ক্যাডেট কথিকাঃ পর্ব ৯

হুহুন্নারা হারিয়ে গেল কালের চক্রে

ভূপৃষ্ঠ থেকে চৌত্রিশ হাজার ফুট ওপর থেকে এবারের ক্যাডেট কথিকা লিখছি। অস্ট্রেলিয়ায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছি। যেতে যেতে ভাবছি, সাবেকী লোকজন কত সুখেই না ছিল। ছয় বেহারা শতেক বার হুহুন্না বললেই পৌঁছে যাওয়া যেতো বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ির ঘাটে। তাদের পাসপোর্ট ভিসা কিংবা বেনজোডায়াজেপিনের দরকার পড়তো না। আধুনিক নাগরিক জীবন বড় জটিল! আমেরিকার দক্ষিন কোণ থেকে পশ্চিম তীরে পৌঁছুতে বিমানে সাড়ে পাঁচ ঘন্টা লেগে গেল।

এক ঘন্টার যাত্রা বিরতি এল এ এক্সে, তারপর টানা পনের ঘন্টার ভেসে চলা! আমি বেনজোডায়াজেপিন খেয়েছিলাম আটলান্টা এয়ারপোটর্ে। সবার আগে আমার নিজের আসন পাকা করার কথা, কপালের ফেরে সব যাত্রী বিমানে চড়ে বসার পর গদাইলস্করি চালে সবার শেষে আমি ভেতরে যাই। মানুষের ভীড়ে আমার বড় অস্থির লাগে। লোকজন লাইন ধরে নিজেদের সিট খুঁজছে এই দৃশ্যটি দেখতে পেলে আমার মাথা চক্কর দেয়। একবার যদি মনেহয় এই ছোটখাট কুঠুরিতে আমি বন্দী হয়ে আছি তাহলে তো মহা সব্বোনাশ! অস্থির, গরম একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে শরীর জুড়ে। বেনজোডায়াজেপিন খানিক ঘোর লাগায়। আমার অস্থিরতা কমে খানিক। সহযাত্রী বুড়োটি গল্প জমাতে চেয়েছিল; ছোটখাট ট্রিপ হলে আমি সহযাত্রীর সাথে আড্ডা জমাতে ভালবাসি, কিন্তু প্রতিবার অস্ট্রেলিয়া কিংবা দূর প্রাচ্যের ট্রিপে পাগল পাগল লাগে! ক্লাসট্রোফোবিয়া কামড়ে দিচ্ছে সুযোগ মতো। ইন্টারনেটে সংযোগ নিলাম। মাকে কল দিই। প্রশান্ত মহাসাগরের ওপারে আতিক সর্দারজীর গল্প বলে হাসানোর চেষ্টা করে। অন্য সময় হলে আমি হাসতে হাসতে হেচকি তুলে ফেলতাম কিন্তু এখন দমবন্ধ লাগছে। তারা বলে, মা ব্যাগে লেমন ড্রপস আছে, একটা খেয়ে দেখো কেমন চনমনে লাগে!

ডাউন আন্ডারের পথে

স্ট্রলারে বসে থাকা বাচ্চা কান্না করলে মা যেমন হাতে একটা ললিপপ ধরিয়ে দিয়ে মন ভুলাতে চেষ্টা করে; ঠিক তেমনি দীর্ঘ ফ্লাইটগুলো যাত্রীদের খানাপিনায় ব্যস্ত রেখে পথের দূরত্ব ভুলাতে চেষ্টা করে। উড়ালপথে আহারে বিহারে মন নাই আমার। অথচ এখানে প্রায় সারারাত্রিব্যাপী বিমানকন্যারা খাবার নিয়ে আসে। আটলান্টা থেকে লেমন রাইসের সাথে ডাল কারী আর মিষ্টি কুমড়ো-চিংড়ি খেয়ে এসেছিলাম। তারপর ডেল্টার বিমানে বরফে ডুবানো শূন্য ক্যালোরির ফ্রেসকা আর মধুতে ভাজা বাদাম চিবিয়েছিলাম দু চারটা। এল এ এক্সে নেমে হাঁটাহাঁটি করি। বাথরুমে গিয়ে পানির ছিটা দিই চোখে মুখে। মানুষের ব্যস্ততা দেখি। পঁচিশ নম্বর গেটে আমার পাশের মেয়েটি বিশাল একটা বালিশ নিয়ে এসেছে সাথে। পায়ে তার শোবার ঘরের লেডিবাগ চটি। বিমানে আসন খালি ছিল। যাত্রীরা অনেকেই হাত পা ছড়িয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে। আমার ক্যারি অন ব্যাগে গোটা তিনেক বই আর তিনটে গসিপ ম্যাগাজিন আছে। ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের গল্প পড়ি অনেক সময় ধরে। রবি ঠাকুর একটি পত্রে স্ত্রী মৃণালিনী দেবীকে লিখেছেন, ‘আমাকে সুখী করবার জন্য তুমি বেশী কোন চেষ্টা কোরো না- আন্তরিক ভালবাসাই যথেষ্ট। অবশ্য তোমাতে আমাতে সকল কাজ ও সকলভাবেই যদি যোগ থাকত খুব ভাল হত- কিন্তু সে কারো ইচ্ছায়ও নয়।’ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে হাজার ফুট ওপরে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে বাটার পিক্যান আইস ক্রীম খেতে খেতে কবি পত্নী মৃণালিনীর জন্য আমার ভীষণ মায়া হতে লাগলো!

