সিসিবিতে আসার সময় অনেকটা স্থির করে রেখেছিলাম যে এখানে কোনো ভাব-গম্ভীর আলোচনা করবো না। কিন্তু ছোটো ভাই মুহাম্মদের আব্দারে তা ভাংতেই হলো। এবারের মতো তাই সবার কাছে মাফ চাই গুরু-গম্ভীর একটা পোষ্ট দিয়ে সিসিবির আনন্দময় পরিবেশ নষ্ট করার জন্য। (তবে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব সহজ করে লিখে যেতে)।
মুহাম্মদ জানতে চেয়েছে জ্ঞান, জনপ্রিয় জ্ঞান আর ক্ষমতার মধ্যকার সম্পর্ক বিষয়ে আমার মতামত। বলছি, -
আমার আলোচনা মুহাম্মদের সূত্র ধরেই মিশেল ফুকো (Foucault) দিয়ে শুরু করি। ফুকো’র ‘Disciplne and Punish’ ক্ষমতা বিষয়ক চিন্তার জগতে একটা আলোড়ন সৃষ্টিকারী বই। এর আবেদন এতোটাই জোড়ালো – বিশেষ করে সামাজিক বিজ্ঞানে- যে, অসংখ্য জ্ঞান-পিপাসু নানা বিষয়ে এই ধারায় গবেষণা শুরু করেছেন এটি প্রকাশের প্রায় সাথে সাথেই। ফুকো’র মূল কথাটা কি ছিলো?- ফুকো আধূনিক ইউরোপে বিচার-ব্যবস্থার মানবিকীকরণের (যেমন, মৃত্যুদন্ডের তুলনায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড) প্রকৃয়ায় জেলখানার ভিতরে এবং সেখান থেকে সমাজজীবনে ক্ষমতার রূপান্তরের বিশ্লেষণ করেছেন।
ফুকো’র আলোচনার শুরুটা ছিলো নিতান্তই নিরীহ একটা প্রশ্ন দিয়ে যে, জেলখানা যদি অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যেই করা হয়ে থাকে, তাহলে জেলখানার প্রকৃত কাজ হবে ক্রমাগতভাবে অপরাধ কমিয়ে ফেলা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ঘটে ঠিক এর উলটো, অর্থ্যাৎ, জেলখানার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে অপরাধের আইন ও অপরাধীর সংখ্যা, কাজেই আরো বাড়ে জেলখানার সংখ্যা, আরো আইন, আরো জেলখানা।- এভাবে চক্রাকারে চলতে থাকে এই প্রকৃয়া। এখানে থেকে ফুকো নতুন এক প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, অপরাধ দমনে জেলখানার এই অনন্ত ব্যর্থতার পরেও কেনো জেলখানার এই রূপ/কাঠামো না বদলিয়ে আরো বেশি বেশি করে একই রকম জেলখানা তৈরী করা হয়? জেলখানা বা শাস্তির প্রকৃয়া ভালো না খারাপ সেদিকে না গিয়ে ফুকো জানতে চাইলেন জেলখানার এই ক্রমাগত ব্যর্থতার ফলাফলটা কি?
ফুকো তার এই বইটাতে ইউরোপের আধূনিক জেলখানা’র (panopticon) গঠনের সাথে Disciplinary control এর যোগসূত্র দেখেছেন (বিস্তারিত নেট এ পাওয়া যাবে সহজেই)। এই জেলখানার প্রধান গঠনগত বৈশিষ্ট্য হলো- এর কুঠুরিগুলো ধাপে ধাপে নিচ থেকে উপরে অবস্থান করে। আর সবার উপরে থাকে ওয়াচ-টাওয়ার, সেখান থেকে পাহাড়াদাররা কয়েদিদের উপর নজরদারি করে। কোনো কয়েদি সামান্য এদিক-সেদিক করলেই সে ধরা পড়ে, এবং অবধারিতভাবেই তার জন্য বরাদ্দ হয় এক্সট্রা ড্রিল।কাজে কাজেই, সকল কয়েদির মধ্যেই এই ধারণা জন্মে যে, তারা সর্বদা নজরদারিতে থাকে। কয়েদিদের মনে এই যে ধারণা, এর থেকেই উৎসারিত হয় ক্ষমতার নতুন এক রূপ। ওয়াচ-টাওয়ারে পাহাড়াদার থাকুক আর নাই থাকুক, কয়েদিরা নিজ দায়িত্বে নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রন করা শুরু করে। সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে কয়েদিদের এই যে আত্ম-নিয়ন্ত্রন, তা কোনো ব্যক্তি-বিশেষের ক্ষমতার কাছে আত্ম-সমর্পন নয়, তা’ হলো নতুন আরেক ধরনের ক্ষমতার কাছে যা’র নিয়ন্তা সমাজের একটা বিশেষ প্রতিষ্ঠান (জেলখানা)।
শাসন ক্ষমতায় আসীনরা দেখল যে, এ তো ভারী সুবিধাজনক। অল্প খরচে, স্বল্প লোকবলের সাহায্যে মোটামুটি নির্বিঘ্নে অনেক সংখ্যক মানুষকে নিয়ন্ত্রন করা যায় এই ‘ডিসিপ্লিনারী কন্ট্রোল’ সিস্টেমে। এখান থেকেই শুরু অপরাধ দমনের বদলে অপরাধী নিয়ন্ত্রনের কৌশলের।
কিন্তু শুরুতে জেলখানার কাঠামো মূখ্য ভূমিকা রাখলেও এরপর প্রধান হয়ে দাড়ায় অপরাধ আইন, আইনী প্রকৃয়া, আদালত, পুলিশ, ইত্যাদি। এসব কিছু মিলেই গড়ে ওঠে ‘পেনাল সিস্টেম’ যা সমাজের সমস্ত মানুষের মধ্যে নির্দিষ্ট আইনের আওতায় বিশেষ বিশেষ কাজকে অপরাধ বলে গণ্য+মান্য করতে বাধ্য করে। নতুন নতুন আইন ও এর প্রয়োগের প্রতি সাধারণ মানুষের এই যে বশ্যতা, তা আপাতঃদৃষ্টিতে সর্বসম্মতিক্রিমে দেখা গেলেও আদতে তা জোরপূর্বক আদায় করা হয়। তবে এই জোর ব্যাক্তির শারীরিক শক্তি থেকে আসে না, আসে বিশেষজ্ঞের মুখ থেকে উচ্চারিত ‘বৈজ্ঞানিক জ্ঞান’ এর তকমা নিয়ে।
বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকে “বিশেষ” হয়ে ওঠার জন্য কিছু নীতি-পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে নেওয়া হয়; যেমন, জ্ঞান উৎপাদন (generate) ও মূল্যায়নের কিছু সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ, জ্ঞান উৎপাদনের পদ্ধতিসমূহের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যাক্তিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকর্তিক আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতি দান, এবং এই বিশেষ জ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত কিছু নির্দিষ্ট চর্চা (practice) কে সমাজে বৈধ হিসেবে প্রচলন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ডাক্তারের কথা।
কিছু নির্দিষ্ট নিয়ন-কানূনের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তারি বিদ্যা উৎপাদন করা হয় যা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ লাভ করে। মেডিক্যাল কলেজে নানা আনুষ্ঠানিকতার শেষে কিছু ব্যক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে আসে, এবং তারা রোগীর দেহে তাদের ইচ্ছেমতো কাটাছেড়া করতে পারে, এমনকি তা রোগী এবং অন্যদের কাছে আপাতঃদৃষ্টিতে অনর্থক মনে হলেও। তারপরেও আমরা এটা মেনে নেই, কারণ ডাক্তার সেই বিষয়টা’তে সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশি জানে বলে স্বীকৃত। পাশাপাশি এটাও ধরে নেই যে, ডাক্তার যা করছেন, তা রোগীর ভালোর জন্যই (কারণ, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান মানবিক!)। এভাবে ডাক্তার হয়ে ওঠেন রোগীদেহের উপর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এই ক্ষমতা আসছে ডাক্তারের বিশেষ জ্ঞান হতে।একারনে ফুকো এই জ্ঞানকে বলেছেন “পাওয়ার/নলেজ”, যেখানে পাওয়ার ও নলেজ একে অপরকে signify করে।
জ্ঞান চর্চার এই আধূনিক প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পাবার মধ্যে দিয়ে সূত্রপাত হয় জ্ঞানের বিশেষায়নের, যা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের জন্ম দেয়, যেমন আইনবিদ, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, ইত্যাদি। একই সাথে এই প্রকৃয়া আরেকটা কাজ করে, তা হলো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান চর্চার পরিধির বাইরে যাবতীয় জ্ঞান কে অবৈজ্ঞানিক, কাজে কাজেই পরিত্যাজ্য ঘোষনা করে। এখানেই শুরু হয় বিশেষজ্ঞ তথা বুদ্ধিজীবির আত্ম-পরিচয়ের রাজনীতি, যেখানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল নিজ নিজ বয়ান (narrative) নিয়ে হাজির হয়+তা’র স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে তাদের বয়ানের যথার্থতা প্রমাণে ব্রতী হয়। নিজ নিজ দলের জ্ঞানের তাৎপর্য ছাড়াও এর উৎপাদন পদ্ধতি, প্রাতিষ্ঠনিক মর্যাদা, অন্যদের স্বীকৃতি, ইত্যাদি বিষয়ে নানান বিতর্ক শেষে কোন এক দলের বয়ান, তথা জ্ঞান গ্রহনযোগ্য বলে গৃহিত হয় (enters the Discourse), বাকিরা marginalized হয়ে সংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, মিথ ইত্যাদি নাম নিয়ে জ্ঞানের জগত থেকে বিতারিত হয়।
এই যে জ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি, তা কিন্তু শুধুই জ্ঞানের গভীরতার দ্বারা নির্ণীত নয়। এখানে অনিবার্য ভাবেই এসে যায় ক্ষমতা। এই ক্ষমতাও কোনো ব্যাক্তি হতে নয়, আসে কিছু নৈর্ব্যক্তিক উৎস থেকে, যেমন, রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয়, চার্চ, প্রভাবশালীদের সংঘ, ইত্যাদি ত্থেকে। এইসব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির জ্ঞানকে স্বীকৃতি দেয়। বিনিময়ে এই বিশেষ জ্ঞান সেইসব প্রতিষ্ঠনের কর্তৃত্বকে সমুন্নত করে। এভাবে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা হাতে হাত ধরে চলে। ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠান যেমন বিশেষজ্ঞের জ্ঞানকে ব্যবহার করে নিজ কর্তৃত্ব বজায় রাখে, তেমনি সেইসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞও হয়ে ওঠে ক্ষমতাবান। এই ক্ষমতাও প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার মতো নৈর্ব্যক্তিক। এটা আসে একটি কতিপয় বিশেষজ্ঞের একটা নির্দিষ্ট দলের সমন্বিত প্রয়াসে। আর এই ক্ষমতার উৎস হল বিশেষজ্ঞের দিক থেকে a generalized will to pwoer, যা’ মূর্ত হয় সমন্বিতভাবে তাদের সকলের ability and/or possibility of being able to speak the truth-এই দাবিতে।
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, এই পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ তার মতামতকে আর জ্ঞান বলেন না, বলেন সত্য। কিছু নির্ধারিত রীতিনীতি+ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠানের আশ্রয় ও প্রশ্রয়+শাসনযন্ত্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একটা বিশেষ দলের একটা বিশেষ সময় ও প্রেক্ষিতে কোন বিশেষ বিষয়ের “”বিশেষ জ্ঞান”" হয়ে ওঠে “সাধারন জ্ঞান”।
ক্ষমতার পৃষ্ঠপোষকতায় তারা এই সাধারণ জ্ঞানকেই সত্য বলে চালিয়ে দেয়, চাপিয়ে দেয় সকলের উপর। পাঠশালা আর পাঠ্যক্রমের যাতাকলের মাঝ দিয়ে শুধু বের হয়ে আসে কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদধারি কতিপয় বিশেষজ্ঞ, যারা কোন ডিসিপ্লিনের একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ে পিএইচডি করে আসলেও বনে যান সেই ডিসিপ্লিনের সামগ্রিক জ্ঞানের গ্রহনযোগ্য একমাত্র মুখপাত্র। অন্যদিকে সেই ডিসিপ্লিনেরই কোন কোন বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা সত্বেও শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের সনদ না থাকায় বাকিরা হয়ে থাকেন অশিক্ষিত, কাজে কাজেই অপাংক্তেয়। ২০০০ সালের দিকে বাউল করীম শাহের বক্তৃতা শুনেছিলাম ঢাবি’র এক ছোট্ট প্রোগ্রামে। এখনো মাঝে মাঝে মনে হয় জ্ঞানের পথ ও পাথেয় নিয়ে তেমন গভীর আর কোন বক্তৃতা শোনা হয়নি। নানা জায়গায় নানা পাঠ্যক্রম আর আলোচনার মাঝে কবেই হারিয়ে গেছে করীম শাহের সেই সব কথা। কিন্তু অধ্যাপক আমিনুলের গাইডবই-গোত্রীয় পাশ্চাত্যের দর্শন বিষয়ক বইটা এখন জ্ঞানের আধারই বটে। লালন এবং অন্যান্য বাউলরা প্রতিনিয়ত দর্শনের মূল ধরে নাড়া দিয়ে গেলেও তা সনদের অভাবে জ্ঞান হয়ে উঠতে পারে না, লোকায়ত সংস্কৃতির পরিচয়ে আড়ালে থেকে যায়। বিশেষজ্ঞের জ্ঞানের সত্য হয়ে ওঠার প্রয়াস এক পর্যায়ে এতোটাই জোড়ালো হয়ে ওঠে যে, তা সাধারন মানুষের নিজেদের সম্পর্কে জানার থেকেও বেশি জ্ঞান দাবি করে বসে (as if the specialists know people better than the people themselves)। এই পর্যায়েই বিশেষ জ্ঞানের সাম্রাজ্যবাদ স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। যেমন, ডাক্তার দাবি করেন যে তিনি রোগীর অনুভব রোগীর থেকেও বেশি বোঝেন, সাইকিয়াট্রিস্ট মনোঃবৈকল্যের রোগীর সমস্যা তার থেকেও বেশি জানেন, বা সমাজ-সংস্কারক সেমসেক্স বিষয়ে সেম-সেক্স কাপলদের থেকেও বেশি জানেন।
এডওয়ার্ড সাঈদ তার ‘ওরিয়েন্টালিজম’ বইয়ে ফূকোর এই তত্ত্বের প্রয়োগ করে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন কিভাবে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে একটা বিশেষ ধরণের জ্ঞান উৎপাদন করে যা অধিকৃত বিশ্বের উপর পশ্চিমাদের সাম্রাজ্যবাদকে স্বাভাবিক হিসেবে বৈধতা দেয়, ঠিক যেভাবে ডাক্তারী জ্ঞান রোগীর উপর ডাক্তাতারের ক্ষমতার বৈধতা দেয়। ডাক্তারের মতোই ওরিয়েন্টালিজম জাস্টিফাই করে যে প্রাচ্যের ভালোর জন্যই পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদ! সাঈদ সুনির্দিষ্ট করে দেখিয়েছেন কি কি প্রাতিষ্ঠানিক রীতি, কোন কোন প্রতিষ্ঠান, কোন কোন বিশেষজ্ঞ, আর কি কি ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে “ওরিয়েন্টালিজম” জন্ম+বিকাশ লাভ করেছে। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে একটা বিশেষ ধরনের সিস্টেমের মধ্য দিয়ে প্রাচ্য-বিষয়ে এখানকার লোকেদের থেকে পাশ্চাত্যের বিশেষজ্ঞ বেশি জানেন বলে দাবি প্রতিষ্ঠা করেন, কিভাবে আধূনিক শিক্ষা আর মানবতাবাদি খোলসের আড়ালে থেকে প্রাচ্য-বিশেষজ্ঞরা পশ্চিমের সাম্রাজ্যবাদকেই বৈধতা দিয়েই চলেছে।
নোয়াম চমস্কি ক্ষমতার বিষয়ে আলোকপাত করলেও তার ধারণাগুলো এসেছে মূলতঃ ভাষাতত্ত্ব এবং ভাষার সমালোচনামূলক কাঠামোবাদ (structuralism) থেকে। কাজেই, তাকে আপাততঃ আলোচনার বাইরে রাখি।
আমার ধারণা, মুহাম্মদ জনপ্রিয় জ্ঞান বলতে যা বোঝাতে চেয়েছ, তা আসলে সর্বজন-গ্রাহ্য জ্ঞান। এটাকে তত্ত্বীয় পরিমন্ডলে বলা হয় একটা কনসেপ্ট দিয়ে, “হেজেমনি”। গ্রামসি মার্ক্সের শ্রেণী-সংঘাতের তত্ত্ব থেকে এই কনসেপ্ট নির্মাণ করেছেন। এর দ্বারা গ্রামসি এমন জ্ঞানকে বুঝিয়েছেন, যা মানুষ বিনা-প্রশ্নে সত্য/সঠিক/স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়। ফুকো যেখানে এই জ্ঞানকে ব্যাক্তি+প্রতিষ্ঠানের একটা সামগ্রিক প্রেক্ষিতে দেখেছেন, গ্রামসি সেখানে এটি শ্রেনী-মতাদর্শের আলোকে বিচার করেছেন। বিশেষ কোন মতাদর্শকে এই পর্যায়ে আসতে হলে তা’কে আনিবার্য ভাবেই শ্রেণী-বিভাজিত সমাজের বিদ্যমান জ্ঞান-কাঠামো’র (Discourse) মধ্যে প্রচলিত অন্যান্য মতাদর্শের সাথে সংগ্রাম করে তবেই আসতে হয়। যেমন, ইউরোপে জাতীয়তাবাদকে প্রায় তিনশ বছরের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ধর্মের আশ্রয়ে থাকা সামন্তবাদকে পরাজিত করে আসতে হয়েছে। আবার জাতীয়তাবাদের নানা ধারাও একে অপরকে পরাজিত করেই এগিয়ে চলে। যেমন, পাকিস্তানী জাতীয়তাবাদ থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। আর, যখন যে মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়, সমাজের সকলে সেটাকে সাধারণ জ্ঞান হিসেবে বরণ করে নেয়। কিন্তু অন্য মতাদর্শের সাথে সংগ্রামে জয়ী হতে না পারলে তা আর সাধারন জ্ঞানের স্তরে আসতে পারেনা। যেমন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের জাতীয়তাবাদকে আমরা পাত্তা দেই না, কারণ তা’ এখনো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মোকাবেলায় নিজের স্বকীয়তা প্রমান করতে পারেনি।
- এই ছিলো মোটামুটি ফুকো, গ্রামসি ও সাঈদের বরাত দিয়ে জ্ঞান, জনপ্রিয় জ্ঞান ও ক্ষমতা বিষয়ে মুহাম্মদের প্রশ্নে আমার উত্তর। কোন কিছু বাদ গেলে, বা আরো জিজ্ঞাসা থাকলে বলো, জানাবো।
মুহাম্মদ, তোমাকে আমি আগেই বলেছি যে, তোমার জ্ঞান-জিজ্ঞাসার এই প্রবল ইচ্ছা+প্রয়াসে আমি মুগ্ধ। তার মানে কিন্তু এই নয় যে, তোমার সব কথাতেই সায় দিয়ে যাবো। কারন, ও’তে শুধু অপকারই করা হবে। তাই, তোমার শুভাকাংখী হিসেবেই কিছু কিছু বিষয় আমি সমালোচকের দৃষ্টিতে দেখাবো, যা অন্যরাও কেউ কেউ বড়ভাই+ছোটভাইয়ের পরামর্শ হিসেবে নিতে পারেন।-
প্রথম বিষয় হলো, তোমার আলোচনার গ্রহনযোগ্য রীতি-নীতি’র বিষয়ে বেশ সতর্ক হতে হবে। পাঠকের সমালোচনামূলক মন্তব্যে তোমার উত্তরগুলো প্রায়শঃই অতি উগ্র। আশা করি শুধরে নিবে।
দ্বিতীয়, তুমি কিছু কিছু মানুষের যাবতীয় যুক্তি-ধারনাকে যথার্থ ধরে নিচ্ছো, যা আসলে মুক্তবুদ্ধি লোপ করে। যেমন, লালন সম্পর্কে তুমি ডঃ আহমদ শরীফের একটা উক্তি পোষ্ট করেছো যেখানে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন যে, “লালন শিক্ষিত হলে ববীন্দ্রনাথের মত কবি হতো”। একটু মনোযোগ দিয়ে আবার পড়লেই কিন্তু তোমার মত চিন্তাশীল ছেলের বোঝার কথা এই ব্যাক্যের অসারত্ব। যেমন, এই ব্যাক্য সঠিক হতে হলে কমপক্ষে তিনটা শর্তগুলো পূরণ করতে হয়ঃ এক, লালন কবি হতে চেষ্টা করে ব্যর্থ; দুই, লালন ব্যর্থ হয়েছেন শিক্ষিত নন বলে; তিন, শিক্ষিত যারা কবি হতে চেষ্টা করেছে, তারা রবীন্দ্রনাথের মতো কবি হতে পেরেছেন।- এমন দু’একটা উক্তিই আবার ডঃ আহমদ শরীফের প্রকৃত মেধার পরিচায়ক নয়। নিঃসন্দেহে তার কিছু কিছু খুবই জোড়ালো যৌক্তিক ধারনা আছে। কিন্তু তার সব কিছুই যৌক্তিক, কাজে কাজেই বিনা বিচারে গ্রহনযোহ্য- এটা ঠিক নয়। যেকোন তাত্ত্বিকের বেলাতেই আমার এই অভিমত।
তৃতীয়ত, তোমার আলোচনার ধারা থেকে বোঝা যায় যে, তুমি পাঠ্যবহির্ভূত অথচ নিজে আগ্রহী এমন বিষয়ে অনেক সময় দাও। খুবই ভালো; এজন্যই মূলতঃ তোমাকে আমার ভালো লেগেছে। কিন্তু জ্ঞানের তো শেষ কথা বলে কিছু নেই। আর সে কারনেই নিউটনের মত বিজ্ঞানীও বলেছিলেন যে, “আমি ত জ্ঞানের সাগরতীর হতে মাত্র কয়েকটা বালুকণা সংগ্রহ করেছি”। এটা আসলে উপলব্ধির বিষয়, কোন শিক্ষক/গুরু এটা শিখিয়ে দিতে পারবে না। এই উপলব্ধি আসবে ক্রমাগত পঠন-পাঠনের মধ্য দিয়ে। এই অনিশ্চিত উপলব্ধির একটা সম্ভাব্য কারন হতে পারে আমরা ভাবের লেনদেনে যে ভাষা ব্যবহার করি তা’র নড়বড়ে ভিত্তি। আমরা ধরে নেই যে, ভাষা আমাদের ভাব/জ্ঞানকে যথাযথ ভাবে ধারন+বিতরন করে। কিন্তু আসলে এটা একটা ভূল ধারণা। ভাষা স্বচ্ছ নয়, এখানে signifier ও signified- এর মধ্যে কাঠামোগত একটা ফাঁক বিদ্যমান। যেকারনে একই বাক্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। তাছাড়া বাক্য নানা সময়ে, নানা পরিবেশে আলাপের অন্তর্গত ব্যক্তিবর্গের মাঝে বিদ্যমান সামাজিক সম্পর্ক অনুযায়ি নানান অর্থ ধারন করে। এমনকি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাক্য নিজেকে প্রকাশই করতে পারেনা। বন্ধুদের মাঝে আমাদের নিজ নিজ কথাবার্তার সাথে বড়দের বা ছোটদের সাথে আমাদের কথাবার্তার পার্থক্য খেয়াল করলেই এটা বোঝা যাবে। তাহলে, এহেন যে নড়বড়ে যে ভাষার গাঁথুনি, তার মাধ্যমে পাওয়া জ্ঞানের কথার আসল অর্থ কতোটা অবিকৃত ভাবে আমরা পাবার আশা করতে পারি? তা’ই নিয়ে কতোটা আত্মবিশ্বাসের সাথে বিতর্কে নামতে পারি?
