random header image

স্মৃতির ঝাঁপি : ইতিহাসের কালো অধ্যায়-২

প্রথম পর্ব ।। দ্বিতীয় পর্ব ।। তৃতীয় পর্ব ।। চতৃর্থ পর্ব ।। পঞ্চম পর্ব।। ষষ্ঠ পর্ব ।। সপ্তম পর্ব

কিছু সেনা কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছিল। বিশেষ করে খুনি চক্র এবং বঙ্গবন্ধুর বিরোধীরা এমন একটা প্রচার দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে এসেছে। মেজর শরিফুল হক ডালিমের স্ত্রীর সঙ্গে সে সময়ের রেডক্রসের চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফার অসদাচরণকে এ ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে । বলা হয়, এ কারণে সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। এক সময় তো এই অপপ্রচারটা ছিল শেখ কামালকে নিয়ে। বলা হতো, শেখ কামাল নাকি মেজর ডালিমের স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন! কিন্তু সেটা যে ডাহা মিথ্যা তা জেনেছিলাম অনেক পরে, এ বিষয়ে বিভিন্ন বই পড়ে।

দীর্ঘদিন মিথ্যা শুনতে থাকলে এক সময় সেটাই সত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়। এটা আমার কথা না। হিটলারের প্রচারণা প্রধান গোয়েবলসের বহুল ব্যবহৃত ও আলোচিত উক্তিটি যে কতো সত্য তা আমি নিজের অভিজ্ঞতায় শিখেছি। সম্প্রতি মেজর ডালিমের ওয়েবসাইটের খবর দিলেন ফৌজদারহাটের এক বড় ভাই। সেখানে ওই বহু আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা সম্পর্কে তার ভাষ্য পড়লাম।

এটা ছিল ১৯৭৪ সালের ঘটনা। মেজর ডালিমের বর্ণনায়, “১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি ……আমার খালাতো বোন তাহ্‌মিনার বিয়ে ঠিক হল কর্নেল রেজার সাথে। দু’পক্ষই আমার বিশেষ ঘনিষ্ট। তাই সব ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে হচ্ছিল আমাকে এবং নিম্মীকেই (ডালিমের স্ত্রী)। ঢাকা লেডিস ক্লাবে বিয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।” ওই অনুষ্ঠানে একটি ঘটনায় ডালিমের শ্যালক বাপ্পীর সঙ্গে তখনকার রেডক্রসের চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলেদের বিরোধ দেখা দেয়। ডালিম লিখেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে “হঠাৎ দু’টো মাইক্রোবাস এবং একটা কার এসে ঢুকল লেডিস ক্লাবে। কার থেকে নামলেন স্বয়ং গাজী গোলাম মোস্তফা আর মাইক্রোবাস দু’টো থেকে নামল প্রায় ১০-১২ জন অস্ত্রধারী বেসামরিক ব্যক্তি।” গাজী গোলাম মোস্তফার সহযোগীরা প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা আলম ও চুল্লুকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এর মধ্যে চুল্লুর মুখে গাজীর লোকেরা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করায় তার ভীষণ রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তারা ডালিমকেও জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এ অবস্থায় ডালিমের স্ত্রীও তার স্বামীকে একা যেতে দিতে চাইলেন না। তিনি এবং কনে তাহমিনার আম্মাও মাইক্রোবাসে উঠলেন।

গাড়িবহর শেরেবাংলা নগরের দিকে এগোতে থাকলে ডালিম ধারণা করছিলেন, গাজী গোলাম মোস্তফা তাকে রক্ষীবাহিনীর ক্যাস্পে নিয়ে নির্যাতন করবেন। তাই তিনি বললেন, “গাজী সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে যাই চিন্তা করে থাকেন না কেন; লেডিস ক্লাব থেকে আমাদের উঠিয়ে আনতে কিন্তু সবাই আপনাকে দেখেছে। তাই কোন কিছু করে সেটাকে বেমালুম হজম করে যাওয়া আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবে না।” এরপর গাজী তাদের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসার সামনে নিয়ে আসেন। বাইরের রাস্তায় এদের রেখে গাজী বাড়ির ভেতরে যান।

ডালিম তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, তাদের এভাবে তুলে আনার ঘটনা জানার পর তার ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হক স্বপন বীর বিক্রম (বর্তমানে ব্যারিস্টার তাপসের ওপর বোমা হামলা মামলায় গ্রেপ্তার আছেন) এবং তার ছোট বোন মহুয়ার স্বামী আবুল খায়ের লিটু (বর্তমানে ব্যবসায়ী ও বেঙ্গল গ্রুপের কর্নধার) ছুটে যায় এসপি মাহবুবের (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা) বাসায়। উদ্দেশ্য মাহবুবের সাহায্যে গাজীকে খুঁজে বের করা। তারা বেইলি রোডের বাসায় এসপি মাহবুবের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন। ডালিম জানান, এ সময় বঙ্গবন্ধুই মাহবুবকে ফোন করে তার বাসায় ডাকেন।

মেজর ডালিমের বর্ণনায় জানা যাক পরবর্তী ঘটনাবলী। বঙ্গবন্ধু বললেন,
“-মাহবুব তুই জলদি চলে আয় আমার বাসায়। গাজী এক মেজর আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ধইরা আনছে এক বিয়ার অনুষ্ঠান থ্যাইকা। ঐ মেজর গাজীর বউ-এর সাথে ইয়ার্কি মারার চেষ্টা করছিল। উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। বেশি বাড় বাড়ছে সেনাবাহিনীর অফিসারগুলির।
সব শুনে মাহবুব জানতে চাইলো,
-স্যার গাজী সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন মেজর ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের কোথায় রেখেছেন তিনি?
-ওদের সাথে কইরা লইয়া আইছে গাজী। গেইটের বাইরেই গাড়িতে রাখা হইছে বদমাইশগুলারে। জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
-স্যার গাজী সাহেব ডালিম আর নিম্মীকেই তুলে এনেছে লেডিস ক্লাব থেকে। ওখানে ডালিমের খালাতো বোনের বিয়ে হচ্ছিল আজ। জানাল মাহবুব।
-কছ কি তুই! প্রধানমন্ত্রী অবাক হলেন।
-আমি সত্যিই বলছি স্যার। আপনি ওদের খবর নেন আমি এক্ষুণি আসছি।
এই কথোপকথনের পরই মাহবুব লিটুকে সঙ্গে করে চলে আসে ৩২নং ধানমন্ডিতে। মাহ্‌বুবের ভিতরে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রেহানা, কামাল ছুটে বাইরে এসে আমাদের ভিতরে নিয়ে যায়। আলম ও চুল্লুর রক্তক্ষরণ দেখে শেখ সাহেব ও অন্যান্য সবাই শংকিত হয়ে উঠেন।
-হারামজাদা, এইডা কি করছস তুই?
গাজীকে উদ্দেশ্য করে গর্জে উঠলেন শেখ মুজিব। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিম্মী এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি।”

এর মধ্যে সেনা কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর জানাজানি হয়ে যায়। তখন ঢাকা শহরে অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। সেনাবাহিনীর একটি দল ঢুকে পড়ে গাজীর বাসায়। আর ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসার পরিস্থিতি সম্পর্কে ডালিম লিখেছেন, “হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। রেড ফোন। শেখ সাহেব নিজেই তুলে নিলেন রিসিভার। গাজীর বাসা থেকে ফোন এসেছে। বাসা থেকে খবর দিল আর্মি গাজীর বাসা রেইড করে সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় সমস্ত শহরে আর্মি চেকপোষ্ট বসিয়ে প্রতিটি গাড়ি চেক করছে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে কিডন্যাপিং এর খবর পাওয়ার পরপরই ইয়ং-অফিসাররা যে যেখনেই ছিল সবাই বেরিয়ে পড়েছে এবং খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মেজর ডালিম ও তার স্ত্রী নিম্মীকে। সমস্ত শহরে হৈচৈ পড়ে গেছে। গাজীরও কোন খবর নেই। গাজীকে এবং তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরও খুঁজছে আর্মি তন্নতন্ন করে সম্ভাব্য সব জায়গায়। টেলিফোন পাওয়ার পর শেখ সাহেবের মুখটা কালো হয়ে গেল।”

বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে এ নিয়ে সালিশ হলো। বঙ্গবন্ধু নিম্মীর কাছে গাজীকে ক্ষমা চাইতে বললেন। সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ এসময় ৩২ নম্বরে চলে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুই তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। স্বস্ত্রীক সেনা কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সেনানিবাসেও প্রতিক্রিয়া হলো। এ সব ঘটনা ও প্রতিক্রিয়ার অনেক কিছু জানা যায় কর্নেল শাফায়াত জামিল (অবঃ)-এর লেখা “একাওরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর” এবং মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী (অবঃ) বীর বিক্রমের “এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য : স্বাধীনতার প্রথম দশক” বই দুটো থেকে। আর এ ঘটনায় যেহেতু ডালিমের বর্ণনায় মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম ও চুল্লুর নাম এসেছে, তাই তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা যায়। দুজনই আমার পরিচিত। চুল্লু ভাইয়ের নম্বারটা মোবাইলেই ছিল। ফোনে তার কাছে জানলাম ওই দিনের ঘটনা।

চুল্লু ভাই আওয়ামী লীগের আগের শাসনামলে (১৯৯৬-২০০১) শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের ছোট ভাই। খুবই সরল-সোজা মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের সময় চুল্লু ভাই ২ নম্বর সেক্টরে খালেদ মোশাররফের অধীনে ঢাকার গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন। বড় ভাই সাদেক সাহেবের বাসা ছিল তাদের অস্ত্র রাখার জায়গা। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ছেলে শহীদ রুমির সহযোগী ছিলেন আলম ভাই ও চুল্লু ভাই। ১৯৭১-এর ২৯ ও ৩০ আগস্ট পাক সেনারা ঢাকার গেরিলা যোদ্ধা ও তাদের সহযোগী বদিউল আলম (প্রাক্তন ফৌজিয়ান, বীর উত্তম, শহীদ), সামাদ, রুমি, জামি, শরীফ ইমাম, সুরকার আলতাফ মাহমুদ, আজাদ- এদের সঙ্গে চুল্লু ভাইকে ধরেছিল। এই মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশ আর ফিরে আসেননি। আর ১৭ ডিসেম্বর পর চুল্লু ভাই কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান।

চুল্লু ভাই জানালেন, গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলেরা বিয়ের অনুষ্ঠানে বাপ্পীর সঙ্গে বেয়াদবি করে। ডালিম এ কারণে ওদের চড়-থাপ্পর মেরেছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গাজী গোলাম মোস্তফা তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে হাজির হন। তিনি জানান, গাজী তখন রেডক্রসের চেয়ারম্যান ছাড়াও সংসদ সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ৫/৬ জনের সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মী নিয়ে তিনি সে সময় চলাফেরা করতেন। আমার ধারণা, ওই সময়ে সর্বহারা পার্টি ও জাসদের সশস্ত্র রাজনীতির কারণে আওয়ামী লীগের অনেকেরই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ছিল।

বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেই গাজী ও তার সশস্ত্র লোকেরা হম্বিতম্ভি করায় তাদের শান্ত করতে হাবিবুল আলম ও চুল্লূ এগিয়ে যান। গাজীর লোকেরা তাদের হাত তুলতে বলে। আলম ভাই হাত তুললেও চুল্লু ভাই রাজি হননি। তক্ষনি গাজীর লোকেরা তাকে মারধর করে। ওদের একজনের রাইফেলের বাটের আঘাতে চুল্লু ভাইয়ের নাক-মুখ রক্তাক্ত হয়। এরপর তাদের তুলে নেয়া হয় মাইক্রোবাসে। একইভাবে ডালিম, তার বউ এবং বিয়ের কনে তাহমিনার মাকেও গাড়িতে তোলা হয়। পুরো বিষয়টা ছিল গাজীর মাস্তানি। চুল্লু ভাই মনে করেন, শেরেবাংলা নগরে নিয়ে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল গাজী। ওখানে তখন সংসদ ভবন নির্মানের জন্য প্রচুর ইট-পাথর, বালুসহ নির্মান সামগ্রী স্তুপ করা ছিল। সেখানে ইটের স্তুপে তাদের মেরে ডাকাতির ঘটনা সাজানো যেত। কিন্তু লেডিস ক্লাবে এতো লোকের সামনে থেকে তুলে আনায় এ ঘটনা সামাল দেয়া কঠিন হতো। তাই শেষে মত বদলে গাজী এদের নিয়ে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর কাছে যান। ৩২ নম্বরে আহত, রক্তাক্ত চুল্লু ভাইয়ের সুশ্রষা করেন শেখ কামাল। বঙ্গবন্ধুও সত্য ঘটনা জেনে ক্ষুব্ধ হন।

এ ঘটনায় পানি অনেক ঘোলা হয়। কর্নেল শাফায়াত জামিল তার “একাওরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর” বইতে লিখেন, ঘটনার পরদিন সে সময়ের কর্নেল এইচ এম এরশাদ একদল তরুণ সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে সেনা উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়ার অফিসে যান। এরশাদ এ সময় সরাসরি সেনা হস্তক্ষেপ দাবি করেন। শাফায়াত জামিল নিজে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি লিখেন, জিয়াউর রহমান এরশাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে তিরস্কার করেন। জিয়া এ সময় বলেন, এরশাদের এই আচরণ কোর্ট মার্শাল হওয়ার যোগ্য।

পরে ওইদিনই বিকেলে বঙ্গবন্ধু তার কার্যালয়ে সেনাপ্রধান, উপপ্রধান, এরশাদ ও শাফায়াত জামিলকে ডেকে নেন। বঙ্গবন্ধু এরশাদের আচরণের জন্য সবাইকে কঠোরভাবে তিরস্কার করেন। কিন্তু সেনাপ্রধান এরশাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। শাফায়াত জামিল তার বইতে সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নিয়ে মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী তার “এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য : স্বাধীনতার প্রথম দশক” বইতে লিখেছেন, বিয়ের অনুষ্ঠানের ঘটনার প্রতিশোধ হিসাবে মেজর ডালিম তার কিছু সঙ্গী সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক নিয়ে গাজী গোলাম মোস্তফার বাসা আক্রমণ ও তচনচ করে। এর ফলে সামরিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক আদেশে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, মেজর ডালিম এবং মেজর এস এইচ এম বি নুর চৌধুরী। এরা দুজনই ১৯৭৫-এর আগস্টে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা এই সেনা কর্মকর্তা জিয়ার অনুসারী এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আওয়ামী লীগের সমালোচক। আর মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা কর্নেল শাফায়াত জামিল আড়ালেই থাকেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় ঢাকায় ৪৬ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন। তার অধীনের সেনা কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ ও পরবর্তী ঘটনাবলী নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নিয়ে সে সময়ের সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ ও শাফায়াত জামিলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ আছে। তবে এরা দুজনই আজো বঙ্গবন্ধুর সমর্থক।

১৫ আগস্টের পর দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনাকে ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল হিসেবে চালানোর চেষ্টা কম হয়নি। এক্ষেত্রে গাজী গোলাম মোস্তফা, শেখ কামাল, মেজর ডালিম, ডালিমের স্ত্রীর নাম বারবার এসেছে। ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে মেজর ডালিম বা নুরের ক্ষোভ থাকার কথা গাজীর বিরুদ্ধে। ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু, তার স্বজনদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে। গাজী গোলাম মোস্তফা ছিলেন অক্ষত। তার বাড়িতে একজন সৈনিকও যায়নি। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় দুর্নীতির অভিযোগে। এই অভিযোগেরও আবার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

শেখ কামালকে “ব্যাংক ডাকাত” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার একটা চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ১৯৭৪ সাল থেকে এই প্রচারণার শুরু। আমিও এই প্রচারে বিভ্রান্ত ছিলাম দীর্ঘদিন। আমি নিশ্চিত এই লেখার পাঠকদের অনেকে এখনো বিশ্বাস করেন, দলবল নিয়ে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে শেখ কামাল গুলিবিদ্ধ হন। সুযোগ পেলেই বিএনপি নেতারা, এমনকি বেগম খালেদা জিয়া নিজেও শেখ কামালকে ‘ব্যাংক ডাকাত’ বলে থাকেন। জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক কার্যবিবরণীতেও তাদের এমন বক্তব্য পাওয়া যাবে।

এ নিয়ে মেজর জেনারেল মইন তার “এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য : স্বাধীনতার প্রথম দশক” বইতে স্বাধীনতাত্তোর অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নানা তথ্য দেন। তিনি লিখেন, ১৯৭৩ সালের বিজয় দিবসের আগের রাতে ঢাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, সিরাজ শিকদার তার দলবল নিয়ে এসে শহরের বিভিন্নস্থানে হামলা চালাতে পারেন। এ অবস্থায় সাদা পোশাকে পুলিশ গাড়ি নিয়ে শহরজুড়ে টহল দিতে থাকে। সর্বহারা পার্টির লোকজনের খোঁজে শেখ কামালও তার বন্ধুদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে ধানমন্ডি এলাকায় বের হন। সিরাজ শিকদারের খোঁজে টহলরত পুলিশ মাইক্রোবাসটি দেখতে পায় এবং আতংকিত হয়ে কোনো সতর্ক সংকেত না দিয়েই গুলি চালায়। শেখ কামাল ও তার বন্ধুরা গুলিবিদ্ধ হন। গুলি শেখ কামালের কাঁধে লাগে। তাকে তখনকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জেনারেল মইন তখন ৪৬ ব্রিগেডের অধিনায়ক। বিজয় দিবসে মানিক মিয়া এভিনিউতে সম্মিলিত সামরিক প্যারেড পরিচালনা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সালাম নেন। জেনারেল মইন লিখেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব অত্যন্ত গম্ভীর ও মলিন মুখে বসে ছিলেন। কারো সঙ্গেই তেমন কথা বলেননি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জেনারেল মইন বইতে লিখেন, ওইদিন শেখ মুজিব তার সঙ্গেও কথা বলেননি। ‘৭২ সাল থেকে অনেকবারই তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু এতোটা মর্মাহত কখনো তাকে আগে দেখেননি। মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধের সময় জেনারেল ওসমানীর এডিসি শেখ কামালও জেনারেল মইনের ঘনিষ্ট ছিলেন। প্যারেড শেষে মইন পিজিতে যান শেখ কামালকে দেখতে। হাসপাতালে বেগম মুজিব শেখ কামালের পাশে বসেছিলেন। মইন লিখেন, প্রধানমন্ত্রী তার ছেলের ওই রাতের অবাঞ্ছিত ঘোরাফেরায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং শেখ কামালকে হাসপাতালে দেখতে যেতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানান। পরে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে যান।

জেনারেল মইনকে এখানে উদ্ধৃত করার লোভ সামলাতে পারছি না। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা শেষে তিনি লিখেন, “এদিকে স্বাধীনতাবিরোধী ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষীরা এই ঘটনাকে ভিন্নরূপে প্রচার করে। ‘ব্যাংক ডাকাতি’ করতে গিয়ে কামাল পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে তারা প্রচারণা চালায় এবং দেশ-বিদেশে ভুল তথ্য ছড়াতে থাকে। যদিও এসব প্রচারণায় সত্যের লেশমাত্র ছিল না।”

ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালীদের ছেলেমেয়েরা সব সময়েই রাজনীতিতে নানা সমস্যা তৈরি করে থাকে। শেখ কামালকে আমি কখনো দেখিনি। তবে কেন যেন অল্প বয়স থেকেই তার সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা আমার হয়ে আছে। সত্য জানার পরও সে ধারণা পুরো দূর হয়নি। তবে এটা বুঝতে পারছি, শেখ কামাল সম্পর্কে বিরূপ প্রচারও প্রচুর হয়েছে। ইতিহাসের সত্যানুসন্ধানে এসবের অনেকই মিথ্যাচার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে প্রমাণ হচ্ছে এবং হয়তো আরো হবে। তবে বঙ্গবন্ধুর ছেলে হওয়ার সুবাদে শেখ কামাল যে ক্ষমতার নানা অপব্যবহার করেছেন তা নিয়ে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা এর নজির বারবারই দেখে আসছি।

[ধারাবাহিকের এই পর্বটা আগের তুলনায় নিশ্চয়ই তাড়াতাড়ি এসেছে। '৭৫-এর ঘটনাবলী এতো জটিল এবং নানামুখী ডালপালা ছড়ানো যে এ নিয়ে ভালো করে সতর্কভাবে লেখার বিকল্প নেই। কারণ আর যাই হোক সত্য বিকৃত করা আমার কাজ না। সচেতনভাবেই সত্যের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি।]

১০ votes, average: ৫.০০ out of ৫১০ votes, average: ৫.০০ out of ৫১০ votes, average: ৫.০০ out of ৫১০ votes, average: ৫.০০ out of ৫১০ votes, average: ৫.০০ out of ৫ (১০ভোট, ৫.০০/ ৫)
রেটিং করার জন্য আপনাকে রেজিস্টার্ড সদস্য হতে হবে
Loading ... Loading ...
প্রকাশিত লেখা বা মন্তব্য সম্পূর্ণভাবেই লেখক/মন্তব্যকারীর নিজস্ব অভিমত। এর জন্য ক্যাডেট কলেজ ব্লগ কর্তৃপক্ষকে কোনভাবেই দায়ী করা চলবেনা।

৭০ টি মন্তব্য

  1. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
       নভেম্বর ১৫, ২০০৯ at ১১:২০ অপরাহ্ন |

    মা, মা, মা, দেখে যাও। তোমার ছেলে … :D

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৫, ২০০৯ at ১১:৩৩ অপরাহ্ন |

    না পইড়া? x-( x-( x-(

    জবাব দিন

    রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
        নভেম্বর ১৫, ২০০৯ at ১১:৪৮ অপরাহ্ন |

    * শেখ কামালের ব্যাংক ডাকাতি সম্পর্কিত অনেক গল্প আমার আব্বুও আমাকে বলেছেন। স্বভাবতই শেখ কামাল সম্পর্কে আমারও বেশ নেতিবাচক ধারণা হয়েছিল। বাংলাদেশের ক্ষমতাবানদের সন্তানের দাপট দেখলে এই ধারণা আরও পাকাপোক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। তবে অপপ্রচারও নিশ্চয়ই অনেক হয়েছে।

    *
    আর মেজর ডালিমের কথা কী বলবো! আমি নিজেই প্রপাগন্ডাটাই জানতাম দীর্ঘদিন ধরে। আজকে পরিষ্কার কাহিনিটা বুঝতে পারলাম।

    *

    যত্ন করে লেখা এই সিরিজ চলুক।

    জবাব দিন

      iqbal
        অগাষ্ট ২৯, ২০১০ at ১:২৩ পুর্বাহ্ন |

    donnobat apnake sotto prokash korar jonno,kinto shek kamal ke nei ei chapa baji ami kono din bishwas kori nai,karon shek kamal dakate korar dorkar chilo na,tareq ziar moto dor…nette korte parto.