তারার পছন্দ আধুনিক কবিতা। আমি কিছু সময় ধরে সল্ট নামের একটি কবিতা সংকলন পড়ি।
Your skin
smells
like light.
I think you are
the
moon.

কিছু সময় ধরে আমি হলিউডি গুজব পড়ি। টেইলর সুইফটের প্রাক্তন প্রেমিক ক্যালভিন হ্যারিস কেন গায়িকা কেটি পেরিকে তার নতুন এ্যালবামে গান গাইতে দিয়েছে এই নিয়ে আমেরিকা জুড়ে শোরগোল।

বিমানবালা মেয়েটি মায়া করে আমাকে বাড়তি দুটি বালিশ আর একটি কম্বল দিয়ে যায়। আমি সুগন্ধি ওয়াক্স নাকে চেপে রাখি। সান কিসড্ টিউলিপের সুবাস আমার বেশ লাগে। বিমান যাত্রার শুরুতেই রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। আমি অর্ডার করলাম, ব্রয়েলড মুরগীর বুক। সাথে এলো ম্যাশড্ আলু, ডিনার রোল, মাখন, সালাদ, কমলালেবুর রস আর ব্রাউনি। আমি আধখানা মুরগীর টুকরো খাই। কমলালেবুর রস সরিয়ে রেখে লেমন লাইমের ফ্রেসকা চেয়ে নিই। যাত্রীদের অনেকেই বিনামূল্যের মদ্যপান করে। আমি ফেইসবুকে মানুষের কৃত্রিম হাসি হাসি মুখ দেখি, কিছু অর্থহীন স্ট্যাটাস পড়ি, আর কিছু ঘুমহীন মানুষের নিঃসঙ্গ কান্না শুনি মেঘের আকাশে ডুবে থেকে। ঘুমঘুম চোখে আতিক বার্তা পাঠায়, আর মাত্র নয় ঘন্টা পর তোর সাথে দেখা হবে!

কিউয়িদের ক্যাসারোল

আমাদের ছেলেবেলায় বিদেশ বলতে আমরা বিলেতের গল্প বুঝতাম। বিলাতী সাবান, বিলেতী জামাই আর বিলাতী ডিগ্রি মানেই উচ্চমানের কিছু! বিলাতে প্যারাম্বুলেটরে চড়ে দুধের বাচ্চারা হাইড পার্কে বিকালে হাওয়া খায়, বিলেতে সাদা সাহেবরা ভসভস করে চুরুট ফোঁকে; ইংরেজীতে গালিগালাজ করে! বিলেতের বাইরে আর একটা বিদেশ ছিল আমাদের; রাশিয়া তার নাম। তখন আমেরিকার কথা কম শুনতাম। নুসরাত ম্যাডাম ভূগোল ক্লাসে যখন প্রথম রাশিয়াকে রাশা বলেছিলেন তখন ভেবেছিলাম রাশা আপাকে কেন ডাকা হচ্ছে এখানে!

আমাদের কলেজে নতুন একজন শিক্ষক এলেন ভূগোল বিভাগে। ম্যাডামের মুখে অস্ট্রেলিয়ার গল্প শুনলাম প্রথমবারের মত, সেই সাথে নিউজিল্যান্ডের গল্পও। তিনি কোয়ালা কিংবা কিউয়িদের দেশ থেকে পিএইচডি করে এসে ক্যাডেট কলেজে যোগদান করেন। ম্যাডামের মাঝে বিদেশ বিদেশ গন্ধ প্রকট। আমাদের দেশ ধূলিমলিন, চারপাশের কোলাহল বড় বেশী কানে বাজে! এখানে পথঘাট এত বেশী খানাখন্দে ভরপুর যে তাঁর সন্তানটি খেলতে গিয়ে হাঁটু ছড়ে ফেলেছে। পোড়ার দেশে বাচ্চাদের সর্দিগর্মি লেগেই আছে। নিউজিল্যান্ডের গরুগুলো খাঁটি দুধ দেয়, এখানকার গরুগুলো বড় রোগা! ম্যাডাম একঘেয়ে সুরে একটি অচেনা সবুজ দেশের গল্প করতেন। সেখানে তাদের পেছনবাটিতে একবার আস্ত একখানা মা কুমির রোদ পোহাতে এসেছিল! ম্যাডাম মুরগীর ক্যাসারোল রান্নায় সিদ্ধহস্ত। ওরে ব্বাস! এটি আবার মুরগীর কী রোল গো? কত রকমের রোল তো খেলাম জীবনে; কিন্তু কাসার রোলের নাম তো শুনি নাই কখনো! ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী জলবায়ু থেকে আমরা এক লহমায় কিউয়িদের ক্যাসারোল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি!