সর্বশেষ, তুমি জোর দিয়ে বলেছো যে তোমার জীবনের লক্ষ্য হল বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করা, সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। আমার মনে হয় তুমি আসলে অনুধাবন করতে পারছো না তুমি কি চাও। জনপ্রিয়তা পাবার জন্য জ্ঞানকে বৈজ্ঞানিক হবার দরকার নেই, দরকার ক্ষমতার সাথে গাঁটছাড়া বাঁধার। একই ভাবে, যেকোন জ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে হলেও ক্ষমতার আশ্রয় দরকার। প্রকৃত জ্ঞান আর জনপ্রিয় জ্ঞান তো এক নয়। ক্ষমতার অনুকম্পা ছাড়া ইতিহাসে কোন মতবাদ+জ্ঞানের জনপ্রিয় হবার নজীর নেই। বরং বিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞান বরাবরই প্রচার বিমুখ (কিন্তু মতাদর্শ সর্বদা প্রচারমুখী)। জ্ঞানের জনপ্রিয়তার তাত্ত্বিক অর্থ ত গ্রামসির বরাত দিয়ে আগেই বলেছি। আর সাধারণ অর্থে জনপ্রিয় জ্ঞানের উদাহরণ দেশ থেকেই দেই।-
মাইক্রোক্রেডিট ত দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়, বিশেষ করে মিডিয়ায়। দেশের বাইরেও অনেক জায়গায়। প্রকৃতপক্ষে এটা তো জ্ঞান নয়, প্রপাগান্ডা। কিন্তু এর পিছনে আছে ওই ‘পাওয়ার/নলেজ’, যা ডঃ ইউনূস+কতিপয় সহযোগির ক্রমাগত মিথ্যাচার+রাস্ট্রীয় ও কর্পরেট পৃষ্ঠপোষকতা+ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক ও সমজাতীয় উন্নয়ণমূলক প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রয়াস, যার মাধ্যমে এটা এখন দেশে-বিদেশে সাময়িকভাবে সাধারন জ্ঞানের অংশে পরিনত হয়েছে। কিন্তু চেপে ধরে দেখ, এর ভিতরটা পুরা ফাঁকা। এর বিপরিতে পর্যাপ্ত তথ্যের গ্রহনযোগ্য বিশ্লেষণে আসবে মাইক্রোক্রেডিট বিষয়ক প্রকৃত জ্ঞান, যা এই মুহূর্তে দেশে প্রায় অসম্ভব।
কোনটা চাও, অসার জনপ্রিয় জ্ঞান, না প্রকৃত জ্ঞান যা বেশিরভাগ সময়ই ক্ষমতা তথা জনপ্রিয়তার বাইরে? বিজ্ঞনের প্রচারক হতে, না আগ্রহী ছাত্র হতে? – এই প্রশ্নগুলোর মিমাংশা করে এগুলে পথ আনেকটা সহজ হবে।
গতকাল থেকেই ভাবছি কিভাবে তোমার জন্য সিসিবিতে এই লিখাটা লিখবো। কিভাবে লিখলে তুমি, এবং অন্যরাও, সহজে বক্তব্যটা বুঝতে পারবে। নিজেকে তোমার, এবং সেই সাথে আরো অনেকের বড় ভাই+ছোটভাই মনে করেই এতোগুলো সময় ব্যয় করে লিখলাম এটা। কিছুটা ভালো লাগলেও খুশি হবো। আর কোনো ভাবে মনে দুঃখ দিয়ে থাকলে জেনো সেটা আমার সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। এমনটি চোখে পড়লে জানিও, ক্ষমা চেয়ে শুধরে নিবো।


(১৩ভোট, ৪.৬৯/ ৫)
১৩৮ টি মন্তব্য
মাহমুদ ভাই, বরাবরের মতোই সেইরকম। সাবলীল আলোচনা, একটানে পড়ে ফেলা যায়।
মাহমুদ ভাই, একটা আবদার আছে, ডঃ ইউনুসের ব্যাপারে আপনার বক্তব্যটা বিস্তারিত জানতে চাই। আপনারা লাইনের লোক, আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। লোকটা সম্পর্কে ইতি-নেতি দুইধরনের কথাই শুনেছি। কিন্তু এই লোক কি দেশের ভালো করছে নাকি করছে না- এটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বেশি।
[ জবাব দিন ]
কাম সারছে। তৌফিক দেখি ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারক হয়া গেলা। মোটা ডাগে ভালো খারাপ কওন যায় নাকি?
[ জবাব দিন ]
মজার ব্যাপার হলো, বিদেশীরা আমারে কয় মাইক্রো-ক্রেডিট অবশ্যই তোমাদের ভালো করেছে। আমি জানতে চাই, ক্যামনে, বোঝাও আমারে। তখন বোঝাতে না পেরে যা কয়, তার সারমর্ম দাঁড়ায় এই যে আমার বোঝার ক্ষমতা নাই।
আমার চাইতে আমার, আমার দেশের সম্পর্কে ওগো গিয়ান অথৈ!
- ওরিয়েন্টালিজমরে এইভাবে আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় পেয়ে বড়ই মজাক পাইছি।
[ জবাব দিন ]
প্রথমে ‘পাখির চোখে’ পড়া শুরু করেছিলাম…কিন্তু একটু পর গিয়েই মনঃসংযোগ করতে বাধ্য হলাম…
‘সহজ কথা কঠিন করে বলা’র- উলটা স্রোতে চলমান হে সাত সাগরের মাঝি…তোমায় স্যালুট
(পাঁচ বছরের সিনিয়ররে চামে তুমি করে…
)
[ জবাব দিন ]
প্রথমতঃ ধন্যবাদ অসাধারন একটা লেখা দেয়ার জন্য।
আমাদের সিসিবি ব্লগটা বিষয় বৈচিত্র্যে এতটাই সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে যে বেশী দিন নয়, মাত্র ৩/৪ মাস আগের সিসিবির সাথে তুলনা করলেই অবাক হয়ে যেতে হয়।
মুহম্মদের লেখাটা কয়েকটা ব্লগ ও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় শুধু এখানেই নয় অনেক প্ল্যাটফর্মেই এর পক্ষে বিপক্ষে কথা পড়ছি। তেমনি এক জায়গায় এক বন্ধু লিখেছে ‘আমাদের বেশীরভাগের মধ্যেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে confirmation bias (আস্তিক, মুক্তমনা, উদারমনা কেউই ব্যাতিক্রম না)কাজ করে আর বেশীরভাগ সমস্যা এইখান থেকেই শুরু হয়। আমিও তাই মনে করি।
সে গাজ্জালীকে নিয়ে একটা সিনারিও লিখেছে। গাজ্জালী নাকি দারুন বক্তা ছিলেন, কিন্তু এক সময় নাকি উনি বিতর্ক করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। তার ধারনা ছিল ‘বিতর্ক করা হয় বিতর্কে জয়ী হবার জন্য, সত্য প্রকাশের জন্য না’। আবার তুমি বললে
সত্যি বলতে গেলে বেশ ভাবাচ্ছে কথাগুলো আমাকে।
যাই হোক বিতর্ক এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে যথেষ্ট করতাম। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই তা ছিলো অনেকটাই জাকির নায়েক কিসিমের। যেহেতু জানতাম দর্শক এবং এমনকি বিচারকদেরও জ্ঞানের পরিধি আমার মতোই ফাঁকা, তাই সু্যোগ নেয়া সোজা ছিল। কিন্তু আমি লিখিত ফোরামে বিতর্কে তেমন একটা মনোযোগ ধরে রাখতে পারি না। না, রেফারেন্সের ভয়ে চাপা ধরা খেয়ে যাবার ভয়ে না। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখি ‘বিষয়বস্তু’ উল্লেখ না করেই উদ্ধৃতি ব্যাবহার করা হয়, তাই তখন মূল বিষয়বস্তু ফেলে অন্য বিষয়ে তর্ক শুরু হয়। গঙ্গার পানি নিয়ে আলোচনা করার কথা না থাকলেও সুরমার পানি নিয়েই কথা শুরু হয়। আর এখন তোমার লেখায় পড়লাম
সত্যি বলতে শতভাগ একমত তোমার এই বাক্যগুলোর সাথে।
যাই হোক প্রিয়তে যোগ করেছি তোমার এই লেখা টা।
খুব ভালো লেগেছে। তেমন কঠিন লাগে নাই। হ্যাঁ দুইবার পড়তে হয়েছে কিছু প্যারা।
[ জবাব দিন ]
পুরাই সহমত বস। এইজন্য আমিও বিতর্কে আগ্রহী নই। আর তাই, চেষ্টা করি শুধু নিজের অবস্থানকে ব্যাখ্যার মাধ্যমে পরিস্কার করতে, নিজের ভুল থাকলে শুধরে নিতে, নিজের মতকে সঠিক ধরে অন্যদের সমালোচনার জবাব দিতে নয়। আমার কোন লেখায় এমনটি পেলে ধরিয়ে দিবেন এই আশা রাখি।
[ জবাব দিন ]
বস কি খাইতে পছন্দ করেন? আপনার জন্য কিনে ক্যলিফোর্নিয়া পাঠায়া দেই?
[ জবাব দিন ]
অনেক সুন্দর আলোচনা। ভাল লাগল।
[ জবাব দিন ]
ক্ষমতা-জ্ঞান সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। মাহমুদ ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার জানার ইচ্ছা একটু আছে। কাছে পেলে যেকোন কিছুই জানতে চাই। তাই জ্ঞান-ক্ষমতা নিয়েও জানতে চেয়েছিলাম। আমি আসলে আমার জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বিষয়টি এতো হালকা হিসেবে ভাবতে চাইনি। সমাজবিজ্ঞানীরা যা করে আপনিও তাই করলেন, জনপ্রিয় বিজ্ঞানের সব লেখকের সব কাজকে সূত্রে ফেলে একটি টিপিক্যাল ষড়যন্ত্র বানিয়ে দিলেন। আমার প্রথমটায় তাই মনে হচ্ছিল, আমি বিজ্ঞান নিয়ে লেখার মাধ্যমে মানবতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছি। কিন্তু আরেকবার পড়ে দেখলাম না এখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
আমি কিন্তু “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” বলতে হেজেমনি টাইপ কিছু বুঝাইনি। আমি এর দ্বারা বুঝিয়েছি বিজ্ঞানের কঠিন সূত্রগুলোকে সবার বোঝার উপযোগী করে লেখা। যেমন:
- স্টিফেন হকিং এর আ ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম
- জ্যারেড ডায়মন্ডের গান্স জার্মস অ্যান্ড স্টিল
- রিচার্ড ডকিন্সের সেলফিশ জিন
- আবদুল্লাহ আল-মুতী, মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, দ্বিজেন শর্মার বই
- আজকালকার লেখকদের মধ্যে আসিফ, অভিজিৎ রায়, বন্যা আহমেদের বই
আমি এখানে কোন নিয়ন্ত্রণ বুঝাইনি। আমি এত জটিলভাবে আসলেই চিন্তা করিনি। সচলায়তনে আমার ব্লগগুলো দেখলে বুঝবেন, আমি অধিকাংশ সময় কি নিয়ে লিখি: জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতির্জীববিজ্ঞান, রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের নতুন নতুন গবেষণার খবর, বিবর্তন ইত্যাদি
সব লেখায় আমার উদ্দেশ্য থাকে এমনভাবে লেখা যাতে যে কেউ পড়লে বুঝতে পারে। কোন সমীকরণ বা জটিল পরীক্ষণে যাই না। এটা কিন্তু আমি এ উদ্দেশ্য লিখি না যে, মানুষ এটা পড়ে বিজ্ঞানবিরোধীদেরকে পৃথিবী থেকে হটিয়ে দেবে। আমার লেখার মাধ্যমে পৃথিবীতে বিজ্ঞান বিপুল জনপ্রিয় হয়ে যাবে এবং বিজ্ঞান ছাড়া আর কিছুকেই মানুষ গ্রহণ করবে না- এ ধরণের কোন দূরভিসন্ধি আমার নেই। হেজেমনি তো বোধহয় (নিশ্চিত নই) একের উপর অন্যের প্রাধান্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আমার প্রাধান্য বিস্তারের কোন পরিকল্পনা নেই।
আমার লেখাকে আপনি ঔপন্যাসিকের সাথে তুলনা করতে পারেন। ঔপন্যাসিকরা উপন্যাস কেন লেখে? প্রধানত নিজের সাহিত্যপ্রেমকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য অর্থাৎ নিজের জন্য। এরপর উদ্দেশ্য থাকে নিজ ভাষার তাবৎ উপন্যাসপ্রেমীকে কিছু উপহার দেয়া। প্রকৃত ঔপন্যাসিকের লক্ষ্য বোধহয় এগুলোই থাকে।
আমার লক্ষ্যও কিন্তু সেরকম। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা বিজ্ঞান সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে চায়, কিন্তু বিজ্ঞানের কঠিন কঠিন কথা পড়ার সামর্থ নেই। আমার লেখাগুলোকে বলতে পারেন তাদের জন্য উপহার। এর পাশাপাশি আমার নিজের জন্যও আমি লিখি। কারণ, লেখার পর বিষয়টা নিজের কাছেও পরিষ্কার হয়ে যায় এবং আমি কি কি নিয়ে ভেবেছি তার একটা আর্কাইভও তৈরী হয়ে যায়। আমি এসব লিখে স্বর্গীয় সুখ অনুভব করি সেটা বলছি না, কারণ আমি সে পর্যায়ে পৌঁছুতে পারিনি এবং ভবিষ্যতেও পারব না।
আমার অ্যাকাডেমিক অবস্থা একেবারেই ভাল না। আমি জানি আমি বিজ্ঞানী হতে পারব না। নতুন কিছু সৃষ্টি বা নতুন কোন তত্ত্ব আবিষ্কারের যোগ্যতা আমার নেই। তাই “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” নিয়ে আমি বেশী সময় ব্যয় করি। এটা এক ধরণের সান্ত্বনাও বলতে পারেন। আবারও বলি জনপ্রিয় বিজ্ঞানের ধারণাটা আসলেও আপনার ব্যাখ্যার মত কি-না আমি জানি না। কিন্তু আমি কখনও সেভাবে ভাবিনি। আমি সব সময় জেনে এসেছি, বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে সহজ করে তুলে ধরার নামই জনপ্রিয় বিজ্ঞান। জনপ্রিয় জ্ঞান কাকে বলে- এটা জেনে তাই আমার হতাশা কেবল বেড়েছেই।
আমি কি অসার জনপ্রিয় জ্ঞান উস্কে দিচ্ছি? আমি যা নিয়ে লিখি তা কি সব অসার? আমি বিজ্ঞানের আগ্রহী ছাত্র অবশ্যই, কিন্তু আগেই বলেছি আমার মাথায় এতকিছু নেই যে বিজ্ঞানী হতে পারব। বিজ্ঞানের আগ্রহী ছাত্র বলেই তো আমি প্রচার করতে পারছি। আসলে আমি কিন্তু বিজ্ঞানে আগ্রহীদের জন্যই প্রচারগুলো করছি। তাই এটাকে প্রচার না বলে বিজ্ঞান-সাহিত্যের চর্চা বললে খুব ভাল লাগত। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত বিজ্ঞানীই তো বিজ্ঞান-সাহিত্যের চর্চা করেছেন, বিজ্ঞানী না হয়েও অনেকে এই কাজ করেছে। আবদুল্লাহ আল-মুতীকে বিজ্ঞানী বলা যায় কি-না জানি না, কিন্তু তিনি তো বিজ্ঞান-সাহিত্যের অনেক চর্চা করেছেন। আমার মত ভোঁতা মস্তিষ্কের অধিকারীদের কি পৃথিবীকে কিছুই দেয়ার অধিকার নেই?
“জনপ্রিয় বিজ্ঞান” এর সব বইই কি “অসার জনপ্রিয় জ্ঞান”। আসলে আমি কিছু গুছিয়ে লিখতে পারছি না। বিজ্ঞানের প্রচারক হতে, না আগ্রহী ছাত্র হতে?- আপনি বলেছেন এর মিমাংসা করতে। কিন্তু আমি কিছুতেই মিমাংসা করতে পারছি না। আগ্রহী ছাত্র এবং প্রচারক দুটো কি একসাথে হওয়া যায় না? জ্ঞানমাত্রই প্রচারবিমুখ এটা কি সর্বজনীন সত্য? আপনি আমাকে বলছেন, নিবিঢ়ভাবে বিজ্ঞান চর্চা চালিয়ে যেতে, কিছু না লিখতে, কোনদিন বড় বিজ্ঞানী হতে পারলে তারপর কলম ধরতে, আর কোনদিন বড় বিজ্ঞানী না হতে পারলে কাউকে কিছু উপহার না দিয়েই মৃত্যুবরণ করতে? এই প্রশ্নগুলো অফেনসিভ শোনাতে পারে- আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি মিমাংসা করতে পারছি না বলেই এমনটি বলছি। আমার সব লেখাই অসার জনপ্রিয় জ্ঞান ছিল- এটা মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। দুঃখের কথা শোনানোর জন্য দুঃখিত।
আমি আসলেই আপনার মত করে চিন্তা করিনি। এই প্রশ্নগুলো আমার মাথায় আসেনি। আমি একে লোকসাহিত্য সম্পর্কে একটি সাধারণ উক্তি হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম। আপনার লেখা পড়ে বুঝেছি, লোকসাহিত্যকে ছোট মনে করারও কোন কারণ নেই। এই ছোট মনে করাটাও ক্ষমতা-জ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। ধন্যবাদ।
[ জবাব দিন ]
মুহাম্মদ,
আমি আবারো তোমাকে মনে করিয়ে দেই যে আমি কখনোই শুধু সমালোচনা করার জন্য আরো লেখা পড়িনা, সিসিবি’তে তো নয়ই।
ষড়যন্ত্র আমি বানালাম না হে, ওখানে আসলেই একটা ফাঁদ আছে। তোমার ব্যাক্তিগত ইচ্ছা বা অনিচ্ছার উপর জনপ্রিয় জ্ঞান নির্ভর করবে না, তা সে তুমি যতো পরিশ্রমই করো, যতো চেষ্টাই করো না কেন। একটু সময় নিয়ে চিন্তা করে দেখো কোন বিষয় জনপ্রিয় হবার অর্থ কি, কি কি প্রকৃয়ায় তা জনপ্রিয় হয়, জনপ্রিয় হলে সমাজে তার প্রভাব কতটুকু পড়ে- এই বিষয়গুলো। এসব প্রশ্ন উত্থাপন করছি এই জন্য যে, জনপ্রিয় হতে হলে যেকোন কিছুকেই আরো অনেক ব্যাক্তির কাছে প্রিয় হতে হবে। তারমানে, তাদেরকে এই বিষয়ের প্রতি আগ্রহী+অনুরাগী করতে হবে। সেটা কিভাবে হবে? সব মানুষ তো শুধুই যুক্তি দিয়ে চলে না, আবেগের অনুগামীও হয়। যুক্তিবাদি বিজ্ঞান কিভাবে সেই ব্যক্তিক ও সামস্টিক আবেগকে মূল্যায়ন করবে?
তোমাকে তোমার উদ্ধৃত লেখকদের দিয়েই একটা কথা বলি। স্টিফেন হকিং, জ্যারেড ডায়মন্ড, রিচার্ড ডকিন্স, আবদুল্লাহ আল-মুতী, মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, দ্বিজেন শর্মা, আসিফ, অভিজিৎ রায়, বন্যা আহমেদ- এদেরকে জনপ্রিয় বলছো? কয়জন এদের নামটা জানে (এদের বইয়ের কথা বাদই দিলাম) খবর নিও ব্লগের বাইরে। হকিং এর নাম অনেকেই জানে নীলক্ষেতে তার বইয়ের সহজলভ্যতার জন্য। আমি অনেককেই জানি, হকিংএর বইয়ের অনুবাদ কপি কিনে ফেলে রেখেছে, কখনো পড়ার সময় হয়ে ওঠেনি। আর আবদুল্লাহ আল-মুতী জনপ্রিয় ছিলেন যখন তার বই শিশু একাডেমী বিনামূল্যে স্কুলে বিতরন করত সেই সময়। ১৯৯০-এর আগে আমাদের স্কুলে আমিও পড়েছিলাম। এখন কিন্তু তেমন একটা শুনি না।- এই কথাগুলো বললাম এই কারনে নয় যে আমি এদের পছন্দ করি না, শুধু এই কারনে যে, তারা আসলে কতটা জনপ্রিয় আর কেনই বা জনপ্রিয় হয়েছিলেন সেটা বোঝাবার জন্য।
“সমাজবিজ্ঞানীরা যা করে আপনিও তাই করলেন”- এটা ঠিক হলো না ভাইডি। এই উক্তি সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞানের ঘাটতি নির্দেশক। আর আমার সাথে আগে তোমার জানাশোনা থাকলে এভাবে বলতে না বোধ হয়। শুধু এটাই বলি, অন্যদের পাঠ্যবহির্ভূত পড়ার অভ্যাস থাকার সম্ভাবনাটা খিয়াল কইরা..।।
আমি আবারো বলি, তোমার যুক্তির ভুল ধরতে যাওযা আমার উদ্দেশ্য নয় মোটেও। আমি শুধু চাইছি যে, তুমি তোমার বক্তব্যগুলো যুক্তির কোন ফাঁক রেখে উপস্থাপন করো। কিন্তু তোমার এই প্রতিউত্তরে আমার মনে হলো তুমি আমার কথাগুলো অন্যভাবে নিয়েছো। হালকা কস্টিত হইছি……
মাথা ঠান্ডা কর। এখানে উপস্থাপিত তোমার বক্তব্যে কমপক্ষে দুইটা বড বিরোধ আছে। বাইর করতে না পারলে তোমার সাথে আড়ি, আর কোন কথা নাই (আমি সিরিয়াস)
[ জবাব দিন ]
আমি বড় বিরোধ দুটি বের করতে পারছি না। আড়ি না দিয়ে বলে দেন।
আমি আপনার ঐ “অসার জনপ্রিয় জ্ঞান” এই আটকে আছি। আমি তো বলেছি আপনার পুরো লেখাটাই আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি আমার কথাগুলো নেগেটিভলি বলিনি।
আমি জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখকদের নাম বলেছি। আমি তো জনপ্রিয় বিজ্ঞান বলতে এটাকেই বুঝেছিলাম। এরা অত জনপ্রিয় না এটা অবশ্যই ঠিক, হুমায়ুন আহমেদদের ধারেকাছেও তো না। কিন্তু আমি এদের লেখাগুলোকেই আমার আদর্শ বলছি। আমি তো বলেছি “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” বলতে “জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে বা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে রচিত বিজ্ঞান রচনা” বুঝাইনি, আমি বুঝিয়েছি “বিজ্ঞানে উচ্চ ডিগ্রি নেই এমন লোকদের বোঝার উপযোগী করে লিখিত বিজ্ঞান রচনা”- উদ্দেশ্যের পার্থক্য আছে এখানে। এজন্যই তো আমি অভিজিৎ রায়ের নাম বলেছি- তিনি মোটেই জনপ্রিয় নন, কিন্তু সাধারণ মানুষের বোঝার উপযোগী করে লিখেন। এজন্যই এটাকে জনপ্রিয় বিজ্ঞান বলেছি। এখানে “জনপ্রিয়” শব্দটি আক্ষরিক অর্থে জনপ্রিয় না।
আপনার পুরো লেখার সাথেই আমি একমত, কেবল “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” এর সংজ্ঞা ছাড়া। আমি শুধু জানতে চাচ্ছি, “আমি জনপ্রিয় বিজ্ঞান বলতে যা বুঝাচ্ছি এ সম্পর্কে জ্ঞান-ক্ষমতার সূত্র কি বলে?” এটা করলে কোন অসুবিধা আছে কি-না? শুধু এটুকু জানান।
আর আমি সত্যি বলছি, আপনার সমালোচনা করার উদ্দেশ্যে কিছু বলিনি, সমাজবিজ্ঞান বা সমাজ দর্শনে আমি আপনার তুলনায় কিছুই জানি না। আপনার সমালোচনা আমি কিভাবে করব? আমি কেবল আমার কাজটা জ্ঞান-ক্ষমতার সূত্রে কিভাবে দেখা হয় সেটা জানতে চাচ্ছি।
আপনি মূল লেখায় যে উদাহরণগুলো দিয়েছেন সেগুলো আমি করি না। আমি ডাক্তার নই, অর্থনীতিবিদ নই। আপনি মেডিক্যালের একটা উদাহরণ দিয়েছেন। এখন আমি যদি কেবল “Scientific method” এর কথা বলি, তাহলে সেটাকে কোন সূত্রে ফেলব। আমি তো আপনার লেখার সাথে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, বিজ্ঞানের দর্শন, জনপ্রিয় বিজ্ঞান কোনকিছুকেই মেলাতে পারছি না। এজন্যই মন্তব্যে অপারগতাটা লিখেছি। আপনার লেখা পড়ে অবশ্যই ডাক্তারি, অর্থনীতি ইত্যাদিতে জ্ঞান-ক্ষমতার বিষয়টা বোঝা যায়।
কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান- এগুলোর সাথে মেলাতে পারছি না। এজন্যই জানতে চাচ্ছি। নেগেটিভলি বলছি না, সমালোচনাও করছি না।
[ জবাব দিন ]
আমি দেই নাই, টুকলিফাই করছি। এগুলো ফুকো মামু নিজেই দিয়েছেন
[ জবাব দিন ]
আমি তো বলি নাই উদাহরণগুলা আপনের মৌলিক

আমি বলছি এই উদাহরণ আমার কোন কাজে আসছে না। ক্ষমতা-জ্ঞান বুঝতে পারছি কিন্তু সেটাকে “popular science” এর সাথে মেলাতে পারছি না। ফুকো কি উনবিংশ বা বিংশ শতকের জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখকদের সম্পর্কে কিছুই বলেননি। বলে থাকলে জানান। আমি অপেক্ষা করছি।
[ জবাব দিন ]
ফুকোর পাওয়ার/নলেজ এর বিষয়ে খোঁজ খবর নাও। কিছু ধারনা মিলবে।
[ জবাব দিন ]
আপনি উদাহরণ দেবেন না?