    জবাব দিন

  2. সাব্বির (৯৫-০১)
       নভেম্বর ১৫, ২০০৯ at ১১:৩৫ অপরাহ্ন |

    ২য় :D
    শিরনাম পড়ছি :grr:

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৫, ২০০৯ at ১১:৩৯ অপরাহ্ন |

    দিহান লগ-ইন নাই…….. তাই তোমরা সুযোগ পাইলা…….. আহহারে বেচারা ক্ষেইপ্পা ভুত হইয়া আবীরের ঘাড় মচকাইবো!! B-) B-) B-)

    জবাব দিন

  3. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)
       নভেম্বর ১৫, ২০০৯ at ১১:৪৪ অপরাহ্ন |

    ঐ সময়কার ঘটনাগুলো পড়তে গেলে মাথা ঘুরতে থাকে…একটি নব্য স্বাধীন দেশকে বেসামাল করার জন্য কত মুখী ষড়যন্ত্র…!!!

    সানা ভাই, একটা টাইপো আছে মনে হয়…নিচ থেকে আট নম্বর অনুচ্ছেদের শেষ লাইনে ১৯৭৫ হবার কথা না???

    এই সিরিজিটার জন্য আপনারে আর একবার :salute:

    জবাব দিন

  4. মো. তারিক মাহমুদ (২০০১-০৭)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১২:০৮ পুর্বাহ্ন |

    ধারাবাহিক পর্বগুলো বেশ উপভোগ করছি … … নেন , :teacup: এটা খেয়ে নেন …

    ও ভাল কথা, নিচের ব্যাপারটা একটু check করবেন কী ?

    এর ফলে সামরিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক আদেশে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, মেজর ডালিম এবং মেজর এস এইচ এম বি নুর চৌধুরী। এরা দুজনই ১৯৭৪-এর আগস্টে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

    স্যার, একটা ছোট ভুল হয়ে গেল কি ?

    জবাব দিন

  5. জুলহাস (৮৮-৯৪)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১২:২৫ পুর্বাহ্ন |

    :clap: :clap: :clap:
    ভাইস্যার, একটা টাইপো আছে মনে হয়…নিচ থেকে আট নম্বর অনুচ্ছেদের শেষ লাইনে ১৯৭৫ হবার কথা না??? :( :( :(

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৪:০০ অপরাহ্ন |

    জুনা, তারিক ও জুলহাস : ভুলটা সংশোধন করা হয়েছে। ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

    জবাব দিন

  6. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১২:৪৪ পুর্বাহ্ন |

    জেসিসির সাবেক উপাধক্ষ্য জনাব রফিক নওশাদ শেখ কামালের ক্লাসমেট ছিলেন।২০০০ সালের ১৫ আগস্ট আলোচনাসভায় ক্যাডেটদের মধ্য থেকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম এই ব্যাঙ্ক ডাকাতি নিয়ে।উত্তরে উনি হেসে বলেছিলেন-”প্রেসিডেন্টের ছেলের কি লোক দেখিয়ে,নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পয়সার জন্যে ব্যাঙ্ক ডাকাতি করা লাগে? ইতিহাস বিশ্লেষণ বাদ দাও,নিজের সাধারণ বোধ-বুদ্ধি বা কমন সেন্স কি বলে তোমাকে?”

    শেখ কামালের হয়ত অনেক দোষ ছিল কিন্তু তিনি ব্যাঙ্ক ডাকাতি করতে চাইছিলেন বা নারী নির্যাতনের সাথে যুক্ত ছিলেন এটা সম্ভবত অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়।তবে দ্বিধায় পড়ে যাই যখন আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মা হলফ করে এ কথা বলেন যে তিনি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দেখেছেন শেখ কামালের রাস্তা থেকে মেয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    মুরব্বিশ্রেণীর মানুষদের এহেন আচরণ সত্যিই দুঃখজনক।

    অ ট-সানা ভাই এই লেখাটা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করার মত হয়েছে।যত বেশি ছড়িয়ে দেয়া যায় ততই মঙ্গল।

    জবাব দিন

    সাল্লু (৯২/ম)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ৩:৫১ পুর্বাহ্ন |

    “তিনি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দেখেছেন শেখ কামালের রাস্তা থেকে মেয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া”
    ঐ সময়ে ঢাবি পড়ুয়া আমার দুই চাচা(একটা আপন চাচা আরেকটা পাড়াত চাচা) হলফ করে বলেছিলেন(হলফ করে বলা মানে কি?) এই ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী তারা। আমার এক ফ্রেন্ডের আব্বাও একবার নিজেকে ওই ঘটনার “প্রত্যক্ষ্যদর্শী” হিসেবেই দাবী করেছিলেন। মনে হয় কামাল সাহেব ব্যাংক ডাকাতি/মেয়ে উঠানোর আগে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষনা দিয়ে যাইতেন; যাই ঘটতো আদ্দেক বাংলা জাতি তার “প্রত্যক্ষ্যদর্শী” হিসেবে থাকটো।

    জবাব দিন

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ২:৩৫ অপরাহ্ন |

    আমার আপন বড়খালাও(উনি অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন নাই) এই ব্যাপারে একেবারে শতভাগ নিশ্চিত যে রাস্তা থেকে জিপে করে শেখ কামাল মেয়ে উঠায় নিয়া যাইত,আর সুলতানা কামালকে নাকি জোর করে বিয়া করছিল।ঘটনাটা কি বলেন তো?তারেক জিয়াকে নিয়া(যদি বিএনপি জোটের সময় তারেকের কীর্তিকলাপের সাথে লীগ আমলে শেখ কামালের কার্যকলাপের একটা প্যারালাল তর্কের খাতিরে টেনে নেই) অনেক রকম গুজব শুনলেও এইরকম হলফ করে মেয়ে উঠায় নিয়া যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী পাই নাই অথচ শেখ কামালের অত্যাচার প্রচার করতে এই কাহিনীটা বহুল ব্যবহৃত।প্রেসিডেন্টের ছেলে হিসাবে উনি সরকারী কাজে হস্তক্ষেপ করেন নাই সেইটা আমি বলতেছিনা কিন্তু এই রকম ভয়াবহ বিদ্বেষের কাহিনীটা কি?

    অতি আপন নিকটাত্মীয়রা যখন মিথ্যা বলে বা মূর্খের মত আচরণ করে তখন খুব কষ্ট লাগে।

    মুরুব্বীশ্রেণীর লোকেরা যখন মিথ্যা কথা বলে খুব খারাপ লাগে।

    জবাব দিন

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ২:৪৫ অপরাহ্ন |

    ইয়ে সাল্লু ভাই,হলফ করে বলা=শপথ করে বলা :-B

    জবাব দিন

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ২:৪৭ অপরাহ্ন |

    ও হ্যাঁ,সাল্লু ভাউয়ের কমেন্টে উত্তম জাঝা :thumbup: :thumbup:

    জবাব দিন

  7. রকিব (০১-০৭)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১:৩৮ পুর্বাহ্ন |

    :boss: :boss: :boss:
    পুরোটা পিডিএফ আকারে জমিয়ে রাখছি।

    জবাব দিন

    সাব্বির (৯৫-০১)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৩:২৯ পুর্বাহ্ন |

    পরে কি ব্যবসা করবি বই ছাপাইয়া :grr: :grr:

    জবাব দিন

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৪:১২ পুর্বাহ্ন |

    না চায়ের দোকানে এট্টা রিডিং সেকশন ওপেন করবো :P

    জবাব দিন

    রকিব (০১-০৭)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১০:৪৫ পুর্বাহ্ন |

    হাইসেন না। দক্ষিন আমেরিকায় স্টার বাকস নামে একখান চায়ের দোকান আছে, এদের কোন কোন স্টোরের সাথে রিডিং প্লেস থাকে। আমিও ভাবতেছি এরকম কিছু করবো। বুঝেনই তো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। B-)

    জবাব দিন

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১০:২২ অপরাহ্ন |

    :-o :-o :-o

    জবাব দিন

    সাব্বির (৯৫-০১)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১১:৫৩ অপরাহ্ন |

    আমাদের এইখানে কয়েকটা স্টার বাকস বন্ধ হইয়া গেছে :(
    রেসিশনের পর :(( :((

    জবাব দিন

  8. দিহান আহসান
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৫:২৪ পুর্বাহ্ন |

    অনেক যত্ন নিয়ে লিখছেন বুঝতে পারছি, এত ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে লিখতে পারছেন। দেরী করে হলেও আস্তে ধীরে দেন সমস্যা নাই।

    অনেক ভুল ধারনা নিয়েই ছিলাম এতদিন। আপনার লেখা পড়ে অনেক কিছুই জানতে পারলাম। ধন্যবাদ ভাইজান। :)

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৫:১২ অপরাহ্ন |

    যত্ন নারে বইন, কষ্ট। পত্রিকার জন্যও বোধহয় এতো খাইট্টা লিখলাম না। তবে তোমরা পড়ো বলে ভালো লাগে। লেখার কষ্টটা তখন ভালোলাগায় পরিবর্তিত হয়। ধন্যবাদ দিহান।

    জবাব দিন

  9. মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৫:২৯ পুর্বাহ্ন |

    মেজর ডালিমের বউ অপহরনের ঘটনার বিস্তারিত পে্যেছিলাম এখানে :

    নুরুজ্জামান মানিক জুলাই ২৬, ২০০৯ @ ১২:৩৯ অপরাহ্ন ৯
    বানোয়াট প্রচারনা । আমার কাছে স্বয়ং মেজর ডালিম (পরে লে. কর্নেল) এর লিখিত গ্রন্থ
    “যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি “আছে । সে সুত্র মতে, ঘটনার সাথে শেখ কামাল জড়িত নন । এখানে তার বই থেকে ঘটনা তুলে দিচ্ছি -

    রেডক্রস চেয়ারম্যান এবং তদানীন্তন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফা নিম্মী এবং আমাকে বন্দুকের মুখে লেডিস ক্লাব থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

    ১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি ঘটে এক বর্বরোচিত অকল্পনীয় ঘটনা। দুস্কৃতিকারী দমন অভিযানে সেনাবাহিনী তখনও সারাদেশে নিয়োজিত। আমার খালাতো বোন তাহ্‌মিনার বিয়ে ঠিক হল কর্নেল রেজার সাথে। দু’পক্ষই আমার বিশেষ ঘনিষ্ট। তাই সব ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে হচ্ছিল আমাকে এবং নিম্মীকেই। বিয়ের দু’দিন আগে ঢাকায় এলাম কুমিল্লা থেকে। ঢাকা লেডিস ক্লাবে বিয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেই বিয়েতে অনেক গন্যমান্য সামরিক এবং বেসামরিক লোকজন বিশেষ করে হোমরা-চোমরারা এসেছিলেন অতিথি হিসেবে। পুরো অনুষ্ঠানটাই তদারক করতে হচ্ছিল নিম্মী এবং আমাকেই। আমার শ্যালক বাপ্পি ছুটিতে এসেছে ক্যানাডা থেকে। বিয়েতে সেও উপস্থিত। বিয়ের কাজ সুষ্ঠভাবেই এগিয়ে চলেছে। রেডক্রস চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফার পরিবারও উপস্থিত রয়েছেন অভ্যাগতদের মধ্যে। বাইরের হলে পুরুষদের বসার জায়গায় বাপ্পি বসেছিল। তার ঠিক পেছনের সারিতে বসেছিল গাজীর ছেলেরা। বয়সে ওরা সবাই কমবয়সী ছেলে-ছোকরা। বাপ্পি প্রায় আমার সমবয়সী। হঠাৎ করে গাজীর ছেলেরা পেছন থেকে কৌতুকচ্ছলে বাপ্পির মাথার চুল টানে, বাপ্পি পেছনে তাকালে ওরা নির্বাক বসে থাকে। এভাবে দু’/তিনবার চুলে টান পড়ার পর বাপ্পি রাগান্বিত হয়ে ওদের জিজ্ঞেস করে,

    -চুল টানছে কে?