ক্যাডেটস জানো, একবার হলো কি সাফারীতে গেচি সবাই মিলে, একটা জিরাফ অন্য কারো থেকে না কেবলমাত্র আমার হাত থেকে বনরুটিটা নিয়ে গেল! আমাদের কেউ একজন বিড়বিড় করে বলে, শুধু বনরুটি নিল? নেবার মত কত মানুষ আর কত পোড়া রুটিও তো ছিল সাফারীতে! ম্যাডাম গল্প বলতে যতোটা উৎসাহী ছিলেন তার সিকি ভাগও আমাদের পাঠদানে ছিলেন না। ম্যাডাম এবং তাঁর পিএইচডি নিয়ে নানারকম মুখরোচক গল্প চালু ছিল কলেজে।

ডিডিপির ডিংডং

একদিন হাউস মাস্টার স্যার জানালেন নতুন এক ধরনের প্রতিযোগিতা হবে কলেজের হাউসগুলোর মাঝে। ডিডিপি তার নাম। আগামী বৃহষ্পতিবার অডিটোরিয়ামে এই প্রতিযোগিতা হবে। উপস্থিত বক্তৃতা, নির্ধারিত বক্তৃতা, বিতর্ক, ধারাবাহিক গল্প বলা ইত্যাদি বিষয়ে বাংলা এবং ইংরেজী দুই ভাষায় প্রতিযোগিতা হবে ক্যাডেটদের মাঝে। যারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চায় তাদের নাম দিতে বলা হলো হাউস কালচারাল প্রফেক্টদের কাছে। দিন যায় সাহস করে কেউ নাম দেয় না। যেহেতু সাহস করে কেউ নাম দিল না হাউস প্রিফেক্ট পিয়া আফরিনা খালেদা হক আপা জনে জনে নাম ধরে তার সাথে দেখা করতে বললেন। আপার দন্ডিত ব্যক্তিদের তালিকায় আমার নামও এলো। আমি মুখচাপা গোছের মানুষ। পুরো কলেজের সামনে ডায়াসে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে মনে হতেই আমার হাত পা বুকের মাঝে সেঁধিয়ে যাচ্ছিল।

পিয়া আপা, প্লিজ!

ডিনারের পর কমনরুমে সবার আগে আপার সামনে গিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললাম। আমাকে দিয়ে এসব হবে না, আপা। আপা, প্লিজ! আপা, আমাকে ক্ষমা করতে হবে। বাদ দিতে হবে। আমি কোনদিন বক্তৃতা করিনি, আমি পারবোনা। আমি এক নিঃশ্বাসে সব বলে ফেলি। পিয়া আপাকে আমি মোটামুটি জমের মত ভয় পেতাম। জমের দুয়ারে আজ আমি জান ভিক্ষা চাইতে এসেছি। হায়! আপার মিটিমিটি হাসির রোগ ছিল। তিনি স্বভাবসিদ্ধ মিটিমিটি হেসে বললেন, এখন কিছু বলতে হবে না, তুমি বসে বসে শুধু সবার বক্তৃতা শুনো আগে। আপার থেকে কোন আশ্বাস না পেয়ে আমি মুখ চুন করে বসে থাকি এক কোণায়। আমার গলা শুকিয়ে আসছে, বুক ধরফর করছে। উপস্থিত বক্তৃতার বিষয়বস্তু পিয়া আপাই ঠিক করে দিচ্ছেন। দুই মিনিট ভাবনার পর একটু নোট লিখে দাঁড়িয়ে যাও বক্তৃতা দিতে। আমি ছোটদের দলে পরেছি। আপার টপিকগুলো নিয়ে একে একে সবাই কথা বলে এলো। আমাদের ছোটদের বিষয়গুলো ছিল আমার মা, প্রিয় বন্ধু, ক্যাডেট কলেজে প্রথম দিন, আমার প্রিয় বই ইত্যাদি। আমি দেখলাম কারো কারো কথার মাঝে জড়তা আছে, আবার কারো কারো ভাষা আন্চলিকতা দোষে দুষ্ট। কেউ কেউ বেশ বললো। সবার বক্তৃতা শুনে আমার মনে খানিক সাহস জন্মালো। মনেহলো আমি পারলেও পারতে পারি। পিয়া আপা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, কি মেয়ে কিছু বলতে চাও? আমি নিঃশব্দে সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে বলি, জ্বী আপা।

আমার বিষয় পরেছে, আজ আমাদের ছুটি ও ভাই!

