ক্যাডেটদের কাছে খুব ভয়ংকর একটা শব্দ হল “সাডেন চেক”। কারণ সাডেন চেকের সময় কিছু না থাকলেও ধরা খাওয়ার চান্স থাকে। কিছুদিন আগের হারিয়ে যাওয়া ১০০ টাকার নোট কিংবা ভরসা ম্যাচ কিভাবে যেন সাডেন চেক কিংবা inspection এর সময় বের হয়ে আসে। 
তো সেবার পেরেন্টস ডেতে আমরা এবং এস.এস.সি পরীক্ষার্থীরা টেবিল পার্টির জন্য প্রচুর খাবার হাউসে ঢুকাই। যথারীতি ৫/৬ টা টেবিল ধরা খেয়ে যায় টেবিল পার্টি তে। পরের দিন একাডেমীতে যাবার পর শুনলাম সাডেন চেক হবে। কারণ আমাদের এ্যাডজুট্যান্ট কাম ষ্টাফ মেজর রিয়াজুল কবীর নিজ হাতে আমাদের কাছে থেকে লকারের চাবি নিয়ে গেল। কিছু ক্যাডেটের তখন প্রাণ যায় যায় অবস্থা কারো বিড়ি-সিগেরেট, কারো মোবাইল, কারো MP3 player, এর চিন্তায়। তো আমি ব্যাপারটা সম্পর্কে জানতাম যে আজ সাডেন চেক হবে। সেই কারণে আগের দিন ছাদে ব্যাচের dvd player,dvd,অনেকের mp5, সিগারেট রেখে আসছি। সেই সাথে আমাদের টেবিলের খাবার দাবার ও। তো হাউসে যাবার পর রুমের সদস্য হিসেবে রুমে ঢুকতে হয়। তখন রুমে ছিলাম আমি,মুস্তাকীম, হাউস মাষ্টার আব্দুর রব স্যার, এ্যাডজুট্যান্ট, জহির স্যার, মনিরুল আলম স্যার এবং শাহনাজ ম্যাডাম। আমিতো খুশি আমার কাছে কিছু নাই, শুধু আছে চানাচুর, বিস্কুট(বাকি সব খাবার তো ছাদে)। এ্যাডজুট্যান্ট এসে বেড উল্টালো এবং দেখলো একটা ভিডিও কর্ড(আমাদের DVD Player এর)আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে আমি বলি যে এটা হাউস এর MP3 Player এর টা। এ্যাডজুট্যান্ট বললো “তোমার কাছে কিছু নাইতো??”" আমি বললাম নাই। এ্যাডজুট্যান্ট স্যার দের বললো আমার টা ভালভাবে চেক করতে। কিছু personal ড্রেস, চানাচুর, বিস্কুট, গরুর শিং(জনৈক ক্লাস মেইটকে টিজ করার জন্য গ্রাউন্ড থেকে আনলাম। কিন্তু এ্যাডজুট্যান্ট ভাবলো আমি নিজের শারিরীক প্রয়োজনে আনছি)
। তারপর জহির স্যার- পেল আণ্ডারওয়্যার এর প্যাকেট। সেই প্যাকেট এ ছিল ছোট পোষাক পরিহিত একখানা পুরুষ এবং একখানা ভদ্রমহিলার দুষ্ট ছবি। স্যার আমার দিকে কড়া চোখে তাকালে ম্যাডাম তাড়াতাড়ি ওখানে আসে কী জিনিস সেটা দেখার জন্য। ম্যাডাম দেখে স্যার এর দিকে তাকালো, স্যার দেখে ম্যাডাম এর দিকে তাকালো, তারপর ওনারা একসাথে লজ্জা পেলো। 
যাওয়ার সময় আমার ব্যাক্তিগত ডাইরী নিতে চাইলো পরে নিলোনা কিন্তু চোখে গিয়া পড়লো আমার বানানো রেজাল্ট কার্ডের উপর। সেটা আমি আম্মাকে দেখানোর জন্য- নীলক্ষেত থেকে খুব কষ্টে বানাইছিলাম। আম্মা বলছিল ৪.৬ পেলে নতুন মোবাইল কিনে দিবে। কিন্তু পাইসিলাম ৩.৩ তাই নীলক্ষেত থেকে এনে গ্রেড পয়ে্নট ৪.৬ বানাইসিলাম। রব স্যার ঔইটা নিয়া হালিম ভাই কে দিল রাতে উনি আসলে যেন দিয়ে দেয়। আমিতো শেষ। ঔইটা জমা দিলে আমি আউট ১০০% শিউর। কারণ প্রিন্সিপাল, এ্যাডজুট্যান্ট, হাউস মাষ্টার , মেডিকেল অফিসার, ফর্ম মাষ্টার সবার সাইন নকল করসি। কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে আমি তো শেষ। দুপুরে যাবার সময় হালিম ভাই অন্য হাউস বেয়ারা আলাউদ্দীন ভাই এর কাছে দিয়ে যায়।
রেজা এবং মুস্তাকীম এর যৌথ প্রচেষ্টায় আলাউদ্দীন ভাই এর পকেট থেকে রেজ়াল্ট শীট বের করে এনে টয়লেটে ফ্ল্যাস করে দেয়া হয়।

ঐবার আমরা বেচে গেলাম শুধু আমাদের খাবার গুলা স্যার রা ষ্টাফ লাউঞ্জ এ মজ়া করে খায়।



৪৫ টি মন্তব্য
তোমার এইটা তো অনেক বিভাগ কভার করছে
লেখা ভাল হইছে
[ জবাব দিন ]
আরো কভার করতো কিন্তু দিলাম না


ভাই ভালো বলার জন্য ধন্যবাদ
এবার কি কোনো ভুল হইছে??