আমি কাল থেকে ফুকোর পাওয়ার-নলেজ নিয়ে আরও পড়ব। দেখি কিছু পাই কি-না। পেলে আপনাকে জানাবো। তখন আরও আলোচনা হবে আশাকরি।
[ জবাব দিন ]
জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখকদের সম্পর্কে আপনি যেভাবে বলেছেন তাতেও আহত হয়েছি।
তারা কতটা জনপ্রিয় সেটা বুঝেছি। জনপ্রিয়তা মানেই কি কোটি কোটি মানুষের মন জয় করা?
আমি তো বলেছিই “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” বলতে আমি যে কারও বোঝার উপযুক্ত করে লেখা ফিকশন-নন ফিকশনকে বুঝাই। কে কতটা জনপ্রিয় সেটা দেখার প্রশ্নই উঠে না। আমি কেবল এটা জানতে চাচ্ছি? কারণ এটা ছাড়া আপনার লেখার বাকি সবকিছুই তো আমি মোটামুটি বুঝেছি।
স্টিফেন হকিং এর ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম পড়ে পৃথিবীর কত মানুষ “Cosmologist” হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাও কিন্তু বিবেচনার বিষয়। আর জনপ্রিয়তা তো দেশভেদে বিভিন্ন হতে পারে। জ্যারেড ডায়মন্ডের বই এদেশে কেউ পড়ে না, কিন্তু আম্রিকায় এটা বেস্ট সেলার। এত কষা একটা বই কিভাবে বেস্ট সেলার হল? এর পেছনে কি কোন কর্তৃপক্ষের হেজেমনি কাজ করেছে? শরৎচন্দ্রের “দেবদাস” জনপ্রিয় হলে দোষ নেই, আর ইয়স্তেন গার্ডারের “সোফির জগৎ” জনপ্রিয় হলে কি দোষ আছে? কারণ সোফির জগতের মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞানকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা তো দর্শনের ইতিহাস নিয়ে লেখা উপন্যাস।
সোফির জগৎ কিন্তু আসলেই জনপ্রিয় হয়েছে। মূল নরওয়েজীয় শুধু না, ইংরেজি এবং ফরাসিটাও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
[ জবাব দিন ]
আর মাহমুদ ভাই, আমি যতই স্পষ্ট হওয়ার চেষ্টা করছি আপনি ততই রহস্য করছেন। ইঙ্গিতে কথা বলছেন। আপনি আমাকে নিজ থেকে বের করে নিতে বললে আমি হয়ত একটা বের করতে পারব। কিন্তু সেটা আপনারটার সাথে মিলবে কি-না তার তো কোন গ্যারান্টি নেই। আপনি প্লিজ স্পষ্ট করে আমার “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” এর সংজ্ঞা এবং এর উপর জ্ঞান-ক্ষমতার সূত্রের কার্যকারিতা নিয়ে কিছু বলুন, সরাসরি, কোন রাখঢাক করে নয়।
[ জবাব দিন ]
এই আলোচনায় আমি নাই, করিও না। কেন?-সেটা ভিন্ন প্রসংগ।
[ জবাব দিন ]
যান এই আলোচনায় যাওয়ার দরকার নাই। গিয়ে লাভও নাই। সোফির জগৎ তো দর্শন। সেটা দিয়েও আমার খুব বেশী লাভ নাই। আমি যে আর্জিটা করেছি সেটাই আলোচনা করেন। “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” এর যে সংজ্ঞা আমি বলেছি সেটার সাপেক্ষে আলোচনা করেন। তাইলে আমার লাভ হবে, আপনার তো কোন ক্ষতি নাই।
[ জবাব দিন ]
এই প্রশ্নে আমার উত্তর “হ্যাঁ”। কোটি কোটি না হলেও লাখ লাখ, কমপক্ষে হাজার হাজার মানুষ পছন্দ না করলে জনপ্রিয়তা আসে ক্যামনে? তুমি মুহাম্মদ আর আমি মাহমুদ- এই দুই নাদান ভাই আর সিসিবি’র কতিপয় আঁতেল বড়+ছোট ভাইবোন নিয়ে তো জনপ্রিয়তা নয়।
জনপ্রিয় মানে তো ‘জন’এর প্রিয়। এইখানে জনের সংখ্যা কমপক্ষে হাজারে হাজার (যদি সংখ্যার বিচারে যাও আর কি)
[ জবাব দিন ]
আমি আবারও আমার সেই সংজ্ঞায় ফিরে যাই। আমি বলছি, জনপ্রিয় বিজ্ঞানে জনপ্রিয়তাটা মুখ্য না। যে লেখা জনপ্রিয় হওয়ার যোগ্য সেটাকেই জনপ্রিয় বিজ্ঞান বলা যায়। যেটা জনপ্রিয় হয়েছে সেটা না।
জনপ্রিয় হওয়ার যোগ্য কোনটা?- যেটা সবার বোঝার মত করে লেখা হয়েছে। এভাবে বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের প্রচার হেজেমনির দিকে মোড় নিয়েছে- এমন দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন কি? আমার কাছে এমন কোন দৃষ্টান্ত নেই। বিশুদ্ধ জ্ঞানের প্রচারে অনেক সময় ব্যবসা জড়িয়ে যেতে পারে, তাও খুব কম। কিন্তু হেজেমনি জড়িয়েছে বলে প্রমাণ পাচ্ছি না।
এখন বইমেলায় যাচ্ছি। এসে আরও কথা হবে।
[ জবাব দিন ]
লেখা’র নিজে নিজেই জনপ্রিয় হওয়ার যোগ্যতা উপায় নাই। কারন, লেখা’কে লিখিত, ছাপিত, প্রচারিত হতে হয়, তবেই আসে জনপ্রিয়তা।
তুমি হেজেমনি বিষয়টা আরো বুঝে নাও। তারপরে উদাহরন খোঁজ কর। তাহলে সুবিধা হবে। আমার লেখাতেই আছে হেজেমনি কি, অন্য কোথাও যেতে হবেনা বোধ হয়। খালি আমার উপর বিশ্বাস রেখো যে, আমি তোমাকে বিভ্রান্ত বা বিশেষ কোন দিকে নিতে চাচ্ছি না।
[ জবাব দিন ]
এক,
আরেকবার তোমার উপরের লেখাটা পড়ে দেখো তো “বিজ্ঞান চর্চা আর বিজ্ঞান-সাহিত্য চর্চা” গুলিয়ে গেলো কি না? এদুটোকে এক করে ফেলা যায় কি?
দুই,
বলেছো তোমার একাডেমিক যোগ্যতা কম বলে তুমি কোন তত্ত্ব আবিস্কার করতে পারবেনা। একাডেমিক যোগ্যতা কি তত্ত্ব আবিস্কারের পূর্বশর্ত? কয়জনে “শিক্ষিত” হয়ে তত্ত্ব আবিস্কার করেছে?
কয়ে দিলাম তোমার যুক্তির যে দুইটা বিরোধের কথা জানতে চাইছিলাম। আগে প্রশ্ন ফাঁস করছি, এখন উত্তরটাও।
[ জবাব দিন ]
লেখাটি প্রিয়তে যোগ করছি। কারণ এটা আমার ম্যাচিউরিটি প্রাপ্তিতে অনেক সাহায্য করবে। “বিজ্ঞানের দর্শন” এর কোনকিছুই আমি বুঝে উঠতে পারিনি। তাই অনেক ভুল-ত্রুটি হচ্ছে। আমি কি উদ্দেশ্য লিখছি সেটাই আসল, তাই এটা নিয়ে আরও ভাবছি। আশাকরি মাহমুদ ভাই সাহায্য করবেন।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
আরেকটি বিষয় বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। আলাদা মন্তব্য হিসেবেই বলছি:
আমি যে শুধু নিজে লিখি তা না। অনুবাদই বেশী করি। সাধারণ কোন বিজ্ঞানীর লেখাই অনুবাদ করি। যেমন গুপ্ত পদার্থের আবিষ্কারক ভেরা রুবিনের লেখা “মহাবিশ্বের গুপ্ত পদার্থ” অনুবাদ করেছিলাম। সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান তাদের ২০০৯ সালের জানুয়ারি সংখ্যাটি পুরো বিবর্তন নিয়ে করেছে। বিবর্তন নিয়ে এখানে অনেক ভাল প্রবন্ধ আছে যার সবগুলোই বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের লেখা। আমি এগুলো একটির পর একটি বাংলায় অনুবাদ করছি। আত্মতৃপ্তি, উপহার এই দুটি কারণ ছাড়াও এক্ষেত্রে আমার আরেকটি উদ্দেশ্য কাজ করছে- বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করা। নয়তো কষ্ট করে এগুলো অনুবাদ করার তো কোন প্রয়োজন ছিল না। যারা পড়ার তারা ইংরেজিটাই পড়ে নিতে পারতেন। অনুবাদ করা কোন জাতের মধ্য পড়ে না জেনেও আমি অনুবাদে হাত দিয়েছি।
এখানে কিন্তু কোন হেজেমনি কাজ করেনি। আর এই অনুবাদগুলোকেও অসার বলে মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
সবশেষে জাকির নায়েকের কথায় আসা যায়। আমার ঐ প্রবন্ধটিকেও আমি অসার মেনে নিতে পারছি না। কারণ, ওখানে জাকির নায়েকের মিথ্যাগুলো আমি ধরিয়ে দিয়েছিলাম। আমি সেখানে কোন ধর্মকে অবজ্ঞা করতে চাইনি। কোন বিজ্ঞানের প্রচারও করিনি, নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতেও চাইনি। আমি কেবল একজন বিজ্ঞানবিমুখ লোকের অবৈজ্ঞানিক কথাগুলো সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম।
তবে হ্যা, সেই লেখার মন্তব্য হিসেবে আমি বেশ উগ্র হয়ে পড়েছিলাম। আমি সচরাচর এরকম উগ্র হই না। সেটা ভুল ছিল। সেজন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনার কাছে এবং জাহিদ ভাইয়ের কাছে। একদিনের বড় ভুলটা আশাকরি ভুলে যাবেন এবং ছোটভাই হিসেবে ক্ষমা করে দেবেন।
[ জবাব দিন ]
আমি কোথায় কইছি?
[ জবাব দিন ]
বলেন নাই? তার মানে আমি বুঝি নাই। নিচের লেখাটা তো আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছেন। এটা দিয়ে কি বোঝাতে চেয়েছেন তাহলে বুঝি নাই। আরেকটু ডিটেল্স বললে খুশি হব।
এখানে “অসার জনপ্রিয় জ্ঞান” বলতে কি বুঝিয়েছেন?
গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এগুলো কি জনপ্রিয়তার বাইরে? এগুলো ক্ষমতার বাইরে সন্দেহ নাই। সমাজের ১৫ কোটি মানুষের মধ্যে ৫০ হাজার মানুষকেও যদি গণিতের কোন একটা সূত্র বোঝানো যায় এবং তাদের সেটা ভাল লাগে তাহলে আপনি সেটাকে জনপ্রিয়তা বলবেন না? এটা কিন্তু কোন হেজেমনির জন্য করা হচ্ছে না, গণিতপ্রেমীদের আত্মতৃপ্তি এবং সবার মাঝে বিশুদ্ধ জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আউটপুট হিসেবে আশা করা হচ্ছে, এই ৫০ হাজার মানুষের মধ্যেই কেউ না কেউ বড় হয়ে বিশাল গণিতবিদ হবে।
হা এটাই, জনপ্রিয় বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির একটা বড় উদ্দেশ্য থাকে ভবিষ্যতে ভাল বিজ্ঞানী তৈরী করা। পৃথিবীর অধিকাংশ বিখ্যাত বিজ্ঞানীই ছোটবেলায় জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বই পড়ে বিজ্ঞানের দিকে আকৃষ্ট হয়েছেন।
[ জবাব দিন ]
একটা পয়েন্ট ক্লিয়ার হবে এখানে, – এগুলো অবশ্যই জনপ্রিয়তার বাইরে যতক্ষন না সেই গণিতবিদ, পদার্থবিদ, জ্যোতির্বিদ বা অন্য কেউ রাজসভায় স্থান পেয়েছে, অথবা রাজার (তথা ক্ষমতার) সহানুভূতি পেয়েছে। জ্ঞানের/বিজ্ঞানের ইতিহাস দ্রষ্টব্য।
[ জবাব দিন ]
আজকাল তো আর রাজা নেই। বর্তমানে আছে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ে বিজ্ঞানীদেরই প্রাধান্য থাকা উচিত না? এটাও তো রাজসভায় স্থান পেয়ে যাওয়ার সমতুল্য। বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কেমন লোকের হাতে থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
ও আচ্ছা তার মানে আপনি “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” বলতে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত বিজ্ঞান গ্রন্থ বোঝাচ্ছেন যার উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে সরকারের দিকে মোটিভেট করা?
কিন্তু আপনার এ সংজ্ঞা তো আমার ঠিক মনে হচ্ছে না। জনপ্রিয় বিজ্ঞানের এমনতর সংজ্ঞা কোথাও পাচ্ছি না। আমি যে সংজ্ঞাটি দিয়েছি সে সম্পর্কে কি তাহলে আপনার কিছুই বলার নেই।
[ জবাব দিন ]
গণিতের সূত্র জনগণকে “বোঝানো”, গণিত-প্রেমী “বানানো”, ইত্যাদি কথাগুলো একটু ভালো করে খেয়াল করো। তারপর এই কথাটার সাথে মিলিয়ে নাও- “প্রাচ্যের মানুষকে আধূনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা, মানবতা শিখানো, বিজ্ঞনা শিখানো, আধূনিক শিল্প-কৃষি-হালচাষ শিখানো পাশ্চাত্যের উন্নত সভ্যতার ধারকদের নৈতিক দায়িত্ব”। – এখানে জ্ঞান উন্নত জ্ঞান শিখানোর কথা দিয়ে শুরু হয়, শেষ হয় আধিপত্যে। কিন্তু এটা ভাবার কোনো কারন নেই যে পশ্চিমের সবাই এরকম, বরং উলটো। কিন্তু, ঐ যে বলেছি, সামাজিক পরিমন্ডলে এসে ব্যক্তির ইচ্ছা সমাজের, তথা সমাজের বিদ্যমান ক্ষমতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। আমি এইদিকটাতেই তোমাকে ভাবতে+সাব্ধান হতে বলছি।
আমি কখনোই ধরে নেই নাই যে তুমি ক্ষমতা+আধিপত্য চাও। কিন্তু আমি ভেবে নিয়েছি যে, এই ফাঁকটা তুমি মনে হয় গোনায় আনছো না।
তবে জ্ঞান যদি ছড়িয়ে দিতে চাও, তা’তে আমার কোন আপত্তি নাই। কিন্তু ‘জ্ঞান অর্জন’ আর ‘জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া’ দুটো ভিন্ন বিষয়, এবং এদের পথও ভিন্ন্,- আমি এটাই বোঝাতে চাইছি। কোনটাকেই আমি খাঁটো করে দেখিনা, দেখিনি।
[ জবাব দিন ]
আপনার লেখাটা আমার খুবই ভাল লেগেছে। কিন্তু মন্তব্য একটাও ভাল লাগছিল না। কারণ সেগুলো ট্র্যাকের অনেক বাইরে।
অবশেষে আপনার একটি মন্তব্যে আমার বিষয়টা উঠে এসেছে। জেনে ভাল লাগল যে আপনি কোনটাকেই খাটো করে দেখেন না।
এতক্ষণে আপনার মোটিভ বুঝতে পেরেছি। এটা স্পষ্ট করে বলে দিলেই পারতেন। তাহলে আমি প্রথম থেকেই অন্যভাবে মন্তব্য করতাম।
এবার ট্র্যাকে আসি।
আমি আপনাকে এ ব্যাপারে গ্যারান্টি দিতে পারি যে বিশ্বব্যাপী “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” বলে যে বিষয়টা চালু আছে তার সাথে উপরের কার্যকলাপের কোন সম্পর্ক নেই। এটা যদি কেউ করে তাহলে তার লেখাকে আমি জনপ্রিয় বিজ্ঞান বলব না। আপনি সেটাকে জনপ্রিয় জ্ঞান বা অন্য কিছু বলতে পারেন কিন্তু Popular science এর মধ্যে সেটা কোনভাবে পরে না। রিচার্ড ডকিন্স হয়ত তার “God delusion” লেখার পিছনে একটু হেজেমনি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তার Selfish Gene, স্টিফেন হকিং এর ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম লেখার পেছনে এ ধরণের কিছু ছিল না।
ওরিয়েন্টালিজম নিয়ে এডওয়ার্ড সাইদ যা বলেছেন তা হয়ত আমি আপনার মত বুঝি না, কিন্তু যতটুকু বুঝি তার সাথে আমি একমত। কিন্তু তারা কেউই কার্ল সেগানের মত সহজ-সরল বিজ্ঞান লেখকদের সে দোষে দুষ্ট করেননি। আমি অন্তত পাইনি। পাশ্চাত্য বাদ দিয়ে তো প্রাচ্যেরও অনেক উদাহরণ দেয়া যায়। আমরা যে কেবল পাশ্চাত্য থেকেই শিখছি তা তো না। এখন আমরা নিজেরা জনপ্রিয় বিজ্ঞান নিয়ে লিখতে পারি।
কিন্তু তারপরও আপনি জনপ্রিয় বিজ্ঞানের হালটা ছাড়ছেন না।
আপনি আবারও গণিতপ্রেমী বানানোকে ওরিয়েন্টালিজমের সাথে মিলিয়ে নিতে বলেছেন। এটা কেন বললেন? এমন কোন মিল কি আপনি পেয়েছেন। আমাদের দেশে জাফর ইকবালরা বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের যেসব কাজ করছেন তার পেছনের হেজেমনিটা কি? স্পষ্ট করে বললেই আমি বুঝে যাব।
আমি জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখক হিসেবে যাদের উল্লেখ করেছি তাদের কেউ হেজেমনি হিসেবে বিজ্ঞান-সাহিত্যের চর্চা করেছেন বা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারের দিকে সবাইকে মোটিভেট করার জন্য কাজ করেছেন বলে আপনার মনে হয়?
ফাঁকটা আমি আগে গোনায় আনছিলাম না। কারণ আপনি স্পষ্ট করেননি। এখন থেকে আনব। কিন্তু আপনিও নিশ্চয়ই একমত হবেন যে আমাদের জনপ্রিয় বিজ্ঞান চর্চায় এরকম কোন ফাঁক নেই। নাকি আছে? আবদুল্লাহ আল-মুতী, হারুনুর রশীদ, দ্বিজেন শর্মা, মোহাম্মদ আবদুল জব্বার এদের কারও লেখার ধরণের আমি সে ফাঁকটা পাইনি। আপনার কি মনে হয় সে ফাঁকটা তাদের লেখায় আছে?
গণিত অলিম্পিয়াডের হেজেমনি নিয়েও লিখতে পারেন।
মোটকথা আপনি এখনও আমি যে ধরণের বিজ্ঞান-সাহিত্য চর্চা করি তাতে কোন হেজেমনির প্রমাণ দেখাতে পারেননি। আমি যাদের বই পড়ি তাদের লেখাতেও এখন পর্যন্ত হেজেমনির গন্ধ পাওয়া যায়নি। তাই স্বস্তি পেলাম।
কারণ আপনার মত আমিও হেজেমনি জিনিসটা পছন্দ করি না এবং বিজ্ঞানকে যে সেভাবে ব্যবহার করা যায় সেটা স্বীকার করি। কিন্তু আমি সেভাবে ব্যবহার করছি না, আপনার প্রিয় লেখকরাও করছেন না। এজন্যই তারা আমার প্রিয়। এজন্যই লেখায় আমি তাদের দ্বারা প্রভাবিত।
[ জবাব দিন ]
হেজেমনি বা দলগত ক্ষমতা কোন ব্যক্তির চেষ্টা বা ইচ্ছার ফল নয়। এটা কোন দলের সমগ্রিক প্রচেষ্টার ফল। কাজেই কোন নির্দিষ্ট লেখক/বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত মোটিভ এখানে বিবেচ্য নয়। আগেই তো ডিনামাইট আর আনবিক বোমার উদাহরন দিয়ে তা বলেছি। কাজেই, কোন বিজ্ঞান-সাধক/লেখকের মাঝে এটা পাবেনা।
আর আমি তো বলিনি যে হেজেমনি খারাপ বা আমি এটা অপছন্দ করি। নাকি বলেছি কোথাও?
আমি কোথায় কইছি তুমি হেজেমনি/ক্ষমতার চর্চা করছো? আমি বলেছি, চর্চা আর প্রচার দুটো আলাদা বিষয়, আর প্রচারে ক্ষমতা জড়িত। তুমি জিগাইলা এখানে ক্ষমতা আসে কোত্থেকে? সেইখান থেকেই না এই সাতখন্ড রামায়ণ……
[ জবাব দিন ]
আপনার খাটো করে না দেখার বিষয়টা আমি বুঝতে পেরেছি। কিন্তু জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান বিতরণ- এ দুটোর পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করি না।
আমি নতুন কিছু জানলেই আমার প্রথম কাজ থাকে সেটা অন্য কারও সথে শেয়ার করা। সেক্ষেত্রে আমার অর্জিত জ্ঞানটা আরও ঝালিয়ে নেয়া যায়। আর আরেকজনকে সেটা নিয়ে ভাবাতে পারি। ভাবার পর সেও আমাকে শেখাতে পারে। এভাবেই আমি জ্ঞান আহরণ করি। ঘরের কোণে বসে জ্ঞানকোষ ঘেটে ঘেটে বিদ্যার্জন আমার পছন্দ না। তাই আমার কাছে জ্ঞান অর্জন-বিতরণ এর পথ দুটো পাশাপাশি, দুটা পথ আলাদা অবশ্যই, কিন্তু একটার সাথে আরেকটা লাগানো।
রাস্তার দুই লেনের মত। এক লেন দিয়ে গাড়ি যায় আরেকটা দিয়ে আসে। কিন্তু একটার সাথে আরেকটার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। আলাদা করার উপায় নেই।
ব্লগে বিষয়টা আরও মজার। নিজে জেনে যত না শেখা যায় একটা ব্লগ লেখার পর আলোচনার মাধ্যমে আরও বেশী শেখা যায়। উভমুখী শিক্ষা আর কি।
[ জবাব দিন ]
এইখানে আমার একটা ক্লারিফিকেশন আছে।
শেয়ার করলেই জ্ঞান “ঝালিয়ে নেওয়া” যায় না। এর জন্য অপরপক্ষকেও যথেষ্ট (বেশি, সমান, বা কাছাকাছি, কিন্তু কম নয় একেবারেই) জ্ঞান রাখতে হয়। কিন্তু সব মানুষের যোগ্যতা তো এরকম নয়। বিশেষ করে আমজনতা। আর জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার শুরু যে অনুমানের ভিত্তিতে তা হল, তারা বিষয়টা জানেনা। তাহলে জনগনের মাঝে প্রচারের মাধ্যমে নিজের জ্ঞানের শেয়ার, কাজে কাজেই ঝালিয়ে নেওয়া হবে কি করে?
