আগের পর্ব
ষোল
একদিন সামাদ স্যারের বাসায় গেলাম। স্যার আমার জন্য অনেক করেছেন। বিশেষ করে অংক পরীক্ষার আগের দিন বাসায় এসে সাহস দিয়ে গেছেন। স্যারের বাসাটা আমাদের বাসা থেকে খুব একটা দূরে না, হেটেই যাওয়া যায়। একা একাই চলে আসলাম। স্যারের বাসা থেকে বেরুলেই সেই বিশাল দেবদারু গাছ। সেদিন দেখি এই গাছটার গুড়িতে হেলান দিয়ে মানিকদা আরও কয়েকটা ছেলের সাথে গল্প করছে। মানিকদার অনেক পরিচয়। তার মধ্যে দুটো উল্লেখযোগ্য পরিচয় হচ্ছে সাংস্কৃতিক সংগঠক, সমাজ সেবক। রাজনীতিও করেন। তবে বাম ঘরানার বলে প্রভাবশালীর কাতারে পরেননা। এলাকায় বড় কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলে তার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন। উনার সাথে আমার সম্পর্কটা শিল্পী আর সংগঠকের থেকেও বেশি। কিছুটা বড় ভাইয়ের মতো। কোন অনুষ্ঠানে মানিকদা থাকলে আম্মা বেশি চিন্তা করেন না। অবশ্য উনি আর সব মেয়ের সাথেই এমন। সবাই ভাবে তাকেই বুঝি মানিকদা বেশি খেয়াল করছে। উনার বড়ভাইয়ের বাসা এদিকটায়। তাই উনাকে দেখে অবাক হলাম না। হাত তুলে সালাম দিলাম। সালামের জবাব দিয়ে উনি বললেন,’তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। তোর বাসায় গেলাম চাচী বলল তুই এখানে এসেছিস।’
’কি ব্যাপার মানিকদা? এই রবিবারেই তো রিহার্সাল হচ্ছে?’
’না আমি টিভি প্রোগ্রামের জন্য তোকে এতো হন্য হয়ে খুঁজছি না। খান দাদার বাসায় একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠান আছে। লাইব্রেরীটাকে আরও অনেক বড় করা হবে। একটা ছোটখাটো উদ্বোধনি অনুষ্ঠানের মতো হবে। সেখানে আসতে পারবি? চাচীকে বলে দিয়েছি। তোকে আমি আনা-নেওয়া করবো।’
আমার হৃৎপিণ্ডটা কি একটু লাফ দিয়ে উঠলো? কিছুটা কি উত্তেজিত, রোমাঞ্চিত? ভয় লাগছে না ভালো লাগছে তার কিছুই বুঝতে পারছি না। হটাৎ কণ্ঠস্বর আড়ষ্ট হয়ে গেল। বাড়ল হৃদকম্পন। যক্ষপুরী খান মঞ্জিলে তবে কি সত্যি সত্যিই হাওয়া লাগলো। ওরা কি আবার সব ফিরে আসছে? ইচ্ছে করেই বেশি কৌতূহল প্রকাশ করলাম না। দেখাই যাক না সেখানে কি হয়! নিস্পৃহভাবে জিজ্ঞেস করলাম,’ঠিক আছে। শিপ্রাকেও বলছেন?’
’হ্যাঁ ওকেও বলবো।’
’আচ্ছা মানিকদা। তাহলে এখন আসি।’
’দেখা হবে সন্ধ্যায়।’
’খোদা হাফেজ।’
একটু অবাক হলাম দেখে যে মানিকদা আমাকে বাসায় পৌঁছে দিতে চাইলো না। বিষয়টা উনার সাথে ঠিক যায় না। কিম্বা বেশি খাতির পেতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি বলে এমনটা ভাবছি। একা একাই বাসার দিকে আবার হাঁটতে শুরু করলাম। কিছুটা দূর যাওয়ার পর মনে হল কেউ একজন আমাকে অনুসরণ করছে। কোন গুণমুগ্ধ ভক্ত অথবা স্তাবক হবে হয়তো। এই উপসর্গ আগেও ছিল। ইদানীং আরও বেড়েছে। এদের ভয় পাবার কিছু নেই। শুধু একটু পাশে পাশে চলা, দু-একটা কথা বলা তাতেই এরা খুশি। কিঞ্চিৎ অহংকারে এসময়ে আমার গ্রীবাটা যেন আরও এক ইঞ্চি বেড়ে যায়। দাদামনু শুধু শুধু ভয় দেখায়। রাস্তাঘাটে একটু একা একা না চললে ভাব মারবো কাদের সাথে?