যদি গতবারের মতো সমস্যা হয়
[ জবাব দিন ]
হবে না. তবে কারো কমন্ট টমেন্ট মুছতে যেওনা আবার। দরকারটা কি??? এতো আমরা আমরাই….
[ জবাব দিন ]
ভাই আমিতো খালি এ্যাডজুট্যান্ট এর টা মুছে দিসিলাম
তাও না বু্ঝে
[ জবাব দিন ]
জায়গা মতই মুছছ….আর লোক পাও নাই
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
আচ্ছা শারিরীক প্রয়োজনটা কি হইতে পারে?আমি তো যতদূর জানি বাঙ্গালিরা অন্যের *** এ বাঁশ দেয়,কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে তো তা প্রযোজ্য না
এই কিশোর একে বাঁশের বদলে গোশৃংগ(খবরদার কেউ শ এর জায়গায় ল পড়বেন না) ব্যবহার করিতেছে, তাও আবার নিজের ক্ষেত্রে-কাহিনী কি??
নাহ দেশ জাতি বড়ই আগাইয়া গিয়াছে-পিছে পড়িয়া আছি কেবল(কেবল=যাস্ট) আমরা পুরাতনেরা
[ জবাব দিন ]
ভাই ইহা এ্যাডজুট্যান্ট স্যার ভাবিয়া নিয়াছে। লেখক ইহা ব্যাবহার করার পূর্বেই তাহা কর্তৃপক্ষের নি্কট চলিয়া গেছে
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
হা হা পুরান কথা মনে করাইয়া দিলি
রেজা এবং মুসতাকীমরে
[ জবাব দিন ]
নিজেরে নিজে স্যালুট দেও, তুমি তো দেখি বেশি বান্দর হইয়া গেছ!
[ জবাব দিন ]
আরে আমারে দেইনাইতো মুসতাকীমরে দিছি এতো ভাল একটা কাজ করছে তাই
[ জবাব দিন ]
2টা ইবি ইসু করা হিলো (হলো)
[ জবাব দিন ]
এডজুট্যান্ট স্যার আমার সকল ছবি পোস্ট ব্যান কইরা দিছে

তাই আমি আর ছবি পোস্ট করতে পারি না
[ জবাব দিন ]
আমার বেডের নিচে একবার VP স্যার “যায়যায়দিন” পেয়েছিলেন, সেটা ছিলো ‘শাড়ি সংখ্যা’…এরপর বুঝতেই পারছেন।
[ জবাব দিন ]
বুঝলামঃ)
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
আমারটা ছিলো বৃষ্টি সংখ্যা।
[ জবাব দিন ]
তারপরও এত কিছু নিয়া ধরা খাইছিলা?????
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
ইংগিতপূর্ণ…।
হো হো…
[ জবাব দিন ]
এই কাজটা একদম সমর্থন করতে পারলাম না। সরি।
[ জবাব দিন ]
আমার যে কত কিছু পাইছিলো…। থাক মনে না করি,অনেক ফায়দা হবে ।
[ জবাব দিন ]
আ্পনেও প্রয়োজনে ব্যাবহার করসেন
[ জবাব দিন ]
ক্যাম্নে … কি …
প্রাচ্য শুনছি, পাশ্চাত্য শুনছি, ‘পশ্চাত’ … এইডা আবার কুন দেশ ??