কিন্তু প্রচারে কিছু তো হয়, সেটা কি? (এটা ফুকোর মূল প্রশ্ন)। সেটা হলো জন-সাধারনের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ+বিশেষ জ্ঞানের পক্ষে জাস্টিফিকেশন আদায় যে, বিশেষজ্ঞ যা জানে তোমরা তা জানোনা।- কিন্তু এটা প্রত্যক্ষে নয়, ঘটে পরোক্ষে; কোন ব্যাক্তি বিশেষের মাধ্যমে নয়, ক্ষমতায় আসীন দল+শাসনযন্ত্র+মিডিয়া+তাদের দেশীয়-বৈদেশী বন্ধুদের যৌথ প্রচেষ্টায়।
[ জবাব দিন ]
হেজেমনি মানেই খারাপ না, এটা শুনলাম। মনে থাকবে।
আর আপনি এখনও আমার ফিল্ড থেকে উদাহরণ দিলেন না। আমি অলরেডি জাকির নায়েকদের উদাহরণ দিয়েছি। আপনি দিলেন না। আমি আসলে ব্যাপারটা উদাহরণ ছাড়া ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারছি না।
তবে এ নিয়ে আরও পড়ব কথা দিলাম।
[ জবাব দিন ]
তুমি আগে জাকির মিয়ারে আনো নাই, তাই আমিও আনি নাই। আমি আসলে কাউকেই আনি নাই আলোচনায়, শুধু তোমার উল্লিখিত নামগুলাই ব্যবহার করেছি।
বিষয়টা আগে কইবা না?
[ জবাব দিন ]
বিজ্ঞান প্রসারে তো আমি কোন আপত্তি করি নাই। নাকি কোথাও এমন কিছু বলেছি? মনে পড়ে না। আমি নিজেও এসব লেখারে ভালা পাই। তোমার অনুবাদ পোষ্টে গিয়ে সেটা বলে+তোমাকে অভিনন্দন দিয়ে এসেছি। মনে নাই?
আমার আপত্তি খালি ঐ ‘জনপ্রিয়’ বিষয়টা নিয়ে। এই জনপ্রিয়তা’র প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং কাংখিত+অনাকাংখিত ফলাফল উপলব্ধি করার আগে আমি এই দলে নামতে চাই না।
[ জবাব দিন ]
জাকির নায়েকের বিজ্ঞান কপচানোটা পেরিফেরাল। সেই বিষয় গুলা বাদ দিলে ঐ লোকের উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই, শান্তি প্রতিষ্ঠা। আর এই কারণে আমি ঐ ব্যাটারে লাইক করি।
এ্যানি অভিমত ব্রাদার???
[ জবাব দিন ]
শান্তি প্রতিষ্ঠাকে আমি প্রচণ্ড সমর্থন করি। কিন্তু জাকির নায়েকের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে ঘৃণা করি। কারণ এভাবে দিন দিন অশান্তিই বাড়ছে। মিথ্যা দিয়ে আসলে কিছু হয় না।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ : এক কথায় অসাধারণ। চমৎকৃত হয়েছি তোমার লেখার ধরণে ও ভাষার প্রাঞ্জল্যে। প্রথমেই রেটিং তারপর প্রিয়তে রাখলাম। লেখাটা আরো কয়েকবার পড়তে হবে। তারপর প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য করবো।
আমি মুহাম্মদকে যেটা বুঝতে পেরেছি, সে আসলে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার কথাই বারবার বলে আসছে। সহজ ভাষায় বিজ্ঞানকে পাঠকের সামনে উপস্থিত করা। আমাদের মধ্যে এমনকি আমার মধ্যেও বিজ্ঞান নিয়ে একটা ভীতি কাজ করে। বরাবর মানবিকের ছাত্র ছিলাম। কিন্তু মহাবিশ্বের রহস্য বা হকিং-এর বই কিম্বা জীনতত্ত্ব ও এর অগ্রগতি, পদার্থবিজ্ঞানের আরো যেসব অগ্রগতি হচ্ছে- আমি আমার বোধগম্য ভাষায় সেসব জানতে-শিখতে চাই। কিভাবে সম্ভব। এ কারণে আমি মুহাম্মদকে অবশ্যই সবসময় প্রেরণা যোগাবো। সে যে কাজটা করতে চায়, তাকে অবশ্যই সেটা করতে হবে।
এমনকি তুমিও যে এতো সহজ ভাষায় জ্ঞান, জনপ্রিয় জ্ঞান এবং ক্ষমতার বিষয়গুলো লিখেছো, সেটাই আমার মতো পাঠককে সাহায্য করবে। তুমি এরকম আরো লিখো। আমি তো মনে করি এরকম লেখা যদি নিয়মিত ছাপার অক্ষরে আনা যায় কিভাবে সেটা আমরা ভাবতে পারি।
সিসিবি কি একটা ছোট কাগজের জন্ম দিতে পারে? মুহাম্মদ, আন্দালিব, হোসেন, কামরুল ভাবতে পারো। আমি পেছন থেকে অবশ্যই থাকবো।
[ জবাব দিন ]
গুরু, আমিও………
[ জবাব দিন ]
একমত, বস। একারনেই আমি এই আলোচনায় এসেছি। আমি বোঝাতে চাইছি যে, ‘বিজ্ঞান প্রচার’ ব্যপারটা মুহাম্মদ যতটা ব্যক্তিগত মনে করছে আসলে তা নয়। এখানে আরো অনেক কর্তা (বা উপাদান) জড়িত, তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই জনপ্রিয়তা আসে। কিন্তু মুহাম্মদের মতো নিরীহ+সাধু উদ্দেশ্যে বাকিরা আসে না। তারা আসে একেক পক্ষ একেক উদ্দেশ্যে। আর যখন জ্ঞান জনপ্রিয় হয়ে যায়, তার ক্ষমতা তৈরী হয়, সেই ক্ষমতা নিজ নিজ স্বার্থে ব্যবহারের জন্য প্রচারে জড়িত সব পক্ষ নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় নামে। এখানে ব্যক্তি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দূর্বল। ফলে ব্যক্তির উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে।
এমতাবস্থায়, ব্যক্তি যদি জনপ্রিয় জ্ঞানের মাধ্যমে উতসারিত ক্ষমতা’র অপব্যবহার দেখে (যা প্রায়ই ঘটে), তাহলে তার কষ্ট পাওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকেনা। এটা যে কি পরিমাণ কষ্টের তা আমি কিছুটা বুঝি। তাই মুহাম্মদকে দেখে মনে হলো এই দিকটা মনে করিয়ে দিতে। তাও আবার আমি নিজের থেকে আনিনি প্রসংগ+তত্ত্বগুলো। সে-ই তার আগের পোষ্টে আমাকে ক্ষমতা সম্পর্কে ফুকোর কথা তুলে কাউন্টার দিতে চাইলে দেখলাম এই বিষয়ে ওর আইডিয়া যথেষ্ট না।
আমি মোটেও ওকে নিরুতসাহী করার জন্য এই আলোচনা শুরু করি নাই।
[ জবাব দিন ]
দারুন লিখেছ মাহমুদ।
জীবন সম্পর্কে আমি কি ভাবি জান “ Straight line is the shortage distance between two points” সরল পথই উৎকৃষ্ট পথ। একজন বিশেষজ্ঞ অনেক গবেষনা করে যে সিদ্ধান্ত দেন, আমি তো প্রায়ই সময় সাধারন বুদ্ধিতেই তার খুব কাছাকাছি চলে যাই।
তবে তোমার পরিবেশনা খুব ভাল হয়েছে। আমাকে অনেক কিছু বুঝাতে পেরেছ, তার মানে এসব ব্যাপারে তোমার জ্ঞান ঈর্ষনীয়। তোমার যেটা আমাকে মুগ্ধ করেছে তা হল অন্যের যুক্তিকে সম্মান করে কথা বলা, কি সিনিয়র কি জুনিয়র। এটাও সাহসের ব্যাপার। ঈদানীং সবচেয়ে বেশী যেটার অভাব দেখি সবখানে, অন্যের মত কে শ্রদ্ধার ব্যাপারটি, তা তোমার মাঝে আছে।
তুমি এরকম হবে আগে জানলে তোমাকে দৌড়ের উপ্রে রাখতাম ক্যাডেট কলেজে, যাতে আমার চেহারা কোনদিন ভুলে না যাও।
[ জবাব দিন ]
এই কথার জন্য আপনার ব্যান চাই।

আমি কি আপনার চেহারা ভুলে গেছি নাকি? গ্রুপ ছবি দিয়েন, আপনারে চিনতে পারি কি না দেহাই দিমুনে…।।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই, অসাধারন লিখছেন। সব দিকে খেয়াল রেখে এমন সাবলীল সমৃদ্ধ উপস্থাপনায় আমি মূগ্ধ। আপনি আসলেই বস। মানে আগে থেকেই তা জানতাম আর কি
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই
আপনার লেখাটা প্রথমে একবার পড়লাম। তারপর মন্তব্যগুলি পড়ে আরেকবার পড়লাম। প্রথমবার যতটুকু ভালো লেগেছে, দ্বিতীয়বার তারচেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। বিশেষ করে লেখার ধরন। অনেক সহজ করে লেখা, পড়তে গিয়ে তাই কোন লাইন/প্যারা বাদ দিয়ে যেতে হয়নি। লেখক হিসেবে এর পুরো কৃতিত্ব আপনার।
জ্ঞান, জনপ্রিয় জ্ঞান আর ক্ষমতার মধ্যকার সম্পর্ক তাত্বিক ভাবে এই বিষয়ে আমার ধারনা শুন্য। সুতরাং এর পক্ষে বা বিপক্ষে কিছুই বলার ক্ষমতা আমার নেই। আমি শুধু বলতে পারি লেখাটি আমার ভালো লেগেছে এর উপস্থাপনার কারনে। এবং এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার আগ্রহ তৈরী করেছে।
তবে কিছু জিনিস আপনার কাছ থেকে এখানে জানতে ইচ্ছে করছে।
জানার জন্যে জিজ্ঞেস করছি। দর্শন , সমাজবিজ্ঞান বা সাহিত্যের বেলায় এটা হয়তো সত্যি (তাও আমি নিশ্চিত না), কিন্তু খাটি বিজ্ঞানের বেলায়ও কি? ধরুন নিউটনের তিনটা সুত্র , এ নিয়েও কি আমি আত্ম-বিশ্বাসের সাথে তর্ক করতে পারবো না? নাকি এটাও নড়বড়ে ভাষার গাঁথুনি’র মাধমে পাওয়া জ্ঞান বলে গন্য হবে? গাধার মতো প্রশ্ন করে ফেললাম কিনা বুঝতে পারছি না।
এই দুইটা বিষয়ও জানতে চাই। প্রকৃত জ্ঞান কি কখনোই জনপ্রিয় নয়? তাহলে জ্ঞানের নতুন নতুন শাখা হচ্ছে কেনো? একটা ছোট্ট উদাহরন দেই। গনিত অলিম্পিয়াড ব্যাপারটা নিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ। এর জনপ্রিয়তাও অনেক। এই গনিত বিষয়টা কি প্রকৃত জ্ঞান নয়?
একই প্রশ্ন বিজ্ঞানের বেলায়ও। বিজ্ঞান প্রচার বিমুখ আমার কিন্তু মনে হয় নি। বরং বিজ্ঞান প্রচার বিমুখ হলে নতুন নতুন প্রযুক্তি’র উদ্ভাবন ,প্রচার ও প্রসার ঘটছে কি করে?
এবার দুইটা কথা হচ্ছে মুহাম্মদ বিষয়ে আপনার মতামত নিয়ে।
‘লেখক মুহাম্মদ’ (ব্যাক্তি/মানুষ মুহাম্মদ নয়) কে আমি যেভাবে বুঝি তা অনেকটাই লাবলু ভাইয়ের মতো। সে আসলে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার কথাই বারবার বলে আসছে। সহজ ভাষায় বিজ্ঞানকে পাঠকের সামনে উপস্থিত করা। যেমন ধরুন , বিজ্ঞানের অনেক কঠিন বিষয় শুধুমাত্র উপস্থাপনার কারনে আমি এড়িয়ে যাই। আবার দেখা গেলো সেই একই বিষয়ে মুহাম্মদের লেখাটা আমি একটানে পড়ে ফেলি। কারন আমার মতো পাঠকদের জন্যে ও একটু সহজ করে বিষয়টা লিখেছে। আপনার এই লেখাটার বেলায় যেমন একই কথা প্রযোজ্য। আমি তাই ও’কে উৎসাহ দেই। এই কাজটা করা খুবই দরকার। একটা লেখা পড়ে এই সংক্রান্ত অন্য অনেক কিছু জানার আগ্রহ তৈরী হয়। আমি যেমন আপনার এই লেখাটা পড়ে Discipline and Punish লিখে গুগুলে সার্চ দিলাম। তারপর কিছু লিঙ্ক ঘাটাঘাটি করা শুরু করেছি। এই কৃতিত্ব আপনার। মুহাম্মদের লেখাগুলির ব্যাপারেও এই কথাগুলি সত্য।
তাই ও যখন বলে ‘আমি বিজ্ঞানকে সবার কাছে জনপ্রিয় করতে চাই’ তখন কিন্তু আমি একবারো ‘জনপ্রিয় জ্ঞান আর প্রকৃত জ্ঞানে’র তাত্ত্বিক বিশ্লেষনে (যেটাকে “হেজেমনি” বলা হচ্ছে ) যাই না। আমার কাছে সোজা বাংলায় মনে হয় ও বিজ্ঞানের কঠিন সূত্রগুলোকে সবার বোঝার উপযোগী করে লেখার কথা বলছে (যেটা ও নিজেই মন্তব্যে বলেছে দেখলাম)। তাই আপনি যখন বলেন
এটা কিন্তু আমার কাছে নিরুৎসাহজনক মনে হয়। আমি সব সময় উৎসাহ দিতে পছন্দ করি। যত বেশি জানবে ততই সম্ভাবনা বাড়বে আগে যা জেনেছে তা সঠিক না ভুল তা যাচাই করার।
‘পাওয়ার নলেজ’ এর কথা যদি বলেন, আমরা যারা জ্ঞানীজ্ঞুনীদের লেখা পড়ি, বা আমাদের চেয়ে একটু বেশি জ্ঞান নিয়ে যারা লিখছেন , তাদের লেখা পড়ি আমাদের সামনে কিন্তু সুযোগ আছে সেটাকে ধ্রব বলে ধরে না নিয়ে আরো একটু ঝালাই করে নেয়ার। বা এর বাইরে কিছু বলার থাকলে দ্বিমত, ভিন্নমত পোষন করার। কিছু কিছু মানুষের যাবতীয় যুক্তি-ধারনাকে যথার্থ ধরে নেয়ার কোন কারন আসলেই নেই।
যেমন লালন কে নিয়ে করা আহমদ শরীফের উক্তিটির কথাই ধরুন। উক্তিটি ও কোট করার পরে আমি কিন্তু পড়ে বুঝেছি, লালনের প্রতিভার বিশালত্ব বুঝাতে উনি এমন কথা বলেছেন। অন্য কিছু ভাবিনি। কিন্তু এখন তো দেখা যাচ্ছে তাত্ত্বিক ভাবে ওই উক্তি অসার/ভুল। তবে আমি এখনো এই ভাবেই দেখি যে এটি লালন যে কত প্রতিভাবান ছিলেন তা বুঝতেই বলেছেন। একে তাত্ত্বিক সুত্রে ফেলে দিতে আমি রাজি নই।
যেমন রাজি নই, মুহাম্মদকে পাওয়ার নলেজের সুত্রে ফেলে দিতে।
জাকির নায়েকের পোস্ট প্রসঙ্গে একটু বলি।
আমি সব সময় বলবো সিসিবিতে এমন আরো কিছু পোস্ট আসলে সিসিবি সারাজীবন গর্ব করতে পারবে। এটা কোন সাধারন মানের কাজ নয়।
ওই পোস্টে মুহাম্মদ্দের কিছু মন্তব্যের প্রতি মন্তব্য হয়তো রুঢ় হয়েছে। যা সাধারনত ও কখনো করে না। কিন্তু তার জন্যে সে দুঃখ প্রকাশ করেছে, আমার মনে হয় আমরাও বড় ভাই হিসেবে ওর অনুভূতি বুঝতে পেরেছি। আমিও ওকে আবার সতর্ক করে দিচ্ছি, -অন্য ব্লগের মতো এখানে উত্তপ্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য করার সুযোগ নেই। এখানে আমারা সব সময় নামের পাশে সময়কাল দেখে শ্রদ্ধা-স্নেহ বরাদ্দ করি।
শেষে আমার নিজের একটু অনুভূতি বলি। আলোচনার সময় কেউ যদি আমাকে বলে আমি তোমার সিনিয়র , তাই আমি তোমার চেয়ে বেশি জানি তাহলে আমি কষ্ট পাবো। আমি কিছু না জানলে তাতে আমার লজ্জা নেই, কিন্তু না জেনে সিনিয়র হয়ে তার সুযোগ নিতে আমার খুবই লজ্জা লাগবে। আমি কখনোই এমন করতে পারবো না।
[ জবাব দিন ]
কামরুল ভাই, আপনার শেষ প্যারার বক্তব্যের মূলসুরের সাথে একমত। কিন্তু শেষ কথাটাই ভালো লাগল না। কেন লাগল না সেটার ব্যাখ্যা দেব না, আপনি নিজেই বুঝবেন বলে আমার বিশ্বাস।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
তাইলে আর কথা নাই। আমি অফ গেলাম।
[ জবাব দিন ]
আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি।
খেয়ে ভয় পেয়ে গেলাম। আবার পড়েও কিছু বুঝলাম না। ভুল হলে সেটা বুঝাইয়া দাও রে ভাই। তারপর যত ইচ্ছা
দেউ।
আমি আমার নিজের দ্বারা কি সম্ভব কি সম্ভব না এটাই বলেছি। একদমই অন্য কিছু মানে বের করার জন্যে নয়। কিন্তু তোমার
তোমার
এর বিনিময়েও কিছু শিখতে পারলে আমিই লাভবান হবো।
[ জবাব দিন ]
আপনারে ঐ শেষ কথাটায় আমার জাজমেন্টাল (বাংলা জানি না, আমার জন্য
) মনে হইছে। এ কারণেই বলছি ভালো লাগে নাই।
[ জবাব দিন ]
জাজমেন্টাল ছিলো না। একান্তই ব্যাক্তিগত অনুভূতি। বুঝতে ব্যার্থ হয়েছি বলে নিজেকে
দিলাম।
তবে তোমার ভালো লাগে নাই জেনে সতর্ক হয়ে গেলাম। দুঃখিত।
[ জবাব দিন ]
হুম
[ জবাব দিন ]
এইখানে আমারও বিশাল সন্দেহ আছে। প্রকৃত জ্ঞান দ্বারা মাহমুদ ভাই কি বোঝাতে চেয়েছেন সেটা আমি বুঝিনি। কিন্তু বিজ্ঞান প্রচারবিমুখ এই কথা মেনে নিতে পারছি না। বিজ্ঞান একসময় কেবল রয়েল সোসাইটির আড্ডার বিষয় ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে মোড়ের চায়ের দোকানে চায়ের কাপে যে ঝড় উঠে তাতে শুধু রাজনীতিই থাকে না, ক্ষেত্রবিশেষে বিজ্ঞানও থাকে।
কামরুল ভাই গণিত অলিম্পিয়াডের উদাহরণটা দিয়ে খুবই ভাল করেছেন। উদাহরণটা খুব মনে ধরেছে। এর সাথে আমি “জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড” যোগ করে দেই। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে যোগ দেয়ার জন্য গত বছর থেকেই বাংলাদেশে “জাতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড” হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের মস্তিষ্ক ঝালাই হচ্ছে, ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী তৈরীর পথ সুগম হচ্ছে। সেইসাথে গুণীর সমাদর হচ্ছে।
[ জবাব দিন ]
সন্দেহ বিনাশ করতে জ্ঞানের/বিজ্ঞানের ইতিহাস দেখ। আমার ভুল হলে আমিও শুধরাই…।।
আর, গণিতের কোন অলিম্পিয়াডে কোন বিজ্ঞানী আয়োজক হইছে?
প্রচার দিয়ে আসলে কি হয় তা ভারতে ‘সারেগামাপা, আইডল’, বাংলাদেশে কোলোজ-আপ, ইত্যাদি থেকে উদাহরন নিও। সাধারনের মাঝে প্রচারে প্রকৃত গান/জ্ঞান এর ভাগ্যে কি ঘটে তা ভেবে দেখার বিষয়।
[ জবাব দিন ]
গণিত অলিম্পিয়াডের ফলাফল যাচাইয়ে স্কুল-কলেজে গণিতের অবস্থা বিবেচ্য।
[ জবাব দিন ]
গণিত অলিম্পিয়াডের ফলাফল কি হবে সেটা আপনি এক বাক্যে বলে দিতে পারেন না। এর অনেক সুফল অবশ্যই আছে।
আমার প্রশ্ন, এখানে হেজেমনিটা কোথায়?
স্কুল-কলেজে গণিতের অবস্থা খুবই খারাপ। কিন্তু সেটা সরকারের হাতে। সেখানে গণিতবিদ ও বিজ্ঞান জনপ্রিয়কারকেরা হাত দিতে পারছেন না। তাই তারা বেসকারী উদ্যোগে গণিত জনপ্রিয়করণের কাজ শুরু করেছেন। এর মূল লক্ষ্য স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন জাগ্রত করা।
এর অন্য কোন লক্ষ্য বললে আমি মানব না। কারণ লক্ষ্যটা অলিম্পিয়াডের বিশিষ্ট আয়োজক মুনির হাসানের মুখ থেকেই শোনা। তাকে আমি বিশেষ শ্রদ্ধা করি। তার মধ্যে এখনও কোন হেজেমনি পাইনি।
আর আপনি গণিত অলিম্পিয়াডকে ক্লোজ-আপ ওয়ানের সাথে তুলনা করলেন। আমি হতবাক এবং মর্মাহত।
বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান মুনির হাসানকে চিনি। তিনি টাকা-পয়সার মধ্যে নাই। অলিম্পিয়াডে কোন অর্থলাভ বা স্বার্থ চরিতার্থ করার বিষয় নেই। ক্লোজ-আপ ওয়ানে বিশাল অংকের টাকা পয়সার বিষয় আছে।
অলিম্পিয়াডে বিজয়ীরা লাখ লাখ টাকা পায় না। আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়ার সুযোগটাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। যেমন লিন্ডাউ নোবেল সম্মেলনে যোগ দেয়াটা অনেকের জন্য বড় পাওয়া।
আপনি সবকিছুতেই যেভাবে হেজেমনি নিয় আসছেন তাতে এগুলোকে কন্সপাইরেসি থিওরি মনে হচ্ছে।
[ জবাব দিন ]
কোন তত্ত্ব ব্যবহার করার আগে সেটা সম্পর্কে যথেষ্ঠ ধারণা থাকা আবশ্যক। আমার মনে হয়েছে, হেজেমনি বিষয়ে তোমার ধারণা আরেকটু ক্লিয়ার করা লাগবে।
হেজেমনি কোন ব্যক্তি তৈরী করতে পারে না, এটা দলীয় প্রযোজনা (হিন্দী সিনেমার গানের মতো
)। কাজেই, এর থেকে লাভটাও দলীয়।
এখানে কোন ব্যক্তিকে দোষারোপ করার সুযোগ নাই। তারমানে,
“বিশিষ্ট আয়োজক মুনির হাসানের” ব্যক্তিচরিত্রে এই অধম আমা-কর্তৃক কালিমা লেপনেরও সুযোগ নাই।
সতর্কীকরণঃ নতুন নতুন তত্ত্বের নাম নিয়ে এসে সহজ এই আলোচনাটাকে আরো জটিল করোনা, ব্যান চামু কিন্তু!