পেছনের অনুসরণকারী একসময় পাশে এসে চলতে শুরু করলো। এক ঝলক দেখে নিলাম। বেশ লম্বা গড়নের,পোশাক-আশাক ধোপ দূরস্থ। হাটার ভঙ্গিটা খুব স্মার্ট, আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ। মুখটা পাশ থেকে যা একটু চোখে পড়লো তাতে এ শহরের কেউ বলে তো মনে হচ্ছে না। একটু ঘাবড়ে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনই শুনলাম,’আমার যদি ভুল হয়ে না থাকে তাহলে তুমিই দেয়া।’
হকচকিয়ে পাশের মানুষটার দিকে তাকালাম। চোখদুটো একদম অন্যরকম। সবুজাভ-বাদামি। এরপর মানুষটাকে চিনতে আর এক মুহুর্ত লাগলো না।
’হিরণ ভাই তুমি না মানে …আপনি? আপনি কি ওখানটায় মানিকদার সাথে ছিলেন? কবে আসলেন? কেমন আছেন?’ উত্তেজনার চোটে গর গর করে হরবড়িয়ে কি জানি সব বলে গেলাম।
’মানিকদার সাথে কথা শেষ করে কোনদিকে না তাকিয়েই তো চলে আসলে। যদি একবার ওনার পাশে দাঁড়ান মানুষটার দিকে তাকাতে তাহলে আমাকে দেখতে।’
’কি আশ্চর্য! মানিকদা একবারও আমাকে আপনার কথা বলল না। খান দাদার সাংগঠনিক কাজগুলো তো মানিকদাই দেখাশোনা করতেন। দু একবার উনার সাথে আমিও কিছু কাজ করেছিলাম। উনার তো জানার কথা আমি আপনাকে কতো ভাল করে চিনি।’
’তাই ভালো করে চিন?’
কথাটা শুনে আমি একটু থমকে দাঁড়ালাম। এই সেই হিরণ ভাই যাকে কোনদিন দেখবো না বলে ভেবেছিলাম সে এখন আমার এতো কাছে! আমরা এখন পাশাপাশি হাঁটছি! আমি হিরণ ভাইয়ের দিকে তাকালাম। আগের থেকে অনেক বদলে গেছে। কৌশোর ছাড়িয়ে পুরোপুরি পুরুষ হয়ে উঠেছে। গত চারবছর এমন কি কোনদিন গেছে যেদিন আমি উনার কথা একবারও ভাবিনি! কিন্তু বাস্তবটা বড্ড বেশি মেকী, সেখানে কথাবার্তার গায়ে মুখোস পড়াতে হয়। বললাম, ’দূর থেকে চিনতে না পারলেও কাছ থেকে একদম ভুল হতো না। আপনার মতো চোখ বোধহয় আর কারো নেই।’
’ধরে নিচ্ছি চোখের প্রশংসা করলে। সেই জন্য ধন্যবাদ। আমার মতো চোখ ওদেশে অনেক আছে। তবে ওখানকার মেয়েরাও আমার চোখের খুব প্রশংসা করতো।’
যা ভেবেছিলাম তাই। হিরণ ভাই এখন আকাশের চাঁদ। বিলিতি মেয়েরা এখন ওনার জন্য পাগল। অজপাড়াগায়ের এই আমি এখন কোথাকার কে? আমার আর গ্রীবা উঁচিয়ে চলা হল না। কেন যে আজকে চুলটা টেনে বাধতে গেলাম। হলুদ জামাটা না পড়ে এই ইস্ত্রি ছাড়া সাদা জামাটা একদম শেষ মুহূর্তে পড়েছিলাম। তখন কি জানতাম আজ হিরণ ভাইয়ের সাথে দেখা হবে।
’মানিকদাকে বলা ছিল তোমাকে আমার কথা না বলতে। তুমি অবশ্য পরীক্ষায় পাশ করেছো।’ হিরণ ভাই রহস্য করলেন।
’পরীক্ষাটা কি ছিল?’
আবারও একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে প্রশ্নটার উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বললেন, ’মানিকদার কাছে অনবরত তোমার প্রশংসা শুনে যাচ্ছি। খুব নাকি খুব ভালো গান গাও।’
’মানিকদা আমাকে একটু বেশি স্নেহ করেন।’
’আজকে রাতে আসছ তো? সেখানে তোমার গান শোনার অপেক্ষায় রইলাম।’
’আচ্ছা বলেন কবে আসলেন, কতদিন এখানে থাকবেন, হোসনা আপা কোথায়?’
’ঢাকায় এসেছি দু-সপ্তাহ আগে। আমি কুমিল্লায় গতকাল,আম্মা দুদিন আগে। আম্মা এখন থেকে এখানেই থাকবেন। তবে আমি আগামী সেপ্টেম্বরে আবার লন্ডনে চলে যাচ্ছি পড়াশোনার জন্য।’
’লন্ডন থেকে এসে বাংলাদেশ কেমন দেখছেন?’