হাউসে আমাদের সামনে ডায়াস ছিলনা, একটি চেয়ার উল্টো করে রাখা ছিল যেন সেখানে ধরে দাঁড়াতে পারি কিংবা এমনও হতে পারে চেয়ারটি রাখা হয়েছে যেন ভয় পেয়ে পড়ে যেতে চাইলে ধরে ফেলতে পারি! আমি চুইং গামের মত টেনে টেনে আগডুম বাগডুম কিছু বলে ফেললাম। কলেজের ছুটির দিন মানেই হলো, বাড়তি ঘুম! ব্রেকফাস্টের পর বাগানে গাছে পানি দিই, মাকে ইয়া বড় চিঠি লিখি, ইত্যাদি ইত্যাদি। পিয়া আপার সাথে আমার কোন পূর্ব শত্রুতা ছিল না তবুত্ত তিনি হাউসের অন্য একজনের সাথে আমাকে নির্বাচিত করলেন উপস্থিত বক্তৃতার জন্য। বললেন, রুমে গিয়ে সবার সামনে কথা বলবে নানা বিষয়ে। এটাই তোমার কাজ এই সপ্তাহে। আমার মিলি আপা সর্ব রোগের মহৌষধ জানেন। তিনি মশা, মাছি, কীট পতেঙ্গ থেকে শুরু করে আমার প্রিয় শিক্ষক বিষয়ে বলতে বললেন। ঘুমোতে যাবার সময়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে আমি গুবরেপোকা থেকে শুঁয়োপোকার ওপর কথা বলার অনুশীলন করি। হাউস মাস্টার স্যার আশ্বাস দিয়ে বলেন, কি বলছো সেটা ব্যাপার না, কত সুন্দর করে বলছো সেটাই আসল কথা। আমি সুন্দর করে শুঁয়োপোকার বর্ণনা করি। রাতে স্বপ্ন দেখি, আমার বিষয় পরেছে, অ এ অজগর আসছে তেড়ে। আমি সরীসৃপ বড় ঘেন্না করি। আমার গা ঘিনঘিনে অনুভূতি হয়। আমি একবার পিয়া আপার দিকে আর একবার হাউস মাস্টার স্যারের দিকে তাকাই। তাদের হাসিমুখ আমার দৃষ্টিগোচর হয়। দর্শকদের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রিন্সিপ্যাল স্যার দাড়ি নেড়ে কী যেন বলছেন। আমি আর কিছু মনে করতে পারি না।

পিয়া আপার ঠোঁটচাপা হাসি

বৃহষ্পতিবার প্রথম ডিডিপি হবে। শেষের ক্লাসগুলি করতে হবেনা বলে সবার মাঝে বেশ একটা উৎসব উৎসব ভাব। তিন হাউসের অন্য বলির পাঠারা কাঁপাকাঁপি করছে কিনা বলতে না পারলেও আমি বেশ আতংকগ্রস্ত হয়ে আছি। না জানি কি বিষয় পড়বে! ইউনুস নবী মাছের পেটে গিয়ে কোন দোয়া যেন পড়েছিলেন? হায় হায়! আমি দোয়া টোয়া সবই ভুলে গেছি। একে একে অডিটোরিয়াম পূর্ণ হয়ে গেল। প্রিন্সিপাল স্যার চলে এসেছেন। চারপাশে পিনপতন নিরবতা! এক বোতল পানির দরকার ছিল। আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। দর্শকসারিতে পিয়া আপাকে দেখি পরিচিত সেই মিটিমিটি হাসিতে। যেন খুব আনন্দ হচ্ছে এখানে। তাকে আমার গলা টিপে ধরতে মন চাইছে! আমি সবার শেষে পড়েছি। তার মানে হলো, সবাই যে বিষয়টা অবহেলায় ছুঁড়ে ফেলে গেছে সেই উচ্ছিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে আমাকে। আমার গা গুলাতে শুরু করেছে!

