বলের বদলে গ্রেনেড (৭ম পর্ব)

আগের পর্বগুলোঃ

১৩।

এপ্রিল, ১৯৭১

অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠনের খবর শুনে অন্যান্য স্থানের মতনই গোপালগঞ্জেও সবার মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা জেগে উঠল। কেননা, সরকার গঠনের মাধ্যমে চলমান স্বাধীনতা যুদ্ধ আনুষ্ঠানিক মর্যাদা পাবে। এতে করে বহির্বিশ্বেও এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের নির্দেশে শিলিগুড়ির অল ইন্ডিয়া রেডিওকে বদলে নাম রাখা হয়েছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।

বিস্তারিত»

বলের বদলে গ্রেনেড (৬ষ্ঠ পর্ব)

আগের পর্বগুলোঃ

১১।

গত তিন দিন ধরে অনিক প্রায় আক্ষরিক অর্থেই শুয়ে বসে সময় কাটাচ্ছে। ‘প্রায়’ এজন্যই বলা কেননা মাঝে মাঝে জোর করে হলেও পড়তে বসছে। ইন্টার পরীক্ষার তো আর বেশি বাকি নেই। ক্লাস হোক বা না হোক-দেখা গেল পরীক্ষার তারিখ ঠিকই দিয়ে দিয়েছে-প্রস্তুতি না থাকলে তখন বিপদ হয়ে যাবে!

বিস্তারিত»

বলের বদলে গ্রেনেড (৫ম পর্ব)

আগের পর্বগুলোঃ

৯।

জ্বর এবং চাচার কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে পরবর্তী কয়েকদিন অনিকের ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ হয়ে গেল। অবশ্য, কিছুটা দেরি হলেও খুলনা এবং দেশের প্রায় এলাকার খবর ঠিকই জানতে পারছিল। কেননা, রেডিও বা পত্রিকা তো ছিলই, এর পাশাপাশি ওর বন্ধুদের মধ্যে প্রায় প্রতি বেলাতেই কেউ না কেউ আসত।

বিস্তারিত»

বলের বদলে গ্রেনেড (৪র্থ পর্ব)

১ম পর্ব
২য় পর্ব
৩য় পর্ব

৭।

আজকের সকালটা কেমন বিষণ্ণ! অনিক মনে মনে ভাবল। সকালে নাস্তা করার পর সেই কখন থেকে টেবিলে বসে পড়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু কিছুতেই মন বসাতে পারছে না।

গতকাল গোপালগঞ্জ থেকে চিঠি এসেছে। এবার অনেকদিন পর বাবা-মা’র কাছ থেকে চিঠি এল। অবশ্য শুধু বাবার কথা বলাই ভাল,

বিস্তারিত»

বলের বদলে গ্রেনেড (৩য় পর্ব)

১ম পর্ব
২য় পর্ব

৪।

পরদিন সকাল বেলা।
ওয়ার্ম আপ শেষে সবাই মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। সুনীলদা অনিককে ডেকে বললেন,
-এখন থেকে তুই পয়েন্টে ফিল্ডিং করবি। শুধু প্র্যাকটিসের সময় নয়, ম্যাচের সময়েও।
-কেন, সুনীলদা?
-পয়েন্ট এবং গালি’তে দলের সবচেয়ে ভাল ফিল্ডারকে থাককে হয়। শার্প ক্যাচের ব্যাপারটি তো আছেই, বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যান রান চুরি করতে চাইলে রান আউটের সুযোগ পাওয়া যায়।

বিস্তারিত»

বই নিয়ে আলোচনা- রক্তে ভেজা একাত্তর

বই এর নামঃ রক্তে ভেজা একাত্তর
বই এর ধরণঃ মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি, সম্মুখ সমরের স্মৃতিচারণ
লেখকের নামঃ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম
প্রকাশকের নামঃ মফিদুল হক, সাহিত্য প্রকাশ, ৮৭, পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা-১০০০
প্রচ্ছদঃ অশোক কর্মকার
উৎসর্গঃ ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর প্রথম ব্যাটালিয়ন দি সিনিয়র টাইগার্স এর স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল সহযোদ্ধার উদ্দেশ্যে নিবেদিত
প্রথম প্রকাশঃ ফাল্গুন ১৪০৩,