’লন্ডনে কিংস্টন হিল নামে যে শহরটাতে থাকতাম তার সাথে এ শহরটার একটা অদ্ভুত মিল খুঁজে পাই।’
’কি রকম? ও শহরটাও বুঝি এরকম ময়লা, অগোছালো, মানুষজনে গিজগিজ।’
’একটা উন্নত দেশ আর গরিব দেশের মধ্যে এ পার্থক্যটুকু তো থাকবে। ছোটবেলার অনেকটা সময় এ শহরে কাটিয়েছি। এর প্রতি সব সময়ই একটা অন্য রকম টান অনুভব করি। তুমি যে শহরের ময়লার কথা বললে সেটা অতটা চোখে পরে না। দুটো শহরই খুব উৎসবমুখর আবার নস্টালজিক। আচ্ছা তুমি তো কখনও বিদেশে যাওনি। ওখানকার শহরগুলো দেখতে কেমন বুঝলে কি করে?’
’বই পড়ে। ওই একটা জিনিষই তো পারে খোলা চোখের থেকে বন্ধ চোখের সীমানা বাড়িয়ে দিতে।’
’তুমি শুধু বড়ই হওনি, অনেক গুছিয়ে কথা বলতে শিখেছ। মনে আছে ছোটবেলায় খুব গল্প শুনতে চাইতে।’
বুকের ভেতর একটা ডাহুক ডেকে উঠলো কি?
’আপনার মনে আছে সেসব দিনের কথা?’
’ফেলুদার বইগুলো তোমার জন্য রেখে গিয়েছিলাম। পেয়েছিলে?’
’হ্যাঁ পেয়েছিলাম।’ আমি আর বললাম না যে সেগুলো আমি এখনও নেড়েচেড়ে দেখি।
’পেয়েছিলে তাহলে। আমি আশা করেছিলাম চিঠির উত্তর দেবে।’
’কোন চিঠি? আপনি আমাকে চিঠি লিখেছিলেন?’
’হ্যাঁ যাওয়ার পরপর। লন্ডন থেকে।’
’সে চিঠি পাইনি তো। ও বুঝেছি। আপনি আগের বাসার ঠিকানায় চিঠি দিয়েছিলেন। আপনারা চলে যাওয়ার পর পরই আমরা সে বাসা ছেরে ঠাকুরপাড়ায় চলে আসি।’
’পরে শুনেছিলাম।’
’তারপরও তো অভিযোগ করলেন?’
’ভুলে গিয়েছিলাম যে বাংলাদেশে চিঠি প্রাপকের পরবর্তী ঠিকানায় পাঠানো হয় না।’
’পাঠানো হয়তো হতো যদি বাড়িওয়ালা কাদের মোল্লা না হতো। আপনারাও চলে গেলেন। আমরাও বাড়ি বদল করলাম আর তারপর পরই দেশের রাজনীতি বদলে গেল। কাদের মোল্লাও ফিরে আসলো।’
’কাদের মোল্লা জেলে না?’
’কি বলেন? গতবছর সাড়ম্বরে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল। জামাতে ইসলামের পক্ষ থেকে।’
’ও এখন তাহলে এই অবস্থা!’
হিরণ ভাই একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেল। সেই সাথে আমিও। আমরা দুজন যেন একই সাথে আমাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর সেই স্মৃতিতে ফিরে গেলাম। বাথরুমের দরজায় কষাঘাত করে কাদের মোল্লা জানতে চাইছে ভিতরে কে আছে। আমি চোখ বন্ধ করলাম। সেইদিনের পর আমরা কোনদিনই এই ঘটনা নিয়ে আর কোন কথা বলিনি। আমরা দুজনেই হয়তো একই কথা ভাবছি। হবে হয়তো। অনেকটা নীরবেই আমরা হাঁটতে লাগলাম। এক সময় বাসার সামনে চলে আসলাম। নীরবতাটুকু অস্বস্তিকর লাগছিলো না বরং মনে হচ্ছিল এর দরকার ছিল।
গেটের কাছে এসে বললাম, ’ভেতরে এসে বসে যান।’
’না এই অসময়ে আর বসবো না।’
’আম্মার সাথে দেখা করে যাবেন না?’
’মজার ব্যাপার কি জান প্রথম প্রথম লন্ডনে খুব খারাপ লাগতো যে ওখানে হটাৎ হটাৎ কারো বাসায় চলে যাওয়া যেত না। আগে থেকে ঠিক করে রাখতে হতো। আর এখন দেশে আসার পর যখন পূর্ব নির্ধারিত ছাড়াই কেউ যখন তার বাসায় যেতে বলে তখন দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ি।’
’এখন কি দ্বিধান্বিত?’
’না বরং নিশ্চিত যে চাচীর সাথে দেখা করতে ভালো লাগবে, আরও কিছুক্ষণ বসতেও ভালো লাগবে। তবে মানিকদা আমার জন্য কিন্তু অপেক্ষা করছে। তোমাকে পৌঁছে দিয়েই আবার ওখানে যাওয়ার কথা।’
এই তাহলে কারণ যে কেন মানিকদা আমাকে পথ এগিয়ে দিলেন না। এখন তো দেখছি পৃথিবীর সব কেনরই উত্তর হয়। বললাম, ’ আপনাকে তাহলে আর আটকাবো না। তবে যাওয়ার আগে বলে যান কিছুক্ষণ আগে যে পরীক্ষা পাশের কথা বলছিলেন, সেটা কোন পরীক্ষা ছিল?’