লটারিতে বিষয় পড়েছে আমার প্রিয় লেখক। ভাঁজ করা যে কাগজটা সবাই দূরে ঠেলে দিয়েছিল আমি সেটি আপন বলে কাছে টেনে নিলাম। মনে খানিক সাহস এলো। আমি সুকুমার রায়ের ভক্ত পাঠক ছিলাম। সন্দেশ গুলে খেয়েছিলাম কলেজে আসার আগেই। তাঁর লেখা ছড়া আমি মুখে মুখে বলতে পারতাম। আমি কাগজে কোন নোট লিখলাম না। শুরু করলাম, সৎ পাত্র কবিতা দিয়ে।

শুনতে পেলাম পোস্তা গিয়ে
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে
গংগারামকে পাত্র পেলে
জানতে চাও সে কেমন ছেলে?

তারপর একে একে ছড়া থেকে যজ্ঞিদাসের মামার গল্প বলা হলো! আমার হাঁটু ঠোকাঠুকি থেমে গিয়ে সময় কি করে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। সদাচার হাউসের তুমুল হাততালি জুটলো কপালে।

বিচারকের রায় বের হলো মিনিট পাঁচেকের মাঝে। পিয়া আপার ঠোঁটচাপা হাসি এবারে দুই কান অবধি ছড়িয়ে পড়লো।

চলবে….

১,৭০০ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “ক্যাডেট কথিকাঃ পর্ব ৯”

  1. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    এক নিঃশ্বাসে পড়ার মত কথিকা। এই ডিডিপিটা দিয়েই বোধকরি ভবিষ্যৎ 'কলেজ কালচারাল প্রিফেক্ট' গড়ার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল।
    বাই দ্য ওয়ে, ডি ডি পি এর ফুল ফর্ম কী?
    ভূপৃষ্ঠ থেকে চৌত্রিশ হাজার মাইল -- এখানে 'মাইল' এর জায়গায় সম্ভবতঃ ফিট হবে।
    বরাবরের মতই আকর্ষণীয় কথিকা, ভাল লেগেছে।


    সবার মাঝে নীরব,
    একা একাই সরব।

    জবাব দিন
    • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

      :) :) :) :) :) :) :)

      আমার এবারের লেখাটি বড় তাড়াহুড়ায় লেখা, কবি। প্রুফ রিড করা হয়নি বলতে গেলে। আজ সকালবেলা এটি পড়তে গিয়ে কত যে টাইপো পেলাম!

      চৌত্রিশ হাজার ফুট তো বটেই! ঠিক করে দিচ্ছি এখনই।

      ডিডিপি লিখতে গিয়ে আমিও এর ফুল ফর্মটার কথা ভাবছিলাম। এর কাছে ওর কাছে জানতেও চেয়েছিলাম। কেউ বলতে পারলো না। সিসিবির কেউ কি জানেন?

      অনেক ধন্যবাদ কবি আমার লেখাটি পড়বার জন্য। আশাকরি কুশলে আছেন।

      জবাব দিন
    • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

      :) :) :) :) :) :) :)

      এমজিসিসির ছোটবোন আনজুমান আরা আনজু ডিডিপি বিষয়ক বার্তা পাঠিয়েছে। আমি ওর বার্তাটি এখানে হুবহু তুলে দিলাম।

      D D P মানে Declamation Display Programme. Declamation Bangla meaning dictionary অনুসারে, উদ্দীপ্ত ভাষণ/ উদ্ভাষণ/ অভিভাষণ/ উত্তপ্ত বচন! ডিক্লেমেটরী মানে অলংকারপূর্ণ ভাষণ বা আবৃত্তি সংক্রান্ত। এই ইলাবোরেশন নিরোদবরণ স্যারের কাছ থেকে জানা।

