random header image

বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনি শেষ পর্যন্ত চরম সাজা পেল

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এরা হলেন আর্টিলারি কোরের অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মহিউদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর বজলুল হুদা, বরখাস্ত হওয়া কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার ইউনিটের অবসরপ্রাপ্ত লে.কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন।

রাত বারোটা এক মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ প্রথমে কর্নেল মহিউদ্দিন ও বজলুল হুদার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। রাত সাড়ে বারোটার পর ফাঁসি দেয়া হয় ফারুক রহমান ও সুলতান শাহরিয়ার রশিদকে। সবশেষে লে.কর্নেল একেএম মহিউদ্দিনকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এবিসি রেডিও সরাসরি ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সরাসরি (লাইভ) খবর প্রচার শুরু করে। আজ সারা রাত এবিসিতে এই সরাসরি প্রচার চলবে। ঢাকা ও আশেপাশে যারা আছেন তারা রেডিওতে সরাসরি প্রচার শুনতে পারেন। আর যারা এবিসির প্রচার আওতার বাইরে দেশে এবং বিদেশে তারা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওয়েবসাইটে প্রতিঘণ্টায় আপডেট করা খবর শুনতে পারেন।

আর আমি অফিসেই আছি সারা রাত। কিছু আপডেট পেলে সিসিবিতে জানিয়ে যাবো।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা, খুনিদের অবস্থান এবং এর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এখানে কিছু তথ্য এবিসি নিউজ ডেস্ক থেকে তুলে দিলাম।

কালো সেই রাত
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে ঘটে জঘন্যতম এক হত্যাকাণ্ড। বরখাস্ত হওয়া একদল সেনা সদস্যের সাথে হাত মিলিয়ে চাকরিরত কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য হত্যা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেই কালোরাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে খুনিরা মেতে উঠেছিল হত্যার উল্লাসে। বঙ্গবন্ধু, তার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধু, ভাই, ভাগ্নে, ভাগ্নের স্ত্রী, কাজের লোকসহ ২১ জনকে হত্যা করা হয় সেই রাতে।

সেইদিন গুলির শব্দে ভোরের আযানের আগেই ঘুম ভাঙ্গে বঙ্গবন্ধুর। যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি সেই বিষয়টিই চরম বাস্তব হয়ে ওই কালো রাতে ধরা দেয় তার চোখে। গোলাগুলির শব্দে দোতলা বাড়ির উপর তলা থেকে ঘুমঘুম চোখে নীচে নেমে আসেন বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল। মুহুর্তেই স্টেনগানের গুলিতে ঝাঝরা হয়ে যান তিনি। এরপর এলোপাথারি গুলি চলে কিছুক্ষণ।

কালো পোশাকধারী কয়েকজন দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে আনছিল সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে কামালের বন্ধু ছিলেন মেজর নূর। ছেলের বন্ধুই ১৫ই আগস্টের রাতের মোহাম্মদী বেগ! নূর আজ হাত মিলিয়েছে খুনি চক্রের সাথে। বঙ্গবন্ধু সিঁড়ির শেষ ধাপে আসতে না আসতেই গর্জে ওঠে নূর-বজলুল হুদার রাইফেল।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর খুনিচক্র মেতে ওঠে রক্তের হোলি খেলায়। দোতলায় তারা হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ জামাল, বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রবধু আর তার ভাই শেখ নাসেরকে।

পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলে শেখ রাসেলের বয়স ছিল নয়। বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষীদের সাথে তাকে আগেই বন্দি করে খুনিরা। উপরে গুলির শব্দ শুনে মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য আকুতি করে ছোট্ট অবুঝ ছেলেটি। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেয়নি খুনিরা।

সেইদিন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা আর শেখ রেহেনা ছিলেন বিদেশে। আর সে কারণেই বেঁচে গেছেন তারা। ১৫ই আগস্ট কালোরাতে বাঙালি হারিয়েছিল তার প্রিয়নেতাকে, জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের নায়ককে। ষড়যন্ত্র, মিথ্যা আর অপপ্রচারে তাঁর আর বাঙালি জাতির সব অর্জনকে চাপা দেওয়ার সব চেষ্টাই গত ৩৪ বছর ধরে চলেছে। কিন্তু দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ আদালতের রায় শেষ পর্যন্ত সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অন্ধকারের শক্তি : খুনিচক্র
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১২ আসামির ৬জনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন। কেউ যুক্তরাষ্ট্র, কেউ কানাডা, পাকিস্তান বা থাইল্যান্ডে। তবে বেশির ভাগ পলাতক শুধু আত্মগোপনে নয়, প্রতিনিয়ত দেশ ও জায়গা পরিবর্তন করছেন। পলাতক অবস্থায় মারা গেছেন বাকি একজন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি হয়েছে ৫ আসামির। এরা হলেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, আর্টিলারি কোরের লে. কর্নেল মহিউদ্দিন, বরখাস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তা কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, মেজর বজলুল হুদা ও সেনাবাহিনীর ল্যান্সার ইউনিটের লে.কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন।

