পুরাকালে ট্যাগোর নামে এক লোক জন্মেছিলেন। সম্পর্কে তিনি আমার আংকেল হন, আমি তাই তাঁহাকে ট্যাগোর আংকেল বলে ডাকি। ইতিহাসে লেখা নাই, কিন্তু আমি জানি, তিনি আরও নানাবিধ গুণের সাথে সাথে, ত্রিকালদর্শীও ছিলেন। আজি হতে শতবর্ষ আগে, কোন এক মলিন প্রভাতে তিনি দিব্যচোখে দেখতে পেয়েছিলেন, তাহার ভাইজতা, মানে এই অধম আমি ২০১২ সন ইং নাগাদ এসে এক অতি নেশারু দ্রব্য নিয়া হাবুডুবু খাইবো। আমার দু;খে দুখী হয়ে তিনি গীত রচনা করিলেন, এ মণিহার আমায় নাহি সা-আ-আ-জে।
শতবর্ষ পরে আমি ট্যাগোর আংকেলের ক্যারিশমা দেখি আর অবাক হই। সত্য সত্যই আমার জগত জুড়িয়া এক অতি নেশার বস্তু, তাহার নাম ফেইসবুক। আমার ল্যাপটপে স্ক্রীণ জুড়িয়া এই নাছোড়বান্দা বস্তু জায়গা করে বসে থাকে। কোন মতেই তা থেকে চোখ ফেরানো যায় না, চোখ ফেরানো গেলে মন তার লেজ ধরে বসে থাকে। জুকারবার্গ-এর আবিষ্কারকে আমার কাছে হুঁকার চেয়ে কম শক্তিশালী বলে মনে হয় না। আমি তখন ট্যাগোর আংকেলের লেখা সেই গান সুর করে করে গাই, এরে পরতে গেলে লাগে, এরে ছিঁড়তে গেলে বাজে ॥ কণ্ঠ যে রোধ করে, সুর তো নাহি সরে– ওই দিকে যে মন পড়ে রয়, মন লাগে না কাজে ॥ আহা, এ মণিহার আমায় নাহি সা-আ-আ-আ-জে।
ফেইসবুক থেকে মন সরানোর একটা হাতুড়ে পদ্ধতি ভেবে বের করেছি। সেটা হলো, ল্যাপটপ বা কম্পু থেকে কোনভাবেই আর ফেইসবুকে বসা যাবে না। এই নেশা কাটানো মুশকিল, তাই একদম একেবারে ছেড়ে দেয়াও যাবে না, অতএব, আমার ফেইসবুক ভ্রমণের বাহন এখন কেবলই মোবাইল ফোন। গত কিছুদিন ধরে এইভাবেই সংযম করে আসছি। তুখোড় ধূমপায়ীরা যেমন বিড়ি টানা ছাড়তে পারে না বলে আগুন না ধরিয়েই খালি বিড়ি এমনি এমনি টানে, আমারও সেই অবস্থা। মোবাইল থেকে টুক করে ঢুকে ফেইসবুক গুতোই, যেহেতু ওখানে আসল ফেইসবুকের স্বাদ পাওয়া যায় না তেমন, তাই ঘুরাঘুরির কাজ কেবল দরকারের সীমাতেই আবদ্ধ থাকে। এভাবে, আমার সারাদিনের ফেইসবুকে অপচয় করা সময়ের হার খানিকটা কমেছে বটে। তবু এখনও এই পদ্ধতি ফুলপ্রুফ নয়, এটা ঠিকঠাক পাশ করে গেলে এমবিবিএস হিসেবে প্যাটেন্ট করিয়ে নিবো, কিন্তু আপাতত হাতুড়ে নামেই চলুক।
তো, আজ কাজে গিয়ে ওরকমই চট করে ফোন থেকে ফেইসবুকে ঢুকে দেখি আমাদের চা-ওয়ালার মেসেজ। সিসিবিতে পোস্ট দেয়া হয় না অনেকদিন এই নিয়ে অনুযোগ। ভেবে দেখি, কথা সত্য। শেষ কবে লিখেছি মনেও নেই, এমনকি এখন এসে শেষ পোস্টের তারিখ দেখবো সেই সাহসও পাচ্ছি না, দেখা যাবে বছর বা তার বেশি ঘুরে গেছে হয়ত। আজ তাই বাসায় ফিরে বেশ মজা করে বউয়ের রান্না করা মুরগীর রোস্ট খেতে খেতে একটা পোস্ট দেয়ার পরিকল্পনা করে ফেললাম। অতএব বলাই বাহুল্য,শতাব্দীর এই দীর্ঘতম শীতনিদ্রা ভাঙানোর সকল ক্রেডিট আমাদের চা-ওয়ালা রকিবের। আর আজ সিসিবিতে ঢুকে তো পুরাই তামশা দেখি। অনেকগুলা নতুন লেখা, অনেক পুরনো সব লোকজন আমার আগেই হাজির!
এই খুশিতে ভাবছি চাঁদা তুলে সবাই মিলে চা-ওয়ালা রকিবকে একটা এসপ্রেসো কফি মেশিন কিনে দিই, কী বলেন কাইয়ূম ভাই? ;-)



৩১ টি মন্তব্য
প্রথম

ভাই আমার মত নিয়মিত ব্লগ লিখেন তাহলে দেখবেন আর ফেসবুকের নেশা থাকবেনা
[ জবাব দিন ]
তরে তো ফেবুতেই বেশি দেখি, ব্লগে আবার কবে লিখলি রে হতচ্ছাড়া
[ জবাব দিন ]
ওরে ধইরা বানানো দরকার,কি বলেন বস?
