গ্রীক শব্দ ‘হিস্টরিয়া’ থেকে ইংরেজি ‘হিস্ট্রি’ শব্দটি উদ্ভূত। যার অর্থ ‘খোঁজা’। অন্য অর্থে ক্রমাগত গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান। বর্তমান কালের– ‘উইকিপিডিয়া’ একটি সংজ্ঞা দিয়েছে ইতিহাসের। উইকি-র মতে ইতিহাস গবেষণার একটি শাখা, যা ঘটনার ক্রমবিকাশকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, বিশ্লেষণ করে ‘ন্যারেটিভ’ বা আখ্যানের সাহায্য নিয়ে। শুরুতেই এত গুরুগম্ভীর সংজ্ঞা দেবার কারণ এটাই যে, ইতিহাস ভৌতবিজ্ঞানের মত বা গণিতের মত নৈর্ব্যক্তিক নয়; যে অংকটি যে নিয়মেই করা হোক না কেন উত্তর একই হবে কিংবা আলোর গতি যে নিয়মেই বের করা হোক না কেন তা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা হবে। ইতিহাসের গবেষণা ‘স্থান-কাল-পাত্র’ নির্ভর। সুতরাং আজ আমরা পৃথিবীর যে ইতিহাস পড়ছি বা জানছি তা কতটুকু মুক্ত, স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ তা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।
ইতিহাস রচনা করে জয়ীরা। বিজিতের ইতিহাস আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। আর তাই লিখিত ইতিহাসের ভেতর নির্মোহ সত্য সবসময় পাওয়া নাও যেতে পারে। সেখানেই আসে ‘ডক্যুমেন্টস’ বা প্রামাণ্য দলিলের প্রসঙ্গ। তবে জয়ী পক্ষ অনেক সময় তার বিরুদ্ধে যায় এমন দলিল নষ্ট করে ফেলে যাতে তার জয়ের মহিমা ম্লান না হয়। আবার বিজিত পক্ষও অপরাধ ঢাকতে দলিল ধ্বংস করে। তারপরও দলিলই হতে পারে ইতিহাসকে জানবার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
জাতি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হল, আমরা দলিল সংরক্ষণে মনোযোগী নই। তার কিছুটা আমাদের অজ্ঞানতা আর অলসতা প্রসূত, আর অনেকটাই উদ্দেশ্যমূলক। উদ্দেশ্যটি হল দালিলিক প্রমাণ না থাকলে ‘স্থান-কাল-পাত্র’-কে ব্যবহার করে তথা নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে পছন্দের লোককে দিয়ে ‘ইতিহাস’ লিখিয়ে নেওয়া। যাতে কেউ আর প্রশ্ন করতে না পারে। আর প্রশ্ন করলেও এক ধমকেই তাকে থামিয়ে দেওয়া যায় এই বলে, “দেখাও প্রমাণ”।আজও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা সেই একই স্বরেই বলছে “দেখাও প্রমাণ”। আর আমরা দলিলের খোঁজে হাতড়ে বেড়াচ্ছি।
ডঃ মুহম্মদ ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তার ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে নানা মত রয়েছে। সেগুলো নিয়ে কোন গবেষণা তেমন হয়নি। তাকে অপসারণ করা হল নিয়ম ভাঙার দায়ে। কিন্তু দেশে নিয়ম মানছে কে? এখন যদি ভবিষ্যৎ ইউনুসপন্থীরা ইতিহাস লেখে, তবে সেই ‘ইতিহাস’ বলবে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে তাঁকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিলো ।আর তাদের বিরোধীদের রচিত ‘ইতিহাস’ থেকে মানুষ জানবে তিনি কতটা ‘লোভী’ ছিলেন যে, ৬০ বছর বয়স পার হবার পরও তিনি জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন ।
এখন কোন ইতিহাসটি সত্য, নিরপেক্ষ, মুক্ত, নির্মোহ ? আজ আমরা যারা বেঁচে আছি তারা হয়তো আরো নানা পারিপার্শ্বিক বিষয়কে বিবেচনায় এনে, নানা ঘটনার পরম্পরাকে সাজিয়ে একটি সত্য বা আধাঁ-সত্যকে নিজেদের মনে দাঁড় করাতে পারছি, কিন্তু এক শতাব্দী পরের অর্থনীতির একজন শিক্ষার্থী যখন ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ সম্পর্কে পড়বেন তখন তার তো ত্রিশঙ্কুর দশা হবে । সে ড. ইউনুসকে কোন আসনে বসাবে- নায়কের না খলনায়কের ?
তাই ইতিহাস বর্তমানে বসে রচনা না করে বরং ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেয়াই ভালো ।শুধু উত্তর প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে হবে দলিল ।যাতে নির্মোহ, মুক্ত ইতিহাস রচনার ভার তারা নিতে পারে । আমরা বরং আমাদের বর্তমানকে সাজাই । যেন আমাদের ভবিষ্যতটি ভালো হয় ।
- ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কল্লোল


(১ভোট, ৪.০০/ ৫)
১৪ টি মন্তব্য
স্বাগতম নুরুজ্জামান ভাই।
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ ..
[ জবাব দিন ]
কোন একজন ইতিহাসবিদের মুখে শুনেছিলাম বা পড়েছিলাম, প্রকৃত ইতিহাস রচিত হতে ৫০ বছর লাগে। আমরা বর্তমানের ব্যাপারে আমাদের দলীলগুলো গুছিয়ে রেখে যেতে পারি। পরবর্তী প্রজন্মই সিদ্ধান্ত নেবে ইতিহাসে কার কী ভূমিকা। আর আমার মনে হয়, কাউকে পুরোপুরি ভাল বা পুরোপুরি খারাপ বলাটা অনেক কঠিন। দোষ শুধু এক পক্ষেরই থাকবে অন্যদের থাকবে না, এমন নাও হতে পারে। আমরা তো দোষে-গুণেই মানুষ।
[ জবাব দিন ]
পুরোপুরি একমত …আমি সেটিই বলতে চাই ..
[ জবাব দিন ]
স্বাগতম নুরুজ্জামান ভাই
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ
[ জবাব দিন ]
নুরুজ্জামান ভাই, স্বাগতম । এখানে প্রথম ব্লগ লেখার পরে কিন্তু একটা বিশেষ নিয়ম আছে । আমি জুনিয়র হয়ে কিভাবে বলি ? মরতুজা ভাইয়ের কাছ থেকে জেনে ব্যাপারটা সেরে ফেললে সবাই খুশি হইতো আর কি । যাই হোক, চলতে থাকুক । থাইমেন না ।
[ জবাব দিন ]
আমার নিয়মটা জানা নাই … জানাইলে কাজ হইতে পারে..
[ জবাব দিন ]
জানতে চাইলে আর না করি কেমনে ? ১টা দিয়েই দেখাই ।
এই রকম ১০ টা দিতে হয়
[ জবাব দিন ]
নুরুজ্জামান ভাই, স্বাগতম।
[ জবাব দিন ]
এ ভালু, তুই কই থিকা…হঠাৎ কইরা এত গুরুগম্ভির রচনা কেম্নে পয়দা করলি
মনে হইতাছে তোর বাংলা নোট খাতা থিকা মাইরা দিছস…
তোর দুই মেয়ে আছে কেমন?
[ জবাব দিন ]
এইটা বেশ কিছু দিন আগে লেখা..মেয়েরা ভালো আছে
[ জবাব দিন ]
ভালো হয়েছে ভাইয়া …….. …..
[ জবাব দিন ]
Welcome viah…
[ জবাব দিন ]