’যখন দেবদারু গাছটার নীচে দাড়িয়ে মানিকদা তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলো, ওনার সাথে আমিও তোমার রয়ে গেলাম। দেখতে চাইছিলাম তুমি আমাকে চিন কিনা। ঠিকই চিনলে, তাই তুমি উত্তীর্ণ হয়েছ।’
’পরীক্ষাটা শুধু আমারই ছিল, আপনার ছিল না?’
’তাও ছিল। আমি অবশ্য উত্তীর্ণ হতে পারিনি। মানিকদা না বললে বুঝতে পারতাম না তুমিই সেই ছোট্ট দেয়া।
’হাতে পায়ে বড় হয়েছি। দেখতে কি খুবই বদলে গেছি?’
’হ্যাঁ খুবই।’
’কিরকম?’
’যতোটুকু কল্পনা করা যায় তার থেকেও অনেক বেশি সুন্দর হয়ে গেছ।’
মুখটার উপর যেন হটাৎ একটা গরম বাতাসের ঝাপটা এসে পরল। বুঝতে পারছি মুখটা লাল হয়ে যাচ্ছে। সুন্দরের প্রশংসা সব সময়ই শুনে আসছি। কিন্তু এর আগে এতো ভালো বোধহয় লাগেনি কখনও। এতো লজ্জাই বা কোথার থেকে আসলো? ঠিক সে মুহূর্তে চোখ পড়লো রাস্তার ঠিক উলটো দিকের বাসাটায়। ওটা হালিমাদের বাসা। ও বাড়ির সামনের ঘরের জানালা থেকে আলতো ভাবে পর্দা সরিয়ে একজোড়া চোখ আমাদের দেখছে। বুঝতে অসুবিধা হল না চোখের মালিক হালিমার মা। উনি প্রায়ই আমার গতিবিধি নজরে রাখেন। বোধহয় আমার নোটের সাথে সাথে মেয়েকে এসবও গেলাতে চান। ভদ্রমহিলার চোখে চোখ পরাতে দ্রুত পর্দা সরিয়ে আড়ালে চলে গেলেন। উনার লুকানোর ক্ষিপ্রটা দেখে খুব হাসি পেল। মন্দের ভাল এই যে ঘটনায় আমার লজ্জা উবে গেল। নিজেকে ধাতস্থ করে খুব স্বাভাবিকভাবে হিরণ ভাইয়ের দিকে তাকালাম। দেখলাম সেখানেও স্বাভাবিকতা। উনি বললেন, ’দেয়া আজ যাই। আবার দেখা হবে।’
যতক্ষণ পর্যন্ত না মিলিয়ে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত ওনার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইলাম। সেই সাথে বুঝতে বাকী রইলো না যে এতদিন যে সর্বনাশের অপেক্ষায় ছিলাম তাই ঘটে গেল। অবধারিত ভাবেই আমি জানতাম ওনাকে দেখার পর আমার কি হবে, আগের আমি আর থাকবো না। এ জন্য ওনার সাথে দেখা না হওয়ার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করতাম। শেষ পর্যন্ত কি ঠেকাতে পারলাম, না দেখা হওয়াটা না নিজেকে?
মাও আমার ভিতরের পরিবর্তনটা লক্ষ্য করলেন।
’কিরে তোর কি হল? এতো অস্থির অস্থির লাগছে কেন?’
’মা এরপর সামনের বাসার চাচী তার মেয়ের জন্য নোট চাইতে আসলে আর আমার কোন নোট দিবেন না।’
’হালিমার মার কথা বলছিস? তা হালিমাতো তোর এক ক্লাস নীচে পড়ে। তোর পুরাণ নোট যদি কারও কাজে আসে তো ক্ষতি কি?’
’আমার নোট নেওয়ার আরও অনেক মানুষ আছে। ওই চাচীকে আমার ভাল লাগে না তাই দিব না।’
’তুমি এরকম কথা বলছ? অথচ তোমাকে কীরকম ভালবাসে। গতকালই তোমার জন্য এক প্রকৌশলীর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলো।’
’তা তুমি কি বললে?’
’আমি বললাম আমার মেয়ের পেছনে তো লাইন লেগে গেছে।তবে এতো তাড়াতাড়ি ওর বিয়ে দেব না।’
’আম্মা বল না লাইনে আর কে কে আছে?’
’এর কিছুদিন আগে তোমার বান্ধবী রোজিনা ওর কোন দেবরের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে গেছে। যেখানে যাই সেখানেই খালি তোমার বিয়ের প্রস্তাব। লেখাপড়া শেষ করার আগে তোমার কিন্তু বিয়ে দিচ্ছি না।’
আম্মার দুগালে দুটো চুমু খেয়ে জড়িয়ে ধরলাম।বললাম, ’লক্ষ্মী আম্মা আমার।’
আম্মাও আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আমি তখন মনে মনে হিসেব কষছিলাম আচ্ছা হিরণ ভাইয়ের পাশ করে বেরুতে আর কতো দেরী?