[ জবাব দিন ]
মাস্ফ্যু যেহেতু বানানোর দায়িত্ব নিছে, আমি তাহলে আর না ঘাটাই।ঃ)
[ জবাব দিন ]
এত কিছু ঘটে গেল
ভাই খারাপ কি কহিলাম
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
ইসসিরে………………………………………………………………….আফসুস
অনলাইন থাইকাও প্রথম ইটা ফালাইত পারলাম না
[ জবাব দিন ]
মেল্লা পোস্ট !!! কোনটা থুয়া কোনটায় কমেন্টাই .. তাইমও নাইক্কা। দুর বিজি হয়ে গেলাম (কপিরাইট : ফয়েজ ভাই । ঈষৎ পরিবর্তিত ও সংক্ষেপিত )
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
ফেইজবুক গুতাইয়া গুতাইয়া অবস্থা এমনই বেগতিক যে উপ্রের কমেন্টের নীচে “লাইক” বাটন খুইজা না পাইয়া ভ্যাবাচ্যাকা খাইসিলাম একটু
[ জবাব দিন ]
লুল
[ জবাব দিন ]
আরে তারেক ভাই,
অনেক দিন দেখা নাই
আপনারে অনেক ভাল পাই
নিয়মিত দেখতে চাই
এখন অন্য পোস্টে যাই…
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
আপনার নিজ বাড়িতেই স্বাগতম জানাইতে হল ভাই…..
সাথে থাইকেন
[ জবাব দিন ]
এতো লেখা! কমেন্ট লিখা কুলাইতে পারতেসিনা
আপাততঃ ইটা ফালায়া গেলাম
[ জবাব দিন ]
তারেক ভাই
নিয়মিত লেখা চাই
(বাহ কোবতে লেইখা ফেললাম মনে হচ্ছে)
[ জবাব দিন ]
পাক্কা ১ বছর ৭ মাস।
ওয়েলকাম ব্যাক ভাইয়া।
[ জবাব দিন ]
কালকেই নগদে ভাবতেসিলাম সবাই ব্লগ দিলো, তারেক ভাই দিলেও ভালো হৈতো। আর আজকেই দেখি আপনার পোস্ট।
ওয়েলকাম হোম
[ জবাব দিন ]
হে রবিবাবুর ভাতিজা, দয়া করে লেখালেখিতেও একটু সময় দিও, তাহলে রবিবাবুর আত্মা অনেক শান্তি পাবে।
এখন আঁকাআঁকিতে ব্যাপক সময় দিচ্ছিস মনে হয়?
[ জবাব দিন ]
এহহ, এক বুড়ি আরেক বুড়ি রে কয় নানি শ্বাশুড়ি!!!
[ জবাব দিন ]
আয়নার সামনে দাঁড়াইয়া ডায়লগ দিলি নাকি?
[ জবাব দিন ]
আপনি দিন দিন পুরা সত্যজিৎ রায়ের মতো হয়ে যাচ্ছেন; লেখালেখির পাশাপাশি জম্পেশ এক একেকটা কার্টুন ছাড়ছেন নিয়মিত। বহুদিন প্রিয় কাঠের সেনাপতিকে রাজ্যে ফিরতে দেখে দারুণ ভালো লাগলো। তারেক ভাই, আবার পালাবেন না যেন
[ জবাব দিন ]
সত্যজিৎ কার্টুন কবে আঁকলো? দিমু মাইর।
[ জবাব দিন ]
তারেক এইবার বইমেলায় তোমার বই আসে নাই?? জগতে আমার একটাই লেখকের অটোগ্রাফ পাওয়া বই আছে
[ জবাব দিন ]
নতুন বই তো আসে নাই, পুরোনো বইই থাকার কথা।
[ জবাব দিন ]
তা-তা-তারেক ভাই!!!
বিষম খাইলাম। যাই লেখাটা পড়ে আসি।
[ জবাব দিন ]
আমি তো চাওয়ালাকে মেডেল দিতে চাই। ওর জন্যই হঠাৎ হঠাৎ এই জমজমাট অবস্থাগুলা হয়। ত্রেক ভিই, তাত্তাড়ি আবার বঙ্গদেশে আসেন, আর আসার সময় আমার জন্য ঠিক ওই চকোলেটের বক্সটাই আবার এনেন, কেমন?
ফেইসবুক থেকে দূরে থাকার জন্য কত কি যে করলাম এই জীবনে…দীর্ঘশ্বাস। তবে এবার কাউন্টার পেইজ পেয়ছি, এটা পেলে ফেইসবুক ভুলে থাকতে কোন সমস্যাই হয় না। পাঠাচ্ছি আপনাকে ইনবক্সে।
[ জবাব দিন ]
কোন ইনবক্সে?
[ জবাব দিন ]
তারেক অনেক দিন পর তোমার লেখা পড়লাম। ভালো লাগল খুব। গল্প লিখো না আজকাল?
[ জবাব দিন ]
এসপ্রেসো না কিনে লাটে কিনে দাও।
বাংলাদেশে এসপ্রেসোর নামে যা চলে তাতে আসল্টা খাইলে পোলাপাইন বমি করবো।
লাটের মধ্যে একটু ভ্যানিলা। যাদের নিশা করার অভ্যাস আছে তাদেরকে একটু আইরিশ ক্রিম সহযোগে।
[ জবাব দিন ]
তারেক ভাইয়ের নতুন লেখাও তাহলে সিসিবিতে দেখতে পেলাম…
পরের লেখার অপেক্ষায় থাকলাম
[ জবাব দিন ]