বিস্তারিত»

বলের বদলে গ্রেনেড (২য় পর্ব)

বলের বদলে গ্রেনেড (১ম পর্ব)

২।

কড়া নাড়ার পর চাচা নিজেই দরজা খুলে দিলেন।
-আরে, ডন ব্রাম্মান যে! সব খবর ভাল তো?

সুনীলদা এবং চাচা দুজনেই একসাথে হেসে উঠলেন। চাচা কেন সুনীলদাকে ‘ডন ব্রাম্মান’ বলে ডাকে তা কয়েকবার জিজ্ঞাসা করতে গিয়েও অনিক সাহস পায় নি। নিশ্চয়ই কোন কাহিনী আছে! আজ কৌতূহল চেপে না রাখতে পেরে অবশেষে জিজ্ঞাসা করেই বসল,

বিস্তারিত»

বলের বদলে গ্রেনেড (১ম পর্ব)

১।

জানুয়ারি, ১৯৭১।

কথায় আছে- ‘মক্কার লোক হজ্জ্ব পায় না’!!
অনিকের জন্য কথাটা শতভাগ প্রযোজ্য! ওর বাসা খুলনা পুলিশ লাইনের ঠিক পাশের গলিতেই। বাসা থেকে সার্কিট হাউজের মাঠে যেতে এক মিনিটেরও কম সময় লাগে। অথচ কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই বিকালের প্র্যাকটিসে ও সবার শেষে উপস্থিত হচ্ছে! কোচ সুনীলদা ওকে খুব স্নেহ করেন বলে তেমন কিছু বলেন না, শুধু ওয়ার্ম আপের সময় দুই চক্কর বেশি দৌড়াতে পাঠান।

বিস্তারিত»

এক বালকের যুদ্ধ-স্মৃতি

স্মৃতির পাতা থেকে বলছি। এটি এমন সময়ের স্মৃতি যা আমার মনে থাকার কথা নয়। এটি এমন সময়ের গল্প যখন বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষকে নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বড়-বড় হেডলাইন তৈরি হচ্ছিল। এই হেডলাইনগুলোর কথা আমি জীবনে আরো অনেক পরে জেনেছি। জেনেছি সেই গৌরব-গাথা যার গল্প মানুষ মনে করবে আরো হাজার বছর ধরে। গৌরবের পাশাপাশি এ এক ব্যর্থতার গাথাও। এই গৌরবকে মনে না নিয়ে, আলোর পথে না এসে কিছু মানুষ মানবতার চেহারায় কালিমা লেপে দিয়েছিল।

বিস্তারিত»

বীরাঙ্গনার স্বপ্ন

বিজয় দিবসের প্রাক্কালে
মুমুর্ষু  এক বীরাঙ্গনা বল্লেন
শত  লজ্জা অপমান সয়ে
আজও  আমি বেঁচে আছি
পাশে  ঠেলে মরণ
কবে আসবে?
সেই  মাহেন্দ্রক্ষণ!

করজোড়ে  নতজানু
মাগিবে পাকিস্তান
দাসী হতে চাই প্রভু
ভিখ দাও চরণ।

[ পুরাদস্তুর বাঙ্গালের ভবিষ্যত বাণীঃ এক দিন বাংলাদেশের অঙ্গরাজ্য হবার জন্য কেঁদে কেটে একাকার হবে পাকিস্তান ]

বিস্তারিত»

কিশোর পারেখ

কিশোর পারেখ নামক এক ভারতীয় ফটো জার্নালিষ্ট মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাঙলাদেশে যুদ্ধকালীন সময়ের ছবি তুলে তিনি বিখ্যাত হন। এতে তিনি পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর বর্বরতা সহ বাঙালি জণগণের দুঃখ-দুর্দশা এবং আশাবাদ তুলে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন কিশোরের কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে পাবলো বার্থলমিউ বলেন,

“Bangladesh was Kishor’s highest point. Self-assigned, self-funded, driven by his own instincts, emotions and guts, in a two week period he produced a startling set of images that became a powerful book and statement.”

