আমার কাজলাদিদিরা ২
ওর আসল নাম হচ্ছে চামেলী। আমার খালাত বোন। কলেজে ৯ এ উঠার সময় এক ছেলের সাথে আমার বাজি হল পরের টার্মে ওর থেকে আমি বেশি চিঠি পাব। কিন্তু টার্ম শুরু হওয়ার পর বুঝতে পারলাম খুবই অসম্ভব ব্যাপার। আমার বাসা থেকেই আমাকে মাসে একখানা চিঠি লেখে। আর ও প্রতি সপ্তাহে ৩-৪টা চিঠি পেয়ে যাচ্ছে। কি আর করা বাজিতে হারব বুঝে গেলাম। কিন্তু চিঠি পাওয়ার খুব ইচ্ছে থেকেই আমি চিঠি লেখা শুরু করলাম। কিন্তু লেখার মানুষ তো আমার বেশি নেই। সেই চিঠি লেখা থেকে মনে হয় আমার পরিবর্তন শুরু হল। ছোটবেলা থেকে যাদের মনে মনে পছন্দ করতাম কিন্তু বলতে পারতাম না চিঠি লিখতে গেলে দেখলাম খুব সহজেই পছন্দের কথা বলা শুরু করলাম। তখন আমার এই খালাত বোনকে চিঠি লেখা শুরু হল। সেও আমাকে উত্তর দিত। শুরু হল আমার চামু আপুর কাহিনী। চামেলী নামটা হারিয়েই গেল। শেষ কবে যে ওকে চামেলী আপু বলে ডেকেছি মনে পড়ে না। আপুও ডাকতামনা। ও হয়ে উঠল আমার এক কাজলা দিদি, চামু।
আমার কাজলাদিদির মধ্যেই ঐ একমাত্র আমার ফ্যামিলির ভিতরে। কিন্তু তবুও ওকে পেতে আমার অনেক দেরি হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই আমার যে চিন্তা সবাই বুঝি আমার থেকে আমার ভাইদেরকেই বেশি আদর করে ওর বেলাতেও তাই হয়েছে। তবে এখন ওকে জিজ্ঞেস করি যদি তখন তো আমাকে আদর করতা পান্থ ভাইয়া আর কনকই বেশি আদর পেত তোমাদের, তখন সে বলে তোরে কইছে। একটু পরে অবশ্য বলে তুই তো চুপচাপ থাকতি এই জন্য বেশি আদর পাইতি না। কথাটা অবশ্য ভুল না। ছোট থাকতে আমি আদর নিতেই মনে হয় জানতাম না। ইশশ চুপচাপ না হয়ে যদি আরেকটু দুষ্ট হতাম তাহলে মনে হয় ছোটবেলা থেকেই অনেক আদর পেতাম। চিঠি লিখতে লিখতেই চামুকে পাওয়া। এর আগ পর্যন্ত ও ছিল আমার খালাত বোন অন্য সবার মত। তখনই সে আস্তে আস্তে হয়ে উঠল আমার খুব প্রিয় এক আপু। ওর বিয়ের আগ পর্যন্ত প্রতি টার্মে চামুর একটা করে চিঠি পেতাম। আমি অবশ্য লেখতাম অনেক। সবজায়গায় যেমন হয় ওর বিয়ের পর দুরত্ব বেড়ে গেল আপুর সাথে। তখন আমরা কলেজ থেকে বের হব হব। ওরা তখন নতুন ঢাকায় এসেছে আমাদের বাসার পাশেই। আমি কত প্ল্যান করছি যে অনেক মজা হবে অনেক দিন পরে আমি বাসায় ফিরছি। এবার আর বেড়ানো নয় একেবারে বাসাতেই থাকব। আর আমার পাশেই থাকবে আমার আপু চামু। কত কিছু ভাবতাম এই করব ওই করব। কিন্তু সব কিছু শুরু হওয়ার আগেই দেখলাম চামুর বিয়ে হয়ে গেল আর ও চলে গেল কুমিল্লাতে। ঢাকায় আসলাম কিন্তু চামুকে নিয়ে আমার কল্পনাগুলা আর বাস্তব হল না। ও যখন ঢাকায় আসত প্রতিদিন আমি যেতাম ওর সাথে গল্প করতে কিন্তু কেন যে মেয়েরা বিয়ের পর বদলে যায় সেটা তখনো বুঝতে পারতাম না এখনো পারিনা। ওর সাথে কথা বলতেই ভাল লাগত