সামনে এইচ এস সি পরীক্ষা। প্রস্তুতি নেয়াতে ক্যাডেটদের চেয়ে শিক্ষক ও ল্যাব-এসিসটেন্টদের মাথাব্যাথা বেশী বলেই উপলব্ধি করেছিলাম। কি জ্বালাটাই না দিয়েছেন তারা। তখন সর্বশেষ মডেল টেস্ট চলছিল। মনে মনে আমাদের সকলেরই আনন্দ (কত শত xm কথাটা সেবারের মত শেষ হতে চলেছে) এরই মধ্যে আমদের একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার আবিস্কার করে ফেলল যে, অডিটরিয়ামে প্রতিদিন বিকেলে প্র্যাকটিস করা ব্যান্ড সেট ও সিডি প্লেয়ার পর্দার আড়ালে ওভাবেই রাখা থাকে। আমদের কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে দরজায় পাহারা দিতে দিয়ে সে একটা নতুন বের হওয়া হিন্দি এম.পি .থ্রি সিডি বাজিয়ে সাউন্ড ঠিক করে দেখল। সবকিছু এডজাস্ট করে আমরাই আগে একটু করে শুনে নিলাম আমাদের সেই সিডির প্রিয় গানগুলো। সবাইকে জানানোর পরে পাওয়া গেল এক অদ্ভুত সাড়া। সবাই খুব উচ্ছসিত, আর বিরক্তিকর সময় কাটবে না। মূলতঃ পরীক্ষাগুলো দিতে আমদের আর ইচ্ছা করছিল না। পরের দিন থেকে শুরু হল নতুন সমস্যা। সবাই অডিটরিয়ামে গিয়ে বসে পড়াশোনা করতে চায়। ভাইস প্রিন্সিপাল ব্যাপারটা অনুমতি দিলেন (আমরা কারণ দেখিয়েছিলাম যে অডিটরিয়ামে বড় জায়গায় ফাঁকা হয়ে বসা যায় যার ফলে একজন আরকজনকে বিরক্ত করতে পারে না, পড়া ভালো হয়)
পরীক্ষার আগের সময়টুকু (একাডেমী শুরু হত ৮টা, পরীক্ষা ১০টা ১৫) এভাবেই নতুন এক এডভেঞ্চারের মাঝে সময় পেরিয়ে যেতে লাগল। এডভেঞ্চার এজন্যই যে ধরা পড়লে একদম খবর আছে!!!!! আর জ্ঞান খেতে হবে ভেবেই গা গুলিয়ে আসত। যাই হোক দিনগুলো পরে আনন্দেরই ছিল। হঠাৎই বিষন্নতা গ্রাস করে নিল আমাদের। কিভাবে লিখব ঝুঝতে পারছি না। আমার ডায়েরীর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। সেদিনের আত্মকথা————
“২৪শে মার্চ, ২০০৯; মঙ্গলবার…..রাত ১০টা ৫১ মিনিট”
কলেজ life এর last exam টা শেষ করে কেমন জানি নিঃস্ব লাগতে শুরু করল। বিদায়ের মূহুর্ত যে ঘনিয়ে আসছে। আর কোন ,মডেল টেস্ট নেই। progressive test নেই। fail করার কোন chance নেই।
এ কয়েকদিন পরীক্ষার আগে ৮টা থেকে ৯:৫০ পর্যন্ত অডিটরিয়ামে বসতাম, পড়ার নামে large speaker এ আলতো শব্দে গান শুনতাম আর পড়তাম। song request ব্যাপারটা যে এমন মজার হয় তা ওখানেই উপলব্ধি করেছিলাম। সত্যিই অন্যরকম মজা পরীক্ষার আগে। আজ Math 2nd ছিল। বলবিদ্যা দেখেছিলাম একটু তবে calculus করিনি। শেষ হবার মূহুর্তে কিসের পরীক্ষা, বার বার মনে হতে লাগল এই অডিটরিয়ামে আমরা ৩৯ জন আর কখনও একসাথে পরীক্ষা দেব না। হয়ত একসাথে বসতেও পারব না। ক্লাসরুমে তো নয়ই। ক্যাডেট কলেজ কে এতদিন না অনুভব করলেও এখন খুব করি। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বোঝার মত।