[ জবাব দিন ]
হেজেমনির দলীয় বিষয়টা বুঝেছি। একেবারে নিচে এটা বুঝেই কমেন্ট করেছি। জাকির নায়েক প্রসঙ্গে করা সে কমেন্টটা পড়তে পারেন।
[ জবাব দিন ]
যেটা বুঝলাম সেটা হলো অপব্যাবহার তখন শুরু হয় যখন জ্ঞান ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে যায়। ঠিক কিনা মাহমুদ ভাই?
কিন্তু ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাহলে কি জ্ঞানের প্রচার করা যাবে না? তাহলে মানুষের কাছাকাছি একে পৌছানোর উপায় কি? গনিত অলিম্পিয়াড কি তাহলে আদতে কোন সুফল বয়ে আনছে না?
[ জবাব দিন ]
হাতিয়ার ভয়ের ঠিকই তো। কিন্তু এটা তো শুধু ভয় পাবার নয়, ভয় দেখাবারও,- তাই না?
আসলে ক্ষমতা বলতে তুমি এর নেগেটিভ দিকটাই শুধু দেখছো মনে হচ্ছে। আমি কিন্তু নেগেটিভ-পজিটিভ এর আলোচনায় না। আমি শুধু ক্ষমতা বলে যে একটা কিছু এখানে জড়িত, সেটাই বলতে চাইছি। বলতে চাইছি, জ্ঞানচর্চা যখন ব্যক্তিগত চর্চা থেকে গোষ্ঠির মধ্যে প্রচারের পর্যায়ে উপনীত হয়, তখন সেখানে জ্ঞানের থেকে ক্ষমতা মূখ্য হয়ে ওঠে। আর যখন তা জনগন গ্রহন করে (বা প্রত্যক্ষে/পরোক্ষে বাধ্য করা হয়), তখন তা হাতিয়ারে পরিণত হয়। আর যেকোন হাতিয়ারকে তো আমরা যেভাবে খুশি সেভাবে ব্যবহার করতে পারি (মানে যার ক্ষমতা আছে আর কি)।
[ জবাব দিন ]
অথচ জনপ্রিয় বিজ্ঞানের একজন লেখক দিয়েও আপনি এমন কোন উদাহরণ হাজির করতে পারলেন না। কোন জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখকের কাছে একসময় ক্ষমতাটাই মুখ্য হয়ে উঠেছিল?
[ জবাব দিন ]
বোঝনাই যে হেজেমনি/ক্ষমতা (যেটার কথা আমি এতোক্ষন ধরে বলে আসছি) গোষ্ঠিগত। তাহলে ব্যক্তি লেখক তো আসেনা। ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা কি তা-ও মূখ্য নয়। কাজেই, কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে চাইলেই হেজেমনি তৈরী করতে পারেনা, আবার তার তত্ত্ব/লেখাকে অন্য উপাদানগুলো (শাসকদল, প্রতিষ্ঠান, ইত্যাদি) ক্ষমতা চর্চার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে বাধাও দিতে পারে না।
একারনেই কোন জনপ্রিয়/অজনপ্রিয় লেখককে আমি খুঁজে পাইনি, পাবোও না।
[ জবাব দিন ]
প্রথমতঃ বলে রাখি, এই লেখাটা জাকির নালায়েক বা বিবর্তনবাদ এর আশেপাশেও না। এটা জ্ঞান, জনপ্রিয় জ্ঞান আর ক্ষমতা’র পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক আমার ভাবনা (সত্য উপলব্ধি নয় কিন্তু, কারন গ্রহনযোগ্য বিপরীত যুক্তির মুখে এটা ভেসে যাবার সম্ভাবনায় সব সময় দৌড়ের উপর
)।
উপরের উক্তির প্রসংগ টেনেই বলি, আমার আলোচনা “খাঁটি-বিজ্ঞান”
নিয়ে নয়। কিন্তু যেকোন বিজ্ঞানই যখন ব্যাক্তিগত বলয় ছেড়ে সমাজের পরিধিতে প্রবেশ করে, তা সামাজিক চরিত্র ধারণ করে। আর সেখানে ভাষা-প্রশ্ন অবশ্যই মূল। কারন, ভাষার মধ্যেই জ্ঞানের লেনদেন হয়। আর এই লেনদেন প্রকৃয়ায় সমাজে ব্যক্তির বিদ্যমান সম্পর্কগুলো নতুন করে নির্ণীত হয়। একটা উদাহরণ দেই।-
যখন কোন বিষয়ের জ্ঞান জনপ্রিয় হয় (তা সে যেভাবেই হোক), সেই জ্ঞানের উতস তথা যে ব্যাক্তির কাছ থেকে সেই জ্ঞান উদ্ভুত (অন্ততঃপক্ষে ব্যক্তির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত) তা’র খোজ পড়ে। কাজে কাজেই জ্ঞানের সাথে সেই ব্যাক্তিও জনপ্রিয় হয়। আর কোন জ্ঞান+ব্যাক্তি জনপ্রিয় হয়ে গেলে তা’র নিজের ইচ্ছে-আকাংখা-পরিকল্পনার থেকে সমাজের সংঘবদ্ধ ইচ্ছে-আকাংখা-পরিকল্পনা মূখ্য হয়ে পড়ে।
এখানে এসে জনপ্রিয় জ্ঞান+জ্ঞানীব্যক্তি হয়ে পড়ে ক্ষমতার হাতিয়ারে। তখন সেই জ্ঞানীব্যক্তি ক্ষমতাপ্রিয় হলে তো তার পোয়াবারো, নাচতে নাচতে, বগল-বাজিয়ে সারাবিশ্বে শোনায় তার জ্ঞান+কল্পজ্ঞানের কাহিনী (কপিরাইটঃ ডঃ ইউনূস)। আর যদি সেই জ্ঞানী মানুষের উপকারের জন্য জ্ঞান উতপাদন+জনপ্রিয়তা কামনা করে থাকেন, তাইলে তার জ্ঞানের অপব্যবহারে অনন্তকাল কস্টের আগুনে পুড়েন (কপিরাইটঃ আলফ্রেড নোবেল; আনবিক বোমা যে বানাইছিলো, সেও)।
এটাই বলতে চাইছি।
আর ডঃ আহমদ শরীফের উক্তির তোমার ব্যাখ্যা দিয়ে ভাষার নড়বড়ে ভিত্তিটা আবার দেখিয়ে দেই।-
এই একই উক্তি তুমি যেভাবে ব্যাখ্যা করছে, আশেপাশে খোঁজ করলে অনেককেই পাবে যারা ঠিক উলটো ব্যাখ্যা, মানে লালনকে ছোট করতে ব্যবহার করবে। কাজেই, আরেকজনের কাছ থেকে পাওয়া ধারনা/জ্ঞান/উক্তির ব্যাখ্যায় কিভাবে মূল্যায়ন হবে তা’র বিচারে অনিবার্যভাবেই এসে যায় কে/কারা সেই জ্ঞান/উক্তি/ধারনা ব্যাখ্যা করছে এই বিষয়। এইখানে প্রকৃতজ্ঞান আর জনপ্রিয় জ্ঞানের সাথে ক্ষমতা আবারো এসে পড়ে। যে জনপ্রিয়, তার ব্যাখ্যা সহজেই গ্রহনযোগ্যতা পায় (যেমন, ডঃ আহমদ শরীফ), আর যে জনপ্রিয় নয়, বা এখনো হয়ে ওঠেনি, তার ব্যাখ্যা প্রশ্নে প্রশ্নে জড়জড়িত হতে হতে হয় মিলিয়ে যায়, না হলে ক্ষমতাবানের হাত ধরে আগে জনপ্রিয় হয়ে তারপর গৃহীত হয় (ডঃ ইউনূস), অথবা প্রশ্নের সম্মুখিন হতেই থাকে (যেমন, মুহাম্মদ, তুমি, আমিও
)।
আরেকটা উদাহরন দেই ক্ষমতা আর জনপ্রিয় জ্ঞানের। আজ থেকে দুই বছর আগে বাংলাদেশ নামের একদেশে হঠাত একদল মহাজ্ঞানী-মহাপুরুষ নাজিল হলেন। তাহারা জ্ঞানের নহরের পর নহর বইয়ে দিলেন। জনগনকে আশার নৌকায় তুলে সোনার ধানের স্বপ্নে বিভোর করে দিলেন।এমনকি মহানবী’জি নাকি তাহাদের সিপাহসালা’কে স্বপ্নে দেখা দিয়ে নসিহত দান করেছিলেন। – আর এখন? শুনি, সেইসব মনিষীদের আমলনামার তলব পড়ছে। পার্থক্যটা কিসে? ক্ষমতা। আর আমাদের সরকার বদলের সাথে সাথে নৌকার পালে বাতাসের টান আর ধানের ঝনঝন শব্দ ত শুনতেই আছি, সেই কবে থেকে।
তোমার, মুহাম্মদের আর আমার ‘জনপ্রিয় জ্ঞান’ সম্পর্কে বোঝার ফাঁকটা এইখানে।
আরেকটা কথা, মুহাম্মদের উসিলায় আমার এই আলোচনাটা কোনোভাবেই মুহাম্মদ বা আর কাউকে ছোট করার জন্য নয়, কোনোভাবেই নয়। এই কথা আগেও বলেছি, আবারো বললাম এই জন্য যে, আমার মনে হলো কামরুল আমাকে হালকা ভুল বুঝেছে। আমার এই ধারনা ভুল হলে, আমারই ভুল, কামরুল সঠিক।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই আপনি লেখাটা আমাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন। অথচ আমি যা করি তার ধারেকাছেও কোন উদাহরণ দেননি। এভাবে বললে আমি বুঝবো কিভাবে। এই মন্তব্যে আলফ্রেড নোবেলের ডাইনামাইটের উদাহরণ দিলেন। এটাও আমার কাজ না। আমি প্রযুক্তি নিয়ে খুব বেশী কিছু লিখি না।
আমি চাচ্ছি আপনি ইউনুস বাদ দিয়ে স্টিফেন হকিং বা কোন জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখককে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করুন। নাহলে আমাকে উদ্দেশ্য করে এ লেখার কোনই অর্থ থাকবে না। আমি ক্ষমতা-জ্ঞান অবশ্যই আপনার পোস্ট থেকে বুঝেছি। কিন্তু আমার জনপ্রিয় বিজ্ঞানের সাথে সেটাকে কিছুতেই মেলাতে পারছি না।
উইকিপিডিয়াতেও জনপ্রিয় বিজ্ঞানের সংজ্ঞা বলা আছে:
Popular science, sometimes called literature of science, is interpretation of science intended for a general audience. While science journalism focuses on recent scientific developments, popular science is broad-ranging, often written by scientists as well as journalists, and is presented in many formats, which can include books, television documentaries, magazine articles and web pages.
এটার সাথে জ্ঞান-ক্ষমতাকে মেলানো হয়েছে এমন কিছুই আমি নেটে খুঁজে পাচ্ছি না। আপনার লেখাতেও খুঁজে পেলাম না। আমি উপরে তিনটা নতুন মন্তব্য দিয়েছি, আশাকরি সেগুলোর জবাব দেবেন।
আমি খুব অস্থির হয়ে গেছি। কারণ আমার সবকিছুকেই খুব নিচু মনে হচ্ছে। এমনকি হিস্টরি চ্যানেলের সায়েন্স ডকুমেন্টারি, কার্ল সেগানের ১১ খণ্ডের ডকুমেন্টারি “কসমস” কেও মূল্যহীন মনে হয়ে যেতে পারে। এজন্যই এত ঘনঘন মন্তব্য করছি।
এটা ঠিক আপনি এগুলোকে মূল্যহীন বলেননি, বলেছেন এগুলো একটা হেজেমনির অংশ।
এবারও কিছু বুঝলাম না। আমি মনে করছি কামরুল ভাই আমার “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” এর সংজ্ঞার সাথে একমত। আমি যেটা মিন করছি সেটা আপনি মিন করছেন না, তার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদাহরণ দিলেন। ফাঁকটা বোঝা গেল না।
আমি উপরে পপুলার সায়েন্সের যে সংজ্ঞাটা লিখেছি এই সংজ্ঞা থেকে একটা হেজেমনির উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হতো। অর্থাৎ কার্ল সেগানের অতি বিখ্যাত ডকুমেন্টারি “কসমস” কিভাবে হেজেমনির জন্ম দিল বা এ ধরণের কিছু।
আপনি কিন্তু এখানে ডারউইনের “অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস” (যদিও এটা জনপ্রিয় বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত না, এটা ডারউইন সাধারণ মানুষের জন্য লিখেননি) ও নিয়ে আসতে পারেন। এটা দিয়ে বোধহয় হেজেমনির কিছুটা ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব। আশা করবো “অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস” নিয়ে কিছু বলবেন।
[ জবাব দিন ]
একটু ধৈর্য ধরো ভাইডি। বাইরে যাইতাছি। কাল উত্তর দিমু।
[ জবাব দিন ]
এইখানে তো ভাইডি তোমার জনপ্রিয় বিজ্ঞানের সংজ্ঞা সংকটে পড়ে গেলো। তুমি বলছো, হকিন্স জনপ্রিয়, কিন্তু ডারউইন নয়। ক্যামনে? আমি তো জানি, এই দুইজনের মধ্যে ডারউইনরে যতোজনে চিনবে, তার সিকিভাগও হকিন্সরে চিনবে না। তাইলে কে বেশি জনপ্রিয়?
আবার, তুমি নিজেই বলেছো যে, ডারউইন জনগনের জন্য লেখেন নাই। কিন্তু জনপ্রিয় তো হইছে (যতোটাই হোক)। ক্যামনে? আর ডারউইন না হয় জনগনের জন্য লেখেন নাই, বুঝলাম। কিন্তু হকিন্স, বা অন্য জনপ্রিয় বিজ্ঞানীরাই কি কেউ জনগনের জন্য লিখেছে?
আশা করছি এখন বুঝতে পারবে যে আমি কেনো জ্ঞানচর্চা আর জ্ঞান প্রচারকে আলাদা প্রকৃয়া ও তাদের ফলাফল আলাদা বলেছি।
[ জবাব দিন ]
নাহ আপনার সাথে আমি কোনভাবেই একমত হতে পারছি না।
সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, নিউটন, আইনস্টাইন, ডারউইন এরা সবাই তো জনপ্রিয় হয়েছেন। কিন্তু এরা কেউ জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখক ছিলেন না। এদের বই পড়লে সাধারণ মানুষ কিচ্ছু বুঝবে না। আমি আবারও বলছি জনপ্রিয়দের লেখা বইকে আমি জনপ্রিয় বিজ্ঞান বলছি না, আমি বলছি, যারা সবার বোধগম্য করে লিখেন তারাই জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখক।
জনপ্রিয় বিজ্ঞানী, জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক আর “জনপ্রিয় বিজ্ঞান”-এর লেখক- এই তিনটা কখনই এক না।
তাই ডারউইন জনপ্রিয় হলেও কখনই জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখক নন, কখনই নন। কিন্তু দ্বিজেন শর্মা জনপ্রিয় না হলেও জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখক। আর জনপ্রিয় বিজ্ঞানের সংজ্ঞা আমারটাই সবাই দিয়ে থাকেন। এই সংজ্ঞা মেনেই সবাই জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বই লিখেছেন। স্বয়ং আইজাক আসিমভ। সুতরাং আমার সংজ্ঞা মোটেই সংকটে পড়েনি।
আর স্টিফেন হকিং হলেন বিজ্ঞানী হিসেবে জনপ্রিয় আবার জনপ্রিয় বিজ্ঞানেরও লেখক। দুইটা একসাথে। কারণ হকিং তার ব্রিফ হিস্টরি অবশ্যই জনগণের জন্য লিখেছেন।
একটা প্রশ্ন করি। নোবেল পুরস্কার পেলেও তো লোকে জনপ্রিয় হয়। নোবেল পুরস্কারকেও কি হেজেমনি মনে করেন?
জ্ঞান চর্চা আর প্রচার অবশ্যই আলাদা- কিন্তু দুইটা একসাথে থাকে। হকিং রাই এর প্রমাণ। কার্ল সেগানকেও আমরা বিজ্ঞানী বলতে পারি। জ্ঞান প্রচার করেছেন বলে কি তারা জ্ঞান চর্চা করেননি। আপনি কেন ধরে নিচ্ছেন মানুষকে যেকোন একটা করতে হবে?
[ জবাব দিন ]
দ্বিমত কোথায়? তুমি আমি তো একই কথা কইতাছি যে জনপ্রিয় বিজ্ঞানীরা জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখক ছিলেন না। ঠিকই তো। তারা বিজ্ঞান চর্চা করে গেছেন।
পরবর্তিতে যারা তাদের লেখা পছন্দ করেছে+মনে করেছে সেসব দিয়ে মানুষের উপকার হবে, তাদের চেষ্টার ফলে এসব বিজ্ঞানী+লেখা জনপ্রিয় হয়েছে। ঠিক ত? না কি?
এই যে জনপ্রিয় হওয়া, এটা বিজ্ঞান-চর্চা থেকে তাহলে তো আলাদাই।
[ জবাব দিন ]
আমি কো বলেছিই আলাদা। কিন্তু আপনি আমাকে আপনি বিজ্ঞানের অসার প্রচার বাদ দিয়ে আগ্রহী ছাত্র হতে বলেছিলেন। সেজন্যই আমি বারবার ধরে নিচ্ছি, আপনি বলছেন দুটো একসাথে হয় না। দুটো অবশ্যই একসাথে হয়। কার্ল সেগান এবং স্টিফেন হকিং তার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ। এরভিন শ্র্যোডিঙার এর “What is Life?” বইটিকে একই সাথে বিজ্ঞান এবং “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” এর বলা যায়।
আপনি কিন্তু জনপ্রিয় বিজ্ঞানের প্রচলিত সংজ্ঞা উঠিয়ে নিজের মত একটা সংজ্ঞা বানানোর চেষ্টা করছেন।
[ জবাব দিন ]
তাই নাকি
ধূর মিয়া, তুমি খালি “ভুল পড়ছো”
আমার কমেন্ট/কথাগুলা। আমি কখনোই বলিনি তুমি কি করবে/পড়বে। আমি বলেছি, বিজ্ঞান পড়া আর প্রচার করাটা আলাদা (প্রচারের মধ্যে বিজ্ঞান আর শুধুই জ্ঞান থাকে না, ক্ষমতারও অংশ হয়ে পড়ে)।
আরেকটু খিয়াল কইরা……
[ জবাব দিন ]
মোটেও ঠিক না। এটাও তোমার একপক্ষিয় পঠনের কারনে, আমার কথার উপর ভিত্তি করে নয়। আমি কোন সংজ্ঞা বানাবার মধ্যে নাই…
[ জবাব দিন ]
ড. আহমেদ শরীফের উক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে দেয়া উদাহরনটায় জনপ্রিয় জ্ঞানের সাথে ক্ষমতার সম্পর্ক অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। এইটা ঠিক বলছেন। অন্য ভাবেও যে অনেকে ব্যাখ্যা করতে পারে তা ভাবিনি।
এইজায়গায় আমার খুব সহজ সরল কিছু প্রশ্ন, যেমনঃ
১.
ধরুন, আহমেদ শরীফ বলেছে, এইটা ভুলে যাই, শুধু “লালন শিক্ষিত হলে ববীন্দ্রনাথের মত কবি হতো” এই স্টেটমেন্ট পড়ে আপনার কি মনে হয়? এটা লালনকে ছোট করার জন্যে না তার প্রতিভা বুঝানোর জন্যে?
অন্য কোন কারন নেই, শুধু জানতে চাইছি, আমি ভুল করছি কিনা এটা বুঝতে?
২.
জনপ্রিয় জ্ঞান+জ্ঞানী ব্যাক্তি থেকে ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে পড়ার ধাপ আমরা দেখলাম। যা উসিলায় এই আলোচনার সুত্রপাত, সেই মুহাম্মদের সাথে এখন পর্যন্ত আমি এই তত্ত্বের সম্পর্ক খুঁজে পাইনি।
আপনি পেয়েছেন কি?
শেষ কথা।
আমারে লজ্জা দিয়েন না। আমি আপনাকে ভুল বুঝি নাই। আমার কোন ভুল হচ্ছে কিনা, সেটাই বারবার জানতে চাইছি। আমি কোন কিছুকেই যথার্থ ধরে নিয়ে বসে থাকতে রাজি নই। আপনার মতো আমিও গ্রহনযোগ্য বিপরীত যুক্তির মুখে আমার নিজের যুক্তি ভেসে যাক এটাই চাই।
বুঝতে একটু সময় লাগে তাই বারবার জিজ্ঞেস করি। আশা করি অধম ছোট ভাইকে ক্ষমা করবেন ।
[ জবাব দিন ]
পুরোটা পড়লে আহমদ শরীফের উক্তির নাড়ী-নক্ষত্র বোঝা যাবে। আহমদ শরীফ লোকসাহিত্যকে উৎকৃষ্ট মনে করতেন না। এ প্রসঙ্গেই হুমায়ুন আজাদের সাথে তার আলাপ হয়-
হুমায়ুন আজাদ: আপনি কি মধ্যযুগের সাহিত্য ও লোকসাহিত্যের প্রতিশ্রদ্ধাশীল?
আহমদ শরীফ: আমি কখনও তারিফ করিনি। আমি তাদের অক্ষমতার কথা বলেছি। ওই সাহিত্য অক্ষমতার সাহিত্য। লোকসাহিত্য অক্ষমের সাহিত্য অশিক্ষিতের সাহিত্য প্রাকৃত জনের সাহিত্য। “লোক” শব্দটিই অবজ্ঞাজনক, গান্ধির হরিজনের মত। তাঁরা উৎকৃষ্ট সাহিত্য সৃষ্টি করেননি, তবে প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। লালন ফকির যদি শিক্ষিত হতেন, তাহলে রবীন্দ্রনাথের সমকক্ষ কবি হতেন।
এটাকেও কোন একটা হেজেমনি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু হেজেমনিটা এখানে করছে কে? আহমদ শরীফ তো জীবদ্দশায় কারো কাছ থেকেই স্বীকৃতি পাননি। সাহিত্য সম্পর্কে তিনি যা বুঝেছেন তাই অকপটে বলেছেন, কারও হেজেমনির পরিকল্পনা বা মনোভাবের ধার ধারেননি।
[ জবাব দিন ]
ডঃ আহমদ শরীফের মন্তব্যের পুরা কন্টেক্সট তুলে দিয়ে ভালো করেছো।
ডঃ শরীফ কিন্তু ঠিকই বলেছেন যে লালন এবং অন্যান্য লোকসাহিত্যিকরা প্রতিভাবান, কিন্তু তাদের সাহিত্য অক্ষমের (যার ক্ষমতা নাই, সেই ত অক্ষম) সাহিত্য, কাজে কাজেই তা সক্ষমের (পড়ুন শিক্ষিতের) সাহিত্যের তুলনায় “বেল নাই”। ডঃ শরীফ বেল দেনও নাই।
এখানে লক্ষ্যনীয় যে, প্রতিভা শুধু থাকলেই চলবে না, সমাজে তার স্বীকৃতিও লাগবে, যেটা আসবে সমাজ-স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট+প্রকাশণা+বুদ্ধিজীবিদের (তার মানে সামষ্টিক ক্ষমতার) আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে। তা না হলে “বেল নাই”। তা সে যতো অথৈ জ্ঞানের সাগরই হোক না কেনো।
[ জবাব দিন ]
সম্পর্ক না পাবার কি হলো?
