দাসের আত্মকথা

জন্ম জন্মান্তরে কিংবা দেশ দেশান্তরে
ঘুরপাক খাই সেই একই বৃত্তে ।
যেদিকেই  যাই গন্তব্য কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্র।
কেনই বা নয় ?
সেই অনন্যতার টান কে কাটাতে পারে ?
ফোটনের মত হালকা আর চটপটে হলে
একটু সময় নিয়ে আত্মসমর্পন।
ও হো, আমিতো ভুলেই গেছি
সেখানে সময়ও স্থির।

প্রথম জন্মে নিশ্চয় মাকড়সা ছিলাম
রাণীর প্রেমে আত্মবলিদান।
কখনও পুরুষ মথ বা মৌমাছি
সন্তানের মুখ দেখার পূর্বেই মৃত্যু।
তারপর ছিলাম কাঁকড়া
সন্তানের জন্ম দিয়ে তাদেরই খাদ্য।

গুরুত্বপূর্ণ জন্ম বোধ করি সারমেয় হিসেবে
মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গী।
প্রভুর সেবা, পাহারা আর খাদ্য
যোগানে জীবন উৎসর্গ।
বিনিময়ে সামান্য খাদ্য গালিগালাজ
প্রায়শ লাঠি বা লাকড়ির আদর
অতঃপর লেজ নাড়তে নাড়তে ফিরে আসা।
কালচক্রে  বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণী।
জীবন যৌবন ছানাপোনা
সবই মানুষের প্রয়োজনে।

পদোন্নতি ঘটে কালে ভদ্রে
ফারাও এর পিরামিডে
কিংবা মহান গণতান্ত্রিক গ্রিসে।
দাস কিন্তু নাগরিক নয়।
পশুদের মত দাঁত গুনে কেনাবেচা
নিজেও নিজের নয়
পরনের ছালতো দূরের কথা।

দাসত্বের শৃঙ্খল হয়তো ছিলনা
যখন ছিলাম উত্তরবঙ্গের কৃষক।
রক্ত পানি করে যাদের খাওয়াই
তারাই নির্যাতক।

ফিরিঙ্গীদের সময় নীলচাষী
কেমন সুখে ছিলাম ?
মাথায় চারা গজিয়েছি !
তার পরের জন্ম আরও মজার
প্রভুকে তাড়িয়ে সেবাদাস বড়ভাইয়ার।
কথা বলার দাম দিতে হল রক্তে !

আমার এখনকার প্রভু  লজ্জা ঢাকার
আর ঢং করার মুখোসের কারবারি।
আমাদের সাশ্রয়ী কারখানা
পায়রার খোপের মত  পলকা ।
রাশিয়া বা আফ্রিকার হীরার খনির মত
মাটির নীচে নয় কিন্তু অগ্নি ও পতন বান্ধব।
দগ্ধপিষ্ট হবার আগে আমরাই মুখোস বানাই।
অবশ্যই অন্যদের জন্য।
মালিক কিংবা আমাদের লজ্জা বা মুখ
ঢেকে রাখার বিলাসিতা মানায় না।

অন্য মাত্রায় জন্ম হলে নিশ্চয় দ্বিমাত্রিক হতাম।
মুখ দিয়ে খাওয়া মুখ দিয়েই পায়খানা !
নইলে অস্তিত্ত্ব টেকে না ।

আগামী জন্মে হয়তো সাইবর্গ হব
রক্তমাংসের শরীরে যন্ত্রমানব কিংবা দানব।
অ্যান্ড্রয়েড রোবট হলে মালিক বা মালকিনের
সব সেবা এমনকি যৌনসেবাও সম্ভব।

হাসির কথা, সেদিন স্বপ্নে দেখি
আমি পাপেট  নাকি ভিডিও গেমের কেউ।
গেমারের ইচ্ছায় জন্ম মৃত্যু জয় পরাজয় সব।

২,৭৬৮ বার দেখা হয়েছে

২১ টি মন্তব্য : “দাসের আত্মকথা”

  1. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    গেমার মুভিটা দেখেছেন? শেষের লাইন তিনটায় মুভিটার কথা মনে পড়লো! গানটা দেখেন। পুরান একটা গানের কড়া ভার্সন। গানের কথা গুলো মনে ধরবে! :)


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  2. মজিদ (৮৪-৯০)

    খাঁচাতে জন্ম খাঁচাতেই মৃত্যু। কাঁটাবন বা চিড়িয়াখানার পশুদের মত বন্দী সব সময়। এ খাঁচা ভাঙ্গবো কেমন করে :-/ মনটা শুধুই গুমরে গুমরে মরে। বন্দীর গান বা গর্জন মানুষের কাছে আধুনিক কবিতা হয়তো। কিন্তু আমরা কয়জনই বা মুক্ত স্বাধীন ? :-?
    কথা সেই একটাই- জন্মই আমার আজন্ম পাপ :(


    Truth is beauty, beauty is truth.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।

:) :( :P :D :)) :(( =)) :clap: ;) B-) :-? :grr: :boss: :shy: x-( more »

ফেসবুক মন্তব্য