বিদেশে পলাতক ৭ আসামির মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে অবস্থান করার সময় মারা গেছেন বলে জানা গেছে। বাকি ৬ জনের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদ পাকিস্তানে, লে. কর্নেল নূর চৌধুরী ও লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম কানাডায় এবং রিসালদার মোসলেমউদ্দিন থাইল্যান্ডে অবস্থান করছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল এম এ রাশেদ চৌধুরী দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ কেনিয়ায় অবস্থান করছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন গত নভেম্বরে দাবী করেন, খুনিরা প্রতিনিয়ত অবস্থান পরিবর্তন করছে।

বিলম্বিত বিচার : দীর্ঘতম বিচার
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করতে লেগেছিল দুই যুগেরও বেশি সময়। বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অবিসংবাদিত এই নেতাকে হত্যা করেছিল সে সময় সেনাবাহিনীর একটি চক্রান্তকারী চক্র। তাকে হত্যার পর ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন ওই সময়কার আওয়ামী লীগ নেতা ও বানিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ। তিনি খুনীদের রক্ষায় জারী করেন দায়মুক্তি অধ্যাদেশ। আর সেই অধ্যাদেশ বাতিল করতে সময় লাগে ২১ বছর। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে ওই বছরই নভেম্বর মাসে বাতিল করা হয় কুখ্যাত এই অধ্যাদেশটি। আর একই বছরের অক্টোবরের ২ তারিখে বঙ্গবন্ধুর আবাসিক ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। চার আসামী মারা যাওয়ায় ২০ জনের বিরুদ্ধে ওই মামলার বিচার কাজ শুরু হয় ১৯৯৭ সালের ১২ই মার্চ, ঢাকার দায়রা জজ আদালতে।

দেড়শ’ কাজের দিন শুনানির পর ১৯৯৮ সালে দায়রা জজ গোলাম রসুল ২০ আসামির মধ্যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। ওই রায়ের পর কারাবন্দি চার আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর বজলুল হুদা, লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ ও বরখাস্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান হাইকোর্টে আপিল করে।

হাইকোর্টের কয়েকজন বিচারপতি মৃত্যু নিশ্চিত করার এই আপিল শুনতে বিব্রতবোধ করেন। অবশেষে ২০০০ সালের জুনে বিচারপতি মো. রুহুল আমিন ও বিচারপতি মো. এবিএম খায়রুল হকের বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। ৬৩ কাজের দিন শুনানির পর হাইকোর্ট ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর এ মামলায় বিভক্ত রায় দেয়। বিচারপতি মো. রুহুল আমিন ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অপর বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ১৫ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন।

২০০১ সালে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় তৃতীয় বিচারপতি মো. ফজলুল করিমের আদালতে। তিনি ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ১২ আসামির মধ্যে পরে ওই বছরই কারাবন্দি চার আসামির আপিল শুনানি শুরুর আবেদন বা লিভ টু আপিল দায়ের করে। সেনাবাহিনীর ল্যান্সার ইউনিটের লে.কর্নেল একেএম মহিউদ্দিনকে ২০০৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। তিনিও মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরুর আবেদন করেন। ৬ বছর পর ২০০৭ সালে শুরু হয় ওই লিভ টু আপিল শুনানি। ২৫ কাজের দিন শুনানির পর আসামিদের আপিল শুনানি শুরুর অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত।

এরপর প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির অভাবে শুনানি শুরু হতে পেরিয়ে যায় আরো ২ বছর। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে এই সমস্যার জট খুলে যায়। জুলাইয়ে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান আপিল বিভাগে ৪ জন বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। গতবছর ৫ অক্টোবর বিচারপতি তাফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হয়ে চলে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। ১৯ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত তার রায়ে আসামিদের আপিল খারিজ করে দিলে ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল থাকে।