বের হয়েছি এইতো সেইদিন । উপলব্ধি মাত্র শুরু হয়েছে। তাই ক্যাডেট কলেজ ডায়েরীতে প্রথম লেখাটি একটা উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ। আর স্যার ও ল্যাব-এসিসটেন্টদের জ্বালাতন সার্থক হয়েছে। আর যাই করি না কেন রেজাল্টটা ঠিকমত করতে পেরেছি বলে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করেছিল ২৫জুলাই, এইচ.এস.সি রেজাল্টের পর। বারবার মনে হয় সময়টা যদি নিয়ন্ত্রন করা যেত। আবারো ফিরে পেতাম রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সেই উন্মুক্ত মঞ্চ।
শেক্সপিয়ারের কবিতাটি মনে পড়ে গেল-
All the world a stage,
and the man and women are merely players…………
৬ বছরের মঞ্চের সবচে ক্ষুদ্র ধুলিকণাটিও যে আজীবন লেগে থাকবে শরীরে। ওটা ধুয়ে ফেলা আমার পক্ষে যে সম্ভব নয়।


(৪ভোট, ৪.৭৫/ ৫)
৪৭ টি মন্তব্য
[ জবাব দিন ]
চমৎকার লেখা
[ জবাব দিন ]
চমৎকার বলেছো। একটা স্মৃতির বাক্সে বন্দী পড়েছি, বেরুতে পারি না, বেরুতে চাইও না।
[ জবাব দিন ]
ভাই বুঝেতই পারেছন, বিদায় বেদনাদাযক কিন্ত ক্যাডেট কলেজ ছেড়ে আসাটা অসহনীয় ছিল।
কি আর করা!!!!! স্মৃতি রোমন্হন করা ছাড়া উপায় নেই
[ জবাব দিন ]
লেখা জটিল হয়েছে।
আমরাও একবার অডিটরিয়ামে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম(আর্টস পার্টি)।
জম্পেশ cricket খেলা চলত।
সাইন্সের একজন ম্যাথ এক্সাম এর আগে এসে ক্রিকেট খেলে পরিক্ষায় ফেল।
[ জবাব দিন ]
ভাই,
রুমে ক্রিকেট খেলার কথা মনে পড়ে গেল।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
স্মৃতিচারণ পড়লেই কেন জানি চোখের কোনায় পানি জমে ।
[ জবাব দিন ]
সাবাস। দারূন লেখা। চালায়ে যাও।
[ জবাব দিন ]
লেখা পড়ে পুরানো কথা মনে পড়ে গেল।
[ জবাব দিন ]
লেখা পড়ে অনেক পুরানো কথা মনে পড়ে গেল।
[ জবাব দিন ]
সেই দিনগুলি আবার মনে পড়ে গেলো

দারুণ লেখা আউয়াল ভাই
কলেজ়ে আবার ফিরা যাইতে মঞ্চায়
[ জবাব দিন ]
আউয়াল, তোর সিনিয়ররা তোরে ভাই বলে নাকি?
[ জবাব দিন ]
ki bolbo vai……………… bujhtesi na keno bolse
[ জবাব দিন ]
অ.ট.-শার্লী, তোর প্রোফাইল পিকটা বদলে ফেল। এখন কার কোনো ছবি দে।
[ জবাব দিন ]
সুন্দর হয়েছে ভাইয়া।আমারও কলেজের লাস্ট exam গুলোর কথা মনে পরে গেলো।কেউ কিছু না পরে পরীক্ষার হলে যেতাম আর পরীক্ষার পর কারটা কত খারাপ হয়েছে তা নিয়ে হাসাহাসি করতাম।
ক্যডেট্রা ছাড়া আর কেউ বোধহয় exam নিয়ে হাসাহাসি করে না।
[ জবাব দিন ]
ঠিক বলেছ……………
[ জবাব দিন ]
ক্যাডেট ছাড়া ক্যাডেটদের কেউ বুঝে না আপু!!!! সত্যি কখা
[ জবাব দিন ]
চমৎকার লেখা দিয়া শুরু করিয়াছ…
তাই বলিয়া তুমি ব্লগের নিয়ম কানুন জানিবে না…তাহা তো হইতে পারে না!!!!
কাজেই…আজ্ সে কিয়ামত তক্
:frontroll:
:frontroll:
শুরু করিয়া দাও…ছুড বাই।
তাড়াতাড়ি করেন মিয়া ভাই…নাইলে কিন্তু (প্রিন্সিপ্যাল ভাইস্যার-এর পাশাপাশি…) দিহান ভাপু (ওরফে সাময়িক এডজুট্যান্ট ম্যাডাম)…(ওরফে ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ভাপু) আপনারে… পাঙ্গা লাগাইতে আইলো বইলা!!!!!!