    -আমরা পরখ করে দেখছিলাম আপনার চুল আসল না পরচুলা। জবাব দিল একজন। পুচঁকে ছেলেদের রসিকতায় বাপ্পি যুক্তিসঙ্গত কারণেই ভীষণ ক্ষেপে যায়; কিন্তু কিছুই বলে না। মাথা ঘুরিয়ে নিতেই আবার চুলে টান পরে। এবার বাপ্পি যে ছেলেটি চুলে টান দিয়েছিল তাকে ধরে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলে,

    -বেয়াদপ ছেলে মশকারী করার জায়গা পাওনি? খবরদার তুমি আর ঐ জায়গায় বসতে পারবে না। এ কথার পর বাপ্পি আবার তার জায়গায় ফিরে আসে। এ ঘটনার কিছুই আমি জানতাম না। কারণ তখন আমি বিয়ের তদারকি এবং অতিথিদের নিয়ে ভীষণভাবে ব্যস্ত। বিয়ের আনুষ্ঠিকতার প্রায় সবকিছুই সুষ্ঠভাবেই হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়ার পর্বও শেষ। অতিথিরা সব ফিরে যাচ্ছেন। সেদিন আবার টেলিভিশনে সত্যজিৎ রায়ের পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি ‘মহানগর’ ছবিটি দেখানোর কথা; তাই অনেকেই তাড়াতাড়ি ফিরে যাচ্ছেন ছবিটি দেখার জন্য। অল্প সময়ের মধ্যেই লেডিস ক্লাব প্রায় ফাঁকা হয়ে গেল। মাহবুবের আসার কথা। মানে এসপি মাহবুব। আমাদের বিশেষ ঘনিষ্ট বন্ধুদের একজন। আমরা সব একইসাথে যুদ্ধ করেছি স্বাধীনতা সংগ্রামে। কি এক কাজে মানিকগঞ্জ যেতে হয়েছিল তাকে। ওখান থেকে খবর পাঠিয়েছে তার ফিরতে একটু দেরী হবে। ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনরা সবেমাত্র তখন খেতে বসেছি। হঠাৎ দু’টো মাইক্রোবাস এবং একটা কার এসে ঢুকল লেডিস ক্লাবে। কার থেকে নামলেন স্বয়ং গাজী গোলাম মোস্তফা আর মাইক্রোবাস দু’টো থেকে নামল প্রায় ১০-১২ জন অস্ত্রধারী বেসামরিক ব্যক্তি। গাড়ি থেকেই প্রায় চিৎকার করতে করতে বেরুলেন গাজী গোলাম মোস্তফা।

    -কোথায় মেজর ডালিম? বেশি বার বেড়েছে। তাকে আজ আমি শায়েস্তা করব। কোথায় সে? আমি তখন ভেতরে সবার সাথে খাচ্ছিলাম। কে যেন এসে বলল গাজী এসেছে। আমাকে তিনি খুঁজছেন। হঠাৎ করে গাজী এসেছেন কি ব্যাপার? ভাবলাম বোধ হয় তার পরিবারকে নিয়ে যেতে এসেছেন তিনি। আমি তাকে অর্ভ্যথনা করার জন্য বাইরে এলাম। বারান্দায় আসতেই ৬-৭জন স্টেনগানধারী আমার বুকে-পিঠে-মাথায় তাদের অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘিরে দাড়াল। ঘটনার আকস্মিকতায় আমিতো হতবাক! কিছুটা অপ্রস্তুতও বটে। সামনে এসে দাড়ালেন স্বয়ং গাজী। আমি অত্যন্ত ভদ্রভাবে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,
    -ব্যাপার কি? এ সমস্ত কিছুর মানেই বা কি?

    তিনি তখন ভীষণভাবে ক্ষীপ্ত। একনাগাড়ে শুধু বলে চলেছেন,
    -গাজীরে চেন না। আমি বঙ্গবন্ধু না। চল্‌ শালারে লইয়া চল্‌। আইজ আমি তোরে মজা দেখামু। তুই নিজেরে কি মনে করছস?
    অশালীনভাবে কথা বলছিলেন তিনি। আমি প্রশ্ন করলাম,
    -কোথায় কেন নিয়ে যাবেন আমাকে?

    আমার প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে তিনি নির্দেশ দিলেন তার অস্ত্রধারী অনুচরদের। তার ইশারায় অস্ত্রধারীরা সবাই তখন আমাকে টানা-হেচড়া করে মাইক্রোবাসের দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। বিয়ের উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বন্দোবস্ত করা হয়েছে; গাড়িতে আমার এস্কট সিপাইরাও রয়েছে। ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত। একটা বিয়ের অনুষ্ঠান। কন্যা দান তখনও করা হয়নি। কি কারণে যে এমন অদ্ভুত একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হল সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ দেখলাম বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আলম এবং চুল্লুকে মারতে মারতে একটা মাইক্রোবাসে উঠালো ৩-৪ জন অস্ত্রধারী। ইতিমধ্যে বাইরে হৈ চৈ শুনে নিম্মী এবং খালাম্মা মানে তাহমিনার আম্মা বেরিয়ে এসেছেন অন্দরমহল থেকে।

    খালাম্মা ছুটে এসে গাজীকে বললেন,
    -ভাই সাহেব একি করছেন আপনি? ওকে কেন অপদস্ত করছেন?
    কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ওকে? কি দোষ করেছে ও?

    গাজী তার কোন কথারই জবাব দিলেন না। তার হুকুমের তামিল হল। আমাকে জোর করে ঠেলে উঠান হল মাইক্রোবাসে। বাসে উঠে দেখি আলম ও চুল্লু দু’জনেই গুরুতরভাবে আহত। ওদের মাথা এবং মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। আমাকে গাড়িতে তুলতেই খালাম্মা এবং নিম্মী দু’জনেই গাজীকে বলল,
    -ওদের সাথে আমাদেরকেও নিতে হবে আপনাকে। ওদের একা নিয়ে যেতে দেব না আমরা।

    -ঠিক আছে; তবে তাই হবে। বললেন গাজী।

    গাজীর ইশারায় ওদেরকেও ধাক্কা দিয়ে উঠান হল মাইক্রোবাসে। বেচারী খালাম্মা! বয়স্কা মহিলা, আচমকা ধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে পড়লেন মাইক্রোবাসের ভিতরে। আমার দিকে অস্ত্রতাক করে দাড়িয়ে থাকলো পাঁচজন অস্ত্রধারী; গাজীর সন্ত্রাস বাহিনীর মাস্তান। গাজী গিয়ে উঠল তার কারে। বাকি মাস্তানদের নিয়ে দ্বিতীয় মাইক্রোবাসটা কোথায় যেন চলে গেল। মাইক্রোবাস দুইটি ছিল সাদা রং এর এবং তাদের গায়ে ছিল রেডক্রসের চিহ্ন আঁকা। গাজীর গাড়ি চললো আগে আগে আর আমাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি চললো তার পেছনে। এসমস্ত ঘটনা যখন ঘটছিল তখন আমার ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হক স্বপন বীর বিক্রম ও বাপ্পি লেডিস ক্লাবে উপস্থিত ছিল না। তারা গিয়েছিল কোন এক অতিথিকে ড্রপ করতে। আমাদের কাফেলা লেডিস কা্লব থেকে বেরিয়ে যাবার পর ওরা ফিরে এসে সমস্ত ঘটনা জানতে পারে লিটুর মুখে। সবকিছু জানার পরমুহুর্তেই ওরা যোগাযোগ করল রেসকোর্সে আর্মি কন্ট্রোল রুমে তারপর ক্যান্টনমেন্টের এমপি ইউনিটে। ঢাকা ব্রিগেড মেসেও খবরটা পৌঁছে দিল স্বপন। তারপর সে বেরিয়ে গেল ঢাকা শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের খুঁজে বের করার জন্য। আবুল খায়ের লিটু আমার ছোট বোন মহুয়ার স্বামী এবং আমার বন্ধু। ও ছুটে গেল এসপি মাহবুবের বাসায় বেইলী রোডে। উদ্দেশ্য মাহবুবের সাহায্যে গাজীকে খুঁজে বের করা।

    এদিকে আমাদের কাফেলা গিয়ে থামল রমনা থানায়। গাজী তার গাড়ি থেকে নেমে চলে গেল থানার ভিতরে। অল্প কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নিজের গাড়িতে উঠে বসলেন গাজী। কাফেলা আবার চলতে শুরু করল। কাফেলা এবার চলছে সেকেন্ড ক্যাপিটালের দিকে। ইতিমধ্যে নিম্মী তার শাড়ী ছিড়ে চুল্লু ও আলমের রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য ব্যান্ডেজ বেধে দিয়েছে। সেকেন্ড ক্যাপিটালের দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে দেখে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। গাজীর মনে কোন দুরভিসন্ধি নেইতো? রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে নাতো? ওর পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। কিছু একটা করা উচিত। হঠাৎ আমি বলে উঠলাম,
    -গাড়ি থামাও!
    আমার বলার ধরণে ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দিল। আমাদের গাড়িটা থেমে পড়ায় সামনের গাজীর গাড়িটাও থেমে পড়ল। আমি তখন অস্ত্রধারী একজনকে লক্ষ্য করে বললাম গাজী সাহেবকে ডেকে আনতে। সে আমার কথার পর গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে গাজীকে গিয়ে কিছু বলল। দেখলাম গাজী নেমে আসছে। কাছে এলে আমি তাকে বললাম,
    -গাজী সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে যাই চিন্তা করে থাকেন না কেন; লেডিস ক্লাব থেকে আমাদের উঠিয়ে আনতে কিন্তু সবাই আপনাকে দেখেছে। তাই কোন কিছু করে সেটাকে বেমালুম হজম করে যাওয়া আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবে না।