বিচার প্রক্রিয়ায় এরপর আসামিরা রায় পূনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানায়। প্রধান বিচারপতি তাফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ গতকাল বুধবার তা খারিজ করে দেন। এরই মধ্যে একাধিক আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করলে তাও নাকচ হয়ে যায়। দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরন করে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের ৩৪ বছর পর ৫ আসামির ফাঁসি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলো।

শেয়ার করুন
৩ votes, average: ৫.০০ out of ৫৩ votes, average: ৫.০০ out of ৫৩ votes, average: ৫.০০ out of ৫৩ votes, average: ৫.০০ out of ৫৩ votes, average: ৫.০০ out of ৫ (ভোট, ৫.০০/ ৫)
রেটিং করার জন্য আপনাকে রেজিস্টার্ড সদস্য হতে হবে
Loading ... Loading ...
প্রকাশিত লেখা বা মন্তব্য সম্পূর্ণভাবেই লেখক/মন্তব্যকারীর নিজস্ব অভিমত। এর জন্য ক্যাডেট কলেজ ব্লগ কর্তৃপক্ষকে কোনভাবেই দায়ী করা চলবেনা।

২২ টি মন্তব্য

  1. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ২:১৫ পূর্বাহ্ন |

    :( ভাইয়া আপনি বললে আমি আর আমার পোস্টটা দিতাম না :( ধুর একই রকমের পোস্ট দুজন দিয়ে দিলাম :(

    [ জবাব দিন ]

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ২:২৫ পূর্বাহ্ন |

    আরে ঠিক আছে মাস্ফ্যু। সমস্যা কি। হলো না হয় দুটো পোস্ট।

    [ জবাব দিন ]

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ২:৩২ পূর্বাহ্ন |

    কিছু বরাহশাবক এই খুনীদের “দেশের সূর্যসন্তান” বলে প্রচারণা চালাচ্ছে বিভিন্ন ব্লগে-প্রোফাইলে।সানা ভাই,ক্যাডেট কলেজের গেমস স্টোরে অতিরিক্ত জ্যাভেলিন পাওয়া যাবেনা? প্রিন্সিপাল হিসেবে সবাইকে একটা করে ইস্যু করে দিন-বরাহশিকারে বের হই!

    [ জবাব দিন ]

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ২:৪০ পূর্বাহ্ন |

    মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আমার মনেও একটা খচখচ বোধ আছে। কিন্তু সামুতে খুনিচক্রের সন্তানদের উল্লাস দেখে মনে হচ্ছে ফাঁসিও এদের জন্য যথেষ্ট নয়।

    [ জবাব দিন ]

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৩:২৫ পূর্বাহ্ন |

    আমার যেটা খারাপ লাগছে সেটা হচ্ছে অনেক খুনীর মা-বোন এদের কথা ভেবে-এদের অনেকেই গেটের সামনে কান্নাকাটি করছিলেন।মানুষ এমন কাজ কেন করে যার জন্যে তার পরিবারকেও কষ্ট পেতে হয়!

    [ জবাব দিন ]

  2. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ২:৩০ পূর্বাহ্ন |

    ৫টি অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের ভেতরে ঢুকেছে। মৃতদেহ নিয়ে এগুলো খুনিদের গ্রামের বাড়ি রওয়ানা হবে কিছুক্ষণের মধ্যে।

    [ জবাব দিন ]

  3. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ২:৪৬ পূর্বাহ্ন |

    ব্রাক্ষনবাড়িয়ার কসবায় রশিদের গ্রামের বাড়িতে কবর খোঁড়া হচ্ছে।

    [ জবাব দিন ]

  4. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৩:২৭ পূর্বাহ্ন |

    খুনিদের মৃতদেহ যার যার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।

    [ জবাব দিন ]

  5. স্বপ্নচারী (১৯৯২-১৯৯৮)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৪:০১ পূর্বাহ্ন |

    মৃত্যুর আগে কি এরা কোনো স্টেটমেন্ট দিয়েছিলো ???? ভুল স্বীকার করে বা এই ধরনের কিছু ………
    যা হোক, এখনও বড় কাজ বাকি …… রাজাকারদের বিচার এবং শাস্তিও দেখতে চাই।

    [ জবাব দিন ]