কিন্তু ও খুব চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। কলেজ থেকে বের হওয়ার পর আর কখনো চিঠি লেখা হয়নি ওকে ও ও কখনো চায়নি। কলেজ থেকে বের হয়ে খুব অল্প দিনের জন্যই বাসায় ছিলাম। এরপর বাইরে চলে আসলাম । চামুর সাথে দুরত্ব বেড়ে যাচ্ছিল একটু একটু করে। ওর দুটি ছেলে হল সংসারকাজে ব্যস্ত আমার আপু। দেশে গেলে এক-দুইবার ওর সাথে দেখা হয় । এরকম করেই হয়ত চলত কিন্তু ও ঢাকা শিফট করল চাকরী নিল। ওর চাকরীটাই আবার আমাকে আমার চামু আপুকে পাইয়ে দিল। অফিসে ও সারাদিনই ইয়াহুতে থাকে। আর আমি তো সারাদিনই ফ্রি। ওর সাথে অনলাইন কথাবার্তা শুরু হল। একসময় আমি খুব মেন্টালি আপসেট ছিলাম। ও সবসময় খালি জিজ্ঞেস করত আমার কি হয়েছে। ওকে কেন কাউকেই ঠিক করে বুঝিয়ে বলতে পারিনি আসলে আমার কি হয়েছিল। যাই হোক আমার এই আপুটাকে আবার ফিরে পেয়ে আমি অসম্ভব খুশি। ওকে আমি অনেক পছন্দ করি আর সেকথাও ও জানে। ওকে যদি জিজ্ঞেস করি জানিস আমাদের ফ্যামিলিতে আমি সবচেয়ে বেশি কাকে পছন্দ করি ও তখন বলে আমাকে। চামু তোকে অনেক ভালবাসি আপু। আদর করিস সবসময় এখন যেমন করিস।


(১ভোট, ৪.০০/ ৫)
৪৯ টি মন্তব্য
আমারও বোন নাই…
তোমার এই লেখাগুলো তাই মনকে ছুঁয়ে যায়…
[ জবাব দিন ]
আমার বোন নাই বলতেই কষ্ট লাগে। এখন থেকে ঠিক করছি কমু বোন আছে। কল্পনায়।
[ জবাব দিন ]
আমিও তাই কমু
আর ভাল্লাগেনা কইতে যে–
“আমরা ৩ ভাই বোন নাই”
[ জবাব দিন ]
আহারে………মন ছোয়া লেখা……।।
[ জবাব দিন ]
আগেও বলছিলাম, এখনো বলি। আমার দুইটা বোন আছে, দুইটারেই নিয়া যাইতে পারস।
বাসায় যখন বাজারে যাইতে হয় বা কোরবানির মাংস ম্যানেজ করতে হয় তখন একটা ছোট ভাইয়ের জন্য বুক হাহাকার করে। ছুডু একটা ভাই থাকলে ওরে দিয়া এইগুলা করায়া নিজে আরাম করতে পারতাম। বোন দিয়া কোন কাম হয় না, এরা থাকে খালি পিছে লাগার ধান্ধায়।
[ জবাব দিন ]
হাহাহা, পরে যখন দেখবি আমাকে আদর করতেছে তখন দেখবি হিংসায় জ্বলবি। যেটা থাকে সেটার মর্যাদা বোঝা যায় না। গিয়ে দেখ তুই বিদেশ যাওয়ার পর বোন গুলাই বেশি কাঁদতেছে। বোন গুলা নিয়া যাবার কথা সবখানেই কস কিন্তু কেমনে নিমু সেটা না বলার জন্য তোর ব্যাঞ্চাই।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
আরে তোমারেই তো খুঁজতেছিলাম। আমার বড়ভাই আসছে এখানে। পান্থ।গেষ্ট হিসেবে পড়তেছে। ও আবার চা খুব পছন্দ করে । দাও তো সেইরকম এক কাপ চা । চিনি কিন্তু ৩ চামচ।
[ জবাব দিন ]
যথারীতি
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
সানা ভাই আমার লেখায় কমেন্ট করছেন? বিশাল খুশি হইছি ভাইয়া।
[ জবাব দিন ]
কপাল খ্রাপ, আমারো ভইন্নাই।
দুই এক্টা কাজলাদিদি আছিল বোহুত আগে।
ইস, যুদি ভইন্থাক্তো!!!