সতের
সেদিন রাতেই খান দাদার বাসায় গিয়েছিলাম প্রায় উড়তে উড়তে। কিন্তু ফিরে এসে সে রাতে আমার আর ঘুম আসলো না। মানিকদা আমাকে সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরকম গানের জলসা ও বাসায় আগেও হতো। হিরণ ভাইরা চলে যাওয়ার পরও হয়েছে। মাঝে মধ্যে খান দাদা আমাকে দাওয়াত পাঠাত। কিন্তু আমি আর সে সব জলসায় অংশগ্রহণ করিনি। অনেকদিন পর খান মঞ্জিলে আসলাম। শেষ পর্যন্ত কোন স্থানই শূন্য থাকে না। খান মঞ্জিলের জলসা জমাবার জন্য সেখানে এখন অনেক গানের শিল্পী। চারপাশে পরিচিত, অপরিচিত অনেক মুখ। তারা কেউ শহরের। কেউ শহরের বাইরের। খান দাদার পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব। প্রথমেই দেখা হল মেলিতা আপার আম্মার সাথে। মহিলার দিকে একটু হাসি হাসি মুখ করে তাকালাম। মহিলা দেখি আগের মতোই আছে। কিম্বা তার উন্নাসিক আচরণ আগের থেকে আরও বেড়েছে। আমার হাসির কোন প্রতিত্তর না দিলেন না। বরং আরেকজন হিরা-জহরতে মোড়া, দেখতে বেশ খানদানি মহিলার দিকে হাসি মুখে এগিয়ে গেলেন। হিরিম্বা খালা বোধহয় আমার সাম্প্রতিক তারকা খ্যাতি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এতদিন উনারা এই এলাকায় ছিলেন না। বেশ কাকতালীয়-ভাবেই হিরণ ভাইদের সাথে সাথে উনারাও আবার কুমিল্লায় বদলী হয়ে এসেছেন। মেলিতা আপার আব্বা প্রমোশন পেয়ে এখন ব্রিগেডিয়ার। কিন্তু হিরিম্বা চাচিকে দেখে মনে হচ্ছে প্রমোশনটা উনিই পেয়ে এখন মেজর জেনারেল হয়ে গেছেন। আম্মার কাছে হিরিম্বা খালার আচরণ নিয়ে অনেক অভিযোগ করতাম। সান্ত্বনা দিয়ে আম্মা বলেন আর্মি অফিসারের বৌরা নাকি এরকমই হয়। এখন আর্মি শাসন চলছে তো তাই তাদের দাপটই বেশি। আমার তা বিশ্বাস হয়না। সবাই নিশ্চয় এরকম নয়। বিশেষ করে ভাইয়ার বৌ এমন হবে তা আমি কল্পনাই করতে পারি না। হিরিম্বা খালা আমাকে ঠিক যে রকম উপেক্ষার দৃষ্টি উপহার দিলেন, আমিও ঠিক একই রকম দৃষ্টি উনাকে ফিরিয়ে দিলাম। হাজার হোক আমি তো এখন আর যেই সেই মেয়ে না। এই রকম হিরিম্বা খালাকে আমি আমার মন খারাপ করার কোন অধিকার দিতে পারিনা। এদিক ওদিক তাকিয়ে মেলিতা আপাকে খুঁজতে লাগলাম। কোথাও দেখতে পেলাম না। প্রায় ছয় বছর তো হবেই আমাদের আর দেখা হয়নি। উনার সেই কিশোরী বয়সের চেহারাটা এখনও মাথায় গেঁথে রয়েছে। এখন কেমন দেখতে হয়েছে উনি? কতোটা লম্বা?