    আমার কথা শুনে কি যেন ভেবে নিয়ে তিনি আবার তার গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। কাফেলা আবার চলা শুরু করল। তবে এবার রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে নয়, গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি চললেন ৩২নং ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রীর বাসার দিকে। আমরা হাফ ছেড়ে বাচলাম। কলাবাগান দিয়ে ৩২নং রোডে ঢুকে আমাদের মাইক্রোবাসটা শেখ সাহেবের বাসার গেট থেকে একটু দূরে এলকটা গাছের ছায়ায় থামতে ইশারা করে জনাব গাজী তার গাড়ি নিয়ে সোজা গেট দিয়ে ঢুকে গেলেন ৩২নং এর ভিতরে। সেকেন্ড ফিল্ড রেজিমেন্ট তখন শেখ সাহেবের বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। একবার ভাবলাম ওদের ডাকি, আবার ভাবলাম এর ফলে যদি গোলাগুলি শুরু হয়ে যায় তবে ক্রস-ফায়ারে বিপদের ঝুঁকি বেশি। এ সমস্তই চিন্তা করছিলাম হঠাৎ দেখি লিটুর ঢাকা ক-৩১৫ সাদা টয়োটা কারটা পাশ দিয়ে হুস্‌ করে এগিয়ে গিয়ে শেখ সাহেবের বাসার গেটে গিয়ে থামল। লিটুই চালাচ্ছিল গাড়ি। গাড়ি থেকে নামল এসপি মাহবুব। নেমেই প্রায় দৌড়ে ভিতরে চলে গেল সে। লিটু একটু এগিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষায় রইলো সম্ভবত মাহ্বুবের ফিরে আসার প্রতীক্ষায়। লিটু এবং মাহ্বুবকে দেখে আমরা সবাই আস্বস্ত হলাম। র্নিঘাত বিপদের হাত থেকে পরম করুণাময় আল্লাহ্‌’তায়ালা আমাদের বাচিঁয়ে দিলেন।
    লিটু যখন মাহ্‌বুবের বাসায় গিয়ে পৌঁছে মাহবুব তখন মানিকগঞ্জ থেকে সবেমাত্র ফিরে বিয়েতে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। হঠাৎ লিটুকে হন্তদন্ত হয়ে উপরে আসতে দেখে তার দিকে চাইতেই লিটু বলে উঠল,
    -মাহ্বুব ভাই সর্বনাশ হয়ে গেছে। বিয়ে বাড়ি থেকে গাজী বিনা কারণে ডালিম-নিম্মীকে জবরদস্তি গান পয়েন্টে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।
    একথা শুনে মাহবুব স্তম্ভিত হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীকেই খবরটা সবচেয়ে আগে দেওয়া দরকার কোন অঘটন ঘটে যাবার আগে। গাজীর কোন বিশ্বাস নাই; ওর দ্বারা সবকিছুই সম্ভব। মাহবুব টেলিফোনের দিকে এগিয়ে যায়। হঠাৎ টেলিফোনটাই বেজে উঠে। রেড টেলিফোন। মাহবুব ত্রস্তে উঠিয়ে নেয় রিসিভার। প্রধানমন্ত্রী অপর প্রান্তে,
    -মাহবুব তুই জলদি চলে আয় আমার বাসায়। গাজী এক মেজর আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ধইরা আনছে এক বিয়ার অনুষ্ঠান থ্যাইকা। ঐ মেজর গাজীর বউ-এর সাথে ইয়ার্কি মারার চেষ্টা করছিল। উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। বেশি বাড় বাড়ছে সেনাবাহিনীর অফিসারগুলির।
    সব শুনে মাহবুব জানতে চাইলো,
    -স্যার গাজী সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন মেজর ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের কোথায় রেখেছেন তিনি?
    -ওদের সাথে কইরা লইয়া আইছে গাজী। গেইটের বাইরেই গাড়িতে রাখা হইছে বদমাইশগুলারে। জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
    -স্যার গাজী সাহেব ডালিম আর নিম্মীকেই তুলে এনেছে লেডিস ক্লাব থেকে। ওখানে ডালিমের খালাতো বোনের বিয়ে হচ্ছিল আজ। জানাল মাহবুব।
    -কছ কি তুই! প্রধানমন্ত্রী অবাক হলেন।
    -আমি সত্যিই বলছি স্যার। আপনি ওদের খবর নেন আমি এক্ষুণি আসছি।
    এই কথোপকথনের পরই মাহবুব লিটুকে সঙ্গে করে চলে আসে ৩২নং ধানমন্ডিতে। মাহ্‌বুবের ভিতরে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রেহানা, কামাল ছুটে বাইরে এসে আমাদের ভিতরে নিয়ে যায়। আলম ও চুল্লুর রক্তক্ষরণ দেখে শেখ সাহেব ও অন্যান্য সবাই শংকিত হয়ে উঠেন।
    -হারামজাদা, এইডা কি করছস তুই?
    গাজীকে উদ্দেশ্য করে গর্জে উঠলেন শেখ মুজিব। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিম্মী এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। খালাম্মা ঠিকমত হাটতে পারছিলেন না। কামাল, রেহানা ওরা সবাই ধরাধরি করে ওদের উপরে নিয়ে গেল। শেখ সাহেবের কামরায় তখন আমি, নিম্মী আর গাজী ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। নিম্মী দুঃখে-গ্ল্যানিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। শেখ সাহেব ওকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিতে চেষ্টা করছিলেন। অদূরে গাজী ভেজা বেড়ালের মত কুকড়ে দাড়িয়ে কাঁপছিল। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। রেড ফোন। শেখ সাহেব নিজেই তুলে নিলেন রিসিভার। গাজীর বাসা থেকে ফোন এসেছে। বাসা থেকে খবর দিল আর্মি গাজীর বাসা রেইড করে সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় সমস্ত শহরে আর্মি চেকপোষ্ট বসিয়ে প্রতিটি গাড়ি চেক করছে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে কিডন্যাপিং এর খবর পাওয়ার পরপরই ইয়ং-অফিসাররা যে যেখনেই ছিল সবাই বেরিয়ে পড়েছে এবং খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মেজর ডালিম ও তার স্ত্রী নিম্মীকে। সমস্ত শহরে হৈচৈ পড়ে গেছে। গাজীরও কোন খবর নেই। গাজীকে এবং তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরও খুঁজছে আর্মি তন্নতন্ন করে সম্ভাব্য সব জায়গায়। টেলিফোন পাওয়ার পর শেখ সাহেবের মুখটা কালো হয়ে গেল। ফোন পেয়েই তিনি আমাদের সামনেই আর্মি চীফ শফিউল্লাহকে হটলাইনে বললেন,
    -ডালিম, নিম্মী, গাজী সবাই আমার এখানে আছে, তুমি জলদি চলে আসো আমার এখানে।
    ফোন রেখে শেখ সাহেব গাজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
    -মাফ চা নিম্মীর কাছে।
    গাজী শেখ সাহেবের হুকুমে নিম্মীর দিকে এক পা এগুতেই সিংহীর মত গর্জে উঠল নিম্মী,
    -খবরদার! তোর মত ইতর লোকের মাফ চাইবার কোন অধিকার নাই; বদমাইশ।
    এরপর শেখ মুজিবের দিকে ফিরে বলল নিম্মী,
    -কাদের রক্তের বদলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী? আমি জানতে চাই। আপনি নিজেকে জাতির পিতা বলে দাবি করেন। আমি আজ আপনার কাছে বিচার চাই। আজ আমার জায়গায় শেখ হাসিনা কিংবা রেহানার যদি এমন অসম্মান হত তবে যে বিচার আপনি করতেন আমি ঠিক সেই বিচারই চাই। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আপনারা জাতির কর্ণধার হয়ে ক্ষমতা ভোগ করছেন সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ভুলুন্ঠিত করে তাদের গায়ে হাত দেয়ার মত সাহস কম্বলচোর গাজী পায় কি করে? এর উপযুক্ত জবাব আমি আজ চাই আপনার কাছ থেকে। আজ পর্যন্ত আপনি বলতে পারবেন না ব্যক্তিগতভাবে কোন কিছু চেয়েছি আপনার কাছে কিন্তু আজ দাবি করছি ন্যায্য বিচার। আপনি যদি এর বিচার না করেন তবে আমি আল্লাহ্‌র কাছে এই অন্যায়ের বিচার দিয়ে রাখলাম। তিনি নিশ্চয়ই এর বিচার করবেন।

    আমি অনেক চেষ্টা করেও সেদিন নিম্মীকে শান্ত করতে পারিনি। ঠান্ডা মেজাজের কোমল প্রকৃতির নিম্মীর মধ্যেও যে এধরণের আগুন লুকিয়ে থাকতে পারে সেটা আমার কাছেও আশ্চর্য লেগেছিল সেদিন। শেখ সাহেব নিম্মীর কথা শুনে ওকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলেছিলেন,
    -মা তুই শান্ত ’হ। হাসিনা-রেহানার মত তুইও আমার মেয়েই। আমি নিশ্চয়ই এর উপযুক্ত বিচার করব। অন্যায়! ভীষণ অন্যায় করছে গাজী কিন্তু তুই মা শান্ত ’হ। বলেই রেহানাকে ডেকে তিনি নিম্মীকে উপরে নিয়ে যেতে বললেন।

    রেহানা এসে নিম্মীকে উপরে নিয়ে গেল। ইতিমধ্যে জেনারেল শফিউল্লাহ এবং ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার সাফায়াত জামিল এসে পৌঁছেছে। শেখ সাহেব তাদের সবকিছু খুলে বলে জেনারেল শফিউল্লাকে অনুরোধ করলেন গাজীর পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করতে। জেনারেল শফিউল্লাহ রেসকোর্স কন্ট্রোল রুমে অপারেশন কমান্ডার মেজর মোমেনের সাথে কথা বলার জন্য টেলিফোন তুলে নিলেন,
    -হ্যালো মোমেন, আমি শফিউল্লাহ বলছি প্রাইম মিনিষ্টারের বাসা থেকে। ডালিম, নিম্মী, গাজী ওরা সবাই এখানেই আছে। প্রাইম মিনিষ্টারও এখানেই উপস্থিত আছেন। Everything is going to be all right. Order your troops to stand down এবং গাজী সাহেবের পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দাও। অপরপ্রান্ত থেকে মেজর মোমেন জেনারেল শফিউল্লাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন কিডন্যাপ করে নিয়ে যাওয়া অফিসার এবং তার স্ত্রীকে না দেখা পর্যন্ত এবং গাজী ও তার ১৭জন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তার হাতে সমর্পন না করা পর্যন্ত তার পক্ষে গাজীর পরিবারের কাউকেই ছাড়া সম্ভব নয়। শফিউল্লাহ তাকে অনেক বোঝাতে চেষ্টা করলেন কিন্তু মেজর মোমেন তার অবস্থানে অটল থাকলেন শফিউল্লাহর সব যুক্তিকে অসাড় প্রমাণিত করে। অবশেষে শফিউল্লাহ ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অপারেশন কমান্ডার এর শর্তগুলো জানালেন। শেখ সাহেবের মুখ শুকিয়ে গেল। তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন মেজর মোমেনের সাথে কথা বলতে। আমি অগত্যা টেলিফোন হাতে তুলে নিলাম,
    -হ্যালো স্যার। মেজর ডালিম বলছি। Things are under control প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন তিনি ন্যায় বিচার করবেন।
    - Well Dalim it’s nice to hear from you. But as the Operation Commander I must have my demands met. I got to be loyal to my duty as long as the army is deployed for anti-miscreant’s drive. The identified armed miscreants cannot be allowed to go escort free. As far as I am concerned the law is equal for everyone so there can’t be any exception. Chief has got to understand this.বললেন মেজর মোমেন।
    - Please Sir, why don’t you comeover and judge the situation yourself. অনুরোধ জানিয়েছিলাম আমি।
    - There is no need for me to come. However, I am sending Capt. Feroz. বলে ফোন ছেড়ে দিলেন মেজর মোমেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই ক্যাপ্টেন ফিরোজ এসে পড়ল। ফিরোজ আমার বাল্যবন্ধু। এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরল।
    -তুই গাজীরে মাফ কইরা দে। আর গাজী তুই নিজে খোদ উপস্থিত থাকবি কন্যা সম্প্রদানের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত। অনেকটা মোড়লী কায়দায় একটা আপোষরফা করার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী।
    -আমার বোনের সম্প্রদানের জন্য গাজীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। ওকে মাফ করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সেটা হবে আমার জন্য নীতি বিরোধিতা। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি রক্তের বিনিময়ে। আমাদের গা থেকে রক্ত ঝরাটা কোন বড় ব্যাপার নয়। ইউনিফর্মের চাকুরি করি টাকা-পয়সার লোভেও নয়। একজন সৈনিক হিসাবে আমার আত্মমর্যাদা এবং গৌরবকে অপমান করেছেন গাজী নেহায়েত অন্যায়ভাবে। আপনিই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। অবৈধ অস্ত্রধারীদের খুঁজে বের করে আইনানুযায়ী তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে। সেখানে আজ আমাদেরই ইজ্জত হারাতে হল অবৈধ অস্ত্রধারীদের হাতে! আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কথা দিয়েছেন এর উচিত বিচার করবেন। আমরা আপনি কি বিচার করেন সেই অপেক্ষায় থাকব।