মাতায় তুইল্লা রাক্তাম।
[ জবাব দিন ]
আমিও …
[ জবাব দিন ]
আমিও
[ জবাব দিন ]
অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ ভাই
[ জবাব দিন ]
আমার বড়বোন কিন্তু আমার মা’য়ের মতো। ও আমার থেকে মাত্র ৪ বছরের বড়। আমার মা শিক্ষিকা ছিলেন তাই ছোটবেলায় আমার আপা গোসল করান, ভাত খাওয়ান সব দায়িত্ন পালন করতো। এখন বাবা মা বেঁচে নাই আপা কিন্তু মা’য়ের জায়গাতেই আছে।
[ জবাব দিন ]
আপা থেকে যাবেনা আজীবন…………।। মায়ের চাইতেও আপন হয়ে…………।।
[ জবাব দিন ]
আমার একটা পিচ্চি বোন আছে, বয়সে মাত্র চার বছর ছোট, কিন্তু সারাজীবনেও আমার চোখে ‘বড়’ হতে পারবে না মনে হয়। যখন দুই, কি তিন বছর বয়স, একবার পড়ে গিয়ে খুব ব্যথা পেলো। বাসায় কেউ ছিলনা। আমি খুব ঘাবড়ে গেলাম ওর কান্নায় আর ও খালি বলছিল, “বাইয়া, ব্যতা কলে!” সেই আধোবোল এখনও কানে বাজে…।
তোরলেখা পড়তে পড়তে মনে হলো একদিন আমার বোনেরও বিয়ে হয়ে যাবে আর যোগাযোগটাও হয়তো আস্তে আস্তে কমে আসবে। এক শহরে থেকেও হয়তো দেখা হবে না, কথা হবে না! ব্যাপারটা ভাবতেই মন খারাপ! ধুর!
[ জবাব দিন ]
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়াটা কখনো কখনো খুব অল্প দূরত্বের কিছু মনে হয়।
[ জবাব দিন ]
আমার বোন আমার পিঠাপিঠি বয়সের। বন্ধুর মতো।
[ জবাব দিন ]
হায়!!!!!
[ জবাব দিন ]
এডিসন ভাই, আন্দালিব আর কামরুল ভাইর প্রতি ভীষণ রকম হিংসিত। একটা ডায়লগ দিতাম আগে
[ জবাব দিন ]
আমি এপ্রিলে বাংলাদেশে আসছি।তুমি আমার সাথে দেখা করো। আমার বোনের ভাগ দিব। আমার বোন তোমাকে ভাই বানিয়ে যদি তোমার সারা জীবনের কষ্ট চলে যায় তাহলে আমার কোন অসুবিধা নাই। আমার বিশ্বাস তুমি নিজের বোনের মত তেকে যখন তখন জ্বালাতে পারবা।
[ জবাব দিন ]
অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। আপনি এপ্রিলে দেশে গেলে আওয়াজ দিয়েন। আমি অবশ্য দেশে যাব আগষ্টে। আপনাকে খুঁজে বের করে ফেলব।
[ জবাব দিন ]
হাহাহাহাহা
কঠিন ডায়লগ ঝারছেন ভাইয়া!!!!!