      প্রিয় আনজু, আন্তরিক ধন্যবাদ রইল।

      জবাব দিন
  2. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে এমসিসিতে একসাথে ২/৩ জন ইংরেজী শিক্ষক যোগদান করলেন, কারণ দেশ স্বাধীন হবার পর আগের ইংরেজী শিক্ষকদের মধ্যে কেউই আর কলেজে ফিরে এলেন না। নতুন যোগ দেয়া শিক্ষকদের মধ্যে একজন তরুণ শিক্ষক সবদিক থেকেই ব্যতিক্রমী ছিলেন। শ্যামবর্ণ, লম্বা ছিপছিপে একহারা গড়ন, একটু দার্শনিক গোছের কথাবার্তা। তাঁকেই একমাত্র দেখেছি, কলেজ ফাংশনগুলোতে সব সময় কয়েক মাসের একটা বাচ্চাকে বুকে চেপে সস্ত্রীক যোগদান করতে। কিভাবে কিভাবে যেন জানতে পেরেছিলাম, উনি প্রেমিকাকে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে দূরে কোথাও বিয়ে করেছিলেন এবং তার অন্য বন্ধুদের তুলনায় অনেক আগেই ঘর সংসারী হয়েছিলেন, বাবাও হয়েছিলেন। উইলিয়াম সমারসেট মম এর “দ্য লাঞ্চন” গল্পটিতে লেখক ও গল্পের নায়িকার অভিসারে মিলিত হবার একটি জায়গা বোঝাতে ইংরেজী rendezvous (মূল ফরাসী) শব্দটিকে তিনি “রাঁদেভু” উচ্চারণ করে আমাদের সবাইকে চমকে দিলেন। বারবার তার মুখে এই অদ্ভুত উচ্চারণ শুনে আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসতে শুরু করেছিলাম। পরে শুনেছি, ওটাই নাকি শব্দটার সঠিক উচ্চারণ। প্রথম দেখাতে এবং শোনাতেই তাঁকে আমার একজন ভাল মানুষ বলে মনে হয়েছিল। ছাত্রদের পড়ানোর প্রতি আন্তরিক, পরিবারের প্রতি বিশ্বস্ত একজন সৎ ব্যক্তি বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু কিছুটা পাগলাটে স্বভাবের জন্য স্যার কলেজে বেশীদিন টিকতে পারেন নাই, তাকে অচিরেই বিদায় নিতে হয়েছিল।
    এমজিসিসি’র ভূগোল শিক্ষক নুসরাত ম্যাডামের ক্লাসে রাশিয়াকে “রাশা” বলার কথা শুনে এই স্মৃতিটার কথা মনে পড়লো। খুব দুঃখ হচ্ছে, আমার স্মৃতি থেকে তাঁর নামটি হারিয়ে গেছে বলে।


    সবার মাঝে নীরব,
    একা একাই সরব।

    জবাব দিন
    • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

      :) :) :) :) :) :) :)

      একবার ছুটিতে বাড়ি গিয়ে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র পেলাম। বাবার বন্ধুস্থানীয় একজনের ছেলের বিবাহ। আমাদের ছোটবেলায় বাবা মায়েরা বিয়ে কিংবা বৌভাতের দাওয়াতে সন্তানদের সাথে নিয়ে যেতেন কদাচিৎ। আমরা বাড়িতে থাকতাম। নিকটজনের অনুষ্ঠান না হলে বাবা মা নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতেন, ক্ষেত্রবিশেষে বাবা একাই। এবার পাত্র স্বয়ং এলো নিমন্ত্রণপত্র নিয়ে। ছেলেটি আমার পূর্ব পরিচিত। বাবা নামাজ পড়ছিলেন বলে আমি তাকে বসিয়ে গল্প জুড়ে দিয়েছিলাম। কার্ডটি উল্টে পাল্টে দেখে আমি বললাম, এটা কোথায়, ভাইয়া? দেশে তখনো নিজেদের বড় বাড়ি থাকলে বাড়িতেই বিয়ের অনুষ্ঠানমালা হতো। পাত্র উত্তর দিলেন, রেনদেজভোয়াজ কমিউনিটি সেন্টার গোল পুকুর পাড়ে, চালু হয়েছে দুই মাস আগে। হায় রেনদেজভোয়াজ!
      রাঁদেভুর সঠিক উচ্চারণ জানার জন্য আমাকে আরো দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
      চ্যাম-প্যাগ-নি এর মত রেনদেজভোয়াজও ভুলিনি এখনো।

      জবাব দিন
  3. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    ১৯৬৭ সালে এমসিসিতে গিয়ে বাংলা শিক্ষক হিসেবে আমরা পেলাম আব্দুল্লাহ আল আমীন স্যারকে। যেদিন স্যারের মুড ভাল থাকতো, সেদিন তার ক্লাসের কোন তুলনাই হতোনা। তবে স্যার পরিস্থিতি বুঝে ফাঁকিও দিতেন প্রচুর, অর্থাৎ আমাদেরকে সেল্ফ স্টাডি দিয়ে পরীক্ষার খাতা দেখতেন। কিংবা ক্লাস ওয়ার্ক হিসেবে বোর্ডে একটা প্রশ্ন লিখে আমাদেরকে সেটার উত্তর লিখতে দিয়ে নিজে পায়চারী করে বেড়াতেন। আমরা শুনেছিলাম, আমাদের আরেকজন বাংলা শিক্ষক আছেন, তিনি কয়েকমাসের জন্য একটা প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ গিয়েছেন।