    ক্যাপ্টেন ফিরোজকে উদ্দেশ্য করে সবার সামনেই বলেছিলাম, দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বিচারের ওয়াদা করেছেন সেক্ষেত্রে গাজীর পরিবারের সদস্যদের আর আটকে রাখার প্রয়োজন কি? কর্নেল মোমেনকে বুঝিয়ে তাদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করিস।
    সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে আসছিলাম ঠিক সেই সময় শেখ সাহেব বললেন,
    -আমার গাড়ি তোদের পৌঁছে দেবে।
    -তার প্রয়োজন হবে না চাচা। বাইরে লিটু-স্বপনরা রয়েছে তাদের সাথেই চলে যেতে পারব।
    বাইরে বেরিয়ে দেখি ৩২নং এর সামনের রাস্তায় গাড়ির ভীড়ে তিল ধারণের ঠাই নেই। পুলিশ অবস্থা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বন্ধু-বান্ধবরা যারাই জানতে পেরেছে আমাদের কিডন্যাপিং এর ব্যাপারটা; তাদের অনেকেই এসে জমা হয়েছে স্বতঃস্ফুর্তভাবে। আমাদের দেখে সবাই ঘিরে ধরল। সবাই জানতে চায় কি প্রতিকার করবেন প্রধানমন্ত্রী এই জঘণ্য অপরাধের। সংক্ষেপে যতটুকু বলার ততটুকু বলে ফিরে এলাম লেডিস ক্লাবে। মাহবুবও এল সাথে। মাহবুবের উছিলায় সেদিন রক্ষা পেয়েছিলাম চরম এক বিপদের হাত থেকে আল্লাহ্‌পাকের অসীম করুণায়। বিয়ের আসরে আমরা ফিরে আসায় পরিবেশ আবার আনন্দ-উচ্ছাসে ভরে উঠল। সবাই আবার হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে বিয়ের বাকি আনুষ্ঠিকতা সম্পন্ন করে কন্যা সম্প্রদান করা হল। তাহমিনার বিয়ের রাতটা আওয়ামী দুঃশাসনের একটা ঐতিহাসিক সাক্ষী হয়ে থাকলো। জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকলো আওয়ামী নেতাদের এবং তাদের ব্যক্তিগত বাহিনীর ন্যাক্কারজনক স্বেচ্ছাচার ও নিপীড়নের। কী করে এমন একটা জঘণ্য ঘটনার সাথে গাজী সরাসরি নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পেরেছিল তার কোন যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছিলাম আমাদের কুমিল্লা অপারেশনের পর পার্টির তরফ থেকে শেখ মুজিবের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল আমাদের বিশেষ করে আমার ঔদ্ধত্বের উপযুক্ত শিক্ষা দেবার জন্য। কিন্তু শেখ মুজিব ঐ চাপের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলেন, “আর্মি কোন কাঁচা কাজ করে নাই। তারা আইন অনুযায়ী সবকিছু করছে, প্রত্যেককে ধরেছে হাতেনাতে প্রমাণসহ সে ক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?” তার ঐ কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ আওয়ামী নেতাদের একাংশ। আইনের মাধ্যমে যদি কোন কিছু করা না যায় তবে অন্য কোনভাবে হলেও শিক্ষা তাদের দিতেই হবে এবং সেই দায়িত্বটাই গ্রহণ করেছিলেন সেই সময়ের Top terror and most powerful leader বলে পরিচিত গাজী গোলাম মোস্তফা। তখন থেকেই নাকি সুযোগ খুঁজছিলেন তিনি জিঘাংসা মিটাতে। বিয়ে বাড়িতে বাপ্পি এবং তার ছেলেদের মাঝে যে সামান্য ঘটনা ঘটে সেটাকেই সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে গাজী চেয়েছিল আমাকে উচিত শিক্ষা দিতে। এ বিষয়ে মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি তার বই ‘বাংলাদেশ! সামরিক শাসন এবং গণতন্ত্রের সংকট’ এ লিখেছেন, “গাজী সমর্থক লোকদের সম্ভবতঃ মেজর ডালিম ও তার স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল।”

    মূল ব্লগটি পাবেন এখানে :

    জবাব দিন

    মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৫:৩১ পুর্বাহ্ন |

    মূল ব্লগটি পাবেন এখানে ( কমেন্ট নং : ৯)

    জবাব দিন

    মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৫:৩২ পুর্বাহ্ন |

    হাইপারলিংক হিসাবে দিতে পারছি না, ডিরেক্ট তুলে দিলাম :

    http://hrrh69.amarblog.com/posts/71771

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৫:০৬ অপরাহ্ন |

    মান্নান : ধন্যবাদ। এ লেখাটাই ডালিমের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। আমি সেটা সম্পাদনা করে আমার লেখার প্রয়োজনের অংশ উদ্ধৃত করেছি বা বর্ণনায় দিয়েছি। ওয়েবসাইট থেকে লেখার পুরোটা কপিপেস্ট করলে পোস্টটা মোটামুটি উপন্যাসের আকার নিত! তবে একটা মজার বিষয় আমি এটা লিখতে গিয়ে দেখলাম, ডালিমের লেখায় গাজীর বাড়াবাড়িটা যতোটা এসেছে, নিজেকে ততোটা ভদ্র দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সিনিয়র সেনা কর্মকর্তারা ডালিম এবং তার সমর্থক সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের প্রসঙ্গও লিখেছেন। যা ডালিমের লেখায় অনুপস্থিত। ডালিমের পক্ষে এরশাদের উকালতিও বিষ্ময়ের ব্যাপার। পাকিস্তানপন্থী সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা এরশাদ পর্যন্ত সেই সময় মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের বিরোধকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন!!

    জবাব দিন

  10. রেজওয়ান (৯৯-০৫)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১০:০৭ পুর্বাহ্ন |

    এই সিরিজ থামলে খেলুম না :thumbup: :thumbup:

    জবাব দিন

  11. ফয়েজ (৮৭-৯৩)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১১:৪৬ পুর্বাহ্ন |

    অসংখ্য ধন্যবাদ সানাউল্লাহ ভাই। অনেক কিছুই নতুন করে জানছি।

    গাজী গোলাম মোস্তফা এর ব্যাপারটা একদমই জানা ছিল না। এই কি কম্বল চোর গাজী নাকি, যার অপবাদ আওয়ামী এখনো বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে? এই ব্যাটা এখন কই?

    মান্নানের কমেন্টে কুমিল্লা অপারেশন বয়ে একটা ব্যাপার এসেছে, গাজী ক্ষেপে যাওয়ার মূল কারন হিসেবে বলা হয়েছে এটাকে। এই কুমিল্লা অপারেশন সম্মর্কে কিছু জানি না। আরও জানি না এই সব কিছুর বিচার কি হয়েছিল নাকি? বংগবন্ধু কি বিচার করেছিলেন কম্বল চুরি আর অপমানের?

    জিয়ার স্টান্ড পছন্দ হল, কিন্তু বুঝতে পারছিনা, এই জিয়াই আবার এরশাদ কে সেনাপ্রধান করলেন কেন?

    জবাব দিন

    মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১:৩৬ অপরাহ্ন |

    ঠিক ধরেছেন ফয়েজ ভাই,
    এটা সেই কম্বল চোর গাজী। সে তখন রেড ক্রিসেন্টের অথবা ত্রান প্রকল্পের প্রধান ছিল।

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৯:১২ অপরাহ্ন |

    হ্যা ফয়েজ, এই সেই গাজী গোলাম মোস্তফা। যার সম্পর্কে ত্রাণ কেলেংকারির অভিযোগ আছে। “কম্বল চোর” নামেও তিনি “খ্যাত”। আমাদের ছোটবেলায় দেখতাম চার-পাঁচজন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মিলে একটা দল বেধে ভিক্ষা করতো আর সুর করে জারি গাইতো। ওইটার প্যারোডি একটা হয়েছিল এরকম :

    “গাজী গোলাম মোস্তফায়
    রাস্তা দিয়া হাইট্টা যায়,
    কম্বল একটা বান্ধা ছিল
    গাছেরও ডালায় গো
    গাজী গোলাম মোস্তফায়…”

    স্বাধীনতার পর ত্রাণের প্রধান ছিলেন তিনি। রেডক্রসের প্রধান। তাই ত্রাণসামগ্রী নয়-ছয়ের সঙ্গে তার নামটা “কম্বল চোর” হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।

    খুনি চক্র কিন্তু তাকে কিছুই করেনি। ১৫ আগস্টের পর তাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব প্রমাণ হয়নি, তাই তার কোনো সাজা হয়নি। ১৯৮১ সালে ভারতে আজমির শরীফ ভ্রমণ শেষে সড়কপথে কলকাতা ফেরার সময় এক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান।

    এমনকি ডালিমের শ্যালক বাপ্পীর চুল গাজী গোলাম মোস্তফার যে ছোট ছেলেটা টেনেছিল সেও আরেক ঘটনায় মারা গেছে।

    কুমিল্লা অপারেশন সম্পর্কে এখনো কিছু জানি না। জানলে জানাবো। তবে মুক্তিযুদ্ধের পর আইনশৃঙ্খলার অবনতির মুখে ১৯৭৩ সালে অস্ত্র উদ্ধারে একবার সেনাবাহিনীকে নামানো হয়েছিল। পরে ‘৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের সময় মজুতদার ধরতেও সেনা নামানো হয়েছিল। ওইসব সময় স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কিছু বিরোধের ঘটনা ঘটে। সম্ভবত সে রকম কোনো ঘটনার রেফারেন্স এখানে ডালিম টেনেছে মনে হচ্ছে। তবে আমি নিশ্চিত না।

    এ বিষয়ে সেনা উপপ্রধান জিয়ার অবস্থান নিয়ে আমার মতও তোমার মতোই। স্বাধীনতাত্তোর সেনাবাহিনীতে সফিউল্লাহ ও জিয়া সমসাময়িক হলেও জিয়া সামান্য সিনিয়র ছিলেন। তাকে সেনাপ্রধান না করে সফিউল্লাহকে করায় জিয়া ক্ষুব্ধ ছিলেন। আর দুইজনের পারসোনালিটি তখনকার বিচারে বিবেচনায় নিলে নেতৃত্বের বিষয়ে জিয়াকে বরং সফিউল্লাহর তুলনায় দক্ষ ও যোগ্য মনে হয়। জিয়াকে সেনাপ্রধান করা হলে হয়তো ইতিহাসও ভিন্নভাবে লেখা হতো।

    জবাব দিন

    গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)
        ডিসেম্বর ১৬, ২০১০ at ৭:১৯ অপরাহ্ন |

    “জিয়াকে সেনাপ্রধান করা হলে হয়তো ইতিহাসও ভিন্নভাবে লেখা হতো।”

    এমন কি হতে পারত যে, কোন ১৫ই আগষ্ট ঘটত না?