কিন্তু যার ভরসায় খান মঞ্জিলে আসলাম তারই কোন দেখা নেই। এমনকি হোসনা আপাকেও খুঁজে পেলাম না। দেখা পেলাম সিএসপি চাচার। তবে উনার সাথে আমার কখনও তেমন কথা হয়নি। এখনও হল না। নিজেকে খুব অনাহুত লাগছে। হয়ত হটাৎ দেখা হল বলেই হিরণ ভাই আমাকে নাম কা ওয়াস্তে দাওয়াত দিয়েছে। আসলে এই পার্টির অতিথি তালিকায় আমি ছিলাম। আয়োজন বেশ বড়সড়। প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে মাঠে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুটো কলামে ভাগ করে সব চেয়ার সারিবদ্ধ করে পাতা হয়েছে। সামনে ছোট্ট একটা মঞ্চ বানান হয়েছে। চেয়ারগুলো যেখানে শেষ হয়েছে তার পাশে উলম্বভাবে পর পর তিনটা টেবিল জোড়া দিয়ে খাবারের ডিশগুলো রাখা হয়েছে। বিরিয়ানি, মুরগীর রোস্ট, প্যাটিস, সিঙ্গারা, সালাদ, পায়েস, কাস্টার্ড, আরও হরেক রকম পদ। টেবিলের এক মাথায় শুরুতেই থালা,পিরিচ,চামচ,ন্যাপকিন রাখা হয়েছে। যে যার মতো নিয়ে প্লেট হাতে খাবার তুলে নিচ্ছে। অনেকেই খাচ্ছে দাড়িয়ে দাড়িয়ে। খাবার ভরা প্লেট হাতে টুকটাক এর ওর সাথে গল্প চালাচ্ছে। নিয়ে। এরকম আগে কখনও দেখিনি। এমনকি জেঠার বাসাতেও নয়। বাসায় অতিথি দাওয়াত করলে টেবিলে বসিয়ে জোর করে প্লেটে বেশি বেশি খাবার বেড়ে দিতে হয়। তাহলেই না অতিথি সমাদর হয়। এখানে খাবার নেওয়ার সময় কেউ কাছে এসে আরও নেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছে না। সবকিছু কেমন জানি অপরিচিত লাগছে। এসব বোধহয় বিলেতি নিয়ম-কানুন। খান মঞ্জিলের গেটের ভেতর পা দেওয়ার আগ পর্যন্ত ডাহুকের মতো উড়ছিলাম। আর এখন নিজেকে বৃষ্টি ভেজা কাক বলে মনে হচ্ছে। মনে মধ্যে আস্তে আস্তে জমতে শুরু করছে অভিমানের ধুলো। আচ্ছা হোসনা আপাদের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এখানে এতো বড় আয়োজন হচ্ছে অথচ আম্মাকে দাওয়াত দিল না। বিদেশ যাওয়ার আগ পর্যন্ত তো হোসনা আপা আর আম্মার খুব ভাব ছিল। সবই তাহলে মিথ্যে। মেলিতা আপার আম্মার চোখের চাহনির মতো তবে কি শুধু আমাদের শ্রেনীবিভেদটাই সত্যি? তখনও জানতাম না সে রাতে আমার জন্য আরও অনেক বড় দুঃখ অপেক্ষা করছিল।
অভিমানের পরত যখন অনেক পুরু হচ্ছিল তখনই হটাৎ ঝড়ো বাতাসের মতো খান দাদার কণ্ঠস্বর কানে এলো। ‘এই যে আমার জোয়ান অব আর্ক, এতদিনে বুড়োদাদার খোঁজ নিতে আসা হল?’
’দাদাভাই অপরাধ স্বীকার করছি। বাসা যে অনেক দূরে হয়ে গেছে। আসতে চাইলেও তো আসতে পারি না।’
’তোমার সব খবর কানে আসে। খুব বড় শিল্পী হয়ে গেছ। গান শুনিয়ে আজকে আমাকে ভুলাতে হবে। তাহলেই অপরাধ ক্ষমা করা হবে।’
পিছন থেকে আরেকটা কণ্ঠস্বর বলে উঠলো, ’এইটা কি আমাদের সেই ছোট্ট দেয়া? এতো বড় হয়ে গেছে?’
পিছন ফিরে হোসনা আপাকে দেখলাম। উনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। সেই পুরানো পরিচিত গন্ধ। সেই একাত্তরে আমরা যখন পালাচ্ছিলাম তখন গাড়ি করে যে পথটুকু পাড়ি দিচ্ছিলাম সে সময় পুরোটুকুই উনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।
’তোমার আম্মা কেমন আছে?’