:duel:
:mad:
:mad:
:grr: 

:grr: 
সিসিবি আর আগের মতন নাই…প্রিন্সিপ্যাল ভাইস্যার…ও…নতুনদের কিছু কয় না…দিহান ভাপু (ওরফে সাময়িক এডজুট্যান্ট ম্যাডাম)…(ওরফে ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ভাপু)…একা মানুষ…আর কতজনরে পাঙ্গাইব??? এডজুট্যান্ট ভাইস্যারও ডুব দিছে…আমাগোরই মনে হয় দায়িত্ব নেওয়া লাগবো…
কি বলেন কাইয়ুম ভাই???
এবং ম্যাশ!!!!!!!!!!!!
[ জবাব দিন ]
কি বলেন কাইয়ুম ভাই???
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
ইনারা কে ভাই একটু বিস্তারিত জানাবেন প্লিজ!!!
[ জবাব দিন ]
পরে জাইনো … আগে লাগাও ১০টা
[ জবাব দিন ]
আমি জুলাভাইয়ের প্রস্তাব সর্বান্তকরণে সমর্থণ করতেছি
অফ টপিকঃ এইটা জুলাভাই,দুলাভাই না-খুব খিয়াল কৈরা
[ জবাব দিন ]
আমাদের সবার অনুভূতিই কমবেশি একই রকম ।
[ জবাব দিন ]
দারুন লিখেছ…
[ জবাব দিন ]
পুরান দিনে ফির্যা গেলাম…….
ভালো লিখছো, আরো লেখ………
[ জবাব দিন ]
রকিব্যা ওরে ক চায়ের দোকানে হেলপার হিসাবে লাইগ্যা যাইতে

ছুড ভাই দারুন লিখা দিস
মনে পইড়া গেল অনেক কথা
[ জবাব দিন ]
সবাই তো প্রশংসায় করল, আমি একটু পাঙ্গায়া লই…
বেলাডী চ্যাপ,
শুরু কর…
গেট আপ, দৌড়ে চল…
দিহান ভাপুর বাসা টাচ কইরা আমার সম্নে ফল ইন…
লুঙ্গি পইরা লং আপ…
ওকে গেট ডাউন… লাইং পজিশন, জলদি চল… আজীন চলতে থাক…
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
ওই হইছে আর পাঙ্গা খাইস না উঠ-মেহেদী ভাই কইছে উনার নামে ক্যান্টিন থিকা যা ইচ্ছা খায়া নিতে-আমারে এক লিটার কোক,৪ টা চকবার দিয়া যাইস আর তুই একটা ককোলা লজেন্স খাইয়া নিস
[ জবাব দিন ]
তুই আইসা পরছিস। তোদের তো বহু ঘটনা। শুরু করে দে লেখা। এই পিচ্চিরে আমি বহু জ্বালাতন করতাম কলেজে থাকতে।
[ জবাব দিন ]
:mad:চড় দিয়া গাল লাল বানাতে আপনি বস!!!!!!
আমি বাইচা গেছি
[ জবাব দিন ]
বাইচা গেছিস??
ওক্কে কাল দেখা করিস।
[ জবাব দিন ]
Lekha khub valo laglo…
[ জবাব দিন ]
পুরানো সেই দিনের কথা …
[ জবাব দিন ]
স্বাগতম।
অফ টপিকঃ ইমোশনাল ইমো দেয়া যায়না?
[ জবাব দিন ]
পুরা ইমোশনাল হয়া গেলাম…
[ জবাব দিন ]
ভালো লিখেছো।
[ জবাব দিন ]
হ , আমাগো ছোডগো লাইগা কোকোলা লজেন্স ই দিবেন আপনেরা, ক্যান, পোলাডারে ভালো কোথাও খাওয়াইতে লইয়া গ্যালে কি অয়? এমনি_____উনাগো লাইগা তো কেএফসি এর দুয়ার খোলা, পকেট ও খুলা, ছোড ভাইগো ই খানা নাই
[ জবাব দিন ]
vai…………. KFC r samnei thaki………………. chicken fry khaite chai
[ জবাব দিন ]
ভাই অসাধারণ অনুভূতিসম্পন্ন একটা লেখা দিয়েছিস..
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
“৬ বছরের মঞ্চের সবচে ক্ষুদ্র ধুলিকণাটিও যে আজীবন লেগে থাকবে শরীরে। ওটা ধুয়ে ফেলা আমার পক্ষে যে সম্ভব নয়।”
পারি না দেখেই এই ব্লগ এ বার বার ফিরে আসি……।।
চমৎকার………
[ জবাব দিন ]
অসাধারণ
[ জবাব দিন ]
সাবাস !!! কি আর বলব …খুবই সুন্দর একখান লেখা !! অনেক স্মৃতি , অনেক ..ভুলবো না ..মাঝে মাঝে লিখিস কিন্তু …
[ জবাব দিন ]