    জবাব দিন

  12. রাজীউর রহমান (১৯৯৯ - ২০০৫)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ২:১৯ অপরাহ্ন |

    অসাধারন লাগল আপনার পোষ্ট। মান্নান ভাইয়ের কমেন্টও ভাল লাগল।
    একটা বিষয় বুঝতে পারি না, কি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে হয়েছিল ? কি পরিস্থিতি যা ছেড়ে দেয় নি শেখ রাসেল কেও ।

    কিছু সেনা কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছিল। বিশেষ করে খুনি চক্র এবং বঙ্গবন্ধুর বিরোধীরা এমন একটা প্রচার দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে এসেছে।

    যদি ব্যাপারটা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে না হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই এটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ ছিল । কারা ছিলেন এর পিছনে ?

    শেখ কামালের মেজর ডালিমের স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়া, ব্যাংক ডাকাতি ইত্যাদি ঘটনা বহুল প্রচলিত । আমিও এগুলোর কিছু অংশ যে সত্য হবে তা মনে করতাম । আপনার এই পোস্ট পড়ে অনেক বিষয়ে ভাল ধারনা হল । :thumbup:

    কুমিল্লা অপারেশনের ব্যাপারে একটু বিস্তারিত বিস্তারিত জানতে চাই।

    তথ্যসমৃদ্ধ পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ। প্রিয়তে নিলাম এই পর্ব ।

    ফেসবুকে শেয়ার করলাম ।

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৯, ২০০৯ at ৯:৩৪ অপরাহ্ন |

    ডালিমের ওয়েবসাইটে ‘কুমিল্লা অপারেশন’ নিয়ে গাজী গোলাম মোস্তফার ক্ষোভের কথা এসেছে। সেই সূত্রে ফয়েজ, রাজীসহ আরো কয়েকজন কুমিল্লার ঘটনা জানতে আগ্রহ জানিয়েছে। বিষয়টা আমার ভালো করে জানা ছিল না। আবছা আবছা ধারণা ছিল। এখন দেখলাম ঘটনা সেরকমই।

    ‘৮৯ সালে সাপ্তাহিক কাগজ-এ প্রথম আলোর বর্তমান সম্পাদক মতিউর রহমানের লেখায় কুমিল্লার রেফারেন্স পেলাম। তিনি লিখেছেন, ‘৭৩ সালে অস্ত্র উদ্ধার ও চোরাচালান বন্ধে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছিল। সেনাবাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ধরা পড়েন। এ নিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়। মেজর শরিফুল হক ডালিম তখন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত এবং এই অভিযানে যুক্ত ছিলেন। ফলে তার ওপর আওয়ামী লীগ ও সরকারের লোকজন ক্ষুব্ধ ছিল।

    জবাব দিন

  13. রশিদ (৯৪-০০)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৫:৩৬ অপরাহ্ন |

    দারুণ লাগছে ভাইয়া আপনার লেখাটা…….মেজর ডালিমের ঐ সাইটে আমিও ঢুকে দেখেছি……আসলে বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সরকারগুলো একতরফাভাবে রাষ্ট্রীয় মাধ্যম ও হাতেগোনআ কিছু সংবাদপত্রের মাধ্যমে অপপ্রচারগুলো চালিয়েছে……..আর তা আরো বেগবান হয়েছে আজকের ধান্দাবাজ আওয়ামী নীতির কারণে……তারা কার্পেটের তলে গুঁজে রাখতে চায় সব বিতর্কগুলো……অথচ উচিত হচ্ছে, প্রত্যেকটা অভিযোগকে আমলে নেয়া এবং তার উপরে আওয়ামী লীগের অবস্থাণ পরিষ্কার করা……

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৭, ২০০৯ at ৭:৩৭ অপরাহ্ন |

    রশিদ, ওরা তো ক্ষমতা আর খাওয়া-খাওয়ি নিয়া ব্যস্ত! আর নিজেদের দোষ তো কম না! কার্পেটের তলায় না রাখলে ঘা দেখা যাবে না? দলের লোক আর আত্মীয়তা- এসবই হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মূল দুর্বলতা। বঙ্গবন্ধু এর বাইরে যেতে পারেননি। শেখ হাসিনাও চান বলে মনে হয় না।

    জবাব দিন

  14.   Tutul Ahmed
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৫:৩৭ অপরাহ্ন |

    গাজী গোলাম মোস্তফা এর ব্যাপারটা একদমই জানা ছিল না। এই কি কম্বল চোর গাজী নাকি, যার অপবাদ আওয়ামী এখনো বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে? এই ব্যাটা এখন কই?

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৭, ২০০৯ at ১২:০৯ পুর্বাহ্ন |

    টুটুল, গাজী গোলাম মোস্তফা ১৯৮১ সালে সড়ক দুর্ঘটনা মারা গেছেন।

    জবাব দিন

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ২:৪১ অপরাহ্ন |

    :( :( টুটুল ভাই,ওই ব্যাটা ত নাই তয় হাতের ঝাল মিটাইতে তার এক দূর সম্পর্কের নাতি এই ব্লগেই আছে :bash: :bash: :(( :(( :duel: :duel:

    জবাব দিন

  15. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৬:৫৫ অপরাহ্ন |

    ইতিহাস জানতে পারলে খুবই ভাল লাগে। আর কেউ এমন ভাবে মুখে পুরে না দিলে সঠিক ইতিহাস জানাটাই দুরুহ হয়ে পড়ে, সানা ভাই কে সহস্র সালাম :salute: :salute: :salute:

    কুমিল্লা অপারেশন নিয়ে যদি কিছু জানাতেন …

    জবাব দিন

        নভেম্বর ১৭, ২০০৯ at ১১:০২ অপরাহ্ন |

    কেউ এমন ভাবে মুখে পুরে না দিলে সঠিক ইতিহাস জানাটাই দুরুহ হয়ে পড়ে, সানা ভাই কে সহস্র সালাম :salute: :salute: :salute:

    :thumbup:

    জবাব দিন

  16. তানভীর (৯৪-০০)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৭:২২ অপরাহ্ন |

    অসাধারণ লাগল এই পর্ব! কত অজানা যে জানতে পারলাম তা ঠিক গুছিয়ে বলতে পারছি না।
    অনেক অনেক ধন্যবাদ লাবলু ভাই।

    জবাব দিন

  17. কামরুল হাসান (৯৪-০০)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৭:৫৫ অপরাহ্ন |

    অনেকদিন ভুল ইতিহাস জেনে বড় হয়েছি আমিও।

    ডালিমের ওয়েব সাইটটার খোঁজ পেয়েছিলাম ক’দিন আগে। সেখান থেকে এই সংক্রান্ত লেখাটা পড়েছিলাম। প্রথমবার পড়ে আমার ধারনা হয়েছিল গাজী গোলাম মোস্তফার সাথে মেজর ডালিমের হয়তো পূর্ব শত্রুতা ছিল, যার ফল হচ্ছে এই ঘটনা। মনে হয়েছিল অনেক কথা এখানে বলা হয়নি, ডালিম অনেকটা নিজের মতো করে লিখেছে। তারপরেও ডালিমের কথা পুরোপুরি সত্য ধরে নিলে বংগবন্ধু ও তাঁর পরিবাবের বিরুদ্ধে রটানো তখনকার অনেক গুজব মিথ্যা হয়ে যায় সহজেই।
    এই নিয়ে আরো বেশ কিছু লেখা পড়েছি গত কয়েকদিনে। আপনার পোস্টটা পড়ার পর প্রাসংগিক আরো কিছু তথ্য জানা হলো।

    একইভাবে বিভ্রান্ত ছিলাম শেখ কামালের ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনা নিয়েও। আপনার লেখাটা অনেক ভুল ভেংগে দিল।

    একটা অনুরোধ আছে।
    আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এই অধ্যায়গুলো নিয়ে আপনার এই সিরিজে ইতিমধ্যেই অনেকগুলো পর্ব হয়েছে। যদি বেশি কষ্ট না হয় তাহলে খালেদ মোশারফকে নিয়ে একটা পর্ব চাই। কী ভুল ছিল তার, বংগবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তার ভুমিকা কী ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তার এই করুণ পরিনতি কেন? প্রাসংগিক হিসেবে নিশ্চয়ই তাহেরের কথাও আসবে। সেগুলোও জানতে চাই।

    তাড়াহুড়া নেই। আপনি সময় করে লিখবেন।

    সিসিবির এই সিরিজটা একটা দলিল হয়ে থাকবে।

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ১০:৩৮ অপরাহ্ন |

    যথারীতি কামরুল, ‘৭৫ নিয়ে লেখাটা কষ্টসাধ্য ও সময়ের ব্যাপার। এতো জটিল সব চরিত্র, সময়, দিনক্ষণ এবং ঘটনা- সবার প্রতি সুবিচার করাও কঠিন কাজ। খালেদ মোশাররফ আমারও প্রিয় একটি চরিত্র। তাকে নিয়ে লিখতে আমার ভালোই লাগবে। চেষ্টা করবো। আর গত ০৯ নভেম্বর এবিসি’র অপরাজিতা’য় খালেদ মোশাররফের স্ত্রী সালমা খালেদকে এনেছিলাম। খালেদ মোশাররফকে নিয়ে একটা বই লেখা হচ্ছে বলে জানালেন।

    জবাব দিন

  18. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
       নভেম্বর ১৬, ২০০৯ at ৯:১৬ অপরাহ্ন |

    সিসিবির এই সিরিজটা একটা দলিল হয়ে থাকবে।

    হুম, ১৯৭৫এর ইহিতাস বিষয়ক একটা গুরুত্বপূর্ণ দলীল হয়েছে এটা।

    বস, আপনাকে :salute: :salute:

    জবাব দিন

  19. কামরুলতপু (৯৬-০২)
       নভেম্বর ১৭, ২০০৯ at ৪:৫১ অপরাহ্ন |

    ভাইয়া আপনি এখানে যা যা লেখলেন প্রতিটা ঘটনা আমি নেগেটিভ ভাবে জানতাম। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আরেকটা ব্যাপার কি প্লিজ ক্লিয়ার করবেন শেখ কামালের বিয়ের ব্যাপার সম্বন্ধে জানাবেন? সুলতানা কামালের ব্যাপারে কখনো কোন কিছু লেখা আসে না কিংবা ওনার ফ্যামিলি সম্বন্ধেও কিছু জানা যায় না। শোনা কথা হচ্ছে শেখ কামাল সুলতানাকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে এবং পারিবারিক জীবনেও সুখী ছিল না।

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৭, ২০০৯ at ৬:১৫ অপরাহ্ন |

    না তপু, আসলেই এ বিষয়ে জানিনা। শেখ কামাল নিয়ে এতো অপপ্রচার যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা বলা কঠিন। তবে সাধারণ যুক্তিতে মাসরুফের নওশাদ স্যারের ভাষায় বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির ছেলের কি কাউকে তুলে নিয়ে বিয়ে করতে হয়!