’ভালো। একদিন আমাদের বাসায় আসেন।’
’হ্যাঁ তা আসবো। দেশে আসার পর আজকেই প্রথম ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এলাম। আর দেখনা হিরণ আর মেলিতার কাণ্ড! ওরা একদম না জানিয়ে আমাদের ত্রিশ-তম বিবাহবার্ষিকীর আয়োজন করে কেমন চমকে দিল।’
হোসনা আপার কথা শেষ হবার সাথে সাথেই আমাদের সবার দৃষ্টি গেটের দিকে চলে গেল। বাইরে থেকে গাড়ির হর্নের শব্দ। দারোয়ান ভাই কালো গেটের দু অংশই পুরোটা খুলে দিলেন। লাল টকটকে মাধবীলতার ছাউনির নীচ দিয়ে একটা গাড়ি ভেতরে ঢুকল। গাড়িটা আগেও দেখেছি। দাদাভাইয়ের সবুজ রঙের ভক্সোগান। কিন্তু যা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না তা এখন দেখতে হল। ড্রাইভিং সীটে হিরণ ভাই আর তার পাশে মেলিতা আপা। দুজনেই কি একটা বিষয় নিয়ে খুব হাসছে। সে হাসি অসম্ভব প্রাণবন্ত আর উচ্ছল। গাড়িটা থামল। দুদিক থেকে গাড়ির সবুজ দুটো দরজা খুলে গেল। মেলিতা আপা নামলেন। হাতে একটা বড় গোলাপ ফুলের মালা। আরেকদিক নামলেন হিরণ ভাই। উনার এক হাতে একই রকম আরেকটা গোলাপ ফুলের মালা। আরেক হাতে বেশ বড়সড় একটা বাক্স। দেখে মনে হচ্ছে ভেতরে কেক আছে। কেন জানি আমার চোখ হিরণ ভাইয়ের দিকে নয়, মেলিতা আপার দিকে স্থির হয়ে রইলো। উনি একটা নীল শাড়ি পরেছে। নীল যে হিরণ ভাইয়ের প্রিয় রং তা আমি ভুলিনি। কোনদিনই ভুলবো না। হটাৎ করেই মনে হল আমরা আসলে সবাই পানির মধ্যে ডুবে আছি। চারদিকে খালি পানি, পানি শুধুই পানি। আশেপাশের মানুষগুলোর মুখ ধীরে ধীরে কেমন জানি মাছের মতো হয়ে যেতে লাগল। তার মধ্যে একটা নীল মৎস্য-কন্যা আমার দিকে এগিয়ে এলো। গাল দুটো টিপে ধরল। বলল, ‘তুই খুব কিউট হয়ে গেছিস।’আমি খুব তলিয়ে যাবার আগে বাস্তবে ফিরে এলাম। তবে বর্তমানে নয়, অতীতের কোন সময়ে। যে সময়টায় আমরা সব উদ্দাম কণ্ঠে আজম খানের গান গেয়ে এই খান মঞ্জিলের খোলা চত্বর মুখরিত করে রাখতাম। সাতচারা খেলতাম, ব্যাডমিন্টন খেলতাম। মুখে মুখে কবিতা বানাতাম। আর মেলিতা আপা এসে আমার দু গাল টিপে ধরে ঠিক একই রকমভাবে বলল, ‘তুই খুব কিউট হয়ে যাচ্ছিস।’ এতো বছর পর সেই একই মেলিতা আপার কাছ থেকে একই কথা শুনছি। কিন্তু আমার বুকের ভেতরের ডাহুকটা কেন এতো রক্তাক্ত হচ্ছে? সেই অদৃশ্য রক্তক্ষরণ কেন আমার দু চোখ ভিজিয়ে দিচ্ছে? সব কিছু ছাপিয়ে কেন শুধু মনে হচ্ছে কি দরকার ছিল মেলিতা আপার এতো সুন্দর হওয়ার? আমার থেকেও?
মেলিতা আপা আমাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। ‘তুই কাঁদছিস কেন?’ আমি উনার কানের কাছে মুখটা নিয়ে বললাম, ‘ভেবেছিলাম তোমার সাথে আর কোনদিন দেখা হবে না।’ সস্নেহে উনি আমাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরলেন।
এতদিন আমার কণ্ঠের সুরকে মনে করতাম নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই জীবনের একটি স্বাভাবিক সম্পদ। কিন্তু সে রাতে প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করলাম কণ্ঠের সুরও বিগড়াতে পারে। সে রাতে কোনভাবেই আর গান গাইতে পারলাম না। মানিকদা আমাকে বাসায় পৌঁছে দিলেন। আম্মা ও বাড়ি সম্পর্কে কত কথা জিজ্ঞেস করল, কিছুই বলতে পারলাম না। মাথাটা কেমন জানি ঝিম ঝিম করতে লাগল। বিছানায় গিয়ে অনেকক্ষণ মাথার উপর বালিশ চেপে শুয়ে থাকলাম। ঘুম আসলো অনেক রাতে। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখলাম। স্বপ্নের মধ্যেও আবার মেলিতা আপা হানা দিল। সে রাতে যে কবিতাটা আবৃত্তি করেছিল সে কবিতাটা আবার আমাকে শুনিয়ে গেল।
যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে
অষ্টপরের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুঁছবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
ছবি আমার বুকে বেধে
পাগল হয়ে কেঁদে
ফিরবে মরু কানন গিরি
সাগর আকাশ বাতাস চিরি
সেদিন আমায় খুঁজবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
স্বপন ভেঙ্গে নিশুত রাতে, জাগবে হঠাৎ চমকে