    কয়েকমাস পর একদিন বাংলা ক্লাসে একজন আগন্তুক আঙুলে চাবির রিং ঘোরাতে ঘোরাতে এবং মুখে শিস দিয়ে একটা গানের সুর ভাঁজতে ভাঁজতে ক্লাসে প্রবেশ করলেন। নিজেকে ইন্ট্রোডিউস করলেন। আমরা জানলাম তিনি আমাদের অপর বাংলা শিক্ষক র,ম,ম ইয়াকুব স্যার। তাঁর সম্বন্ধে আমরা আগেই কিছুটা জেনেছিলাম, তাই সীমাহীন উৎসাহ নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “স্যার, এতদিন কোথায় ছিলেন”? তিনি মুখে কিছু না বলে উঠে দাঁড়িয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখলেন, PHILLIPINES. তারপর একজনকে সেটা পড়তে বললেন। আমার মনে আছে, তখন পর্যন্ত আমরা PHILLIPINES কে আমাদের পাঠ্যপুস্তকে “ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ” নামেই পড়ে এসেছি। তাই জিজ্ঞাসিত ক্যাডেটও নির্দ্বিধায় বললো, “ফিলিপাইন”। স্যার সাথে সাথে “Oh, no!” বলে ঘুরে দাঁড়ালেন এবং শব্দটির সঠিক উচ্চারণ ‘ফিলিপিনস’ বলে কয়েকবার প্র্যাকটিস করালেন। সেদিন সারাটা ক্লাসেই তিনি ফিলিপিন্সে তার অভিজ্ঞতার কথা আমাদের শুনিয়েছিলেন এবং তিনি যে বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক হিসেবে অন্যদের চেয়ে একটু উচ্চতর সমীহের দাবীদার, সেটাও বুঝিয়েছিলেন।


    সবার মাঝে নীরব,
    একা একাই সরব।

    জবাব দিন
    • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

      :) :) :) :) :) :) :)

      কবি, আপনার ফিলিপিনস্ এর গল্প আমাকে সিলনের কথা মনে করিয়ে দিল। পানির অপর নাম জল হলেও শ্রীলংকার (প্রাক্তন) নাম যে সিলন সেটি আমাদের অজানা ছিল। তখন আমাদের জীবন বড় সরল ছিল। ভূগোল ক্লাসে যখন প্রথম সিলন শব্দটি শুনি তখনো বুঝতে পারিনি ম্যাডাম আমাদের প্রতিবেশী শ্রীলংকার কথা বলছেন। এখন যেমন এক ক্লিকে জগতের যাবতীয় তথ্য মেলে তখন সেটি সম্ভবপর ছিলনা। তাছাড়া সংকোচ নামের অদেখা একটি অনুভূতি ভেতরে ভেতরে এতটাই প্রকট ছিল যে সেটি ছাপিয়ে জিজ্ঞাসা করবার মত অবস্থাও সবার থাকতো না।

      জবাব দিন
  4. জিয়া হায়দার সোহেল (৮৯-৯৫)

    '' জমের দুয়ারে আজ আমি জান ভিক্ষা চাইতে এসেছি। হায়! আপার মিটিমিটি হাসির রোগ ছিল।''
    কলেজ কালচারাল প্রিফ্ক্টে সেদিনই হয়ে গেছো। এটাই হয় সব কলেজে। দুই-চার জনকে বাছাই, তারপর ওদের দিয়েই ৬ বছর কাটায় দাওয়া।
    আমার এক বন্ধু কলেজ লাইফে কিছু করতে পারে নাই, ঐ যে দু-চারজনের জন্য। পরে বুয়েটে জয়েনের পর ও সারা বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ বিতর্কিক হিসাবে আইকন হয়ে বলছিল, শালা আইজ্জার (তোমার মত একজন) জন্য কলেজে কিছু করতে পারি নাই'। যাই হোক আমার সে বন্ধু কানাডার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এখন।
    আপু শেষে সুকুমারের ছড়াটা বেশ লাগছে। অসাধারন একটা মা তোমার।
    লিখাটা বেশ জমেছে শেষে এসে। খুব সত্যি একটা বিষয় সামনে এনেছো।
    আরো আরো লিখো। :clap:

    জবাব দিন
    • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

      :) :) :) :) :) :) :)

      জিয়া, তোমার ভাবনাটিই হয়তো সঠিক। কলেজে সবার ভাবগতিকে অনেক ছোটবেলাতে মনে মনে জেনে গিয়েছিলাম যে আমি সিসিপি হবো। বড় আপারা লেখালেখির বিস্তর কাজকর্ম করাতেন আমাকে দিয়ে। আমিও খুশী মনে তাদের স্কৃপ্ট লেখা থেকে শুরু করে প্রুফ রিড করে দিতাম। আমি এ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার দিন রুমে এসে বালিশের নীচে একখানি উড়ো চিঠি পাই। এই চিঠি নিয়ে খানিক শোরগোল হলো। সেই গল্পটি পরে বলছি। অপেক্ষায় থেকো!

      ক্যাডেট কথিকা চলবে আরো কিছু দিন, যদিত্ত আমি আপাতত ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছি অস্ট্রেলিয়ায়। এখানে হেমন্তের দিন, পাতা ঝরার উৎসব চলছে!