    তবে শেখ কামাল-সুলতানার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আর আড়ম্বর নিয়ে ভীষণ সমালোচনা হয়েছিল। সোনার মুকুট পড়িয়ে বিয়ে ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে অবশ্যই বেমানান ছিল। সাধারণ মানুষ এটি ভালোভাবে নেয়নি।

    জবাব দিন

  20. রশিদ (৯৪-০০)
       নভেম্বর ১৭, ২০০৯ at ৪:৫৪ অপরাহ্ন |

    @সানা ভাই: আমি শুনেছি শেখ কামালের কথিত ঐ ঘটনায় তার সাথে গাড়িতে ছিলেন এখনকার বি.এন.পি. নেতা, সাবেক বিদ্যুত প্রতিমণ্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু…….উনি নাকি আবার শেখ কামালের best friend!!!!….যার মেয়ের সাথে শেখ সেলিমের ছেলের বিয়ে হয়েছে মাসকয়েক আগে…….

    এটা কি সত্যি??

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৭, ২০০৯ at ৬:৫০ অপরাহ্ন |

    হ্যা রশিদ, শেখ কামাল আর টুকু খুব ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। একই মাইক্রোবাসে ছিল কিনা জানিনা। আর এটাও সত্যি, শেখ সেলিম আর টুকু এখন বেয়াই!!

    জবাব দিন

  21. রবিন (৯৪-০০/ককক)
       নভেম্বর ১৭, ২০০৯ at ৬:৩৩ অপরাহ্ন |

  22.    নভেম্বর ১৭, ২০০৯ at ১১:০৬ অপরাহ্ন |

    ৭৫ সাল মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘটনাবহুল আর প্যাঁচ লাগানো একটা বছর। কর্ণেল হামিদের লেখা “তিনটি সেনা অভ্যুত্থ্যান ও কিছু না বলা কথা” বইটা পড়ে কিছুটা জেনেছিলাম। কয়েকটা কাহিনী পুরাই উল্টা জানতাম। :( যাই হোক, সত্য উন্মোচনে লাবলু ভাইয়ের এই সিরিজ বিশাল ভূমিকা রাখবে। চলুক। :hatsoff:

    জবাব দিন

  23. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
       নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ২:৩৮ অপরাহ্ন |

    সানা ভাই, আব্বুর সাথে আপনার এই লেখাটা নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে এই মাত্র জানতে পারলাম গাজি গোলাম মোস্তফা আমার নানার আপন খালাত ভাই ~x( ~x( :(( :(( :bash: :bash:

    দেখি মুরুব্বীদের সাথে কথা বার্তা বলে আরো কিছু তথ্য বের করতে পারি কিনা :( :( হয়ত আপনার কাজে লাগলে লাগতেও পারে।

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ২:৫৮ অপরাহ্ন |

    মাসরুফ, গাজী গোলাম মোস্তফার এক আত্মীয় আমার সহকর্মী। আমিও সেটা জানলাম পোস্ট দেওয়ার পর। যে কারণে ১৯৮১ সালে তার মৃত্যুর খবরটা নিশ্চিত করতে পেরেছি। যে দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান সে গাড়িতে তারও থাকার কথা ছিল। ওই গাড়ির চার আরোহীর সবাই মারা গেছেন। আমি দেখি আর কি জানতে পারি?

    জবাব দিন

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ৩:৩২ অপরাহ্ন |

    :( একটু অবাক হলাম কারণ আব্বু বললেন যে লোক নাকি তিনি খারাপ ছিলেন না :( কম্বলচোরার কাহিনীও তিনি জানেন।দেখি আব্বুকে আরো ভাল করে জিজ্ঞাসা করব।

    জবাব দিন

    ফয়েজ (৮৭-৯৩)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ৫:২৩ অপরাহ্ন |

    মাসরুফ, তোমার সিরিজ অব কমেন্ট দেখে মনে হচ্ছে গাজী গোলাম দস্তগীর আর শেখ কামাল-শেখ জামাল যদি দুটো আলাদা গ্রুপ ধরি, তাহলে তোমরা ঘোরতর গাজী গোলাম দস্তগীর গ্রুপের লোক।

    জাস্ট কিডিং, :)

    জবাব দিন

    ফয়েজ (৮৭-৯৩)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ৫:২৪ অপরাহ্ন |

    :D

    “মোস্তফা” না লিখে “দস্তগীর” কেন লিখলাম সেটাও রহস্যজনক, তাও আবার দু’দুবার।

    জবাব দিন

    কামরুল হাসান (৯৪-০০)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ৫:৩৪ অপরাহ্ন |

    মাস্ফু
    আমার কম্বল ফেরত দে।

    জাস্ট কিডিং, :)

    জবাব দিন

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        নভেম্বর ১৯, ২০০৯ at ৭:৫৫ অপরাহ্ন |

    দিমুনা,আমার শীত লাগে।শীতকাল শ্যাষ হইলে নিয়েন :grr: অথবা সুব্রত ভাইয়ের কাছ থিকাও নিতে পারেন :))
    অফ টপিক-সেই মাফলার মামলার রায় হবে কবে?৩৪ বচ্ছর পর?

    জবাব দিন

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        নভেম্বর ১৮, ২০০৯ at ১১:১৬ অপরাহ্ন |

    :-? :-? :(( :(( ফয়েজ ভাই আমি আপনের কি ক্ষতি কর্ছিলাম আমারে এম্নে বাঁশ দিতাছেন?কালকে তো রায়-আমারো ফাঁইসা যাওনের চাঞ্চ আছে আপনের এই কমেন্ট জায়গামত গেলে :(( :(( :((

    জবাব দিন

  24. আশরাফ (১৯৯৫-২০০১)
       নভেম্বর ১৯, ২০০৯ at ১:৫৮ অপরাহ্ন |

    এই লেখাটা অনেক ভাল লাগলো। সানা ভাইকে ধন্যবাদ।
    একটা প্রশ্নঃ তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহর ভুমিকা নিয়ে আমার মনে একটা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কেউ আলোকপাত করলে খুশি হবো।

    জবাব দিন

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        নভেম্বর ২১, ২০০৯ at ২:৩০ অপরাহ্ন |

    শফিউল্লাহ মেরুদণ্ডহীন মানুষ। সেনাবাহিনীর উপর তার নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সম্ভবত নেতৃত্বের গুণও তার তেমন ছিল না। আর সদ্য স্বাধীন দেশে সবাই ছিল স্বাধীন!! কে কারে মানে? চরম বিশৃঙ্খলা ছিল সর্বত্র- সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, রাজনীতিক সবাই যে যার মতো চলতো। তবে খুনিচক্রের সঙ্গে শফিউল্লাহ’র কোনো সম্পর্ক ছিল না।

    জবাব দিন

  25. জিহাদ (৯৯-০৫)
       নভেম্বর ১৯, ২০০৯ at ২:১০ অপরাহ্ন |

    এই সিরিজটা শেষ হলে পিডিএফ আকারে সিসিবি আর্কাইভে রেখে দিলে কেমন হয়?

    জবাব দিন

    রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
        নভেম্বর ১৯, ২০০৯ at ৭:১৯ অপরাহ্ন |

    আমি লাবলু ভাইকে অনেক আগেই এই প্রস্তাব দিসিলাম। কিন্তু উনি টাকা পয়সা দাবী কর্লেন বলে আর কথা বার্তা আগায় নাই :P :P

    জবাব দিন

  26. আহসান আকাশ (৯৬-০২)
       নভেম্বর ১৯, ২০০৯ at ৮:৪৭ অপরাহ্ন |

    এই লেখাটা অনেকবার পড়া হয়েছে, কিন্তু নেটে সেভাবে বসা হচ্ছে না বলে মন্ত্যব্য করা হয়নি। বরাবরের মতোই অসাধারন হয়েছে :hatsoff: :hatsoff:

    অন্যদের মত আমিও অনেক কিছু ভুল ভাবে জানতাম। তবে এখন নতুন ভাবে জেনে এ হত্যার পিছনের মোটিভ, ষড়যন্ত্রকারী আর ডালিম, ফারুক এদের সংশ্লিস্টতা নিয়ে আরো কনফিউশনে পড়ে গেলাম। আজ সারাদিন টিভিতে অনেক সাক্ষাৎকার দেখে নতুন অনেক কিছুই শুনলাম। আবেদ খানকে একটা কথা বলতে শুনলাম ডালিম অথবা রশিদ হত্যাকান্ডের পরে রেডিও ঘোষনা শেষে “জয় পাকিস্তান” বলে ছিল। কে যেন বললো যে ফারুক রশিদ ৭১ এ পাকিস্তানে আটক ছিল, যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তারা দেশে এসে যোগ দেয়। আরো অনেক কিছুই শুনলাম।

    রায় ঘোষনার মাধ্যমে স্বীকৃত খুনিদের কয়েকজনের বিচার হয়তো হবে, কিন্তু এর পিছনের ষড়যন্ত্র ধোয়াশার মধ্যেই রয়ে গেল। আপাতত আপনার লেখার অপেক্ষাতেই আছি এই ধোয়াশা কিছুটা হলেও দূর করার জন্য।

    আবারো ধন্যবাদ সানা ভাই :hatsoff: :hatsoff: :salute:

    জবাব দিন

    আহসান আকাশ (৯৬-০২)
        নভেম্বর ১৯, ২০০৯ at ৯:১৬ অপরাহ্ন |

    বিভিন্ন চ্যানেলে রশিদ, ডালিমের একটা ইংরেজি সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ দেখলাম যেখানে দেখলাম তারা হত্যাকান্ডের স্বপক্ষে যুক্তি দিচ্ছে আর জিয়াকে আগেই সব কিছু জানিয়েছে সেটা বলছে, ভিডিওটা কি কোথাও পাওয়া যাবে?

    জবাব দিন

  27. খালেদ (১৯৯২-১৯৯৮)
       নভেম্বর ২০, ২০০৯ at ৯:২৪ অপরাহ্ন |

    সানা ভাই, আপনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

    জবাব দিন

  28.    ডিসেম্বর ১২, ২০০৯ at ৬:৩৫ অপরাহ্ন |

    অসাধারন লেখা। বাংলাদেশ রক্তের রিন বইটা পরে দেখতে পারেন। ভাল রেফারেন্স।

    জবাব দিন

  29. সামিয়া (৯৯-০৫)
       অগাষ্ট ২৯, ২০১০ at ১২:৪৭ অপরাহ্ন |

    তাহলে হত্যাকারীরা গাজীকে হত্যা না করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলো কেন? বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনের কারণটা কি ছিল?

    জবাব দিন

  30. গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)
       ডিসেম্বর ১৬, ২০১০ at ৭:২৮ অপরাহ্ন |

    পরের পর্বগুলো কই? এত গুরুত্বপূ্র্ণ একটা সিরিজ এভাবে থেমে গেলে তো চলবে না!

    জবাব দিন

  31. সামির (৯৯-০৫)
       জানুয়ারি ১, ২০১১ at ১১:৩৭ পুর্বাহ্ন |

    সবুর সবুর, মেওয়া ফলবেই।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন :

আপনার ই-মেইল ঠিকানা কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা শেয়ার করা হবেনা। দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা। আবশ্যিক তথ্যগুলো * চিহ্নিত করা আছে।

*
*
:) :( :P :D :)) :(( =)) :clap: ;) B-) :-? :grr: :boss: :shy: x-( more »


(বাংলায় টাইপ করতে ctrl+g চাপুন। একটি শব্দ লেখা শেষে স্পেস বার চাপুন। তাহলেই ইংরেজী থেকে শব্দটি বাংলায় রুপান্তরিত হবে।একই শব্দের একাধিক বানান অপশন দেখতে শব্দটির উপরে মাউস রেখে ক্লিক করুন)
Ekushey Inline virtual Bangla keyboard