মুহাম্মদ আমারে জিগাইছে জ্ঞান, জনপ্রিয় জ্ঞান, আর ক্ষমতার সম্পর্কে আমার কি মত। আমি তো তা’ই কইছি। না কি? এর বাইরে আর কোন সম্পর্ক ত ভাবি নাই।
[ জবাব দিন ]
আমি এখানে আমার কিছু পয়েন্ট বলছি:
১) আমি মুহাম্মদের লেখায় কোনো ‘হেজেমনি’ দেখছিনা। মুহাম্মদ ‘hard science’ কে সহজ করে সবার জন্য ব্যখ্যা করে লিখছে। এতে অনেকেই বিজ্ঞানের অনেক বিষয়ে জানছে। বাংলাদেশে যতদিন মানুষ বিজ্ঞানমুখী না হবে, আমাদের দেশ দরিদ্রই থেকে যাবে – অর্থনীতি, শিক্ষা সবদিকে। কে কি বিষয়ে লেখাপড়া করে স্পেশালাইজ করছে, সেটা এখানে বলছি না। মানবিক বা বিজ্ঞান, সব জ্ঞানের বিষয়ে সবাই পড়বে। কিন্তু বিজ্ঞানবিমুখ হয়ে কেউ যদি এখনো ভেবে বসে থাকে যে মানুষের চাদে যাওয়া একটা hoax, বা সে রকম আরো অনেক কিছুই। বা বিজ্ঞানকে ভয় করে, সেটা হচ্ছে এ কারনে যে, আমাদের দেশে বিজ্ঞান নিয়ে লেখা হয় খুবই কম। একটা ভালো বিজ্ঞানপত্রিকা কি এদেশে আছে? এখানে মুহাম্মদ বিজ্ঞান বিষয়ে ব্লগ লিখে কিছুটা হলেও এ ঘাটতি পুরন করছে।
২) আমি ‘hard science’ এর কথা উল্লেখ করেছি কারণ মুহাম্মদের লেখা এ নিয়েই। physics, chemistry, biology, astrophysics, astrobiology, genetics, etc – ইত্যাদি যে কোনো বিষয় এর আওতায়। এখানে evidence ছাড়া কোনো সত্য নেই। সে যত বড় বিজ্ঞানীই যা বলুক না কেন। Aristotle এর অনেক কথাই পদার্থবিজ্ঞানে ইনভ্যালিড। তেমনি আইনষ্টাইনেরও অনেক কিছু ভুল – যেমন quantum measurement নিয়ে নীলস বোর এর আইডিয়ার সাথে কখনো সে পেরে ওঠেনি। এখানে নাম দিয়ে কেউ তার থিওরী/আইডিয়া কারো উপরে চাপাতে পারবেনা যদি না তা scientifically tested fact হয়। এ জন্য বিজ্ঞানের কোনো বিষয় নিয়ে লেখার মধ্যে আমি ব্যক্তিগত মতবাদের আনাগোনা কমই দেখি – এটা মুহাম্মদের জন্যও সত্য। এটা নিয়ে ৪) এ আরো লিখেছি।
৩) মানবসভ্যতার সব জ্ঞানকে তিন ভাগে ফেলা যায় –
ক) nature, natural facts – বিজ্ঞানের বিষয়গুলো এর আওতায়
খ) interactions within human society, life, – সাহিত্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রেম, আইন ….সব এর আওতায়
গ) technology – exploiting nature for human existence -সব প্রযুক্তি এর আওতায়
জ্ঞানের বড় একটা অংশ ‘hard science’ (ক) এর বাইরে। (খ) ক্যাটেগরি তে যত কিছু আছে, এতে science এর মত verifiable fact খুব কম – সত্যটা আপেক্ষিক। এর কারন মানুষ সবাই সবার থেকে আলাদা। সবাই তাদের চিন্তাকেই, এবং জীবনধারাকেই সঠিক মনে করে। (পয়েন্ট (১২) দেখুন)। মানুষের মন এবং বাচার উপায় নিয়ে এ বিষয় গুলো নিয়ে সবাই নিজেকে প্রকাশ করে নিজের মত করে। এ ক্ষেত্রে ‘হেজেমনি’ টা খুব বেশি। কেউ একবার নাম করতে পারলে, তার সব কিছুই কেনো যেনো সাবই ঠিক মেনে নেয়। আহমদ শরীফ তার জ্ঞান থেকে যা বলেছে, সেটা অন্য কারো কাছে ভুল লাগতেই পারে। কিন্তু বিভিন্নভাবে যুক্তি দেয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ কিছু লিখে গেলেই সেটা যে মানতে হবে তাতো না। ইউনুস কি করছে তার পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি দেয়া যায়। আমি তো কখনো তার লোন নেইনি, কারো উপকার হয়ে থাকলে সেটাতো একাডেমিক আ্যনালআইসিস করে ঠিক উড়িয়েও দিতে পারিনা। সমাজবিষয়ে পাশ্চাত্যের কোনো চিন্তাধারা অন্যের উপরে কেউ যদি চাপাতে চায় শুধু এ কারনে যে সেগুলো উত্তম – সেটা এক ধরনের ‘হেজেমনি’। মাহমুদ যা বলেছে সবকিছুর সাথেই আমি একমত – কিন্ত এটা কেবলমাত্র (খ)ক্যাটেগরির জ্ঞানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে আমি মনে করি। (ক)ক্যাটেগরির “hard science” এ না।
৪) এখন বলা যায় জনপ্রিয় বিজ্ঞান বলতে কি বোঝায়? এখানে কি আমরা (ক) এর বিষয়কে (খ) এর মধ্যে নিয়ে এসেছি? বিবর্তনবাদ নিয়ে কথা বললে হয়তো তাই মনে হয় – অন্যের উপর নিজের পছন্দের কিছু মতবাদ চাপানোর চেষ্টা। কিন্ত এর scientific fact নিয়ে কথা বলার মধ্যে আমি অন্য কিছু দেখছি না। বিজ্ঞান হিসাবেই এটা আমাদের দেখতে হবে। কারো যদি কিছু ভালো না লাগে সেখানে যুক্তি দিয়েই কথা বলতে হবে – জাকির নায়েকের মত ভুলভাবে না। এখন বলা যায় সে যে ভুল এটা কে নির্নয় করবে – এখানে কি কোনো bias কাজ করছে না। সেটাও fact দিয়েই করতে হবে। ভুলভাবে করলে সেটাও ভুল।
৫) কেউ কিছু লিখলে সেটা তার নিজের ধারনার প্রতিফলন। বিজ্ঞান নিয়ে যারা লিখে, তারা কিন্ত নিজের মনের ধারনা লিখছে না – অনেক মানুষের অর্জিত জ্ঞানের কথা লিখছে। যারা বিজ্ঞান জনপ্রিয় করেন তারা অনেকেই বিজ্ঞানী না। তারা কেউই আমার জানামতে নিজের মতবাদ প্রচার করছে না।
৬) বিজ্ঞান মানুষকে অনেক ক্ষমতা দেয়। এটা সবার জন্যই। পাশ্চাত্যের একার না। আমরা এবং এ দেশের সরকার যদি বিজ্ঞানকে না বোঝে বা গ্রহন করে, আমরা পিছিয়েই থাকব।
৭) আমার তো মনে হয় ফুকোর আলোচনা সমাজবিজ্ঞানে খুবই প্রযোজ্য। এটাকে fact based science এ টেনে নিয়ে ক্ষমতার আলোচনা করা ঠিক হবে না। বিজ্ঞান আমাদেরও, এটা শুধু
পাশ্চাত্যের না। আর কতকাল আমরা পাশ্চাত্যের আবিষ্কারকে আমাদের জীবনে ব্যবহার করব? আমাদেরও কি উচিত না কিছু অবদান রাখার। আমরা যা অবদান রেখেছি এতে কম্পিউটার ব্যবহার যোগ্যতা আমাদের হয়নি (হয়তো বেশি বললাম, অনেকটা এ রকমই)।
৮) জগদীশ বসু আমাদের একজন world class বিজ্ঞানী, অনেক অবদান। অথচ তার কোনো লেখা বা তার কিছু নিয়ে তো আমি কোথাও কিছু লেখা দেখিনা যেটা আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ এদের লেখার মত ক্ষমতায়ন দিয়ে ব্যখ্যা করা যায়। কারন এখানে মতবাদ চাপিয়ে দেয়ার কোনো ব্যাপার নেই।
৯) অনেক কিছুই লেখা যায়। কিন্তু বিষয়টা আমার মনে হয় জটিল করা হচ্ছে। বিবর্তনবাদ সবসময়ই controversial ছিল দেশ কাল সমাজে। সেখান থেকে – ক্ষমতায়ন, জনপ্রিয়তা – এগুলো সমাজের অনেক কিছু নিয়েই এনালাইসিস করা যায় – কিন্ত science for science. সেখানে অন্য কিছু আনা ঠিক না।
১০) আমাদের কটা ছেলে কোয়ান্টাম মেকানিক্স কি সেটা জানে? অথচ ১৯৫০ এর পর দুনিয়ার প্রায় সব টেকনোলোজিই এই জ্ঞানের ভিত্তির উপর। ইলেকট্রন, অনু, পরমানু কিভাবে movement করে, কিভাবে সিলিকনে ইলেকট্রন কনডাকশন ব্যান্ড হয়, সেটা এনালাইসিস করে যারা transistor, microchips, এগুলো বানিয়েছে, সেটা দিয়েই আজ সব computer, cell phone, cd player (laser), dvd player, anything programmable has a chip, microwave oven, car stereo, tv, rocket, satellite etc etc. ১৯২০ সালে আমাদের যে জ্ঞান ছিল, সেটা দিয়ে electricity, radio সম্ভব ছিলো, কিন্ত এসব কিছুই হত না। কোয়ান্টাম মেকানিক্স কি সেটা একজন লেম্যান হিসেবে জানার মধ্যে নিজের জ্ঞানের ক্ষমতায়নই হয়। অন্য কোনো কিছু না।
১১) সব জনপ্রিয়তার খারাপ দিক আছে। অনেক বিজ্ঞান জনপ্রিয়কারীরা সাধারনের মাঝে বিজ্ঞানী
নামে পরিচিত। অনেকে এই সুযোগে সামাজিক বিষয়ে নিজের মতবাদ প্রচার করে। এবং সবাই সেটাকে ঠিক মনে করে। মাহমুদের ক্ষমতায়নের আলোচনা এদের জন্য প্রযোজ্য বলে আমার মনে হয়। অথচ অনেক বিজ্ঞানী্ই খুবই ইমপরট্যান্ট কাজ করেও জনপ্রিয় হয় না বা হতে চায় না। যেমন – William Bardeen, Linus Pauling, Frederic Sanger – এরা সবাই দুবার করে নোবেল পেয়েছে, অথচ অনেকেই তাদের নাম জানে না।
******
১২) আমাদের দেশে আমরা গরু জবাই করি। আমেরিকাতে গুলি করে মারে। আমাদের দেশে আমরা মনে করি আমেরিকানরা পাশব। আমেরিকানরা মনে করে আমরা পাশব। কিভাবে আমরা এত কষ্ট দিয়ে একটা পশু হত্যা করি। কারা ঠিক? এখানে কি western, oriental বলে কিছু আছে?
[ জবাব দিন ]
সোহেল ভাই আপনার কথাগুলো খুবই পছন্দ হয়েছে।
আমিও অনেকটা এরকম বলতে চাচ্ছিলাম। মাহমুদ ভাই লেখাটা লেখার পর থেকেই আমি মন্তব্যে বলে আসছি, জনপ্রিয় বিজ্ঞান বলতে আমি যা বুঝিয়েছি (অর্থাৎ বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান-সাহিত্যিকেরা যা বোঝান) সেটার ভিত্তিতে হেজেমনির ব্যাখ্যা দিন। মাহমুদ ভাই সেটা না দিয়ে ডাক্তারি আর অর্থনীতি দিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন। জনপ্রিয় বিজ্ঞানের দিকে গেলেনই না। আমি আবারও জিজ্ঞেস করাতে বললেন, ফুকোর লেখা খুঁজলেই পাওয়া যাবে। কিন্তু আমি এই অজপাড়াগাঁয়ে ফুকোর বই পাব কোথায়। আর ফুকো নিয়ে তো খুব একটা আগ্রহী নই, সেটা এত তন্নতন্ন করে খোঁজার সময়ও আমার নেই। তারচেয়ে বিজ্ঞান-সাহিত্যের কিছু বিষয় পড়লে ও লিখলে আমার সময়টা ভাল কাটবে।
আমার আরেকটা সুন্দর ব্যাখ্যা মনে এসেছে। বিজ্ঞানকে অবশ্যই ক্ষমতা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সেটা বর্তমানকালের জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখকেরা করছেন না। সেটা করছে ধর্মবাদীরা। যেমন জাকির নায়েক বা হারুন ইয়াহিয়া জোর করে বিজ্ঞানের সাথে ধর্মকে মিলিয়ে প্রচারনায় নেমেছে। এটাকে বলা যায় হেজেমনি।
কার্ল সেগানকে ভুলেও হেজেমনি বলা যায় না।
সোহেল ভাইকে অনেক ধন্যবাদ।
[ জবাব দিন ]
তোমার কমেন্টে আমার উত্তরগুলো ভালো করে পড়। তারাহুড়া করার কিছু নেই। সব উত্তর দিয়েছি। না পেলে বলো। আলাপ করে দেখি। আমার ভুল থাকতেই পারে। আমি শুধরে নিবো।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই, এটা ইচ্ছাকৃত না। দ্রুত টাইপ করার কারণে বাদ পড়ে গেছে। সম্পাদনা করে ঠিক করে দিচ্ছি।
[ জবাব দিন ]
আবার পড়েছি। কোন উত্তরই পাইনি।
আমি বারবার বলে আসছি, আপনি একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখক দিয়ে পুরো ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করুন। আমি বুঝে যাব। এসব কমেন্টের উত্তর না করে নিচে একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখক বা রচনাসমগ্র দিয়ে ব্যাখ্যা করুন।
আমার সন্দেহ আরও বেড়ে গেছে এই কারণে যে, আপনি জাকির নায়েক গ্যাং এর প্রচারণাকে হেজেমনি বলছেন না। তাহলে সেটা কি?
[ জবাব দিন ]
পাবে না। পাবার কথাও না। কারন, তুমি এই বিতর্কে আসছো কিছু ধারনাকে সঠিক/স্থির ধরে নিয়ে+কিছু সন্দেহ নিয়ে।
এক, তুমি ধরে নিয়েছো যে জনপ্রিয় বিজ্ঞানীরা প্রচারও করে।
দুই, ব্যক্তি হেজেমনি তৈরী করে,
……আরো কিছু আছে, তবে বোঝানোর জন্য দুটোই যথেষ্ট।
আর সন্দেহগুলো হলো-
এক, আমি জাকির নায়েক, তথা ইসলামপন্থিদের সেভ করার চেষ্টা করছি,
দুই, আমি ব্যক্তিগতভাবে তোমাকে হেয় করার চেষ্টা করছি।
এগুলো তোমার মন্তব্যগুলো পড়ে আমার
অনুমান।
ভুল হলে বলো, শুধরে নিয়ে মুছে দিবো।
আর এগুলো যদি আসলেই ঠিক হয়, তাহলে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমার এই সাতখন্ড রামায়ন-কাহিনী পুরাটাই ব্যর্থ।
কেন, আশা করি বুঝতে পারবে।
[ জবাব দিন ]
অনেকক্ষণ আমার কমেন্ট পাবলিশ হয়নি। এখন হয়েছে দেখছি।
[ জবাব দিন ]
সোহেল ভাই,
ধন্যবাদ আমার লেখাটা পড়ে কমেন্ট করার জন্য।
কিন্তু বস, আপনি ভুল অনুমান ধরে নিয়ে কমেন্টটা করেছেন। প্রথমতঃ আমার এই লেখা কোনভাবেই মুহাম্মদের বা বিবর্তনবাদের বিষয়ে সম্পর্কিত না। এটা শুধুই ফুকোর মতে জ্ঞান আর ক্ষমতার মাঝে সম্পর্কের আলোচনা। আমার নিজেরও মৌলিক কিছু না (উপস্থাপনাটা ছাড়া)। আর ফুকোর কথা মুহাম্মদই তুলেছিলো, তাই শুরুতে ওর নাম এসেছে।
ভালো-খারাপ আমার আলোচনার বিষয়ই নয়, কোনভাবেই না। আশা করি, এই অনুমান ধরে পড়লে এটা পরিস্কার হবে।
[ জবাব দিন ]
আমি কখনোই বলিনি মুহাম্মদের লেখায় হেজেমনি আছে। এই বিষয়টা পাঠকের আরোপিত। আমি শুধুই জ্ঞান, জনপ্রিয় জ্ঞান আর ক্ষমতা বিষয়ে আমার বক্তব্য তুলে ধরছি।
এটা বিবর্তনবাদেরও সমালোচনায় নয়।
হেজেমনি কি তা মুহাম্মদের কয়েকটা কমেন্টের সাথে আমার কমেন্ট মিলিয়ে পড়লেই আশা করি পরিস্কার হবে।
[ জবাব দিন ]
সহজ কথা কইতে আমায় কহ যে
সহজ কথা যায় না বলা সহজে
ধুত্তোরি, আমার ব্যাঞ্চাই।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই, বিশুদ্ধ বিজ্ঞানকে হেজেমনি হিসেবে ব্যবহারের প্রমাণ অবশেষে আমিই খুঁজে পেয়েছি। দেখেন ঠিক হয় কি-না-
- হারুন ইয়াহিয়া, জাকির নায়েক, উইলিয়াম ক্যাম্পবেল, রবিশঙ্কর, মরিস বুকাইলি এরা বিজ্ঞানকে সমাজে প্রভাব খাটানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে। এটা সুস্পষ্ট হেজেমনি। কারণ তাদের উদ্দেশ্যটা কাউকে বিজ্ঞান শেখানো নয়। সহজ কথায় বিজ্ঞান শেখানোকে আমি হেজেমনি মনে করি না, কারণ এটা সেভাবে পরিকল্পিত নয়। কিন্তু এরা যা করছে সেটা সুস্পষ্ট হেজেমনি- এর উদ্দেশ্য ধর্মকে বৈধতা প্রদান। তারা জানেন আজকালকার মানুষ বিজ্ঞান শুনলে বেল দেয়, তাই তারা বিজ্ঞানকে জোর করে ধর্মের সাথে মিলিয়ে তাদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
- এর আরও প্রত্যক্ষ উদাহরণ আছে। জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বই এমন লোকেরাই পড়ে যারা বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী এবং কিছুটা হলেও বুঝে। কিন্তু ধর্মীয় বিজ্ঞানের বই যারা পড়ে তারা বিজ্ঞান সম্পর্কে আসলে আগ্রহী নয়, তারা নিজেদের ধর্মকে বৈধতা দেয়ার জন্য বইগুলো পড়ে। এক্ষেত্রে তারা সুস্পষ্টভাবে একটি শক্তির দ্বারা প্রভাবিত। এই শক্তি হল মধ্যপ্রাচ্যের তেলের টাকায় গড়া বিশাল ব্যাকবোন। ওরিয়েন্টালিজম যেমন হেজেমনি ঠিক তেমনই প্রাচ্যের এই পৃষ্ঠপোষকতা হেজেমনি।
কিন্তু পাশ্চাত্য, প্রাচ্য কোন জায়গার জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বইগুলোই হেজেমনি নয়। আবারও বলছি জনপ্রিয় বিজ্ঞান বলতে আমার সংজ্ঞা এবং উদাহরণগুলোই বুঝাচ্ছি।
[ জবাব দিন ]
হেজেমনি সম্পর্কে তোমার ধারনাটা আগের মতোই, ব্যক্তি-কেন্দ্রিক। কিন্তু আমি বলছি এটা সামষ্টিক, ব্যক্তি এখানে অনেক উপাদানের (শাসনযন্ত্র, ক্ষমতাধরদের সংঘ, ইত্যাদি) মাত্র একটা। কাজেই, ব্যক্তি হেজেমনি তৈরী করে বা করতে পারে এটা ঠিক না।
[ জবাব দিন ]
ব্যক্তি কোথায়? আপনি বলেছেন হেজেমনি কিভাবে হয়:
ধরুন কার্ল সেগানের মত কোন লেখক খুব ভাল লিখেন। কিন্তু জনপ্রিয় হতে পারছেন। এখন ক্ষমতার মাধ্যমে তার লেখাকে জনপ্রিয় করা হলো। এটাই তো হেজেমনি।
জাকির নায়েক ব্যক্তি হিসেবে করছেন না। তিনি জনপ্রিয় হয়েছেন ক্ষমতার মাধ্যমেই। তার পেছনে কাজ করছে পুরো প্রাচ্য। আমি এখানে মোটেই ব্যক্তিগত কিছু বুঝাচ্ছি না। আমি সেই পুরো গ্যাং এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বুঝাচ্ছি।
আপনি কি আসলেই ইসলাম-বিজ্ঞানের প্রচারটাকে হেজেমনি বলছেন না। যদি না বলেন তাহলে ধরে নেব আপনি মুসলমান বলেই ওদের পক্ষ নিচ্ছেন।
আপনি জনপ্রিয় হতে হলে অন্তত লাখ তো হতেই হবে। বর্তমানে কিন্তু দ্বিজেন শর্মার চেয়ে জাকির নায়েকদের জনপ্রিয়তা অনেক বেশী। অন্তত জনপ্রিয় বলতে যা বুঝায় সেটা জাকির নায়েকরাই। তারপরও হেজেমনি বলবেন না। আর একজন ডারউইনবাদ নিয়ে কিছু লিখলেই হেজেমনি বলবেন?!
[ জবাব দিন ]
জাকির মিয়া অবশ্যই এখন একটা হেজেমনি’র মধ্যে। তুমি ঠিকই কইছো যে আরো অনেক শক্তি+দলীয় স্বার্থ (মধ্যপ্রাচ্যের)তার পিছনে আছে। আমিও তো তাই বলি। এখানে বিরোধটা কোথায় তোমার-আমার?
একটা পার্থক্য কিন্তু আছে, দেখিয়ে দেই-
তুমি একটা অনুমান ধরে নিচ্ছ+তার ভিত্তিতে ক্যাটাগরাইজ করে ফেলছো (আমি মুসলমান বলে……)। প্রমান নয়, ভিত্তিটা অনুমান, তাও এতোটাই তারাহুরা যে আমি আমার অবস্থান ব্যাখ্যা করা বা ভুল থাকলে তা শুধরানোর সুযোগ দেবার আগেই।
আর আমি? বুঝে নিও……
উপরের কমেন্ট+আমার প্রতিউত্তরে আসো। আসল আলাপ ঐখানে।
[ জবাব দিন ]
আগে তো কন নাই, নায়েকরা হেজেমনির মইধ্যা আছে। এখন বললেন, স্বস্তি পাইলাম। এখন উপরে গিয়া আরও পড়ি, আরও আলাপ করি। থ্যাঙ্কিউ…
[ জবাব দিন ]
জাকির নালায়েকের কথা যেই না কইছি। পোলায় কি খুশীইইই…………
আরে, আগে কইবা তো? তাইলে তো অনেক আগেই কইতাম।
তোমার সমস্যা হচ্ছে কি জানো, তুমি ধরে নিয়েছিলে যে আমি
জাকির নায়েকের প্রেমে পড়ে আছি। তাই কোন উদাহরনে তারে টাইনা আনি নাই। ভূল, বড্ড ভুল। আমি আমার প্রথম সম্বোধনেই তারে “নালায়েক” কইছি। তোমার একপেশে পঠন এটা দেখতে দেয় নাই।
আমি আসলে কোন ব্যাক্তির নামই এই আলোচনায় আনি নাই, এক গ্রামসি ছাড়া। সবই এসেছে তোমার কথায়। কাজেই……
আরেকটু খিয়াল কইরা……।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ আমি একটা জিনিস খিয়াল করলাম, তুমি শুধু সুত্র ধরিয়ে দিচ্ছ, কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছনা, সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছ পাঠকের উপ্রে। তোমার এই ষ্টাইল আমার মত চোথাবাজ পাঠকের জন্য বড়ই কষ্টের, তাই তোমারে মাইনাস।
অন্যদিকে মুহাম্মদ বেচারা বারবার তোমার মত জানতে চাচ্ছে, তুমি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছ, স্পেসিফিক উদাহরন চাচ্ছে তুমি রহস্য করছ, তোমার এইটারেও মাইনাস
আরে বাবা, বাচ্চা একটা পোলা, কতই বা বয়স, এর মাঝে পড়শুনা, ইউনি ল্যাব, এর পর কত শত হাবিজাবি, তুমি তারে সব কিছু সহজ করে দিবা তানা জটিল থেকে জটিল করে দিচ্ছ।
আমি তো পয়লাই বুঝতে পারছি জাকির নায়কের হেজেমনি ব্যাপারটা নিয়া মুহাম্মদ একটু কনফিউজ হই রইছে, এইটা আমার মত নাদান ধরতে পারছে আর তুমি পার নাই একটা ক্যাম্নে কই, নিশ্চয়ই তুমিও পারছ, ব্যাপারটা ক্লিয়ার কর নাই, অথবা যেই লেভেলে কইলে মুহাম্মদের ক্লিয়ার হইত ওই লেভেলে কও নাই, অনেক প্যাচায় প্যাচায়, ফুকো, মুকো ভাইজা তাপ্রর কইছ, বক্র পথে গেছ, এইজন্য তোমারে আরেকবার মাইনাস
শেষে একটা কথা কই, মুহাম্মদের বয়স অনেক কম, কিন্তু প্রচুর জানার আগ্রহ আছে, তুমি তারে কনফিউজ না কইরা সোজা সাপ্টা কিছু টিপস দিলেই তো পার, কারন এইটা অনেক ভয়ের যদি সে ভুল জিনিস নিয়া সময় খাইয়া ফেলে অনেক বেশি। একজন ভাল সিনিয়র হিসাবে এইটা তোমার দায়িত্ব, কথা বুঝাইতে পারছি
দূর, আমার মত আম-জাম পাব্লিক কি করে এইখানে, আমারেই মাইনাস
[ জবাব দিন ]
………
বস, আপনে আছেন তাইলে?