বিস্তারিত»

উনিশ শো একাত্তর ৭

লাঞ্চের আগে সিও(অধিনায়ক), লেফ্টেনেন্ট কর্নেল মাসুদুল হকের সালাম পেয়ে (ডাক) মেজর শফিউল্লাহর মনে হল, ঘটনা আর একটু খারাপের দিকে মোড় নিয়েছে। মার্চ মাসটা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। ১০ তারিখে তাঁর শশুরের মৃত্যু হলো আচমকাই। ১৯ তারিখে হঠাৎ করেই ব্রিগেড কমান্ডারের আনশিডিউল্ড ভিজিট নিয়ে কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেল! আবার সেদিনই পাঁচজন সৈনিককে মারধর করে কালিয়াকৈর বাজার থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেলো সিভিলিয়ানরা। আওয়ামীলীগের দু’জন নেতার সহযোগিতায় তিনদিন পর গফরগাঁও থেকে উদ্ধার করা হলো সে অস্ত্র।

বিস্তারিত»

উনিশ শ’ একাত্তর -১

ব্রিগেডিয়ার মজুমদারের রবিবাবের সকালটা পানসে হয়ে গেল। মিনিট দুই আগে কোয়ারটার মাষ্টার জানিয়েছে, ঢাকা থেকে হেলিপ্যাড রেডি করতে বলা হয়েছে। তার মানে সিনিয়র কারো আসার কথা, অথচ তিনি কিছুই জানেন না। তিনি ঢাকায় ফোন বুক করলেন। কোর্সমেট জাহাঞ্জেব আরবাব ঢাকায় ৫৭ ব্রিগেডের অধিনায়ক। তিনি বললেন “আশ্চর্য তুই কিছুই জানিস না? চীফ যাচ্ছেন, কিঊএমজিকে নিয়ে, জিওসিও যেতে পারেন”।
মার্চের শুরু থেকেই একের পর এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

বিস্তারিত»

৭৩ এর যুদ্ধবন্দী

ব্যাপারটা যে কাকতালীয় তাতে সন্দেহ নেই – “সবুজ সিল্ক শাড়ী” পরা মহিলাটির সাথে আমার দেখা হয়ে গেল। আমি তাকে দেখামাত্রই চিনতে পেরেছি। ইন ফ্যাক্ট আমরা চোখাচোখি হওয়া মাত্র একে অন্যকে চিনতে পেরেছি। সে আমার দিকে হাত নাড়ল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর একসাথে বসব বলে সাব্যস্ত হল।

১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরের কোন এক সকালে তার সাথে আমার প্রথম ও শেষ দেখা। ১৯৭১ এর পাক-ভারত যুদ্ধের সহস্র যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে সেও একজন।

বিস্তারিত»

শুভ জন্মদিন মেজর আখতার আহমেদ বীর প্রতীক

আজ বৃহষ্পতিবার। মন ফুরফুরে, অফিসের জন্যে রেডি হতেহতে ফেসবুকে উকি দিয়ে দেখি আজ এক বিখ্যাত মানুষের জন্মদিন। তাঁর কীর্তি নিয়ে গবেষণা (এত ভারী শব্দলিখতে চাইনি।)করতে গিয়ে দেখি স্যার আমাদের আমাদের মেডিকেল অফিসার ছিলেন, কলেজে আমার জন্মের আগে। হ্যাপি বার্থ ডে স্যার, এই লেখাটি আপনার জন্যেঃ
———————————————————————————

উনিশ শ’ একাত্তর ১৮

২৬ তারিখ সকালে রেডিও অন করে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল আখতারের।

বিস্তারিত»