      তোমার ভারত ভ্রমণ কাহিনী পড়বার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি, ভাইয়া।

      জবাব দিন
  5. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    খাইছে!
    একাধারে ব্লগ, ভ্রমণকাহিনী এবং কলেজের স্মৃতিচারণ!!
    সিসিবি জমজমাট থাকলে আজকে এই পোস্টে কমেন্টের ঈদ লেগে যেত!!

    বিঃ দ্রঃ আপা, আরেক জায়গায় এডিট করা বাকি রয়ে গেছে-

    পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে হাজার মাইল ওপরে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে বাটার পিক্যান আইস ক্রীম খেতে খেতে কবি পত্নী মৃণালিনীর জন্য আমার ভীষণ মায়া হতে লাগলো!

    হ্যাপি শ্বশুরবাড়িং...আপা! :)


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
    • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

      :) :) :) :) :) :) :)

      তুই না থাকলে ব্লগটা এত মিষ্টি হতো না
      তুই না থাকলে ভুল থেকে যেতো কিছু সৃষ্টি হতো না!
      ও জুনা, রাপা রাপাম্পা রাম পাম পা!
      (এখনো আরো টাইপো আছে, সম্পাদনা চলবে কিয়ামত তক)।

      সিসিবিরে কোন ভূতে পাইছে তুই ক! পুরান লুকজন কই লুকাইলো? সক্কলে দেখি ফেইসবুক ফাটিয়ে যায় সক্কাল দুপুর! আমি অবশ্যি দুষাই না পাঠকেরে জুনা। তারা যে এখনো পড়ে এই তো যথেষ্ট! ব্লগে অনেকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে, ফেইসবুকে যেইটা হয় না। যাউজ্ঞা, আমার লিখতে ভাল লাগছে বলে লিখতে বসেছিলাম। তোরা যে পড়ছিস পাগলা, তাতেই আমি ধন্য হয়ে আছি!

      শ্বশুরবাড়িং মধুর হাড়িং, ভাইডি! (বাকী টুকু যেন কাউকে বলিস না!)। এখানকার চিপাচাপি রাস্তাঘাট আবারও খুনোখুনি করতে লেগেছে আমাকে। সিডনীর পথঘাট বড় যন্ত্রনা দিচ্ছে। ইয়া নফসি পড়তে পড়তে স্টিয়ারিঙে হাত রাখি। এসএসসি পরীক্ষার স্ট্রেস নিয়ে গাড়ি চালাই। মধুর হাড়িং ফাটি না যায় পরীক্ষার যন্ত্রনায়!

      জবাব দিন
  6. আহমদ (৮৮-৯৪)

    ক্যাডেট কলেজের পাব্লিক স্পিকিং ক্লাসগুলোর জন্য আমি ক্যাডেট কলেজ সিস্টেমের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ। ক্যাডেট কলেজে অবস্থানকালীন বছরে নয় মাসের হিসেবে টানা ছয়টি বছর একজন কিশোর/কিশোরী সপ্তাহে একদিন কিছুক্ষণ পাব্লিক স্পিকারের ভূমিকায় থেকে নিজের অজান্তেই যে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পায়, তা এদেশের হাতে গোনা গুটিকতক প্রতিষ্ঠানেই কেবল সম্ভব।


    চ্যারিটি বিগিনস এট হোম

    জবাব দিন
  7. সৈয়দ কামাল মোহাম্মাদ মুকুল !

    ভাল লাগলো ! এখন পালকি ও নাই বেহারার ও হুহুম না ,হুহুম না আওয়াজ ও আর সোনা যায় না !সেই ৮৫ -৮৬ তে কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া চতুর দোলাতে চড়ে গান টি মনে পড়ে গেল যে খানে সুরে লা হুহুম না প্রান ছুয়ে যায় ! ছট বেলায় মাঝে মাঝে দেখছি পালকি চড়ে বিয়ে করতে আবার শশুর বাড়ী যেতে ! দেশ স্বাধিন হওয়ার পরে ও দেখেছি কিন্তু এখন পালকি যাদু ঘরে বেহারার ২য় ৩য় প্রজম্ম মাটি কাটা কাজ করে না হয় অন্য কাজ করে কেউ কেউ লেখা পড়া শিখেছে ও !- আমি জানি না আমার ছেলে পালকি আর বেহারা চেনে কিনা আমার বাবা র লাইব্রেরিতে তিন হাজার বই আছে এখন আর তাকে ঐ বই পরতে দেখি না অবসরে মোবাইল হাতে ফেসবুকিং চলে ! আমরা আমদের অতীত ভুলে যাচ্চি ধাবিত হচ্চি সাত সমুদ্রের ওপারে !

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।

:) :( :P :D :)) :(( =)) :clap: ;) B-) :-? :grr: :boss: :shy: x-( more »

ফেসবুক মন্তব্য