মুহাম্মদের ব্যাপারে বলার আগে এইখানে আপনে যে একটা দারুন বিষয় নিয়ে এসেছেন, তা’র জন্য
বিষয়টা কি?- তা হলো, আপনে বস মানুষ হয়েও ধরতে পারছেন না সূত্র দেবার পরেও। তাইলে আম-জনতা ধররো ক্যামনে? এই কারনে, জনপ্রিয় জ্ঞান- তা সে বিজ্ঞানই হোক আর অ-বিজ্ঞানই হোক, তা’কে জনগনের লেভেলে নামিয়ে আনতে হয়। এখানে লক্ষ্য করেন, “জনগনের লেভেল”। সেটা কি? সেই লেভেলে গেলে প্রকৃত জ্ঞানের কি অবস্থা হতে পারে চিন্তা কইরা কন দেহি।- আমার মতে, এই কারনেই প্রকৃত জ্ঞানী/বিজ্ঞানীরা কখনো জনপ্রিয়তার কথা ভেবে জ্ঞান চর্চা করেনা (ব্যতিক্রম থাকতে পারে, কিন্তু ব্যতিক্রম ত গোনার বাইরে, তাই না?)।
মুহাম্মদ শারীরিক বয়সে ছোট হতে পারে, কিন্তু বুদ্ধিতে নয়
। আর ওর লেগে-থাকাটা দেখেন? আমি রীতিমতো ঈর্ষীত। কিন্তু ও আসলে একটা ধারার মধ্যে চিন্তা করছে। তাই আমি যে লেভেলে ওকে আনতে চাইছি, সে আসেনা। উলটা দেখেন না ক্যামনে আমারে দিয়া কথা আদায় করলো যে জাকির মিয়া দুইনম্বর পাব্লিক।
আর ফূকো-মুকো নিয়া আমারে দোষ দেন ক্যান, আমি কি কোন লেখায় কারো রেফারেন্স দিছি এই পর্যন্ত? ও-ই না কইলো নামগুলা। আর তাই আমি ওদের আসল তত্ত্বগুলা নিয়ে হাজির হইছি। আমি কোন প্রচারের মধ্যে নাই, কারো তত্ত্বই না। কিন্তু দেখলাম মুহাম্মদ প্রবল আবেগে একটা কাজ করে যাচ্ছে কিছু আশু সংকটের কথা না ভেবেই। অনেক কিছু ঠিকমত বিচার না করেই সঠিক ধরে নিচ্ছে (যেমন, উইকি থেকে নেওয়া জনপ্রিয় বিজ্ঞানের সংজ্ঞাটা। প্রচারের কাজে কিছু সুবিধা হলেও এটা খুবই দূর্বল, আর তাই তত্ত্বীয় আলোচনায় অকেজো। আর আমি কিন্তু উদাহরন দিছি, স্পেসিফিকই। ভালো করে দেখেন)। তাই চাইছিলাম ওরে সতর্ক করে দিতে, আবেগ ছিনতাই+আশা-ভঙ্গের কষ্ট আমি বুঝি বলেই। আর কিছু না।
[ জবাব দিন ]
এইটা বুঝবার পারছি, ও “দুনিয়ায় ধর্ম যে অপ্রয়োজনীয় হই গ্যাছে” এই প্রজেক্ট হাতে নিছে।
ওর যদি এই প্রজেক্ট ইফেক্টিভ মনে হয় ঠিক আছে, তুমি ওরে ওর লেভেলে গিয়া বুঝাও, ওরে কনফিউজ কর ক্যান? সাথে সাথে তোমার ডিসিশান দিয়া ফালাও, কোন কামটা তোমার মতে সঠিক আর কোনটা সময় নষ্ট। মুহাম্মদ মানলে মানব, না মানলে নাই। ব্যাস, কাম শেষ।
টানাটানি কর ক্যান?
যাউজ্ঞা আমি আমার মত কইলাম আর কি, আমি আর কি, আম পাব্লিক, ভাত আর রুটি খাই, অফিস শেষে বাড়িত যাই। আমার কথায় সেন্টু খাইওনা আবার তোমরা দুইজন, ঐ যে কইছিলাম না, আমি সাদাসাদি মানুষ, সোজা পথে হাটি।
[ জবাব দিন ]
আমি সেন্টু খামুনা বস। কারন, আমি তো আমার কথাও কইতাছিনা, বা যাদের কথা কইতাছি, তাগো প্রেমেও পড়ি নাই। তবে জ্ঞানচর্চার (তত্ত্ব প্রসব করা না, তত্ত্বের ছিদ্রান্বেষণ করা
) প্রেমে পড়তে ইচ্ছা করে।
আমি জ্ঞানচর্চা ও প্রচারের মধ্যে আগেরটা বাইছা নিছি, সংগত কারনেই।
আমি কাউকে জ্ঞানদানের মধ্যে নাই। আগে নিজে জেনে নেই ভালো করে। তারপরে জাতি চাইলে জনস্বার্থে……
কিন্তু তখন শুদ্ধ জ্ঞানচর্চা এক্কেরে বন্ধ।
[ জবাব দিন ]
একেবারে আমার observation. আলোচনাটা আরও ছোট করা যেত।
[ জবাব দিন ]
এতক্ষণে যা বুঝলাম এবং যা করবো
১. তুমি ধরে নিয়েছো যে জনপ্রিয় বিজ্ঞানীরা প্রচারও করে
ভুল। আমি এমন কিছু ধরে নেইনি। আমি তো বলেছিই নিউটন, আইনস্টাইন, ডারউইন কেউই জনপ্রিয় বিজ্ঞানের তেমন কিছু লেখেননি। শুধু কার্ল সেগানের কথা বলেছি যিনি একইসাথে বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রচারক। আমার কথা হচ্ছে, বিজ্ঞান চর্চা এবং বিজ্ঞান সাহিত্য চর্চা দুটো একসাথেই করা সম্ভব। আমি কখনই বলিনি সব বিজ্ঞানীই বিজ্ঞান সাহিত্যের চর্চা করেছেন (নিউটন, ডারউইন করেননি)। আমি বলেছি, দুটো একসাথে হওয়া সম্ভব (সেগান করেছেন)। আমি কিন্তু সেগানের কাছ থেকে অনেক বেশী শিখেছি।
২. ব্যক্তি হেজেমনি তৈরী করে
এই বিষয়টা আমি প্রথমে না বুঝলেও পরে বুঝেছি। ব্যক্তি হেজেমনি তৈরী করে না। আমি প্রথমে ধরে নিয়েছিলাম করে। যাহোক।
এখন তো আমি মেনে নিয়েইছি যে গোষ্ঠীর দ্বারা হেজেমনি আসে। এখন জনপ্রিয় বিজ্ঞানকে (জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখককে নয়) পুঁজি করে হওয়া একটা হেজেমনির উদাহরণ দেন। আপনি ইউনুস এবং তার ভুল তত্ত্ব থেকে হওয়া বৈশ্বিক হেজেমনির উদাহরণ দিয়েছেন। তত্ত্বটা কিন্তু একজন ব্যক্তিই দিয়েছেন। তারপর ক্ষমতাবান অথরিটি সেটাকে নিয়ে হেজেমনি সৃষ্টি করেছে।
এখন মাইক্রোক্রেডিটের বদলে কোন জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বিষয়কে নিয়ে আসেন। বলেন, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অমুক তত্ত্ব একজন দিছিলো। অমুকেরা সেইটারে জনপ্রিয় করার জন্য অনেক বইটই লিখছিলো কিন্তু বেল পায় নাই। তারপর কোন গোষ্ঠী সেই বইটইকে জনপ্রিয় করেছে এবং তাকে পুঁজি করে হেজেমনির সৃষ্টি করেছে। এমন একটা সলিড উদাহরণ চাই।
সেটা সরাসরি দেন। ফয়েজ ভাই আপনার অবস্থানের ব্যাপারে যা বলেছেন সেটা আমার পছন্দ হয়েছে। আমি সহজ কথা বুঝি: ২+২=৪ এটা আমি মানি। কিন্তু আপনি ২+২=৪ টাইপের কিছুই বলছেন না। এরকম একটা উদাহরণ দিলেই আমার চলবে আর কিছু চাই না।
৩. আমি জাকির নায়েক, তথা ইসলামপন্থিদের সেভ করার চেষ্টা করছি
এটাও আমি প্রথমে মনে করেছিলাম। নায়েক সাবরে নালায়েক বলার পর সেটা আর নেই।
৪. আমি ব্যক্তিগতভাবে তোমাকে হেয় করার চেষ্টা করছি
এটা কখনও মনে হয়নি। আমার মনে হয়েছে আপনি আমাকে কনফিউজড করার চেষ্টা করছেন, হেয় কখনই নয়। দেখুন, ফয়েজ ভাইও বলেছেন যে আপনি আমাকে কনফিউজড করছেন। অনেকেই এই কনফিউশনের বিষয়টা বুঝতে পারবে বলে মনে করি।
আপনি করেছেন সেটা বুঝতে পারছি। কিন্তু আমি করিনি এবং করবোও না। এর কোন সংগত কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। আপনি কারণটা বলেছেন এরকম:
প্রচারের কাজে নামলে অর্থাৎ সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে লিখলে সাধারণ মানুষ সেটা বুঝে যাবে। অনেকে হয়ত বুঝবে না, কেউ কেউ বুঝবে কিন্তু সবারই বোঝার ক্ষমতা থাকবে। তখন কোন স্বার্থান্বেষী অথরিটি এসে সেই জনপ্রিয় ধারার জ্ঞানকে প্রচারের মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয় করে তুলবে এবং সেটা দ্বারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টা করবে, হেজেমনির সৃষ্টি হবে। কিন্তু বিজ্ঞান-সাহিত্য চর্চা না করলে হেজেমনির কোন সম্ভাবনাই নেই।
আমি এটা মানছি না। তাই দুয়ের মধ্যে কেবল জ্ঞানচর্চাকে গ্রহণ না করে দুটোকেই একসাথে গ্রহণ করছি। আমার কর্মপরিকল্পনাটা এরকম হবে:
আমি বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের চর্চা করবো। কিন্তু বিজ্ঞানের অনেক অনেক ক্ষেত্র আছে। এত জটিল হয়েছে সবকিছু যে কোন একটি অতি ক্ষুদ্র বিষয়ে বিশদ জ্ঞান অর্জন না করলে লাভ নেই। মাহমুদ ভাই, আপনার ক্ষেত্র যেমন সমাজবিজ্ঞান আমার ক্ষেত্র তেমনি রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞান। রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞানেই আমি স্পেশালিস্ট হওয়ার চেষ্টা করবো। এটাই আমার বিশুদ্ধ বিজ্ঞান চর্চা।
রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে যখন যা জানব সেটাকে সহজবোধ্য করে লেখার মাধ্যমে সবার সাথে শেয়ার করবো সব সময়ই, ভবিষ্যৎ হেজেমনির ভয় আমাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
সেই সাথে বিজ্ঞানের অন্য শাখাগুলোতেও আমি পড়াশোনা করবো। কিন্তু সেটা শৌখিন পর্যায়ের পড়াশোনা। যেমন কোন একদিন হয়তো ইচ্ছে হবে, কোয়ান্টাম মহাকর্ষের তত্ত্বটা বোঝার। তখন সেটার বেসিক কনসেপ্টটা বোঝার চেষ্টা করবো এবং বোঝার পর সেটা লিখে ফেলবো। আমার আর্কাইভেও জমা হয়ে যাবে, আর আমি যা বুঝলাম সেটা অন্যরাও বুঝতে পারবে। তার মানে আমার মৌলিক বিজ্ঞান চর্চা এবং শৌখিন বিজ্ঞান চর্চা দুটোই চলবে, সেই সাথে চলবে বিজ্ঞান-সাহিত্যের চর্চা।
কোয়ান্টাম মহাকর্ষ (বা আমি যে ধরণের বিষয় নিয়ে লিখি) নিয়ে লেখার কারণে ভবিষ্যতে কোন হেজেমনির সৃষ্টি হতে পারে বলে আমার মনে হচ্ছে না। তারপরও ধরে নিলাম আমার কোন না কোন সহজবোধ্য লেখাকে পুঁজি করে হেজেমনি হয়ে গেল। সেক্ষেত্র সেই হেজেমনি ধ্বংসের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমিই রাখব।
হয়ত হেজেমনি হওয়ার সময় আমি বেঁচে থাকবো না। সেক্ষেত্রে আমার লেখা পড়ে যারা অনুপ্রাণিত হয়েছে তারাই হেজেমনি রুখতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। কারণ আমার ফ্যানরা সবাই জানবে, আমি বিশুদ্ধ বিজ্ঞানকে স্বার্থসিদ্ধির কাজে ব্যবহার করাটাকে ঘৃণা করতাম। আমার কোন লেখার সেরকম সম্ভাবনা থাকলে আমি তার সাথে হেজেমনির বিষয়টাও লিখে দেব। আমি তো হেজেমনির বিষয়টাও সবাইকে জানানোর চেষ্টা করবো। কিছুটা বুঝেছি। আরও পড়ে বুঝবো, তারপর অন্য অনেককে উৎসাহিত করবো আপনার লেখাটা পড়ে নিতে। কারণ আপনার লেখাটাই হেজেমনি বোঝাতে সাহায্য করবে। আমার কাছে, আপনার এ লেখাটাও “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” এর লেখা।
এখানে একটা ফাঁক আছে। আপনি বলেছেন নিজে জেনে যাবেন, জাতিরে জানাবেন না। কিন্তু কি জেনে যাবেন এবং কি জানাবেন না সেটা বলেননি। উদাহরণ দেই: ধরেন রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ১০০ টা তত্ত্ব আছে। এর মধ্যে তিনটা হয়ত আমি এখনই বুঝে ফালাইছি। এগুলা নিয়ে ফার্দার বুঝার কিচ্ছু নাই। এক্ষেত্রে তো আমি এগুলা নিয়ে “পপুলার সায়েন্স” আর্টিকেল লিখে ফেলব। পুরা ১০০ টা বুঝার পর একসাথে লেখার কোন টার্গেট নাই। ততদিন বাচি কিনি সন্দেহ আছে।
আরও সাধারণ করে বললে বলা যায় নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের কথা। ম্যাট্টিক পাশ ছেলেই এটা মোটামুটি বুঝে। আমি এতদিনে এর নাড়ী-নক্ষত্র বুঝে ফালাইছি। এখন আমি এটা নিয়ে লিখে ফেলব, পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি পাওয়া (বা সমপরিমাণ জ্ঞান আহরণ) পর্যন্ত অপেক্ষা করবো না।
জ্ঞান দানে আমার বিশেষ আগ্রহ আছে। কারণ আমি এ পর্যন্ত যত জ্ঞান আহরণ করছি তার সবই অন্যদের দানের ফল। নিজে আজ পর্যন্ত মৌলিক কিছু বের করতে পারি নাই। অন্যের দান নিছি বলেই অন্যকে দান করায় আমার এত আগ্রহ।
[ জবাব দিন ]
কোথায় বলেছি এটা?
ভাই মুহাম্মদ, আমি যতই চেষ্টা করি ব্যক্তি-লেভেল থেকে আমার উপস্থাপিত ত্তত্বের ধারনা যে কত দূরে তা দেখাতে, তুমি ততোই সেটাকে ব্যক্তির দিকে টেনে আনো, আর তা করতে গিয়ে ভুলপাঠ+ভুলব্যাখ্যা করো। এখন পর্যন্ত তুমি এটা কয়েকবারই করেছো। তোমার মন্তব্যগুলো ভালো করে দেখলেই বুঝবে। অথচ, আমি তোমাকে যখন বলি যে, তোমার কিছু যুক্তির মধ্যে বিরোধ আছে সেটা তুমি ধরছোই না। এটাতে কি বোঝায়? তুমি ঠিকই আছো, আমি যে বিষয়টা ফিরে দেখতে বলছি সেটা ঠিকই আছে।- এতে আমার কোন সমস্যা নেই। আমি কখনোই কারো উপর সিদ্ধান্ত চাপায়ে দেইনা, কারণ এতে তা’র জ্ঞানকেই ইনফিরিয়র করা হয়।
শেষ পর্যন্ত তুমি সেই আগের জায়গাতেই, ব্যক্তি হেজেমনি তৈরী করে (ডঃ ইউনূসের বিষয়ে শেষ মন্তব্যে)। তুমি ক্ষমতা আর জ্ঞানের সম্পর্কে আগে কনফিউজড ছিলে, বেশ ভালো মতই। আর সেই ধারনা থেকেই ফূকোকে টেনে আমাকে কাউন্টার দিছিলে। সেখানে আমি ভুলটা ধরে খানিকটা বড়ভাই-সূলভ উপদেশ দিতে চেয়েছি। নিচে তোমার সেই কমেন্টটা দেখোঃ
তোমার এই কথাটা অনুমিত, বা হয়তো কারো কাছে ভুল শুনেছো। ফুকো/গ্রামসির আলোচনায় ব্যক্তি কখনোই মূখ্য নয়। হিটলার আর জার্মানী তো নয়ই। কাজেই এই ধারায় ব্যক্তি+ব্যক্তিগত মূল্যায়ন অপ্রাসঙ্গিক। একারনে আমি কারো মূল্যায়ণও করতে যাইনি। কিন্তু তুমি এখনো সেই আগের ধারনাতেই থাকলে।
আমি কখনোই তোমার অনুবাদ+প্রচার+আবেগকে আঘাত করিনি, এমনকি সামান্যতম “জাজমেন্টাল” কমেন্ট করিনি। দেখাতে পারলে বলো, আমি ক্ষমা চেয়ে শুধরে নিব। কিন্তু তুমি? আমি যা বলিনি + বুঝাইনি তাও “নিজে নিজেই অনুমান করে নিয়ে”………। আমি কিছুই মনে করিনি তা’তে। কারন, ফুকোর তত্ত্বের সাথে আমার আত্মার সম্পর্কে করিনি যে এটা কেউ না মানলে বা ভুল ব্যাখ্যা করলে কষ্ট পাবো।
সোহেল ভাইয়ের কমেন্ট+ তা’তে তোমার উত্তরের পর থেকে আমি বুঝতে শুরু করেছি যে আলোচনাটা অন্যদিকে মোড় নিলো। তার পুরা কমেন্টটাই এই অনুমানের ভিত্তিতে যে, আমি মুহাম্মদের অবস্থানের কাউন্টার দিচ্ছি। ফয়েজ ভাইও ভুল পড়লেন। তিনি বললেন, আমি মুহাম্মদকে কনফিউজড করছি। আমি করলাম কোথায়,
। ও তো আগে থেকেই কনফিউজড, আমি তো সেটা শুধরে দিতে চেয়েছি। আরো বললেন, আমি ডিসিসান দিচ্ছিনা কেন? আমি ডিসিসান দেবো কি? আমি ভালো-মন্দের বিচারে তো নাই। আমার বিশ্লেষণে ভালো-মন্দ, দোষ-গুণের বিচারই তো নাই। ব্যক্তি-বিষয়ক আলোচনা না থাকলে কার দোষ-গুন, ভালো-মন্দ নিয়ে ডিসিসান দিবো?