আমার ক্ষেত্রেও একই কেস
[ জবাব দিন ]
যথারীতি তপুর খুবই আবেগময় লেখা, আমাদের মত বোন-লেস ক্রিয়েচারদের হাহাকার শতগুণে বাড়ায়
জগতের সকল বোন-ধারী ভাইদের জন্য ব্যাপক হিংসা আনে
[ জবাব দিন ]
আর এখন???
[ জবাব দিন ]
কি মনে হয়?
[ জবাব দিন ]
মনে হইতাসে, আকাশে উড়তাসো
[ জবাব দিন ]
কাইয়ূম ভাই তো লেখাটা দিলেন না আর। কি যেন একটা লেখা দিবেন বলছিলেন।
[ জবাব দিন ]
জীবনে প্রথমবারের মতন আকাশে উড়তেছি। একটু ধাতস্থ হতে দিবিতো আগে
আর একটু আদর ভালোবাসাও তো নিয়ে নি এতদিনের জমে থাকা
[ জবাব দিন ]
উড়েন উড়েন তবে পড়া যাবার প্রিপারেশন নিয়ে রাইখেন। আর আমার সাথে কম্পিটিশন দিবেন তো যদিও আমি শিউর আমার আপুসোনাই বেস্ট।
[ জবাব দিন ]
উহু, লাভ নাই বাডি! পড়ার যে কোন সম্ভাবনাই নাই
হু হু, আগে যা বলছিলাম এখনো তাই বলি, আমার আপুজি ইজ দ্য বেস্ট।
আর কম্পিটিশনের কথা বলতেছিস
[ জবাব দিন ]
আবেগঘন লেখা নিজের পিচ্চি বোনটার কথা মনে করায় দিলা । বোন গুলা কেমনে বড় হয়ে যায় । আন্দালিবের কমেন্ট ও মন ছুঁয়ে গেল ।
[ জবাব দিন ]
বোন তো বোনই……………।। বোনের তুলনা কেউই হতে পারেনা………………।।
মায়ের তুলনা হিসেবে বড় বোন আসে……… বড় বোনের তুলনা হিসেবে কেউ কি আছে??? নেই………………
[ জবাব দিন ]
যার বোন নাই আমার মত তাদের এইসব পড়তে নাই, আফসোস হবে।
[ জবাব দিন ]
আফসোস তো আজীবনই করে গেলাম। লেখাটা পড়ে নাহয় আরেকটু বেশিই আফসোস করলাম….. ক্ষতি কি???
[ জবাব দিন ]
এই লেখাটা আমার বোন পড়েছে। এরপর আমার বাসায় গিয়ে মহা খুশিতে আম্মুকে এইটার কাহিনী বলেছে, ” তপু আমাকে কাজলাদিদি বানাইছে”। আমার মা বেশি কিছু বুঝে নাই তাই ছোটভাইকে জিজ্ঞেস করছে ব্যাপারটা কি।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
তারপর কি হল???
[ জবাব দিন ]
আমার মনে হয়, এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারবে তোমার বিয়ের পর তোমার শ্যালক
[ জবাব দিন ]
হাহাহাহাহা
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
মাত্র ৩ নম্বর কাজলাদিদি শেষ করলাম …
[ জবাব দিন ]
সাতটা শেষ করবেন নাকি আজ একদিনেই? একেবারে শেষের টা পড়া শেষ হয়ে গেলে বইলেন।
[ জবাব দিন ]
হ্যাঁ চামু আপু………………। প্লিজ………… তপু ভাইয়াকে কষ্ট দিওনা। আমি বুঝি ওনার কষ্টটা।
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ তারিক তোমার কথা পৌছায় দিব।
[ জবাব দিন ]
আপনাকেও ধন্যবাদ…..
[ জবাব দিন ]