  6. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৪:৩২ পূর্বাহ্ন |

    কারাগার থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব বা সিভিল সার্জন এরা বলেছেন, খুনিরা স্বাভাবিক ছিল। তাদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য বলেছিল। আবার সংবাদপত্রেই দেখলাম, গতকাল খুনিদের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে স্বজনরা বলেছেন, তারা বলেছেন তারা কোনো অন্যায় করেননি।

    [ জবাব দিন ]

  7. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৪:৪৫ পূর্বাহ্ন |

    আমার ফেসবুক স্ট্যাটাসটা এখানে দিলাম :

    মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নই আমি। তবু কোনো কোনো অপরাধে এই সাজাটাও সামান্য মনে হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেল হত্যা, পিলখানা হত্যা, যুদ্ধাপরাধের জন্য আর কি শাস্তি চাইতে পারি? বাঙালি আজ উল্লাস নয়; বঙ্গবন্ধুকে, তার অবদানকে স্মরণ করো, কৃতজ্ঞতা জানাও।

    [ জবাব দিন ]

  8. আদনান (১৯৯৪-২০০০)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ন |

    শেষ পর্যন্ত বিচার হলো । কখনো এই বিচার কার্যকর হবে ভাবিনি । এবার যুদ্ধাপরাধীদের ধরতে হবে ।

    [ জবাব দিন ]

  9. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৬:২৭ পূর্বাহ্ন |

    সারা রাত অফিসে থেকে এখন বাসার দিকে রওয়ানা হচ্ছি। সকাল ৮টা ও ৯টায় এবিসি রেডিও’র খবর শুনুন। আশা করি আরো আপডেট খবর পাবেন। আশঙ্কা আছে, খুনিদের কবর দেওয়া নিয়ে এলাকায় এলাকায় আওয়ামী লীগ অসন্তোষ দেখাতে পারে।

    [ জবাব দিন ]

  10. মুহিব্বুল (১৯৯৬-২০০২)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৭:০০ পূর্বাহ্ন |

    অপরাধীর শাস্তি হয়েছে এটা শুনলে যে কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষই এটা পছন্দ করবে। কিন্তু পছন্দের মাঝে আমার কোথায় যেন একটা ঘাটতি রয়ে গেছে। অনেকগুলো প্রশ্ন জমা হয়ে আছে মনের মাঝে বিক্ষিপ্ত ভাবে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে সেই সময় পৃথিবিতে ছিলাম না কেন? মনে হচ্ছে এমন মহান একজন নেতাকে কেন এভাবে প্রাণ হারাতে হলো? তিনি বা তার পরিবার কি এ জাতির কাছে অনাকাঙ্খিত হয়ে গিয়েছিলেন? যদি তাই হবে, তাহলে কেন অনাকাঙ্খিত হয়ে গিয়েছিলেন? এই নৃশংস অপরাধের কার্যসম্পাদনকারীদের শাস্তি হয়েছে, কিন্তু এর পরিকল্পনাকারিদের কি আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি? তাদের শেষ মুহুর্তের স্বিকারোক্তি ” আমি অন্যায় করি নি” কতটা সত্য?

    এই প্রশ্নগুলোর কোন সদুত্তর পাচ্ছি না। কোন দিন পাব বলে মনে হয় না।

    [ জবাব দিন ]

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৯:০২ অপরাহ্ন |

    মুহিব্বুল, খুনিদের স্বীকারোক্তির যে কথা বলছো, তুমি তাদের কাছে কি আশা করেছিলে? ওরা বলবে, আমরা ভুল করেছিলাম! খারাপ কাজ করেছিলাম! এরকম কোনো অনুতাপ আশা করেছিলে? আর একটা বিষয় গত ১৩ বছরের বিচার প্রক্রিয়া ও জেল খাটার মধ্য দিয়ে তারা একরকম বুঝেই গিয়েছিল পরিণতি কি হতে যাচ্ছে। তারপরও ৪জন কি মনে করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিল সেটা ভাবতেও লজ্জা লাগে! এরা নাকি সূর্যসন্তান!! ওদের আর নৈতিক শক্তি ছিল না। কারণ এক সময়ের বন্ধুরাও (এরশাদ, খালেদা) ওদের ছেড়ে গিয়েছে।

    [ জবাব দিন ]

  11. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ন |

    অবশেষে কার্যকর হলো খুনিদের মৃত্যুদন্ড। আজ জাতির জন্য এক অনন্য সাধারন দিন। এখন জাতি চেয়ে আছে যুদ্ধাপরাধী ও পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচার দেখার আশায়।

    [ জবাব দিন ]