অন্যদিকে ব্যক্তি-লেভেলে এই আলোচনা ধরে নিয়ে মুহাম্মদ, কামরুল, সোহেল ভাই- সবাই আমার আলোচনার মধ্যে মুহাম্মদের বিষয়ে মূল্যায়ণ খুঁজে দেখল, এবং না পেয়ে খানিকটা অভিযোগই করল মনে হলো। মুহাম্মদের শেষ মন্তব্যের অর্থও এটাই যে, আমি তাকে অহেতুক প্রশ্ন করছিলাম, তার অবস্থান আসলে ঠিকই ছিলো+আছে।
কিন্তু মুহাম্মদের কাজের মূল্যায়ণ এই আলোচোনার বিষয় নয় মোটেই, এটা মুহাম্মদের একটা ভুল ধারণা (উক্তিটা উপরে তুলে দিছি) ভেঙ্গে দেবার (ব্যর্থ) চেষ্টা (তাও ও-ই জানতে চেয়েছিল পরের কমেন্টে; আমার নিজের গরজে নয়)।
কিন্তু আলোচনার ধারা দেখে আমার এখন এই বিশ্বাস জন্মেছে, এটা এখন স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কে রুপ নিচ্ছে যেখানে বিতর্কে জিতাটাই বড়ো কথা (কপিরাইটঃ এহসান ভাই)। কিন্তু আমি এমন কোন বিতর্কে নাই, মুহাম্মদ বা আর কারো সাথেই।
আমি অফ গেলাম।
সবাই ভালো থাকবেন।।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই, আপনার আলোচনা আর ব্যাখ্যা খুব ভালো লেগেছে, অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার কাছ থেকে এরকম অনেক বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট আশা করি। ব্লগে আপনার কমেন্ট এবং কমেন্টের উত্তর আমাদের সবার জন্যই মডেল হতে পারে। আপনাকে
[ জবাব দিন ]
ব্লগে আর না, মাপ চাইছি।
অহেতুক বিতর্কে জড়াতে চাইনা।
সিসিবি’তে আসি প্রাণের টানে, আড্ডা মারতে, আর কিছু নয়।
তবে যদি মনে হয় আমি কোন কিছু জানাতে পারবো, তাহলে আমার ব্যক্তিগত ই-মেইল দিচ্ছি- hm77এটucla.edu ।
সিসিবি মানে আমার কাছে শুধুই মজার আড্ডা
[ জবাব দিন ]
মেইল ঠিকানা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ মাহমুদ ভাই। এড্রেসবুকে টুকে রাখলাম।
ইউসিএলএ-তে পড়েন আপনি? ওদের বাস্কেটবল টিমটা খুব ভালো, ওদের এথলেটিক্স প্রোগ্রামের খুব সুনাম। এন বি এ-তে ওদের বেশ কয়েকজন ছেলে আছে। আর ইন্টার কলেজ মিটে ওরা তো বেশ ডমিনেন্ট টিম।
[ জবাব দিন ]
তোমারে পয়লাই কইছি সেন্টু খাইওনা, সেই সেন্টুই খাইলা।
যাউজ্ঞা, আমিও অফ যাই।
[ জবাব দিন ]
ক্যামনে
আমি তো কোত্থাও সামান্যতম উস্মাও দেখাই নাই। দেখামু কোত্থেকে, সেন্টুই তো খাইই নাই।
বুঝছি, ফয়েজ ভাই এইখানে ডিফেন্স নিয়েছেন, ভাবছেন যদি কোনভাবে আমি মনকষ্ট পেয়ে থাকি……। আসলে আপনি আমার প্রতি (অন্যদের প্রতিও) অনেক স্নেহপ্রবন তো
[ জবাব দিন ]
প্রথমেই মাহমুদ ভাইকে ধন্যবাদ একটা অসাধারন পোস্ট দেয়ার জন্য । মুহাম্মদ কেও অভিনন্দন, ওর জন্যই তো মাহমুদ ভাই লিখলেন । আমার এ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে আমার অনুভূতিপ্রসূত, কোন গবেষণা বা এসম্পর্কে পূর্ব কোন ধারনাও নেই । তাই ভুলত্রুটি হলে ধরিয়ে দেবেন সুধরে নেব । সম্পূর্ণ পোস্ট টা আমি গত কয়েকদিন ধরেই নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, কিন্তু কি লিখব বুঝতে পারছিলাম না । এ পর্যন্ত পড়ে মনে হল মাহমুদ ভাই জ্ঞান, জনপ্রিয় জ্ঞান আর ক্ষমতা সম্পর্কে একটা সাধারন ধারনা দিতে চেয়েছেন, এখানে উনার দৃষ্টিভংগীটা সযত্নে এড়িয়ে গিয়ে পাঠক (মুহাম্মদ) এর উপর সিদ্ধান্ত নেবার ভার দিয়েছেন । মুহাম্মদ সবকিছু নিজের উপর টেনে এনোনা । উনি মনে হয় তোমার জানার আগ্রহ দেখেই এই পোস্ট টা করেছেন । Its not personal at any level.মাহমুদ ভাইকে আবারো ধন্যবাদ এরকম ডিপ্লোমেটিক ভাবে পুরো আলোচনা চালিয়ে যাবার জন্য
।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই,
আমিও আদনানের মত এই পোস্টটা খুব আনন্দ এবং মুগ্ধতার সাথে ফলো করতেসিলাম…যদিও পুরাপুরি হয়তো বুঝতে পারিনাই, তবু অনেক নতুন কিছুই শিখতে পারসি…চিন্তার দৃষ্টিকোণের ভিন্নতা যে একই জিনিসকে বিচিত্র ডাইমেনশন আর ইন্টারপ্রিটেশন দিতে পারে- সেইটা হালকার উপর ঝাপসা বুঝতে পারাটা নগণ্য পাঠক হিসেবে খুব আনন্দদায়ক ছিল…আপনি সেন্টু খায়া(কপিরাইটঃ ফয়েজ ভাই) অফ যাওয়াতে, খুব বঞ্চিত বঞ্চিত লাগতেসে
যদিও অপ্রসাঙ্গিক, তবু আমার একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি…
আমার এক বন্ধু হঠাৎ করেই এক মেয়ের আপাদমস্তক প্রেমে পড়ে গেল…খাইতে পারেনা, ঘুমাইতে পারেনা, পরীক্ষার আগের রাতে রুমে আইসা ঘন্টার পর ঘন্টা প্যানপ্যান করে-এই টাইপের হাবুডুবু প্রেম…মেয়ে নাকি ওরে সরাসরি কিছু বলেনা; হালকা প্রশ্রয়ও দেয়- আবার মাঝেমাঝে একদম পাত্তা দেয়না…
এইভাবে বেশ কিছুদিন প্রেম-দংশনে কাতর হওয়ার পরে আমার বন্ধু আর সহ্য করে না পেরে সরাসরি ঐ মেয়েকে গিয়ে চেপে ধরলো-
‘বলো তো, তুমি কি সত্যি সত্যি আমাকে ভালোবাসো? ডিজিটালি উত্তর দিবা- ০ নাকি ১?’
বলাই বাহুল্য, আমার বন্ধুটা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র ছিলো আর কলা বিভাগের মেয়েটি তার ‘ডিজিটাল ভালোবাসা’ বুঝতে পারে নাই
…
[ জবাব দিন ]
০ নাকি ১
[ জবাব দিন ]
প্রশ্নের গঠন অনুযায়ী এর উত্তর আসে ‘না’ বা “০”
ব্যাটা, বেকুব ইঞ্জিনিয়ার (১৪ বছর আগের আমার মতো আর কি
)
[ জবাব দিন ]
ডিজিটাল বাংলাদেশ।
এইখানে মনে হয় হাসা ঠিক হইল না
[ জবাব দিন ]
এইরকম সিরিয়াস পোস্টে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রদের নিয়া জুক্স করায় সাকেব ভাইয়ের ভ্যাঞ্চাই।
অফটপিকঃ সাকেব ভাই, জুক্সটা খুব মজার ছিল।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই, আমি আপনের ইন্টেনশন এবং কথাগুলো বুঝতে পারছি। আর বিতর্ক বাড়াতে চাই না। আপনার পোস্ট থেকে কিন্তু আমি প্রচণ্ড উপকৃত হয়েছি। কারণ এর আগে ক্ষমতা-জ্ঞান এর বিষয়টা আমার নজরেই আসতো না। এখন সব সময় মনে থাকবে। বলতে পারেন আপনার লেখা পড়ে আমার মধ্যে একটা নতুন চোখের সৃষ্টি হয়েছে, নতুন একটা বই পড়লে যেমন নতুন চোখের সৃষ্টি হয় ঠিক তেমনি।
ইমেইল অ্যাড্রেসটা জিমেইলের কন্টাক্টে যোগ করে রাখলাম। যেকোন সময় যেকোন ঝামেলায় পড়লেই আওয়াজ দিমু।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
তোমাদের এই হাউকাউয়ে আমারে একটা ধন্যিপাতা তো দিতে পারতা, আফটার অল, নাক যখন গলাই ফ্যালাইলাম
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
ধন্যিপাতা…
[ জবাব দিন ]
আমিও প্রচণ্ড উপকৃত হয়েছি।
সহমত। একই অবস্থা আমার।
শিরোনামটাই ছিল Misleading। প্রথম কিছু মন্তব্যের পরই আলোচনা অন্যদিকে মোড় নিলো। মূল রচনায় মুহাম্মদকে নসিহত করা অংশগুলো বাদ দিয়ে শিরোনামটা ‘জ্ঞান, জনপ্রিয় জ্ঞান ও ক্ষমতা’ নিয়ে আমার ভাবনা হলেই দারুন হতো। নিতান্তই ব্যক্তিগত মতামত। মাহমুদ আবার গোস্যা কইরো না।
[ জবাব দিন ]
ভাই, গোস্যা হবার সম্ভাবনা নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া (যদিও পাঠ্যবহির্ভুত পড়ার শুরু আরো আগে), পড়ানো, আবার পড়া- এই করে আজ প্রায় ১১ বছর। চামড়া ব্যাপক মোটা হই গেছে

পারস্পপরিক পিঠ-চুলকানি (প্রসংশা) অথবা বাঁশা-বাঁশি কোনটাই আর সহজে কাবু করতে পারে না।
তবে এই পোস্টের শিরোনাম, আলোচনার ধারা, ফলাফল ইত্যাদি নিইয়ে আরেকটা লেখা আসবে। নো প্রবলেম বস। তখন আশা করি কিছু বিষয় পরিস্কার হবে।
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই, আপ্নের ধৈর্য্য আর বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অসাধারণ…
[ জবাব দিন ]
মাহমুদ ভাই ভস
[ জবাব দিন ]
আমি বিজ্ঞানের ব্যাপারে ভিন্ন কিছু মত পোষন করি। এর প্রকৃত কারন বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রন কামী নয়। সেইসাথে মুহাম্মদের ব্রিফ হিস্টরী অফ টাইমের উদাহরন টেনে বিজ্ঞানের জনপ্রিয়করনের যে ধারা দেখালো আমি তার সাথে একমত নই। কোনো জ্ঞানকে জোরপূর্বক জনপ্রিয়করনের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমার মনে হয় না। আমি জ্ঞানের অন্যান্য শাখার সাথে বিজ্ঞানকে আলাদা করে দেখি কারন বিজ্ঞান বিশুদ্ধতম নৈর্বত্তিক চেতনার বিকাশ। বিজ্ঞানকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে কিন্তু বিশুদ্ধ বিজ্ঞান নিয়ে প্রোপাগান্ডা হয় না। প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে যেটি সাধারনত করা হয় সেটি হচ্ছে বিজ্ঞানকে অনেকটা ম্যাজিকের মত উপস্থাপন করা হয়। একটি হাইপোথিসিস থেকে কিভাবে তত্বে উন্নীত হয় সেই বৌদ্ধিক ধাপ গুলো বাদ দিয়েই প্রতিফল টুকূ উপস্থাপনের বিপদ আছে বলে আমার মনে হয়। আমি জানি বড় বড় রথী মহারথীরা জনপ্রিয় বিজ্ঞান পুস্তক লিখছেন এবং লিখবেন কিন্তু তার পেছনে টাকা পয়সাটাই বড় ব্যাপার মনে হুয়। আমার কাছে ব্রিফ হিস্টরী অফ টাইমের চেয়ে তার লার্জ স্কেল স্ট্রাকচার অফ স্পেস টাইম অনেক গুরুত্বপুর্ন। স্টিফেন ওয়াইনবার্গের প্রথম তিন মিনিটের চেয়ে গ্র্যাভিটেশন & কসমোলজি অনেক গুরুত্বপূর্ন।
আমি সবসময়ই এটা মানি জ্ঞানের পথে কোন শর্টকাট নেই। রিলেটিভিটী বুঝতে হলে টেন্সর পড়তে হবে,কোয়ান্টাম থিওরী পড়তে হলে নানারকম বিকৃত গানিতিক ফরমুলেশন বুঝতে হবে। কারন কোনো জ্ঞানের সারাংশ কাজের জিনিস না। কবিতা না পড়ে সারাংশ পড়লে কবিতা বুঝতে কোন সহায়তা হবে না।
বিজ্ঞান বিপননের কিছু ন্য, ত্রান সামগ্রীও নয়। বিজ্ঞানকে অর্জন করে নিতে হবে। জনপ্রিয়করনের জন্যে যৌক্তিক ধাপ সমুহ বাদ দিলে যা হয় তা মানুষের উতকর্ষে কোন কাজে আসে না, কারন ব্ল্যাক হোল আছে এটা জেনে চমতকৃত হবার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব আবিষ্কারের পেছনে যৌক্তিক ধাপ গুলো । যা আমরা বিজ্ঞান জনপ্রিয়করনের চেষ্টায় এড়িয়ে যাচ্ছি ।
মানুষ চিন্তার উতকর্ষে নিজেকেই পরিভ্রমঅনের সুযোগ দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান গুলো কেও নিয়ন্ত্রন বাদীতা ত্যাগ করতে হবে, সেই সাথে আমরা যারা আরোপিত শুভ ইচ্ছা অজান্তেই চাপিয়ে যাচ্ছি তাও ত্যাগ করতে হবে।
তারকা খ্যাতি সম্পন্ন বিজ্ঞানীদের মাঝে আমার এই জন্যেই পছন্দ রিচার্ড ফাইনম্যান কে। তিনি জনপ্রিয়করনের চেষ্টা করতেন না। মানুষ কে একটি ধারনা শোনানোর আগে তাকে সেটির জন্যে তৈরী করা বেশী জরুরী। ধারনাটির চেয়ে ধারনাটি কিভাবে ডেভেলপ করল সেটি বেশী গুরুত্বপুর্ন।
[ জবাব দিন ]
গুরুত্বের বিচারে অবশ্যই বিজ্ঞানের মূল বইগুলো অনেক আগে থাকবে। “লার্জ স্কেল স্ট্রাকচার অফ স্পেস টাইম” এর সাথে অবশ্যই “ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম” এর তুলনা চলে না।
কিন্তু সহজ করে লেখার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করি। নয়তো বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠিত হবে না। কোন তত্ত্বের সবগুলো ধাপ বোঝার মত মানুষ পৃথিবীতে কখনই খুব বেশী পাওয়া যাবে না। কিন্তু মূল তত্ত্বটা বুঝতে অনেকেই আগ্রহী হতে পারে। অনেক স্থূল উদাহরণের মাধ্যমে সেই তত্ত্ব বোঝানো যেতে পারে। এটার প্রয়োজনীয়তা আমার কাছে অনেক বেশী।
আর জনপ্রিয় বিজ্ঞানের অনেকগুলো ক্ষেত্রও তো আছে: বিজ্ঞান সাংবাদিকতা এবং বিজ্ঞানীদের জীবনী রচনাও জনপ্রিয় বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। “বিজ্ঞানের ইতিহাস” এর অনেক কিছুও তো এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বিজ্ঞানের দর্শন অবশ্য জনপ্রিয় বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
মৌলিক বিজ্ঞান চর্চার চেয়ে অবশ্যই জনপ্রিয় বিজ্ঞানের গুরুত্ব অনেক কম। কিন্তু এই স্বল্প গুরুত্বও একেবারে ফেলনা নয়- এটাই আমার মত।
[ জবাব দিন ]
আরেকটা বিষয়, সবার কাছেই টাকাটা বড় ব্যাপার ছিল এটা বোধহয় বলা যায় না। অনেক ডিভোটেড সায়েন্স রাইটারও আছে।
আর সহজবোধ্য বইগুলো থাকার কারণেই তো অনেকে বিজ্ঞানের দিকে প্রথমে আকৃষ্ট হয়। বাংলাদেশের কত ছেলেপেলেই তো রুশ বইয়ের বঙ্গানুবাদ পড়ে প্রথমে বিজ্ঞানের দিকে আকৃষ্ট হয়। বিজ্ঞানের দিকে যাত্রা শুরু করিয়ে দেয়ার ক্রেডিটটা কি “জনপ্রিয় বিজ্ঞান” কে দেয়া যায় না?
[ জবাব দিন ]
হ্যা স্টার্টিং টার জন্যে এই যে জনপ্রিয় ধারার বইয়ের কাছে আমাকে তোকে যেতে হুয়েছে এটার জন্যে কিন্তু institution গুলোর স্বেচ্ছাচারীতা এবং আজাইরা কারিকুলাম দায়ী। বিজ্ঞান শিক্ষা যদি প্রথাগত উপায়ে না হয়ে প্রকৃতি বিজ্ঞানে মুল থেকে ছোট বেলা থেকেই উতসাহী করা যেত তাহলে এই “গনিত হীন গানিতিক প্রযুক্তি ” জাতীয় বই লেখার বিশেষ দরকার হত না। তাছাড়া নানা রকম সুপারফিশিয়াল বিভাগ তৈরী করে আমরা কিন্তু চিন্তার জগতকে খুব সীমিত করে দিচ্ছি, ঘটনার কার্যকারন বিশ্লেষন উপোযগী মন তৈরী হবার আগেই আমাদের শেখানো হচ্ছে একজাতীয় ম্যাজিক চেহারার বিজ্ঞান। আমার কাছে চিন্তাশীল মন অনেক জরুরী সেই সাথে শিক্ষার স্বাধীনতারও।শিক্ষাটাকে অব্লিগেশন হিসাবে যাতে কেউ না নেয়,
পোস্টের সাথে আমি একারনেই একমত আমরা খুব বিষয় সর্বস্ব মননশীলতাহীন মানব দলে পঅরিনত হচ্ছি।এই জন্যে institution গুলো মুলত দায়ী তার সাথে সমাজ প্রভুরা আর তথাকথিত বিশেষজ্ঞরা কাঠামো তৈরী করে দিচ্ছে পরবর্তীরা কোন বৃত্তে আবর্তিত হবে।
[ জবাব দিন ]
আর এই বই গুলোকে আমি ড্যামেজ কন্ট্রোল হিসেবে দেখি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুলোর ব্যর্থতা পোষানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে সমস্যার মুলটা উপেক্ষিত থাকছে।
একজন চিন্তাশীল মানুষের মনে প্রকৃতি বিজ্ঞান,দর্শন,সমাজবিজ্ঞানের মূল প্রশ্নগুলো মনের স্বাভাবিক বিকাশএর পথেই আসা উচিত।
[ জবাব দিন ]
ভাই, বুকে আয়
রকিব, হোসেন-সাবেরে একড্রাম পাতি-ছাড়া চা (পাতি আমি আইসা মিশামু
)
[ জবাব দিন ]
ভাই, আমি কোথায়, কখন কইছি হেজেমনিক নলেজ শুধুই খারাপ, কাজেই জনপ্রিয়ও জ্ঞানও খারাপ?
এই দিকটা তো আমার আলোচনার এক্কেবারে বাইরে, মানে দোষ-গুনের আলোচনা আর কি। সেটা ব্যক্তি/বিষয়/বস্তু যেকোন কিছুর বেলায়ই। কাজেই………
এই আলোচনাটা এখানে বাদ দাও। এর একটা কারণ এই যে, লিখিত ব্যাক্যে সব সময়ই ভুলব্যাখ্যার, কাজে কাজেই ভুল বোঝার সম্ভাবনা বিদ্যমান। আর সেই বাক্য যদি ছেড়ে দেওয়া হয় অনেক লোকের মাঝে যারা চিন্তা-ভাবনায়, চলনে-বলনে, কথায়-বার্তায়, জীবনযাত্রায় আলাদা, তাইলে তো এই জাতীয় ভূলপাঠ+ব্যাখ্যা+ভুলবোঝাবুঝির সম্ভাবনা ষোলআনা।
তোমার আমাকে কিছু জানার + বলার থাকলে মেইল করো।
[ জবাব দিন ]
থলের বেড়াল তবে বেড়োল এতক্ষণে। অনেকক্ষণ ধরে খুঁজছিলাম পাইনি। মাইন্ড কইরেন না, এইটা একটা জুক্স।
[ জবাব দিন ]
আরে না, মাইন্ড কি করমু? তোমার জুক্সটা ভালো। তবে এর অন্তর্নিহিত অর্থটা আমার এক বন্ধুর সাথে ধর্ম-কর্ম-সমাজ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার কথা মনে করায়া দিলো। সে এবতেদায়ী মাদ্রাসায় পড়ায়। (ইহা একটা ইশারা
)
[ জবাব দিন ]
আমার জোক্সের অন্তর্নিহিত অর্থ ছিলো খুবই সাধারণ- আমি সব ব্যাপারেই সমান স্কেপটিক, কোনকিছুকে আমি আমার স্কেপটিসিজম হতে ছাড় দিলে সেটা হবে মতাদর্শগত অনিরেপক্ষতা। সবধরণের নিরপেক্ষতা যেকোন অ্যানালিসিসে অবশ্যই প্রয়োজনীয়। মতাদর্শগতভেবে অনিরপেক্ষতার দোষে কোন অ্যানালিসিস আক্রান্ত থাকলে, সেটা আমার থেকে সবচেয়ে বেশী স্কেপটিক রেসপন্স অর্জন করবে, বিশেষত সেই অ্যালেইজড মতাদর্শটি হয় যদি একটি conspiracy theory দিয়ে ইতিহাসের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করার মত কিছু। দুঃখ করে জোকটা আমি করি তখনই যখন কিনা দেখি আমার স্কেপটিসিজম আমার সন্দেহের পক্ষেই প্রমান দিচ্ছে, যেখানে আমি অনুধাবন করি আপনার হাজারটা অভিযোগ উথ্যাপন কিন্তু কোন সমাধানে না পৌছা এবং হাজারটা প্রশ্নের উথ্যাপন কিন্তু কোন উত্তর না খোজার পেছনে কারণ যে, আপনি সবকিছুর দোষ সেই পুরোন “সাম্রাজ্যবাদ” ইত্যাদি কম্ফোর্টিঙ ফ্যান্টাসির ঘাড়ে তুলে দিয়ে আলোচনায় নেমেছেন।
[ জবাব দিন ]
মাইন্ড করলা নাকি? এটা আসলেই একটা নিরীহ জুক্স আছিলো। আমি আমার বন্ধুর কথা মনে পড়েছে বলেছি এই কারণে যে, ওর সাথে আলাপ করতে গেলে প্রায়ই অন্ধবিশ্বাস থেকে অদ্ভুত সব যুক্তি বের করতে যেয়ে সহজ আমার কথার সহজ মানেটাই দেখতে পারত না। তুমিও দেখলাম “সাম্রাজ্যবাদ” শব্দটা দেখে “থলের বেড়াল” দেখে ফেললে, তাই আর কি……। থলের বেড়ালটা বলতে কি বুঝিয়েছো তা বুঝতে পেরেছিলাম বলেই আমার ঐ বন্ধুর কথা মনে পড়েছিলো।
তোমার এই মন্তব্য থেকে আমার মনে হচ্ছে যে তুমি disciplinary power নিয়ে খুব একটা চিন্তাভাবনা করো না। আমার অনুমান ভুলও হতে পারে, সেক্ষেত্রে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
[ জবাব দিন ]
উইকিপিডিয়া করুন epistemology যা আলোচনা করে কি জ্ঞান আর কি জ্ঞাণ নয়। আপনি বলছেন, ক্ষমতাই নির্ধারণ করে কি জ্ঞান আর কি জ্ঞান নয় আসলেই কি তাই? তা হলেতো ক্ষমতার অনুমোধন সাপেক্ষে সবকিছুই জ্ঞান হতে পারে তাই না? না সেটা না। কি জ্ঞান আর কি জ্ঞান না সেটা স্পষ্ট বর্ডারলাইন দ্বারাই সুনির্দিষ্ট।
[ জবাব দিন ]
কোথায় কইছি??!!!
‘জ্ঞান’ আর ‘জনপ্রিয়তা’ দুটো আলাদা ধারনা তা যে কতবার বলতে হবে?
সোজা বাংলায় বলি, এইখানে জ্ঞান হল বিশেষ্য আর জনপ্রিয়তা বিশেষণ। দুইটা গুলায়া ফেললে ক্যামনে কি? আমার যে উক্তিটা উদ্ধৃত করেছো, সেটা ভালো করে পড়লেই বুঝতে পারবে আমি জনপ্রিয়তার কথা বলেছি, জ্ঞানের কথা নয়। কোনটা জ্ঞান আর কোনটা জ্ঞান নয় তা’র সাথে জনপ্রিয়তার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নাই।
epistemology কি, এর আলোচ্য বিষয় কি, এসব আমার পাঠ্যসূচির কারণেই বেশ ক’বছর ধরে পড়েছি+পড়ছি+পড়তেই থাকবো। তবে উইকি’র সূত্রটা দিয়ে ভালো করেছো। যারা এখনো বিষয়টা জানে না+জানার আগ্রহ আছে, তাদের কাজে লাগবে।
[ জবাব দিন ]
হ্যা epistemology এর কথাটা আপনার উদ্দেশ্যে ছিলো না, আমি এটা অনুমান করতেই পেরেছি যে, যে কোন বিষয় পড়োতে হলেই অল্পবিস্তর কিছু epistemology জানা থাকা লাগে। আমি বরং বুঝাতে চেয়েছি যে, জ্ঞান ইত্যাদি কি এবং কেন এটা অনেকটা work out আমরা ইতিমধ্যেই করেছি, এটা এত বড় কোন দার্শনিক প্রশ্ন নয় আর।
[ জবাব দিন ]
এসব একদমি বুঝিনা বড় হলে পড়ব
[ জবাব দিন ]
সালাহউদ্দিন আইউবের সংস্কৃতির জিজ্ঞাসা পড়েছিলাম…ব্যাপক!কিন্তু এইখানের মত সহজ-স্বচ্ছ করে লেখা না!…ভালো লাগলো!
[ জবাব দিন ]
ব্লগ পড়ে অনেক কিছু জানলাম, ধন্যবাদ মাহমুদ ভাই

তবে কমেন্ট পড়ে দারুন মজা পাইলাম
ভাই, আপনারা এতো কিছু কেমনে মাথায় রাখেন???
[ জবাব দিন ]
তোমাকেও ধন্যবাদ জাদুঘর থেকে একটা প্রাচীন পোষ্ট তুলে আনার জন্য
।
এই পোষ্টের একটা রিভিউ পোষ্টও আছে। এখানকার কমেন্টগুলোর ধারাবাহিকতা মোটামুটিভাবে বজায় রেখে ওখানে ঈষৎ পরিবর্তিত আকারে মূল বক্তব্য তুলে ধরেছি (সম্পাদিত)
[ জবাব দিন ]