কাহার যেন চেনা ছোঁয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে-
জাগবে হঠাৎ ছমকে,
ভাববে বুঝি আমিই এসে
বসনু বুকের কোলটি ঘেঁষে
ধরতে গিয়ে দেখবে যখন
শূন্য শয্যা মিথ্যা স্বপন
বেদনাতে চোখ বুজবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে
……………
……………
আমার বুকের যে কাটা ঘা, তোমায় ব্যথা হানত
সেই আঘাতই যাচবে আবার হয়তো হয়ে শ্রান্ত
আসব তখন পান্থ,
হয়তো তখন আমার কোলে
সোহাগ লোভে পড়বে ঢোলে
আপনি সেদিন সেধে-কেঁদে
চাপবে বুকে বাহুয় বেধে
চরণ চুমে পূজবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
কবিতাটা কার জানি? হ্যাঁ মনে পড়েছে কবি নজরুলের। কারণ মেলিতা আপার আবৃত্তি শেষেই মানিকদা উনাকে এবারের নজরুল জয়ন্তীতে অংশগ্রহণ করতে বললেন। সাথে সাথে হিরণ ভাইও খুব সমর্থন জানাল। সবাই খুব হাত তালি দিল। শুধু আমিই একা নির্বিকার দাঁড়িয়ে রইলাম। আহত ডাহুকটার রক্তস্রোত বন্ধ হচ্ছে না। বুকটা খুব ভারী হয়ে যাচ্ছে। মেলিতা আপাকে কে বলেছে আমার কথাগুলো সবাইকে আবৃত্তি করে শুনিয়ে দিতে? মাথা খুব ঝিম ঝিম। কানে আসলো ভোরবেলার আযানের শব্দ। তখনই বুঝতে পারলাম আসলে সারারাত আমার এক ফোঁটাও ঘুম আসেনি। তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম। গতরাতের ঘটনাগুলোই বার বার মাথার মধ্যে ভাসছিল। কেয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। আবার যদি ওর বয়সটায় ফেরত যেতে পারতাম! কিন্তু তাতেও কি কোন শেষ রক্ষা হতো? আমরা তো আসলে দড়ি বাঁধা পুতুল। জীবনের কিছুই আসলে আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কোন দুঃখবিলাস নয়, সত্যিকারের দুঃখ পাওয়াটাই এ জীবনের একটি অবধারিত এবং অনিবার্য নিয়তি। তা এড়াবার সাধ্য কারও নেই।
চলবে



১২ টি মন্তব্য
এই পর্ব দুটাই অদ্ভুত সুন্দর হয়েছে। এক সদ্য কৈশোরুত্তীর্ণ যুবতীর হৃদয়ের হতাশা খুবি সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। বাস্তবের খুব কাছাকাছি কি (?)
ঈদের শুভেচ্ছা রইল – আজিজ।
[ জবাব দিন ]
যতদূর মনে পড়ে আমার শৈশব আর কৌশোরে নিজ পরিবারে এবং পরিবেশে আমি ছিলাম পাত্তা না পাওয়া একজন – আমার উপন্যাসের শিপ্রা শ্রেনীয়। এতে অবশ্য আমার সাপে বর হয়েছে। কেউ আমাকে খেয়াল করছে না তাই আমি মনের আনন্দে সবাইকে খেয়াল করতাম।
উপন্যাসের দেয়ার একজন বাস্তব ভিত্তি আছে। তবে তার জীবনটা পরবর্তীতে খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল। এই ব্যাপারটা আমাকে এখনও ব্যা্থিত করে। কিছুটা নিজের মনের ভার কমাতে এই উপন্যাসটা লেখা। এখানে দেয়াকে দেখাব শেষে সে একটা সুন্দর জীবনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
ধন্যবাদ।
[ জবাব দিন ]
এই পর্বটা খুব ভালো হয়েছে। সাবলীল।
[ জবাব দিন ]
এই পর্বটা আমারও পছন্দের।
এই পর্বটা একদম পলিটিকস ছাড়া। একজন আমাকে উপদেশ দিয়েছিল – যদি ্কোনদিন লিখি তাহলে যাতে লেখার মধ্যে কখনও ধর্ম আর পলিটিকস না নিয়ে আসি। তার কথা আমি আর শুনিনি। আমাদের জীবনযাত্রায় সমাজ আর রাষ্ট্রএর প্রভাব অনেক। আমাদের মূল্যবোধগুলোও সেভাবে অভিযোজিত হয়ে উঠে। জীবনের কথা বলতে গেলে কিভাবে আমি রাষ্ট্রএর কথা বাদ দিই? অ্সম্পূ্র্ণ গান গেয়ে কি তৃপ্ত হওয়া যায়? আরো পরে হয়ত পরিষ্কার হবে কেন আমি এতো পারিপার্শিকতার কথা বলেছি।
[ জবাব দিন ]
এই পর্ব আগের চাইতেও ভালো হয়েছে
শেষ হলে একটা ইবুক বানানো যাবে
[ জবাব দিন ]
২০১২ এর বইমেলাতে বের হবে
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
খালি প্রেম, ভালবাসা আর ছ্যআক খাওয়ার গল্প শুনতে ভাল লাগে, তাই না?
[ জবাব দিন ]
না আপা এগুলা আর আগের মত ভালো লাগেনা
[ জবাব দিন ]
ভাল লাগলে অসুবিধা কি? আমার তো এই বয়সেও রোমান্টিক ছবি দেখতে খুব ভাল লাগে।
[ জবাব দিন ]
নিচে ‘চলবে’ শব্দটা না থাকলে ভালো লাগে না
পাঁচতারা
[ জবাব দিন ]
করে দিলাম। ধন্যবাদ।
[ জবাব দিন ]