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
দ্যাশটা আসলেই উচ্ছন্নে গেসে। কেয়ামতের বেশি আর বাকি নাই।
[ জবাব দিন ]
ভাল ছিল
[ জবাব দিন ]
আপনারা কেউ এই দুইটা জিনিস ব্যাবহার করেননা
[ জবাব দিন ]
যদিও অস্বাভাবিক, তবুও কল্পনা করে নিলাম গরুর শিং আসলেই…!!?? কিন্তু হ্যাংগার????
কোনভাবেই হ্যাঙ্গার ব্যবহারের যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না…
[ জবাব দিন ]
ভাই নাজমুল, বুজাইয়া বলো দেখি
[ জবাব দিন ]
গরুর শিং-এর ব্যাপারটা কিছুতেই বুঝতেছি না।
আমার কল্পনা শক্তি আসলেই খারাপ!
[ জবাব দিন ]
তোমারে মকরা গ্রুপের ক্যাডেট মনে হইতাছে।
আমিও ওই গ্রুপের সদস্য ছিলাম কিনা।
লেখাতে উন্নতি লক্ষ্যণীয়।
ভালো লাগছে।
[ জবাব দিন ]
লজ্জা দিবেন না
[ জবাব দিন ]
তোমার আগের যে কোন লেখার থেকে এটার শব্দ চয়ন এবং বানান অনেক ভাল হয়েছে। আশা করি তুমি অচিরেই আরও সুন্দর করে লিখতে পারবে।
নাজমুল, কলেজে আমরা একটা সিষ্টেমের মাঝ দিয়ে যাই। নিজেরা আড্ডা দেই, পড়াশুনা করি, খেলি, টিজ করি, কিন্তু সবই একটা গন্ডির মধ্যে থেকে হয়। যখন নিজেরা আড্ডা যখন দেই তখন একটা সুর থাকে। সেই সুরে কাউকে গালি দিলেও তখন সেটা গালি না হয়ে আদর হয়ে যায়। আমরা এইগুলি বুঝি, এক ক্যাডেট যখন আরেক ক্যাডেটকে এইগুলি বলে তখন সেও মুল সুরটা ধরতে পারে। সমস্যা হয় না।
সমস্যা হয় যখন একই গল্প আমরা বাইরের বন্ধুদের সংগে করি। তারা এই সুরটা ধরতে পারে না, তুমি নিশ্চয় এইটা বুঝ, মাঝেমাঝেই ভুল বুঝাবুঝি হয়ে যায়।
ব্লগ একটা খোলা মাধ্যম। আমরা সবাই ক্যাডেট এইটা যেমন সত্য, তেমনি সহজ সত্য হচ্ছে আমরা ছাড়াও আরও অনেকেই এই মাধ্যম ব্যবহার করে। আমরা নিশ্চয় চাই না বাইরের কারও মনে ক্যাডেট সর্ম্পকে ভুল ধারনা চালু হোক,হোক না মজা করে হলেও। আমরা মনে হচ্ছে শিং এবং হ্যাঙ্গর নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে এটা ব্লগ এবং ক্যাডেট কলেজের জন্য ক্ষতিকর।
আমি আশা করব তুমি এই কমেন্ট গুলো মুছে দেবে।
[ জবাব দিন ]
বেশ কিছু মন্তব্যে ভাষার ব্যবহার এবং বিষয়বস্তু নির্বাচনে অসচেতনতার জন্য এই ব্লগটি ফ্রন্টপেজ থেকে সরিয়ে লেখকের নিজের ব্লগে রাখা হল। ক্যাডেট কলেজ ব্লগে একটি ব্লগের বিষয়বস্তু এবং মন্তব্যের ধরণ কেমন হওয়া উচিত সে ব্যাপারে রেডবুক সেকশনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। লেখককে রেডবুক সেকশনটি আরো মনযোগের সাথে পড়ে দেখবার জন্য বলা হল।
পরবর্তী সময়ে ব্লগ লেখা কিংবা মন্তব্য করার সময় ভাষা নির্বাচনের ক্ষেত্রে লেখককে আরো সতর্ক হবার জন্য বলা হচ্ছে।
[ জবাব দিন ]
ভাইরা আপ্নেরা PCC রে খামোখাই দোষ দেন,
PCC কি গো শৃং ব্যবহার করে ?? আল্লাহ আইয়ামে জাহেলিয়াত এর যুগ চলি আসিছে।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]