
    এইটা আমার অভিমত।


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
  32. সামিউল(২০০৪-১০)

    আহারে...... :( :( :(

    জানিনা রওশন ভাই এর পরিবার তাদের সম্মান ফিরে পাবে কিনা। আমি দোয়া করি যেন তারা আবারো মাথা তুলে সম্মানের সাথে বাঁচতে পারেন।


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন
  33. শামিমা আক্তার জাহান পপি

    "রতন মামা"-বা আমার বড় মামা- দেখার সৌভাগ্য হয়নি-আমার জন্মের ৭বছর আগেই তাঁকে হত্যা করা হয়-প্রহসনের ফাঁসি কে আমি হত্যাই বলব।একজন বন্ধু হিসাবে তাঁর কথা এখানে লেখা-অন্য দিক হল বড় ভাই-আমার মা এরা ১০ ভাই বোন- তিনি জেলে থাকাকালীন সময়ে নানী নামাজে বসে দোয়া করতেন যে বাকী ৯জন কে নিয়ে যেন এই একজন কে বাঁচান আল্লাহ-আর ছোট ৯জন সম্পূর্ণ একমত ছিল।তাতে বোঝা যায়-বড় ভাই হিসাবে তিনি কি ছিলেন... গতকাল আবারও "২৩ সেপ্টেম্বর স্মৃতি সংসদ" তাদের ফাঁসির বিচার চাইছিল। সবাই মামার জন্য দোয়া করবেন

    জবাব দিন
  34. প্রিফেক্টদের ঘটনা দেখে অবাক হলাম ভাইয়া/আনকেল (আমি উদয়ের স্কুল বন্ধু,তাই কি বলে উদ্দেশ্য করব ভেবে পাচ্ছিলাম না :no: ) ।কিন্তু তার চেয়েও অবাক হলাম পরবর্তীতে ক্লাসমেটদের সাহায্যের হাত না দেখে

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।

:) :( :P :D :)) :(( =)) :clap: ;) B-) :-? :grr: :boss: :shy: x-( more »

ফেসবুক মন্তব্য