  12. তৌফিক (৯৬-০২)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ১২:০৬ অপরাহ্ন |

    সানা ভাইকে অনেক ধন্যবাদ, লাইভ খবর দেওয়ার জন্য। যেকোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় সিসিবি নির্ভরযোগ্য খবরের উৎস হয় একমাত্র আপনার কারণে। নির্বাচন, পিলখানা- এর পর খুনিদের ফাঁসি। আপনাকে আবারও কৃতজ্ঞতা। :hatsoff: :salute: :hatsoff:

    গ্রিন মাইল সিনেমায় দেখেছিলাম, মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ার পর এক রেপিস্ট বা খুনির লাশকে অপমান করেছিল এক কারারক্ষী। অভিনেতা টম হ্যাংকসের চরিত্র তখন প্রতিবাদ করে বলেছিল, He paid his dues to the society. Whatever is left, is between him and god. আমার মনে হয়, খুনিদের ফাঁসি নিয়ে উল্লাস করাটা উচিত হবে না। জাতি তাদের কাছ থেকে পাওনা বুঝে নিয়েছে। উল্লাস করে নিজেদের পশুত্বটা আমরা জাহির নাই বা করলাম। ওই রাতে যারা জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের আল্লাহ শান্তিতে রাখুন।

    [ জবাব দিন ]

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ১২:২৫ অপরাহ্ন |

    অসাধারণ বললেন তৌফিক ভাই :boss:

    [ জবাব দিন ]

    আদনান (১৯৯৪-২০০০)
        জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৫:৩৬ অপরাহ্ন |

    তোমার কথা ভাল লাগলো তৌফিক :boss:

    [ জবাব দিন ]

  13. সাব্বির (৯৫-০১)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ২:০০ অপরাহ্ন |

    সানা ভাই, লাইভ আপডেটের জন্য আপনাকে :salute:
    সব ঠিক আছে, কিন্তু যারা ক্ষমতার জোরে বিদেশে লুকিয়ে আছে তাদের শাস্তির কথা ভুলে গেলে চলবেনা।
    আর মৃত দের নিয়ে বারাবারি আমার মটেও পছন্দ না। তৌফিকের সাথে একমত তারা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি পেয়েছে। লাশ এর কি আবার বিচার হওয়া সম্ভব??

    [ জবাব দিন ]

  14. আমিন (১৯৯৬-২০০২)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৫:০৮ অপরাহ্ন |

    মৃত দেহ নিয়ে বাড়াবাড়ি নয় কিন্তু তাই বলে এসব ছড়িয়ে খুনিদের প্রতি সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে একটি বিশেষ মহল। খুনীদের জন্য কোন ক্ষমা নাই। বাকি ছয় পলাতকগুলোকেই নিশ্চয়ই বিচারের কাষ্ঠে দাড় করানো হবে।
    তবে সব গতকালকের এই রায় কার্যকর সবার মনে নতুন আশার সঞ্চার করবে কেননা আমি অনেকের মতই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে খুব আশাবাদী ছিলাম না, এখন মনে হচ্ছে , নাহ হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবেই হোক সে টা আরো ১০ ২০ বছর তবুও হবে..।

    [ জবাব দিন ]

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৭:১৯ অপরাহ্ন |

    বিশেষ করে সামু ব্লগে গতকালকে ছাগুদের চরম বাড়াবাড়ি দেখা গেছে।টুকিটাকি সাইজ যে দেইনাই তা না-চলেন তিন প্রহরের বিল দেখতে যাওয়ার আগে বরাহশিকার করি x-( (কপিরাইট মান্নান ভাই)

    [ জবাব দিন ]

মন্তব্য করুন :

আপনার ই-মেইল ঠিকানা কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা শেয়ার করা হবেনা। দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা। আবশ্যিক তথ্যগুলো * চিহ্নিত করা আছে।

*
*
:) :( :P :D :)) :(( =)) :clap: ;) B-) :-? :grr: :boss: :shy: x-( more »


অভ্র প্রভাত ফোনেটিক ইউনিজয় ইংরেজী
(বাংলায় টাইপ করতে ctrl+g চাপুন। একটি শব্দ লেখা শেষে স্পেস বার চাপুন। তাহলেই ইংরেজী থেকে শব্দটি বাংলায় রুপান্তরিত হবে।একই শব্দের একাধিক বানান অপশন দেখতে শব্দটির উপরে মাউস রেখে ক্লিক করুন)
Ekushey Inline virtual Bangla keyboard